Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ঈশ্বরের বাগান – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

    লেখক এক পাতা গল্প1863 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ঈশ্বরের বাগান – ৭৬

    ।। ছিয়াত্তর।

    মুর্শেদ লাফ দিয়ে উঠে বসল। তারপর ছুটে গিয়ে দরজা খুলে দিলে, এক ঝলক হাসি কেয়ার সে বলল, মিঞার আর তর সইছে না।

    —ছোটবিবি সত্যি বলছি, তর সইছে না।

    —আবার ছোট বিবি!

    মুর্শেদের মনে হল অনেক দিন হল সে কেয়াকে ছোটবিবি ডাকছে না। বিশেষ করে যেদিন থেকে ঢাকায় ইন্ডিয়ান আর্মি মার্চ করে ঢুকে গেল সেদিন থেকে। আগে সে কথায় কথায় বলত, দ্যাখো ছোটবিবি তোমার ভয় নেই। তখন কেয়া ছিল কতকটা মুর্শেদের আন্ডারে। যদিও মুর্শেদের তেমন ক্ষমতা ছিল না, তবে কেয়াকে নিয়ে মোটামুটি মেজর সফিকুল সাহেব খুশিই ছিলেন। ওর কাছে কেয়াকে খুব একটা নাস্তানাবুদ হতে হয়নি। অন্তত মেজরের হাতে পড়ে কেয়ার প্রাণের আশঙ্কা ছিল না। একটু কাছাকাছি খুব সুন্দরী মেয়ে নিয়ে বসে থাকার স্বভাব ছিল সফিকুলের।

    তবু কি করে যে কি হয়ে যায়। মুর্শেদ সেই বিরল জনহীন প্রান্তরে একা একদিন কেয়াকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিল। মেজরের যে কোথায় গন্ডগোল তার জানা ছিল না, কেয়াকে মুর্শেদের আন্ডারে না রেখে আবার তাকে অন্য একজন সুবেদারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার হুকুম হয়েছিল। মুর্শেদের ওপর শুধু ভার কেয়াকে ঠিকমতো পৌঁছে দেওয়া। কেয়ার জন্য মুর্শেদ তখন চুপচাপ বন্দুকের নলে হাত রেখে বসে থাকত। এবং কখনও কেয়াকে খুব কাতর দেখালে ওর কেন জানি মিনারের চোখ দুটো ভেসে উঠত। মনে হত ইন্ডিয়ান আর্মি সারা পাকিস্তানে ঢুকে গেছে। টেরর তারা। যেন একটা মরুভূমির ওপর দিয়ে হাঁটিয়ে নেওয়া হচ্ছে, ওর বিবি মর্জিনাকে। অনেক দূরে উটের ওপর সে দেখতে পেত একজন ভারতীয় সৈন্য, এবং ওর কাঁধে লুটিয়ে পড়ে আছে মিনার। সে তখন ভয়ে রাতে ঘুম যেতে পারত না। দুঃস্বপ্ন থেকে আঁৎকে উঠলে সে ভাবত, কেন এ-ভাবে মানুষেরা যুদ্ধে আসে, সে তো কখনও নিজেকে হিন্দুস্তানের লোক ভাবতে পারে না।—কিন্তু সেই যে তার বাল্যস্মৃতি—ফুলবাগান পার হয়ে কেবল সামনে নলখাগড়ার বন, কাঠের গোলা, এবং উল্টোডাঙার খাল বরাবর গেলে এক বিস্তীর্ণ মাঠ—নিচু নাবাল জলাভূমি, কতরকমের পাখি উড়ে আসত। ভেড়িগুলোতে অজস্র মাছ। সে কতদিন খুব সকালে মাছের আশায় হাঁটতে হাঁটতে উল্টোডাঙার পুল পার হয়ে নিচু নাবাল জমিতে নেমে গেছে। বড় বড় পাবদা, অথবা কখনও গলদা চিংড়ি সে ধরে আনত, অথবা পুলের নিচে এক মসজিদ, সেখানে সকাল সকাল বাপজি চলে যেত আজান দিতে। বাড়ির চাতালে আম্মা বদনা থেকে পানি ঢেলে বলত, উঠ মুর্শেদ, সবের হয়ে গেল। পড়তে বোস।

    কেয়া দেখল, মুর্শেদ খুব নিবিষ্ট মনে চা খাচ্ছে। সে কেয়াকে আর কিছু বলছে না। এমন কি কেয়া যে সামনে দাঁড়িয়ে আছে সে যেন বেমালুম ভুলে গেছে। কেয়ার তখন ভারি রাগ হয়। সে না বলে পারে না, মিঞার ছোট বিবির কথা আবার মনে আসে কেন?

    —মনে আসে, এই এমনি, মানে চলে যাব তো। অনেক কথা মনে পড়ছে।

    কেয়ার সেই দুষ্টমি বুদ্ধি ফের, কে বলেছে তুমি চলে যাবে।

    —কেন মঞ্জু।

    —মঞ্জুদি বলেছে তুমি চলে যাবে?

    —না, ঠিক না বললেও, ঐ যে কে এসেছে, আমাকে নিয়ে যাবে কথা আছে, আমি তার সঙ্গে চলে যাব। আমার আর ভয় নেই।

    —সব গন্ডগোল হয়ে গেছে।

    —তার মানে!

    —মানে ভীষণ পাকিস্তানী বিদ্বেষ তার। তোমার কথা শুনে ভীষণ ক্ষেপে গেছে।

    —মানে! তুমি কি বলছ কেয়া?

    —বলছে, এতবড় একটা রিস্ক তোমরা আমার ঘাড়ের ওপর ছেড়ে দিচ্ছ। পুলিশে এতদিন খবর দাওনি! একজন ডেজার্টারকে ঘরে লুকিয়ে রেখেছ!

    কেয়া দেখল, চোখমুখ ভীষণ শুকিয়ে গেছে মুর্শেদের। এমনি লম্বা মত মানুষটা। গাল সাফ- সোফ রাখার স্বভাব। রঙ ভীষণ উজ্জ্বল। চোখ বেশ বড়। নাক উঁচু। একজন ভাল মানুষের স্বভাবে যা যা থাকে, মুর্শেদের মুখ দেখলেই বোঝা যায় সব তার আছে। সে এখন চুপচাপ পাশে চায়ের কাপটা রেখে দিয়েছে। মাথা নিচু করে রেখেছে এবং মনে হয় কিছু ভাবছে। মুর্শেদের এমন করুণ চেহারা দেখে কেয়ার ভীষণ মায়া হল। সে রসিকতা করতে গিয়ে কেমন একটা বাজে ছেলেমানুষী করে ফেলেছে। এটা করা ঠিক হয়নি। সে এবার বেশ জোরে হেসে দিল, আরে সাহেব ছোটবিবি থাকতে তোমার ভয় নেই। মঞ্জুদি এখনও কিছু বলেনি। সোনাবাবু খুব ভাল মানুষ।

    মুর্শেদ যেন এখনও ভরসা পাচ্ছে না।

    কেয়া বলল, চা খাও। কাপ প্লেট নিয়ে যাব। তোমার দুধ আসবে আবার। মুর্শেদ বলল, মঞ্জু এখনও বলেনি।

    —না! বলবে, তুমি ব্যস্ত হবে না। মঞ্জুদি, ঠিক সময় হলেই বলবে।

    সে এবার কোন চোখ উদাস করে ফেলল। সামনের জানালার একটা পাট খোলা। সে বলল, আমার কিছু ভাল লাগছে না কেয়া। তারপরই কি মনে হলে বলল, নীলু কেমন আছে?

    কেয়া বলল, ভাল না সাহেব।

    —আমি কখন যাব ওর কাছে?

    —বলতে পারছি না।

    সোনাবাবু আসায় একটা মুশকিল দেখা দিয়েছে, যখন তখন কেয়া ওকে ঘরের ভেতর নিয়ে আসতে পারছে না। কখন সোনাবাবু বাইরে থাকবে, অথবা সোনাবাবুকে কিছু সময়ের জন্য বাইরে নিয়ে যেতে হয়, না হলে টের পাবে, টের পেলে কি-ভাবে নেবে, একজন ডেজার্টার মানুষ, ধরা পড়লে ভীষণ হাঙ্গামা এবং নানাভাবে উৎপীড়ন শুরু হতে পারে—মুসলমান পাড়ার লোকেরা খবর পেলে পিটিয়ে মেরে ফেলতে পারে। দুশমন খতম করার জন্য উঠে পড়ে লেগে যেতে পারে এত সব ভেবেই হয় তো মঞ্জুদিও চট করে বলতে পারছে না। তবু মুর্শেদ এখানে যতদিন আছে, অর্থাৎ সেই নিষ্ঠুর দিনগুলির প্রায় প্রথম থেকেই, এবং কি করে যে অবনীদার সঙ্গে ওর আলাপ, হয়তো ওষুধের জন্য প্রথম মুর্শেদ অবনীর কাছে এসেছিল। একটা কলিক পেন-টেন হবে। কবিরাজী প্রায় ধন্বন্তরির সামিল। এবং এক সময় নিরাময় হলে, মুর্শেদ প্রায় বুক আগলে রাখত ওদের। অথচ মুর্শেদ তখনও জানত না, সে এ-ভাবে বেশিদিন তাদের রাখতে পারবে না। শান্তি কমিটির মানুষেরা ক্রমে মেজরকে নানাভাবে উৎসাহিত করত, অবনীবাবু কলাবরেটর। ও পাকিস্তানের দুষমণ। ক্রমে এ-ভাবে একটা সাংঘাতিক অবিশ্বাস এবং পরে মুর্শেদের সঙ্গে আরও চারজন এসেছিল—মুর্শেদ একজন ডিসপ্লিনড মিলিটারি পার্সন, সে আজ্ঞাবহ দাস মাত্র। সে চুপচাপ হেঁটে হেঁটে তার কঠিন শক্ত হাত ধরে যেন বলার ইচ্ছে ছিল, অবনীবাবু আমার কসুর মাপ করবেন। আল্লার কাছে কি জবাব দেব জানি না, আপনি আমার দোস্ত। আমার কাছে আপনি বড় কাছের মানুষ অবনীবাবু কিন্তু আমি একজন মিলিটারি পার্সন। আমার কোনও ব্যক্তিগত ইচ্ছে অনিচ্ছে বলে কিছু নেই। শুধু হুকুম তামিল করতে পারি। হুকুম তামিল করা আমার ধর্ম।

    অথচ আগের দিনগুলো কি যে ভীষণ ভালো ছিল। বিকেলে ফল-ইনের আগে, অথবা সন্ধ্যার রোল কল হয়ে গেলে একটা টর্চ নিয়ে মুর্শেদ বের হয়ে পড়ত। সাইকেলে চলে আসত অবনীবাবুর ডিসপেনসারিতে। তারপর গল্পগুজব, মাঝে মাঝে জব্বার চাচা চা নিয়ে আসত ভেতর থেকে। যাবার সময়, সে ডাকত মঞ্জু ভাবি, কেয়া, কেয়া কোথায় মঞ্জু ভাবি, আমার ছোটবিবি।

    আর এই নিয়ে ছিল ভীষণ হাসাহাসি। কেয়া ভীষণ ক্ষেপে যেত। সে বলত, মুর্শেদ তোমার মাথায় লাঠি ভাঙব।

    মুর্শেদ হাসতে হাসতে বলত, ছোটবিবি, তরমুজ। তরমুজ তুমি, কেটে কেটে চিনি দিয়ে খেতে ও কি যে আরাম! একেবারে চিনির রস! টুই টুম্বুর।

    —মুর্শেদ ভাল হচ্ছে না।

    মাঝে মাঝে তখন মঞ্জু ধমক দিত, কেয়া এটা কি হচ্ছে? অসভ্যতা। সাহেব তোর ছোট না বড়।

    কেয়া তখন কথা না বলে চুপচাপ বড় বড় পা ফেলে ভিতরে চলে যেত। এ-ভাবে মুর্শেদ এ- বাড়িতে আত্মীয়ের মতো ছিল। সে সাইকেলে মাঠের ওপর দিয়ে গান গাইতে গাইতে চলে যেত। কখনও গোপেরবাগ পার হয়ে দেখতে পেত সেখানে সোনালী বালির নদীর চর সামনে, ধু ধু বালিরাশি, এবং চাঁদ উঠলে ওর বিবির কথা মনে পড়ত। বিবির কথা মনে পড়লেই মঞ্জুদির কথা মনে পড়ত, মঞ্জুদির কথা মনে হলে কেয়ার কথা, অবনীবাবুর কথা—সব কথা, এবং বর্ডার পার হয়ে গেলে সেই উল্টাডাঙার মাঠ, কারখানা, তারপর বস্তি বাড়ি, একটা বিরাট দেশের সে মানুষ, অথচ কেন যে সে নিজেকে আলাদা ভাবতে ভালবাসে—ঠিক বুঝে উঠতে পারে না। শৈশবে সে এমন কখনও ভাবতেই পারেনি, কেউ তাকে তার শৈশব থেকে নির্বাসনে নিয়ে যাবে।

    কেয়া দেখল মুর্শেদের চোখ জানালায়। কথা বলছে না। অবনীদার জামা প্যান্ট অথবা পাজামা পাঞ্জাবি সব ছোট বলে তাকে দেখতে কিছুটা জোকারের মতো লাগছে। কখনও কখনও এই নিয়ে হাসাহাসি। মুর্শেদ তখন ছেলেমানুষের মতো আরও সব হাঁটাহাঁটি, চোখের ইসারা, কখনও বেঁকে, কখনও লম্বা হয়ে যাওয়া সে একেবারেই তখন জোকার সাজতে ভালবাসে। আসলে তখন কেয়া বুঝতে পারে এ-সবের ভেতর মুর্শেদ তার ছেলেমেয়েদের স্মৃতি ভুলে থাকতে চায়। এবং যখন চুপচাপ থাকে, কথা বলে না, দশটা কথা বললে, একটা কথার জবাব দেয় তখন কেয়া কি করবে ভেবে পায় না।

    কেয়া বলল, আমি গিয়ে সোনাবাবুকে কোথাও পাঠিয়ে দিচ্ছি।

    —কোথায় পাঠাবে!

    —দেখি।

    আবার সেই করুণ চোখ। কেয়া হেসে দিল, আরে তোমার কাছে ওঁকে পাঠাচ্ছি না। তোমার যেমন ছেলেবেলা কলকাতার কোন ডাঙ্গায় না বাজারে কেটেছে, সোনাবাবুর তেমনি এখানে কেটেছে। অথচ দ্যাখো তোমারা দুজনই দুদেশের মানুষ। বলে কেয়া কি ভাবল। বলল, আমি এখন এ-দেশের। আমার এখন তিনটা দেশ। তুমি আমি সোনাবাবু তিন দেশের মানুষ। ভাবা যায় না।

    মুর্শেদ বলল, সত্যি।

    কেয়া বলল, অথচ দ্যাখো তোমরা আমাদের কি না করেছ!

    মুর্শেদ চুপ করে থাকল।

    —কি কথা বলছ না কেন?

    —কি বলব বল!

    —জবাব দাও।

    কেয়ার চোখ মুখ দেখলে মনে হবে সত্যি সে জবাব না নিয়ে ছাড়বে না। তারপর কেয়া খুব একটা সরল মেয়ের মতো বলল, কিগো মুর্শেদ মিঞা, কোন জবাব দিতে পার না। এত দূর থেকে ধর্মের নামে দেশ শাসন করলে এই হয়। মানুষের সুখ দুঃখ বুঝলে না, কেবল শাসন করে গেলে। তারপর কেয়া কি ভেবে বলল, সোনাবাবুকে পাঠিয়ে দেব! তুমি সোজা কথার মানুষ না!

    —এই কেয়া! প্লিজ।

    —প্লিজ-ফ্রিজ না।

    কিন্তু তবু কেয়া ছুটে বের হয়ে যেতে চাইলে মুর্শেদ বলল, আল্লার কসম!

    কেয়া হা হা করে হেসে উঠল। এবং ঘাসের ওপর বসে পড়ল হাসতে হাসতে। কেমন ভয় পাইয়ে দিয়েছে। সে মানুষটাকে ভীষণ ভয় পাইয়ে দিয়েছে। সোনাবাবুর নামে কি ভয়!

    .

    কেয়া এসে দেখল, সোনাবাবু চুপচাপ বসে রয়েছে। মঞ্জুদি কাছে নেই। বা’জান হাম্বাল দিস্তায় শুকনো লতাপাতা গুঁড়ো করছে। এবং ঘোড়াটা ছাড়া বাড়িতে ঘাস খাচ্ছে।

    কেয়ার কেন জানি আজ লম্বা বারান্দায় সকালের রোদে এ-ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে ইচ্ছে করছে। এটা শরৎপাল। জল ক্রমে কমে যাচ্ছে। জলে ঘাসপচা গন্ধ উঠছে।

    সে অতীশকে বলল, চা খেয়েছেন।

    —কখন!

    —আবার দেব।

    —দাও।

    —কতবার দিনে চা হয়?

    —যতবার দেবে।

    —এখানে তো তা হবে না। চিনি পাওয়া যায় না। গুড় নেই। সব আকাল।

    —তবে যা দেবে।

    —সব সময় মিলতে নাও পারে।

    —তবে দিও না।

    —আপনি একবার ওদিকটায় যাবেন?

    —কোন দিকটায়?

    —আপনাদের বাড়ির দিকে।

    —চল।

    বারান্দায় দাঁড়িয়ে ডাকল, মঞ্জুদি, আমরা যাচ্ছি।

    —কোথায়!

    —সোনাবাবুদের বাড়ি।

    —এখন যাচ্ছিস। মাছ কে কাটবে।

    —এসে কাটব।

    আসলে এই যে জোরে জোরে কথা, সব মুর্শেদকে যেন শুনিয়ে দেওয়া, আমরা যাচ্ছি। তুমি এই ফাঁকে নীলুর কাছে এসে বসতে পার

    যাওয়ার সময় কেয়া দেখল মুর্শেদ জানালার বসে আছে। ডিসপেনসারি পার হয়ে ছাড়া বাড়িতে ঢুকে দেখল, মুর্শেদ জঙ্গলের আড়ালে তাদের যেন অনুসরণ করছে। ইন্ডিয়ার মানুষ। এখানে এসেছে। কলকাতায় থাকে। কলকাতা মানে তার কাছে, ষষ্ঠীতলা, চন্ডিতলা, বাগমারি, অথবা সেই সব জলা, যার পাড়ে পাড়ে সে নিত্যদিন ওর শৈশবে ঘুড়ি ওড়াতো অথবা সব কাঠের গুদাম পার হলে শুধু মাঠ, ঘাস, কবরভূমি এবং নিশিদিন ওর কাছে ছিল সব কিছু অত্যন্ত কাছের, সেখানে কি সেই মানুষ যায়! মসজিদের পাশে সেই পীরের দরগা এবং একটা কাঞ্চন ফুলের গাছ ছিল, অথবা, সেই নুরুল মিঞার দোকান, মোহরমের দিনে যে লোকটা রাঙতার টুপি, রাঙতার তরবারি বিক্রি করত। নুরুল মিঞা ছিল ওর কাছে দুনিয়ার সবচেয়ে আশ্চর্য মানুষ। সে তো সব সময় মক্কা অথবা মদিনার গল্প, সব নাবিকের গল্প, যেন ওর শুনলে মনে হয় সে নিজের চোখে সব দেখে এসেছে।

    সেই মানুষটাকে কি এখনও ষষ্ঠীতলার মাঠে বসে থাকতে দেখা যায়! অথবা সেই লোকটা, যে আসত শীতে বহুরুপী সেজে। যে সকালে এসেই ঢোল পেটাত। আর বস্তির সব ছেলেমেয়েরা ছুটত ঢোলের শব্দ শুনে। ওরা ঘিরে দাঁড়াত। সাদা রঙের ঘোড়া, আসলে ওটা ঘোড়া ছিল না, মানুষটার নাম ছিল মনসুর, সে থাকত মাঝে, সামনে ঘোড়ার মুখ, পিছনে লেজ, কাপড় দিয়ে ঢাকা। এবং নিচে কি যে থাকে কে জানে, সে হাতে রাখত চাবুক, সে লাফালে ঝাঁপালে ঘোড়াটাও লাফাত ঝাঁপাত। এমন একটা কাপড়ের ঘোড়া তার কাছে কখনও মনে হয়নি, কাপড়ের। জ্যান্ত ঘোড়া চড়ে এলেও সে মনসুরকে তার চেয়ে বেশি আশ্চর্য মানুষ ভাবত না। সে নেচে নেচে গান গাইত। যেন ঘোড়ায় চড়ে গাইছে। দুলহ যায়। আর কি সব, সাদি সমন্দের গান, তার মনে নেই। তবু সে যেন ভাবে, মনসুর যে জগৎ নিয়ে বেঁচে ছিল, তার গানে, এবং এখনও সে যখন মিনার অথবা মর্জিনাকে গল্প করতে বসে, বার বার ঘুরে ফিরে আসে সেই দুটো মানুষ, একজন নুরুল, অন্যজন মনসুর। ইণ্ডিয়া বাদে সে দুটো মানুষকে পৃথিবীর আর কোথাও আবিষ্কার করা যাবে না সে জানত। ওর বুক থেকে তখন সামান্য দীর্ঘশ্বাস উঠত। শৈশবে সে কেন যে এ-ভাবে বার বার ফিরে যেতে চায়। কলকাতার মানুষটা হেঁটে যাচ্ছে। যে কেবল বলতে পারে, ইণ্ডিয়াতে ওরা এখনও বেঁচে আছে কিনা।

    মুর্শেদের ভারি লোভ হচ্ছিল, কেয়া এবং সেই মানুষটার পাশে পাশে হেঁটে যায়। কিন্তু পারে না। কারণ মঞ্জু এখনও কিছু বলছে না। মঞ্জু না বললে সে হুট্‌ করে কিছু করতে পারে না। মানুষের মনে কি থাকে কেউ কখনও সঠিক বলতে পারে না।

    সে গাছের আড়াল থেকে এবার সরে এল। ওরা ছাড়াবাড়ি পার হয়ে যাচ্ছে। পরে পুকুর। হাজা মজা। এখন বর্ষাকাল বলে সেটা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। এবং একটা বাস পাকা রাস্তা ধরে চলে যাচ্ছে। এটা সকাল আটটার বাস। আটটা বেজে গেছে তবে। এবং ওরা যখন একটু ঘুরতে গেছে, সে এই ফাঁকে নীলুর ঘরে যেতে পারে। নীলু ওকে দেখলে ভীষণ খুশি হয়। আর শিশুর মুখের সঙ্গে কেন যে সে সব শিশুদের মিল খুঁজে পায়। সে তখন আর কেন জানি ওর পাশ থেকে উঠতে পারে না, কেবল বসে থাকতে ইচ্ছে হয়। শিশুরা পৃথিবীতে একই রকমভাবে বাঁচে।

    সে বারান্দায় এসে দেখল, মঞ্জু একটা বড় থালায় চিংড়ি মাছ, বেলে মাছ, পাবদা মাছগুলো ঢেকে রাখছে। যে কাজ করে দেয়, সে উঠোন ঝাঁট দিচ্ছে। সে এখন এদিকে নেই। এবং সে দেখেছে মঞ্জু, ওর সামনে মুর্শেদকে বের হতে বারণ করে না।

    এ-ভাবে মুর্শেদ ঘরে ঢুকে দেখল, জানালা খোলা নেই। সে নীলুর মাথার সামনের জানালা খুলে দিল। হয়তো কেয়ার কাজ। সকালের দিকে সে খুলে দিয়েছিল হয়ত। অবার যাবার সময় বন্ধ করে রাখতে পারে। সে এ-সব ভাবল। আর বেশি সে এখন সামনের দিকে যেতে পারবে না। কারণ একটু পরেই সামনের ঘর পার হয়ে বার-বাড়ির বারান্দা, মাঠ, বাঁ দিকে নীল ডাকবাক্‌স।

    সে চুপচাপ নীলুর পাশে বসল। নীলু ওকে দেখে খুব খুশি। নীলু তো জানে না, যে তার বাবাকে এক বিকেলে না সেটা সকালেই হবে, ঠিক যেন সে মনে করতে পারে না, কাকে, কখন, কোন সময়ে বড় মাঠে নামিয়ে হত্যা করেছে। শুধু অর্ডার—কিল। সমস্ত কলাবরেটরদের খুঁজে বার কর। যারা দেশের চর, যাদের জন্য আমাদের আজ গৃহযুদ্ধ, তাদের খুঁজে বার কর। অ্যান্ড স্যুট দেম আনটীল দেয়ার ডেথ্।

    হায় সে তো একজন আজ্ঞাবহনকারী মানুষ। সে এ-ভাবে মেরে গেছে, তা কত, সে এখন সংখ্যা নিরূপণ করতে পারে না। কেবল নীলুর সামনে বসলেই সে কেমন বোকা হয়ে যায়। যেন নীলু ইচ্ছে করলে ওর বোকামির জন্য ওঠ-বোস করাতে পারে। এবং এ-ভাবে সে মাঝে মাঝে কেন যে নীলুকে ভীষণ ভয় পায়। নীলু হাসলে, সে তখন আর কিছুতেই হাসতে পারে না। মুখ গোমড়া করে বসে থাকলে, নীলু বলবে, মুর্শেদ চাচা তুমি কাঁদছ!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআওরঙ্গজেব : ব্যক্তি ও কল্পকথা – অড্রি ট্রুসকে
    Next Article মানুষের ঘরবাড়ি – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }