Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    উত্তরঙ্গ – সমরেশ বসু

    সমরেশ বসু এক পাতা গল্প229 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১১. পুঞ্জপুঞ্জ মেঘে-ছাওয়া সকালের আকাশ

    পুঞ্জপুঞ্জ মেঘে-ছাওয়া সকালের আকাশ। পুর্ব থেকে পশ্চিমের দিগন্তে পাড়ি জমানো মেঘ পলকে পলকে রূপ বদল করছে। চলার শেষ নেই। কখনো দল বেঁধে গায়ে গায়ে, কখনও টকুরো টুকরো মেঘ যেন আজ আচমকা পশ্চিম দিগন্তের ডাকে সাড়া দিয়ে মহাসমারোহে চলেছে ছুটে। দল যখন জমাট বেঁধে ওঠে মনে হয় গতিরুদ্ধ মেঘ এক জায়গায় দাঁড়িয়ে ঠেলাঠেলি করছে। তারপরেই আবার ছিঁড়ে ছিঁড়ে যাচ্ছে, উড়ে যাচ্ছে পেঁজা তুলোর মতো। বন্দি বিহঙ্গ খোলা পেয়েছে আজ পিঞ্জরের দ্বার, মুক্ত অবাধ বিশৃঙ্খল তার গতি।

    এবছর আশানুরূপ বৃষ্টি হয়নি। সকলেই বৃষ্টির জন্য প্রতীক্ষা করছিল। তা ছাড়া, কয়েক বছর ধরে চাষের কাজে জলের রীতিমতো অভাব দেখা দিয়েছে। রেললাইনের উঁচু জমি দিগন্তবিস্তৃত চাষের মাঠকে দু ভাগ করে প্রাচীর-অবরোধ খাড়া করেছে। বাধা পড়েছে জল চলাচলে। নয়ানজুলিগুলি বেশিরভাগ সময় শুকিয়েই থাকে। বৃষ্টি না হলে তো কথাই নেই। গঙ্গার জল আসার যেসমস্ত সুদীর্ঘ নালাগুলি রয়েছে সেগুলি বহুদিন কাটার অভাবে বুজে আসছে ক্রমাগত। একধারে জল যদিও বা আসে, অন্যদিকে যাওয়ার পথ রেললাইন বন্ধ করে দিয়েছে। মুক্তাপুরের খাল এমনিতেই ব্যাহত হয়েছে রেললাইনের জন্য। তা ছাড়া, বহুদিনের সংস্কারহীনতার জন্য খাল ক্রমাগত সংকীর্ণ ও অগভীর হয়ে আসছে। আশঙ্কা হয়, অদূর ভবিষ্যতে এ খাল মাঠের বুকে শুকনো নয়ানজুলির মতো একটি ক্ষীণ রেখায় পর্যবসিত হবে।

    রান্নাঘরে কাজ করতে করতে কালীবউ আপনমনেই বলে উঠল, পোড়ামেঘের দিনক্ষণ ঠিক নেই বাপু। আজ কোথায় ঝোলন পুন্নিমে, তা না আজকেই মেঘের ছড়াছড়ি।

    লখাই গোয়ালের কাছে বসে বিচুলি কাটছিল। সে একবার আকাশের দিকে দেখে আবার বিচুলি কাটায় মন দিল। শ্যাম বাড়ি নেই। মধুকে সঙ্গে নিয়ে সে ফরাসডাঙার গঞ্জে গিয়েছে বাজার করতে।

    কালী আরও খানিকক্ষণ মেঘ ঝুলন এবং অতীতের ঝুলন উৎসবের গল্প আপন মনে বকবক করে জিজ্ঞেস করল লখাইকে, তুমি গাঁয়ে যাবে তো গো?

    লখাই জবাব দিল,, একবার যাব।

    কালী ঘর থেকে বেরিয়ে একমুহূর্ত ঠোঁট টিপে লখাইকে দেখে ভ্রূ কুঁচকে বলল, অমন টেনে বলছ যে?

    লখাই নীরবে একটু হাসল মাত্র।

    কালী বলল, মোরলি বাবাজির নেমন্তন্নে একবার যাবে কেন, মন-পান তো তোমার সব সময় গিয়েই আছে।

    মুরলী নিমন্ত্রণ করেছে লখাইকে আজ ঝুলনপুর্ণিমার। একা নয়, কাঞ্চনসহ যুগলে।

    লখাই বলল, সত্যি, মোরলিদাদার মতো মানুষ হয় না।

    ফিরে যেতে যেতে, কালী আবার একটু তাকিয়ে থেকে বলল, তা অত যার সেবাদাসী, সে মন্দ হবে কেন! তবে তুমি একটু সাবধান থেকো বাপু।

    ঠাট্টাই হোক, আর আশঙ্কাই হোক, কালীর একথা পুরনো। লখাই হাসল।

    কালী ঘরে ঢুকে বলল, তা যাবে তো ওঠো, আর দেরি কেন?কাঞ্চী তো নেয়ে এল বলে।

    হাঁ, যাই। বলে সে বিচুলিকাটা শেষ করে সব গুছিয়ে রেখে উঠল।

    কাঞ্চনকে নিয়ে লখাই যখন মুরলীর আখড়ায় এল, বেলা তখন অনেকখানি। মেবে হয়েছে, তত টের পাওয়া যায়নি।

    মুরলীর আজ বিচিত্র সজ্জা। নীল শাড়ি একখানি পরেছে দুভাঁজ করে কাছা না দিয়ে। গায়ে বাসন্তী বর্ণের ওড়না গলার দুপাশ দিয়ে মাটি স্পর্শ করেছে। সর্বাঙ্গে কৃষ্ণনামের ছাপ, কুঞ্চিত আধপাকা চুল পরিপাটি করে আঁচড়ানো। নতুন তুলসীর মালা গলায়। চোখে কাজল টেনেছে। গোঁফদাড়ির চিহ্ন মাত্র নেই সারা মুখে। মুখে তার মিষ্টি হাসি।

    আখড়ারও আজ রূপ খুলেছে। লতায় পাতায় ফুলে চারদিক সাজানো। সব যেন তেল দিয়ে লেপাপোঁছা হয়েছে। এত ফুলে সাজানো হয়েছে অথচ আখড়ার কোনও গাছের একটি ফুলও ভোলা হয়নি। কপূরমিশ্রিত পায়েসের গন্ধে ভরে উঠেছে আখড়া। মুগডালের খিচুড়ির মধ্যে সম্বরা, বিশেষ আদার মিশ্রিত গন্ধটি, বড় অপূর্ব।

    দুরাগত অপরিচিত কয়েকজন বাবাজিও এসেছে। মন্দিরের দাওয়ায় বসে তারা নিম্ন বিলম্বিত শব্দে শুরু করেছে নামগান।

    কাঞ্চন লখাই এসে দাঁড়াতেই মুরলী দুখানি মালা নিয়ে তাড়াতাড়ি উভয়ের গলায় পরিয়ে দিয়ে বলল, মন্দিরের যুগলকে মালা দিয়েছি বহুক্ষণ, এ যুগল বাকি ছিল। এত দেরি হল যে?

    মালা পরে লখাইয়ের লজ্জা হল। সে বন্দুকধারী প্রহরী, জীবন তার দুর্ধর্ষ, তার উপর বাগদীঘরের সে আজ উদ্ধত পুরুষ। কিন্তু এখানে এলে সে যেন কেমন শান্ত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে মুরলীর সামনে।

    কাঞ্চন কিন্তু তেমনি উদ্ধত, বলিষ্ঠ, বঙ্কিম হাসিতে ধারালো কাস্তের মতো শাণিত। আর তার শাণিত চোখের দৃষ্টি আখড়ার প্রতিটি কোণে দরজায় চক্রাকারে একবার ঘুরে এল যেন কার সন্ধানে। তারপর সে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে একবার দেখল লখাইয়ের মুখ। দেখে মুরলীকে বলল, বেলা ঠাওর পাইনি। তায় আবার তোমার কান্ত যা কুঁড়ে, বাবা গো। সে কোন্ সকালে স্কুিলি কাটতে বসেছে। ওঠার আর নাম নেই।

    মুরলী বলল অপাঙ্গে কাঞ্চনের দিকে তাকিয়ে, কান্তার মুখ চিন্তা করলে এটু দেরি লাগবেই তো।

    কান্তা কেন, রাইকিশোরী না? চোখের কোণে উদ্দাম কটাক্ষ করে কাঞ্চন বলল।

    মুরলী তাড়াতাড়ি হাত জোড় করে বলল, ভুল মানি রাইকিশোরী, কৃষ্ণরানী, আমার কালো, পানকাত্তর পানহারিণী! এসসা, বসবে এসো। সকলে হেসে উঠল সশব্দে। তার মাঝে কাঞ্চনের হাসি বেজে উঠল বেলোয়ারি কাচের চুড়ির রিনিরিনি শব্দে। সকলেই দক্ষিণ ভিটার বারান্দায় গিয়ে বসল।

    এমন সময় আখড়ার মেয়ে সরি অর্থে সারদা, একগোছ ফুলের মালা কলাপাতায় মুড়ে মন্দিরে ঢুকতে গিয়ে কাঞ্চন-লখাইকে দেখে থমকে দাঁড়াল।

    লখাই সেদিকেই তাকিয়েছিল। আলোয় ভরে উঠল সারদার শ্যাম শান্ত মুখ। একহারা ছিপছিপে শ্যামল লাউডগার মতো নরম নিটোল সারদা। প্রতিমুহূর্তে যেন কীসের লজ্জায় হাসি ও ত্রাসে চঞ্চল। কীসের দুরন্ত বেগে যেন সে সবসময়েই অমানুষিক পরিশ্রম করে আর দুরন্ত হাসিতে মাঝে মাঝে আখড়ার ভাবগাম্ভীর্যকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে ফেলে।

    কাঞ্চনের বঙ্কিম চোখ দপ করে জ্বলে উঠে আরও বেঁকে উঠল। দ্রুত নিশ্বাসে বুক দুলে উঠল, ফুলে উঠল নাকের পাটা। ঠোঁটের দুই পাশে এক নিষ্ঠুর অভিসন্ধি থেকে থেকে ঝিলিক দিয়ে উঠল। লখাইয়ের মুগ্ধ মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে সারা মুখে তার রক্তের বান ডাকল।

    পিঠের উপর খোলাচুলে ঝাঁকানি দিয়ে মুখ ঢেকে সারদা মন্দিরে ঢুকে গেল।

    কাঞ্চন চকিতে বারান্দা থেকে নেমে দ্রুত পদক্ষেপে চলে গেল আখড়ার বাইরে।

    মুরলীদাস ঘর থেকে বেরিয়ে কাঞ্চনকে চলে যেতে দেখে বলল, রাইকিশোরী কোথায় যায় গো!

    লখাই ফিরে দেখল কাঞ্চন চলে গেছে। বলল, কোথায়?

    মুরলী বলল, বাইরে চলে গেল যে!

    ধক করে উঠল লখাইয়ের বুকের মধ্যে। সে তাড়াতাড়ি নেমে বাইরে ছুটে গেল। মনে তার ঠিকই লেগেছে কাঞ্চনের ব্যাপার। তাই সে উৎকণ্ঠিত হয়ে পেছন-ধাওয়া করতে গিয়ে দেখল, পরিত্যক্ত জংলাঘাসে ভরা নীলখেতের উপর দিয়ে দিগবিদিকজ্ঞানশূন্য কাঞ্চন চলেছে।

    সে তাড়াতাড়ি পেছন থেকে কাঞ্চনের কাপড় ধরে ফেলে ডাকল, কাঞ্চীবউ।

    না ফিরেই কাঞ্চন কাপড় টেনে বলে উঠল, ছেড়ে দে, ছেড়ে দে, মিসে। নইলে তোরই একদিন কি আমার একদিন।

    লখাই তাকে ধরে মুখের সামনে এসে বলল, কী হয়েছে কাঞ্চীবউ, বল।

    কাঞ্চন দু হাতে প্রায় থাপ্পড় মারার মতো সজোরে লখাইয়ের মুখ চাপা দিয়ে খিঁচিয়ে উঠল, না না, আমি তোর কাঞ্চীবউ লই, লই। আমি তোর শত্রুর।

    কেন কাঞ্চীবউ?

    কেন? সাপিনীর মতো উদ্যত ফণা তুলে কাঞ্চন দুহাতে চোখের জল মুছে বলল, বেইমান, তুই বেইমান।

    কাঞ্চীবউয়ের মিসে হয়ে সরি বোষ্টমীর সঙ্গে পিরিত করি। মোনর ছেলে সাপ, তোকে বিশ্বাস নেই।

    লখাইয়ের সারা মুখ নিশ্চিন্ত নিস্পাপ, কিছুটা বা বিব্রত। সে শক্ত হাতে কাঞ্চনকে ধরে বলল, মিছে কথা কাঞ্চী, পিরিত লয়, সরি বোষ্টমীকে দেখে কেমন ধন্দ লাগল।

    সর্বোনেশে মিসে, ওই ধন্দ কী, তা কি আমি জানিনে? অমনি করেই পিরিত হয়।

    না। পিরিত লয়। তুমি থাকতে এ মনে আর কারওর ঠাঁই নেই।

    তবে আমি যে দেখলাম।

    ওটা পিরিত লয়। মুরলীদাদার সঙ্গে কীসের পিরিত আছে।

    ছি, মরণ নেই আমার।

    তবে? সরি বোষ্টমীও তাই, আমাদের বন্ধু।

    , মেয়েমানুষের সঙ্গে বন্ধুত্বে দরকার নেই।

    বেশ, চল আখড়ায়। তোর কথাই থাকল।

    কাঞ্চন হঠাৎ কেঁদে উঠে বলল, তুমি মিসে কাঁদাবে আমাকে?

    লখাই তাকে বাহুবেষ্টনে রেখে বলল, ও তোমার ধন্দ কাঞ্চীবউ। বয়সও কি আমার কম হল?

    বেলা গড়িয়ে গেল। আকাশে মেঘের ভার কিছুটা কমে এসেছে। বৃষ্টি আসার লক্ষণ নেই।

    ঝুলনের আয়োজনে সবাই ব্যস্ত। কাঞ্চন লখাইয়ের দ্বারা যেটা সম্ভব, সে কাজগুলো তারা করছে। ওদিকে নামগান চলছে বিরামহীন।

    এমন সময় দুটি গোরা সাহেব তেলেনিপাড়ার জমিদার বাঁড়ুজ্যেবাবুদের এক আমলার সঙ্গে জুতো পায়ে একেবারে সরাসরি মন্দিরের কাছে এসে দাঁড়াল।

    নামগান স্তব্ধ হয়ে গেল। মুরলী এবং মেয়েরা স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল।

    কেবল লখাই এক মুহূর্ত স্থির থেকে এই স্পর্ধিত অনাচার দেখে ক্রুদ্ধ সিংহের মতো ছুটে গেল সেদিকে।

    গোরা দুজন হঠাৎ সেই ধাবিত বিভীষণ মূর্তি দেখে দু পা সরে গেল সন্ত্রস্তভাবে।

    মুরলী তাড়াতাড়ি ছুটে গিয়ে দুহাতে জড়িয়ে ধরল লখাইকে। থাম থাম কান্ত লখাই, ঠাকুর সকলেই দেখতে পারে। জ্বলন্ত দৃষ্টিতে গোরাদের দিকে তাকিয়ে বলল লখাই, তা বলে ওই ফিরিঙ্গিরা? কার হুকুমে ওরা আখড়ায় ঢুকেছে? গোরা সাহেবের দুটি মুখ লাল হয়ে উঠল, তারা আমলার দিকে প্রশ্নসূচক ও ক্রুদ্ধ চোখে তাকাল।

    মুরলী শান্ত গলায় বলল, আসুক কান্ত, সবাই তাঁর জীব। শোনননি আনি মহাজন বলেছেন :

    খিরিষ্টে আর বিষ্টে কিছু ভিন্ন নাইরে ভাই
    শুধু নামের ফেরে মানুষ ফেরে এও কোথা শুনি নাই।

    রক্তে ইংরেজবিদ্বেষ। জীবনের প্রতিটি দুর্ঘটনাতে বিপদে সে প্রতি মুহূর্তেই গ্রাসোদ্যত ইংরেজকে দেখতে পায়।

    কিন্তু লখাই বলল, তোমার আন্টুনি মহাজন কি এমন জুতা পায়েই ভেতরে আসত? যাই বলল মুরলীদাদা, এ ফিরিঙ্গিরা মানুষ নয়, ওদের আস্পদ্দারও শেষ নাই। ওরা আমাদের শর, অজাতের দল।

    আমলাও এ ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথায় শুধু বিস্মিত নয়, ঘাবড়েও গেছেন খানিকটা।

    সাহেব দুটি ইংরিজিতে কী যেন বলল। আমলা জিজ্ঞেস করলেন, এ কে মুরলীদাস?

    মুরলীদাস বিপদের গন্ধ পেয়ে ব্যাপারটা চাপা দেবার জন্য বলল, কাছেপিঠেই থাকে। কী মনে করে আমলামশাই?

    আমলা তার অপমানিত মুখ ফিরিয়ে বললেন, কিছু নয়, এমনি সাহেবরা এদিকটা ঘুরে দেখতে এসেছেন, নীলকুঠির স্যাম সাহেবের সঙ্গে একটু কথা বলবেন। তারপর একটু চুপ থেকে আবার বললেন, তোমার আখড়ার আওতায় সব মিলিয়ে কতখানি জমি পড়েছে মুরলীদাস?

    মুরলীদাস চমকে উঠে বলল, তা পেরায় এগারো বারো বিঘে হবে।

    সাহেব দুটিও তখন লখাইয়ের দিক থেকে মাঝে মাঝে চোখ ফিরিয়ে আখড়ার চারপাশটা দেখে নিচ্ছে। কাঞ্চনও তখন লখাইয়ের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। লখাইয়ের উত্তেজনা কমেনি মোটেই এবং আমলার কথাবাতার ধরন দেখে সে বলে উঠল, এ ফিরিঙ্গিদের যদি কোনও কুমতলব না থাকে তো আমার নেই। এ শালার জাত সব করতে পারে।

    আমলা একটু চুপ থেকে বললেন, সাহেবরা বাবুদের কাছ থেকে এখানকার সব জমি নেবেন, চটকল উঠবে এখানে।

    লখাইয়ের ক্রুদ্ধ মুখ তিক্ত হাসিতে আরও জ্বর হয়ে উঠল। বলল, পানভরে শুনো মুরলীদাদা, তোমার আখড়া ভেঙে চটকল উঠবে। ওরা যে আমাদের মড়ার পরে ওদের মেমরানীকে বসিয়েছে।

    বলতে বলতে দারুণ ক্রোধে দাঁতে দাঁত ঘষে দুই হাতের একটা সাংঘাতিক ভঙ্গি করে সে বলে উঠল, শালার জাতের মাথাগুলো ধরে ঘাড় থেকে তুলে ফেলতে হয়।

    একটি সাহেব হঠাৎ আর সইতে না পেরে তার অপরিসীম অধ্যবসায়ের ফল বাংলাতে বলল, টুমি বাট কেন করে?

    লখাই রুখে উঠে বলল, বাত আমি করব না তো তুই করবি, সাদা ঢ্যামনা। কামান থাকলে তোর মাথা উড়িয়ে দিতাম। কাঞ্চন লখাইকে ধরে হ্যাচকা টান মেরে সরিয়ে নিয়ে এল। মোনসার গোঁ বুঝি, ঘরে চলো তুমি।

    সাহেব দুটি বিস্ময়ে রাগে লালমুখ আরও লাল করে স্তম্ভিত কালোমুখ আমলার সঙ্গে দ্রুত পদক্ষেপে বেরিয়ে গেল।

    আখড়ার সমস্ত উৎসব আনন্দ নিরানন্দ হয়ে উঠল। কারও মুখে হাসি নেই। নামকীর্তনওয়ালারা বিমর্ষ। তাদের ভক্তি-গদগদ মুখে দুশ্চিন্তা।

    কিন্তু আতঙ্কে মুরলীদাসের মুখ বিকৃত হয়ে উঠেছে। সে তাড়াতাড়ি সারদাকে বলল, সরি, বাইরের দরজা বন্ধ করে দে।

    তারপর লখাইকে জড়িয়ে ধরে বলল, এ কী করলে তুমি কাণ্ড লখাই, এ কী সব্বেনাশ করলে?

    লখাই বুঝতে পেরেছিল রাগ সামলাতে না পেরে সে কী করেছে। সে মুরলীদাসের দুই হাত ধরে বলল, পারলুম না মুরলীদাদা, এ নিমকহারামের জাতকে আমি কিছুতেই সইতে পারিনে।

    সন্ত্রস্ত কাঞ্চন বারবার বলতে লাগল, কেন কেন গো, এমন মতিগতি কেন তোমার? এখন যদি কোনও বিপদ হয়?

    যদি হয়, হবেই। মুরলীদাস বলল দারুণ উল্কণ্ঠায়, তোমাকে পালাতে হবে কান্ত, নইলে ওরা তোমাকে ধরে লাঞ্ছনা করবে, কোতল করবে।

    পালাব? হঠাৎ যেন কেমন বিহ্বল হয়ে গেল লখাই পালানোর কথা শুনে। বাইরের রুদ্ধ দরজাটার দিকে তাকিয়ে চোখ কুঁচকে সে ফিসফিস করে বলল, আবার, আবার পালাব? কোথায় পালাব, মুরলীদাদা?

    পেছনের বেড়া ডিঙিয়ে বড় সড়ক ধরে বাড়ি চলে যাও তুমি।

    তোমাকে এসে ওরা যখন জিজ্ঞেস করবে?

    মুরলীদাস রুদ্ধ গলায় বলল, আমার বাপপিতামোর আখড়া যদি ভেঙে যায়, তা হলে আমার সবই গেল। তোমার জন্য দুটো মিছে কথা আর বলতে পারব না?

    না। লখাই বলল, ওরা তোমাকে সাজা দেবে।

    দিক। তবু কান্ত, তুমি যাও।

    কিন্তু তার দরকার হল না। দরজায় করাঘাত হল। সকলের মুখ মুহূর্তে পাংশু হয়ে উঠল। এক দারুণ অঘটনের জন্য সকলেই আতঙ্কে শিউরে উঠল।

    কাঞ্চন লখাইকে দুহাতে টেনে নিয়ে যেতে চাইল পেছন দিকে। চলো, চলো মিনসে, পায়ে মাথা কুটি তোমার, চলো। সারদাও তাড়াতাড়ি কাছে এসে বলে ফেলল, যাও, যাও কান্ত লখাই।

    দরজায় আবার করাঘাত হলো।

    লখাই হঠাৎ গর্জন করে উঠল, যাব না, না, আর পালাব না। সব শেষ হয় তো হোক।বলে সবাইকে রুদ্ধশ্বাস আতঙ্কের সাগরে ড়ুবিয়ে ছুটে গিয়ে সে নিজেই দরজা খুলে দিল।

    আমলা একলা দাঁড়িয়ে আছে। লখাইকে দেখে বলল, মুরলীদাসকে ডাকো তো।

    মুরলীদাস পেছনে পেছনেই ছুটে এসেছিল। লখাইকে আড়াল করে বলল, কী বলছেন, আমলা মশাই?

    আমলা বললে, আজকে ঝুলন, কালকেও বোধ হয় পারবে না, পরশুদিন তোমার কাগজপত্র নিয়ে একবার কত্তার সঙ্গে দেখা করো। লখাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলল, সাহেবরা তোমার সাহসের তারিফ করেছে হে খুব। চটকলে মজুর শাসন করবার জন্য নাকি তোমার মতো লোকের দরকার। তবে একটু সভ্য হতে শেখো, বুঝলে?

    যেন এতক্ষণ কিছুই হয়নি এমনি একটা ভাব করে যাবার মুখে মুরলীদাসকে বললেন, বিপদের ভয় করো না, তোমার ওই কান্ত লখাই না কী নাম, ওর নাম-পরিচয়টা সাহেব চেয়েছে। পরশুদিন সেটা বলল। বলে তিনি চলে গেলেন।

    ইতিমধ্যে মেয়েরাও দরজার কাছে এসে দাঁড়িয়েছিল। আমলা চলে গেলেও কেউ একটি কথা বলতে পারল না। এমনকী, লখাইও না। সকলেই স্তব্ধ হয়ে রইল।

    কেবল দমকা হাওয়ায় যুগলমূর্তি স্থাপন করার পূর্বেই মন্দিরের ঝুলনের দোলনা আপনি দোল খেয়ে দুলে দুলে উঠল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleতরাই – সমরেশ বসু
    Next Article অলিন্দ – সমরেশ বসু

    Related Articles

    সমরেশ বসু

    প্রজাপতি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    গঙ্গা – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    বিবর – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }