Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ঈশ্বরের বাগান – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

    লেখক এক পাতা গল্প1863 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ঈশ্বরের বাগান – ৮১

    ।। একাশি ।।

    এ-ভাবেই মানুষকে কখনও কখনও ডেজার্টার হয়ে যেতে হয়। তার সব থাকে, নে চারপাশের আবহাওয়ায় বেড়ে ওঠে। নানাভাবে সে নিজের ভিতর প্রকৃতির সুখমা টের পায়। অথচ পাশে পাশে থাকে শয়তানেরা। ওরা মানুষের চারপাশের রঙিন সুমা নষ্ট করে দিতে পারলে বাঁচে। মানুষ সময়ে তার থাবায় পড়ে গেলে অমানুষ হয়ে যায়।

    রাতের বেলায় ওরা সবাই গোল হয়ে খেতে বসেছে। কেয়া, মুর্শেদ, জব্বার চাচা, অতীশ। মঞ্জু ওদের খেতে দিচ্ছে। রাত হয়ে গেছে অনেক। গল্প করতে করতে রাত করে ফেলেছে। তাড়াতাড়ি খেয়ে শুয়ে পড়া দরকার। কাল অথবা পরশু মুর্শেদকে নিয়ে সরে পড়তে হবে। খেতে বসে মুর্শেদ কোন কথাই বলতে পারছিল না। মঞ্জুকে দুপুর বেলায়ও ভেবেছে, সীমাহীন ধূর্ততায় মঞ্জু কাজ করে বেড়াচ্ছে। কিন্তু বিকেল থেকে সে দেখছে মেয়েটার অবসর নেই। কি ভাবে অন্তত এ-অঞ্চলটা পার করে দেওয়া যায়। কারণ মুর্শেদকে সব স্বাধীনতাকামী মানুষেরা চেনে। তাকে অনেকদিন থেকে সবাই খুঁজছে।

    পরাজয়ের যখন খবর এল, এবার বন্দুকের নল নিচু করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে, তখন সবাই দেখেছিল, মেজর সাব, ফল-ইনে আসে নি। মেজর সাবকে পাওয়া যাচ্ছে না। ফল-ইনে সবাইকে জানানো হল কথাটা। কি-ভাবে চারপাশে হিন্দুস্থানের সামরিক অফিসারেরা জাল পেতে ফেলেছে, ঢাকার পতন অনিবার্য, তখন আর একটা মাস-কিলিঙের কি দরকার। এ-ভাবে নিরুপায় সৈনিকদের পড়ে পড়ে মার খাওয়ার চেয়ে সারেন্ডার দি আর্মস। ফল-ইনে সবাই রাজি হয়ে গেল।

    এবং ফল-ইনে দেখা গেল, দু’জন অনুপস্থিত। একজন মেজর নিজে, অন্যজন মুর্শেদ। মেজরকে গভীর রাতে ঠিক পশ্চিমের আমবাগানের ভিতর পাওয়া গেল। সে বোধ হয় আত্মহত্যা করেছে। এটাই ভারতীয় সামরিক লোকেরা অনুমান করে নিল।

    আসলে সেই যে মানুষেরা হাঁটে, হেঁটে যায়, চারপাশে থাকে সুষমা, সুষমার ভিতর মানুষ বড় হত হতে দেখতে পায়, যেন একজন ক্ষুধার্ত নেকড়ের মতো শয়তানের প্রবল হাত চোখের ওপর ঝুলছে, সে তখন কেমন বেপরোয়া হয়ে যায়, এবং সকালের দিকে দেখা গেল অর্জুন গাছের ছায়ায় হাজার হাজার মুক্তিযুদ্ধা, মার্চ করে চলে যাচ্ছে। ঢাকা চলো, এই ছিল ধ্বনি ওদের মুখে। এবং জানালায় তখন মঞ্জু। ভয়লেশহীন মুখ। জব্বার চাচা ফুল দিতে গেছে ওদের। আনন্দে পাগলের মতো গামছা ওড়াচ্ছে বাগানে। আর চিৎকার করছে, ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। মাঝখানে রেখেছে একটা মৃতের শকট। সেখানেও ফুল দিয়ে গেছে কারা। মেজরের মৃত শকট টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অর্জুন গাছের ছায়ায় ওরা সেই মৃতের শকট রেখে অপেক্ষা করছিল। ওরা নাচ গান করছিল। আগুন জ্বেলে বন্- ফায়ারে মেতেছিল।

    মঞ্জু জানালায় দাঁড়িয়ে দেখছিল সব। ওরা কিছু কিছু সেখানে বিশ্রাম নিচ্ছে। আবার মার্চ পাস্টের দৃশ্য। গাড়িটা চলে যাচ্ছে। মঞ্জুর মনে হল, সেখানে একজন মানুষ শুয়ে আছে, তার আকাঙ্খা তীব্র। বিদ্বেষ তার শরীরে, ইণ্ডিয়ার বিরুদ্ধে তার ঘৃণা অশেষ। এ-ভাবে তার ভিতরের সহিষ্ণুতা ক্রমে লোপ পেলে, সে বুঝতে পারে, ভিতরে আরও সব শয়তানের বাসা নানা জায়গায় তৈরি হয়ে যাচ্ছে। একজন ধার্মিক মানুষ, এ-ভাবে ক্রমে অধার্মিক হয়ে যায়। মঞ্জুর তখন দুঃখ বাড়ে। অবনীর কথা মনে হয়েছিল, অবনী ছিল ভীষণ একরোখা। সে জোরজার করে একদিন চন্দন গাছের জঙ্গলে মঞ্জুকে ফেলে দিয়েছিল, উলঙ্গ করে ফেলেছিল, এবং সেই এক ধর্ষণ। সে এভাবে মঞ্জুকে হাত করেছিল। মঞ্জুরও ছিল একটা ভাল লাগা, লোভ, শরীরের ভিতর জ্বালা, আর সেই ভীতু মানুষটাকে অহরহ কুরে কুরে খাওয়ার চেয়ে, জ্বলে পুড়ে মরে যাওয়ার ভিতর অনেক বেশি সুখ ছিল। মঞ্জু এ-ভাবে অবনীর কাছে ধরা পড়ে গেলে, বাবা বাধ্য হয়ে ওদের বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়ে দিয়েছিলেন।

    নীলু বিয়ের আগের ছেলে। তাকে পৃথিবী থেকে সরানোর কি করুণ চেষ্টা অবনীর। অবনী মঞ্জুকে গর্ভবতী করে দিয়ে সাদাসিধে মানুষের মতো ঘুরে বেড়াতো। বাবার কাছে অনুপানের মাত্রা ঠিক করতে গিয়ে বলত, মঞ্জুর শরীর ভাল না কবিরাজ মশাই।

    এবং অবিনাশ কবিরাজ নিজের তৈরি ওষুধ অবনীর মারফতে মঞ্জুকে খেতে দিয়েছিল। সামান্য ভ্রুণ হত্যার জন্য কি কঠিন প্রচেষ্টা। অবনী তেমনি সাদাসিধে মানুষের মতো ওষুধের বড়ি উদখলে মেড়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকত। ডাকত, আমি অ্যানী। এদিকে এস মঞ্জু। তোমাকে কবিরাজ মশাই ওষুধ খেতে দিয়েছে।

    মঞ্জুর যেন কিছু করণীয় ছিল না। সে চুপচাপ খেয়ে যেতে থাকল। কিন্তু সে বাড়ে দিনে দিনে। চন্দ্রকলার মতো বাড়ে। অবিনাশ কবিরাজ হয়তো জীবনে দ্বিতীয়বার সর্ষেফুল দেখল, এবং বাধ্য হয়ে সে অবনীর হাত ধরে বলল, আমাকে রক্ষা কর বাবা। আমার জাত মান এখন সব তোমার হাতে।

    কাজেই একটা বড় অসুখের ভিতর নীলু জন্মাল, আর একটা বড় অসুখ নিয়ে। নীলু সেই থেকে বিছানায় শুয়ে আছে। অবনী কবিরাজ পৃথিবীর তাবৎ মনুষ্যকুলের শারীরিক নিরাময়ের ওষুধ ওর ছেলের জন্য সংগ্রহ করে বেড়িয়েছে। কিন্তু কিছুতেই নিরাময় করতে পারে নি। কারণ নীলুর শরীরে গোপনে অবনী বিষ রক্তে আগেই মিশিয়ে দিয়েছে। অবনী জেনে ফেলেছিল কিছু আর করার নেই।

    অতীশ এবং সবাই খুব আস্তে আস্তে খাচ্ছে। যেন খাচ্ছে না। কি ভাবছে। ওরা আজ তিন দেশের মানুষ। দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মঞ্জু। ওর ভারী চশমার ভিতরে চোখ দুটো ভীষণ মস্করা করছে যেন সবাইকে।

    এবং মঞ্জু ওদের দেখতে দেখতে এলোমেলো ভেবে চলেছে। মুর্শেদ এ-বাড়িতে কেন আসত, কেন অবনী কবিরাজের সঙ্গে তার এত ভাব ছিল, এও সে যেন মনে করতে পারে। সে চোখ দেখলে মানুষ চিনতে পারে। যেমন প্রথম দিনই মঞ্জু বুঝতে পেরেছিল, দূর দেশে থাকে তার বিবি। ঘর-বাড়ি, যা কিছু নিজের বলতে তার বোঝে, এখানে মুর্শেদ তেমনি কিছু যেন আবিষ্কার করে ফেলেছে। মঞ্জুর সহজ আন্তরিক ব্যবহার তাকে ভীষণভাবে বিকেল হলেই টানত। মুর্শেদের চোখ দেখে টের পেয়েছিল মঞ্জু। রাতে মুর্শেদের চোখে ঘুম থাকে না। রাতে শুয়ে সে মঞ্জুর কথা ভাবে।

    মঞ্জুরও যে এ-ভাবে একটা মায়া গড়ে উঠেছিল, এই মানুষটার জন্য। কারণ মনে হয়েছিল, অবনীর চেয়ে মানুষটা বেশি আন্তরিক। অবনীর মতো জোরজার করে, ছলেবলে কৌশলে কিছু সে কখনও করতে চায় নি। শুধু দুদন্ড কথা বলতে পারলেই মুর্শেদ খুব খুশি থাকত। সে ছিল তার বিবির জন্য আন্তরিক। এই দূরদেশেও সে মঞ্জুর মধ্যে তার বিবিকে আবিষ্কার করে ফেলেছিল। মঞ্জু একসময় ঘোড়ায় চড়ে বেড়াত, মঞ্জু শহরে মানুষ, সে সবার সঙ্গে কথাবার্তায় স্বাভাবিক, এমন গ্রাম্য এক পরিবেশে এটা আশাই করা যায় না। মুর্শেদ ফল-ইনে হাজিরা দিয়ে একটা সাইকেলে বের হয়ে পড়ত। দু ক্রোশ রাস্তা ঠেঙ্গিয়ে এসেই ডাকত, কবিরাজ, নাড়ীটা দ্যাখতো। বলে সে হাত বাড়াত।

    অথবা কখনও মুর্শেদ গজল গাইত। মাঠের ভিতর সে গজল শুনতে খারাপ লাগত না। তক্ষুনি অর্ডার আসবে ডিসপেনসারি থেকে, চা, কিছু খাবারও। একজন মিলিটারি মানুষের সঙ্গে অবনী বোধ হয় নিজের স্বার্থে যোগাযোগটা রক্ষা করতে চেয়েছিল। অন্যসব গ্রামের মানুষদের কাছে প্রমাণ করার ইচ্ছা সে যেন সরকার পক্ষের, এবং নিরাপত্তা বোধও কাজ করেছিল এ ব্যাপারে।

    সুতরাং মঞ্জু দেখতে পাচ্ছে, সবাই যখন খাচ্ছে, তখন মুর্শেদ খেতে পারছে না। কি এক অপরাধ বোধে খাবার নাড়াচাড়া করছে। মঞ্জুর ঠোটে তখন হাসি না কটাক্ষ বোঝা যাচ্ছিল না। জব্বার চাচা হয়তো ভাবছিলেন, দেশ ভাগের সময়ে যে-সব মানুষেরা ভয়ে ভীতিতে, অথবা ধর্মাচরণে ব্যাঘাত ঘটবে বলে চলে গেল তাদের কথা। কেয়া ভাবছে, দূরদেশ থেকে একদল লোক কি করে যে ধর্মের নামে এতদিন দেশ শাসন করে গেল, শোষণ করে গেল! মুর্শেদ ভাবছে, আসলে সে কোন দেশের মানুষ, এবং অতীশ ভাবছে এই ডেজার্টার মানুষকে সে কি করে ঠিক জায়গায় পৌঁছে দেবে।

    অথচ অতীশ কত কিছু ভেবে এসেছে। মঞ্জু হয়তো বলবে, আমার জন্য একটু জায়গা দ্যাখো। এখানে আর থাকা যাবে না।

    মঞ্জু তখন বলল, এই মুর্শেদ! রুটি, মাংস।

    আজ মাংস হয়েছে। খুব যত্ন নিয়ে রান্না করেছে মঞ্জু।

    মুর্শেদ তাকাল। কিছু বলল না।

    অতীশ বলল, দাও।

    কেয়া বলল, আব্বাকে দাও।

    জব্বার চাচা বললেন, না গো মা, আমারে দিস না।

    মঞ্জু, অতীশকে আলাদা বাটিতে চার পাঁচটি হাড়-মাংস দিল। সে হাড়-মাংস খেতে ভালবাসে। কেয়াকে নরম মাংস, কেয়ার খাওয়ার কোনও আন্দাজ নেই, দেবার সময় মঞ্জু ধমক দিল, দ্যাখ খেতে পারবি, কিনা, তোর তো কি লাগবে, কি না লাগবে কিছুই বুঝে উঠতে পারিস না।

    মঞ্জু মুর্শেদের কাছেও আলাদা মাংস রাখলে, মুর্শেদ বলল, না মঞ্জু। আমার খেতে ইচ্ছে করছে না। আর দিও না।

    —কেন ভয় করছে?

    —ভয় করবে কেন!

    —সোনাবাবুকে তোমার বিশ্বাস হচ্ছে না!

    —না না, তা তো বলিনি।

    —তুমি তো সেই থেকে মুখ গোমড়া করে রয়েছ।

    —চলে যাব, তোমাদের সঙ্গে আর তো আমার জীবনেও দেখা হবে না। কেন এমন যে হয়। কেয়া বলল, মিঞা তোমাদের পাপে এমন হয়।

    —এই কেয়া, কি হচ্ছে।

    মুর্শেদ কেয়ার কথা কখনও ধরে না। অতীশ এটা বুঝতে পেরে মাংস চুষতে চুষতেই হাসল।—কেয়ার এত রাগ কেন।

    রাগ না। দ্যাখো না, একেবারে জামাই। যেন কিছু খেতে জানে না।

    মুর্শেদ কেয়ার দিকে তাকাল। মুর্শেদ, কেয়াকে দেখল, মঞ্জুকে দেখল, জব্বার চাচা, অতীশকে দেখল এই দেশে এমন সব যখন মানুষ এখনও বেঁচে আছে তখন ওর ভয় কি! সে বলল, কেয়া যদি কোনদিন এমন হয়, আমাদের তিনটে দেশের মানুষ, একটি বড় দেশের হয়ে যায়, কোনও পাপ তখন কারো মনে থাবে না। আসলে সে বুঝতে পারে, বাইরে যতই ধর্মাধর্মের ঢাক বাজুক, অন্তরে কোথায় যেন একটা কাছাকাছি থাকার স্বপ্ন সার ভিতর আছে। নানা হুজুগ সব ভাসিয়ে নিয়ে যায়, তবে মানুষের ভিতর আছে সত্যাসত্যের পালা। সে একদিন না একদিন নিজেকে ঠিক চিনতে পারে। সে বলল, কেয়া খুব ইচ্ছে ছিল তোমাকে তোমার ভাবীর কাছে নিয়ে যাব।

    কেয়া অন্যদিন হলে কি বলত, ঠিক বলা যায় না, কিন্তু আজকে এই গুমোট ভাবটা যেন হালকা করা দরকার। সে অন্যদিন এত সমীহ করে চলে যে—এ-ধরনের কথা মঞ্জুদির সামনে বলবে ভাবতেই পারে না।

    সে বলল, ভাবীকে গিয়ে বলবে, এই যে, দ্যাখতো খুবসুরত মেহমান কেমন ধরে এনেছি। সাদি করে এনেছি।

    জব্বার চাচা সেকেলে মানুষ। তিনি জানেন, আজকালকার মেয়েরা আগের মতো নয়। স্কুলে লেখাপড়া শিখছে। কলেজে পড়ছে। কেমন পাকা পাকা কথা। এবং তিনি যেহেতু সেকেলে মানুষ, চুপচাপ থাকতেই ভালবাসেন। মেয়েদের কথা তিনি শুনতে চান না। বিশেষ করে এই হিন্দু বাড়িতে থেকে, কেয়ার স্বভাবে কেমন একটা উগ্র ভাব এসে গেছে। যা শাসন করার মঞ্জু করে থাকে বলে, তিনি খেয়ে যেতে থাকলেন।

    এমন কথায় অতীশ মুর্শেদ দু’জনেই হেসে দিল।

    মঞ্জু বলল, কিরে কেয়া তোকে আর কটা ভাত দিই।

    জব্বার চাচা বুঝতে পারলেন, মঞ্জু কেয়ার কথায় তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না। আর মনে হল, তিনি এখানে বসে থাকলে ওদের ঠিক জমবে না। তাড়াতাড়ি খেয়ে বললেন, আমি উঠছি। তোমরা সময় নিয়া খাও।

    অতীশ বলল, কেয়া তো খাচ্ছেই না। ভাত নাড়ছে শুধু।

    মুর্শেদ বলল, ওর মেহমান চলে যাবে।

    কেয়া বলল, মুর্শেদ মিঞা খুব খারাপ হচ্ছে।

    অতীশ বলল, কি, আপনার সব রুটি তো পড়ে থাকল।

    মুর্শেদ বলল, সোনাবাবু, আপনি ষষ্ঠিতলা চেনেন?

    অতীশ খুব অবাক হয়ে গেল। পৃথিবীর এত জায়গা থাকতে ষষ্ঠিতলা? সে বলল, না।

    —ষষ্ঠিতলা চেনেন না!

    অতীশের মনে হল, সে খুব অজ্ঞতার পরিচয় দিচ্ছে বুঝি! সে বুঝতে পারছে না, যে ভাবে তাকিয়ে আছে মুর্শেদ, তাতে মনে হয়, এত অজ্ঞ মানুষ দুনিয়াতে থাকতে আছে! ষষ্ঠিতলা চেনে না। সে বলল, না সাহেব, চিনি না।

    —আপনি না বিশ-বাইশ বছরের ওপর কলকাতায় আছেন?

    —বিশ-বাইশ বছর ঠিক না, কম।

    —তবে ষষ্ঠিতলা চিনবেন না কেন!

    অতীশ কি বলবে ভেবে পেল না।

    মুর্শেদ বলল, যষ্ঠিতলা, চন্ডিতলা, বাগমারী ওদিকটায় কখনও যাননি?

    অতীশ বলল, বাগমারী যাইনি। তবে, নকশাল আন্দোলনে মানুষজন কোতল হয়েছে—ওদিকটাতে। কাগজে পড়েছি।

    —আপনাকে আমি নিয়ে যাব।

    অতীশের মনে হল সে যেন ষষ্ঠিতলা, চন্ডিতলা; খাল পোল চেনে। চুয়াল্লিশ নম্বর বাসে সে একবার লেকটাউনে যেতে এ-সব দেখেছে। কিন্তু এমন ভাবে বলা যেন, পৃথিবীর সবচেয়ে দামী এবং নামী জায়গা ষষ্ঠিতলা। তা না জানলে, পৃথিবীর আর কিছু জানা যায় না।

    মুর্শেদ বলল, রহমান মিঞার কাঠের গোলায় কখনও গেছেন!

    অতীশ বলল, না।

    —ওখানে রহমান মিঞার কাঠের গোলাতে আমার বাবা কাজ করত, পরে ব্যবসা করত।

    —আচ্ছা। আপনি এতদিন থাকলেন কলকাতায়, বলতে পারেন, উল্টোডাঙার ওদিকটায় এই খালের ধারে, দাসপাড়া গেছেন?

    —না।

    —কিছুই চেনেন না!

    —আমি রাজবাড়িতে থাকি। কারখানায় কাজ করি। আমার পৃথিবী বলতে ঐটুকু। বলেই সে যেন হেরে যাচ্ছে, এবং এ-ভাবে ঠিক হেরে গেলে যখন সম্ভ্রম থাকে না, সে বলল, সাহেব এখানে কতদিন।

    —তা অনেক দিন।

    —সাহেব, গোপের-বাগের ওদিকে কি আছে বলুন।

    —দড়িকান্দা।

    —তারপর?

    —তারপর দামোদরদি?

    —তারপর?

    —তারপর জানি না।

    —অতীশ বলল তারপর বৈদ্যেরবাজার।

    —হ্যাঁ, ভুলে গেছি।

    —তারপর?

    —জানি না।

    —অতীশ বলল, তারপর উদ্ধবগঞ্জ।

    —তা হবে।

    —হাসান পীরের দরগায় গেছেন?

    —না।

    অতীশ বলল, তবে কি দেখলেন! একবার পাগল জ্যাঠামশাই আমাকে একা ওখানটায় ফেলে এসেছিলেন। মঞ্জুর দিকে তাকিয়ে বলল, যাবার আগে সব ঘুরে যাব। তোমরা সঙ্গে গেলে ভাল লাগবে। তারপর মুর্শেদের দিকে তাকিয়ে বলল, এটাতো আপনার দেশ ছিল, আপনার দেশ অথচ কিছু জানেন না।

    মুর্শেদ বলল, জী, আপনি জানেন?

    —হ্যাঁ, আপনার চেয়ে আমি ভাল জানি।

    —ভাষা।

    —কেয়া ফুটকারি কাটল, মুর্শেদ মিঞা তোমার দেশ কোনটা!

    —আমার দেশ পাকিস্তান।

    —সেখানে তুমি কিন্তু বাঙ্গালী মুজাহিদ।

    —না।

    —তুমি উর্দুভাষা জান বলে, পাঞ্জাবী।

    —পাঞ্জাবীদের আলাদা ভাষা। উর্দু আমাদের শিখতে হয়। উর্দু আসলে তামাম হিন্দুস্তানের বনেদি

    —সে জানি! তোমাকে আর এটা শেখাতে হবে না। তবে ঝগড়াটা কি নিয়ে মিঞা?

    অতীশ দেখল ঝগড়া করবে কেয়া। মঞ্জু ওদিকে কি করছে। ওদের খাওয়া শেষ। অথচ কথা শেষ হচ্ছে না বলে কেউ উঠছে না। মঞ্জু হয়তো স্নান করতে চলে গেছে। অতীশ বুঝতে পারল, মঞ্জু আজ বার বার স্নান করছে। একটা অসুখে না পড়ে যায়। মঞ্জুর এটা বাড়াবাড়ি, এমনও মনে হয়েছে। শহরের শিক্ষা এবং শহরে বসবাস ছিল বলে মঞ্জুর পক্ষে আধুনিক হওয়া আদৌ কঠিন না। জব্বার চাচা, কেয়াকে নিজের পরিবারে আপন করে নেয়া কঠিন নয়, কিন্তু এই বার বার স্নান, এবং নিরামিষ আহার, কোথায় যেন এক বিপরীত চরিত্রের ভিতর নিয়ে যায় মঞ্জুকে। এটা তার ভাল লাগে না। এ-বয়সে মঞ্জুর এতটা বুড়ো বুড়ো ভাব ভাল লাগে না। সে বলল, এই কেয়া তোমরা আবার ঝগড়া আরম্ভ করলে।

    কেয়া চুপ করে গেল তখন। অতীশ বলল, সাহেব আপনি এত সুন্দর বাংলা জানেন কি করে?

    —জী, আমার বাড়ি ষষ্ঠিতলা। কলকাতায় আমার ছেলেবেলা কেটেছে।

    —ষষ্ঠিতলার মানুষ!

    —জী হাঁ।

    —আপনি তো বাঙ্গালী!

    —জী, ঠিক বাঙ্গালী না। মা বাঙ্গালী, আব্বাজান উত্তর প্রদেশের মানুষ। তাঁর কাছে দুনিয়ার সেরা জায়গা গঙ্গার পাড়ের একটা গ্রাম। আব্বাজান যদি গল্প করেন নাতি-নাতনিদের কাছে, তবে সে গ্রামটার গল্প, আখের চাষের গল্প, কলকাতার গল্প। আর কিছু যেন তাঁর জানা নেই।

    অতীশ চুপ করে থাকল। আমরা এই মানুষেরা এমন একটা উপমহাদেশের মানুষেরা কেমন একটা বিশৃঙ্খলার জালে জড়িয়ে গেছি। এর থেকে উদ্ধারের পথ যেন কারো জানা নেই। সে বলল, রাত অনেক হয়েছে। এবার উঠতে হয়। না হলে, মঞ্জু এসে ঠিক ধমক লাগাবে।

    মুর্শেদ বলল, কাল সবেরে আবার দেখা হবে।

    সবেরে কথাটা অতীশ বুঝতে পারল না।

    কেয়া বলল, সকালে।

    —হ্যাঁ, তা দেখা হবে।

    —আপনার কাছে তখন কলকাতার গল্প শুনব। বলেই কেমন মুর্শেদ চোখ বুজে থাকল কিছুক্ষণ যেন সে এমন একটা দেশে তখন চলে যায়, তার যা কিছু সম্বল, রাজা হবার মতো যা কিছু ছিল, সব সে সেখানে ফেলে এসেছে। সে সেখানে যে-ভাবে থেকেছে, একটা বড় রাস্তা, দু’পাশের দোকানপাট ঈদের সময় চাঁদমালা বিক্রির কথা মনে হয়েছে। অথবা সেইসব দিনে যখন শরতের পাখিরা আকাশে উড়ত, বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে, ঘুড়ি উড়ত হাজারে হাজারে, হাতে থাকত একটা লম্বা বাঁশের কঞ্চি, সে ছুটত, কঞ্চির ডগায় দুলত ডালপালা, একটা ঘুড়ি তার সুতো, আর সে—তখন তার কাছে অন্য দুনিয়া বলে কিছু থাকত না। সে আর ষষ্ঠিতলা, ষষ্ঠিতলার মাঠ, গাছপালা, কাঠের গোলা, নতুন নতুন ইমারতের গন্ধে বুঝতে পারত না, দুনিয়াতে এর চেয়ে কোন সুন্দর সুদৃশ্য জায়গা থাকতে পারে। সে সেখানে গিয়ে দুদন্ড থাকতে পারে।

    মুর্শেদকে চোখ বুজে থাকতে দেখে কেয়া অতীশের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট টিপে হাসল। বলল, সব ওর ঢং। ওর তো সব জানেন না। মঞ্জুদি যে কি পেয়েছে ওর ভেতর, বলেই সে দেখল মঞ্জুদি আসছে। শুনে ফেলল কি না কে জানে। কেয়া জিভ কেটে বসে পড়ল। যেন সে কিছু বলেনি। সব এঁটোকাটা তুলছে থালাতে। সে সব সাফ করছে। থালাবাসন একসঙ্গে সব তুলে নিয়ে যাচ্ছে। খুব ব্যস্ত। আজেবাজে কথা বলার সময় তার নেই।

    মঞ্জু স্নান করে এসেছে। ওর চুল ভিজা, এই রাতে স্নান, চুল ভিজা, কেমন মনে হল ওরা মঞ্জুকে টর্চার করছে সবাই। অতীশ বলল, এমন করলে কাল আমরা সকালেই রওনা হব মঞ্জু। তুমি যে- ভাবে শরীরের উপর অত্যাচার করছ, নির্ঘাত অসুখে পড়বে।

    মঞ্জু মুর্শেদের দিকে তাকিয়ে হাসল। এত বিষণ্ণ হাসি পৃথিবীতে কেউ কখনও হেসেছে তার জানা নেই। অতীশ আর একটা কথাও বলতে পারল না। সে বাইরে বের হয়ে দেখল, তেমনি জ্যোৎস্না গাছপালায় আর জ্যোৎস্নার ভেতর দিয়ে মনে হল, ঠিক সেই ফ্রকপরা মেয়েটি ঘোড়ায় চড়ে যাচ্ছে। সাদা জ্যোৎস্নায় ওর চুল নীল রঙের দেখাচ্ছে এবং এ-ভাবে কোনও বনভূমির ভেতরে সাদা জ্যোৎস্নায় সাদা ফ্রক গায়ে ঘোড়ায় কেউ চড়ে গেলে রহস্যময় এক পৃথিবী তৈরী হয়ে যায়। তার এক নির্জন দ্বীপের কথা মনে হয়। নারীর কথা মনে হয়। অবিরাম সমুদ্রের গর্জন কানে ভেসে আসে। অতীশ চুপচাপ সেখানে শুধু দাঁড়িয়ে থাকতে ভালবাসে। সে মঞ্জুকে শুনিয়ে বলল, কেয়া আমার জন্য কিন্তু জল ঘরে রেখ।

    মঞ্জু বলল, কেয়া তুই মুর্শেদের মশারি ফেলে দিয়ে আয়। জল রেখে আয়। তারপর শুয়ে পড়। সোনাবাবুর ঘরে শোবার আগে আমি জল রেখে দেব।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআওরঙ্গজেব : ব্যক্তি ও কল্পকথা – অড্রি ট্রুসকে
    Next Article মানুষের ঘরবাড়ি – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }