Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ঈশ্বরের বাগান – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

    লেখক এক পাতা গল্প1863 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ঈশ্বরের বাগান – ৭৩

    ।। তিয়াত্তর।।

    মুর্শেদ তখন বসে বেশ আরাম করে একটা সিগারেট খাচ্ছিল। এবং মনে কি যেন তার কবিতার মতো বাজছিল। কেউ এসে গেছে এখানে –যে তাকে নিয়ে যাবে হিন্দুস্থানে। রাজাবাজারের অলিগলিতে অথবা পার্কসার্কাসে কেউ যদি থেকে যায় তবে দেখা হয়ে যাবে –আর না যায় তো অত বড় দেশ পার হলেই সে হোসেনিয়ালার কাছে একটা জায়গা পেয়ে যাবে, যার ভিতরে ঢুকে গেলে সেই পবিত্র স্থান, সেখানে আছে তার পুত্র রহমান, বিবি মর্জিনা, মেয়ে মিনার। সে কেমন মনে মনে একটা আশ্চর্য রকমের বিশ্বাস গড়ে ফেলেছে –এসে গেছে, এসে গেছে ভাব। তাকে খুব দেখার ইচ্ছে, যে তাকে নিয়ে যাবে। কিন্তু কেয়া বলেছে, সাহেব অত তাড়াহুড়া করলে চলবে না। মঞ্জুদির জানমান নিয়ে কথা। এমন কথায় মুর্শেদের মুখ ভীষণ কালো হয়ে গেছিল একটুকুতেই এখন মুর্শেদ ছেলেমানুষের মতো ভয় পেয়ে যায়।—তবে কি হবে কেয়া?

    কেয়া মুর্শেদের চোখেমুখে এমন ভীতির ছাপ দেখে বলেছিল, এখানে তোমাকে আমরা আটকে রাখবো।

    মুর্শেদ বলেছিল, আমার মেয়েটা কত বড় জানো?

    —কত বড়, তুমি তো কতবার বলেছ।

    —বলেছি!

    —বলনি?

    -আমার মনে থাকে না কেয়া।

    —বলনি, তোমার মেয়ে মিনার আসার সময় প্লাটফরমে দাঁড়িয়ে কাঁদছিল।

    —হ্যাঁ, বলেছি!

    —বলনি, রহমান চুপচাপ পাথর হয়ে গেছিল যেন!

    —বলেছি!

    —বলনি, মর্জিনা, চোখ তুলে তাকাতেই সাহস পায় নি, পাছে তুমি ঝরঝর করে কেঁদে ফেল।

    —এত সব বলেছি!

    —তুমি সাহেব ভুলে যাও!

    —ভুলে না গেলে বাঁচতে পারতাম না কেয়া। পাগল হয়ে যেতাম।

    তারপর কেয়া আর কথা বলে না। হ্যারিকেন নিয়ে নেমে আসে। মুর্শেদ সংসার অন্ত প্রাণ। দুবছরের

    ওপর হতে চলেছে, সে তার আত্মীয় পরিজনের সঙ্গে দেখা করতে পারছে না।

    কেয়া জানে মুর্শেদ এখনও দরজা বন্ধ করেনি। এখনও সে দরজা খুলে দাঁড়িয়ে আছে। এবং হ্যারিকেনের আলো নিভে গেলেই সে দরজা বন্ধ করে দেবে। একটা সিগারেট খাবে।

    তারপর গালিব থেকে, সেই কবিতাটা আবৃত্তি করবে—

    ইশ্বক পর জোর নহী হ্যায় যে বো আতিশ গালিব
    কি লগায়ে ন লগে প’র বুঝায়ে ন বনে।

    কেয়া একদিন কবিতাটা শুনে বলেছিল, মানে?

    —মানে? এর মানে হচ্ছে আচ্ছা তোমাকে কবিতা করে বলব, না গদ্য করে বলব কেয়া।

    —কবিতা করে বল।

    কবিতা করলে এমন হয়তো দাঁড়ায়,
    প্রেমের পরে জোর খাটে না গালিব সে তো বহ্নি
    জ্বালতে গেলে জ্বলবে না তো নেভাতে গেলে তেমনি।

    —হয়েছে থাক! তোমার প্রেম মিঞা তোমার বিবির জন্য কত আছে আমি জানি। তুমি একটা নচ্ছার মানুষ।

    মুর্শেদ তখনই দরজা বন্ধ করে চুপচাপ বসে থাকে। ওর ঘরে আছে বড় এটা বাক্স। বাক্সতে আছে সব অবনীর জামা কাপড়। মুর্শেদ এক জামা প্যান্টে এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছিল। মুর্শেদ জানতো এখানে সে সবচেয়ে বেশি নিরাপদে থাকবে। ওর মনে হয়েছিল, সে মঞ্জুর জন্য এতটা যখন করেছে, তখন মঞ্জু তার জন্য কিছু করবে। এবং এখানে এসেই সে বুঝে ফেলেছিল, মঞ্জু তাকে নিয়ে খুবই সমস্যায় পড়ে গেছে। আর্মি থেকে একজন ডেজার্টার মানুষকে নিয়ে সে যে কি করে! হিন্দুস্থান থেকে রিফুজিরা আবার ফিরে আসছে। কিছু কিছু এ-গাঁয়েও উঠে আসতে পারে। তখন অত নিরিবিলি থাকবে না গ্রামটা। নরেণ দাসের বাড়ি থেকে আরম্ভ করে দালানবাড়ি পর্যন্ত, তারপর ঘোষদের ছাড়াবাড়ি পর্যন্ত একটা এমন নিবিড় অরণ্য সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে দিনের বেলাতেও মানুষেরা যেতে ভয় পায়। এইটাই মঞ্জুর পক্ষে রক্ষা।

    অবনীর জামা-কাপড় তার খাটো হয়। খাটো জামা-কাপড় পরেই সে থাকে। মাঝে মাঝে খুব হাসাহাসি করে এই নিয়ে কেয়া। এত লম্বা মানুষের জামা-কাপড় কোথায় পাওয়া যাবে। বাবা ওর উর্দু ভাষী মানুষ। লম্বা, বড় বেশি খিদমতগার, সে ওর বাবার মতো লম্বা হয়েছে। মা বাঙ্গালী, ছোট্ট মেয়ে, স্বভাবে ভীতু, এবং সে মায়ের মতো স্বভাব পেয়েছে। সে যখন আর্মিতে জয়েন করে তখন ওর মা আল্লার কাছে সারাদিন মোনাজাত করেছে। রোজা রেখেছে। মা দরগায় মোমবাতি জ্বেলেছে। সবই করেছে, ছেলে সুখে থাকুক, এই ভেবে।

    মঞ্জু বলেছিল, নাও মিঞা। আমার মানুষের জামা-কাপড় দিলাম। তোমরা আমার সব কেড়ে নিয়েছ, আমি তোমাকে এইটুকু দিলাম। তুমি জামা-কাপড় ছাড়া থাকবে কি করে?

    কেয়া বলেছিল, এটা তুমি কি করছ মঞ্জুদি!

    মঞ্জুকে খুব শক্ত দেখাচ্ছিল। সে বলেছিল শুধু, কেয়া আমারটা আমি ভাল বুঝি। সে বুঝি আরও কিছু বলতে চেয়েছিল, বলতে চেয়েছিল, ওরা সব যখন নিয়েছে, এটুকু নিয়ে নিক। অর্থাৎ মানুষের স্থিতিটুকু। মানুষকে খুব কষ্ট দেয় স্মৃতি। সব সময় বেদনার কথা মনে করিয়ে দেয়, সুখের কথা মনে করিয়ে দেয়। আমার জীবনে সুখের কথা বলতে কিছু নেই। নিজের ভাগ্য দেখে মনে হয় মার সঙ্গে আমার ভাগ্যের কোথাও মিল আছে।

    তারপর কেয়া আর বাধা দেয়নি। মঞ্জু কিছুই করে উঠতে পারেনি। মঞ্জু হিন্দু বলেই কিছু সুযোগ- সুবিধা সে এখন সরকারের কাছ থেকে বেশি পাচ্ছে। যেমন কেয়াকে পবিত্র করার ইচ্ছায় কোনও সংস্থা তার ভার নিতে চেয়েছিল। কিন্তু মঞ্জু তা হতে দেয়নি। কেয়ার ভেতরে যে কীট বাসা বেঁধেছিল—সেই নিয়ে জব্বার চাচার যেন কোনও ভাবনা ছিল না। মঞ্জু জব্বার চাচাকে নানা ভাবে বুঝিয়েছে, এখনই করে ফেলা দরকার। জব্বার চাচা ধার্মিক মানুষ। সে বলেছে, আমি পারি না মা। এবং মঞ্জু নিজের হাতে রসগোল পাতার বড়ি নিয়ে কেয়াকে খাইয়ে দেবার সময়, কেয়ার সেই কঠিন মুখ দেখে কেমন ভয় পেয়ে গেছিল। তারপর কেয়াকে কি ভাবে যে সুস্থ এবং স্বাভাবিক করে তুলেছে, সে সব মনে হলেও মঞ্জু মাঝে মাঝে জানালায় দাঁড়িয়ে থাকে।

    সবই জানে মুর্শেদ। যখন সব মনে হয় তার, নিজের ভেতরও এক অস্বস্তি সে বয়ে বেড়ায়। সেতো সেই মানুষেরই বংশধর। যেমন যোসেফ একদা সমুদ্রে পথ করে দিয়েছিল, অথবা সেই সব দৈববাণী, মানুষের দ্বারা সৃষ্ট সব, অথচ মানুষ মাঝে মাঝে কেন এমন হয়ে যায়। সব ভেঙ্গে চুরে সে নষ্ট করে দিতে ভালবাসে।

    কেয়া চলে গেলেই সে প্রথম মশারির নিচে যায় না। খাটো জামাকাপড়ে কেমন দেখায় আয়নায় দাঁড়িয়ে সে কিছুক্ষণ তা দেখে। বেশ মজা লাগে নিজেকে দেখতে। অবনীবাবু খুব সৌখিন মানুষ ছিলেন। জামা-কাপড়ের কাটিং দেখে সে সেটা বুঝতে পারে। সে তো এখান থেকে কিছুই নিয়ে যেতে পারছে না। শেষ দিকে সে তো সরকার থেকে মাইনে পর্যন্ত পেত না। সে যদি ডেজার্টার না হত, তবে বন্দী তালিকায় তার নাম থাকত। মাঝে মাঝে সে এটা করে যে খুব বুদ্ধিমানের কাজ করেছে বুঝতে পারে। এবং তখনই গুনগুন করে গালিবের কোনও কবিতা আবৃত্তি করতে থাকে।

    শরমিন্দা রাখতী হ্যায় মুঝে বাদে বাহরসে
    মিনারে বেশরাব্ ওয়াদিল-এ বে-হাওয়ায়ে গুল।

    কেয়া যদি বাংলা মানে জানতে চায় তবে সে বলবে,

    বসন্তকে এড়িয়ে চলি নিতান্তই নিজের দোষে।
    পুষ্পবিহীন হৃদয় আমার শূন্য মদের পাত্র হাতে।

    সে বসে থাকল কিছুক্ষণ। ঘর অন্ধকার। শুধু হাতের সিগারেটটা জ্বলছে। এবং একটা জোনাকির মতো, অন্ধকারে সিগারেটের আগুন নিয়ে খেলা করতে থাকল। সে সিগারেটের আগুন চোখের সামনে রেখে দেখল। ফু দিয়ে কতটা আলো প্রবলভাবে জ্বালা যায় দেখল। তারপর ওটা সে হাওয়ায় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে অন্ধকারে হেঁটে বেড়াল। আসলে সে জানে এখন শুলে তার ঘুম আসবে না। সে সারাদিন এই ঘরটাতে বন্দী থাকে। ঘর থেকে বের হওয়া তার বারণ। বিশেষ করে সকালের দিকে। সকালে ডাকঘর খোলা থাকে। লোকজন আসে নৌকায়। কেউ দেখে ফেললে মঞ্জুর পক্ষে বোঝানো মুশকিল হবে। তবে মঞ্জু তাকে প্রথম রাতেই কিছু পরামর্শ দিয়েছিল। যেমন ধরা পড়লে নাম বলতে হবে, নীলমাধব সেন। বাবার নাম, অনিলমাধব সেন। বাড়ি হুগলির কাছাকাছি একটা গ্রাম। গ্রামটার নাম মুর্শেদ নিজেই বলেছে। গ্রামটার সঙ্গে তার ছেলেবেলার কিছু পরিচয় আছে। এ-ভাবে সে নিজের একটা ছদ্মনাম আগেই ঠিক করে রেখেছিল। সম্পর্কে মঞ্জুর কে হয় তাও। কাজেই সে এখন এই ঘরে একা। মিনার এখন হয়তো ঘুমিয়ে কাদা। মার জন্য জেগে থাকার স্বভাব রহমানের। মার কাজটাজ করে শুতে রাত হয়। বাড়িটাতে বাবা মা মারা যাবার পর মর্জিনা একা। বাঙ্গালী মেয়েদের মতো খুব ঘরকুনো। সংসার বাদে সে কিছু জানে না। সবাই শুয়ে পড়লেও সে জানে মর্জিনা ঘুমায় না। ওর চোখে ঘুম নেই। বন্দীদের একটা লিস্ট দেশে পৌঁছে গেছে। সে লিস্টে তার নাম নেই। মর্জিনা জানে যুদ্ধক্ষেত্রে মানুষটা গেছে, হয়তো একটা পেনসনও সে এতদিনে পেয়ে যেতে পারে। মর্জিনার কথা মনে হলেই সে কেমন ভেতরে ভেতরে ভীষণ অসহিষ্ণু হয়ে ওঠে। তার কিছু ভাল লাগে না। আবার সে গালিবের বিখ্যাত গজল থেকে কিছু আবৃত্তি করে সব ভুলে থাকতে চায়।

    আসলে এখন সে বোঝে না মানুষ হিসাবে সে কে? সে তো বাংলাভাষা ছেলেবেলায় মায়ের কাছ থেকে শিখে ফেলেছে। বাবা ছিলেন ধর্মভীরু মানুষ, তখন যদিও মনে হয় সে ইচ্ছে করলে তামাম ভারতবর্ষের মানুষ হিসাবে নিজের একটা পরিচয় দিতে পারত, তার বাবা কেন যে দেশ ছেড়ে পশ্চিম পাকিস্তানে চলে গেলেন। আসলে বাবা এসেছিলেন কলকাতায় —তিনি ছিলেন উত্তর প্রদেশের মানুষ। আখের চাষ ছিল বাবার। তবু বাবা বেশী টাকার খোঁজে কলকাতায় এসে স্ক্র্যাপের ব্যবসা করে বেশ দু পয়সা করেছিলেন। তারপর কলকাতায় দাঙ্গার সময় সে তার বাবার মুখের দিকে তাকাতে পারত না। বাবা সে সময় খুব ঘাবড়ে গেছিলেন। এবং কেন যে তার মনে হয়েছিল, নিজেদের জন্য একটা আলাদা দেশ না হলে বাঁচবে না। তিনি নিজে উর্দুভাষী মানুষ বলে করাচি জায়গাটা বেশি পছন্দ করে ফেলেছিলেন। সে এখন ঠিক বুঝতে পারে না, কেন এমন হয়! মঞ্জু বলেছে সিন্ধুতে ভীষণ দাঙ্গা লেগেছে। রহমান যে কি করছে এ-সময়! সে কোন্ দেশের মানুষ নিজেও ঠিক করতে পারছে না। এবং এমন মনে হলেই তার পায়চারি বেড়ে যায়। চোখে ঘুম আসে না। সে তখন কি করবে ভেবে পায় না।

    সিগারেটটা কখন নিভে গেছে। সে বুঝতে পারছে, অনেকক্ষণ ধরে সে তার বাড়ি, বাড়ির পাশে বড় ইদগাহের আজান, এবং মাজারে যারা মোমবাতি দিতে এসে বসে থাকে তাদের মুখ দেখতে দেখতে কখন যেন দেখে ফেলেছে মর্জিনা বসে আছে। সারা শরীর তার কালো বোরখায় ঢাকা। সে মাজারে মোমবাতি জ্বেলে দিচ্ছে। পূর্ব পাকিস্তানের কোনও গঞ্জে অথবা মাঠে ওর মানুষটা দেশের জন্য শহিদ হয়েছে। এবং বেইমান মানুষেরা দেশটাকে দু’টুকরো করে কি যে লাভ পেল! এসব ভেবে মর্জিনার চোখ থেকে হয়ত ভীষণ একটা আক্রোশ ফেটে পড়ছে। যেন রহমানকে সে একটা গাছের নিচে ডেকে নিয়ে বলছে, তুমি তোমার আব্বার কথা মনে রেখ। তামাম হিন্দুস্থানের বিরুদ্ধে তোমার হাজার হাজার বছরের জেহাদ ঘোষণা থাকুক, না থাকলে রহমান আমি মরেও শান্তি পাব না।

    মর্জিনা হয়তো খুব ভেঙ্গে পড়েছে। সে অন্যদের মতো বোধহয় আর কখনও ভাববে না তার অথবা যদি সে

    খসম ফিরে আসতে পারে। সেজন্য সে নিজেকে হয়তো তৈরি করে ফেলেছে রাতে চুপি চুপি চলে যায়, সে গিয়ে বলে, মর্জিনা আমি এসেছি, আমি নিজেকে বন্দী বলে ঘোষণা করতে লজ্জা পেয়েছি, নানাভাবে আমি এসেছি সীমানা পার হয়ে। তখন এমন অবস্থা যে কোম্পানির সৈন্যসংখ্যা কত তার হিসাব দিতে গেলে কমান্ডারের কপালে ঘাম দেখা দিত। কে কোথায় মরে আছে কেউ ঠিক বলতে পারছে না। সে যে ডেজার্টার কে আর সেখানে তা প্রমাণ করবে। কেবল একটা কাজ, কাজটার কথা মনে হলেই ওর বুকটা ভয়ে কাঁপে। কাজটার বিরুদ্ধে সে কোনো অজুহাত দাঁড় করাতে এখনও পারেনি। তখন তার মাথা গরম হয়ে যায়। সে স্বদেশে আবার অপরাধীর তালিকায় না পড়ে যায়। এখন তার শুধু একটাই ভাবনা একজন মানুষ এসেছে তাকে নিয়ে যেতে। সে যদি বাংলাদেশের সীমানা তাকে পার করে দিতে পারে তবে বাকিটা নসিবের সঙ্গে লড়াই। সে-লড়াইয়ে সে জিতে যেতেও পারে।

    এখন আর কি করা। এই জানালায় সে একা একা দাঁড়িয়ে এমনিই ভাবছে। তার প্রতিটি গাছ, লতাপাতা চেনা, আর একটু পরে আমড়া গাছটার নিচে কটা ডাহুক্ ডেকে উঠবে। চারপাশে তার কি কি গাছ আছে সে বলে দিতে পারে। কোন্ গাছে কোন্ পাখি কখন উড়ে আসবে সে বলে দিতে পারে। সব পাখিদের নাম সে এখন বলে দিতে পারে। ঝোপের ভেতর বর্ষার জল রোজ কতটা বাড়ে কমে তার চেয়ে কেউ বেশি জানে না। একটা পাখি অথবা গাছের মতো সে এখানে নিরিবিলি বেঁচে আছে।

    ক’দিন হল মশার উপদ্রবটা বেড়েছে। আর চারপাশে ঝোপ জঙ্গল বলে মশাটা একটু বেশি। তবু রক্ষা দু’দিন আসমানে মেঘ নেই, সারাটা দিন কি সুন্দর রোদ। গাছের ফাঁকে রোদ নামলে কেমন জায়গাটা ভীষণ একটা দূরের পৃথিবী মনে হয়। সে চুপচাপ ঝোপ জঙ্গলের ভেতর তখন আউল বাউলের মতো ঘুরে বেড়াতে পারে। মঞ্জু বলেছে, মুর্শেদ তুমি যে বনটায় থাক মানুষ ঢোকে না, সেখানে কেবল হেঁটে যাওয়া যায়, এবং আমাদের বাড়ি বলেই এখানে যে কেউ যখন খুশি ঢুকতে পারে না, সেখানে তুমি বেড়াতে পার।

    মুর্শেদ মাঝে মাঝে ভীষণ হা হা করে হাসে। এখন মঞ্জু, তার কমান্ডার-ইন-চিফ। মঞ্জু যা যা বলবে তাই তাকে করতে হবে। যেমন সে রোজ রোজ গোসল করতে চাইত না। সে তার স্বভাবে কিছুটা মরুভূমির মানুষ হয়ে গেছিল। স্নান ছ সাতদিন বাদে করার স্বভাব। কিন্তু মঞ্জু বলেছে—সাহেব তোমার এসব চলবে না। রোজ চান করবে। তোমাকে কেয়া একটা ঘাট দেখিয়ে দেবে সেখানে তুমি চান করলে কেউ দেখতে পাবে না।

    মুর্শেদ বলেছিল, আমার কোন অসুবিধা হয় না মঞ্জু।

    —তোমার না হলেও আমাদের হয়।

    —কেন তোমাদের এমন হয়?

    —চান আমরা অসুখ হলে করি না। তুমি সুস্থ সবল মানুষ, চান না করে খাবে সে কি করে হয়!

    —গোসল করতে খুব ডর লাগে।

    —কোন ভয় নেই। না পার, কেয়া তোমাকে ডুব দেওয়া শিখিয়ে দেবে।

    —কেয়া রোজ গোসল করে!

    —করে না! তোমার মা তো বাঙ্গালী ছিল, তিনি করতেন না।

    —করতেন।

    —বাবা!

    —আব্বাও করতেন। কিন্তু ওখানে গিয়ে স্বভাব পাল্টে গেছিল। অত পানি পাব কোথায়?

    —এখানে তো আর পানির অভাব নেই।

    —কিন্তু পুকুরে! ওরে বাপরে! আমি পারব না। পুকুরে গোসল করার অভ্যাস আমার নেই।

    —না থাকে, কেয়া আছে।

    তারপর কমান্ডার-ইন-চিফ কেয়াকে পাঠিয়ে বলেছিল, মুর্শেদকে পুকুরে নিয়ে যা। চান না করলে গায়ে ভীষণ গন্ধ হয় ঘামের। কাছে যাওয়া যায় না।

    কেয়া বলেছিল, ও যদি পুকুরে গোসল করতে গিয়ে ডুবে মরে তবে কিন্তু আমি কিছু জানি না। তুমি ওটাকে পাঠাচ্ছ……. আমার ভয় লাগে।

    —তোমার ভয় নেই কেয়া। ঠিক দেখবে আমি ডুব দিতে পারব। কমান্ডার-ইন-চিফের অর্ডার।

    তারপর এক ভয়াবহ ব্যাপার। আসলে সে তো কখনও পুকুরে স্নান করেনি।

    ওদের বাড়িটা ছিল কিছু ঊষর অঞ্চলে। করাচি থেকে ট্রেনে যেতে হয়। আর এমন সমতল ভূমি সে পাবে কোথায়। এমন নির্মল জলই বা পাবে কোথায়। সে স্নান করতে নেমে সিঁড়িতে বসে ছিল কিছুক্ষণ। জলে তার মুখ দেখা যাচ্ছিল। এত বড় দীঘির মতো পুকুরে সে যেন নামতে ভয় পাচ্ছে। আর কেয়া কি আশ্চর্য তর তর করে সিঁড়ি ভেঙ্গে নেমে যাচ্ছে। ওর কি সুন্দর পা। ও কি সুন্দর করে শাড়ি পরতে ভালবাসে। চোখে কি যে আশ্চর্য এক লম্বা টান সুর্মার। কেয়া কেমন কালো জলে সাদা ফুলের মতো ভেসে বেড়াচ্ছিল। কেয়া ডাকছিল, গোসল না করলে দিদি বলেছে ভাত দেবে না। বসে রয়েছ কেন মিঞা, এস। নামো। ডুব দাও।

    —যা পানি। পানির অতল মেলা ভার। আমি আবার ডুবে যাবো নাতো?

    —ডুবে গেলে আমি কি করব!

    —আমাকে একটু ধর না। বলে সে পা টিপে টিপে নিচে নামছে।

    —আমার বয়ে গেছে।

    —বয়ে গেছে! আচ্ছা কামান্ডার-ইন-চিফকে যদি না বলছি কথাটা!

    —তুমি মিঞা এখনও সেই পাকিস্তানী আছো?

    —না থাকলে উপায় কি। যা মানুষের পাল্লায় পড়েছি।

    —তুমি মঞ্জুদিকে গাল দিলে!

    —তোবা, তোবা! সে আমি পারি! তারপর মুর্শেদ মুচকি হেসেছিল। তারপর বলেছিল, মঞ্জুকে বলব, তুমি মঞ্জু এমন লোক দিয়েছ, যে আমার হাত ধরে পানিতে পর্যন্ত নামায় নি। আমি ডুবে গেলে তোমার ভীষণ একটা কেলেঙ্কারি হবে।

    —তোমাকে আমি হাত ধরে নামাবো না বলেছি!

    —তবে! কিন্তু কেয়া ওকে হাত ধরে বাচ্চা ছেলের মতো নামাতে গেলে বলল, ঠিক আছে, দ্যাখো না পারি কিনা। সে একা একা বেশ কোমর জলে নেমে গিয়েছিল। কিন্তু সে যতবার ডুব দিতে যাবে ততবার কেয়া দেখেছে গলা পর্যন্ত ডুবে যায়। মাথাটা কিছুতেই জলের নিচে ডুবে যেতে চায় না। মুর্শেদ নানাভাবে চেষ্টা করছিল। কেয়া পাশে দাঁড়িয়ে ভীষণ রেগে যাচ্ছে। এক দুই তিন, ডুব। বা এটা ডুব হল?

    —হল না!

    —কৈ মাথা ডুবেছে?

    —ডোবেনি!

    —তোমার মাথা মিঞা। আমি পারব না, পারব না!

    তখন পাড়ে মঞ্জুর গলা, কি হয়েছে রে?

    —কি হবে আবার দ্যাখো না এসে কি হয়েছে! কেয়ার কান্না কান্না গলা।

    মঞ্জু কাছে গেলে কেয়া বলল, দেখবে কেমন ডুব দিচ্ছে!

    কেয়া যেন এখন হাবিলদার মেজর। বলল, আবার এক, দুই, তিন, ডুব! আবার জলের ওপর দাঁড়িয়ে চিৎকার কেয়ার, ওটা ডুব হল!

    মুর্শেদ ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়েছিল একবার কেয়ার দিকে আবার মঞ্জুর দিকে। মঞ্জু বুঝতে পারল মুর্শেদ পারছে না, ভীষণ ভয় পাচ্ছে জলের নিচে মাথা ডোবাতে। বোধ হয় ওর নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাবার একটা ভয় ভেতরে আছে। তা ছাড়া এটা যে কত বড় অভ্যাসের ব্যাপার এখন মঞ্জু পাড়ে দাঁড়িয়ে বুঝতে পারছে। অথচ তখন মনেই হয়নি মানুষ কখনও জলের নিচে ডুবে স্নান করতে পারে না।

    মঞ্জু বলেছিল, ঠিক আছে, একদিনে হবে না। মুর্শেদ তুমি শরীরটা মুছে সিঁড়িতে বসে মাথাটা ধুয়ে নাও।

    কেয়া কেমন হয়ে গেল। পাড়ে উঠে শাড়ি থেকে জল নিঙড়াতে নিঙড়াতে বলল, তুমি এলে বলে। না হলে ওকে দেখাতাম গোসল কাকে বলে।

    মুর্শেদ মঞ্জুকে বলল, মঞ্জু, কেয়া ভীষণ ক্ষেপে গেছে। দুটো ভাত সে আজ বেশি খাবে।

    —ঠিক আছে মিঞা, তোমায় আর উপদেশ দিতে হবে না। কাল মজা দেখাব।

    পরদিন কেয়া ভেবেছিল, মুর্শেদ ডুব না দিতে পারলে জলে দাঁড় করিয়ে রাখবে। কিন্তু যেই না বলা, এক, দুই, তিন, ডুব। বেশ ডুবে গেল। তারপর ভোঁস করে নাক ভাসিয়ে বলল, কি ঠিক আছে বিবিজী!

    কেয়া একেবারে স্তম্ভিত। বলল, মিঞা মঞ্জুদিকে বলে দেব সব। তোমার ক্যামফ্লেজ ভেঙ্গে দেব।

    —কি বলবে?

    —বলব, বিশ্বাসঘাতক। বিশ্বাসঘাতক মানে?

    —বিশ্বাসঘাতক মানে, যাকে বিশ্বাস করা যায় না।

    —অঃ। বলেই মুর্শেদ তর-তর করে সিঁড়ি ধরে উঠে গেল। বাংলাদেশে এসে সে যে আগেই এ-সব রপ্ত করে নিয়েছিল, কেয়া অথবা মঞ্জুকে কিছুতেই বুঝতে দেয়নি। সে বলল, গোসল না করিয়ে যখন ছাড়বে না আর কি করা! গোসল করেই ভাত ডাল চানা যা হয় কিছু খাব। তারপর বলল, কি যেন মঞ্জু বলে, পড়েছি যবনের হাতে………

    কেয়া বলল, আমরা যবন, না তোমরা যবন!

    —সবাই আমরা যবন, সবাই আমরা কাফের, জায়গা মতো সবাই আবার আমরা মানুষ, কি ঠিক না!

    কেয়া মানুষটার ভেতর কিছু এলেম আছে এটা বুঝতে পেরে চুপ পরে গেছিল সেদিন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআওরঙ্গজেব : ব্যক্তি ও কল্পকথা – অড্রি ট্রুসকে
    Next Article মানুষের ঘরবাড়ি – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }