Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    উড়াল – নবনীতা দেবসেন

    নবনীতা দেবসেন এক পাতা গল্প127 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    উড়াল – ৫

    পাঁচ – মালবিকার ডায়েরি

    কেতকীর মধ্যে আশ্চর্য গভীর একটা ঔদাসীন্য ছিল। এদিকে এত তীব্রভাবে জীবনকে ভালোবাসতেও তার মতো আর কাউকেই আমি দেখেছি বলে মনে পড়ে না। সবচেয়ে ভালো জিনিসটা কেনা চাই, দাম কত সেটা নিয়ে মোটেই মাথা ঘামায় না—এটাই একটা কারণ ছিল কেতকীর আর্থিক সমস্যার। রোজগার কম করত না সে। বিমলদারও বেশ মুশকিলই হয়েছিল কেতকীর ঋণ শোধ করতে করতে। অথচ এই যে মহার্ঘ সব বস্তু কেতকী কিনত, সেগুলোর সঙ্গে তার কোনো মায়ার বন্ধন ছিল না। যে—কোনো জিনিস, যে—কোনো মানুষের ভালো লাগলেই হলো।

    —”তোমার এটা ভালো লেগেছে? তুমি এটা নিয়ে যাও।”—ওর মুখে অনবরত শুনেছি—”ইউ লাইক ইট? গুড! ইউ মে হ্যাভ ইট।” ভয়ে ওর কোনো কিছুর প্রশংসা করা আমি ছেড়ে দিয়েছিলাম। আশ্চর্য একটা মুক্তি ছিল ভিতরে ভিতরে, কোনো কিছুতেই আঁটোসাঁটো লোভের বাঁধন ছিল না মেয়েটার। সব কিছুই প্রিয়, আবার সব প্রিয় বস্তুই বর্জনযোগ্য। কোনো কিছুই কি ছিল কেতকীর জীবনে, যা অনিবার্যভাবে জরুরি? এক টুবলু ছাড়া?

    টুবলু হয়ে উঠেছিল কেতকীর জিয়নকাঠি, ওর প্রাণভোমরা। ”মাই লাইফলাইন।” বিমলদার সঙ্গে ওর সম্পর্কটা দেখতে দেখতে গাঢ়তর হয়ে উঠলো রোগশয্যায়। স্নেহের জন্য কাঙালপনা ছিল কেতকীর। ছোট্ট থেকে বাইরে বাইরে। বাবা দ্বিতীয় সংসার করে ব্যস্ত। ছোটোমাসিই মিটিয়ে ছিলেন মায়ের অভাব। তা এমনি কপাল মেয়েটার—তিনিও চলে গেলেন বিনা নোটিশে। একটা মোটর অ্যাকসিডেন্টে মাসি—মেসো দুজনেরই মৃত্যু হলো, কেতকী তখন নিউ ইয়র্কে। মাসির মৃত্যুতে দ্বিতীয়বারের মতো মাতৃবিয়োগ হয়েছিল। এবারে একেবারেই লাগামছাড়া বেয়াড়া জীবনে ঝাঁপ দিল সে। বাবার দ্বিতীয়া স্ত্রী তাকে সংসারে গ্রহণ করেননি কোনোদিনই। নিজের পুত্রকন্যা নিয়ে তিনি ব্যস্ত থাকেন, স্বামীকেও আঙুলে জড়িয়ে রাখেন। কেবল টাকার যোগান দিয়েই ওর বাবা কন্যাদায় সেরে দেন। মাঝে মাঝে দু’একটা ফোন। বাবাকে ”মাই ব্যাংক ম্যানেজার” বলত কেতকী। নিজের বিয়ের কথা, টুবলুর খবর, কিছুই সে জানায়নি বাবাকে। অসুখের খবরও দিতে চায়নি, কিন্তু বিমলদা জানিয়েছিলেন। দেশে নিয়ে যাবার সময়েও খবর দিয়েছিলেন, কেতকীর অজ্ঞাতে। ও জানলে বাধা দিত।

    ও বলেছিল, জামশেদপুরের বাড়িটা ওর নয়। ওর বাবার দ্বিতীয়া স্ত্রীর, আর তাঁর সন্তানদের। কেতকী কয়েকবার গিয়েছে, আগে আগে, গেলেই প্রবল অস্বস্তি ভোগ করেছে। সেখানে কেতকী একজন আগন্তুক। বহিরাগত। পরিবারের বড় মেয়ে নয়। পরিবার—বহির্ভূত কেউ। অনধিকারী কেউ। আজন্মের অবহেলার জন্য কেতকীর বাবার ওপরে যত না অভিমান, ওর বুকভাঙা একরাশ অভিমান ছিল অসময়ে মরে—যাওয়া মায়ের প্রতি। কেন তাকে এই স্বজনবন্ধুহীন সংসারে একলাটি ফেলে রেখে তিনি পরলোকে পালালেন? পালিয়েই তো গিয়েছেন। ছোট্ট তিন বছরের মেয়েটার মুখ তাঁর মনে পড়েনি।

    সারা জীবনভোর কেতকীর বুকের মধ্যে গুমরে গুমরে উঠেছে এই একটা কথা, পৃথিবী ছেড়ে ইচ্ছে করে চলে যাবার সময়ে, কেতকীর মুখখানা তাঁকে পৃথিবীতে আটকাতে পারেনি।

    .

    —”টুবলু, তোকে ফেলে আমি কক্ষনো পালিয়ে যাব না। তোকে বড়ো করবো, জীবনে তোকে এসট্যাবলিশড দেখে, তবে মরবো। আমার মায়ের মতন ট্রেচারি করবো না তোর সঙ্গে। কক্ষনো না—’ এই ছিল কেতকীর বাচ্চাকে আদর করবার ভাষা। এত কথাবার্তা বলেও সেই তো তার মায়ের মতোই পালিয়ে গিয়েছে সে। কোথায় দেখলো সে টুবলুর বড়ো হওয়া?

    এইসব কথা যখন বলতো, তখনই ভালোই জানতো সে নিজে HIV positive। জানতো না Full blown AIDS—এর কথাটা। কেতকী ভেবেছিল, সে বেঁচে যাবে। কতজনেরই তো রক্তে HIV positive virus আছে, তারা রোগটা বহন করে বেড়ায় বটে, কিন্তু AIDS—এর জীবাণু তাদের আক্রমণ করে না। কেতকী ভেবেছিল বেঁচে থাকা বুঝি সম্ভব হবে। ভাগ্যদেবতা ওকে সাহায্য করবেন। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় রক্ত পরীক্ষা করতে গিয়ে ইলাইজা টেস্টে জানা গেল ওর রক্ত HIV positive হয়ে গেছে। কে জানে কবে কোন প্রেমিকের সঙ্গে মুহূর্তের অসতর্ক প্রণয়ে ঘটে গেছে এই চরম সর্বনাশ। কিংবা হেরোয়িনের সূচিকাভরণের মুহূর্তে? কিন্তু ভাগ্যদেবতা সহায় হননি। শরীরে এইডসের সংক্রমণ ব্যাহত করা গেল না ওর। প্রসবের দু’মাস পর থেকেই এইডই—ভাইরাসের প্রবল প্রতাপ দেখা দিল কেতকীর দেহে। টুবলু তখন মাত্র দু’মাসের। তবুও কেতকী ওর সদ্যোজাত মেয়েকে অভয় দিয়ে বলতো,—”তোকে বড়ো করে দিয়ে তবে আমার ছুটি! আমি কেমন করে স্বর্গে যাবো? তোকে ফেলে? তোকে এতটুকুনি অবস্থায় এতবড় পৃথিবীতে একা ছেড়ে রেখে আমি যেতে পারবোই না। তোর বাবা যতোই ভালোমানুষ হোক না কেন, যতই যত্নশীল হোক, সে তো পুরুষমানুষই। ছোট ছোট বাচ্চাদের জন্য তাদের মোটেই সময় থাকে না। আমি থাকবো, আমি সবসময়ে তোর সঙ্গে সঙ্গে থাকবো। আই শ্যাল অলওয়েজ, অলওয়েজ বি উইথ ইউ! আই স্যোয়্যার!”

    .

    খুব সতর্ক ছিল। খুব আদর করত মেয়েকে, কিন্তু সাবধানে। সর্বদা খেয়াল রাখতো কেউ যেন টুবলুর পাতলা গোলাপী ঠোঁটে চুমু না খায়। এই সাহেবদের দেশে বড়ই বিদঘুটে কিছু অভ্যেস আছে, আমাদের দেশে কেউ যা কক্ষনো করে না! শিশুদের ঠোঁটে ঠোঁট দিয়ে চুমু খেয়ে আদর করা তার মধ্যে একটা। বাচ্চাদের মুখে কালিঝুলি লাগলে মা নিজের মুখের থুতুতে রুমাল ভিজিয়ে বাচ্চার মুখের কালি মুছে দেন—সেটা আরেকটা বদভ্যাস। দুটোর একটাও পছন্দ করত না কেতকী। সে জানতো তার বডি—ফ্লুইডের সঙ্গে কারুর রক্ত মিশে গেলেই সমূহ বিপদ। সে অশ্রুই হোক, থুতুই হোক আর রক্তই হোক। এবং অন্য কারুকেও বিশ্বাস করতো না। তারা নিরাপদ কিনা কে জানে? সে তো নিজের খবর নিজেই জানতো না। টুবলুকে বাঘিনীর মতো সামলাতো তার মা।

    অথচ টুবলুর জন্যে এত সাবধানতা, এত সুরক্ষা, সে যে অভিশপ্ত হয়েই ভূমিষ্ঠ হয়েছে—এই ভয়ানক সত্যটি আমরা সকলে মিলেই অত্যন্ত যত্ন করে লুকিয়ে রেখেছিলাম কেতকীর কাছ থেকে। বিমলদার একান্ত ইচ্ছেয়। ক’টা দিনই বা বাকি আছে কেতকীর? কেতকী ভাবছে সে চলে যাচ্ছে, কিন্তু টুবলু রইল। টুবলু বড় হবে—এই স্বপ্ন নিয়ে যদি তার শেষ দিনগুলো খুশিতে কাটে কাটুক না? সারা হাসপাতালে আমরা সবাই স্বেচ্ছায় এই ষড়যন্ত্রে শরিক হয়েছি, কেতকী জানতে পারেনি তার টুবলু এই নিষ্ঠুর গ্রহে আরও অল্পদিনের অতিথি।

    শরীরে AIDS—এর লক্ষণ ফুটে ওঠার পর থেকেই হু হু করে বৃদ্ধি পেতে লাগলো রোগ—মেয়ের বয়েস বছর ঘুরতে না ঘুরতেই কেতকীকে চলে যেতে হলো। বুকভরা যন্ত্রণা নিয়ে বড় হয়েছিল মেয়েটা। একবুক ভালোবাসা নিয়ে চলে গেল।

    মায়ের ওপরে তার ছিল গভীর গোপন ক্রোধ। মা আত্মহত্যা করেছিলেন, শিশু কেতকীর কথা ভাবেননি। স্বামীর প্রেমে প্রতারণাই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল। আমি তর্ক তুলতাম। ও মানত না। ”আর তুমি? তুমি যেভাবে জীবনটা কাটিয়েছ, এই যে আজ তোমার অসুখ, এ কি আত্মহত্যারই নামান্তর নয়?”

    ”মোটেই না। আমি তো মরতে চাইনি? আমি তো জীবনটাকে জড়িয়ে ধরেছিলাম মালু। উইথ অল ইটস ডার্ট অ্যান্ড মাক। উল্টোপাল্টা, এলোমেলো। যেমনই হোক সেই জীবন, আই ওয়ান্টেড টু এমব্রেস ইট—বাঁচার সময়ে কি মরার কথা কারুর মনে আসে? ইয়েস—আই মেড মিসটেকস। মোর দ্যান ওয়ান। ওকে, ইউ পে ফর ইওর মিসটেকস। অ্যায়াম পেয়িং উইথ মাই লাইফ। দ্য প্রাইস অফ লিভিং আ ফুল লাইফ। বাট আ রং ওয়ান। আমি ভুল করেছিলাম, তার দাম আমি জীবন দিয়ে শোধ করছি। আমার মায়েরটা ভুল নয়। অপরাধ। ইটস আ ক্রিমিনাল অফেন্স। শি নিউ হোয়াট শি ওয়াজ ডুইং। আই ডিডন্ট।”

    কেতকী অস্থির হয়ে পড়ত মায়ের প্রসঙ্গ উঠলে, তুলতো নিজেই। এবং তাকে ভোলানো কঠিন হতো। আকুল হয়ে বলতো—”বলো তো মালু, এতে কী লাভ হয়েছিল তার? যে—প্রেমিকার কারণে স্বামীর ওপর রাগ করে মা আত্মহত্যা করলো, সেই মেয়ের হাতেই তো নিজের স্বামী সংসার তুলে দিয়ে গেলো। সো, দিস ওয়াজ হার গ্রেট অ্যাচিভমেন্ট! অ্যান্ড শি মেড মি আ পপার।”

    সেই কালরাত্রি শিশু কেতকীর চেতনার গভীরে বিদ্ধ হয়ে গিয়েছিল।—”তুমি একবার দৃশ্যটা ভেবে দ্যাখো, মালু, ট্রাই টু ভিসুয়ালাইজ দ্য সীন—আমার মা গলায় দড়ি দিয়ে পাখা থেকে ঝুলছেন, খাটের ওপরে চেয়ার উলটে আছে, আমি, তিন বছরের আমি, সেই খাটের ওপরে গ্যাঁট হয়ে বসে বসে হাপুস নয়নে ‘মা! মা!’ বলে আকুল কান্না কাঁদছি। আর মা’র ঝুলন্ত পা দুটো ধরে টানছি। আমি ভাবছি, ঐ তো মা কেমন দুলছেন, তবে মা উত্তর দিচ্ছেন না কেন? আর খুব অভিমান হচ্ছে, মার পা ধরে আরো টানছি। আমার কান্না শুনে চাকর—বাকরেরা অন্যদিক দিয়ে ঘুরে এসে জানলা দিয়ে ওই দৃশ্য দেখে, পুলিশে খবর দিয়েছিল। পুলিশ দরজা ভেঙে ঢুকেছিল। বাবাকে খবর দেওয়া গেল না, বাবার খোঁজ মিলল না—বাবা বাড়ি ফেরেননি সে—রাতে। ছোটমাসি এসে আমাকে নিয়ে গেল। আমি তখন খিদেতে ঘুমেতে ভয়েতে ক্লান্তিতে অবসন্ন, কাঁদতেও পারছি না।

    তারপরে বছরের পর বছর, আমি চোখ বুজলেই দেখতে পেতাম মা’র শরীর দুলছে, আমি পা ধরে টানাটানি করছি। জানলার বাইরে মস্ত আগুনের গোলার মতন রাগী—রাগী লাল চাঁদ। সেদিন পূর্ণিমারাত্রি ছিল। বাবা বাড়ি ফেরেনি। এখনও পূর্ণিমারাত্রে চাঁদ দেখলেই আমার ভয় করে। আমি মাকে দেখতে পাই। মা’র ঝুলন্ত শরীরের পিছনে, ব্যাকগ্রাউন্ডে ছিল মস্তবড় পূর্ণিমার চাঁদ। আই হেট ফুলমুন নাইটস।”

    কতবার যে কেতকী এই গল্প আমাকে বলেছে।

    কেতকীর মুখ থেকে ঘটনাটা শোনার পর পরই আমারও খুব ডিপ্রেশান হয়েছিল। দৃশ্যটা চোখে ভেসে উঠেছিল—আর মনে হয়েছিল খাটে বসে ঝুলন্ত মায়ের পা ধরে যে টানছে, সে বাচ্চাটা আয়ান।

    আমিও তো এটাই করেছি।

    নিজেকে রক্ষা করতে তাকে ফেলে রেখে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে এসেছি। তার দুজন সৎমা এবং অগুনতি মাসিপিসি—ধাইমাদের মধ্যে সে যদিও রাজার হালেই থাকবে—ওদের পরিবারে পুরুষ—শিশুর দেবতুল্য সমাদর—তবু, বড় হয়ে ওর কি কখনও মনে হবে না, ওর নিষ্ঠুর ভারতীয় মা—টা ওকে ফেলে চলে গিয়েছিল? আমার চয়েস ছিল, হয় আয়ানকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জেড্ডায় বন্দী হয়ে মৃত্যু যাপন, নয় আয়ানকে বাদ দিয়ে মুক্তির মধ্যে প্রাণধারণ, জীবনযাপন। আমার মধ্যে নতুন মাতৃত্বের চেয়েও আত্মরক্ষার প্রবৃত্তিটা বড় হয়ে উঠেছিল। আত্মরক্ষার প্রবৃত্তি, মাতৃস্নেহ, দুটোই তো জৈব প্রকৃতি—তার মধ্যে একটার কাছে আরেকটা তো হার মানতেই পারে। মানবসভ্যতা চিরকাল বিপরীতটাই দেখেছে—মাতৃস্নেহের কারণে নিজেকে বলি দেন মায়েরা—তাই সেটাই আদর্শ আচরণ। পিতৃস্নেহের জন্য আত্মবলি বাপেরা দেন না—তাই তাঁদের বেলায় অন্য হিসেব।

    আমার কি পাপবোধ থাকা উচিত? এই যে আমি চার মাসের ছেলেকে তার বাপের প্রাসাদে রেখে চলে এসেছি, এটা কি অপরাধ?

    আমি মনে করি না।

    আয়ানকে আমি চাইনি।

    আমি চলে আসতে চেষ্টা করছিলাম, বারবার পালানোর চেষ্টা করছিলাম, জাফর নানাভাবে আমাকে আটকাতে চেষ্টা করছিল—আয়ান সেই চেষ্টার একটা চরম পরিণতি। যে—রাত্রে আয়ান আমার গর্ভে এল সেই বীভৎস রাত্রের স্মৃতি সুখস্মৃতি নয়। ম্যারিটাল রেপ—এর ফলে আয়ানের জন্ম। বাঞ্ছিত শিশু হয়ে সে আসেনি আমার কোলে। আমার পায়ের শৃঙ্খল হবার জন্যই জোর করে তাকে সৃষ্টি করেছিল জাফর। ফাঁদ পেতেছিল। স্বামী—স্ত্রীর প্রণয়মিলনের ফল সে নয়। অনিচ্ছুক নারী দেহের ওপর স্বেচ্ছাচারী পুরুষের জবরদস্তির ফল। আয়ান জাফরেরই সন্তান। সে জাফরের কাছে আছে। ঠিকই আছে। একথা আমি কাউকে বলি না। মা হয়েও সন্তানের প্রতি টান অনুভব করি না—একথা শুনলে আমাকে কেউ ক্ষমা করবে না, উলটে ডাইনি বলবে। কিন্তু আয়ান ফাঁদ। ওর ফাঁদে বন্দী হয়ে পড়ব না কিছুতেই—এই মরিয়া জেদও ছিল। তাতে ওকে ছেড়ে যেতে হলে ছেড়েই যাব।

    কেতকী যতবার ওর পলাতকা মায়ের ওপরে রাগ করে ততবারই আমার গায়ে ফোসকা পড়ে। আমিও তো একজন পলাতকা মা। আয়ান তো কোনোদিনই দেখতে পাবে না, জানতে পারবে না তার গর্ভধারিণীকে—যদিও তার মায়ের অভাব হবে না, মাতৃস্নেহেরও না। মাতৃদুগ্ধেরও অভাব হয়নি তার। কেতকীর মতো পরিস্থিতিতে সে পড়বে না কোনোদিন। সে থাকবে তার পিতৃকুলের শিরোমণি হয়ে।

    তবু, অপরাধবোধের চাপ থেকে মুক্তি নেই। যদিও এখন আগের মতো বুকের মধ্যে আর মোচড় দিয়ে ওঠে না, রাস্তায় যখন হঠাৎ কোনো প্র্যামে—চড়া ন্যাড়ামাথা ক’মাসের বাচ্চা দেখতে পাই। কেতকী তিনবছরের মেয়ে ছিল, আয়ান মাত্র চার মাসের। সে তার মাকে চেনেনি। সে মনোকষ্টে ভুগবে না মায়ের জন্য। মনোকষ্টে যদি কেউ ভুগতো, সেটা তার মা—ই। কিন্তু অনেক অসুস্থ শিশুর মধ্যে কাজ করতে করতে আমি সে কষ্ট সামলে উঠেছি। সন্তানহারা মা—বাবাদের সঙ্গে আমার প্রত্যহ সাক্ষাৎ হচ্ছে। তাঁদের সান্ত্বনা দেওয়াও আমার অন্যতম কাজ। না, আয়ানের কথা আমি মনে রাখিনি। সে যেখানে আছে ভালো আছে নির্ঘাৎ। পুরুষবাচ্চারা সেখানে খুব ভালোই থাকে।

    কেতকীর সঙ্গে নিজেকে তুলনা করলে বুঝতে পারি, কত স্বাভাবিক শৈশব ছিল আমাদের। মায়ের ঝুলন্ত মৃতদেহের সঙ্গে সারারাত্রি ঘরের মধ্যে বন্ধ হয়ে ছিল যে শিশুটি, সে তো পৃথিবীর কাছে অনেক বেশি মনোযোগ দাবি করতেই পারে। অনেক, অনেক বেশি স্নেহ—মমতা পাওনা ছিল তার।

    বয়েসে বড়ো হলে কি হবে, আমি অনেক শিখেছি কেতকীর কাছে।

    জন্মদাত্রীর এবং জন্মদাতার যে কীদৃশ আচরণ করা একেবারেই উচিত নয়—সেইটে শিখেছি কেতকীর কাছে। দুটোরই প্রকৃষ্ট উদাহরণ ওর ছোটবেলা। ওর বড়বেলাও। কেতকী চেয়েছিল তার বিপরীত ঘটুক তার সন্তানের বেলায়। আদর্শ মা হতে চেয়েছিল সে। নিয়তি তাকে সেই সময় দেয়নি। কিন্তু বিমলদার আশ্চর্য ভালোবাসায় তার সেই স্বপ্ন পরিপূরিত হয়েছে। টুবলু তার রোগশয্যায় একজন সদাসতর্ক, সাদা মনোযোগী বাবার সঙ্গে সঙ্গে পেয়েছে একজন অদৃশ্য, কিন্তু সর্বদা উপস্থিত স্নেহশীলা মা—কেও। এই অত্যাশ্চর্য উপহার সে পেয়েছে তার বাবার কাছে। আমরা দুজনেই—বিমলদা এবং আমিও, গল্পে গল্পে কেতকীকে জ্যান্ত করে রেখেছি টুবলুর কাছে। টুবলুর এখন মা’র সঙ্গে খুব ভাব।

    কেতকীর যেটা ছিল না।

    ছ’সাত বছর হলো বিমলদাকে দেখছি। এমন মানুষ দ্বিতীয় দেখিনি। সব অর্থেই বিমলদা আদর্শ পিতা। তিনি টুবলুর সর্বক্ষণের সঙ্গী। কেতকী যেটা হতে চেয়েছিল, কর্মব্যস্ত পুরুষমানুষের পক্ষে যেটা সাধ্যাতীত বলে মনে করেছিল কেতকী, ঠিক সেইটেই ঘটিয়েছেন। অসাধ্য—সাধন করেছেন বিমলদা। মাতৃস্নেহ—পিতৃস্নেহ দুটি ধারাই একযোগে ক্ষরিত হয়েছে বিমলদার হৃদয় থেকে। যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন যেন টুবলুর জীবনে কোনো ফাঁক না থাকে। তার অনুপস্থিত মাকেও যথাসাধ্য জড়িয়ে দিয়েছেন বিমলদা টুবলুর জীবনের সঙ্গে, গল্পে গল্পে, কথায় কথায়। অনুপস্থিত হয়েও কেতকী সত্যিই টুবলুর মনে মনে তার সর্বক্ষণের সঙ্গী। অথচ বিমলদা কবি নন—বিমলদা শিল্পী নন। কিন্তু নিষ্ঠুর জীবনকে যিনি কোমল এবং সুষ্ঠু শিল্পে পরিণত করতে পারেন, শুধুই কল্পনাশক্তি এবং সহৃদয়তার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে, তাঁকে আমি কোন নামে ডাকবো?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরামধন মিত্তির লেন – নবনীতা দেবসেন
    Next Article একটি ইতিবাচক প্রেমকাহিনী – নবনীতা দেবসেন

    Related Articles

    নবনীতা দেবসেন

    মায়া রয়ে গেল – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    নবনীতা দেবসেনের গল্প

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    করুণা তোমার কোন পথ দিয়ে – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    হে পূর্ণ, তব চরণের কাছে – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    ভ্রমণের নবনীতা – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    ভ্রমণ সমগ্র ১ – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026
    Our Picks

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }