Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ঈশ্বরের বাগান – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

    লেখক এক পাতা গল্প1863 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ঈশ্বরের বাগান – ৩

    ।। তিন।।

    রাজবাড়িতে কে জাগে। ছেদিলাল জাগে। সবার আগে ছেদিলাল সদর দিয়ে ঢোকে। আর বলে, কোন জাগে? ছেদিলাল জাগে। তার সঙ্গে বিবি থাকে। লেড়কি থাকে। আর সে মরদ ছেদিলাল। কখনও কখনও সে বলে, হামি জমাদার ছেদিলাল আছে। হামি রাজবাড়ির নোকর আছে। বাবু দেখলেই সে সেলাম করে। সকাল সকাল, তখন আসমানটা আনধার থাকে, সে ঢুকে যায়। রাজবাড়ির কাজ বলে কথা। সে না গেলে রাজার ঘুম ভাঙবে না। প্রথমেই অন্দরে ঢুকে গলা হাঁকড়াবে। সাড়া না পেলে, হাঁকবে, ছেদিলাল হাজির। অন্দর মহলের দরজা খুলে গেলেই ঝটপট জল মারা, ঝাঁট দেওয়া। সে থাকে রাজার মহল্লায়, বিবি যায় রাণীমার মহলায়। অন্দরের কাজ সারতে বেলা বাড়ে। সূর্য উঠে আসে। ছেদিলালের এটা এক নম্বর কাজ। তার পল্টন এক নম্বর কাজ সেরে জড় হয় বড় একটি পাতাবাহার গাছের নীচে। বালতি ঝাঁটা রেখে গোল হয়ে বসে বাসি রুটি শুকনো, জল দিয়ে গুড় দিয়ে খায়। গোঁফে গুড় লেগে থাকে। কাঁচা-পাকা গোঁফে গুড় লেগে যায় বলে মাঝে মাঝে খুব ক্ষেপে যায়। তখন ছেদিলালকে কেউ কিছু বলে না। মর্জি হলে দু-নম্বর কাজে হাত দেবে, নয় গাছের নিচে শুয়ে ঘুম যাবে। বিবি বেটি বসে থাকে না, তারা কাজ করে চলে। প্রাইভেট অফিসারের বাড়ি, নধরবাবু বেণীবাবু রজনীবাবু, সব বাবুরা থাকে ওদিকে—সেটা দু-নম্বর কাজের পালা।

    সব শেষে বাবুর্চিপাড়া, সেটা সে বিকেলের দিকে করে। দুপুরের দিকে মেস বাড়ির নালা-নর্দমা সব সাফ করে। সূর্য না উঠতে ছেদিলালের কাজ আরম্ভ হয়, সূর্য হেলে গেলে সে পল্টন নিয়ে চলে যায় খালাসিবাগানের বস্তিতে। রাজার দেওয়া জায়গা, বিনা পয়সায় থাকতে পায়। বড় রাজার আমল থেকেই তার এই সুবিধাটুকু। সে এ-জন্য বাবুর্চিপাড়ার লোকদের একদম গ্রাহ্য করে না। মর ব্যাটারা নালা নর্দমায় পচে। শালে শূয়রকে বাচ্চে। কোনদিন সে যায়, কোনদিন যায় না।

    কিছু বললে বলবে, শালা হামি রাজার জমাদার আছে। খুশি মাফিক কাজ-কাম হবে।

    সুরেন বাজারে যাবার সময় দেখল ছেদি খুব মনোযোগ দিয়ে রুটি খাচ্ছে। পাশে তার ডবকা লেড়কি পাছা ভারি করে বসে আছে। রুপোর বিছে কোমরে। বৌটা ঠ্যাং ছড়িয়ে হাঁটুর ওপর কলাইর থালা নিয়ে বসে। যাকে যা লাগছে দিচ্ছে। পাশে বড় মগে চা। সুরেন বেশ নাগাল পেয়ে গেছে মত বলল, তুই কি আমাদের বেটা মারবি! গন্ধে টেকা যাচ্ছে না।

    ছেদি গ্রাহ্য করছে না। সে গোঁফে গুড় লেগে না যায়, এ-সব কারণে তার এখন অমনোযোগী হওয়া একেবারে বারণ।

    সুরেন বুঝতে পারল, ছেদিলাল নেশাখোর মাতাল। ওকে বলে লাভ নেই। সে তার বিবিকে বলল, এই কুমরি, একবার দেখে আয় কি হয়ে আছে।

    কুমরি বোঝে এই বাড়ির সবাই রাজা-মহারাজা। কাউকে চটাতে নেই। ওরা সকালে কাজ করে। দুপুর হলে চলে যায়। রাতে কর্পোরেশনের কাজ আছে। দু-চারটা এমনিও আছে ঠিকা কাজ। এটাই তাদের আসল কাজ। এখান থেকে তাড়ালে তাদের কোন মোকাম থাকবে না। সে বলল, সুরেনবাবু, আজ যাবে।

    সুরেন যেতে যেতে দেখল, মেসবাড়ির সামনের জানালায় কেউ উঁকি দিয়ে আছে। পাশে রাজার নতুন বাড়ি। বড় বড় জানলা—গাড়ি-বারান্দা। নতুন বাড়িতে রাজার মামাত ভাই কাবুলবাবু থাকে। জানলায় দাঁড়িয়ে দাঁত মাজে, সকাল পাঁচটা থেকে সাতটা পর্যন্ত। এই দু-ঘণ্টা একটা লোকের দাঁত মাজতে যায়। সে জানে কাবুলবাবু দাঁত মাজতে মাজতে মেসবাড়ির দিকে তাকিয়ে থাকে। ডান দিকের কোয়ার্টারে থাকে রাধিকাবাবু। তিনটে ঘর দখল করে আছে। বড় ছেলেকে বিয়ে দিয়ে এনে আরও একটা বাড়তি ঘর রাজার কাছ থেকে চেয়ে নিয়েছে। সেই ঘরটায় বৌ হাসিরাণী থাকে। কাবুলবাবুর নজর পড়েছে বৌটার ওপর। সে দেখেছে, মাঝে মাঝেই দু-চোখে মিলন হয়। এরা রাজার খোদ লোক—

    এই নিয়ে কোন কথা চলে না। ফলে গোপন আছে সব। সে যেতে যেতে হাই তুলল। তুড়ি দিল দু-আঙুলে।

    ফটাফট শব্দ কে করে! বেটা সুরেনের কাজ। কাবুলবাবু বলল, সুরেন তোমার আঙ্গুলে এত জোর আসে কি করে!

    সুরেন বুঝতে পারল কাজটা সে ভাল করে নি। সে গড় হল। তারপর কাঁচমাচু মুখে বলল, বড্ড হাই উঠছে।

    —রাতে ঘুম হয় না?

    সুরেন কি বলবে ভেবে পেল না। রাতে ঘুম না হলে দিনে পড়ে পড়ে ঘুমাবে। নির্ঘাত কাজে ফাঁকি। এই করে সব রসাতলে গেল। ঘুম হয়েছে বললেও ল্যাটা আছে। খুব কামাচ্ছ। শালা ফিকিরবাজ। এদিক-ওদিক পয়সা হচ্ছে। রাজার খাচ্ছ নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছ। আঙুলে জোর কেন? বাড়তি প্রোটিন। ওটা আসে কি করে! কে দেয়। এই লোকটার সঙ্গে বাড়ির আসল মনিবের লাইন। পুট করে লাগালেই হল। সুরেনটা তুড়ি মারতে শিখেছে। ভাল কথা নয়। গ্যারেজের ইনচার্জ এই বাবু। সব গাড়ির জিম্মাদার। কেউ কেউ গাড়িবাবু ডাকে। গাড়ি মেরামতের কাজ জানে বাবু। গাড়ি চালাতে জানে। ড্রাইভারদের ছুটি-ছাটায় সে বৌরাণীর গাড়ি চালায়। কুমারবাহাদুরের গাড়ি চালায়। কান ভাঙাতে কতক্ষণ। সে বলল, ঘুমের দোষ কি বাবু! মশা! মশা হয়েছে।

    মশার প্রসঙ্গ ওঠায় ছেদিলালের প্রসঙ্গ এসে গেল। এত ফিনাইল যায় কোথায় প্রশ্ন করল কাবুলবাবু?

    —সেই ত কথা। কে দেখে! যার যা খুশি চালিয়ে যাচ্ছে। মেরে দিচ্ছে সব। ছেদিলালের বিরুদ্ধে সুরেনের রাগটা এতক্ষণে ঝালা মেরে উঠল।—এই দেখুন না, দু-দিন হল আমাদের লাইন মাড়াচ্ছে‍ই না। বললে হম্বিতম্বি করে।

    কাবুলবাবু জানলা থেকে সরে গেল। এই হা-ভাতে লোকটার সঙ্গে কথা বলতে বয়ে গেছে! সুরেনকে দেখেই জানলার সুন্দর ডাগর চোখ দুটো টুপ করে ডুব মেরেছে। রাতে কুম্ভটা করে কি! বৌটার বড়ই বালিকা বয়স। কুম্ভটা শালা কুম্ভকর্ণ। এখনও ঘোমাচ্ছে। বৌটা পালিয়ে বসার ঘরে চলে এসেছে। এখান থেকে সে রাজার বাড়ি দেখতে পায়। রাজার সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক একজন মানুষ তাকে জানলায় দেখতে ভালবাসে। কাবুলবাবু এটা টের পেয়ে গেছে।

    সুরেন দেখল এখন দুটো জানলাই সুনসান। সে হাঁটতে থাকল। বড় মেয়েটা চার-পাঁচদিন হল বরের কাছ থেকে এখানে আবার চলে এসেছে। ফের ঠেঙিয়েছে। পিঠে দাগ, হাতে পায়ে দাগ। আর যাবে না বলেছে। রাতেই বায়না করছিল, চিংড়ি-মাছ দিয়ে কচুর শাক খাবে। এখন বাজারে সে চল্লিশ পয়সার চিংড়ির খদ্দের। গায়ে রাজবাড়ির ছাপ মারা কোট।

    বাজারটা রাজার। কোটটা দেখলে গণ্যিমান্য করে। বাজারে যাবার সময় কোটটা আগে চাই। আর চাই পান-সুপারি, খয়ের। গলায় রক্ত কফ ওঠে। পান খায় সুরেন। রক্ত কফ কেউ টের পায় না। চবর চবর করে খায় আর পিক ফেলে। গায়ে তাত হলে সে বেশ মজা পায়। কেমন নেশা নেশা লাগে। নেশাখোরের মত চোখ লাল থাকে। খকর খকর কাশে। শরীরটা নাচে, টাল খায়—এই করে চালিয়ে দিচ্ছে। শালা দুনিয়ার কেউ টেরও পাচ্ছে না তার একটা বড় ব্যারাম আছে। সুপারিনটেন্ডেন্ট মাঝে মাঝে জ্বালায়।—আরে ডাক্তার দেখা। খুক খুক কাশি মানুষের ভাল নয়।

    ডাক্তার দেখাই, আর তোমরা রক্ষা পেয়ে যাও। সেটি হচ্ছে না।

    মেসবাড়ি পার হলেই দোতলা বাড়ির নিচে চার-চারটা ঘর। প্রথম ঘরটায় থাকে, কলকাতা অফিসের অ্যাকাউট্যান্টবাবু। একটা ঘর। আর বারান্দা। বারান্দায় মুলি বাঁশ দিয়ে ঘেরা। তক্তপোশ আছে একটা। ভোরে বাবুর মেয়েটা এখানে গরমে চিত হয়ে পড়ে থাকে। খুব ভোরে সে একবার যেতে গিয়ে ভারি সরমে পড়ে গিয়েছিল। শাড়ি উঠে আছে। সে দেখি দেখি করে সবটা দেখেও ফেলেছিল। সবাই ঘুমে অচেতন। এত বড় মেয়েকে কেন যে বারান্দায় শুতে দেওয়া। শহরে থাকলে মানুষের আক্কেল থাকে না। পরের ঘরটায় আছেন কেষ্টবাবু। অফিসের কালেকটরবাবু। ভাড়া আদায়, রাজার মামলা- মোকদ্দমার তদারকি করা, আদালত হাজিরা দেওয়া এ-সব কাজে মানুষটার দু-চার পয়সা উপরি তাই সকালে কেমন মৌজ করে হারমোনিয়াম নিয়ে বসে গেছে। গলা সাধছে। গলা সাধা শেষ হলেই গান ধরবে—আয়লো অলি কুসুম কলি। কলি পর্যন্ত আসতে সাতটা বাজবে। তারপর চুলে কলপ, গোঁফে কলপ, মসৃণ মুখ গাল নিয়ে আদ্দির পাঞ্জাবি, আর ধুতি পরে অফিসে হাজিরা। তারপর সারা . দিন কোথায় যে থাকে। রাজার টাকা বারো ভূতে লুটে খাচ্ছে খাক—তার সে-জন্যে হিংসে নেই। তাই বলে বেকার ছেলেটা ঘরে বসে তার দাড়ি গোঁফ উপড়াবে! কেউ দেখার লোক নেই! রাজার বাড়িতে সবাই গোঁফ রাখে—কুমারবাহাদুরের গোঁফ আগে বড়ই সরু ছিল, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মোটা হয়ে উঠেছে। রাজা খুশি হবেন ভেবে সব ব্যাটা ভয়ে গোঁফও রাখতে শুরু করেছে। কাজের উন্নতি চার কুড়ি দশ টাকায় সেই যে থেমে আছে, তার থেকে আর তার মুক্তি মেলে নি।

    জানলা থেকে কেষ্টবাবু সুরেনকে দেখতে পেল। গুটি-সুটি যাচ্ছে। এত সকালে যাচ্ছে যখন, খবরটা দিয়ে যেতে পারবে। সে গলা বাড়িয়ে বলল, সুরেন নাকি রে!

    —আজ্ঞে হ্যাঁ।

    —মুক্তাকে বলে যাস, আজ ওর ওখানে খাব না।

    মুক্তাকে সুরেন চেনে। বাজার যেতেই সুনীল ডাক্তারের ডিসপেন্সারি—তার লাগোয়া গলিতে মুক্তা থাকে। বিধবা মানুষ। সংসারে একা। আগে বাড়ি বাড়ি কাজ করত। এখন নিজেই হোটেল খুলেছে টাকা জমিয়ে, কেষ্টবাবু মেসের সঙ্গে ঝগড়া করে মুক্তার কাছে চলে গেছে। দুপুরে রাতে মুক্তার কাছে মিল নেয়। যেদিন খাবে না, সকালে বলে দিতে হয়। মেসে এই নিয়ে একদিন তুলকালাম। কেষ্টবাবু দেশ থেকে এসে দেখল, বিল পড়ে আছে। মেসে না খেলেও বিল দিতে হয়। দু-দিন খায় নি, বিল ঠিক এক মাসের। কেষ্টবাবু এই নিয়ে দরবার করেছিল। কিন্তু মেসের ম্যানেজার বলেছে, ওভাবে হয় না মশাই—কড়াক্রান্তির হিসাব রাখার সময় কার আছে! সাত দিন দশ দিন না থাকলে এক কথা। সেই থেকে কেষ্টবাবু খাওয়ার পাট মেসবাড়ির চুকিয়ে মুক্তার কাছে চলে গেছে। মানুষটার আবার যৎকিঞ্চিৎ মেয়েছেলের দোষ আছে। সম্বল এই গান। এবং কেউ কেউ গান শিখতে আসে। মেয়েদের ছেলেদের নিয়ে মাঝে মাঝে বেশ জলসা বসায়—ছলচাতুরি জানে লোকটা। আসলে লোকাটা স্ফূর্তিফার্তা করার কৌশল জানে। লোকটাকে দেখলেই সুরেনের মনে হয় খেপলা জাল নিয়ে পুকুরের পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে কেষ্ট চক্কবর্তি। পরনে গামছা। কুচ্ছিত লোমশ শরীর। মুখে মাছ ধরার ছলাকলা। লোকটাকে সে একদম সহ্য করতে পারে না। ধম্ম বলে মানুষের আর কিছু নেই! সোমত্ত মেয়ে আছে তিন-তিনটা। বৌ-এর দাঁত পড়ে গেছে। এই শহর থেকেই কেষ্টবাবু বৌ-এর জন্য দাঁত বাঁধিয়ে নিয়ে গেছে। ছেলেরা ছোট। স্কুল-কলেজে পড়ে। তোর এ-সব আর শোভা পায় কেষ্ট!

    এইভাবে সকাল থেকেই সুরেনের মানুষের ওপর রাগ বাড়ে। বেলা যত বাড়ে রাগটা বাড়ে, যত পড়ে আসে রাগটা কমে আসে। বিকেলে আনাজের বাজারটা সস্তা। কচুর শাক কচুর লতা থেকে থানকুনি পাতা সবই তখন তার জন্য বাজারে অপেক্ষা করে থাকে। মাথা গরম রাখলে দরদাম করা যায় না। তা ছাড়া মাথা গরম রাখলে সংসারে কি-ই বা হয়! যত মাথা ঠাণ্ডা তত মানুষের উপকার আসলে তার এটাই নেই। সে যখন-তখন যা না তাই বলে বসে। এই যেমন সে এখন কেষ্ট চক্কবর্তিকে গাল দিতে দিতে যাচ্ছে। বোঝ বেটা আমি কত সোজা সাপটা লোক। রাজাগজা নস্যি। তুই ত কেষ্ট চক্কত্তি।

    তখনই আবার জানলায় হাঁক—ওরে সুরেন, যাচ্ছিস যখন, পান আনবি।

    সুরেন অনেকটা দূরে চলে গেছিল, প্রায় সদর দেউড়িতে। সেখান থেকে কেষ্ট চক্কত্তির গলা পেয়ে সে ছুটে আসতে লাগল—আজ্ঞে যাই বাবু। তারপর মনে মনে বলল, ও-বাবু ভেব না, তোমার হাঁক, পেয়ে ছুটছি। সুরেন তেমন লোকই নয়। তার ইজ্জত আছে। যাচ্ছি গরজে। পান না থাকলে পানটা সুপুরিটা তোমার কাছে হাত পাতলে পাই। তখন তোমাকে বড়ই গুণী মানুষ ভাবি হে। কেষ্ট চক্কত্তির গলা! ফান্দে পড়িয়া বগায় কান্দে, গাও ত এমন একখানা গান—বলি গানই বটে। গুণীজনকে ধন্যি ধন্যি করতে হয়। সুরেন জানলায় এসে দাঁড়ালে কেষ্টবাবু দশটা পয়সা দিয়ে বলল, একটা গোটা সুপুরি আনবি। তারপর সতর্ক গলায় বলল, নতুন বাবুকে দেখেছিস!

    —আজ্ঞে হ্যাঁ।

    —কেমন, কোথায় উঠেছে?

    —আপনাদের ওপরে।

    —কাল রাত হয়ে গেল। দেখা-সাক্ষাৎ হয় নি। আজ সবার আগে যাব। কোন ঘরে আছে?

    সে বলল, ওপরেই আছে।

    —ফুলি বলল, সাধু-সম্ভের মত মুখ নাকি!

    —তা ভাল মানুষই মনে হল। বড় বড় চোখ। লম্বা গৌরবর্ণ। দশাসই মানুষ।

    —পাগলাবাবুর মত।

    —তাই বলতে পারেন।

    —পাগল না হয়ে যায়! এ-বাড়িতে সাধুসজ্জন এলে ত শুনেছি পাগল হয়ে যায়।

    কেষ্ট চক্কত্তির এই এক কু-কথা। মগজের মধ্যে যত কু-ভাবনা। ঠাকুরের নাম নে। গলা সাধছিলি সাধ। কে পাগল হবে দুনিয়ায় তার তুই কি জানিস! সে বলল, একটা গোটা সুপারী?

    —ঐ একটাই। কোর্ট থেকে ফিরে আসার সময় আনব। ভাল ভাল গোটা গোটা। বড়বাজারে রাখুর দোকানে ভাল সুপারী রাখে। কাটলে সাদা। খেতে মিষ্টি মিষ্টি। কস্ একদম নেই। গলা সাধা শেষ। স্টোভে চা করবেন বোধ হয়। গলাটা কাঠ কাঠ ঠেকলে সুরেন বলল, বাবু চা বানাবেন বুঝি? কেষ্টবাবু বুঝতে পেরেই বলল, না। চা না। কাপটাপগুলি ধুয়ে রাখছি। চিনি নেই। আনতে হবে।

    —দিন না এনে দিচ্ছি।

    —না এখন থাক। তুই যা।

    সে মনে মনে বলল, বাবু মিছে কথা বল না। ভগবান রাগ করবে। তোমার ঘিলু পরিষ্কার বাবু। তুমি নয় ছয় করতে পার। তুমি সুধাসাগর। তোমার এ-সকালে মিছে কথা বললে মুখ খসে পড়বে। সুরেন অগত্যা হাঁটা দিল। সকালবেলায় কোত্থেকে যে শয়ে শয়ে কাক এ-বাড়িটাতে উড়ে আসে! আসলে বুঝি পচা গন্ধ পায়। পচা গন্ধ মানুষের না টাকার। কাল থেকে দুর্গন্ধে ঘরে টেকা যাচ্ছে না। প্রথমে ভেবেছিল, কোন খুপড়িতে ইঁদুর মরে পচে আছে কিন্তু কোন ঘরেই কিছু পাওয়া যায়নি। এই গন্ধের মধ্যেই রাতে পুঁই চচ্চড়ি আর শুকনো রুটি খেয়েছে। নালা-নর্দমা সাফ হয় না, আজ কেন, ছেদিলাল কবে রোজ নালা-নর্দমা সাফ করে! কিন্তু গন্ধটা এখনও নাকে লেগে আছে কেন? আঁস্তাকুড় থেকে গন্ধটা উঠছে। ছাই, তরকারির খোসা, মাছের আঁশ, পচা মাছের ধোওয়া জলের একটা বোটকা গন্ধ থাকে—ডাঁই হয়ে আছে।—দু-দিন না নিলেই ডাঁই হয়ে যায়—তার ভেতরে মরা কুকুর বেড়াল কেউ সেধিয়ে রাখেনি ত। যদি ছেদিলালের সঙ্গে সক্কাল বেলায় ভাল করে কথা কয়ে হাতে পায়ে ধরে, তারপরই বামুনের আভিজাত্য সুরেনের মাথায় চাগিয়ে উঠল। তারা হল গে নবীনগড়ের গাঙ্গুলী বংশ। সে ছোট কাজ করে বলে বাপ-ঠাকুর্দার ইজ্জত নিতে পারে না।

    কাকগুলি মাথার ওপর উড়ছে। বাবুপাড়ার দরজা জানলা খুলছে। বাবুদের একটা ছোট ছেলে ওর সামনেই নর্দমায় পেচ্ছাপ করতে থাকল। সুরেন বলল নুনুবাবু, চিনুদিদি ভাল আছে?

    নুনু পেচ্ছাপ করতে করতেই মুখ তুলে তাকাল। সুরেন দাদা যেন তাকে কিছু বলছে। সে বলল, দিদি সকালে উঠে বসেছে।

    তারপরই সুরেন জিভে কামড় দিয়ে ফেলল। কেউ তো জানে না নধরবাবুর মেয়ের অসুখ। শুয়ে থাকে। ঘর থেকে বের হয় না। বড়ই গোপন—এই বাড়িটাতে পুষ্যির শেষ নেই। যত যাও—ঘর- বাড়ি। কে কোথায় কিভাবে পড়ে আছে, পড়ে থাকে কারও জানার কথা নয়।

    বাবুদের হেঁশেলের খবর না জানাই ভাল—কারণ সে বোঝে, দফাদারের আবার গোঁফ। তার চেয়ে এখন জোরে হাঁটা ভাল। এ সময়টা রাস্তায় গাড়ি ঘোড়া থাকে না। সে সোজা ট্রাম লাইনের ওপর দিয়ে হাঁটতে পারবে। সকালে ট্রামের পাতে কেমন ঠাণ্ডা ভাব। খালি পায়ে সে তখন বড়ই সুড়সুড়ি বোধ করে। এই সুড়-সুড়িটা তার আর কোথাও লাগে না। স্ত্রী সহবাসেও না। সুতরাং সে খুবই পা চালিয়ে হাঁটবে ভাবল। কিন্তু কিন্তু —কই, জানালায় কই!

    ওপরের জানলা থেকে তখনই কে ডাকল, সুরেনদা বাজারে যাচ্ছ। সঙ্গে সঙ্গে সুরেনের মুখে হাসি খেলে গেল। ঐ ত দাঁড়িয়ে। সে ভাবল চোখে কম দেখছে না ত! কে মতি বোন বলছ! তা যাচ্ছি।

    —সুখি নাকি চলে এসেছে!

    —কি করবে বোন। স্বামীটা বড় জ্বালায়। খেতে দেয় না। পেটের ছাঁচ পাল্টাবে কি করে কও। কেবল মেয়ে হয়, চার-চারটা মেয়ে তাই বলে লাথি ঝাঁটা। এরাই ত সংসারে লক্ষ্মী।

    —মেয়েগুলো সঙ্গে এসেছে।

    —তা আনবে কেন? ছাঁচে ঢালবে তুমি খাওয়াব আমি। বলে দিয়েছি, আসবি ত একা আসবি। আমার ছাঁচ আমি ফেলতে পারি না। কি, ঠিক কি না!

    কথাগুলো জোরে জোরে বলছিল সুরেনদা। সকালবেলায় কত সহজে খারাপ কথা বলতে পারে। মতির কান গরম হয়ে গেছিল। কিন্তু মার ঐ স্বভাব-তক্কে তক্কে থাকা—সুরেনটা দেখিস বাজারে যায় কিনা। সে রাজবাড়ির ছাপ দেখিয়ে ভাল জিনিস কিনতে পারে। দু’পয়সা সস্তাও হয়। কিছু মারার স্বভাব আছে। তা মেরেও বেশ তাজা সবজি টবজি চিনে আনতে পারে। মতি বাইরে বের না হলে কেবল খায় আর ঘুমায়। ছোট দুটো স্কুলে-কলেজে পড়ে। মতিরই সব চালাতে হয়। কাল বের হয় নি বলে, সে ঘুম থেকে সকাল সকাল উঠেছিল। শরীরটা ভাল ছিল না। শরীর ভাল না থাকলে বেহুঁশ হয়ে ঘরেই পড়ে থাকে। তার সকালে ওঠার অভ্যাস। আজও উঠে তার মনে হয়েছিল, মাথাটা ঝিমঝিম করছে। সে একটা চেয়ার নিয়ে জানলায় বসেছিল—মা এসে বলে গেছে, দেখিস ত সুরেনটা বাজারে যায় কিনা।

    তখন সুরেন ভাবল, সিকিটা হয়ে যাবে। সে খুবই দ্রুত পায়ে হেঁটে এল, সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠতে থাকল। নিচের এখানটায় প্রায় বারো ঘর এক উঠোনোর মত। পাখির খাঁচার মত পুরানো স্যাঁতস্যাঁতে বাড়ির সব দরজা। রং ওঠা। মরচে পড়া জানলার সিক। নিচে একদম আলো বাতাস নেই। দোতলায় উঠলে, আলো বাতাস আসে। পারতপক্ষে সে এই বারোয়ারি বাড়িটাতে ঢোকে না। কে না থাকে। ট্রামের কন্ডাকটার থেকে, বড়বাজারের দালাল। মতি বোনেদের সে অন্য সময় হলে হাফ-গেরস্থ ভাবত। কিন্তু এখন মনে হল, মতিবোন দেখতে কি সুন্দর? চুল লম্বা। লম্বা থুতনি। চোখের নিচে কাজল লেপ্টে থাকে। ছোট একটা তিল আছে ঠোঁটের নিচে। ডুরে শাড়ি পরলে লক্ষ্মীমতী লাগে। মতি দরজায় দাঁড়িয়েই ছিল। একটা সাদা থানের ব্যাগ, তিন টাকা হাতে। এই তিন টাকায় বাজার। মাছ, আনাজপাতি, শাক, একটা ডিম। ডিমটা মতির জন্য আসে। শরীরে বড় ধকল তার। ডিম না খেলে জোর পাবে কি করে। শরীরের লাবণ্য থাকবে কি করে! একা ডিম খাওয়া কোন দোষের না। সুরেন বাজারে যাওয়ার সময়, এখানটায় এলেই খুব আস্তে হাঁটে। যেন জানলা থেকে কেউ তাকে দেখতে পায়। সিকিটা আধুলিটা থাকে বলে ইজ্জতের মাথা খেয়ে নিজে বলবে না, দিন বাজারে যখন যাচ্ছি, আপনাদেরটাও দিন। তালেই ধরে ফেলবে। ভারি গরজ। কেন গরজ, কিসের গরজ মানুষ টের পায় সব।

    মতি বলল, আজ ডিম এনো না। খাব না। পেটটা গন্ডগোল করছে।

    —তোমাকে বোন এত বলি, খাও দাও। শরীর ঠিক রাখ। তবে বেশি খেলে পেট ঠিক থাকে না। গতরে লড়ালড়িওতো কম যায় না। কোথায় কোথায় চলে যাও।

    মতি বলল, কোথায় আর যাই!। বাড়িতেই ত পড়ে থাকি।

    সুরেন বুঝতে পারল, সক্কালবেলায় তার সত্যি কথা বলা উচিত হয় নি। পাবলিক নিয়ে কারবার- তার ওপর মেয়েমানুষ, রাজার বাড়িতে ভাড়া থাকে ….. সব দিক বিবেচনা করে চলতে হয়। সে আহাম্মকের মতো সত্যি কথা বলে ফ্যাসাদে পড়ে গেছিল আর কি। সে বলল, আমি জানি না তুমি কোথায় যাও! দশজন কু-কথা বললেই আমি শুনব! এ-বাড়িতে তোমার মতো কটা সতী লক্ষ্মী মেয়ে আছে!

    মতি বলল, ও কথা থাক সুরেনদা।

    —না আমি বলবই। ভয় পাই ভাবছ। বাড়িতে থাকি, আমরা বুঝি কিছু টের পাই না।

    সুরেনের নিজেরও এক গণ্ডা মেয়ে আছে। কেবল বড়টার বিয়ে হয়েছে। বাকি তিনটে দেখতে মন্দ না। সে জন্য নিজের ছাঁচ নিয়ে বড়াই আছে তার। তবে মেয়েগুলান বড়ই কাকলাশ। গায়ে মাংস লাগলেই অন্য চেহারা। কাকলাশ বলে মানুষের নজর কাড়ে না। সুরেন নাকে তেল দিয়ে ঘুমাতে পারে। সে যার তার নামে অকথা কু-কথা বলে ফেলতেও পারে। মেয়েরা বড় হচ্ছে তার সে নিয়ে ভয় নেই।

    তারপর সুরেন হাঁটে। বেলা হয়ে গেল আজ। ট্রাম বাস বেশ চলছে। রোদ উঠে গেছে। আসলে সে আজ ঘুম থেকেই দেরি করে উঠেছে। যখন সে ছেদিলালের সঙ্গে কথা বলছিল, তখনই বোঝা উচিত ছিল, বেলা হয়ে গেছে। মেঘলা আকাশ, কখনও রোদ। আযাঢ় মাস হলে কি হয়, কখনও শরতের মত আকাশ। সে ঘুম থেকে উঠে মেঘলা আকাশ দেখে টেরই পায় নি, বেলা হয়েছে। সে ত সকাল সকাল ওঠে। তবে রাতে খুব কাশছিল। দুপুর রাতেও। শেষ রাতের দিকে তার ঘুমটা এসেছিল। আগ রাতেও সে ঘুমাতে পারে। কিন্তু কুম্ভবাবু ডেকে নিয়ে গেছিল। তাকে বলেছিল, সুরেনদা, বাতাসী কাল থেকে তোমার বৌমার সঙ্গে থাকবে।

    —আপনি কোথায় থাকবেন?

    —আমার অফিস আছে না। বাবার অফিস, ভাইরা কলেজ যায়, আড্ডা মারে, বাড়ি থাকে না। তোমাদের বৌমা বাসায় একা থাকতে বড়ই ভয় পায়। জামাইবাবু ছিল, সেও বাবার ওপর রাগ করে চলে গেল। সারাদিন থাকবে। অফিস থেকে ফিরে এলে বাতাসী তোমার বাসায় ফিরে যাবে।

    —বৌদি বুঝি বলেছে ভয় পায়!

    —বৌদি না বললে বুঝব কি করে।

    ল্যাটা। ধর্মের বৌ নিয়েও শাস্তি নেই। কাগে বগে ঠোকরায়। তা বাবু সোমত্ত বয়সে এটা সবারই থাকে। কম বেশি থাকে। তখন ভরা যৌবন উথাল-পাথাল করে—টাল সামলাতে পারে না বাবু—এধার-ওধার নজর যায়। কিন্তু সে তো সুরেন। হাবা-গোবা না। লেখাপড়া জানে, ক্লাস এইট অব্দি বিদ্যা তার। অত সহজে কাবু হবে কেন। সে বলেছিল, ওর মাকে বলে দেখি। আপনার বৌদির তো শরীরটা ভাল না জানেন। বাতাসী এটা-ওটা এগিয়ে দেয়। রুটিটা করে দেয়। জলটা এনে দেয়। বাটনাটা বেটে দেয়। ঘরটা মুছে দেয়।

    —টেবি কি করে?

    সুরেন বুঝল আতান্তরে পড়েছে।

    —টেবি বড় সোহাগী বাবু। মাকে ছেড়ে থাকতে পারে না।

    কিন্তু ছোটটা নিতান্তই ছোট। ইচ্ছে হলে ইজের পরে ইচ্ছে হলে পরে না। পরে না বললেই হয়। পরতে চাইলেই দেবে কোত্থেকে। সুরেন অকপটে বলল, মানারে দিলে চলে না কুম্ভদা? কন্যে আমার চতুর হয়েছে।

    কুম্ভ বুজল শালা ত্যাঁদড়। কিন্তু সে খুব সরল মানুষের মতো বলেছিল, মনা তো ভাল করে কথা বলতেই পারে না।

    —তালে বলেন কথা বলার লোক চান। বৌদির একা খুব কষ্ট। আপনি চলে গেলে বৌদিরে টেবি নিয়ে যাবে এসে।

    কুম্ভ বুঝতে পারছিল, পয়সা চায়। এখন আর কিছুই পয়সা ছাড়া হবার উপায় নেই। না হলে কেমন হাবা-গোবার মত বলে দিল সুরেনদা, নিয়ে যাবে। ইজ্জত বোঝে। জানে, ইজ্জতের ব্যাপার। বৌকে পাঠালে বাপ ঘর থেকে বের করে দেবে। তাছাড়া সেও এই বাড়িতে সম্প্রতি রাজার নজর কেড়ে নিতে পেরেছে। তারই প্ররোচনা, প্ররোচনা কথাটাই কুম্ভ ভেবেছিল—রাজা খুঁজে পেতে ঠিক তার মনমত হাবা-গোবা লোক ধরে এনেছে। সেই রাজাকে বলেছিল কুমার বাহাদুর এটা আপনার গোল্ড মাইন। চুরি করে ফাঁক করে দিচ্ছে। সেই থেকে রাজার নজর তার ওপর। পাঁচ-সাত বার কারখানায় রাজা ঘুরেও এসেছেন। তারপরই বুড়ো ম্যানেজারকে ছাড়পত্র দিয়ে বলেছেন, এখন তুই দ্যাখ। লোকের খোঁজে আছি। রাজার সেই মনের মতো লোকটা নাকি রাজবাড়িতে হাজির। সে যায় নি। বাপকে পাঠিয়েছে। বাপকে দিয়েই বাড়িতে খেতে বলেছে। প্রথম থেকেই কব্জা করা—নাহলে লাগানি-ভাঙানি আগে থেকেই হতে থাকলে হুঁশিয়ার হয়ে যাবে।

    কুম্ভ সুরেনের দিকে তাকিয়েছিল। কথা বলছিল না।

    —তালে কুম্ভদা ঐ কথা থাকল। সুরেন হাঁটা দিচ্ছিল।

    —আরে না না। শোন সুরেনদা। তুমি বাতাসীকে সকালেই পাঠিয়ে দিও। মাসে ও কিছু হাত খরচ পাবে। কাল থেকে শিট মেটালের নতুন ম্যানেজার এখানে খাবে। একা তোমার বৌদি পেরে উঠবে না।

    সুরেন সহসা হাতে আকাশ পাবার মতো বলেছিল, তালে নবর চাকরি হবে বাবু? এতদিন ত বলেছেন, ম্যানেজার বদমাইস আছে। আপনার লোক বলেই নিতে চায় না। এবারে নতুন ম্যানেজারকে বলে কয়ে নবটার হিল্লে করেন। পায়ে পড়ছি কুম্ভদা। শরীর আর টানছে না। বাতাসী সক্কালেই চলে যাবে।

    কুম্ভ বুঝেছিল ছকের ঘুঁটি তার দিকে। সে হাই তুলতে তুলতে বলেছিল, হয়ে যাবে। সে বলেছিল, সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি যখন আছি, তখন তোমার চিন্তা নেই সুরেনদা। এমন একটা কথা পেয়েই সুরেন নানা সুখের কথা বলছিল। ভাবতে ভাবতে নিজেই একটা রাজার বাড়ি বানিয়ে ফেলছিল। আজ রাতে সে জন্য ঘুম আসে নি। তাড়াতাড়ি, বড়ই তাড়াতাড়ি করা দরকার। আটটা বাজার আগে রাজার অফিসে হাজিরা। সে পা চালিয়ে বাজার থেকে প্রায় দৌড়ে ছুটে আসতে থাকল। বিকেলে নিশ্চিন্তে লম্বা টানা একটা ঘুম। নতুন ম্যানেজার—নবর চাকরি—ঘুম। আর বিকেলেই ছেদিলাল সুরেনদের বস্তির নালা নর্দমা সাফ করতে গিয়ে গোলমাল বাধিয়ে বসল। ঘুম দিল চটকে।—ই কিয়া বাবু! এ-কিয়া চীজ। মানুষ ভি নেহি। কুত্তাভি নেই। দেখিয়ে। বলে সে আঁস্তকুড় থেকে কি একটা মরা ছোট কুকুর বেড়ালের বাচ্চা টেনে বের করল। ফুলে ফেঁপে ঢাক। সে দোলাচ্ছে। লোকজন ছুটে আসছে। রাজবাড়ির লোকজন যে যেখানে ছিল ছুটে আসছে। একটা মানুষের লাশ। মানুষটা জন্মাবার সঙ্গেই কারা হত্যা করে এই আবর্জনার মধ্যে পুঁতে রেখে গেছে। তার খুপরির সামনে এই হত্যাকান্ড। ক্রোধে সুরেনের মাথা গরম হয়ে গেল। সে খুক খুক করে কাশছে। নিজেকে যজিয়েছে, এবার সবাইকে যজাবে। কেউ শালা রক্ষা পাবে না। দুটো খুপরি পার হলে আর একটা খুপরি। সেখানে তার বৌ মেয়েরা থাকে। নব থাকে। সে সেখানে দূর থেকে আনাজপাতি ছুঁড়ে দেয়। ভেতরে যায় না। সংসারে শুধু এই খুপরিটার জন্য তার এখনও কিছুটা মায়া আছে।

    লাশটা দেখছিল আর থুতু ফেলছিল সুরেন। সবার গায়ে থুতু ছিটাচ্ছিল অলক্ষ্যে। চোখ দুটো দুর্বাসার মতো জ্বলছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআওরঙ্গজেব : ব্যক্তি ও কল্পকথা – অড্রি ট্রুসকে
    Next Article মানুষের ঘরবাড়ি – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    আশাপূর্ণা দেবী

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আমাদের মহাভারত – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    March 20, 2026
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }