Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আকাশের নিচে মানুষ – প্রফুল্ল রায়

    প্রফুল্ল রায় এক পাতা গল্প368 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আকাশের নিচে মানুষ – ২৩

    তেইশ

    দুপুরে ভাত-ডাল-মাংস-সবজি-আচার এবং লাড্ডু-দহি দিয়ে উৎকৃষ্ট ‘ভোজন’ সেরে টিউমলের ভাবী সমধী-সমধীন আরো খানিকক্ষণ ‘গপসপ’ করেছে, হাল্কা মেজাজে ঠাট্টা-তামাসা করেছে। তারপর জষ্ঠি মাসের সূরয পশ্চিম দিকে অনেকখানি নেমে গেলে তারা তিলাই গাঁওয়ে রওনা হয়ে গেছে।

    অন্যদিন দোসাদটোলাটা ভোর থেকে সেই সন্ধ্যে পর্যন্ত ফাঁকা পড়ে থাকে। এটা যে একটা মানুষের বসতি তখন তা একেবারেই মনে হয় না। অন্য দিন এখানে কারো সাড়াশব্দ পাওয়া যায় না, চারদিক নিঝুম হয়ে থাকে। আজ দোসাদটোলা একেবারে সরগরম। শিউমলের বিয়ে উপলক্ষে আচানক এক রোজ ছুটি পেয়ে যাওয়ায় এখানকার বাসিন্দারা বেজায় খুশী। এমন কি দোসাদটোলার যারা স্বাধীন মানুষ বা কমজোরি দুবলা বুড়ো-বুড়ী, তারা পর্যন্ত আজ আর খাবারের খোঁজে বেরোয় নি। এখন এই পড়তি বেলায় ফাঁকা জায়গাগুলোতে দড়ির চৌপায়া পেতে থোকায় থোকায় পুরুষ এবং মেয়েরা গপসপ করছে। কেউ কেউ আবার গানের আসর বসিয়ে দিয়েছে। গোটা দোসাদটোলা জুড়ে ঢিলেঢালা আলস্যের ভাব।

    আচমকা দূর থেকে বহু গলার চিৎকার ভেসে আসে। আওয়াজটাই শুধু শোনা যায় কিন্তু লোকগুলো কী বলছে পরিষ্কার বোঝা যায় না। তবে দোসাদটোলার মানুষরা কথাবার্তা এবং গান-বাজনা থামিয়ে কান খাড়া করে থাকে।

    কিছুক্ষণের মধ্যে টের পাওয়া যায়, চিৎকারটা এদিকেই আসছে। গলার স্বরগুলোও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

    ‘সুখন রবিদাসকো—’

    ‘বোট দো।’

    ‘সুখন রবিদাসকো—’

    ‘বোট দো, বোট দো’

    ‘উটকা পর—’

    ‘মোহর মারো, মোহর মারো।’

    একসময় দোসাদটোলার তাবত মেয়েপুরুষ বাইরের ফাঁকা কাঁকুরে ডাঙায় বেরিয়ে আসে। ততক্ষণে হাইওয়ের দিক থেকে শ’খানেক মানুষের একটা দলও চিৎকার করতে করতে কাছে চলে এসেছে। সবার আগে আগে রয়েছে স্বয়ং সুখন রবিদাস।

    বিজুরি এবং গারুদিয়া তালুকের, শুধু এই দুটো জায়গারই বা কেন, পঞ্চাশ-ষাট মাইলের মধ্যে যত গাঁ-গঞ্জ হাট-বাজার রয়েছে, সব জায়গার তাবত মানুষ সুখনকে চেনে। বিশেষ করে জল-অচল অচ্ছুতেরা। তারা শুধু সুখনকে চেনেই না, মনে মনে তার নামে পুজোও চড়ায়। চামারদের এই ছেলেটা বহুত তেজী। বামহন-কায়াথ-রাজপুত, সরকারী অফসর, থানার দারোগা কি মাজিস্টার, কাউকেই সে রেয়াত করে না। ঠাঁই ঠাঁই সবার মুখের ওপর কথা বলে। হাঁ, সিনায় সাহস আছে ছোকরার।

    সুখেনকে যেমন এ তল্লাটের সবাই চেনে, সুখনও তেমনি অনেককেই চেনে। বিশেষ করে এই দোসাদটোলার গণেরি, বুধেরি, টিউমল থেকে শুরু করে মাধোলাল বৈজু পর্যন্ত অন্তত দশ বিশজন তার ‘জানপয়চান আদমী’।

    হাত তুলে সুখন তার সঙ্গীদের থামিয়ে সোজা গণেরির কাছে এগিয়ে এল। হাসিমুখে জিজ্ঞেস করল, ‘কেমন আছ চাচা?’

    গণেরির চোখমুখ দেখে বোঝা যায়, সুখনকে দেখে সে খুশী হয়েছে। সুখন এ অঞ্চলে বহু জনেরই প্রিয়। গণেরি খুব আন্তরিক গলায় বলে, ‘ভালো। তুমি কেমন আছ?’

    ‘আচ্ছা—’

    এরপর ঘুরে ঘুরে দোসাদটোলার সবার কাছেই যায় সুখন। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে তাদের নানা খবর নিয়ে ফের গণেরির কাছে ফিরে আসে। বলে, ‘চাচা, একটা দরকারী কাজে তোমাদের কাছে এসেছিলাম।’

    সুখনের কাজের ব্যাপারটা মোটামুটি আন্দাজ করতে পারে গণেরি। তবু শুধোয়, ‘কী কাজ, বল—’

    ‘জরুর শুনেছ, আমি এবার চুনাওতে নেমেছি।’

    ‘শুনা হ্যায়।’

    ‘আমি তোমাদের কাছে কী জন্যে এসেছি, এবার বুঝতে পারছ তো?’

    আধবুড়ো অভিজ্ঞ গণেরিকে এবার কেমন যেন বিপন্ন দেখায়। সে অন্যমনস্কর মতো আস্তে আস্তে মাথা নাড়ে।

    সোজাসুজি তার চোখের দিকে তাকিয়ে সুখন এবার বলে, ‘আমি এসেছি চুনাওতে তোমাদের ভোট চাইতে। বহোত আশা করে এসেছি। তোমাদের হর আদমীর ভোট আমার চাই। একটা ভোটও যেন আর কেউ না পায়।’

    গণেরি চুপ করে থাকে।

    সুখন বলে যায়, ‘আমার মার্কা হল উট। উটের পাশে মোহর মারবে। আমি জানি তুমি দোসাদটোলার সব। তুমি বললে আমাকে ভোট না দিয়ে কেউ পারবে না। কেন আমাকে চুনাওতে জেতানো দরকার সবাইকে বুঝিয়ে দিই, না কি বল চাচা?’

    গণেরি এবারও উত্তর দেয় না।

    সুখন খানিকটা পিছিয়ে ছোটখাট একটা টিলার মতো জায়গায় গিয়ে দাড়ায়। তারপর গলা চড়িয়ে বলতে থাকে, ‘ভাইয়া আর বহিনরা, তোমরা অচ্ছুৎ, দোসাদ। তার ওপর কমিয়া। বাপ-নানা কি নানাকা বাপের আমল থেকে পুরা জীবন পরের জমিনে বেগারি দিয়ে যাচ্ছ। আমিও অচ্ছুৎ—চামারকা বেটোয়া। আমাদের নাম শুনলে উচা জাতের লোকেরা দশ বার থুক দেয়। আমাদের ছায়া যেখানে পড়ে তার দশ মাইল তফাত দিয়ে হাঁটে।’

    দোসাদটোলার বাসিন্দারা নিঃশ্বাস বন্ধ করে সুখনের কথা শুনতে থাকে; তাদের চোখের পাতা পড়ে না।

    সুখন সমানে বলে যায়, ‘দেশমে চালু হ্যায় বামহনরাজ, কায়াথরাজ, উঁচা জাতোকা রাজ। তোমরা আমরা, মতলব চামার গঞ্জু ধোবি দোসাদ ধাঙড়েরা চাঁন্দা-সূরয যত কাল ধরে উঠছে সব কোই উঁচা জাতের জুতির নিচে পড়ে আছি। জানবরের মতো ওরা আমাদের খাটায়, জানবরের মতো আমাদের সাথ ব্যবহার করে। লেকেন এ নেহী চলেগা, নেহী চলেগা। তোমার আমার মতো অচ্ছুৎদের ভালাইয়ের জন্যে আমাকে জেতানো দরকার। চুনাওতে তোমরা যদি আমাকে জিতিয়ে দাও, আমরা সবাই যাতে মানুষের মতো বাঁচতে পারি তার কোসিস করব। কমসে কম পটনার বিধানসভায় গিয়ে দুনিয়ার মানুষকে তো জানাতে পারব আমরা অচ্ছুৎরা কী অবস্থায় আছি। তোমরা কামিয়ারা কীভাবে পরের জমিনে জান খতম করে দিচ্ছ। ইয়াদ রেখো আমার মার্কা হল উট। উট মার্কায় মোহর মারবে।’

    সঙ্গে সঙ্গে সুখনের সঙ্গীরা চিৎকার করে ওঠে:

    ‘সুখখন রবিদাসকো—’

    ‘বোট দো, বোট দো।’

    ‘উটমে—’

    ‘মোহর মারো, মোহর মারো।’

    ‘সুখখন জিতনেসে—’

    ‘অচ্ছুৎ বাঁচেগা।’

    ‘সুখখন জিতনেসে—’

    ‘জমানা বদল যায়েগা।’

    হাতের ইঙ্গিতে সঙ্গিদের থামিয়ে টিলা থেকে নেমে ফের গণেরির কাছে চলে আসে সুখন। তার বুকে একটা হাত রেখে বলে, ‘তোমার ওপর ভরোসা করে রইলাম চাচা।’

    গণেরিকে খুবই চিন্তিত দেখায়।

    সে বলে, ‘মগর—’

    ‘মগর-উগর কুছ নায়। দুসরা বাত নেহী শুনেগা। তোমার আদমীদের সবার ভোট আমার চাই, চাই, চাই।’

    ‘মগর—’

    ‘ফির মগর! ‘

    গণেরি বলে, ‘আমি কী বলতে চাই, শুনেই নাও না—’

    একটু ভাবে সুখন। কপাল কুঁচকে বলে, ‘ঠিক হ্যায়। বল—’

    গণেরি যা বলে তা এইরকম। তারা বাপ-নানা কি তারও আগের আমল থেকে পুরুষানুক্রমে বড়ে সরকার রঘুনাথ সিংয়ের কাছে খরিদী হয়ে আছে। সেই বড়ে সরকার এবার চুনাওতে নেমেছেন। এদিকে সুখন রবিদাসও নেমেছে। সুখন তাদের আপনা আদমী; মনমে বহোত ইচ্ছা তাকেই ভোট দিয়ে চুনাওতে জিতিয়ে দিতে। কিন্তু মুসিবৎ হয়ে গেছে রঘুনাথ সিংয়ের জন্য। তাঁরই জনমদাস হয়ে, তাঁরই কাটানো কুয়োর জল খেয়ে, তাঁরই দেওয়া জায়গায় ঘর তুলে আজীবন বাস করে চুনার সময় তাঁর হাতী মার্কার বদলে উট মার্কায় মোহর মারলে ঘাড়ের ওপর মাথাটা কি আর খাড়া থাকতে দেবেন রঘুনাথ? পোষা পহেলবানদের লেলিয়ে জরুর তাদের ঘরে আগ লাগিয়ে দেবেন; জানে খতম করে লাশ গুম করে ফেলবেন।

    সুখন বলে, ‘ঘাবড়াও মৎ চাচা। সবাই যদি বড়ে সরকারদের নামে ডরে যায় আমাদের হাল কী হবে? সারা জীওন আমরা উচা জাতের নাগরার নীচে পড়ে থাকব? তাদের জমিনে কামিয়া খেটে খেটে খতম হয়ে যাব? এ হবে না গণেরি চাচা, সিনার ভেতর থোড়েে তাকত আনো।’ বলে দু কাঁধ ধরে গণেরিকে ঝাঁকায় সুখন। খুব সম্ভব তার মধ্যে খানিকটা সাহস সঞ্চার করতে চেষ্টা করে।

    ভীরু গলায় গণেরি জানায়, ‘তোমার কথাটা ভেবে দেখব।’

    গণেরির কাঁধ থেকে হাত নামিয়ে দুখন বলে, ‘ঠিক হ্যায় চাচা; আজ যাই। আবার আমি আসব।’ অন্য দোসাদদের দিকে হাত তুলে বলে, ‘চলি ভাইরা, বহিনরা—’ তারপর দলবল নিয়ে কাঁকুরে ডাঙা পেরিয়ে দূরে হাইওয়ের দিকে এগিয়ে যায়।

    গণেরিরা খানিকটা দূরে চলে গেলে, ভিড়ের ভেতর থেকে নওরঙ্গী বেরিয়ে আসে। সুখনের চিৎকার শুনে সবার সঙ্গে সে-ও দোসাদটোলার বাইরে চলে এসেছিল। পরে তার কথা আর কারো মনে ছিল না।

    নওরঙ্গী হাত-পা নেড়ে নানারকম অঙ্গভঙ্গি করে বলে, ‘ভূচ্চর জানবরটার মরার জন্যে ডানা গজিয়েছে। মরেগা, ও হারামী জরুর মরেগা, বিলকুল ফৌত হো যায়েগা।’

    ভূচ্চর জানবর এবং হারামী—এই তিনটে বাছা বাছা উৎকৃষ্ট গালাগাল কার উদ্দেশে দেওয়া হল, দোসাদদের বুঝতে অসুবিধা হয় না। সুখন যে এখানে ভোট চাইতে এসেছিল, এই খবরটা জানতে রঘুনাথ সিংয়ের খুব বেশি দেরি হবে না। নওরঙ্গী যখন তাকে দেখে ফেলেছে তখন নিশ্চয়ই সুখনের কথা হিমগিরি মারফত বড়ে সরকারের কানে উঠে যাবে।

    এখানে সুখনের ভোট মাঙতে আসাটা যেন গণেরিদের মস্ত এক অপরাধ। নওরঙ্গীর নানা অঙ্গভঙ্গি দেখে বা তার মুখে সুখন সংক্রান্ত খিস্তিখেউড় শুনেও কেউ মুখ খোলে না; সবাই ভয়ে সিটিয়ে থাকে।

    নওরঙ্গী ফের বলতে থাকে, ‘কুত্তাটার সিনায় বহোত তাকত। বড়া সরকারের আপনা আদমীদের কাছে ভোট মাঙতে এসেছে। ঘাড়ের ওপর দশটা শির গজিয়েছে হারামজাদার; শিরগুলো নামিয়ে দেবার ব্যবস্থা করতে হবে।’

    ভিড়ের মধ্যে দাড়িয়ে নওরঙ্গীর কথা শুনতে শুনতে রামলছমনের কথা মনে পড়ে যায় ধর্মার। সেদিন চাহাঢ়ের হাটে সুখনদের দেখে এই রকমই ক্ষেপে গিয়েছিল বগুলা ভকতটা দেখা যাচ্ছে বড়ে সরকারের পা-চাটা কুত্তারা তিনি ছাড়া আর যারাই চুনাওতে নেমেছে তাদের সবার ওপর ক্ষিপ্ত।

    ওদিকে নওরঙ্গী আর দাঁড়ায় না, সুখনকে আরো কয়েক প্রস্থ খিস্তিখাস্তা করে লম্বা লম্বা পা ফেলে দোসাদটোলায় ঢুকে যায়। বাকী সবাইও ফিরে যেতে থাকে।

    কিছুক্ষণ পর গোটা দোসাদটোলাটা অবাক হয়ে দেখে, সেজেগুজে নওরঙ্গী চলে যাচ্ছে। অন্য দিন সূর্যাস্তের অনেক পর রাত বেশ ঘন হলে তাকে হিমগিরির কাছে নিয়ে যাবার জন্য খামারবাড়ি থেকে গৈয়া গাড়ি আসে। আজ এখনও সন্ধ্যা পর্যন্ত নামে নি, পশ্চিম দিকের আকাশের গায়ে লাল রঙের সূরযটা আটকে আছে। এত তাড়াতাড়ি এত ব্যস্তভাবে স্রেফ পায়দল নওরঙ্গীর বেরিয়ে পড়ার কারণ কী, দোসাদটোলার বাসিন্দাদের বুঝতে অসুবিধা হয় না। তারা চুপচাপ বসে বসে নিজেদের ভীরু হৃৎপিণ্ডের ঢিপ ঢিপ শব্দ শুনতে থাকে। তবু তারই মধ্যে কে যেন ফিসফিসিয়ে গণেরিকে শুধোয়, ‘কা হোগা ভাইয়া? ও ছমকী রাণ্ডী আওরত জরুর মিশিরজীকা পাস সুখনকো খবর পৌঁছা দেগী—’

    গণেরি আস্তে মাথা নাড়ে, ‘ঠিক বাত—’

    ‘মিশিরজী জরুর বড়ে সরকারকে জানাবে।’

    ‘ও ভি ঠিক।’

    ‘তব্‌—’

    ‘দ্যাখ কী হয়! কেউ আমাদের কাছে এলে কী করে ভাগাই!’

    খুব বেশি সময় কাটে না। সূর্য ডুববার পর আকাশ থেকে মিহি অন্ধকার যেই নামতে শুরু করে, লম্বা লম্বা ঠ্যাং ফেলে রামলছমন এসে দোসাদটোলায় হাজির হয়। চনমন করে এদিক সেদিক দেখতে দেখতে বলে, ‘কী ভেবেছিস তোরা? একেবারে চৌপট হয়ে যাবি যে রে উল্লুর বেটোয়া-বেটিয়ারা।’

    দোসাদরা ভয়ে ভয়ে শুধোয়, ‘কা হুয়া দেওতা?’

    ‘কা হুয়া?’ রামলছমন বলতে থাকে, ‘চল আমার সাথ। গেলেই বুঝতে পারবি। যত মরদ আছিস, উঠে পড়—’

    ‘কঁহা যায়গা হুজৌর?’

    ‘গেলেই মালুম পাবি। চল্‌—’ ধমকে চেঁচিয়ে গোটা এলাকাটা মাথায় তুলে ফেলে রামলছমন।

    একটু পরেই দেখা যায়, দোসাদটোলার তাবত পুরুষরা বগুলা ভকতের পিছু পিছু হাইওয়ের দিকে চলেছে। রামলছমন তাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে সে সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু বোঝা যাচ্ছে না।

    তবে নওরঙ্গীর ওভাবে তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে পড়া, তারপরেই রামলছমনের এখানে আসা—সব কিছুর মধ্যেই একটা অনিবার্য ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবু দেখাই যাক।

    শেষ পর্যন্ত রামলছমন দোসাদদের যেখানে এনে তুলল সেটা বড়ে সরকারের হাভেলি। রঘুনাথ সিং শ্বেত পাথরের ঢালা বারান্দায় তাঁর সেই গদিমোড়া বিরাট ইজিচেয়ারে গা এলিয়ে পড়ে আছেন। তাঁকে ঘিরে তাঁর সর্বক্ষণের সহচরেরা। ডাগদরজী, ভকীলজী, মাস্টারজী ইত্যাদি ইত্যাদি। আর আছে তাঁর হয়ে চুনার জন্য যারা খাটছে সেই সব কর্মীরা।

    এধারে ওধারে গণ্ডা গণ্ডা বিজলী বাতি জ্বলছে। রোশনিতে চারদিক দিনের মতো স্পষ্ট।

    রামলছমন রঘুনাথ সিংকে বলে, ‘সরকার, সবাইকে ধরে নিয়ে এসেছি।’

    আস্তে মাথা হেলিয়ে রঘুনাথ সিং হাতের ইসারায় তাকে চলে যেতে বলেন।

    দোসাদদের কাছে এবার ব্যাপারটা স্পষ্ট হয়ে যায়। বড়ে সরকারই তাদের তলব করে এনেছেন। তারা রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করতে থাকে।

    কিন্তু রঘুনাথ সিংয়ের চোখমুখ দেখে মনেই হয় না তিনি গুসসা হয়েছেন। বরং তাঁর তাকানোর মধ্যে রয়েছে অগাধ স্নেহ এবং প্রশ্রয়। খুব মিষ্টি করে বলেন, ‘কা রে, সব দাঁড়িয়ে রইলি কেন? বসে পড়।’

    নিচের ঘাসের জমিতে গা জড়াজড়ি করে দলা পাকিয়ে বসে পড়ে গণেরিরা। কী কারণে বড়ে সরকার ডাকিয়ে এনেছেন, সেটা না জানা পর্যন্ত বুকের কাঁপুনি তাদের থামে না।

    রঘুনাথ সিং বলেন, ‘টিউমলের বেটার সাদির বাত পাক্কা হয়ে গেল?’

    টিউমল কাঁপা গলায় জানায়, ‘হুজৌর বড়ে সরকারের কিরপায় পাকা কথা হয়ে গেছে।’

    মেয়ের বাড়ি থেকে কথা পাকা করতে কারা কারা এসেছিল, কী কী কথা হল, নতুন কুটুমদের কী খাইয়েছে টিউমলরা, সমস্ত অনুষ্ঠানটা ভালভাবে চুকেছে কিনা, ইত্যাদি ইত্যাদি খুঁটিয়ে খুটিয়ে অনেক কিছু জেনে নিলেন রঘুনাথ সিং। তারপর ফস করে শুধোন, ‘শুনলাম তোদের ওখানে সুখন রবিদাস ভোট মাঙতে এসেছিল। লম্বে লম্বে বহোত লেকচার ভি দিয়া।’

    টিউমলের ছেলের বিয়ের ব্যাপারে এত আন্তরিক কথাবার্তা বলছিলেন রঘুনাথ সিং যে ভয়টা অনেকখানি কেটে গিয়েছিল দোসাদদের। আচমকা সুখনের কথা উঠতেই সবাই ভেতরে ভেতরে গুটিয়ে গেল। চোখেমুখে আবার দুর্ভাবনার ছাপ পড়েছে তাদের গণেরিই শুধু দুর্জয় সাহসে উঠে দাড়িয়ে হাতজোড় করে বলে, ‘হঁ সরকার, আয়া থা, কুছ বাত ভি বোলা—’

    ‘ভোট মাঙা?’

    ‘হুঁ হুজোর।’ বলে জোরে জোরে শ্বাস টানে গণেরি। তারপর নতুন উদ্যমে ফের বলতে থাকে, ‘কা করে সরকার। কেউ আমাদের কাছে এলে ভাগাই কী করে? বহোত গরীব আদমী হামনিলোগ। আপ হামনিলোগনকো মা-বাপ—’

    রঘুনাথ সিং বলেন, ‘কভি নায়। গণতন্তমে যে চুনাওতে নামবে তারই ভোট মাঙবার অধিকার আছে। তোদের কাছে আজ সুখন এসেছে, কাল প্রতিভা সহায় আসবে, পরশু আবু মালেক আসবে, নরশু শর্মাজী আসবে। তবে এর ‘বীচমে’ একটা লেকেন আছে—’

    গণেরি শুধোয়, ‘কা হুজোর?’

    ‘যেই ভোট মাঙুক, তোরা হাতী মার্কায় মোহর মারবি। মনে রাখবি, হাতীতে মোহর মারলে ভোটটা আমিই পাব। আমি তোদের আপনা আদমী। আমাকে চুনাওতে জেতালে তোদের ভালাই হবে। সমঝা?’

    গণেরির ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ে; বুকের সেই ঢিপঢিপানি থামে। রঘুনাথ সিং তা হলে তাদের ওপর গুসসা হননি। গণেরি বলে, ‘সমঝ গিয়া হুজৌর।’ বলতে বলতে আচমকা একটা কথা মনে পড়ে যায় তার। শুধোয়, ‘একঠো বাত সরকার—’

    ‘হাঁ হাঁ, পুছ না।’

    ‘সেদিন আমাদের টোলাতে অবোধজী এসেছিল।’

    ‘অবোধজী কৌন?’

    ‘বিজুরি বাজারের বড়া ব্যওসাদার। ‘

    ‘সমঝ গিয়া; অবোধ পাণ্ডে। প্রতিভা সহায়ের হয়ে চুনাওতে খাটছে।’

    গণেরি বলে, ‘পরতিভাজীর জন্যে ‘বোট’ মাঙতে এসেছিল।’

    উদার ভঙ্গিতে রঘুনাথ সিং উত্তর দেন, ‘জনতাকে রাজ গণতন্তমে কারো ভোট চাইতে দোষ নেই।’

    সাহস পেয়ে গণেরি ফের বলে, ‘আউর একঠো বাত বড়ে সরকার।’

    ‘কা?’

    ‘সাত-আট রোজের মধ্যে গারুদিয়া বাজারে পরতিভাজীর চুনাওকা মীটিন হবে।’

    ‘চুনাওতে নামবে আর মীটিং হবে না? জরুর মীটিং হবে। লেকেন আসল কথাটা কী?’

    ‘সেই মীটিনে অবোধজী আমাদের যেতে বলেছে। গাড়িতে চড়িয়ে আমাদের নিয়ে যাবে।’

    ‘কা গাড্ডি? গৈয়া না ভৈসা?’

    ‘হাওয়া গাড়ি সরকার।’

    ওধার থেকে হেড মাস্টারজী বদ্রীবিশাল চৌবে বলে ওঠেন, ‘চুনাও আসাতে তোদেরই দেখছি বরাত খুলে গেল। কা সৌভাগ তোদের। হাওয়া গাড়িতে চড়িয়ে অচ্ছুতেয়াদের মীটিঙে নিয়ে যাবে। কলযুগের বাকি যেটুকু ছিল তাও ‘পূর্ণ’ হয়ে গেল।’

    হাত তুলে তাঁকে থামিয়ে দেন রঘুনাথ সিং। বেলন, ‘অ্যায়সা না কহিয়ে চৌবেজী। গণতন্তুমে সব কোইকো হাওয়া গাড়ি চড়নেকো অধিকার হায়।’

    গণেরির দিকে ফিরে বলেন, ‘যাবি, নিশ্চয়ই হাওয়া গাড়ি চড়ে তোরা প্রতিভা সহায়ের মীটিং শুনতে যাবি।’

    গণেরির সাহস এবার চারগুণ বেড়ে যায়। সে বলে, ‘সরকার, অবোধজী বলেছে, যে পরতিভাজীর চুনাও মীটিনে যাবে তার তিনগো রুপাইয়া মিলবে। রুপাইয়া নেব?’

    ‘রুপাইয়া দিতে চাইছে আর নিবি না! গাধ্‌ধা কাঁহাকা! গণতন্তমে রুপাইয়া নিতে কোথাও মানা নেই। লেকেন—’

    ‘কা সরকার?’ দু চোখে প্রশ্ন নিয়ে দাড়িয়েই থাকে গণোরি।

    ‘চুনাওর মওকায় যত পারিস হাওয়া গাড়ি চড়ে নে, যত পারিস পাইসা কামাই কর, লেকেন ভোটটা আমার চাই। হাতী মার্কায় মোহর মারার কথা জান গেলেও ভুলবি না।’

    ‘নায় হুজৌর।’

    ডান দিকে যেখানে তেরপল দিয়ে নির্বাচন কর্মীদের জন্য অস্থায়ী ক্যাম্প বসানো হয়েছে সেখান থেকে চিৎকার ওঠে।

    ‘আপনা ভালাইকে লিয়ে—’

    ‘রঘুনাথ সিংকো বোট দো, বোট দো।’

    ‘হাতী মার্কামে—’

    ‘মোহর মারো, মোহর মারো।’

    চিৎকার থামলে রঘুনাথ সিং গণেরিদের বলেন, ‘অনেক রাত হল; তোরা ঘরে যা ‘

    দোসাদরা ফিরে যায়।

    রঘুনাথ সিংয়ের প্রধান কুত্তাদের একজন ভকীলজী এবার বলে ওঠেন, ‘কারখানাবালীর বহোত পাইসা হয়েছে। চুনাওতে খুব ছড়াচ্ছে।’

    চৌরেজী বললেন, ‘চারদিকে সব গরীব মানুষ। রুপাইয়া পাইসার লালচে ভোট টোট কারখানাবালীকে না দিয়ে বসে।’

    এতক্ষণ বেশ হাসিখুশিই ছিলেন রঘুনাথ সিং। এবার তাঁর মুখটা ভয়ানক গম্ভীর দেখায়। তবে তিনি আপাতত প্রতিভা সহায় সম্পর্কে কোনরকম মন্তব্য করেন না।

    বাঙালী ডাগদর শ্যামদুলাল সেন বলেন, ‘আরো একটা কথা আছে রঘুনাথজী।’

    রঘুনাথ সিং বিশাল শরীর কাত করে ডান পাশে শ্যামদুলালের দিকে তাকান।

    শ্যামদুলাল বলেন, ‘এবার আমাদের এই জায়গায় চুনাওর ক্যারেক্টারটা বড়া আজীব।’

    ‘কী রকম?’

    ‘মোট ছ’জন চুনাওর লড়াইতে নেমেছে। প্রতিভা সহায়, নেকীরাম শর্মা, সুখন চামার, আবু মালেক, আপনি আউর ছে নম্বর যে আছে তাকে না ধরলেও চলে। নিজের ফ্যামিলির আট দশ জনের ছাড়া বাইরের আধখানা ভোটও সে পাবে না। ‘

    রঘুনাথ বলেন, ‘চুনাওতে কোথাও পাঁচ ক্যাণ্ডিডেট লড়ে, কোথাও সাত ক্যাণ্ডিডেট, কোথাও দশ পন্দরভি। এর মধ্যে আজীব কেরেক্টারটা কোথায় পেলেন?’

    হাত তুলে রঘুনাথ সিংকে থামিয়ে দেন শ্যামদুলাল। তারপর গারুদিয়া-বিজুরির চুনাওতে এবার যে আশ্চর্যজনক লক্ষ্যণীয় ব্যাপারটা ঘটছে সবিনয়ে এবং সংক্ষেপে তা বলে যান। এখানকার পাঁচ নির্বাচন প্রার্থীর ভেতর থেকে প্রথমেই রঘুনাথ সিংকে ধরা যাক। রঘুনাথ সিং হলেন জমির মালিক, সান অফ দি সয়েল—পুরুষানুক্রমে মিট্টিকা সন্তান। দু নম্বর প্রতিভা সহায়: বিজুরিতে তাঁর সসুরাল হলেও আসলে তিনি গাঁওকা আদমী নন; তিনি শহরের মানুষ— ইণ্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট, কারখানাবালী। দেশের মিট্টিতে তাঁর ‘রুট’ নেই। তিন নম্বর হল সুখন রবিদাস। সে অচ্ছুৎ জল-অচলদের প্রতিনিধি। চার নম্বর আবু মালেক: মাইনোরিটিদের রিপ্রেজেন্টেটিভ। আর পাঁচ নম্বর নেকীরাম শর্মা উচ্চবর্ণের ব্রাহ্মণদের তরফ থেকে এই চুনাওতে নেমেছে। তা হলে দেখা যাচ্ছে জমি মালিক, ইণ্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট, অচ্ছুৎ, মুসলিম মাইনোরিটি আর উঁচা জাতের হিন্দু—পাঁচ ক্লাসের রিপ্রেজেন্টেটিভ এই অঞ্চলের নির্বাচনে ভোটপ্রার্থী।

    খুবই মনোযোগ দিয়ে শ্যামদুলালের কথ। শুনে যান রঘুনাথ সিং, তবে তেমন গুরুত্ব দেন না। হাল্কাভাবেই বলেন, ‘এর মধ্যে আজীব বা নয়া কিছু নেই। এসব আমাদের জানা। আগেও এই নিয়ে অনেক কথা হয়েছে।’

    শ্যামদুলাল ব্যস্তভাবে বলে ওঠেন, ‘ও তো ঠিক বাত। লেকেন আমার আরো কথা আছে।’

    ‘কী?’

    ‘সোসাইটির পাঁচ ক্লাসের রিপ্রেজেন্টেটিভ যখন চুনাওতে নেমেছে তখন ভোট জরুর পাঁচ ভাগ হয়ে যাবে। সেটা কিন্তু চিন্তার কথা।’

    রঘুনাথ সিং হাতের ভর দিয়ে উঠে বসতে বসতে এবার বলেন, ‘চিন্তার কথা কেন? থোড়াসে সমঝা দিজিয়ে।’

    শ্যামদুলাল এবার যা বলেন তা এইরকম। গারুদিয়া-বিজুরিতে কমসে কম থার্টি পারসেন্ট অচ্ছুৎ আছে। সুখন চামার এই ভোটের প্রায় পুরাটাই টানবে। দুই তালুকে উঁচা জাতের হিন্দু আছে থার্টি ফাইভ থেকে ফর্টি পারসেন্ট। বিজুরি তালুকের মিশিরলালজী ভরসা দিলেও নেকীরাম জাতওয়ারি সওয়াল তুলে ব্রাহ্মণদের ভোট অনেকহাই পেয়ে যাবে। এখানে মাইনোরিটি মুসলিম রয়েছে ফিফটিন থেকে সেভেনটিন পারসেন্ট। আবু মালেক তাদের প্রায় সব ভোটটাই পাবে। আর কারখান্নাবালী প্রতিভা দশ হাতে পয়সা ছড়িয়ে প্রচুর ভোট কিনে নেবে। ফলে কেউ অন্যের চাইতে খুব বেশি একটা ভোট টানতে পারবে না। যেই জিতুক, সামান্য ভোটের মার্জিনে জিতবে।

    রঘুনাথ সিংয়ের কপালে ভাঁজ পড়ে। শ্যামদুলালের কথাগুলো তাঁর মস্তিষ্কের ভেতর দ্রুত বসে যেতে থাকে। গম্ভীর মুখে তিনি বলেন, ‘চুনাওর এ দিকটা তো খেয়াল করি নি।  করা উচিত ছিল।’

    শ্যামদুলাল ছাড়া রঘুনাথ সিংয়ের অন্য পা-চাটা কুত্তারা নড়েচড়ে বসে। রঘুনাথ যখন শ্যামদুলালের কথায় পর্যাপ্ত গুরুত্ব দিয়েছেন তখন তাঁদেরও না দিলে চলে না। সব হাঁ-তে হাঁ মিলানোর দল। তাঁরা সমস্বরে বলে ওঠেন, ‘সাচমুচ করা উচিত ছিল।’

    রঘুনাথ সিং বলেন, ‘বহোত চিন্তাকি বাত।’

    ‘হাঁ হাঁ—’

    অস্বস্তির মধ্যে খানিকটা সময় চুপচাপ কাটে। তারপর বদ্রীবিশাল চৌবে বলে ওঠেন, ‘প্রতিভা সহায় কারখান্না ফারখান্না চালাচ্ছিল, তাই নিয়ে থাকলেই তো পারত। এই চুনাওর ভেতর কেন যে আওরতটা নাক ঢোকাল—’

    শ্যামদুলাল নাকের ভেতর শব্দ করে বলেন, ‘ক্লাস ইন্টারেস্ট চৌবেজী, স্রিফ ক্লাস ইন্টারেস্ট—’

    ‘সুখন চামার, আবু মালেক আর নেকীরাম শর্মা এদের ইন্টারেস্টটা কীসের?’

    ‘এ তো জলের মতো সোজা ব্যাপার। জাতওয়ারি ইন্টারেস্ট। পলিটিক্যাল পাওয়ার হাতে থাকলে জোর কত বাড়ে, ভেবে দেখেছেন?’

    রঘুনাথ সিংকে এবার চিন্তাগ্রস্ত দেখায়। তিনি বলেন, ‘আপনাদের কী মনে হয়, চুনাওতে আমি হেরে যাব?’

    নির্বাচনের নানা দিক নিয়ে চুলচেরা হিসাব করলেও রঘুনাথ সিংয়ের হারের কথা বদ্রীবিশাল চৌবেরা স্বপ্নেও ভাবতে পারেন না। গিদ্ধড়ের মতো ঝাঁক বেঁধে তাঁরা চেঁচিয়ে ওঠেন, ‘নেহী নেহী, কভী নেহী।’

    ‘এই পয়লা চুনাওতে নামলাম। হেরে গেলে কাউকে আর মুখ দেখাতে পারব না। এটা আমার ইজ্জৎকা সওয়াল।’

    ‘আপনার বেইজ্জতি পুরা গারুদিয়া তার বিজুরি তালুকের হর আদমীকা বেইজ্জতি। আমাদের গায়ে এক বুঁদ খুন থাকতে আমরা তা হতে দেব না।’ বলে একটু থামেন সবাই। পরমুহূর্তে দম নিয়ে নতুন উদ্যমে শুরু করেন, ‘আপনি যদি হারেন সূরয পছিমা আকাশে উঠবে।’

    সর্বক্ষণের সঙ্গী এতগুলো মানুষের জোরালো মৌখিক মদতে রঘুনাথ সিংয়ের দুর্ভাবনা কিছুটা কাটে। তিনি বলেন, বিশ ত্রিশ পুরুষ ধরে আমরা গারুদিয়ায় পড়ে আছি। কোনদিন গাঁও ছেড়ে কোথাও যাই নি। আমি হলাম আসল মিট্টিকা সন্তান। ভোট চাইবার হক একমাত্র আমারই আছে।’

    ‘আলবত। আজীবচাঁদ মুনশী যে কথাটা বলে সেটা হাজার বার ঠিক। আপনি চুনাতে জিতলে গারুদিয়া-বিজুরিতে রামরাজ নেমে আসবে। এখানকার মানুষ বেঁচে যাবে।’

    এ সব শুনে রঘুনাথ সিং গলার ভেতর এমন এক ধরনের শব্দ করেন যা শুনে আন্দাজ করা যায়, তিনি সন্তুষ্ট হয়েছেন।

    চুপচাপ খানিকটা সময় কাটে। তারপর বদ্রীবিশাল চৌবে গলা ঝেড়ে একটু কেশে নেন। এক সময় শুরু করেন, ‘তবে একটা কথা রঘুনাথজী।’

    চৌবের দিকে ঘাড় ফিরিয়ে রঘুনাথ জিজ্ঞেস করেন, ‘কী কথা?’

    ‘আপনার জেতার ব্যাপারে পুরা নিশ্চিন্ত হওয়া দরকার।’

    ‘এ ব্যাপারে আপনার সন্দেহ আছে নাকি?’

    হিক্কা তোলার মতো শব্দ করে চৌবেজী চেঁচিয়ে ওঠেন, ‘নেহী নেহী। তবে কিনা সাবধানের মার নেই।’

    রঘুনাথের কপালটা মসৃণ হয়ে গিয়েছিল। আবার সেখানে ভাঁজ পড়ে। স্থির চোখে বদ্রীবিশালকে দেখতে দেখতে বলেন, ‘আপনার কথা ঠিক বুঝতে পারছি না।’

    ‘বলছিলাম ভোটগুলো পাঁচ ভাগ হয়ে গেলে অসুবিধা হলেও হতে পারে।’

    ‘ভাগাভাগি রুখবেন কী করে? আপনারাই একটু আগে বললেন, যারা চুনাওতে নেমেছে তারা সবাই ভাল ভোট টানবে।’

    বদ্রীবিশাল বলেন, ‘ও তো ঠিক আছে। লেকেন এই পাঁচ ক্যাণ্ডিডেটের মধ্যে দু একজন যদি না দাঁড়ায়, অত ভাগাভাগি হবে না।’

    রঘুনাথ সিংয়ের মতো প্রখর বুদ্ধিমান লোকেরও কেমন যেন সব গুলিয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘সরে দাঁড়াবার জন্যে ওরা চুনাওতে নেমেছে নাকি?’

    ‘সহজে কি কেউ সরে। তবে তার রাস্তা আছে।’

    ‘আপনি কি ওদের গুম করে দেবার কথা ভেবেছেন নাকি? লেকেন চৌবেজী আমার বাপ-নানার আমলের সেই পুরানা জমানা আর নেই। কান্ট্রিতে গণতন্ত্র চালু হয়েছে। চুনাওর ক্যাণ্ডিডেটের গায়ে হাত লাগালে কী হবে ভাবতে পারেন?’

    দুই কান ধরে জিভ কাটতে কাটতে শিউরে ওঠার ভঙ্গি করেন বজ্বীবিশাল চৌবে; যেন মারাত্মক পাপের কথা শুনেছেন। সেই অবস্থাতেই বলেন, ‘ছিয়া ছিয়া ছিয়া, কী যে বলেন রঘুনাথজী! আমার কি নরকের ভয় নেই? গুম করা ছাড়া কাউকে কি সরানো যায় না?’

    ‘কীভাবে?’

    বদ্রীবিশাল বাঁ চোখ কুঁচকে ডান হাতের বুড়ো আঙুল এবং তর্জনী দিয়ে টাকা বাজাবার ভঙ্গি করেন।

    রঘুনাথ সিংকে তেমন উৎসাহিত হতে দেখা যায় না। নিরুৎসুক মুখে তিনি বলেন, ‘পয়সা দিয়ে কি সবাইকে কেনা যায়? তা ছাড়া—’

    ‘তা ছাড়া কী?’

    ‘সুখন চামারটা বড় ঠেটা; রুপাইয়া-পাইসা দিয়ে তার গর্দান নোয়ানো যাবে না। জান গেলেও চুনাওর লড়াই থেকে সে হটবে না। প্রতিভা সহায়কে কেনার কথাই ওঠে না; ওরা হল ক্রোড়পতি। বাকী রইল নেকীরাম শর্মা আর আবু মালেক। নেকীরাম সুদখোর, পয়সার লালচ এর আছে তবে আবু মালেকের পিঠের হাড্ডি শক্ত, ওকে বাঁকানোও সোজা হবে না।’

    রঘুনাথ সিং যেভাবে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বীদের চরিত্র বিশ্লেষণ করলেন তাতে কোথাও ফাঁক নেই। তাঁর পা চাটা কুত্তাদের খুবই চিন্তিত দেখায়।

    কিছুক্ষণ চুপচাপ কাটে।

    তারপর রঘুনাথ সিংহ ফের বলে ওঠেন, ‘বড়া মুসিবত—’

    আচমকা ভকীল গিরিধরলালজী রঘুনাথ সিংকে বলে ওঠেন, ‘যদি হুকুম দেন তো একটা কথা বলি।’

    ‘জরুর আপনি বলবেন। এক কথা কেন, শও কথা বলুন।’

    ‘সব দিক পুরা ভেবে দেখলাম, সুখন চামার আউর প্রতিভা সহায়কে হটানো যাবে না। তবে আবু মালেক আউর নেকীরাম শর্মাকে সরানোর একটা ফিকির হতে পারে।’

    ‘কী ফিকির?’

    ‘পয়সা রুপাইয়া হয়ত লাগবে। সাথ সাথ একটা কথাও ওদের জানাতে হবে।’

    ‘কী কথা?’

    ‘নেকীরামকে বলতে হবে, ব্রাহ্মণদের পুরা ইন্টারেস্ট আপনি দেখবেন। আবু মালেককে বলতে হবে, মুসলমান মাইনোরিটির স্বার্থ আপনি ছাড়া এখানে অন্য কেউ রক্ষা করতে পারবে না।’

    রঘুনাথ সিং চোখ কুঁচকে খানিকক্ষণ চিন্তা করলেন। তারপর তারিফের গলায় বলেন, ‘আচ্ছা বাত। ঐদিকটা আমি ভেবে দেখিনি। মগর—’

    ‘মগর কী? ‘

    ‘বামহন আর মাইনোরিটির স্বার্থের কথা বলে ওদের না হয় হটানো গেল। তাতে ফায়দা ওঠানো যাবে কি?’

    ‘যাবে রঘুনাথজী।’

    ‘ক্যায়সে? ওরা চুনাওকা লড়াই থেকে সরে গেলে এদের ভোটগুলো আমি যে পার তার গিরান্টি (গ্যারান্টি) আছে?’

    ‘তা নেই।’

    ‘তব্?’

    ‘যাতে নেকীরাম আর আবু মালেকের ভোটাররা হাতীমার্কায় মোহর মারে তার ব্যবস্থা করতে হবে।’

    ‘ক্যায়সে?’

    ‘নেকীরাম আর আবু মালেককে আপনার সাপোর্টে ক্যাম্পেনে নামাতে হবে। বামহন আর মুসলিম মাইনোরিটিদের ওরা বোঝাবে, আপনাকে ভোট দিলে তাদের ইন্টারেস্ট পুরা রক্ষা করা হবে। নেকীরাম আর আবু মালেক চুনাওতে জিতলে তাদের যতটা ভালাই হবে, আপনি জিতলে ডবল ভালাই হবে।’

    রঘুনাথ সিং নড়েচড়ে বসেন। মুখচোখ দেখে মনে হয়, তিনি খুশী হয়েছেন। নেকীরামেরা তাঁর হয়ে নির্বাচনী প্রচারে নামলে ব্রাহ্মণ আর মুসলমানদের ভোট যে প্রচুর পাবেন এবং ফলত চুনাওতে তাঁর জয় যে অবধারিত সে সম্পর্কে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। রঘুনাথ বলেন, ‘তা হলে নেকীরাম আর আবু মালেকের কাছে আমাদের প্রস্তাব দিয়ে লোক পাঠাতে হয়।’

    বদ্রীবিশাল চৌবে বলেন, ‘তা তো পাঠাতেই হবে।’

    ‘কাকে পাঠানো যায়?’

    বিশাল কমপাউণ্ডের একধারে তেরপল খাটিয়ে যে অস্থায়ী নির্বাচনী ক্যাম্প বসানো হয়েছে সেখানে শিরদাড়া টান টান করে বসে এতক্ষণ রঘুনাথ সিংদের কথা শুনে যাচ্ছিল ঠিকাদার অযোধ্যাপ্রসাদ। এবার সে বলে ওঠে, ‘হুজৌর, হুকুম হো যায় তো হামনি চলা যায়েগা।’

    ঘণ্টাখানেক গভীর পরামর্শের পর স্থির হয়, ঠিকাদার অযোধ্যাপ্রসাদ এবং বদ্রীবিশাল গোপনে রাতের অন্ধকারে নেকীরামের কাছে যাবেন; গিরধরলালজী এবং শ্যামদুলাল যাবেন আবু মালেকের কাছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleইতিহাসের গল্প – প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    Next Article পাগল মামার চার ছেলে – প্রফুল্ল রায়

    Related Articles

    প্রফুল্ল রায়

    আলোর ময়ুর – উপন্যাস – প্রফুল্ল রায়

    September 20, 2025
    প্রফুল্ল রায়

    কেয়াপাতার নৌকো – প্রফুল্ল রায়

    September 20, 2025
    প্রফুল্ল রায়

    শতধারায় বয়ে যায় – প্রফুল্ল রায়

    September 20, 2025
    প্রফুল্ল রায়

    উত্তাল সময়ের ইতিকথা – প্রফুল্ল রায়

    September 20, 2025
    প্রফুল্ল রায়

    গহনগোপন – প্রফুল্ল রায়

    September 20, 2025
    প্রফুল্ল রায়

    নিজেই নায়ক – প্রফুল্ল রায়ভ

    September 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }