Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ঈশ্বরের বাগান – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

    লেখক এক পাতা গল্প1863 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ঈশ্বরের বাগান – ৯

    ।। নয়।।

    চার্চের ঠিক সামনে সেই পাগল। গায়ে কিম্ভুতকিমাকার পোশাক। ছেঁড়া তালিমারা উচ্ছিষ্ট জামা পাতলুনে ঢাকা শরীর। নোংরা। গালে দাড়ি। চোখ কোটরাগত। বগলে বোঁচকা। হাতে দম মাধা দমের লাঠি। ন্যাকড়া জড়ানো পালক বাঁধা। একটা লম্বা দাঁত ঠোঁটের ফাঁকে বের হয়ে ঝুলছে। সে বিকেল থেকেই উন্মত্ত হয়ে উঠেছে। আর কেবল হাঁকছে দম মাধা দম পাগলা মাধা দম।

    এখন চার্চের সামনে দাঁড়িয়ে সে মাথায় তেনাকানি বাঁধছে। মাথার ওপরে কাক উড়তে দেখে ভয় পেয়ে গেছে। কারণ এরা বড়ই তাকে ঠোকরায়। তার এখন শত্রুপক্ষ বলতে শহরে এরাই। আর সব মেরে এনেছে। কুকুর বেড়াল সে ঠেঙিয়ে সব তাড়িয়েছে। হাতের লাঠিটা জাদুমন্ত্রের মতো। সে ডাস্টবিনের পাশে ঘোরা ফেরা করলে ভয়ে আর কেউ ত্রিসীমানা মাড়ায় না। কিন্তু কাকেদের বেলায় তার জারিজুরি খাটে না। এরা কোত্থেকে এসে সব ছোঁ মেরে তুলে নেয়। এসব কারণে তার মাথা গরম। তার একটু সতর্ক থাকা দরকার। এবং এখন একমাত্র কাজ দামী মস্তিষ্ককে রক্ষা করা। এর মধ্যেই ঘিলু পোরা আছে। কাকেরা মগজের ঘিলু খেতে খুব ভালভাসে। প্রথমে তেনাকানি, পরে গামছা তারপর বোঁচকা কুঁচকির যত সংগ্রহ করা ন্যাকড়া সব মাথায় পেঁচিয়ে ওটাকে ঢাউস কুমড়ো পটাস বানিয়ে ফেলল।—খা শালারা, কত খাবি খা। কত ঠোকরাবি ঠোকরা। ও বাপ এই বহ্মতালু ভেদ করা আর তোগো কম্ম নয় বাপ। মাথাটা ভারি নিরাপদ ভেবে সঙ্গে সঙ্গে দুটো ডিগবাজি।

    একটা ডিগবাজি খেতেই স্বাদ পেয়ে গেল। চোখ ঘুরে যায় উল্টে যায়, মাথা ঘুরে যায়, বড়ই নেশার মতো লাগে। সে পর পর ডিগবাজি খায়। কাঠের দেয়াল পার হয়ে ডিগবাজি খায়, ট্রাম লাইন ফাঁকা পেয়ে সে সম্রাট সিজার হয়ে যায়। সবই তার দখলে। সে সেখানেও ডিগবাজি খায়। তারপরই অগুনতি বাসের ভিড় জটলা। কারা তেড়ে আসে, সে দৌড়ে যায়। যেন বলে, আমার কোনও ভোগ দখলের স্পৃহা নেই বাপু, সব তোদের দান করে দিলাম। যা এবার লুটে পুটে খা।

    তারপর সে আর যানবাহনের জন্য মানুষের জন্য প্রতীক্ষা করছিল না। এখন এক পাগলিনীর জন্য তার প্রতীক্ষা। তার আসার কথা। সে তার জুড়িদার এই শহরে। সকাল থেকেই দেখছে না। সে কাছে থাকলে সাহস পায়। তার মনোযোগ বাড়ে। আকর্ষণ বাড়ে। মারামারি করতে পারে। মনুষ্যকুলে এই একজনই তার বলতে গেলে সম্বল—যার সঙ্গে মিনি মাগনায় শুতে পায়। কখনও খেতে পায়।

    বর্ষাকাল, অথচ কদিন বৃষ্টি নেই। খাঁ খাঁ শুকনো আকাশ। প্রখর উত্তাপ। প্রখর উত্তাপে তার সঙ্গিনী গায়ে জামা কাপড় রাখতে পারে না। নগ্ন থাকে।

    কতবার সে কোমরে গামছা বেঁধে দিয়ে বলেছে—ঢেকে ঢুকে রাখ, কাকের উপদ্রব বেড়েছে। ওটা ঠুকরে তুলে খেলে মজা বুঝবি। কেউ আর তোর দিকে তাকাবে না।

    যাতায়াতের পক্ষে বড়ই বিঘ্ন এই পাগল। ছোঁয়াচ বাঁচিয়ে চলা পর্যন্ত দায়। কে একজন হেঁকে উঠল, এই উজবুক, ওঠ রাস্তা থেকে। গাড়ি চাপা পড়বি তো। রাজার বাড়ি থেকে গাড়ি বের হচ্ছে। কোটিপতি মানুষের বৌ যাচ্ছে গাড়িতে। সেই গাড়িটা পর্যন্ত ছোঁয়াচে অস্পৃশ্য হয়ে যাবে ভেবে পাগলকে মাঝ রাস্তায় কাটিয়ে চলে যায়। তখন সে দিগ্বিজয়ী বীরের মতো হাসে হা হা হা। জয় জয় হে। জয় দাও প্রভু, কৃপানাথের। জয়রাজা হরিশ্চন্দ্রের। সে কোঁচড় থেকে এক এক করে বাতাসে উড়িয়ে দেয় পাখির পালক। এক মরা কাকের ছানাও সে উড়িয়ে দেয় হাওয়ায়। ওটার গন্ধেই কাকগুলি তার পিছু তাড়া করছিল। সে এতক্ষণে এটা টের পেয়ে ভাঙা ঠেলাগাড়ির নিচে শুয়ে সব দেখছে আর মুচকি হাসছে। তারপর কি ভেবে উঠে এক দৌড়। পাগলিনী সেই ছানাটা হাতে দুলিয়ে যেন বাজার করে ফিরছে মতো বাতিল ঠেলাগাড়ির আস্তানায় গিয়ে ঢুকে পড়ল।

    কাকগুলি এখন আর সেই পাগলের মাথায় নেই। পাগলা হরিশ নিশ্চিন্তে হেঁটে গিয়ে দেবদারু গাছটার নিচে বসল। পোড়া বিড়ি বের করল ঝোলাঝুলি থেকে। কাকের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে তার রাজ্য জয়ে বের হবার ইচ্ছা। বের হবার আগে দম নিচ্ছে বসে বসে।

    ততক্ষণে পাগলিনী মতিবিবির পালক ছাড়ানো শেষ। আগুন জ্বালল নিচে। খড়কুটোতে বাচ্চাটাকে পুড়িয়ে নিল। তারপর গোগ্রাসে গিলে ফেলল কাকের রোস্ট। বড়ই সুস্বাদু খাবার। জনগণেরা তখন রাস্তায় ভিড় করছে। ট্রাম বাস জ্যামে পড়ে গেছে। দোকানদার, দালাল, ফেরিয়ালা, নাট্যকার, কবি সাংবাদিক অঞ্চলের যে যেখানে ছিল ছুটে এসে দেখল, কাকেরা চলে যাচ্ছে। ধোঁয়া মাংস পোড়া গন্ধ কমে আসতেই কাকেরা সব চলে যেতে থাকল। সামান্য ধোঁয়া উঠছিল ত্রিপলের ফাঁক ফোকরে। হোসপাইপে জল মারতেই এক মূর্তিমতী কলকাতা কল্লোলিনী। সবাইকে দাঁড়িয়ে দাঁত ভ্যাংচাচ্ছে। আসলে এটা কাকতালীয় ব্যাপার ভাবল শহরের লোকেরা। কেউ কেউ বলল, কাকেরা যুদ্ধ করলে দেশে প্লাবন দেখা দেয়। জ্যোতিষিরা বললেন, শনি ও রাহু সিংহে রয়েছে। আগামী দশই জুলাইর মধ্যে একের পর এক গ্রহ গিয়ে সিংহে সন্নিবিষ্ট হচ্ছে। রবি চার জুলাই, শুক্র সাত জুলাই, বৃহস্পতি নয় জুলাই এবং বুধ দশই জুলাই সিংহে মিলিত হচ্ছে শনি ও রাহুর সঙ্গে। এতগুলি গ্রহ সন্নিবেশের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বিবাদ বিসম্বাদ স্বাভাবিক। এই বিবাদ বিসম্বাদের ফলে আর কিছু না হোক কাকেদের আক্রমণ অবশ্যম্ভাবী। এর ফলে বৃহৎ রাষ্ট্রের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দিতে পারে। মধ্য এশিয়ায় ও আফ্রিকায় রক্তপাত ঘটতে পারে। রাজনৈতিক উত্থান পতনেরও সম্ভাবনা আছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ ভারতের কোন কোন অংশে ভূমিকম্প, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহাপ্লাবনেরও আশঙ্কা আছে।

    পাগলের এতসব জানার কথা নয়। তার কাজ শুধু সঞ্চয় করে যাওয়া। সে রাস্তায় কিছুই ফেলার জিনিস ভাবে না। যা পায় সঙ্গে নিয়ে নেয়। ভাঙা খুরি হাঁড়ি পাতিল দেশলাইর বাক্স প্লাস্টিকের ছেঁড়া ব্যাগ সবই তার বড় দরকারি। সে তার সঞ্চয় কোথাও ফেলে যায় না। দিনকে দিন সঞ্চয় বাড়তে বাড়তে ওটা ভারি একটা বস্তা হয়ে গেছে। মাথায় তুলতে কষ্ট হয়। সেজন্য সে মাথা থেকে নামাতে ভয় পায়। মাথায়ই থাকে। এবং ঘাড় শক্ত হয়ে যায়। শিরাগুলি শক্ত হয়ে যায়। তবু সে মাথা থেকে নামাতে সাহস পায় না। কে আবার তুলে দিতে এসে ছিনতাই করে নেবে তার চেয়ে এই ভাল বাবা, মাথার জিনিস মাথায় থাক। কিছুই ফেলা যায় না। সেজন্য সে নারকেলের মালা এবং সিগারেটের বাকস দিয়ে মালা গেথে গলায় পরেছিল। পিঠে পুরাতন জামার নিচে পচা ঘামের গন্ধ। রাস্তায় জ্যাম দেখে, ভিড় দেখে মানুষের পাগলামি দেখে হাসছিল। পাগল হেসে হেসে সবাইকে বলছিল, দু-ঘরের মাঝে অথৈ সমুদ্দুর। সে অন্য কোনও সংলাপ খুঁজে পাচ্ছিল না। সে এই একটা কথাই এখন পর্যন্ত মনে রাখতে পেরেছে।

    কিন্তু তার বোঁচকার কথা মনে পড়ে গেল। দম মাধা দমের লাঠিটার কথা মনে পড়ে গেল। মানুষের ভিড় দেখে মনে হয়েছিল এরা তার এতদিনের সঞ্চিত সব তৈজসপত্র ছিনতাই করে নেবে। সে বোঁচকা এবং দম মাধা দমের লাঠি ফেলে দেবদারু গাছটার নিচে ছুটে এসেছিল। তার সেই বস্তাটা মাথায় নেই। দাঁড়াতেই মনে পড়ল, ওগুলো সে কোথায় যেন রেখে এল। এত সম্পত্তি ফেলে রাখা ঠিক না। এতে বিপত্তি বাড়ে। কোনটা ফেলে সে কোনটা রক্ষা করবে বুঝতে পারছে না। বস্তাটা মাথা থেকে নামালেই এটা তার সম্পত্তি থাকবে না এমন কখনও মনে হয়। মনে হয় সব সাধারণের সম্পত্তি হয়ে যাবে। এত কষ্ট করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কি দরকার ছিল তবে সম্পত্তি বাড়াবার। একটু উদার হওয়া যায় না! এই দিয়ে থুয়ে সে হাল্কা হতে পারে। ভাবতেই এক দণ্ড আর সে দেরি করতে পারল না। সে লাঠিটা খুঁজতে ছুটে গেল। ওটাতে সে কাকের পালক বেঁধে রেখেছে। বড়ই মূল্যবান বস্তু। হারালে সে বংশে নির্বংশ হবে।

    মানুষের বংশে নির্বংশ হওয়া ভাল কথা না। লাঠিটা না থাকলে সে নির্বংশ হতে পারে ভেবে খুবই বিচলিত বোধ করল। যেন বড়ই আতান্তরে পড়ে গেছে। তখন বাস যায় ট্রাম যায়, মানুষের মিছিল যায়। আর দেখে আঁস্তাকুড়টা ক্রমেই বড় হয়ে যাচ্ছে। যেন জাদুমন্ত্র বলে আঁস্তাকুড়টা এই শহরের যত সুখি পায়রা আছে সব পুড়িয়ে খাবে। সে সেটা কিছুতেই হতে দেবে না। লাঠিটা বগলে থাকলে কাকের পালক বাঁধা থাকলে কোন দুষ্ট প্রভাব কাছে ঘেঁষতে পারবে না। সেটা কাঁধে নিয়ে বেড়ালে মানুষের মঙ্গল হবে। এই মানুষের মঙ্গল হবে ভেবেই সে লাঠিটার খোঁজ করছে এত করে। দেখলে মনে হবে তন্ন তন্ন করে খুঁজছে সারাটা রাস্তা। সেই বুড়োটা চুরি করে নেয়নি তো আবার। লোকটাকে সে কিছুদিন থেকেই খুব সন্দেহ করছে। কোত্থেকে এসে তার জায়গাটা দখল করে বসে গেল। সঙ্গে পুরুষ্ট মাইয়া আছে একখান। নাম কয় চারু।

    কিছুদিন থেকে হরিশ এই লোকটাকে সন্দ করছে। সঙ্গের ডবকা ছুঁড়িটা উদোম গায়ে পড়ে থাকে। গা আল্লা করে রাখে। এরাই দমমাধাদমের লাঠিটা গায়েব করতে পারে। লাঠিটার জাদুটোনা টের পেয়ে গেছে বুড়োটা। তন্ন তন্ন করে খুঁজেও যখন পেল না তখনই বুড়োটার সামনে এসে ঊর্ধ্ববাহু হয়ে গেল। এটা তার একটা প্রশ্নের তরিকা। ঊর্ধ্ববাহু হলেই বুঝতে হবে সে কিছু ফেরত চায়।

    বুড়োটা বলল, আমার কাছে কিছু নেই।

    হরিশ কোমর দোলাল। অর্থাৎ আছে।

    বুড়োটা বলল, নেই, কিছু নেই।

    হরিশ আরো জোরে ডাইনে বাঁয়ে কোমর দোলাল। অর্থাৎ আছে, আছে। দাও। না দিলে অমঙ্গল হবে। মনুষ্য জাতি বিলোপ পাবে। ওটা বড়ই প্রয়োজনীয় দ্রব্যবস্তু।

    তখন বুড়োটা বিরক্তিতে অতিকায় বৃদ্ধ হয়ে যেতে থাকল। গায়ে কি পচা দুর্গন্ধ।—সরে দাঁড়া। বলে একটা ঠ্যাঙা নিয়ে তেড়ে গেল।

    হরিশ ঊর্ধ্ববাহু হয়েই দাঁড়িয়ে থাকল। নড়ল না।

    .

    ফুলি বলল, কি সুন্দর দিন। আমার এই ঘাসে এখন ঘুমিয়ে পড়তে ইচ্ছে হচ্ছে। ফুলি রাজবাড়ি থেকে বের হয়ে এখানে একটু প্রেম করতে চলে এসেছে।

    সত্যি সুন্দর দিন। বর্ষাকাল, অথচ কি নির্মল আকাশ। ঠিক শরতের আকশের মতো। ফুলি মাঠের ঘাস মাড়িয়ে যাচ্ছিল। পাশে তার সুন্দর যুবক সুনন্দ। সে তার হাত ধরে হাঁটছে। এ-সময়ে পৃথিবীটা মানুষের কাছে কত পবিত্র হয়ে যায়। ওদের হাঁটা চলা কথাবার্তা থেকেই ধরা যাচ্ছিল, এরা এখন পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ। ওরা ঘাসের ওপর বসে পড়ল। তারপর দু’জন দুজনের মুখ দেখল।

    ফুলি সারাটা বিকেল শুধু আজ আয়নায় মুখ দেখেছে। বাথরুমে সুগন্ধ সাবানে চান করেছে। মা বলেছে, অত সময় ধরে চান করছিস কেন ফুলি। ফুলি মুখে জল নিয়ে ফুং করে উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, ঠাণ্ডা জলে চানে কি আরাম। আহা সেই মানুষ আজ আবার তার জন্য কোনও গাছের নিচে অপেক্ষা করবে বলেছে। কতদিন থেকে সে এমন আশা করতে করতে বড় হচ্ছিল। তার থাকবে একজন সুন্দর প্রেমিক। যে সহজেই বলবে ফুলি তুমি কি সুন্দর। চল না কোন জ্যোৎস্না রাতে আমরা কোন গভীর অরণ্যে চলে যাই।

    ফুলি তারপর কার কাছ থেকে চেয়ে নিয়েছিল, সেই লতাপাতা আঁকা সিল্কের শাড়িটা। তার এক মাথা চুল। চুলে শ্যাম্পু দিয়েছে। ওর ফাঁকা চুল ঘন নীল রঙের হয়ে যায় তখন। প্রতিটি লোমকূপ থেকে চুলের গভীর সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। সে এটা টের পেলেই লা লা করে গান গায়। তার অহংকার বলতে এই ঘন নীল রঙের চুল’। ছেড়ে দিলে একেবারে হাঁটু অব্দি নেমে যায়। সুনন্দ ফুলির সারা মাথা ভরা চুল দেখতে দেখতে সবুজ বাবুইর বাসাটার দিকে হাত দিতে গিয়ে কেমন চঞ্চল হয়ে উঠল।

    ফুলি বলল, এই কি হচ্ছে!

    —একটু দেখি না।

    —না এখন না।

    সুনন্দ বলল, একদিন দ্যাখো ঠিক আমি মরে যাব। আমি তোমার কিছুই পাব না।

    সুনন্দর এই বোকা বোকা কথা ফুলির বুকে কেমন আগুন ধরিয়ে দেয়। সে বলে, দাদা তোমাকে আমাদের বাসায় আসতে বারণ করেছে?

    —কৈ না তো!

    —তবে তুমি যে সেদিন এলে না?

    —সেদিন মানে?

    —সব ভুলে যাও কেন। তুমি বললে না, রোববার বিকেলে যাব।

    —ও সেই কথা। যাব ভাবলাম, কিন্তু পরে মনে হলো গিয়ে কি হবে। সবাই বাড়ি থাকলে গিয়ে কি লাভ।

    —ঐ একটাই বোঝ। আর কিছু বোঝ না। আর আসছি না দ্যাখো।

    সুনন্দ পায়ের শাড়ি সামান্য তুলে দেখল ফুলির। কি সাদা আর মাখনের মতো নরম ঊরু। ফুলি শাড়িটা নামিয়ে দিল জোর করে। তুমি কি! মানুষ জন আছে না।

    —অতদূর থেকে কেউ বুঝতে পারবে না।

    —ঐ দেখ, একটা ঘোড়সওয়ার পুলিশ।

    সুনন্দ দেখল, দূরেই ঘোড়সওয়ার পুলিস। ঘোড়ার মুখটা তাদের দিকে কদম দিচ্ছে। সে একটু সরে বসে বলল, কি বলে বাড়ি থেকে বের হলে?

    —যা বলে বের হই।

    —কিন্তু যদি ধরা পড়।

    —কি হবে তবে? বলব, সুনন্দার কাছে গেছিলাম। তারপরই বলল, রাজবাড়িতে জানো একটা মানুষের অ্যামব্রায়ো পাওয়া গেছে। আঁস্তাকুড়ে পড়েছিল।

    ফুলির উচ্চ মাধ্যমিকে বায়োলজি আছে সেই সুবাদে ভ্রূণ-টুণ না বলে অ্যামব্রায়ো বলল। যেন ফুলি কত অভিজ্ঞ—এবং বলল, জানো আমার আর পড়াশোনা করতে ভাল লাগে না। তোমাদের বাড়ি থেকে কিছু অমত হবে?

    সুনন্দ বলল, এখনও আমার দুই দিদির বিয়ে বাকি—তুমি তো সব জান।

    —তা হলে আমরা কতদিন এ-ভাবে থাকব?

    —দিদিদের বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত।

    —কবে ওরা করবে?

    —করবে মনে হয়। কারণ ওরাও তো তোমার মতো অধীর।

    এ-সব কথা হামেশাই এ-শহরের উঠতি যুবকদের যুবতীদের এবং নিম্ন-মধ্যবিত্ত ঘরের যারা, তাদের এই পার্ক, সিনেমা, থিয়েটার এবং মাঠটা সম্বল। দূরে দূরে যতদূর চোখ যায়, কোথাও তরুণ যুবকেরা খেলা করছে—কোথাও ঘোড় দৌড় হচ্ছে, কোথাও জোড়ায় জোড়ায় ঘুরছে। মহারাণীর স্মৃতিসৌধটির পাশে এমন সব কত যুবক যুবতী গাছের নিচে বসে উত্তেজনায় অধীর হচ্ছে। চোখ মুখ জ্বলছে। এই বয়সে তাদের আর কি করণীয়। কিন্তু তারা জানে তাদের অনেকেরই এক স্বপ্ন-সমুদ্রে শুধু ভেসে বেড়াতে হয়। ইচ্ছেমত তারা গভীরে প্রবেশ করতে পারে না। তাদের জন্য সব সুন্দরী যুবতীরা বড় হয়ে ঘুরে বেড়ায়, তারা শুধু দেখে যায়। সুনন্দ দেখল নদীর পাড়ে সূর্যাস্ত হচ্ছে। অসংখ্য পাখি উড়ে যাচ্ছে মাথার ওপর দিয়ে। চারপাশে নগরীর কোলাহল, বাস ট্রাম এবং স্কাইস্ক্যাপার। সে রেড রোডের গোলমোহর গাছগুলি পার হয়ে আরও গভীর মাঠের মধ্যে ফুলিকে নিয়ে ঢুকে যেতে থাকল। ফুলির শরীরে আশ্চর্য লাবণ্য। ওর জঙ্ঘায় না জানি কোন মহাসমুদ্র খেলা করে বেড়াচ্ছে। সে এখনও সেখানটায় হাত দিতে পারেনি। এই একটা ভীষণ ইচ্ছেয় ফুলির কাছে এলেই তার শরীরে কেমন জ্বর এসে যায়। ইচ্ছে হয় কত কথা বলবে, কিন্তু কেমন মূক বধিরের মতো সে শুধু তাকিয়ে থাকে। শরীরকে ক্ষতবিক্ষত করে তাকে ফিরে যেতে হয়—কারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মধ্যে মা বাবা, ভাই বোন সব মিলে এক প্রাচীর তৈরি হয়ে আছে। সেই প্রাচীর ভাঙার জন্য একটু এগোলেই সংসারে কোথায় কিছু যেন হারিয়ে যায়।

    ফুলি বলল, এই, আমি ফিরব। সন্ধ্যা হয়ে গেছে।

    —আর একটু চল না হাঁটি।

    ফুলির মধ্যেও মানুষের সঙ্গ পেলে যা হয়—এক জলোচ্ছ্বাস ঘটছে। সেটা সে টের পাচ্ছিল। সে হাঁটতে পারছিল না। শরীরে আশ্চর্য জড়তা নেমে আসছিল এবং সে নিজেকে নিজেই ভয় পাচ্ছিল। শেষে তো সেই এমব্রায়ো। এটার জন্য সে জানে খুব ভাববার নেই। কিন্তু অস্পষ্ট অন্ধকারেও সে বুঝল কোথাও এই শহরে একটু নিরিবিলি জায়গা নেই—যেখানে সে এবং সুনন্দ মুহূর্তের জন্য এক হয়ে যেতে পারে। ফুলি অন্যমনস্ক হবার জন্য বলল, এই প্রিয় শহরে আমরা একদিন বুড়ো হয়ে যাব। ভাবতেও কেমন লাগে।

    সুনন্দ বলল, বুড়ো হতে দিচ্ছি না।

    —তুমি না দেবার কে! জান আমার মা এখন কেমন হয়ে গেছে! কি সুন্দর না ছিল দেখতে! একেবারে মধুবালার মতো। সেই মা কেমন হয়ে গেছে। জান আমার কেবল ভয় করে—আমিও একদিন ঠিক মার মতো হয়ে যাব।

    সুনন্দ দেখল এখন ওরা অনেকটা মাঠের গভীরে ঢুকে গেছে। বলল, এস আমরা পাশাপাশি এখানে শুয়ে থাকি।

    —পুলিশ ধরুক আর কি।

    সুনন্দ বলল, বড়ই সুসময় চলে যাচ্ছে। এই সুসময় আমরা শুধু পালিয়ে ভালবাসছি। জানো রাতে তোমার কথা ভাবতে ভাবতে কেমন অস্থির হয়ে যাই, মা বাবা দিদি সব কেমন দূরের মনে হয়। যেন এতদিন যে বড় হওয়া সে শুধু তোমার জন্য।

    ভালবাসার কথা সাধারণত এই রকমেরই হয়ে থাকে। কাজেই নতুনত্ব কিছু নেই। সুনন্দদের সময়ে এই কথা, তার বাপের আমলেও এই কথা, তার পিতামহের আমলেও এই কথা। আগামী জন্ম জন্মান্তরেও এই কথা। এইভাবেই মানুষ বালক থেকে যুবক হয়, যুবক থেকে প্রবীণ, তারপর বুড়ো। তখন ঈশ্বর দরকার হয়। মানুষের কোথাও না কোথাও শেষ আশ্রয় এই ঈশ্বর। এখন সুনন্দর আশ্রয় এই ফুলি

    —সুনন্দ পাশে বসে দাঁতে ঘাস কাটতে কাটতে এ-সব ভাবছিল। ফুলির দাদা ওর সঙ্গে পড়ত সুরেন্দ্রনাথে। ওর দাদা ভাল কবিতা আবৃত্তি করতে পারত। নাটক করতে পারত ভাল। একবার একটা কবিতাও লিখেছিল কলেজ ম্যাগাজিনে। সে কবিতাটা পড়ে ফুলির দাদার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল। আলাপ, ভাব, তারপর বন্ধুত্ব। ওর দাদা যা কিছু লিখত প্রথমেই তাকে সেগুলো দেখাত। সুনন্দর মনে হত, ফুলির দাদা রবিঠাকুর না হয়ে যায় না। অশেষ গুণ আছে তার। কিন্তু এখন সে সব ছেড়ে ছুড়ে দিয়ে একটা অর্ডার সাপ্লাইয়ের ব্যবসা করছে। আর সুনন্দ এই নিয়ে আঠারবার ইন্টারভিউ এবং প্রথম প্রেম। ফুলির সঙ্গে তার প্রেম চলছে। সে ভেবেছে মরে যাবে ফুলির জন্য। একটা কিছু করে ফেলবেই। প্রেম নিয়ে সে ছেলেখেলা করতে ভরসা পাচ্ছে না।

    —এই শোনো। ফুলি সুনন্দর হাত ধরে বলল।

    —কী?

    —বাবা সেদিন তোমার কথা দাদাকে বলছিল। সুনন্দর খবর কিরে! দু-তিন হপ্তা হল আসছে না।

    —সুধীন কি বলল?

    —বোধহয় কাজে আটকে পড়েছে।

    একবার খোঁজ-নিলে হয় না। ওরা তো বেলঘরিয়ায় থাকে। রিফুজী কলোনিতে ওর বাবা বাড়ি করেছে।

    ফুলিদের পরিবারে রিফুজি জল চল নয়। প্রথম প্রথম সুনন্দকে বাঙাল বলে বাড়ির সবাই ঠাট্টা তামাশাও করেছে। এবং জল চল নেই বলেই ফুলির বাবা প্রথম দিকে সুনন্দর আসা যাওয়া খুব পছন্দ করত না। কিন্তু বছরখানেক ধরে অন্যরকম। অফিসে তার বস বাঙাল। সিট মেটালে নতুন ম্যানেজার এসেছে সেও বাঙাল। একেবারে দেশটা ক্রমেই বাঙালে বাঙালে ছয়লাপ হয়ে যাচ্ছে। যেখানে যাও, অফিসে, ব্যাঙ্কে, ট্রামে বাসে শুধু বাঙাল ছাড়া মুখ দেখা যায় না। আত্মীয়-স্বজনদের মেয়েরাও এখন বাঙাল বিয়ে করতে ব্যস্ত। তার দিদির দুই মেয়েই ভালবাসাবাসি করে অফিসের দুই বাঙালকে তুলে এনেছে। তার বোনের নন্দাই মেয়ের বিয়েই দিয়েছে বাঙাল দেখে। বাঙালরা নাকি খুব করিতকর্মা হয়। মেয়েদের বিয়ে দাও তো বাঙাল খোঁজ। ছেলেদের বিয়ে দাও তো স্বজাতি দেখে দাও।

    এইসব কারণে সুনন্দর ওপর ফুলির বাবার বেশ স্নেহ ভালবাসা জন্মাচ্ছিল। এ-জন্য অভাবের সংসারে দুবার নিমন্ত্রণ করেও খাইয়েছে। সুনন্দ একটা চাকরিও করছে লজঝরে প্রাইভেট ফার্মে। তবে সে ব্যাঙ্কে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ওর আশা ব্যাঙ্কে সে একটা কাজ পেয়ে যাবে। ফুলির বাবা আজকাল ঠনঠনে দিয়ে আসার সময় শরীর ভাল থাকা নিয়ে যখন মা ঠাকরুণকে মাথা ঠোকে তখন সঙ্গে সুনন্দর ব্যাঙ্কের চাকরিটার কথা মাকে মনে মনে স্মরণ করিয়ে দেয়।—তোমার তো মা সবাই সন্তান। সন্তানের শখ-আহ্লাদ তুমি না মেটালে কে মেটাবে। মা মাগো। তোরই ইচ্ছা সব। তারপরেই মনে হয়, মুখটা খালি, দোক্তাপান খাওয়ার ভারি বদভ্যাস। পাশের পানের দোকান থেকে একটা পান হাতে কিছু জর্দা নিয়ে হাঁটা দেয়। এ-সব অবশ্য ফুলিই বলেছে সুনন্দকে।—মনে হয় বাবা তোমাকে এখন পছন্দ করছে। সেই সুবাদে সব ঝেঁটিয়ে সেদিন ফুলির বাবা পরিবারবর্গ নিয়ে দক্ষিণেশ্বরে চলে গেল। ফুলি বাড়ি পড়ে থাকল একা। সুনন্দর সেদিন আসার কথা। ফুলির মনে হয়েছিল, বাবা ভুলে গেছেন। মাও। দাদারা তো রাত দশটার আগে বাড়ি ঢোকে না। কেবল সুনন্দ ওকে জড়িয়ে আদর করার সময় বলেছে, তুমি একা। ওফ্ কি যে ভাল লাগছে না।

    সেই থেকেই ফুলির কাছ থেকে সুনন্দ এটা ওটা চেয়ে নেয়। সব চাইলেই অবশ্য পাওয়া যায় না। কুমারী মেয়ের নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটতে পারে। নিরাপত্তার বিঘ্ন না ঘটিয়ে যতটা দেওয়া যায়, ফুলি সুনন্দ কিছু চাইলে সেইটুকু দেয়। তার বেশি না। সেজন্য সুনন্দ যে ছবি উঠে যাচ্ছে তার শেষ শো দেখে। হল ফাঁকা। অনেক কিছু তখন চাওয়া যায়। সেজন্য সুনন্দ কখনও অপরিচিত রেস্তোরাঁতে ফুলিকে নিয়ে বসে। পর্দা টেনে দেয়। তারপর জড়িয়ে ধরে চুমু খায়। ফুলি তখন শরীরের সঙ্গে একেবারে আঠা হয়ে থাকতে ভালবাসে। এখন ব্যাঙ্কে শুধু একটা চাকরি। ওটা হয়ে গেলেই সে নদীর পাড় ধরে আর হেঁটে যাবে না। নদীটা সোজাসুজি অতিক্রম করবে। এবং সেখানেই সে প্রথম এক গভীর অরণ্য দেখতে পাবে। ফুল লতাপাতা, ঝড় বিদ্যুৎপ্রবাহ, শ্বাপদসংকুল এক অরণ্য। নিয়তি মানুষকে শেষ পর্যন্ত সেখানেই টেনে নিয়ে যায়। সুনন্দ দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে বলতে চাইল, তুমি মা হয়ে যাবে, আমি বাবা হয়ে যাব। দাঁত নড়বড়ে হবে—তবু ফুলি আমরা যুবকেরা যুবতীরা কি এক তাড়নায় সেখানেই শেষ পর্যন্ত গিয়ে হাজির হই। এইটুকু ভেবে সুনন্দ ঘাসের উপর সত্যি শুয়ে পড়ল। সে যেন বলতে চাইল এইভাবে নিয়তি আমাদের কবরের দিকে নিয়ে যায়।

    ফুলি মাথার কাছে বসে বলল, এই শুলে কেন?

    সুনন্দ বলল, কত নক্ষত্র না আকাশে!

    ফুলি বলল, লক্ষীটি ওঠো।

    সুনন্দ বলল, তুমি যাও।

    ফুলি তখনই বলল, দ্যাখ কারা আসছে। দু-তিনটা যন্ডামার্কা ছেলে।

    সুনন্দ দেখল ছেলেগুলি তাদের ঘিরে ফেলেছে। একজন বলল, দাদা কি করছিলেন বেশ মজা, না বেশ টিপে টুপে দেখা হচ্ছে। তারপরই ধাঁই করে মুখে ঘুষি।

    সুনন্দ বলল, আমাকে মারছেন কেন?

    —প্রেম। শালা প্রেম চুটিয়ে দিচ্ছি। এই ক্যাবা দুটোকেই ন্যাংটো করে ছেড়ে দে ত।

    —দেখুন আমরা বেড়াতে এসেছি।

    —আর জায়গা পাও নি চাঁদু। কি আছে দেখি!

    —কিচ্ছু নেই।

    একজন বলল, মার না আর একটা টুসকি। বাছাধন হড়হড় করে সব বের করে দেবে।

    ফুলি ভয়ে কাঁপছিল। গলা শুকিয়ে আসছে। চিৎকার করতে গিয়েও পারল না। পুলিশ পুলিশ। কিন্তু কোথাও কেউ নেই। গাছের ও-পাশ দিয়ে মানুষজন হেঁটে যাচ্ছে। ফুলি দৌড়ে খবর দেবে ভাবল। আর তখনই তিন নম্বর যণ্ডামার্কা ছেলেটা ওর হাত ধরে ফেলেছে। দেখি রানী। কাছে এস। কি আছে? কিছু নেই। আহারে! বলে কানের দুল খসিয়ে নিল। সুনন্দ ঘড়ি খুলে দিচ্ছে। ফুলির হাতে আর আছে কাঁচের চুড়ি।

    —পকেট দ্যাখ ক্যাবা।

    পকেট হাতড়ে দেখা হল।

    তখন সেই দস্যু সর্দারটি বলল, তোরা একে একে চুমু খা।

    তখন সুনন্দর কি হয়ে যায়। সে ক্ষেপে গিয়ে এলোপাথাড়ি লাথি ছুঁড়তে থাকে। এবং প্রায় পাগলের মতো সে লাফিয়ে পড়ল একটার ঘাড়ে তারপর জোর হিন্দি সিনেমার মতো রদ্দা চালাল। ওর মাথার মধ্যে কেউ কিছু চালিয়েছে। সে রক্তাক্ত হয়ে যাচ্ছিল। ফুলি চিৎকার করছে, মেরে ফেলল, মেরে ফেলল। সেই আর্ত চিৎকারে মানুষজন ছুটে আসছে। তারপরই দেখল সব ফাঁকা। ফুলি অপরিচিত মানুষজনের মধ্যে বোবা হয়ে গেছে। একটা কথা বলতে পারছে না। সুনন্দ পায়ের কাছে পড়ে আছে। মানুষজন দেখে ওঠার চেষ্টা করছে।

    তখন জনতা ওদের ওপরই ক্ষেপে গেল। কেন আসেন—ঠিক হয়েছে বেশ হয়েছে। সুনন্দ তখন হাত ধরে টানল ফুলির, এই এস। মানুষজন তামাশা দেখার জন্য ভিড় করতেই ফুলি বলল—তোমার রক্ত পড়ছে।

    —ঠিক হয়ে যাবে। এস।

    —কৃতকর্মের ফল। জনতা থেকে কেউ একজন বলল। যেন এরা জীবনে মেয়েমানুষ ছুঁয়েও দেখেনি।

    —বাড়ির লোকও বলি, এমন একটা ধিঙ্গি মেয়েকে ছেড়ে দেয়! তারপর ওরা মানুষের মূল্যবোধ নিয়ে কথা বলতে বলতে চলে গেল। সব ভেঙে পড়ছে। জীবনে সততা নেই। কি হল দেশটা!

    সুনন্দ রুমাল দিয়ে ক্ষত স্থানটা চাপা দিয়ে হাঁটতে লাগল।

    ফুলি বলল, আমরা এখন কোথায় যাব সুনন্দ? আর্ত অসহায় মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়ে সুনন্দ কেমন বিভ্রমে পড়ে গেল।

    .

    তখন বিশাল কাঁচের দরজা ঠেলে মতি ভিতরে ঢুকছে। সুবিশাল করিডোরের পাশে কাঁচের কাউন্টার। পাঁচ সাতটা ফোন নিয়ে ঘোষবাবু দাঁড়িয়ে আছেন। একটা তুলছেন, একটা নামাচ্ছেন। মসৃণ গোলগাল মুখ। মাছির মতো দুটুকরো গোঁফ নাকের নিচে। গলায় বো টাই। চেক কাটা টেরিকটনের স্যুট পরে ফোনের রিসিভারে ঝুঁকে আছেন। কাউন্টারে বসে মিস কাপুর গোলাপী রঙের ভেলভেটের শাড়িতে আগুন হয়ে বসে আছে। এখনও বোধহয় ঘোষবাবু ক্লায়েন্ট ধরতে পারে নি। মতিকে দেখে মিস কাপুর সামান্য মাথা নত করল। হাসল সামান্য। দেরিতে আসায়, পরে সে ক্লায়েন্ট পাবে। তার নিজেরও আজ দেরি হয়েছে। ঘোষ মতিকে দেখেই, ইশারায় কাউন্টারের ভেতরে চলে আসতে বলল।

    এখানে এলেই মতি যেন অন্য এক জগতে চলে আসে। কত সুন্দর পৃথিবী মানুষ নিজের জন্য তৈরি করে নিতে পারে এখানে না এলে বিশ্বাস করা যায় না। লাল কার্পেট পাতা করিডোর। সব অদৃশ্য লাল নীল আলো দেয়াল থেকে যেন চুইয়ে পড়ছে। সব ছিমছাম নারী পুরুষ হল্লা করতে করতে ডানদিকের সিঁড়ি ধরে উঠে যাচ্ছে। বয় বেয়ারারা সাদা উর্দি পরে ভারি ব্যস্ত। কাঁচের দরজার ওপাশে উর্দিপরা ইকবাল অনবরত সেলাম ঠুকে যাচ্ছে। তাকে দেখেও সেলাম ঠুকতে যাচ্ছিল—যেই দেখল মতি বোন, আর অমনি হেসে বলল, ক’দিন এদিকে আর মাড়ান নি বুঝি?

    কথাটার মধ্যে কেমন একটা নগ্নতা টের পেয়ে মতি প্রথম ভ্রু কুঁচকে ছিল। তারপর বুঝল, ইকবাল সে ধরনের মানুষ নয়। সে ইতর কথাবার্ত প্রায় জানেই না। মিস কাপুরের পাশে দাঁড়িয়ে মতি রিসেপসনিস্টদের মতো হাবভাব করতে থাকল। মতি এটা ওটা এগিয়ে দিচ্ছে। সিগারেটের কেস থেকে একটা সিগারেট তুলে নিল। কোনও পুরুষ একা উঠে গেলেই মিষ্টি করে হাসতে হচ্ছে। কাউন্টারে দাঁড়ালেই এটা করতে হয়। কোথায় কোনটা কাজে লেগে যাবে—এই হাসির মধ্যে শরীরের এক বিশেষ ইচ্ছের ইশারা ফুটে উঠলে হয়ত সিঁড়ি ধরে ওঠার মুখেই বুক করে ফেলতে পারে।

    মতি আজ হাল্কা লিপস্টিক ঠোঁটে দিয়ে এসেছিল। ইদানীং সে বুঝেছে খাপ খোলা পুরুষেরা খুব উগ্র সাজ পছন্দ করে না। সে জন্য সে তার স্বভাবে চরিত্রে নারী মহিমময়ী এমন একটা ভাব ফুটিয়ে রাখে। লাজুক, চোখ নামিয়ে নেওয়া, আস্তে আস্তে কথা বলা, কথা বলতে বলতে অন্যমনস্ক হয়ে যাওয়া, একটু উদাস হয়ে যাওয়া এ-সব অভিনয় রপ্ত করতে না পারলে বেলাইনের পুরুষেরা আরাম পায় না। প্রথম দিকে তার স্বভাবেই ছিল এগুলো। পরে লাইনের মেয়ে হয়ে যাবার পর, তার সে-সব হারিয়ে গিয়েছিল। ঘোষবাবু একদিন বিরক্ত হয়ে বলেছিলেন, ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কি কর! ফিরতি বার আর তোমার নাম করে না। আসলে মতি বুঝেছিল, সে পাকা বেশ্যা হতে গিয়েই ভুল করেছে। পাকা বেশ্যাদের বাবুরা ঠিক চিনে ফেলে। সেই থেকে সে এখন যেটা তার স্বভাবে ছিল, সেটা অভিনয়ে দাঁড় করিয়েছে।

    ঘোষবাবু ফোন রেখে একটা চিরকুট এগিয়ে দিলেন। চলে যাও।

    মিস কাপুর ভীষণ উত্তেজিত হয়ে উঠেছিল। পরে এসে আগে। আসলে বাঙালী বলেই এই স্বজাতি প্রীতি। কিন্তু লোকটা জানে না, এর আসল মালিক একজন পাঞ্জাবী। যদি এই প্রাদেশিকতার কথা কানে তুলতে পারে তবে নাকানি-চোবানি খেতে হবে খুব। তবু মিস কাপুর এই ঘোষবাবুকে সমীহ করে। কারণ তিনি ইচ্ছে করলে বলতে পারেন, আপনার চাহিদা কমে গেছে। বাজারে আর চলছে না। সেটা যে কত বড় অপমানের বিষয়! সে-জন্য সে খুব করুণ গলায় বলল, বাবুজী ইট ওয়াজ মাই টার্ন।

    ঘোষবাবু স্মিত হাসলেন। মাথার ওপরে কাঁচের বোর্ডে নীল অক্ষরে লেখা ওয়েল-কাম। তার নিচে ঘোষবাবুর মাছির মতো গোঁফের ফাঁকে স্মিত হাসি বড়ই কূটগন্ধ ছড়াচ্ছিল। বললেন, ক্লায়েন্ট প্রেফারস মতি। হোয়াট কেন আই ডু।

    এর পর মিস কাপুর অগত্যা চাবির রিং ঘোরাতে থাকল। মতি সিঁড়ি ধরে উঠে যাচ্ছে। প্রায় যেন একটা স্বর্গরাজ্য পার হয়ে আর একটা স্বর্গরাজ্যে সে চলে যাচ্ছে। নীল রঙের কার্পেট পাতা সিঁড়িতে পা ডুবে যাচ্ছিল। ৩০৮ নম্বর ঘর। তার এখন, কোন দিকে কোন ঘরের সিরিয়েল আরম্ভ সব মুখস্থ। একতলা, দোতলা, তিন-চার-পাঁচ তলা। দোতলায় সব লাউঞ্জ, ব্যাংকোয়েট হল পাঁচটা। সে এখন গ্রীন ভেলির পাশ দিয়ে যাচ্ছে। কাঁচের ঘরে ভেলভেটের তাকে নানান রকম ইংরাজী হিন্দি বই। দু’জন যুবক একজন যুবতীকে নিয়ে বইগুলি দেখছে। পাশে একটা রকমারী শাড়ির শো-রুম। তারপরই ম্যাডভিলা—সেখানে মিউজিক বাজছে। কাঠের সুইংডোর ঠেললেই সব নানা রকমের আবছা আলো আঁধারে শোনা যাবে মিউজিক বাজছে। আর দূরে অদূরে সব হিজিবিজি মানুষের মুখ—কেমন ভুতুড়ে ছায়া—অবিকল এক নকল নরকের ভয়ের মতো জায়গাটা। নারী পুরুষ লাল নীল গ্লাসে চুমুক দিচ্ছে—কি যেন গোপন ব্যথায় মুষড়ে যাচ্ছে—অথবা সুরা যা মানুষকে অতীব এক সরলতা এনে দেয়—একটা লোককে সে উঠে যেতে দেখল, দাঁড়িয়ে হাঁকছে এনি মোর ফ্লাওয়ার? মতি পাশের বিরাট কাঁচের ফুলদানি থেকে যেতে যেতে দুটো ফুল তুলে নিয়ে লোকটার হাতে দিতেই কেমন চকমক করে তাকাচ্ছে। নেশায় লোকটা বড়ই টলছিল। ফুল পেয়েই মুখে পুরে দিল এবং চিবুতে থাকল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআওরঙ্গজেব : ব্যক্তি ও কল্পকথা – অড্রি ট্রুসকে
    Next Article মানুষের ঘরবাড়ি – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }