Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ঈশ্বরের বাগান – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

    লেখক এক পাতা গল্প1863 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ঈশ্বরের বাগান – ১৬

    ।। ষোল।।

    জানালা থেকে রোদ নেমে গেলেই কাবুলের চঞ্চলতা বাড়ে। বড় সুসময় বয়ে যাচ্ছে। বাবুর্চিপাড়া, বাবুপাড়া, কেরানি পাড়ার ঘরগুলিতে এখন পুরুষদের সংখ্যা কম। কাজ কম্মের ধান্দায় দশটার আগেই পাড়া খালি করে তারা বের হয়ে যায়। তখন কাবুল উঁকি দিয়ে দেখে। গ্যারেজের চাবি নিয়ে আঙুলে রিঙ ঘোরায়। আর একটু সময়—কারণ হাসিরাণীর বাড়িতে এখনও কিছুটা স্নান আহারের তাড়া আছে। কুম্ভর ভাই দুলাল, শম্ভু, কলেজে গেলেই বাড়িটা ফাঁকা। সুরেনের মেয়েটাকে কুম্ভ পাহারায় রেখে যায়। ওতে তার সুবিধাই হয়েছে। ফাইফরমাস দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দিলেই সব সুনসান। অবশ্য ইদানীং হাসিরাণীর সতীপনা বেড়েছে। মেয়েটা হয়ে যাওয়ার পরেই আর গায়ে ফায়ে বেশী হাত দিতে দেয় না। তবু কি যে হয়, হাসিরাণীর গোলগাল টোবলা মুখ, চোখের সামনে ভাসে! মাথা ঝিম মেরে থাকে। কেবল জানলায় চোখ রেখে বসে থাকে। এই রাধিকাবাবু গেল, এই কুম্ভ গেল। শম্ভু দরজায় এসে দাঁড়িয়েছে। সেও বের হয়ে যাচ্ছে। বাকি থাকল এক। কাবুল বেশ অস্থির হয়ে পড়েছে। ঘরে পায়চারি করছে। কান চোখ মুখ কেমন গরম, জ্বর আসার মতো। সে এক দণ্ড বসে থাকতে পারছে না। হাসিরাণী বোঝে না কত সে করে। কুম্ভর ছ্যাঁচড়া স্বভাব। বউরানী সব জানে, টের পায়। তার তখন এক কথা, ছ্যাঁচড়া লোকটা তোমাদের আছে বলেই সিট মেটাল টিকে আছে। সব অভিযোগ সব সময় খণ্ডন করে দেয়। এবং কুম্ভ যদি কখনও এসে দেখতে পায়, রাধিকাবাবু যদি দেখতে পায় কাবুল বারান্দায় বসে হাসিরাণীর সঙ্গে গল্প করছে—সহজেই হজম করে নেয়।

    এক গেরো। কাবুল তখন বেশ সরল মানুষের মতো হেসে দেয়। আরে কুম্ভ যে। তোমার শালা বড় খারাপ স্বভাব। বউকে ছেড়ে থাকতে পার না। চা খাচ্ছি। এ বাড়ির চা না খেলে দিনটাই খারাপ যায়। এই হাসি এত কিপ্টে কেন বাবা! এক কাপ চাও দেবে না! অথবা নানা রকমের কথা, ইষ্টবেঙ্গল মোহনবাগানের কথা। সিনেমার নায়ক-নায়িকার কথা। কোথাও যদি দুর্ঘটনা ঘটে থাকে তার কথা। কেবল কথা।

    রাধিকাবাবু জানে, কুম্ভর চাকরি কাবুল করে দিয়েছে। রাধিকাবাবু জানে তিনি যে বিশ্বাসী মানুষ, এটা কাবুলই বলে বলে এখনও বউরাণীর কাছে ঠিক রেখেছে। অর্থাৎ এ-বাড়িতে কি খাওয়া হয়, কি বৈভব আছে, তা বউরাণীর কানে যায় না কাবুল হাতে আছে বলেই। যা মাইনে তাতে পেট চালানো দায়। অথচ রাধিকাবাবু এখনও দেশের বাড়িতে দুর্গা পুজো করেন। মেয়েদের মাসোহারা পাঠান। ছেলেদের সবার নামে ব্যাংকে একাউণ্ট করে দিয়েছেন। একটা আমবাগান, নারকেল বাগান, দশ বিঘের ওপর নীলগঞ্জের কুঠিবাড়ি বেনামে কিনে নিয়েছেন রাজার কাছ থেকে। এত সব করছেন, অথচ বিশ্বাসী হতে আটকাচ্ছে না। মূলে আছে কাবুল। হাত ছাড়া হলেই সব দাপট যাবে।

    কাবুল না থাকলে কুম্ভকে ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়াত হত। চাকরি করে দেবার পরই কুম্ভ এসে বাপকে একদিন বলল, সব চুরি হয়ে যাচ্ছে বাবা। স্ক্র্যাপ বিক্রি করছে, টাকা জমা পড়ছে না। বুড়ো ম্যানেজার মেরে দিচ্ছে।

    রাধিকাবাবু বলেছিলেন, তার আমি কি করব?

    —রাজার কানে কথাটা তোলেন!

    —শুনবেন কেন? আমার ত ওতে কথা বলার এক্তিয়ার নেই। আসলে নিজের পাছায় ঐ যে কি লেগে থাকে না, তাই না হয়েছে রাধিকাবাবুর! সব সময় সতর্ক থাকতে হয়। তার ওপর পুত্রের ঝামেলা তিনি কাঁধে নিতে রাজি না। যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ। দোষের কিছু না।

    সুতরাং কাবুলকেই ধরতে হয়। কুম্ভর কাবুলই ভরসা। এক সঙ্গে বড় হয়েছে। এক সঙ্গে পড়েছে, ফুটবল খেলেছে। বেশ্যালয়ে গেছে কাবুলের টাকায়। এস্টেট থেকে মাসহারা পায় কাবুল। সে অনেক টাকা। যত ফূর্তি-ফার্তা কাবুলই তাকে করিয়েছে। এখনও কাবুল সহায়। কাবুলকেই সে কান ভারি করেছিল। তারপর কি সুসময় কুম্ভর। রাজা ডেকে পাঠিয়েছিলেন। রাজা সব খবর নিতে থাকলেন। সনৎবাবুকে ডেকে বলেছিলেন, সিট মেটালের ম্যানেজার সব ত ফাঁক করে দিচ্ছে। খবরটা রাখেন। সনৎবাবু বলেছিলেন না জানি না। আমার বিশ্বাস হয় না। আমি তাকে খুবই ধার্মিক মানুষ জানি। তখন লাগে সনৎবাবুর পেছনে। এই করে এত দুরে আসা কুম্ভর। কুম্ভ তখন হাসিরাণীকে বলত, কাবুল এলে আদরযত্ন কর। কুম্ভ জানত হাসিরাণীর প্রতি কাবুলের দুর্বলতা আছে। কুম্ভ বাড়ি না থাকলেও সে আসত ঠিক বাড়ির ছেলের মতো। এখন যত দিন যাচ্ছে কাবুলের আকাঙ্খা বাড়ছে। আর দশজনও দেখছে, কিন্তু রাধিকাবাবু চুপ, কুম্ভ কখনও ফিরে এসে দেখলেও চুপ। ভিতরটা গুম মেরে গেলেও ওপরে ঠাট্টা তামাশা। এখন ও আর তত সহজে বলতে পারে না, কাবুল আমার জন্য যা করেছে! কাবুল না থাকলে হাসিরাণীর মুখে হাসি ফুটত না।

    কাবুল এবার নিঃশ্বাস ছেড়ে বাঁচল। যাক দুলালটাও চলে গেল। এখন কোয়ার্টারে শুধু হাসিরাণী আর সুরেনের মেয়েটা। এই দুজন। হাসিরাণী ঠিক এখন মেয়েকে নিয়ে মজেছে। সে পেছন থেকে গিয়ে একটা হুঁম করবে। হাসিকে ভয় পাইয়ে দেবে। তারপর মোড়া টেনে সুরেনের মেয়েটাকে বলবে, এই যা, রবির দোকান থেকে গরম সিঙাড়া কচুরি আন। হাসি চা লাগাও। যেন এই চায়ের জন্য ফন্দি ফিকির করে গোপনে ঢুকে যাওয়া। বলে রাখা, এখনও সময় হয়নি, কুম্ভকে বলো, সবটাই খেলিয়ে তুলতে হয়।

    .

    তখন কুম্ভ বলল, দাদা শরীরটা ভাল লাগছে না। অফিস যাচ্ছি না। আপনি যান। সাধারণত অতীশ এবং কুম্ভ একই সঙ্গে কারখানায় যায়। কোনদিন কারুলের সঙ্গে রাজবাড়ির আলগা কাজ থাকলে কুম্ভর যেতে দেরি হয়। সেদিন অতীশ একা যায়। আজও হয়ত কোন কাজ-টাজ পড়ে গেছে! সে বলল, কাবুলবাবুর সঙ্গে কোথাও বের হবেন!

    কুম্ভ বারান্দায় গোল টেবিলের পাশে দাঁড়িয়ে কিছু যেন ভাবছে, অতীশের কথা শুনতে পায় নি কালও রাজার সঙ্গে কথাবার্তা প্রায় ঠিক। আগে মাইনে বাড়ান, মাল বাড়ান, ওভারটাইম বন্ধ করুন, সব ঠিক আছে। কিন্তু অর্ডারপত্র কম। বেশি অর্ডারপত্র নিতে হলেই রামলাল পিয়ারিলালের দরকার। এত বছর এই করে চলে আসছে আজ হঠাৎ রামায়ণ গাইলেই হবে কেন! রাজাও কথা দিয়েছিল—কিন্তু তারপর সব কেমন ওলটপালট হয়ে গেছে। কে সেটা করে! তবে সে অতীশকে যতটা বোকা ভেবে থাকে, সে ততটা নয়। বোকা ঠিক নয়, যতটা ভাল মানুষ ভাবে ততটা ভালমানুষ নয়। বউরাণীর সঙ্গে কি কোনও গোপন সম্পর্ক আছে! কে জানে! কুম্ভ মনে মনে ভীষণ জেদি হয়ে উঠেছে। চোখ মুখ লাল। অতীশ ফের কোনও কথা বলতে সাহস পেল না। সে এই সব মুখে কি ধরা পড়ে, জানে। এবং কুচক্রীকে সে ভয় পায়, আর কুম্ভর মুখে বাঘের মুখ দেখে ফেলে বলেই ভয়। এখন আর সে মানুষের মুখে বাঘের মুখ দেখতে চায় না। টুটুল মিণ্টু আছে। মিণ্টুর জন্য সে ভেবেছে একবার নিবেদিতায় যাবে। নির্মলার শরীর ভাল যাচ্ছে না। এখানে এসে রোগা হয়ে গেছে। নির্মলার দাদা এসে একবার কিছুদিন নিয়ে রাখতে চেয়েছিল, অতীশের অসুবিধা হবে ভেবে যায় নি। আসলে নির্মলার এখন একার হাতে সংসার। সে টানতে পারছে না। অভাব বাড়ছে। এই সব সাত-পাঁচ চিন্তা ভাবনায় সে যখন ট্রাম রাস্তা পার হচ্ছিল তখন কুম্ভ ঘরের দিকে হাঁটছে।

    আসলে উচ্চাকাঙ্খা মানুষকে কখনও কখনও ভারি গোলমালে ফেলে দেয়। এবং এই আকাঙ্খা মানুষকে কখনও কখনও বড় রক্তাক্ত করে। মেজাজ-মর্জি ঠিক রাখা যায় না। কুম্ভ বাড়ি ঢুকেই মেজাজ- মর্জি ঠিক রাখতে পারছে না। দাঁত চেপে হজম করে যাচ্ছে। সুরেনের মেয়েটা নেই। সে ঢুকেই বলল, ও গেল কোথায়?

    কাবুলের ভেতরটা কেঁপে উঠল। কুম্ভ অসময়ে! অবশ্য অসময়ে কুম্ভ আরও এসে দেখেছে, খোস মেজাজে হাসির সঙ্গে নানা রকমের সে গুল ঝেড়ে যাচ্ছে। কাবুল জানে দায়টা কুম্ভর কোথায়। সে সহজেই খুব সরল মানুষ হয়ে যেতে পারে। কুম্ভকে দেখেই বলল, কি বে খুব জোর ল্যাং খেলি তো!

    কুম্ভ হাসির দিকে তাকিয়ে বলল, একটু গরম জল বসাও। দাঁত ব্যথা করছে। হাসি বলল, বসাও না, আমি কি বসে আছি। কুম্ভ কিছু বলল না। ব্যাগটা ঘরের ভিতর রেখে নিজেই কেটলিতে জল ঢালতে থাকল। হাসি যেন পাত্তা দিচ্ছে না। সে ত কাবুলকে নিয়ে কিছু করছে না, মেয়েটার গায়ে তেল মাখাচ্ছে। কাবুল পাশে মোড়ায় বসে আছে। কে আসে কে যায় হাসির যেন মাথাব্যথা নেই।

    কুম্ভ জলটা ঢেলে স্টোভে কেটলিটা নিজেই বসিয়ে দিল। খুব গম্ভীর। কাবুল লক্ষ্য করছে সব কাবুল এটা টের পায়, কুম্ভর যতই মেজাজ বিগড়ে যাক, যতই দাঁত ব্যথা করুক এখন উঠতে চাইলেই ধরে রাখবে। বসিয়ে রাখবে। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে রাজবাড়ির ভেতরের খবর নেবার জন্য দাঁত ব্যথা সত্ত্বেও অনর্গল বকবে। সে বলল, কুম্ভ জলটা বেশি করে দে। তোর বউকে ত বলে পারলাম না। একটু চা পর্যন্ত করে দেয় না এলে। আমার মূল্য ধরে দেখছে না।

    —বাদ দে ভাই আমাদের কথা। সে ঘরে গিয়ে সব খুলে একটা লুঙ্গি পরে এল। তারপর কারো দিকে তাকাল না। কারণ তাকালেই হাসিকে সে নষ্ট মেয়ে ভাবছে। হাসির মুখ দেখলেই ধরে পেটাতে ইচ্ছে করছে। শরীরে তার এত কি জ্বালা! গতরের জ্বালা, সে আমারও কম নেই।

    হাসি বেশ খুশি। কুম্ভর দাঁত ব্যথার জন্য এতটুকু কোন সহৃদয়তা নেই। সে মেয়েটার টুবলা গালে চুমু খাচ্ছে। দু-হাত দু-পা মুঠো করে ছেড়ে দিয়ে বলছে, ফুক্কা। মেয়েটা খিলখিল করে হেসে উঠছে। একবার কুম্ভর দিকে টেরচা করে চেয়েছে। তারপরই ভেবেছে, তুমি একটা ম্যাঙ্গো। আমাকে ধষ্টাবে। লোকটাকে . ত কিছু বলতে পার না। ভাল লাগলে কি করব! রাজবাড়ির গন্ধ লোকটার গায়ে। সে একবার এটা বলেও ফেলেছিল, সন্দ যখন বারণ করে দাও না। তুমি না করলে আমিই করব।

    কুম্ভ জলে পড়ে যাবার মতো চিৎকার করে উঠেছিল, আরে না, না! চটাতে যেও না। বন্ধু-বান্ধব লোক। এক সঙ্গে মানুষ হয়েছি, মা বাবা কেউ নেই, পিসতুতো ভাইয়ের কাছে আছে। আছে বলেই যে কুম্ভর রক্ষা সেটা আর বলে না। সুতরাং হাসি ভয় পায় না। বরং মজা পায়। দুজন পুরুষকে নিয়ে খেলতে মজা পায়। মেয়েটা হবার পর পুরো একমাস সিনেমা না দেখে ছিল। সাত পাকে বাঁধা বইটা হাসি চারবার দেখেছে। আবার এলে দেখবে। এসেও ছিল। চলেও গেছে। এক মাসে হাসির জীবনে অনেক ক্ষতি হয়েছে। মেয়েটা হওয়ায় এই ক্ষতি। তারপর টেবির কাছে রেখে সেটা বাকি তিন মাসে পুষিয়ে নিয়েছে। এখন তার আকাশ বড় ঝকমক করেছে। সে একা কাটায় কি করে! আর পুরুষ মানুষের ক্ষমতা কতদূর সে জানে। ওদের দৌড় বিছানা পর্যন্ত। যতই লম্ফঝম্ফ হোক রাতে সব কাত। না, শরীর ভাল্লাগছে না। আমাকে ঘুমোতে দাও। আর যায় কোথায়। সোহাগে সোহাগে তখন পাগল করে ছাড়বে। কি চাই, শাড়ি—দেব। অলংকার—দেব। অলংকার―দেব। সিনেমা—দেখাব। তখন আর পৃথিবীতে কিছু বাদ থাকে না—সব এনে শ্রীচরণ পদ্মে হাজির। সুতরাং হাসি কুম্ভর দাঁতের ব্যথায় গা করল না। রাত এলেই সব সেরে যাবে। ব্যথা-টেথা সব পগার পার। হালুম হুলুম তখন। খাব খাব তখন।

    কাবুল বলল, হাসি তুমিও পার। দাঁত ব্যথা বলতে! জলটা বসিয়ে দিতে কি তোমার ক্ষতি ছিল বুঝি না!

    হাসি কাবুলের কথাও গ্রাহ্যি করল না। সে মেয়েকে চান করাতে থাকল। রোদে জল দিয়ে রেখেছিল, সেটা দিয়ে চান করাচ্ছে। দুগাছা দূর্বা দেওয়া জলে। জলে কোন সংক্রামক বীজাণু থাকতে পারে ভেবে এই দিয়ে রাখা; পুজো-আর্চায় যা লাগে শিশুর স্নানে তা দিলে সংসারে পাপ থাকে না। অথচ শরীরে কি যে থাকে! শিশু বড় হয়, বালিকা হয়, যুবতী হয়। কুম্ভ হয়, হাসি হয়, কাবুল হয়। আর এ সময়ই মনে হল অতীশ হয়। সবই হয় পৃথিবীতে। লোকটা তাকে বলেছিল, লক্ষ্মীর পট কিনে দেবে। এখন যেন সেটাই বেশি তাকে কামড়াচ্ছে। কন্যেটির শরীর মুছিয়ে দিতে গিয়ে বিড়বিড় করছিল, কেউ কথা রাখে না। যে যার মতো মিছে কথা বলে। লক্ষ্মীর পট কিনে দেব একটা। তার আর নামগন্ধ নেই।

    কুম্ভ আর পারল না। সেই লোকটা এই বাড়িতেও ঢুকে গেছে। রাজবাড়িতে ঢুকেছে ঢুকুক। এ- বাড়িতে কেন। সে কালীঘাটের কালীর মানসপুত্র। তার ঘরে লক্ষ্মীর পট কেন আবার। সরল সুধা। সে সহসা চীৎকার করে উঠল, আর কিছু চাই না!

    —চাইলেই দেয় কে?

    কাবুলের দিকে তাকিয়ে কুম্ভ বলল, দেখছিস, দেখছিস হারামজাদী মাগী কি বলছে!

    কাবুল খুব মান্যিগণ্যি মানুষের মতো বিচারে বসে যায়। অযথা মাথা গরম করছিস কেন তোরা?

    —আমি করছি। বল, আমি করছি!

    —কেউ করছিস না। নে, চুপ কর।

    হাসি মেয়ের জন্য দুধ গরম করবে! জল গরম এখনও হয়নি। ঠাস করে কেতলি নামিয়ে দুধটা বসিয়ে দিল। মেয়েটা এক হাতে ঝুলছে।

    —দেখলি ত। আমি কি তোর মাগী গোলাম!

    —ছোটলোকের মতো কথা বলবে না বলে দিচ্ছি। হাসির চোখ গরম হয়ে গেল।

    কুম্ভ বলল, একশবার বলব। নষ্টামির আর জায়গা পাস না!

    হাসি মেয়েটাকে খাটে শুইয়ে দিয়ে এসে বলল, একশবার করব। মুরদ থাকে ত সামলিও।

    কুম্ভ কেমন বিচলিতবোধ করে। কাবুলের দিকে তাকিয়ে বলল, সব যাবে। তুই জানিস লক্ষ্মীর পট কিনে দিয়ে সে কি করতে চায়?

    —সে তুমি বোঝগে। আমার সময় নেই বোঝার কে কি করতে চায়।

    কাবুল বুঝতে পারছে বিষয়টা তাকে নিয়ে নয়। নতুন ম্যানেজারবাবুকে নিয়ে। অতীশ হাসিকে লক্ষ্মীর পট কিনে দেবে বলেছিল। সেদিন গাড়িতেই যেন কথাটা হয়েছে। অতীশকে হাত করার জন্য সঙ্গে হাসিকেও নিয়েছিল কুম্ভ। কাবুল কিছুটা রেগে গিয়েই বলল, তা কিনে দিলেই পারিস। হাসি একটা ঘরে লক্ষ্মীর পট বসাতে চায়, তা করে দিচ্ছিস না কেন? ঠাকুর দেবতা বলে কথা।

    ঠাকুর দেবতাই সম্বল কুম্ভর। তার এতে সায় যে নেই তা নয়। কিন্তু যে মানুষটা তার উপার্জনে বাগড়া দিয়ে যাচ্ছে, তার অমঙ্গল কামনা করছে, সেই মানুষের পরামর্শমত লক্ষ্মীর পট কেন আসবে বাড়িতে।

    কুম্ভ বলল, আরে তুই মেয়েছেলে, লোকটা তোর কোন উপকারে লাগে বুঝিস না! কেবল কেড়ে নিতে এসেছে। গয়নাগাটি পরে খ্যামটা নাচ এবারে তোর বের করে দেবে! এতবড় সুযোগ নাহলে হাতছাড়া হয়। সময় খারাপ যাচ্ছে কাবুল। তুই যে বলছিলি, আমার হাতটা কাকে দিয়ে দেখাবি। পাথর-টাথর ধারণ করলে গ্রহের কোপ কমে যায়। সব গ্রহের দোষে হচ্ছে বুঝি। কিন্তু কি করব বল। তুমিও তো শালা কোন কম্মের নও। তোমার দাদাটি আর এক নপুংসক।

    কাবুল এতক্ষণে কুম্ভর জ্বালাটা কোথায় বুঝতে পারছিল। দাদাকে টেনে আনায় সে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করছে। আজ কিছু একটা হয়েছে। কি হয়েছে সেটা সে আন্দাজ করতে পারল। ভেবেছিল কুম্ভ বাপকে দিয়ে কাজ উদ্ধার করবে। রাতে খাবার টেবিলেই দাদা তাকে বলেছিল, বুঝছিস ভায়া দুটো দু’রকমের; একটা চোর ছ্যাঁচড়া, অন্যটা গোঁয়ার। কোনটাকে যে সামলাই। সে শুধু ফুট কেটে বলেছিল, অতীশবাবু যদি পারে করুক না। দু’নম্বরী মাল বানিয়ে কতদিন চলবে!

    আর সেই কথায় বউদিরও সায় ছিল। বলেছিল, অতীশকে নিয়ে আসাই ভুল হয়েছে। ওর বাপ জ্যাঠাকে আমি জানি। রক্তে দোষ আছে। তাকে দিয়ে তুমি পারবে না।

    কাবুল বলেছিল, সব হবে বউদি। ঠেলার নাম বাবাজী। এখন হচ্ছে না, পরে হবে।

    এইসব কথাবার্তা রাতে হয়েছে। সে কুম্ভর পক্ষে একটা কথাও বলেনি। কুম্ভ যে চোর ছ্যাঁচোড় সেই খবরও কাবুলই দাদার কানে পৌঁছে দিয়েছিল। আর তার কাজই এখন এটা। সে সব কনসার্নে ঘুরে বেড়ায়। নিচু মহলের লোকদের সঙ্গে মিলে মিশে যেতে পারে। এবং রাজার ভাই বলে সবাই কারখানার খবর তার মারফত সঠিক জায়গায় পৌঁছে দিতে চায়। বাপকে দিয়ে উদ্ধার পেতে চাইছে কুম্ভ। সেয়ানা হয়ে উঠেছে। ভেবেছে তার আর দরকার নেই। এখন বোঝ, কত ধানে কত চাল। কাবুল বলল, আমাকে আগে থাকতে বলবি ত। কি হয়েছে বলবি ত!

    কুম্ভ কি ভেবে বলল, না কিছু হয়নি।

    —হয়নি ত শালা অফিস যাসনি কেন! এসেই বউ-এর ওপর হম্বি-তম্বি করছিস কেন?

    —মানুষের শরীর খারাপ হতে পারে না!

    —তোমার শরীর খারাপ! তালেই হয়েছে।

    —কেবল রাজ-রাজড়ার বুঝি শরীর খারাপ হয়!

    কাবুল বুঝতে পারল, আবার শালা দাদাকে টেনে আনবে। পরে বউদিকে। বউদির সঙ্গে অতীশের বাল্যপ্রণয় ছিল কিনা, তাও কুম্ভ অনায়াসে বলে যেতে পারে। মুখে ওর কিছু আটকায় না। মর্জি মতো কাজ না হলেই সব মানুষ ওর কাছে খারাপ। কাজ উদ্ধারের জন্য সবকিছু করতে পারে। না পারলে দুনিয়া শুদ্ধু লোক তার কাছে ইতর এবং ধান্দাবাজ। সেই লোক এখন বারান্দার এক কোনায় গুম মেরে বসে আছে।

    টেবি তখনই এল একঠোঙা সিঙাড়া নিয়ে। কাবুল হাসির দিকে তাকিয়ে বলল, কুম্ভকে দাও।

    কুম্ভ টেবির দিকে শুকিয়ে বলল, নারে আমি খাব না। তোরা খা। দাঁতে ব্যথা।

    —আরে খা খা। মাথা গরম করিস না। মাথা গরম করলে কাজ হয় না। এই হাসি, দাও না। তোমাকে দিতে বলছি না। খেলেই দাঁত ব্যথা সেরে যাবে।

    কুম্ভ দেখল, হাসি দুটো প্লেটে দুটো করে কচুরি একটা করে সিঙিড়া রাখছে। একটা কুম্ভর দিকে ঠেলে এগিয়ে দিল। এত অবহেলা। কুম্ভর মাথার রক্ত উঠে গেল। বদমায়েশ মেয়েমানুষ, তুই আমার বউ, না কাবুলের। তার কথায় আমাকে ঠেলা মেরে প্লেট এগিয়ে দিস। প্রায় লাথি মেরে প্লেটটা ছিটকে ফেলে দিত। কিন্তু তখনই কাবুল প্রায় দৈব বাণীর মতো বলল, আমি ত আছি। আমাকে বললি না কেন। দু-নম্বরী মাল করাতে চাস, কোম্পানি বসে যাবে, তোর ভয়, সব বলবি ত।

    কুম্ভ আর পারল না। ক্ষোভে দুঃখে চোখে জল এসে গেছিল প্রায়। সর্বত্র সে মার খাচ্ছে। ঘরে বাইরে। কাবুল যদি পারে। সে বলল, রাজার বাপের সাধ্যি নেই কারখানাকে বাঁচাতে পারে। ওটাতে কি আছে। ছাপা বার্নিশ কত সেকেলে। দু’নম্বর মাল লোকে করাবে না’ত, এক নম্বরী করাতে যাবে! তোমার দাদা জানে না, যা ছাপা বার্নিশ তাতে এক নম্বরী মালও দু-নম্বরী হয়ে যায়। খদ্দেররা দায়ে পড়ে এখানে আসে। সস্তায় মাল পাবে বলে আসে। এদিকে গোড়া কেটে আগায় জল ঢালছে শুয়োরের বাচ্চা।

    শুয়োরের বাচ্চা কথাটা অতীশকে উপলক্ষ করে। তার দাদাকে নয়। এতেই কাবুল কিঞ্চিৎ খুশি। যাক সুমতি হয়েছে কুম্ভর। সে বলল, নে এবার খাত। হাসি তোমার জন্য রেখেছ ত!

    —রেখেছি।

    কুম্ভর এটাও জ্বালা। কোনও মান অপমান নেই। ঠিক নিজের জন্য রেখে দিয়েছে। কেবল খাব খাব করে। স্নানটান করে দুপুরের খাবার খাবি কোথায়, তা না কাবুলকে দিয়ে এক ঠোঙা গরম কচুরি সিঙাড়া আনিয়েছে। আমি কি তোকে কিছু খেতে দি না। তোর এত রস!

    কাবুল বলল, কিরে খা। তুই না খেলে খাই কি করে। ও টেবি নে, তুই একটা নে। কাবুল নিজের প্লেট থেকে টেবিকে একটা তুলে দিল।

    কুম্ভ এখন খাচ্ছে। কচুরিতে কামড় বসিয়ে বলল, তোর দাদাকে বুঝিয়ে বলিস। খুবই ভুল করল। বলিস এগ্রিমেন্ট আমাকে দিয়েছে ফয়সালা করার জন্য। নতুন বাবুর সেই মুরদটিও নেই। কারখানার লোকেরা সব ক্ষেপে আছে। মাইনে বাড়িয়ে ওভারটাইম বন্ধ করার তালে আছে, ওরা তো নেকু নয় যে ম্যানেজারের ফন্দি ফিকির বুঝবে না।

    কাবুলের বলতে ইচ্ছে হল, তুই একটা পয়মাল! কিন্তু বলল না। রাগ করবে। রাগ পড়ে আসছে। পড়ে আসবেই। কুম্ভ আরও সব গড় গড় করে বলার জন্য জল খাচ্ছে। দাঁতে ব্যথা-ফেতা কিছু নেই। কাবুল এগিয়ে বসল। বলল এগ্রিমেন্ট তোকে দিল কেন!

    এই দেখ না। বলে কুম্ভ উঠে গিয়ে ব্যাগ থেকে এগ্রিমেন্টের দু-কপি বের করল। দেখল কিছু তারপর বাইরে এসে বলল, আমাকে দিয়েছে। পারে নি। ভেবেছিল একাই করবে। দু-চারবার কথা বলে বেপাত্তা। কি করি, এই দেখ না। তবে ভাই আমি চেষ্টা করব। সাধ্যমত করব। সে বলতে গেছিল, এটা নিয়ে ল্যাজে খেলাব, কিন্তু কি ভেবে বলল না। ভেতরের কথা সে কাউকে আর বলবে না। বউটা যার বিশ্বাসঘাতক, সে আর অন্যকে বিশ্বাস করে কি করে! সবাইকে আপন ভেবে সে ঠকেছে।

    কাবুল বলল, তুই পারবি। সেটা দাদা জানে। বোঝে।

    —এইত মুশকিল, কাজ করব আমি বাগড়া দেবে তুমি। আমি ত’ মানুষ।

    কাবুল চা সিঙাড়া সব খেয়ে ফেলেছে ততক্ষণে! হাসি মেয়েটাকে কাবুলের কোলে দিয়ে বাথরুমে ঢুকে গেল। কুম্ভ গুম মেরে গেল ফের। ওর কোলে দিতে পারত হাসি! সে তোর কে রে!

    কাবুল উঠে এসে মেয়েটাকে কুম্ভর কোলে ফেলে দিল, নে ধর। বাপ হবি তুই, সামলাব আমি। বেশ মজা।

    মেয়েটাকে কোলে নিতেই কি যে হয়ে যায় কুম্ভর। কারো ওপর আর কোন যেন অভিমান থাকে না। সে মিথ্যে সংশয়ে ভুগছে। হাসিরাণী পায়ে ধরে একদিন বলেছিল, তোমাকে ছাড়া আমি কিছু জানি না। আমার আর কে আছে! বলতে বলতে কেঁদে ফেলেছিল। গরীব ঘরের মেয়ে বলেই এই হেনস্থা। এবং তখন কুম্ভ হাসিরাণীর মাথা কোলে নিয়ে বার বার চুমু খেয়েছে, অভিমান ভাঙিয়ে বলেছে—তুমি ত বোঝ হাসি, তোমাকে বাদে আমি সর্বহারা। তুমি ছাড়া আমারও কেউ নেই। তারপর দু’জনেই ফিক করে হেসে দিয়েছিল। আলো জ্বেলে হাসি যাত্রার সখির মতো সাজতে বসেছিল। যখন সব হয়ে যায়, নিশুতি রাত, ঘুম, নাক ডাকিয়ে লম্বা ঘুম। কুম্ভর পাশে হাসিরাণী। একেবারে খালি গা হাত পা, শরীর ভাঁজ করে পড়ে আছে। সন্তানের জনকজননী হতে গেলে এ সবই লাগে। কুম্ভ সকালে ওঠার সময় চাদরটা শরীরে টেনে দেয়। বড় ভয়ংকর লাগছিল তখন হাসিকে। মেয়েমানুষ সব পারে সুতরাং কুম্ভ নিশীথে একরকম, সকালে একরকম, সকালে তার কালীকবচ পাঠ, প্ৰাতঃস্নান, কালী কলকাত্তাওয়ালির ফটোর সামনে বসে অসুর নাশিনীর ধ্যান। তারপর, দিগ্বিজয়। আজ তার বাধা পড়েছে। সে যেন হত্যা দিতে এসেছে অসুর নাশিনীর কাছে। সেটা কে? হাসি না বউরাণী! সে কেন জানি বুঝতে পারল, হাসি হলেও নিস্তার নেই, বউরাণী হলেও নেই। কিন্তু সে জানে, কত ধানে কত চাল। সেটাই তার সম্বল।

    সেই সম্বল নিয়েই কুম্ভ কথা শুরু করল কারখানার কর্মীদের সঙ্গে। কথাবার্তার সময় সে আর মনোরঞ্জন! সে বলেছে, বেশি লোকের দরকার নেই। কোম্পানির পক্ষে সে, কর্মীদের পক্ষে মনোরঞ্জন। কথাবার্তা শুরু হল এইভাবে—

    —আরে মনোরঞ্জন! এস এস। খবর কি! তোমার বড় ছেলে এখন কি করছে?

    —কিছু তো করছে না।

    —কিছু না করলে চলবে কেন?

    —কোথায় পাবে বলুন।

    কুম্ভর ঘরে মনোরঞ্জন বাদে এখন কেউ নেই। অতীশবাবুর ঘরে দুজন কাস্টমার। পাশের ঘরে দুজন অ্যাসিস্ট্যান্ট কাজ করছে। মেশিনপত্র চললে, এমনিতেই কিছু শোনা যায় না। তাদের কথা অন্য কেউ শোনার চেষ্টা করলেও শুনতে পাবে না। কারণ কুন্তু প্রত্যেক ঘর থেকে তার ঘরের দূরত্ব এবং ধ্বনিতরঙ্গ কখন কতটা তারতম্য হয় সব মাপজোক করে বসে আছে। কোথা থেকে কতটা শোনা যায় সে জানে। তাকে এজন্য সবসময় সতর্ক থাকতে হয়। সে বলল, রাজার কাছে বলব তোমার ছেলের কথা।

    —কুন্তবাবু!

    —কুম্ভ চোখ তুলে চাইল।

    —আপনি’ত অ্যাগ্রিমেন্টে রাজি হতে বারণ করেছেন!

    —করেছি। দরকার বুঝেছিলাম বলে করেছি। তারপরই কুম্ভ কি বলবে ভেবে পেল না। মনোরঞ্জন মুখের ওপর স্পষ্ট কথাটা শুনিয়ে দেবে সে আন্দাজ করতে পারেনি। সে মনে মনে বলল, আমি কুম্ভকুমার আমার ডরালে চলবে কেন! ঘাবড়ে গেলে চলবে কেন! সে একটা ফস করে পকেট থেকে সিগারেট বের করে মনোরঞ্জনকে দিয়ে বলল, ধরাও। মনোরঞ্জন তার চেয়ে বয়সে বড়, লম্বা ঢ্যাঙা। শুধু হাড় ক’খানা সম্বল করে কাজ করছে। কুম্ভর হাড় মাস দুই আছে। কুম্ভ-ই প্রবল প্রতিপক্ষ। সুতরাং সেভাবেই বলল, রাজার মেজাজ ভাল না। বড়বাবুর কানে কি ফুসমন্তর দিয়েছে, কে জানে। রাজা বলেছেন, মাল না বাড়ালে কোম্পানি ক্লোজ করে দেবে। আমি চাইছি আপাতত সেটা বন্ধ করতে। তোমরা মেনে নাও। পরে কত অজুহাত পাবে। যদি দেখ ওভারটাইম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তখন সুযোগ বুঝে কোপ বসাবে।

    —দেখুন কুম্ভবাবু, একজন বিবেচক মানুষের মতো সে বলল, ওভারটাইম আছে বলে ছেলে মাগ নিয়ে বেঁচে আছি। না থাকলে শুকিয়ে মরব।

    —কেন মাইনে বাড়ছে!

    —সেটা আর কত! ওতে হেলপারদের পোষাতে পারে, আমাদের পোষাবে না। আমাদের দিকটা আর একটু দেখুন।

    কুম্ভ বলল, এখন আর তা হবে না। তোমাদের কথা দিচ্ছি পরে হবে। অ্যাগ্রিমেন্ট দু-বছরের। দেখই না কি দাঁড়ায়।

    মনোরঞ্জন জানে, হেলপাররা একপায়ে খাড়া। আরও যারা বেশি সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে তারাও রাজি। কেবল তার মত মোল্লারা বাধ সাধবে। কিন্তু যদি ছেলেটার কিছু হয়ে যায়, যদি পরে অজুহাত সৃষ্টি করা যায়। কুম্ভবাবু তো বলেই দিয়েছেন, তোমাদের অজুহাতের শেষ নেই। দরকার মনে করলে এটা ওটা খারাপ দেখিয়ে যেমন খুশি মাল দিতে পার। বড়বাবুরও বলার কিছু থাকবে না। রাজাকেও কচু দেখানো গেল।

    মনোরঞ্জন বলল, একটা দিন আমাদের ভাবতে দিন।

    পরদিন কুম্ভবাবু এসে অতীশের ঘরে ঢুকে বলল, ওরা রাজি। সুতরাং মিঞাবিবি যখন রাজি তখন শুভদিন দেখে সেরে ফেলা ভাল।

    অতীশের মনে হল লোকটা ভোজবাজি জানে! কুম্ভর মনে হল সে দিগ্বিজয়ী। সে তার মতো করে সই করিয়ে নিচ্ছে। কোম্পানির কি থাকল সেটা বড় নয়, আসল কথা সে এই কোম্পানির কত অপরিহার্য মানুষ রাজা এবার ভেবে দেখুক।

    অতীশকে খুবই তখন ম্রিয়মান দেখাচ্ছিল। সে ভাবছিল, তার মতো অপদার্থ লোক কতদিন এভাবে কাজ চালিয়ে যাবে। কারখানায় এলে নরকে ডুব দিতে হয়, সেটা যদি সে আগে জানত। শীত পার হয়ে গ্রীষ্ম আসতেই সেটা আরও টের পেল অতীশ। কুম্ভ একদিন মুখের ওপরই এসে বলল, দাদা, আপনাকে নিয়ে আর পারা যাবে না। কত মাইনে পাই খদ্দেররা জানবে কেন? আপনি নিজের সম্পর্কে কি ভাবেন! সত্যি কথার ভাত আছে। মর্যাদা আছে। এত কম মাইনে পাই, সেটা বলার দরকার কি! লোকে শুনলে কি ভাববে!

    অতীশ কি কথায় কথায় যেন সেদিন একজন খদ্দেরকে কথাটা বলে ফেলেছিল। সে ত জানে না, কুম্ভবাবু অন্যরকম বলেছে। সে বলল, যা পাই তাইত বলব!

    এতে আপনার সম্মান বাড়ল! আপনি এই পেলে আমরা কি পাব, ওরা টের পাবে না। তিনগুণ বাড়িয়ে বলি, সেটা আপনার দিকে চেয়ে, কারখানার কথা ভেবে, রাজার মানসম্মান যায় বলে। আপনি সেটাও বোঝেন না!

    অতীশের মনে হল, সে ঠিক পৃথিবীর মানুষ না। সে যে পরিমণ্ডল থেকে এসেছে, সেখানে এইসব তাকে শেখানো হয়নি। মাইনের সঙ্গে একটা মানুষের মর্যাদার প্রশ্ন থাকে সেটাও সে ভাল করে ভেবে দেখেনি। চারপাশটা সেই অজানা সমুদ্রের চেয়েও ভয়ঙ্কর মনে হচ্ছে তার। সেখানে জীবনমৃত্যু অহরহ সামনাসামনি হাজির। এখানে জীবনমৃত্যুর চেয়ে আরও বেশি কিছু কঠিন সত্য হাজির। দিন যত যায় আচ্ছন্নতা তার তত বাড়ে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআওরঙ্গজেব : ব্যক্তি ও কল্পকথা – অড্রি ট্রুসকে
    Next Article মানুষের ঘরবাড়ি – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }