Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ঈশ্বরের বাগান – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

    লেখক এক পাতা গল্প1863 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ঈশ্বরের বাগান – ৪৭

    ।। সাতচল্লিশ।।

    গহর রাজবাড়ির দিকে গাড়িটা ঘুরিয়ে দিল। সামনে বিশাল লোহার দরজা।

    গাড়ি ঢুকতে চায়, কার গাড়ী সাদেক চেনে না, তবু গাড়ি প্যাঁক প্যাঁক করলে সে বন্দুকের নলে হাত রেখে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। বাঁহাতে বন্দুক বগলে করে ডান হাতে দরজা খুলে দিতে ছোটে। গাড়ি ভিতরে ঢুকে গেলেই স্যালুট।

    ফতিমা গাড়ি থেকে নেমে সোজা কিছুটা হেঁটে গেল। সে রাজবাড়ির আদব-কায়দা কিছু জেনে গেছে। গাড়ি নিয়ে অন্দরে যাওয়া যাবে না। একমাত্র বউরাণীর গাড়ি ছাড়া অন্য গাড়ি অন্দরে ঢোকার নিয়ম নেই। টেনিস কোর্টের পাশে গাড়ি পার্ক করার জায়গা—পাশে মাধবীলতার একটা কুঞ্জ আছে। তারপর দু-তলা লম্বা টানা মেসবাড়ি—নিচে এক প্রস্ত লোক থাকে, উপরে এক প্রস্ত। নিচে কয়লার উনুনে আঁচ দিচ্ছে কেউ। নতুন বাড়ির জানালায় দেখল, তাকে কেউ দেখছে। আসলে ফতিমা এত লম্বা আর এমন চোখ-মুখ এবং লাবণ্যভরা যে সে রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে মশামাছি পর্যন্ত উড়ে যেতে চায় না। বসে থাকে—অদ্ভুত জানালায় বাবুটির মুখ দেখে এমনই মনে হলো। ঠোঁট চেপে হাসল। লোকটা কে? কালো-ডুসমা, মোটা গোঁফ, বয়স ত্রিশ-বত্রিশ হতে পারে—সে ঘাড় ফিরিয়ে দেখল। লোকটা এক জানলা থেকে অন্য জানালায় এসে দাঁড়িয়েছে। সে কোথায় যায় লক্ষ্য রাখছে। এটা অবশ্য এখানে নয়, সর্বত্র। হঠাৎ মনে হলো ফতিমার, অযথা রাগ করছে—তার মার্জিত রুচিবোধই পুরুষ মানুষকে সম্ভবত আকর্ষণীয় করে তোলে। তার হাঁটার ছন্দ আছে কিংবা শরীরে পদ্মপাতার মতো সুযমা—এটা সে রাস্তায় বের হলেই টের পায়, দেশে বিদেশে সব জায়গায়। যাই হোক, জানলাটা পার হলেই পাতাবাহারের গাছ—অহ, সোনাবাবু, টুটুল মিণ্টু।

    সে সিঁড়িতে উঠে দরজায় কড়া নাড়ল।

    সঙ্গে সঙ্গে দুপদাপ, এটা পড়ছে, ওটা ভাঙছে—কে আগে এসে দরজা খুলবে—এবং মিণ্টু যেন কাকে বলছে, তুমি না আমি। দরজা খুলে দেখো! তারপরই ঝপাং শব্দ। মিণ্টু দরজায় ঠেস দিয়ে বোধহয় দাঁড়িয়েছে। ফতিমা বাইরে থেকে কিছু বুঝতে পারছে না।

    কে? মিণ্টুর গলার স্বর ফতিমা বুঝতে পারছে।

    পাকিস্তানের পিসি। দরজা খোল।

    সঙ্গে সঙ্গে দরজা খুলে গেল না। দরজায় তালা দেওয়া ভিতর থেকে। দরজা খুলতে মিণ্টুর দেরি হচ্ছে।

    কিরে দরজা খোল। ফতিমার যেন তর সইছে না। সুখিদি কোথায়?

    দাঁড়াও, খুলছি। সুখিদি যে তালা দিয়ে রাখতে বলল।

    সুখিদি কোথায়? তালা দিয়ে রাখতে বলেছে কেন?

    মালিপাড়ায় গেছে। আমাকে বলল, মিণ্টু তালা দিয়ে দে। টুটুলকে সামলাতে পারবি না। আবার পালাবে!

    টুটুল দিদির পিঠে দুমদাম করে কিল বসাচ্ছে।—আমি পালাই। তুই পাকিস্তানের পিসিকে বলেছিস আমি পালাই। না পিসি, আমি পালাই না। দিদি মিছে কথা বলছে।

    মিণ্টু তাড়াতাড়ি করতে গিয়ে চাবি গুলিয়ে ফেলছে। সে খুলতে পারছে না।

    ফতিমার কেন যে মনে হলো, টুটুল মিণ্টু সত্যি যেন অনাথ। অনাথ শিশুদের জন্য তার মায়া হয়। এই দুই শিশু যেন সোনাবাবু আর সে। সেই শৈশব ছেড়ে এসে, খোলামেলা আকাশ, ঘাস, কীটপতঙ্গ ফেলে এসে এই এক অন্ধকার পুরানো ভাঙ্গা নোনাধরা ইট বালি খসা বাড়িতে ঢুকে গিয়ে বন্দী হয়ে আছে তারা। দুই শিশুকে বন্দী রেখে নিজের শৈশবের উপর প্রতিশোধ নিচ্ছেন সোনাবাবু এরা জানেই না, সেই গভীর গম্ভীর প্রকৃতির ভিতর, হাসান-পীরের দরগা কিংবা আরও দুরে গোপেরবাগ গেলে, বিশাল এক অরণ্য কিংবা কবিরাজবাড়ির মঞ্জুদের সেই পুকুর এবং তার চারপাশে কত গাছ, কবিরাজি ওষুধে লাগে—কিংবা কাছারি বাড়িতে জাম্বুরা কমপিটিশন, ফতিমার কাজ ছিল, জাম্বুরার খবর দেওয়া। মতির মা কোথায়, বাড়ি না মাঝিবাড়ি গেছে তার খবর দেওয়া সোনাবাবুকে। অথবা ঘোড়দৌড়ের মাঠে, কিংবা মেলায় বান্নিতে বাবুটিকে সঙ্গে নিয়ে তার নিখোঁজ হয়ে যেতে ভাল লাগত ঈশম চাচা খুঁজে বেড়াচ্ছেন, মেলায়। খুঁজে বেড়াচ্ছেন মন্দিরের পেছনে করবী গোটার জঙ্গলে।

    সোনাবাবু গেলেন কই? ঈশম হাঁকছে।

    আর তখনই তালা খুলে দুজনেই ঝাঁপিয়ে পড়ল। টুটুলের নাকে সর্দির পোঁটা। গায়ে জামা নেই। শীত পড়তে শুরু করেছে। কী আক্কেল রে বাবা! সুখিদির কি মায়াদয়া নেই! বাচ্চা দুটোকে এ-ভাবে কেউ ফেলে রেখে যায়! খালি গা টুটুলের। সর্দিতে ভড় ভড় করছে। ঋতু পরিবর্তনের সময়। সোনাবাবুই বা কেমন! যাবার সময় বলে যাবে না! সারা বাসাটা কেমন শুনশান। অন্দরমহলের এদিকটা একেবারে নির্জন। কিছু হলে শত ডাকাডাকিতেও সাড়া পাবে না কেউ। ভিতরে ক্ষোভ-জ্বালা এবং অতিশয় এক উষ্ণতায় নিজেকে স্থির রাখতে পারল না। টুটুলকে কোলে তুলে নিয়ে বলল, নাকে পোঁটা—এ্যাঁ —ঘেন্নাপিত্তি নেই। আজ আর আপনি আপনি করতে পারল না ফতিমা। বলে বাঁ হাতে নাকের পোঁটা ঝেড়ে সামনের বাথরুমে ঢুকে গেল। হাত ধুল তারপর আঁচল দিয়ে মুখ মুছিয়ে দিল। টুটুলও কী বোঝে আশ্চর্য উষ্ণতা রয়েছে পিসির শরীরে! সে একেবারে শরীরের সঙ্গে মিশে গেছে। বুকের ভিতর মাথা গুঁজে দিয়েছে।

    ফতিমা বলল, মিণ্টু, তুই ভাইকে জামা পরিয়ে দিতে পারিস না। কাশছে।

    ফতিমা করিডরে ঢুকেছে, বাথরুমে ঢুকেছে—আর বেশি ভিতরে ঢোকা কতটা ঠিক হবে বুঝতে পারছে না। যেন আজও তার সিঁড়িতে বসে থাকাই উচিত ছিল। সে ভেবেছিল, সিঁড়িতে বসেই বলবে, সুখিদি চলো। তোমাদের নিয়ে একটু ঘুরে আসি। সুখি যে এ-বাড়ির কাজের মেয়ে সে টের পেয়েছে। কিন্তু সুখিদির আচরণে নিজের আত্মীয় গোছের ভাব। সেটা সে ভাঙতে চায় না। এতে আহত হতে পারে সুখিদি। সে টুটুলকে খালি গায়ে দেখেই স্থির থাকতে পারেনি। মেজাজ গরম। টুটুল কথা বলছিল, আর কাশছিল। নাকের পোঁটা ঝুলছে।

    করিডরে দাঁড়িয়েই বলল, টুটুলের জামা দে তো মিণ্টু।

    মিণ্টু পিসির হাত ধরে বলছে, ভিতরে এসো না পিসি।

    তুই নিয়ে আয় না।

    না, ভিতরে এসো!

    তোর বাবা এসে আর একটা কান্ড বাধাক! নিয়ে আয় না। বড়রা বললে কথা শুনতে হয় জানিস।

    টুটুল কোল থেকে কিছুতেই নামবে না। সে আঁকড়ে ধরে আছে পিসিকে।

    বাবা কী বলেছে জানো? মিণ্টু না বলে থাকতে পারল না।

    কি বলেছে?

    হাত ধরে ভিতরে টেনে আনতে পারলি না পিসিকে, বাইরে বসিয়ে রাখলি! ভিতরে না এলে জানো, বাবা খুব রাগ করবে!

    করিডরের দরজা থেকেই ফতিমা উঁকি দিল। রাজার কারখানার ম্যানেজার, তার এই হাল! খালি তক্তপোশ। তোযক চাদর উল্টে রাখা। দাপাদাপি করলেও তোষক চাদর নোংরা হবে না। সারা দিনমানের জন্য দুই শিশুর কারাগারটির বন্দোবস্তু বেশ। ঘর পার হলে সামনে দরজা। পরের ঘরটার আংশিক চোখে পড়ে। ও-ঘরের শেষ দেয়ালে একটা ছোট জানালা। তাও আবার অনেক উঁচুতে। একটা টুলের উপর দাঁড়ালে জানালার ও-পাশে কী আছে দেখা যেতে পারে। শেষ ঘরটায়ও একটা তক্তপোশ আছে। দুটো কালো রঙের ট্রাঙ্ক এ-ঘরের তক্তপোশের নিচে। একপাশে আলনা। কিছু জামাকাপড়। মেঝে চটাঠা। সিলিং এত উঁচুতে যে ফ্যানের রড বেশ লম্বা। ঝুলকালি লেগে ব্লেড নোংরা হয়ে আছে। বাবু বিবি আছেন তবে বেশ মেজাজে।

    মিণ্টু হাত ধরে টানছে।

    —এসো না। দাঁড়িয়ে থাকলে কেন!

    তোকে তো বললাম, টুটুলের জামা দিতে। বলেই কপালে হাত রেখে দেখল, যদি জ্বর-জ্বালা হয়! না, টুটুলের গা বরফের মতো ঠান্ডা। সে আঁচল দিয়ে টুটুলের গা ঢেকে দিল। ঘরে ঢুকতে সংকোচ হচ্ছে।

    স্বভাব। সে তো আর বিদেশে নেই—তার সেই অহঙ্কারও যেন নেই। সে কেন যে ভিতরে ঢুকতে সাহস পাচ্ছে না। সোনাবাবু তাকে রাস্তায় ছেড়ে দিয়ে চলে এসেছিলেন। সোনাবাবু চান না এতদিনের সংস্কার ফতিমা এক লহমায় চুরমার করে দিক। কিন্তু মিণ্টু যে বলল, ভিতরে না ঢুকলে সোনাবাবু রাগ করবেন। তবে সেদিন নিয়ে এলেন না কেন! সোনাবাবুর মর্জি সে ঠিক তখনও বুঝে উঠতে পারত না। বিশ-বাইশ বছর বাদে দেখা হবার পরও বুঝতে পারছে না।

    ফতিমা টুটুলকে কোল থেকে নামিয়ে হাঁটু গেড়ে বসল। চুল এলোমেলো। মনে হয় স্নানটান হয়নি। চুল আঁচড়ে দিতে ইচ্ছে হচ্ছে।

    —ফতিমার কেন যে এত প্রশ্ন উঠে আসছে—

    —সকালে কি খেয়েছিস?

    —রুটি খেয়েছি। দুধ খেয়েছি।

    —দুপুরে কি খাবি?

    —দুপুরে কি খাবে মিণ্টু ঠিক বলতে পারল না।

    —তোর বাবা কখন বের হয়েছে?

    —আটটায়।

    —বাজার কে করে?

    —বাবা সকালে উঠেই তো বাজারে যায়।

    —তোর মা কবে আসবে?

    —বড়দিনের ছুটিতে মা আসবে। মা লিখেছে জানো, আমরা যেন ভাল হয়ে থাকি। বাবার কথা শুনি। মিণ্টু বলল।

    —আর কিছু লেখে না?

    —লেখে তো! জানো মা-র চিঠি না পেলে বাবা কেমন হয়ে যায়। একবার জানো বাবা না আমাদের না বলে কয়ে মা-র কাছে চলে গেছিল। আমরা সারারাত ঘুমাইনি। রাজবাড়ির সবাই ছুটে এসেছিল। হাসি কাকিমা আমাদের নিয়ে গেল।

    না, আর কিছু শুনতে তার ভাল লাগছে না। সোনাবাবু এ দেশে এসে অথৈ জলে পড়ে গেছেন। মতি স্থির নেই। ঠিক হয়েছে! বোঝো, এখন কেমন লাগে। বেহেসতে চলে এলেন। এই দশা এখন। ঠিক হয়েছে! ফতিমা নিজের সঙ্গেই চোপা শুরু করেছে। তারপর সে কী ভেবে বলল, যা তো সুখিদিকে ডেকে আন। মিণ্টু ছুটে গেল। করিডর পার হয়ে ছুটে গেল দু-লাফে। টুটুলও বলল, আমি যাব দিদি। ফতিমা কিছুতেই কোলে ধরে রাখতে পারল না। করিডরের সদর দরজা খুলে ছুট।

    ফতিমা একা। চোরের মতো গোপনে ঘরে ঢুকে দেখল, সামনের ঘরটায় এক কোণে টেবিল চেয়ারও আছে। কিছু বই। পাশে র‍্যাক। র‍্যাকের উপর একটা বই। ছাপার অক্ষরে বইটার উপর সোনাবাবুর নাম—অতীশ দীপঙ্কর ভৌমিক! সোনাবাবু লেখেন। গল্প উপন্যাস লেখেন! সে জানেই না খবরটা। উপন্যাসের নাম, ‘রক্তাক্ত দিনকাল’। সে বইটা খুলে দু-চার লাইন পড়ে রেখে দিল। একটা সাপ্তাহিক কাগজ—তাতেও সোনাবাবুর গুরুগম্ভীর গল্প। সে বই পত্রিকা জায়গারটা জায়গায় রেখে, করিডরে ফিরে এল।

    এ-যেন কোনো দিনরাতের বহির্ভূত ছবি—অনড় অচল এক গহ্বর এবং অন্ধকার ব্যতীত আর কিছুই নেই এই বাসা-বাড়িটায়। শুধু চঞ্চল বালক-বালিকা থাকে—আপনমনে —খেলা করে বেড়ায়। তারাও নেই। গেল কোথায়! মুহূর্তে ফতিমা কেমন ঘোরে পড়ে দেয়ালে ঠেস দিয়ে দাঁড়াল। কেমন ভুতুড়ে বাড়ি মনে হচ্ছে। টুটুল মিণ্টুকে একা রেখে যায় কোন সাহসে! কেমন দমবন্ধ ভাব। এত বড় দরজা জানালা, সামনে পাতাবাহারের গাছ, বাইরে নতুন বাড়ি, সব সবুজ বৃক্ষ, শুধু আমলাদের জন্য জরাজীর্ণ পুরোনো নোনাধরা বাড়িঘর। তারস্বরে কয়েকটা কাক ডেকে গেল। নিঝুম অন্তহীন নৈঃশব্দ তারপর। ফতিমা দেখল টুটুল ঢুকে গেছে একলাফে। পিসিকে জড়িয়ে ধরতেই ফতিমা বলল, মিণ্টু কোথায়?

    সুখিদি না বাড়ি নেই!

    কোথায় গেল!

    সুখিদির মা বলল, কুম্ভ কাকার বাড়ি গ্যাছে।

    কুম্ভ কাকা কে তোর?

    বাবার সঙ্গে অফিসে যায়।

    আর তোরা বাড়িতে থাকিস! তোদের কেউ নেই দেখছি! জামা আন। কোথায় জামা? কখন থেকে বলছি! জ্বরজ্বালা হলে কে দেখবে তোদের!

    টুটুল তার জামা এনে দিলে ফতিমা পরিয়ে দিল। জামায় বোতাম নেই!

    ফতিমার যত রাগ এখন সোনাবাবুর উপর। সত্যি অমানুষ! দেবদূতের মতো ছোট শিশুটির বুকে কান পেতে কি শুনল। ধুকপুক। এই এক একঘেয়ে শব্দ এবং প্রাণ তাজা থাকে, উষ্ণ রাখে শরীর। সে তার ব্লাউজের সেফিটিপিন খুলে, জামায় পরিয়ে দিল। হাঁটু মুড়ে প্যান্ট পরিয়ে জুতো বের করে আনল। সে যেন এই শিশুকে নিয়ে সত্যি কোথাও চলে যাবে অথবা তার মধ্যে গানের স্বরলিপি উঠে আসছে—অয়ি ভুবনমনোমোহিনী।

    আর তখনই মিণ্টু হাজির। সুখিদি হাজির। তাকে দেখে কিছুটা বিব্রত। পাকিস্তানের পিসির এ-সময় আসাটা সুখি ভাল চোখে দেখছে না। সেদিনও অসময়ে এসেছিল। কাকার জন্য বসে থাকেনি। যাবার সময় বলে গেছে, আবার আসব। কাকার সঙ্গে সত্যিকারের কি সম্পর্ক তাও জানে না। মিণ্টু তার পাকিস্তানের পিসির গাড়ি আছে সবাইকে বলে এসেছে। পিসি, টুটুলকে মিণ্টুকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় যাবে তাও বলে এসেছে।

    সুখি বলল, দিদি, ওরা যাবে কী করে, কাকা তো বাড়ি নেই!

    আপনে যাবেন সঙ্গে। ওদের ভাল লাগবে। আমি থাকব। গাড়িতে আর কতক্ষণ। বাবু আসার অনেক আগেই ফিরে আসতে পারব। কোথাও খেয়ে নেওয়া যাবে। মন মানছিল না, চলে এলাম।

    কিন্তু দিদি, কাকা এসে বকাঝকা করবেন!

    মিণ্টু বলল, হ্যাঁ করবে! বাবা কিছু বলবে না পিসি। বাবা তো বলে, তোদের কেউ নেই। তোরা দেখলিই না, আমরা কি দেখিনি পিসি?

    তোদের বাবা যা দেখেছেন।

    বাবা কি দেখেছে?

    তোদের বাবা তো জানতেনই না, একা এভাবে ঘরে তালাবন্ধ করে থাকতে হয়।

    সুখি বুঝল, ঠিক ধরে ফেলেছে। কাকিমা বার বার বলে গেছেন, ওদের একা ফেলে কোথাও যাবি না। কাঁহাতক ভাল লাগে। স্কুল থাকলে, ওদের স্কুলে দিয়ে এলেই তার ছুটি। সে তখন স্বাধীন। এর ওর বাসায় হয় গল্প, নয় কাবুলবাবুর ঘরে ঢুকে ফষ্টিনষ্টি করা—কাবুলবাবু কী চায় সে জানে—তবে সে যদি কিছু করে ফেলে, কাবুলবাবুর দোষ হবে না—কিন্তু আকর্ষণ বলে কথা! এবং শরীর বড় জ্বালায়। মাঝে মাঝে চুরি করে সে কাকাকেও দেখতে ভালবাসে। আসলে তার সাহস নেই, সে ভীত হয়ে পড়ে। তার এই ভীরু স্বভাবই তাকে আত্মরক্ষা করতে শিখিয়েছে। সে তো জানে—রাজবাড়িতে তবে ঢি ঢি পড়ে যাবে। রাজবাড়ি থেকে বের করে দিলে কাগে-রগে ঠোকরাবে।

    সুখি বলল, আদা ছিল না দিদি, আদা আনতে গেছিলাম।

    সুখি মিছে কথা বলল। এটা যে কত বড় অপরাধ সে বুঝতে পারছে।

    সুখি তাদের ফেলে রেখে গেলে মিণ্টু খুশিই হয়। তখন ভাইয়ের উপর তার যত শাসন। ভাইকে শাসন করার এমন সুযোগ সে ছাড়তে রাজি না। বাবা এলে কখনও সে নালিশ দেয় না, সুখিদি বাড়ি ছিল না। তাদের ফেলে চলে গেছিল।

    ফতিমা বলল, আপনি রেডি হয়ে নিন। সে ঘড়ি দেখে বুঝল, দশটা বাজে। এ-সময় রাস্তায় বেশ জ্যাম হয়। তবু চল্লিশ-পঁয়তাল্লিশ মিনিট সময় লাগতে পারে। ঘন্টাখানেকও লাগতে পারে। বেশিও লাগতে পারে। যাই লাগুক, দুই শিশুকে পাশে বসিয়ে, রেড রোড ধরে যাবার আগ্রহ তাকে পাগল করে দিচ্ছে।

    গাড়ি রেড রোডে পড়তেই ফতিমা বলল, তোরা গান গাইতে পারিস?

    যেন গাড়িতে তুলে আর দূরে সরিয়ে রাখা যায় না। আপনি না, তুমি না, একেবারে নিজের সন্তানের মতো দুপাশে দুজনকে বসিয়ে রেখেছে। স্নো, পাউডার মাখিয়ে, রিবন বেঁধে দিয়েছে মিণ্টুর। চুল আঁচড়ে ক্লিপ এঁটে দিয়েছে। টুটুলকে জুতো মোজা পরিয়ে ফিটফাট বাবু—এবং সর্দি মোছার জন্য রুমাল বের করে সহসা ফতিমা কেন যে বলল, এই, তোরা গান গাইতে পারিস!

    মিণ্টু তক্ষণাৎ লাফিয়ে উঠেছিল, হ্যাঁ পারি।

    টুটুল আরও বেশি জোরে বলে উঠল, আমিও পারি।

    গা দেখি।

    কী গাইব?

    কেন গান?

    গাইব পিসি?

    গাইতে বললাম তো।

    ধনধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা। তাহার মাঝে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা। গাইব? ঘাড় কাত করে ফতিমার দিকে সম্মতির অপেক্ষায় তাকিয়ে আছে মিণ্টু।

    ফতিমা ওদের সঙ্গে গলা মেলাবার সময় বলল, না, ঠিক হচ্ছে না। আমি গাইছি, শোন। ফতিমা সত্যি আজ এক গভীর আনন্দময় জীবনের স্পর্শে সঞ্জীবিত হয়ে উঠেছে—সে হাত তুলে নামিয়ে বলল, এ-ভাবে কেমন। শুরু কর। আমি ধরিয়ে দেব।

    এই শুরু—ধনধান্যে—বলে বেশ টেনে গানের সুরে অবিকল কোনো যাদুর মতো তন্ময়তায় ডুবে গিয়ে বলল, আচ্ছা, এবারে আমার গান—কেমন—

    কী গান পিসি?

    আমি বলছি, মন দিয়ে শুনবি। যেন ছাত্রদের পাঠ দিচ্ছে। মন দিয়ে মুখস্থ করবে।

    ফতিমা চোখ বুজে ফেলল। করতলে তুলে নিল দুই শিশুর হাত। তারপর গাইল—অয়ি ভুবনমনোমোহিনী, অয়ি নির্মল সূর্যকরোজ্জ্বল ধরণী, জগতজননী…।

    টুটুল দেখছে, মিণ্টু দেখছে। অবাক তারা। পিসি অঝোড়ে কাঁদছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআওরঙ্গজেব : ব্যক্তি ও কল্পকথা – অড্রি ট্রুসকে
    Next Article মানুষের ঘরবাড়ি – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }