Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    উত্তরঙ্গ – সমরেশ বসু

    সমরেশ বসু এক পাতা গল্প229 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৫. সেনকর্তা ডেকে পাঠালেন লখাইকে

    সেদিন সন্ধ্যাবেলা সেনকর্তা ডেকে পাঠালেন লখাইকে তাঁর খাস কামরায়।

    লখাই বুঝল এ ডাক কীসের। কর্তার কামরার বাইরে বন্দুকটা রেখে ঢুকে গড় করল সে।

    ঘর না বলে এটাকে ইন্দ্রের কক্ষ বলাই ভাল। গঙ্গার পশ্চিমপাড়ের উন্মুক্ত ভোলা আকাশের ড়ুবন্ত সুর্যের লাল শেষ রশ্মি ছড়িয়ে পড়েছে সমস্ত ঘরের মধ্যে। বিচিত্র ছাঁদের বিশাল নানান বর্ণের সংমিশ্রিত বেলোয়ারি কাচের ঝাড়লণ্ঠন মৃদু মৃদু দুলছে। থেকে থেকে কখনও বা হঠাৎ হাওয়ায় টুংটাং করে উঠছে বেজে। ঘরের দেওয়ালের প্রায় অর্ধেকখানি তেলাভ নীল পাথরে বাঁধানো, তাতে রেখায় রেখায় ফোটানো পেখম-ভোলা ময়ুরের ছবি। খানকয়েক বিদেশি ছবি দেওয়ালের গায়ে লটকানো রয়েছে রূপোর ফ্রেমে আটকানো। ছবিরই বা কী বাহার। সে বাহার দেখলে মানুষের লজ্জা হয়। কোম্পানির সাহেবরা নাকি এ-সব ছবি কর্তাদের উপহার দিয়েছেন।

    কত তাকিয়ে দেখলেন লখাইয়ের মুখ। না, তিনি রাগ করলেন না। বরং লখাইয়ের বিরাট  বলিষ্ঠ মূর্তি প্রশংসাভরে তাকিয়ে দেখলেন। বললেন, নারানের বউকে তুই নষ্ট করেছিস ব্যাটা, অ্যাঁ? যার শিল তার নোড়া, তারই ভাঙি দাঁতের গোড়া, নাকি রে?

    লখাই অভয় প্রার্থনা করে সব কথা বলল কতাকে। বলল, তার আর কাঞ্চনের কথা, তার প্রাণের কথা। শুনতে শুনতে কর্তার মুখে হাসি ফুটে উঠল। বললেন, তোকে আমি জমি দেব, ভিটে কর নিজের, ওই বউকে নিয়ে ঘর কর তুই।

    কিন্তু লখাই বলল, হুজুর অনুমতি দেন, এখান থেকে চলে যাব আমি। শ্যামদাদা কালীবউকে নিয়ে ঘর ছেড়েছে। এখানে আমি আর থাকতে পারব না। থাকতে হলে, শ্যামবাগদীর ভিটাই হল লখাইয়ের ভিটা। বলতে বলতে তার চোখে জল এল।

    বেশ তো। কর্তা বললেন, সেখানেই থাক। চলে যাবি কেন? শ্যাম দেখিস আবার ফিরে আসবে।

    এ আশার কথায় শান্তি পেল লখাই। বড় ইচ্ছা করল এই মুহূর্তে একবার কাঞ্চীবউয়ের কাছে ঘুরে আসবার। কিন্তু রাতের পাহারা রয়েছে তার।

    তারপর কর্তা হঠাৎ দুখানি মোহর লখাইকে দিয়ে বললেন, তোর মেয়েমানুষকে যা খুশি গড়িয়ে দিস। আর, শিরি-ফরহাদের গল্প শুনেছিস কোনওদিন?

    আজ্ঞে না।

    শুনে নিস একদিন মেরজা ওস্তাদের কাছ থেকে।

    এমন সময় মেজ কর্তা ঘরে ঢুকে বললেন, দাদা, তা হলে মহারানীর উপাধি গ্রহণের দিল্লি-দরবারের তো আর বেশি দিন বাকি দেখি না। অনেকেই রওনা হয়ে গেছে। আমরাই বা আর দেরি করি কেন?

    কর্তা গম্ভীর হয়ে বললেন, ভাবছি, আমরা কীসে দরবারে যাওয়ার উপযুক্ত লোক? সেখানে সব রাজরাজড়াদের ব্যাপার।

    মেজকর্তা কিছুটা বিরক্ত ও আফসোসে বলে উঠলে, কী যে বলল, তার ঠিক নেই। বলে, কোম্পানির আস্তাবল সাফ করে যে জমিদারি কিনল, সেও দেখি দিল্লির দিকে বজরা ভাসিয়েছে। আমরা কি তাদের থেকেও ছোট? তা ছাড়া, এ-সব ব্যাপারে একটু নড়াচড়া না করলে কর্তা ব্যক্তিরাও খুশি হয় না। ঘরে বাইরের সম্মানটাও দেখতে হবে তো।

    কর্তা একটু চুপ থেকে বললেন, ভাল কথা। তবে যাওয়া সম্ভব নয়, মনে হয়। মহীগড় মৌজা বিক্রির সব টাকাটা পেলে একটা উৎসবের আয়োজন করো আর হুগলির বড়সাহেবকে বলে এসো, আমরা লাটসাহেব লিটনকে কিছু উপটৌকন পাঠাতে চাই, তিনি যেন দয়া করে একটু ব্যবস্থা ও দিন তারিখ সময়টা ঠিক করে দেন।

    মেজকর্তা মহীগড় বিক্রির দুর্দশার ইঙ্গিত বুঝেও বললেন, কিন্তু মহারানীর রাজত্ব বলে সকলেই খুব খুশি হয়েছে।

    আমিও হয়েছি। কোম্পানির দৌলতেই আমরা ঐশ্বর্য পেয়েছি, কিন্তু কত হঠাৎ স্তব্ধ হয়ে গেলেন। একটা বিচিত্র অশান্তির রেখা ফুটে উঠল তাঁর মুখে। তার মনে যে কথা রেখাপাত করেছে তা হয় তো দেশের সাম্প্রতিক নানান কথার জন্যই। এক এক মহলে এক এক শ্রেণীর আলোচনা চলছে তখন। কেউ ভিক্টোরিয়ার ভারতের মহারানীর উপাধিগ্রহণ সম্পর্কে বিরুদ্ধ মতামত পোষণ করছিল, কোনও কোনও মহলে লিটনের সম্পর্কে নানান বাদানুবাদের সৃষ্টি হয়েছিল। কোম্পানির রাজ্যে দেশিয় লোকের ঐশ্বর্য আহরণের যে সুযোগ ছিল, তা খুব হওয়ার আশঙ্কা করছিল কেউ কেউ।

    লখাই কিছুই সঠিক বুঝতে পারেনি। সে হঠাৎ বলল, হুজুর মাপ করবেন। এ কোন্ মহারানী? ঝান্সির রানী লক্ষ্মীবাঈ?

    মেজকর্তা বললেন, তুমি একটি মেড়াকান্ত। তোমার ওসব লক্ষ্মী-পক্ষী কেউ নয়, ইনি হলেন মহারানী ভিকটোরিয়া। লন্ডনেশ্বরী। এখন হলেন ভারতেশ্বরী, বুঝেছ?

    লখাই ঘাড় কাত করে বলল, বুঝেছি হুজুর, কিন্তু কোথাকার মহারানী, বুঝলাম না।

    বড়কর্তা ঠোঁট ঈষৎ বেঁকিয়ে বললেন, এ-দেশের আর রানীটানি নেই রে। এ হিন্দুস্থানের ভার নিয়েছেন এখন গোরা কোম্পানির বিলাতের মহারানী। তিনি এখন ভারতেশ্বরী।

    ভারতেশ্বরী! গোরাদের ফিরিঙ্গিরানী ভারতের অধিশ্বরী। হায় মহাদেব! এ কী শুনছে লখাই! তার ওষ্ঠাগ্রে উথলে উঠল কেটা প্রশ্ন, তবে সেই বীর রানী লক্ষ্মীবাঈয়ের কী হল? কিন্তু চকিতে চেপে গিয়ে হাত-পা যেন অবশ হয়ে এল তার। শিথিল হাত থেকে পাথরের মেঝেতে মোহর পড়ে গিয়ে ঝনঝন করে উঠল।

    কর্তা বললেন, কী হল রে?

    রুদ্ধশ্বাস বিপজ্জনক মুহূর্ত। মনে মনে বলল লখাই, সাবধান, সাবধান পলাতক সিপাহি। শান্ত হও, অধীর হয়ে এমন করে বিপদ ডেকে এনো না।…তাড়াতাড়ি গড় করে মেঝে থেকে মোহর তুলে হাসবার চেষ্টা করে বলল, কিছু লয় হুজুর, কিছু লয়, মাথাটা যেন কেমন ঘুরে গেল।

    এ মিছে কথা বলার সুযোগ তার ছিল। শত হলেও জলে ভাসা মরা মানুষ, বেঁচে উঠেছে সে, আর তা ছাড়া, কর্তা জানতেন তার মনের অবস্থা খারাপ। তার মনের গতি তো আর দশজনের মতো স্বাভাবিক নয়।

    কর্তা যেচেই বললেন, ঘরে যাবি?

    আশীর্বাদ প্রাপ্তির মতো বলল লখাই, যদি অনুমতি দেন।

    মেজকর্তা বলে উঠলেন, খোট্টা হয়ে শুধু বাংলা কথাই শিখিসনি বিনয়বাক্যও বেশ রপ্ত করেছিস দেখছি।

    হুজুরদের দয়া।

    কর্তারা দুভাই-ই হেসে উঠলেন। বড়কর্তা বললেন, আচ্ছা যা। কয়েদখানার বাবুকে বলিস, বাইরের দালানে যেন রাতে কেউ থাকে।

    বাইরে এসে বন্দুকটা ছুঁতেই হাত দুটো সাঁড়াশির মতো মুঠি পাকিয়ে উঠল লখাগর। দাঁতে দাঁত চেপে বসল। সে ভুলে গেল কাঞ্চনের কথা, ভুলল শ্যামকালীবউয়ের কথা, অশান্তির কথা ঘরের। আচমকা এক অসময়ের ঝড় উঠল তার বুকের মধ্যে। আবার তার জীবনে যেন সেই যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে এসেছে। ফিরিঙ্গিরানী ভারতেশ্বরী! তা হলে কি সব শেষ হয়ে গিয়েছে, সব আশা ধুলিসাৎ হয়ে গিয়েছে!

    কয়েদখানার বাবুর কাছে এসে বন্দুক ফিরিয়ে দিল সে। কয়েদখানার ভারপ্রাপ্ত কর্মচারীকে কয়েদবাবু বলা নিয়ম এবং কয়েদবাবু বলেই তিনি এ এলাকায় পরিচিত। কুটবুদ্ধি ও নিষ্ঠুর নীচ প্রকৃতির মানুষ বলে তাঁর খ্যাতি আছে। কয়েদখানার বাইরে সামান্য খোলা জমির পরেই কাছারিবাড়ির পেছনের পাঁচিল সংলগ্ন কয়েদি-দপ্তর, এ ঘরটি শুধু শ্রীহীন নয়, সমস্ত সেনবাড়ির চৌহদ্দির মধ্যে এ ঘরখানিই বোধ হয় সবচেয়ে অন্ধকার (কয়েদখানা বাদে) পুরনো এবং অল্পদামি আসবাবপত্রে ভরা। আলো মাত্র একটি, তাও প্রায় সবসময়েই জ্বালানো থাকে। দরজা মাত্র দুখানি। একটি কাছারি অপরটি কয়েদঘরে যাওয়ার। কত্তারা এ ঘরটিকে বোধ করি ইচ্ছা করেই সংস্কার করবার প্রয়োজন বোধ করেন না কয়েদিদপ্তর বলে। তাতে কয়েদি-দপ্তরের সামঞ্জস্য নষ্ট হবার সম্ভাবনা আছে। সে ঘরে কয়েদবাবু ও যমদুতের মতো সিদ্ধিপানে লাল চোখ নিয়ে কয়েকজন সেপাই সব সময়ই বসে থাকে।

    কয়েদবাবু তাঁর বকের মতো নাকটা আরও খানিকটা ঠুলো করে জিজ্ঞেস করলেন লখাইকে, কী বৃত্তান্ত বাবা লক্ষীন্দর, ছুটি নাকি?

    লখাইয়ের হাতে হঠাৎ সোনার চকমকানি দেখে কয়েদবাবুর সন্দেহপ্রবণ লুব্ধ কুটিল চোখজোড়া চকচক করে উঠল। তোমার হাতে কী হ্যা?

    মোহর। কত দিয়েছেন।

    বাঃ! তুই তো বেটা জাদু জানিস দেখছি। কুটিল হাসিতে মুখ তবে তিনি বললেন, পরের বউ, পরের ঘর সবই লুটলি, আবার তার কাছে বকশিশও পেয়ে গেলি? হা হা হা। বেশ বেশ! তো তোর কেরামতিটা বাইকে শিখিয়ে দে না রে।

    অন্য যে কয়জন সেপাই সেই গুহার মতো অন্ধকার ঘরে বসে ঝিমুচ্ছিল, তারা সকলেই চোখ ঘষে লখাইয়ের দিকে তাকাল। তাদেরই মতো একজন নগণ্য সেপাইয়ের এতখানি সৌভাগ্য দেখে ঠিক হিংসা নয়, এক বিচিত্র আশাবোধ তাদের প্রাণের মধ্যে জেগে ওঠে। সেই সঙ্গে তাদের দানের মহিমাতে বিস্ময়ে চোখ জ্বলে ওঠে তাদের।

    একজন বলে উঠল তাদের মধ্যে থেকে, আমার ঠাকুদ্দারে কত্তারা একবার অনেক সোনা দিইছেল, কিন্তু কপালে সইল না।

    এবং সব কজন সেপাই-ই লখাইয়ের কাছে এসে বিস্মিত প্রশংসার লক্ষ করতে লাগল তাকে। একজন বলল, কী বলে দিলেন কত?

    সে জবাব দেওয়ার মতো মনের অবস্থা তখন লখাইয়ের নয়। তার সমস্ত মনের মধ্যে তখন তোলপাড় করছে ফেলে-আসা অতীতের কাহিনীর সমস্ত পরিণতি জানবার জন্য। তার সমস্ত প্রাণমন ফিরে গেছে ফেলে-আসা সেই সেপাই ব্যারাকে, মনে পড়ছে প্রতিটি দিনের নিরন্তর ফিসফাস, জাত মান খোয়ানোর আতঙ্ক, আর প্রতিমুহূর্তে শ্বেত দানবের হুকুম অমান্যের সাংঘাতিক উত্তেজনা।

    সে বলল কয়েদবাবুকে, কিত্তা বাইরের দালানে একজন পাহারাদার পাঠাতে বলে দেছেন। আমি যাই আজ্ঞে।

    কয়েদবাবু বললেন, আরে শোন শোন। হঠাৎ ঘরে চললি কেন? ময়াল খেলাতে না রাত করে মেয়েমানুষকে পাহারা দিতে?

    একজন সেপাই বলল, তা নারানও বড় কম জোয়ান নয়। সে কি ছেড়ে কথা কইবে? লখাই বলল, না ভাই, শরীলটা বড় বেভাব লাগছে। কয়েদবাবু হেসে উঠলেন হো হো করে। বললেন, সে তো কর্তা বুঝেছেন, আমরা কি আর বুঝেছি? তারপর হঠাৎ গলার স্বর পরিবর্তন করে ভ্রূ কুঁচকে বললেন, তা তুই এত ঘামছিস কেন, হাঁপাচ্ছিস কেন! ভয় পেয়েছিস নারানের জন্য?

    কথাটা শুনে মাথা নাড়া দেওয়া সিংহের মতো সোজা হয়ে উঠল লখাই। পরমুহূর্তেই আবার মাথা নামিয়ে চাপা একটু উত্তেজিত গলায় বলে, তা বাবু, নারানের না হোক, ভয় পেয়েছি একটা। ভয় এ পানের লয়, সে ভয়… বলতে বলতে হঠাৎ থেমে আর একটি কথাও না বলে সে বেরিয়ে পড়ল।

    ঘরের সবাই হতবাক হয়ে তার চলার পথের দিকে তাকিয়ে রইল। কেবল কয়েদবাবুর মুখের সমস্ত রেখাগুলো বার বার নানান ভঙ্গিতে বেঁকেচুরে উঠতে উঠতে লাগল নানান চিন্তায়।

    .

    লখাই বেরিয়ে এসে পথের উপর পড়ল।

    সন্ধ্যার অন্ধকার নেমেছে। উত্তর-দক্ষিণে বিলম্বিত পথ নির্জন নিস্তব্ধ। চক্রবর্তী বাগানের উলটো দিকে পথের উপর ঘোষের মুদিখানায় বাতি জ্বলছে একটা টিমটিম করে। দু-একজনের নিচু গলার কথা শোনা যাচ্ছে সেখানে।

    কোথায় যাবে লখাই? বাড়িতে, কাঞ্চনের কাছে? না, নারীর প্রেমালিঙ্গন আদর-সোহাগ আচমকা তার জীবন এক উদ্দাম ঝড়ে ঝরে গিয়েছে। বুঝি চকিতে দুদিনের জন্য তার জীবনে নারীর উদ্দাম সোহাগ এসেছিল এবং যে দুর্বিপাকে পড়ে ভাসন্ত জীবনকে যে তুলে দিয়েছিল কাঞ্চনের হাতে, পুনর্বার সেই দুর্বিপাকই দারুণ আবর্তে পাক খেয়ে ফিরে এসে ছত্রখান করে দিল সমস্ত! কোম্পানির ফিরিঙ্গি রানী ভারতের মহারানী! এ কী করে সম্ভব হল। তা হলে চোখে না-দেখা যে ঝাঁসির রানীর যুদ্ধ ঘোষণার কথা শুনেছিল, শুনেছিল বীর নানাসাহেবের কথা, তাঁরাও কি এ নগণ্য সিপাহির মতো লাঞ্ছিত পলাতক জীবন যাপন করছেন? হিন্দুস্থানে কি তাঁদের আর কোনও পাত্তা নেই, বিলাত থেকে ফিরিঙ্গিরানীর শাসন-ক্ষমতার অধিকারের কথা শোনা সত্ত্বেও কি যুদ্ধের অবসান হয়ে গেছে? তা হলে গুরুশূকরের চর্বিতে ভাজা হাড়চূর্ণের ময়দার রুটি-পরোটাতে হিন্দুস্থানের মানুষকে পেট ভরাতে হবে? কোথায় বীর সেনাপতি তাঁতিয়া। আজও যে লখাই, ঝড়ো হাওয়ায় মেঘ গর্জনের মধ্যে তোমার সেই অমোঘবাণী শুনতে পায়, প্রতিটি ফিরিঙ্গির রক্তে হিন্দুস্থানকে স্নান করিয়ে শুদ্ধ করে নিতে হবে।

    বুকের মধ্যে নিশ্বাস বন্ধ হয়ে এল তার। সারা গায়ে ঘাম ছুটছে। কোথায়, কোথায় তাঁতিয়া! তার মনে পড়ল, মজুমদারদের সেজবাবুর কথা। সারা সেনপাড়ার মধ্যে এমন দুটি তোক আর সে দেখেনি। বাবু সারাদিন বসে বসে মস্ত মোটা মোটা কেতাব পড়েন। পড়ায় এতই তন্ময় থাকেন যে, তাঁর বেশবাসের ঠিক থাকে না, ঠিক থাকে না নাওয়া-খাওয়ার; একদিন তিনি নিজেই ডেকে লখাইকে অনেক কথা বলেছিলেন এবং লখাইকে ওঁর কী যে ভাল লেগেছিল। বলেছিলেন, আমি তোমার প্রেমে পড়েছি হে, বুঝলে? মাঝে মাঝে এসে আমাকে দেখা দিয়ে যেয়ো। তুমি একটা ইতিহাস সৃষ্টি করেছ সারা হালশহর পরগনার মধ্যে।

    স্থানীয় অধিবাসীরা তাকে কিন্তু পাগলই মনে করে। কোনও বাকবিতণ্ডা তো দূরের কথা, হেসে ছাড়া তাঁকে কেউ কোনও দিন কথা বলতে দেখেনি। বলেন, তাও দুবোধ। কখনও সংস্কৃত, কখনও ইংরেজি কখনও ফারসি বা ফরাসি। কেতাব পড়েই মাথাটি অমন গোলমেলে হয়ে গেছে, শোনা যায় শীঘ্রই কলকাতায় কোম্পানির প্রতিষ্ঠিত কোন বিদ্যালয়ে নাকি শিক্ষকতা করতে যাবেন এবং সাহেবরা তাঁকে বিলাত নিয়ে যাওয়ার জন্যও খুব অনুরোধ করেছেন।

    তিনি যেমন লখাইয়ের প্রেমে পড়েছিলেন, লখাইও তেমনি পড়েছিল এ মানুষটির প্রেমে। অনেক কথা শুধু নয়, অনেক দেশের অনেক ব্যাপার সে জেনেছে এ লোকটির কাছ থেকে। এত কথাও তিনি জানতেন! আর এ দেশের কোনও কথা বলতে গেলেই তাঁর সারা মুখে এক অদ্ভুত ব্যঙ্গের হাসি ফুটে ওঠে। বলেন, আমরা কীসের জাত তুমি জানো?

    লখাই বলে, আজ্ঞে হিন্দুর বটে।

    তিনি বলেন, সে তো বটেই, তা ছাড়াও আমরা হলাম নিধিরামের জাত।

    নিধিরামটা কে বাবু?

    যার ঢাল-তলোয়ার নেই।

    বজ্রকণ্ঠে সে কথার প্রতিবাদ করতে চেয়েছে লখাই। ঢালতলোয়ারহীন নিধিরাম হলাম আমরা। তুমি কি জানো না বাবু, এ দেশের সেপাইদের লড়ায়ের কথা, তুমি কি জানো না, ফিরিঙ্গির রক্তে ভাগীরথী লাল করে দেওয়ার কথা। কিন্তু বলতে পারিনে ভয়ে। এত কথা জিজ্ঞেস করেছে, তবু প্রকাশ হয়ে পড়ার ভয়ে কোনও দিন জিজ্ঞেস করেনি সে যুদ্ধের পরিণতির কথা। মনগড়া কল্পনা করেছে, যুদ্ধ থেমেছে সাময়িকভাবে, দিন আবার আসবে।

    কিন্তু আজ সে কল্পনার সৌধ হয়ে গেছে চূর্ণবিচুর্ণ। সাময়িকভাবে যে পরাজয়ের জ্বালা স্তব্ধ হয়ে ছিল স্বকল্পিত চিন্তায়, আজ সেই জ্বালা নিদারুণ সত্য হয়ে পুড়িয়ে দিল বুকটা।

    না, বাড়ি নয়, কাঞ্চন নয়, নয় অন্য কোনও দুশ্চিন্তা। ভয় নয়, আজ সে সোজা চলল মজুমদারবাড়ির দিকে, সেজবাবুর কাছে সমস্ত কথা জানতে। ও হে। বিদ্যুতের মতো ঝলকে উঠল তার মনের মধ্যে, তাই বুঝি সেজবাবু অমন ঠোঁট বাঁকিয়ে বলেন, আমরা হলাম নিধিরামের জাত। আর লখাই অপোগণ্ড মুখ সিপাহি, সে কোনও অর্থই বুঝতে পারেনি। সব কথাই জানেন তা হলে সেজবাবু! নিশ্চয়! সেজবাবু যে কথা জানেন না, সে কথা জানে না তা হলে কেউ।

    মজুমদারবাড়ির দেউড়ি দিয়ে ঢুকতেই চাকর হরি জিজ্ঞেস করল, লখাই না কি গো?

    লখাই বলল, হ্যাঁ, সেজবাবুর সঙ্গে এটু দেখা করব। কোথায় আছেন?

    হরির খানিক ভক্তি আছে লখাইয়ের উপর মনসার ছেলে বলে। তবু বলল বিস্মিত হয়ে, রাত করে যে?

    লখাই বলল, বড় দরকার ভাই। বাইরের ঘরে আলো রয়েছে, বাবু ওখানেই নাকি?

    হরি নির্বিকারভাবে বলল, তা ছাড়া আর কোথায় থাকবেন বলে? তুমি হলে মনসার ছেলে, উনি হলেন মা সরস্বতীর। যাও।

    লখাই ঢুকতে গিয়ে হঠাৎ থমকে পেছিয়ে এল তাড়াতাড়ি। হরি বোধ হয় নজর করেনি। বাবুর পাশে সুন্দরী যুবতী একজন ঘোমটা খুলে বিহুলভাবে শূন্যে তাকিয়ে আছেন আর বাবু কী যেন পড়ছেন তাঁর মিষ্টি গলায় দুহাত নেড়ে। মানুষ দেখে যুবতী ঘোমটা টেনে দিলেন। ছায়া দেখে সেজবাবু জিজ্ঞেস করলেন, কে ওখানে?

    তাড়াতাড়ি চৌকাটের উপর গড় করে লখাই বলল, আপনার লক্ষীন্দর।

    সেজবাবু কেতাব মুড়তেই যুবতী উঠে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সেজবাবু তাড়াতাড়ি তাঁর আঁচল ধরে বললেন, যাচ্ছ কোথায়? ও আমাদের লখাই, তোমার এত গোপনতার কোনও কারণ নেই।

    যুবতী ঘোমটা ঈষৎ তুলে বললেন, জানি। তুমি ওর সঙ্গে কথা বলে, আমি ভিতরে যাই।

    লখাই তাড়াতাড়ি বলে উঠল, থাক বাবু, আমি এখন যাই।

    সেজবাবু বাধা দিয়ে বললেন, যাবে কী হে! গৃহস্থের গিন্নির দেখা পাওয়া যায়, কিন্তু তুমি হলে চাঁদরাজার ছেলে, রাজপুতুর লক্ষীন্দর, এসেছ আবার সন্ধ্যার পর, তোমাকে কি এখন ছেড়ে দিতে পারি! এসো, ভিতরে এসো। স্ত্রীকে বললেন, তুমি তো কতদিন লখাইয়ের কথা শুনতে চেয়েছ, চলে যাবে কেন?

    বারবাড়িতে বসে এ ভাবে কথা শোনা যায় বুঝি? বলে স্ত্রী চলে গেলেন।

    সেজবাবু একটু হেসে বললেন, তা বটে। তারপর লক্ষীন্দর তুমি কি মনে কর? শুনলাম তুমি আর এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছ সেনপাড়াতে। সেই সম্বন্ধে কিছু বলবে নাকি?

    লখাই বলল, না। কিন্তু যা বলতে এসেছে, বলতে গিয়ে সে কথা আটকে গেল তার মুখে। নানান সংশয়, সন্দেহ চেপে আসতে লাগল তার মনে। না জানি কী মনে করবেন বাবু, না জানি কী ভাববেন। হয়তো কিছু জিজ্ঞেস করে বসবেন, যে কথার জবাব দিতে পারবে না সে। আর নিজের মন-মেজাজেরই কি তার কিছু ঠিক আছে? কী বলতে কী বলবে সে। বলতে গিয়ে তার এতদিনের আত্মগোপনের কাহিনীই যদি ফাঁস হয়ে যায়।

    তার মুখ দেখে সেজবাবু জিজ্ঞেস করলেন, কী ব্যাপার লখাই? কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি তো? কাজে যাওনি আজ?

    যেন কথাচ্ছলে একটু হাসল লখাই। তাড়াতাড়ি মনের ভাব গোপন করার চেষ্টা করল। এ কী করছে সে! আর কোনওদিন কি লখাই সেজবাবুর কাছে আসেনি? আর আর দিনের মতোই স্বাভাবিকভাবে নানান কথা বলে তার কথাটি জেনে নিতে হবে, উত্তেজনার মধ্যে সে কথা ভুলে যায় কেন সে? বলল, না, তেমন কিছু নয়। শরীরটা একটু বেভাব হয়েছে, তাই চলে এলাম। কী কেতাব পড়ছিলেন বাবু?

    সেজবাবু খানিকটা যেন ভাবের ঘোরে তন্ময় হয়ে গেলেন। লখাইয়ের ছলনা তিনি বুঝতে পারলেন না। বললেন, কেতাব বড় সাংঘাতিক হে। কেতাবের নাম হল দুর্গেশনন্দিনী। লিখেছেন কে জানো? কাঁটালপাড়ার এক চাটুজ্যে হাকিম। আমাদের বাড়িতে দেখলে আমি আমার বউকে পড়িয়ে শোনাচ্ছি, কেন-না, রেওয়াজ আছে। আমার ভাঁটাপাড়ার বন্ধু বনমালী টোলের ফিরতি পথে রোজ এ কেতাবের পাতা ছিঁড়ে পাচন নিয়ে যেত আর সেই পাতা পড়ে শোনাত তার নববধুকে। বলে তিনি ঠোঁট টিপে হাসতে হাসতে সেই কেতাবের পাতা ওলটাতে লাগলেন। লখাই সে সব কিছুই বুঝতে পারল না। বলল, কেন কিছু খারাপ কথাটথা লেখা আছে বুঝি?

    খারাপ বলে খারাপ! সেজবাবু ভ্রূ তুলে কপট গাম্ভীর্যে বললেন, রীতিমতো চিত্ত বিক্ষিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। অর্থাৎ হৃদরোগে ঘটতে পারে, বুঝলে? শুনবে নাকি একটু?

    লখাই জোড়হাতে বলল, না বাবু, যাব এখন, তা বাবু কেতাবে এত কথা লেখা থাকে, সেপাইদের যে সেই লড়াই হয়েছিল কোম্পানির সঙ্গে তার কিছু লেখা নেই?

    সেজবাবু বললেন, ইংরেজি কেতাবে আছে।

    আছে? আবার যেন লখাইয়ের সারা মুখ জ্বরের ঘোরে মতমিয়ে উঠতে চায়। মুখে তার আলো ফুটল। বলল :সে লড়ায়ের কী হল বাবু?

    সে তো শেষ হয়ে গেছে হে।

    অ! যারা লড়েছিল, তাদের কী হল?

    তারা তো অনেকেই মরে গেছে।

    মরে গেছে?

    লখাইয়ের অবিশ্বাস অথচ তীব্র কণ্ঠ শুনে সেজবাবু ফিরে তাকালেন। বললেন, হ্যাঁ। ঝাঁসির রানী তো যুদ্ধ করতে করতেই মারা গেলেন। নানা সাহেব তো গ্রেপ্তার হয়ে বোধ হয় বহরমপুরে। জেলে ছিলেন, মরে গেছেন কি-না জানি না। কেন বলল তো?

    কেন? কেন, সে কথা আজ আর কেউ বুঝবে না। ছদ্মবেশী জীবনের সব আশা ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে, সে মরেছে জীবন্তে। বলল, কেন আর, এমনি। গপ্পো শুনেছি কি-না। আর একজন ছিল বাবু, কী নাম তার, হ্যাঁ, তাঁতিয়া? সেজবাবু বললেন, সে মারহাট্টিকে ফাঁসি দিয়েছে।

    আচমকা লখাইয়ের বুকে যেন তীক্ষ্ণ তলোয়ার আমূল বিদ্ধ করে কেটে ফেলল হৃদপিণ্ড। কিন্তু কোনও শব্দ করার উপায় নেই। যন্ত্রণায় আর্তনাদ দূরের কথা, মুখে তার চিহ্ন পর্যন্ত ফুটতে দেওয়া চলবে না। সে তাড়াতাড়ি উঠে পড়ে ফিরে যাওয়ার উদ্যোগ করে আবার বলল, কার হুকুমে ফাঁসি হয়েছে বাবু? কোম্পানির মহারানীর? এবার আর সব চেষ্টাতেও লখাই তার বিকৃত উত্তেজিত মুখভাব গোপন করতে পারল না, সেজবাবু বললেন, কী হয়েছে তোমার লখাই। তোমার স্যানকর্তারা মহারানীর উৎসব করতে দিল্লি যাচ্ছেন, তাতে কি তোমার মন খারাপ হয়ে গেছে?

    লখাই প্রাণপণ চেষ্টায় আত্মসম্বরণ করে বলল, না, কিন্তু বাবু, বলতে ভরসা পাইনে, ফিরিঙ্গি রানী এ-দেশের মহারানী হবে, ফাঁসির হুকুম দেবে—এ যেন আমার পানে সয় না।

    সেজবাবু তক্তাপোশ ছেড়ে নেমে লখাইয়ের কাছে এসে ফিসফিস করে বললেন, ঠিক বলেছ লক্ষীন্দর—ঠিক বলেছ। সাধ করে কী তোমার বন্ধু হয়েছি। কিন্তু কোনও উপায় নেই। আমরা যে নিধিরামের জাত হয়েছি।

    সেজবাবুর এ আকস্মিক আত্মপ্রকাশ লখাইয়ের হৃদয়ের বদ্ধ দুয়ার যেন প্রচণ্ড ধাক্কায় ঠেলে খুলে ফেলতে চাইল। দামামা বেজে উঠল তার বুকের মধ্যে, কামানের গোলা ফাটার শব্দ এল যেন তার কানে। তাড়াতাড়ি সেজবাবুর পায়ে হাত দিয়ে ব্যাকুল গলায় বলল সে, বাবু, এর কোনও বিহিত কি হবে না। আপনারা কিছু করবেন না?

    সেজবাবু লখাইয়ের হাত ধরে তুলে বললেন, বলেছি তো লখাই, আমাদের কিছু নেই। ঈশ্বর আজ ওদের সহায়, শক্তিতে ওরা আজ সিংহবাহিনী। পৃথিবীর কেউই আজ ওদের সঙ্গে পারবে না। তার উপর আমাদের দেশের বড় বড় মাথারা আজ সব ওদেরই সহায়।

    না–না এ আর শুনতে পারে না লখাই। কোম্পানির প্রতি ঈশ্বরের আশীর্বাদ, ওর প্রতি প্রচণ্ড অভিশাপ! হায়, কী পাপে, কোন পাপে। ঈশ্বর কখনও অবিচার করেন না, কিন্তু এই নাকি তাঁর বিচার!

    রাত হল, আমি যাই বাবু–বলে লখাই প্রস্থানোদ্যত হল।

    সেজবাবু একটু এগিয়ে বললেন, এসব কথা কাউকে যেন বলো না।

    না বাবু না। বলে সে বেরিয়ে এল। একথা কি বলার মতো, না, এ লজ্জার, এ পরাজয়ের কথা ফলাও করে কাউকে বলা যায় না।

    কিন্তু ঈশ্বরের অভিশাপেই যেন অভিশপ্ত ক্রুদ্ধ বন্দি সিংহের মতো অন্ধকার পথের উপর এসে আড়ষ্ট হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল লখাই। তাঁতীয়াটোপীর উদ্দীপ্ত মুখমণ্ডল তার সমস্ত সুপ্ত স্মৃতিকে হিংস্র করে তুলেছে, দুই মুষ্টিবদ্ধ হাতে অন্ধকারকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য যেন সে ঝাপটা মারতে লাগল। না, বোধ করি সেনাপতির ফাঁসির দড়িকে সে দুহাতে টেনে ছিড়তে চাইছে। তার ঘন ঘন নিশ্বাসের সঙ্গে মনে হল, মণিহারা অজগর ফুঁসছে অন্ধকারে, ধকধক করে জ্বলছে দুই রক্ত চোখ। ফাঁসি দিয়েছে তার সেই বীর সেনাপতিকে! সারা হিন্দুস্থানের কোম্পানির সমস্ত গোরাকে কি সেই ফাঁসিরও কাঠে ঝোলানো যায় না?

    .

    অন্ধকারে গাছের মাথার উপর দিয়ে পাখি একটা পাখা ঝাপটা দিয়ে উড়ে গেল বিচিত্র শব্দ করতে করতে। লখাই যেন শুনল সে পাখি বলে যাচ্ছে, হ্যাঁ, হ্যাঁ, হ্যাঁ, হ্যাঁ…।

    উপরের দিকে ফিরে তাকাল সে। অন্ধকার। গাছের ফাঁকে ফাঁকে তারা ভরা আকাশ। সেই অসীম শূন্য থেকে ক্রমবিলীয়মান দৈববাণীর মতো সেই শব্দ ভেসে আসতে লাগল, হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ…

    অন্ধকারে দানবের মতো লখাই চলল বাড়ির দিকে। কেমন যেন সব তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে মাথার মধ্যে। চিন্তা করবার ক্ষমতা নেই। যা ভাবতে চায়, সে ভাবনার কোনও ধারাবাহিক গতি নেই তার। কেমন করে সে ভাবনা ভাবা যায় বুঝি তাও তার জানা নেই। কেবল এক অশান্ত বোবা ক্রোধে মনে মনে বার বার প্রশ্ন উঠল, কেমন করে, কেমন করে, কেমন করে?

    অন্ধকার উঠোন পেরিয়ে দাওয়ায় উঠে দরজায় ধাক্কা দিল সে।

    কাঞ্চন জেগেই ছিল। জিজ্ঞেস করল, কে?

    আমি লখাই।

    পরিচিত গলার স্বর শুনেও বেড়া কাটা জানালা দিয়ে অন্ধকারে ঠাওর করে একবার দেখে নিল। তারপর দিল দরজা খুলে।

    ঘরে তখনও টিটি করে একটা প্রদীপ জ্বলছে। লখাইয়ের খাওয়া এঁটো বাসন দুখানা পড়ে রয়েছে, অগোছাল ছড়ানো জিনিসপত্র কালকের মতোই পড়ে রয়েছে এখনও। বিস্ত বিছানার কাঁথা গুটানো, মাদুর পড়ে আছে মেঝেয়।

    কাঞ্চনের দুই চোখ ফোলা, মুখ ভার, ক্লান্তিমাখা! বোঝা যায় সে খায়নি, ওঠেনি সারাদিন, পড়েই ছিল। অসময়ে লখাইকে ফিরতে দেখে বলল, চলে এলে যে?

    লখাই কোনও জবাব দিল না। চুপ করে বসে রইল সে এক পাশে। স্তব্ধ, ক্রুদ্ধ। জ্বলন্ত চোখ, ঘন নিশ্বাসে মস্ত বুক বিরাট পাথরের মতো দুলে দুলে উঠছে।

    সে মূর্তি দেখে চমকে উঠল কাঞ্চন। শিউরে উঠল ভয়ে। তাড়াতাড়ি কাছে গিয়ে গায়ে হাত দিয়ে বলল, কী হয়েছে, কী করে এসেছ?

    কিছু না।

    সেকথা বিশ্বাস করল না কাঞ্চন। আরও খানিক ঝুঁকে পড়ে ভাল করে লখাইয়ের মুখ দেখে বলল, কিছু নয় কি? তবে তোমার চোখ মুখ এমন জ্বলছে কেন! অমন জোরে জোরে নিশ্বাস ফেলছ কেন? কী হয়েছে বলে! তুমি কত্তাদের বাড়ি থেকে চলে এলে কেন?

    বলে সে লখাইয়ের সর্বাঙ্গ আতিপাতি করে দেখল। তার স্থির বিশ্বাস হয়েছে মারামারি না হলেও নারানের সঙ্গে নিশ্চয় তার কিছু ঘটেছে। হয় তো সেখানে অধরা এবং আরও কেউ কেউ ছিল। তারা সকলে মিলে অপমান করেছে লখাইকে হয় তো। নয় তো বুঝি কত্তারাই কোনওরকম অপমান করেছে, ব্যবস্থা করেছে হয় তো কোনও শাস্তির।

    অস্থির গলায় বলল সে, মরণ সেই আমার, বলল না কেন মিনসে, কী হয়েছে? এত রাগ কেন তোমার! কার পরে!

    কার পরে? বলে জলন্ত দৃষ্টিতে শুন্যে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত ঘষে আবার বলল, যার পরে, তার নাগাল আমি পাব না, বুঝি কোনওদিন না।

    শুধু আতঙ্ক নয়, কৌতূহল ফেটে পড়ার জোগাড় হল কাঞ্চনের। দুহাতে লখাইয়ের কাঁধে ঝাঁকানি দিয়ে বলল, কেন! কে সে! কার নাগাল খুঁজছ তুমি?

    লখাই স্থির দৃষ্টিতে তাকাল কাঞ্চনের দিকে। কাঞ্চনও তাকাল। একি চোখ। খুন করবার সময় মানুষের চোখ কি এমনই হয়? শত্রুকে না পেলে মানুষের সারা মুখ এমনি জ্বলে।

    লখাই হঠাৎ কাঞ্চনের হাত ধরে বলল, কাঞ্চীবউ, সেপাইদের লড়াইয়ের কথা তুমি শুনেছ কোনও দিন? গোরা কোম্পানির সঙ্গে যারা লড়েছিল?

    কাঞ্চন বলল, শুনব না কেন। তখন তো আমার বে হওয়ার কথা হচ্ছে।

    কঠিন চাপা গলায় বলল লখাই, সে যুদ্ধের সেনাপতিদের ফাঁসি দিয়েছে কোম্পানির গোরারা। এ হিন্দুস্থানের তখতে আজ ওরা ফিরিঙ্গিরানীকে বসিয়েছে। ওই সাদা শয়তানেরা নাকি ঈশ্বরের আশীর্বাদ পেয়েছে, ওদের নাগাল আর কেউ পাবে না।

    এ কথার অর্থ বুঝতে পারল না কাঞ্চন। লখাই যে দ্বিগুণ দুর্বোধ্য হয়ে উঠল তার কাছে। অজানা এক নতুন ভয় দানা বাঁধল তার বুকে। এসব কথা বলে কেন মানুষটা, আর এসব কী কথা? বলল, তাতে তোমার কী?

    তাতে আমার কী! বেকুফ আওরত! হাতের ঝটকা দিয়ে সরিয়ে দিল সে কাঞ্চনকে।

    সত্যি, তাতে লখাইয়ের কী! কেউ বুঝবে না তার কথা, পুনর্জীবিত মনসার ছেলের এ বিচিত্র প্রশ্নে সবাই শুধু চমকাবে, নয় তো এক দারুণ সর্বনাশের সন্ধান পেয়ে খিল আঁটবে ঘরে ঢুকে। আপন মনে সে বিড় বিড় করতে লাগল।..সিপাহি ব্যারাকের কথাই তার আবার মনে পড়ল। একেবারে শেষের দিকে যেদিন শোনা গেল চপাটি ঘুম গিয়া সেদিন ব্যারাকে এক দারুণ উত্তেজনা। ওই চপাটি যুদ্ধ শুরু হবার প্রথম সঙ্কেত ছিল। ওই চপাটিতে লেখা ছিল গোরা কোম্পানির অনাচারের কথা, অত্যাচারের কথা, অস্পৃশ্য টোটা টুপি ময়দার কথা আর ছিল গোরা কোম্পানিকে এ-দেশ থেকে নিশ্চিহ্ন করার কথা। কেমন দেখতে ছিল সেই চপাটি, কে ছেড়েছে সেই চপাটি, কোত্থেকে আসছে; কেউ জানত না। শুধু মাত্র শোনা গেল, এ জনপদের উপর দিয়ে ঘুরে গেছে সেই চপাটি।…পারি বন্ধ, গোরা কানিল মাজের সাহাবের দল অশরীরী প্রেতের আতঙ্কে যেন টিপে টিপে পা ঝেলছে। তারপরই আচমকা বোম্ ফাটার মতো যুদ্ধ শুরু হল। কী সাংঘাতিক তার শেষ।

    কাঞ্চন এতক্ষণ অপলক উল্কণ্ঠিত চোখে লখাইয়ের ভাব লক্ষ করছিল। তারপর সারা মুখে এক বিশ্রী আলো ফুটে উঠল। তাড়াতাড়ি কাছে এসে বলল, তবে কী তোমার–

    বলতে গিয়ে কথা আটকে গেল তার গলায়। হায় ভগবান, যদি তাই হয়, যদি তাই হয়, তবে হয় তো এ জীবনের তার সবই শেষ।

    কাঞ্চনের মুখ দেখে লখাইয়ের চৈতন্য হল। শান্ত গলায় বলল, তবে কী, বলো?

    কাঞ্চন ফিস ফিস করে বলল, তবে কি তোমার আগের জন্মের কথা মনে এসেছে?

    আগের জন্মের? ওহো! সে যে তার আগের জন্সেরই কাহিনী, যে জীবন তার শেষ হয়ে গিয়েছে। সে যে তার গত জন্মের কথা, এখন যে সে লখাই বাগদী, মা মনসার বর-পাওয়া জলে-ভাসা ছেলে। তার দুচোখ ফেটে জল এল। দুহাতে কাঞ্চনের মুখটি সামনে এনে সে বলল,

    যদি তাই হয় কাঞ্চীবউ, যদি তাই মনে আসে?

    হতবাক বিহুল কাঞ্চনের ঠোঁটে একটি কথা জোগাল না। প্রাণহীন নিস্পন্দ কাঠের মূর্তির মতো আড়ষ্ট হয়ে রইল, দুচোখে ভরা বিস্ময় নিয়ে লখাইয়ের দিকে তাকিয়ে রইল সে।

    কাঞ্চনকে আরও কাছে টেনে লখাই ফিসফিস করে বলল, কোন্ জীবনের কথা তা তো জানি না, কাঞ্চীবউ, মনে পড়ে এক লড়ায়ের কথা, সেনাপতির কথা। সে কথা মনে হলে, আমার প্রাণ পুড়ে যায় কাঞ্চীবউ। কাউকে বলি না, তোমাকে বললুম। কিন্তু সে আর আমি মনে আনতে চাই না, না না।

    কাঞ্চন বলল, সেপাইদের সে লড়ায়ে তুমি ছিলে?

    হয় তো ছিলাম।

    কী হল সে লড়ায়ে?

    হার হয়েছে।

    তারপর?

    তারপর তো কিছু নেই।

    সাপে কামড়াবার কথা তোমার মনে নেই?

    না।

    তবে এতদিন তো তুমি এ পান পোড়ানোর কথা বলোনি?

    আজ তো বললাম। কিন্তু কাউকে আর বলল না এ কথা।

    তোমার বাড়ি কোথায়?

    লখাই তীক্ষ্ণ চোখে কাঞ্চনের দিকে ফিরে তাকাল। উৎকণ্ঠা কাঞ্চনের চোখে। প্রশ্ন যেন ভীত সন্ত্রস্ত।

    সে বলল, অত কথা তো মনে নেই কাঞ্চীবউ। শুধু ওই কথাই মনে পড়ে মাঝে মাঝে।

    কাঞ্চনের দুই চোখের কোণে বড় বড় ফোঁটায় জল জমে উঠল। ভাঙা গলায় বলল, আর যত যন্তনা হয় তোমার সে কথা মনে এলে? এমন কান্না পায়?

    হ্যাঁ।

    তুমি একদিন কড়ি ফকিরের কাছে যাও কাঁকনাড়ায়। আজ যে যন্তন্ন তোমার দেখলুম, মাগো! কোনদিন তুমি এ যন্তন্নায় অপঘাতে মরবে।

    এবার লখাই হাসল, বিষণ্ণ ক্লান্ত হাসি, না, কড়ি ফকির টকির নয়, যন্তনা হলে তোমার কাছেই ছুটে আসব। এ পানের ভার তোমাকে দিইছি যে?

    কাঞ্চনের বুক ভরে উঠল। লখাইয়ের ভেজা চোখ মুছিয়ে দিয়ে বলল, তুমি চলে এলে যে কত্তাদের বাড়ি থেকে?

    কত্তা অনুমতি দিলেন, তাই। বলে হঠাৎ কোমরের গাঁট থেকে মোহর কখানি নিয়ে কাঞ্চনের। হাতে দিয়ে বলল, কত্তা দিয়েছে তোমাকে।

    আমাকে?

    হ্যাঁ। বললেন, তোর মেয়েমানুষকে যা খুশি গড়িয়ে দি।

    সত্যি? অমা গো! খিলখিল করে হেসে উঠে সুখে সোহাগে ঢলে পড়ল কাঞ্চন লখাইয়ের বুকে। বলল, রাগমাগ করল না?

    মনে তো হল না। আমি যে সব বললুম!

    অমা গো! বলে আবার খিলখিল করে হেসে উঠল কাঞ্চন।

    সে হাসিতে রাত্রিও যেন মোহিনীময়ী হয়ে উঠল। নিস্তব্ধ অন্ধকার হাওয়া-ভাসা রাত্রি, সে হাসির দমকে নূপুরের তালে যেন নেচে উঠল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleতরাই – সমরেশ বসু
    Next Article অলিন্দ – সমরেশ বসু

    Related Articles

    সমরেশ বসু

    প্রজাপতি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    গঙ্গা – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    বিবর – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }