Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    উড়াল – নবনীতা দেবসেন

    নবনীতা দেবসেন এক পাতা গল্প127 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    উড়াল – ১২

    বারো – বিমল

    কেতকীকে কত কিছু বলবার ছিল আমার। এত অল্প সময় দিল মেয়েটা কিছুই বলা হলো না। এখন বলি। এই পাঁচ বছর ধরে আস্তে আস্তে করে ওর সঙ্গে কথা বলি আমি। টুবলু যখন ঘুমিয়ে পড়ে ওর মুখের আদলের মধ্যে আমি কেতকীকে দেখতে পাই। সেই ছোট্ট কেতকী। যাকে ফেলে ওর মা চলে গিয়েছিলেন পরলোকযাত্রায়। চোখের কোণে জল নিয়ে মাঝে মাঝে ঘুমিয়ে থাকে টুবলু। তখন ওকে বড্ড কেতকীর মতো লাগে। আমার খুব ইচ্ছে করে ওকে জাগিয়ে জিগ্যেস করি, কেন? কেন রে? চোখে জল কেন তোর? কেতকীকে কেউ জিগ্যেস করেনি।

    বিছানায় প্রায় মিলিয়ে গিয়ে শেষদিকে কেতকী আমাকে বেশি করে জড়িয়েছিল, আঁকড়ে ধরেছিল। অদ্ভুত সব কথা বলতো আমাকে। তার কিছু কিছু আমি পরে আমার ডায়েরিতে লিখে রেখেছি।

    টুবলুর জন্যে? নাঃ, আমার নিজের জন্যেই। যাতে ভুলে না যাই।

    বাংলাতে কেতকী ভলো করে নিজেকে প্রকাশ করতে পারতো না। ইংরিজিতেই বলতো আদ্ধেক কথা। আমি চেষ্টা করেছি বাংলায় ধরে রাখতে ওর কথাগুলো। টুকরো টুকরো কথা। আমি গোছাতে চেষ্টা করিনি। টুকরো টুকরোই লিখে রেখেছি। যেমন যেমন বলেছে। অনেক সময়ে ওর কথাগুলোই আমারও কথা হয়ে গিয়েছে। ওর কথায় আমার কথা মিশে একাকার হয়ে গিয়েছে। যেমন এই সাহস আর ধৈর্যের ব্যাপারে ওর কথাগুলোই আমারও।

    .

    কেতকীর কথা

    —”সাহস জিনিসটা এমনই যে পরীক্ষার সময়ে ছাড়া তার সঙ্গে দেখা হয় না। ধৈর্য জিনিসটার মতোই। বিপাকে পড়লে মানুষ কেমন করে সাহসী হয়ে ওঠে এমনকি ভীতু মানুষও, আমিই তার জলজ্যান্ত প্রমাণ।

    আমি খুব ভীতু।

    আমি হারানোকে ভয় পাই।

    পেয়ে—হারানোর মতো এত ভয়ঙ্কর আর কী হতে পারে? আমি বারবার পেয়েও হারিয়েছি। মানুষের ভালোবাসার মৃত্যুকে ভয় পাই আমি। ভালোবাসার মানুষের মৃত্যুকেও।

    আমাকে তুমি ‘ব্রেভ’ বলো, বলো ‘কারেজাস’। ভুল। সব ভুল। আমি ভীতু।

    .

    না। মৃত্যুভয় আমার নেই।

    ছিল না কোনোদিন। নিজের মৃত্যুকে নিয়ে ভয় করবো কেন? ওটা তো হবেই—আর ওটার শোক তো আমাকে বইতে হবে না? না, মৃত্যুভয় নেই আমার—অলওয়েজ রেডি টু গো। কিন্তু ‘কারেজাস’ নই। ভয়ে আমার বুক ধুকপুক সর্বক্ষণ। মনে হয়, এই বুঝি হারিয়ে ফেলবো। মনে হয়, এই মুহূর্তও বুঝি সত্য নয়, স্বপ্ন। জানি তো স্থায়ী হবে না কোনো মুহূর্তই—তবু মুছে—যেতে—থাকা মুহূর্তগুলোকে গেঁতে গেঁথেই তো জীবন।

    .

    জীবনকে স্বপ্ন বলে মনে করলেই আর মৃত্যুভয় থাকে না।

    মৃত্যু কেন, কোনো ভয়ই থাকে না।

    স্বপ্ন তো ভাঙবেই একদিন। তাতে ভয়ের কি আছে? দুঃস্বপ্নও তো ভেঙে যায়—স্থায়ী হয় না। তবে আর ভয় কীসের? ভয়ের আর সুযোগ থাকছে কোথায়? কিন্তু তবুও ভয় করে।—

    কোথায় যেন পড়েছিলাম, ‘‘every individual life is a dream’’—এই কথাটা আমি খুব ভাবি। প্রতিটি ব্যক্তিজীবন যদি স্বপ্ন হয়। তবে আমাদের ‘স্বকীয়তা’, ‘আমিত্ব’, এসব নিয়ে আর ভাবতে হয় না—’সেলফ’ কথাটা কোনো অর্থই বহন করে না তাহলে।

    আঃ। কী আরাম!

    ‘আকাশভরা সূর্য তারা বিশ্বভরা প্রাণ—’ তারই একটা কণা হয়ে গেলাম। এর চেয়ে আরামের আর কী আছে?”…

    .

    ‘আকাশভরা সূর্য তারা’—এ গানটা গলা ছেড়ে বড়ো ভালো গাইতো কেতকী। নিজেকে বিশ্বভরা প্রাণের একটি কণিকা ভেবে নিতে ওর ভালো লাগতো। আমি ভাবি অন্য কথা। জীবন শুরুই করেছে ”নেতি” দিয়ে মেয়েটা। আমাদের উপনিষদে বলেছে ‘নয়’ ‘নয়’ ‘নয়’ করে ‘হয়’—তে পৌঁছুতে হবে। নেতি, নেতি, নেতি করে ইতি—তে। অথচ জীবনটা ‘নেতি’ দিয়ে শুরু করা কি বিপজ্জনক নয়? আগেই আমি কী কী নই, সেই জায়গাগুলোয় খুঁজতে খুঁজতে, ভেঙে ভেঙে টুকরো হতে হবে, তবে আমি কী হই, সেখানে এসে দাঁড়ানো। আমি এটা নই, আমি ওটা নই, আমি সেটাও নই—তবে আমি কে হই?”….

    সুকুমার রায় সত্যিই মস্ত দার্শনিক ছিলেন। কত সহজে কত কঠিন কথা বলে গিয়েছেন। ইদানীং কেতকী কেবলই এসব ভাবছে।

    কেতকীকে বলছিলাম, ”আত্মানং বিদ্ধি,” ‘‘know thyself,’’ এসব লম্বাচওড়া তত্ত্ব নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে না এখন, রোগশয্যায় অন্য অন্য কথা ভাবাই মঙ্গল। হালকা কথা।

    ও বলল, ”না। এখনই ঠিক সময়। আমি কে? আমার রাগ, আমার অভিমান, আমার ব্যর্থতা, আমার যন্ত্রণা, আমার ভুল, আমার ভালোবাসা, আমার গান, আমার ভয়, আমার শূন্যতা, আমার আকাঙ্ক্ষা, আমার ঈর্ষা, আমার মাথার ওপর অনন্ত স্বপ্নের আকাশ, আর পায়ের তলায় তলহীন গহ্বর—এই সবকিছু নিয়েই তো আমি? সবগুলোই আমি। তাই না?…

    কিন্তু, সত্যিই কি তাই?

    সত্যিই কি এতটা নিরাশ্রয়, এত সময়তাড়িত, এত অনিশ্চয়, জর্জর অস্তিত্ব আমাদের? তাহলে তো মনুষ্যসভ্যতা টিকতই না। ডাইনোসরের মতনই পাথরের গায়ে মানুষের পায়ের ছাপ থাকত, আর রাজত্ব করত আরশোলার দল।

    ওদের মাথাটা কেটে নিলেও নাকি আরশোলারা ন’দিন বেঁচে থাকতে পারে। আণবিক বিস্ফোরণেও ওদের কিছু হয় না। আরশোলাকে জগতের টাফেস্ট প্রাণী বলা হয়।

    কিন্তু মানুষ?—আমি তো দেখলাম মানুষের মাথাটা কেটে বাদ দেবার পরেও, সে হেসে খেলে সারাটা জীবন কাটিয়ে দেয়। আপিস যায়, বিয়ে করে, সিনেমা দেখে, রান্না করে, ছেলেপুলে বানায়, শিল্পচর্চা করে, যুদ্ধবিগ্রহ করে, গান করে—দে মেক লাভ, দে মেক আর্ট, দে মেক বেবিজ, দে মেক ওঅর, দে মেক মিউজিক—অ্যান্ড অল দিস ইন আ হেডলেস স্টেট!

    মাথাটা বাদ দিলেও বাঁচে মানুষ, হৃৎপিণ্ডটা বাদ দিলেও বাঁচে। আমাদের বেঁচে থাকতে যদি বুদ্ধিও না লাগে, আবেগও না লাগে, দুটোকে বিসর্জন দিয়েও আমরা যদি বেঁচে থাকতে পারি দিব্যি, তবে বেচারি আরশোলাতে টাফেস্ট প্রাণী বলছে কেন বিজ্ঞানীরা? কী অন্যায়!”…

    আমি তর্ক করি।

    —”কেন এত নেগেটিভ চিন্তা করছ কেয়াফুল? এত সিনিসিজম ভালো নয়। তোমার নিজের দিকেই তাকিয়ে দ্যাখো, এই কঠোর স্টেটমেন্টের বিপরীতটাই দেখবে। এই তো মালবিকাকেই দ্যাখো না? তুমি যেসব মানুষের কথা বলছো, সেই বিকট মানুষেরা শুধু রাজনীতি ক্ষেত্রেই আছে—হাটে—বাজারে আমরা যারা ঘুরে বেড়াই, আমাদের হৃৎপিণ্ডটুকু অন্তত আছে, মগজ থাক না থাক।”…

    —”আমি তো ছোটবেলা থেকেই খুব ভীতু? কিন্তু আবিষ্কার করেছি, জীবনের কতগুলো মুহূর্তে আপনা—আপনি বুকের মধ্যে একটা অনন্ত খনি আবিষ্কৃত হয়। সাহসের খনি। চোখকান বুজে নেমে যাও, দু’হাত ভরে তুলে আনো সাহস—বেঁচে থাকার জন্যে প্রয়োজনীয় মনোবল।

    ”এখন আমি টের পেয়েছি মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের মধ্যে লুকিয়ে বয়ে যাচ্ছে আরেকটা গভীর সাহসের নদী। সম্পর্ক গড়তে হয়, গড়ার চেষ্টা করতে হয়। বিশ্বাস, এবং আরও বিশ্বাস দিয়ে। ভালোবাসা এবং আরও ভালোবাসা দিয়ে। সেই চেষ্টার যোগফলই সাহস যোগাবে—বেঁচে থাকবার সাহস। শুধু টিঁকে থাকা নয়, হেসে খেলে গান গেয়ে বেঁচে থাকা। নট জাস্ট সারভাইভিং বাট লিভিং লাইফ ফুললি! এটা আমি শিখেছি তোমার কাছে এসে। বাঁচা কাকে বলে। ভালোবেসে বাঁচা—আগে শুধুই জীবিত ছিলাম।….

    ”একা থাকলে, একাকী বাঁচলে, পরিপূর্ণ বেঁচে ওঠা যায় না। শুধু জীবিত থাকা যায়। একটা ম্যাজিক—লাঠি আছে, যেটার এক মুড়োয় ‘বিশ্বাস’, আরেক মুড়োয় ‘ভালোবাসা’। ব্যস ওইটে হাতে থাকলে তোমার বুকের সাহস কোনোদিন ফুরোবে না। ‘ভয়’ তোমার ছায়া মাড়াতে ভয় পাবে। আমি খুব ভয় পেতাম—জানো, একটুও সাহসী ছিলাম না আমি—’বেপরোয়া’ মানেই কিন্তু সাহসী নয়। বরং উলটোটা!”…

    .

    কেতকীর কাছে শিখলাম বেপরোয়া মানুষ অনেক সময়েই ভীতু মানুষের বহিরঙ্গ।

    প্রায়ই কেতকী বলত, ”আমার এখন অন্য ভয়—দারুণ ভয়—এত সুন্দর পরিপূর্ণ জীবনটাকে পেয়ে হারানোর ভয়। জীবনে সুখ এলো মাত্র দুদিনের অতিথি হয়ে। আসলে তো অসুখই আমার ঘরের লোক। যে—বিচ্ছেদকে আমার এত ভয়, জান সেই বিচ্ছেদেরই জয় হবে।

    ”টুবলু আমার মধ্যে বাঁচার লোভ উদগ্র করে তুলেছে—যতক্ষণ পারি ওকে জড়িয়ে রাখি, আগলে রাখি—আমি তো জানি আমি শেষ পর্যন্ত পারবো না—আমি তো জানি ওকে ফেলে রেখে আমাকে চলে যেতেই হবে। উপায় নেই। দরজা খুলে গেছে।”….

    .

    একদিন খুব রাগ করে কেতকী বলল—”আচ্ছা, চিরদিন, চিরন্তন, শাশ্বত, চিরকাল—এসব শব্দগুলো মানুষ কীজন্যে বানিয়েছিল বলো তো? তখনই তো জানতো এসব হয় না। প্রত্যেকটা শব্দই মিথ্যে।”

    তারপর নিজেই উত্তর দিল—”আসলে কি জানো, ওই শব্দগুলোর শরীর স্বপ্ন দিয়ে গড়া। দূরাকাঙ্ক্ষা দিয়ে গড়া। স্বপ্ন আর দূরাকাঙ্ক্ষা এই তো চিরন্তন। যা নেই, যা নয়, তাই কেবল শাশ্বত। চিরন্তন।”

    আমি আপত্তি করলাম, ”কেন, প্রেম? প্রেম বুঝি চিরন্তন নয়। স্নেহমমতা? এই যে টুবলুর প্রতি তোমার স্নেহ? এটা তো চিরন্তন।”

    ”এই যে তোমার প্রতি আমার প্রেম”—বলতে চেয়ে আমার বুক কেঁপেছিল—মুখে উচ্চারণ করতে পারিনি যে কথা, বুকের মধ্যে আছড়ে পড়েছিল—কেতকী সেটা বুঝতে পেরেই উত্তরে বলল—

    —”হ্যাঁ ভালোবাসাকে চিরন্তন বলা হয়তো যায়। প্রেম, স্নেহ সবই তো ‘‘love’’, সবই তো ভালোবাসা। আমি চলে যাবার পরেও আমার ভালোবাসা তোমাদের ঘিরে থাকবে। তোমাকে, টুবলুকে। স্নেহ একরকমের ভালোবাসা, প্রেম আর একরকমের ভালোবাসা। কোনোটাই কি নিজে নিজে চিরন্তন হয়? সবই ব্যক্তি—নির্ভর। জানো বিম, আমি ছোটবেলা থেকেই বুঝতে চেষ্টা করতাম প্রেমটা কী বস্তু। সিনেমায় দেখি, বইতে পড়ি। রাস্তাঘাটে, বিজ্ঞাপনে, টিভিতে সর্বত্র প্রেম। এত প্রেম পৃথিবীতে, অথচ সংসারে তো দেখি না? জীবনে তো দেখি না? বাবা আর তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর মধ্যে যেটা হয়েছিল, সেটাই কি প্রেম? তাহলে বাবা আর মায়ের মধ্যে কী ছিল, যার অভাবে মা আত্মহত্যা করল? নাকি নারী—পুরুষের মূল খেলাটাই প্রেম? ওটা তো আমি ছেলেবেলা থেকেই শিখে গেছি। মাস্টারের অভাব ছিল না। ওটার জন্যে এত?

    যাঃ।

    বড় হয়ে যখন ‘ভার্জিন’, ‘ভার্জিনিটি’ এসব ভারী ভারী ওজনদার শব্দগুলো শুনছি, পড়ছি, মানে বুঝতে চেষ্টা করছি, কিছুই বুঝতে পারছি না, ভার্জিনিটি বস্তুটি কী কেমন তা টের পাবার আগেই তো সেটা হারিয়ে বসে আছি। এক মা—মেরীর প্রসঙ্গ ছাড়া ‘ভার্জিন’ শব্দের মধ্যে অন্য কোনও অনুষঙ্গ কখনও মনেই আসেনি।

    বাংলায় ‘কুমারী’ শব্দ আমরা শিখিনি। ছোটমাসি শিখিয়েছিল ‘কুমারী কেতকী মিত্র’ লিখতে। তার মানে আমি ‘Miss’, আমার বিয়ে হয়নি। বিয়ে হলে ‘Mrs’, শানাই, টোপর, আলো, বেনারসী, লোকজন, বিয়ের সঙ্গে তো নেমন্তন্নের যোগ, ভার্জিনিটির কী যোগ?

    ভার্জিনিটির সঙ্গে আমার বেঁচে থাকার কী যোগ? ও তো যীশু আর মেরীর ব্যাপার। মিরাক্লের ব্যাপার। বিয়ের সঙ্গে ভার্জিনিটির যোগটা আমায় কেউ বুঝিয়ে দেয়নি, যেমন বেঁচে থাকার সঙ্গে মরে যাবার যে একটা যোগ আছে, সেটাও না। মা’র মরে যাওয়ার বিপরীতটা যে মা’র বেঁচে থাকা—এই দুটোর মধ্যে যে একটা গ্রন্থি আছে, একটা সত্য, যাকে ধরা যায় না, ছোঁওয়া যায় না, অদৃশ্য একটা সুতোর পাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা রয়েছে আমাদের বেঁচে থাকা আর মরে—যাওয়া, যেমন রাত্রিবেলার সঙ্গে বাঁধা থাকে সকালবেলা।”…

    .

    কেতকী মাঝে মাঝে কবিতার মতো ইংরিজি বলে। মাঝে মাঝে নিজেই গান বানিয়ে গাইতো তো? ও একটা গান গাইতো, টাইগার হিলে সূর্য ওঠার গান। এত সুন্দর সুর। এত সুন্দর কথা—”কে লিখেছে, বাংলায় টাইগার হিল নিয়ে এত সুন্দর গান?” কেতকী হেসে বলল—”একজন বাঙালিই,—অবভিয়াসলি!” ওর নিজের লেখা, নিজের সুর দেওয়া গান! বিছানায় শুয়ে শুয়ে কেতকী যেসব কথাগুলো বলে, মাঝে মাঝে মনে হয় গানের মতো, কবিতার মতো। আমি ঠিকঠাক লিখতে পারছি না, আমার সে ক্ষমতা নেই।

    .

    —”…এই যে আমি এখনও বেঁচে রয়েছি, এই যে আমি আর কিছুকাল পরেই আর বেঁচে থাকবো না, দুটোর মধ্যে একটা যোগ তো রয়েছে। এবং থেকেও যাবে। ছিন্ন হবে না। একটা জায়গায় এই দুটো একসঙ্গে গেরো পাকিয়ে যাবে—টুবলুর জীবনে। তার বেঁচে থাকার সঙ্গে, তার মায়ের বেঁচে থাকার সঙ্গে তার মায়ের বেঁচে না—থাকা। এই দুটো বিপরীত অবস্থার মধ্যে গেরো—পাকানো, জট—পাকানো, ওলট—পালট জীবন কাটবে টুবলুসোনার—যদি না তুমি জটটা খুলে দাও, বিম? আমার তো উপায় নেই, যে জটটা ছাড়িয়ে দিয়ে যাই, গেরোটা খুলে দিয়ে যাই—সময় কোথায়? টুবলু যে এখনও বড্ড ছোট্ট! কিন্তু তুমি আছো।

    তুমি ওর সব জট—পাকানো, গেরো—পাকানো ভাবনাগুলোকে সোজা—সরল করে দিয়ো। ওর জীবনের পথটা যেন সবটাই আলোয় আলো হয়ে থাকে—আমার মতন আলো—আঁধারির মধ্যে হাতড়ে হাতড়ে চলতে হয় না যেন ওকে।

    অথচ আমার মা তো নিজে নিজেই, ইচ্ছে করেই গেরোটা বাধিয়েছিল, ইচ্ছে করেই এতবড় জট পাকিয়ে দিয়েছিল আমার জীবনে। মা জানত, বাবা অন্য লোকের হয়ে গেছে, বাবা আমাকেও দেখবে না। মা তবুও আমার কথা ভাবেনি, শুধুই নিজের কথা ভেবেছিল।

    আমি অন্তত সেটা করিনি। আমার অসুখ করেছে। যে—অসুখের ওষুধ বের হয়নি এখনও। আমি তো ইচ্ছে করে তোকে একলাটি ফেলে যাচ্ছি না রে টুবলুসোনা, আমার যে উপায় নেই। আমি তো বিমকেও ফেলে যাচ্ছি! আমার কি যেতে ইচ্ছে করছে? তোর বিম রইলো, বাবা রইলো তোর।

    সত্যিকারের বাবা। আমার মতো মিছিমিছির বাবা নয়। একলাটি ফেলে যাচ্ছি না আমি তোকে। তোর বাবার কোলে রেখে যাচ্ছি। অনে—ক অনে—ক বড়ো হবি তুই। আমার আর সেটা দেখা হবে না। আমার উপায় নেই।”…

    .

    কেতকী পাগলীর কথাবার্তা বোঝা সোজা নয়। ওর সব কথা ঠিকঠাক বুঝতে হলে ওকে আপাদমস্তক বুঝতে হবে। টুবলুর কাছে আমার পরিচয় দিচ্ছে ”তোর সত্যিকারের বাবা”, ওদিকে নিজের জন্মদাতা পিতাকে বলছে, ”আমার মিছিমিছির বাবা।” অথচ এই নিয়েই কেতকী কী গোলমালটা করেছিল ঠিক বিয়ের মুখে মুখে। আমি প্রোপোজ করেছি। বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে, সবাইকে বলা হয়েছে, ডেট ফিক্সড, কেতকী নতুন করে ফ্যাকড়া তুললো।

    —”শুধু শুধু কেন আমাকে বিয়ে করতে যাবে? সবই তো আন্দাজ। হতেই পারে দ্যাট ওয়াজ দ্য নাইট—আবার নাও তো হতে পারে? অনেস্টলি আই ডোন্ট নো হু দ্য ফাদার ইজ, দেয়ার কুড বি টু অর থ্রি পসিবিলিটিজ—আই ডোন্ট রিয়্যালি কেয়ার। আই নো হু দ্য মাদার ইজ অ্যান্ড দ্যাটস অল দ্যাট ম্যাটারস টু মি। প্লীজ বিম, বিয়েটা বাদ দাও। নো নীড। নট অ্যাট অল।”

    —”ইয়েস দেয়ার ইজ নীড। বাচ্চা যারই হোক, দ্য বেবি নীডস আ ফাদার। আমারও তো হতেই পারে? তাহলে? বিয়েটা হওয়া খুব দরকার। দ্য বেবি শুড হ্যাভ আ ডিসেন্ট লাইফ। কাইন্ডলি কোঅপারেট।” ঘাসের লনে, ফুলের গাছে স্প্রিংকলার চলছিল। সেই ফোয়ারার সামনে দাঁড়িয়ে পড়ে ভিজতে ভিজতে কেতকী বলেছিল :

    —”বাট হোয়াট ডু ইউ গেন ফ্রম ইট? আমার মতো এত ওয়াইলড বউ কেউই চায় না, তার ওপর কার—না—কার বাচ্চা—সমেত। ইউ মাস্ট বি ক্রেজি, বিম।”

    —”ও ইয়েস, ক্রেজি ওভার ইউ, কেয়াফুল, এখনও বুঝলে না? বাট টেল মি। হোয়াট ডু ইউ লুজ? তোমার ক্ষতিটা কী হচ্ছে, বিয়ে করলে? আমি কি অযোগ্য স্বামী? এত করে বাধা দিচ্ছ কেন? অনেকদিন তো ফ্রিডম উপভোগ করলে। কোলে বাচ্চা এলে অত ফ্রিডম আর থাকে না। এবারে সংসার করোই না? বুঝতে পারছি, আমাকে তোমার পছন্দ হচ্ছে না বুড়ো বলে, তাই এত ফ্যাকড়া তুলছ।”

    —” ‘ফ্যাকড়া’? হোয়াট ইজ ফ্যাকড়া? আই ডোন্ট নো দ্য ওয়ার্ড। বাট ইউ হ্যাভ গট মি রং। তোমাকে পছন্দ হচ্ছে না নয়, ইউ আর টু গুড ফর মি—আয়্যাম নট দ্য রাইট উওম্যান ফর ইউ—ইউ ডিজার্ভ মাচ বেটার—আই ডোন্ট ওয়ান্ট টু এক্সপ্লয়েট ইওর গুডনেস—টু বি অ্যাবসলুটলি ফ্র্যাঙ্ক—আমার মনে হচ্ছে তোমাকে ঠকানো হচ্ছে, আমি একটা খারাপ মেয়ে—আই অ্যাম নো ম্যাচ ফর ইউ, বিম।” অনেক কষ্টে তাকে ভুলিয়ে—ভালিয়ে রাজী করাতে হলো নতুন করে। অবশেষে সময় মতোই আমাদের সইসাবুদ হয়ে গেল। বিধিমতো বিবাহিত দম্পতির কোলেই এসেছে টুবলু। টুবলু এলো একমাথা কালো সিল্কের মতো চুল, বাদামী চামড়া, কালো কালো চোখের তারা নিয়ে, মায়ের মতোই রূপসী। নরডিক ব্লনড হানসের কোনো চিহ্ন তার কোথাও নেই—হানসের থিওরি বাদ চলে গেল। মেয়ে আমারই। আমার মতোই দেখতে, আমার অন্তত তাই মনে হলো। আমার বাঙালি মেয়ের শ্যামলী মুখখানি দেখে নিশ্চিন্ত হয়ে কেতকীকে বলেছিলাম—”কি গো? নিশ্চিত হয়েছো তো এবারে? তোমার ছানার বাবাটি কে? হানসের কোনো গল্প নেই আর এর মধ্যে—”

    উত্তরে মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে কেতকী বলল—”কেমন করে বুঝলে, যে তুমিই ওর বাবা? উইদাউট আ ডি.এন.এ. টেস্ট? হানস নাইবা হলো, কার্লোস তো হতে পারে? উই হ্যাড সেক্স টু নাইটস বিফোর দ্য থার্টি ফার্স্ট, আই টোলড ইউ?”—কার্লোস এক মেক্সিকান রেস্তরাঁর মালিক, খুবই সুদর্শন পুরুষ, অনেকটাই ভারতীয় চেহারা, কালো চুল, কালো চোখ, বাদামী চামড়া—নাচে চমৎকার। আমার অবাক লাগছিল। কেতকীর এই জবরদস্তি নিজেকে বহুচারিণী প্রমাণ করে, বাচ্চার বাবা যে আমি নাও হতে পারি, এমন একটা সংশয় আমার মধ্যে সঞ্চারিত করে দেবার আপ্রাণ চেষ্টা কেন, আমি বুঝতে পারছিলাম না। বিয়ে যখন হয়েই গেছে, উলটোটা করাই তো এখন স্বাভাবিক হতো, সামাজিক হতো। তখন তর্ক তুলিনি, নিজেই মনে মনে সমাধান খুঁজতে চেষ্টা করেছি। উত্তর মেলেনি। শুধু কেতকীর রহস্যপ্রিয়তা তাকেই আরও রহস্যময়ী করেছে।

    তার অনেক মাস পরে যখন কেতকী অসুস্থ, রোগশয্যায় শুয়ে শুয়ে নানা ধরনের দার্শনিক তত্ত্ব আলোচনার চেষ্টা করে, আমি ওকে জিজ্ঞেস করেছিলাম—

    —”কেতকী, তুমি কিছুতেই টুবলুকে আমার মেয়ে বলে মেনে নিতে দিচ্ছিলে না কেন?”

    —”জাস্ট টেস্টিং ইউ।” একগাল হাসি। তারপরেই গম্ভীর। অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে কেতকী যা বললো তাতে আমি নিরুত্তর হয়ে গেলাম।

    —”তুমি যদি ওকে ভালোবাসো, তবে বাবা না হলেও বাসবে। আমি সেটাই চেয়েছিলাম। বাবার দায়িত্ব পালন করানোতে আমার ইন্টারেস্ট ছিল না, যেটা টাকা পাঠিয়েই সেরে দিতে পারা যায়। এখন টুবলু তোমার জীবনের অংশ, শি ইজ পার্ট অফ ইওর লাইফ—তার জন্য কোনো বায়োলজিক্যাল রীজনস লাগুক, এটা আমি চাইনি। তুমি ওর বাবা হয়েছো আউট অফ চয়েস—ঠিক এটা আমি চেয়েছিলাম। নট বাবা আউট অফ নেসেসিটি। আমি চেয়েছিলাম তুমি সেধে, ভালোবেসে ওকে তোমার সমস্ত সন্তানস্নেহ দাও। বাধ্য হয়ে নয়—দায়ে পড়ে নয়। এই যে মনের ভিতর থেকে মা—বাবা হওয়া, এটাই তো আসল। আমার ছোটমাসির মতো।”

    টুবলুকে যে ফেলে রেখে ওকে যেতেই হচ্ছে—এজন্য কেতকী একবার বলে—”আমার দোষ নেই। আমার উপায় নেই”—আরেকবার বলে—”সব দোষ আমার, আমি কেন টুবলুর কথা ভাবিনি?”

    নিজেকে নির্দোষ বলতে তার বিবেকে বাধে। আমি যদি ওকে বলতে চেষ্টা করি—”তোমার কোনো দোষ নেই, এটা তো অসুখ, এবং অ্যাক্সিডেন্ট—” তবে কেতকীই উলটে বলবে—”কিন্তু আমার কি সত্যিই কোনো দায়িত্ব ছিল না? আমি তো শিক্ষিত মেয়ে। ম্যালেরিয়া হলে ডাক্তার বলে, ‘মশারি টাঙাও?’ টাইফয়েড হলে বলে, ‘জল ফোটাও?’ ‘কেন জল ফোটাওনি?” ‘কেন মশারি টাঙাওনি?’ আর আমি? আমার বেলায় তোমরা কেউ কিছুই বললে না।

    ”ডাক্তারও বলল না কিছু। তুমিও না। অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল? তাই বলনি? টুবলু বলবে হয় তো? বড় হয়ে টুবলু আমাকে বলবে—’মা তুমি আমার কথা ভাবলে না কেন?’

    ”আমি তো সত্যিই টুবলুর কথা ভাবিনি। আমি তো ভাবতেই পারিনি টুবলুর কথা। আমি কি নিজের কথাই ভেবেছিলাম? কেবল চেষ্টা করেছি কিছুই না ভেবে শুধু ‘জীবন’ যাপন করে যেতে। ‘জীবন’ নাম নিয়ে যেটাই সামনে এসে পড়েছে তাকেই জড়িয়ে ধরেছি, গান এলে গানকে, নেশা এলে নেশাকে, শরীরে এলে শরীরকে। এই তো, এটুকুই তো জীবন। বন্ধু খুঁজে খুঁজেই দিন গেছে আমার। শেষ মুহূর্তে মালুকে পেলাম। আর তুমি? তুমি কি শুধু বন্ধু?”

    .

    ”স্কুলেও তেমন কোনো বন্ধু ছিল না আমার। ছিল না কলেজেও। বন্ধুত্ব করতে ভয় করতো—শৈশবে ড্রাইভারদাদুর ‘বন্ধুত্ব’ আমার সব বন্ধুত্বের মূল উচ্ছেদ করে দিয়েছিল। মা নেই, বাবা অফিসে। বাবার স্ত্রী নিজের ঘরে। আমি সারা দুপুর সার্ভেন্টস কোয়ার্টারে। এর কোলে, তার কোলে। ড্রাইভারদাদুই বেশি আদর করতো, ‘দোস্ত’ বলে ডাকতো, কোলে বসিয়ে আমার সঙ্গে একটা খেলা খেলতো ‘দোস্তি’—র খেলা। আমি জানতাম সে—খেলাটা লোকজনের সামনে খেলতে হয় না। কেবল দুজনে আড়ালে, গোপনে, লুকিয়ে লুকিয়ে। শরীরী সুখের সঙ্গে তাতে অপরাধবোধ, লজ্জা ভয় মিশে ছিল। এসব কথাই মালুকে বলেছি আমি। তুমি কিছুই জানো না। আমি সত্যি সত্যি খুব খারাপ মেয়ে—ছোট থেকেই খারাপ। ড্রাইভারদাদুর সঙ্গে ওই খারাপ খেলাটার কথা আমি কাউকেই জানাইনি। একদিন বাবার অন্য বাচ্চাদের আয়া দেখতে পেয়ে গেল। বাবার স্ত্রী খেপে উঠে বাবাকে বললেন, সবই আমার দোষ, আমি খুব পাজী মেয়ে। তাঁর বাচ্চাদের নষ্ট করে দেব। বাবা তাঁর সব কথাই বিশ্বাস করতেন। আমাকে প্রচণ্ড শাস্তি দেওয়া হলো। ড্রাইভারদাদুকে কিন্তু ছাড়ানো হলো না। অনেকদিনের পুরোনো ‘বিশ্বস্ত’ কর্মচারী তো? আমাকেই পাঠিয়ে দেওয়া হলো বোর্ডিং স্কুলে। আমার বয়েস ততদিনে আট পূর্ণ হয়েছে। বাড়িতে কোথায় যে থাকি, কী করি, সারাদিন কেউ খোঁজই রাখতো না। এখন তো সেসবের আর প্রশ্নই রইল না। বোর্ডিং স্কুল থেকে ছুটিতে এসেছি। ড্রাইভারদাদু আবার আমাকে ধরলো। এবারে সার্ভেন্টস কোয়ার্টারে সবাই জেনে গেছে,—নতুন বাবুর্চিও খেলায় যোগ দিলো। আমার বয়েস একটু বেড়েছে। খেলার ধরনটাও দেখলাম পালটাচ্ছে, বাবুর্চির বয়েস দাদুর চেয়ে অনেক কম, তার সঙ্গেই খেলাটা বেশি ভালো লাগছে—আমার বাবার কাছে আবার খবর গেল। বাবা এবার হান্টার দিয়ে মারলেন। এবং মাসির বাড়িতে পাঠিয়ে দিলেন, কলকাতায়। সেটাই হলো আমার পক্ষে আশীর্বাদ। আমি ছোটমাসির বাড়িতে গিয়ে গান ভালোলাগা চিনলাম—মাসি চমৎকার গান গাইত। মাসির কাছেই বাংলা গান শিখেছি। বাবাকে বলে মাসিই স্কুলেও মিউজিক লেসনের ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। স্কুলে ওয়েস্টার্ন মিউজিক, মাসির কাছে বাংলা গান—আমার নতুন জীবন শুরু হলো। জামশেদপুরে আর যেতাম না। ছুটিতেও না। মাসির ওখানটাই আমার ‘বাড়ি’ ছিল। ওখানেই ‘প্রেম’ দেখেছি। মেসো আর মাসির মধ্যে যেটা ছিল, সেটাই নিশ্চয় প্রেম। এখন তোমাকে পেয়েছি—এখন ঠিক চিনে ফেলেছি বিম, প্রেম জিনিসটা কী ব্যাপার। খুব দেরিতে হলেও জেনে তো গেলাম প্রেম কেমন?”

    .

    ”শুধুই ভালোলাগার মধ্যে মিশে থাকতে চেয়েছি এতদিন। ছোটোবেলায় ‘জীবন’ বলতে বুঝেছি শুধু একাকিত্ব, ভয়, লজ্জা, দুঃখ, অপমান—কেবল কঠোরতা, কেবল না—পাওয়া।

    ” ‘পাওয়া’ কী প্রথম বুঝলাম ছোটোমাসির কাছে। গানে। গানকে নিজের মতো করে সব সময়ের সঙ্গী করে পেয়েছিল ছোটোমাসি—আমাকেও তার ভাগ দিল। আমার গলার সুর আমার ইচ্ছের সঙ্গে মানিয়ে চলত। গান আমার বাধ্য ছিল। গানই হলো আমার সঙ্গী। মানুষের কাছ থেকে আঘাত আসে। গানের কাছ থেকে শুধুই ভালোবাসা, শুধু ভরসা। যখনই মনে হয়েছে গড়িয়ে যাচ্ছি, ঢালু জমিতে পা সোজা রাখতে পারছি না, গান আমার হাত ধরে শক্ত মাটিতে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আবার চলতে শুরু করেছি। তাই ধরেই নিয়েছিলাম মানুষের চেয়ে গান ভালো। মানুষের চেয়ে নেশা ভালো। মানুষ ওই শুধু একরাত্রে সঙ্গের জন্যেই ভালো। সারাজীবনের তো প্রশ্নই ওঠে না।….

    ”কী করতে যে সেদিন গ্রীনিচ ভিলেজে আমাদের কাফেতে গিয়েছিলে তুমি? আমার পৃথিবীটাই পালটে গেল। বিম, তোমাকে না দেখলে আমার জানাই হতো না, যে আমার জীবনেও ভালোবাসা আসা সম্ভব, আমার ভারও কেউ নিজের ইচ্ছেয় কাঁধে তুলে নিতে পারে। তুমি আমাকে নিশ্বাস নিতে শেখালে। তার আগে আমি কী করছিলাম বলো তো?

    রুদ্ধশ্বাসে ছুটছিলাম।

    নিশ্বাস বন্ধ করে দৌড়োচ্ছিলাম।

    কোনো কিছুর দিকে নয়।

    কোনো লক্ষ্য ছিল না।

    গন্তব্য ছিল না কোনো।

    ”সামনে মরুভূমি না অরণ্য, খাদ না সমুদ্র, কিছুই খেয়াল ছিল না আমার, কখনও সমুদ্রের নোনাজলে ডুবেছি—ভেসেছি, কখনও মরুভূমির নির্জল আগুনে পুড়েছি, গলা বুক শুকিয়ে ঠাঠা, আবার কখনও খাদে পড়ে গেছি।

    ”সেই খাদ থেকে আর ওঠা যায় না, বিম। তুমি হাত ধরেছিলে, তুমি টেনে তুলে এনেছিলে অনেক ওপরে—কিন্তু আমার যে পা আটকে গেছে পাথরে। সেই খাদ আমাকে আজ টেনে নিয়ে যাচ্ছে তোমার কাছ থেকে, টুবলুর কাছ থেকে, অনেক, অনেক দূরে। কে জানে কোন গভীরে। সেখানে হয়তো আমার মা—ও আছে। মা—ও তো খাদেই ঝাঁপ দিয়েছিল। আমাকে ফেলে। আমি কিন্তু কক্ষণো এই খাদে ঝাঁপ দিতাম না বিম, বিশ্বাস করো আগেই যদি টুবলুকে পেয়ে যেতাম। কক্ষণো না। মালু বোঝে আমার কথা। ভাগ্যিস মালুর সঙ্গে দেখা হয়েছিল? মাই ওনলি ফ্রেনড!

    ”টুবলু যে এল বড্ড দেরি করে। তুমিও যে অনেক দেরিতে এলে, বিম। তখন ঘণ্টা বেজে গিয়েছে, ট্রেন প্ল্যাটফর্ম ছাড়ছে, মুহূর্তের মধ্যে দ্রুতবেগে ছুটে যাবে আমাকে নিয়ে। আমি যে রওনা হয়েই গিয়েছিলাম!….”

    .

    ”টুবলু যেন আমাকে মাপ করে দেয়। তুমি ওকে আমার কতা বুঝিয়ে বোলো। তুমি পারবে। মালু পারবে। এখন কেবল রুমাল ওড়ানোর সময়। জানলায় বসে থাকা। এখন কেবল হাত নাড়া। শেষে চুমু উড়িয়ে দেওয়া বাতাসে।

    .

    ”তারপর মনে মনে কথা।….”

    .

    ”কেতকীর সঙ্গে এখন আমার মনে মনে কথার দিন। টুবলুর সঙ্গেও কেতকীর কথা হয়। মনে মনে। টুবলুর সঙ্গে তার মায়ের খুব ভাব। কেতকী যা চেয়েছিল তা পেয়েছে। টুবলু তার মায়ের মেয়ে—মা—ই তার বেস্ট ফ্রেন্ড। মালবিকার কাছে টুবলু অনেক গল্প করে, মায়ের গল্প। কেতকী ছিল মা—হারা মেয়ে। তিন বছর মাকে পেয়েও পায়নি। টুবলুর চোদ্দ মাসে কেতকী চলে গেছে—কিন্তু টুবলু মা—হারা মেয়ে নয়। আপ্রাণ চেষ্টায় তার কাছে আমি পৌঁছে দেবার চেষ্টা করেছি তার মাকে। তার কাছে—না—থাকা মা যেন তার অস্তিত্বকে আড়াল করে রাখে। ছায়া দিয়ে ঘিরে রাখে। স্নেহে। কেতকী বলেছিল, স্নেহ চিরন্তন। যে—স্নেহ ওকে দেননি ওর গর্ভধারিণী। তাই চিরদৈন্যদশায় রয়ে গিয়েছিল কেতকী। মা নেই তবুও টুবলুর অঞ্জলি পরিপূর্ণ। তার ছোট্ট জীবনে কোনো দৈন নেই, স্বপ্ন দিয়ে ভরে নিয়েছে সে তার রুগণ, ছোট্ট বুক। ভালোবাসায়, আর ভালোবাসার স্বপ্নে। আদরে আদরে মহারানী হয়ে আছেন তিনি, এবং তার মা জননী। দুজনেই। এই সংসারে কেতকী এখনও উপস্থিত। টুবলুর মা না থাকলে চলবে কেন?

    ”এই ব্যাপারে আমাকে যে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে, সে মালবিকা। মালুই কেয়ার একমাত্র বন্ধু—জীবনের শেষ ধাপে এসে কেয়া একজন বন্ধু পেলো, মালুর মতন বন্ধু। টুবলুর জীবনে কেতকীকে, মা—কে অধিষ্ঠিত করার কাজে মালুরও প্রচুর সাহায্য পেয়েছি। অদৃশ্য মা—কে টুবলুর মনে জীবন্ত রেখেছি আমরা দুজনে মিলেই। মালবিকার কাছে এজন্য আমার কৃতজ্ঞতা অসীম।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরামধন মিত্তির লেন – নবনীতা দেবসেন
    Next Article একটি ইতিবাচক প্রেমকাহিনী – নবনীতা দেবসেন

    Related Articles

    নবনীতা দেবসেন

    মায়া রয়ে গেল – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    নবনীতা দেবসেনের গল্প

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    করুণা তোমার কোন পথ দিয়ে – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    হে পূর্ণ, তব চরণের কাছে – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    ভ্রমণের নবনীতা – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    ভ্রমণ সমগ্র ১ – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }