Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আকাশের নিচে মানুষ – প্রফুল্ল রায়

    প্রফুল্ল রায় এক পাতা গল্প368 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আকাশের নিচে মানুষ – ৭

    সাত

    দক্ষিণ কোয়েলের মরা খাতটার পাশে সাবুই ঘাসের জঙ্গল। জঙ্গলটা বায়ে ফেলে খানিকটা এগুলে যতদূর চোখ যায়, শক্ত পাথুরে অনাবাদী মাটির ডাঙা। এখানে বলে ‘পড়তি জমি’। এ জমি এমনই কর্কশ আর কাঁকর এবং পাথরে মেশানো যে মরা মরা হলদেটে ঘাস, দু-চারটে খেজুর, সিমর, গামায়ের, কোমরবাঁকা সীসম আর আগাছা ছাড়া কিছুই জন্মায় না।

    এই ডাঙা জায়গাটা বড়ে সরকার রঘুনাথ সিংয়ের খাস তালুকের মধ্যেই পড়ে। এরই একধারে গা জড়াজড়ি করে বেঁটে বেঁটে দমচাপা অনেকগুলো মেটে ঘর কোনরকমে দাঁড়িয়ে আছে। বেশির ভাগ ঘরেরই দেয়াল থেকে মাটি খসে পড়েছে। দেয়ালের গায়ে যে ছোট ছোট বেঢপ ফোকর রয়েছে সেগুলোর নাম হয়ত জানালাই কিন্তু তাতে না আছে গরাদ, না পাল্লা। দরজা বলতে পেটানো টিন বা খেলো কাঠের একটা করে পাল্লা। দরজার জায়গাটা এত ছোট যে ঘাড় গুঁজে ভেতরে ঢুকতে হয়।

    এই হল ধর্মাদের দোসাদটোল। পৃথিবীতে এক ফাঁকা জমি, এত অফুরন্ত মৃত্তিকা কিন্তু এখানকার বাসিন্দাদের জন্য মাথা পিছু হাত পাঁচেক জায়গার বেশি পড়েনি। পৃথিবীর যে যে জায়গায় ঘন বসতির চাপ সব চাইতে বেশি তার মধ্যে ধর্মাদের এই দোসাদটোলাও হয়ত পড়বে।

    এখানকার ঘরগুলো এমনই যে আলো-হাওয়া পর্যন্ত ভাল করে ঢোকে না। পৃথিবীর সেই আদিম যুগে অর্ধপশুগঠন মানুষদের উপনিবেশ যেমন ছিল, এ অনেকটা সেইরকম। বহু কাল, পঞ্চাশ ষাট কি এক দেড়শো বছর আগে রঘুনাথ সিংয়ের বাপ, ঠাকুর্দা বা ঠাকুর্দার বাপ ধর্মার বাপ, ঠাকুর্দা বা ঠাকুর্দার বাপেদের জন্য এই মহল্লা বানিয়ে দিয়েছিলেন। বাজার-গঞ্জ আর ভারী ভারী টৌন থেকে অনেকদূরে অচ্ছুৎ ভূমিদাসেরা পৃথিবীর সবটুকু ঘৃণা গায়ে মেখে বংশ পরম্পরায় এখানে পড়ে আছে।

    ধর্মা এবং কুশী দূর থেকে দেখতে পেল, তাদের দোসাদটোলাটা এখনও ঘুমিয়ে পড়ে নি। ঘরে ঘরে মিটি তেলের ডিবিয়া জ্বলছে। ওখান থেকে চিৎকার চেঁচামেচি এবং হল্লার আওয়াজ ভেসে আসছে। মনে হয়, কোন কারণে তুমুল ঝগড়াঝাটি বেধেছে। এই দোসাদপাড়ায় সামান্য, অসামান্য বা নিতান্ত অকারণেই প্রচণ্ড ধুন্ধুমার লেগে যায়। তখন অশ্লীল খিস্তির আদান-প্রদানে রাজ্যের কাক চিল দশ মাইল তফাতে পালিয়ে যায়।

    মহল্লার কাছাকাছি আসতেই চোখে পড়ে, ঘর-দুয়ার ফেলে কুশীর মা-বাপ আর ধর্মার মা-বাপ অর্থাৎ চার বুড়োবুড়ী মেঠো রাস্তায় এসে দাড়িয়ে আছে। কুশীদের দেখে চার মা-বাপ একসঙ্গে বুক চাপড়াতে চাপড়াতে গলা মিলিয়ে মড়াকান্না জুড়ে দিল। ধর্মা আর কুশী চমকে উঠে একসঙ্গে শুধোয়, ‘কা হৈল, কা হৈল? চিল্লাচ্ছিস কেন?’

    চার বুড়োবুড়ীর বয়েস যথেষ্ট। গায়ের চামড়া কুঁচকে জালি জালি হয়ে গেছে; মাড়িতে বেশির ভাগ দাঁতই নেই। পাটের ফেঁসোর মতো চুল। বুড়ো দুটোর পরনে কোমর ঢাকা চিটচিটে সামান্য টেনি। বুড়ীদুটোর আচ্ছাদন আরেকটু বেশি। নিচের দিকে হাঁটু পর্যন্ত আর ওপরে বুকটা কোনরকমে ঢাকা পড়ে।

    একসঙ্গে কান্না-মেশানো গলায় হড়বড় করে বলার জন্য তাদের কথা দুর্বোধ্য ঠেকে কুশীদের কাছে। ধর্মা এবং কুশী দু’জনেই এবার চেঁচিয়ে ওঠে, ‘চিল্লাবি না বুড়হা বুড়হী। ধীরেসে বল কী হয়েছে—’

    ধমকানিতে কাজ হয়। কান্নার শব্দটা মিইয়ে আসে। তবে একেবারে থামে না। বিনিয়ে বিনিয়ে কাঁদতে কাঁদতেই গলা সাফ করে চার বুড়োবুড়ী বলতে থাকে, ‘কঁহা হামনিকো মিঠাইয়া? বড়ে সরকারকো কোঠিসে দিয়া—’

    এতক্ষণে বোঝা যায়, লাড্ডু বিলির খবরটা দোসাদটোলায় পৌঁছে গেছে। যাবারই কথা। ধর্মাদের সঙ্গে আর যারা বড়ে সরকারের হাভেলিতে গিয়েছিল তাদের তো বগেড়ি বেচে পয়সা জমাবার ফিকির নেই। তারাই লাড্ডু নিয়ে মহল্লায় ফিরে খবরটা দিয়েছে।

    আজ দু সাল কুশীর এবং ধর্মার চার মা-বাপ রঘুনাথ সিংয়ের ক্ষেতিতে আবাদের কাজে যাচ্ছে না। বয়েস বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিশ্রমের সেই শক্তি আর নেই। তাকত না থাকলে সেই অকেজো  লোককে খোরাকি এবং কাপড় দিয়ে পোষার মানে হয় না। জান-বুঝ হবার পর থেকে প্রায় গোটা জীবন পেটভাতায় পিতৃপুরুষের ঋণশোধের জন্য রঘুনাথ সিংয়ের জমিতে খেটে গেছে ধর্মা এবং কুশীর মা-বাপেরা। এর ভেতর কখন যৌবন এসেছে আর গেছে, প্রৌঢ়ত্ব এসেছে আর গেছে, টেরও পায় নি। ছোটনাগপুরের কঠিন নির্দয় মাটি নিজেদের রক্তে আর ঘামে উর্বর করে রঘুনাথ সিংদের জন্য বছরের পর বছর ফসল ফলিয়ে গেছে তারা। তারপর শেষ বয়সে শরীরে সারবস্তু বলতে যখন আর কিছুই নেই তখন একেবারেই খারিজ হয়ে গেছে।

    .

    কিন্তু বড়ে সরকার রঘুনাথ সিং বড়ই মহানুভব। ক্ষেতির কাজ থেকে বাতিল করে দিলেও তিনি ওদের ভোলেন নি। মনে করে প্রত্যেকের জন্য গুনে গুনে লাড্ডু পাঠিয়ে দিয়েছেন; ভয়সা ঘিয়ে বানানো বড় বড় উৎকৃষ্ট লাড্ডু। চার বুড়োবুড়ী নিজেরা গিয়ে বড়ে সরকারের হাত থেকে লাড্ডু নিতে পারে নি, তাতে কী! তাই বলে ভাগের মিঠাই তো আর ছাড়া যায় না।

    দোসাদটোলার মানুষজনের বেশির ভাগই সারাদিন ক্ষেতখামারে জীবনীশক্তির অনেকটা ক্ষয় করে আসার পর সন্ধ্যে হতে না হতেই ঘরে ফিরে নাকেমুখে গুঁজে মড়ার মতো ঘুমিয়ে পড়ে। পরের দিন ভোরের আগে সে ঘুম ভাঙে না।

    কিন্তু আজ যে গোটা পাড়াটা ডিবিয়া জ্বালিয়ে জেগে আছে আর ধর্মা এবং কুশীর মা-বাপেরা ঘর ছেড়ে রাস্তায় এসে দাড়িয়ে রয়েছে তার একমাত্র কারণ বড়ে সরকার রঘুনাথ সিংয়ের ঐ লাড্ডু বিতরণ। তাদের জীবনে রঘুনাথ সিংয়ের হাত থেকে মিঠাইয়া পাওয়া একটা বড় রকমের তৌহারের ব্যাপার; দুর্দান্ত উত্তেজক এক ঘটনা। সেই উত্তেজনাই এত রাত পর্যন্ত কাউকে ঘুমোতে দেয় নি।

    ধর্মা বলে, ‘বড়ে সরকার মিঠাইয়া দিয়েছে, তোদের কে জানালো?’

    মা-বাপেরা চেঁচাতে চেঁচাতে বলে, ‘সব কোই। এক এক আদমিকো দো দো লাড্ডুয়া। তুহারকে লিয়ে বৈঠে বৈঠে বড়ে সরকারকে মকান গৈল। মুনশীজী বাতাওল, হামনিকো মিঠাইয়া তুহারকে হাতমে দে দিয়া। খুদ বড়ে সরকার আপনা হাতসে বাঁট দিয়া—’

    ধর্মা এবং কুশী অনেকক্ষণ হাঁ হয়ে থাকে। লাড্ডু বিলির খবর পেয়ে চার বুড়োবুড়ী যে বড়ে সরকারের বাড়ি পর্যন্ত ধাওয়া করতে পারে, এতটা তারা ভাবতে পারে নি।

    মা-বাপেরা আবার চিৎকার করে ওঠে, ‘কঁহা হ্যায় হামনিকো মিঠাইয়া? কঁহা রে?’

    ধর্মারা জানায় দুর্ভাবনার কারণ নেই, মিঠাই তাদের সঙ্গেই আছে।

    মা বাপেরা খুব একটা যে আশ্বস্ত হয়, এমন মনে হয় না। তারা চেঁচাতেই থাকে, ‘আভি নিকাল হামনিকো লাড্ডুয়া, আভি নিকাল—’

    ‘আরে বুড়হা বুড়হিয়া মিঠাইয়া মিলবে; আগে ঘরে তো চল। লাড্ডুয়াকে লিয়ে মরতা হ্যায়—’

    ‘কায় নায় মরোগে—অ্যাঁ? কেন মরব না? আমাদের ভাগের লাড্ডুয়া!’

    ঘরের দিকে যেতে যেতে মথুরা লচ্ছু ফির্তুলাল, এমনি অনেকের ঘর থেকে তুমুল চিৎকার শোনা যেতে লাগল। নিশ্চয়ই লাড্ডুর ভাগ নিয়ে ঝগড়া চলছে।

    দোসাদটোলার একেবারে মুখের দিকে রাস্তার কাছে পাশাপাশি দুটো ঘরে ধর্মা আর কুশী তাদের মা-বাপদের নিয়ে থাকে। এত পাশাপাশি যে এ ঘরে নীচু গলায় কথা বললে ও ঘরে পরিষ্কার শোনা যায়।

    ঘরে এসে ম্যাচিস ধরিয়ে ওরা ডিবিয়া জ্বালায়। তারপর ধর্মা এবং কুশী তাদের মা-বাপের প্রাপ্য মিঠাই বুঝিয়ে দেয়। এতক্ষণে চার বুড়োবুড়ীর মুখে হাসি ফোটে। দামী দুর্লভ লাড্ডুগুলো ডিবিয়ার আলোয় ঘুরিয়ে ফিরিয়ে লুব্ধ চকচকে চোখে খানিকক্ষণ তারা দ্যাখে; তারপর খেতে শুরু করে। খাওয়া হয়ে গেলে কুশীর মা-বাপ কুশীকে এবং ধর্মার মা-বাপ ধর্মাকে বলে, ‘আভি খা লে—’ অর্থাৎ রাতের খাওয়ার কথা বলছে তারা।

    ধর্মা এবং কুশী জানায়, চৌকাদ গাঁয়ে সফেদ গোয়ারিন আর কালা গোয়ারের বাড়ি থেকে তারা খেয়ে এসেছে। এখন আর খাবে না।

    এ খবরটা দু’জনের মা-বাপের কাছে নতুন কিছু না। সপ্তাহে দু-এক দিন চৌকাদ গাঁ থেকে তারা রাতের খাওয়া চুকিয়ে আসে। তবু চার বুড়োবুড়ী জানায়, আজ একটু বঢ়িয়া রান্নাবান্না হয়েছে। ছেলেমেয়ে না খেলে কি মা-বাপের ভালো লাগে।

    পাশাপাশি দুই ঘরে কুশী আর ধর্মা জানতে চায়, ‘কী রেঁধেছিস?’

    মা-বাপেরা জানায়—ভাত, সুথনির তরকারী আর শিকার।

    শিকার অর্থাৎ মাংস। মাংসের নামে এ ঘরে কুশীর, ও ঘরে ধর্মার চোখ লোভে ঝকমকিয়ে ওঠে। তারা শুধোয়, ‘কিসের শিকার?’

    ‘বন পেরোয়ার (পায়রা)।’

    ‘মিলি কিধরি? (কোথায় পাওয়া গেল)?’

    ‘জঙ্গলে সুথনি তুলতে গিয়ে। কোন জানবর কি বদমাস চিড়িয়া (বাজপাখি) জখম করেছিল। পেরোয়াটা উড়তে পারছিল না। ধরে নিয়ে এলাম।’

    রঘুনাথ সিংয়ের কাছ থেকে খারিজ হয়ে গেলেও ধর্মার মা-বাপ আর কুশীর মা-বাপের খিদে-তেষ্টা তো আর শেষ হয়ে যায় নি। পেট আছে কিন্তু বড়ে সরকারের কাছ থেকে একদানা খোরাকি মেলে না। অথচ না খেলে বাঁচে কী করে? ধর্মা আর কুশী বড়ে সরকারের খামার বাড়ি থেকে যে খোরাকি পায় তাতে নিজেরা খাওয়ার পর এমন কিছু বাড়তি থাকে না যা দিয়ে বাপ-মাকে বাচানো যায়। কাজেই চার বুড়োবুড়ীকে নিজেদের খাদ্য নিজেদেরই যোগাড় করে নিতে হয়।

    ধর্মার মা-বাপ আর কুশীর মা-বাপ এই চারজনের মধ্যে প্রচুর মিল, প্রচুর খাতির। কখনও কোন কারণেই তাদের ঝগড়াঝাটি নেই। এই বনিবনার জন্য দোসাদটোলার অনেকেই তাদের হিংসে করে।

    যাই হোক, খাদ্যের খোঁজে এখান থেকে তিন মাইল তফাতে দক্ষিণ কোয়েলের পাড়ের জঙ্গলে রোজই চলে যায় ওরা। কন্দ, কচু, মেটে আলু, লতাপাতা, এমনি সব জিনিস যোগাড় করতে করতে ক্বচিৎ কখনও তারা এক-আধটা খরগোস কি পাখি টাখি পেয়ে যায়। যেমন আজ একটা বন পেরোয়া বা বনপায়রা পেয়েছে। যেদিন শিকার মেলে সেদিন বাড়িতে যেন তৌহার লেগে যায়।

    ধর্মা আর কুশী বিজ্‌রীদের বাড়ি থেকে পেট ভরে খেয়ে এসেছে। তবু কি আর মাংস দিয়ে দু-চার গরাস ভাত খেতে পারে না? খুবই পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত খায় না। দু’জনে তাদের দুই মাকে ভাগের মাংস আর ভাত তরকারি রেখে দিতে বলে। বলে, ‘ভাতে পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখ। কাল সবেরে খেয়ে জমিনে যাব।’

    দুই পরিবারে দু’জনের একবেলার করে খোরাকি বেঁচে যায়। দোসাদদের জীবনে এ ঘটনা সামান্য নয়।

    দোসাদটোলার সব ঘরেরই চেহারা প্রায় এক রকম। খানকয়েক করে খেলো সিলভারের তোবড়ানো থালা, মাটির হাঁড়িকুড়ি, দু-চারটে ময়লা ঠেটি জামাকাপড়, ছেঁড়া বালিশ, চট, কাঁথাকানি, ধুলো-বোঝাই ইদুরে-কাটা ধুসো কম্বল। ক্বচিৎ কারো ঘরে বাঁশের ফ্রেমে নারকোল দড়ি দিয়ে বোনা চৌপায়া চোখে পড়ে। ধর্মা আর কুশীদের ঘর-দুয়ারেরও এই একই হাল। তবে কুশীদের চৌপায়া নেই, ধর্মাদের একটা আছে। রাতে সেটায় তুলো-ওড়া ফাটা বালিশ পেতে শোয় ধর্মা। এটুকুই তার জীবনে মহার্ঘ সৌখিনতা।

    খানিকটা পর দুই ঘরে চার বুড়োবুড়ী রাতের খাওয়া সেরে ডিবিয়া নিভিয়ে শুয়ে পড়ে। তাদের আগেই ধর্মা আর কুশী শুয়ে পড়েছিল।

    রাত এখন অনেক। দোসাদপাড়া খানিকটা ঝিমিয়ে পড়লে একেবারে ঘুমিয়ে পড়ে নি। দূর থেকে নাথুয়ার বউর গুনগুনানি ভেসে আসে:

    ‘বাবু হমার নিন্দ (ঘুম) করে,
    সারি শহর বাবু ঘুরত রহে,
    আ যা রে নিন্দ, তু আ যা,
    বাবু হমার শুলা যা রা—
    বাবু হমার নিন্দ করে।
    সারি শহর বাবু ঘুরত রহে
    আ যা সৈয়া তু আ যা
    বাবুকে দুধ পিলাহা যা রা—’

    .

    বোঝা যায়, নাথুয়ার বউ গান গেয়ে গেয়ে বাচ্চাকে ঘুম পাড়াচ্ছে।

    ওধারে মঙ্গেরি, ভিরগুলাল, গুলাবীদের ঘর থেকেও কথাবার্তার আবছা শব্দ ভেসে আসে। তবে সব চাইতে স্পষ্ট করে যা শোনা যায় তা হল গঞ্জুরামের মায়ের একটানা বিনিয়ে বিনিয়ে কান্নার আওয়াজ।

    ধর্মা দড়ির চৌপায়ায় চিত হয়ে শুয়ে ছিল। এবার খানিকটা কাত হয়ে অন্ধকারে ঝাপসাভাবে দেখল, দেয়ালের গা ঘেঁষে তাঁর মা-বাপ শুয়ে আছে, তবে ঘুমিয়ে পড়েনি। ধর্মা জিজ্ঞেস করে, ‘গঞ্জুর মা কাঁদে কেন?’

    ধর্মার মা বলে, ‘গঞ্জু ওর মায়ের ভাগের লাড্ডু খেয়ে ফেলেছে।’

    গঞ্জটা এরকমই, মা-বাপকে দ্যাখে না। ঘোর স্বার্থপর। ধর্মা বলে, ‘হারামী জানবর।’ সে জানে আজ বাকী রাতটা গঞ্জুর মায়ের একটানা বিলাপ চলতে থাকবে।

    কিছুক্ষণের মধ্যে শ্বাস ওঠার মতো অদ্ভুত এক শব্দ করতে করতে ধর্মার মা-বাপ ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু সারাদিন ‘হাড্ডি তোড়’ খাটুনির পরও ঘুম আসে না ধর্মার। সে জানে দশ হাত তফাতে আরেকটা ঘরে কুশীর মা-বাপ অঘোরে ঘুমিয়ে পড়েছে কিন্তু তাদের মেয়ে ঠিকই জেগে আছে।

    শুয়ে থাকতে থাকতে অন্য সব দিনের মতো আজও ঠিকাদার আর গোয়ারদের, বিশেষ করে বিজ্‌রী এবং মহাদেওর কথা মনে পড়ে যায় ধর্মার। ওরা কালাপন দুলহানিয়া অর্থাৎ কুশীর কপালে ‘সিনুর চড়ানো’র জন্য রোজ তাগাদা দেয়। সাদির সময় কী কী উপহার দেবে তাও রোজ একবার করে শোনায়।

    ধর্মা ভাবতে থাকে, কবে রঘুনাথ সিংয়ের কাছে তাদের ‘খরিদী’ জীবন শেষ হবে, কবে তারা পূর্বপুরুষের করজ শোধ করে স্বাধীন হতে পারবে, কে জানে। মুক্তি না পেলে সাদির কথাই ওঠে না। একটা গভীর দীর্ঘশ্বাস পড়ে ধর্মার। হয়ত তার মতোই দশ হাত তফাতে আরেকটা ঘরে এক ক্রীতদাসী দোসাদ যুবতী চোখের পাতা মেলে একই কথা ভেবে যায়।

    ভাবতে ভাবতে কখন যেন ঘুমিয়ে পড়ে ধর্মা। তাদের জীবনের একটা দিন এভাবেই কেটে যায়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleইতিহাসের গল্প – প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    Next Article পাগল মামার চার ছেলে – প্রফুল্ল রায়

    Related Articles

    প্রফুল্ল রায়

    আলোর ময়ুর – উপন্যাস – প্রফুল্ল রায়

    September 20, 2025
    প্রফুল্ল রায়

    কেয়াপাতার নৌকো – প্রফুল্ল রায়

    September 20, 2025
    প্রফুল্ল রায়

    শতধারায় বয়ে যায় – প্রফুল্ল রায়

    September 20, 2025
    প্রফুল্ল রায়

    উত্তাল সময়ের ইতিকথা – প্রফুল্ল রায়

    September 20, 2025
    প্রফুল্ল রায়

    গহনগোপন – প্রফুল্ল রায়

    September 20, 2025
    প্রফুল্ল রায়

    নিজেই নায়ক – প্রফুল্ল রায়ভ

    September 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }