Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ইলিয়াড – হোমার

    পার্থ সারথী দাস এক পাতা গল্প473 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৭. হেক্টর ও অ্যাজাক্সের দ্বৈত যুদ্ধ ॥ সন্ধি

    সপ্তম পর্ব
    হেক্টর ও অ্যাজাক্সের দ্বৈত যুদ্ধ ॥ সন্ধি

    এই কথা বলে প্যারিসকে সঙ্গে নিয়ে নগরদ্বার অতিক্রম করে এগিয়ে চললেন হেক্টর। দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও ব্যর্থ পরিশ্রমের পর অবসন্ন কোন নাবিক যেমন সহসা দৈবপ্রেরিত অনুকূল বায়ুপ্রবাহ দর্শনে উল্লসিত হয়, তেমনি দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দুই ট্রয়বীরকে আগত দেখে হর্ষোৎফুল্ল হয়ে উঠল ট্রয়সৈন্যরা।

    যুদ্ধক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়েই অ্যারিথরপুত্র মেসেথিয়াসকে হত্যা করল আলেকজান্দ্রাস। অ্যারিথয়ের ঔরসে ও ফাইলোমেদুসার গর্ভে জাত মেনেসথিয়ান বাস করতেন আনী নগরে। এবার হেক্টর তাঁর বর্শার দ্বারা হত্যা করলেন ঈয়োনেউসকে। হিপ্লোলোকাসপুত্র লাইসিয়াধিপতি গুকাস দ্বৈতযুদ্ধে ভেকসিয়াসপুত্র অ্যাফিনোয়াসের স্কন্ধে আঘাত করলেন। অ্যাফিনোয়াস তখন দ্রুতগামী অশ্বসংযোজিত রথে চড়ে পালিয়ে যাচ্ছিলেন।

    এইভাবে ট্রয়বীররা যখন একের পর এক গ্রীক সেনাদের হত্যা করে যাচ্ছিলেন তখন তা দেখে আর থাকতে পারলেন না দেবী এথেন। তিনি নেমে এলেন তাঁর অলিম্পাসশিখরস্থ দেবাসন থেকে। তখন অ্যাপোলোও তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার অভিলাষে নেমে এলেন পার্গামাসের মন্দিরচূড়া হতে। তাঁর অভিপ্রায়, ট্রয়বাসীরা বিজয়ী হোক। একটি ওক বৃক্ষের তলদেশে তারা মিলিত হয়ে জিয়াসপুত্র অ্যাপোলো প্রথমে বললেন, হে গর্বোদ্ধতা জিয়াসকন্যা, কি কারণে তুমি অলিম্পাসশিখর হতে অবতরণ করেছ এই মর্ত্যভূমিতে? ট্রয়বাসীদের প্রতি তোমার কি কোন দয়ামায়া নেই? এ যুদ্ধে গ্রীকদের কি জয়ের গৌরবে ভূষিত করতে চাও? যদি তুমি একান্তই ধ্বংস করতে চাও নিঃশেষে তাহলে আমার অনুরোধ, আজকের মত যুদ্ধ বন্ধ রাখ। তারপর আবার নতুনভাবে যুদ্ধ শুরু হবে এবং ট্রয়নগরী ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত সে যুদ্ধ অবিরাম চলবে।

    এথেন উত্তর করলেন, তাই হোক। আমার মনেও তাই ছিল আর এই কারণেই আমি মর্ত্যভূমিতে অবতরণ করেছি। কিন্তু একটা কথা আমার বল, কিভাবে তুমি এ যুদ্ধের অবসান ঘটাতে চাও?

    জিয়াসপুত্র অ্যাপোলো বললেন, একক যুদ্ধে কোন গ্রীকবীরের সঙ্গে অবতীর্ণ হবার জন্য হেক্টরকে প্রথমে উত্তেজিত করব আমরা। কিন্তু হেক্টরের প্রতিদ্বন্দ্বী কোন ব্যক্তিকে পেলে লজ্জাবোধ করবে গ্রীকরা।

    এ প্রস্তাবে সম্মত হলেন এথেন। তখন প্রিয়ামপুত্র হেলেনাস দেবতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে হেক্টরের কাছে গিয়ে বললেন, হে বীরভ প্রিয়ামপুত্র হেক্টর, আমি তোমার ভাই। আমার কথা শোন। এখন উভয় পক্ষকেই কিছুকালের জন্য যুদ্ধ হতে বিরত হতে বল। তারপর তুমি গ্রীকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বীরকে একক যুদ্ধে আহ্বান করো। আমি অমর দেবতাবৃন্দের কাছ থেকে খবর নিয়ে জেনেছি তোমার মৃত্যুর সময় এখনো আসে নি।

    আনন্দবোধ করলেন হেক্টর একথায়। বর্শার মধ্যভাগ ধারণ করে ট্রয়সৈন্যদের মাঝে গিয়ে তাদের যুদ্ধবিরত করার সংকেত দান করলেন। রাজা অ্যাগামেমননও গ্রীকসৈন্যদের যুদ্ধবিরতির আদেশ দিলেন। এদিকে এথেন আর অ্যাপোলো শকুনির ছদ্মবেশে দেবরাজ জিয়াসের সেই সুউচ্চ ওকবৃক্ষের উপরে বসে আপন আপন দলভুক্ত সৈন্যদের সগর্বে অবলোকন করতে লাগলেন। উভয় পক্ষের সৈন্যগণ তখন আপন আপন ঢাল শিরস্ত্রাণ ও বর্শা হাতে বসে বইল স্থিরভাবে। পশ্চিমা বায়ুর দ্বারা তাড়িত হয়ে সমুদ্রের উপরিপৃষ্ট বিক্ষুব্ধ তার তার নিম্নদেশের অন্ধকার জলরাশি যেমন ভয়ে স্তব্ধ হয়ে থাকে তেমনি স্তব্ধভাবে বসে রইল ট্রয় ও গ্রীকসৈন্যগণ। তখন হেক্টর বললেন, হে ট্রয় ও গ্রীকসৈন্যগণ, আমার কথা শোন, আমাদের পারস্পরিক প্রতিশ্রুতিগুলোকে জিয়াস আজও কার্যকরী করে তোলেন নি এবং তার কুফল আমাদের উভয় পক্ষকেই ভোগ করতে হবে। হয় তোমরা ট্রয়দুর্গ অধিকার করবে অথবা তোমরা পরাজিত হবে। গ্রীসদেশের বীর রাজন্যবর্গ এখানে তোমাদের মাঝে উপস্থিত আছেন। তাঁদের মধ্যে যিনি হেক্টরের বিরুদ্ধে একক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে চান তাঁকে আসতে বলুন। দেবরাজ জিয়াসকে সাক্ষী রেখে আজ আমি ঘোষণা করছি, যদি সেই গ্রীকবীর আমাকে হত্যা করতে সমর্থ হন তাহলে তিনি আমার গা থেকে বর্ম খুলে তার জাহাজে নিয়ে যাবেন। কিন্তু তিনি আমার মৃতদেহটি ট্রয়নগরীর মাঝে নিয়ে যেতে দেবেন যাতে আমার আত্মীয়-পরিজনরা যথাবিহিত আমার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন। আর অ্যাপোলোর কৃপায় আমি যদি বিজয় গৌরব অর্জন করি, যদি আমি সেই গ্রীকবীরকে হত্যা করতে সমর্থ হই তাহলে তাঁর দেহগাত্র হতে বর্ম খুলে ট্রয়নগরীতে নিয়ে গিয়ে অ্যাপোলোর মন্দিরে ঝুলিয়ে রাখব। কিন্তু তাঁর মৃতদেহ আমি ছেড়ে দেব যাতে গ্রীকরা যেন মৃতদেহ তাদের জাহাজে নিয়ে যেতে পারে এবং পরে হেলেসপন্ট সাগরের ধারে তাঁর স্মৃতিরক্ষার্থে এক স্মৃতিসৌধনির্মাণ করতে পারে। সেই সাগরপথে ভবিষ্যতে কেউ কখনো পাড়ি দেবার সময় হয়ত বলবে, এ হচ্ছে সেই গ্রীকবীরের স্মৃতিস্তম্ভ যিনি বহুকাল পূর্বে ট্রয়বীর হেক্টরের দ্বারা নিহত হন। এইভাবে মানুষের মুখে মুখে অক্ষয় হয়ে থাকবে আমার যশ।

    গ্রীকরা সকলের হেক্টরের কথা শুনে নীরব হয়ে রইল। তারা যেমন এ প্রস্তাব লজ্জায় সরাসরি প্রত্যাখ্যান করতে পারল না, তেমনি তাতে সম্মত হবারও কোন সাহস পেল না। অবশেষে মেনেলাস উঠে দাঁড়িয়ে ক্রুদ্ধ হয়ে তাদের তিরস্কার করে বললেন, হায় মিথ্যা বাগাড়ম্বকারীর দল, তোমরা নারীদের সন্তান, পুরুষদের নও। যদি গ্রীকদের মধ্যে কেউ হেক্টরের আহ্বানে তারা সম্মুখীন না হয় তাহলে দ্বিগুণ কলঙ্কের কালিমায় অবলিপ্ত হবে আমাদের মুখ। এইভাবে নিস্তেজ নিরুত্তাপভাবে চুপ করে বসে থাকার থেকে তোমাদের মাটি ও জলে পরিণত হওয়া উচিত ছিল। আমি নিজে গিয়ে ঐ ট্রয়বীরের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। তবে সে যুদ্ধের গতি-প্রকৃতি নিয়ন্ত্রিত হবে স্বর্গের দেবতাদের দ্বারা।

    এই কথা বলে বর্ম পরিধান করে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হলেন মেনেলাস। হয়ত সেদিনই অবসান ঘটত তাঁর জীবনের যদি না অন্যান্য গ্রীক রাজন্যবর্গ তাঁকে বাধা দিতেন। রাজা অ্যাগামেমনন স্বয়ং তাঁর দক্ষিণ হস্ত ধারণ করে বললেন, মেনেলাস, জানি তুমি খুবই মর্মাহত, তথাপি ধৈর্য ধারণ করে। যে ব্যক্তি তোমার থেকে বেশি শক্তিশালী তার সঙ্গে যুদ্ধ করার কথা চিন্তা করো না। প্রিয়ামপুত্র হেক্টর একজন শক্তিশালী বীর যাকে সকলেই ভয় করে এবং তুমি নিজেও ভয় করো। যে অ্যাকেসিল তোমার থেকেও সাহসী, তিনি হেক্টরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হবার কথা হলে ভয়ে পিছিয়ে যান। সুতরাং তুমি বস, আমাদের গ্রীকসৈন্যরা কোন যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বীকে অবশ্যই পাঠাব। তিনি যত যুদ্ধপ্রিয়ই হোন, যদি হেক্টরের সঙ্গে লড়াই করে জীবিত অবস্থায় ফিরে আসেন তাহলে তাকে আর কখনও যুদ্ধ করতে হবে না, তিনি পূর্ণ বিশ্রাম লাভ করবেন।

    এইভাবে মেনেলাসকে প্রতিনিবৃত্ত করলেন রাজা অ্যাগামেমনন। তখন মেনেলাসের অনুচরবৃন্দ তাঁর দেহগাত্র হতে বর্ম খুলে নিল। এবার নেস্টর উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, সত্যই আজ বড় দুঃখময় সময় উপস্থিত হয়েছে গ্রীকজাতির জীবনে। বীর ও বৃদ্ধ নাইট পেলেউস মার্মিডনের মধ্যে ছিলেন সবচেয়ে বড় বাগী আর প্রশাসক। একবার আমি যখন তাঁর বাড়িতে কিছুদিনের জন্য ছিলাম, তিনি আমাকে প্রায়ই গ্রীকদের বংশ পরিচয়ের কথা জিজ্ঞাসা করতেন। আজ যদি তিনি থাকতেন ও শুনতেন বীর হেক্টরের সম্মুখে গ্রীকরা কেমন ভয়ে হিম হয়ে জমে আছে তাহলে কতই না দুঃখ পেতেন তিনি। দেবরাজ জিয়াস, এথেন ও অ্যালোলোর নামে শপথ করে বলছি, ফীয়াত নগরীর সন্নিকটে সেনাডন ও লার্ডোমাস নদীর মধ্যবর্তী সমভূমিতে যেদিন পাইনিয়া ও আর্কেডিয়ার জনগণ সম্মুখযুদ্ধে সমবেত হয়, যদিও বয়সে আমি খুবই তরুণ ছিলাম তথাপি সে যুদ্ধে যোগদান করতে বাধ্য হয়েছিলাম। দেবোপম বীর অ্যারিটথ্যানিয়ন রাজা অ্যারিথের বর্ম পরিধান করে অপরিসীম বিক্রমসহকারে দাঁড়িয়ে থাকেন সম্মুখ সারিতে। রাজা অ্যারিথয়কে লোকে বলত গদাধর, কারণ তিনি বর্শা বা তীরধনুক নিয়ে যুদ্ধ করতেন না, তাঁর একমাত্র অস্ত্র ছিল এক লৌহগদা যা দিয়ে তিনি শত্রুসৈন্যদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ভেঙ্গে দিতেন। একবার সংকীর্ণ জায়গায় তাকে বেকায়দা ফেলে লাইকৰ্গসরা তাঁকে বর্শা দিয়ে বিদ্ধ করে হত্যা করে। অ্যারিথ চিৎ হয়ে পড়ে গেলে তাঁর দেহগাত্র হতে বর্মটি খুলে নেয় লাইকৰ্গসরা। এই বর্মটি কূলদেবতা অ্যারেস তাঁকে দান করেন। রাজা অ্যারিথয় বার্ধক্যে উপনীত হলে এই বর্মটি তাঁর সহকারী বীর অ্যারিথ্যালিয়নকে দান করেন। এই বর্ম পরিধান করেই অ্যারিউথ্যালিয়ন সেনাডন ও লার্ডামাস নদীর মধ্যবর্তী ফীয়ার প্রান্তরে গ্রীকদের প্রত্যক্ষ যুদ্ধে আহ্বান করেন। অন্যান্য গ্রীকরা যখন সে আহ্বান শুনে কাঁপতে লাগলেন ভয়ে, নিস্তেজ হয়ে বসে রইলেন, আমার অন্তর তখন তাঁর সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠল। যদিও সমস্ত গ্রীকবীরদের মধ্যে আমি ছিলাম বয়োকনিষ্ঠ তথাপি আমারই কণ্ঠে জয়মালা পরিয়ে দিলেন দেবী এথেন। আমারই আঘাতে যখন ধরাশায়ী হলেন সেই বীর তখন অনেকখানি জায়গা জুড়ে প্রসারিত হলো তাঁর দেহটি। সেদিনকার মত আজও আমি যদি বয়সে তরুণ যুবা আর আমার দেহের দিক থেকে বলিষ্ঠ থাকতাম তাহলে আজ এক সুযোগ্য প্রতিপক্ষ খুঁজে পেতেন প্রিয়ামপুত্র হেক্টর।

    নেস্টরের উত্তেজনাময় বাক্য শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গে নয়জন গ্রীকবীর উঠে দাঁড়িয়ে প্রস্তুত হলেন হেক্টরের আহ্বানকে বরণ করে নেবার জন্য। প্রথমে এগিয়ে এলেন রাজা অ্যাগামেমনন এবং তার পরে টাইডেউসপুত্র ডায়োমেডিস। তারপর এলেন সাহসের মূর্ত প্রতীক দুই অ্যাজাক্স বীর আইডোমেনেউস, মেরিওনস, ঈউমনপুত্র ইউরিপাইলাস, অ্যান্দ্ৰীমনপুত্র থোয়াস ও ওডিসিয়াস। তখন বীর নেস্টর বললেন, এবার তোমাদের ভাগ্য পরীক্ষা করে নির্ণয় করো কে যাবে যুদ্ধে। যদি সে জীবিত অবস্থায় ফিরে আসে সে যুদ্ধ হতে তাহলে অবশ্যই সে তার নিজের আত্মা ও স্বদেশের গৌরব বৃদ্ধি করবে।

    তখন সেই নয়জন গ্রীকবীর এক এক টুকরো কাগজে আপন আপন প্রতীক চিহ্ন এঁকে সেই কাগজগুলো একের পর এক করে ফেলে দিলেন রাজা অ্যাগামেমননের শিরস্ত্রাণের মধ্যে। অন্যান্য গ্রীকসৈন্যগণ তখন দেবরাজ জিয়াসের উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করতে লাগল আকাশের পানে তাকিয়ে। বলল, হে পরমপিতা জিয়াস, এ যুদ্ধের দায়িত্বভার যেন অ্যাজাক্স, ডায়োমেডিস অথবা মাইসিনার অধিপতির উপর পতিত হয়।

    নেস্টর এবার সেই শিরস্ত্রাণটি ধরে নাড়া দিতেই অ্যাজাক্সের প্রতীক চিহ্নটি বেরিয়ে এল তার থেকে। প্রহরী তখন সে প্রতীকচিহ্নটি কোন বীরের নির্বাচিত তা নির্ণয় করার জন্য দেখতে লাগলেন সকলকে। অ্যাজাক্স সে চিহ্ন দেখার সঙ্গে সঙ্গে তা চিনতে পেরে আনন্দে উফুল্ল হয়ে চিৎকার করে উঠলেন, বন্ধুগণ, এ ভাগ্য আমার। আমি যুদ্ধ করব, হেক্টরের সঙ্গে, আমি কিছুমাত্র ভয় করি না তাঁকে। তোমরা সকলে নীরবে প্রার্থনা করো জিয়াসের কাছে, ট্রয়বাসীরা যেন তার কথা না শোনে, তাঁর নির্দেশ মেনে না চলে। কোন বলপ্রয়োগ বা অপকৌশলই আমাকে প্রতিহত করতে পারবে না। আমি বীরের ভূমি স্যালামিসে লালিত হয়েছি এবং কোন প্রতিকূল অবস্থাতেই আমি আমার সাহস ও বীর্যবত্তা হারাই না।

    গ্রীকরা তখন শূন্য আকাশের পানে তাকিয়ে দেবরাজের নিকট প্রার্থনা করতে লাগল। বলল হে পরমপিতা, আমাদের বীর অ্যাজাক্সকে বিজয়গৌরব অর্জনের সুযোগ দাও। আর যদি একান্তই তুমি হেক্টরের প্রতি শুভেচ্ছা বা মমতাবশত তাকে রক্ষা করতে চাও তাহলে আমাদের দুজনকেই সমপরিমাণ শক্তি ও গৌরবের অধিকারী করো।

    তাদের এই প্রার্থনাকালে বোঞ্জনির্মিত উজ্জ্বল বর্ম পরিধান করলেন অ্যাজাক্স। পূর্ণ অস্ত্রসজ্জায় সজ্জিত হয়ে যুদ্ধে অপ্রতিদ্বন্দ্বী রণদেবতা অ্যারেসের মত মৃদুহাস্য প্রসারিত মুখে হস্তধৃত বর্শা সঞ্চার করতে করতে এগিয়ে গেলেন বিশালকার অ্যাজাক্স। তাঁর সে মূর্তি দর্শনে যেমন আনন্দিত হয়ে উঠল গ্রীকগণ, তেমনি ভীত হয়ে উঠল ট্রয়বাসীগণ। এমনকি বীর হেক্টরের অন্তরও বিকম্পিত হতে লাগল ভয়ে। কিন্তু যেহেতু তিনিই আহ্বানকারী তাই পশ্চাদসরণ করতে পারলেন না। তাঁর প্রকাণ্ড ঢালটি তাঁর বক্ষের সম্মুখে ধারণ করে হেক্টরের নিকট এগিয়ে গেলে অ্যাজাক্স। সাত পুরু চামড়ার উপর ব্রোঞ্জের একটি স্তর দিয়ে ঢেকে এই ঢালটি নির্মাণ করেন প্রসিদ্ধ চর্মশিল্প হাইনবিসানী টাইকিয়াস। হেক্টরের নিকটবর্তী হতে তেলামনপুত্র অ্যাজাক্স বললেন, এখন জেনে নাও হেক্টর, গ্রীকদের মধ্যে কত বড় বীর আছে। যদিও সিংহহৃদয় বীরশ্রেষ্ঠ অ্যাকেলিস এখন আমাদের মধ্যে নেই এবং তিনি এখন অ্যাগামেমননের প্রতি ক্রোধবশত যুদ্ধ হতে বিরত হয়ে তার অর্ণবপোত মধ্যে কালযাপন করছেন তথাপি উপযুক্ত বীরের অভাব নেই আমাদের মধ্যে। সুতরাং যুদ্ধ শুরু করো।

    হেক্টর উত্তর করলেন, হে তেলামনপুত্র মহান অ্যাজাক্স, সমরাভিজ্ঞ কোন বালক বা বালিকারূপে গণ্য করো না আমায়। যুদ্ধের রক্ত ও বিভীষিকার সঙ্গে দীর্ঘকাল যাবৎ পরিচিত ও অভ্যস্ত আমি। আমি আমার এই চর্মনির্মিত ঢালটিকে প্রতিপক্ষের গতিপ্রকৃতি অনুসারে বাম বা পান দিকে নিয়ন্ত্রিত করতে পারি এবং আমার মতে এই ঢাল নিয়ন্ত্রণ সমরকৌশলের একটি প্রধান অঙ্গ। আমি রথারোহী ও অশ্বরোহীদের সঙ্গে অবলীলাক্রমে যুদ্ধ করতে পারি এবং হস্তযুদ্ধে আমি রণদেবতার অন্তরকেও প্রীত করতে পারি। তবে আমি তোমার দেহের কোন অরক্ষিত দুর্বল অংশে আঘাত করব না, পারি তো সরাসরি প্রকাশ্য আঘাতে পরাস্ত করব তোমায়।

    কথা বলা শেষ হলে অ্যাজাক্সকে লক্ষ্য করে বর্শা নিক্ষেপ করলেন হেক্টর। সে বর্শাফলক অ্যাজাক্সের ঢালের ব্রোঞ্জস্তর ভেদ করে আরো দুটি চামড়ার স্তর ভেদ করল। কিন্তু তার উপর প্রতিহত হয়ে আটকে গেল। অ্যাজাক্সও এবার বর্শা নিক্ষেপ করলেন হেক্টরকে লক্ষ্য করে। বর্শাফলক হেক্টরের ঢাল ভেদ করে তাঁর চর্মনির্মিত কটিবন্ধনীতে লাগতেই কোনরকমে সরে গিয়ে প্রাণ রক্ষা করলেন হেক্টর। তখন দুজনই দুজনের ঢাল দুটিকে লক্ষ্য করে বর্শা নিক্ষেপ করলেন। সে বর্শার আঘাতে হেক্টরের ঢালটি তাঁর দেহের উপর চাপ দিতেই হেক্টর ঢলে পড়ে গেলেন। কিন্তু মুহূর্তমধ্যে তিনি একখণ্ড বড় পাথর কুড়িয়ে নিয়ে অ্যাজাক্সের উপর নিক্ষেপ করলেন। কিন্তু সে পাথর অ্যাজাক্সের ঢালের ব্রোঞ্জের স্তরে প্রতিহত হল, ঢালটিকে ভাঙ্গতে পারল না। তখন অ্যাজাক্স আরও বড় একটি পাথর হেক্টরের উপর নিক্ষেপ করলেন। সে পাথরের আঘাতে হেক্টরের ঢালটি কতকাংশ ভেঙ্গে গেল এবং তিনি চিৎ হয়ে পড়ে গেলেন। কিন্তু অ্যাপোলো তাঁকে উঠিয়ে দিলেন। এইভাবে তারা দুজনেই দুজনকে ক্রমাগত আঘাত ও প্রত্যাঘাত করে যেতেন যদি না সন্ধ্যাকাল সমাগত দেখে দেবতা ও মানবের যৌথ নির্দেশানুসারে উভয় পক্ষের প্রহরীরা তাদের দুজনকেই নিবৃত্ত করত। এই দুজন প্রহরীর নাম হলো টলথিয়াসম ও আইডেউস। আইডেউস বলল, হে বৎসগণ, আর যুদ্ধ করো না, তোমরা দুজনেই সাহসী বীর; পরস্পরের সমকক্ষ এবং দেবরাজ জিয়াসের প্রিয়। যেহেতু রাত্রিকাল সমাগত, তোমাদের যুদ্ধ বন্ধ করাই উচিত।

    অ্যাজাক্স বললেন, যুদ্ধ বন্ধের কথা হেক্টরকে বল। কারণ উনিই এ যুদ্ধ আহ্বান করেছেন। উনিই প্রথমে আমার অনুরোধ করুন, তাহলে সে অনুরোধ আমি রক্ষা করব।

    তার উত্তরে হেক্টর বললেন, হে বীর অ্যাজাক্স, দৈব কৃপায় উপযুক্ত শক্তি, সাহস ও বিচারবুদ্ধি লাভ করেছ। বর্শা সঞ্চালনে তুমি অন্যান্য গ্রীকবীরদের থেকে শ্রেষ্ঠ। শুধু আজকের মত যুদ্ধ হতে বিরত হও, আগামীকাল আবার আমরা এ যুদ্ধ শুরু করব। এখন রাত্রি আসন্ন এবং এ কাল যুদ্ধের অনুকূল নয়। ইত্যবসরে তুমি তোমাদের জাহাজে গিয়ে গ্রীকদের বিশেষত তোমার স্বজাতীয় অনুচরবৃন্দের অন্তরে আনন্দের সঞ্চার করগে। আমিও আমাদের ট্রয়নগরীতে ফিরে গিয়ে যে সব নরনারী আমার জন্য প্রার্থনা করছে তাদের সান্ত্বনা দিইগে। এস এক উপহারের আদান-প্রদান করি আমরা। এই উপহার দর্শনে গ্রীক ও ট্রয়বাসীরা বলাবলি করবে পরস্পরের মধ্যে, আমাদের দুই প্রখ্যাত বীর সাহস ও শক্তিসহকারে যুদ্ধ করে এবং বন্ধুত্বের ভাব নিয়ে বিরত হয় সে যুদ্ধ হতে।

    এই কথা বলে হেক্টর অ্যাজাক্সকে দিলেন চর্মনির্মিত কোষসহ রৌপ্যখচিত এক তরবারি। অ্যাজাক্স তার প্রতিদানে দিলেন নীলাভ বর্ণের এক সুরম্য কটিবন্ধনী।

    এইভাবে যুদ্ধ হতে বিরত হলেন ওঁরা। চলে গেলেন আপন আপন গন্তব্যস্থলে। বীর অ্যাজাক্সের আক্রমণকে প্রতিহত করে অক্ষত অবস্থায় হেক্টরকে ফিরে আসতে দেখে ট্রয়বাসীদের মনে হলো যেন নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে রক্ষালাভ করেছে তাদের নগরী। ওদিকে অ্যাজাক্সকে দেখে উল্লাসভরে তাকে অ্যাগামেমননের নিকট সগর্বে নিয়ে গেলেন গ্রীকবাসীরা।

    তারা সকলে রাজা অ্যাগমেমননের শিবিরে যেতেই একটি পাঁচ বছরের বলদ ক্রোনাসপুত্র জিয়াসের উদ্দেশে উৎসর্গ করলেন অ্যাগামেমনন। তারপর সেই উৎসর্গীকৃত গোমাংস অগ্নিদগ্ধ করে তৃপ্তিসহকারে ভোজন করলেন। অ্যাগামেমনন নিজের হাতে সেই বলির পশুদেহের একটি বিশেষ অংশ হতে কয়েকটি খণ্ড অ্যাজাক্সকে এক বিশেষ সম্মানের স্বীকৃতিস্বরূপ দান করলেন।

    অতঃপর বিজ্ঞ পরামর্শদাতা বৃদ্ধ নেস্টর উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, হে আত্রেউসপুত্র ও অন্যান্য গ্রীকবীরগণ, রণদেবতা অ্যারেসের ইচ্ছায় বহু গ্রীকসৈন্যের রক্তপাত ঘটেছে এবং তারা নিহত হয়েছে যুদ্ধে। তাদের আত্মা মৃত্যুপরীতে গমন করেছে। প্রভাতকাল আগত হলে আমরা যুদ্ধ হতে বিরত হয়ে আমাদের মৃতদেহগুলোকে গরু ও গর্দভবাহিত দ্বিচক্রযানে করে আমাদের অর্ণবপোতগুলোর অদূরে স্থূপাকৃত করে দাহ করব। তাহলে সেই সব মৃত সৈন্যদের অস্থিগুলো স্বদেশে নিয়ে গিয়ে তাদের প্রিয়জনদের হাতে তুলে দিতে পারব। সেই চিতার নিকট আমরা এক প্রাচীর নির্মাণ করব আর তার পাশে খনন করব এক বিরাট পরিখা যাতে ট্রয়সৈন্যদের কোন পদাতিক বা অশ্বারোহীবাহিনী আমাদের সহসা আক্রমণ করতে না পারে। সেই সুরক্ষিত প্রাচীর ও পরিখার মাঝে আমাদের গমনাগমনের জন্য থাকবে কয়েকটি নির্দিষ্ট দ্বারপথ।

    নেস্টরের এ-কথায় হর্ষধ্বনি করে উঠল গ্রীকরা। ওদিকে ট্রয়বাসীরা এক সভা আহ্বান করলো নিজেদের মধ্যে। এ সভায় বিজ্ঞ অ্যান্টিনর উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, হে ট্রয়বাসীগণ ও মিত্রশক্তিবর্গ, আমাকে আমার মনের কথা ব্যক্ত করার সুযোগ দাও। আজ হেলেন ও তার সকল ঐশ্বর্য আত্রেউসপুত্রদের হাতে ফিরিয়ে দাও। কারণ আমরা আমাদের প্রদত্ত চুক্তি ভঙ্গ করে যুদ্ধ করছি। আমার কথামত কাজ না করলে আমরা কখনই উন্নতি লাভ করতে পারব না।

    সুন্দরী হেলেনের দ্বিতীয় স্বামী আলেকজান্দ্রাস তখন বললেন, তোমার কথা আমার পছন্দ হলো না অ্যান্টিনর। যদিও তুমি সৎ মনোভাব নিয়েই একথা বলেছ তথাপি কোন যুক্তি নেই তোমার এ কথায় মধ্যে। আমি ট্রয়বাসী ও দার্দানীয় জনগণকে একথা নতুন করে বলে দিচ্ছি, আমি যে নারীকে এখানে আনয়ন করেছি তাকে কোনমতেই প্রত্যর্পণ করব না। তবে তার আনুষঙ্গিক সকল ঐশ্বর্য এমন কি আমার নিজস্ব আরও কিছু ঐশ্বর্য তাদের হাতে দান করতে রাজি আছি আমি।

    প্যারিসের কথা শেষ হতেই দার্দানাস অধিপতি রাজা প্রিয়াম শান্ত কণ্ঠে উপস্থিত সকলকে সম্বোধন করে বললেন, আজ তোমরা সকলে নৈশভোজন সমাপন করে রাত্রির মত বিশ্রাম করো, তবে সদাসর্বক্ষণ সজাগ সতর্ক প্রহরায় নিযুক্ত থাকবে। প্রাতঃকালে আইডেউসকে গ্রীক শিবিরে পাঠিয়ে দেবে। সে গিয়ে অ্যাগামেমনন ও মেনেলাসকে প্যারিসের কথা জানাবে। যে প্যারিস এই যুদ্ধের মূল কারণ তার অভিব্যক্তি তাদের জানা দরকার। তাদের সে আরও বলবে আমরা আমাদের সৈন্যদের মৃতদেহগুলো ভস্মীভূত না করা পর্যন্ত তারা যেন যুদ্ধ হতে বিরত থাকে। তারপর আমরা নতুন করে যুদ্ধ করব এবং চূড়ান্তভাবে জয় পরাজয় দেবতাদের দ্বারা নির্ণীত না হওয়া পর্যন্ত সে যুদ্ধ চালিয়ে যাব।

    সকলেই রাজা প্রিয়ামের কথামত কাজ করল। নিশাবসানে আইডেউস গ্রীকদের জাহাজে চলে গেলেন। তিনি দেখলেন অ্যাগামেমনন অর্ণবপোতের অভ্যন্তরে গ্রীকগণ এক মন্ত্রণাসভায় মিলিত হয়েছে। আইডেউস বললেন, হে আত্রেউসপুত্রদ্বয়, রাজা প্রিয়াম এবং অন্যান্য মহান ট্রয়বীরগণ আমায় আপনাদের সকাশে পাঠিয়েছেন। প্রিয়ামপুত্র আলেকজান্দ্রাসের বক্তব্য আমি ব্যক্ত করব আপনাদের কাছে। আপনারা তাঁর প্রস্তাবে সম্মত হোন। আলেকজান্দ্রাস বলেছেন, তিনি যেসমস্ত ধনরত্ন আপনাদের রাজ্য হতে অপহরণ করে এনেছেন তা পুরোমাত্রায় ও তার সঙ্গে আরও কিছু আপনাদের দান করবেন। কিন্তু মেনেলাসপত্নী হেলেনকে তিনি ট্রয়বাসীদের অনুরোধ সত্ত্বেও প্রত্যপর্ণ করবেন না। প্রিয়াম আরও জানতে চেয়েছেন আমরা আমাদের মৃতসৈন্যদের দেহগুলো ভস্মীভূত না করা পর্যন্ত আপনারা যুদ্ধ বন্ধ করতে রাজি আছেন কি না। পরে আমরা যুদ্ধ শুরু করব এবং চূড়ান্ত জয়-পরাজয় নির্ণীত না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাব।

    এ-কথায় অন্যান্য গ্রীকগণ নীরব থাকলেও যুদ্ধ ধ্বনিতে সতত সোচ্চার ডায়োমেডিস বলে উঠলেন আমরা এখন হেলেন বা কোন ধনরত্নের বিনিময়েই সন্ধি করব না, কারণ যেকোন এক শিশুও বলে দিতে পারবে ট্রয়জাতির পতন আসন্ন।

    একথায় উল্লাস ধ্বনি দিতে লাগল গ্রীকগণ। তখন রাজা অ্যাগামেমনন দাঁড়িয়ে বললেন, গ্রীকদের উত্তর তুমি স্বকর্ণে শ্রবণ করেছ। আমারও ঐ একই উত্তর। কিন্তু মৃতদেহ দাহের ব্যাপারে আমি তোমাদের মৃতদেহগুলো যথাযথভাবে দাহ করার অনুমতি দান করছি, কারণ মৃত ব্যক্তিদের উপর কোন হিংসাভাব পোষণ করা উচিত হবে না। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার যথাযথ অনুষ্ঠান হতে তাদের বঞ্চিত করা উচিত নয়। দেবরাজ জিয়াসকে সাক্ষী রেখে আমরা এই প্রতিশ্রুতি দান করছি।

    এই বলে তাঁর হস্তধৃত রাজদণ্ডটি দেবতাদের উদ্দেশ্যে ঊর্ধ্বে উত্তোলিত করলেন রাজা অ্যাগামেমনন। ইলিয়াম নগরীতে ফিরে গেলেন আইডেউস। ট্রয়বাসীগণ তখন এক মন্ত্রণাসভায় মিলিত হলে গভীর আগ্রহের সঙ্গে প্রতীক্ষা করছিল আইডেউসের জন্য। আইডেউস তাদের কাছে সব কথা ব্যক্ত করতেই তারা মৃহদেহগুলো এক জায়গায় স্থূপীকৃতি করতে লাগল এবং তাদের মধ্যে একদল লোক অগ্নিসংযোগের জন্য কাষ্ঠ আহরণ করতে লাগল। গ্রীকসৈন্যদেরও একটি দল মৃতদেহ সংগ্রহ এবং আর একটি দল কাষ্ঠ আহরণ করতে লাগল অগ্নিসংযোগের জন্য।

    সূর্য যখন ওসিয়ানাস সমুদ্রের শান্ত বক্ষ হতে ধীরে ধীরে পূর্ব দিগন্তে উত্থিত হয় মর্ত্যভূমির উপর কিরণজাল বিস্তার করছিল তখন উভয় পক্ষ আবার সম্মিলিত হলো রণপ্রান্তরে। তারা স্বপক্ষীয় মৃহদেহগুলো ঠিকমত চিনতে পারছিল না। তবু তাদের রক্তাক্ত ও ক্লেদাক্ত অঙ্গগুলো ধৌত করার সময় অশ্রু বিসর্জন না করে পারছিল না। অশ্রুপাতরত অবস্থাতেই তারা একটি মালবাহী শকটের উপর মৃতদেহগুলো তুলে রাখতে লাগল। রাজা প্রিয়াম আদেশ দিয়েছিলেন কোন সৈন্য যেন মৃতদেহ অপসারণের সময় উচ্চৈস্বরে রোদন না করে। তাই তারা নীরবে কাজ করে যাচ্ছিল। গ্রীকগণও এইভাবে নীরবে তাদের পক্ষের মৃতদেহগুলো অপসারিত করছিল। তারপর উভয় পক্ষের লোকেরাই স্বপক্ষীয় মৃতদেহগুলো প্রজ্জ্বলিত চিতানলে ভস্মীভূত করার পর ফিরে গেল আপন আপন শিবিরে।

    শবদেহের কাজ সম্পন্ন হবার সঙ্গে সঙ্গে গ্রীকগণ সেই চিতাপার্শ্বে একটি প্রাচীর নির্মাণ ও গভীর পরিখা খননের কাজ ব্যাপৃত হলো। প্রতুষ্যের আলো তখনো ভালভাবে ফুটে ওঠে নি।

    গ্রীকরা যখন এইভাবে প্রাচীর নির্মাণ ও পরিখা খনন করছিল তখন সুদূর স্বর্গলোকে জিয়াসের পাশে উপবেশনরত দেবতাবৃন্দও তা অবলোকন করছিলেন। ভূমিকম্পের দেবতা পসেডন একবার দেবরাজ জিয়াসকে বললেন, হে পিতা জিয়াস, মর্ত্যের কোন মানুষ আর স্বর্গের দেবতাদের কোন উপদেশ বা পরামর্শ গ্রহণ করবে না। দেখ দেখ গ্রীকরা কেমন এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর নির্মাণ করছে। এবার হতে এই প্রাচীরের যশোবার্তা প্রভাতের আলোর মত এমন সুদূর বিস্তৃত হবে যে মর্ত্যলোকের মানুষের মুখে মুখে শুধু এই প্রাচীরের কথাই কথিত হবে। আমি নিজে ও ফীবাস অ্যাপোলো দুজনে মিলে যে প্রাচীর বহু কষ্টে লাওমীডনের জন্য নির্মাণ করেছি তার কথা কেউ বলবে না। অথচ এই প্রাচীর নির্মাণের জন্য দেবতাদের উদ্দেশ্যে কোন বলি উৎসর্গ করেনি গ্রীকরা।

    একথায় অসন্তুষ্ট হয়ে জিয়াস বললেন, হে ভূকম্পনকারী দেবতা, কি বলছ তুমি? তোমার থেকে কম শক্তিশালী কোন দেবতা ভীত হয়ে উঠতে পারে তাদের এ কাজে। কিন্তু তোমার যশ ত প্রভাতের আলোর মত অনন্ত বিস্তৃত। গ্রীকরা যখন স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করবে তখন তুমি সহজেই তাদের এই প্রাচীর ভূমিস্যাৎ করে সমুদ্রে মিশিয়ে দিতে পার এবং ঐ বেলাভূমিকে পুনরায় বালুকারাশিতে পরিপূর্ণ করে তুলতে পার। তখন দেখবে গ্রীকনির্মিত ঐ প্রাচীরের কোন চিহ্নই অবশিষ্ট থাকবে না।

    এইভাবে দেবতাগণ যখন আলোচনায় রত ছিলেন তখন সূর্য অস্ত গেল। সূর্য অস্ত যাবার সঙ্গে সঙ্গে গ্রীকদের কাজ সমাপ্ত হলো। তারপর তারা তাদের শিবিরে গিয়ে গো বধ করে নৈশভোজ প্রস্তুত করল। জেসনপুত্র ইউনেউস কর্তৃক প্রেরিত কয়েকটি জাহাজ সুদূর লেমনদ্বীপ হতে মদ্য বহন করে এনেছিল তাদের জন্য, সেই সব জাহাজ হতে মদের বোতলগুলো বহন করে নিয়ে এল গ্রীকরা বিভিন্নভাবে। এক বিরাট ভোজসভার আয়োজন করে পান ও উৎসবে মত্ত হয়ে রইল সারা রাত্ৰব্যাপী। ট্রয়নগরীতে ট্রয়বাসীরাও তাই করতে লাগল। কিন্তু মুহমূহু বজ্র গর্জনের মাধ্যমে তাঁর ক্রোধ প্রকাশ করতে লাগলেন দেবরাজ জিয়াস। তাদের ধ্বংসের কথাও বারবার চিন্তা করতে লাগলেন তিনি। সেই বজ্রধ্বনি শুনে এক অজানিত ভয়ে মলিন হয়ে উঠল উৎসবমত্ত অপরিণাশদশী মর্তমানবগণ। তাদের কম্পিত পানপাত্র হতে পানীয় মদ্য পড়ে যেতে লাগল বারবার। তারা তখন দেবরাজের নিকট মদ্য উৎসর্গ করল এবং তার ফলে নির্বিঘ্নে পান ও ভোজন সমাপ্ত করে নিবিড় বিশ্রাম ও নিদ্রাসুখ উপভোগ করতে লাগল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleওডিসি – হোমার
    Next Article বৃশ্চিকচক্র – পিয়া সরকার

    Related Articles

    পার্থ সারথী দাস

    ইলিয়াড – হোমার

    October 13, 2025
    পার্থ সারথী দাস

    ওডিসি – হোমার

    October 13, 2025
    পার্থ সারথী দাস

    ওডিসি – হোমার

    September 12, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }