Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ঈশ্বরের বাগান – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

    লেখক এক পাতা গল্প1863 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ঈশ্বরের বাগান – ১৪

    ।। চৌদ্দ।।

    চার-পাঁচ দিন ধরে কি বৃষ্টি। সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া। পথঘাট ট্রাম-বাস বাড়ি-ঘর সব বৃষ্টিতে লেপ্টে ছিল। সকালের কাগজে শুধু এক খবর। দেশের কোথায় বন্যা, কোথায় ব্রিজ ভেঙে গেছে, কোথায় ট্রেন অচল হয়ে থেমে আছে তার খবরে সকালের কাগজটা ভরা। বড় বড় হেড লাইন, যেন কাগজে তখন এই খবরটাই মানুষের পড়ার কথা। সব কাগজগুলোয় সংবাদদাতাদের নিদারুণ অভিজ্ঞতার বর্ণনা, শষ্যহানির খবর। গবাদি পশু সব ভেসে গেছে। জলবন্দী মানুষজন উদ্ধারের জন্য মিলিটারি নেমেছে। বর্ষাকাল এলেই এই এক খবর। তারপর হেমন্ত আসে। সোনালী ধানের মাঠ তখন দিগন্তব্যাপী। বান বন্যায় ভেসে গিয়েও মানুষের জন্য কিছু না কিছু আবাদ টিকে থাকে।

    মানসনারায়ণ চৌধুরীর ঘরেও আজকাল কেউ কাগজ দিয়ে যায়। সে বাথরুম থেকে ফিরেই দেখতে পায় কাগজটা পড়ে আছে। আজকাল সে আর উত্তেজিত হয় না। উত্তেজিত হলেই মাথার মধ্যে অযথা সব রেলগাড়ি ঢুকে যায়। সে ঠাণ্ডা মাথায় আজকাল কাগজ পড়তে পারে। এখন তার ঘরে তালা পড়ে না। সে ইচ্ছে মতো রাস্তায় বের হতে পারে। একদিন গড়ের মাঠে গিয়েও বসেছিল। বাইরে যেতে চাইলে তাকে পুরানো ভকসল গাড়িটা দেওয়া হয়। বাহাদুর তাকে শহরটা ঘুরিয়ে দেখায়। কোনো পার্কে তার পায়চারি করতে ভাল লাগলে রাত করে ফিরতে ভালবাসে। কিন্তু রাজেনটা আবার কি মনে করবে—সেতো স্বাভাবিকভাবেই সব করে যায়, কিন্তু ঠিক সময় না ফিরলেই একটু বেশি হাঁটাহাঁটি করতে চাইলেই কেমন সংশয়ের চোখে তাকায় রাজেন। যেন সে বড়ই কুকর্ম করে ফেলছে।

    বৃষ্টির জন্য কদিন এই ঘরেই বন্দী হয়ে আছে। কাগজটা সারাদিন উল্টে-পাল্টে দেখে। কখনও কখনও একই লাইন বার বার পড়ে। নবীন যুবকের পাশে বসে থাকলে সে কেমন স্বস্তি পায়। অতীশের চোখে এমন কিছু আছে যা তাকে বেঁচে থাকার প্রেরণা দেয়। সেটা কি সে ধরতে পারে না। বেচারা পঞ্চানন বলেছে, হুজুর অতীশবাবুকে বলেন ত ডেকে দি। পঞ্চানন কি বুঝতে পেরেছে সে অতীশের জন্য টান বোধ করে। সে ত কখনও কাউকে কিছু বলে নি। কিছু দিন তার পাশের ঘরটায় অতীশ ছিল। ওর ছবির খুব প্রশংসা করেছে অতীশ। বলেছে, দাদা আপনি কেন ছবি আঁকা ছেড়ে দিলেন। ওটা ছাড়বেন না। মানুষের ত বেঁচে থাকার জন্য কিছু একটা চাই। কতদিন পর যেন শুনতে পেল সে সত্যি ভাল ছবি আঁকে। তাঁর হাত পরিষ্কার। মাষ্টারমশাইরাও এমন বলতেন। মডেলের ক্লাসে তার মত সুন্দর সতেজ ছবি কেউ আঁকতে পারত না। সবচেয়ে ওটাই ছিল তার প্রিয় ক্লাস। ইদানীং সে আবার ছবি আঁকা শুরু করেছিল। বৃষ্টিতে বের হতে পারে নি। সরকারবাবুর কাছে পঞ্চাননকে দিয়ে একটা লিষ্ট পাঠিয়েছিল। একটা ইজেল, কিছু জলরঙ এবং বুরুশ পঞ্চানন দিয়ে গেছে। ছবি আঁকতে না পারলে তাঁর মাথার মধ্যে রেলগাড়ি ঢুকে না গেলেও পাশ দিয়ে চলে যায়। ছবি আঁকতে না পারলে তাঁর কষ্ট হয়—তখন হাবিজাবি মাথায় যা আসে তাই দেয়ালে লিখতে থাকে। যেন গত জন্মের কথা লিখে যাচ্ছে। সেই কথাগুলো রাজেন এত ভয়াবহ ভাবে কেন সে বোঝে না। ঘরে যারা ঢুকতে পায় তারা দেখে ফেলবে ভয়েই রাজেনটা তখন তালা দিয়ে দিতে বলে? তারপর আবার নদীর জল সরে গেলে যেমন বালিয়াড়ি পড়ে থাকে তেমনি কখনও সে গত জন্মের কথা ভুলে গেলে, ভাল পোশাকে, বনেদীয়ানার সব পুরস্কার কপালে—আর তারপরই ঘরে চুনকাম হয়ে যায়। বার বার, পাঁচ-সাত বার বছরে ঘরটা চুনকাম করা হয়ে যায় এভাবে

    কিন্তু সেই নবীন যুবক উসকে দিয়ে গেল, প্রায় আগুনে ঘি ঢালার মত, বলে গেল মানসদা মানুষের বেঁচে থাকার জন্য এটা বড় দরকার। আপনার কি হারিয়েছে আমি জানি না, মানুষ কিছু না হারালে এমন হয় না। আপনার ছবি আঁকা খুব দরকার। অভ্যাসটা রাখুন। অন্য এক রহস্য খুঁজে পেলে যা হারিয়েছে তা আবার ফিরে পাবেন।

    অতীশ চলে যাবার পর সে পঞ্চাননকে দিয়ে একটা ফিরিস্তি পাঠিয়ে দিয়েছিল। ঘরে এখন ইজেল, রঙ, বার্নিস যা দরকার সব আছে। বৃষ্টির কদিনে সে একটা মাত্র ছবি আঁকার চেষ্টা করেছে। কিন্তু কি এঁকেছে সে নিজেই বুঝতে পারছে না। সে প্রথম আঁকতে চেয়েছিল, নদীর পাশে রাজবাড়ি, সামনে বালির চর, দুজন অশ্বারোহী যুবক রাজবাড়ির দিকে উঠে আসছে। ঘোড়া দুটো কদম দিচ্ছিল। প্রথম ছোট একটা আর্ট পেপারে স্কেচ করতে গিয়ে মনে হল একটা ঘোড়ার মুখ বড়ই লম্বা। আর একটা বড়ই বেঁটে। তারপর মনে হল, ঘোড়ার মুখই হয় নি কেমন জিরাফের মুখের মত লম্বা। তবু রঙ তুলি নিয়ে যখন বসল—সেটা শেষ পর্যন্ত কি দাঁড়াল বুঝতে পারছে না। আবছা অন্ধকারে এক বিশাল রাজবাড়ির ছায়া, আরও অস্পষ্ট দুটো ঘোড়া, অশ্বারোহী আছে কি নেই বোঝা যায় না। কেবল সাদা বালিয়াড়ি আর নদীর জল স্পষ্ট। তার মনে হল, কাগজে রঙ দেয় নি বলে বালিয়াড়িটা সাদা দেখাচ্ছে। সেটা এই ছবির সঙ্গে বেমানান। সে সেখানে কিছু পিংক কালার এবং ব্লু রঙে আবছা ছাই রঙ করে দিতেই গোটা ছবিটা বিশ্রী হয়ে গেল। মনে হল ঘোড়ায় চড়ে ফেরার পথে প্রাসাদ অলিন্দে কিরানা ঘরানার ধারক কোনও সঙ্গীতশিল্পীর সুর ছবিতে জেগে উঠছে না। গোটা ছবিটাই তার কাছে কেন জানি অর্থহীন মনে হচ্ছে। তারপর মানস ছবিটা দু’দিন ফেলে রেখে অন্য একটা ছবিতে মন দিয়েছিল। কিছু কাঁচের গ্লাস। লাল মদ। দুজন প্রবীণ মানুষ দরজা দিয়ে ঢুকছেন। একজনের মাথায় উষ্ণীষ, গায়ে রাজার পোশাক। অন্যজন টাক মাথা বেঁটে-খাটো মানুষ। ধুতি পাঞ্জাবি পরনে। কিন্তু মুখটা একজনের উটের মত হয়ে গেল। অন্যজনের বাঘ। সে বুঝল, হবে না। সে তারপর কদিন কিছুই আঁকেনি। কদিন থেকে অতীশের পাত্তা পাওয়া যাচ্ছে না, যে তাকে ডেকে দেখাবে। সে দেখলে বুজতে পারত ছবিটা কিভাবে শেষ করা যায়। মাথায় এক রকমের চিন্তা থাকে, ছবিটা আঁকতে গেলে সেই চিন্তা গুলিয়ে যায়। তখন আর মনে করতে পারে না আসলে সে কি আঁকতে চেয়েছিল।

    পঞ্চানন সকালের খাবার নিয়ে এসেছে। ওর খাওয়া হলে সব নিয়ে যাবে। সে খেতে খেতে বলল, অতীশবাবুকে ডেকে আনবি বলছিস?

    —হুজুর আপনার চোখ মুখ ভাল নয়। অতীশবাবু ছিলেন বলে বেশ ভাল ছিলেন।

    —তা ছিলাম। কিন্তু বেচারা বৌ-ছেলেপিলে নিয়ে এসেছে। কারখানার কাজের চাপ। রাত-দিন পড়ে থাকছে শুনছি, বাড়িতে কি পাবি?

    —হুজুর দেখে আসব?

    —আয়।

    —কিছু বলব?

    —আজ রববার না?

    পঞ্চানন বলল, আজ্ঞে।

    —দাঁড়া। বলে মানস একটি চিঠি লিখল—অতীশ, তুমি আমাকে ভুলে গেছ। আমি তোমার মানসদা। বড়ই বিপদে আছি। সময় এবং সুযোগমতো একবার পারলে এস।

    পঞ্চানন অতীশকে একেবারে সঙ্গে নিয়েই এসেছে। বারান্দায় ঢুকে পঞ্চানন বলল, যান ভিতরে যান।

    অতীশ ভিতরে ঢুকে দেখল, মেঝেতে অজস্র ছবি ছড়ানো! সে খুব আগ্রহের সঙ্গে একটা তুলে নিয়ে দেখল—বিরাট ফাঁকা ঘরে দুজন সারেঙ্গিবাদক বসে আছে। নামাজ পড়ার মত হাঁটু ভাঁজ করে বসার ভঙ্গী। চোখ উর্ধ্বনেত্র। ছাদের ফুটো থেকে একটা হাত বের হয়ে আসছে। ঠিক এমনই একটা ছবি বিলিয়ার্ড টেবিলটা যে ঘরে আছে সেখানে বাঁধানো রয়েছে। অতীশের মনে হল, তবে সেই ছবিটাও এই মানুষ এঁকেছেন। ছবিটা দেখে সে প্রথম ভয় পেয়ে গেছিল। একটা কালো কোট তার হাত দেয়াল ফুটো করে বের করে দিয়েছে। নিচে নিস্তরঙ্গ জল। ছবিটা দেখে ভয় পাওয়ায় শরীর বেশ শিরশির করে উঠেছিল।

    অতীশ বলল, অনেক ছবি দেখছি।

    —অনেক কোথায়। দুটো ত।

    সে বলল, এই যে।

    মানস বলল, ওগুলো কিছু না। তুমি এটা দেখ। কিছু হয়েছে কিনা দেখ। অতীশ দাঁড়িয়েই ছবিটা দেখছিল।

    —বসে দেখ না। এই পঞ্চানন, চেয়ারটা এগিয়ে দে-না।

    অতীশ বসতে বসতে বলল, আপনি করেছেন কি!

    মানস কিছুটা যেন শঙ্কা বোধ করল। তাহলে কি সে সত্যি যা আঁকতে চেয়েছিল সেটাই ফুটে বের হচ্ছে। আর অতীশ সেটা বুঝতে পেরে ভয় পেয়ে গেছে। রাজবাড়ির চেহারাটা অতীশ তাহলে দেখতে পাচ্ছে। সে বলল, তুমি ভয় পাচ্ছ?

    অতীশ মানসদার কথার অর্থ ধরতে পারল না। ছবিটা থেকে মুখ তুলে মানসদার দিকে তাকিয়ে থাকল।

    —ভয় পাচ্ছ কিনা বল! ছবিটা তাহলে যা আঁকতে চেয়েছি তাই হয়েছে বলছ। রাজেনটা তবে ক্ষেপে যাবে। কি যে করি!

    অতীশ ভারি অবাক হল। বলল, ছবিটা আমাকে দিন। বাঁধিয়ে রাখব। দেয়ালে টাঙাব। রাজেনদা রাগ করবে কেন।

    —কি জানি। আমি ত রাজেনকে ক্ষমাই করে দিয়েছি।

    তার বলতে ইচ্ছে হল, রাজেনদা আপনার কে হয়! এ-বাড়িতে এসে বুঝেছি, সবাই এখানে বুঝে ফেলেছে, এই শেষবেলা, যে যে ভাবে পারো গুছিয়ে নাও। সিগনাল ডাউন হল বলে। একমাত্র আপনিই নির্বিকার। রাজার সব লোক এখন টের পেয়েছে—এদের যা অবশিষ্ট আছে তার কিছুটা লুটেপুটে নিলেও তিন পুরুষের নিশ্চিন্তি। কিন্তু আপনি বসে আছেন। আপনি এই রাজবাড়িতে আশৈশব মানুষ। পুরানো লোকেরা কিছু খবর রাখে। কুম্ভ মাঝে মাঝেই বলে, বলতে পারি বলব না। এ-ব্যাপারে আমার আগ্রহ অনাগ্রহ সমান। ভয় যদি কুম্ভ আপনাকে ছোট করতে চায়, রাজেনদাকে ছোট করতে চায়। মানুষ ছোট হয়ে যাচ্ছে দেখলে আমার কেন জানি কষ্ট হয়।

    —এই কি—তুমি ছবিটা নিজেই কেবল দেখছ! কি দেখছ বলছ না কেন!

    —একটা বড় স্মৃতিসৌধ মনে হচ্ছে আঁকতে চেয়েছেন।

    তারপর কি ভেবে অতীশ বলল, গভীর অন্ধকার থেকে দু’জন অশ্বারোহী পুরুষ উঠে আসছে। পেছনে সাদা বালিয়াড়ি। বোধহয় জ্যোৎস্না পড়ায়, সেটা হয়েছে। আকাশ আবছা মেঘে ঢাকা। ফাঁকে ফাঁকে জ্যোৎস্না বৃষ্টির জলের মতো নেমে আসছে। তার পেছনে নদী, ওপরে অস্পষ্ট কুয়াশা। সময়টা শীতকাল—ছবিটা দেখে তাই তো মনে হচ্ছে।

    মানস ছবিটা ওর হাত থেকে টেনে নিল। নিজে ভাল করে দেখল, আবার। কিন্তু কিছুই মিলছে না। সেই কুমারদহ রাজবাটীর ছবি এটা যেন নয়। সে ত এখন ভগ্ন প্রাসাদ। দেবোত্তর সেবাইত, দু’জন গোমস্তা একজন খাজাঞ্চি মাত্র থাকে। বিরাট সব আম বাগান, শহরে কিছু বাড়ি ভাড়া, একটা বাজার, কিছু বালির চর এবং বড় বড় সব ভৈলচিত্র, মাঝে মাঝে রাজেনটা বিদেশ গিয়ে কি করে সব, তারপরই সাহেব-সুবোরা আসে। সব নিয়ে গাড়ি করে চলে যায়—কাঠের কাজ করা বাতিদান থেকে মিনে করা সব সৌখিন আসবাবপত্র, পূর্বপরুষদের সংগ্রহ করা ছবিও পাচার করে দেয় তারা। এই রাজবাড়ির ঘরে ঘরেও জমে আছে সব এমন কত অমূল্য সম্পদ। সব খালি করে দিচ্ছে রাজেনটা। সে ত আঁকতে চায় নি। আঁকতে চাইলে শস্য-বিহীন একটা মাঠের সে ছবি আঁকত। তাতেই বড় রকমের শূন্যতা ধরা যায়। আসলে যে পাপ বাপ-পিতামহের আমল থেকে জমা হয়ে আছে তার কিছুটা প্রথা-প্রকরণ মেনে ছবি আঁকা ছিল তার বিষয়বস্তু। অতীশ ধরতে পারছে না। না সে চেয়েছিল, ঘোড়ায় সে এবং রাজেন। পেছনের অন্ধকারে খুব আবছা নারী মূর্তি—সেটা অতীশ কেন খেয়াল করল না। সেই আবছা নারীমূর্তিটা রাজপ্রাসাদ গ্রাস করছে সেটা অতীশের নজরে এল না কেন! অতীশ অন্য সব ছবিগুলিও তুলে তুলে দেখছে। ছবিগুলির নাম দিয়েছেন, সাদা ফুল। বসন্ত। নদীতটে আমি জারজ সন্তান। কালের ঘোড়া। পতিতালয়। এমন সব কত হিজিবিজি নাম। ছবির সঙ্গে নামগুলির প্রায় কোন দিক থেকেই মিল নেই। যেমন ‘বসন্ত’ ছবিটাতে শুধু কালো কিছু ফুটকরি। আঁকাবাঁকা গাছের অভ্যন্তরে কোনও পক্ষী শাবকের লেজ। দুটো সরীসৃপ গাছের গোড়ায় এং পেতে বসে আছে। অতীশ এ-বয়েসেই কিছু কিছু শিল্পীর জীবনী পড়েছে। কোনও না কোনওভাবে এরা অধিকাংশই অর্ধ উন্মাদ। সে এবার মানসদার দিকে তাকাল। কিছু তাকে বলছেনও না। কোথাও যদি আরও ছবি থাকে—সেখানে যদি মানসদা নিজেকে তুলে ধরেন। সে তন্ন তন্ন করে খুঁজতে থাকল। একটা ছবি আশ্চর্য লাল রঙে আঁকা। আগুনের লেলিহান গ্রাসের মধ্যে নির্বিঘ্নে এক উলঙ্গ নারী বসে আছে। মুখ চোখ আশ্চর্য রকমের শাস্ত। নাম দিয়েছেন ব্যভিচারিনী। একমাত্র এই ছবিটার সঙ্গে নামকরণের আশ্চর্য সার্থকতা পেয়ে বলল, মানসদা এ ছবিটা কবে আঁকলেন।

    ছবিটা দেখে বলল, ও ওটা অমলার ছবি। ফেলে দাও। আমার কাছে ছবিটার কোনও দাম নেই। ইচ্ছে করলে নিয়ে যেতে পার। তোমার সঙ্গে শুনেছি খুব ভাব। তারপরই কেমন সচকিত হয়ে গেলেন। কি যেন তার জিজ্ঞেস করার আছে অতীশকে। মানসদা এবার হাত থেকে ছবিটা ঝেড়ে ফেলে দিলেন। এতক্ষণ যেন বড়ই অপবিত্র বিষয় নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করছিলেন, বললেন অমলাকে তুমি চেন শুনেছি।

    —কার কাছে শুনলেন?

    —আমার কাছে সবাই খবর দিয়ে যায়। ও বাবু এবারে আবার খেলা জমে উঠল।

    অতীশ বলল, একথা কেন?

    —এই আর কি। ওরা বোঝে রাজেনটা আমাকে ঠকাচ্ছে। আমাকে সম্পত্তির উত্তরাধিকার দিচ্ছে না। আমাকে ওরা খুব ভালবাসেনা!

    অতীশ এইসব পারিবারিক রেষারেষি শুনতে কখনও আগ্রহী হয় না। বিষয় আশয়ের প্রতি এমনিতেই একটা তার উদাসীনতা আছে। সেটা বোধহয় সে বাবার কাছ থেকেই পেয়েছে। মানুষের চলে যাবার মতো উপার্জন থাকলে খুব ছোটাছুটি তার পছন্দ নয়। সে তা করেও না। সংসারে ব্যভিচার ঢুকলে যা হয়। সেটা টাকার হতে পারে, নারীর হতে পারে, যেমন এখন সে বুঝেছে যে কোনভাবে সব সম্পত্তি স্বনামে রাখা রাজেনদার আর নিরাপদ নয়। তার সম্পত্তি গ্রাস করার জন্য সবাই উদ্যত। আইন বদলাচ্ছে। এবং এমন একসময় আসবে যখন বসবাস এবং উপার্জনে চলে যায় মতো সম্পত্তি ছাড়া তার আর কিছুই থাকবে না। রাজেনদার বাবার ঠাকুদা দুটো কোলিয়ারি বিক্রি করে এই এস্টেট গিলেণ্ডার কোম্পানী থেকে উদ্ধার করেছিলেন। তারপর থেকেই বাড়িয়ে যাওয়া ছিল তাঁর স্বভাব। প্রভুত্ব এবং পৌরুষ এই দুই মিলে এস্টেটের যখন রমরমা তখনই স্বাধীনতা। জমিদারী চলে গেল। সরকারী কমপেনসেসন বাদে যা থাকল তাও কয়েক কোটি টাকা। খেলিয়ে তুলতে পারলে অনেক বার চোদ্দ বছরে রাজেনদা বুঝি সব বুঝে ফেলেছেন, অকর্মণ্য সব মানুষজন পুষে রেখেছেন, সব ব্যবসাই যেতে বসেছে এবং এ জন্য দায়ী তাঁর আমলারা। আসলে আভিজাত্য যে জীবনে কাঁটা হয়ে আছে সেটা রাজেনদা বুঝতে পারছেন না। ফলে বেনামে সম্পত্তি বিক্রি বাট্টার সময় টাকাটার হিসেব থাকে না। পচা টাকায় এই রাজপ্রাসাদ ভরে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে এই পচা টাকার গন্ধ সে পায়, মানসদা পায়। সুরেন পায়। তারপরই মনে হয় বড়ই বিদঘুটে সব চিন্তাভাবনা। এগুলি নিয়ে তার মাথাব্যথা থাকার কথা নয়। কিন্তু সে বুঝতে পারে আগুনের ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে শরীর পুড়বে না, এমন রসিকতার কথা কবে কে শুনেছে। সেজন্য অতীশ ভারি বিমর্ষ বোধ করছিল।

    মানসদা বললেন, নবীন যুবক তোমার কপালে সন্ন্যাস-টন্ন্যাস নেই ত!

    অতীশ হাসল।

    —কথা বলছ না কেন। মাথা গুঁজে ছবিতে এত কি দেখছ। যা দেখছ তা ঠিক। এই জরুলটাও জঙ্ঘায় আছে। হাত দিলে টের পাবে। আমি মিছিমিছি ছবি আঁকি না।

    আসলে আগুনে উবু হয়ে বসে থাকা নারীমূর্তিটি অতীশকে ভয় ধরিয়ে দিয়েছে। বুঝি অমলার সঙ্গে মানসদার কোনও গভীর সম্পর্ক আছে।

    ছবিটা যে কোনও নারীমূর্তিরই হতে পারে। কারণ উবু হয়ে বসা। মুখ দেখা যাচ্ছে না। চুল আগুনের মধ্যে ঝলকাচ্ছে। এবং পেট জঙ্ঘা বাহু সবই স্পষ্ট। ছবিটা একবার দেখার পরই চোখ সরিয়ে নিয়েছিল অতীশ। কিন্তু মাথা তোলেনি বলে মানস ভেবেছে, সে ছবিটাই দেখছে। মানসদার কথায় অতীশ ফের ছবিটা দেখে আঁতকে উঠল। তাঁর মনে হল সত্যি অমলা তাঁর সামনে উলঙ্গ হয়ে বসে আছে। সে ভিতরে কাঁপছিল।

    —তুমি অমলাকে তবে চেন?

    অতীশ বলল, চিনি

    —কবে থেকে?

    —অনেককাল আগে। আমি তখন খুব ছোট। ওদের জমিদারিতে আমার বাপ জ্যাঠারা কাজ করতেন।

    —তাহলে এখন থেকে তুমিই আমার হয়ে অমলাকে যা বলবার বলবে।

    অতীশ চুপ করে থাকল।

    —কী চুপ করে থাকলে কেন?

    —ওকে ত আমি দুদিনের বেশি এখানে দেখিনি। তাছাড়া আমার সঙ্গে দেখাও হয় না।

    —হবে।

    —হলে বলব।

    —কি বলবে শুনলে নাত।

    —কি বলব?

    —শুধু বলবে আমি সত্যি পাগল নই। ওকে এটা তোমায় বোঝাতে হবে। –আপনি সত্যি তো পাগল নন। কে বলেছে আপনি পাগল!

    —সে তুমি বললে হবে কেন? পৃথিবী শুদ্ধ সব লোক বললেও হবে না। তারপরই তিনি উঠে দাঁড়ালেন। জানালায় গিয়ে কি দেখার চেষ্টা করলেন। গলা বাড়িয়ে ডাকলেন, পঞ্চানন। পঞ্চানন এলে বললেন, আমাদের একটু চা খাওয়া।

    অতীশ কেমন আবার বিভ্রমের মধ্যে পড়ে যাচ্ছে। সে বলল, আচ্ছা মানসদা, প্রাসাদের বড় হলটায় একটা ছবি দেখলাম। একটা কোটের কালো হাতা, কাঠের বেড়ার ফুটো দিয়ে বের হয়ে আছে। এটা আপনার আঁকা?

    —মনে করতে পারছি না।

    —বিলিয়ার্ড টেবিলটা যে-ঘরে আছে।

    —অমলা হয়ত এখনও দু একটা ছবি রেখেছে। হতে পারে। আবার নাও হতে পারে। রাজেনটা আমার কিছুই রাখতে দেয় না। ছেলেবেলা থেকেই ও বড় হিংসুটে স্বভাবের ছিল। আমার সব কিছু কেড়ে নিতে চাইত। তারপর সামান্য থেমে কেমন নির্লিপ্ত গলায় বললেন, তুমি পল সেজনের নাম শুনেছ?

    অতীশ বলল, না।

    —সে যাই হোক। ছবিটা দুই নারীর। সম্ভবত মা মেয়ের। সম্ভবত দুই বোনের। কি ছবি এখন আমি ঠিক মনে করতে পারছি না। কিন্তু চোখ দুটো আমি নিবিষ্ট হলে এখনও দেখতে পাই। সেই চোখ বালিকার সেই চোখ যুবতীর, চোখ মায়ের, চোখ বারবনিতার। এতগুলো চোখ সেই দুই নারীর চোখে তিনি এঁকে ছিলেন। এক জোড়া চোখ কখন কেমন হবে বলতে পার না।

    মানসদার কথাবার্তা শুনতে শুনতে অতীশের কেমন মাথা ধরে যাচ্ছিল। এই মুহূর্তে সে যা ভাবছে, তিনি সেখানে থেকে তাকে কত সহজে অন্য জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন। সে বলতে চেয়েছিল, সেই হাতটা আপনার আঁকা কিনা। সেই হাতটাই আমি ভুলে নির্মলার আসার আগের দিন রাতে দরজার পাশে ঝুলতে দেখেছি কিনা। সেই হাতটাই আমার মাথার মধ্যে আর্চির প্রেতাত্মার ভয় আবার ঢুকিয়ে দিয়েছে কিনা! কিন্তু বলে লাভ নেই। অমলাই হয়ত বাঁধা দেবে। আর্চির কথাটা তাঁকে বললে কেমন হয়। কারণ এই মানুষ তার কাছে প্রথম যেন কত গোপন খবর এ বাড়ির বলে দিল। অথবা দৈন্যের কথা, পরাজয়ের কথা—এসব কথা সহজে মানুষ অন্য মানুষকে বলতে চায় না। মানসদা তাকে বেশ স্পষ্টই যেন বলে দিল, তোমার কাছে আমার কিছু গোপনীয় নেই। তোমাকে অতীশ আমি বিশ্বাস করি।

    অতীশ বলল, আপনার প্রেতাত্মায় বিশ্বাস আছে?

    মানসদা উঠে দাঁড়ালেন, চোখ বড় বড় করে বললেন, সেটা আবার কি?

    অতীশ একেবারে জলে পড়ে গেল। এমনভাবে সে বোকা বনে যাবে বুঝতে পারে নি। সে তবু মরিয়া হয়ে বলল, কালো কোট গায়ে একটা হাত শুধু আঁকলেন কেন! কি অর্থ এ ছবির।

    —দেখ সত্যি আমি মনে করতে পারছি না।

    —আপনি সব পারেন। ইচ্ছা করলে সব পারেন। ভূতেও বিশ্বাস করতে পারেন। আপনি পারেন না এটা আমি বিশ্বাস করি না।

    পাজামা পাঞ্জাবি পরা মানুষটিকে বড়ই সুদীর্ঘ এক মহিমময় পুরুষের মতো মনে হচ্ছে। এবং তখনই মনে হল মৃত রাজার চেহারার সঙ্গে মানসদা’র বড় বেশি মিল। কিন্তু সে শুনেছে, রাজেনদা এই সম্পত্তির একমাত্র উত্তরাধিকারী। রাজার সঙ্গে রাজেনদার চেহারার অমিলটাই বেশি। আদৌ দীর্ঘকায় নয়, গৌরবর্ণ নয়, বড় চোখ নয়, নাক, নাকটা কার মতো! কারো মতো নয়। মানুষের মতো নয়! কিছুটা শিম্পাজির মতো। এত চাপা নাক নিয়ে রাজেনদাকে শেষ পর্যন্ত মোটা গোঁফের আশ্রয় নিতে হয়েছে।

    অতীশ চা খেয়ে উঠে পড়ল।

    —তা হলে তুমি কিন্তু বলবে।

    অতীশ মনে করতে পারল না তাকে কি বলতে হবে। কারণ কালো কোট এবং হাত, আগুনে ছবি, দুই নারী এবং দুই অশ্বারাহী ক্রমাগত তার মাথার মধ্যে ঠোকাঠুকি করছিল। এখানে এসে আর্চিব প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় সে সব সময় শঙ্কার মধ্যে থাকে। প্রথম দিন থেকেই এখানে একটা কালো হাত মাথার মধ্যে ঢুকে বসে আছে এবং ওটাই ওকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। মানসদার ছবিগুলি না দেখলে সেটা যেন মনে হত না। অন্তত একটু যুক্তি খাড়া করতে পেরে সে নিশ্চিন্ত হতে গিয়ে কি বলতে হবে ভুলে গেছে। সে কিছু না ভেবেই বলল, বলব।

    নিচে নামতেই নবর সঙ্গে দেখা। সে বলল, স্যার, আপনার কাছে যাচ্ছিলাম।

    নব একটা ধুতি ফেরতা দিয়ে পরেছে। খালি গা। গলায় পৈতাটা ভারি চকচক করছিল। সে আজকাল খালি গায়েই ঘোরাফেরা করছে। পৈতাটা রোজই বোধ হয় মাজে। একদিন মিণ্টুকে ডাকতে গিয়ে দেখেছিল পুকুরে নাই-জলে দাঁড়িয়ে জোরে জোরে মন্ত্রপাঠ করছে। অতীশ বুঝতে পেরেছিল নব এখন তার কাজে কর্মে খুব আন্তরিক। দেখা হয়ে যাওয়ায় সে বলল, ভাল আছ।

    নব ও-সব কথার উত্তর দিল না। –একদিন গেলেন না স্যার।

    অতীশ বলল, যাব।

    —স্যার জমে উঠেছে খুব!

    নব তার শনিপূজার কথা বলছে,

    —পয়সা হচ্ছে?

    —একাউণ্ট রাখছি। তবে সবই পাঁচ পয়সা দশ পয়সা। গুড বিজনেস সেন্টার। কমপিটিশনও আছে স্যার। আমার দেখাদেখি পাশেই আর একটা শনির থান গজিয়ে উঠছে। পাল্লা চলছে খুব। আসছে শনিবারে আসুন না স্যার। তিনজন ঢাকি ঢাক বাজাবে। একটা ছিল ওরা দুটো করায় আমি তিনজন ঢাকি বায়না করেছি। আপনারা পূজার সময় থাকলে শোভা বাড়ে। বৌদি যদি যান! আপনারা গণ্যমান্য লোক যদি পূজার সময় কাছে থাকেন গুডউইল বাড়ে।

    সে নবর হাত থেকে রক্ষা পাবার জন্যই বলল, যাব এবং সে বাসার দিকে হাঁটা দিলেই নব ছুটতে ছুটতে আবার আসছে।

    —স্যার, এখানে বলব কি –না বাসায় গিয়ে বলব?

    —কী বলবে!

    —চলুন। খুব জুররী কথা।

    ভারি ঝামেলা করছে নব। কিন্তু চাকরির কথা দিয়ে রাখতে পারে নি, অতীশের এই একটা অস্বস্তিও আছে। সে সোজা বলতে পারল না, এখন নয়। আমার মেলা কাজ পড়ে আছে। সে বলল, এখানেই বল না!

    —স্যার, রাজার সঙ্গে এখানকার এম এল এর খুব ভাব। ওরা মিলে যদি উদ্বোধন করে আমার পূজাটা।

    —সে এখন কি করে হবে? পূজা ত তুমি আরম্ভই করে দিয়েছ।

    —পঞ্চম হপ্তা-পূর্তি উপলক্ষে এই সিলভার জুবলি-টুবলির মত! এই উপলক্ষে যদি…..

    অতীশ বিরক্ত হচ্ছিল। আবার মজাও পাচ্ছিল। কিন্তু তাকে নির্মলার কাজের বিষয়ে একজন স্কুল সেক্রেটারির সঙ্গে আজ দেখা করার কথা। খুবই গণ্যমান্য লোক। রাজেনদা নিজেই চিঠি দিয়েছেন। এখন এসব নিয়ে তার ভাববার একদম সময় নেই। সে বলল, কাল সকালে এস। আলোচনা করা যাবে।

    তবু নব যায় না।—স্যার, ওরা মাইক লাগিয়ে শনিমাহাত্ম্য প্রচার করছে। ওরা স্যার এম এল একে দিয়ে উদ্বোধন করিয়েছে, ইস মাইরি স্যার কি যে ভুল হয়ে গেল!

    অতীশ ছাড়া পাবার জন্য বলল, তুমি তো সপ্তাহ পূর্তি করছই তখন না হয় ভেবে দেখা যাবে। হঠাৎ নব প্রায় পায়ে পড়ে গেল। স্যার আমার প্রেস্টিজ নিয়ে টানাটানি। আপনি আমাকে বাঁচান। অতীশ বলল, আমার ত কোন পরিচিত এম এল এ নেই। পাবলিক ফাংসন করে এমন লোককে ধর।

    নব কিছুটা হতাশ গলায় বলল, হামুবাবুকে বলেছি। তিনি পারেন। কিন্তু টাকা চায়। অত টাকা দেব কোত্থেকে।

    অতীশ দেখল নবকে ভারি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত দেখাচ্ছে। আসলে কাকে ধরলে কিভাবে হবে সেটা নব ঠিক জানে না। অন্ধকারে হাতড়াচ্ছে। কাছে তাকে পেয়ে ভেবেছে এই সেই লোক —একে ধরলে হয়ে যেতে পারে। কিন্তু অতীশ তাকে কোন ভরসা দিতে পারছে না। এবং পরদিন সকালে শুনল অতীশ, নব কাকে ধরে একজন হবু কবি ঠিক করেছে। তিনিই বক্তৃতা করবেন। তারপর সে আরও এক সকালে শুনল নবকে ধরে পাড়ার ছেলেরা খুব ঠ্যাঙ্গিয়েছে। তার জায়গা কেড়ে নিয়েছে। এত পয়সা হচ্ছিল নবর, সেটা তাদের সহ্য হয় নি। অবশ্য পরে নব তাকে বলেছে আসলে প্রতিপক্ষ দলের কারসাজি। পাড়ার ছেলেরা মিলে দুটো জায়গাই দখল করে নিয়েছে। বেকার যুবক শুধু তুমি না আমরাও। বে-পাড়া থেকে এসে লুটেপুটে খাবে সে হচ্ছে না। নব শেষে বাধ্য হয়ে তার পুরানো প্রফেসানেই আবার ফিরে এল। সে কিছুদিন ধরে মনোযোগ দিয়ে আবার অঙ্ক কষে যাচ্ছে। অঙ্ক কষলে মাথা পরিষ্কার হয়, এমন একটা সুন্দর প্রফেসান হাত ছাড়া হয়ে গেছে শুধু নির্বুদ্ধিতার জন্য। মাথা সাফ না থাকলে কিছু হবে না। সে মাথা সাফ করার জন্য আবার বসে যেতেই কুম্ভবাবু খবর দিল, বুঝলেন দাদা নবর হয়ে গেল!

    কত মানুষেরই এভাবে হয়ে যাচ্ছে। অতীশ বলল, কার কবে হবে ঠিক কি! নব কি…

    —না না খুন-টুন হয়নি। গাড়ির তলায়ও পড়েনি।

    অতীশ ফোনে কথা বলছিল। ঠিক মন দিয়ে শুনতে পারছে না। কুম্ভবাবু ইতিমধ্যে আরও কিছু ঝামেলা তৈরী করেছে। কাস্টমারদের দিয়ে কিছু মিথ্যা অভিযোগ তৈরী করিয়েছে। মাল পাঠালে রঙ ঠিক হয় নি, কামড়ি খুলে যাচ্ছে, ঢাকনা আলগা এমন সব রিপোর্ট দিয়ে মাল ফেরত পাঠাবার বেশ একটি পাকা বন্দোবস্ত তলে তলে করে এসেছে। অতীশকে এ-জন্য সব সময় সতর্ক থাকতে হচ্ছে। সুপারভাইজারকে বলেছে, সব ডাইস মেরামত করান। কোটার টিন থেকে খরচ করুন। বাজারের টিন থেকে কাজ করবেন না। এক গেজের মাল দিন। আর এ সময়ই কুম্ভবাবু বলল, নবর হয়ে গেল।

    ফোন ছেড়ে দিয়ে বলল, নবর কি হয়ে গেল!

    —নব দেশ ভ্রমণে বের হয়ে গেল।

    —সে খুবই ভাল কথা।

    —টেপিটাকে বলেছে আমার বৌর কাছেই রেখে যাবে। খেতে দিলেই হবে। বউদির কাছে সুখীকে রাখুন না। সুখীর রান্নার হাত ভাল। সুরেন ত পাগলা কুকুর হয়ে গেছে। কাকে এখন কামড়ায় দেখুন। হামু কাকা বলেছে, বাতাসীর খোরাক পোশাক দেবে। অতীশ বলতে পারত, বাগড়া না দিলে নবটার দেশ ভ্রমণ হাতে লেখা থাকত না। সুরেনটাও হাঁফ ছেড়ে একটু বাঁচত। তারপরই মনে হল মানুষের মধ্যে কি যে থাকে! কুম্ভবাবু সত্যি সুরেনের ভাল করার জন্য বেশ চিন্তিত। তাঁর কথাবার্তা খুবই আন্তরিক, যেন দায়টা সুরেনের নয় তার নিজের। কুম্ভবাবুকে আজ বড় ভালমানুষ মনে হল তার। শেষে বলল, আপনার বউদিকে বলে দেখি।

    —বউদির চাকরি হলে ত লোক লাগবেই। রাজার চিঠি নিয়ে গেছেন যখন…

    অতীশ বলতে পারত, হবে না। সবারই নিজেদের লোকজন আছে। ওদের না হয়ে নির্মলার হবে সে আশা করে না। সংসারে বেশ টানাটানি। মাসের শেষটা আর কাটতে চায় না। লেখা থেকে টাকা পেলে চলে যায়, না হলে নির্মলার সংসার টানতে কষ্ট হয়। প্রাচুর্য থেকে এলে মানুষ সেই কষ্টটা আরও বেশি টের পায়। মাঝে মাঝে নির্মলার মুখ দেখলে সে সেটা ধরতে পারে। নিৰ্মলা শান্ত স্বভাবের মেয়ে, তবু গত মাসে বলেছিল, টুটুলের জুতো নেই। বাবাকে ক’টা কম টাকা পাঠাও। অতীশের মনে হয়েছিল, নির্মলা বাড়ির দিকটা বুঝতে চাইছে না। টাকা কম দিলে বাবা কষ্ট পাবেন। বাবা কষ্ট পেলে কোথায় যেন সে জোর হারিয়ে ফেলে। শুধু বলেছিল, লেখা থেকে কিছু টাকা আসবে। ও দিয়ে করে নিও।

    নির্মলা বলেছিল, কোন সঞ্চয় নেই। অসুখ-বিসুখ হলে কি করবে। কত রকমের দায় অদায় থাকে। তখনই কুম্ভ বলল, আপনি আমার মেয়ের নামটা আর দিলেন না। আপনারা আলাদা জাতের মানুষ, হাসির খুব ইচ্ছে আপনি নাম রাখেন।

    অতীশের মুখে কুট হাসি ফুটে উঠল। এই মানুষটাই তাকে সর্বক্ষণ বিড়ম্বনার মধ্যে দেখতে চাইছে। এই মানুষটাই তার সবচেয়ে উপকারী লোক। কারণ এই মানুষটাই তার নামে ব্যাঙ্কে একটা একাউণ্ট খুলে দিয়ে বলেছে, লেখা থেকে আপনার যা চেক আসে, ব্যাংকে জমা রাখুন। টাকার জন্য তাহলে মায়া বাড়বে। মায়া বাড়লে সংসারে মন বসবে। আপনি বড় অসংসারী লোক মশাই। তখন মনেই হয় না, কনটেনারের দাম বাড়িয়েছে বলে, সে পার্টিদের ঘরে ঘরে গিয়ে পরামর্শ দিয়ে এসেছে, রিজেক্‌ট বলে ফেরত পাঠিয়ে দাও। ধৰ্ম্মপুত্তুর কোথায় যায় দেখি। আগরয়াল কিছু মাল ফেরতও পাঠিয়েছে। সে বড় বিপদের মধ্যে আছে। ভয়ে ভয়ে আছে। আবার কে কখন ফোন করে বলবে, এই ছাপা? চলবে না। ঢাকনা লুজ চলবে না। খুঁত বের করলেই হল!

    এমনিতেই কনটেনারের দাম বাড়াবার জন্য অর্ডারপত্র কম আসছে। এতেও কুম্ভবাবুর হাত আছে কিনা কে জানে। ওভারটাইম কমে গেছে। ভিতরে ভিতরে শ্রমিক অসন্তোষ বাড়ছে। অতীশ অফিস ঘরে বসেই সেটা টের পায়। আসলে সারাদিনে যা কাজ দেয়, তিনঘণ্টা ওভারটাইম দিলে তারা প্রায় সেই কাজটা তুলে দেয়। উৎপাদন বাড়াতে না পারলে সে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না। মাইনে বাড়াবার দাবি করেছিল, সে বলেছে, সব হবে, আগে ঠিক হোক, কতটা তোমরা মাল বানাতে পার। ওরা বলেছে, যা হয় তাই। তার বেশি হবে না। কুম্ভ দুদিকেই তাল দিচ্ছে। সে যে কোনওভাবে গণ্ডগোল পাকাতে চায়। অতীশ বুঝতে পারে তার চারপাশে তখন আর্চি ঘোরাফেরা করে। সে সুদূরে দেখতে পায়, বনি হাঁটু মুড়ে বসে বাইবেল পড়ছে। প্রার্থনা করছে বনি, ঈশ্বরের কাছে নতজানু হয়ে বসে আছে। ছোটবাবুর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছে দু’হাত তুলে।

    চারপাশে শান্ত সমুদ্র। বাতাস পড়ে গেছে। এক ফোঁটা মেঘ নেই আকাশে। আগুনের মতো সমুদ্রের জলে তাত। বনি ছোটবাবুকে বলছে, এস পাশে বোসো। আমাদের এখন আর ঈশ্বর ছাড়া কেউ নেই। শুধু প্রাণ বলতে জলের নিচে কিছু পারপয়েজ মাছের ঝাঁক। এলবা দুদিন হল নিখোঁজ। সে আর রাতে ফিরে আসছে না। একটু থেমে কি ভেবে বনি আবার বলল, ছোটবাবু, কবরে আমার ছোট্ট একটু জায়গা দরকার।

    ছোটবাবু বুঝতে পারছিল না, বলল, বনি এ-সব আজেবাজে বকছ কেন। তখনই ছোটবাবু শুনতে পেল, হাই। সেই কণ্ঠস্বর ঠিক অবিকল সে মনে করতে পারছে। স্যালি হিগিনস, শেষ বারের মতো সব বলে যাচ্ছেন, আর্চিকে তুমি খুন করেছ, সে তোমাকে ক্ষমা করবে না। সুতরাং সমুদ্রের অতীব মায়ায় পড়ে গেলে মরীচিকা দেখতে পাবে। তেষ্টায় যখন বুক ফেটে যাবে সমুদ্রে স্নান করে নিতে পার। ঘামে যে নুন বের হয়ে যাবে, শরীর ঠাণ্ডা হলে তা লাঘব হবে। সামান্য লোনা জলও খেতে পার। ঘাম কম হবে তবু পিপাসা না গেলে বুঝতে পারবে চোখ মুখ বসে যাচ্ছে—গলা শক্ত হয়ে যাচ্ছে কাঠের মতো। তখন যদি পার কোন মাছ শিকার করে ইউ ক্যান সাক হার ব্লাড। মনে রাখবে যা হয়ে থাকে, মানুষ দিশেহারা হয়ে যায়। পাগল হয়ে যায়। পাশের লোকটির ওপর ঝাঁপিয়ে তার টুটি কামড়ে ধরে। তুমি বনিকে অনায়াসে ধরতে পার। ইউ ক্যান সাক হার ব্লাড। তাহলে তুমি আর মরীচিকা দেখতে পাবে না। প্রাণ ফিরে পাবে।

    ছোটবাবু বুঝল সমুদ্রের হাহাকার দেখে বনি পাগল হয়ে যাচ্ছে। সে চিৎকার করে উঠল, বনি প্লিজ মাথা খারাপ কর না। আমরা শিগগির গাছপালা মাটি দেখতে পাব।

    বনি হাসল। দু চোখ বেয়ে জল ঝরছে। ছোটবাবু দুটো হাত নিজের হাতে তুলে বাইবেল থেকে কিছু পাঠ করে শোনাল। ছোটবাবু বুঝতে পেরেছিল, ঈশ্বর এবং সমুদ্র সাক্ষী রেখে বনি তার সব অস্তিত্ব ওকে অর্পণ করেছে। তারও মনে হল প্রজ্বলিত কোনও অগ্নি সাক্ষী রেখে সে সেই দায়িত্ব যেন গ্রহণ করছে।

    আবার সেই পীড়ন, অতীশ বুঝতে পারছে, ছোটবাবু তাকে পীড়ন করছে। শরীরে আবার এসে পোকার মতো উড়ে বসেছে। মগজের ঘিলু থেকে অস্থি মজ্জায় সবর্ত্র প্রচণ্ড কামড়। মাথাটা তার কেমন করছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআওরঙ্গজেব : ব্যক্তি ও কল্পকথা – অড্রি ট্রুসকে
    Next Article মানুষের ঘরবাড়ি – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }