Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    একুশে পা – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প300 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    একুশে পা – ১৯

    ১৯

    ‘শুনুন— এইটা ঠিক আমি নই…’

    তৃতীয় আর চতুর্থ গেমটার মাঝখানে মিঠুর দাদা সুহাসকে লক্ষ করেছিল ইমন। খেলার সময় সাধারণত তার কোনও দিকেই হুঁশ থাকে না। নেতাজি ইনডোরে হচ্ছে, ন্যাশন্যাল চ্যাম্পিয়নশিপ। সুহাসকে দেখবার পর তার শিরদাঁড়া দিয়ে কিরকম একটা গরম স্রোত নামতে লাগল। এরকম স্নায়ু-বিপর্যয় ইমনের কখনও হয় না। প্রথম দিকে টুর্নামেন্ট খেলতে নামলেই কান গরম, শিরদাঁড়ায় লাভাস্রোত। সে সময়গুলাতে ইমন নিজেকে বলত, ‘ছিঃ ইমন, তুমি না মানুষ! জানো কত মানুষ পৃথিবীর অজানা, রোমাঞ্চকর, বিপজ্জনক সব জায়গায় পৌঁছে গেছে। জানো না ক্যাপটেন স্কট, আমুন্ডসেনের কথা! শোনোনি এভারেস্ট জয়ের অবিশ্বাস্য ইতিহাস, কঙ্গো নদীর উৎসের খোঁজে লিভিংস্টোন, কিংবা ইউরি গ্যাগারিন, তেরিস কোভা, নীল আর্মস্ট্রং, এঁদের চেয়েও বাধা কী তোমার বেশি, বিপদ কি তোমার বেশি! কোন লজ্জায় তোমার কান লাল হয়, শিরদাঁড়া গরম হয়! দেখো ইমন দেখো, তুমি একজন প্রতিযোগী যে কোয়ার্টার ফাইন্যাল, সেমি ফাইন্যাল হয়ে ফাইন্যালে উঠে এসেছো, এখন তুমি আর ইমন নও, তুমি তোমার সমকক্ষ প্রতিযোগীদের সঙ্গে এক পর্যায়ে, এক উপত্যকায় অধিষ্ঠান করছ, যে সমস্ত দর্শক এসেছেন তাঁরা তোমার কুশলতা, তোমার স্টাইল দেখতে এসেছেন। তোমাকে নয়।’ এইরকম একটা সংলাপে নিজের সঙ্গে মগ্ন হয়ে সে আস্তে আস্তে নিজেকে সমস্ত স্নায়ু-বিপর্যয়ের ওপরে উঠিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছে। সুহাসকে দেখে যখন তার আবার পিঠ গরম হতে শুরু করল, ইমন মনে মনে নিজেকে একটা কষে থাপ্পড় দিল। ওই ছেলেটি তোমার খেলা নষ্ট করে দেবে? এত ঠুনকো তোমার মনোযোগ ইমন? ছিঃ! মারো, তোমার অনবদ্য ফোরহ্যান্ডের মারগুলো দেখাও, স্ম্যাশ, স্কিল্! ইমন ডান পা এগিয়ে তার কঞ্চির মতো শরীরটাকে অপরূপ স্টাইলে নুইয়ে প্রায় মাটি থেকে বল তুলল। মায়া আশা করেনি সে এটা তুলতে পারবে। একেবারে অপ্রস্তুত। পয়েন্ট ইমনের। মায়ার সার্ভিস আবার কোণে পড়েছে বাঁ কোণে, ইমনের এবার সমস্ত শরীর লাট্টুর মতো ঘুরে যায়, ব্যাকহ্যান্ডে স্ম্যাশ। ইমনের পয়েন্ট। এবার ইমনের সার্ভিস মায়ার চেয়ে দুর্বল ছিল, ও সার্ভিসে এই এক বছরে প্রচুর প্র্যাকটিস করেছে। দেখা যাক। ইমনের পয়েন্ট। মায়া সারাক্ষণ টুক টুক করে লাফায়, শরীরে ছন্দ রাখে, বেগ রাখে। ইমন খেলার এই প্রাথমিক নিয়ম খুব একটা মানে না। তার শরীর একটা দীর্ঘায়িত স্থির-বিদ্যুৎ, সমস্ত শক্তি সংহত এবং প্রস্তুত রেখে স্থির-অস্থির। লিকলিকে হাত, নমনীয় কবজি। মায়া শুধু লাফাচ্ছেই, ঘাবড়ে গিয়ে তার মনোযোগ নষ্ট হয়ে গেছে। জিত ইমনের। ঘামে-ভেজা ইমন তার ঠাণ্ডা ভিজে শামলা হাত দিয়ে মায়ার হাত ধরেছে। মায়ার চোখ চকচক করছে। গত দুবারের চ্যাম্পিয়ন সে। হেরে গেল।

    কোচ অমলদা বললেন, ‘আমি জানতাম ইমন এবার তোমার দিন।’

     

     

    বেঙ্গলের খেলোয়াড়রা কুসুম ভার্গিজ, মিতা মির্ধা, অলককুসুম সান্যাল, আরও অনেকে খুব নাচানাচি করছে। ইমন তার পোশাক বদলে নিয়েছে। তাপ্পি দেওয়া ফেডেড জীনস, আলগা টপ। চুলগুলো একটু বেড়েছে। কাটেনি এখনও। একটা ব্যান্ড দিয়ে আটকানো ছিল এতক্ষণ। এখন খুলে ফেলেছে সেটা। খাওয়া-দাওয়া গল্প-স্বল্প শেষ হতে সাতটা। ইমন বেরিয়ে বড় বড় পায়ে হাঁটতে লাগল। গুমটি থেকে ট্রাম ধরাই তার পক্ষে সুবিধে। কার্জন পার্কের পেভমেন্টে উঠেছে, ‘ইমন! একটু দাঁড়াবে!’ সুহাস। ইমন দাঁড়িয়েছে। সুহাস বলল, ‘তোমার সঙ্গে একটু কথা বলতে পারলে ভাল হত।’

    ‘বলুন।’

    ‘এভাবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি হয়?’

    ইমন চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। সুহাস বলল, ‘আজকের সন্ধেটা আমাকে না হয় দিলে।’

    ‘হোস্টেলে ফিরতে হবে।’

     

     

    ‘যত তাড়াতাড়ি আমাদের কথা শেষ হবে, ততই তাড়াতাড়ি ফিরতে পারবে।’

    ‘কোথায় যাবেন?’

    ‘কোনও একটা রেস্তোরাঁয়। যেখানে বসে একটু কথা বলা যায়।’

    ‘আমি কিন্তু প্রচুর খেয়ে এসেছি।’

    ‘ঠিক আছে, আইসক্রিম-টিম যা-হোক নেওয়া যাবে।’

    ‘আইসক্রিম খাই না।’

    ‘অন্য কিছু। ওটা কোনও সমস্যা নয়। ইমন, আমি একজন ভদ্র যুবক।’

    ‘চলুন।’

     

     

    সুহাস একটা ট্যাক্সি ডাকল। পার্ক স্ট্রিট। পার্ক হোটেল। ডিনারের জন্য টেবিল সাজানো হয়ে গেছে। কোণের একটা টেবিল কোনমতে পাওয়া গেল। সুহাস কিছু স্ন্যাক্‌স আর কফি অর্ডার দিতে সামান্য ভ্রূ কোঁচকালো বেয়ারার।

    সুহাস বলল, ‘আমার ওপর, আমাদের ওপর এত রাগ করেছ কেন ইমন?’

    ‘রাগ? নাঃ!’

    ‘আমার অভিনন্দন নেবে না?’ সুহাস তার পকেট থেকে একটা ছোট বাক্স বার করল। তার ভেতরে একটা ঘড়ি, একেবারে হাল ফ্যাশনের, অতি সুন্দর অথচ বাহুল্যবর্জিত একটি কোয়ার্টজ ঘড়ি। সুহাস হাত বাড়িয়েছে, কিন্তু ইমন হাত বাড়াচ্ছে না।

    সুহাস ভীষণ আহত হয়ে বলল, ‘আমার বা আমাদের বিরুদ্ধে তোমার কী কিছু বলার আছে ইমন?’

    ইমন বলল, ‘আপনারা সেদিন যে প্রস্তাবটা নিয়ে গিয়েছিলেন সেটা তো আমরা গ্রহণ করিনি যে…’

     

     

    সুহাসের মুখ-চোখ কালো হয়ে গেছে, রেস্তোরাঁর আধো অন্ধকারে সেটা ভালো বোঝা যাচ্ছে না। সে বলল, ‘এ উপহারটা তোমার খেলার একজন ভক্ত হিসেবে দেওয়া। প্রস্তাবটার সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। কিন্তু প্রস্তাবটা কেন ফেরাচ্ছ আমি জানতে পারব না? আমার অপরাধ কী?’

    শেষের কথাগুলোয় ইমনের মুখটা অনেক অনেক দিন পর আবার উদ্‌ভাসিত হয়ে উঠল।

    ইমন বলল, ‘আপনার কোনও অপরাধ নেই। আমি বিয়ে-টিয়ের কথা ভাবি না। হয়ত কোনদিনই বিয়ে করব না।’

    ‘কেন কেন?’ সুহাস ঝুঁকে পড়েছে।

    ‘আপনি বুদ্ধিমান ছেলে, সেদিন আমার পরিবারের অবস্থা দেখে এসেও কেন জিজ্ঞেস করছেন? আমি চাকরি করছি, অপেক্ষা করছি আরও বেশি টাকার চাকরির জন্যে, বোধ হয় পেয়ে যাব। তখন আমার কাজ হবে মাকে ভাইকে শহরে নিয়ে এসে বাস করা। ভাইয়ের ঠিকমতো চিকিৎসা, পড়াশোনার ব্যবস্থা করা। ভাইকে তো সারা জীবনই দেখতে হবে আমায়!’

     

     

    ‘এর সঙ্গে বিয়ের বিরোধ কোথায়, ইমন? তুমি চাকরি করবে, একশবার মা-ভাইয়ের জন্যে খরচ করবে। ওঁদের দেখাশোনার দায়িত্বও নেবে।’

    ‘তা হয় না, আমার থাকা দরকার, ওদের কাছে থাকা দরকার, বিয়ে করলে অসুবিধে হবে।’

    ‘কিন্তু আমি… আমি তো তোমাকে ভালবাসি ইমন!’

    ইমন অনেকক্ষণ পরে বলল, ‘আপনি কোন্ ইমনকে ভালবাসেন?’

    ‘এই তো তুমি, তোমাকে, আমার সামনে যেভাবে বসে রয়েছ।’

    ‘শুনুন, এইটা ঠিক আমি নই।’ সে থেমে থেমে বলল। ‘আমার চুলগুলো এভাবে কাটা কেন জানেন? যে কোনও নাপিত, ইঁট-পেতে বসা নাপিত এই ছাঁটটা কেটে দিতে পারে বলে। ছোট্ট থেকে বাবা আমাকে ছেলের মতো মানুষ করেছেন। এই যে আজকের ফ্যাশনের জীন্‌স্ আমি পরি, সে ফ্যাশনের জন্যে নয়… ছোট থেকে ছেলেদের পোশাক পরা আমার অভ্যাস বলে, তাছাড়াও…’ ইমন একটু থামল, তারপর বলল, ‘তাছাড়াও এতে খরচা বাঁচে।’

     

     

    ‘একটা আইসক্রিম নাও না ইমন, প্লিজ…’

    ‘আইসক্রিম আমি খেতে পারি না সুহাসদা, ভাই ভীষণ ভালবাসে।’

    সুহাস মাথা নিচু করল। একটু পরে বলল, ‘আমি তো তোমাকে বলেই দিলাম, মা-ভাইকে তুমি সারা জীবনই দেখবে। আচ্ছা ধরো, বিয়ের পর যদি আমি তোমাদের পরিবারকে নিয়েই থাকি!’

    ‘তা কি হয়? তা ছাড়া আপনাদের সঙ্গে আমাদের কোনও মিল নেই। আমার মা … আমার মা দেখলেন তো হাসপাতালে আয়ার কাজ করেন, বাবা জীবিত থাকলে কাজ হয়ত করতেন না, কিন্তু বাবাও খুব সামান্য কাজ করতেন ওই হাসপাতালেই। এইসব দিয়ে একটা গন্ডি তৈরি হয়ে যায়।’ ইমন খুব ধীরে ধীরে ভাবতে ভাবতে বলছিল, ‘যায় না! এখন ধরুন আমি, খেলার ক্ষমতাটা আছে বলে আমি তো, এই গণ্ডিটার বাইরে আসতে পেরেছি, বাইরের জগৎটাকেও দেখি, কিন্তু সামাজিক ভাবে যখন মিশতে যাই, আমি কুঁকড়ে যাই। সত্যি বলছি আমি কুঁকড়ে যাই।’ তার খোলা হাত দুটো জড়ো করে, ইমন কুঁকড়ে যাওয়ার ভঙ্গি করল, ‘ভাববেন না কোনও কমপ্লেক্স থেকে, একটু কমপ্লেক্স হয়ত আছেই, কিন্তু আমি দেখি এক সমাজের মধ্যে নানান সামাজিক গণ্ডি। শুধু হ্যাভস/ হ্যাভ-নটস্‌দের নয়। উচ্চশিক্ষিত, মধ্য শিক্ষিত, বড় চাকুরে, ছোট চাকুরে, সরকারি চাকুরে, কমার্শিয়াল ফার্মের চাকুরে, সব আলাদা আলাদা সামাজিক গণ্ডি। আমি আমার মাকে কোনরকম অসম্মানের মধ্যে ফেলতে চাই না। এমন কোনও পরিস্থিতি যাতে মা কুঁকড়ে যাবে, নিজেকে ছোট মনে করবে।’

     

     

    ‘কিন্তু ইমন, আমি তো ছোট ভাবছি না! আর তোমাকেও তোমার সমস্তটা নিয়েই আমি ভালবাসি। তোমার এই ইমেজটা অবশ্যই আমার কাছে খুব, খুব প্রিয়। কিন্তু এর বাইরে যে অন্য ইমন আছে এটা তো আমি বুঝিই।’

    ‘শুনুন,’ ইমন বলল, ‘বলা সহজ, কিন্তু ভেতরে ভেতরে না-ভাবা সহজ নয়। আমার মা তো কখনও মাসির মতো করে কথা বলতে পারবেন না। মায়ের চিন্তাভাবনা-ব্যবহার সবই খুব গণ্ডিবদ্ধ। প্রতিদিন এই তফাতগুলো চোখে ঠেকবে। এনি ওয়ে, আমি বিয়ের কথা ভাবি না।’ ইমন হঠাৎ যেন তার ভেতরটা অনেকটা দেখানো হয়ে গেছে মনে করে কপাট বন্ধ করে দিল।

    সুহাস বলল, খুব কাতর গলায় বলল, ‘আমি আর দিন সাতেকের মধ্যে পুনে চলে যাচ্ছি। ইমন আমি তোমায় চিঠি লিখব। ধরে নাও আমি তোমার বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী বন্ধু। ইমন্‌ন্‌ন্। এই ঘড়িটা…’

    ইমন দাঁড়িয়ে উঠেছে। সুহাস বলল, ‘সামান্য উপহার, সমঝদারের কাছ থেকে, তুমি আরও কত পাবে, সেগুলো নেবে, আমারটা শুধু আমি বলেই…’

     

     

    ইমন হঠাৎ হাতটা বাড়িয়ে ঘড়িটা নিল, নিজের ঘড়িটা ব্যাগের মধ্যে ঢুকিয়ে রেখে সুহাসেরটা পরল। স্মিত মুখে বলল, ‘ঠিক আছে?’

    দুজনে বেরিয়ে এলো। সুহাসের পৌঁছে দেবার প্রস্তাব মৃদু হেসে উড়িয়ে দিল ইমন। ‘আমাকে? আমাকে পৌঁছে দিতে লাগে?’ সে তাড়াতাড়ি জেব্রা-ক্রসিংয়ের দিকে পা বাড়াল। হঠাৎ দেখলে বোঝা যায় না সে ছেলে কি মেয়ে। এমন কি তার হাঁটার ভঙ্গির মধ্যেও একটা দুলকি চাল। সে যেন একটা কিশোর ঘোড়া। তারুণ্যের প্রান্তে এসে এবার গতি দ্রুততর করবার জন্যে প্রস্তুত হচ্ছে। অনেককে যেন তার অনেক অনেক কথা দেওয়া আছে। তাকে এখনও অনেক দূর যেতে হবে, অনেক অনেক দূর।

    আপাতত খুব ক্লান্ত লাগছে। হোস্টেলে ফিরে সে দু-চার লাফে সিঁড়ি টপকে দোতলায় উঠে গেল। তার রুম মেট অজন্তা সরকার বেডটা খালি করে দিয়ে চলে গেছে। সে একা একা উপভোগ করছে এই রুম। হাত থেকে ঘড়িটা খোলবার সময়ে সে ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে হাসল। মা যদি জানতে পারে এই ঘড়ি তার পাণিপ্রার্থী, সেই উচ্চশিক্ষিত, উচ্চবিত্ত মহিলার, সুদর্শন, স্বাস্থ্যবান, সুপাত্র যুবকের দেওয়া মা কেঁদেকেটে অনর্থ বাধাবে। ওরা তাদের বাড়ি যাবার পর থেকেই মা কারণে অকারণে ফোঁস ফোঁস করে কাঁদে। শহরে থাকতে এসে, বড় খেলোয়াড় হয়ে, ইমন তো এমনিতেই অনেক দূর চলে গেছে বলে ভাবে মা। তারপর ওই সমস্ত মার ভাষায় ‘সমন্ধ’! ইমন তার কৃতিত্ব, তার সঞ্জীবনী দায়িত্বশীল উপস্থিতি, তার টাকা রোজগারের ক্ষমতা সমস্ত নিয়ে মা আর ভাইয়ের রুগ্ন অভাবী পৃথিবীটা থেকে হুশ করে একদম উঠে যাবে।

     

     

    ইমন শুয়ে শুয়ে ভাবতে লাগল, ‘এবার কী? এর পর? সেকি মাকে ওই গর্ত থেকে টেনে তুলতে পারবে কোনদিন? আর্থিক দিক থেকে হয়তো পারল। কিন্তু সারা জীবৎকাল, বিশেষত বাবার মৃত্যুর পর থেকে যে লড়াই দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে, অসম্মানের বিরুদ্ধে, ক্রমশ ক্রমশ বস্তিবাসীর জীবনের দিকে নেমে যাওয়ার বিরুদ্ধে এ সমস্ত তার ছাপ ফেলে গেছে মায়ের ওপর। মা কি নিজেকে কোনদিন রানাঘাট হাসপাতালের আনট্রেইন্ড আয়া ছাড়া আর কিছু, কিংবা আয়া হয়েও একজন সম্মানিত নাগরিক হিসেবে নিজেকে ভাবতে পারবে? সম্ভব, মাকে মুক্তি দেওয়া? মুক্তিটা একটা একদিনের ঘটনা তো নয়, একটা চালু পদ্ধতি। ইমন খেলতে খেলতে নানান মানুষের সংস্পর্শে এসে, কলকাতায় হোস্টেলে থাকার দরুন, ভাল কলেজে পড়াশুনোর সুযোগ পাওয়ার দরুন আস্তে আস্তে মুক্তি নামক বস্তুটার কাছাকাছি পৌঁছতে পেরেছে। তবুও তো তার লজ্জা পুরোপুরি যায়নি। সে নিজের সম্পর্কে নীরব থেকেছে বরাবর, বন্ধু করেনি কাউকেই, পরিচয় দিতে বাধ্য হলে বলেছে মা নার্স। এটাও তো সত্যকে লুকিয়ে যাওয়া লজ্জায়। এত সুযোগ পেয়েও ইমন যে মুক্তি পুরোপুরি পেল না, তার দুঃস্থ মা, অবিরাম ওই একই সঙ্গে বন্দী থেকে, কোনও সুযোগ না পেয়ে কী করে সামাজিক হীনম্মন্যতার এই গণ্ডি পেরোবে? সে নিজের জন্য প্রতিজ্ঞা করতে পারে, এমন কি ভাইটিকেও সে বন্দিত্ব থেকে খালাস করে আনবার চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু মা? মা যে তার পূর্ব-অভিজ্ঞতায় বদ্ধ, আপাদমস্তক জারিত, সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে তার বাবা জড়িত, মায়ের জীবনের দুই-তৃতীয়াংশ জড়িত, সে আপ্রাণ চেষ্টা করবে। কিন্তু মা কি পারবে?

     

     

    আরও কত দূর যেতে হবে তাকে, কত্ত কত দূর! অনেক পাহাড় পার হয়েও সে যদি দেখে আরও পাহাড়, আরও পথ! সেসব পার হয়েও, যদি থাকে আরো আরো! এই সময়ে, ঘুমোবার ঠিক আগের মুহূর্তে ইমনের হঠাৎ ভগবানের কথা মনে পড়ল। এটা তার ছোটবেলার অভ্যাস। এখন মনে হল ভগবান? ভগবান কেন বলে সে? বাবার যখন করোনারি থ্রম্বোসিস হল, সে বলেছিল ভগবান! ভগবান! বাঁচাও! যখন টুর্নামেন্ট খেলতে যায়। বলে ভগবান, হে ভগবান! যেন… পরীক্ষার পড়া এবারে ভাল তৈরি ছিল না, সে মনে মনে ভগবানকে ডেকে পরীক্ষা দিতে গেছে। প্রশ্নপত্র পাবার আগেও ভগবান!! এ কিন্তু মায়ের কুলুঙ্গিতে লক্ষ্মী নয়, তাদের হোস্টেলে ক্রুসবিদ্ধ যিশু নয়, কি মিঠুদের বাড়িতে রামকৃষ্ণের ভাস্কর্য নয়। অন্য কিছু? কে এ? কিছু পাওয়ার জন্যে, বিপদের সময়ে একে ডাকা। সব সময়ে সে ডাক শোনা হয় তার প্রমাণ নেই। বাবা যেমন মারা গেল, আগের বারে ন্যাশন্যাল চ্যাম্পিয়নশিপটা যেমন সে জিততে পারেনি, এবারে পারল। তবু এখন নিশ্বাস যখন গাঢ় হয়ে আসছে, নিজের একটা ব্যবচ্ছেদ করবার পর, দারুণ কঠিন মনঃসংযোগ ও কুশলতার খেলায় জেতবার পর, নিজের ভেতরের কথাগুলো জীবনে সর্বপ্রথম দ্বিতীয় ব্যক্তির কাছে প্রকাশ করবার পর, এখন ঘুমের মুহূর্তে তার প্রতিটি নিশ্বাস ছন্দে ছন্দে কেন যে বলতে লাগল ভগবান, ভগবান। এটা একটা রহস্য, এটার কিনারা সে করতে পারবে না। কোন দূর অতীতের অভ্যাসের সঙ্গে এই সব আবছা ভাবে বুঝি জড়িত, এটা বুঝতে বুঝতেই ইমন ঘুমিয়ে পড়ল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅমৃতা – বাণী বসু
    Next Article উত্তরসাধক – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026
    Our Picks

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }