Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ঈশ্বরের বাগান – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

    লেখক এক পাতা গল্প1863 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ঈশ্বরের বাগান – ৮০

    ॥ আশি ।।

    অতীশের মনে হয়েছিল এ-বাড়িতে কোথাও একটা ভীষণ গণ্ডগোল ঘটে গেছে। সে যখন কেয়াকে নিয়ে ফিরে এসেছিল, তখন থেকেই কেমন ফিস্‌ফিস্ গলায় কথাবার্তা। মঞ্জু একবার এমনও যেন বলেছিল, খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, একবার ইচ্ছে হল বলে, কিন্তু ওর সামনে মঞ্জু এত স্বাভাবিক যে, ওর কিছু হারিয়েছে কিছুতেই বিশ্বাস করা যায় না। সে যে রাতে কাউকে দেখেছিল, তা জিজ্ঞাসা করতেও কেমন অস্বস্তি লাগছে।

    .

    এ-ভাবে সে ফিরে এসেই দেখেছিল মঞ্জু ভীষণ ব্যস্ত। কেয়াও কেমন অস্বস্তিতে পড়ে গেছে। সামনে পড়লেই চোখ মুখ স্বাভাবিক করে ফেলছে। আপনি সোনাবাবু বসে আছেন কেন, স্নান করে ফেলুন। মঞ্জুদির রান্না শেষ। আপনাকে খাইয়ে, মঞ্জুদি ওর নিজের রান্না করবে।

    অতীশের ভাল লাগছিল না। কি হারিয়েছে মঞ্জু। মঞ্জু জীবনে এমন কি পেয়েছে যা হারাতে পারে। একবার মনে হল, মঞ্জু সব হারিয়েছে। ওর শৈশব হারিয়েছে, ওর ঘোড়া হারিয়েছে, ওর চেনা জগতের সব মানুষ হারিয়েছে। আর এ-ভাবে মানুষই সব কিছু হারায়। কিন্তু মঞ্জু্র হারানো আলাদা ধরনের, যা কেউ হারায় না, কেবল মঞ্জুর মতো মেয়েরাই তা হারায়। সে ভেবে পেল না তেমন কি মঞ্জু হারিয়েছে যা ওর সামনে প্রকাশ করতে সংকোচ, অথবা দ্বিধা।

    যাই হোক সে স্নান সেরে নিয়েছিল। মঞ্জু ওর জন্য বসে থাকবে এটা ঠিক না। ওকে না খাইয়ে মঞ্জু নিজের নিরামিষ ঘরে রান্না করতে যাবে না। অথচ মঞ্জু শাড়ি পরে না। রঙের। ঠিক নানা রঙের না হলেও কুমারী মেয়েরা যেমন সাধারণ শাড়ি সায়া পরতে ভালবাসে, সেও তেমনি। সে যেন পোশাকে তার ভাগ্যের কথা লিখে রাখতে চায় না। অথচ আহারে এত বেশি নিয়মকানুন অতীশের ভাল লাগল না।

    ওর খাওয়া হলে সে আরও বেশি টের পেয়েছিল কিছু হয়েছে। এমন কি জব্বার চাচা ডিসপেনসারির দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। সব মানুষদের তিনি ঝেঁটিয়ে বিদায় করেছিলেন। আগামী কাল আসতে বলেছেন। ফলে ঘাটে যে সব নৌকা লেগেছিল এক এক করে চলে গিয়েছিল। পোস্টাফিসের নীল ডাকবাকসে কেউ কেউ চিঠি ফেলতে এসেছিল, তারাও চলে গেল। একটা ভয়ঙ্কর দুপুর ওর জানালায় খাঁ খাঁ করতে থাকল। শুধু পোস্টাফিসের জানালা খোলা। সেখানে একটা মুখ, গালে সাদা দাড়ি, সে ঝপাঝপ খামে পোস্টকার্ডে বাংলাদেশের ছাপ মেরে চলেছে। এবং জানালায় একটা কাক বসেছিল, সেটা কা কা করে ডাকছিল।

    তারপর মনে হয়েছিল, এ-বাড়িতে কেউ নেই। সে ডেকেছিল, কেয়া। কোনও জবাব পায়নি। সে দরজা অতিক্রম করে সামনের ঘরটায় ঢুকে গিয়েছিল। সেখানে বড় বড় হরিণের মাথা, বাঘের ছাল, এবং পাখির ছবি দেয়ালে সেঁটে আছে। অবিনাশদা খুব জাঁকজমকপ্রিয় মানুষ ছিলেন, এ-ঘরে এলে সেটা টের পাওয়া যায়। এবং সব ঘরের দেয়ালে মৃত হরিণের ছবি। সে রাতে এ-সব ছবি দেখলে ভীষণ আঁৎকে ওঠে।

    অতীশ তারপর দরজা পার হয়ে নীলুর ঘরে এসে বসেছিল। এখানে শুধু একজন ছোট্ট মানুষ বিছানায় ক্রমে মিশে যাচ্ছে। কি সুন্দর চোখ! সাদা চাদরে সে শুয়ে পাশ ফিরতে পারে না, সব কিছু তাকে করিয়ে দিতে হয়। সে খুব দুর্বল। হাত নেড়ে কোনরকমে একটা দুটো কথা বলতে পারে। এমন সুন্দর ছেলেরা পৃথিবীতে মরে যায়, অথবা যাবে ভাবতে সে কেমন অসহায় বোধ করছিল তখন। অতীশ দেখল, নীলু চোখ বুজে আছে। সে ঘুমিয়ে নেই অতীশ এটা বুঝতে পারছে। সে ডাকল, নীলু।

    নীলু চোখ মেলে তাকাল।

    —তোমার ভাল লাগছে?

    —ভাল লাগছে।

    —কোন কষ্ট হচ্ছে না তো?

    —না।

    —তুমি খেয়েছ?

    —খেয়েছি। মা যাবার আগে খাইয়ে দিয়ে গেছেন।

    —কোথায় গেছে ওরা?

    —ওরা মুর্শেদ চাচাকে খুঁজতে গেছে।

    —মুর্শেদ চাচা। সে কে!

    —সে একজন আর্মি ডেজার্টার।

    —কোন্ আর্মি।

    —পাকিস্তানী আর্মি।

    —সে এখানে কেন?

    —মা তাকে থাকতে বলেছে।

    —বলছ কি!

    —হ্যাঁ মুর্শেদ চাচা খুব ভাল মানুষ। সে আমাকে সকালে কেবল তার ছেলেবেলার গল্প বলে। সে বলেছে, আমাকে একটা উট কিনে দেবে! আমরা দুজনে উটের পিঠে চড়ে পৃথিবী দেখতে বের হব।

    —কিন্তু……… বলে অতীশ পায়চারি করতে থাকল। এমন একটা সময়ে মঞ্জুর এই আগুন নিয়ে খেলা। তা ছাড়া সে বুঝতে পারল না আর্মি থেকে কি করে ডেজার্টার হয়। সব তো আত্মসমর্পণ করেছে। লোকটা তা না করে পালিয়েছে! পালিয়ে এখানে এসে উঠেছে। অতীশ কেমন অবাক হয়ে গেল।

    অতীশ বলল, নীলু, মুর্শেদ চাচাকে ওরা কোথায় খুঁজতে গেছে?

    —জানি না।

    অতীশের মনে হল, এত কথা ছেলেটার সঙ্গে বলা উচিত হচ্ছে না। কথা বললেই নীলু হাঁপিয়ে ওঠে। এখন তো বিকেল। ডিসপেনসারি তেমনি বন্ধ। ডাকঘরে তালা মেরে সে মানুষটাও চলে গেল। এখন এত বড় বাড়িতে সে একা। সে ঠিক একা না, নীলু আছে। নীলুর জানালা খোলা। সেখানে কামিনী ফুলের গাছ, গাছে একটা হলুদ রঙের পাখি। তার মনে হল, এত বড় বাড়িতে কেউ একা থাকতে পারে না। এত বড় বাড়িতে একা থাকলে লোক পাগল হয়ে যায়। আসলে এত বড় গ্রামটাতে একটা লোক নেই, কেন যে এ গাঁয়ের সব বাড়িগুলো খাঁ খাঁ করছে, নতুন বসতি গড়ে ওঠেনি। কারণ এটা তো নিয়ম, জায়গা খালি পড়ে থাকে না, জমি খালি পড়ে থাকে না, ঠিক কেউ না কেউ আবাদ করতে চলে আসে।

    নীলুকে এ-ভাবে একা রেখে সবার চলে যাওয়া অতীশের ভাল লাগল না। সে ইচ্ছে করলে নিজের ঘরে বসে থাকতে পারত, কিন্তু এমন একটা খাঁ খাঁ বিকেল, অর্থাৎ সে দুপুর থেকে এই বিকেল পর্যন্ত এ-ভাবে একা এখানে কাটিয়ে দিয়েছে, কেউ নেই, শুধু অর্জুন গাছের নিচে ঘোড়াটা ঘাস খাচ্ছে, শুধু জানালায় তাকিয়ে আছে নীলু, আর সে পায়চারি করছে। কেমন ভৌতিক অথবা রহস্যজনক, সে এ- গ্রামে ঢুকেই তার গন্ধ পেয়েছিল, কারণ সব মানুষেরা, মৃত অথবা জীবিত, যে যেখানে আছে, এ- গ্রামের দৃশ্যপট তাদের কাছে অলৌকিক মায়ার মতো ছড়িয়ে আছে। কেউ ভুলতে পারে না, একটা গ্রাম, বর্ষাকালে শাপলা ফুল, খালের জলে মাছ ভেসে আসে, কত পাখি উড়ে আসে, যায়, কচ্ছপেরা ভেসে থাকে জলে, লটকন গাছে থোকা থোকা ফল, আর মায়াবী ভালবাসা। এই গ্রামের ফুলে ফলে তারা এখনও যেন বেঁচে থাকতে চায়। এই যে কেয়া, জব্বার চাচা, অথবা ডাকঘর এবং মানুষজনের আসাযাওয়া সব যেন ভৌতিক। আসলে সে হয়ত কাল থেকেই এমন একটা রহস্যজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু সকালে কেয়া এবং সে, কেয়ার আর্ত চোখ, এ-সব মিথ্যা হয় কি করে!

    এটা মনে হওয়া স্বাভাবিক। যখন খান সেনারা গ্রামের পর গ্রাম লুটতরাজ করেছে, গাঁয়ের মানুষজন পালিয়ে গিয়েছে, মেয়েদের নিয়ে বনবাসে চলে গেছে, এবং এমন একটা ছিনিমিনি ব্যাপার যখন হয়ে গেল তখন কিছু খালি ঘর-বাড়িতে ভৌতিক কিছু থাকবে না, সে কি করে হয়! আর সঙ্গে সঙ্গে ওর চোখের ওপর, নীলু এবং অর্জুন গাছের নিচে ঘোড়াটা পর্যন্ত রহস্যময় ঠেকছে। সে ডাকল, নীলু তুমি ঘুমিয়ে আছ?

    নীলু চোখ বুজেই বলল, না।

    —আমি একটু বাইরে যাচ্ছি, তুমি ভয় পাবে না তো?

    —না।

    —এত বড় বাড়িতে তুমি ভয় পাও না?

    নীলু বলল, না।

    সে কি করবে বুঝতে পারল না। নীলুকে একা ফেলে যাওয়া ঠিক না। অথচ সে ভিতরে খুবই ঘাবড়ে গেছে। হয়তো সে বাইরে থেকে ঘুরে এসে দেখবে নীলু পর্যন্ত নেই। আবার যখন সে ঘোড়াটি খুঁজতে যাবে, তখন দেখবে ঘোড়াটাও নেই।

    এমন নিরিবিলি গাঁয়ে এসে এটা ওর হয়েছে। আর কলকাতা শহর, এবং শহরে বড় হতে থাকলে, মনেই হয় না, পৃথিবীর কোথাও নির্জনতা বলে কিছু আছে। এত বেশি নির্জনতা যে, মাঝে মাঝে ওকে ভীষণ ভয় পাইয়ে দেয়। সে গত রাতের ঘটনা এখনও ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না। সে স্পষ্ট শুনেছে ওর দরজায় কে কড়া নাড়ছে। সুতরাং ওর মনে হল, নীলুকে ফেলে এখন আর কোথাও যাওয়া চলে না। ওকে দুটো একটা প্রশ্ন করে, সে বুঝতে পারবে, সে বেঁচে আছে, নীলু বেঁচে আছে, ঘোড়াটা বেঁচে আছে, এবং ঠিক সময় হলে কেয়া মঞ্জু, মুর্শেদকে নিয়ে ফিরে আসবে।

    সে আবার বলল, রাতে ওকে দেখলাম মনে হল।

    —চাচা পালিয়ে থাকে। তারপরই নীলু এটা বলে ঠিক করেছে কিনা বুঝতে পারে না। সে বলল, আমি জানি না। তারপর বলল মুর্শেদ চাচার কথা কাউকে কিন্তু বল না।

    অতীশ আর ভৌতিক কিছু ভাবতে পারে না। নীলুর চোখমুখ ভয়ার্ত দেখাচ্ছে। সে বুঝল, নীলু মুর্শেদের কোন অনিষ্ট করে ফেলেছে এমন ভাবছে। সে বলল, আমি কাউকে বলব না। আসলে ঘোর। সেই নির্জন দ্বীপের মতো সে ঘোরে পড়ে যাচ্ছে। একটা ক্রস—তার নিচে সে বসে আছে। শেষে এই একটাই সম্বল মানুষের। তবে সে ভয় পাবে কেন। দেখাই যাক না।

    —কাউকে না কিন্তু।

    অতীশ আর ভৌতিক কিছু ভাবতে পারে না। নীলুর চোখমুখ ভয়ার্ত দেখাচ্ছে। সে বুঝল, নীলু মুর্শেদের কোন অনিষ্ট করে ফেলেছে এমন ভাবছে। সে বলল, আমি কাউকে বলব না। আসলে ঘোর। সেই নির্জন দ্বীপের মতো সে ঘোরে পড়ে যাচ্ছে। একটা ক্রস—তার নিচে সে বসে আছে। শেষে এই একটাই সম্বল মানুষের। তবে সে ভয় পাবে কেন। দেখাই যাক না।

    —কাউকে না কিন্তু।

    —কাউকে না।

    —মাকেও না।

    —মাকেও না।

    —মা যদি জানে আমি বলেছি, তবে কষ্ট পাবে।

    —মাকে কিছু বলব না নীলু।

    আর তখনই ওর ইচ্ছা হল, সবাইকে সেও খুঁজতে বের হয়। লোকটা কোথায় গেল! বাড়ি থেকে চলে যাবার কারণ কি। সে পালাবে কি ভাবে! সে যাবে কি করে! ওর যদি পয়সা না থাকে, সে এখন একা মানুষ, ডেজার্টার হওয়ার কি দরকার ছিল। আত্মসমর্পণ অপেক্ষা ডেজার্টার হওয়া ভাল, কিন্তু কোথায় যাবে এবং ওর কেন জানি এ-ভাবে কোনো শৈশবে ফিরে গেলে ঠিক সেই এক ডেজার্টার মানুষের মতো বাবার চোখমুখ দেখতে পায়। দেশ ভাগের পরে ওর মনে হয়েছিল, মানুষেরা নিজের দেশ গাঁ ছেড়ে এমনি চোখেমুখে হয়তো ভারতবর্ষের মাটিতে একটু আশ্রয়ের জন্য ঘুরেছে। তখন তারাও সবাই ডেজার্টার ছিল।

    অতীশ আপন মনে না হেসে পারল না। সে বুঝতে পারল, নীলু একা এ-ঘরে। নীলুকে দেখে আর কোনও কষ্ট পাবে না। ওর সব সহ্য হয়ে গেছে। সে এখন ইচ্ছামতো সামনের মাঠ পার হয়ে, এবং নানাবিধ ফুল ফলের গাছ পার হয়ে ঠিক অর্জুন গাছটার নিচে গিয়ে দাঁড়াতে পারে। সে সেখানে দাঁড়ালেই দেখতে পাবে, বিশ বাইশ বছর আগের মানুষেরা চারপাশে ওর ঘোরাফেরা করছে। ভূঁইয়া বাড়ি, ঘোষেদের বাড়ি, দত্ত পাড়া, পশ্চিম পাড়া এবং পালপাড়ার সব মানুষদের একটা মিছিল যাচ্ছে। ওদের মাথায় বাক্স পেটরা। ছোট ছোট শিশুরা হাঁটছে। হাতে ওদের কাঠের পুতুল। ওরা কোথায় যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে, কেউ জানে না। ধর্ম মানুষকে ভিটে মাটি থেকে উচ্ছেদ করেছে। ধর্ম আজ মুর্শেদকে ডেজার্টার করেছে।

    তার ইচ্ছা যেন, মুর্শেদকে দেখা হলেই বলে, মিঞা সাহেব আপনি এবারে নতুন ডেজার্টার। আমরা বিশ বাইশ সাল আগের। তা কেমন আছেন! ডেজার্টার হলে কেমন লাগে। বাংলা বুঝতে পারেন। আপনি তো পাকিস্তানী। উর্দুভাষা আপনার মাতৃভাষা। আপনি পাঞ্জাবী নন তো। আপনার গাঁয়ের পাশে যদি নদী থাকে, তার কি নাম বলবেন তো। এত ভাগাভাগি কেন মিঞা সাব! ভাগের শেষ আছে! যত ভাগ করবেন শরীর তত পঙ্গু হয়ে যাবে না?

    অথচ দেখুন স্বভাব মানুষের এই, নিজের জন্য, নিজের পরিবারের জন্য একসময় সে তার সঠিক হিস্যা বুঝে নেয়। এত হত্যা, রাহাজানি ধর্ষণ ঘটিয়ে শেষপর্যন্ত তা বন্ধ করতে পারলেন! হয় তো বলবেন বড় হিস্যা হাত না লাগালে দেখা যেত।

    তারপরই মনে হল সে বোকার মতো বড় বড় কথা ভাবছে। সে রাজনীতি করে না, সে তলিয়ে ভাবে না। এমন একটা জায়গার জন্য তার তেমন মায়াও নেই, কেবল মাঝে মাঝে যখন একটা ঘোড়া, তার ওপরে কোন বালিকার ছবি মনে হয় সে ভাবে ওটা একটা স্বপ্নের দেশ, সেখানে সে আর যেতে পারবে না, সেখানে কেউ ফিরে যেতে পারে না। এবং ওটা আছে বলেই মানুষ বেঁচে থাকতে ভালবাসে।

    এবং মঞ্জুকে দেখলে এমন দুঃখী মনে হয়! অথচ সে সঠিক জানে না, কি হয়েছে! কেয়া কিছুটা বলেছে, সবটা বলেনি, চিঠি কেন কেয়া, অথবা মুর্শেদের কথা এভাবে গোপন রেখেছে কেন, সে তো ভেবেছিল সরাসরি জিজ্ঞাসা করবে মুর্শেদ কে? কিন্তু নীলুর মুখ দেখে এখন আর সরাসরি সে কিছু বলতে পারে না। না বলা পর্যন্ত তাকে মুর্শেদ সম্পর্কে চুপচাপ থাকতে হবে। সে ভিতরে ভিতরে অস্বস্তি বোধ করছে। মঞ্জুকে দেখে মনেই হয় না, সে তাকে চিঠি লিখে আনিয়েছে। যেন তার এমনি কোথায় যান, বলে যান না কেন?

    —কাকে বলে যাব?

    —কেন আমাদের।

    কেয়া কাজ করছ্লি বলে, এক জায়গায় সে চুপচাপ বসছিল না। সে জানালায় দাঁড়িয়ে আছে। ওকে দেখলে মনে হবে, সে সামনের দিকে তাকিয়ে আছে। ঘরের ভিতর কি হচ্ছে বুঝতে পারছে না। কেয়া যে কাজ করতে করতে ওকে দেখছে সে টের পাচ্ছে না। সে দেখছে, জব্বার চাচা ঘোড়াটা এনে আস্তাবলের পাশে বেঁধে রাখছে। যে কাজ করে, সে আজ আসেনি। কিছু হয়তো তার হয়েছে। জব্বার চাচা তারপর বারান্দায় বড় একটা হাম্বল দিস্তা টেনে আনলেন। তিনি হরিতকি জায়ফল অথবা অন্য কিছু মূল, গাছের কান্ড সব মিলে ঠুং-ঠাং আওয়াজ তুললে যেন এ গাঁয়ের নির্জনতা আরও বেড়ে যায় অথবা মনে হয় জব্বার চাচা সেই প্রবাহমানতা ধরে রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। কেয়া তখন শুনল, সোনাবাবু বলছে, তোমরা তো কেউ ছিলে না। কোথায় গেছিলে!

    কেয়া বুঝতে পারল মানুষটা তবে ঘুমায় নি। ওরা যখন যায় তখন যেন মনে হয়েছিল মানুষটা ঘুমিয়ে পড়েছে। দিবা নিদ্রা। সে বলল, ঘুম থেকে উঠে আমাদের দেখেন নি। ঠিক ভয় পেয়ে গেছিলেন।

    —ভয় পাবারই তো কথা।

    —মঞ্জুদি বলেছে ওর তো শহরে থেকে অভ্যাস। উঠে যখন দেখবে কেবল নীলু আর ঘোড়াটা আছে তখন ভয় পাবে।

    সে বলল, তোমরা কোথায় গেছিলে?

    কেয়া খুব বুদ্ধিমতীর মতো বলল, চন্দন বীচি তুলতে।

    —চন্দন বীচি মানে?

    —গাছে চন্দন গোটা হয় না। বনেজঙ্গলে পড়ে থাকে। ওগুলো তুলে না আনলে, চুরি হয়ে যায়। অতীশ বলল, তাই বন। চন্দন গোটা। চন্দন বিচি বুঝি না।

    —কারা চুরি করতে আসে?

    —যারা ডাকবাক্সে চিঠি ফেলতে আসে।

    —ওগুলো দিয়ে তোমরা কি কর?

    —কত কাজে আসে। বা’জান কি যেন করে। ওর ওষুধে লাগে, চন্দন গোটা ভিজিয়ে রাখা হয়। বড় বড় জালায় জল পুরে পচিয়ে রাখা হয়।

    —চন্দন গোটা এক সময় আমরাও চুরি করতাম কেয়া। তখন কিন্তু ওটা অবিনাশদার ওষুধে লাগত না। ওর ছাল, পাতা, ডাল শুনেছি কবিরাজী ওষুধে লাগে। মঞ্জু আমাদের সঙ্গে তখন ভীষণ ঝগড়া করত। কাউকে সে চন্দন গোটা চুরি করতে দিত না।

    কেয়া বলতে পারছে না, মুর্শেদকে খুঁজতে গিয়েছিল। গ্রিন সিগনাল না পেলে সে কিছুই বলতে পারে না। সোনাবাবু এখন ভারতবর্ষের মানুষ। সহসা একটা ঝামেলার কথা বললে কিভাবে নেবে ওরা জানে না। তার জন্য সময় এবং সুযোগ দরকার। মঞ্জুদি এখনও ভাবছে, সোনাবাবুর দুর্বল জায়গাগুলো তেমনি আছে। প্রশ্ন করলে টের পাওয়া যাবে, মানুষটা যেন এখনও তাদের মতো নারীদের সঙ্গে জ্যোৎস্নায় ঘুরে বেড়াতে ভালবাসে। বোধ হয় মঞ্জুদি এ-সব ভেবেই দেরি করছে। কিন্তু কেয়া যেন মানুষটাকে মঞ্জুদির চেয়ে বেশি চিনে ফেলেছে। সে দেখেছে সোনাবাবু লাজুক, ঝামেলায় থাকতে চায় না। সে তবু চালাকি করতে ছাড়ল না, বলল, সোনাবাবু আপনাদের যা ছিল, তা এখনও থাকবে ভাবছেন কেন।

    —তা ঠিক। তবে, খুব পাল্টায় না। যতই বয়স বাড়ে, সময় পার হয়, মনে হয় অনেক কিছু পাল্টে যায়, আসলে তুমি জান না কেয়া আমরা বেশি কিছু পাল্টাতে পারি না। ভিতরে ভিতরে অসুখটা থেকেই যায়।

    —কেউ কেউ তো আসে সব পাল্টে দিতে।

    —কেউ কেউ আসে, তারা ভাবে পাল্টে দিয়েছে, মানুষও ভাবে, কিন্তু তুমি তো জান না কেয়া মানুষের অসুখটা আরও গভীরে। তা না হলে ভেবে দ্যাখোনা, আমাদের কথাই। আমরা এখানে ছিলাম, উৎখাত হলাম এখান থেকে, তবুও স্বপ্নটা থেকে গেল। উৎখাত বললাম এ-জন্য, ধর্ম আমাদের দু’তরফকেই বড় বেশি দূরে সরিয়ে রেখেছে।

    —কৈ এখানে তো তা নেই।

    —কেয়া তুমি ছেলেমানুষ। তুমি অত বুঝবে না। আবেগে আমরা অনেক কিছু করতে পারি। আবেগ থিতিয়ে গেলে, সব কেমন মরে যায়, তখন আবার মানুষের অসুখটা দেখা দেয়।

    —অসুখটা থেকে নিরাময়ের কোন পথ নেই?

    —আছে, তোমার মতো মানুষেরা যত বেশি নিরাময় হতে পারবে, তত বেশি আমরা কাছাকাছি আসতে পারব। মঞ্জুর মত মেয়ে আমরা কোথায় পাব বল। তারপরই সে কেমন ছেলেমানুষের মতো হা হা করে হেসে উঠল, খুব পাকা পাকা কথা হচ্ছে কেয়া। আমরা কেউ এসব বলার উপযুক্ত নই। যেন অতীশের বলার ইচ্ছে উৎখাত হবার মূলে কম বেশি আমরা সবাই দায়ী। সংশয় মানুষকে কতটা ঘোরের মধ্যে ফেলে দেয়, বনি, নির্মলা, অমলা, ফতিমাকে দিয়ে বুঝেছি। মঞ্জুর কথা ভুলেই গেছিলাম। সেও আমার আর এক ঘোর। একজীবনে ফতিমা, মঞ্জু, এক জীবনে বনি-নির্মলা। কেউ আমার কাছে ছোট নয় বড় নয়। আমার জীবনে তারা সবাই বড় দূরের নক্ষত্র। আমি তাদের কাউকেই ঠিক যেন চিনি না। সবাই নিজের মতো একটা পৃথিবী চায়। কেউ পায় কেউ পায় না।

    কেয়া বলল, সোনাবাবু আপনাকে দেখলে আমার কিন্তু বড় বড় কথাই মনে আসে।

    সে বলল, আমারও।

    মঞ্জু তখন হেসে বলল, বড় বড় কথা বলতে সবারই ভাল লাগে। আমিও কম যাই না। এখানে আর একজনকে হাজির করছি, দেখবে সে আরও বেশি বড় বড় কথা বলবে। সে ডাকল, মুর্শেদ। মুর্শেদ এলে মঞ্জু বলল, ডেজার্টার। এরা তোমাদের ডেজার্টার করেছিল, আমরা এদের ডেজার্টার করেছি! বলেই হাসতে লাগল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআওরঙ্গজেব : ব্যক্তি ও কল্পকথা – অড্রি ট্রুসকে
    Next Article মানুষের ঘরবাড়ি – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }