Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ঈশ্বরের বাগান – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

    লেখক এক পাতা গল্প1863 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ঈশ্বরের বাগান – ৫

    ।। পাঁচ।।

    ফেরার পথে অতীশ বলল, ভাল ধূপকাঠি দরকার। ধূপকাঠি কিনব কুম্ভবাবু।

    কারখানা থেকে গাড়ি বের হতেই অতীশ কথাটা বলল। দু-পাশের বস্তি তখনও শেষ হয়নি। কালীমাতা হোমিওপ্যাথ ডিসপেনসারির সামনে গাড়ি। রাস্তার কলে বালতির লাইন। পাশে বড় বড় ঝাঁকা। বেতের মোড়া লম্বা। ছোলা শসা পেঁয়াজ গুঁড়োলঙ্কায় সাজানো। রাস্তা জুড়ে বসে গেছে হকাররা। রাস্তা জুড়ে কুকুর মুরগি হাঁস। সিটমেটালের ম্যানেজার যাচ্ছেন। গাড়ি দেখে ওরা তাড়াতাড়ি ঝাঁকাগুলি সরিয়ে নিচ্ছে।

    অতীশ দেখল, দাওয়ায় বসে এক বুড়ি নাতিনের উকুন বাছছে। বস্তির উলঙ্গ শিশুরা কোথা থেকে একটা আখ চুরি করে এনেছে—তাই নিয়ে হুটোপাটি। বেওয়ারিশ কুকুর এবং আবর্জনায় ভর্তি চারপাশ। থিকথিক করছে নোংরা জল। তার মধ্যে গাড়িটা দাঁড়িয়ে আছে। ছাগল গরু ঘুরে বেড়াচ্ছে। গাড়ি চালাবার সময় খুব সতর্ক থাকা দরকার। কুম্ভকে এরা চেনে। কেউ কেউ সেলাম ঠুকে গেল।

    কুম্ভ বলল, ভাল ধূপকাঠি আমারও দরকার। ড্রাইভারকে বলল, একটু ঘুরে যাবি। দোকান থেকে ধূপকাঠি কেনার সময় কুম্ভ বলল, আপনার পছন্দ হচ্ছে না?

    —ভাল গন্ধ হবে ত!

    —খুব সুন্দর গন্ধ। নিয়ে দেখুন না।

    —চড়া গন্ধ দরকার।

    —আমার কিন্তু চড়া গন্ধ অতীশবাবু একদম পছন্দ না।

    অতীশ বলতে পারত, আমারও না। কিন্তু এ মুহূর্তে চড়া গন্ধ চাই। এই এক ল্যাটা জীবনে। সে এক ধূপকাঠি কিনতে কিনতেই ফেরার হয়ে যাবে এমন ভাবল। সে প্রায় হামলে তুলে নিল ডজনখানেক ধূপবাতির প্যাকেট।

    কুম্ভ অতীশবাবুর কান্ড দেখে হাঁ হয়ে গেল। এত ধূপকাঠি দিয়ে কি হবে?

    অতীশ কিছু বলল না। দাম মিটিয়ে বলল, চলুন।

    কুম্ভ ভাবল বেশ লোক বটে। এসেই ধূপকাঠি কিনতে শুরু করেছে। সে তবু বলল, দেশে পাঠাবেন বুঝি?

    অতীশ বলল, না।

    —ধূপকাঠি বেশিদিন থাকলে নষ্ট হয়ে যায়।

    অতীশ বলল, জানি।

    কুম্ভ কেন জানি আর কিছু বলতে সাহস পেল না; পাঁচ সাত ঘণ্টা একসঙ্গে কাটিয়ে মনে হয়েছে মানুষটা কথা বলতে বলতে খুব অন্যমনস্ক হয়ে যায়। কাজ বুঝে নেবার সময় না হলে কেউ বলতে পারে না, চলুন বস্তিটা ঘুরে দেখি। মানুষটা লেখালেখি করে। বস্তি দেখার তাই আগ্রহ। কিন্তু বস্তির কিছুটা ভিতরে গিয়েই বলল, থাক চলুন। পরে দেখা যাবে। এই বস্তির মধ্যে মাত্র একটা ন্যাড়া বেলগাছ এবং অশ্বত্থ গাছ দাঁড়িয়ে। আর কিছু নেই। ইলেকট্রিকের তার এদিক-ওদিক ঝুলে আছে। সব খুপরিগুলি আলকাতরায় অথবা পিচের টিনে মোড়া। ছোট ছোট দরজা। মানুষগুলি আরও ছোট, কাকলাশ। দেখে দেখে কুম্ভর অভ্যাস হয়ে গেছে। একটা লোক গামছা পরে শেডের নিচে বসে আছে। চা বানায় লোকটা। গালে বড় জড়ল। চুল সাদা। লোকটা দাওয়ায় ঘুমায়। লোকটার নাম হরকু সিং। নাম শুনেই অতীশবাবু কেমন ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছিল।

    কুম্ভ বলেছিল, আপনি আলাপ করতে পারেন। যদি বলেন অফিসে ডাকিয়ে আনব। বস্তির কেচ্ছা কাহিনী জানে।

    অতীশ বলেছিল, কেচ্ছা কাহিনী লেখার বিষয় হতে পারে না কুম্ভবাবু।

    কুম্ভর তাই ধারণা। সে হিন্দী সিনেমাখোর। বৌ হাসিরাণী প্রায় পারলে এবেলা ওবেলা দেখতে চায়। কোনোও রববার ফাঁক গেলে কুম্ভ জানে বিছানায় বউ ঘেঁষতে দেবে না। ভয়ে সে আগেই সেজন্য টিকিট কেটে রাখে, এবং একটা সপ্তাহ বৌকে তবে বিছানায় উল্টে-পাল্টেনিরাপদে বেশ জুতসই দেখা যায়। হাসিরাণীর রং গৌরবর্ণ। মসৃণ ত্বকে কি সুষমা! রক্তে বিজবিজ করে থোকা থোকা পোকা। ভেতরে কামড়ায়। হিন্দী সিনেমা না দেখলে পোকারা ভেতরে কামড়াতে উদ্‌গ্রীব হয় না। কেমন নিরাসক্ত, ঠেলে ফেলে দেয় বুকের ওপর থেকে। কুম্ভ নিচে গিয়ে শুয়ে থাকে।

    গাড়িটা যাচ্ছে। ট্রাম লাইনে দুটো ট্রাক দাঁড়িয়ে। সিনেমা ভাঙছে। হাউসের গায়ে সাই জোয়ান এক মদ্দ এবং পাশে লম্বা ঠ্যাংখালি করে যুবতী দাঁড়িয়ে। বড়ই কামের উদ্রেক করে। রাস্তায় ভিড়। মানুষজন বাসের জন্য মোড়ে মোড়ে জমা হয়ে আছে। কাদার মতোই থিকথিক করছে মানুষেরা।

    অতীশ এইসব দেখতে দেখতে অন্যমনস্ক থাকতে চাইছে। কারণ গন্ধটা নাক থেকে যাচ্ছে না। সে ধূপকাঠির প্যাকেটগুলি নাকের ডগায় এনে প্রায় উবু হয়ে বসল। কতক্ষণে গাড়িটা রাজবাড়িতে ঢুকবে। ঢুকলেই স্নান, এবং ঘরে ধূপবাতি জ্বেলে দেবে। গন্ধটা তবে নাকে ঝুলে থাকবে না। আর্চির আক্রমণ থেকে রক্ষা পাবে।

    গাড়িটা ওদের রাজবাড়ির সামনে নামিয়ে দিল। বাকি পথটুকু হেঁটে যেতে হবে। প্রথম দিন বলে একটা গাড়ি পাওয়া গেছে। পরে অতীশকে ট্রামে বাসেই যেতে হবে। তার ট্রামে-বাসে ওঠার অভ্যাস একেবারে নেই। রাস্তাঘাটও ভাল চেনে না। সে নামার সময় বলল, কুম্ভবাবু অফিসে যাবার সময় কাল আমাকে ডেকে নেবেন।

    কিন্তু রাজবাড়ি ঢোকার মুখেই দেখল ভেতরে যতদূর দেখা যায়—খালি। একটা লোক নেই। হঠ যা হঠ যা করে চিৎকার করছে একটা লোক। দু’পাশ থেকে লোকজন সরে যাচ্ছে। যদি কেউ সামনে পড়েও যায়, নিথর হয়ে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। এবং হাতজোড় করা সবার।

    সদরের সিপাই হাঁকল, খবরদার রাজার গাড়ি আতা হ্যায়।

    অতীশ দেখল, সাদা রঙের একটা ক্যাডিলাক। ভেতরে রাজেনদা। পাশে মেমসাহেবের মতো ববকাটা চুলের এক যুবতী। চোখে নীল চশমা। ভারি সুন্দর দেখতে এক রহস্যময়ী নারী। চোখ উদাস মনে হল। চশমা খুলে অতীশকে চোখ তুলে দেখেছেও। অতীশেরও চোখে পড়ে গেছে। তারপরই সে কেমন বিমূঢ়। যুবতীকে কোথায় যেন দেখেছে, কতকালের যেন চেনা। কে এই যুবতী এমন মনে হল তার! চেনা। কিন্তু সে তো দীর্ঘদিন বিশেষ করে নিরুদ্দিষ্ট জীবন থেকে ফিরে আসার পর গাঁয়ে ছিল। মাঝে এক বছর একটা কো-এডুকেশন ট্রেনিং কলেজে বি টি পড়েছে। হোস্টেল জীবনের সে কিছু মেয়ের মুখ মনে করার চেষ্টা করল। সবিতা, আরতি, চন্দ্রা, জ্যোৎস্না, পূরবী এক এক করে তার সব সহপাঠিনীদের মুখ মনে করার চেষ্টা করল। না ওদের কেউ এমন দেখতে ছিল না। ওরা কেউ এত সুন্দর, এত লম্বা, এত মহিমময়ী ছিল না। শরীরে নীল রক্ত না থাকলে এমন নমনীয়তা চোখে মুখে কখনও আসে না।

    সদরে সেও এক পাশে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। রাজবাড়ির এই নিয়ম। রাজা বের হলে প্রাসাদের মানুষজনের রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে থাকা। হাত করজোড় করে দাঁড়িয়ে থাকা। সে যত বড় অফিসার হোক রেহাই নেই। অতীশ নতুন। জানে না সব কিছু। সে হাতে ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়েছিল। কুম্ভবাবু বলল, এটা কি করলেন!

    কি হল! তখনই বুঝল, তারও উচিত ছিল কুম্ভবাবুর মতো হাত তুলে কপালে ঠোকা। তারপর বলল, আমি ত জানি না। তারপরই ভেতরে কেমন এক দৈত্য মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। ক্রীতদাসের ভূমিকা পালন করতে হবে ভেবেই মাথার ঘিলুতে জ্বর চলে আসে। সে ভেতরে ভেতরে কেমন ক্ষেপে যায়। শক্ত এবং অমার্জিত গলায় বলল, এটাই এ-বাড়ির নিয়ম বুঝি?

    কুম্ভ বলল, আজ্ঞে তাই। তবে সব ঠিক হয়ে যাবে। থাকতে থাকতে অভ্যাস হয়ে যাবে। আমাদের অভ্যাস হয়ে গেছে। প্রেতাত্মার ভয় থেকেও এই অবমাননার ভয় তীব্র তীক্ষ্ণ। সে আসলে বিভ্রমের মধ্যে পড়ে গেছে। যে গেল সে কে এমন মহামান্য? তার গাড়ি গেলেই করজোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা—ভাবা যায় না। বরং বিদ্রোহ করবে। বিপ্লব করবে এ-বাড়িতে এটা বিপ্লবেরই শামিল। গতকাল সে রাজার সঙ্গে জুতো পরে দেখা করেছে। বাড়িতে এই নিয়ে তোলপাড় গেছে। মানসদাও খবরটা পেয়ে গেছিলেন। একবার সকালে এসে বলে গেলেন, ওহে নবীন যুবক, তোমার ত ভারি আস্পর্ধা হে। রাজার ঘরে জুতো পরে ঢোকো। বেয়াদপ।

    নবীন যুবক হাঁ করে তাকিয়েছিল।

    মানসদা বলেছিলেন, বুটের তলায় যতক্ষণ থাকবে মনে রাখবে ভাল আছ। চুরি কর চামারি কর খুন কর সব মাফ। বের হতে চেয়েছ কি মরেছ।

    অতীশ কি বলতে গেলে এক ধমক দিয়েছিল মানসদা।—দেখ নবীন যুবক, আমি তোমার আগে পৃথিবীতে এসেছি। অনেক দেখা। তুমি মনে করছ দেশ বিদেশ করেছ বলে সব বোঝ সব জান। মোসায়েব বলে একটা কথা আছে অভিধানে। সেটা একবার খুলে পড়ে দেখ। উপকারে লাগবে। তুমি কতটা কাজের তার চেয়ে বেশি দরকার কত বড় তুমি মোসায়েব। ইংরেজ আমল থেকে দেশে সেই এক ট্রাডিশন চলছে। ফক্কা ছক্কা বাইরে চলে, রাজার বাড়িতে চলে না। বলে তিনি তাঁর মুঠো আল্লা করে দেখালেন, কিছুই নেই। তবু কত জোর এই মুঠিতে। চেপে ধর, মনে হবে, বিশ্বসংসার তোমার তালুতে, আম্মা করে দাও, মনে হবে সাঁতার কাটছ।

    সে ভাঙা শ্যাওলাধরা দোতলা বাড়িটার সামনে এসে সকালের কথাগুলি মনে করতে পারল। সৎ মানুষ চাই। সৎ জীবনের আশায় সে এখানে এসেছে। প্রথম সে নির্ভয় পেয়েছিল। এখন মনে হচ্ছে সব ফাঁকা। সে বলল, আচ্ছা কুম্ভবাবু, রাজেনদার পাশে ভদ্রমহিলা কে? প্রায় বিদেশিনীর মত দেখতে।

    —ওরে বাপ, আপনার সঙ্গে কথা বললেও দেখছি কেলেঙ্কারি হবে। বলতে হবে কে? তারপর খুব গলা নামিয়ে ফিস্ ফিস করে বলল, বৌরাণী। সব কব্জা করে ফেলেছে। কুক্ষিগত করেছে সব। এ-সব কথা আবার দু-কান করবেন না যেন। কুম্ভ পরে বলতে যাচ্ছিল, কাছা-আলগা লোক মশাই আপনি। ধরে ফেলেছি। তারপরই সতর্ক করে দিয়ে বলল, দু-কান করবেন না। করলে সোজা মশাই অস্বীকার করব। বাবা বলেছেন, আত্মরক্ষার জন্য সব করা চলে। বাবার কথা খুব মানি। দেখছি এতে আমার উপকারই হয়েছে। অনেক বিপদ আপদ থেকে রক্ষা পেয়ে গেছি।

    কুম্ভ বলল, আর কিছু বলবেন?

    —আচ্ছা বৌরাণীর দেশ কোথায় ছিল জানেন?

    —আপনার দেখছি ভারি ব্যামো আছে। ও দিয়ে কি হবে! আমাদের সাহস আছে জানার!

    —বাঙালী মেয়েরা তো দেখতে এমন হয় না।

    —কে বলেছে বাঙালী। তবে শুনেছি বাপ বাঙালী জমিদার ছিল। বাকিটা ঠিক জানি না। জানলেও বলব না। আপনি আমার ওপরওয়ালা, যদি জোর করে জানতে চান বলতে পারি। ধরা পড়লে বলব, চাকরি রক্ষার্থে বলেছি। তাহলেই দোষ খণ্ডন।

    —না, জানতে চাই না। আর শুনুন, আমি কিন্তু রাতে মেসে খাব। আমার জন্য আর বাড়িতে ঝামেলা বাড়াবেন না।

    কুম্ভ খুব মোলায়েম গলায় বলল, আপনাকে দাদার মতো দেখি বলেই এত জোর গলায় কথা বলি। বাবা বলেছেন, মানুষটা ভাল। সেই থেকে ভাল মানুষ আছেন। তবে কি জানেন, এ-বাড়িতে ভাল মানুষকেই আমাদের ভয়। আপনাকে কোন কথা বলতে ভয় করে।

    অতীশ সিঁড়িতে উঠে যেতে যেতে বলল, আরে না, যত ভাল মানুষ আমাকে আপনারা ভাবছেন, আসলে আমি তত ভাল নই। শেষে নিজের কাছেই জবাবদিহি করার মতো বলল, কি ছোটবাবু ঠিক না! তুমি আড়ালে চলে যাচ্ছ কেন। সামনে এস। আমি ঠিক বলিনি!

    অতীশ দেখতে পেল তার পাশে পাশে ছোটবাবু লাফিয়ে লাফিয়ে উঠছে। ছোটবাবু একটা ক্রস কাঁধে নিয়ে সিঁড়ি ভেঙে টুইন ডেকে উঠছে। পেছনে পেছনে বনি উঠে আসছে। পাশে সেই বুড়ো মানুষ—হাত তুলে দিগন্ত প্রসারিত সমুদ্র দেখিয়ে বলছেন, ইউ উইল কেরি দিস ক্রস।

    অতীশ ছোটবাবুকে প্রশ্ন করল, সেটা মানুষের কতদিন।

    ছোটবাবু বলে যাচ্ছে যেন, আজীবন অতীশ। আজীবন এই ক্রস বহন করে যেতে হয়।

    অতীশ সাহস পেয়ে গেল। এই করে সে তার সাহস ফিরিয়ে আনে। সে তখন আবার স্বাভাবিক,

    সাধারণ মানুষ। কেউ একজন পাশের ঘর থেকে বলল, ফিরলেন?

    —এই ফিরলাম।

    —তাস খেলবেন? পার্টনার পাচ্ছি না।

    অতীশ হেসে বলল, খেলব। তবে শিখিয়ে নিতে হবে।

    —ধুস। আপনি মশাই তবে কি!

    অতীশ বুঝতে পারল, তাঁর সমবয়সী এই যুবকটি আজ অফিস কামাই করেছে। সে যখন বের হয়, তখন সিঁড়িতে দেখেছে শ্যামলা রঙের একটা মেয়ে সিঁড়ি দিয়ে উঠে এই যুবকের ঘরে ঢুকে গেল। কলেজে পড়ে-টড়ে বোধ হয়। হাতে বই খাতা। মেয়েটি এখন না থাকায় নিঃসঙ্গ বোধ করছে। তাকে তাস খেলতে বলছে। তাস খেলা জানে না বলে, উজবুক ভেবেছে। সে যুবকের নাম জানে না। আলাপ করে নাম জেনে নেবার মানসিকতাও তার গড়ে ওঠেনি। ফলে সে দেখেছে, মানুষের সঙ্গে কিছুতেই তার দূরত্ব ঘুচতে চায় না। সে যেখানেই গেছে নিঃসঙ্গ এবং একা হয়ে পড়েছে। এবারে সে ভাবল, এগুলো ভাল লক্ষণ না। এখানকার জীবনও যে তার কাছে সেই অনিশ্চিত সমুদ্র যাত্রার মতো। এখানেও সে চায় কোনো মৈত্রদা তার পাশে থাকুক। সারেঙসাব থাকুন। মাথার ওপর কেউ না কেউ বিশাল বৃক্ষের মতো দাঁড়িয়ে থাকুক জীবনভর। এখানে একমাত্র মানসদাই যেন কিছুটা বৃক্ষের মতো। কিন্তু গতকাল সে যা দেখেছে তারপর এই মানুষের ওপর কতটা নির্ভর করতে পারবে সে ঠিক বুঝতে পারছে না।

    অতীশ গলা বাড়িয়ে বলল, আপনার নামটা জানা গেল না।

    —জয়ন্ত চক্রবর্তী। জয়ন্তু বলে ডাকবেন। এখানে সবাই চক্রবর্তী বলে। এটা আমার ভাল লাগে না।

    —রাজার অফিসেই আছেন?

    —ওরে বাপ, মরে গেলেও না। আমার বাবা করতেন। আমরা কেউ করি না। বাবা আমার রাজার আতঙ্কেই অকালে মরে গেলেন। আসলে এদের মুশকিল কি জানেন, এরা ভাবে তাদের ছেড়ে গেলে আর কোথাও কেউ কাজ করতে পারবে না। বাপের মতো বেটারাও ভিক্ষা চাইতে আসবে।

    অতসব কথা অতীশ শুনতে চায়নি। শুধু সামান্য অন্তরঙ্গ হবার জন্য দুটো একটা কথা বলা। ছেলেটি খুব খোলামেলা কথা বলছে। আরও বলত, কিন্তু হাত মুখ ধুয়ে এখন কিছু খাওয়া দরকার। সন্ধ্যা হয়ে গেছে। মেসবাড়িতে নটায় খাবার দেবে। এর আগে সামান্য কিছু খেয়ে না নিলে খিদেয় কষ্ট পাবে ভাবল। গাড়িবারান্দায় আলো জ্বলে উঠেছে। রাজপ্রাসাদে আলো, নতুন বাড়ির একটা দিকে আলো জ্বলছে। অন্য দিকটা অন্ধকার। নিচে সব অফিস ফেরত মানুষ যে যার ঘরে ঢুকে যাচ্ছে।

    অতীশ বাথরুমে স্নান করে নিল। ঘরে এসে তোয়ালে মেলে দেবার সময় দেখল, জয়ন্ত বারান্দায় রেলিঙে ভর করে কি দেখছে। নাকে রুমাল চাপা এবং সেও একটা পচা গন্ধ পেল। নিচ থেকে খুপরি ঘরগুলোর বাচ্চাদেরও সোরগোল আসছে। সে বলল, কী বিশ্রী পচা গন্ধ!

    —আরে বাইরে এসে দেখুন। মানুষের লাশ। কে গায়েব করে রেখেছিল।

    এমন নিরাসক্ত গলায় জয়ম্ভ কথাটা বলল, যেন এটা কোনও ঘটনাই নয়। সে দৌড়ে বারান্দায় বের হয়ে গেল। দেখল তিন চাকার আবর্জনা টানার টিনের একটা গাড়িতে এ-বাড়ির জমাদার বস্তা ঢেকে কি নিয়ে যাচ্ছে। পেছনে এক দঙ্গল লোক।

    অতীশ মানুষগুলোর কৌতূহল দেখে বুঝল, জয়ন্ত ঠাট্টা করছে। এতটুকু গাড়িতে মানুষের লাশ যায় কি করে। কুকুর বেড়াল মরেছে। সে নাকে রুমাল চাপা দিয়ে ঘরে ফিরে এল।

    জয়ন্ত ওখান থেকে বলল, বিশ্বাস হচ্ছে না! এ বাড়িতে আপনি আসার সঙ্গে সঙ্গে একটা ভ্রূণ হত্যা হয়েছে। লক্ষণ ভাল না।

    অতীশ বলল, তার মানে!

    জয়ন্ত বলল, ভালবাসার দান এখন আঁস্তাকুড়ে। পচে ঢোল। অতীশ কেমন বিমর্ষ হয়ে গেল। এই ঘটনার সঙ্গে তার আসায় একটা সম্পর্ক খুঁজছে জয়ন্ত। সে বলল, হত্যাকারী ধরা পড়েছে?

    —না।

    —প্রাইভেট অফিসে এই নিয়ে ঝামেলা গেল। আমার ডাক পড়েছিল।

    —কেন?

    —যদি জানি। যদি কোন ক্লু দিতে পারি। আসলে এটা তো আর রাজার বাড়ি নেই। চারপাশটা দেখুন বস্তির মতো। ঐ ঘেরাটা দিয়ে রাজা সতীত্ব বাঁচাচ্ছে। কতদিন চলে দেখা যাক। এখন বাড়িতে যত যুবতী মেয়ে আছে ডাক্তার দিয়ে পরীক্ষা করালেই সব ধরা যায়। ওতে কারো গরজ নেই। তখনই কুম্ভবাবু নিচে ছুটে আসছে। হস্তদন্ত হয়ে সিঁড়িতে উঠছে।

    —দাদা শুনেছেন কান্ড?

    —এই ত নিয়ে গেল।

    —বলেন, এ-বাড়িতে কারো থাকতে ইচ্ছে করে। বাড়িটাকে রেন্ডিপাড়া করে ছাড়লি! অতীশ বলল, এতে উত্তেজিত হবার কি আছে!

    —নেই বলছেন! তা হলে নেই। সে উঠে পড়ল। তারপর কেমন উত্তেজিত গলায় বলল, কোথায় ও-সব পয়দা হয় জানা আছে। হাত দিতে পারছি না। যখন দেব না রাজার বাড়ি উল্টে যাবে।

    অতীশের কানে লাগছিল কথাগুলো। বলল, কুম্ভবাবু বসুন। চা আনান কাউকে বলে। কিছু খাবার। অতীশ টাকা বের করে দিল।

    কুম্ভবাবু বেশ প্রফুল্ল হয়ে গেল। এ-বাড়ির সবার ওপর খবরদারি করার একটা হক আছে তার। সে রেলিং-এ ঝুঁকে ডাকল, দেখত, অফিসে কে আছে নকুল। কালীদা পঞ্চানন যেই থাকুক পাঠিয়ে দিবি। নতুন ম্যানেজারবাবুর চা মিষ্টি আনতে হবে।

    চা মিষ্টি খাবার পর কুম্ভবাবু বলল, যাই দাদা, কাল মোহনবাগান ওয়াড়ি খেলা আছে। যাবেন নাকি! টিকিটের জন্য ভাববেন না। কাবুলবাবুকে ধরলেই হবে। রাজার মেম্বারশিপের কার্ড আছে। কাবুলবাবুর আছে। ওকে ধরলে দুটোই পাওয়া যাবে।

    অতীশ দেখল, এই মানুষ কিছুক্ষণ আগে ভেবেছিল, সমাজ সংসার রসাতলে গেল, এই মানুষ সিঙারা মিষ্টি খেয়ে কাল খেলা দেখবে ভেবে উৎফুল্ল হয়ে উঠল। এই মানুষ তার অফিসে তার পরেই জায়গা দখল করে আছে। বছর চারেক হল কাজ করছে। কাজ বোঝে ভাল। আসলে অফিসে সে ওপরওয়ালা না এই কুম্ভবাবু পরে বোধ হয় টের পাওয়া যাবে। অতীশ এ-মুহূর্তে এই নিয়ে খুব দুশ্চিন্তা করা পছন্দ করছে না। এখন তার মনের মধ্যে সেই রহস্যময়ী নারী—কোথায় কখন, কবে কত দূরে কোন অতীতে, তবু এত পরিচিত, যেন কতকাল আগে সে শৈশবে এই মুখটা মনে মনে লালন করেছিল—অথচ মনে করতে পারছে না।

    তখন কুম্ভবাবু বলল, আপনি খাবেন না শুনে বাবা খুব কষ্ট পেয়েছেন। মেসের খাওয়া আপনার সহ্য হবে!

    —সে হয়ে যাবে।

    —শুনছি ত আপনার কোয়ার্টার ঠিক হচ্ছে।

    —আমার কোয়ার্টার!

    —আরে দাদা আপনি খুব গুড বুকে আছেন। চালিয়ে যান। কোথায় যে আপনি সুতো টেনে রেখেছেন কে জানে। আমি একটা আলাদা কোয়ার্টার চাইলুম, কিছুতেই রাজাকে রাজি করানো গেল না। পাশের একটা বাড়তি ঘর দিয়ে দায় চুকিয়ে দিল।

    অতীশ কিছুই শুনছে না। সে কি ভেবে কিছুক্ষণ আচ্ছন্ন থাকার পর বলল, আমি তো কোয়ার্টারের কথা বলিনি কুম্ভবাবু। কারটা আমার ঘাড়ে চাপাচ্ছেন দেখুন!

    কুম্ভবাবু বেঁটে গোলগাল চেহারার মানুষ। মাথায় ঘন চুল, রং ফর্সা। পাতলুন পরনে। জরির কাজ করা পাঞ্জাবি গায়ে। বাপের মতো সৌখিন। কেবল কানে এখনও আতর মাখানো তুলো গোঁজা নেই। বয়স বাড়লে হবে। অফিস থেকে ফিরে স্নান-টান সেরে এসেছে। গলায় ঘাড়ে পাউডার। বেশ সুগন্ধ ছড়াচ্ছিল। সে এখন ঘরটা দেখছে। দোতলায় এটা এখন রাজার গেস্ট-হাউস। বাইরের কেউ এলে থাকে। কুম্ভ এ-ঘরটায় অনেকদিন আসেনি। অতীশ আসায় এ-ঘরটায় আবার আসার সুযোগ পেয়েছে। সে পায়ের ওপর পা রেখে বলল, এ শর্মা দাদা না জেনে কিছু বলে না।

    এ-বাড়ির ওপর অতীশের কৃতজ্ঞতায় মনটা কেমন ভরে গেল। নির্মলা এলে সে এত ভয় পাবে না। নির্মলাও এখন তার কাছে বড় বৃক্ষের মতো। মিণ্টু টুটুল সে। আসার সময় মিণ্টু টুটুল ঘুমিয়েছিল। ফুটফুটে দুটো শিশু জানেই না তাদের বাবা একা পড়ে গিয়ে কত অসহায় বোধ করছে। ভয় পাচ্ছে। এবং যা হয়ে থাকে, তাকে একা পেলেই সেই প্রেতাত্মা গন্ধ ছড়ায়। অফিসে আজ প্রথম গন্ধটা পেয়েছিল। এবং যা করে থাকে, সে এক গাদা ধূপকাঠি কিনে এনেছে। ধূপকাঠি জ্বালিয়ে রাখলে অতীশ দেখেছে গন্ধটা কেমন ক্রমে মরে আসে! সে নিজেই এভাবে আত্মরক্ষার উপায় বের করে নিয়েছে। প্রথম প্রথম সহসা কখনও এভাবে ঘরে ধূপকাঠি রাশি রশি জ্বালিয়ে দিলে নির্মলা বিস্মিত হয়ে বলত, করছ কি! একটা-দুটো জ্বালাও। এত জ্বালাচ্ছ কেন। লোকে তো পাগল বলবে।

    অতীশ নির্মলার কথায় তখন ক্ষেপে যেত। গন্ধটা ছড়ালেই তার মাথা কেমন ঠিক থাকে না। চোখ লাল হয়ে যায়। কথা কম বলে। চুপচাপ বসে থাকে। কেউ কিছু বললেই, চিৎকার করে ওঠে। নির্মলা বুঝতে পারে না কেন এমন হয়, মাঝে মাঝে বিভ্রমে পড়ে গিয়ে কেঁদে ফেলে। আর তখনই অতীশের কি হয়ে যায়। সে নির্মলার প্রতি অহেতুক নিষ্ঠুর আচরণ করছে ভাবে। বলে তুমি ঘাবড়ে যাচ্ছ কেন। মাঝে মাঝে আমার এটা হয়। কিসের গন্ধ পাই। খেতে পারি না। ধূপকাঠি জ্বেলে দিলে স্বস্তি পাই।

    ধূপকাঠি জ্বেলে দিলেই সে আবার ভাল হয়ে যায়। মনের সব ধন্দ ঘুচে যায়। নাক টেনেও তখন আর কোনও গন্ধ পায় না। আজ অফিসে গন্ধটা পাবার পরই সে খুব বিচলিত বোধ করছিল। ফেরার পথে এক ডজন ধূপকাঠি কিনেছে। গাড়িতে প্রেতাত্মার গন্ধটা ভুরভুর করছিল। চোখ লাল হয়ে উঠছিল। পারলে গাড়িতেই যেন সে ধূপকাঠি জ্বালাত। কিন্তু এতে কুম্ভবাবু মাথায় গোলমাল আছে ভাবতে পারে। সেজন্য ধূপকাঠি নাকের কাছে নিয়ে বসে ছিল। আর কখন গন্ধটা নিজ থেকেই উবে গেল। এমন ত হয় না। কখন হল এটা। রাজার দেউড়িতে আসতেই সেই রহস্যময়ী নারী—সে কে? সে এখন রাজার ঘরণী—আগে কি ছিল, কোথায় ছিল, তখনই গন্ধটা বুঝি ভয়ে উড়ে গেছে।

    কুম্ভবাবু বলল, কি ভাবছেন। গল্পের প্লট?

    —না, না।

    —বৌদিকে ফেলে এসে মন খারাপ?

    অতীশ হাসল। বলল, তা বলতে পারেন। রমণীরা ভারি তুকতাক জানে, কোথাকার কে, অথচ দেখুন কেমন মৌরসী পাট্টা গেড়ে বসে গেল। তাকে ফেলে এক-পা নড়া যায় না। কোথাও গেলেই মন কেমন করে।

    —ভাববেন না। কোয়ার্টার পেয়ে যাচ্ছেন। শুনছি তো অন্দরের পাশেই আপনার কোয়ার্টার দেওয়া হবে।

    অতীশের বুকটা ছাঁত করে উঠল। ওদিকটা ত খুব রেসট্রিকটেড জোন। নির্দিষ্ট কিছু আমলা যেতে পারে। বয়বাবুর্চিরা যেতে পারে। জমাদার, পুরনো পাইক বরকন্দাজ যেতে পারে—যারা গতকাল তার সঙ্গে দেখা করে গেছে তারাই রাজবাড়ির সব হালচাল বলে গেছে। ভুলেও ওদিকটা মাড়াবেন না। কৈফিয়ত তলব হবে। খাস খানসামার খুব লাগানো ভাঙানোর স্বভাব।

    এ-বাড়ির কিছু কিছু গোপন খবর খুব সহজেই চাউর হয়ে যায়। কিছু কিছু গোপন খবর দু- একজনের কানে আসে আর অতি গোপন খবর কেউ জানতে পারে না। কুমার বাহাদুর বৌরাণী আর নির্দিষ্ট কিছু আমলা শুধু জানে। কুম্ভ কিছু কিছু গোপন খবর পায়। রাধিকাবাবু পুত্রদের কন্যাদের এই গোপন উৎসের মুখ খুলে দিয়ে প্রমাণ করেন, রাজার তিনি কত বিশ্বস্ত লোক। কুম্ভ বড় হয়ে এটা টের পেয়েছে। বাবার কাছ থেকেই সে জানে, কুমার বাহাদুর বলেছেন, অতীশকে ভাল দেখে একটা কোয়ার্টার দিন। ওর যাতে কোন অসুবিধা না হয় দেখুন।

    বিকেলে বাসায় ফিরেই কুম্ভ সব শুনেছে। শুনেই সে ক্ষেপে গিয়েছিল। আসতে না আসতেই কোয়ার্টার। আমরা ভেসে এসেছি। তবে তার বাবা রাধিকাবাবু রাজার সুপার, সোজা কথা? সে ভাবতে গর্ব বোধ করে। সে বলল, বাবাই কুমার বাহাদুরের কাছে কথাটা তুললেন। অতীশের খুব অসুবিধা হচ্ছে। একা, থাকে কোথায়, খায় কি, কে দেখে? মেসে খেলে অজীর্ণ রোগে ভুগে মারা পড়বে ছেলেটা।

    অতীশ শুনে যাচ্ছিল।

    কুম্ভ বলল, বাবা আপনার খুব সুখ্যাতি করেছেন কুমারবাহাদুরের কাছে।

    অতীশ বলল, আগেকার দিনের মানুষদেরই এই স্বভাব। খুঁটিয়ে দেখে না। ভাল লাগলেই ভাল বলে ফেলে। আমার বাবাকেও দেখেছি এরকমের।

    কুম্ভ বলল, বাবাই কুমারবাহাদুরকে কোয়ার্টারের কথা বললেন। কিন্তু এরা একদম পিচাশ জানেন। থাকলেও দেবে না। কুমারবাহাদুর বলল, কোয়ার্টার কোথায়। ফাঁকা তো একটাও নেই। কিন্তু বাবার সঙ্গে পারবে কেন? বললেন, সোজাসুজি বললেন, দেখুন কুমারবাহাদুর কাজ ভাল চাইলে তাকে সুযোগ- সুবিধা দিতেই হবে। সারাদিন কাজের পর যদি নিজের পরিজন নিয়ে একটু থাকার জায়গা না পায় তো মন দিয়ে কাজ করবে কেন!

    অতীশ এবার প্রশ্ন না করে পারল না, রাজেনদা কি বললেন?

    —এরা কিছু বলতে চায় দাদা? এদের মুখ থেকে কথা খসিয়ে নিতে হয়। বাবা ঠিক খসিয়ে নিয়েছেন। নিধিবাবুর কোয়ার্টার ফাঁকা।

    —নিধিবাবুটা কে?

    —নিউবেঙ্গল টাইপ ফাউন্ড্রির ম্যানেজার। রিটায়ার করেছেন মাস দুই হল। কুমারবাহাদুরের বাবার আমলের লোক। ইদানীং চোখে দেখতে পেতেন না। আশির কাছাকাছি বয়েস। মহারাজার খুব বন্ধুলোক ছিলেন।

    কুম্ভকে এখন অন্যরকম লাগছে। এরা তার ভাল চায়।

    কুম্ভর বাবার প্রতি অতীশের মনটা কৃতজ্ঞতায় ভরে গেল। আসলে বাবার সঙ্গে আলাপ ছিল বলেই হয়ত তাকে খুব স্নেহ করছেন। সে রাতে খাবে না বলায়ও কষ্ট পেয়েছেন। আগেকার আমলের মানুষ বলেই এটা হয়। আজকাল মানুষের মধ্যে এসব গুণ একেবারেই নেই। অতীশের বলার ইচ্ছা হল, আপনার বাবার এ ঋণ শোধ করতে পারব না। কি বলে এখন সে যে কৃতজ্ঞতা জানাবে তার বাবাকে! কিন্তু তার আছে আশ্চর্য এক স্বভাব, সে কিছুতেই খুব বিগলিত হয়ে যেতে পারে না। বিন্দুমাত্র কাউকে তোষামোদও করতে পারে না। কখনই সে ভেতরের কথা প্রকাশ করতে পারে না। সংকোচে পড়ে যায়। সে তখন আবার চুপচাপ বসে থাকে।

    কুম্ভ বলল, কোয়ার্টার পেলে খাওয়াবেন। কত বড় খবর। রাজার খুব নিজের লোক না হলে এখানে কোয়ার্টার মেলে না। আপনি আসতে না আসতেই তার নিজের লোক হয়ে গেলেন। ঈর্যা হয়।

    তারপর কুম্ভ উঠে যাবার সময় বলল, কি খেলা দেখছেন ত?

    অতীশ হেসে বলল, কাল থাক। আর একদিন যাওয়া যাবে।

    কুম্ভ উঠে যাবার সময় ভাবল, বড়ই নীরস লোক। খেলাতে পর্যন্ত উৎসাহ নেই। কি ভাবে লোকটা সব সময়! এত আচ্ছন্ন থাকে কেন! কিছু একটা রহস্য আছে। জাহাজে কাজ করত। স্বভাব-চরিত্র ভাল থাকার কথা না। মেয়েমানুষ ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে বড় রকমের অসুখ বাধিয়েছে। শরীরে ঘা ফুটে বের হলে টের পাওয়া যাবে। এবং সে বের হবার মুখে যাতে ক্ষত ফুটে বের হয় সেই প্রার্থনাই করল ভগবানের কাছে। তারই কথা ছিল, শিট অ্যানড মেটাল প্রিন্টিং পাবলিক লিমিটেডের ম্যানেজার হবার। কিন্তু এত করেও রাজার বিশ্বাস অর্জন করতে পারল না। মনে মনে ভারি আফসোস। কোথা থেকে উটকো লোক রাজা যে ধরে আনল।

    সিঁড়ি ভাঙতে গিয়ে কুম্ভর মাথা গরম হয়ে গেল; যত নামছে, তত গরম হচ্ছে মাথা—সে শেষ পর্যন্ত হেরে গেল। কি না করেছে সে, আগের ম্যানেজারের বাড়ির ছবি তুলে এনে দেখিয়েছে, দেখুন টাকা আপনার কোথায় যায়! কাস্টমারদের ধরে নিয়ে গিয়ে বলেছে, কি পারশেন্টেজে কাজ হয় দেখুন। যতটা ঘটেছিল তার চেয়ে বেশি বানিয়ে বানিয়ে সে প্রথম তার বাবা ওরফে রাধিকাবাবুর মারফত রাজার কান ভারি করেছে। বলেছে, এটা আপনার গোল্ড মাইন। নজর দিন। আপনার পূর্বপুরুষের স্বার্থ রক্ষা করুন। চার বছরে অক্লান্ত খেটে সে কোম্পানীর খুঁটিনাটি বিষয় রপ্ত করেছে। প্রিন্টিং থেকে ফেব্রিকেশনে, কোথাও এতটুকু খুঁত থাকলে ধরতে পারে, শোধরাতে পারে। একাউন্টস তার নখদর্পণে। সেলট্যাকস, ইনকামট্যাকস সে নিজে করতে পারে। ক্যাশ, লেজার, ব্যালেন্সশীট তার কাছে এখন জলভাত। এক আশাতেই সে এতদূর দৌড়ে গেছে। এখন কি না এই হারামজাদা ঘুঘু লোকটা তার বাড়াভাতে ছাই দিয়েছে। গত রাতে পৃথিবীতে সেও আর এক মানুষ যে বিনিদ্র রজনী কাটিয়েছে। এসে গেছে শুনেই তার হৃৎপিণ্ডে কে যেন আগুন নিক্ষেপ করেছিল। সে স্থির থাকতে পারে নি! ছট-ফট করেছে সারারাত। সকালের দিকে ঘুম চোখে লেগে এসেছিল। ঘুম ভাঙলে দেখেছিল, হাসিরাণী ঘরে নেই। কাবলকে দেখার জন্য ঠিক জানালায় পালিয়ে গেছে। তাহলে বল বাবু আমি তোমাকে ক্ষমা করব কেন। তুমি যত ভালমানুষই হও, আমি তোমাকে নরকে নিয়ে যেতে চেষ্টা করব। আমি তো মানুষ।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআওরঙ্গজেব : ব্যক্তি ও কল্পকথা – অড্রি ট্রুসকে
    Next Article মানুষের ঘরবাড়ি – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }