Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    উত্তরঙ্গ – সমরেশ বসু

    সমরেশ বসু এক পাতা গল্প229 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৪. কাঞ্চন-লখাইয়ের সম্পর্ক

    কাঞ্চন-লখাইয়ের সম্পর্ক নিয়ে মদন কৈবর্তের মা অধরার বিষাক্ত জিভ লকলক করে উঠল। পাড়াঘরে তার চেয়ে এ বিষয়ে অগ্রণী কেউ ছিল না। সে হাততালি দিয়ে, চোখ ঘুরিয়ে এবং দেহের বিচিত্র উকট ভঙ্গিমাতে সে কথা প্রচার করে বেড়াল। এমনিতেই অধরার মার কুটনি বলে গ্রামে বিশেষ খ্যাতি আছে। মদনের জন্ম সম্পর্কে বহু জনের রকমারি সন্দেহ আছে। মদনের বাপ বেঁচে থাকা পর্যন্ত থেকে শুরু করে আজও লোকে বলে অধরা কুলটা। অধরা বলে, যে-মেয়েমানুষ আমাকে কুলটা বলে সে পুত-ভাতারি, যে ব্যাটা বলে, সে মেয়েমেগো। এ গালি সত্ত্বেও অধরার কলঙ্কমোচন হয়নি, উপরন্তু এ প্রৌঢ়া বয়সে সে বুড়ি কসবী বলে নাম কিনেছে। অর্থাৎ এখনও নাকি তার ঘরে নাগরের আবির্ভাব ঘটে থাকে। সেকথা অস্বীকার করে না অধরা, বরং আসবেই তো, বলে সকলের কাছে ডঙ্কা বাজিয়ে বেড়ায়।

    যাই হোক, কাঞ্চন-লখাই সম্পর্কে অধরার এ কাহিনী প্রচারে সকলের মনই বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলায় দুলে উঠল। কারণ কাঞ্চনের স্বামী নারানের সঙ্গে মদনের বউ কাতুর কুসম্পর্কের ব্যাপারটা ঢাকাঢকির পর্যায় উতরে শুধু খোলাখুলি প্রচারিত নয়, সত্য-মিথ্যার বেড়া ডিঙিয়ে দৈনন্দিন জীবনে এটা গ্রামের আর সব কিছুর সঙ্গেই মিশে গিয়েছিল। এখন নারান আর আগঢ়াক না খুঁজে সকলের সামনেই নিয়মিত মদনের বাড়িতে যায় এবং কাতু সম্পর্কিত ঠাট্টা উপহাস উপভোগ করে। এ ব্যাপারেও যত দোষ লোকে দিত নারান আর কাতুকে, তার চেয়েও বেশি দোষ দিল অধরাকে। প্রকৃতপক্ষে অধরাই ব্যাপারের জন্য দায়ী। সে নিজে সব খুইয়েছে, তাই ছেলের বউকেও সে কুলটা করতে চায়। প্রতিবেশীদের এ সন্দেহ শুধু সন্দেহ নয়, সত্য। নগিন হালদার ছিল অধরার পিরিতের মানুষ। তার যৌবনের নগিন হালদার যখন সে বন্ধনের শিকড় কেটে ফেলতে চেয়েছিল তখন কাতুকে ঠেলে দিয়েছিল সে নগিনের কাছে। কাতুর আপত্তি ছিল, কিন্তু অধরার জাঁহাবাজির কাছে সে আপত্তি টেকেনি। শুধু মারধর নয়, কাতুকে কেটে গঙ্গায় ভাসিয়ে দেবে এমন কথাও অধরা বলেছিল। কাতুর আশ্রয় ছিল একমাত্র স্বামী মদন। কিন্তু মদনের সে স্বামীত্ব ছিল না। মদন শুধু মাতৃভক্ত নয়, মাতৃভীতও বটে। মায়ের আদেশে নিজে সে বউকে নগিনের ঘরে ঠেলে দিয়ে এসেছিল। দিয়ে এসে সে কেঁদেছিল মায়ের পা ধরে। অধিকারবোধ না থাকলেও মমত্ববোধ ছিল মদনের। ছেলের চোখে জল দেখে কী মনে করে অধরা তখন বলেছিল, ও মাগী তোর যুগ্যি নয়, তোকে আমি আবার বে দেব ছোটমোট এক মেয়ে দেখে। সে কথা শুনে মদন মায়ের কাপড় আরও জোরে আঁকড়ে ধরে বলেছিল, আর যাই হোক কাতুকে ছেড়ে সে থাকতে পারবে না। মা কাতুকে দিয়ে যাই করাক, এ বাড়ি থেকে যেন তাড়িয়ে না দেয়।

    নিষ্ঠুর অধরা তাই মেনে নিয়ে মদনের বিয়ে দেয়নি। নগিন হালদার মরে গেল। অধরা বলল, কাতুই তাকে খেয়েছে। নারান তখন কি জানি কেন, কাঞ্চনকে ছেড়ে কাতুর আশেপাশে ঘুরে বেড়াতে লাগল। অধরা কয়েকদিন গালাগাল শাপমন্যি করে বেরাল, নারাও তো কম নয়। গালাগাল দিতে না জানুক, অধরার গলায় পা দিয়ে নিকেশ করে দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করা তার পক্ষে অসম্ভব ছিল না। বিশেষ কাতুর সঙ্গে আড়ালে আবডালে ইতিমধ্যে তার একটা বোঝাপড়া হয়ে গিয়েছিল। কাতু তখন শুধু সেয়ানা নয়, বন্ধনহীন হৃদয়ে তার অসীম আকাঙক্ষার নিরন্তর হাহাকার। অধরার প্রতি তার ভয় কমে এসেছিল, মদনের প্রতি অসীম ঘৃণায় মন বিষাক্ত। খানিকটা বেপরোয়া উদ্ধত হয়ে উঠলেও অসহায়ত্ব ঘোচনি তার। প্রয়োজন ছিল একটা শক্ত খুঁটির মতো আশ্রয়। নারানের যোগ্যতা সেদিক থেকে পুরোপুরিই। জোয়ান নারানের বাহুবন্ধনে তাই সে বাঁধা পড়ল। বলা চলে, একটা আশ্রয় খুঁজে পেল। বেগতিক দেখে অধরা নারানের জন্য দরজা খুলে দিল। উদ্দেশ্য, নারানকে না খেপিয়ে কাতুকে ব্যবহার করা। সে অবশ্য স্যাকতার কাছে নারানের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে যেতে পারত কিন্তু অধরার বুকে ততখানি সাহস ছিল না। কেন না, ছেলে মদন তো তার মানুষ নয়।

    আর বিস্ময়ের হলেও সত্য বটে যে, নারানের আবির্ভাবে মদন খুশি হল। যেন সে তার কাতু বউকে সঁপে দেওয়ার একটা উপযুক্ত, শক্ত আশ্রয় পেল এবং নিজের মায়ের চেয়েও নারানের সে আশ্রয় তার কাছে নিরাপদ মনে হল।

    সুতরাং নিজের ছেলের বউয়ের উপপতির বউয়ের সম্পর্কে যখন অধরাই একথা উঠে পড়ে গাঁয়ে ঘরে চেঁচিয়ে বেড়াতে লাগল তখন সকলেই খানিকটা মুখ চাওয়াচাওয়ি করল। নারান কোনও প্রতিবাদ করল না! উপরন্তু নিজের ভিটা সে প্রায় ত্যাগ করল।

    কেবল কালী ঘরের ছেচে দাঁড়িয়ে বিচিত্র এবং সাংঘাতিক গালাগালিতে গাঁ ফাটিয়ে ফেলল। তবু রোধ করতে পারল না চোখের জল। বার বার কাঞ্চনকে বলতে লাগল, সব্বোনাশী, হারামজাদি, এ কী করলি, এ কী করলি? ঘরের মধ্যে লখাইয়ের চুলের মুঠি ধরে চাপাস্বরে বার বার বলল, মিনসে, তোর পেটে পেটে এত? আগে কেন বললিনে?

    কালীর দেওয়া সমস্ত লাঞ্ছনা মাথা পেতে নিয়ে নীরবে বসে রইল লখাই। মিছে কথা বলে যাকেই হোক কালীবউকে সে ভোলাতে পারবে না।

    অধরার সঙ্গে গলা মেলাল দাশুমালোর বউ, হরিকানার মা। কেননা, এ বাড়ির উপর তাদের পূর্বের একটা বিদ্বেষ থেকেই গিয়েছিল, জরিমানা দিতে হয়েছিল, তাদের সেবারের বিচারে লখাই কালীর দুর্নাম রটনায়।

    স্তব্ধ হয়ে রইল কেবল শ্যাম। তবে তার এ স্তব্ধতা আজকের নয়, কয়েক বছরের। যে কালের প্রবাহে উৎকণ্ঠায় শঙ্কিত হয়ে সে নীরবে সব দেখছিল, বুঝল, এ-সবই সেই প্রবাহের ক্লেদনিকর। এমন বোধ হয় শুধু শ্যামের নয়, অনেকের এবং সারা দেশ জুড়েই। বলতে হলে কিছু গোড়ার আলোচনায় ফিরে যেতে হয়, যখন থেকে আকালের শুরু।

    .

    তিপ্পান্ন সালে যেদিন প্রথম রেললাইন পাতা হল কলকাতা থেকে হুগলি পর্যন্ত, সেদিন থেকেও আকালের শুরু বলা যেতে পারে। অন্তত শ্যাম তাই মনে করে। তখনও মানকুণ্ডুর খাঁয়েদের একশো একখানা নৌকা বদর বদর করে গঙ্গার উপর দিয়ে যাতায়াত করে নানান মালপত্তর নিয়ে। আজও করে। কিন্তু সেদিনের মতো আর তার জাঁকজমক কোথায়! ভদ্রেশ্বরের বাজার হল কাটরার বাজার অর্থাৎ ভাল গম ইত্যাদি জাতীয় সব জিনিস পাওয়া যায়। যা দেখে শ্যাম তার বোনের বিয়ে দিয়েছিল ভদ্রেশ্বরে। সেই ভদ্রেশ্বরে রেললাইন যেন এক উৎপাতের মতো এসে হাজির হল। কিন্তু রেললাইন যখন পাতা হল তখন ওই কাটরার বাজার হল বারো জিনিসের, খায়েদের জলপথের ব্যবসা হল একটু কানা। কিন্তু রেললাইন যখন পাতা হল তখন ওই কাটরার বাজারের মহাজনেরাই হাঁড়ি আর জালা ভরতি মিঠাইমণ্ডা নিয়ে প্রথম গাড়ি যেদিন এল, পুজো দিয়ে এল তার। জগদ্দল-স্যানপাড়ার লোকেরা নৌকা বোঝাই করে গেল সেই রেলগাড়ি দেখতে, ঢাকঢোল, সিঁদুর নৈবিদ্য নিয়ে। শ্যাম যায়নি। নানান লোকের মুখে নানান কথা, একদিনের পথ নাকি পলকে যায় সেই গাড়ি আর সে কী কাণ্ড। তোমার মনে হবে কৈলেশ পাহাড় থেকে শিবঠাকুর নেমে এসেছে। সে কী ফোস ফোস শব্দ, আকাশে মেঘ ছেয়ে গুমগুম করতে করতে ঝড়ের মতো আসে সে গাড়ি। ভূমিকম্পের মতো থরথর করে মাটি কাঁপে, কার ক্ষমতা আছে তখন সামনে থেকে। কেউ বিশ্বাস করল না ওর মধ্যে কোনও যন্ত্র আছে, ম্লেচ্ছ কোম্পানির ডাকাবুকো সাহেবরা ওতে অপদেবতা প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছে। যে যার নিজের মনের মতো গল্প ছড়াল আশেপাশে। স্যানকর্তারা বোঝালেন এর ভালত্ব। বামুনদের মধ্যে যারা কলকাতার কেল্লায়, কোম্পানির দরবার-দফতরে কাজ করতে যেতেন, তাঁরা সপ্তাহান্তে নৌকোপথ ছেড়ে সেই গাড়ি চাপতে শুরু করলেন। সেটা এমন কিছু ছিল না, সর্বনাশ হল তখন যখন সেই গাড়িতে করে মাল নিয়ে যাওয়ার সুবিধে পেয়ে কোম্পানি যা পেল সব সাবড়ে নিতে শুরু করল। ইতিপূর্বেই ফরাসডাঙার তাঁতিদের মধ্যে সুতোর জন্য : হাহাকার পড়ে গিয়েছিল, এবার শোনা গেল, সুতো তো দূরের কথা, এ দেশের সুতো নিয়ে বিলাতে মেশিনে বানানো কাপড় আসছে শিগগিরই। তা ছাড়া, নানান বিলাতি জিনিসে বাজার তখন ভরতি। আনন্দে গা ভাসাল শুধু মহাজনেরা।

    তারপরেই আর এক ধাক্কা এল পঞ্চান্ন সালে, রিষড়েতে এক কারখানা খুলে। এবার কলরব উঠল চারদিকে থেকেই। এ কী কোম্পানিও সাহেবের দেশ যে, এ মাটিতে তুমি যা করবে তাই সইবে। এ মাটির বুকের উপর দিয়ে এখনও গঙ্গা-যমুনা প্রবাহিত, মন্দিরে মন্দিরে জাগ্রত দেবতারা অধিষ্ঠিত, ব্রাহ্মণের গলায় এখনও মন্ত্রপূত উপবীত, উজ্জ্বল ব্ৰহ্মতেজ, দিন হয়, রাত্রি হয়। এখানে ও-সব মেচ্ছ কারবার চলবে না। তা ছাড়া, সকলেই ব্যাপারটাকে ঠাট্টায় উপহাসে ভরে তুলল এই বলে, হায়। তুলোয় সুতো হয়, সেই সুতোয় কাপড় হয় জানি কিন্তু পাটের তো দড়িই হয়, তার আবার যন্তর কীসের। এক, পাটের সুক্ষ্ম সুতোয় ঢাকার তাঁতির হাতে বাহারি জেল্লাদার কাপড় তৈরি হয় রেশমের। মতো কিন্তু পাটের আবার কল কীসের? গোলপাতার ছাউনি দিয়ে ইটের মস্ত মস্ত থাম খাড়া করে বিরাট ঘরের মধ্যে প্রথম চটকলের পত্তন হল। সেই ঘরে যন্ত্রের কী কেরামতি চলছে, কী বাহার হয় পাটের, তাই দেখার কৌতূহলে কেউ কেউ নাম লেখাল কাজের। কেরেস্তান পাদরির ভগবানের হদিস বলার মতো সাহেবরা লোককে ধরে ধরে বোঝাল এ যন্ত্রের কথা, ভরসার কথা এবং সব চেয়ে বড় টাকা-পয়সার কথা।…টাকার কথা শুনে অনেকেই ছুটে এল। সপ্তাহে প্রায় একটাকা পাঁচসিকে নগদ! বড় কম নয়। কিন্তু লোকের সে মেজাজ কোথায়। তারা দুদিন আসে দশদিন আসে না। কারখানা বন্ধ থাকে। এমনি তখন অবস্থা।

    এদিকে কোম্পানির নতুন প্রবর্তিত খাজনা-আইনে যেন আকাশ ভেঙে পড়ল সারা দেশটার মাথায়। শ্যাম দেখল, গোঁসাই এবং স্যানকতারাও যুগপৎ পালটে ভিন্ন মূর্তি ধরলেন খাজনা বাড়ল তো বটেই আবার কাঁচা পয়সায় সে খাজনা দেবার নিয়ম হল। ওদিকে জোলা তাঁতি যুগী—সবাই তখন মাঠে নেমে এসেছে। সারা দেশে নাকি তুলো নেই, সুততা নেই। এমন কী, মুচি ডোম পর্যন্ত চামড়ার জন্য হা-পিত্যেশ করে রইল। দেশে নাকি চামড়াও নেই। জোলা হল জেলে, মুচি হল চাষী। হাড়ের বোতাম চিরুনি গড়ত যারা, তারাও নামল মাঠে। সারা পরগনায় পায়রার খুপরির মতো জমি ভাগ হল কুটি কুটি।

    এত অনাচার দেশ সইবে কেন! আচমকা সারা দেশে দেশি সেপাইরা লড়াই লাগিয়ে দিল কোম্পানির বিরুদ্ধে। শ্যাম জঙ্গলপীরের থানে মানত করল, হে ভগমান, হে বাবাঠাকুর, তোমার  দুহাতে সব অনাচার, সব পাপ শেষ করে দাও, ভূমিকম্পে ঝড়ে ওদের কলকারখানা সব চুরমার করে দাও, কোম্পানির সব্বোনাশ করো, এ ড্যাকরা সুমন্দির পোর ঘরে ঘরে ওলাউঠায় সব শেষ করো।

    কিন্তু শ্যামের বাবাঠাকুর সেদিন এই কোম্পানির গোরাদের উপর সুপ্রসন্ন। সেপাইদের হার হল। গোরাদের মহারানী আশ্বাস দিলেন ধর্মেকর্মে নাকি আর কখনও কোম্পানির এ-সব বেলেল্লা করবে না। কে শুনতে চেয়েছিল সে কথা? হোক দেশি লোকের তৈরি, হিন্দুস্থানের যে মুলুকে কাপড়ের কল তৈরি হয়েছে, সে কাপড়ের কল তো উঠল না, তাঁর হুকুমে রিষড়ের পাটকল ড়ুবল না গঙ্গায় উপরন্তু দেশি খাদ্যে শস্যে হাত পড়ল গোরা কোম্পানির। দেশের নৌকা বোঝাই চাল ফসলে ভাঁটা পড়ল। এ-দেশের হাটে হাটে বিকোবার মাল কোন্‌খান দিয়ে কোন মুলুকে পাচার হয়ে গেল, ঠাওর পেল না কেউ।

    খাজনা বাড়ল আবার। শ্রীরামপুর-চাঁতরার গোঁসাইবাবুরা রাজা, সারা হালিশহর পরগনার জমিদারি তাদের ব্রহ্মোত্তর কিন্তু পত্তনি দেওয়া কৃষক প্রজারা তো কোনও রাজরাজড়ার কুলগুরু নয়। অভাবের দায়ে দেনার জন্য হাত পাতল তারা। মহাজনেরা এগিয়ে এল ঋণ দানের জন্য।

    শ্যাম নিরস্ত রইল ঋণগ্রহণ থেকে।

    এল তার ঘরে মা-মনসার বরপুত্র লখাই। নতুন করে সম্পর্ক স্থাপিত হল স্যানবাবুদের সঙ্গে। বুকে আবার একটু বল ফিরে পেল সে।

    কিন্তু আবার বাড়ল খাজনা। ফরাসডাঙার গোরারা খোলাখুলি ডাকাতি শুরু কল, দেশের উৎপন্ন ধন জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে গেল গোরা কোম্পানি। গারলের নীলচাষীরা মাগ-ছেলে ফেলে পালাতে লাগল।

    কেবল ইহুদি বাঈজীর নাচ থামল না আতপুরের রাজবাড়িতে, মেরজা ওস্তাদের সঙ্গীতের মিঠাবুলি প্রাণ রাঙানো চলল নিরন্তর। তার উপরে লক্ষ্মৌ-দিল্লির নাচওয়ালীর ঘাগরার ঝাপটা, নূপুরধ্বনি সেনবংশের দেওয়ানি ঐশ্বর্যের মহিমাকীর্তনে মেতে উঠল। গোরাদের পাতলুন-কোট পরে নতুন করে খোলস অটল বাবুভায়ারা। যে বাঙালি রাজাবাবু বিবা বিয়ের কথা বলে অনাচার করতে চেয়েছিলেন সবাই যেন শুরু করল তাঁর সাগরেদি। কিন্তু রাজাবাবুর মতো চাষার দুঃখে গোরাদের গায়ে পড়ে ঝগড়ার করলেন না কেউ।

    ওদিকে নতুন রেল লাইন পাতা চলতে লাগল কলকাতা থেকে শুরু করে এই সেনপাড়ার উপর দিয়ে। স্যানপাড়ার উপর দিয়ে? ভয়ে কৌতূহলে অবুঝ উৎকণ্ঠায় লোকজন ছুটে গেল রেল দেখতে। আবার পাটকল করার কথা শোনা গেল তেলেনীপাড়ায়।

    শ্যমের স্পষ্ট মনে আছে সেদিনের কথা। কানু ভড় বিশ্বকর্মা পুজো করল। ভড়েরা হল তাঁতি। গঙ্গাজলে তাঁত-চরকা ধুয়ে সিঁদুর লেপে সারাদিন সে মাথা ঠেকিয়ে পড়ে রইল তাঁতের উপর। ফরাসডাঙা থেকে স্যানকতারা আনিয়েছিল কানু ভড়ের বাপকে। কানুর বাপের তখন খুবই নামডাক। একসময়ে ওদের ঘরকে চিনত নবাব বাদশারা, ওদের না জেল্লাদার বাহারে কাপড়ের সুনাম দিল্লি অবধি ছড়িয়ে পড়েছিল। হিন্দুস্থানের বাইরেও ওদের হাতে তৈরি মাল নাম রেখেছে এ দেশের। সে বংশের ছেলে কানু।…পুজো সেরে শ্যামকে এসে বলল, রিষড়ের কলে পাটের বোরা বুনতে যাব রে শ্যাম।

    শ্যাম বলল, কী যে বলো কানু ভাই, তুমি যাবে কলে খাটতে!

    কয়েকদিন পরে ভোরবেলা সবাই দেখল কানু নতুন বানানো শেষ এবং অসমাপ্ত আগুনের মতো জ্বলজ্বলে ওড়না গলায় বেঁধে তাঁতঘরে মাচার বাঁশে ঝুলছে।

    কান্নার রোল পড়ল জগদ্দল-স্যানপাড়া জুড়ে।

    তবু বজরা-ভাউলে সাজিয়ে গোবিন্দপুর-ভবানীপুরের বাবুরা রাজশাহী শহরে ফুর্তি করতে যাচ্ছে। তাদের ভাউলে ভিড়ছে জগদ্দলের ঘাটে।

    আগুরিপাড়ার ঘাটে বসে পাকা মাথায় চাঁটি মেরে গান গেয়েছে কালো দুলে :

    মনের সুখে যাচ্ছে দেখ কত শত নারী
    এরা বজরায় মেরে যায় বলি কি হারি।
    কেউ পরেছে নীলাম্বরী
    কেউ পরেছে ঢাকাই শাড়ি
    ঝুমকো বেড়ি চারগাছা মল ডবল মাড়ি দুই হাতে চুড়ি।

    বজরা ভাউলের ছাতে উঠে আসে বাবুয়াদের রঙ্গসঙ্গিনীরা। বুকের কাঁচুলির ওড়না সরিয়ে নীলাম্বরীতে প্রাণভোলানো শহর তুলে নেচে নেচে গেয়ে ওঠে :

    বাবুরা দেখে হতজ্ঞান! চায় না কোট পিরান
    পকেটেতে রোমাল ঝোলে, গলেতে ঘড়ি-চেন্‌ দোলে
    ইংরিজি বুটজুতা পায় পরে সকলে।

    এ গান ফুর্তির, না ব্যঙ্গের, কে জানে!

    তখন শ্যামের মাথায়ও নেমে এসেছে ঋণের বোঝা। তার উপর ঘরের মধ্যে এই অশান্তি। প্রথমটা তার সমস্ত জ্ঞান যেন গুলিয়ে গেল। তারপর ভাদ্ৰবউ কাঞ্চনের রূপের কথা মনে হতেইওর সমস্ত রাগ গিয়ে পড়ল নারানের ওপর। সোয়ামী হয়ে সে হারামজাদা কাঞ্চনকে ঠেকিয়ে রাখতে পারল না, সে গিয়ে আবার আস্তানা পেতেছে অধরার ব্যাটার বউয়ের ঘরে। কিন্তু বুক ফেটে গেল তার লখাইকে এর প্রতিবাদ করতে না দেখে।

    তারপর সে হঠাৎ স্থির করে বসল, কালীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার। পুবে বোদাই গ্রাম কালীর বাপের বাড়ি। কালী আর মধুকে নিয়ে চলে যাবে সে। যা আছে কপালে, এ সংসারের হোক। সে আর তা দেখতে আসছে না। কালীর বাপের অবস্থা এমন কিছু খারাপ নয়, আর ভাইবোনও নেই। কালীর। শ্বশুরের সবই তো তাদের নাতি মধুর প্রাপ্য। এখন থেকে সে সেখানেই থাকবে।

    কাঞ্চন কালীর পায়ে পড়ে কেঁদে ভাসাল। লখাই বার বার শ্যামের কাছে এল কিন্তু কিছুই বলতে না পেরে ফিরে ফিরে গেল। নারান এসবের কোনও খোঁজই রাখল না। কেবল নীরব রইল কালী।

    শ্যাম খুব স্বাভাবিকভাবেই সংসারের সব বুঝিয়ে দিল লখাইকে। গরুগুলোর যত্ন করতে, খিরপাড়ার শীশ মণ্ডলের সঙ্গে খেতখামারের কাজকর্ম বুঝে নিতে বলল।

    যাওয়ার সময় কালী চোখের ইশারায় কেবল সান্ত্বনা দিয়ে গেল। কাঞ্চন-লখাই বাপ-মা-হারা শিশু বালক বালিকার মতো স্তব্ধ হয়ে উঠোনের উপর দাঁড়িয়ে রইল।

    শ্যামের চলে যাওয়াতে সকলেই স্তম্ভিত হয়ে গেল না শুধু, এর মধ্যে মনসার ছেলের কোনও কারিগরি নিশ্চয় আছে মনে করে কেউ কেউ নারানকে তাতাতে লাগল। বিশেষ অধরা।

    কিন্তু লখাইয়ের মুখে শোকের ছায়া দেখে জগদ্দলের নর-নারী একেবারে চুপ হয়ে গিয়ে প্রমাণ করে দিল, মানুষের মন কত বিচিত্র। কিন্তু একদল স্পষ্টই বলে বেড়াতে লাগল, শ্যাম-নারান দু ভাইকে ঘরছাড়া করে ভিটে দখল নিয়ে বসল লখাই। ধূমকেতুর আবির্ভাব এমনি বটে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleতরাই – সমরেশ বসু
    Next Article অলিন্দ – সমরেশ বসু

    Related Articles

    সমরেশ বসু

    প্রজাপতি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    গঙ্গা – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    বিবর – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }