Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় : সাহিত্যের সেরা গল্প

    May 15, 2026

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    May 14, 2026

    বৃশ্চিক – পিয়া সরকার

    May 14, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    উজান-যাত্রা – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প255 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    উজান-যাত্রা – ৪

    ৪) তিনি স্মৃতি ও মাসি

    কাঠের নস্যিদানিটা হাতে করে বারান্দায় চেয়ার পেতে বসে রইলেন কস্তুরীবেন। এক টুকরো অতীত বা ছুটোবেলা। সে সময়ে শরদকাকাকে শরদকাকা বলেই জানতেন। বাবার ছোট ভাই। পরে, দুজনের মধ্যে যখন কোনও সম্পর্কই আর রইল না, তখন জিজ্ঞাসাবাদ করে আস্তে আস্তে জানলেন শরদকাকা বাবার ছোট ভাই নন। বন্ধু। আদর্শবন্ধু। দু’জনেরই তখন এক মন, এক প্রাণ, দেশ স্বাধীন হতে যাচ্ছে, দেশকে জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ না হোক উত্তম আসন দিতে হবে। হরিপুরা কংগ্রেসে সভাপতি সুভাষচন্দ্রকে দেখে, তাঁর ভাষণ শুনে তখন বাবা বাংলায় আসবেন বলে ঠিক করেন। বিয়াল্লিশের আন্দোলনে গ্রেফতার হয়ে প্রেসিডেন্সি জেলে থাকাকালীন দু’জনের ঠিকঠাক আলাপ। যখন জেল ছেড়ে বেরোলেন কোথায় সুভাষ? তখন সুভাষ—পন্থার সঙ্গে গাঁধী—পন্থার ঘোর তর্ক। তাঁরা বলতেন গাঁধীর অনশন এক ধরনের ইমোশন্যাল ব্ল্যাকমেল, গুরুতর কোনও বিপদ ঠেকাতে, প্রতিবাদ হিসেবে ভাল। কিন্তু উনি সে অস্ত্র যথেচ্ছ ব্যবহার করেন। যুদ্ধের সময়ে ইংরেজ শাসকের সঙ্গে যে চুক্তি তিনি করেছিলেন তার চেয়ে মূর্খামি আর হয় না। আর শেষ পর্যন্ত তো দ্যাখাই গেল তিনি আসল সময়েই অস্ত্রটা ব্যবহার করলেন না। জিন্নাকে শত্রুকে পরিণত করেছিলেন নেহরু—গাঁধীই। তারই অবশ্যম্ভাবী ফল হিসেবে যখন পার্টিশন হল, গাঁধী তো কোনও অনশনে গেলেন না আর! অথচ কথা দিয়েছিলেন নাকি তাঁর মৃতদেহের ওপর দিয়ে পার্টিশন হবে। সুভাষচন্দ্র ছিলেন যাকে বলে কমপ্লিট লিডার। পূর্ণ নেতা, পূর্ণ মানুষ। তাঁর পরিকল্পনা ছিল স্বাধীনতার পর ঠিক কীভাবে দেশের মানুষ ও দেশকে গড়তে হবে। তাঁর আশা ছিল যে—মুহূর্তে তিনি আজাদ হিন্দ ফৌজ নিয়ে ভারতের মাটিতে পা দেবেন, পুরো ভারত তাঁর সঙ্গে যোগ দেবে।

    জেল থেকে বেরোনোর পর দু’জনে ঠিক করেন, কিছু করতে গেলে অর্থের প্রয়োজন। সুতরাং দু’জনে মিলে নানারকম ব্যাবসা আরম্ভ করলেন। বাবার পৈতৃক জুয়েলারির ব্যাবসা ছিল। সেই ব্যাবসাই ঠাকুরদার সাহায্যে কলকাতায় শুরু করলেন তাঁরা। তারপর বিজনেস এমন একটা জায়গায় চলে গেল যে দুজনেরই মনের তিন—চতুর্থাংশ চলে গেল সেদিকেই। বাড়িতে যেসব সভা বসত তাতে প্রায়ই গরহাজির থাকতে হত। অজিতবাবুই ছিলেন বোধহয় সবচেয়ে নিবেদিতপ্রাণ। কস্তুরীর কখনওই মনে হয়নি অজিতবাবুর নিজস্ব সংসার, ছেলেমেয়ে থাকতে পারে। ভাবতেন, শিশুমনে যতদূর ভাবা সম্ভব, যে, অজিতবাবু বোধহয় অকৃতদার। সন্ন্যাসী ধরনের মানুষ। যে—কোনওদিন উনি হিমালয়ে চলে যেতে পারেন, একমাত্র দেশের জন্যই পারছেন না। সন্ন্যাসী ধারণাটা মজবুত করেছিল দাড়ি। ঘাড় অবধি কাঁচাপাকা চুল, গেরুয়া খাদির পাঞ্জাবি। রবীন্দ্রনাথ মানেই যেমন দাড়ি। ওইরকম দাড়ি গোঁফওলা লোক হলেই বলা হয় রবীন্দ্রনাথের মতো। শুধু দাড়ি দিয়ে রবীন্দ্রনাথকে চেনা—হাস্যকর!

    অজিতবাবু তা হলে মারা গেছেন! অতি বৃদ্ধ বয়সে? একটা পাতা শূন্য হয়ে গেল। পূর্ণ করা গেল না। কত কী জানবার ছিল, বোঝবার ছিল! —অজিতবাবু আপনারা কী চেয়েছিলেন? কীরকম দেশ ও দেশবাসীর কল্পনা ছিল আপনাদের? তাকে সাকার করতে কোন পথে চেষ্টা করেছিলেন আপনারা? আচ্ছা, দেশের কাজের সঙ্গে কি বিবাহ করা যায় না? বিবাহিতকে অবিবাহিতের জীবন কাটাতে হয়? বা ভান করতে হয়? আপনাদের এক আইকন গাঁধীজি কিন্তু এন্ডস অ্যান্ড মিনস—এর শুদ্ধতার ওপর জোর দিয়েছিলেন। অজিতবাবু, আমার বাবা কিন্তু জানতেন না আপনি বিবাহিত। কেন এই ছলনা! লজ্জা! আপনার নাতির বয়স যদি আজ ৩৪/৩৫ হয় তাহলে আপনার ছেলের কম করে হলেও ষাট। তাহলে সে সময়ে আপনি বিবাহিত। পিতা। অথচ পুরোটাই চেপে গিয়েছিলেন, কেন? অজিতবাবু আপনার জীবন আপনাদের দেশপ্রেমের চরিত্র সম্পর্কে একটা নতুন দিক উদ্ঘাটন করছে আমার কাছে। প্রাচীন ভারতের সবরকম ধর্মদর্শনে ব্রহ্মচর্য—সাধনাকে সবার ওপর স্থান দেওয়া হত। তাই কি আপনাদের এরকম সংস্কার হয়েছিল? এখনও পুরো জিনিসটার তাৎপর্য আমি বুঝতে পারছি না। মিথ্যে দিয়ে শুরু করলে কি কিছু সত্য দিয়ে শেষ হয়?

     

     

    কীরকম হতভম্ব মতো হয়ে ডিব্বাটা হাতে বসে রইলেন কস্তুরীবেন। ছোট্ট একটু মিথ্যা আবিষ্কার দিয়ে যে যাত্রা শুরু হল তাকে কি আরও দীর্ঘ করা উচিত! ভাবতেই লাগলেন। ভাবতেই লাগলেন। তিনি সত্য জানতে এসেছিলেন, তথ্যও। একজন ছোট্ট মেয়ে তার নিজস্ব ছেলেমানুষি চোখ দিয়ে যা বুঝেছিল, তাকে প্রাপ্তবয়স্কর চোখ দিয়ে যাচাই করে নেওয়া চাই। কত মোহভঙ্গ হবে, হতেই পারে, সেটুকুর জন্য তাঁকে প্রস্তুত থাকতেই হবে। তিনি তো স্বপ্নে বাঁচেন না তাঁর বাবা—মাদের জেনারেশনের মতো। কঠিন বাস্তব নিয়ে তাঁর কারবার। চতুর্দিকে দেখেন ঈশ্বরের উপেক্ষিত প্রাণ সব—অন্ধ, মূক, বধির—তাদের হেলেন কেলার হবার প্রতিভা নেই, পরিবেশ নেই, জড়বুদ্ধি, স্প্যাস্টিক, অটিস্ট—এদের পুরো জীবনটা দুর্বহ বোঝার মতো নিজেদের কাছে, পরিবার—পরিজনের কাছে, আছে অত্যাচারিত স্ত্রী, মেয়ে, পথের শিশু—এদের সঙ্গে দেশ, তার নেতা, তার রাজনীতি, ধর্ম, উন্নয়ন—এসবের কোনও সম্পর্ক নেই। অর্থহীন জীবন, তবু বেঁচে থাকতে হয়। এক অক্ষম ঈশ্বর এদের সৃষ্টি করেছেন, তার দায় বইতে হয় তাঁদের মতো মানুষদের, যাঁরা নিরপেক্ষ নিরাবেগ কিন্তু সস্নেহ, মমতা দিয়ে দেখতে পারেন সব। উদাসীন ঈশ্বরের জায়গায় মমতাময় মানুষ, যার হাতে কোনও দৈব ক্ষমতা নেই।

     

     

    নিবেদিতা মাসিই ছিলেন বোধহয় ওঁদের মতো সবচেয়ে ছোট। কেননা তিনি মাকে দিদি বলতেন। মা—ও তো নিবেদিতাই বলতেন।

    উঠে গিয়ে পুরনো ছাতাপড়া নোটবইটা নিয়ে এলেন তিনি। হাওড়া—৪৪৬। এ কবেকার ফোন নম্বর? এ বোধহয় অপারেটরের যুগের। তারপর গঙ্গা সবরমতী দিয়ে কত জল বয়ে গেছে। স্যাম পিত্রোদা টেলি কমিউনিকেশনকে ঢেলে সাজিয়ে দিয়ে গেছেন। ফোন করে, চেক ইয়োর নাম্বার শুনলেন, ওয়ান নাইন ফাইভ ওয়ান করে—’হমে খেদ হ্যায়, ইয়ে নাম্বার মজুত নহি’ শুনলেন। কিছু হবার নয়। ঠিকানা পাঁচ নম্বর ব্যাপটিস্ট বেরিয়্যাল গ্রাউন্ড রোড, শালকিয়া, হাওড়া। এক কাজ করলে হয়। একটা গাড়ি ভাড়া নিলে হয়, সেক্ষেত্রে একটু নিশ্চিন্ত হয়ে চলাফেরা করতে পারবেন। রামলাখনকে ডাকলেন।

    —জরুর মায়ি, উও রেন্টাল তো বগলমেই হ্যায়, ম্যয় আভি জাতা হুঁ।

    রামলাখনই ঠিক করে দিল।

     

     

    দই চিঁড়ে খেয়ে বেরোচ্ছেন। জগদ্দল অ্যামবাসাডরটার ভেতরে সবে গুছিয়ে বসেছেন। মোবাইলটা বাজল। —হ্যালো দিদি, আপনি কেমন আছেন? সব ঠিকঠাক চলছে তো?

    কাজল।

    —হ্যাঁ, ঠিকই আছে।

    —’ই’ টা কেন? কোনও দরকার হলেই আমাকে জানাবেন কথা দিয়েছিলেন!

    —কুনও ‘ই’ নাই। কোথার কোথা। আমি একটু দোরকারে বেরোচ্ছি।

    —কোথায়?

    —হাওড়া।

     

     

    —হাওড়া? নতুন ব্রিজ দিয়ে যাচ্ছেন তো?

    —নয়া ব্রিজ? কওন সা নয়া ব্রিজ?

    —নতুন ব্রিজ আছে দিদি, বিদ্যাসাগর সেতু, ড্রাইভারকে বলুন বিদ্যাসাগর সেতু দিয়ে যেতে। জিটি রোডে পড়বে। কোনদিকে যাবেন?

    —সালকিয়া।

    —সালা…ও শালকিয়া। তার মানে আপনাকে হাওড়া ময়দানের পরও সোজা চলে যেতে হবে। রাস্তার নাম বলুন!

    বললেন।

    —এঃ, চিনি বলে তো মনে হচ্ছে না। তবে পিলখানা বলে একটা জায়গা আছে, ওটাই মোটামুটি শালকিয়ার শুরু। ওইখান থেকে জিজ্ঞেস করতে করতে যেতে হবে। একটা রেন্টাল গাড়ি নিলে পারতেন।

     

     

    —নিয়েচি।

    —বেশ, আপনার কোনও অসুবিধে হলেই আমাকে ফোন করবেন। ঠিক হাজির হয়ে যাব।

    —টিক আছে। ওতো ভেবো না।

    পাঁচ মিনিটও যায়নি আবার মোবাইলটা বাজল। নাহ, এই তথাকথিত প্রগতিশীল কলকাতিয়ারা তাঁকে লেডিজ সিটে না বসিয়ে ছাড়বে না। মেয়ে গলা। মৈত্রী।

    দিদি, আমি স্নেহলতা ঘোষের ঠিকানা বার করতে পেরেছি। —খুব উত্তেজিত গলা মৈত্রীর।

    —পেরেচো? তাঁর গলাও কম উত্তেজিত নয়। স্নেহলতা ঘোষের ফোন নম্বরও তিনি খোঁজ করেছিলেন। কোনও হদিশ পাননি। ঠিকানাটা ধেবড়ে গেছে, বোঝা যাচ্ছে না। জিজ্ঞেস করলেন, কী করে? কুথায়?

    উনি তো ফ্রিডম—ফাইটার। বাবার এক বন্ধু সেন্ট্রাল গভমেন্ট সার্ভিসে আছেন। উনি বললেন পেনশনার হলে আমি বার করতে পারব। পেয়ে গেছেন। আমি আপনাকে ওঁর কাছে নিয়ে যাব। আমারও খুব ইচ্ছে ওঁকে দেখি। আমি কখনও ফ্রিডম—ফাইটার দেখিনি দিদি।

     

     

    টিক আছে।

    মোবাইল বন্ধ করে কিছুক্ষণ ভুরু কুঁচকে রইলেন কস্তুরী। কখনও ফ্রিডম—ফাইটার দেখিনি—কীভাবে বলল মৈত্রী। ফ্রিডম—ফাইটার যেন এক আজব চিজ। ম্যমি। কলকাতা মিউজিয়ামে এসেছে। দেখবার জন্যে লাইন দিতে হবে। না না, তিনি বায়াসড হয়ে যাচ্ছেন। এভাবে ভাবা ঠিক নয়। ওর গলায় উত্তেজনার সঙ্গে একটা সম্ভ্রমও ছিল। কিন্তু কেন যেন একটা দুর্নিবার তিক্ততা তাঁর মনকে প্রায় আচ্ছন্ন করে। তখন বিদ্যাসাগর সেতুর মুখে এসে পড়েছে গাড়ি। অ্যাপ্রোচটা ধরে শাঁ শাঁ করে যাচ্ছে। পথ বদলাচ্ছে, দৃশ্য বদলাচ্ছে, তিনি লক্ষ করলেন না। এদের সঙ্গে তাঁদের জেনারেশন গ্যাপটা অদ্ভুত চরিত্রের। বড়র ভাবনার জগৎ আর ছোটর ভাবনার গ্যাপ নয়। আরও বেশি কিছু। তাঁরা ইতিহাসে বেঁচেছেন। তাঁদের বাবা—মা, দাদা—দিদিরা ইতিহাস তৈরি করেছিলেন—সেই চেতনা চুঁইয়ে চুঁইয়ে প্রবেশ করেছিল তাঁদের মগজে। তাঁদের কখনও কল্পনাতেও ছিল না, রাজনীতিকে শুধু একটা বৃত্তি হিসেবে কেউ নিতে পারে। রাজনীতি মানেই দেশ, দেশের জন্য ভাবনা। এরা বোধহয় পোস্ট—ইতিহাস। স্বদেশ—সচেতনতাহীন। মাত্র অর্ধ শতাব্দীর সামান্য বেশি স্বাধীনতা পেয়েছে। এখনও কলোনিয়্যাল প্রভাব থেকে মুক্ত হতে পারেনি, এ বোধই নেই। সবচেয়ে বড় কথা—দায়িত্ববোধ, কর্তব্যবোধ নেই, ভালবাসা নেই। এরা… এরা বাইরের লোক, অন্য কোনও জগতের ছেলেমেয়ে। রাস্তাঘাটে এদের দেখে তিনি চিনতে পারেন না। যেমন মুম্বই, তেমন দিল্লি, এখন এই কলকাতা! আগের চেয়ে সাধারণভাবে সপ্রতিভ, কিন্তু সেই সঙ্গে সঙ্গে মূল্যবোধহীন। নৈতিকতার ধার ধারে না। হয়তো তাদের আগের প্রজন্মই শেখাচ্ছে এসব। কে বলতে পারে! যদি তাঁর স্বামী একদম অকালে চলে না যেতেন, যদি ছেলেমেয়ে থাকত, তা হলে হয়তো বুঝতে পারতেন কোন পথ ধরে তারা এই অচেনা গুহায়, গোলকধাঁধায় এসে ঢুকেছে। কিন্তু আপাতত কোনও সূত্রই পাচ্ছেন না।

     

     

    তবে, কাজল ছেলেটিকে তাঁর ভাল লাগছে। আধুনিক, সপ্রতিভ অথচ খুব সহজ, কোনও কৃত্রিমতা নেই। এক এক সময়ে মনে হয় ওর সঙ্গে তিনি সমবয়সি বন্ধুর মতো ব্যবহার করে ফেলবেন। কাজলের মতো ছেলেরা আবহমান। স্বাধীনতা—পূর্ব সময় থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত তার প্রাসঙ্গিকতা বদলায়নি। ওর বাবা—মাকে বাহবা দেবেন, না বাহবাটা ওকেই দেবেন—বুঝতে পারলেন না। নিজের ভাবনার ধারায় নিজেই অবাক হয়ে গেলেন কস্তুরী। তিনি সম্পূর্ণ কর্মজগতের লোক। পরিকল্পনা করেন, মগজ এখন এমনভাবে কাজ করে যে অনেক সময়েই পরিকল্পনাটা আপনাআপনি হয়ে যায়। যেমন হয়েছিল এবারের দাঙ্গার সময়ে। হয় ছোটখাটো দাঙ্গা, কিন্তু সেটা সাধারণত দরিদ্র সুন্নিদের পাড়ায়, এবার শিয়া, বোহরা, ইসমায়েলি কেউ বাদ যায়নি। বড়—ছোট ব্যাবসাদারের বাড়িঘর লুঠ হয়ে গেছে। দোকান থেকে ইলেকট্রিক্যাল গ্যাজেটস, কসমেটিকস নিয়ে হরির লুঠ হয়েছে। বলির পাঁঠার মতো কাঁপতে কাঁপতে যখন তাড়া—খাওয়া এক দঙ্গল মানুষ তাঁর বাড়িতে ঢুকে পড়ে, সেই ভুলে যাওয়া পঞ্চাশ রক্তের মধ্যে, পেটের মধ্যে গুলিয়ে ডঠেছিল। তাঁর বাবা, কাকা, মা, মামিদের মতো নির্ভীকচিত্তে তিনি তাঁর গ্রিল, ডবল কোল্যাপসিবল সব বন্ধ করেন। ওদের তিনতলায় চলে যেতে বলে হাতে নিয়েছিলেন রিভলভার, কোল্যাপসিবলের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে দিয়েছিলেন জাতীয় পতাকা। কার সাহস আছে এর ওপর পা দিয়ে দাঁড়া, দেখি কত বড় দেশদ্রোহী তোরা! মরবার জন্যে প্রস্তুত থাক।

     

     

    গালাগালের হররা। অকথা। একটা গুলি বিঁধে গিয়েছিল তাঁর বাঁ হাতের কবজিতে। গ্রেনেড ফাটল, অন্ধকার, ধোঁয়া, তিনি পেছোননি। তাঁর বাড়ির লোকেরা, দোতলার বারান্দা থেকে ব্ল্যাঙ্ক ফায়ার করেছিল। ফুটন্ত গরম জল ঢেলে দিয়েছিল। সাত—আটদিন এইভাবে কাটে। তাঁর বাড়ি গিজগিজ করছে, মেয়ে পুরুষ শিশু। আরও আসছে। আরও। আকবরনগর, কাপুরনগর, হিম্মতনগর। পক্ষকাল কেউ ঘরে ফিরতে পারেনি। ঘরে খিচুড়ি হচ্ছে, চাটনি, আর অফুরন্ত দুধ। তারপর চারদিকে শ্মশানের স্তব্ধতা। তাঁর বাড়িতে জন্ম হচ্ছে। জন্ম হচ্ছে। মানবশিশু তিনটি। কিন্তু অনেক বরাভয়, সাহস, আস্থাও কি জন্মায়নি? নিশ্চয় জন্মেছে। তিনি প্রাণপণ করেছেন। তাতেও যদি আস্থার গর্ভপাত হয়ে যায়, তিনি কেন বাঁচবেন আর?

    টোল দেবেন দিদি—দশ টাকা—ড্রাইভার বলল।

    এইবার চোখ চেয়ে দেখলেন কস্তুরী, দু’দিকে ত্রিকোণ তৈরি করে চমৎকার স্টিলের দড়ির ওপর ঝুলছে বিদ্যাসাগর ব্রিজ। দুপাশ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে ঘোলা জলের গঙ্গা। তাতে নৌকো। জেটির কাছ থেকে তেরছা গতিতে যাতায়াত করছে স্টিমার। গাছ, বড় বড় উঁচু উঁচু প্রাসাদ। তিনি মনে মনে বললেন, বেশ দ্যাখাচ্ছে, হঠাৎ দেখলে ভারত বলে মনে হয় না। যেন কোনও সমৃদ্ধতর দেশ, কিন্তু তোমরা মাটির সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ কোরো না, গজদন্ত—মিনারে থেকো না। এ তোমাদের বিবেকের প্রশ্ন শুধু নয়, নিরাপত্তারও প্রশ্ন। খরা, দুর্ভিক্ষ, বন্যা, অনাহার—অর্ধাহার মানুষ সয়, কিন্তু চিরদিন সয় না। লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি অর্ধনগ্ন মানুষ যদি গর্জন করতে করতে ঢুকে পড়ে তোমাদের ঘরে ঘরে, কতজনকে মারবে তোমার ওয়াচম্যান, তোমার রিভলভার! তোমার পুলিশ আর তোমার কানেকশনস! তবু, কস্তুরী মেহতা তোমার চিন্তা, বেদনা দু—এক নিমেষের জন্য সরিয়ে রাখো। জীবনে, দৃশ্যে কিছু সুন্দরও আছে, অবকাশও আছে। ক্ষণিক বিরতির, বিস্মৃতির সুযোগ আছে। দু’হাত পেতে নাও।

     

     

    সংকীর্ণ জি.টি. রোডের মধ্যে ইটকাঠ, বহুতল, বাজার, দোকানের সারি, ভিখারি এবং ইত্যাদি ইত্যাদি দেখতে দেখতে মনটা আবার খিঁচড়ে গেল। তা হলে কি পূর্বাঞ্চলের রাস্তাঘাট এত বছর পরেও সেই একই কুশ্রীতার ভরে আছে! একই রকম দুঃখের আঁচড় কাটা, তার চেয়েও বেশি, শৃঙ্খলাহীন, কদর্য। তিনি শুধু প্রসাধন দেখে সমালোচনা করছিলেন বা মুগ্ধ হচ্ছিলেন। তাঁরই যদি ভুল হয় তাহলে আর সবার হবে না কেন? হয়তো বা এই দুঃখের আঁচড়ও সত্য। প্রসাধনও সত্য। দুই মেরুকে কি কোনওভাবেই কোনও মধ্যপথে মেলানো যায় না! রাজধানী এক্সপ্রেস নিউ দিল্লি স্টেশনের দিকে এগোচ্ছে। কামরার ভেতর থেকে দেখা যায় অকথ্য আবর্জনার স্তূপ, অসহ্য দুর্গন্ধ, চতুর্দিকে ছেঁড়া ন্যাকড়া—কানি ঝুলছে, মানুষেরই পরিধেয়। আর সেইসব শহরতলিতে যেসব বাড়ি দ্যাখা যায়, তাদের কুশ্রীতারও কোনও তুলনা নেই। দেশের রাজধানীই যদি এই হয়, তা হলে অন্যত্র আর ভাল কী হবে!

    এইরকম ক্রোধ—শান্তি, আশা—হতাশার মধ্যে দুলছিল মেজাজ, ড্রাইভার বলল, এই আমরা পিলখানা দিয়ে চলেছি দিদি।

    জিজ্ঞেস করো, জিজ্ঞেস করো, ব্যাপটিস্ট বেরিয়্যাল গ্রাউন্ড রোড কোথায়।

     

     

    কেউ বলতে পারল না।

    জেলেপাড়ার কথা বলছেন?

    জেলেপাড়া, মেছোপাড়া, তাঁতিপাড়া কিছুই তিনি জানেন না। তাঁর ড্রাইভারও না। একবার মনে হল ট্যাক্সি করলেই বোধহয় ভাল হত। ওরা রাস্তাঘাট অনেক ভাল জানে।

    অবশেষে একজন বৃদ্ধ লোক বললেন, ও রাস্তাটার নাম এখন শৈলেন্দ্র বসু রোড মা, অনেকটা চলে এসেছেন। একটু পিছিয়ে ডান দিকে বেঁকে যান বেরিয়্যাল গ্রাউন্ডটা দেখতে পারেন। পাঁচ নম্বর? ও তো নিবেদিতা মুখার্জির বাড়ি। নামকরা স্বাধীনতা সংগ্রামী।

    ওঁকে, ওঁকেই তো খুঁজছি—উত্তেজনায় কস্তুরীর চোখ ছলছল করতে লাগল। অবশেষে…।

    ছোট একটা দোতলা বাড়ি। বেশ খানিকটা জায়গা নিয়ে বাগান। তার একদিকে প্রচুর গার্ডেন চেয়ার পরপর ডাঁই করা, কিছু টেবিলের লম্বা লম্বা কাঠ। এই রে! কোনও বিয়েবাড়ি—টাড়িতে এসে পড়লেন না কি?

     

     

    দরজা খুলল একটি ফ্রক—পরা মেয়ে, তাঁকে দেখেই বলল—মেনু কার্ড আনছি। একটু দাঁড়ান। ভেজ, নন—ভেজের রেট সব লেখা আছে।

    তিনি বললেন—এটা কি নিবেদিতা মুখার্জির বাড়ি?

    এবার ফ্রকের পেছনে একটি শাড়ি দেখা গেল, মুখে রুক্ষতা।

    —কাকে চাইছেন?

    —নিবেদিতা মুখার্জি—

    —আমার ঠাকুমা—মেয়েটি বলল।

    —তুই চুপ কর, বউটি বলল। কী দরকার আপনার? জানতে পারি? কী নাম?

    —কস্তুরী মেহতা, আমেদাবাদে থাকি। এখানে এসেছিলাম। ছোটবেলায় চিনতাম ওঁদের। দেখা করতে এসেছি। —বলতে বলতেই কস্তুরী বুঝতে পারছিলেন একটু বেশি কৈফিয়ত দেওয়া হয়ে যাচ্ছে। এমনই রুক্ষতা বউটির যে তাঁর মতো কিছুই পরোয়া—না—করা মানুষের মুখ থেকেও জবাবদিহি বেরিয়ে এসেছে।

    আবার প্রশ্ন এল—উনি কি আপনাকে চিঠি দিয়ে ডেকে পাঠিয়েছেন?

    —কেন বলুত তো? —এবার একটু চড়া হলেন কস্তুরী—আপনার কিছু অসুবিধে আছে? আমার ঠিকানাই ওঁর জানা নাই। চিঠি কী?

    —না, তা নয়। বয়স হয়েছে তো, একটু সাবধান হতে হয়—জোঁকের মুখে নুন পড়েছে।

    —আমার কোনও ইনফেকশাস ডিজিজ নাই—বিরক্ত সুরে বললেন তিনি।

    —না, না, সে কী—আসুন…।

    দোতলার উত্তর—পশ্চিমের একটা ছোট ঘরে পাত্তা পাওয়া গেল নিবেদিতা মাসির। রাস্তায় দেখলে চিনতে পারতেন না। হায় নিবেদিতা মাসি, আগুনের মেয়ে, আগুনের বউ, কোথায় তোমার সে উজ্জ্বল উচ্ছ্বাস! চুল পিঠের ওপর ছড়িয়ে আছে। বেশ শীর্ণ চেহারা, সাদা সবুজ পাড় একটা মিলের শাড়ি পরা। একটা কাঠের চেয়ারে বসে টেবিলের ওপর ঝুঁকে কাজ করছিলেন।

    বউটি দাঁড়িয়ে রইল। কস্তুরী নিজের নাম পরিচয় বললেন। নিবেদিতা ভুরু কুঁচকে কিছুক্ষণ চেয়ে রইলেন। চিনতে পারছেন না। কস্তুরী মেহতা? কিকি? কে? —বউটির দিকে তাকিয়ে বললেন—আবার কোনও নতুন চালাকি ধরেছ নাকি? মহিলা এনে আমাকে মিসগাইড করবার চেষ্টা করছ? —গলা বেশ কড়া।

    দেখছেন তো কী রকম মাথা খারাপ…ওই জন্যেই…

    মাথা খারাপ? আমার না তোমাদের? ওই ফুলচাঁদ একেবারে জোচ্চোর। ওর সঙ্গী—সাথী লাড্ডু, খোকন, বাচ্চু, সুবীর সব্বাই। ওরা পার্টির গুন্ডা তোমরা জানো না? নিজেদের পায়ে নিজেরাই কুড়ুল মারছ?

    আপনি বকুন, আমি নীচে যাচ্ছি, কাজ আছে। বউটি পড়পড়িয়ে পালিয়ে গেল। তার গতিপথের দিকে বিরক্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন উনি। উঠলেন, বাইরে গেলেন, সিঁড়ি কয়েক পা নামলেন, হাঁটুতে ভর দিয়ে আস্তে আস্তে উঠলেন। তারপর ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বললেন—যা আড়ি—পাতা স্বভাব! কিকি আজ আমার সঙ্গে খেয়ে যাবে। বুঝলে?

    অবাক হয়ে মুখ তুলে চাইলেন কস্তুরী—আপনি আমায়…

    নরেন্দ্র ভাইয়ের মেয়ে—চিনব না! কী যে বলো? সমস্ত মুখটা হাসিতে ভরে গেল। —কেমন আছ? তোমার কাজকর্মের খবর কিছু—কিছু রাখি। অনেক ধন্যবাদ কিকি, মাসির কাছে আসার জন্যে।

    —এরকম কেন? এঁরা! এসব কী?

    —হবে না! ফ্রিডম—ফাইটার্স পেনশন পাই। তা দিয়ে নিজের খরচ পুরোপুরি চালাই। কেটারিং বিজনেস করে, তার ক্যাপিট্যালও অর্ধেক আমি দিয়েছি। এরা সব আমার মাসতুতো ভাইয়ের সংসার, আশ্রয় দিয়েছি। এরকম করবে না! কৃতঘ্নতাই মানবজাতির মূল চরিত্র কিকি, অকৃতজ্ঞতা নয়…একেবারে কৃতঘ্নতা। যে উপকার করেছে করো তার সর্বনাশ! কষে করো। … আমার তো নিজের সংসার নেই…নিশ্চয় জানো…

    —আপনি বললেন তাই জানলাম…নইলে…

    —তোমার মনে আছে কি মেসোমশাই কমিউনিস্ট পার্টিতে ছিলেন! পুলিশের গুলিতে মারা যান। ফিফটিজ—এর গোড়াতেই। তখন খুব ধরপাকড় চলেছে। দু’জনেই নিজেদের মতো করে দেশসেবা করেছি, ছেলেমেয়ে হবার আর সুযোগ আসেনি।—চুপ করে রইলেন নিবেদিতা মাসি—এদের ডেকে আশ্রয় দিলাম, প্রোমোটারের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে বাড়িটি হাতাতে চাইছে। তবে তোমাকে নিশ্চিন্ত করার জন্য জানিয়ে রাখি, আমি বাড়িটি উইল করে ভারত সেবাশ্রম সংঘকে দান করেছি। উইল ওঁদের কাছে। দ্যাখো কিকি, সেবা ছাড়া তো আমাদের আর কিছুই করবার নেই। আমাদের নেতারা তো একটা দুর্ভিক্ষ—খরা—বন্যাপীড়িত দেশ ছাড়া কিচ্ছু দিয়ে যেতে পারেননি। পেটে খেতে পারে, আশ্রয় প্রতি বছর ভেসে যাবে না, তবে তো তাকে বলতে পারি—শেখো, পড়ো, পৃথিবীর সঙ্গে নিজেকে যোগ করো। তাই আমার দিক থেকে, সেবাতেই আমি সবচেয়ে কৃত্য কাজ দেখি। আর্তত্রাণ। একটা বন্যা হল, চতুর্দিক থেকে কোটি কোটি টাকা এল, কেউ জানে না, সেসব কোথায় গেল! তার চাইতে যারা নিঃসংশয়ে কাজ করে, তাদের কাছেই আমার সামান্য টাকা যাক—থানায় ডায়েরি করে রেখেছি। এরা আমার ওপর মানসিক অত্যাচার করছে, মেরে ফেলতে পারে।

    —একটু শিউরে উঠে কস্তুরী বললেন, সত্যিই কি সে ভয় আছে?

    আছে। তবে কিকি, তোমার মাসি মরতে ভয় পায় না। দুঃখ কী জানো? দেশের জন্য প্রাণ দিয়ে যেতে পারতাম তো দুঃখ ছিল না। যাদের স্বাধীন করেছি, তারা ষড়যন্ত্র করে আমাদের নিঃস্ব করতে চায়, মারতে চায়—এটাই অসহ্য লাগে। কী পরিহাস বিধাতার! ভাবো! আমরা কিছু নিইনি, যথাসম্ভব সাধারণ খেয়েছি, পরেছি। জেল খেটেছি, মিছিল করেছি, দিনে—রাতে কোনও অবসর ছিল না। আর এরা? আমাদের ত্যাগের ওপর সংগ্রামের ওপর ডিজনেস্ট ভোগের প্রাসাদ তুলতে চায়। এই আয়রনি সহ্য করতে পারছি না। আহত বাঘিনীর মতো ভয়ানক হয়ে উঠছি ক্রমশ। গড নোজ, হয়তো একদিন আমি এদের ফাঁসাব, সবাইকে…

    —মাসি যা করবার তো করে রেখেছেন। আর কেন এইসোব…

    —তুমি জানো না কিকি, আমি এমনভাবে আত্মহত্যার কৌশল বানাচ্ছি, যাতে এই ভাইপো, তার বউ, ওই প্রোমোটার, ওদের সবগুলো ফেঁসে যাবে।

    —মাসি, এসব করবেন না, ভাববেন না প্লিজ।

    কস্তুরী এগিয়ে এসে তাঁর শীর্ণ পিঠটাতে হাত রাখলেন, এবং নিবেদিতা সেই হাতটা তাঁর সামনে বুকের কাছে নিয়ে কাঁদতে লাগলেন। এবং এই সময়ে এই দৃশ্যে বউটি আবার এসে দাঁড়াল।

    কস্তুরী মাসির মুখটা হাতের ওপর নরম করে চেপে রেখে বললেন, শেষপর্যন্ত উনি আমাকে চিনতে পেরেছেন। আপনি নিশ্চিন্ত হয়ে যেতে পারেন। যদি হাতে সময় থাকে তো বসুন না। ওনেক ওনেক সত্যি গল্প শুনাব। সেই সোময়কার।

    —কোন সময়কার?

    —সেই যোখন দেশ সোবে স্বাধীন হয়েছে, এই এঁরা কোতভাবে লড়েছেন…স্যাক্রিফাইস করেছেন।

    মুখ বেঁকিয়ে বউটি বলল—এ বাড়িতে এসে ইস্তক তো শুনছি।

    নিবেদিতা মুখ তুললেন, রাগে ও চোখের জলে মাখামাখি মুখ। বললেন, শুনেছ তো! কিন্তু বুঝেছ কি? মুখখু! তো যাও, সেইসব বোরিং গল্পই আমরা মাসি—বোনঝিতে করব আজ। ভাতে ভাত চাপাচ্ছি, যাও, রান্নার সময়ে অশুচিতা আমি সইতে পারি না।

    মুখ কালো করে বউটি চলে গেল। কোনও কথা না বলে চাল ধুতে লাগলেন নিবেদিতা।

    কিছুক্ষণ সব চুপ। তারপর শান্ত স্নেহমাখা গলায় বললেন, ভাতে ভাত খাবে তো কিকি?

    —হ্যাঁ, খুব ভালবাসি। একটু দই আনব মাসি!

    —ও তোমরা আবার দই ছাড়া খেতে পারো না। নিয়ে এসো।

    কস্তুরীর মনে হল মাসির মেজাজ এখনও ঠিক হয়নি। তাঁর নিরাড়ম্বর জীবনযাত্রার সরলতা বুঝি একটু দইয়ের আঘাতে ভেঙে যাবে। তিনি বললেন, আমার কোনও ওসুবিদা নাই মাসি। কিন্তু আপনাকে আমার একটু খাওয়াতে ইচ্ছে করছে। কিচুমিচু, একটু সোন্দেশ, একটু দই। কোতদিন পোরে দেখা।

    —আনো, তবে ভদ্রতা করে আবার পুরো ফ্যামিলির জন্য এনো না।

    —কেন মাসি? ওঁরা কুশি হোবেন।

    —ওরা খুশি হলে আমার কিছু সুবিধে হবে না কিকি। ওরা যেমন তেমনই থাকবে। মাঝ থেকে তোমার ভদ্রতা অপাত্রে নষ্ট। অপাত্রে নষ্টটা বুঝলে তো?

    —বুঝেচি—আসলে কস্তুরী নষ্টটা বুঝেছিলেন। অপাত্রেটা আন্দাজে বুঝে নিয়েছিলেন। মোট কথা মাসি চান না তাঁর ভাইপো—ভাইপো বউয়ের সঙ্গে তিনি কোনওরকম ভদ্রতা করুন। আর তাঁর চাওয়ার ওপর তো কথাই নেই! কস্তুরীও সে রকম আপ্যায়নকেন্দ্রিক সামাজিকতার ধার ধারেন না। ট্যাক্সি—ড্রাইভারকে ভাল লাগলে রসগোল্লা কিনে দিতে পারেন। কিন্তু যে—কোনও আত্মীয় বা পরিচিতকে লাড্ডুর বাক্স উপহার দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তিনি স্বীকার করেন না। অতএব তিনি স্থানীয় লোকজনকে জিজ্ঞেস করে দই আর ভাল সন্দেশ কিনলেন, বেশ কিছু ফল। একটু দেরিই হল ফিরতে। ততক্ষণে মাসির রান্নাও শেষ।

    গলা ভাতের ওপর মাখন ছড়িয়ে দিয়ে আলু—কাঁচালঙ্কা—ডালভাতের ভোজ চমৎকার হল। দইটাও চমৎকার। কিন্তু নিবেদিতা মাসি এত মিষ্টি আর ফল দেখে ভীষণ রাগ করলেন। সত্যি রাগ।

    দ্যাখো কিকি, আমার ভাগ্য আর আমার সরকার আমাকে যেটুকু খেতে দিচ্ছে তার বেশি আমার দরকার নেই।

    —বেশ এগুলো তা হলে আমি নিয়ে যাচ্ছি—কস্তুরী গম্ভীর, অভিমানী মুখে বললেন।

    —ওই দ্যাখ অমনি রাগ হয়ে গেল। আচ্ছা আচ্ছা বাবা, রাখছি, ফল মিষ্টি সব তোমার রাখছি।

    কস্তুরী মনে মনে একটু হেসে নিলেন। যাই বলো আর তাই বলো নিবেদিতা মাসি, তুমি আর সেই তুমি নেই। আগুনের মেয়ে, আগুনের বউ, তাতে অভিমানের নোনা জলে পড়ছে, একটু একটু করে নিবছ। অত সম্ভ্রমের বাড়াবাড়িও এক ধরনের আগুন, কিন্তু সে—ই পুরনো উদ্দীপনার ইতিবাচক আগুন নয়। ডিপ্লোম্যাসি দিয়ে তোমাকে ভোলাতে হয়। বড়রা ছোটদের ভোলায়, যেমন একদিন তোমরা আমায় ভুলিয়েছিলে, আজ আমার পালা। আমি তোমাদের ভোলাব।

    —নরেন্দ্রভাই কেমন আছেন? নিবেদিতা মাসি ঘরের তক্তপোশটার ওপর বসে বললেন।

    সামনে একটা লাল রঙের মোল্ডেড চেয়ার। কস্তুরী সেখানে। এতক্ষণে খবরাখবরের পুঙ্খানুপুঙ্খ।

    —তোমার কী মনে হয় মাসি, বাবা কেমন থাকতে পারেন!

    অন্যমনস্ক স্বরে মাসি বললেন—ভালই। বয়স হয়েছে, কিন্তু যৌবনের ব্যায়াম করা শরীর, বাজে নেশা—ভাঙ নেই, অর্থ—কষ্ট নেই, কাজের চাপ আছে অবশ্য বেশ। এবং কিকিকে নিয়ে দুশ্চিন্তা। এইগুলোয় কাটাকুটি হয়ে শরীর ভাল আছে, মন ভাল নেই।

    —আমার জন্য আবার চিন্তা কী?

    —এই, কিকিটা বিয়ে করল না। হাঙ্গাম—হুজ্জুতে জড়িয়ে পড়ছে ক্রমশ।

    কস্তুরী বাবার প্রয়াণের খবর ভাঙলেন না। তাঁর স্বামী যে দু’বছরের মধ্যে মারা যান, সে খবরও না। বললেন, মাসি, তোমরা যারা সোর্বস্ব পোণ করেছিলে তাঁদের মুখে এমোন কথা মানায় না।

    মাসি হাসলেন, বললেন, কিকি, তুমি কি এখনও বোঝো না, মানুষ কিন্তু আদতে স্বার্থপর, তার চেয়েও বেশি আত্মপর। পাবলিক ক্যালামিটি ইজ এ মাইটি লেভেলার। তাই গোটা দেশের মানুষের ওপর যখন সংকটের খাঁড়া নেমে এসেছিল, তখন কিছুদিনের জন্য তারা একত্র হয়েছিল। খাঁড়া সরে গেল, সব আবার যে যার ছোট্ট গর্তে। কেউ আর তার বাইরে দেখতে পাচ্ছে না। চাইছেও না। আমার ছেলে কোন লাখ টাকা উপার্জন করবে না, আমার মেয়ে কেন একটা ভাল বিয়ে করে ঘর—সংসার করবে না, কেন ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াবে…

    শেষ দুপুরের জানলা দিয়ে হঠাৎ দমকা হাওয়া হুটোপাটি করে ঢুকে পড়ল। এলোমেলো হয়ে যেতে লাগল কাগজপত্তর। মাসি তাড়াতাড়ি উঠলেন।

    —কাগজগুলো ড্রয়ারে ঢোকাও, ড্রয়ারে ঢোকাও, জানলা বন্ধ কোরো না। মাসি চেঁচিয়ে উঠলেন। জানলার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নিবেদিতা মাসি ঈষৎ ভাঙা গলায় গেয়ে উঠলেন…

    আয়রে আমার শুকনো পাতার ডালে ডালে

    ঝড় নেমে আয় আয়…

    দমকা মনে পড়ে গেল হারানো সুর। দোতলার বড় ঘর। শতরঞ্চি পাতা, কয়েকটা তাকিয়া। জড়ো হয়েছেন অনেক চেনা, আধো—চেনা মুখ। এগুলো সাধারণ সভা, অনেক সময়ে ঘর ছাড়িয়ে বাইরের দালানে, সিঁড়িতে পর্যন্ত লোক জমে যায়।

    তোমার বাঁধন যতই শক্ত হবে, মোদের বাঁধন টুটবে।

    সেটা বোধহয় তেইশে জানুয়ারি—সুভাষচন্দ্রের জন্মদিন ছিল। গান হল।

    কোন আলোতে প্রাণের প্রদীপ জ্বালিয়ে তুমি ধরায় আসো
    সাধক ওগো, প্রেমিক ওগো, পাগল ওগো ধরায় আসো।

    আরও কত গান কত সুর মনের মধ্যে তালগোল পাকিয়ে আছে। তাদের এই আধো—স্মরণে কী যে একটা অদ্ভুত সুগন্ধ। যেন কোথা থেকে, কত দূর থেকে, কত কাল আগে থেকে ভেসে আসছে এই সুরভিত সুর। শুধু তাঁদের ছোঁবে বলে। ছুঁয়েই তার কাজ শেষ। আর সে দাঁড়াবে না। বয়ে যাবে, উধাও হয়ে যাবে। এখন তুমি যদি তার মানে বুঝলে, তো সে চিরদিনের মতো তোর মধ্যে বসে গেল। ভেতর থেকে ঠেলা দিতে লাগল মাঝে মাঝে, মাঝে মাঝে আবার বুঁদ করে রাখল, যেমন নিবেদিতা মাসিদের ক্ষেত্রে হয়েছে। ‘আয়রে আমার শুকনো পাতার ডালে ডালে ঝড় নেমে আয় আয়—’ এ শুধু গান নয়, গানের মধ্যে দিয়ে এখনও সেই যৌবনের বিশুদ্ধ ঝড়কে উনি ওঁর বয়সের শুকনো ডালে আহ্বান করে চলেছেন। সম্ভবত আমৃত্যু চলবেন। ঝড়ের জন্য তাঁর প্রার্থনা ছড়িয়ে যাবে আরও কত মানুষের মধ্যে যাঁরা এখনও শুদ্ধ আছেন, সত্য আছেন, কিন্তু ঝড় জানেননি, কাকে বলে প্রণোদনা এখনও বোঝেননি।

    আর তুমি যদি শুধু মুগ্ধ হও, তাকে চলে যেতে দাও, তাহলে সেই অলস মুগ্ধতার দাম তোমাকে দিতে হবে সারা জীবন ধরে। গানকে যাঁরা শুধু সাময়িক বিলাস বলে নেন, তাঁদের এই দাম দিতে হয় সারাজীবনের অচেতনায়। কস্তুরী খুবই আবেগবর্জিত, কেজো মানুষ। কিন্তু এই মুহূর্তে তাঁর মনে হয় আগুন যদি তাঁর আহুতি নিত! যদি নিতে পারত সেই যজ্ঞফল যার জন্য একদিন সংকল্প করে আসনে বসেছিলেন তাঁর পিতৃপুরুষেরা!

    আমার মা কোথায় মাসি? —এতক্ষণে হয়তো ওই সাধক, প্রেমিক, পাগলের ‘প্রোচোদনা’তে, ‘ওই ঝড় নেমে আয়’—এর প্রার্থনাতেই তিনি প্রশ্ন করলেন।

    নিবেদিতা মাসি চুপ করে রইলেন। অনেক পরে বললেন…

    আমি তো আর কল্যাণী মেহতার খবর রাখি না, সেই থেকেই…

    কেমন যেন একটা খটকা! আমি তো আর কল্যাণী মেহতার খবর রাখি না। কল্যাণী মেহতা? নিবেদিতা মাসি মাকে কল্যাণীদি বলতেন না? খবর ‘রাখি না’? ‘জানি না’ নয়?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleগান্ধর্বী – বাণী বসু
    Next Article অমৃতা – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় : সাহিত্যের সেরা গল্প

    May 15, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় : সাহিত্যের সেরা গল্প

    May 15, 2026
    Our Picks

    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় : সাহিত্যের সেরা গল্প

    May 15, 2026

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    May 14, 2026

    বৃশ্চিক – পিয়া সরকার

    May 14, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }