Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ঈশ্বরের বাগান – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

    লেখক এক পাতা গল্প1863 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ঈশ্বরের বাগান – ৮৩

    ।। তিরাশি ।।

    মঞ্জু এসে দেখল কেয়া পাশ ফিরে শুয়ে আছে। সামনের জানালা খোলা। সাদা জ্যোৎস্না গাছ- পালায়। কেয়া শুয়ে শুয়ে জ্যোৎস্না দেখছে।

    নীলু ঘুমিয়ে নেই। মঞ্জু মুখ দেখেই টের পেয়েছে, নীলু ওষুধের ঘোরে আছে। সে নীলুর দিকে তাকালে এটা বুঝতে পারে। খুব বেশী সময় সে তাকাতে পারে না। মুখশ্রীতে নীলু কোথায় যেন সোনার কিছুটা পেয়েছে। কেউ টের না পেলেও সে টের পায়। এটা কেন হয় বুঝতে পারে না। সোনার সঙ্গে সে শৈশবের সম্পর্ক! তারপর ওর সঙ্গে দেখা নেই। অবনী ওর দুর্বলতার সুযোগে যা কিছু করে যেত, যেমন পরে মনে হত পাপ। জানালায় মাথা রেখে সে বসে থাকত তখন, তার মনে হত, এক বালক স্কুল থেকে ফিরছে, ওর হাতে সোনালী চায়ের প্যাকেট, মুখ শীর্ণ, পায়ে ধুলো, তখন ঘোড়াটা মাঠে চি-হি-চি-হি করে ডাকত।

    মঞ্জু কেয়াকে বলল, মশারি টানালি না?

    —টানাচ্ছি।

    —নীলুকে তো কখন থেকে মশায় খাচ্ছে।

    বেয়ার মনে হল সত্যি, ওর আজ কি-যে হয়েছে, এমন ভুল তার হয় না। একটু রাত হলেই সে নীলুর মশারি টানিয়ে দেয়। মঞ্জুদির বিছানা করে রাখে। মশারি টানিয়ে রাখে। আজকে তার কেন যে সব ভুল হয়ে যাচ্ছে।

    সে তাড়াতাড়ি লাফ দিয়ে উঠে পড়ল। অনেক রাত হয়ে গেছে। ইদানীং ওরা অনেকদিন এত রাত করে শোয়নি। চোখ জ্বলছে কেয়ার। সে নীলুর মশারি টানিয়ে দেবার সময় বলল, তুমি একটু বোস। আমি সব করে দিচ্ছি।

    এবং কেয়ার খুব তাড়াতাড়ি কাজ করার স্বভাব। এই যে বসে একটু হরিতকি মুখে দেবে ওতেই মঞ্জু, দেখবে, কেয়া সব কাজ সেরে ফেলেছে। কিন্তু কখনও কখনও এ-জন্য কেয়ার কাজে ভীষণ খুত থেকে যায়। হয়তো বিছানা না ঝেড়েই সব পেতে রাখল, মঞ্জু শুতে গিয়ে বলবে, তোকে আর আমার কাজ করতে হবে না কেয়া, এবারে তোকে বিয়ে দিতে হবে। কাজ করার সময় তোর মন কোথায় থাকে!

    মঞ্জু এক গ্লাস জল নিয়ে অতীশের ঘরে ঢুকে গেল। মশারি ফেলা। নীল রঙের নাইট ল্যাম্প জ্বালানো। মশারির ভিতরে কিছু দেখা যায় না। অতীশ ঘুমিয়ে আছে কী জেগে আছে সে বুঝতে পারল না। গত রাতে সে দরজা বন্ধ করে শুয়েছিল, আজও দরজা বন্ধ করে শোবার কথা, কিন্তু সে তা করেনি। অবশ্য মঞ্জু জল না রেখে গেলে সে দরজা বন্ধও করতে পারে না। এবং দেখল, পাশে বেশ তাজা গোলাপ। বড় বড়, লাল সাদা গোলাপ। সবগুলো ওর মাথার কাছে। এত কাছে কেয়া কেন যে গোলাপের গুচ্ছগুলো রেখে গেল।

    মঞ্জু শিয়রের কাছে জল রেখে বলল, সোনা তোমার জল।

    অতীশ বলল, ঠিক আছে।

    অতীশ তবে ঘুমোয়নি। কি কথা বলে সে এ-ঘরে আর একটু সময় কাটাবে বুঝতে পারে না। মঞ্জু কি ভেবে বলল, দরজাটা বন্ধ করে দাও?

    —না, থাক। হাওয়া দিলে নড়ে। আমার তখন ঘুম আসে না। খোলা থাকলে দরজা নড়ে না।

    মঞ্জু চারপাশে দেখে বলল, দ্যাখো মশারি ঠিক মত গোঁজা আছে কিনা, সে একদিকে আর একটু গুঁজে বলল, কেয়ার সব কাজ তাড়াহুড়ো করে করার স্বভাব। এটা কেন যে হয়েছে বুঝি না। যা বড় বড় মশা!

    অতীশ মশারির ভিতর পাশ ফিরে শুল।—এত যত্নে ঘুম আসে না মঞ্জু।

    —কলকাতায় শো কেমন?

    —মশা নেই। এবার যাও। ঘুমোও গে। সকালে উঠে অনেক পরামর্শ আছে। অনেক রাত হয়েছে।

    মঞ্জু আর কেন যেন এ-ঘরে থাকতে সাহস পায় না। অতীশকে সে কিছু বলবে বলে যেন জলের গ্লাস নিয়ে এসেছিল। কিন্তু অতীশ যে-ভাবে ওকে যেতে বলছে, ওর আর কিছু বলতে সাহস হচ্ছে না। তবু বলল, সোনা তুমি হয়তো আমার ওপর ভীষণ রাগ করেছ।

    —রাগ করব কেন?

    —তোমাকে অহেতুক একটা এমন বিপদে টেনে আনলাম।

    —আমি এটা আদৌ ভাবছি না।

    —না ভাবলেও, আমার সব খুলে বলা উচিত।

    —তুমি কি বলবে জানি।

    —না জান না।

    অতীশ এবার উঠে বসল। বলল, কি জানি না বল?

    —তুমি জান না নীলু আমাদের বিয়ের আগের সন্তান।

    অতীশ মাথা নিচু করে রাখল। বলল, তা আমি জানি না।

    —তুমি জান না, ভাবনী আমাকে ভালবাসত না।

    —সে তুমি বোধ হয় একবার কি প্রসঙ্গে বলেছিলে।

    —তুমি অবনীকে আমার কিছু শৈশবের কথা বলেছিলে!

    অতীশের গলা কেমন শুকিয়ে কাঠ। সে এ-সব কিছুক্ষণ আগে ভেবেছে। এখন ঠিক সেই সব জেরা। অতীশ বলল, আমাদের তিনজনের একটা গোপন প্রতিযোগিতা ছিল মঞ্জু। কাকে তুমি বেশি ভালবাসো এই নিয়ে। আমি নানাভবে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছি তুমি আমাকে বেশি ভালবাসো। তুমি আমাকে যে-সব শেখাতে, তা কিছু কিছু অবনীর কাছে জয়ী হবার জন্য বলেছি।

    মঞ্জু বলল, অবনী খুব ধূর্ত ছিল।

    —অবনীকে একগুঁয়ে জানতাম।

    —না, সে একগুঁয়ে নয়। ওর মনে ছিল, আমাকে সে যে-কোন ভাবে অধিকার করবে। বাবা আমাকে চন্দননগরে পাঠিয়ে দিলেন। দেশ ভাগের পর তোমরা গেলে, তার তিন চার বছর পরেই। অবনী সেখানে হাজির। ওর বাবার পয়সা ছিল, অবনী কাজের নামে আমার মামার বাসায় গিয়ে উঠে। আমার মামারা এটা পছন্দ করতেন না। আমাকে আবার বাবার কাছে পাঠিয়ে দিলেন।

    অতীশ বলল, আমি জানি তুমি পরে কি লবে। কিন্তু তুমি বিশ্বাস কর মঞ্জু, তোমার কোন অনিষ্ট করতে চাই নি।

    —অবনী ভেবে ফেলল, খারাপ মেয়ে আমি। সুতরাং সে খারাপ মেয়েকে অতি সহজে শিকার করার আশায় বাবার কাছে কবিরাজী শিখতে লেগে গেল।

    —তুমি অবিনাশদাকে সব খুলে বলতে পারতে।

    —সে আমাকে তোমার ভয় দেখিয়েছিল। সেই বয়সে, ওটা আমাদের বয়স বাড়ার সময়, চারপাশের সব কিছু থেকে কি করে যে জেনে ফেলেছি সব, অথচ ভিতরে প্রবেশ করার সামর্থ্য নেই—সেইসব ছেলেমানুষী ঘটনা নিয়ে সে আমাকে কলঙ্কের ভয় দেখাতো।

    —অবনীর ব্ল্যাকমেল করার স্বভাব ছিল বলছ!

    —তা ছাড়া এটা কি বলবে! সে বাবার কাছে কি যে ভাল মানুষ, এবং তুমি তো জানো আমি সব পারি, কিন্তু তোমাকে ছোট করতে পারি না। কারণ তোমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমি তোমার সব জেনে ফেলেছিলাম।

    অতীশের কেমন সংকোচ হচ্ছিল এ-প্রসঙ্গে কথাবার্তা বলতে। কিন্তু মঞ্জু অনায়াসে বলে যাচ্ছে। ওর মুখে আটকাচ্ছে না। ওর যে বলার ইচ্ছা ছিল, মঞ্জু আমারও ভীষণ ইচ্ছা হত। কি যে রোমাঞ্চ সেই বয়সে, তোমার ভেতরে তখন কি আশ্চর্য রহস্যময়তা! এখন আমি সব মনে করতে পারি। আমারও ভীষণ ইচ্ছা করত। মুখ ফুটে বলতে পারতাম না।

    অতীশ চুপ করে থাকল। কোন কথা বলল না। মশারির পাশে দু’জন মুখোমুখি বসে রয়েছে। মঞ্জু আরও যেন কত কথা বলবে। মঞ্জু কি ভেবেছে, সারা রাত ঘুমোতে দেবে না। সে বুঝতে পারছে না, আসলে মঞ্জু কি বলতে চায়। ওর এমন কি কথা যা আজ না বললে ওর সব মিথ্যা হয়ে যাবে। মঞ্জু পরেছে চওড়া হলুদ পাড়ের শাড়ি। চোখে চশমা পরার সঙ্গে সঙ্গে যেন ভারী হয়ে উঠছে তার গাম্ভীর্য। ওর চুল ঘাড়ে ছড়ানো। এবং পাখার হাওয়ায় সহজে শুকিয়ে নিয়েছে। গলায় সরু হার, হাতে একগাছা করে সোনার চুড়ি। সবই একরকমের, কেবল দেখতে পাচ্ছে, চোখ বড় বড়, কতদিন অবনী মারা গেছে, কতদিন তার এ-ভাবে একা রাত-যাপন! যে একবার অভ্যাসের ভেতর পড়ে যায়, অভ্যাস বন্ধ হয়ে গেলে তার বোধ হয় খুবই কষ্ট। অতীশের কাছে কি মঞ্জু সেই কষ্ট লাঘবের জন্য এসেছে!

    কিন্তু আশ্চর্য মঞ্জু বলল, জানো মুর্শেদকে সেই নিয়ে এসেছিল।

    অতীশ ভাবল, মুর্শেদ কি মঞ্জুর তবে ভালবাসার মানুষ না। সে তো কিছু জানে না। অতীশ তাকিয়ে থাকল।

    —মুর্শেদ এসেছিল ওষুধ নিতে। ওটা ওর বোধ হয় ছলনা। সে আমাকে একদিন স্কুল ফেরত রাস্তায় দেখেছিল। এবং তখন থেকেই খোঁজ-খবর! কে এই মেয়ে! তারপর খোঁজ-খবর, অবনীর সঙ্গে বন্ধুত্ব, সে আমার কাছে এলে তার স্ত্রীর কথা ভুলে থাকতে পারত। মুর্শেদ ঠিক তোমার মতো, সে বেশি দূর যেতে পারে না।

    অতীশ বলল, ওকে দেখে আমারও এমন মনে হয়েছে।

    মঞ্জু একটু হাসল এবার। অতীশ কথার পৃষ্টে কথা বলে যাচ্ছে। সে আর অধিক কিছু বুঝি এখন করতে পারে না।

    মঞ্জু বলল, তুমি ওকে ঠিকমতো পৌঁছে দিও। তারপর বলল, সোনা তোমাকে আমার হয়ে আর একটা কাজ করতে হবে। মুর্শেদকে নিয়ে যাওয়া যতটা দরকার তার চেয়ে বেশী জরুরী একটা পান্ডুলিপি তুমি তো শুনেছি ওপারে লিখে টিখে বেশ নাম করেছ। পান্ডুলিপিটার কোনও একটা গতি যদি করতে পার। সমসেরকে কথা দেওয়া আছে। সমসের বেঁচে থাকলে কত বড় লেখক হত। তারপর ফের থেমে বলল, মানুষের কাছ থেকে, আমি চিরদিন অবহেলা পেয়েছি, সব মানুষের কাছ থেকে, একমাত্র মুর্শেদ আমাকে ভাবত, আমার কিছু আছে। মানুষ মানুষকে মূল্য না দিলে এ-সব হয়।

    এ-সব বলে মঞ্জু কি বোঝাতে চাইছে বুঝতে পারছে না।

    —এই এট্রসিটিজ! পাকিস্তানের মানুষেরা আমাদের কোন মূল্য দিতে শিখল না। না ভাষার, না জাতির। সেই এক ট্রেডিশান আমরাও দেশ ভাগের আগে বোধ হয় ওদের দিই নি। কেয়াকে দেখলে এখন এটা বেশি করে বোঝা যায়।

    অতীশ ভেবে পেল না, মঞ্জু তাকে এমন কথায় কি বোঝাতে চাইছে। মঞ্জু কি গুছিয়ে বলতে পারছে না! সে কি বলতে চায়, আসলে জন্মেই মানুষ যুদ্ধক্ষেত্রে বড় হয়। প্রত্যেকের একটা ঘোড়া থাকে জীবনে। সে তার ওপর চড়ে বেড়ায়। সে সবসময় রাজা হয়ে বাঁচতে চায়। কিছু সে ছাড়তে রাজি না।

    মঞ্জু তখন বলল, মুর্শেদকে ঠিক মতো পৌঁছে দিলে আমার আর কোন দুঃখ থাকবে না। পান্ডুলিপিটার গতি হলে আমার আর কোনও দুঃখ থাকবে না। মুর্শেদ নিজের জীবন পণ করে আমার জীবন রক্ষা করেছে।

    অতীশ বলল, কথা দিলাম মঞ্জু। আমার অনেক বন্ধুবান্ধব আছে। আমার মুশ্লিম বন্ধুও আছে। যে- ভাবেই হোক ওকে বর্ডার পার করে দেবার ব্যবস্থা করব। অন্তত পাকিস্তানের একটা লোক তো জানবে আমরা ওদের শত্রু নই। তাই বা কম কি

    মঞ্জু উঠে দাঁড়ালো। যেন চলে যাবে। সে বলল, পাখাটা একটু বাড়িয়ে দেব?

    অতীশ বলল, না।

    মঞ্জু যেতে যেতে বলল, তুমি তো জানো আমার মা আত্মহত্যা করেছিল। কেন করেছিল তখন জানতাম না। এখন মনে হয় আমার মা কোনও কারণে আমার চেয়ে বেশি দুঃখী ছিল। না হলে এ- ভাবে কেউ জলে ডুবে আত্মহত্যা করে না।

    অতীশ পাশে পাশে হাঁটতে থাকল। কেমন মৃদু সৌরভ ওর শরীরে। বোধ হয় সে চুলে গন্ধ তেল মাখে। শরীরের সবকিছু এত বেশি মহিমময় যে সে পাশে হাঁটতে ভয় পেল। মঞ্জুর পোশাক, ওর আলগাভাব কেন যে ওকে লোভী করে তোলে।

    মঞ্জু বলল, কাল তোমরা থেকে যাও। পরশু যাবে। সব চল ঘুরে ফিরে দেখি। আবার কবে দেখা হবে কে জানে!

    অতীশ বলল, ঠিক আছে।

    মঞ্জু বলল, তুমি কিন্তু এতটুকু বদলাও নি।

    অতীশ বলল, বদলেছি, তুমি টের পাচ্ছ না। ফতিমা কিছুটা জানে। তারপর যেন বলার ইচ্ছে হল ফতিমার সঙ্গে দেখা না হলে আমার বোধ হয় আরোগ্য লাভও সম্ভব হত না।

    —তা হলে অভিনয় করছ, যা না তুমি, তাই ব্যবহারে দেখাচ্ছ।

    —তা ছাড়া কি!

    মঞ্জু বলল, তবে ওদের দোষ দিয়ে কি লাভ। যুদ্ধ ব্যাপারটাই খারাপ। বিশ্বাস না হারালে যুদ্ধ বাধে না। মানুষ বিশ্বাস হারালে সব হারায়। আমি এ-জন্য কিছু মনে করি না।

    অতীশ বলল, এ-সব বড় বড় কথা। তবে বুঝি, এ-সব যোদ্ধারা বীরের মতো কাজ করে নি। ওরা বিবর ঘাঁটিতে মেয়েদের রেখে নানাভাবে ভোগ করত শুনেছি।

    মঞ্জু ঘুরে দাঁড়ালো। পরাজয়ের মুখে মানুষ অনেক কিছু করে ফেলতে পারে। আমরা নানাভাবে এই সংসারেই এমন কত হীন কাজ করে বেড়াচ্ছি। আর এতো যুদ্ধক্ষেত্র। তুমি অবনীর কথা ভাবো।

    আসলে মঞ্জু মুর্শেদের জন্য ওকালতি করতে এসেছে। অতীশের যদি কোনও কারণে বিদ্বেষ থাকে, সে যদি কোনও কারণে ওকে ধরিয়ে দেয়, মানুষের স্বভাব তো, বিশ্বাস কি, সেজন্য সে বারবার ওদের হয়ে যেন মাপ চেয়ে নিচ্ছে। বলছে, মুর্শেদের মতো মানুষেরাও আছে। এরা কেন সাজা পাবে! এরা তো কোন দোষ করেনি!

    অতীশ এবার ফিরে এল। মঞ্জু কথা বলতে বলতে অন্ধকার ঘরটায়, সেই যে বাঘ হরিণ সব দেয়ালে রয়েছে, সে ঘরটায় মঞ্জু হারিয়ে গেলে শুধু অন্ধকার থাকে। এই যে একটা ঘর মাঝখানে, মঞ্জু কেন যে এখানে আলো জ্বালে না, সে বুঝতে পারে না। দু’ঘরের মাঝখানে সে একটা বিরাট শূন্যতা রাখতে বোধ হয় ভালবাসে। এবং এ-ঘরটায় অন্ধকারে ঢুকতে অতীশ ভয় পায়। আর মনে হয় মঞ্জু অনেকক্ষণ ঘরটায় অন্ধকারে এক দাঁড়িয়ে থাকতে ভালবাসে। সে ফিরে এসে এবার ঘুমোবে ভাবল। মঞ্জুর রাখা জল সে ঢক ঢক করে খেয়ে নিল। তারপর সোজা শুয়ে বুকের ওপর হাত রেখে চোখ বুজল।

    সে পরেছিল পাজামা পাঞ্জাবী। সাদা পাজ্ঞাবী। ডোরাকাটা পাজামা। ওর চশমাটি ঢিপয়ে। অন্যদিন রাতে সে বই পড়তে পড়তে ঘুমায়। এখন এত রাত যে, সে বই পড়তে আর সাহস পায় না। ঘুমোবার জন্য চোখ বুজলে দেখল, কেমন আবছা মতো সব শৈশবের ঘটনা, উৎসব, দুর্গাপূজা, চোখের ওপর ভেসে বেড়াতে থাকল।

    আসলে মঞ্জুর শৈশব থেকেই একটু বেশী শরীরের প্রতি আকর্ষণ। সবারই থাকে, তবে ওর যেন বেশী এবং মঞ্জুর শৈশবের শরীর চোখের উপর নাচতে থাকলে সে কেমন ভিতরে ভিতরে পাগল হয়ে গেল। তার নির্মলা আছে। তবু বিবর ঘাঁটিতে একজন সৈনিকের যা ইচ্ছা থাকে, যুবতী মেয়ের দৃশ্য পাশাপাশি ঝুলে না থাকলে জীবনধারণে যেমন একঘেয়েমি থাকে, সেও তেমনি জীবনে নানাভাবে ভন্ডামীর আড়ালে সরল সহজ থেকেছে। সে তার ইচ্ছার কথা কোনও দিন খুলে বলতে পারে নি। সে যা ভাবে, পৃথিবীর যে কোন পয়লা নম্বরের লম্পট তার চেয়ে বেশি ভাবতে পারে না। সে নিজের ভিতরে কোনো যুদ্ধক্ষেত্র আবিষ্কার করে ফেলে তখন। সে একা। যুদ্ধক্ষেত্র, সাদা ঘোড়া, কোন রমণীর পোশাক, বার বার সে পোশাক খুলে রমণীকে উলঙ্গ দেখতে চায়। সে এবার উঠে বসল। মাথা কেমন গরম হয়ে যাচ্ছে। এবং মনে হয় এখন সে নিজেই চুরি করে কেয়া অথবা মঞ্জুর ঘরে চলে যাবে। ওর শরীর কাঁপছে। কেয়া অথবা মঞ্জু কি চায় সে জানে! সে তার চোরা স্বভাবে সকালে ভাল মানুষের ব্যবহার, আর অন্ধকারে সে নিজের চুল নিজে ছিঁড়তে চায়। বিবর ঘাঁটিতে একজন লম্পট সৈনিকের চেয়ে সে কোনো অংশে কম ইতর নয়।

    এবং এ-ভাবে সে কখন ঘুমিয়ে পড়েছিল জানে না। ঘুম ভাঙল কেয়ার চিৎকারে। কেয়ার আকাশ ফাটা আর্তনাদ। মঞ্জুদি নিলু নেই। নীলুর ছুটি হয়ে গেছে।

    অতীশের বুকটা কাঁপছিল। ওর শরীরে ঠিক যেন শক্তি নেই। জানালায় ফাঁকা মাঠ। সকাল এবার হবে হয়তো। আর কেউ কাঁদছে না, ছেলেমানুষের মতো কেয়ার কান্না, নীলুর ছুটি হয়ে গেছে মঞ্জু দি। শিগগির এস।

    কোনও প্লাটফরমে ঘুম ভেঙ্গে গেলে, সব অচেনা লাগে, কিছু মাথায় আসে না, কোথায় কি আছে বোঝা যায় না, নিজেকে বোকা বোকা লাগে, তেমনি সে এখন জেগে গেলে ভাবল, কেয়া কাঁদছে কাঁদুক, তার সাহসে কুলাচ্ছে না, সে আরও ভীতু হয়ে পড়েছে, সে মশারির নিচে দু’হাটুর ভিতর মাথা গুঁজে বসে রয়েছে, সব কেমন গোলমাল হয়ে যাচ্ছে।

    সে এ-ভাবে কতক্ষণ বসে ছিল জানে না। মুর্শেদ এসে ডাকল, সোনাবাবু, আসুন।

    সে যেন মুর্শেদকে অনুসরণ করছে। নীলুর একটা কিছু করতে হয়।

    অতীশ বলল, হ্যাঁ তা দরকার।

    অতীশ দেখল, মঞ্জু নীলুর শিয়রে বসে রয়েছে। কেমন নির্বিকার। দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি তাকে কিছুটা যেন নির্বোধ করে রেখেছে। কাঁদছে না। কেবল কেয়া নীলুর বুকের ওপর পড়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। আসলে মঞ্জু বোধ হয় জানত, এত বড় আঘাত সে সহ্য করতে পারবে না। কিছুটা সে সে-জন্য কেয়াকে ভাগ দিয়ে দিয়েছে। শেষদিকে কেয়ার কাছেই নীলু থাকত। মাঝে মাঝে মঞ্জু এসে বসত মাত্ৰ।

    এই ঘরটা তুলনায় ছোট। নীলুর খাট আরও ছোট, নীলুর মুখ সাদা চাদরে ঢাকা। কে ঢেকে দিল অতীশ জানে না। মঞ্জু না কেয়া! নীলুর সাদা পা দেখা যাচ্ছে। চাদরে মুখ ঢেকে দিলে পা বের হয়ে যায়।

    অতীশের মনে হল, এ-ভাবে মঞ্জু পাথরের মতো বসে থাকলে খারাপ হতে পারে। ওর কাঁদা উচিত। এও হতে পারে, মঞ্জু সব বিলাপ আগেই সেরে রেখেছে। কারণ সে তার ভবিতব্য জানে। প্রতিদিন সে শোকের ভিতর থেকে আজ বোধ হয় ভাবছে ছুটি পেয়ে গেল। তার মোটামুটি যা দায়িত্ব ছিল সব শেষ। তার কিছু আর দায় পড়ে থাকল না। সে শৈশব থেকে যা কিছু নিয়ে বড় হয়েছিল, এই যেমন গাছ বড় হলে ডালপালা মেলে বড় হয়ে যায়, ঋতুতে ফুল ফল আসে আবার ঝরে যায়, তেমনি মঞ্জুর এখন সব ঝরে গেছে। যেন সে শৈশবের মঞ্জুর মতো। বলে উঠতে পারে সে, যাবে সোনা ঘোড়ায় চড়ে আমরা হাসান পীরের দরগা পার হয়ে যাব।

    অতীশ নীলুর মুখের চাদর খুলে দেখল। ঠিক ঘুমিয়ে আছে যেন। সে বুকে হাত দিল। বুকে সামান্য উষ্ণতা জেগে রয়েছে। হাত-পা শক্ত হয় নি। ভোর রাতের দিকেই নীলু ছুটি নিয়েছে। খুব একটা দেরি হয় নি কেয়ার জাগতে। হাত-পা শক্ত হতে সময় নেবে। ফুলের মতো ছেলেটা নির্বিঘ্নে ঘুমিয়ে আছে। বোধ হয় ফুলের মতো ছেলেরা মরে গেলে মুখে কোন কষ্টের চিহ্ন থাকে না। অতীশ নীলুর মুখে এতটুকু কষ্টের ছাপ দেখল না। চোখ দুটো বোজা। মুখের এক কোণে সামান্য দুষ্টু হাসি। যেন বলছে, বুঝলে হে এই হচ্ছে ঈশ্বরের বাগান।

    গোপনে অতীশের ক’ফোঁটা চোখের জল পড়ে গেল। কেউ দেখল না হয়ত।

    ওদিকে মুর্শেদ, সেও দেখছে নীলুকে। সে চাদরের নিচে হাত দিয়ে দেখছে পা কতটা ঠান্ডা। সে কি এখন তেমনি খেলা দেখাবে, সেই তাজিয়া নিয়ে সে যেমন ইন্টালির দরগা থেকে রাজাবাজারের মসজিদে আসত ছুটে ছুটে। সে কি ভেবেছে, এখন যদি এই করে আল্লা ফু ইত্তা ফু অথবা অন্য একরকমের দ্রুত ধাবমান অশ্বের গতি নিয়ে হাতে তাজিয়া নিয়ে মেতে যায় তবে নীলু কি ফিক করে হেসে দেবে। সে কি বিশ্বাস করতে পারছে না, নীলু মরে গেছে!

    অতীশ বলল, এস ধরি আমরা। বাইরের বারান্দায় বের করে নিতে হবে।

    কেয়া যে-ভাবে পড়ে আছে নীলুর বুকে মুখ রেখে, কিছুতেই তাকে সরানো যাবে না। কেয়া এ- ভাবে পড়ে থাকতে পারে, এবং কেয়া কি বিশ্বাস করতে পারছে না এখনও, সে কি বুকে কান রেখে মৃদু সেই শব্দ, দূরাগত শব্দ, শুনতে চায়! আর জব্বার চাচা এখন এই বাড়ির চারপাশে সবচেয়ে সবুজ গাছটি খুঁজে বেড়াচ্ছেন, যার কাঠে এই সুন্দর শিশুকে দাহ করা হবে।

    অতীশ ডাকল, কেয়া।

    কোনও সাড়া নেই।

    —কেয়া ওঠো। ওকে আমারা বের করে নেব।

    কোনো সাড়া দিল না।

    মঞ্জু বলল, কেয়া ওঠ। ওকে আমাদের বের করে নিতে হবে।

    এত শক্ত মঞ্জু! সে যেন এবার বেশ সাহস পেয়ে গেল। বলল, তুমি কেয়াকে তুলে নাও। ও ছাড়বে না নীলুকে।

    মঞ্জু পাশে বসল কেয়ার। ওর মাথায় হাত বুলাল। নীলু যেন মঞ্জুর কেউ হয় না। অথবা দূর সম্পর্কে কোনও আত্মীয়তা আছে, নীলুর যা কিছু সম্পর্ক এই মেয়ে কেয়ার সঙ্গে। অতীশ ক্রমে বিস্মিত না হয়ে পারছে না। মঞ্জু এত নিষ্ঠুর হতে পরে কি করে! মঞ্জু কেয়াকে এক সময় প্রায় বুকে নিয়ে জড়িয়ে বসল। এবং মুর্শেদ পায়ের দিকটা, সে মাথার দিকটা ধরে ক্রমে ঘর পার হয়ে, সেই বাঘ ভালুক অথবা হরিণের ছবির পাশ দিয়ে ওকে বারান্দায় এনে রাখল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআওরঙ্গজেব : ব্যক্তি ও কল্পকথা – অড্রি ট্রুসকে
    Next Article মানুষের ঘরবাড়ি – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }