Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ঈশ্বরের বাগান – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

    লেখক এক পাতা গল্প1863 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ঈশ্বরের বাগান – ৫৩

    ।। তিপ্পান।

    বুড়ো রহমত মিঞার কাছারি বাড়িটা দেখা যাচ্ছে। এখানে খুব ঘন নয় নৌকাগুলো। ফাঁকা ফাঁকা নদীর জল ঘোলা। শীতলক্ষ্যার জলের রং কেমন সাদা। এখন তেমন জল নেই। কম জল, কোথাও সেই পার হয় গরু পার হয় গাড়ি, তার ওপর জল এমন ঘোলা যে মুখে দিতে কষ্ট হয়। আর এই জলে কত মৃতদেহ ভাসছে। কাক-শকুন উড়ছে। শহরের কোথাও গাছপালা নেই, কারণ সব গাছপালা কেটে পথ আটকে দেওয়া হচ্ছে। সুতরাং নিশীথে সব শকুনেরা আকাশে উড়ছে কিনা বোঝা যাচ্ছে না। সকাল হলে টের পাবে এই ঘাটে অনেক মৃতদেহ পড়ে আছে। সমসেরদের কেউ আহত হয়নি। কারণ ওরা জানত আক্রমণ অনিবার্য। ওরা খুব সন্তর্পণে চলাফেরা করছিল, ওরা বন্দুকের নল থেকে গুলি বের হলেই নৌকার আড়ালে অথবা জেটির অন্ধকারে লুকিয়ে পড়ছিল। কিন্তু যারা যাবে চরসিন্দুর অথবা কালীগঞ্জে, অথবা যাদের মুন্সিগঞ্জে যাবার কথা, তারা নৌকা ছাড়বে বলে তাড়াতাড়ি শুঁটকি মাছের ঝোল দিয়ে ভাত মেখে বেশ খেয়ে নৌকা ছাড়বে ভেবেছিল, তারা কি করে জানবে, এখানে মুক্তিফৌজের একটা দল মাল পাচার করছে! তারা কি করে জানবে দানবের মত খানেরা এসে কামান দেগে অথবা মেশিনগান দেগে ওদের চিৎপাত করে ফেলে রেখে যাবে! ওরা এমন হবে জানত না, ওরা সোয়ারি নিয়ে রওনা দেবে, তখন কিনা বৃষ্টির মতো গুলি!

    সুতরাং সকাল হলে সবাই টের পাবে অথবা ভয়ে আঁতকে উঠবে এমন এক দৃশ্য নদীর ঘাটে দেখে। চিৎপাত হয়ে রক্তাক্ত শরীর মুখ নিয়ে নিরীহ মানুষেরা নৌকার পাটাতনে পড়ে আছে। খানেরা ভীত, সন্ত্রস্ত। সন্ত্রস্ত না হলে ওরা এভাবে গুলি চালাবে কেন? ওদের কাছে সব মানুষই এদেশের একজন মুক্তিযোদ্ধা। কি যে ওদের ক্যামোফ্লেজ হবে, খানেরা বুঝি তা জানে না।

    গুলির আওয়াজ থেমে গেলে ওরা কিছু সময় চারপাশে নজর রাখল। চারপাশের নৌকাগুলি থেকে মড়াকান্না ভেসে আসছে। চিৎকার এবং গোঙানি। রাতের অস্পষ্ট জ্যোৎস্না ভয়াবহ। আকাশে সব তারা নিভু নিভু হয়ে জ্বলছে। ফ্ল্যাশলাইট আর জ্বলছে না। জ্বললে ওরা কিছু কিছু উৎকট দৃশ্য দেখতে পেত। সমসের দাঁতে দাঁত চেপে বলছে—বেইমান।

    এমনভাবে আর কতকাল, হায় খোদা, অথবা যদি এই পৃথিবীর কোথাও কোনও মুক্তির নিশ্বাস ফেলার জায়গা থেকে থাকে তবে যেন বলার ইচ্ছা, হায় খোদা মেহেরবান, তুমি দ্যাখো ওদের। আর তখন ওরা দেখতে পেল নৌকার ভিতর মা রক্তবমি করছে আর কোলের শিশু তার দুহাত শক্ত করে ধরে রেখেছে স্তন, দুধ খাবে বলে। কারণ সেতো বুঝতে পারছে না মায়ের গলা ফুটো হয়ে গেছে, সে ক্ষুধায় স্তন থেকে শেষ দুধটুকু বের করার জন্য চুষে চুষে স্তন খাচ্ছে। হায় হায় এ-দৃশ্য দেখা যায় না।

    সমসের তাড়াতাড়ি জল ভেঙে পাটাতনে উঠে গেল। কাতর শব্দ আসছিল। কি বলছে বোঝা যাচ্ছে না। অবনী বিরক্ত হচ্ছে। আর একটু এগিয়ে গেলে, এ-অঞ্চলে ওদের ভয় থাকার কথা নয়। কেবল নিরিবিলি গ্রাম। এবং নৌকাটাকে টানতে হবে না তবে, জল বেশি বলে বৈঠা চালাতে পারবে। নদীর পাড় থেকে ওদের কেউ দেখতে পাবে না। কাশবনের আড়ালে নৌকা চালালে ভয়ের কোন কারণ থাকবে না।

    আর তখন কিনা সমসের অন্য নৌকায় উঠে কি খুঁজছে। আমিনুল বলল, সমসের মায়া-মমতা বুকে রাখলে কষ্ট। তাড়াতাড়ি পাড়ি দিমু কি কইরা তা না, অহন গ্যাছেন আবার কেরায়া নৌকায়।

    মিনু বলল, তুমি ওকে নিয়ে কি করবে?

    –তোমার সঙ্গে দিয়ে দিচ্ছি।

    –আচ্ছা তুমি কি পাগল?

    সমসের কোন কথা বলল না। শিশুটি বোধহয় মেয়ে। ফ্রক পরা, প্যান্ট হিসি করে ভিজিয়ে দিয়েছে। সমসেরের হাতে এসে প্রথমে খলবল করছিল। এবং হাসছিল। সমসের বুঝল, মায়ের দুধ এবং রক্ত দুই চুষে ওর পেট ভরে গেছে। মুখে রক্ত লেগে আছে। সমসের নদীর জল তুলে মুখ ধুয়ে দিল। এবং মিনুর কাছে গিয়ে বলল, রাখ। তোমাদের যা হয় এরও তাই হবে।

    অবনী আর থাকতে পারল না—সমসের তুই একটা পাগল। তরে পাগল কমু না ছাগল কমু বুঝতে পারতেছি না। আমাগ এখন মরণের সময় নাই, তুই এডা কি করলি!

    –চোখের সামনে পড়ে গেল কি করি বল? না নিলে হামাগুড়ি দিয়ে জলে পড়ে যেত। জলে ডুবে যেত।

    অবনী এ-সময় অস্পষ্ট আলোতেও দেখল সমসেরের মুখ থমথম করছে। সে নিজের ছেলেটার দিকে কিছুতেই তাকাতে পারছে না। কিছু বলছেও না তাকে। কিছু বলতে গেলেই হয়তো ভেঙে পড়বে। আবুল তার মায়ের কোলে সেই শিশুর মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। আমরা যা কিছু পারছি সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছি, এমন মুখ এখন মিনুর। কোলে আঁচলের ভিতর সেই বালিকা, যেন ছোট্ট একটা বোন মিলে গেছে আবুলের। সে এবং মা পাটাতনে পাশাপাশি বসে আছে। বাবা গলুই’র দিকে। অবনীকাকা নৌকাটাকে টেনে টেনে গভীর জলে নামিয়ে দিচ্ছে।

    নৌকাটা জলে ভাসিয়ে দিয়ে অবনী লাফ মেরে উঠে পড়ল। এখন আর আকাশে জ্যোৎস্না নেই। পাটাতনের নিচে সেই বাক্সটা। মেয়েটা মিনু ভাবির কোলে বোধহয় ঘুমিয়ে পড়েছে। রাত বাড়ছে ক্রমশ। ওরা কাশবনগুলোর পাশ দিয়ে গেলে কিছু কীট-পতঙ্গ অথবা ফড়িং উড়ে এসে নৌকায় পড়ছে। ওদের নৌকা ক্রমে গঞ্জ পিছনে ফেলে দামগড়ের দিকে যাচ্ছে। কাছেই সেই ব্রহ্মপুত্রের খাড়ি নদী এসে শীতলক্ষ্যায় মিশেছে। অন্ধকারে ওরা সেই নদীটির উদ্দেশ্যে এখন নৌকা বাইছে। সমসের খাঁড়ির মুখে নেমে যাবে। সে এখনও বোধহয় ঠিক করতে পারছে না কি করবে। নয়তো যেমন কথা ছিল—ঘাসি নৌকাটা এলেই সমসের ওদের তুলে দিয়ে চলে যাবে, অথচ সমসের যাবার নাম করছে না। অবনীর মুখ ক্রমে কঠিন রুক্ষ হয়ে উঠছে। সে বুঝতে পারছে, সমসের মায়ায় এখন আটকে পড়েছে। যতটুকু সময় নিজের মানুষের কাছে থাকা যায়। অবনী এটা পছন্দ করছে না। যেমন সে পছন্দ করেনি আগ বাড়িয়ে একটা ঝামেলা বয়ে আনা, অন্য নৌকা থেকে। সে জানে ওটাতে কারা যাচ্ছে। এ নৌকাগুলো সাহাদের। সাহারা শহর ছেড়ে পালাচ্ছে। ঠিকঠাক হয়ত চলে যেত, বাধ সেধেছে এই জেটি থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রসদ যাচ্ছে। খানেরা এত ভীত হয়ে পড়েছে যে কিছুতেই চরে এসে সরেজমিনে দেখতে চাইছে না। দূর দূর থেকে কামান অথবা মেশিনগান দেগে সব নিঃশেষ করে দিচ্ছে।

    এ-ভাবে অবনী জানে সমসের নৌকা থেকে এই যে শিশুটিকে তুলে এনেছে সে সাহাদের কেউ হবে। অবনীর কাছে সবচেয়ে শক্ত কাজ এই কাঠের বাক্সটা পৌঁছে দেওয়া। সমসেরের নির্দেশমতই অবনী সব করছে। সমসেরেরই নির্দেশ ছিল, মায়া মমত। আমাদের এখন রাখলে চলবে না। আমরা এক পরিবারের ছেলে। সেই পরিবারের নাম বাংলাদেশ। আমাদের এখন আর কোন ব্যক্তিগত সত্তা নেই। আমাদের সবচেয়ে বড় অভাব আর্মসের। আমাদের দলবল আছে। আছে খাদ্য। শুধু আর্মস অ্যান্ড অ্যামিনিউসানের জন্য সংগ্রাম বিলম্বিত হতে পারে। সমসের যখন কথা বলে, খুব গুরুত্ব দিয়ে কথা বলে। মাঝে মাঝে সাধুভাষা প্রয়োগ করে তার বক্তব্যের দৃঢ়তা প্রকাশ করতে চায়। সে’ই বলেছিল, একটা বন্দুক ছিনিয়ে নেবার আগে আমাদের জান কবুল করতে হবে। অর্থাৎ সে যেন বলতে চেয়েছিল, জীবন পরে, অস্ত্র আগে। আর সেই সমসেরই কি না একটা গন্ডগোল বাধিয়ে বসল যাবার মুখে। সমসের নেমে যেতে চাইছে না। ওর আরও অনেক কাজ। সমসের সংগঠনের ভিতর আছে। সমসেরের মত মানুষেরা শুধু ভাবেন—কিভাবে কোথায় কোন অন্ধকারে অতর্কিতে আক্রমণ ঘটাতে হবে, কোথায় কিভাবে রসদ পৌঁছে দিতে হবে এবং কিভাবে সব আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছে দিতে হবে। তা না করে সমসের কি না তাদের সঙ্গে সঙ্গে যাচ্ছে। অবনী ওর নেমে যাবার লক্ষণ না দেখে মনে মনে ভীষণ বিরক্ত হচ্ছিল। সঙ্গে আবার অপোগন্ড জুটিয়েছে একটা!

    এখন দামগড়ের কলকারখানাগুলো আর দেখা যাচ্ছে না। জল কম আবার এখানে। জায়গায় জায়গায় কচুরিপানা ঠাসা। এবং দু-পাড়ে কোনও সাড়াশব্দ নেই। আর তখনই কিনা মিনু-বৌদির কোলে অপোগন্ডটা কাঁদছে। টের পেয়েছে বুঝি মিনু-বৌদি ওর কেউ হয় না। রক্তে যে কি মিশে থাকে! মিনু- বৌদি নানাভাবে ওকে থামাবার চেষ্টা করছে। একটু আগেও বেশ চুপচাপ ছিল। এসব দেখে অবনী ভিতরে ভিতরে ভীষণ ক্রুদ্ধ হয়ে উঠছে। কারণ এভাবে কাঁদলে নদীর জল বেয়ে কান্নার শব্দ ওপারে উঠে যাবে। কে যায়! নদীর জলে নৌকা। কারা যায় দ্যাখো। দ্যাখো কোন স্বাধীন মানুষ, গ্রামে গঞ্জে পালিয়ে যায়। নৌকা আটক কর। নৌকা আটকে সরেজমিনে তদন্ত। ভয় পেলে ওরা সরেজমিনে আসবে না। সামান্য এই নৌকার উদ্দেশ্যে কামান দেগে জলের নীচে ডুবিয়ে দেবে।

    সমসের বসেছিল চুপচাপ। আবার অতর্কিতে মেশিনগানের শব্দ ভেসে আসছে। জুটমিলের ডানদিক থেকে মনে হয় শব্দটা আসছে। ওখানে চটকল ইউনিয়নের কর্মীরা আছে। ওদের ব্যারাক হয়তো উড়িয়ে দিচ্ছে। অন্ধকারে সে দেখল, আগুনের গোলা উপরে উঠে শহরময় এক অতীব নৃশংস দৃশ্য। হাউইয়ের মত আকাশে বাতাসে আগুনের গোলা। বোধহয় কোনও পল্লীতে ফসফরাস গ্রেনেড দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পল্লীগুলোর কোথাও শনের চালাঘর, কোথাও টিনের ঘর, বাঁশের বাতা দিয়ে বেড়া, কাঠের থাম। এমনিতেই গ্রীষ্মের দিন, রোদে খাঁ খাঁ করছে সারাটা দিন। শনের বেড়া, বাঁশ চাল উত্তপ্ত হয়ে আছে, সামান্য একটা দেশলাইয়ের কাঠি অজ্ঞাতে ফেলে দিলেই হাওয়ায় হাওয়ায় আগুন ভেসে যাবে, এবং ঘরগুলো জতুগৃহের মত হয়ে আছে বলে আগুনে সারা আকাশটা একটা চকচকে আয়না হয়ে গেছে। আগুন উপরে উঠে গেছে এত, যে ওদের নৌকার ভিতর সবার মুখ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। অবনী আর চুপচাপ থাকতে না পেরে বলল, কালীগঞ্জে মনে হয় আগুন লাগাইছে।

    আবুল বলল, আসমানটা লাল হয়ে গেল!

    মিনু বাচ্চাটাকে অনেক চেষ্টা করে শান্ত করতে পেরেছে।

    সমসের বলল, বোধহয় আমাদের পাড়াতে আগুন দিয়েছে।

    মিনু বলল, আবুল বাইরে বসে থাকিস না। ভিতরে আয়।

    আবুল মা-র কথামত ছইয়ের ভিতর ঢুকে গেল। এখন দূরে দূরে শহর জ্বলছে বলে প্রায় দিনের সামিল হয়ে গেছে। সমসের বলল, এটা তোমরা ভাল করে দেখে নাও।

    আমিনুল নৌকায় নেই। সে পাড়ে পাড়ে গুন টেনে নৌকা নিয়ে যাচ্ছে। অবনী হালে বসে রয়েছে। যখন যেমন অবস্থা হচ্ছে তখন তেমন করতে হচ্ছে। গ্রীষ্মের দিনে জল থাকে না, এবার মনে হয় নদীতে আরও জল কম। আর মাঝে মাঝে চর জেগে গেছে। মাছ ধরার জন্য যারা জঙ্গল ফেলে রেখেছিল, জলে সে-সব এখন নদীর চরে অথবা জলের কিনারে। অন্ধকারে গুণ টানা বড় কষ্টকর। তাছাড়া আমিনুল কবে যে গ্রাম ছেড়ে শহরে এসেছিল কলেজে পড়তে, সেই থেকে নৌকা বাওয়া, গুণ টানা, সব অভ্যাস কেমন তার উঠে গেছে। পায়ে ওর কেডস্ জতো। কাশের বনে থাকলে হাত- পা কেটে যাচ্ছে। সে ঘাড়ে গুণ টানা দড়ি ফেলে হাঁটছে। মনে হয় কাঁধের চামড়া ছিঁড়ে গেছে এবং রক্ত পড়ছে। সে যে জামাটা গায়ে দিয়েছিল ওটাও বোধহয় ছিঁড়ে গেছে। কেমন শীর্ণ চেহারা। অথচ আমিনুল এতটুকু ভেঙে পড়ছে না। সে বলল, যার যার বায়ে। অন্ধকার নয় তেমন, তবু আমিনুল কেন যে কথাটা বলল। অবনী গলুইতে বসে চিৎকার করে উঠল, সজনে ফুল।

    এখানে নদীর পাড় খাড়া। মিনু মানচিত্রটার গায়ে উবু হ’য়ে দেখছে কোথায় নদী বাঁক নিয়েছে, কোথায় কোথায় কোন মসজিদ অথবা মন্দির পড়বে। আলিপুরার বাজারে এখন কিছু নৌকা সব সময় ঘাটে বাঁধা থাকে। কোন গন্ডগোল দেখা দিলে সেই নৌকার ভিতর মিশে যেতে হবে—সমসের এমন বলছিল। মাঝে মাঝে টর্চ জ্বালতে হচ্ছিল সমসেরকে। কারণ আগুনের হল্কা কমে গেলে মানচিত্রের সব কিছু অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অবনীও হাল থেকে দেখার চেষ্টা করছে। আবুল, ওর মা এবং বাবার পাশ দিয়ে মাথা গলিয়ে দিয়েছে।

    অবনী বলল, ভাবি তোমরা সব বুঝে নাও। আমি পরে তোমাদের কাছে বুঝে নেব।

    সমসের এবার অবনীর দিকে পেছন ফিরে তাকাল। কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকল। তারপর বলল, আমাকে তোরা নাঙ্গলবন্দে নামিয়ে দিবি। গোয়ালদিতে অরুণ আছে, আমি সোজা ওর বাড়িতে গিয়ে উঠব। লালু-মেহের সবাই থাকবে। যদি পঞ্চমীঘাটে দেখিস অসুবিধা, তবে দন্দির শ্মশানঘাটে চলে যাবি। ওখানে কেউ থাকবে। মিনু তুমি নেমে যাবে, লাধুরচরে হাসিম থাকবে। তোমরা ওদের বাড়ির কুটুম। খুব সকালে দু-একজন কেউ দেখে ফেললে বলবে জয় বাংলা। তবে আর ভয় থাকবে না। পাশাপাশি নৌকা চলতে থাকলে, অবনী তুই যেমন বলে থাকিস সজনে ফুল, তেমনি বলবি। নিজেদের মধ্যে আবার মারামারি বেধে না যায়।

    অবনী বলল, আজকাল আবার খানেরা উর্দি না পইরা গঞ্জের মানুষের লগে মিশা থাকে। টের পাওয়া যায় না, জয় বাংলা কেডা, আর পাকিস্তানি কেডা।

    —সজনে ফুল বললে ওরাও বলবে সজনে ফুল। দু-নম্বর কোড বেলফুল। কামাল তিনটে নৌকায় আরও তিনটে ইউনিট পাঠাচ্ছে। ওরা রূপগঞ্জ থানা আক্রমণ করবে আর একটা দল যাচ্ছে নার্সিন্দিতে। কামাল সবই নৌকায় পাঠাচ্ছে, কারণ নৌকায় যেতে সময় বেশি, বেশি সময়ই তো নিচ্ছে। সন্দেহটা ছোট ছোট নৌকায় কম। তারপর একটু থেমে বলল, তবে সব জায়গাতেই ভয় আছে। তোমাদের খুব সাবধানে যেতে হবে। কথা আছে থানার লোকেরা আমাদের সাহায্য করবে।

    এবারে সে আবুলের মাথায় হাত রেখে বলল, অবনীকাকা যা বলবে তাই করবে।

    আবুল বলল, ওরা গুলি চালালে আমরা গুলি চালাব না?

    —সে তোমার অবনী কাকা জানে।

    —আমি না থাকলে কত কিছু ঘটতে পারে! অবনী অন্যমনস্কভাবে কথাটা বলল।

    —তুই না থাকলে আমিনুল। আমিনুল না থাকলে মিনু। মিনু না থাকলে আবুল

    —এই অপোগন্ডের কি হবে?

    —সে আমাদের শেষ সৈনিক। যেখানেই যাবে বুকে রক্ত নিয়ে যাবে। জ্বলবে সারাজীবন। আবার আগুন জ্বলবে এই মাঠে-ঘাটে। স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় রে, কে বাঁচিতে চায়।

    মিনু বলল, তারপর আমাদের কি করণীয় কিছুই বললে না?

    —হাসিমের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ থাকবে। তোমরা সবাই ওর পরামর্শমত তারপর থেকে কাজ করে যাবে। কবে আমাদের দেখা হবে ঠিক নাই। দেখা আর আদৌ হবে কিনা তাও বলতে পারি না।

    মিনুর মুখটা বড় ম্লান হয়ে গেল। দুশ্চিন্তায় তার মাথা খারাপ হবার যোগাড়। সে এখন আর নিজের কথা ভাববে না, এমন কতবার ভেবেছে, অথচ সমসের যা বলল তা ওকে বড় কাতর করছে ভিতরে ভিতরে। কিছুতেই সে মনকে বোঝ প্রবোধ দিতে পারছে না। ভিতরে সে ভীষণ ভেঙে পড়ছিল। হাহাকার শুধু সম্বল। তার হাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য সে এই নৌকার পাটাতনে আবুলকে জড়িয়ে ধরে আছে। কি নরম আর সুন্দর আবুলের চোখমুখ! বড় বড় চুলে আবুলের তেলের গন্ধটা কি যে ভাল লাগছে! সে আবুলের চুলে মুখ গুঁজে দিলে টের পায় ভেতরে কে আবার তাকে সাহস যোগাচ্ছে। চারপাশের বনলতা, নদী জল মাঠ এবং নদীর চরে কত রকমের পাখ-পাখালির কলরব তাকে নতুন করে এক জীবনের কথা, আশার কথা শোনাচ্ছে। সে বলল, তুমি সাবধানে থেকো, ঠান্ডা লাগাবে না, গায়ে জ্বর। মেহেরকে বলবে পাতলা করে যেন বার্লি করে দেয়। ভাত খেও না।

    সে বলল, রাতে ভাত খাব না মিনু। নাঙ্গালবন্দ থেকে কত দূর গোয়ালদি মিনুর জানার কথা নয়। মিনুর ধারণা, নদীর পারেই গ্রাম, অথবা কিছু পথ হেঁটে গেলেই মেহেরের বাড়ি। এবং সেখানে পৌঁছে গেলেই যেন সমসেরের সব কাজ সারা। সে ইচ্ছে করেই মিনুকে আর দূরত্বের কথা বলে ঘাবড়ে দিতে চাইল না। অথবা এই যে মিনু যাচ্ছে আরও বড় দায়িত্ব নিয়ে, হয়তো মিনু টেরই পাচ্ছে না, দায়িত্বটা কতবড়, বাক্সটাতে কি আছে, এবার এটাও ভাল করে বলা দরকার এই ভেবে সে একটা লিস্ট বের করে অবনীর হাতে দিল।

    এখন আর দূরের যে আগুন গ্রামের মাথায় উঠে গেছে তা দেখা যাচ্ছে না। কেবল মাঝে মাঝে আগুনের হলকা এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলি আকাশে উঠে গেছে। অজস্র বাঁশ ফাটার অথবা টিনের চাল উড়ে যাবার শব্দ কানে আসছে। আর এখন নৌকার মুখ ঠিক উত্তরের দিকে নয়। কিছুটা উত্তর-পূর্ব কোণে। ফলে আগুনের যে আলোটুকু এই নৌকায় আসা দরকার অথবা আসতে পারলে সুবিধা হত, তা আসছে না। ওরা টর্চ না জ্বালিয়েও ম্যাপটা দেখে নিতে পারত তবে। কিন্তু এখন উত্তর-পুবমুখী নৌকার মুখ, গলুইতে সমসের বসে রয়েছে। ওর পা জলে ভিজে গেছে। কারণ মাঝে মাঝে ছোট ছোট ঢেউ এসে ওর চারপাশে জলের ঘূর্ণি সৃষ্টি করছে। নৌকাটা জল কেটে বেশ দ্রুতবেগে এই এলাকা পার হয়ে যাবার চেষ্টা করছে। মাঝে মাঝে কোনও বনজঙ্গলে গুণ টানার দড়ি আটকে গেলে ওরা লগি দিয়ে তা ছাড়িয়ে দিচ্ছে। এবং সেই একটা সাদা পাতায় কামালের হস্তাক্ষর। সব উৎসর্গীকৃত প্রাণদের উদ্দেশ্য করে লেখা—সংগ্রাম আমাদের কবে শেষ হবে জানি না। কিভাবে শেষ করব তাও জানি না। আমি তোমাদের কোনও মোহের ভিতর টেনে না নিয়ে শুধু বলতে চাই, আমি অথবা আমরা যেভাবে পারব সংগ্রাম করে যাব। এই দুঃসময়ে কোনও সংগঠনে যাবার আমাদের বড় কোনও পথ নেই। কেউ কেউ দিশেহারা হয়ে গেছে। যারা আমাদের পাশে থাকবে ভেবেছিলাম, এই ধ্বংসলীলা দেখে তারা স্থবির হয়ে গেছে। কেউ কেউ জানি পাগল হয়ে যাবে। তোমরা জান ময়নাকে। ময়নার স্বামীকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে মেরেছে। ময়নাকে উলঙ্গ করে দিয়েছিল। বেয়নেটের খোঁচা মেরেছে। পিঠে ওর বেয়নেট দিয়ে কেটে কেটে মাংসের ভিতর জালিমশাহির বর্বর ইতরেরা লিখেছে—পাকিস্তান। ওর পিঠে মাংসের ঘা শুকিয়ে গেলে, সে জীবনে কোনদিন এই দাগ তুলতে পারবে না। এবং উলঙ্গ করে—ওর যৌবন ওরা নানাভাবে—আমি এসব কথা আর লিখতে পারছি না। ওকে মেহেরের কাছে পাঠিয়েছি। সে এখন সুস্থ আছে। এভাবে শুধু তোমাদের আমি সাহস দিতে পারি, অত্যাচার যত বাড়বে, আমাদের বাহিনী তত শক্ত হবে। ময়না এখন কি যে সাহসী, সে এখন আমাদের বড় অ্যাসেট। সে মাঝে মাঝে পাগলের মত বলে ওঠে, রাইফেল কাঁধে ফেলে আমরা কবে ঢাকার দিকে মার্চ করে যাব? আমি ভীষণ ভয় পাই। ওকে দেখলে তোমরাও পাবে। ওর মত অসংখ্য মেয়েরাও আজ তোমাদের পাশে। তোমরা নিঃশঙ্ক চিত্তে সব সময় মৃত্যুর জন্য তৈরী থাকবে। এইটুকু লিখে সে একটা লম্বা টান দিয়ে চিঠিটা শেষ করেছে। উপরে লিখছে আমার বন্ধুগণ, নিচে লিখেছে, বাংলাদেশের একজন দীনতম সন্তান কামাল ইব্রাহীম। তারপর লিখেছে—বিঃ দ্রঃ একটা ফিরিস্তি—পি ফোরটিন ম্যাগাজিন রাইফেল—বারোটা। হাত গ্রেনেড বাইশটা, দুশো তেরো রাউন্ড গুলি, সে তেরো কেটে ফের চোদ্দ করে দিয়েছে। তারপর লিখেছে জয় বাংলা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআওরঙ্গজেব : ব্যক্তি ও কল্পকথা – অড্রি ট্রুসকে
    Next Article মানুষের ঘরবাড়ি – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }