Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ঈশ্বরের বাগান – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

    লেখক এক পাতা গল্প1863 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ঈশ্বরের বাগান – ১৮

    ।। আঠার।।

    সকালে দৈনিক কাগজের প্রথম পাতায় বর্ষণ এই শীর্ষক খবর এবং ঠিক প্রথম পাতার ওপরে বড় এক ছবি—যুবতী নারী জলের ফোঁটা মুখে চন্দনের মতো মেখে নিচ্ছে। পাশে ফোর্ট উইলিয়ামের ছবি, দুর্গের বুরুজে জালালী কবুতর উড়ছে। নিচে হরেক রকম পাঁচমেশালি খবর। কোথাও মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। চাষাবাদ নিদারুণ মার খাচ্ছে। মাছ আনাজ অগ্নিমূল্য। কোথাও দমদম দাওয়াই চলছে—কাজের কাজ হচ্ছে না। খাদ্যে ভেজালের মতো শস্যদানায় স্বয়ম্ভরতা, কত রকমের হরেক ভোজবাজি—মিছিল, দাঙ্গা, রক্তপাত, মানুষ ঠিকঠাক বেঁচে নেই।

    তারপর সারা রাত-দিন বৃষ্টি হয়েছে। কখনও টিপ টিপ, কখনও ঘোর বর্ষণ এবং জোরে জোরে হাওয়া বইছিল। ভোরের দিকে হাজির কর্পোরেশনের গাড়ি। গাড়ি থেকে টুপটাপ লোক নেমে গেল। ম্যানহোল খুলে দিল। ট্রামবাস বন্ধ। বৃষ্টির জন্য ছাতার পাখিরা কলকাতার মাঠ পার হয়ে গঙ্গার ওপারে। হুগলী নদীর পাড়ে চটকলের বাবুরা বাগানে তখন ফুলের চারা পুঁতে দিচ্ছে। বুড়ো ফকিরচাঁদ কলকাতার গলা জলে দাঁড়িয়ে তখন আকাশ দেখছে। পাশে চারু। তলপেটে হাত। মাঝে মাঝে কুঁকড়ে যাচ্ছে। পেটে তার ঈশ্বর ছানাপোনার মতো বড় হচ্ছিল। মেঘ গুড়গুড় করতেই সে নেমে আসার জন্য দাপাদাপি শুরু করে দিয়েছে।

    চারুর পাতলা প্লাইউডের ঘর এখন জলের তলায়। মরা ইঁদুর বিড়াল জলে ভাসছে। জানলায় যুবতীর মুখ। বৃষ্টির ঘ্রাণে চোখ অলস। গর্ভবতী হবার বড় সুসময় এটা। বৃষ্টি এলেই মনের মধ্যে সে কথা কয়! শরীর অস্থির হয়ে পড়ে। যে কোন পুরুষই তার তখন কাম্য। ফুলি সকালে বাবা দাসবাবুকে বলেছে রাতে তার জ্বর আসে। তার ঘুম আসে না। দাসবাবু বলেছে, বৃষ্টি বন্ধ হলেই সেরে যাবে। সব সেরে যায় তখন। দাসবাবুর মনে হয়েছে, বৃষ্টির পরে তার পাত্রের খোঁজে বের হওয়া দরকার। মানুষ ত গাইবাছুর। সময়ে পোষা জীব না দেখালে মতিভ্রম ঘটতে পারে। ভারি দুশ্চিন্তা দাসবাবুর।

    চারু এবং ফকিরচাঁদ সারারাত জলে ভিজেছে। রাস্তার দু’পাশে কত ঘরবাড়ি কত মানুষজন, তবু তারা এতবড় কলকাতা শহরে ডাঙা জমির খোঁজ পায় নি। শীতে কাঁপছিল। ডাঙার খোঁজে সারারাত চারু জল ভেঙেছে। অসীম সাহস বুকে নিয়ে সর্বত্র বিচরণ করতে করতে সামনের চার্চ এবং রাজাবাজারে ডিপোতে অথবা লোহার পাইপগুলো অতিক্রম করে অন্য কোথাও——চারু পরিচিত সব জায়গা খুঁজেও সামান্য আশ্রয়ের সংস্থান করতে পারে নি।

    ওরা প্রায় সাঁতার কেটে রাস্তার ওপরে গিয়ে উঠতেই দেখল, বৃষ্টি ধরে আসছে। মাথার ওপর গুমোট অন্ধকারটা নেই, কিছু হালকা মেঘ বাতাসে ওড়াওড়ি করছে। এ-সময়ে হরিশ রাস্তায় পুরোপুরি নগ্ন। হাঁটু জলে দাঁড়িয়ে আছে। ভিজে জামা-কাপড় গায়ে নেই—সব হাতে। চারু নিজেও পাঁচিলের আড়ালে উলঙ্গ হয়ে শাড়ি থেকে জল নিংড়ে নিল। ফকিরচাঁদ শীর্তে খুবই কাবু, সাদাটে মুখ, হাতে পায়ে হাজা, কেবল চুলকাচ্ছে।

    একটু ডাঙামতো জমিতে দুটো পাইপ। পাগলিটা আরামেই আছে। পাইপের মধ্যে মুখ বার করে বাসি হাড় মাংস চিবুচ্ছে। আর আকাশে মেঘ দেখছিল। হরিশের ল্যাজে গোবরে অবস্থা দেখছিল। আর হি হি করে হেসে মরছিল।

    হরিশ কিছু ভেজা কাগজ তুলে নিয়েছিল জল থেকে। তাই দিয়ে তার সোনার অঙ্গ ঢাকা। সে মুন্ডমালার মতো তাই কোমরের ধারে ধারে ধারণ করে যেন কত আয়াসে লজ্জা নিবারণ। আকাশে হাল্কা মেঘ দেখে এবং আর বৃষ্টি হবে না ভেবে ঠিক টাকি হাউজের সামনে—তেরে কাটা ধিন এইসব বোলে শরীর গরম রাখার জন্য হামেশাই নাচছে আর চিৎকার করছে, শালো কলকাতা বিষ্টর জলে ডুইবে গেল। পাখি উড়ে গেল বাতাসে। দম মাধা দম পাগলা মাধা দম। শালো সব ভেইসে যাক, ডুইবে যাক জল উঠোক, পাঁচতালা সাততালা বাড়ির মাথায় জল উঠঠে যাক। কলকাতার সে সাক্ষী গোপাল।

    তখনই চারু হরিশের পেছনে গিয়ে ঠেলা মারল, বলল, এই ল্যাংটা। হরিশ এই কথায় ভারি আশ্চর্য। একটু চিতিয়ে সে লাঠিটা মাথার ওপর তুলে দিল। কিছু নেই, সব ফক্কা ভোজবাজিওয়ালা সে, কত সহজেই ফুসমন্তরে এই কলকাতায় বানভাসি জল নিয়ে এল। এত গরিমা তার আর চারু কি যে বলে! সে অবিশ্বাসী চোখে মুখে চারুর সামনে কোমর দোলাতে থাকে। এই দ্যাখে চারু আর পারে না। লজ্জায় মুখ ঘুরিয়ে নেয়।

    ফকিরচাঁদ রাজবাড়ির পাঁচিলের নিচে বসে আছে। সে উঠতে পারছে না। থেকে থেকে কাশি উঠছে এবং চোখ ক্রমশ ঘোলা দেখাচ্ছিল। জল কমলে ফের ট্রাম বাস চলতে শুরু করবে অথবা জল আরও হলে এইসব সারি সারি ট্রাম বাস উটের মতো মুখটি তুলে দীর্ঘ উ-টি আছে ঝুলে—ফকিরচাঁদ শীত তাড়াবার জন্য কাতরভাবে শৈশবের অয় অজগর আসছে তেড়ে ইঁদুরছানা ভয়ে মরে—যা শালা বিষ্টি। ইঁদুরের ছানাকে আর বেঁচে থাকতে হচ্ছে না। সেও শহরে একটা নেংটি ইঁদুর। এখন জলে মরে ভূত হয়ে থাকবে। কিন্তু তার তো মরে গেলে হবে না—কত কাজ বাকি, চারু আসন্নপ্রসবা। চারুর সন্তান না দেখে সে মরে কি করে! গাছেরও গাছ থাকে। তার গাছ না থাকুক ফল আছে ফলের বীজ থেকে অঙ্কুর। কত আশা তার। সে দেওয়ালে এ সময় কি লেখার চেষ্টা করল, কিন্তু বাতাসে আর্দ্রতা ঘন বলে কোন লেখা ফুটে উঠল না।

    ক্রমশই মেঘ হাল্কা হয়ে উড়ে যাচ্ছে। কোথায় যে যায়। কোথা থেকেই বা আসে। ভগবানের লীলা খেলাতে রহস্যের অন্ত নাই। ফকিরচাঁদ এখন রোদের জন্য অপেক্ষা করতে থাকল।—যা সরে যা, যা মেঘ উত্তরে। যা মেঘ দক্ষিণে, আকাশ হাল্কা করে দিয়ে যা।

    ফুটপাথ থেকে জল নামতে শুরু করেছে। গবগব করে ম্যানহোল দিয়ে জল সেঁধাচ্ছে। ট্রাম বাস ফের চলতে থাকল। মানুষজন বাড়তে থাকল ফুটপাথে। পঙ্গপালের মতো গেছো মানুষের আটি সব এখন আবার রাস্তায়। মনে হচ্ছে আর বৃষ্টি হবে না। কেমন শরৎকালীন হাওয়া। বুড়ো এই সময় চারুকে পাশে নিয়ে বসল। চারু বসতে পারছে না। দু-পা বিছিয়ে বসেছে। বড়ই হেনস্তা করছে পেটটা। ভারি উঁচু। ভিতরে স্বর্ণসুধা। রোদ উঠবে ভেবে সে চারুকে কিছু কথা বলতে চাইল। কতদিন আর সে আছে কে বলতে পারে। সে:কিছু আশার কথা বলল। কার কপালে কিডা লেখা আছে কোন মনিষ্যি জানে। তুই যে রাজরানী হবি না অ্যাডাও কেউ হলপ করে বলতে পারে না। তারপর সে গোর্কি বলে একজন মানুষের গল্প করল। চারুর কতদিন পর মনে হল দেশে থাকতে বুড়ো মানুষটা ইস্কুলে মাস্টারি করত।

    বুড়ো এবার কি ভেবে উঠে দাঁড়াল। চারুর চোখও ঘোলা ঘোলা দেখাচ্ছে। একটু চা খেলে শুকনো পরাণডা তাজা হবে। সে থিকথিক কাদা এবং আবর্জনা পার হয়ে এক মগ চা নিয়ে এল। দুজনে খুরিতে ভাগ করে খেল। বৃষ্টি আর আসছে না ভেবে বুড়ো অনেক দিন আগেকার কোন গ্রাম্যসংগীত মিনমিনে গলায় গাইল। তারপর সে তার স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির ভেতর থেকে একটা ভাঙা এনামেলের থালা বের করে নিল। বসে থাকলে চলে না। খেটে খেতে হয়। এই আপ্ত বাক্য সার করে ভিক্ষা করতে বের হয়ে গেল। হোটেলে রেস্তোরাঁয় তার জন্য উদ্বৃত্ত অন্ন থাকে। জীবনটা এভাবে কেটে যাচ্ছে। জীবনটা রাজবাড়ির সদরে ঝোলানো এক হাত গন্ডারের ছবির মতো—মাথা সব সময় উঁচিয়েই আছে।

    কিন্তু কিসে কি হয় বলা যায় না। সমাজের সব ধূর্ত শেয়ালদের মতো মেঘে আকাশটা আবার কালো হয়ে গেল। ফের বৃষ্টি—বর্ষাকাল এসে গেল। বৃষ্টি ঘন নয় অথচ অবিরাম। ফকিরচাঁদের বসবাসের স্থানটুকু আবার ভিজে গেছে। হরিশ সতী কেউ নেই। বৃষ্টির ধান্দা দেখে ভয়ে ফের পালিয়েছে। যেমন পালায়, সময়ে অসময়ে ওদের আর দেখা যায় না। কোথায় যে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়! ফকিরচাঁদ উচ্ছিষ্ট অন্ন খেতে খেতে হাঁ করে থাকল—আকাশের পরিস্থিতি ভাল না। আজ সারাদিন আবার বৃষ্টি হবে। একটু উত্তাপের জন্যে ফের কান্না পাচ্ছিল। ঠান্ডায় মরে পড়ে থাকলে চারুর আর কেউ থাকবে না।

    চারু পাঁচিলের পাশে ফকিরচাঁদকে টেনে তুলল। এই শেষ শুকনো ভাঙা জমি। আর কোথাও নড়বার জায়গা নেই। দুটো কুকুর একটা ভেজা বেড়ালও উঠে এসেছে। কলকাতার বানভাসি জলে বড়ই তারা কাতর। চারুর তলপেট কুঁকড়ে যাচ্ছে এবং ভেঙে যাচ্ছে। চারু নিজের কষ্টের কথা ভুলে গেল। কুকুর বেড়ালের মাঝখানে ফকিরচাঁদকে বসিয়ে রেখেছে। কুকুর বেড়ালের গায়ের ওমে যদি দাদুটা গরম থাকে। ফকিরচাঁদের ঠান্ডা তবু যায় না। কাতরায়। বলে, চারু আমারে নিয়ে যা কোথাও। গরম লেপ তোশক দে। আগুন জ্বাল। নালে আমি মরে যাব। তুরে দেখবেটা কে?

    —কোথায় যাবরে! আমার শরীর দিচ্চে নারে। যুবতী চারু তলপেটে দু-হাত রেখে কথাগুলো বলল।

    ফকিরচাঁদ ফের বলল, আমারে কোথাও নিয়ে চল চারু। ভারি ঠান্ডা—হি হি হি!

    চারুর মনে হচ্ছিল তখন তলপেটের ভিতর গাঁইতি মারছে কেউ। সে কথা বলতে পারছে না।

    বাস ট্রাম যাবার সময় কাদা জল উঠে আসছে ফুটপাতে। ফুটপাত থেকে ঘোলা জল নেমে গেলে প্রায় ঘন কাদায় থিকথিক করছে। ফকিরচাঁদের এখন উঠে দাঁড়াবার পর্যন্ত শক্তি নেই। সে ক্রমেই স্থবির হয়ে পড়ছে। নড়তে পারছে না, গা হাত পা ব্যথা করছে। ঠান্ডায় শরীর অবশ। হিমেল হাওয়ায় তিরতির করে গাছের পাতা নড়ছে।

    থেকে থেকে ট্রাম বাস চলছিল এবং ছাতা মাথায় যারা যাচ্ছে তারা ছাতার জলে আরও ভয়াবহ করে তুলছে ফুটপাথ। ফকিরচাঁদ বুড়ো বলে তার রাগ হচ্ছে। অথচ কি সুন্দর ছিল তার হস্তাক্ষর, পন্ডিত ছিল ফকিরচাঁদ, প্রথমিক বিদ্যালয়ের পন্ডিত তারপর ফকিরচাঁদ পুত্র এবং পরিবারের সবাইকে হারিয়ে দীর্ঘসূত্রতার জন্য ফুটপাতের ফকিরচাঁদ হয়ে গেল।

    এখন দিন নিঃশেষের দিকে। জল এখানেও উঠে আসছে। কুকুর বেড়ালগুলো সময় থাকতেই জলে ঝাঁপিয়ে পড়েছে সাঁতার কাটছে। তাদেরও চাই ডাঙা জমি। পাড়ে যেতে হবে। কুকুর বেড়াল যা বোঝে দাদুটা তাও বোঝে না। চারু ফের দাদুর হাত ধরে জল ভাঙতে থাকল। দাদুকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে। কলার খোলার মত জলের ওপর দিয়ে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সর্বত্র মানুষের ভিড়। পোকার মত থিকথিক করছে। কোথাও সে এতটুকু জায়গা পাচ্ছে না। সামনে পোল, পোলের ওপরে যদি গিয়ে উঠতে পারে। আগে থেকেই সবাই সব টের পায়। গাড়িবারান্দা সব জলের তলায়। মাথার ওপর এক টুকরো ছাদের বড় দরকার। চারু বুঝতে পারছে জায়গা সব গেছে। অগত্যা চারু আর কি করে, টেনে-হিঁচড়ে সেই এক জায়গায় ফিরে আসে।

    ঠান্ডা হাওয়া দিচ্ছে। তখনই চোখে পড়ল একটা চালাঘর। কেউ নেই। কিছু খড়কুটো এবং উচ্ছিষ্ট ভাঙা প্রতিমা। জলে ভিজে জবজবে। তারই আড়ালে ফকির চাঁদকে নিয়ে ঠেলে তুলল। কি করে এমন একটা জায়গা ফাঁকা রয়ে গেছে বোঝা গেল না। রাস্তার আলো এখন ফকিরচাঁদের মুখে। দাড়িতে বিন্দু বিন্দু জল মুক্তোর অক্ষরের মত যেন লেখা, আমার নাম ফকিরচাঁদ শর্মা, নিবাস যশোহর। চোখ সেই ঘোলা ঘোলা। খিছু খেলে যদি শরীরে তাপ ওঠে। চারু ঠান্ডা অড়হরের ডাল রুটি ফকিরচাঁদের মুখে গুঁজে দিতে থাকল।

    ফকিরচাঁদের চোয়াল শক্ত হয়ে যাচ্ছে। খাবার গিলতে পারছে না। সে সামান্য উত্তাপের জন্য চারুর উরুর মধ্যে হাত গুঁজে দিতে চাইল।

    চারু বলল, দাদু তুই ইতর। সর। সর। কে শোনে কার কথা। চারু আর কি করে। ডাকতে থাকল দাদু। ফকিরচাঁদ ঈষৎ চোখ মেলে তাকাল। ভাল লাগছে? দাদু।

    ফকিরচাঁদ বলল, হুঁ।

    আর তখনই চালাটা ঝড়ো বাতাসে উড়িয়ে নিয়ে গেল। ফকিরচাঁদ যেন জোর পাচ্ছে। সে বলল, কি হবে চারু!

    চারু তাড়াতড়ি একটু আশ্রয়ের জন্য হোক অথবা ভীতির জন্য হোক উঠে পড়ল। আশ্রয়ের জন্য সর্বত্র এমন কি গলিঘুঁজির সন্ধানে সে ছুটে বেড়াতে থাকল। চার পাশে শুধু জল, জলে থৈ- থৈ করছে। ট্রাম বাস সব আবার বন্ধ। কেমন একটা মৃত শহরে সে যেন একা। শুধু জলের আর হাওয়ার তীব্র শিস। ছলাৎ ছলাৎ-জঁলে ঢেউ খেলে যাচ্ছে। বাড়িঘরগুলো সব যেন দুলছে। চারু ইলিশ মাছ ভাজার গন্ধ পাচ্ছিল। ঠান্ডায় বাবুরা ঘরে আরামে বসে আছে। খিচুড়ি ইলিশ খাচ্ছে। চারুর বড় ক্ষুধার উদ্রেক হচ্ছে। হাঁটু জলে দাঁড়িয়ে সে ঢোক গিলল।

    আর অধিক রাতে চারু ফিরল নিরাশ হয়ে। তখন তলপেটে ফের সেই ঈশ্বরের কামড়। শরীরটা নুয়ে পড়ছিল। ইতস্তত দূরে দূরে জলের মধ্যে কিছু ট্যাকসি কচ্ছপের মত ভেসে আছে। মানুষ-জন দেখা যাচ্ছে না। দু-পাশের ঘর-বাড়ির দরজা জানালা বন্ধ। চারুর এখন বড় ক্লিষ্ট চেহারা, বড় করুণ। সামনে অন্ধকার চার্চের সামনে হেমলক গাছ। লোহার রেলিং টপকে গেলে ছোট ঘর এবং সেখানে কাঠের কফিনটা মাচানের মত করে রাখা। ভেতরে কবরভূমি। পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু ডাঙা জমি।

    চারু সন্তর্পণে ‘লোহার রেলিং’ টপকে কাঠের কফিনে ঢুকে সন্তান প্রসব করবে ভাবল। তখনই মনে হল ফকিরচাঁদ তার আশায় বসে আছে। না গেলে বুড়োটা আরও হতাশ হয়ে পড়বে। হতাশ হয়ে পড়লে মানুষের বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করে না।

    চারু ধীরে ধীরে রাজবাড়ির দরজায় ঝোলানো এক হাত গন্ডারের ছবির নিচে এসে দাঁড়াল। ওর বুক বেয়ে কান্না উঠে আসছে। কে বা কারা মায় ভগবান তার সব সুখ হরণ করে নিল। তবু সে আসছে। তাকে শক্ত হওয়া দরকার। জন্মের পর এই বুড়োটাই তার সম্বল। আর সেই মোষের মত মানুষটা যাকে সে তার সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছিল, যে চুনগোলা জল ফেলে ঘুঘু পাখিদের উড়িয়ে দিয়ে গেছে অথচ আর ফিরে এল না। সদর দরজায় এক হাত গন্ডারের ছবির নিচে দাঁড়িয়ে চারু কাঁদতে লাগল। বৃষ্টির ঘন ফোঁটা, গাছ-গাছালির অস্পষ্ট ছায়া অথবা সাপ বাঘের ডাকের মত ব্যাঙের ডাক আর নগরীর দুর্ভেদ্য স্বার্থপরতা চারুর দুঃখকে অসহনীয় করে তুলেছে। চারুর শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। এমনকি কুকুর বেড়ালও এই বৃষ্টিতে বের হচ্ছে না। পুলিশ কোথাও পাহারায় নেই। চারু একা। এত বড় শহরের মধ্যে সে একা, এবং একমাত্র সন্তান যে মুখ বার করার জন্য ব্রহ্মান্ডের ভেতর দাপাদাপি করছে। আর তখনই চারু দেখতে পেল সেই পাগল, জনহীন নগরীতে হেঁকে যাচ্ছে দু ঘরের মাঝে অথৈ সমুদ্দুর। পেছনে পাগলিনী। গভীর রাতে আজ দুজনের হাতেই লাঠি। যেন শহরে সব দুষ্কৃতকারীদের খুঁজে বের করার জন্য জল ভেঙে হেঁটে যাচ্ছে। লাঠির মাথায় পালক। চারুর বুকে সাহস জমে গেল।

    চারু তাড়াতাড়ি ফকিরচাঁদের হাত ধরে টানাটানি করতে থাকল। পেয়ে গেছি। —উঠ দাদু উঠ। যাবি। জায়গা

    তারপর চারু ফকিরচাঁদের হাত ধরে টলতে টলতে দোকানগুলি পার হয়ে গেল। ওদের জামাকাপড় জলে ভিজে সপসপ। শীত আরও কনকনে, বাতাস আরও প্রবল। ওরা দুজনেই এবার ঠান্ডা থেকে বাঁচবার জন্য নগ্ন হয়ে গেল। রেলিং টপকে গেলেই মানুষের কফিন। তার মধ্যে ঢুকে বসে থাকলে হিমেল হাওয়া আর দাঁত বসাতে পারবে না। এখন ফকিরচাঁদই সব করছে। কত বড় কথা, তার গাছের গাছ সেই থেকে অঙ্কুর যেন সরলরেখার মত শীর্ণ একটা বরাবর রেখা টেনে যাওয়া। ভারি উত্তেজনা বোধ করছিল ফকির। বংশ রক্ষা হচ্ছে কত তার সুখ এখন। জল ঝড় হিমেল ঠান্ডায় সে আর কাবু হচ্ছে না। চারু পাশে একটা খুঁটি ধরে দাঁড়িয়ে আছে। মাথার ওপরে দেবদারু গাছ, পাশে কবরভূমি, ডাঙা, মাচান এবং আড়ালে আবডালে চারুর সন্তান প্রসব

    মাচানের নিচে চারু ঢুকে যেতেই শুনল কফিনের ভেতর কারা যেন কথা বলছে।

    —কে? কে! এখানেও বেদখল! ফকিরচাঁদ যুবকের মত রুখে দাঁড়াল।

    কফিনের ডালা খুলে একটা কিম্ভূতকিমাকার মুখ উঁকি মারল। সেই পাগলা হরিশ। লম্বা দাঁতটা হিমেল হাওয়ায় আরও লম্বা হয়ে গেছে। তার পাশে আর একটা মুখ। সতীবিবি যেন উঁকি দিয়ে মনুষ্যের অগোপন্ডদের দেখছে। তাজ্জব সে। এখানেও দখল নিয়ে কাড়াকাড়ি।

    ফকিরচাঁদের মনে হল, মানুষই মানুষের সহায়। সে বলল, তোরা সবাই মিলে চারুকে ধর। চারুর বাচ্চা হবে।

    সতী এ-কথায় কোন এক সুদূরের ছবি দেখতে পায়। চারু মা হবে। মা হবার মত মেয়েদের বড় কিছু নেই। ঝড় জলের রেতে মনেই থাকল না মানুষের হারামিপনায় অতিষ্ঠ হয়ে সে পাগল হয়ে গেছে। মস্তিষ্কে পোকা বাসা বেঁধেছে। সে বলল, সর সর। তোরা সরে যা। তোদের দেখলে আমার বমি আসে।

    কি করে আর। ফকিরচাঁদ এবং হরিশ হেমলক গাছটার নিচে গিয়ে বসে থাকল। আর সতী চারুকে বগলদাবা করে তুলে নিল মাচানে। মায়ের মত. স্নেহ এবং করুণা দুচোখে। সে চুমো খেল চারুর ঊরুতে।

    তারপর কফিনের ভেতর সন্তানের জন্ম হলে পাগলিনী গ্রাম্য প্রথায় তিনবার উলু দিল। সেই শব্দের ঝংকারে মনে হচ্ছিল সমুদ্র কোথাও না কোথাও সৃষ্টিকর্তার ভূমিকা পালন করে থাকে, মনে হচ্ছিল এই সংসার হাতি অথবা গন্ডারের ছবির মধ্যে লুকিয়ে থাকে। শুধু কোনও সং যুবকের সংগ্রামের প্রয়োজন। উলু শুনে পাগল শেষ রাতের অন্ধকারে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে উঠল, কে আসবি আয়, সংক্রান্তির মাদল বাজছে আয়। তখন ফকিরচাঁদ ধূসর অন্ধকারে সুন্দর হস্তাক্ষরে শিশুর নামকরণ করে অদৃশ্য এক জগতের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গেল।

    .

    ঠিক তার দুদিন বাদে এক বিকেলে অতীশের ফোনটা সহসা কেমন পাগলা ঘন্টির মত বেজে উঠল। সুধীর চা রেখে গেছে। একগাদা চালান সই বাকি। চা খেয়ে চালানগুলি সই করবে ভাবছিল তখনই ফোন। সে ফোন নিজে তুলল না। কারণ ঠিক এ সময়ে শেঠজী ফোন করে থাকে। ফোনে তাকে জ্বালায়। একবার ধরলে আর ছাড়তে চায় না। সে বেল টিপল এবং সুধীর এলে বলল, দেখ ত কে ফোন করছে। শেঠজী হলে বলবি, বাবু খাচ্ছেন। পরে করবেন।

    সুধীর বলল, বাবু মেয়েছেলে কথা বলছে।

    মেয়েছেলে কে হতে পারে! সে চাটা রেখে ফোন তুলে বলল, হ্যালো।

    —তুই কোথায় ছিলি। ফোনটা কে ধরেছিল!

    —বউরাণী!

    —হ্যাঁ। তোমার মুণ্ডু।

    —কি খবর? ফোন সুধীর ধরেছিল। চা খাচ্ছিলাম।

    —সুধীরটা আবার কে? আমাকে মেয়েছেলে বলে কেন?

    —বেয়ারা।

    —তুমি আস্ত একটা বেয়াড়া মানুষ। তোমাকে নিয়ে অনেক ঝঞ্ঝাট। অতীশের মুখটা কেমন কাল হয়ে গেল। সে এত খাটছে, এত দৌড়ঝাঁপ করছে, কোটা ইম্পোর্ট লাইসেন্স বাড়াবার জন্য কারখানার উন্নতির জন্য, অথচ কিছু করতে পারছে না, সবাই আশা দেয়, আশা মত ভাবে, এবারে ঠিক লাইসেন্স আসবে, কিন্তু এত-কম কেন? যা দরকার তা পাওয়া যায় না কেন? কুম্ভ বলেছে, আমাকে ভার দিন, দেখুন সব হবে, আপনি পারবেন না! সোজা আঙ্গুলে ঘি ওঠে না দাদা।

    —এই তুই কি কালা?

    —না—মানে—-

    —শোন কর্পোরেশনের লোকটাকে ফিরিয়ে দিস না। ওর পাওনাটা দিয়ে দিস।

    সে বুঝতে পারছে, বউরাণী গোপনে তাকে জানিয়ে দিচ্ছে সব। হেলথ লাইসেন্স ট্রেড লাইসেন্সের বাবদ কোন ঘুষ সে দেয় নি। বলে দিয়েছিল, ঠিক আছে নতুন করে অ্যাসেসমেন্ট করুন। যা হবে তাই দেব। তারপরই বুঝতে পারল, কে যেন অলক্ষে বলছে, এটা তোমার বাপের টাকা, তুমি দেবার কে হে। নতুন করে অ্যাসেস করালে, হাজার দেড়ক টাকায় গিয়ে দাঁড়াবে। সেখানে আড়াইশ টাকার প্যাকেট দিলে ঝামেলা চুকে যায়।

    সে বলল, দেখি।

    —লক্ষ্মী ছেলে ওটা দিয়ে দে। সব কাজেই আজকাল ঘুষ দিতে হয়। তুই ত নিচ্ছিস না! কাজ উদ্ধারের জন্য দিচ্ছিস।

    সে আবার বলল, আসুক তো ফের। তারপরই কেন জানি অত্যন্ত বিরক্ত বোধ করে। সে বুঝতে পারে তাকে দিতেই হবে। কিন্তু না দিলে কেমন হয়, দেখা যাক না, কত দূর গড়ায়। শেষ পর্যন্ত সে দেখবে। এবং তক্ষুনি এক নিদারুণ ছবি ভেসে ওঠে। এই কলকাতায় এসে এটা আরও বেশি দেখছে। রাস্তাঘাটে সে দেখছে অসংখ্য আশ্রয়হীন মানুষ। সন্তান-সন্তুতি নিয়ে প্লাইউডের বাক্সে তারা বাস করছে। ঠিক মিণ্টু টুটুলের মত শিশুরা হাত পা ছড়িয়ে বসে আছে। অন্নহীন হাহাকার মুখ। বাপেরা আসছে মুখ কালো করে, মায়েরা পচা দুর্গন্ধযুক্ত আঁশ জড় করে সেদ্ধ করছে। পচা আনাজপাতি সেদ্ধ করছে। যেতে যেতে সে কখনও দাঁড়িয়ে গেছে। ভেতরে এক কঠিন অপ্রত্যাশিত ভয় নাড়া দিয়েছে তখন। যেন শেষ পর্যন্ত কেউ তাকে একটা ফুটপাথের মানুষ বানিয়ে ছাড়বে।

    আসলে অতীশ নিজেকে নিজে ভীষণ ভয় পায়। এবং ভয় পায় বলেই সে তখন খুব সংযত গলায় কথা বলে! সে তার নিজের জন্য ভাবে না। দিন যত যায় তত মনে হয়, দুই শিশু তার পায়ে পায়ে হাঁটছে বড় হচ্ছে। বাবা তাদের জন্য নিয়ে আসবে একটা এলিস-ইন-ওয়ান্ডার ল্যান্ড। সেখানে গাছ, গাছের নিচে প্লাইউডের সংসার, উষ্কখুষ্ক মুখে এক দীর্ঘকায় যুবক দাঁড়িয়ে আছে, ভাবলেই বুকে কি যেন নড়েচড়ে ওঠে।

    —ফের আসুক না আসুক, তুই কুম্ভকে দিয়ে টাকাটা পাঠিয়ে দিস।

    তার কথা বলতে ইচ্ছে হচ্ছিল না। তবু কেন যে বলল, আচ্ছা।

    সঙ্গে সঙ্গে তার মগজের মধ্যে কে নৃত্য করতে থাকে। অট্টহাসি শুনতে পায়। এবং সেই দুৰ্গন্ধ। আজ আবার তাকে একগাদা ধূপকাঠি পোড়াতে হবে। সে তলিয়ে যাবে, তলিয়ে যাচ্ছে, এ-সব পারবে না বলেই ইস্কুল ছেড়ে পালিয়ে এসেছিল। অদৃশ্য দুরাত্মা তাকে দিয়ে ঠিক সেই কাজ করিয়ে নিচ্ছে। সে যেখানে দুরাত্মাও সেখানে।

    বউ-রাণী ফের বলল, কদিন ছুটি নে।

    সহসা এমন কথায় অতীশ শঙ্কা বোধ করল। চার্জ কি তবে বুঝিয়ে দিতে হবে। তারপর ছুটি, তারপর এসে দেখবে কুম্ভ তার চেয়ারে বসে কাজ করছে। কুম্ভ কি অত দূর যাবে—কি জানি, তার হাই উঠল। পরিচিত মানুষদের ছবি চোখে ভেসে উঠল কিছু। কার কাছে যাওয়া যায়।

    বউরাণীর আবার গলা পাওয়া গেল। ভারি সরল মেয়ের মত বলছে, পার্ক স্ট্রীটের বাড়িতে আমার সঙ্গে কদিন থাকবি। কেমন।

    অতীশ কথাটাতে খুব হতভম্ব হয়ে গেল। নির্মলার শরীর খারাপ যাচ্ছে। রোজই আশা করে রাতে নির্মলা ও-ঘর থেকে চলে আসবে। কিন্তু আসে না। শরীরের মধ্যে কি যে থাকে। চোখ জ্বালা করে। তেষ্টা পায়। জানালায় চুপচাপ দাঁড়িয়ে শীত গ্রীষ্মের জোনাকি উড়তে দেখে। নির্মলার বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। নির্মলার শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ শুনতে পায়। কত সহজে নির্মলা ঘুমিয়ে পড়তে পারে। সর্পণে হাত ধরতে চায়। কিন্তু কোথায় যেন বাধে। সে পারে না। অমলা কি বুঝতে পেরেছে, শরীরে তার হাহাকার জমেছে। সে কি জবাবে বলবে ভেবে পেল না। ফোন হাতে নিয়ে বসে থাকল।

    —হ্যালো হ্যালো।

    অতীশ শুকনো গলায় বলল, হ্যাঁ বল।

    —ভয় পেয়ে গেলি বুঝি। আমি তোকে খেয়ে ফেলব ভাবছিস!

    —না মানে, নির্মলার শরীরটা ভাল না অমল।

    —ওকে নিয়ে কোথাও থেকে ঘুরে আয়। ডাল্টনগঞ্জ যাবি। ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। ওখানে আমাদের একটা বাংলো আছে, কোন অসুবিধা হবে না।

    এত টাকা অতীশের নেই। সে বলল, এখন এত দূরে যাওয়া সম্ভব হবে না।

    —তোর ছেলেটা খেতে ফড়িং ধরে বেড়াচ্ছিল। আমাকে দেখে কি হাসি। তোর ছেলেটাকে আমাকে দে না। কিরে দিবি?

    অমলার আজ হয়েছে কি! এক কথা থেকে আরেক কথা। সে বলল, নিও।

    —ঠিক কথা দিচ্ছিস?

    অতীশ বলল, একদিনেই পাগল করে দেবে। যা ছেলে।

    তারপরই খুব গম্ভীর গলা শুনতে পেল বউরাণীর! – শোন কমলা আসবে। কাল রাতে তুই খাবি আমাদের সঙ্গে। একা আসবি না কিন্তু। একা এলে ঢুকতে দেব না। তোর বৌকে আনবি। বাচ্চা দুটোকে আনবি। প্রাণ খুলে একটু আদর করব। আমার তো কেউ নেই। কমলা আছে আর তুই আছিস। রাজেনের আত্মীয়েরাও আমাকে ডাইনী ভাবে রে। শেষের দিকে অমলার কণ্ঠস্বর কেমন ধরে আসছে মনে হল অতীশের।

    অতীশের কেন জানি ভারি কষ্ট হল অমলার জন্য। সেই বিরাট প্রাসাদোপম বাড়ি, সামনে দীঘি, ঝাউগাছ, নদীর চর এবং কাশফুলের কথা মনে হয়। জ্যোৎস্না রাত বিশাল ছাদ, কিছু বালিকার ছুটোছুটি লুকোচুরি খেলার মধ্যে তার এক সময় স্বপ্নময় দিন গেছে। নতুন জায়গা, অপরিচিত মানুষজনের মধ্যে দুই বালিকা অমল কমল তাকে ভারি আপন করে নিয়েছিল। সে তবু রাতে জ্যাঠামশাইয়ের পাশে শুয়ে মার জন্য কাঁদত। ছেলেবেলা মা বাদে মানুষের আর কিছুই থাকে না বুঝি। অথচ এক বছরের ওপর হয়ে গেল, সে বাড়ি যায়নি। মাকে ছাড়া কোথাও এক রাত থাকতে তার ছেলেবেলাতে কত কষ্ট হত। অথচ তারপর নিরুদ্দেশ, কেউ জানে না কোথায় সে। বনি এসে জীবনে আর এক নতুন রহস্য গড়ে দিল। তার মনে হয় এভাবে মানুষ এক জগৎ থেকে আর এক জগতে নিরন্তর সরে যায়। গাছের নিচে দাঁড়িয়ে কেউ কেবল ডাকে। সে কখনও জননী, কখনও জায়া, এক দিগম্ভ থেকে অন্য দিগন্তে। নতুন জগৎ, নতুন চমক, নতুন আকর্ষণ। মানুষ এক দন্ডের জন্য এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে না।

    অমলা বলল, কথা বলছিস না কেন?

    —না ভাবছিলাম …

    —কি এত ভাবিস! তুই নাকি রাতে কি সব করিস?

    —কি করি আবার!

    —মানস বলল, ধূপকাঠি জ্বালিয়ে বসে থাকিস!

    —এটা আমার হয়।

    —কেন হয়?

    —কেন হয় জানি না।

    —তোর জ্যাঠামশাইয়ের মতো কিন্তু হয়ে যাস না।

    অতীশ সরল বালকের মতো হেসে দিল। বলল, তোমার ভয় করে!

    —আমার ভয় কি! আমি তো কাউকে পরোয়া করি না। রাজেনকেও না। মানসকেও না। তারপরই কেমন দুম করে বলে দিল, আমি মা হতে চাই অতীশ। আমার কবে থেকে সেই ইচ্ছে। তুই তো জানিস।

    অতীশের শরীর কাঁটা দিয়ে উঠল। সেই শ্যাওলা ধরা ঘর এবং সেই অন্ধকার এক মরীচিকার মতো, যেন সে ভিতরে ডুবে গেলে প্রথম পাপবোধের কথা এখনও মনে করতে পারে। ঘর থেকে বের হয়ে তার মনে হয়েছিল, সে সাংঘাতিক একটা পাপ কাজ করে ফেলেছে। সেদিন সে একা একা নদীর চরে হেঁটে বেড়িয়েছিল। ওর মনে হয়েছিল, বাড়ি ফিরে গিয়ে যদি মাকে আর দেখতে না পায়। ঈশ্বর বিশ্বাস ছিল তার তখন খুব বেশি। তিনি রাগ করে যদি মাকে নিয়ে যান। যদি গিয়ে দেখতে পায় মার শরীর সাদা চাদরে ঢাকা। সারাদিন সে ভীতু বালকের মতো পালিয়ে বেড়িয়েছিল। অমলা কমলা ডেকে ডেকেও তার সাড়া পায়নি। সে পাগল জ্যাঠামশাইর হাত ধরে নদীর পাড়ে নেমে গেছিল। বার বার বলছিল, ভগবান আমি আর করব না। আমি ভাল হয়ে থাকব। তুমি আমার মাকে ভাল রেখ। এখন তার সেই ঈশ্বরও সম্বল নেই। বড় হয়ে উঠতে উঠতে পরলোক, দেবদেবী ধর্মশাস্ত্র সব মনে হয়েছে তার বানানো কথা। ভয় থেকে সব ঋষি মহাঋষিরা মানুষের জন্য নানারকমের শেষ আশ্রয় বানিয়ে রেখে গেছে। ঠিক তার লেখার মতো, মনে যা আসে, নানারকমের ছবি, অর্থাৎ সে ভিতরে ডুব দিয়ে যা দেখতে পায়, তার কথা লেখা হয়ে উঠে আসে। সেইসব দেবদেবীরাও মানুষের কল্পিত পৃথিবী। তাকে সে গ্রাহ্য করে কি করে!

    অতীশের পলকেই এসব মনে চলে আসে। ভুলেই যায় সে কারও সঙ্গে কথা বলছে। আবার

    হ্যালো, হ্যালো।

    —হ্যাঁ আমি।

    তুই কি মাঝে মাঝে মরে যাস?

    —তাই বলতে পার।

    —আমার মা হওয়ার ব্যাপারটা এত লঘু করে দেখছিস কেন?

    অতীশ কি বলবে! ফোনে এসব কথা বেশি না বলাই ভাল। সে বলল, তুমি তো রোজই আমার বাড়ির পাশ দিয়ে দুমবার সিং-এর সঙ্গে গোয়ালবাড়ির দিকে যাও। কৈ একবারও তো এত বড় সমস্যার কথা তোমার চোখ মুখ দেখে আমার মনে হয় নি। একবারও ডেকে কথা বলনি।

    —তুই রাজবাড়িতে একটা চাকর। একথা ভুলে যাস কেন? তোর বাসার দিকে তাকাব, কথা বলব এত সাহস হয় কি করে!

    তখনই মনে হল, সত্যি সে একজন ক্রীতদাস প্রায়। তার বাড়ির পাশ দিয়ে বউরাণী, অথবা রাজেনদ্রা গেলে সে নিজেকে আড়াল করে রাখে। যেন সে বাড়িতে নেই। তারা ডাকেও না। বরং ওরই উচিত দেখতে পেলে ছুটে যাওয়া। অন্য আমলাদের মতো দেখা হলেই হাত জোড় করে দাঁড়িয়ে থাকা। সে সেটা পারে না বলেই যতটা পারে এড়িয়ে চলে। একবার বাড়ি ফেরার সময় দেখেছিল, রাজার গাড়ি বের হয়ে যাচ্ছে। দু’পাশে যারাই রয়েছে হাত জোড় করে আছে। এমন কি ছোট ছোট শিশুরাও। সেখানে সে মিণ্টুকেও দেখেছিল। রাজার গাড়ি গেলে বাড়িতে এই নিয়ম। ছোট্ট মেয়ে মিণ্টু যার কচি কাঁচা দাঁত, যে ভাইয়ের হাত ধরে শুধু গাছপালার মধ্যে আমলকীর বনে ঘুরে বেড়াতে ভালবাসে, সেও সবার মতো হাত জোড় করে দাঁড়িয়ে আছে। আর তাতেই ওর পায়ের রক্ত মাথায় উঠে যায়। ভারি অপমান বোধ করে সে।

    সে মিণ্টুকে বলেছিল, এস। মিণ্টু বাবাকে দেখেই ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, বাবা, বাবা রাজার গাড়ি। পাশে টুটুল। মিণ্টু টুটুলের হাত ধরে হাত জোড় করা শেখাচ্ছিল। সব ওর চোখে পড়েছে। এবং সে অন্য দিনের মতো দু’জনের কাউকেই বুকে তুলে নিতে পারে নি। অপমান বোধে তার কান মাথা ঝাঁ ঝাঁ করছিল। সে শুধু বলেছিল, এস। কথা আছে। কিছুই বোঝে না শিশুরা। তারা দেখতে পায় তাদের এমন সুন্দর বাবা কেমন গুম মেরে আছে। ভয়ে ভয়ে পায়ে পায়ে ওরা গুটি গুটি হেঁটে আসছে। তারপরই যা হয়ে থাকে, শিশুদের মায়া অতীশের বুকে কেমন ঝড় তুলে দেয়। শিশুরা তাকে ভয় পাচ্ছে। যেন এর চেয়ে বড় অপরাধ কিছু নেই। ঝাঁপিয়ে সে ওদের বুকে তুলে নিয়ে বাসায় ঢোকার সময় বলেছিল, যখন তখন এ-ভাবে হাত জোড় করে দাঁড়িয়ে থাকবে না। আমি এতে কষ্ট পাই।

    টুটুল বাবার গালে চুমু খেয়ে বলেছিল, আর কব্ব না। শিশুরাও বোঝে বিষয়টা। অথচ সে বোঝে না, সে ভুলে যায় সব। সে বলল, আর কিছু বলবে অমলা!

    —আমার খুশি বলব কি বলব না। তুই ফোন ধরে বসে থাক। যখন তখন আমি এবার থেকে তোর সঙ্গে কথা বলব। তারপরই হাসতে হাসতে বলল, তোর খুব অহংকার না রে?

    —কিসের অহংকার অমল!

    —আছে। আছে। আমি সব বুঝি। তুইও একটা স্বৈরাচারী। যা ভাবিস তাই করিস। এক চুল নড়তে চাস না। শোন, তারপর যেন উপদেশ দেবার মতো বলল, আমরা সবাই তারের খেলা দেখাচ্ছি। যে কোন মুহূর্তে পড়ে যেতে পারি। তবে এত ভেবে মরব কেন রে! আমরা সবাই তারের ওপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি। তারপরই খুট শব্দ। অমল ফোন কেটে দিয়েছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআওরঙ্গজেব : ব্যক্তি ও কল্পকথা – অড্রি ট্রুসকে
    Next Article মানুষের ঘরবাড়ি – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }