Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    উত্তরঙ্গ – সমরেশ বসু

    সমরেশ বসু এক পাতা গল্প229 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৯. মুসলমানদের জুম্মাবার

    গঙ্গায় জোয়ার-ভাঁটা খেলে। দিন আসে যায়।

    শুক্রবার। মুসলমানদের জুম্মাবার। রমজানের মাস সেটা। সারা দিনমান উপোস, তারপর কিছু জলযোগ।

    বেলা শেষে আজানে বসে গনি মিঞার মনটা কিছুতেই ভাল বসল না চোখের সামনে বার বার ভেসে উঠল গঙ্গার ধারের প্রার্থনাতে বিঘে জমির ছবি। ছবি তো নয়, যেন ননীমাখন। খাণের বোঝা এত বেড়ে উঠেছে যে, নিঃস্ব হওয়া ছাড়া কোনও গতি নেই। সেই জমি আজ বেহাত হতে বসেছে। এ লাহা ইল্লাল্লাহ মোহাম্মদের রসুলাল্লাহ্! এ কী দিন এল। কোন গোস্তাকিতে! কার গোস্তাকিতে।

    সন্ধ্যাবেলা সামান্য দুটো কলাই ভেজানো গুড় দিয়ে খেয়ে বিবি লতিফাকে বলল, পিরানটা দে তো গোলামের মা, নগিন মহাজনের কাছে একবারটা ঘুরে আসি।

    লতিফা গনির দ্বিতীয় পক্ষের বিবি। প্রথম বিবি একটা রুগ্ন বছর বাবোর ছেলে রেখে গত সনের ওলাউঠায় মারা যাওয়ার পর লতিফাকে সে নিকা করেছে। গোলাম লতিফার আগ পক্ষের সন্তান। সেই সন্তানসহই লতিফাকে ঘরে এনেছে সে। লতিফার বয়স অল্প তো বটেই, মুসলমানপাড়ায় তার সৌন্দর্যের খ্যাতিও আছে। সৌন্দর্যের জন্যই গনির জীবনে লতিফা যা বয়ে এনেছে তা হল, একদিকে আওরতের প্রতি তার অতিরিক্ত টান ও সাংঘাতিক মোহ, অন্যদিকে প্রচণ্ড অবিশ্বাস নিজের দারিদ্র্য ও কুলম্যাদাহীনতার জন্য। একমাত্র এই কারণেই মুসলমানপাড়ার অর্থবান ঐশ্বর্যবান শরাফত মিয়ার সঙ্গে তার একটা গোপন বিদ্বেষের অন্তঃস্রোত ক্রমাগত বেড়ে উঠেছে। ধনমদে মত্ত শুধু নয়, শরাফত সপ্তদশ শতাব্দীর বাংলার মোগল শাসনকর্তা ইসমাইল খাঁয়ের বংশধর বলে পরিচয় দেয়। বোধ করি বাদশা বংশের মর্যাদা রক্ষা করতে গিয়েই সে একটি ছোটখাটো হারেম তৈরি করেছে বাড়িতে। গোটা সাতেক বিবি নিয়ে তার ঘর। মুসলমানপাড়ায় সামাজিক ও বৈষয়িক ক্ষমতার প্রাবল্যে সকলেই কিছুটা সন্ত্রস্ত বটেই, সমস্ত ব্যাপারেই সে দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হয়ে অনেক সময় অনেকের সর্বনাশই ঘটিয়ে ছেড়েছে। সেনবাবুদের সঙ্গে তার মোহব্বত গভীর, কোম্পানির সাহেবদেরও সে খুব প্রিয়। গোরাদের পার্বণ উৎসবে তার নিমন্ত্রণ হয়, মুসলমানদের পালপার্বণে নিমন্ত্রিত হয় গোরারা।

    লতিফাকে গনি নিয়ে আসার পর শরাফত স্পষ্টই বলেছিল, বেল দেখে কাকের নোলায় জল। গনির উচিত লতিফাকে আমার মোকামে তুলে দেওয়া। অন্যথায় লতিফা তাকে পরিত্যাগ করবে। একমাত্র শরাফতের বিবি হওয়া ছাড়া লতিফার গত্যন্তর নেই।

    পিঁপড়ে-হাতি সম্পর্ক হলেও গনি বলেছিল, আমর হাঁসুয়ার যা ধার আছে তাতে অমন শরাফতের মতো এক গণ্ডাকে এক কোপে খতম করে দেওয়া যাবে।

    শরাফতের মতো প্রতাপশালী লোক যে সেই মুহূর্তেই এর প্রতিশোধ গ্রহণ করেনি তার পেছনে কারণ ছিল। তার বিশ্বাস ছিল, গনিকে অবস্থার দায়ে তার কাছে আসতেই হবে। লতিফা আরও দশবছর যদি গনির ঘর করে, তারপরেও তাকে নিয়ে ভোগ করা এমন কিছু ঠকবার মতো হবে না। কারণ লতিফার রূপের আগুন নিভবার নয়।

    গনির পূর্বপুরুষেরা সকলেই সুতা তৈরি করত। কোম্পানির দৌরাত্ম্যে যখন জোলারা অনেকেই জাতব্যবসা ছেড়ে মাঠে নামল তখন থেকে তারা মাঠের মানুষই হয়েছে। কিন্তু জমির পরিমাণটা চিরকালই কম ছিল। যাদের জমি এবং ফসল নিয়েই শুধু কারবার ছিল তারা প্রতিমুহূর্তে জমি বাড়াবার কথাই ভেবেছে। তাদের সে অবসর ছিল না। আজ দুর্দিন এতই গভীর যে, যাদের জমি ও বাগান বেশি ছিল, ঘোড়দৌড়ের দ্রুত খুরাঘাতের মতো অতিরিক্ত খাজনার চাপে তারাই দুমুর্শ হতে বসেছে। জোলা তাঁতির এ দুর্দশার সঙ্গে ছোটখাটো নিম্ন কৃষকেরাও তাদের সঙ্গে বসেছে ফতুর হতে। সুদিনে জোলা তাঁতির অন্তহীন কাজের ফাঁক ছিল না। জমি তাদের ভাগেই থাকত। সেই সমস্ত জমি আজ হয়েছে ছিন্নভিন্ন, হাজার টুকরো। এসব গ্রামের দিকে তাকালে আজকাল মনে হয়, দু-এক ঘর কুমোর ও ওস্তাগর ছাড়া কোনও শিল্পের কারিগর কেউ ছিল না, অধিবাসীরা জীবনভরই বুঝি চাষী। এমন কী, কাঁসা পেতলের কারিগরদের ভিড়ও হাটে কমে গেছে। নতুন রকমের বিলাতি হালকা রূপালি বাসনে বাজার ভরে উঠেছে। দেশি মহাজনেরা বিলাতি মালের কারবারি হয়েছে।

    লতিফা বলল, রোজার দিনেও মাঠঘাট করে এসে এখন আবার নগিনের কাছে কেন?

    কেন? সত্যিই শত বুদ্ধিসুদ্ধি থাকলেও অওরতের জাতটা ভারী বোকা। হুঁকায় একটা বিলম্বিত টান দিয়ে এমন আসন্ন বিপদের মুহূর্তেও হেসে বলল, কেন বল দেখি?

    স্থির দৃষ্টিতে গনির দিকে তাকিয়ে লতিফা বলল, কর্জার ফিকিরে বোধ হয়?

    হুঁকো টেনে ঘাড় নেড়ে তারিফ করল গনি লতিফার বুদ্ধির। আবার বলল, কেন বল তো?

    কিন্তু লতিফার মুখে তখন অন্ধকার ঘনিয়ে এসেছে। বলল, ঈদের সওদা করতে লাগবে তাই।

    এবার বিস্ময়ে চোখজোড়া কুঁচকে লতিফার দিকে এক মুহূর্ত তাকিয়ে হঠাৎ হাসতে গিয়ে হাসতে পারল না গনি। একটা দুর্বোধ্য গোঙানি শোনা গেল তার গলায়। বলল, ধানটা উঠলে আবার দেনা শোধ করে দেব। উপায় তো নেই। পানু ঠাউর বলছিল পরশুঁকে আমাবস্যে, যা হোক করে পরবটা মানাতে লাগবে তো!

    কিন্তু লতিফার মুখে যেন অন্ধকার আরও ভারী হয়ে এল। নিঃশব্দে এবং কোনও কথা না বলে পিরানটা গনির হাতে দিয়ে চলে গেল সে।

    লতিফার এ নীরবতা, এই কী-যেন-কী-থাকা নৈঃশব্দ্য গনির মনটাকে সন্দেহে ভারী করে তোলে। মনে করে, লতিফা বুঝি প্রতিমুহূর্তে নিজের এ দুভাগ্যকে ধিক্কার দিয়ে চুপ করে থাকে। আফসোস নিয়ে ঘর করে সে গনির সঙ্গে। একথা মনে করলে তার রাগ হয়, বেদনার চেয়ে অপমানিত এবং সেজন্য এক অদ্ভুত জ্বালায় বুকটা জ্বলে তার। কারণ জিজ্ঞেস করলে লতিফা বলে, কী বলব বলল, কথা বললে আল্লা কি আমাদের কিছু দৌলত দেবে?

    কিন্তু অভাবের কথা বিবির সঙ্গে আলোচনা করবে ততখানি উজবুক যেন কেউ গনিকে ঠাউরে না বসে। সে জবাব দেয়, আরে তুই মাগী আমার ঘরে গতর খাটিয়ে পেট ভরা না, দৌলতে তোর কী হবে?

    সে হঠাৎ উঠে লতিফার কাছে গিয়ে বলল, গোমড়া মুখ করে চলে এলি যে?

    কী কথা বলব?

    বলবি আবার কী? তোর গোমড়া মুখ দেখব বলে বুঝি মহাজনের কাছে যাচ্ছি?

    সে কী বড় সোখের কথা!

    সুখের কথা নয় ঠিকই কিন্তু অমন আঁধার ভারীমুখ দেখতে ইচ্ছে করে না গনির। বলল, শরাফত মিয়ার মতো দৌলত যদি থাকত, তবে–

    লতিফাও কাটা কাটা জবাব দেয়, তা হলে আরও কয়েক গণ্ডা লতিফাকে ঘরে এনে তুলতে।

    গনি হো হো করে হেসে উঠল। আচমকা লতিফাকে দুহাতে জড়িয়ে ধরে টেনে নিল সে বুকের কাছে।

    লতিফা বাধা দিয়ে বলল, যাও সাহেব, মনে আমার সোয়ান্তি নেই। আমি হলে কজা করে পরব করতুম না।

    গনি ধমকে উঠল, অমন কথা বলিসনে লতাবিবি। আল্লার দেওয়া পরবের দিন, ফকিরেও চুপচাপ বসে থাকে না। তোর অমন খুবসুরত চেহারা, পরবের দিনেও তাকে ভূত করে রাখতে পারব না বাপু আমি।

    বিবির সৌন্দর্যে অভিভূত মানুষটার দিকে খানিকক্ষণ তাকিয়ে থেকে লতিফা পরম উৎকণ্ঠিত গলায় বলল, মিয়াসাহেব, সংসার তোমার ছোট নাকি, কিন্তু কেমন করে বছর কাটবে আমি যে ঠাওর পাই না।

    তাড়াতাড়ি লতিফাকে ছেড়ে দিয়ে একেবারে উঠোনে নেমে গেল গনি। তার উপর ভরসা নেই লতিফার। নিশ্চিন্তে মরদের উপর নির্ভর করে হাসতে পারে না সে। উঠান থেকেই চেঁচিয়ে বলে উঠল গনি, কিছু না হোক, শরীরে খেটে দিনমজুরি তো করতে পারব। কুম্পানির এলের নাইন পাতব, পরের জমিনে মজুর খাটব। তা বলে শরাফতের দৌলতখানায় তোকে আমি যেতে দেব না।

    মনের এই আসল এবং মোক্ষম কথাটি বলে সে বিড়বিড় করতে করতে বেরিয়ে গেল।

    লতিফাকে তৎক্ষণাৎ দেখলে মনে হয় না গনির এ কথায় সে রুষ্ট হয়েছে। সে চুপচাপ বাতি জ্বালল, গনির রেখে যাওয়া হুঁকোটা ঘরে এনে বারকয়েক গুড় গুড়ক করে টানল। আগুন নেই দেখে হুঁকো রেখে চাল ধুয়ে চেঁকিঘরের মাচান থেকে কাঠ পাড়তে গিয়ে হঠাৎ চোখে আঁচল চেপে ফোঁসফোঁস করে উঠল। বসে পড়ে বেঁকিতে মুখ রেখে বার বার বলল, খোদা, তুমি সাক্ষী থেকো, সাক্ষী থেকো। বিনা গোস্তাকিতে আমার ইজ্জত ছোট করল। বিনা গোস্তাকিতে….

    গনি যাওয়ার পথে শ্যামের উঠোনে কয়েকজনকে দেখে থেমে জিজ্ঞেস করল, শ্যাম আছ নাকি?

    উত্তর দিল শ্রীশ মণ্ডল।

    শ্রীশের গলা শুনে গনি ঢুকল। দেখল প্রায় জনা দশেক লোক সেখানে বসে আছে। সকলেই প্রায় খীরপাড়ার লোক। রান্নাঘরের ছিটে বেড়ার জানালা দিয়ে খানিক আলো মানুষগুলোর গায়ে পড়ে কাঁপছে। সে আলোয় দেখা গেল সকলেই প্রায় মাথা নিচু করে বসে আছে। মাঝখানে কালো দুলে তার ছানিপড়া চোখে এ-দিক ওদিক দেখছে। দেখছে না, মনে হয় যেন গন্ধ শুকছে।

    গনি বলল, কীসের মজলিস্ বসেছে গো সজেবেলতে?

    শ্যাম বলল, মজলিস্ আর কী। অ্যাই সুখ দুঃখের কথা দুটো। বসো। বলে সে কো থেকে কলকেটি তুলে গনির হাতে দিল।

    গনি কলকেটা হাতে নিয়ে বসে বলল, বসব না, যাব একবার নগিন ঘোষের কাছে।

    সকলেই প্রায় তার দিকে একবার মুখ তুলে তাকাল।

    শ্রীশ বলল, এর মধ্যেই? বছরের আদ্ধেকখানিকও তো যায়নি।

    তা কী করব বল। কলকেতে কয়েকটা টান দিয়ে বলল, কাল বাদ পরশু পরব, যা হোক কিছু করতে লাগবে তো।

    কালো দুলে বলে উঠল, তাই বলছিনু কী যে, আগের দিনে,…

    তাকে ধমকে উঠল পবন চাঁড়াল, তোমার খালি ওই এক কথা। আগের কালে তো রাম যোধিষ্ঠীর ছেল, তাতে হয়েছে কী?

    না, তাই– একটা বিলম্বিত শব্দ করে কালো দুলে। থেমে পাশের লোকটির সঙ্গে নিচু গলায় গল্প শুরু করল।

    শ্ৰীশ আবার বলল, নগিন ঘোষের কাছে কেন? শুনছেলম, শরাফত মিয়ার কাছেই তোমরা ধার দেনা করছ?

    গনি আরও গোটাকয়েক টান দিয়ে বলল, তাতে কী আর সুদে আসলে কিছু কম আদায় করবে। আর তুমি তো জানো, মরে গেলেও শালার কাছে হাত পাতবে না গনি জোলা কোনওদিন।

    অন্ধকারের মধ্যে একটা ফোঁস করে নিশ্বাস ফেলে উৎকণ্ঠিত গলায় বলল শ্রীশ, তাই তো বলছেলম গো, মান-অপমান মহাজন বাছাবাছি য্যাতই করি, মরলেও কি বাঁধন ছাড়াতে পারবে? জমিদারের খাজনা আদায় নাকি কম পড়ে, তাই জমি নীলামে ডাকবে।

    সকলে না হোক, কয়েকজন বিস্ময়ে চমকে উঠল। শুধু চমকানিও নয়, এর মধ্যে এমন এক সর্বনাশের ইঙ্গিত ছিল যে, আচমকা গায়ের উপর কেউটে পড়লে বোধ করি মানুষের এমন অবস্থা হয়।

    পবন বলল, নীলামে ডাকবে, তার জমি কোথায়? অনাবাদী জমি তো একছিটেও দেখিনে।

    শ্ৰীশ যেন জমিদারের আমিনের মতোই নির্লিপ্ত নিষ্ঠুর গলায় ঘোষণা করল, তা হলে আবাদী জমিই নীলামে ডাকবে।

    কার জমি?

    তোমার আমার।

    আমরা কি খাজনা দিইনে?

    শ্রীশ বলল, আইনের কথা বলছিস্ পবন? তিক্ত এবং বিদ্রূপভরা রাজত্বে নাকি আইন বড় চড়া। কিন্তু প্যাচ করবি কার সঙ্গে। জমিদারের সঙ্গে? উচ্ছেদ করে ছেড়ে দেবে না তোকে?

    পবনের চোখজোড়া অন্ধকারে ধকধক করে জ্বলে উঠল। বলল, তার বাড়া ভয় তো নেই? সে তোমার এমনিতেও হবে অমনিতেও হবে। একবার নয় পঁাচ কষেই দেখব।

    কালো দুলে বলে উঠল, ও-সব অনাছিষ্টির কথা বলিসনে পবনা। দিনকাল বুঝে কাজ করতে নাগে, বুচলি। ইকে বাস বোলতার সঙ্গে, বিবাদ চলেনে। হাতে পায়ে ধরে পড়গে। দয়া ধম্মা কি আর উবে গেছে দেশ থেকে। আগের কালে…।

    তোমার আগের কাল নে তুমি থাকগে, প্যাচাল পেড়োনে। জ্বলে উঠে অস্থির গলায় বলল ধ্বন। বলি দয়া ধম্মে যদি থাকবেন তবে নীলামে ডাকা কেন, আ?

    লখাই কোনও কথা না বলে সেনবাড়ি যাওগার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল। খেয়েদেয়ে, মাথায় পাগড়ি বেঁধে লাঠিগাছটি নিয়ে বেরুবার মুহূর্তে সে হঠাৎ পবনকে জিজ্ঞেস করল, কী করতে পারো তুমি জমিদারকে? কী ক্ষ্যামতা আছে তোমার।

    তাকে দাঁড়াতে দেখে ও এ প্রসঙ্গে কথা বলতে শুনে, শ্যাম শঙ্কিত হল। কারণ এসব কথা বলতে গেলে লখাইয়ের ভালমন্দ জ্ঞান থাকে না। থাকে না মুখের রাখঢাক। তার কথা শুধু পবনের মতো প্যাচকষার দুঃসাহসিক অভিপ্রায়েই সীমাবদ্ধ থাকে না, তার চেয়েও চতুগুণ সর্বনাশ ও ভয়ের কথা বলে অপরের মনে শঙ্কা জাগিয়ে তোলে।

    শ্যাম তাড়াতাড়ি বলল, তুমি বেইরে পড়ো, রাত হয়ে গেল। কোতোলবাবু লইলে আবার গণ্ডগোল করবেখনি।

    লখাই পবনের পরম বন্ধু। লখাই পবনকে বিদ্রূপ করে বা রাগ করে বলেনি তার ক্ষমতার কথা। বলেছে বড় জ্বালায়, পবন সে কথা জানত। তাই বলল, কিছু না পারি, মরতেও তো পারি লখাই!

    কানু তাঁতির কথা উল্লেখ করে বলল লখাই, সে তো কানুদাদাও পান দিল, তুমিও না হয় খুন হবে তাতে হবেটা কী? তোমার ঘরের বউ রাঁড়ি হয়ে ঘুরবে। সাধ করে কী আর সেজবাবু বলেন, আমরা হলুম নিধিরামের জাত।

    শ্যামের আশঙ্কাকে লক্ষ করে লখাই সত্যিই উত্তেজিত হয়ে উঠল। শ্যাম উক্তষ্ঠিত গলায় বলল, লখাই, বেড়ারও কান আছে।

    লখাই অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে বলল, কান থাকলে সেই বেড়াকেই বলি, যত নষ্টের গোড়া তোমার ওই কোম্পানি, তার সাউকার বড় মানূষেরা। মহারানীর আইন।

    বলতে বলতে ক্রোধে আত্মহারা লখাই মাটিতে লাঠি ঠুকে বলল, বলি, সে ফিরিঙ্গি মেম আমার

    কে যে, তার আইন মেনে চলব? তার আইন নে তার দেশে থাকুক, এখেনে কেন আঁ, কেন?

    শ্যাম উৎকণ্ঠায় তাড়াতাড়ি কাছে এসে ফিসফিস করে বলল, লখাই, চুপ যাও, লখাই…

    অন্ধকার দাওয়া থেকে কাঞ্চনের কালীকে উদ্দেশ্য করা কথা ভেসে এল, মোনসার গোঁ উঠলে আর রক্ষে নেই, কাজে যেতে বলো তোমার দেওরকে।

    কিন্তু অন্যান্য মানুষগুলো এক বিচিত্র বিস্ময় অথচ নির্বোধের মতো হাঁ করে তাকিয়ে রইল সখাইয়ের দিকে। সে যা বলেছে কাজে তার সঠিক অর্থ এবং পরিণতি কী হতে পারে, সে কথা যেন মানুষগুলো আঁচ করতে গিয়ে আপন মনেই থমকে দাঁড়িয়েছে।

    রান্নাঘরের লম্প নিভে গিয়ে উঠোনটা অন্ধকার! লখাই সেখানে লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে আছে যেন এক মস্ত দানব। আর অন্ধকারে মিশে যাওয়া কালো মানুষগুলোর ভয়ে বিস্ময়ে প্রগলিত জোড়া জোড়া চোখগুলো চকচকিয়ে উঠল। হা হা করে হাওয়া ছুটে এল দক্ষিণ থেকে। প্যাচা ডেকে উঠল হুম্ হুম। …সেনবাড়ির ভেরী বেজে উঠল। রাত্রির প্রথম ভেরি ছুটে গেল দিগদিগন্তে হাওয়ায় ভর করে।

    গনি উঠে এসে লখাইয়ের হাত শক্ত করে চেপে ধরে বলে উঠল, ঠিক বলেছে লখাই। আল্লার হুকুম আমরা কেউ মানিনি। আমরা কাফেরকে তোয়াজ করে বসতে দিইছি।

    এমন সময় অন্ধকার কুঁড়ে পাঁচু দিগর হাজির হল বাঁক কাঁধে জালার মতো দুই মস্ত ভাঁড়ে তাড়ি নিয়ে। কালো দুলে নাকটা উঁচু করে খাস টেনে বলল, পাঁচু এল বুঝি।

    কিন্তু কেউই জবাব দিল না। পাঁচু বাঁক নামিয়ে সবাইকে দেখে বিস্মিত হয়ে বলল, কী ব্যাপার গো, সব মৌনি তো লিয়েছ নাকি?

    এ সন্ধ্যার তালরসের যেন কী এক দুরন্ত মাদকতা আছে। সেই সঙ্গে পাঁচুর গলার স্বরেরও বোধ হয়। থরা দলটা সকলেই গা ঝাড়া দিয়ে বসল। কালীবউ এসে ইতিপুর্বেই শ্যামের খানিক কাছে বসেছিল। দেখা গেল গন্ধে গন্ধে অধরাও এসেছে। এসময়ে সে ঝগড়ার কথা ভুলে যায় না শুধু নয়, গালি খেতেও রাজি আছে।

    লখাই একটা দুর্বোধ্য শব্দ করে বেরিয়ে পড়ল। পবনও উঠে পড়ল তার সঙ্গে কয়েকজনের আপত্তি উপেক্ষা করে।

    গনির রোজার দিন। সেও বেরিয়ে পড়ে বাইরে এসে হঠাৎ থমকে দাঁড়াল। নগিন ঘোষের বাড়ির দিকে মুখ করে এক মুহূর্ত কী যেন ভাবল, তারপর মুখ ফিরিয়ে সরাসরি বাড়ির পথ ধরল।

    বাড়িতে এসে দেখল, সব অন্ধকার। ঘরে ঢুকে দেখল, সেখানেও বাতি জ্বলেনি। মেঝেতে ঘুমিয়ে আছে গোলাম, বাঁয়ে মাচাতে তার রুগ্ন ছেলে পাঁচু অঘোরে নিদ্রামগ্ন। নিশ্বাস পর্যন্ত শোনা যায় না। কালু হেকিমের যাবতীয় বড়ি খেয়েও ছেলেটা সারেনি। কিন্তু লতিফা কোথায়?

    রান্নার চালাটাও অন্ধকার। পায়ের কাছে নিচু হয়ে মালসায় হাত দিয়ে দেখল ধোয়া চাল ভিজে ঢোল হয়ে উঠেছে। উনুনটা ফাঁকা। লতিফাবিবি কোথায়?

    হঠাৎ যে কথা তার প্রথমেই মনে গেয়ে উঠল তাতে এক দারুণ ভয় ও যন্ত্রণায় যুগপৎ বুকটা আড়ষ্ট হয়ে গেল। সে ডাকল, গোলামের মা! লতিফা।

    হাওয়ায় সরসর করে উঠল চালার গোলপাতার ছাউনি। বেড়ার বাঁশে শব্দ উঠল ক্যাঁ কোঁ। উঠোন থেকে বিলম্বিত শব্দ করে একটা বেড়াল ডেকে উঠল।

    গনি ছুটে উঠোনে এসে ডাকল, লতিফাবিবি।

    জবাব নেই।

    ঘরের পেছনে জংলার দিকে গেল। নেই সেখানে। ঢেঁকিঘরটা হা হা করছে। সেখানে মানুষ দেখা যায় না।…কিন্তু চেঁকির উপরে ওটা কী?

    সে কাছে এসে দেখল চেঁকিতে মুখ দিয়ে পড়ে আছে লতিফা। দুহাতে লতিফার মুখ তুলে সে বলল, কী হয়েছে তোর লতাবিবি?

    লতিফার কান্নার বেগ তাতে বেড়ে গেল। কান্নার সেই বেগ দেখে গনির মনটা বড় আকুল হয়ে উঠল। সে কোনও বিপদের আশঙ্কা করে বলল, বল তোর কী হয়েছে, আমাকে বল্।

    সে তার বলিষ্ঠ দুই হাতে লতিফাকে গায়ে টেনে নিল।

    লতিফা কান্নার দমকে দমকে বলল, কী বলব, তুমি মিয়াসাহে শরাফতের দৌলতের খোঁটা দেয়ার চে আমাকে গলা টিপে শেষ করে দেও।

    আচমকা বেদনায় গনির বুকটাতে মুচড়ে উঠে কী যেন ঠেলে এল গলার কাছে। ফিসফিস করে যেন কান্নায়রাধ করে সে বলল, ই আল্লা, আবাগীর কথা শোনো।

    এই কথা, এই কথা তোর! আর বলব না, কোনও দিন না, কোনও দিন না।

    বলে সে পরম সোহগে লতিফার রোজার উপপাসে ক্লিষ্ট চোখের জলে ভেজা মুখোনি তুলে ধরল। নিশ্বাসে রূপোর নোক নড়ছে একটু। মাথার চুলে তেল নেই। কুমারী মেয়ের মতো আঁট শরীরে লতিফা যেন এক কিশোরী বালিকা।

    দুঃখ দহনে সে লতিফার চাঞ্চল্য নেই, হাসি নেই। প্রেমে উদ্ধত স্বামীর পেয়ার গ্রহণেও সে ছোট বুকখানি দুশ্চিন্তার ভার কাটিয়ে উঠতে পারে না।

    গনি বলল, চাল যে ভিজে ঢোল হয়ে গেছে, ভাত পাক করা যাবে না।

    লতিফা বলল, এখুনি বেঁধে ফেলব। জল দিয়ে রাখব ভাতে ভোর রাতে খাবে, নষ্ট হবে না।

    নিভে যাওয়া বাতি জ্বালিয়ে লতিফা উনুন ধরাতে বসল। বলল, মহাজনের কাছে গেলে?

    না।

    গনির গলার স্বরে বিস্মিত হয়ে ফিরে লতিফা জিজ্ঞেস করল, কেন?

    গনি বলল জমি নিলামে ডাকার সম্ভাবনার কথা। বলে তারপর বলল, তোর কথাই সাচ্চা, পরব এবার ঘরের দুধে পায়েস করেই হবে। ছোঁড়া দুটোর জামাটামা একটুকুন ধুয়ে সুয়ে সাফ করে দি।

    তারপর একটু থেমে বলল, এবারকার মতো শরাফত আমার জমিটুকু বড়া খাজনাতে ডেকে নেবে নিশ্চয়। তারপর…

    তারপরটুকু শোনবার জন্যই লতিফা রুদ্ধশ্বাসে গনির মুখের দিকে তাকিয়েছিল।

    গনি তাড়াতাড়ি মাথাটা নিচু করে মাটিতে নখ দিয়ে আঁক কাটতে লাগল।

    লতিফা বলল তার বালিকাসুলভ চোখে উল্কণ্ঠা নিয়ে, তাপরে কী?

    ডোমিনীপাড়ার কলে খাটতে যাব।

    কল? পাটের কল?

    হাঁ।

    তবে যে তুমি কসম খেয়েছেলে, মরি তো কোনওদিন কোম্পানির কলে হালাল হতে যাব না?

    সত্যি বটে। ইতিপুর্বে যখন মুসলমানপাড়া থেকে কয়েকজন রিষড়ে এবং নতুন তেলেনিপাড়ার চটকলে কাজ করতে যায় তখন সে বলেছিল, পরের ঘরে জন খাটব তবু পাটকলে গোরার খোঁয়াড়ে যাব না।

    সে বলল, এ আল্লার মার কি না জানি না, কিন্তু কী গোস্তাকিতে আমাকে মাটি ছাড়া হতে হল আল্লাই জানে।

    লতিফার দিকে ফিরে বলল, যাদের কিছু নেই, তারা হালাল হয়, আমাদের কিছু নেই, তাই আমরা কলে যাব। ইজ্জত ঢিলা হবে মানি, কিন্তু তুই যেন সেদিনেও মুখটা গোমড়া করে রাখিসূনে লতাবিবি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleতরাই – সমরেশ বসু
    Next Article অলিন্দ – সমরেশ বসু

    Related Articles

    সমরেশ বসু

    প্রজাপতি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    গঙ্গা – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    বিবর – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }