Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    উড়াল – নবনীতা দেবসেন

    নবনীতা দেবসেন এক পাতা গল্প127 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    উড়াল – ২

    দুই – বিমল

    সেই শুক্রবারের পরে মাঝে মাঝে দেখা হয়েছে আমাদের। সেন্ট্রাল পার্কে দুপুরবেলা পা ছড়িয়ে ঘাসের ওপর বসে কেতকী গেয়েছে ”আমার মুক্তি আলোয় আলোয়…” তারপরেই আইসক্রিম খেয়েছে, গলা নষ্ট হবে কিনা ভাবেনি। যখন যেটা ইচ্ছে করে, তখন সেইটেই করা চাই। আমি ওকে দেখি আর মায়ায় মনটা ভরে যায়। এত অদ্ভুত অদ্ভুত কথা বলে মেয়েটা। একদিন রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে কতগুলো ল্যাম্পপোস্ট দেখিয়ে বলল—”এই বাতিগুলোকে লক্ষ্য করেছেন? একদম নতুন। কত বেশি আলো হয়। আর শাদা রঙের আলো। ঠিক মনে হয় চারদিক যেন চাঁদের আলোতে ঝলমল করছে। দেখুন আকাশে কি চাঁদ আছে? নেই তো। অথচ এখানে জ্যোৎস্না! রাস্তার আলো যে এরকম ম্যাজিক্যাল হতে পারে কখনও ভাবিনি।” বলেই গান ধরলো—”ও আমার চাঁদের আলো/আজ ফাগুনের পূর্ণিমাতে। ধরা দিয়েছো—” একটুখানি গেয়েই হঠাৎ থেমে গেল। চুপ। একেবারেই স্তব্ধ।

    —”কী হলো? গাইবে না?”

    —”নো, পূর্ণিমার গান আমি গাই না। পূর্ণিমা আমার ভালো লাগে না, অত বড় চাঁদ দেখলে আমার কেমন গা ছমছম করে, ভয় করতে থাকে। মন খারাপ হয়ে যায়, … নো, আই অ্যাম নট আ পূর্ণিমা—পার্সন! আমার বাবা অমাবস্যাই ভালো। আমার আঁধার ভালো—ও আমার আঁধার ভালো—”

    আবার গলায় সুর এসে গেল। তারপর,

    —’কী আনফেয়ার দেখুন। পূর্ণিমার জন্য কত গান। অথচ অমাবস্যার গান নেই।”

    —”অমাবস্যার গান আছে কিনা আমি জানি না কেতকী, থাকতেই পারে—একটা কবিতা আছে কিন্তু অমাবস্যার। শুনবে? ঠিক অমাবস্যার নয় অবশ্য, পূর্ণিমা আর অমাবস্যা দুটোকে মিলিয়ে।

    আমার বক্ষের মাঝে

    পূর্ণিমা লুকানো আছে

    সেদিন দেখেছো শুধু অমা

    দিনে দিনে অর্ঘ্য মম

    পূর্ণ হবে প্রিয়তম

    আজ মোর দৈন্য করো ক্ষমা”—

    —”অমা মীনস অমাবস্যা? শর্ট ফর্ম?”

    আমি মাথা দুলিয়ে হ্যাঁ বলি।

    কেতকী হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ল।

    —”এ কী… তোমার রাস্তাটা ছাড়িয়ে এলাম নাকি?”

    ওকে বাড়িতে এগিয়ে দিচ্ছিলাম। সোহো অঞ্চলে। আজই প্রথম এগিয়ে দিচ্ছি। হঠাৎ থেমে গেল কেন?

    —”কিছু ফেলে এসেছো?”

    ব্যাপার বুঝতে না পেরে আমিও দাঁড়িয়ে পড়ি।

    —”ফীলিং সিক?’

    ওর পিঠে হাত রাখি। নাড়ী দেখবো কিনা ভাবি। হলো কী মেয়েটার?

    দাঁড়িয়ে পড়ে চোখ বুজে কেতকী বুকে হাত রেখে নিজের হৃৎস্পন্দন অনুভব করলো একটুক্ষণ। তারপর বললো—”কি আশ্চর্য! এ তো আমারই কথা। কার লেখা?”

    —”তোমার নাম কেতকী, আর তুমি ‘শেষের কবিতা’ পড়োনি। রবীন্দ্রনাথ।”

    —”বলেছি তো আমি কোনো কবিতাই পড়িনি। কি শেষের কি বিগিনিংয়ের। আমি কি বাংলা বইটই পড়েছি নাকি? আয়াম ইললিটরেট ইন লিট—শুধু নিজের সাবজেক্টটুকুই পড়েছি, ইউ নো হাউ সায়েন্টিস্টস আর!”

    —”সায়েন্টিস্টদের দোষ দিও না বাছা, আমি নিজেও তো তাই! ভুলে গেলে? দোষ মারিহুয়ানা দিল্লির। কলকাতাতে বড় হতে যদি, ‘শেষের কবিতা’ পড়তেই হতো ষোলো বছর বয়সে।

    ”বাই দি ওয়ে তোমাকে বলেছিলাম ওটা কবিতার বই না, রবীন্দ্রনাথের শেষ উপন্যাস। তারই মধ্যে অনেক অসামান্য কবিতা আছে।”

    —”ঠিক আছে বাবা—অল ইজ নট লস্ট—এখনও তো পড়া যায়? ষোলো বছর বয়েস নয় বলে কি বইটা পড়া বারণ? আরম্ভ করে দেব এবারে—আই ক্যান রীড বাংলা—’গীতবিতান’ পড়ব বলে বাংলা শিখেছিলাম না? একটু দেরি হয় পড়তে, দ্যাটস অল—”

    ওর বাড়ির রাস্তা এসে গেল।

    —”থ্যাংক ইউ ফর ওয়াকিং মি হোম—ওকে, দেন? গুড নাইট—” বলে রাস্তা থেকেই বিদেয় করে দিচ্ছিল আমাকে।

    —”কোনটা তোমার বাড়ি?”

    —”ওই ভিতরদিকে।”

    —”চলো, বাড়ি অবধি যাই।”

    —”নো নীড। এ তো আমার পাড়া, এভ্রিবডি নোজ মি। এটা খুব সেফ এরিয়া, এই রাস্তাটুকু একাই যেতে পারব—”

    আমি তবু হেঁটে গিয়েছিলাম ওর পাশে পাশে। গুন গুন করতে করতে যাচ্ছিল। বাড়ির সামনে এসে থামলো। একটা পুরনো ভাঙাচোরা ওয়্যারহাউস। কয়েকজন শিল্পী ছেলেমেয়ে মিলে একসঙ্গে একটা অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়েছে, কমিউন করে থাকে। কেউ গাইয়ে, কেউ বাজিয়ে, কেউ ছবি আঁকে।

    ”কার বাড়ি?”

    ”একজন আর্টিস্টের। ছেলেটি এসেছিল হল্যান্ড থেকে। তারপর থেকেই গিয়েছে। নিউ ইয়র্কের মায়াজাল। ছিঁড়ে বেরুতে পারেনি। আমার মতোই।”

    ভিতরে গেলাম শেষ পর্যন্ত। বন্ধুরা কেউ কেউ ছিল। ছুটির মেজাজ। গানবাজনা চলছে। গাঁজার গন্ধে ভরপুর। কেউ বসে, কেউ শুয়ে আছে। বেশিক্ষণ থাকলাম না, চলে এলাম। কাল ভোরেই বেরুতে হবে প্লেন ধরতে। এরা বয়েসে আমার চেয়ে অনেক ছোট। এরা অন্য প্রজন্ম। কেতকীর কল্যাণে এদের সঙ্গে চেনাশুনো হচ্ছে। অন্য, অচেনা একটা জগৎ। আমাদের ডাক্তারদের ব্যস্ত পৃথিবী, সাকসেসফুল প্রফেশনালদের পৃথিবী থেকে এদের গ্রহটা দেখতেই পাওয়া যায় না। যেখানে ‘প্রফেশন’ ‘সাকসেস’ এই দুটো শব্দই মূল্যহীন। নিরালোক।

    .

    একত্রিশে ডিসেম্বরের রাত্রে কেতকীদের সোহোর বাসায় পার্টি ছিল। সাইকিডেলিক আলো চমকাচ্ছিল অন্ধকার ঘরে, পিটারের গীটারের সঙ্গে ব্রায়ানের বংগো, আর কেতকীর গান—তারই সঙ্গে চলছে নানারকমের শীধুপান, গাঁজার সিগারেট ঘুরছে হাতে হাতে—গাঁজা নয়, মারিজুয়ানা। ওঘরে থুম মেরে যারা বসেছিল, তারা ইনজেকশনের দল। অদ্ভুত রামধনু আলোতে অন্ধকার যেন আরো গাঢ় হয়েছিল, ফাঁকে ফাঁকে ছড়ানো ছিটানো ছিল মদনমন্থিত যুগলমূর্তি—কতরকমের ড্রাগ যে চলছিল, তা ওরাই জানে। ওরই মধ্যে শীধুপানের দলে যুক্ত হয়েছি অকস্মাৎ আমিও, কখন। এই বয়েসে শিং ভেঙে বাছুরের দলে ঢুকেছি তো বটেই—কিন্তু কেমন করে যে হঠাৎ নিজেকে সঁপে দিয়েছিলাম কেতকীর আলিঙ্গনে—কী যে ঘটেছিলো সেইরাত্রে, সকালবেলায় কিছুতেই ঠিক ঠিক স্মরণ করতে পারছিলাম না। চেষ্টা করেও মনে পড়ল না কেমন করে আমি জেগে উঠলাম কেতকীর বিছানায়।

    নতুন বছর শুরু হলো এই ধন্দের মধ্যে দিয়ে। কেতকীও খুব একটা সাহায্য করতে পারলো না—ও তো হেসেই উড়িয়ে দিল গোটা ব্যাপারটা।

    —”আরে, কেউ তো কোথাও শোবে? একটা না একটা বিছানা তো লাগবেই মানুষের? না হয় আমারটাতেই ঘুমিয়েছো, তাতে কী হলো? উই হ্যাড আ লাভলি টাইম! দ্য নাইট ওয়াজ গ্রেট! রিল্যাক্স—হ্যাভ ইয়োর কফি অ্যান্ড অ্যাসপিরিন অ্যান্ড এভ্রিথিং উইল বি ফাইন।”

    .

    কয়েক সপ্তাহ পরে একদিন, আমি সদ্য হাসপাতাল থেকে ফিরেছি, জামাকাপড় বদল করা হয়নি তখনও, কেতকী এসে হাজির। লাফাতে লাফাতে। সেই প্রথম ওর আমাদের বাড়ি আসা। এর আগে আমরা বাইরেই মীট করেছি, আমিই গেছি ওদের বাসায়। রাত্রিবাস ওই একবারই, একত্রিশের রহস্যময় রূপকথায়। কেতকীকে আমার বাড়িতে দেখে মনটা খুশি হয়ে উঠল।

    —”কী ব্যাপার?”

    কেতকীর সর্বাঙ্গ দিয়ে খুশি যেন বিচ্ছুরিত হচ্ছে।

    —”এত খুশির কি হলো, কেতকী?”

    কোনো উত্তর নেই—ছুটে এসে আমাকে জাপটে ধরে প্রথমেই বিশাল এক চুম্বন—বেশ দীর্ঘস্থায়ী চুম্বন—আমার প্রায় নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল—

    —”ব্যাপারটা কী? কেতকী?” প্রায় জোর করেই ওকে একটু সরিয়ে, দু’হাত দিয়ে দূরে ঠেলে ধরে রেখে জিগ্যেস করি—’হোয়াটস দ্য ম্যাটার?”

    উত্তরে চেঁচিয়ে উঠলো কেতকী।

    —”আই হ্যাভ গ্রেট নিউজ! আই য়্যাম গোয়িং টু বি আ মাদার! গোয়িং টু হ্যাভ আ বেবি! মী! মাই ওন বেবি। অল বিকজ অফ ইউ। থ্যাংক ইউ সো মাচ—”

    দু’হাত দু’পাশে ছড়িয়ে দিয়ে চিৎ হয়ে, মুখখানাকে স্বর্গের দিকে তুলে আকর্ণ হাসিতে মুখ উজ্জ্বল করে তুলে কেতকী বলেছিল—”ওহ! হোয়াট আ গ্রেট ফীলিং।” খোলা, এলোমেলো ভ্রমরকালো চুলগুলো তার পিঠে ঝামরানো—কোমর, নিতম্ব ছাড়িয়ে হাঁটুর দিকে ঝুঁকে পড়েছিল ওর দাঁড়াবার ভঙ্গির গুণে। বাগানের মধ্যেই ঘুরতে ঘুরতে নাচতে শুরু করে দিল কেতকী।

    —”কোনওদিন ভাবতেই পারিনি—আমি মা হবো। কেতকীও মা হতে পারে। নেভার কুড ইম্যাজিন ইট। বাট ইটস ট্রু। অল বিকজ অফ ইউ!” তারপর একটু থেমে ভুরু কুঁচকে,—”ওয়েল, মোস্ট লাইকলি ইটস ইউ। অফ কোর্স আই কান্ট বি শিওর! ইউ নো হাউ ইট ওয়াজ—” বলেই হাসি… তারপরই হাত ধরে টান—

    —”কাম অন, লেটস সেলিব্রেট।”

    —ওহ! আমার মাথায় আবছায়া স্মৃতি—সেই থার্টিফার্স্ট নাইট।

    আমার যে রাত্রির বিষয়ে কিছুই মনে নেই! মাস্ট বি দ্যাট নাইট। কেতকী যদি সত্যি কথা বলে। কেতকী কি সত্যি সত্যিই এসেছে আমাকে সুসংবাদটা শোনাতে? ব্যাস, এই—ই?

    না, সে বিয়ের কথা তোলেনি। চাইলড সাপোর্টের প্রসঙ্গও তোলেনি। শুধুই আনন্দ করতে, ধন্যবাদ দিতে, সুখবরটি জানাতে তার আসা। প্রথমে আমার বিশ্বাস হচ্ছিল না, সত্যিই কোনোই স্বার্থ নিয়ে আসেনি কি আর সে মেয়ে?…

    আমি আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলাম মেয়েটার পরিপূর্ণ পাগলামির এই স্বচ্ছ চেহারা দেখে। বিয়ে, সংসার, সন্তানের দায়—দায়িত্ব চাপানোর দিক দিয়েই গেল না সে। শুধু মা হবে, এই আহ্লাদেই ভরপুর। বরং তার উল্টোপাল্টা কথাগুলো আমার অভ্যস্ত সামাজিক কানে অবিশ্বাস্য শোনাচ্ছিল। জীবনে এর বিপরীতটাই হয়ে থাকে।

    সেই মেয়ে আমাকে সম্ভাব্য জনকের ভূমিকা উপহার দিয়ে সম্মানিত করতে এসেছে বটে, কিন্তু দিব্যি নিজে নিজেই ঘোষণা করছে, ”আই কান্ট বি শিওর”—আশ্চর্য মেয়ে। সংশয়ীর ভূমিকাটা তো আমাকেই দেবার কথা ছিল? আগেভাগে সেইটেও নিজেই নিয়ে বসে আছে।

    চোখ বুজে দু’হাত ছড়িয়ে ঊর্ধ্বমুখে আধখানা চিৎ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। কিছুক্ষণ। সুখবরের আমেজটা উপভোগ করছে স্থির হয়ে। যেন উপরে কাউকে মনে মনে ধন্যবাদ দিচ্ছে। তারপরেই দৌড়ে এসে আরেকবার আমাকে জড়িয়ে ধরলো কেতকী। জড়িয়ে ধরা মানে শুধু বাহু দুটি দিয়েই নয়, যেন কেতকী তার সম্পূর্ণ সত্তা দিয়েই আলিঙ্গন করেছিলো আমাকে। আর চুমুতে চুমুতে অস্থির করে দিয়েছিল।

    —”থ্যাংক ইউ! থ্যাংক ইউ! থ্যাংক ইউ! থ্যাংক ইউ…”

    আমি তো এর জন্যে একেবারেই প্রস্তুত ছিলাম না। এই উপচে পড়া আবেগকে গ্রহণ করবার যোগ্য গভীর পাত্রও আমার হৃদয়ে ছিল কিনা, সেই মুহূর্তে আমি জানতাম না। অস্বস্তি বোধ করছিলাম—এই বন্যায় আমার বাঁধ দেওয়া দরকার। আমি কেতকীকে শান্ত করবার চেষ্টা করলাম, ”চল, চল, ভেতরে যাই।”

    ”কী ভেতরে যাবো? দূর!” কেতকী ছিটকে উঠলো—”কান্ট য়ু সী, আই ওয়ান্ট টু ফ্লাই? শ্যাম্পেন খোলো। এইখানে। বাইরে এনে, আনডার দ্যা স্কাই।

    ….বিম জাস্ট ইম্যাজিন মাই এক্সাইটমেন্ট। ডাক্তার বলে দিয়েছে, ইটস পজিটিভ, হি’জ ডেফিনিট!”

    তারপর আমার মুখের দিকে তাকিয়ে একটু থমকে থেকে মৃদুস্বরে বলল, ”ও! তোমার ভয় করছে। তুমি খুশি হওনি। তুমি ভাবছো এটা আবার কি উটকো ঝামেলা! বুঝেছি।”

    পিঠ থেকে আমার হাতটা আস্তে সরিয়ে দিয়ে, কেতকী আমার মুখের দিকে চেয়ে শান্ত গলায় বলল—”এটা আসলে আমার একলারই সেলিব্রেশন, আমার একলারই সুখবর। আমার হাতে একটু টাকা আসুক, আমিই শ্যাম্পেন খাওয়াবো তোমাকে—আই জাস্ট ওয়ান্টেড টু থ্যাংক ইউ, নট টু ইনভলভ ইউ! বিকজ—টু বি অনেস্ট—আই অ্যাম নট ইভন শিওর ইটস ইউ—আই ওয়াজ জাস্ট গ্যেসিং—ইট কুড বি হান্স, দ্য নেক্সট মরনিং, অর কার্লোস, টু ডেজ বিফোর—হু নোজ? ডোন্ট ওয়ারি বিম, তোমাকে দায়িত্ব নিতে হবে না, রিলাক্স। দ্য বেবি ইজ অল মাইন। আমার বাচ্চা শুধু আমারই—ওকে?”…

    —”আরে আরে, আমি কি তাই বলেছি?” আমি লজ্জা পেয়ে যাই।

    মেয়েটা কি অবোধ? না নির্বোধ?

    সত্যি কি এতটা সততাও সম্ভব? মেয়েটা এত সহজে এত সোজাসুজি সবকিছু বলে ফেলতে পারে। লজ্জিত হই, কেননা সত্যি আমার সন্দেহ হচ্ছিল। কেমন করে ওর মনে হলো যে ওর বাচ্চাটা আমারই। ওর তো পুরুষ বন্ধুর সংখ্যা দু’হাতের পাতায় গোনা যাবে না। আমাকে কেন ধরেছে? আমাকে ধন্যবাদ দেবার এত ঘটা কীসের? কিন্তু আমারই এখন লজ্জা করতে লাগলো। সত্যি কী স্বভাবই গড়ে দিয়েছে আমাদের সভ্যতা। প্রথমেই একটা অসদুদ্দেশ্য খুঁজি, স্বার্থ খুঁজি সবার সব কাজে; দ্বিতীয়ত, নিজের গা বাঁচাতে সচেষ্ট হই যে কোনো পরিস্থিতিতে। আমার প্রথমেই মনে হলো—এর মধ্যে ওর পক্ষে জানা সম্ভবই নয় বাবা কে? কিন্তু মেয়েটা আমাকেই বেছেছে কেননা আমিই সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত, বিত্তবান, সম্পন্ন গৃহস্থ। ওর বন্ধুদের মতো উড়নচণ্ডে ভবঘুরে নই। সংসারের নিয়মে বাচ্চার বাবা বাছতে হলে আমাকে বেছে নেওয়াই বুদ্ধির কাজ। এসব কথা বিদ্যুৎগতিতে আমার মগজে খেলে গিয়েছিল এবং সংশয়, অপ্রসন্নতা গ্রাস করেছিল আমাকে। আমার মুখ দেখে কেতকীর সেটা অনুভব করতেও সময় লাগেনি। কিন্তু এক লহমায় সে আমার সমস্ত অভ্যন্তরীণ বাধা গুঁড়িয়ে দিয়েছে তার সোজাসুজি খাঁটি কথার রোডরোলার চালিয়ে। এখন আমিই অপ্রস্তুত। সামাজিক চাতুর্য দিয়ে কি এই বন্য সততার মোকাবিলা সম্ভব? তবু চেষ্টা করি।

    —”আমি মোটেই সেকথা ভাবিনি কেতকী, হঠাৎ করে খবরটা পেলাম তো কোয়াইট আনএক্সপেকটেড—আই ওয়াজ নট রেডি ফর ইট—তাই প্রথমটায় ঘাবড়ে গিয়েছিলাম, বাট নাউ আয়্যাম হ্যাপি। হ্যাপি ফর আস বোথ—উই মাস্ট সেলিব্রেট—” যতটা বললাম ততটা হ্যাপি আমি ছিলাম না। সমস্ত মন, মেজাজ সন্ত্রস্ত, উদ্বিগ্ন, টেনসড—কেতকীর ঠিক বিপরীত অবস্থা আমার। তবুও বলে ফেললাম। কেননা তখন ওটাই বলা উচিত ছিল। তারপর কেতকীকে বুকে জড়িয়ে আদরও করলাম। করাটাই উচিত ছিল বলে। ঔচিত্যের বাইরে ভাবনাচিন্তার প্রতিক্রিয়া আমার হয় না।

    কেতকী কিন্তু বুঝতে পারলো না আমার চালাকি। আমার বুকের মধ্যে মুখ গুঁজে শরীরটাকে একেবারে আলগা করে ছেড়ে দিল। সেইভাবেই নিঃশব্দ নিষ্কম্প স্থির হয়ে রইলো বহুক্ষণ। চোখ বুজে।

    যতক্ষণ না আমি—”চলো কেয়া” বলে ওর গালে আস্তে করে টোকা মেরে ওর চেতনাকে জাগ্রত করলাম। ”এবার শ্যাম্পেনের বোতলটা আনা যাক”—মনে হচ্ছিল মেয়েটা বোধহয় ঘুমিয়েই পড়েছে। নেশা করে এসে থাকলে সেটা অসম্ভব নয়। লম্ফঝম্ফটাও যেমন স্বাভাবিক, ঘুমিয়ে পড়াটাও তেমনি। কেয়া ঘুমোয়নি। চোখ মেলে, সহজ স্বরে, ”লেটস গেট ইট” বলে ঘরের দিকে পা বাড়ালো।

    আজ ওর পরনে জীনস নেই। লং স্কার্ট, ভারতীয় প্রিন্টেড কাপড়ের। গোল হয়ে দু’হাত ছাড়িয়ে ঘুরছিল যখন, ছাতার মতো ছড়িয়ে পড়ছিল ওকে ঘিরে। নীল শাদা ছোপ ছোপ স্কার্ট, ওপরে ছোট্ট শাদা টপ। গলায় তুলসীর মালার মতো একগুচ্ছ পুঁতির মালা, কানেও তেমনি তুলসীকাঠের পুঁতির ঝর্ণাঝর্ণা দুল। কখনও টিপ পরে না। একটা টিপ পরলে খুব মানাতো ওকে ওই প্রায়জোড়া ভুরুর মাঝখানে। আর একটা ওড়না নিলেই দেশী মেয়ে। আজ ওর এই পোশাকটা জিপসীদের পোশাকের মতো।

    —”মাথায় একটা সিল্কের রুমাল বাঁধলেই, ব্যাস!”

    —”কেন, সিল্কের রুমাল কী হবে?”

    —”তোমাকে জিপসী মেয়েদের মতো দেখাতো।”

    —”আমার ভিতরটাও তো জিপসীদের মতোই দেখতে। রুমাল—টুমাল বাঁধতে হয় না। ইটস দ্য স্পিরিট!” শাদা দাঁত ঝলসে হাসলো কেতকী।

    আড়ম্বর করেই শ্যাম্পেনের বোতল খোলার ব্যবস্থা করি। আইস বাকেটে প্রচুর বরফ ভরে, তার মধ্যে বনেদী কায়দায় বসানো হলো শ্যাম্পেনের বোতলটি। ঠাণ্ডা হোক আগে।

    .

    বাচ্চা নিঃসন্দেহে কেতকীর। কিন্তু তার বাবাটি আমি কিনা, সন্দেহ আছে।

    কেতকী নিজেই নিশ্চিত নয়। আমি তো নই—ই। কেতকীর যেকরম ছন্নছাড়া জীবনযাত্রা, তাতে ও যতই এখন আকুলভাবে চাক, পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে একটি শিশুকে মানুষ করে তোলা ওর পক্ষে শেষ পর্যন্ত কতটা সম্ভব হবে সন্দেহ আছে। সেদিক থেকে, শিশুটির জীবনে বোধহয় একটা বাবা থাকাই মঙ্গল। ধরে নিচ্ছি বাচ্চাটা আমার নয়। তবুও আমি যদি তাকে পালন করি—আমার ক্ষতি নেই, কিন্তু তার সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল। আর যদি সে আমারই সন্তান হয়? আর আমি তাকে পালন না করি? তাতে শুধু তারই অমঙ্গল নয়, আমারও গভীর ক্ষতি। অতএব, বাচ্চা যারই হোক আমার পক্ষে উচিত হবে তাকে নিরাপত্তা দেওয়া। যদি আমারই বাচ্চা হয়, তাকে অমন পথে—বিপথে উড়তে—পুড়তে ছেড়ে দেওয়া অসম্ভব। আর যদি আমার সন্তান নাও হয়, একটি নিরপরাধ শিশুপ্রাণ তো? যার বাবা আমি হলেও হতে পারতাম। কেতকীর উল্লাসের এই মুহূর্তে ডি. এন. এ. টেস্টের প্রসঙ্গ তোলা যায় না।

    শ্যাম্পেনে চুমুক দিতে দিতে এই ভাবনাগুলো মাথার মধ্যে বুদ্বুদের মতো ভেসে বেড়াচ্ছিল—আমি মন স্থির করে ফেললাম। বেশি সময় দিলাম না নিজেকে। কেতকীকেও না। ও—মেয়ে তো খাঁচায় ভরবার মেয়ে নয়, ও হলো বনপাহাড়ীর। ও খোলা আকাশের। রাজী হবে কি আমার প্রস্তাবে? তবুও প্রস্তাবটা করা জরুরি। বিয়ের শৃঙ্খল এবার ওর পায়ে পরানো দরকার। ভয় পেয়ে উড়ে না যায় আবার, কিংবা খেপে না ওঠে। নেশায় মানুষ বড্ড আনপ্রেডিকটেবল।

    কিন্তু কেতকী নেশায় ছিল না। শান্তভাবেই উত্তর দিল। বলল, ভেবে দেখবে। এতবড় ডিসিশন এক্ষুনি নিয়ে ফেলতে পারছে না। ”বিয়ের মতো এমন সিরিয়াস কাজকর্ম আগে তো করিনি কখনও? লেট মি স্লীপ ওভার ইট। লেট মি থিংক। বিয়ে—টিয়ের কথা তো আমার ভাবাই হয়নি এখনও। টু আর্লি!”

    —”মা হবার কথাও তো ভাবা হয়নি। সেটা যখন হয়েই যাচ্ছে, তখন এটাও না হয়—”

    উত্তরে কেতকী এক মাথা চুল ঝাঁকড়ে ঝাঁকড়ে বলল—”কিন্তু দুটো তো এক ব্যাপার নয়? একটার দায়িত্ব আমি নিজে নিজেই নিতে পারব বলে আমার ধারণা, অন্যটা তো দুজন অ্যাডাল্টের যুগ্ম জীবনযাপনের ব্যাপার। ইউ হ্যাভ টু মেক কনস্ট্যান্ট অ্যাডজাস্টমেন্টস… সো মেনি কোয়েশ্চনস… সো মেনি ডাইমেনশনস… ডু আই নো ইউ দ্যাট ওয়েল? টু নো দি আনসারস টু অল দোজ কোয়েশ্চেনস? এইসব প্রশ্ন তো মাথায় আসছে। ম্যারেজ ইজ নট আ জোক। ইটস আ বনড। আ লাইফলং বনড। অ্যাট লীস্ট দ্যাটস হোয়াট আই বিলিভ। ওই জন্যই চট করে ডিসিশন নিতে পারছি না—সারাজীবন তোমার সঙ্গে কাটাতে পারবো তো? অ্যান্ড ইউ টু। তুমিও ঠাণ্ডা মাথায় ভেবে দেখে তারপরে বলো। ডোন্ট প্রোপোজ টু মি ইন আ হারি। বাচ্চার বাবা তুমি হতেই পারো, আবার নাও তো হতে পারো? ইউ মে অর মে নট বি রেসপনসিবল ফর ইট—হঠাৎ কেন বিয়ে—থার কথা বলছ? আমি তো তোমাকে রেসপনসিবিলিটি শেয়ার করতে বলিনি, শুধু আনন্দটাই। এতবড় আনন্দ! এটা কি একা একা সেলিব্রেট করা যায়? তুমি আমার দেশের মানুষ—তুমি বাংলা গান ভালোবাসো—সো আই কেম টু ইউ! হোয়াই কমপ্লিকেট ম্যাটারস?”

    ”শোনো কেয়া, লেট আস গিভ দ্য বেবি আ প্রপার হোম—একটা বাবা, একটা মা, যেমন থাকার কথা সব বাচ্চার…”

    —”নট নেসেসারিলি! আই’ল বি ফাইন। আমি জানি তুমি আমাকে ট্রাস্ট করতে পারছো না। তুমি ভাবছো আমি ইররেসপনসিবল মা হবো? নো সার, আই’ল বি দ্য বেস্ট মাদার আনডার দ্য সান! আই শ্যাল চেঞ্জ মাই লাইফস্টাইল,—গেট আ পার্মানেন্ট জব—আই’ল সেটল ডাউন উইথ মাই চাইলড—আই’ল মুভ ইনটু আ প্লেস উইথ আ গার্ডেন—উই’ল বোথ বি ফাইন। মি অ্যান্ড মাই বেবি…”

    অবাক হয়ে কেতকীর মুখের দিকে চেয়ে থাকি। নতুন মুখ। উজ্জ্বল চোখদুটো স্বপ্নে মায়াময়, আত্মবিশ্বাসে ভরে উঠেছে। ওকে দেখে এবার আমার সত্যি সত্যি ওকেই বিয়ে করতে ইচ্ছে করলো। বাচ্চার জন্যে নয়, ওরই জন্যে। এই স্বপ্ন—দেখা মেয়েটার একটা সাথী দরকার, যে ওকে যত্ন করবে। ওর বাচ্চাকে যত্ন করবে। যত্ন পায়নি কোনোদিন ওই মিষ্টি মুখখানা, অনেকদিন পথে পথে, নিরাশ্রয়, এবারে ওর ঘর দরকার।

    আমি এবার আমার পদ্ধতি বদল করি।

    —”কেতকী, বাচ্চা উপলক্ষ মাত্র—এসো আমরা সংসার করি। নট ফর দ্য বেবিজ সেক, বাট ফর মাই সেক? আমাকে নেবে, কেতকী?” একেবারেই স্তব্ধ হয়ে গেল কেতকী।

    আমি ধ্রুপদী কায়দায় ওর সামনে হাঁটু গেড়ে বসেছিলাম। নাটুকে ভাবেই ওর হাতে চুমু খেয়ে প্রস্তাবটি রেখেছিলাম ওর সামনে। কেতকী উত্তর দেয়নি। আমিই উঠে ওকে আস্তে করে চুমু খেয়ে বুকে টেনে নিলাম। কেতকী বাধাও দেয়নি। ”কী গো কেয়াফুল? রাজী তো? আমাকে তুমি নেবে তো? তুমি আর তোমার বাচ্চা?” কেতকী এবারে আমার বুকে মুখ রেখেই নির্বাক হয়ে থাকে। ধরে নিলাম মৌন সম্মতিরই লক্ষণ।

    .

    শ্যাম্পেনের বোতল খোলবার পরে আমি ঢুকলাম রান্নাঘরে, আর কেতকী গ্লাস হাতে নিয়ে আবার চুপচাপ চলে গেল বাগানে। লিলিপুলের ধারে, সেই ঝর্ণার পাশে। পাথরের ওপরে গিয়ে বসলো লাল মাছেদের কাছে। শীতকাল, মাছেরা লুকিয়ে আছে জলের নিচে। ভোরের দিকে মাঝে মাঝে একটা পাতলা বরফের সর পড়ে এদিকের স্থির জলটাতে। ঝর্ণা সবসময়ে নাচছে বলে ঠিকঠাক জমতে পারে না লিলিপুলটা। ঠাণ্ডার মধ্যে ওখানেই বসলো গিয়ে কেতকী। আম রান্নাঘরে ঢুকে একটা স্যালাড তৈরি করলাম। ভালো স্মোকড স্যামন ছিল ফ্রিজে। ক্রিস্টালের পানপাত্র বের করে একটা প্রকৃতই ফরাসী দেশের বোরদ্যো ওয়াইন খুললাম। এ ক্যালিফর্নিয়ার বোরদ্যো নয়, অস্ট্রেলিয়ারও নয়—আসল বোরদ্যোর বোরদ্যো। রুপোর কারুকাজ করা একজোড়া মোমদানিতে দুটি মোটা, লাল, সুগন্ধী মোমবাতি জ্বালিয়ে, টেবিল সাজিয়ে, ঘরে ডেকে এনেছিলাম কেতকীকে। বলেছিলাম—”বিয়ের কথাবার্তা পরে হবে। দিস ডিনার ইজ ফর আওয়ার চাইলড’স লাভলি মাদার। লেটস সেলিব্রেট।”

    ”স্মোকড স্যামন স্যালাড!” বলে তক্ষুনি চেঁচিয়ে লাফিয়ে উঠেছিল কেয়া। বাচ্চা মেয়ের মতো।

    —”অ্যান্ড আ ক্যান্ডল লাইট ডিনার। অল ফর মি?”

    আবার মুগ্ধতা! সেই কৃতজ্ঞ দু’চোখের খুশি আমার স্মৃতিকে সুরভিত করে রেখেছে এখনও।

    —”এমনি যদি রেঁধে বেড়ে রোজ রোজই খাওয়াও, আমার তাহলে বিয়েতে কী করে আপত্তি থাকতে পারে, বলো?”

    —”এক্ষুনি রাজী হয়ে যেও না কেয়া। টেক ইওর টাইম। থিংক ওভার ইট। কিন্তু তুমি কোনওদিনই রান্নাঘরে ঢুকবে না, এরকমই নিয়মকানুন হবে নাকি তোমার সংসারের? ওয়েট আ মিনিট। তাহলে বাপু আমাকেও আরেকবার ভেবে দেখতে হবে।”

    হৈ হৈ করে হেসে উঠেছিল কেতকী—”আই অ্যাম আ গ্রেট কুক। জানো? আই ক্যান বীট এনি কর্ডন ব্লো শেফ ইন ফ্রেঞ্চ কুইজিন।”

    আমি বোরদ্যো খুলেছি শুনেও কেতকী বলল, বোরদ্যো নয়, ও চায় শাবলি। ফ্রেঞ্চ শাবলি! কিন্তু আমার বাড়িতে শাবলি ছিল না। ফুরিয়ে গেছে, শাবলি কিনিনি বেশ কিছুদিন। কেতকী জোর করতে লাগালো। ”নিশ্চয় আছে, দ্যাখো তোমার সেলারে, নিশ্চয় আছে।” বলতে বলতে নিজেই ছুটলো। আমিও ছুটলাম। সেলারে গিয়ে দেখি পরপর তিনটে বোতল রয়েছে, দামী ভিনটেজ শাবলির—যেগুলোকে বোরদ্যোর বোতল বলেই আমার নির্ভুল ধারণা ছিল। খানিকক্ষণ আগেও। এখন দেখছি শাবলি—ই সন্দেহ নেই।

    আমি হতভম্ব। নির্বাক হয়ে বোতলগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকি। তারপর তুলে নিই একটা—ফ্রীজারে ঢোকাবো। ঠাণ্ডা করতে হবে।

    —”এগুলো তো চিলড নয়, শাবলি চিলড না হলে—” বলতে বলতে কেতকী নিজেই সমাধান করে ফেলে সমস্যার। ”দাঁড়াও, চিল করে দিচ্ছি এক্ষুনি—”

    বোতল হাতে ছুটলো বাগানে, লিলিপুলের বরফঠাণ্ডা জলে ডুবিয়ে রাখলো কিছুক্ষণ—তারপর ”এই নাও ঠাণ্ডা শাবলি” বলে ফিরিয়ে এনে দিল আমার হাতে—”এবারে বোতলটা খুলে ফেলা যাক।”

    উৎসব করেই কেটেছিল সেই রাত। কেতকী ফিরে যায়নি তার অ্যাপার্টমেন্টে। গান শুনিয়েছিল সারারাত। সারারাত ধরে কেতকী তার একক শ্রোতাকে গান শুনিয়েছিল। বাংলা গান। রবীন্দ্রনাথ। সকালে ঘুমন্ত কেতকীর শান্ত মুখখানি দেখে আমার মনে হয়েছিল এই মেয়েটাকে আর একলা পৃথিবীতে ছেড়ে দেওয়া যায় না। অনেকদিন একা একা ঘুরছে। অনেকদিন ওর মাথার ওপর ছাদ নেই। অনেকদিন নগ্নপদ। নগ্নশির। ঝাঁ ঝাঁ রোদ্দুরে। হি হি তুষারে। একা।

    —পাশ ফিরে নিশ্চিন্ত মুখে ঘুমিয়েছিল বাঁ হাতের ওপর গলাটি রেখে। পরনে আমারই স্লিপিং স্যুট। অতবড় পোশাকের মধ্যে ওকে আরও রোগা, আরও কচি, আরও বাচ্চা দেখাচ্ছে। কিশোরীও নয়, যেন বালিকা। একবোঝা কালো চুল ছড়িয়ে আছে, বালিশ থেকে উপচে পড়েছে বিছানাতে। মেঘবরণ কেশ। ওই মুখ কোনোদিন মিথ্যা কথা বলতে পারে?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরামধন মিত্তির লেন – নবনীতা দেবসেন
    Next Article একটি ইতিবাচক প্রেমকাহিনী – নবনীতা দেবসেন

    Related Articles

    নবনীতা দেবসেন

    মায়া রয়ে গেল – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    নবনীতা দেবসেনের গল্প

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    করুণা তোমার কোন পথ দিয়ে – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    হে পূর্ণ, তব চরণের কাছে – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    ভ্রমণের নবনীতা – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    ভ্রমণ সমগ্র ১ – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Our Picks

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }