Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    উড়াল – নবনীতা দেবসেন

    নবনীতা দেবসেন এক পাতা গল্প127 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    উড়াল – ১৩

    তেরো – মালবিকার ডায়েরি

    ট্রেনে যেতে যেতে পড়বো বলে তুলে নিয়েছিলাম কাগজ। পাশের সীট থেকে। কেউ পড়ে ফেলে রেখে গিয়েছে। বেওয়ারিশ কাগজ তুলে নেওয়াতে কোনও দোষ নেই। হামেশাই ঘটছে আন্ডারগ্রাউনডে। কে আর পড়া—কাগজ বয়ে বেড়াতে চায়? একটা সানডে সাপ্লিমেন্টের কয়েকটা পৃষ্ঠা। উলটে পালটে দেখছিলাম কী কী খবর আছে। হঠাৎ একটা বাচ্চার ছবি। সিঁড়ির ওপরে বসে আছে গালে হাত দিয়ে। হাসিহাসি মুখ, মস্তবড় একখানা চশমার পিছনে ঝকঝকে দুটি চোখ। গালে হাত দিয়ে, মাথাটি একদিকে হেলিয়ে ঠোঁট টিপে হাসছে। যেন একটা গোপন রসিকতা করছে আমাদের সঙ্গে। একমাথা ঝাঁকড়া চুল এলোমেলো হয়ে কপালের ওপর, কান ঢেকে, মুখের চারিপাশে ঝামরে পড়েছে। যেন খুদে আইনস্টাইন বসে আছেন তাঁর ডেস্কে। বসে, প্রেস ফোটোগ্রাফারকে ‘পোজ’ দিয়েছেন। মুখে হাসি, সেই হাসির মায়ায় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে চোখ, কিন্তু চঞ্চলতা নেই সেই চোখে। বরং একটু চাপা ক্লান্তির রেশ। ছোটো পা দুটি মাটিতে রাখা, তাতে বড় বড় এক জোড়া গামবুট। কার পথ চেয়ে সিঁড়িতে বসে আছে ছেলেটা?

    সঙ্গের হেডিংটা পড়লুম। ”ছোট্ট জনির শেষ ক’দিন।” বক্সের বিবরণ, লিউকিমিয়াতে অসুস্থ ছেলেটি একটি ডায়েরি রেখেছিল। তার শেষ ক’টি দিনের ভাবনা। ছেলেকে বিদায় দেবার পরে আট বছরের জনির শেষ ভাবনাগুলি তার মা—বাবা কাগজে ছাপিয়ে দিয়েছেন।

    কচি মুখটার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে আমি ওই ছবিটার মধ্যে অন্য একটি কচি মুখ দেখতে পেলাম, যেটি আমার খুব চেনা, আদুরে মুখটার প্রায় আধখানা ঢেকে ফেলেছে মস্ত বড় গোল চশমা—এই ছবিটা ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট—আমি মনে মনে যে মুখটি দেখতে পাচ্ছি তার ফ্রেমটার রং গোলাপীর সঙ্গে সোনালি চিকিরমিকির, মুখখানি নীরক্ত বাদামী। কোঁকড় ঝাঁকড়া চুলগুলো আরেকটু বড় বড়, কাঁধে লুটোচ্ছে। পরনে গোলাপী ফ্রক—তাতে আপেল, কমলালেবুর ছাপ। ছোটো ছোটো পায়ে বুটের বদলে একজোড়া নরম কাপড়ের জুতো—শাদার মধ্যে হালকা নীল, সোনালি—রুপোলি বুটিদার… মুখের মধ্যে আশ্চর্য একটা মায়া মাখানো—যেন এই পৃথিবীর কেউ নয় সে….

    টুবলুও ভারি সুন্দর সুন্দর কথা বলে। কিন্তু টুবলুর বেলায় আমরা তো কোনো ডায়েরি রাখছি না? টুবলুর কিছু কথা, কিছু স্বপ্ন অবশ্য এলোমেলো টুকে রাখি আমি কিন্তু সে তো এরকম সুষ্ঠু ডায়েরির মতো নয়। কেতকীর শেষদিকের কথাও কিছু কিছু লিখে রেখেছিলেন বিমলদা। কিছুই ঠিকঠাক গুছিয়ে রাখা হয়নি, প্রকাশযোগ্য করে তো নয়ই। আমরা বাঙালিরা বড়ই অলস, আবেগপ্রবণ। ওরকম গুছিয়ে ভাবনার স্বভাব নয় আমাদের। রুণা ইদানীং টুবলুর কিছু কিছু ভিডিও তুলে রাখছে—কেতকীর বেলায় হয়নি। রুণা যে তখন ছোট্ট ছিল। ওর এই ভিডিও ক্যামেরাটি ষোলো বছরের জন্মদিনের উপহার। ও তো ফিল্ম মেকিং পড়ছে।

    খবরের কাগজে পথের ধারে সিঁড়ির ওপরে প্রতীক্ষায় বসে থাকা বাচ্চার ছবিটা দেখে, ছেলেটার বসার ভঙ্গিটি দেখে মনে পড়ে গেল আরেকজনের কথা—আরেকটা ছোটো ছেলেকে। সেই ছেলে জানলার ধারে বসে বাইরে চেয়ে থাকতো সারাদিন। জীবনকে গভীরভাবে স্পর্শ করতে চেয়ে। তার নাম অমল। অমল যে এমনভাবে আমার জীবনকে জুড়ে বসবে, কখনও ভেবেছিলাম? ‘ডাকঘর’ তো সবার মতোই আমিও পড়েছিলাম। কিন্তু সেই অমলের সঙ্গে আমার যে সত্যি সত্যিই দেখা হয়ে যাবে, তা কল্পনাও করিনি। ওই তো ছোট্ট জনি তার সিঁড়ির ওপরে বসে আছে ডাক—হরকরাদের প্রতীক্ষায়।

    সেও জানে তার চিঠি আসছে।

    টুবলুও জানে।

    টুবলুও এমনিই বসে আছে, পথের ধারে, মনে মনে, চিঠির অপেক্ষায়।

    .

    এমনিভাবেই, অবিকল এমনিভাবে, বড় বড় চশমার পিছনে আরও দুটো চোখ ভেসে থাকে, এমনি আকুল বিশ্বাসে, প্রতীক্ষায়। টুবলুকে দেখতে দেখতে আমারও অমলের কথা মনে পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমিই প্রথম নই। ডাঃ কোচেক প্রথম।

    .

    কার যেন একটা লেখায় একবার পড়েছিলাম, নামটা ঠিক মনে পড়ছে না, বোধহয় নবনীতা দেবসেনই হবে, ইস্রায়েলের একটা আশ্চর্য যাদুঘরের কথা। জেরুসালেমের কাছাকাছি একটা ছোটো পাহাড়ের মাথায় ইয়াদ ভাশেম (YAD VASHEM) নামে একটি স্মৃতি—সৌধ আছে। স্মৃতি—সৌধ না শোক—সৌধ। জর্মনির কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে মৃত শত সহস্র নিরপরাধ ইহুদী নরনারী ও শিশুর জন্য এই স্মারকনিধিটি যেন দীর্ঘনিশ্বাস আর অশ্রু দিয়ে গড়া। সেই ইয়াদ ভাশেমেই রয়েছে অত্যাশ্চর্য একটি ব্রোঞ্জের মূর্তি। একটি বয়স্ক মানুষের সঙ্গে একদঙ্গল বালকবালিকা একসঙ্গে, একলক্ষ্যে চেয়ে রয়েছে। ডক্টর কোচেক ও তাঁর অনাথ শিশুরা। ডক্টর কোচেক ছিলেন পোল্যান্ডের একজন ডাক্তার। নিজে ইহুদী না হলেও তিনি হিটলারের রাজত্বে সন্ত্রস্ত চল্লিশজন ইহুদী শিশুকে নিজের কাছে আশ্রয় দিয়েছিলেন। তাদের নাৎসীদের হাতে তুলে দেননি। যতদিন সাধ্য শিশুগুলিকে রক্ষা করেছিলেন, কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। যেদিন বাচ্চাদের ধরতে সৈন্যরা আসছে, তারা আগে থেকে ডক্টর কোচেককে খবর দিয়েছিল, যাতে তিনি সময়মতো পালিয়ে যেতে পারেন। তিনি তো ইহুদী নন। ডক্টর কোচেক অবশ্য পালাননি। আশ্রিত বাচ্চাদের সঙ্গে নিয়ে স্বেচ্ছায় বন্দিত্ব স্বীকার করে নিয়েছিলেন। তাঁর দায়িত্বে যে শিশুরা ছিল তিনিও আমৃত্যুই তাদের অভিভাবক, তাদের বন্ধু, তাদের মা—বাবা হয়ে সঙ্গে সঙ্গে ছিলেন।

    কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে থাকাকালীন ডক্টর কোচেক ওই বাচ্চাগুলিকে নিয়ে একটি আশ্চর্য নাটক অভিনয় করিয়েছিলেন। কোনো ভারতীয় কবির লেখা বড় অদ্ভুত এক নাটক। নিজেই ঐ নাটকটি ইংরিজি থেকে পোলিশে অনুবাদ করে নিয়েছিলেন তিনি—ছোট্ট অমলের কাহিনী। ছোট্ট অমলের কাছে রাজার চিঠি আসার কাহিনী।

    তিনিও চেয়েছিলেন তাঁর শিশুদের প্রস্তুত করে নিতে, যা অবধারিত তারই জন্য। অমলের নাটক অভিনয় করতে করতেই বাচ্চারা বুঝে নিয়েছিল অমলের ঐ চিঠির জন্যে অপেক্ষা করার অর্থ কী। শিখেছিল কেমনভাবে প্রস্তুত থাকতে হয়। আরও জেনেছিল মৃত্যুই শেষ কথা নয়।

    সুধা কিন্তু অমলকে ভোলে না।

    আমি ইনটারনাল মেডিসিনের ডাক্তার। ‘টার্মিনালি ইল’ শিশুদের ওয়ার্ডে গেলেই ডক্টর কোচেকের ‘ডাকঘর’ অভিনয় করানোর কথাটা আমার মনে পড়ে যায়। হ্যাঁ, টুবলুর সঙ্গে যথাসাধ্য ‘স্বাভাবিক’ আচরণই করছি আমরা—যে ক’টা বছর ওকে কাছে পেয়েছি।

    ওর মা জেনে যায়নি যে তার টুবলুর জন্যে একটা আলাদা জীবনসূচী তৈরি করে দিয়েছিলেন ঈশ্বর। ভাবখানা এই, যেন ছ’বছরের বাচ্চা মেয়েদের জীবন তো এইরকমই হবার কথা, এতে আশ্চর্যের কী আছে?

    .

    বিমলদা ভাবেন, টুবলু যে চলে যাবার জন্যে অমনভাবে নিজেকে প্রস্তুত করে নিয়েছে তার সবটা কৃতিত্ব আমার। কিন্তু আমি জানি সেটা ঠিক নয়। আমি যদি এই হাসপাতালের ডাক্তার না হতাম, আর টুবলু যদি আমার তত্ত্বাবধানে না—ও থাকতো, তবুও, আমার দৃঢ় বিশ্বাস—টুবলু নিজেকে নিজে—নিজেই ঠিক তৈরি করে নিতো। অবিকল এমনিভাবেই। যেভাবে ও তৈরি হয়েছে। ওর এই সহজ প্রস্তুতির মধ্যে ডাক্তারীবিদ্যের চেয়ে বেশি কারিকুরি বিমলদার, আর রূপকথার। টুবলুকে প্রস্তুত করেছেন তিনিই যিনি ওকে সৃষ্টি করেছেন। ঈশ্বরের করুণা ভিন্ন ওইভাবে একটি শিশু কি নির্ভয়ে মৃত্যুর দিকে করমর্দনের হাত বাড়িয়ে দিতে পারে?

    কি জানি, হয়তো শিশুরাই পারে। যাদের আত্মা অমলিন। যাদের বুকের মধ্যে এখনও অন্ধকারের চোরা বাতাস লাগেনি, আছে কেবল সরল বিশ্বাসের ম্যাজিক। সেই দৈব যাদুর কাছে মৃত্যু হার মানে। সারল্যের শক্তি যে কত প্রবল হতে পারে তা আমারও জানা ছিল না। এতদিন আমিও ভাবতাম ছোটরা বুঝি কোমল, ছোটরা বুঝি দুর্বল। কোমল? নিশ্চয়ই। কিন্তু দুর্বল? মোটেই না। এটা শিখলাম টুবলুর কাছে।

    বিমলদাকেও তো দেখলাম। প্রিয়জনদের একটু একটু করে মৃত্যুর অতল গহ্বরে নেমে যেতে দেখছেন—অসীম ধৈর্যে, অসীম স্নেহে, অসীম ক্ষমায় স্ত্রীকে সেবা করে গেছেন। শেষ দিন, শেষ মুহূর্তটি পর্যন্ত পাশে ছিলেন, কেতকীর ক্ষীণ সরু হাতটি নিজের মুঠোর মধ্যে নিয়ে। ছেড়ে দেননি।

    .

    বিমলদাকে দেখতাম কেতকীকে শুশ্রূষা করছেন, আপ্রাণ যত্ন করছেন আর আমি ভাবতাম আমার মায়ের কথা।

    আমার রোগা মা বারান্দাতে তোলা উনুন নিয়ে ভাত বসাচ্ছেন—বৃষ্টিতে উঠোন ভেসে গেছে, গোয়াল ভাসছে, রান্নাঘর ভেসে গেছে—মা কাঁথা জড়িয়ে ধুম জ্বরে কাঁপতে কাঁপতে ট্যাংরামাছের ঝাল বসাচ্ছেন বাবার জন্য। বাবা গ্রামের স্কুলের সামান্য মাস্টারমশাই—মেজাজখানা জমিদারি বলব, না মিলিটারি বলব? আমরা পর পর ছ’টি ভাইবোন। মাকে চিরকালই রুগণ দেখেছি, মাঝে মাঝেই জ্বর হতো মায়ের, উঠতে পারতেন না, আমরাই রান্নাবান্না করতাম, ভাইবোনদের কাঁথাকানি কেচে দিতাম—আমরা মেয়েরাই শুধু না—আমার দাদাও ভাত রাঁধতে, কুটনো কুটতে পারতো। কিন্তু আমরা বাবাকে ভাত বেড়ে দিলে বাবা খেতেন না।—থালাটা টান মেরে উঠোনে ফেলে দিয়েছেন, ভাত—তরকারি ছড়িয়ে পড়েছে, আমরাই থালাটা কুড়িয়ে এনে মেজে রেখেছি। যতই অসুস্থ হোন বাবার জন্য মাছটা অন্তত মাকে রান্না করতেই হবে—নইলে কুরুক্ষেত্র। এ দৃশ্য আমরা দেখেছি। মা কিছুই বলেননি কোনোদিন—ঘোমটা টেনে বাবার খিদমত খেটেছেন, আর জ্যাঠামশাইয়ের হুকুম তামিল করেছেন। জ্যাঠামশাই ছিলেন অবিবাহিত, আধাসন্ন্যাসী, কীসব তান্ত্রিক পুজো—আচার, জপতপ করতেন, জ্যাঠামশাইকে আমরা সকলেই ভয় পেতাম। আমাদের মিলিটারি বাবাও জ্যাঠামশাইয়ের মুখের ওপর কথা বলতেন না। মা জ্যাঠামশাইয়ের সঙ্গে কথাই বলতেন না। ঘোমটা টেনে পুজোর যোগাড় করে দিতেন—খাবার বেড়ে দিয়ে আমাদের বলতেন জ্যাঠামশাইকে ডেকে দিতে।—ভয়ে কাঁটা হয়ে থাকতেন সর্বদা। সেই মা আর জ্যাঠামশাই এখন গ্রামের বাড়িতে—দুটি প্রাণী। বাবা মারা গেছেন, ছ’জনের মধ্যে আমরা পাঁচজন আছি—দাদা সত্তরের বলি। পাঁচজন পাঁচদিকে ছড়িয়ে পড়েছি—মা একা। এখন মা জ্যাঠামশায়ের সঙ্গে কথা বলেন, ভাববাচ্যে বলেন। আমি বিদেশ আসার আগেই দেখে এসেছি।

    বিমলদার কেতকীকে যত্ন করা যত দেখি, তত আমার বাবার কথা মনে পড়ে।

    জ্বরে লালচোখে আমার রুগণ মা’র কাঁথা জড়িয়ে বাবার জন্য ট্যাংরামাছের ঝাল রান্নার দৃশ্য আমার চোখে কাঁকরের মতো জড়িয়ে যায়। উঠোনে ছড়িয়ে ফেলে দেবার মতো উদ্বৃত্ত অন্ন আমাদের ঘরে ছিল না—মাকেই না খেয়ে থাকতে হতো, বাবাকে নতুন করে ভাত দেবার পরে।

    মা’র ওপরেই রাগ হতো। কেন? কেন সহ্য করেন বাবার অত্যাচার? জ্যাঠামশাই অত্যাচারী ছিলেন না, কিন্তু তিনি অবুঝ, অসংসারী মানুষ।

    আমাদেরও সাহস ছিল না বাবার কাজের ওপর কথা বলবার। তাই একটু বড় হয়েই এক এক করে আমরা বাড়ি ছেড়েছি—বাবাকে ছেড়েছি। প্রথমে দাদা। তারপর মেজদা। যেই দাদা—মেজদা কলকাতায় চলে গেল, আমিও সুর ধরলাম। তারপর বাচ্চু, তারপর সাগরিকা, সুচরিতা—একে একে সকলেই চলে এলাম। আর ফিরিনি। সবাই নিজস্ব জীবন খুঁজে নিয়েছি। আর দাদাকে খুঁজে নিয়েছে মহাজীবন।

    কেতকীকে বিমলদা হাতে করে খাইয়ে দিয়েছেন কতদিন। সম্পর্কটায় যেন পিতৃস্নেহের মায়া মাখানো। বয়েসে অনেক ছোট, কেতকীর প্রতি বিমলদার প্রেমের মধ্যে নিম্নগামী স্নেহের লক্ষণটাই ছিল বেশি। বারবার আমার মনে মায়ের সঙ্গে তুলনা ভেসে উঠত—মাও ছিলেন বাবার চেয়ে অনেক ছোট, বাবার দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী। দাদার মা দাদাকে রেখে মারা গিয়েছিলেন, সেই স্ত্রীরই সম্পর্কে ছোট বোন আমাদের মা। কিন্তু বাবার মধ্যে তো এই স্নেহের চিহ্ন দেখিনি,—ছোট বলে, দুর্বল বলে, বাবা শুধু দাপটই চালিয়ে গেছেন মায়ের ওপরে। মা’র বাপের বাড়ি ছিল না। পালাবার, লুকোবার ঠাঁই ছিল না মা’র।

    .

    বিমলদাকে না দেখলে আমার মনে জীবন বিষয়ে, মানুষের—সঙ্গে—মানুষের সম্পর্ক বিষয়ে অনেক ভ্রান্তি থেকে যেত। বাবা, জ্যাঠামশাই, তারপরে আমার স্বামী, জাফর। জাফরের হাতে মার খেয়ে আমার চৈতন্য উদয় হয়েছিল—জাফরের সন্তানকে ফেলে রেখে চলে আসতে সাহস পেয়েছিলাম। মনে হয়েছিল বড় হলে সেও তো জাফরই হবে। বিমলদা আমাকে আশ্চর্য একটা ভালোবাসার পৃথিবীর, ত্যাগের পৃথিবীর ঠিকানা দিলেন যে ঠিকানার খবর আমার মা কোনোদিন পাননি। আমার আজকাল একটা কথা মাঝে মাঝে মনে হয়। মাকে আমার কাছে নিয়ে আসি না কেন? জ্যাঠামশাই? জ্যাঠামশাইকে তাঁর ঠাকুরদেবতারাই দেখাশুনো করতে পারবেন।

    সন্ন্যাসী মানুষের অত সেবা লাগবে কেন? মাকে আমার কাছে নিয়ে এসে দুদিন বিশ্রাম দিই না কেন? একটু আদর করি না কেন? মা তো জীবনে কোনোদিন বিশ্রাম পাননি, আদর জানেননি।

    .

    বিমলদা এখন আগলে রয়েছেন টুবলুকে। একজন ব্যস্ত ডাক্তার যে এমনভাবে সব কাজ ফেলে একটি শিশুর পাশে আত্মনিবেদিত হয়ে থাকতে পারে, এটা যে—কোনো দেশেই অতি দুর্লভ দৃশ্য। অথচ শিশুটি সত্যি সত্যি সত্যি বিমলদারই সন্তান কিনা, তাও জানা নেই—বিমলদাই ডি.এন.এ. টেস্টে রাজী হননি। পাছে স্বপ্ন ভাঙে।

    —”আমি এবার ঠিক পাখির মতন উড়ে যাব মালু, মেঘের মতন আকাশ দিয়ে ভেসে যাব, তোমরা ঠিক দেখো, আমি তো উড়তে জানি—” এটা টুবলুর মুখের ভাষা। এই পাখি—হয়ে উড়ে— যাওয়ার খেলাটি ছোট্টবেলা থেকে টুবলুর সবচেয়ে প্রিয় খেলা ছিল। মুখ নিচু করে ঝাঁকড়া মাথাটি অনেকখানি সামনে ঝুঁকিয়ে, দুটি হাতকে পিছনদিকে পিঠের ওপর ডানার মতন উঁচিয়ে তুলে ধরে, মুখে কিচিরমিচির শব্দ করতে করতে ছোট্ট এত্তোটুকুনি শরীরটা ছুটে যাচ্ছে—”টুবলু! টুবলু! ওয়াচ আউট! টুবলু, মুখ তোলো, ধাক্কা লাগবে সোনা, থামো, সামনে টেবিল!” —আমরা চেঁচাচ্ছি। কিন্তু কে কার কথা শোনে! টুবলুর মুখ নিচু, কিচির মিচির বন্ধ করে খিল খিল হাসতে হাসতে ছুটে যাচ্ছে। দৌড়ে গিয়ে যদি জড়িয়ে না ধরতাম, বিরাট ধাক্কা খেত মেয়েটা সেদিন ডাইনিং টেবিলের পায়ার সঙ্গে। মানুষটা তো এত্তোটুকুন, কিন্তু তার জেদ কতখানি! মায়ের মতোই একগুঁয়ে মেয়ে। কোনদিন সত্যি সত্যি উড়ে পালাবে!

    .

    ‘ছোট্ট জনির দিনলিপি’ আমি ভাঁজ করে ব্যাগে ভরে এনেছি। আবার পড়ব। লেখাটা হাসপাতালে রেখেছি। সেখানে আরও জনি রয়েছে। আরও অমল। এ দিনলিপি তাদেরও।

    তবু চেষ্টা করে যেতে হয়। ডাক্তার হয়েছি যখন, তখন মৃত্যুর মোকাবিলা আমাকে করতেই হবে। আমার যুদ্ধ তো তারই সঙ্গে। কিন্তু বিজ্ঞানই শেষ হাতিয়ার নয়—বিজ্ঞান জবাব দিলে, বিশ্বাস শেষ হাতিয়ার। সেই হাতিয়ারের যোগান, হায়, ডাক্তারি শাস্ত্র দিতে পারে না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরামধন মিত্তির লেন – নবনীতা দেবসেন
    Next Article একটি ইতিবাচক প্রেমকাহিনী – নবনীতা দেবসেন

    Related Articles

    নবনীতা দেবসেন

    মায়া রয়ে গেল – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    নবনীতা দেবসেনের গল্প

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    করুণা তোমার কোন পথ দিয়ে – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    হে পূর্ণ, তব চরণের কাছে – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    ভ্রমণের নবনীতা – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    ভ্রমণ সমগ্র ১ – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Our Picks

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }