Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আত্ম-উন্নয়ন – বিদ্যুৎ মিত্র

    বিদ্যুৎ মিত্র এক পাতা গল্প140 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০২. ধ্যান কি করে করতে হয়

    ০২. ধ্যান কি করে করতে হয়

    প্রথমেই আপনি শিখতে যাচ্ছেন কিভাবে ধ্যান করতে হয়। এটা যখন শেখা হয়ে যাবে, মনের এমন একটা লেভেলে পৌঁছুবেন আপনি, যেখানে পৌঁছে সমস্যা সমাধানের জন্যে মুক্ত করে দিতে পারবেন আপনার কল্পনাশক্তিকে। প্রথমে আপনি ধ্যান করা শিখবেন, সমস্যা সমাধান করতে শিখবেন পরে।

    হোসে সিলভার চারদিনের ট্রেনিং কোর্সে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে এসব শেখাবার জন্যে অভিজ্ঞ লেকচারার থাকেন, কিন্তু বই পড়ে শেখার সময় আপনি কোনো গাইড পাচ্ছেন। না। তাই এই পদ্ধতিটা চারদিনের মধ্যে শিখতে পারবেন না, শিখবেন একটু দেরিতে। তবে সমস্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ব্যাখ্যা করা হবে, কাজেই শিখতে আপনার কোনো অসুবিধে হবে না।

    আপনি শুধু যদি ধ্যান করা শেখেন, এবং তারপর আর সামনে না বাড়েন, তাহলেও কিন্তু এক ধরনের সমস্যার সমাধান আপনা থেকেই হতে থাকবে। ধ্যানমগ্ন। অবস্থায় অদ্ভুত সুন্দর একটা ব্যাপার ঘটে, সেটাকে আমরা সুখপ্রদ প্রশান্তি বলতে পারি। যতো বেশি ধ্যানমগ্ন হবেন, নিজের ভেতর যতো গভীরে ডুবে যাবেন, ততোই ওই সুখপ্রদ প্রশান্তি আর পরমানন্দের একটা অনুভূতি আপনার সমগ্র অস্তিত্বে এমন। ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে যে জীবনের কোনো সংকটই সেটাকে নষ্ট করতে পারবে না।

    আপনার শরীরও তাতে উপকৃত হবে। প্রথমে আপনি উপলব্ধি করবেন, ধ্যানমগ্ন অবস্থায় উদ্বেগ আর অপরাধবোধ একেবারেই থাকছে না। ধ্যান করে আলফা লেভেলে পৌঁছুবার ভালো দিকগুলোর একটা হলো, চেষ্টা করেও নিজের ভেতর আপনি রাগ বা অপরাধবোধ আনতে পারবেন না। হঠাৎ কোনোভাবে এই সব বোধ যদি অনুপ্রবেশ করেও, সাথে সাথে আলফা থেকে বিটা লেভেলে অর্থাৎ ধ্যানমগ্ন অবস্থা থেকে জাগ্রত অবস্থায় উঠে আসবেন আপনি। তাতে ঘাবড়াবার কিছু নেই। চর্চা করতে থাকুন, ধীরে ধীরে ধ্যানমগ্ন অবস্থার মেয়াদ বাড়তে থাকবে। প্রথমবার যতোক্ষণ ধ্যানমগ্ন থাকবেন, দ্বিতীয়বার তারচেয়ে একটু বেশিক্ষণ থাকবেন, এই ভাবে এক সময় রাগ বা অপরাধ বোধের হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে, ফলে ধ্যানও আর আপনি না চাইলে ভাঙবে না।

    এই বোধগুলো উপস্থিত না থাকার অর্থ হলো, মনের যেসব ক্ষতিকর আচরণ বা তৎপরতা শরীরকে অসুস্থ ও দুর্বল করে তোলে, ধ্যানমগ্ন অবস্থায় সেগুলো নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে। শরীরের ডিজাইন তৈরি করা হয়েছে ওটাকে সুস্থ রাখার জন্যে। তার নিজেরই রয়েছে নিরাময় ও উপশম ব্যবস্থা। মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে মনই সে ব্যবস্থা বানচাল করে দেয়। তাই মনকে আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আর মনকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রথম পদক্ষেপ হলো ধ্যান। একক ভাবে শুধু ধ্যানই তার নিজস্ব গতিপথ ধরে অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়ে যায়, যাবার পথে শরীরের নিরাময় এবং উপশম ব্যবস্থাকে পুনর্বাসিত করে। একদা উত্তেজনা আর উদ্বেগের কারণে যে শক্তি ক্ষয় হয়ে যাওয়ায় ব্যবস্থাটি অচল হয়ে পড়েছিল, সেই শক্তি ফিরে পাওয়ায় আবার সেটা পুরোদমে। কাজ শুরু করে।

    এবার জেনে নিন আলফা লেভেলে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় পৌঁছুতে হলে কি করতে হবে।

    সকালে আপনার ঘুম ভাঙলো। বাথরুমে যাবার তাগাদা থাকলে যান, তারপর আবার ফিরে আসুন বিছানায়। পনেরো মিনিট সময় বেঁধে নিন অ্যালার্ম ক্লকে, যাতে অনুশীলন করবার সময় ঘুম এসে পড়লেও সেটা সময়মতো ভেঙে যায়। চোখ বন্ধ করে বন্ধ পাতার ভেতর দিয়ে ওপর দিকে তাকান, বিশ ডিগ্রি উঁচুতে। কারণটা এখনো পরিষ্কার জানা সম্ভব হয়নি, তবে দেখা গেছে, চোখের এই পজিশনই আলফা সৃষ্টির জন্যে সবচেয়ে বেশি উপযোগী।

    এবার, ধীরে ধীরে, প্রতিবার দু’সেকেণ্ড করে বিরতি নিয়ে, একশো থেকে নিচের দিকে গুণতে থাকুন, এক পর্যন্ত। একশো, নিরানব্বই, আটানব্বই, সাতানব্বই:. এইভাবে। যখন গুণবেন, সম্পূর্ণ মনোযোগ এই কাজের ওপর স্থির রাখুন। আশা করা যায় প্রথমবার গোণা শেষ করলেই আপনি আলফা লেভেলে পৌঁছে যাবেন।

    আলফাতে প্রথমবার পৌঁছে এক-একজনের এক-এক রকম অভিজ্ঞতা হয়। কারো মনে হয়, ‘আহ, কি আরাম!’ কেউ আবার এতো গভীর প্রশান্তি অনুভব করে যে তার মনে হয়, ‘আরে, কোনো অনুভূতিই নেই আমার!’ আবার কেউ কেউ জেগে থাকা অবস্থার সাথে এই অবস্থার তেমন কোনো পার্থক্যই অনুভব করতে পারে না। এর কারণ হলো, আলফা লেভেল আমাদের জন্যে নতুন কোনো ব্যাপার নয়, এর সাথে আমরা সবাই পরিচিত–কেউ বেশি কেউ কম।

    সকালে যখন আমাদের ঘুম ভাঙে, তখন প্রায়ই আমরা আলফা লেভেলে কিছুক্ষণের জন্যে থাকি। থিটা থেকে, অর্থাৎ ঘুমের লেভেল থেকে বিটায়, অর্থাৎ জেগে থাকা লেভেলে আসার সময় আলফা লেভেল আমাদেরকে পেরোতেই হয়। পেরোবার সময় ওই লেভেলে একটু দেরি করি আমরা, প্রায় প্রতিদিন সকালেই।

    প্রথমবার অনুশীলনের সময় আপনি যদি কিছুই অনুভব না করেন, বুঝতে হবে এর আগে আলফা লেভেলে অনেকবার গেছেন আপনি, কিন্তু টের পাননি। মনটাকে শান্ত করুন, ঘাবড়াবেন না। অনুশীলন চালিয়ে যান।

    একাগ্র মনোযোগের সাথে চেষ্টা করলে যদিও আপনি প্রথমবারই আলফা লেভেলে পৌঁছে যাবেন, তবু আলফা লেভেলের নিচের দিকে এবং তারপর থিটা লেভেলে নামতে হলে আরো পঁচিশদিন আপনাকে চর্চা করতে হবে পদ্ধতিটি। একশো থেকে এক, এই কাউন্ট ডাউন পর পর পাঁচ দিন চালান। তারপর পঞ্চাশ থেকে এক, আরো পাঁচ দিন। তারপর পঁচিশ থেকে এক, আরো পাঁচ দিন। তারপর দশ থেকে এক, পাঁচ দিন। সবশেষে পাঁচ থেকে এক, পাঁচ দিন।

    প্রথমবার বা প্রথম কয়েকবার একাগ্র মনোযোগের সাথে চেষ্টা করার পরও যাঁরা আলফা লেভেলে পৌঁছুতে পারছেন না বলে মনে করছেন, এবার তাঁদের জন্যে কিছু নিয়ম। এই নিয়ম অন্যান্য সবাইও ইচ্ছে করলে ব্যবহার করতে পারেন, কোনো ক্ষতি তো নেই-ই, লাভের পরিমাণ ষোলো আনা। এই নিয়মকে আমরা তিন–এক (৩-১) পদ্ধতি নামে অভিহিত করতে পারি।

    শরীর শিথিল করে দিয়ে পরিপূর্ণ বিশ্রাম নেয়ার নিয়ম এটা। আপনারা যারা এখনো আলফা লেভেলে পৌঁছুতে পারছেন না বলে মনে করছেন, এই নিয়ম তাঁরা সকালেই চর্চা করবেন, বাকিরা সকাল, দুপুর, রাত বা যে কোনো সময় চর্চা করতে পারেন।

    পছন্দসই, প্রিয় একটা জায়গা বেছে নিন। শুয়ে পড়ুন বা আধশোয়া হোন, ভঙ্গিটি যেন অত্যন্ত আরামদায়ক হয়। জামা-কাপড় আঁটো না হয়ে ঢিলে-ঢালা হওয়া দরকার। নিরিবিলি, শান্ত, ঠাণ্ডা পরিবেশ হলে ভালো হয়। এবার আপনার শরীর সম্পূর্ণ ঢিল করে দিন, শিথিল করে ছেড়ে দিন নিজেকে। চোখ বন্ধ করুন। তারপর গভীর ভাবে, বুক ভরে শ্বাস গ্রহণ করুন। নিঃশ্বাস ত্যাগ করার সময় মনে মনে ৩ সংখ্যাটি তিনবার উচ্চারণ করুন, সেই সাথে মনের চোখ দিয়ে ৩ সংখ্যাটির ছবি চাক্ষুষ করুন, এ-ও তিনবার।

    আরেকটা গভীর শ্বাস নিন, এবং নিঃশ্বাস ফেলার সময় মনে মনে ২ সংখ্যাটি তিনবার উচ্চারণ এবং মনের চোখে সংখ্যাটি তিনবার চাক্ষুষ করুন।

    আরেকটা গভীর শ্বাস নিন, নিঃশ্বাস ফেলার সময় মনে মনে ১ সংখ্যাটি তিনবার উচ্চারণ করুন, মনের চোখে সংখ্যাটি তিনবার চাক্ষুষ করুন।

    এই নিয়ম চর্চা করার পর আপনি যেখানে পৌঁছুলেন সেটাকে আমরা বেসিক লেভেল বলতে পারি, এই বেসিক লেভেল থেকে অন্যান্য যে-কোনো লেভেলে নেমে যাওয়া অপেক্ষাকৃত সহজ।

    বেসিক লেভেল থেকে আরো নিচের লেভেলে যেতে হলে বা বেসিক লেভেলেরই আরো গভীর তলদেশে যেতে হলে একশো থেকে এক, এই নিয়মে কাউন্ট ডাউন করবেন।

    এবার অটোসাজেশন প্রসঙ্গ। এই আটোসাজেশন সবার জন্যে। প্রতিদিন অনুশীলন শেষে যে লেভেলেই পৌঁছান আপনি, সাজেশনগুলো দিতে পারবেন নিজেকে। যতো গভীর লেভেলে সাজেশন দেবেন ততোই বেশি উপকার পাবেন।

    ১। আমার মনের এই নতুন শক্তি মানব কল্যাণের সহায়ক হবে।

    ২। প্রতিদিন প্রতি কাজে আমি ভালো করছি, ভালো করছি, ভালো করছি। বা, প্রতিদিন সব দিক থেকে উন্নতি করছি।

    ৩। হ্যাঁ-সূচক ভাবনায় আমার মনের আশা পূরণ এবং উপকার হবে।

    ৪। মনের এই লেভেলে বা অন্য লেভেলে এবং জেগে থাকা অবস্থায় আমার মনের ওপর, আমার সমস্ত অনুভূতি এবং ইন্দ্রিয়ের ওপর, সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব আছে আমার, এবং থাকবে।

    প্রথমবার আলফা লেভেলে পৌঁছে প্রথমবারই এই লেভেল থেকে বেরিয়ে আসার জন্যে নিজেকে অটোসাজেশন দেবেন আপনি। এই সাজেশন যতোবার ধ্যানমগ্ন হবেন। ততোবার নিজেকে দিতে হবে। সব সময় একই সাজেশন ব্যবহার করা ভালো।

    মনে মনে এই কথাগুলো বলুনঃ

    আমি এক থেকে পাঁচ পর্যন্ত গুণতে যাচ্ছি; পাঁচ সংখ্যাটি উচ্চারণ করার সাথে সাথে আমি আমার চোখ খুলবো, সেই সাথে সম্পূর্ণ সজাগ অবস্থায় জেগে উঠবো, অনুভব করবো সম্পূর্ণ সুস্থতা, শরীর-মন আগের চেয়ে ভালো লাগবে।

    এরপর আপনি গুণতে শুরু করুন। ১-২, ধ্যানমগ্ন অবস্থা থেকে উঠে আসতে শুরু করেছেন। ৩-এবার আবার নিজেকে স্মরণ করিয়ে দিন যে পাঁচ পর্যন্ত গুণে আপনি আপনার চোখ খুলবেন, সম্পূর্ণ সজাগ অবস্থায় জেগে উঠবেন, শরীর-মন তাজা। আর ঝরঝরে লাগবে, কোনো রকম অসুস্থ বোধ করবেন না, বরং আগের চেয়ে সুস্থ বোধ করবেন। ৪–৫। পাঁচ পর্যন্ত গুণে, চোখ খুলুন। তারপর বলুন–সম্পূর্ণ জেগেছি। আমি, সুস্থ বোধ করছি।

    মোট পঁচিশ দিন সকালে চর্চা করার জন্যে অনুশীলন দেয়া হয়েছে আপনাকে। কিন্তু এই পঁচিশ দিন পেরোবার আগেই, মাত্র দশ দিন অনুশীলনগুলো চর্চা করার পর, নতুন আরেকটা কাজ ধরবেন আপনি। এবার দিনের যে-কোনো সময়, দুপুরে বা রাতে ঘুমিয়ে পড়ার আগে আলফা লেভেলে পৌঁছুতে হবে আপনাকে। এর জন্যে দশ থেকে পনেরো মিনিট অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হবে। কারণ, আলফার হালকা লেভেল থেকে নয়, এবার আপনি বিটা থেকে গভীর আলফা লেভেলে নামতে চাইছেন, তাই সামান্য একটু অতিরিক্ত ট্রেনিং দরকার।

    পছন্দসই, প্রিয় একটা জায়গা বেছে নিন। আরামদায়ক কোনো চেয়ারে বা বিছানার ওপর বসুন। নিচের দিকে পা ঝুলিয়ে বা পদ্মাসনেও বসতে পারেন। জামা কাপড় ঢিলে-ঢালা হওয়া দরকার। নিরিবিলি, শান্ত, ঠাণ্ডা পরিবেশ হলে ভালো হয়। হাত দুটো শিথিল অবস্থায় ফেলে রাখুন কোলের ওপর। মাথাটা সিধে রাখুন, এদিক ওদিক যেন হেলে না পড়ে। এবার স্বেচ্ছায় সজ্ঞানে সচেতনতার সাথে ঢিল করার জন্যে প্রথমে শরীরের একটা অংশ তারপর আরেকটা অংশের ওপর গভীর মনোযোগ আরোপ করুন। শুরু করুন আপনার বাঁ পায়ের তলা থেকে, তারপর বাঁ পা, তারপর ডান পায়ের তলা-এইভাবে, যতোক্ষণ না আপনি গলা, মুখ, চোখ এবং সবশেষে খুলিতে না। পৌঁছান। এটা প্রথমবার অনুশীলন করার সময় কি রকম শক্ত আর টান টান ছিলো আপনার শরীর উপলব্ধি করে অবাক হয়ে যাবেন আপনি।

    এবার যে-কোনো একটা কিছুর ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করুন। যে কোনো জিনিস হলেই চলবে, সিলিঙের একটা দাগ বা দেয়ালের পেরেক–যা খুশি। নাক বরাবর তাকালে দৃষ্টিটা যেখানে পড়ে সেখান থেকে পঁয়তাল্লিশ ডিগ্রি ওপরদিকে তাকাতে হবে। আপনাকে। পেরেক বা দাগ যাই হোক, সেটার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকুন, যততক্ষণ না চোখের পাতা একটু ভারি ঠেকে, তারপর ওগুলোকে নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যেতে দিন। এবার পঞ্চাশ থেকে নিচের দিকে গুণতে গুণতে নামুন, এক পর্যন্ত। এই রুটিন পাঁচ দিন মেনে চলুন। তারপর পঁচিশ থেকে এক পর্যন্ত, পাঁচ দিন। তারপর দশ থেকে এক পর্যন্ত, পাঁচ দিন। তারপর পাঁচ থেকে এক, পাঁচ দিন। এই পদ্ধতিতে ধ্যানমগ্ন হওয়ার চেষ্টা প্রতিদিন দু-তিনবার চালিয়ে যান, প্রতিবার দশ-পনেরো মিনিট ব্যয় করুন। নিজেকে সাজেশন দেয়ার কথা মনে আছে তো? এক্ষেত্রেও সেগুলো কাজে লাগাতে ভুলবেন না।

    আলফায় পৌঁছুনো তো শিখে গেলেন, কিন্তু তারপর কি? ওখানে পৌঁছে নিজেকে সাজেশন দেয়া ছাড়া আর কি করবেন আপনি?

    একেবারে শুরু থেকেই, ধ্যানমগ্ন অবস্থায় প্রথম যেবার পৌঁছলেন তখন থেকেই, মানস- চোখে ছবি দেখা অভ্যেস করুন। মানস- চোখে ছবি দেখাটা যতো ভালো ভাবে শিখতে পারবেন আপনি, মনকে নিয়ন্ত্রণ করে সাফল্য অর্জন ততোই আপনার পক্ষে সহজ হয়ে উঠবে।

    এ-ব্যাপারে প্রথম কাজ হলো, চাক্ষুষ করার জন্যে একটা উপকরণ তৈরি করা। উপকরণ মানে একটা স্ক্রীন, বা পর্দা। সাদা হলেই ভালো হয়, কারণ সাদার ওপরেই ছবি ফোটে ভালো। বড়সড় সিনেমার মতো পর্দা হওয়া উচিত, তবে আবার এতো বড় যেন না হয় যেটা মনের দৃষ্টির সবটুকু জুড়ে থাকে। পর্দাটাকে চোখের পাতার কাছাকাছি কল্পনা না করে কল্পনা করুন আপনার কাছ থেকে ছ’ ফিট সামনে। মনোনিবেশের জন্যে যা আপনি নির্বাচন করবেন, সেটার ছবি এই পর্দায় দেখতে হবে আপনাকে। পরে এই পর্দা আরো অনেক কাজে ব্যবহার করা হবে।

    মনে এই পর্দা তৈরি করা হয়ে গেলে, এবার ওটার গায়ে সাধারণ, পরিচিত কিছু একটা ছবি ফুটিয়ে তুলুন। সেটা একটা কলা হতে পারে, একটা আপেল বা কমলালেবু হতে পারে। প্রতিবার ধ্যানমগ্ন অবস্থায় পৌঁছে এই ছবি ফুটিয়ে তুলবেন আপনি। একবার এটা, একবার ওটা না করে একটা জিনিসেরই ছবি দেখবেন, যদি বদলাতে চান তাহলে পরেরবার ধ্যানমগ্ন অবস্থায় বদলাবেন। পর্দা সম্পর্কে একটা কথা। কারো কারো জন্য এটা তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে। তারা ইচ্ছে করলে চোখ বন্ধ করলে যা দেখতে পান সেটাকেই একটা পর্দা বলে মনে করতে পারেন।

    যেনতেন ভাবে একটা ছবি ফুটিয়ে তুললে চলবে না। গভীর মনোযোগ আর আন্তরিকতার সাথে ওটাকে ফুটিয়ে তুলুন, যাতে আরো, আরো বাস্তব হয়ে ওঠে। ওটার যেন তিনটে দিকই পরিষ্কার দেখতে পান আপনি, রঙ এবং সমস্ত খুটিনাটি বৈশিষ্ট্য সহ। শুধু ওটার কথাই ভাবুন।

    মানুষের চিন্তাকে তুলনা করা হয় মাতাল বানরের সাথে। লাফ-ঝাঁপ দিয়ে এখান। থেকে ওখানে চলে যাচ্ছে, মতিগতির কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই। মাঝে মধ্যে আমাদের জন্যে অত্যন্ত সূক্ষ্ম কাজ করলেও, এই ব্রেনের ওপর আমরা কতো কম নিয়ন্ত্রণ রাখি ভাবতে গেলে আশ্চর্য হতে হয়। এ বড় শক্তিশালী, এতোই শক্তিশালী যে একে নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পারলে সমূহ বিপদ, শত্রুর মতো আচরণ করে বসবে।

    শত্রু হলেও, ব্রেনের একটা স্বভাব হলো, কেউ যদি তাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে, তার একেবারে কেনা গোলাম বনে যায়। একবার যদি আমরা মনকে ট্রেনিং দিয়ে নিতে পারি, আমাদের জন্যে আশ্চর্য সব কাজ করে দিয়ে সে তাক লাগিয়ে দেবে। অপেক্ষা করুন, একটু পরেই দেখতে পাবেন।

    ইতিমধ্যে, সহজ সরল যে অনুশীলনগুলো চর্চা করার জন্যে দেয়া হলো, আপাততঃ তাই নিয়ে ধৈর্য ধরুন। একাগ্রতার সাথে মনটাকে ব্যবহার করে ব্রেনকে আলফা লেভেলে যাবার ট্রেনিং দিন। লেভেলে গিয়ে সাজেশন দিন নিজেকে। মনের পর্দায় ছবি ফুটিয়ে তোলার দক্ষতা অর্জন করুন। প্রথম দিকে নানা রকম বাজে চিন্তা নাক গলাবার চেষ্টা চালাবে, সেজন্যে অধৈর্য বা উত্তেজিত হবেন না। শান্ত ভাবে ওগুলোকে মন থেকে সরিয়ে ফেলুন, ফিরে আসুন নিজের কাজে। অস্বস্তি, বা উত্তেজনা বোধ করলে আপনার ধ্যান ভেঙে যাবে, উঠে আসবেন বিটা লেভেলে।

    এই হলো ধ্যান, যা সারা দুনিয়ায় ব্যাপক ভাবে চর্চা করা হয়। আপনি যদি আর কিছু না, শুধু ধ্যান করেন, তাহলে উপভোগ করবেন, উইলিয়াম ওঅর্ডসওয়ার্থ যেটাকে বলেছেন, ‘এ হ্যাপি স্টিলনেস অভ মাইণ্ড’। অন্তরের অন্তস্তল পর্যন্ত গভীর এক শান্তিতে ছেয়ে যাবে। এরপর, ধ্যানের আরো যতো গভীরে প্রবেশ করবেন, ততোই আনন্দময় আর রোমাঞ্চকর হয়ে উঠবে আপনার অভিজ্ঞতা। রোজ তিনবেলা কোর্মা পোলাও খেলে ওগুলোর স্বাদ যেমন আর আগের মতো পাওয়া যায় না তেমনি আপনার এই অভিজ্ঞতা থেকেও রোমাঞ্চের মাত্রা একটু একটু করে কমতে শুরু করবে। এটা ঘটবে এই অভিজ্ঞতায় আপনি অভ্যস্ত হয়ে উঠবেন বলে, কি অনুভব করবেন তা আগে থেকে জানা থাকলে সেটা গভীর, গাঢ়ভাবে অনুভব করা যায় না। এই কাণ্ড ঘটতে শুরু করলে অনেকেই চর্চা করা ছেড়ে দেয়। কিন্তু আপনাকে বুঝতে হবে, ধ্যানমগ্নতা স্বয়ং একটা গন্তব্য নয়। আপনার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যাত্রাপথে ওটা একটা পদক্ষেপ মাত্র। তাও, প্রথম পদক্ষেপ। কাজেই এক পা এগিয়ে হাল ছেড়ে দিলে মস্ত ভুল করবেন। আপনি। অনেকে ছেড়ে দিক, আপনি ছাড়বেন না দয়া করে।

    শুধু করার জন্যে ধ্যান করা, বা ধ্যানমগ্ন অবস্থায় কিছু ঘটার অপেক্ষায় থাকা, এ যথেষ্ট নয়। শুধু ধ্যানই আপনার মনে গভীর প্রশান্তি আনবে, সত্যি। তাতে আপনার শরীর-মন উপকৃত হবে, এ-ও সত্যি। কিন্তু ধ্যানের সাহায্যে আরো অনেক কিছু পাবার রয়েছে আপনার। ধ্যানমগ্ন অবস্থায় মনকে সচেতন করে তুলে সমস্যা সমাধানের কাজে ব্যবহার করা যায়। এর জন্যে আপনার কল্পনাশক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। এখন। বুঝতে পারছেন, মনের পর্দায় কমলালেবু বা অন্য কিছু ফুটিয়ে তোলার সহজ অনুশীলনটা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

    আসুন, কাজ শুরু করা যাক।

    ধ্যানমগ্ন হওয়ার আগে অর্থাৎ আপনার লেভেলে যাবার আগে ভাল লাগা একটা ঘটনার কথা চিন্তা করুন, যেটা আজ বা গতকাল ঘটেছে। অল্প সময় নিয়ে, দ্রুত, গোটা। ঘটনাটা একবার স্মরণ করুন। তারপর নিজের লেভেলে যান। এবার তৈরি করা মনের পর্দায় ঘটনাটা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ঘটতে দেখুন। দৃশ্যগুলো পরিষ্কার চাক্ষুষ করুন, গন্ধ নিন, আওয়াজগুলো গভীর ভাবে শুনুন। ঘটনাটা ঘটার সময় আপনি যা অনুভব করেছিলেন, এখনও তাই অনুভব করুন। খুটিনাটি কিছুই যেন বাদ না পড়ে। ঘটনাটা আপনার বিটা স্মরণশক্তি যেভাবে স্মরণ করেছিলো আর আলফা যেভাবে স্মরণ করলো, দুটোর মধ্যে পার্থক্য দেখে আশ্চর্য হয়ে যাবেন আপনি।

    এর লাভটা কি? প্রথম লাভ, অনেক বড় কিছুর দিকে এটা আপনার প্রথম পদক্ষেপ। দুই, এই অনুশীলন থেকে সরাসরিও আপনি অনেক উপকার পাবেন। এবার দেখুন এটাকে কিভাবে কাজে লাগানো যায়। আপনার নিজের যে-কোনো একটা জিনিসের কথা ভাবুন, যেটা ঠিক হারিয়ে যায়নি, তবে খুঁজে বের করতে একটু সময় লাগবে। গাড়ির চাবি হতে পারে। কোথায় আছে ওটা–দেরাজে, আপনার পকেটে, নাকি আপনার গাড়িতেই? সঠিক মনে করতে না পারলে, নিজের লেভেলে চলে যান, অতীতে ফিরে গিয়ে স্মরণ করুন শেষ কখন ওটা দেখেছেন। তারপর সেই মুহূর্তটিকে ভুলে গিয়ে, সময়ের সাথে সাথে এগিয়ে পরের ঘটনাগুলো এক এক করে স্মরণ করুন, জিনিসটা যেখানে রেখেছেন সেখানে এখনও যদি থাকে, পেয়ে যাবেন। কিন্তু কেউ যদি জিনিসটা ওখান থেকে সরিয়ে ফেলে থাকে, সেটা অন্য ধরনের একটা সমস্যা। সমাধানের জন্যে আরো উন্নত টেকনিক দরকার।)

    বেচারা ছাত্রটির কথা ভাবুন একবার, শিক্ষক তাকে বলেছেন, চলতি হপ্তার সোমবার দশটায় তার পরীক্ষা। চলতি হপ্তায়, নাকি আগামী হপ্তার সোমবারে? শতচেষ্টাতেও মনে করতে পারছে না ছাত্রটি। এই অবস্থায় আলফা লেভেলে পৌঁছে শিক্ষক ঠিক যা বলেছিলেন, সেটা মনে করতে পারবে সে।

    এগুলো দৈনন্দিন জীবনের ছোটোখাটো সমস্যা, ধ্যান করে, সহজ সরল নিয়মের সাহায্যে সমাধান বের করে আনা যায়।

    এবার বিরাট লাফ দিয়ে অনেক সামনে চলে যাবো আমরা। একটা ঘটনা, যেটা ঘটলে আপনি খুব খুশি হন, ঘটুক বলে কল্পনা করছেন, সেটার সাথে বাস্তব ঘটনার সংযোগ ঘটাবো আমরা, তারপর দেখবো কাল্পনিক ঘটনাটার কি অবস্থা হয়। পদ্ধতি গুলো সহজ, শুধু যদি ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারেন, আপনার কাল্পনিক ঘটনা বাস্তব ঘটনা হয়ে উঠবে।

    ১নং বিধি।

    ঘটনাটা ঘটবে, এই আকাক্ষা বা বাসনা আপনার থাকতে হবে। ‘কাল সকালে রাস্তায় প্রথম যে লোকটার সাথে দেখা হবে, দেখবো নাক ঝাড়ছে সে, এ-ধরনের ঘটনা এমনই তাৎপর্যহীন যে আপনার মন এটার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, সম্ভবত আপনার এই আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে না। আপনার বস্ আগের চেয়ে ভালো ব্যবহার করবেন, অথবা নির্দিষ্ট একজন ক্রেতা আপনার পণ্যের প্রতি অধিকতর আকর্ষণ বোধ করবেন, সাধারণত করতে ভালো লাগে না এই ধরনের একটা কাজ এরপর করতে ভালো লাগবে-এগুলো সত্যি তাৎপর্যপূর্ণ এবং আকাঙ্ক্ষা করার মতো ব্যাপার।

    ২নং বিধি।

    ঘটনাটা যে ঘটবে এ বিশ্বাস আপনার থাকতেই হবে। আপনি যা বিক্রি করতে চান সেটা যদি ক্রেতার কাছে প্রচুর পরিমাণে থেকে থাকে, ক্রেতা আপনার পণ্য কেনার জন্যে ব্যস্ত হয়ে উঠবে এ আপনি বিশ্বাস করতে পারেন না। যুক্তি দিয়ে উপলব্ধি করে ঘটনাটা ঘটবে বলে যদি বিশ্বাস করতে না পারেন, আপনার মন এর বিরুদ্ধে কাজ করবে।

    ৩ নং বিধি। ঘটনাটা ঘটবে, এই প্রতীক্ষায় থাকতে হবে আপনাকে। এটা একটা সম্মু বিধি, এর গভীর অর্থ আছে। প্রথম দুটো বিধি সহজ এবং নিষ্ক্রিয়। এই তৃতীয়টির মধ্যে কিছুটা গতি আছে। একটা কিছুর আকাঙ্ক্ষা করা যায়, একটা ঘটনা ঘটবে বলে বাসনা করা যায়। বিশ্বাস করা যায় ঘটনাটা ঘটবে। কিন্তু তবু সেটা ঘটবে এই প্রতীক্ষায় বা প্রত্যাশায় নাও থাকতে পারেন। আপনি চান আপনার বস্ আপনার সাথে ভালো ব্যবহার করবেন, আপনি বিশ্বাস করেন ভালো ব্যবহার করা তার পক্ষে সম্ভব, কিন্তু তবু ভালো ব্যবহার পাওয়ার প্রতীক্ষা করা থেকে এখনো অনেক দূরে রয়েছেন আপনি। এখানে প্রতীক্ষা করা মানে কোনো ঘটনা ঘটবেই বা কিছু পাবেনই বলে ধরে নেয়া হচ্ছে। ঠিক এই পর্যায়েই ধ্যান এবং মানস চোখে ছবি দেখার মতো শক্তিশালী মাধ্যমগুলোকে কজে লাগানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়।

    ৪ নং বিধি।

    আপনি কোনো সমস্যা তৈরি করতে পারেন না। এটা একটা মৌলিক, সর্ব নিয়ন্ত্রক বিধি। ‘কি মজাই না হয় যদি আমার বকে বেকুব বানিয়ে এমন কিছু খারাপ। কাজ তাকে দিয়েই করিয়ে নিতে পারি যাতে সবাই তাকে অযোগ্য বলে ধিক্কার দেয়। আর চাকরি থেকে বরখাস্ত করে তার আসনে আমাকে বসায়! আলফায় আপনি যখন সক্রিয় ভাবে কাজ করবেন, আপনার সংস্পর্শে হাইয়ার ইন্টেলিজেন্স থাকবে, এবং হাইয়ার ইন্টেলিজেন্সের দৃষ্টিতে এই ব্যাপারটা কোনোমতেই মজার বলে মনে হবে না। আপনি আপনার বসকে ফাঁদে ফেলে তার চাকরি খেতে পারেন, কিন্তু তখন আপনি। সম্পূর্ণ একা থাকবেন–এবং বিটা লেভেলে। আলফায় আপনার এই ষড়যন্ত্র ফলবে না।

    ধ্যানমগ্ন অবস্থায় পৌঁছে আপনি যদি কোনো ধরনের বুদ্ধিমান অস্তিত্বকে দলে ভিড়িয়ে তাকে দিয়ে খারাপ কোনো কাজ করিয়ে নেয়ার কুমতলব আঁটেন, সেটা হবে রেডিওর নব ঘুরিয়ে অস্তিত্বহীন স্টেশনের গান শুনতে চেষ্টা করার মতোই নিষ্ফল।

    কেউ কেউ ব্যাপারটা বিশ্বাস করে না। তাদের প্রশ্ন, অভিশাপ যদি সত্যি হয়, শয়তান উপাসকরা যদি মানুষের ক্ষতি করতে পারে, মনকে নিয়ন্ত্রণ করে আমরা কেন তা পারবো না? কেন পারা যায় না, সেটা বলা কঠিন, কিন্তু পারা যায় না সেটা গবেষণায় নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হয়েছে। এসব কাজ বিটায় করা যায়, আলফাতে নয়, থিটাতে নয়, সম্ভবত ডেলটাতেও নয়।

    সময় নষ্ট করানোর পক্ষপাতী নই আমরা, তবু যদি আপনার সন্দেহ থাকে, নিজেই ব্যাপারটা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। ধ্যানমগ্ন হোন, কারো মাথায় ব্যথা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে দেখুন। সফল হওয়ার জন্যে যে সব নিয়ম রীতি পালন করে তৈরি করা পর্দায় ছবি দেখতে হয়, সেগুলো যদি নির্ভুল, নিখুঁত ভাবে পালন করতে পারেন, ফল হবে দুটোর একটা হয় আপনি, আপনার সাবজেক্ট নয়, মাথাব্যথার শিকার হবেন অথবা আলফা লেভেলে থাকা আপনার পক্ষে সম্ভব হবে না।

    মনের ভালো এবং মন্দ দিক সম্পর্কে যে-সব প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারেন আপনি, সেসবের উত্তর এর মধ্যে পাবেন না। এ ব্যাপারে পরে আরো আলোচনা করবো। এখন, এমন একটা ঘটনা বেছে নিন যেটা কোনো সমস্যার সমাধান, যেটার সমাধান আপনি চান বা বাসনা করেন, আপনার মনে বিশ্বাস আছে ব্যাপারটা ঘটতে পারে। বাকি থাকলো, প্রতীক্ষা বা প্রত্যাশা করা। নিচের অনুশীলনের সাহায্যে, আসুন, প্রত্যাশা করাটাও শিখে নেয়া যাক।

    আপনাকে অসুবিধের মধ্যে ফেলছে এই রকম একটা সমস্যা বেছে নিন, যে সমস্যার কারণ এখনো আপনার কাছে পরিষ্কার নয়। উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, আপনার বস্ কিছুদিন থেকে খুব বদমেজাজী হয়ে আছেন। আপনি আপনার লেভেলে রয়েছেন, এখন তিনটে কাজ করতে হবে আপনাকে।

    প্রথম কাজ। আপনার মনের পর্দায় পরিষ্কার, উজ্জল ভাবে ফুটিয়ে তুলুন সম্প্রতি ঘটা একটি ঘটনা বা দৃশ্য, যেটার সাথে আপনার সমস্যা জড়িয়ে আছে।

    দ্বিতীয় কাজ। এই ঘটনা বা দৃশ্যের ছবি ধীরে ধীরে ডান দিকে সরিয়ে পর্দা থেকে বের করে দিন। এবার বাঁ দিক থেকে পর্দার ওপর আরেকটা ঘটনা বা দৃশ্যের ছবি নিয়ে আসুন, যেটা আগামীকাল ঘটবে। এই দৃশ্যে আপনি দেখবেন আপনার বসের চারদিকে যারা রয়েছে তারা সবাই হাসিখুশি, আপনার বস্ একটা সুখবর শুনছেন। বোঝাই যাবে, তার মেজাজ এখন আগের চেয়ে ভালো। সমস্যার কারণটা কি তা যদি আপনি সঠিক ভাবে জানেন, সমাধান ঘটছে এই দৃশ্যটাও চাক্ষুষ করুন। সমস্যাটা যেরকম নিখুঁতভাবে মনের পর্দায় দেখেছিলেন, সমাধানটাও সেরকম নিখুঁত আর পরিষ্কারভাবে দেখুন।

    তৃতীয় কাজ। এবার এই দৃশ্যটাও ডান দিকে সরিয়ে পর্দা থেকে বের করে দিন। বাঁ দিক থেকে আরেকটা দৃশ্য নিয়ে আসুন পর্দায়। আপনার বস্ এখন হাসিখুশি, আনন্দিত–যতোটা তিনি আনন্দিত হতে পারেন বলে মনে করেন আপনি, ততোটা। দৃশ্যটা এতো পরিষ্কার ভাবে দেখতে হবে আপনাকে, যেন বাস্তবে সেটা সত্যি ঘটেছে। বেশ একটু সময় নিয়ে দৃশ্যটা দেখুন, গভীরভাবে অনুভব করুন ব্যাপারটা।

    এবার, এক থেকে পাঁচ পর্যন্ত গুণে সম্পূর্ণ জেগে উঠবেন আপনি, আগের চেয়ে । ভালো বোধ করবেন। প্রয়োজনীয় সমস্ত আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। একটা শক্তিকে কাজে নামিয়ে দিয়েছেন আপনি। বিশ্বাস করুন, ওই শক্তি ঘটনাটা ঘটিয়ে ছাড়বে। দেখবেন সত্যিই ঘটছে!

    এটা কি সব সময় কাজ করবে, প্রতিবার?

    উহুঁ।

    তবে, আপনি যদি এটা চর্চা করতে থাকেন, আপনার অভিজ্ঞতা হবে এই রকম।-ধ্যানমগ্ন অবস্থায় সমস্যা সমাধানের প্রথম প্রচেষ্টা সফল হবে। সফল হলেও, কে বলবে এটা একটা কাকতালীয় ঘটনা নয়? এ-কথা তো ঠিক যে সমস্যাটা সমাধানযোগ্য এই বিশ্বাস আপনার ছিলো বলেই ওটাকে আপনি বেছে নিয়েছিলেন। সমাধানের সম্ভাবনা ছিলো বলেই না আপনি বিশ্বাস করেছিলেন সমাধান হবে। তারপর, দ্বিতীয় বার চেষ্টা করে দেখলেন। এবারও আপনার সমস্যার সমাধান হয়ে গেল। সমাধান হয়ে গেল তৃতীয় বা চতুর্থ সমস্যারও। এভাবে, কাকতালীয় ঘটনার সংখ্যা একের পর এক বাড়তেই থাকবে। কিন্তু ধ্যানমগ্ন হওয়ার অভ্যেস এবং অন্যান্য অনুশীলন চর্চা করা ছেড়ে দিন, কাকতালীয় ঘটনার সংখ্যা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে। আবার চর্চা শুরু করুন, সংখ্যায় ওগুলো বাড়তে শুরু করবে আবার।

    চর্চা চালিয়ে গেলে ধীরে ধীরে নৈপুণ্য এবং দক্ষতা বাড়বে আপনার। সমাধানের সম্ভাবনা আগেরগুলোর চেয়ে একটু কম, এবার এই জাতের সমস্যা দূর করতে সক্ষম হবেন আপনি। তারপর সময়ের সাথে সাথে, চর্চা করতে থাকায়, আপনার সাফল্যগুলো হয়ে উঠবে বিস্ময়কর, অবিশ্বাস্য।

    প্রতিটি সমস্যা নিয়ে কাজ করার সময়, শুরুতেই এর আগের সাফল্যের অভিজ্ঞতাটা মনের পর্দায় অল্প সময়ের জন্যে ফুটিয়ে তুলুন। পরে, এরচেয়ে উন্নত কোনো সাফল্যের অভিজ্ঞতা অর্জিত হলে, এটাকে বাদ দিয়ে নতুনটাকে রেফারেন্স পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করুন।

    মেক্সিকোর একজন ছাত্র, অবসর সময়ে ট্যাক্সিও চালায়। আরোহী পাবার জন্যে ধ্যান পদ্ধতি নিয়মিত ব্যবহার করে সে। বাজার মন্দা, এই সময় একদিন চলে গেল। নিজের লেভেলে, ধ্যানমগ্ন অবস্থায় মনে তৈরি করা পর্দায় স্যুটকেস হাতে একজন লোকের ছবি দেখলো, যে এয়ারপোর্টে যেতে চায়। প্রথম কয়েকবার কিছুই ঘটলো না। তারপর ব্যাপারটা ঘটলো, সুটকেস হাতে সত্যি সত্যি এলো একজন লোক, এয়ার পোর্টে যেতে চায়। পরের বার মনের পর্দায় এই লোকটার ছবি ফোঁটালো সে, সব ভালো ভাবে ঘটলে যেমন লাগে সেই রকম একটা অনুভূতি হলো তার, এবং সেই সাথে আরেকজন আরোহী এলো, সে- ও এয়ারপোর্টে যাবে।

    আশা করা যায় এই পুনরাবৃত্তি তার জীবনে বার বার ঘটতেই থাকবে, চর্চা যদি বন্ধ না করে।

    অন্যান্য অনুশীলন আর টেকনিকে যাবার আগে একটা কথা। প্রশ্নটা সম্ভবত আপনার মনেও উঁকি দিয়েছে। বলেছি, ছবিগুলোকে বাঁ দিক থেকে পর্দায় নিয়ে এসে ডান দিক দিয়ে বের করে দেবেন। কেন?

    কারো কারো গবেষণায় দেখা গেছে, গভীর লেভেলে পৌঁছে আমাদের মন উপলব্ধি করে, সময় বাঁ দিক থেকে ডান দিকে বয়ে যাচ্ছে। অন্য কথায়, ভবিষ্যৎ আমাদের বাঁ। দিকে আর অতীত আমাদের ডান দিকে, এই ধারণা জন্মায়। সম্ভব হলে পরে এটা নিয়ে আরো আলোচনা করবো আমরা। তার আগে হাতের অন্যান্য কাজ সারতে হবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসুখ-সমৃদ্ধি – বিদ্যুৎ মিত্র
    Next Article মা – মাক্সিম গোর্কি (অনুবাদ : বিমল সেন)

    Related Articles

    বিদ্যুৎ মিত্র

    সুখ-সমৃদ্ধি – বিদ্যুৎ মিত্র

    October 31, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026
    Our Picks

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }