Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026

    বৈদ্যুতিক চুল্লি – শঙ্কর চ্যাটার্জী

    April 27, 2026

    সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম – মিহির সেনগুপ্ত

    April 27, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আদর্শ হিন্দু-হোটেল

    আদর্শ হিন্দু-হোটেল – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় Adarsha Hindu Hotel
    উপন্যাস বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প252 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪

    খাওয়া শেষ করিয়া বংশীধরের ভাগিনেয়টি চলিয়া গেল বটে কিন্তু হাজারির প্রাণে যেন কি এক অনিৰ্দেশ্য নূতন সুরের রেশ লাগাইয়া দিয়া গেল। তরুণ মুখের ভঙ্গি, তরুণ চোখের চাহনি হইতে এত প্রেরণা পাওয়া যায়?…… জীবনে এ সব নবীন অভিজ্ঞতা হাজারির।

    বৈকালে চূর্ণীর ধারের গাছতলায় নির্জনে বসিয়া সে কত স্বপ্ন দেখিল। নতুন সব স্বপ্ন। টেঁপির সহিত বংশীধরের ভাগিনেয়টির বিবাহ হইতেছে। বাধা কিছুই নাই, তাহাদেরই পালটি ঘর।

    টেঁপির ক্ষুদ্র, কোমল হাতখানি নরেনের বলিষ্ঠ হাতে তুলিয়া দিয়াছে… দুই হাত একত্র মিলাইয়া হাজারি মেয়ে-জামাইকে আশীর্বাদ করিতেছে।…টেঁপির মার চোখ দিয়া আনন্দে জল পড়িতেছে–কি সুন্দর সোনার চাঁদ জামাই!

    কেন সে হোটেলে রাঁধুনীগিরি করিতে যাইবে ছেলেবয়সে? হাজারির নিজের হোটেলে জামাই থাকিবে ম্যানেজার, চক্কত্তি মশায়ের মত গদিতে বসিয়া খরিদদারকে টিকিট বিক্রয় করিবে–হিসাবপত্র রাখিবে।

    দ্বিগুণ খাটিবার উৎসাহ আসিবে হাজারির–জামাইও যা ছেলেও তাই। অত বড় অত সুন্দর, উপযুক্ত ছেলে। টেঁপির সারাজীবনের আনন্দ ও সাধের জিনিস। ওদের দুজনের মুখের দিকে চাহিয়া সে প্রাণপণে খাটিবে। তিন মাসের মধ্যে হোটেল দাঁড় করাইয়া দিবে।

    বেলা পড়িল। চূর্ণীর খেয়ায় লোক পারাপার হইতেছে, যাহারা শহরে কেনা-বেচা করিতে আসিতেছিল–এই সময় তাহারা বাড়ী ফেরে।

    একবার কুসুমের সঙ্গে দেখা করিয়া হোটেলে ফিরিতে হইবে–গাছতলায় বসিয়া আর বেশীক্ষণ আকাশ-কুসুম ভাবিলে চলিবে না। রতন ঠাকুর সম্ভব এবেলাও দেখা দিতেছে না, তাহাকে একাই সব কাজ করিতে হইবে।

    কিন্তু সত্যই কি আকাশ-কুসুম? হোটেল তাহার হইবে না? টেঁপির সঙ্গে ওই ছেলেটির–

    যাক। বাজে ভাবনায় দরকার নাই। দেরি হইয়া যাইতেছে।

    পদ্ম ঝি বৈকালের দিকে হাজারিকে বলিল–বলি, হ্যাঁগো ঠাকুর, আজ মাছের মুড়োটা কি হ’ল গা? আজ ত কর্তাবাবুর জর। তিনি বেলা এগারোটার মধ্যেই চলে গিয়েছেন– অত বড় মুড়োটার কি একটা টুকরোও চোখে দেখতে পেলাম না–

    হাজারি মাছের মুড়োটা লুকাইয়া কুসুমকে দিয়া আসিয়াছিল। বড় মাছের মুড়ো সাধারণতঃ কর্তার বাসায় যায়, কিন্তু আজ কর্তার অসুখ –তিনি বেশীক্ষণ হোটেলে ছিলেন না –মুড়োটা পদ্ম ঝি নিজের বাড়ী লইয়া যাইত–হাজারি কখনও মুড়ো নিজে খায় নাই– রতনঠাকু খাইয়াছে, পদ্ম ঝি ত প্রায়ই লইয়া যায়–হাজারির দাবি কি থাকিতে পারে না মুড়োর উপর? তাই সে সেটা কুসুমকে দিয়া আসিয়াছিল যখন ছুটি করিয়া চূর্ণীর ঘাটে বেড়াইতে যায় তখন।

    পদ্ম ঝিয়ের প্রশ্নের উত্তরে হাজারি বলিল–কেন গা পদ্মদিদি, এতক্ষণ পরে মুড়োর খোঁজ হল?

    –এতক্ষণ পরেই হোক আর যতক্ষণ পরেই হোক–কি হ’ল মুড়োটা?

    –আমায় কি একদিন খেতে নেই? তোমরা ত সবাই খাও। আমি আজ খেয়েছি।

    –কই মুড়োর কাঁটাচোকডা ত কিছু দেখলাম না? কোথায় বসে খেলে?

    হাজারির বিব্রত ভাব পদ্ম ঝিয়ের চোখ এড়াইল না। সে চড়াগলায় বলিল–খাও নি তুমি। খেলে কিছু বলতাম না। তুমি সেটা লুকিয়ে বিক্রী করেছ–কেমন ঠিক কথা কি না? চোর, জুয়াচোর কোথাকার– হোটেলের জিনিস নুকিয়ে নুকিয়ে বিক্রী? আচ্ছা, তোমার চুরির মজা টের পাওয়াচ্ছি–আসুক কর্তা–

    হাজারি বলিল–না পদ্ম দিদি, বিক্রী করব কাকে? রাঁধা মুড়ো কে নেবে? সত্যি আমি খেয়েছি।

    –আবার মিথ্যে কথা? আমি এতকাল হোটেলে কাজ করে হাতে ঘাটা পড়িয়ে ফেলনু, মাছের মুড়োর কাঁটাচোকডা আমি চিনিনে–না? অত বড় মুড়োটা চার আনার কম বিক্রী কর নি। জমা দাও সে পয়সা গদিতে, ওবেলা নইলে দেখো কি হাল করি কর্তার সামনে।

    –আচ্ছা নিও চার আনা পয়সা–আমি দেব। একটু মুড়ো খেয়ে যদি দাম দিতে হয়–তাও নিও।

    পদ্ম ঝি একটুখানি নরম হইয়া বলিল–তা হলে বেচেছিলে ঠিক?

    –না পদ্ম দিদি।

    –তবে কি করলে ঠিক করে বল

    –তোমার ত পয়সা পেলেই হ’ল, সে খোঁজে তোমার কি দরকার?

    –দরকার আছে তাই বলচি–কোথায় গেল মুড়োটা? বলো–নইলে কর্তার সামনে তোমার অপমান করব। বল এখনো–

    –আমি খেয়েছি।

    –আবার? আমার সঙ্গে চালাকি করে তুমি পারবে ঠাকুর? আমি এবার বুঝতে পেরেছি মুড়ো কোথায় গেল।–তোমার সেই–

    হাজারি জানে পদ্ম ঝি বলিতে যাইতেছে–সে পদ্ম ঝিয়ের মুখের কথা চাপা দিবার জন্য তাড়াতাড়ি বলিল–পদ্ম দিদি, তোমাদের ত খেয়ে পরে মানুষ হচ্ছি গরীব বামুন। কেন আর ও সামান্য জিনিস নিয়ে বকাঝকা কর?

    এ কথায় পদ্ম ঝি নরম না হইয়া বরং আরও উগ্র হইয়া উঠিল। বলিল–নিজে খেলে কিছু বলতাম না ঠাকুর–কিন্তু হোটেলের জিনিস পর দিয়ে খাওয়ান সহ্যি হয় না। এর একটা বিহিত না করে আমি যদি ছাড়ি তবে আমার নামে কুকুর পুষো, এই বলে দিচ্ছি সোজা কথা।

    হাজারি ভয়ে ও উদ্বেগে কাঠ হইয়া গেল–নিজের জন্য নয়, কুসুমের জন্য। পদ্ম ঝিয়ের অসাধ্য কাজ নাই–সে না জানি কি করিয়া বসিবে–কুসুমের শাশুড়ীর কানে–হয়ত কত রকমের কথা উঠাইবে, তাহার উপরে যদি কুসুমের বাপের বাড়ী অর্থাৎ তাহার গ্রামে সে কথা গিয়া পৌঁছায়–তবে উভয়েরই লজ্জায় মুখ দেখানো ভার হইয়া উঠিবে সেখানে। অথচ কুসুম নিরপরাধিনী। পদ্ম ঝি চলিয়া গেল।

    হাজারি ভাবিয়া চিন্তিয়া রতনঠাকুরের শরণাপন্ন হইল। তাহার আত্মীয়কে বিনা পয়সায় খাওয়ার ষড়যন্ত্রের মধ্যে হাজারি ছিল–সুতরাং রতন হাজারির দিকে টানিত। সে বলিল–তুমি কিছু ভেব না হাজারি দা, পদ্ম দিদিকে আমি ঠাণ্ডা করে দেব। মুড়ো বাইরে নিয়ে যাবে, তা আমায় একবারখানি জানালে হ’ত নি? তোমায় কত বুঝিয়ে পারব আমি?

    কিছু পরে সন্ধ্যার দিকে বেচু চক্কত্তি আসিলেন। চাকর হুঁকায় জল ফিরাইয়া তামাক সাজিয়া আনিল। হুঁকা হাতে লইয়া বেচু চক্কত্তি বলিলেন–ধুনো গঙ্গাজল দে আগে–আর পদ্মকে বাজারের ফর্দ দিতে বলে দে–

    কয়লাওয়ালা মহাবীর প্রসাদ বসিয়াছিল পাওনার প্রত্যাশায়–তাহাকে বলিলেন–সন্ধ্যের সময় এখন কি? ওবেলা ত সাড়ে বার আনা নিয়ে গিয়েছ, আবার এবেলা দেওয়া যায়? কাল এসো। তোমার কি?

     একটি রোগা কালো মত লোক হাত জোড় করিয়া প্রণাম করিয়া বলিল–বাবু সেদিন কুমড়ো দিয়েলাম–তার পয়সা।

    –কুমড়ো? কে কুমড়ো নিয়েছে?

    –আজ্ঞে বাবু, আপনাদের হোটেলে দিয়ে গিয়েলাম–ছ’আনা দাম বলেলাম, তা তিনি বললেন–পাঁচগণ্ডা পয়সা হবে। তা বলি, ভদ্দর নোকের কথা–তাই দ্যান। তিনি বললেন–আজ নয়, বুধবারে এসে নিয়ে যেওয়ানে–তাই এ্যালাম

    –ছ’আনা পয়সার কুমড়ো ধারে নিয়েছে কে–খাতায় কি বাজারের ফর্দের মধ্যে ত ধরা নেই, এ ত বাপু আশ্চর্য কথা। আমরা ধারে জিনিসপত্তর খরিদ করি নে। যা কিনি তা নগদ। কে তোমার কাছে কুমড়ো নিলে? আচ্ছা দাঁড়াও, দেখি।

    বেচু রতন ও হাজারি ঠাকুরকে ডাকিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন–তাহারা কুমড়ো কেনা ত দূরের কথা–গত পাঁচ ছয় দিনের মধ্যে কুসুড়ার তরকারিই রাঁধে নাই, বলিল–কোন কুমড়া চক্ষেও দেখে নাই এই কয়দিনে।

    কথাবার্তার মধ্যে পদ্ম ঝি বাজারের ফর্দ লইয়া ঘরে ঢুকিতেই কুমড়োওয়ালা বলিয়া উঠিল— এই যে! ইনিই তো নিয়েলেন! সেই কুমড়ো মা ঠাকরণ।–বলেলেন বুধবারে আসতি–তাই আজ এলাম। বাবু জিজ্ঞেস করছিলেন কুমড়ো কে নিয়েলেন–

    পদ্ম ঝি হঠাৎ যেন একটু অপ্রস্তুত হইয়া পড়িল। বলিল–হ্যাঁ, কুমড়ো নিয়েছিলাম তা কি হবে? পাঁচ আনা পয়সা নিয়ে কি পালিয়ে যাব? দিয়ে দাও ত কর্তাবাবু ওর পয়সা মিটিয়ে–আমি এর পরে–বেচু চক্কত্তি দ্বিরুক্তি না করিয়া কুমড়োওয়ালাকে পয়সা মিটাইয়া দিলেন, সে চলিয়া গেল।

    রতনঠাকুর আড়ালে গিয়া হাজারিকে বলিল–হাতে হাতে ধরা পড়ে গেল পদ্মদিদি– কিন্তু কর্তাবাবুর দরদটা একবার দেখেছ ত হাজারি-দা?

    –ও আর দেখাদেখি কি, দেখেই আসছি। আমি যদি কুমড়ো নিতাম তবে পদ্মদিদি আজ রসাতল বাধাত–কৰ্ত্তাবাবুও তাতেই সায় দিত। এ ত আর তুমি আমি নই? এ হোটেলে পদ্মদিদিই মালিক। তুমি এইবার একবার বল পদ্মদিদিকে মুড়োর কথাটা। নইলে ও এখুনি লাগাবে কৰ্ত্তাকে।

    রতন পদ্ম ঝিকে আড়ালে বলিল–ও পদ্মদিদি, গরীব বামুন তোমাদের দোরে করে খাচ্ছে–কেন আর ওকে নিয়ে অমন করো? একটা মুড়ো যদি সে খেয়েই থাকে–এতদিন খাটছে এখানে, তা নিয়ে তাকে অপমান করো না। সবাই ত নেয়–কেউ ত নিতে ছাড়ে না–আমি নিইনে না তুমি নাও না? বেচারীকে কেন বিপদে ফেলবে?

    পদ্ম ঝি বলিল–ও খায়নি–ও এখান থেকে বের করে ওর সেই পেয়ারের কুসুমকে দিয়ে এসেছে–আমি কচি খুকী? কিছু বুঝি নে? নচ্ছার বদমাইশ লোক কোথাকার–

    রতন হাসিয়া বলিল—যা বোঝে সে করুক গিয়ে পদ্মদিদি–তোমার আমার কি? সে মুড়ো নিজে খায়,–পরকে দেয় তোমার তা দেখবার দরকার কি? তুমি কিছু বোল না আজ আর ওকে।

    পদ্ম ঝি কুমড়োর ব্যাপার লইয়া কিছু অপ্রস্তুত হইয়া পড়িয়াছিল–নতুবা সে রতনের কথা এত সহজে রাখিত না। বলিল–তাহলে বারণ করে দিও ওকে–বারদিগর যেন এমন আর না করে। তাহলে আমি অনত্থ বাধাবো–কারোর কথা শুনবো না।

    সে রাত্রে হোটেলের কাজকর্ম চুকাইয়া হাজারি চূর্ণীর ধারে বেড়াইতে গেল। দিব্য জ্যোৎস্না-রাত–প্রায় সাড়ে বারোটা বাজে।

    আজ কি সর্বনাশই আর একটু হইলে হইয়াছিল! তাহার নিজের জন্য সে ভাবে না, ভাবে কুসুমের জন্য। কুসুম পাড়াগাঁয়ের মেয়ে–সেখানে তার বদনাম রটিলে উভয়েরই সেখানে মুখ দেখানো চলিবে না। আর তাহার এই বয়সে এই বদনাম রটিলে লোকেই বা বলিবে কি?

    কুসুমকে সে মেয়ের মত দেখে–ভগবান জানেন। ওসব খেয়াল তাহার থাকিলে এই রাণাঘাট শহরে সে কত মেয়ে জুটাইতে পারিত। এই রাধাবল্লভতলার মাটি ছুঁইয়া সে বলিতে পারে জীবনে কোনদিন ওসব খেয়াল তার নাই। বিশেষতঃ কুসুম। ছিঃ ছিঃ-টেঁপির সঙ্গে যাহাকে সে অভিন্ন দেখে না–তাহার সম্বন্ধে রতন ঠাকুরের কাছে পদ্ম ঝি যে সব বিশ্রী কথা বলিয়াছে শুনিলে কানে আঙুল দিতে হয়।

    রাত প্রায় দেড়টা বাজিয়া গেল। শহর নিযুক্তি হইয়া গিয়াছে, কেবল কুণ্ডুদের চূর্ণীর ধারে কাঠের আড়তে হিন্দুস্থানী কুলীরা ঢোলক বাজাইয়া বিকট চিৎকার শুরু করিয়াছে–ওই উহাদের নাকি গান! যখন নর্থবেঙ্গল এক্সপ্রেস আসিয়া দাঁড়ায় স্টেশনে তখন সে হোটেল হইতে বাহির হইয়াছে–আর এখন স্টেশন পর্যন্ত নিস্তব্ধ হইয়া গিয়াছে, কারণ এত রাত্রে কোনো ট্রেন আসে না। রাত চারটা হইতে আবার ট্রেন চলাচল শুরু হইবে।

    হোটেলের দরজা বন্ধ। ডাকাডাকি করিয়া মতি চাকরের ঘুম ভাঙাইতে তাহার প্রবৃত্তি হইল না। বড় গরম–স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে না হয় বাকী রাতটুকু কাটাইয়া দেওয়া যাক। আজ রাত্রে ঘুম আসিতেছে না চোখে।

    ভোরে উঠিয়া হোটেলের সামনে আসিয়া হাজারি দেখিল হোটেলের দরজা এখনও বন্ধ। সে একটু আশ্চর্য্য হইল। মতি চাকর তো অনেকক্ষণ উঠিয়া অন্যদিন দরজা খোলে। ডাকাডাকি করিয়াও কাহারো সাড়া পাওয়া গেল না–তারপর গদির ঘরের জানালা দিয়া ঘরের মধ্যে উঁকি মারিয়া দেখিতে গিয়া হাজারি লক্ষ্য করিল–বাসনের ঘরের মধ্যে অত আলো কেন?

    ঘুরিয়া আসিয়া দেখিল বাসনের ঘরের দরজা খোলা। ঘরের মধ্যে কেহই নাই। মতি চাকরেরও সাড়াশব্দ নাই কোনদিকে। এরকম তো কখনো হয় না।

    এমন সময় যদু বাঁড়ুয্যের হোটেলে একটা চায়ের স্টলও আছে–খুব সকাল হইতেই সেখানে চা বিক্ৰী শুরু হয়।

    হাজারির ডাকে নিমাই আসিল। দুজনে ঘরের মধ্যে ঝুঁকিয়া দেখিল মতি চাকর খাবার ঘরে শুইয়া দিব্যি নাক ডাকাইয়া ঘুমাইতেছে। উভয়ের ডাকে মতি ধড়মড় করিয়া উঠিল।

    হাজারি বলিল–মতি দোর খোলা কেন?

    মতি বলিল–তা তো আমি জানি নে! তুমি রাত্তিরে ছিলে কোথায়? দোর খুললে কে?

    তিনজনে ঘরের মধ্যে আসিয়া এদিক ওদিক দেখিল। হঠাৎ মতি বলিয়া উঠিল–হাজারি দা, সর্বনাশ! থালা বাসন কোথায় গেল? একখানও তো দেখছি নে!

    –সে কি!

    তিনজনে মিলিয়া তন্ন তন্ন করিয়া খুঁজিয়াও কোনো ঘরেই বাসনের সন্ধান পাওয়া গেল না। নিমাই বলিল–চায়ের দুধটা দিয়ে আসি হাজারি-দা, বাসন সব চক্ষুদান দিয়েচে কে। তোমাদের কর্তাকে ডেকে নিয়ে এসো।

    ইতিমধ্যে রতন ঠাকুর আসিল। সে-ই গিয়া বেচু চক্কত্তিকে ডাকিয়া আনিল। পদ্ম ঝিও আসিল। চুরি হইয়া গিয়াছে শুনিয়া পাশের হোটেল হইতে যদু বাঁড়ুয্যে আসিলেন, বাজারের লোকজন জড় হইল–থানায় খবর দিতে তখনি, এ. এস. আই নেপালবাবু ও দুজন কনস্টেবল আসিল। হৈ হৈ বাধিয়া গেল। বেচু চক্কত্তি মাথায় হাত দিয়া ততক্ষণ বসিয়া পড়িয়াছেন, প্রায় ষাট-সত্তর টাকার থালা বাসন চুরি গিয়াছে।

    বেচু চক্কত্তি বলিলেন–হাজারি রাত্তিরে কোথায় ছিলে?

    ইষ্টিশনের প্ল্যাটফর্মে বাবু। বড্ড গরম হচ্ছিল–তাই ঘাটের ধার থেকে ফিরে ওখানেই রাত কাটালাম।

    নেপালবাবু জিজ্ঞাসা করিলেন,–কত রাত্রে প্ল্যাটফর্মে শুয়েছিলে? কোন প্ল্যাটফর্মে?

    –আজ্ঞে, বনগাঁ লাইনের প্ল্যাটফর্মের বেঞ্চির ওপর।

    –তোমায় সেখানে কেউ দেখেছিল?

    –না বাবু, তখন অনেক রাত।

    –কত?

    –দেড়টার বেশী।

    -এতক্ষণ পর্যন্ত কোথায় ছিলে?

    –রোজ খাওয়া-দাওয়ার পরে আমি দুবেলাই চূর্ণীর খেয়াঘাটে গিয়ে বসি। কালও সেখানে ছিলাম।

    –আর কোনো দিন হোটেল ছেড়ে প্ল্যাটফর্মে শুয়েছিলে?

    –মাঝে মাঝে শুই, তবে খুব কম।

    এই সময় বেচু চক্কত্তিকে পদ্ম ঝি চুপি চুপি কি বলিল। বেচু চক্কত্তি নেপালবাবুকে বলিলেন, দারোগাবাবু, একবার ঘরের মধ্যে একটা কথা শুনে যান দয়া করে–

    ঘরের ভিতর হইতে কথা শুনিয়া আসিয়া নেপালবাবু বলিলেন–হাজারি ঠাকুর, তুমি কুসুমকে চেন?

    হাজারির মুখ শুকাইয়া গেল। ইহার মধ্যে ইহারা কুসুমের কথা আনিয়া ফেলিল কেন? কুসুমের সঙ্গে ইহার কি সম্পর্ক?

    হাজাবির মুখের ভাব নেপালবাবু লক্ষ্য করিলেন।

    হাজারির উত্তর দিতে একটু দেরি হইতেছিল, নেপালবাবু ধমক দিয়া বলিলেন—কথার জবাব দাও?

    হাজারি থতমত খাইয়া বলিল, আজ্ঞে চিনি।

    পদ্ম ঝি দোরের কাছে মুখে আঁচল চাপা দিয়া দাঁড়াইয়া আছে দেখিয়া হাজারি বুঝিল–কুসুমের কথা সে-ই কর্তাকে বলিয়াছে নতুবা তিনি অতশত খোঁজখবর রাখেন না। কৰ্ত্তামশায় দারোগাকে বলিয়াছেন কথাটা–সে ওই পদ্ম ঝিয়ের উসকানিতে।

    –কুসুম থাকে কোথায়?

    –গোয়ালপাড়ায়, বড় বাজারের দিকে।

    –সে কি করে?

    –দুধ-দই বেচে। গরীব লোক–

    –বয়েস কত?

    –এই চব্বিশ-পঁচিশ–

    পদ্ম ঝি একটু মুচকি হাসিল এই উত্তর শুনিয়া, হাজারির তাহা চোখ এড়াইল না। দারোগাবাবুর প্রশ্নের গতি তখনও সে বুঝিতে পারে নাই–কিন্তু পদ্ম ঝিয়ের মুখের মুচকি হাসি দেখিয়া সে বুঝিল কেন ইহারা কুসুমের কথা এত করিয়া জিজ্ঞাসা করিতেছে।

    –তোমার সঙ্গে কুসুমের কত দিনের আলাপ?

    –সে আমার গায়ের মেয়ে। সে যখন ছেলেমানুষ তখন থেকে তাকে জানি। তার বাবা আমার বন্ধুলোক–আমাদের পাড়ার পাশেই–

    –কুসুমের সঙ্গে তুমি প্রায়ই দেখাশোনা কর–না?

    –মাঝে মাঝে দেখা করি বৈকি–গাঁয়ের মেয়ে, তার তত্ত্বাবধান করা তো দরকার– নেপালবাবু হঠাৎ হাসিয়া বলিলেন, নিশ্চয়ই দরকার। এখানে তার শশুরবাড়ী?

    –আজ্ঞে হাঁ।

    –স্বামী আছে?

    -না, আজ বছর চার-পাঁচ মারা গিয়েছে–শাশুড়ী আছে বাড়ীতে। এক দেওর-পো আছে।

    –তুমি মাঝে মাঝে হোটেলের রান্না জিনিস তাকে দিয়ে আস?

    লজ্জায় ও সঙ্কোচে হাজারি যেন কেমন হইয়া গেল। এসব কথা এখানে কেন?

    পদ্ম ঝি খিল খিল করিয়া হাসিয়া উঠিয়াই মুখে আঁচল চাপা দিল। নেপালবাবু ধমক দিয়া বলিলেন–আঃ, হাসি কিসের? এটা হাসির জায়গা নয়। চুপ–

    কিন্তু দারোগাবাবু ধমক দিলে কি হইবে–পদ্ম ঝিয়ের হাসি সংক্রামক হইয়া উঠিয়া উপস্থিত লোকজন সকলেরই মুখে একটা চাপা হাসির ঢেউ আনিয়া দিল। অন্য লোকের হাসি হাজারি তত লক্ষ্য করে নাই কিন্তু পদ্ম ঝিয়ের হাসিতে সে কিসের একটা প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত ঠাওর করিয়া মরীয়া হইয়া বলিয়া উঠিল–দারোগাবাবু, সে গরীব লোক, আমাদের গায়ের মেয়ে, সে আমাকে বাবা বলে ডাকে–আমার সে মেয়ের মত–তাই মাঝে মাঝে কোনদিন একটু-আধটু তরকারী কি রাঁধা মাংস তাকে দিয়ে আসি। কত তো ফেলা-ঝেলা যায়, তাই ভাবি যে একজন গরীব মেয়ে–

    –বুঝেছি, থাক আর তোমার লেকচার দিতে হবে না। কাল রাত্রে তুমি সেখানে গিয়েছিলে?

    –আজ্ঞে না বাবু।

    –আজ সকালে গিয়েছিলে?

    -না বাবু, সকালে প্ল্যাটফর্ম থেকেই হোটেলে এসেছি।

    দারোগাবাবু অন্য সকলের জবানবন্দী লইয়া ছাড়িয়া দিলেন। কেবল মতি চাকর ও হাজারিকে বলিলেন–আমার সঙ্গে তোমাদের থানায় যেতে হবে। কনস্টেবলদের বলিলেন –এদের ধরে নিয়ে চল।

    মতি কান্নাকাটি করিতে লাগিল–একবার বেচু চক্কত্তি, একবার দারোগাবাবুর হাতে পায়ে পড়িতে লাগিল। সে সম্পূর্ণ নির্দোষ–ঘরের মধ্যে ঘুমাইয়া ছিল, তাহাকে থানায় লইয়া গিয়া কি ফল?–ইত্যাদি।

    হাজারির প্রাণ উড়িয়া গেল থানায় ধরিয়া লইয়া যাইবে শুনিয়া।

    এ কি বিপদে ভগবান তাহাকে ফেলিলেন?

    থানা-পুলিস বড় ভয়ানক ব্যাপার, মোকদ্দমা হইলে উকীল দিবার ক্ষমতা হইবে না তাহার, বিনা কৈফিয়তে জেল খাটিতে হইবে–কত বছর তাই বা কে জানে? না খাইয়া স্ত্রীপুত্র মারা পড়িবে। জেলখাটা আসামীকে ইহার পর চাকুরিই বা দিবে কে?

    কিন্তু তার চেয়েও ভয়ানক ব্যাপার, যদি ইহারা কুসুমকে ইহার মধ্যে জড়ায়? জড়াইবেই বোধ হয়। হয়তো কুসুমের বাড়ী খানাতল্লাস করিতে চাহিবে।

    নিরপরাধিনী কুসুম! লজ্জায় ঘৃণায় তাহা হইলে সে হয়তো গলায় দড়ি দিবে। আরও কত কি কথা লোকে রটাইবে এই সূত্র ধরিয়া। তাহাদের গ্রামে একথা তো গেলে তাহার নিজেরও আর মুখ দেখাইবার উপায় থাকবে না।

    কখনও সে একটা বিড়ি-দেশলাই কাহারও চুরি করে নাই জীবনে–সে করিবে হোটেলের বাসন চুরি! নিজের মুখের জিনিস নিজেকে বঞ্চিত করিয়া সে কুসুমকে মাঝে মাঝে দিয়া আসে বটে–চুরির জিনিস নয় সে সব। সে খাইত, না হয় কুসুম খায়।

    থানায় গিয়া প্রায় ঘণ্টা দুই হাজারি ও মতি বসিয়া রহিল। হাজারি শুনিল বেচু চক্কত্তি ও পদ্ম ঝি দুজনেই বলিয়াছে উহাদের উপরই তাহাদের সন্দেহ হয়। সুতরাং পুলিস তো তাহাদের ধরিবেই।

    থানার বড় দারোগা থানায় ছিলেন না–বেলা একটার সময় তিনি আসিয়া চুরির সব বিবরণ শুনিয়া হাজারি ও মতিকে তাহার সামনে হাজির করিতে বলিলেন। হাজারি হাত জোড় করিয়া দারোগাবাবুর সামনে দাঁড়াইল। দারোগাবাবু জিজ্ঞাসা করিলেন–হোটেলে কতদিন কাজ করচ?

    –আজ্ঞে বাবু, ছবছর।

    –বাসন চুরি করে কোথায় রেখে দিয়েচ?

    –দোহাই বাবু–আমার বয়েস ছচল্লিশ-সাতচল্লিশ হোল–কখনো জীবনে একটা বিড়ি কারো চুরি করিনি।

    দারোগাবাবু ধমক দিয়া বলিলেন–ওসব বাজে কথা রাখো। তুমি আর ওই চাকর বেটা দুজনে মিলে যোগসাজসে চুরি করেচ। স্বীকার করো–

    –বাবু আমি এর কোনো বার্তা জানি নে! আমি সে রাত্তিরে হোটেলেই ছিলাম না।

    –কোথায় ছিলে?

    –ইষ্টিশনের প্ল্যাটফর্মে শুয়ে ছিলাম সারারাত।

    –কেন?

    –বাবু, আমি খাওয়া-দাওয়া করে চূর্ণীর ঘাটে বেড়াতে যাই রোজ। বড্ড গরম ছিল বলে সেখানে একটু বেশী রাত পর্যন্ত ছিলাম–ফিরে এসে দেখি দরজা বন্ধ, তাই ইষ্টিশানে–

    এই সময় নেপালবাবু ইংরাজিতে বড় দারোগাকে কি বলিলেন। বড় দারোগা ঘাড় নাড়িয়া বলিলেন-ও। আচ্ছা– তুমি কুসুম বলে কোনো মেয়েমানুষের বাড়ী যাতায়াত করো?

    বাবু, কুসুম আমার গায়ের মেয়ে। গরীব বিধবা, তাকে আমি মেয়ের মতো দেখি– সেও আমাকে বাবা বলে ডাকে, বাবার মত ভক্তিছেদ্দা করে। যদি সেখানে গিয়ে থাকি, তাহোলে তাতে দোষের কথা কি আছে বাবু আপনিই বিবেচনা করে দেখুন। একথা লাগিয়েছে আমাদের হোটেলের পদ্ম ঝি–সে আমাকে দুচোখ পেড়ে দেখতে পারে না কুসুমকেও দেখতে পারে না। আমাদের নামে নানারকম বিচ্ছিরি কথা সে-ই রটিয়েছে। আপনিই হাকিম-দেবতা। আর মাথার ওপর চন্দ্র সূয্যি রয়েচেন–আমার পঞ্চাশ বছর বয়েস হোতে গেল–আমার সেদিকে কখনো মতিবুদ্ধি যায়নি বাবু। আমি তাকে মেয়ের মত দেখি–তাকে এর মধ্যে জড়াবেন না–সে গেরস্তর বৌ–মরে যাবে ঘেন্নায়।

    বড় দারোগা অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও অভিজ্ঞ লোক। হাজারির চোখমুখের ভাব দেখিয়া তাহার মনে হইল লোকটা মিথ্যা বলিতেছে না।

    বড় দারোগা মতি চাকরকে অনেকক্ষণ ধরিয়া জেরা করিলেন। তাহার কাছেও বিশেষ কোনো সদুত্তর পাওয়া গেল না–তাহার সেই এক কথা, ঘরের মধ্যে অঘোরে ঘুমাইতেছিল, সে কিছুই জানে না।

    বড় দারোগা বলিলেন–দু-জনকেই হাজতে পুরে রেখে দাও–এমনি এদের কাছে কথা বেরুবে না–কড়া না হোলে চলবে না এদের কাছে।

    হাজারি জানে এই কড়া হওয়ার অর্থ কি। অনেক দুঃখ হয়তো সহ্য করিতে হইবে আজ। সব সহ্য করিতে সে প্রস্তুত আছে যদি কুসুমের নাম ইহারা আর না তোলে।

    বেলা দুইটার সময় একজন কনস্টেবল আসিয়া কিছু মুড়ি ও ছোলা-ভাজা দিয়া গেল। সকাল হইতে হাজারি কিছুই খায় নাই–সেগুলি সে গোগ্রাসে খাইয়া ফেলিল।

    বেলা চারটার সময় রতন ঠাকুর হোটেল হইতে হাজারির জন্য ভাত আনিল।

    বলিল–আলাদা করে বেড়ে রেখেছিলাম, লুকিয়ে নিয়ে এলাম হাজারি-দা। কেউ জানে যে তোমার জন্যে ভাত আনচি।

    বড় দারোগার নিকট হইতে অনুমতি লইয়া রতন ঠাকুর হাজতের মধ্যে ভাত লইয়া আসিয়াছিল। কিন্তু মতির ভাত আনিবার কথা তাহার মনে ছিল না–হাজারি বলিল–ওই ভাত দু-জনে ভাগ করে খাবো এখন।

    রতন বলিল–হোটেলে মহাকাণ্ড বেধে গিয়েছে। একটা ঠিকে ঠাকুর আনা হয়েছিল, সে কাজের বহর দেখে এবেলাই পালিয়েচে। খদ্দের অনেক ফিরে গিয়েছে। পদ্ম বলছে তুমি আর মতি দুজনে মিলে এ চুরি করেচ। কুসুমের বাড়ী থানাতল্লাস না করিয়ে পদ্ম ছাড়বে না বলচে। সেখানে বাসন চুরি করে তুমি রেখে এসেচ। কর্তারও তাই মত। তুমি ভেবো না হাজারি-দা–মোকদ্দমা বাধে যদি আমি উকিল দেবো তোমার হয়ে। টাকা যা লাগে আমি দেবো। তুমি এ কাজ করনি আমি তা জানি। আর কেউ না জানুক, আমি জানি তুমি কি ধরণের লোক।

    হাজারি রতনের হাত ধরিয়া বলিল– ভাই আর যা হয় হোক–কুসুমের বাড়ী যেন খানা-তল্লাস না হয় এটা তোমাকে করতে হবে। কোনো উকিলের সঙ্গে না হয় কথা বলো, আমার দুমাসের মাইনে পাওনা আছে–আমি না হয় তোমাকে দেবো।

    রতন হাসিয়া বলিল–তোমার সেই মাইনে আবার দেবে ভেবেচ কর্তাবাবু? তা নয়– সে তুমি দ্যাও আর নাই দ্যাও–আমি উকীল দেবো তুমি ভেবো না। কত পয়সা রোজগার করলাম জীবনে হাজারি-দা-এক পয়সা তো দাঁড়াল না। সংকাজে দুপয়সা খরচ হোক।

    হাজারি বলিল–মতিকে তাহোলে ভাত দিয়ে এস–সে অন্য ঘরে কোথায় আছে।

    রতন বলিল–মতিকে আমার সন্দেহ হয়।

    –না বোধ হয়। ও যদি চুরি করবে তো অমন নিশ্চিন্দি হয়ে ঘুমোতে পারে নাক ডাকিয়ে? আর ও সেরকম লোক নয়।

    রতন ভাতের থালা লইয়া চলিয়া গেল।

    .

    আরও পাঁচ-ছ’দিন হাজারি ও মতি হাজতে আটক থাকিল। পুলিস বহু চেষ্টা করিয়াও ইহাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ সংগ্রহ করিতে পারিল না–সুতরাং চুরির চার্জশীট দেওয়া সম্ভব হইল না।

    ছ’দিনের দিন দুজনেই খালাস পাইল।

    মতি বলিল–হাজারি-দা, এখন কোথায় যাওয়া যায়? হোটেলে কি আমাদের আর নেবে?

    হাজারিও জানে হোটেলে তাহাদের চাকুরি গিয়াছে। কিন্তু সেখানে দু’মাসের মাহিনা বাকি–বেচু চক্কত্তির কাছে গিয়া মাহিনা চাহিয়া লইতে হইবে।

    বেলা তিনটা। এখন হোটেলে গেলে কর্তা মশাই থাকিবেন না–সুতরাং হাজারি সন্ধ্যার পরে হোটেলে যাইবে ঠিক করিল। কতদিন চূর্ণীর ধারে যায় নাই–রাধাবল্লভতলায় গিয়া ঠাকুরকে প্রণাম করিয়া সে আপন মনে চূর্ণীর ধারে গিয়া বসিল।

    কিছুক্ষণ নদীর ধারে বসিয়া হাজারির মনে পডিল, সে এত বেলা পর্যন্ত কিছু খায় নাই। রতন হাজতে রোজ ভাত দিয়া যাইত, আজ দুদিন সে আর আসে নাই–কেন আসে নাই কে জানে, হয়তো পদ্ম জানিতে পারিয়া বারণ করিয়া দিয়াছে–কিংবা হয়তো তাহাদের ভাত আনিয়া দেওয়ার অপরাধে তাহারও চাকুরি গিয়াছে।

    একটা পয়সা নাই হাতে যে কিছু কিনিয়া খায়। হাজতের ভাত হাজারি এক দিনও খায় নাই–আজও একজন কনস্টেবল ভাত আনিয়াছিল, সে বলিয়াছিল–তেওয়ারিজি, আমায় দুটি মুড়ি বরং এনে দিতে পারো, আমার জ্বর হয়েছে, ভাত খাবো না। 

    বেলা বারোটার সময় সামান্য দুটি মুড়ি খাইয়াছিল–আর কিছু পেটে যায় নাই সারাদিন। সন্ধ্যার পরে হোটেলে গিয়া দুটি ভাত খাইবে এখন, সেই ভালো।

    হাজারির সন্দেহ হয় বাসন আর কেহ চুরি করে নাই, পদ্ম ঝির নিজেরই কাজ। ক’দিন হাজতে বসিয়া বসিয়া ভাবিয়া তাহার মনে হইয়াছে, পদ্ম অন্য কোন লোকের যোগসাজসে এই কাজ করিয়াছে। ও অতি ভয়ানক চরিত্রের মেয়েমানুষ, সব পারে। গত বৎসর খদ্দেরদের কাপড়ের ব্যাগ যে চুরি হইয়াছিল–সেও পদ্ম ঝিয়ের কাজ–এখন হাজারির ধারণা জন্মিয়াছে।

    এরকম ধারণা সে বিদ্বেষবশত করিতেছে না, গত ছ বৎসর হাজারি পদ্ম ঝিয়ের এমন অনেক কাণ্ড দেখিয়াছে যাহা সে প্রথম প্রথম তত বুঝিত না–কিন্তু এখন দুয়ে দুয়ে যোগ দিয়া সে অনেকটাই বুঝিয়াছে।

    বৃদ্ধ বেচু চক্কত্তি পদ্ম ঝিয়ের একেবারে হাতের মুঠার মধ্যে–দেখিয়াও দেখেন না, বুঝিয়াও বোঝেন না, হোটেলটির যে কি সর্বনাশ করিতেছে পদ্ম দিদি, তাহা তিনি এখন না বুঝিলেও পরে বুঝিবেন।

    রতন ঠাকুর ও সেদিন ভাত দিতে আসিয়া অনেক কথা বলিয়া গিয়াছে।

    –হাজারিদা, হোটেলের অর্ধেক জিনিস পদ্মদিদির ঘরে–আজকাল বাজারের জিনিস পর্যন্ত যেতে আরম্ভ করেছে। সেদিন দেখলে তো কুমড়োর কাণ্ড? চুষে খাবে এমন সাজানো হোটেলটা বলে দিচ্চি। পদ্ম দিদির কেন অত টান বাড়ীর ওপরে–তাও আমি জানি। তবে বলিনে, যাহোক আট টাকা মাইনের চাকরিটা করি–এ বাজারে হঠাৎ চাকরিটা অনত্থক খোয়াবো?

    সন্ধ্যার পরে হাজারি হোটেলের গদিঘর দিয়া ঢুকিতে সাহস না করিয়া রান্নাঘরের দিকের দরজা দিয়া হোটেলে ঢুকিল। ভাবিয়াছিল রান্নাঘরে রতন ঠাকুরকে দেখিতে পাইবে–কিন্তু একজন অপরিচিত উড়িয়া ঠাকুরকে ভাত রাঁধিতে দেখিয়া সে যে-পথে আসিয়াছিল, সেই পথেই বাহির হইয়া যাইবার জন্য পিছন ফিরিয়াছে–এমন সময় খরিদ্দারদের খাবার ঘর হইতে পদ্ম ঝি বলিয়া উঠিল–কে ওখানে? কে যায়?

    হাজারি ফিরিয়া বলিল–আমি পদ্মদিদি

    পদ্ম তাড়াতাড়ি ঘরের বাহির হইয়া আসিয়া বলিল–আমি?-কে আমি?-ও। হাজারি ঠাকুর।…তুমি কি মনে করে? চলে যাচ্চ কোথায় অত তাড়াতাড়ি? ঢুকলেই বা কেন আর বেরুচ্ছই বা কেন?

    –আজ হাজত থেকে খালাস পেয়েছি পদ্মদিদি। কোথায় আর যাবো, যাবার তো জায়গা নেই কোথাও–হোটেলেই এলাম, খিদে পেয়েচে–দুটো ভাত খাবো বলে। রান্নাঘরে এসে দেখি রতন ঠাকুর নেই, তাই সামনে দিয়ে গদিঘরে যাই–

    –তা যাও গদিঘরে! এই খদ্দেরের খাবার ঘর দিয়েই যাও—

    হাজারি সঙ্কুচিত অবস্থায় হোটেলের খাবার ঘরের দরজা দিয়া ঢুকিয়া গদির ঘরে গেল। পদ্ম ঝি গেল পিছু পিছু।

    বেচু চক্কত্তি বলিলেন– এই যে, হাজারি যে! কি মনে করে?

    হাজারি বলিল–আজ্ঞে কৰ্ত্তামশায়, পুলিসে ছেড়ে দিলে আজ–তাই এলাম। যাবো আর কোথায়? আপনার দরজায় দুটো ক’রে খাই। তা ছেড়ে আর কোথায় যাবো বলুন?

    বেচু চক্কত্তি কোনো উত্তর দিবার আগেই পদ্ম ঝি আগাইয়া আসিয়া বেচু চক্কত্তিকে বলিল–ওকে আর একদণ্ড এখানে থাকতে দিও না কর্তাবাবু–এখুনি বিদেয় করো। বাসন ও আর মতি যোগসাজসে নিয়েছে। পাকা চোর, পুলিসে কি করবে ওদের?

    হাজারি এবার রাগিল। পদ্ম ঝিকে কখনও সে এ সুরে কথা বলে নাই। বলিল–তুমি দেখেছিলে বাসন নিতে পদ্ম দিদি?

    পদ্ম ঝি বলিল–তোমার ও চোখ-রাঙানির ধার ধারে না পদ্ম, তা বলে দিচ্ছি হাজারি ঠাকুর। অমন ভাবে আমার সঙ্গে কথা বলো না–বাসন তোমাকে নিতে দেখলে হাতের দড়ি তোমার খুলতো না তা জেনে রেখো।

    হাজারি নিজেকে সামলাইয়া লইয়াছে ততক্ষণ। নীচু হওয়াই তাহার অভ্যাস-যাহারা বড়, তাহাদের কাছে আজীবন সে ছোট হইয়াই আসিতেছে–আজ চড়া গলায় তাহাদের সঙ্গে কথা কহিবার সাহস তাহার আসিবে কোথা হইতে?

    সেরকম সুরে বলিল–না না, রাগ করছো কেন পদ্ম দিদি–আমি এমনিই বলচি, বাসন নিতে যখন তুমি দ্যাখোনি–তখন আমি গরীব বামুন, তোমাদের দোরে দুটো করে খাই– কেন আর আমাকে–

    এইবার বেচু চক্কত্তি কথা বলিলেন।

    একটু নরম সুরে বলিলেন–যাক, যাক, কথা কাটাকাটি করে লাভ নেই। আমার বাসন তাতে ফিরবে না। দুজনেই থামো। তারপর তুমি বলছ কি এখন হাজারি?

    –বলচি, কৰ্ত্তা, আমায় যেমন পায়ে রেখেছিলেন, তেমনি পায়ে রাখুন। নইলে না খেয়ে মারা যাবো। বাবু, চোর আমি নই, চোর যদি হতাম, আপনার সামনে এসে দাঁড়াতে পারতাম না আর।

    পদ্ম ঝি বলিল–চোর কিনা সে কথায় দরকার নেই–কিন্তু তোমার এখানে জায়গা আর হবে না। তা হোলে খদ্দের চলে যাবে।

    বেচু বলিলেন–তা ঠিক।–খদ্দের চলে গেলে হোটেল চালাবো কি করে আমি? হাজারি এ যুক্তির অর্থ বুঝিতে পারিল না। হোটেলের ঠাকুর চোর হইলে সে না হয় হোটেলের জিনিস চুরি করিতে পারে, কিন্তু খরিদ্দারদের গায়ের শাল খুলিয়া বা তাহাদের পকেট মারিয়া লইতেছে না তো–তবে খরিদ্দারের আসিতে আপত্তি কি?

    কিন্তু হাজারি এ প্রশ্ন উঠাইতে পারিল না। তাহার জবাব হইয়া গেল। সে কিছু খাইয়াছে কি না এ কথাও কেহ জিজ্ঞাসা করিল না।

    অবশেষে সে বলিল–তা হোলে আমার মাইনেটা দিয়ে দিন বাবু, দু’মাসের তো বাকী পড়ে রয়েচে, হাওলাত নেই কিছু। খাতা দেখুন।

    বেচু চক্কত্তি বলিলেন–সে এখন হবে না, এর পরে এসো।

    পদ্ম একটু বেশী স্পষ্ট কথা বলে। সে বলিল–ওর আশা ছেড়ে দাও, মাইনে পাবে না।

    –কেন পাব না?

    পদ্ম ঝাঁঝের সঙ্গে বলিল–সে তককো তোমার সঙ্গে করবার সময় নেই এখন। পাবে না মিটে গেল। নালিশ করো গিয়ে–আদালত তো খোলা রয়েছে।

    হাজারি চক্ষে অন্ধকার দেখিল।

    বেচু চক্কত্তির দিকে চাহিয়া বিনীত স্বরে বলিল–কর্তামশায়, আজ আপনার দোরে ছ’বছর খাটসি। আমার হাতে একটিও পয়সা নেই–বাড়ীতে দুমাস খরচ পাঠাতে পারিনি, বাড়ী যাবার রেলভাড়া পর্যন্ত আমার হাতে নেই–আমায় কিছু না দিলে না খেয়ে মরতে হবে।

    বেচু চক্কত্তি দ্বিরুক্তি না করিয়া ক্যাশবাক্স খুলিয়া একটি আধুলি ফেলিয়া দিয়া বলিলেন –এই নিয়ে যাও। এখানে ঘ্যান ঘ্যান কোরো না–খদ্দের আসতে আরম্ভ করচে, বাইরে যাও গিয়ে

    হাজারি আধুলিটা কুড়াইয়া লইয়া চাদরের খুঁটে বাঁধিল। তারপর হাত জোড় করিয়া মাজা হইতে শরীরটা খানিকটা নোয়াইয়া বেচু-চক্কত্তিকে প্রণাম করিয়া আবার সোজা হইয়া দাঁড়াইয়া কাঁচুমাচু হইয়া বলিল, তাহোলে বাবু, মাইনের জন্যে কবে আসবো?

    –এসো–এসো এর পরে যখন হয়। সে এখন দেখা যাবে–

    ইহা যে অত্যন্ত ছেঁদো কথা হাজারির তাহা বুঝিতে বিলম্ব হইল না। বরং পদ্ম ঝি যাহা বলিয়াছে তাহাই ঠিক। মাহিনা ইহারা তাহাকে দিবে না। তাহার মাথায় আসিল একবার শেষ চেষ্টা করিবে। মরীয়ার শেষ চেষ্টা। বেচু চক্কত্তির নিকট হইতে বিদায় লইয়া সে পিছন দিয়া হোটেলের রান্নাঘরে আসিল। সেখানে পদ্ম ঝি একটু পরে আসিতেই সে হাত জোড় করিয়া বলিল–পদ্মদিদি, গরীব বামুন–চাকুরি করচি এতকাল, একখানা রেকাবী কোন দিন চুরি করিনি। আমি বড় গরীব। তুমি একটু বলে কর্তামশাইকে আমার মাইনের ব্যবস্থা করে দেও–নইলে বাড়ীতে ছেলেপুলে না খেয়ে মরবে। এই আধুলিটা সম্বল, দোহাই বলচি রাধাবল্লভের–এতে আমি কি খাবো, আর রেলভাড়া কি দেব, বাড়ীর জন্যেই বা কি নিয়ে যাবো।

    –আমি হোটেলের মালিক নই যে তোমায় টাকা দেবো। কর্তামশায় যা বলেছেন তার ওপর আমার কি কথা আছে?

    দয়া করে পদ্মদিদি তুমি একবার বলো ওঁকে। না খেয়ে মারা যাবে ছেলেপিলে।

    –কেন তোমার পেয়ারের কুসুমের কাছে যাও না, পদ্মদিদিকে কি দরকার এর বেলা?

    হাজারির ইচ্ছা হইল আর একদণ্ডও সে এখানে দাঁড়াইবে না। সে চায় না যে এই সব জায়গায় যার-তার মুখে কুসুমের নাম উচ্চারিত হয়, বিশেষত পদ্ম ঝিয়ের মুখে। সে চুপ করিয়া রহিল। পদ্ম রান্নাঘর হইতে চলিয়া গেল।

    একটুখানি দাঁড়াইয়া সে চলিয়াই যাইতেছিল, পদ্ম ঝি আসিয়া বলিল–যাচ্ছ যে? খাওয়া হয়েছে তোমার?

    হাজারি অবাক হইয়া পদ্ম ঝিয়ের মুখের দিকে চাহিল। কখনো সে এমন কথা তাহার মুখে শোনে নাই। আমতা আমতা করিয়া বলিল–না–খাওয়া—ইয়ে–না হয় নি ধরো।

    –তা হোলে বোসো। এখনও মাছটা নামে নি। মাছ নামলে ভাত খেয়ে তবে যাও। দাঁড়িয়ে কেন? বসো না পিঁড়ি একখানা পেতে।

    হাজারি কলের পুতুলের মত বসিল। পদ্মদিদি তাহাকে অবাক করিয়া দিয়াছে! পদ্মদিদির দরদ!…সাত বছরের মধ্যে একদিনও যা দেখে নাই!…আশ্চর্য্য কাণ্ডই বটে!

    মাছ নামিলে নতুন ঠাকুর হাজারিকে ভাত বাড়িয়া দিল। পদ্ম ঝিকে আর এদিকে দেখা গেল না–সে এখন খরিদ্দারদের খাওয়ার ঘরে ব্যস্ত আছে। নতুন ঠাকুর যদিও হাজারিকে চেনে না তবুও ইহাদের কথাবার্তা শুনিয়া সে বুঝিয়াছিল, হাজারি হোটেলের পুরোনো ঠাকুর–চাকুরিতে জবাব হইয়া চলিয়া যাইতেছে। সে হাজারিকে খুব যত্ন করিয়া খাওয়াইল।

    যাইবার সময় হাজারি পদ্মকে ডাকিয়া বলিল–পদ্মদিদি, চললাম তবে। কিছু মনে কোরো না।

    পদ্ম ঝি দোরের কাছে আসিয়া বলিল–হ্যাঁ দাঁড়াও ঠাকুর। এই দুটো টাকা রাখো, কৰ্ত্তামশায় দিয়েছেন মাইনের দরুন। এই শেষ কিন্তু–আর কিছু পাবে না বলে দিলেন তিনি।

    হাজারি টাকা দুইটি লইয়া আগের আধুলিটির সঙ্গে চাদরের খুঁটে রাখিল কিন্তু সে খুব অবাক হইয়া গিয়াছে–সত্যই অবাক হইয়া গিয়াছে।

    –আচ্ছা, তবে আসি।

    –এসো। খাওয়া হয়েছে তো? আচ্ছা।

    রাত সাড়ে ন’টার কম নয়।

    এত রাত্রে সে কোথায় যায়!

    চাকুরি গেল। তবুও হাতে আড়াইটা টাকা আছে।

    বাড়ী যাইয়া কি হইবে? চাকুরি খুঁজিতে হইবেই তাহাকে। বাড়ী গিয়া বসিয়া থাকিলে চলিবে না। চাকুরি চলিয়া যাইবে–একথা হাজারি ভাবে নাই। সত্য সত্যই চাকুরি গেল শেষকালে!

    সে জানে রাণাঘাটে কোনো হোটেলে তাহার চাকুরি আর হইবে না। যদু বাঁড়ুয্যে একবার তাহাকে হোটেলে লইতে চাহিয়াছিলেন বটে, কিন্তু এখন চুরির অপবাদে হাজত বাস করিয়া আসিয়াছে, কেহই তাহাকে চাকুরি দিবে না।

    হাজারি দেখিল সে নিজের অজ্ঞাতসারে চূর্ণী নদীর ধারে চলিয়াছে–তাহার সেই প্রিয় গাছতলাটিতে গিয়া বসিবে–বসিয়া ভাবিবে। ভাবিবার অনেক কিছু আছে।

    কিন্তু প্রায় দুই ঘণ্টা নদীর ধারে বসিয়া থাকিয়াও ভাবনার কোনো মীমাংসা হইল না। আজ রাত্রে অবশ্য স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে শুইয়া থাকিবে–কিন্তু কাল যায় কোথায়?

    আড়াই টাকার মধ্যে দুটি টাকা বাড়ী পাঠাইতে হইবে। টেঁপি–টেঁপির মুখে হয়তো তাহার মা দুটি ভাত দিতে পারিতেছে না।

    এ চিন্তা তাহার পক্ষে অসহ্য।

    না–কালই টাকা দুটি পাঠাইবে তাকে। মনি অর্ডার ফি দিবে আধুলিটা হইতে। পুরো দু’টাকা বাড়ী যাওয়া চাই।

    স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে শেষ রাত্রের দিকে সামান্য ঘুম হইল। ফরিদপুর লোকালের শব্দে খুব ভোরে ঘুম গেল ভাঙিয়া। তবুও সে শুইয়াই রহিল। আজ আর তাড়াতাড়ি বড় উনুনে ডেকচি চাপাইতে হইবে না–উঠিয়া কি হইবে?

    অনেকক্ষণ পর্যন্ত সে শুইয়াই রহিল। ডাউন দার্জিলিং মেল আসিল, চলিয়া গেল। বনগাঁ লাইনের ট্রেন ছাড়িল। রোদ উঠিয়াছে, প্ল্যাটফর্ম ঝাঁট দিতে আসিয়াছে ঝাড়ুদার। একখানা গাড়ীর ডাউন দিয়াছে আড়ংঘাটার দিকে। মুর্শিদাবাদ-লালগোলা প্যাজেঞ্জার।

    –এই কোন্ নিদ যাতা রে, এই উঠো–হঠ যাও–ঝাড়ুদার হাঁকিল। হাজারি উঠিয়া হাই তুলিয়া কলে গিয়া হাতমুখ ধুইল।

    সে কোথায় যায়– কি করে? গত ছ’সাত বছরের মধ্যে এমন নিষ্ক্রিয় জীবন সে কখনো যাপন করে নাই–কাজ, কাজ, উনুনে ডেকচি চাপাও, কৰ্ত্তামশায়ের চায়ের জল গরম কর আগে, বাজারে আজ কার পালা? হৈ চৈ–ঝাড়া বকুনি–পদ্ম ঝিয়ের চেঁচামেচি…

    বেশ ছিল। পদ্ম ঝিয়ের বকুনিও যেন এখন সুমিষ্ট বলিয়া মনে হইতেছে। পদ্ম খারাপ লোক নয়–কাল রাত্রে খাইতে বলিয়াছিল, টাকা দিয়াছে। রতন ঠাকুরও বড় ভাল লোক। তাহার সেই ভাগিনেয়টিও বড় ভাল। সবাই ভাল লোক। রতনের সেই ভাগিনেয় তাহার টেঁপির উপযুক্ত বর। দুজনে সুন্দর মানাইত। ছেলেটিকে বড় পছন্দ হইয়াছিল। আকাশকুসুম। মিথ্যা আশা, টেঁপিকে খাওয়াইয়া বাঁচাইয়া রাখিতে পারিলে তবে তার বিয়ে।

    গত ছ’বছরে হাজারির একটা বড় কুঅভ্যাস হইয়া গিয়াছে–সকালে বিকালে চা খাওয়া।

    এখন চা খাইতে হইবে পয়সা খরচ করিয়া–সেজন্য হাজারি চা খাওয়ার ইচ্ছাকে দমন করিল।

    হঠাৎ তাহার মনে হইল কুসুমের সঙ্গে একবার দেখা করা একান্ত আবশ্যক। আজ সাত আট দিন কুসুমের সঙ্গে তার দেখা হয় নাই। চুরির জন্য হাজতে যাওয়ার সংবাদ বোধ হয় কুসুম শোনে নাই–কে তাহাকে সে খবর দিয়াছে? চা ওখানেই খাওয়া চলিতে পারে। কুসুমের সঙ্গে একটা পরামর্শও করা দরকার। তাহার নিজের মাথায় কিছুই আসিতেছে না।

    কুসুম কড়া নাড়ার শব্দে দরজা খুলিয়া হাজারিকে দেখিয়া বিস্মিত কণ্ঠে বলিল–আপনি জ্যাঠামশায়? এমন অসময় যে। এতদিন আসেন নি কেন?

    –চলো, ভেতরে বসি। অনেক কথা আছে।

    কুসুম ঘরের মেঝেতে শতরঞ্জি পাতিয়া দিল। হাজারি বসিয়া বলিল–মা কুসুম, একটু চা খাওয়াবে।

    –এখুনি করে দিচ্চি জ্যাঠামশায়, একটু বসুন আপনি।

    চা শুধু নয়–চায়ের সঙ্গে আসিল একখানা রেকাবিতে খানিকটা হালুয়া। হাজারি চা খাইতে খাইতে বলিল–কুসুম মা, আমার চাকরি গিয়েছে।

    কুসুম বিস্ময়ের সুরে বলিল -কেন?

    চুরি করেছিলাম বলে।

    চুরি করেছিলেন!

    –ওরা তাই বলে। পাঁচ-ছ’দিন হাজতে ছিলাম।

    –হাজতে ছিলেন! হ্যাঁ! মিথ্যে কথা।

    কুসুম দাঁড়াইয়া ছিল–হাজারির সামনে মাটির উপর ধপাস করিয়া বসিয়া পড়িয়া কৌতূহল ও অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে হাজারির মুখের দিকে চাহিয়া রহিল।

    না কুসুম, মিথ্যে নয়, সত্যিই হাজতে ছিলাম চুরির আসামী হিসেবে।

    –হাজতে থাকতে পারেন জ্যাঠামশায়–কিন্তু চুরি আপনি করেন নি–করতে পারেন না। সেইটেই মিথ্যে কথা, তাই বলচি।

    –আমি চুরি করতে পারি নে?

    –কক্ষনো না জ্যাঠামশায়। আপনাকে আমি জানি নে? চিনি নে?

    –তোমার মা, এত বিশ্বাস আছে আমার ওপর!

    কুসুম অন্যদিকে মুখ ফিরাইয়া চুপ করিয়া রহিল। মনে হইল সে কান্না চাপিবার চেষ্টা করিতেছে।

    হাজারি বঁচিল। কুসুম সত্যই তার মেয়ে বটে। তাহার বড় ভয় ছিল কুসুম জিনিসটা কি ভাবে লইবে। যদি বিশ্বাস করিয়া বসে যে সত্যিই সে চোর! জগতে তাহা হইলে হাজারির একটা অবলম্বন চলিয়া গেল।

    –আপনি এখন কোথা থেকে আসছেন জ্যাঠামশায়?

    কাল রাত্রে স্টেশনে শুয়ে ছিলাম–যাবো আর কোথায়? সেখান থেকে উঠে আসচি। ভাবলাম তোমার সঙ্গে একবার দেখা করাটা দরকার মা, হয়তো আবার কতদিন–

    –কেন, আপনি যাবেন কোথায়?

    –একটা কিছু হিল্লে লাগাতে তো হবে–বসে থাকলে চলবে না বুঝতেই পারো। দেখি কি করা যায়।

    –এখানে আর কোনো হোটেলে–

    –চুরির অপবাদ রটেছে যখন, তখন এখানকার কোনো হোটেলে নেবে না। দেখি, একবার ভাবচি গোয়াড়ি যাই না হয়– সেখানে অনেক হোটেল আছে, খুঁজে দেখি সেখানে।

    কুসুম খানিকক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয়া বলিল–আচ্ছা, সে যা হয় হবে এখন। আপাতোক আপনি নেয়ে আসুন, তেল এনে দিই। তারপর রান্নার যোগাড় করে দিচ্ছি, এখানে দু’টি ভাতেভাত চড়িয়ে খান।

    –না মা, ওসব হাঙ্গামে আর দরকার নেই–থাক, খাওয়ার জন্যে কি হয়েছে–আমি তোমার সঙ্গে দুটো কথা কই বসে। ভাবলাম কুসুমের সঙ্গে একবার পরামর্শ করি গিয়ে, তাই এলাম। একটা বুদ্ধি দাও তো মা খুঁজে–একার বুদ্ধিতে কুলোয় না–তারপর বুড়োও হয়ে পড়েছি তো!

    কুসুম হাসিয়া বলিল–পরামর্শ হবে এখন। না যদি খান, তবে আমিও আজ সারাদিন দাঁতে কুটো কাটবো না বলে দিচ্ছি কিন্তু জ্যাঠামশায়। ওসব শুনবো না–আগে নেয়ে আসুন–তারপর ভাত চাপান, আমিও আপনার প্রসাদ দু’টি পাই। মেয়ের বাড়ী এসেছেন, যতই গরীব হই, আপনাকে না খাইয়ে ছেড়ে দেবো ভেবেচেন বুঝি–ভারি টান তো মেয়ের ওপর?

    অগত্যা হাজারি চূর্ণীয় ঘাটে স্নান করিতে গেল। ফিরিয়া দেখিল গোয়ালঘরের এক কোণ ইতিমধ্যে কুসুম কখন লেপিয়া পুঁচিয়া পরিষ্কার করিয়া ইট দিয়া উনুন পাতিয়া ফেলিয়াছে।

    একটা পেতলের মাজা বোগনো দেখাইয়া বলিল, এতেই হবে জ্যাঠামশায়, না নতুন হাঁড়ি কাড়বেন?

    –না নতুন হাঁড়ির দরকার নেই। ওতেই বেশ হবে এখন।

    ভাত নামিবার কিছু পূর্বে একটি ছেলে গোয়ালঘরের দোরে আসিয়া উঁকি মারিয়া ইঙ্গিতে কুসুমকে বাহিরে ডাকিল। হাজারি দেখিল, তাহার হাতে একখানা গামছায় বাঁধা হাটবাজার–অন্য হাতে একটা বড় ইলিশ মাছ ঝোলানো।

    –-একটুখানি দাঁড়ান জ্যাঠামশায়, মাছ কুটে আনি।

    হাজারি অত্যন্ত লজ্জিত ও বিপন্ন হইয়া উঠিল কুসুমের কাণ্ড দেখিয়া। পাশের বাড়ীর ছেলেটিকে ডাকিয়া কুসুম কখন বাজার করিতে দিয়াছে–থাক দিয়াছে দিয়াছে–কুসুম গরীব মানুষ, এত বড় মাছ কিনিতে দেওয়ার কারণ কি ছিল? নাঃ, বড় ছেলেমানুষ এখনও। এদের জ্ঞানকাণ্ড আর হবে কবে?

    কুসুম হাজারির তিরস্কারের কোনো জবাব দিল না। মৃদু মৃদু হাসিয়া বলিল–আপনার রান্না ইলিশ মাছ একদিন খেতে যদি সাধ হয়ে থাকে তবে মেয়েকে অমন করে বকতে নেই জ্যাঠামশায়।

    হাজারি অপ্ৰসন্নমুখে বলিল–নাঃ, যতো সব ছেলেমানুষের ব্যাপার।

    আহারাদির পর হাজারির বিশ্রামের ব্যবস্থা করিয়া দিয়া কুসুম খাইতে গেল। গত রাত্রে ভাল ঘুম হয় নাই–ইতিমধ্যে হাজারি কখন ঘুমাইয়া পড়িয়াছে, যখন ঘুম ভাঙিল তখন প্রায় বিকাল হইয়া গিয়াছে।

    কুসুম ঘরের মধ্যে ঢুকিয়া বলিল–কাল ঘুম হয় নি মোটেই ইষ্টিশানের বেঞ্চিতে শুয়ে– তা বুঝতে পেরেচি। ঘুমিয়েচেন ভাল তো? চা ক’রে আনি, উঠে মুখ ধুয়ে নিন।

    চায়ের সঙ্গে কোথা হইতে কুসুম গরম জিলিপি আনাইয়া দিল। বলিলেও শোনে না, বলিল–এই তো ওই মোড়ে হারান ময়রার দোকানে এ সময় বেশ গরম জিলিপি ভাজে, চায়ের সঙ্গে বেশ লাগবে–শুধু চা খাবেন?

    ইহার উপর আর কত অত্যাচার করা চলিতে পারে। আজই এখান হইতে সরিয়া না পড়িলে উপায় নাই। হাজারি ঠিক করিল চা খাইয়া আর একটু বেলা গেলেই এখান হইতে রওনা হইবে।

    কুসুম পান সাজিয়া আনিয়া হাজারির সামনে মেঝেতে বসিল।–তারপর এখন কি করবেন ভেবেছেন?

    –ওই তো বল্লাম গোয়াড়ি গিয়ে চাকরির চেষ্টা করি।

    –যদি সেখানে না পান?

    –তবে কলকাতা যাবো। তবে পাড়াগাঁয়ের মানুষ, কলকাতায় যাতায়াত অভ্যাস নেই -অত বড় শহরে থাকাও অভ্যাস নেই–ভয় করে।

    –আমার একটা কথা শুনবেন জ্যাঠামশায়?

    –কি?

    –শোনেন তো বলি।

    –বল না মা কি বলবে?

    –আমার সেই গহনা বাঁধা দিয়ে কি বিক্রি করে আপনাকে দু’শো টাকা এনে দিই। আপনি তাই নিয়ে হোটেল খুলুন। আপনার রান্নার সুখ্যাতি দেশ জুড়ে। হোটেল খুললে দেখবেন কেমন পর জমে–এই রাণাঘাটেই খুলুন, ওই চক্কত্তির হোটেলের পাশেই খুলুন। পদ্ম চোখ টাটিয়ে মরুক। মেয়ের পরামর্শ শুনুন জ্যাঠামশায়–আপনার উন্নতি হবে–কোথায় যাবেন এ বয়সে পরের চাকরি করতে।

    হাজারির চোখে প্রায় জল আসিল। কি চমৎকার, এই অদ্ভুত মেয়ে কুসুম! মেয়েই বটে তাহার। কিন্তু তাহা হইবার নয়–নানা কারণে। কুসুমের টাকায় রাণাঘাটে হোটেল খুলিলে পাঁচজন পাঁচরকম বদনাম রটাবে উভয়ের নামে। তাহার উপকার করিয়া নিরপরাধিনী কুসুম কলঙ্ক কুড়াইতে গেল কেন? ওই পদ্ম ঝি-ই সাতরকম রটাইয়া বেড়াইবে গাত্রদাহের জ্বালায়।

    তা ছাড়া যদি লোকসানই হয়, ধরো–(যদিও হাজারির দৃঢ় বিশ্বাস সে হোটেল খুলিলে লোকসান হইবে না) তাহা হইলে কুসুমের টাকাগুলি মারা পড়বে। না, তার দরকার নাই।

    –-মা কুসুম, একবার তো তোমাকে বলেছিলাম তোমার ও টাকা নেওয়া হবে না। আবার কেন সে কথা? আমাকে এই গাড়ীতে গোয়াড়ি যেতে হবে, উঠি।

    কুসুম গড় হইয়া প্রণাম করিয়া বলিল–আচ্ছা, কথা দিয়ে যান যদি গোয়াড়িতে চাকুরি না জোটাতে পারেন তবে আবার আমার কাছে ফিরে আসবেন?

    –তোমার কাছে মা? কেন বলো তো?

    –এসে ওই টাকা নিতে হবে। হোটেল খুলতে হবে। ও টাকা আপনার হোটেলের জন্যে তোলা আছে। শুধু আপনার ভালোর জন্যেই বলচি তা ভাববেন না জ্যাঠামশায়। আমার স্বার্থ আছে। আমার টাকাগুলো আপনার হাতে খাটলে তা থেকে দু’পয়সা আমিও পাবো তো। গরীব মেয়ের একটা উপকার করলেনই বাঁ?

    হাজারি হাসিয়া বলিল–আচ্ছা কথা দিয়ে গেলাম। তবে আসি মা আজ। এসো, এসো, কল্যাণ হোক।

    –মনে রাখবেন মেয়ের কথা।

    –তুমিও মনে রেখো তোমার বুড়ো জ্যাঠামশায়ের কথা—

    –ইস! আমার জ্যাঠামশায় বুড়ো বৈকি?

    –না, ছ’চল্লিশ বছর বয়েস হয়েচে–বুড়ো নয় তো কি?

    –দেখায় না তো বুড়োর মত। বয়েস হলেই হোলো? আসবেন আবার কিন্তু তা হোলে।

    –আচ্ছা মা। হাজারি পুঁটুলি লইয়া বাটির বাহির হইল। কুসুম তাহার সঙ্গে সঙ্গে বড় রাস্তা পর্যন্ত আসিয়া আগাইয়া দিয়া গেল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদেবদাস
    Next Article ব্যবধান

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    ছোটগল্প বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    কাদা kada

    August 11, 2025
    উপন্যাস বুদ্ধদেব গুহ

    নগ্ন নির্জন – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    উপন্যাস বুদ্ধদেব গুহ

    কোয়েলের কাছে – বুদ্ধদেব গুহ

    May 23, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    রবার্টসনের রুবি – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    বোম্বাইয়ের বোম্বেটে – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026
    Our Picks

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026

    বৈদ্যুতিক চুল্লি – শঙ্কর চ্যাটার্জী

    April 27, 2026

    সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম – মিহির সেনগুপ্ত

    April 27, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }