Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    একুশে পা – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প300 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    একুশে পা – ৭

    ৭

    ‘এতক্ষণ আমাতে অমিতেতে আড্ডা মারছিলাম..

    বাবা-মার ঘরটাতে ঢুকল ঋতু। দুদিকে দুটো খাট। মাঝখানে পর পর দুটো আলমারি। বারান্দার দিকের দরজার পাশে ড্রেসিং টেব্‌ল। এখন একদম ফাঁকা। বাবাদের যাওয়া পেছোতে পেছোতে জানুয়ারি হয়ে গেল। মিসেস মীনাক্ষী দাশ রকমারি প্রসাধন-দ্রব্য তাঁর কসমেটিক্‌স্‌ বক্সে পুরে নিয়ে গেছেন। প্যারিসের রাস্তায় রূপসী যুবতী সেজে বেড়াবেন। ঋতু নিজেই গুছিয়ে দিয়েছে সুটকেসটা। গাঢ় অরেঞ্জ, বেগনি সব শাড়িগুলো জোর করে দিয়ে দিয়েছে সে। মা খুব আপত্তি করছিল।

    ঋতু বলেছিল, ‘এই লাস্ট চান্স মাম্মি পরে নাও।’ অরেঞ্জ শাড়ির সঙ্গে ম্যাচিং পলার সেট, বেগনি কাঞ্জিভরমের সঙ্গে আলেকজান্ডার স্টোন, সব মিলিয়ে মিলিয়ে দিয়েছে। খালি লালটা মা কিছুতেই নিতে রাজি হল না। বয়স্ক মহিলারা যখন চড়া রঙের শাড়ি পরে, রঙচঙ মেখে, রাজ্যের গয়নাগাঁটি পরে ঘোরে তখন ঋতুর ভীষণ হাসি পায়। অনেকে আবার ব্লাশার মাখে। আই শ্যাডো ব্যবহার করে দিনের বেলাতেও। ঋতুর মা মোটামুটি ভালোই দেখতে, খুব কিছু মোটা হয়ে যায়নি, চুলও আছে বেশ, সামান্যই। পেকেছে, অনেকেই বলে সোমার দিদির মতো লাগে দেখতে। এটা নিয়ে মার একটা প্রচ্ছন্ন গর্ব আছে বুঝতে পারে ঋতু। ভাগ্যিস ঋতুকে কেউ মায়ের বোন বলে না। তাহলে তার সঙ্গে তার এক হাত হয়ে যেত। মায়ের সাজ দেখতে হয় বাবার সঙ্গে কোথাও বেরোলে। সোমার সঙ্গে বেরোলে খুব হালকা সাজবে। সাদার ওপর বুটির টাঙ্গাইল পরবে, গাদোয়াল পরবে, সোমা যদি বলে, ‘মা পরো না পিঙ্ক শাড়িটা,’ মা বলবে, ‘দূর, তোর মা না!’ ঋতুর সঙ্গে বেরোলে আর একটু চড়ে মায়ের সাজ। কিন্তু বাবার সঙ্গে বেরোলে সাজের কী ধূম! অত রঙ লাগালে, কড়া লিপস্টিক মাখলে আরও বুড়োটে দেখায় মা জানে না। ঋতু এখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চেহারাটা আপাদমস্তক দেখল। জিভ বার করে, ঘাড় ঘুরিয়ে, দাঁত বার করে হেসে, ভ্রূকুটি করে, নানা ভাবে। ঋতুর চেহারার সবচেয়ে বৈশিষ্ট্য যে তাকে ভীষণ বাচ্চা-বাচ্চা দেখতে। একরাশ বাদামি চুল। সোজা কানের পাশ দিয়ে পিঠের ওপর, বুকের ওপর নেমে এসেছে। মসৃণ গমের মতো রঙ। বড় বড় বিস্ফারিত চোখ। ঠোঁট দুটো ফোলা-ফোলা, যে কোনও মুহূর্তেই আবদারে ফুলতে পারে। সোমা খুব লেডি-লাইক। তার পাশে ঋতু যেন খুকি। আয়নাটাকে জিভ ভেংচে, ঋতু বিছানার ওপর ধপাস করে বসে পড়ল।

    ‘বাসন্তী, বাসন্তী, শিগগিরই এক গ্লাস ঠাণ্ডা জল খাওয়াও।’

    বাসন্তী ঋতুর ছোট্ট থেকে আছে। এক রকম মানুষই করেছে তাকে। কিন্তু ঋতু তাকে বাসন্তীই বলে। সে বাবা-মা ছাড়া আর সকলকেই প্রায় নাম ধরে ডাকে। দিদিকে সোমা, দিদির বরকে অমিত, বাবাকেও মাঝে মাঝে আদর করে নাম ধরে। সে বলে, ‘নামটাই তো পরিচয়। তা ছাড়া বাসন্তী ইজ দাসী। হাজার মাসি-পিসি ডাকলেও সে দাসীই থাকবে, ওসব ডাক এক ধরনের ভণ্ডামি।

     

     

    বাসন্তী জল এনে দাঁড়াল। এক হাতে জল খেতে খেতে অন্য হাত তুলে বাসন্তীকে দাঁড়াতে বলল ঋতু। তারপর গ্লাসটা ড্রেসিং টেব্‌লের ওপর রেখে খাটের কোনায় হাত দিল। বলল, ‘হাত লাগাও তো, খাটদুটোকে জুড়তে হবে।’ মাঝখানের কার্পেটটাকে সে আগেই গুটিয়ে রেখেছে।

    বাসন্তী বলল, ‘কেন?’

    ‘যা বলছি করো। কেন আবার কী? সোমারা আসবে না? এখানে থাকবে না?’

    চটপট খাট জোড়া হয়ে গেল। আলমারি থেকে তোয়ালে, নতুন সাবান বার করে বাথরুমে রেখে আসা হল। বসবার ঘর থেকে বাবার ছোট্ট লেখার টেবিলটা আর দুটো চেয়ার সে শোবার ঘরের অন্য কোণে আলোর ঠিক তলায় রেখে দিল। এয়ারপোর্ট থেকে ফেরবার পথে অনেক ফল কিনে এনেছিল, সেগুলো ভালো করে মুছে ফ্রিজের মাথায় রেখে দিল। একগুচ্ছ লাল গোলাপ রাখল শোবার ঘরে টেবিলটার ওপর। এরপর একটু দূর থেকে সবটা দেখে বেশ পরিতুষ্ট মুখে নিজের ঘরে ঢুকে, দু ঘরের যোগাযোগের দরজাটা বন্ধ করে দিল।

     

     

    সোমারা না এলেই সে খুশি হত। কিন্তু জানা কথাই, বাবা-মা তাকে এতদিন বাসন্তীর ভরসায় একা রাখবে না। যাই হোক, সোমারা থাকলেও, সে-ই বাড়ির কর্ত্রী। এই সব চাবি, বাসন্তীকে ফরমাশ করে সংসার চালাবার অধিকার তার। সে হাতে করে চাবির থলোটা পরীক্ষা করে দেখতে লাগল।

    বাসন্তী ঘরে ঢুকে বলল, ‘ওরা কখন আসবে?’

    ‘অমিত য়্যুনিভার্সিটি থেকে সোজা আসবে। ওর জন্যে ভালো কিছু টিফিন করো। সোমার বোধ হয় আরো দেরি হবে। এয়ার-পোর্ট থেকে সোজা জোকায় চলে গেল। সেখান থেকে বাড়ি ফিরবে, গোছগাছ করবে, তারপর আসবে। কী বানাচ্ছ রাত্রের জন্য?’

    ‘মাটন রান্না করা আছে। রুটি হবে।’

    ‘মাটন আবার কী? মাটনের প্রিপারেশনটা কী বলো?’

     

     

    ‘মাটন মানে মাটন, যেভাবে রাঁধি রেঁধেছি। অতশত জানি না।’

    ‘জানো না বললেই পারতে, আমি বই দেখে দেখে বলে দিতাম। আর কিচ্ছু করো নি!’

    ‘সোমা আসুক, জিজ্ঞেস করে নেবো।’

    ‘কেন? সোমা কেন? আমি কি নেই? এটা এখন আমার বাড়ি। আমি যা বলব তাই করতে হবে। যাও বেগুন-ভাজা করো গিয়ে। পুডিং বানাও। কাশ্মিরী আলুর দম বানাও।’

    ‘কী মুশকিল, বেগুন না হয় খাবার সময়ে ভেজে দেব। আলু সোমা খেতে চায় না। পুডিং না হয় করছি। যদিও দুধ বেশি নেই, কনডেন্সড্ মিল্ক ঢালতে হবে, আগে থেকেই বলে দিচ্ছি।’

    ‘হোক। আর সোমা তো একা খাবে না। অমিত কাশ্মিরী আলুর দম খেতে ভালবাসে। আমিও বাসি। স্যালাড কেটেছ?’

    ‘ক-খন। ফ্রিজে ঢোকানো আছে।’

     

     

    অমিত কিন্তু আগে এলো না। ওরা দুজনে একসঙ্গে পেল্লাই একটা সুটকেস নিয়ে নামল, রাত নটা। বাসন্তী খুলে দিল। তার মুখে খুশির হাসি।

    ‘ঋতু কোথায়? ঋতু?’ সোমা ঢুকেই জিজ্ঞেস করল।

    ‘মাথা ধরেছে। শুয়ে আছে।’

    ‘মাথা ধরেছে? কেন?’ সোমার ভুরু কুঁচকে উঠেছে।

    ‘তোমাদের জন্যে বাড়ি কত গুছোলো… রান্না-টান্না…’ বাসন্তী ঢোঁক গিলল।

    ‘ঋতু রান্না করেছে?’

    ‘তা নয়। বলল আমাকে কী কী করতে হবে, ঠায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিল।’

     

     

    অমিত সুটকেসটা লিভিংরুমের একধারে রেখে ডাকতে লাগল, ‘ঋতু, ঋতু উঠে পড়ো।’ ডাকতে ডাকতে সে ঋতুর ঘরের সামনে চলে গেল, ‘আসব?’

    ‘এসো।’ ঋতুর ধরা-ধরা গলা শোনা গেল।

    ‘কী হল? উঠে পড়ো! খুব মনমেজাজ খারাপ নাকি মা-বাবার জন্য?’

    অমিত ঋতুর বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে। ঋতু আড়মোড়া ভেঙে উঠে দাঁড়িয়ে একটা হাই তুলল মুখে হাত চাপা দিয়ে, ‘এক্সকিউজ মি।’ তারপর অমিতের শার্টের বোতামে হাত রেখে আদুরে গলায় বলল, ‘হোয়াই কুড নট্ ইউ কাম আর্লিয়ার অমিত?’

    ‘আরে বাড়ি ঠিকঠাক বন্ধ করতে হবে! নিচ্ছিদ্রভাবে তালা-ফালা দিতে হবে। এই ঢাউস সুটকেস তার পর, সোমা একা পারে না কি?’

     

     

    ‘ইউ প্রমিজ্‌ড্! আমি তোমার জন্যে চিকেন ওমলেট বানাতে বলে দিয়েছিলাম। তুমি ভালোবাসো বলে।’

    ‘তো কী আছে? আমি তো পালিয়ে যাচ্ছি না! প্রত্যেক সন্ধ্যায় আমি য়ুনিভার্সিটি থেকে প্রচণ্ড খিদে নিয়ে ফিরব, তখন দেখি তুমি কত খাওয়াতে পার। বোর হয়ে যাবে বলে দিলুম।’

    সোমা ও-ঘর থেকে চেঁচিয়ে ডাকল, ‘অমিত চান করতে যাও। আমি গিজার চালিয়ে দিয়েছি ন’টা বেজে গেছে।’ তারপর তোয়ালে হাতে ঋতুর ঘরে এসে বলল, ‘ঋতু টেবিলটা ঘরে এনে খুব বুদ্ধিমানের কাজ করেছিস রে! গোলাপগুলো একেবারে টাটকা। অমিত, তুমি ও বাথরুমে যাও, আমি ঋতুরটাতে যাই বরং। বড্ড দেরি হয়ে গেছে।’

    খাবার টেবিলে বসে সোমা বলল, ‘অ্যাত্তো কি সব রাঁধিয়েছিস রে?’

    ‘তোমার পছন্দ না হয় খেও না।’

    ‘উঃ, আমি কি তাই বলেছি? আমার এমন রাক্ষসের মতো খিদে পায়! সমস্ত খাব। ··· ইস্‌স্ মাটনটা কী ভালো হয়েছে!’

     

     

    অমিত বললে, ‘এ বাড়িতে এলে ঠিকঠাক জমিয়ে খাওয়া যায়। তোমার তো খালি বয়েল্‌ড আর স্টু।’

    ‘সেইজন্যেই অম্বলে না ভুগে সুস্থ শরীরে খাটতে পার। বুঝলে? একদিন দুদিন মুখ বদলাবার জন্যে এরকম ঠিক আছে। তাই বলে রোজ না। ঋতু তুই আজকাল রোজই এরকম খাস না কি রে?’

    বাসন্তী বলল, ‘ওর তো খেয়ালের ওপর। খাওয়ার দশ মিনিট আগে হয়ত বলল—ঢাকাই পরোটা করে দাও।’

    ‘তাই দাও?’

    ‘না করে উপায়?’ বাসন্তী যেন এক দিনেই ঋতুর অভিভাবিকা হয়ে উঠেছে।

    ‘ঋতু অত ভাজাভুজি, মশলা খেও না সত্যি! অমিত বলল।

    ‘আমি তোমাদের মতো ডেস্‌ক্ ওয়ার্ক করি না বসে বসে। রীতিমতো লম্ফ-ঝপ করতে হয়, বুঝলে? ওসব ফ্যাট-ট্যাট, মশলা-টশলা সব কোথায় তলিয়ে যায়।’

     

     

    সোমা বলল, ‘তা অবশ্য। নাচে প্রচণ্ড খাটুনি। কিন্তু একটু আলগা দিলেই মোটা হয়ে যাবি। ও কি হাত গুটিয়ে আছিস যে?’

    ‘খাওয়া হয়ে গেছে।’

    ‘হয়ে গেল? এরই মধ্যে? পুডিংটা খাবি না?’

    ‘নাঃ, আমি উঠছি, ডোন্ট মাইন্ড।’ ঋতু উঠে চলে গেল, ঘরের দরজা বন্ধ করবার শব্দ হল।

    অমিত বলল, ‘কিছু হল যেন মনে হচ্ছে?’

    ‘রাগ হয়ে গেল বোধ হয়’, সোমা স্যালাড নিতে নিতে বলল।

    ‘রাগ? কেন?’

     

     

    ‘ঋতুর রাগ-অনুরাগের কোনও কেন নেই অমিত। ওর মন নামে জটিল যন্ত্রটির কোন কথায়, কখন তার ঢিলে হয়ে যায় আমরা কেউ জানি না।’

    ‘ডেকে আনব? কিছুই তো খেল না!’

    ‘খবর্দার, অমন কাজটিও করো না। ও তো তাই-ই চায়। দরজায় ঘা দেব। দুজনেই খাওয়া ফেলে ঋতু-ঋতু বলে ছোটাছুটি করব। অ্যান্ড শী’ল থ্রো ওয়ান অফ হার ফেমাস ট্যানট্রাম্‌স্!’

    ‘তাই বলে খাবে না?’

    ‘খেয়েছে তো! ও ওইরকমই খায়। বারে বারে খায়। রাত্তির তেরোটার সময়ে হয়ত ফ্রিজ থেকে পুডিং বার করে খেয়ে নেবে। এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না তো!’

    কিন্তু ঋতু বেশ ভালো হয়েই তো থাকছে। সকালে সর্বপ্রথম বেরোয় সোমা। অমিতের একটু বেলায় ক্লাস থাকে। ইউনিভার্সিটিও খুব কাছে! ঋতু প্রায়ই গোড়ার দিকের ক্লাসগুলোয় যায় না তাই এগারোটা, সাড়ে এগারোটা, কোন কোন দিন বারোটায় দুজনে খেতে বসে। অমিতের দুদিন যেতে হয় না। সে দুটো দিন, নিজের ব্যক্তিগত পড়াশোনা, পেপার টাইপ, লাইব্রেরি এ সব থাকে তার। ঋতুও প্রায়ই এই দিনগুলোতে গড়িমসি করে কলেজ যায় না। বলে, ‘ধুর। ভাল্লাগছে না, এই অমিত রাখো তো তোমার বালিশের মতো বইগুলো, এসো গল্প করি।’

     

     

    কত যে গল্প ঋতুর! তার নাচ-ক্লাসের মাস্টার মশাইয়ের প্রতিভার গল্প। মেয়েদের মধ্যে, ছেলেদের মধ্যে প্রতিযোগিতার পলিটিক্‌স্। অমিত যখন জার্মানিতে ছিল তখনকার গল্প। খালি সোমার সঙ্গে অমিতের প্রেমের গল্পটা সে কখনোই শুনতে চায় না।

    উজ্জয়িনী আর মিঠু এলো একদিন।

    ‘কিরে ঋতু, কলেজ যাসনি কেন?’

    ‘এই তো পরশুই গেছি! আবার কী! ভারি তো কলেজ!’

    ‘তাই বলে দিনের পর দিন ফাঁকি দিবি? তারপর নন-কলেজিয়েট হয়ে গেলে?

    ‘আহা, ক জন প্রোফেসর রোলকল করতে পারেন রে! অনার্স ক্লাসেই তো সাতচল্লিশ জন স্টুডেন্ট। সব ফুটকি দেওয়া থাকে আমি দেখেছি। পরীক্ষার সময়ে একটা মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দিয়ে দেব। বি কে সি-কে বলব, অনার্সের ‘পি’গুলো দিয়ে দিতে।’ গলা তুলে সে বাসন্তীকে ডাকতে লাগল, ‘বাসন্তী! বাসন্তী! আমার বন্ধুরা এসেছে কফি করো, কফি উইথ ক্রীম, এই চিকেন রোল খাবি?’

     

     

    উজ্জয়িনী বলল, ‘তুই ব্যস্ত হোস না তো! এখন আর বাসন্তীদিকে কোথাও পাঠাতে হবে না।’

    ‘পাঠাব না তো! এভরিথিং ইজ রেডি। জাস্ট ভাজবে আর দেবে।’

    ‘তুই খুব গিন্নি হয়েছিস তো!’

    ‘হয়েছিই তো। জানিস না মা আর বাপী ফ্রান্স গেছে। আমিই তো এখন সব দেখছি।’

    ‘সে কি রে? তুই একা রয়েছিস?’

    ‘সোমা-অমিত আছে! এতক্ষণ আমাতে অমিতেতে আড্ডা মারছিলাম তো!’

    ‘অমিত কে রে? সোমাদির বর?’

    ‘আবার কে? এই অমিত এদিকে এসো শিগগির।’

    বারান্দার দিকের দরজা দিয়ে পাজামা-পাঞ্জাবি পরা অমিত ঢুকলো। ঋতু বলল, ‘ইজ্‌ন্‌ট্ হি হ্যান্ডসাম?’

    মিঠু-উজ্জয়িনী জবাব না দিয়ে অমিতের দিকে তাকিয়ে নমস্কার করল। অমিত বলল ‘হাই!’

    চিকেন রোল আর কফি খেতে খেতে শিগগিরই চারজনে খুব আড্ডা জমে গেল। মিঠু বলল, ‘আপনার রোজ রোজ বেরোতে হয় না, কী মজা, না অমিতদা?’

    ‘আরে! কে বললে যেতে হয় না। ক্লাস ছাড়াও অনেক কাজ থাকে। তো এই আহ্লাদি শ্যালিকাকে আগলাচ্ছি। মা বাবা নেই, মন-মেজাজ খারাপ। ঋতু তোমার বন্ধুরা এসে গেছে। আমি একটু বেরোচ্ছি।’

    ‘কেন?’

    ‘দরকার আছে।’

    ‘কী দরকার?’

    ‘আরে! আছে।’

    ‘দেরি করবে না, তাড়াতাড়ি ফিরবে।’ ঘড়ি দেখে বলল, ‘উইদিন হাফ অ্যান আওয়ার।’

    ‘অত তাড়াতাড়ি হবে না। ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যে ফিরব।’ অমিত চট করে পোশাক বদলে বেরিয়ে গেল।

    উজ্জয়িনী বলল, ঋতু, কলেজ ইলেকশন-এ আমি এবার ক্লাস-রিপ্রেজেন্টেটিভ দাঁড়িয়েছি। আমাকে ভোটটা দিবি তো?’

    ‘তুই দাঁড়িয়েছিস? তুই? অফ কোর্স দেব। আর কেউ দাঁড়িয়েছে না কি রে?’

    ‘হ্যাঁ, দেখ না রাজেশ্বরীও দাঁড়িয়েছে।’

    ‘সে কী? তোদের দুজনের মধ্যে আবার ভোটাভুটি কী?’

    মিঠু তাড়াতাড়ি বলল, ‘দেখ না, এটাই উজ্জয়িনীকে বোঝাতে পারছি না কিছুতেই। রাজেশ্বরীর নামটা আগে পড়েছে। ও দাঁড়িয়ে গেছে, উজ্জয়িনীর আবার দাঁড়াবার দরকার কি ছিল, বল তো!’

    মাথায় একটা ঝটকা দিয়ে উজ্জয়িনী বলল, ‘তো দিস নি! বারবার এক কথা বলছিস কেন? দিস ইজ ইনসাল্টিং। আমাকে ডেকে দাঁড়াতে বলে ওরা হঠাৎ রাজেশ্বরীকে দাঁড় করালো কেন? আমার একটা প্রেসটিজ নেই? এটা আমার চ্যালেঞ্জ। রাজেশ্বরীকে আমি হারাব, এমন করে হারাব যে ওই সুকান্তদা, শৈলেশদা বুঝতে পারবে। এটা আমার চ্যালেঞ্জ জেনে রাখিস। আর তোরা তো রাজেশ্বরীকেও উইথড্র করতে বলতে পারতিস! আমার কাছেই খালি ঘ্যানঘ্যান করছিস কেন? বল ঋতু!’

    ঋতু মজা পেয়ে বলল, ‘তোরা খুব একসাইটেড মনে হচ্ছে এই ব্যাপারটা নিয়ে। সত্যিই তো মিঠু তোরা রাজেশ্বরীকে বলছিস না কেন?’

    মিঠু বলল, ‘আসলে রাজেশ্বরীর নামটাই তো প্রথমে পড়েছে। ওকে নাম উঠিয়ে নিতে বলার কোনও মর‍্যাল রাইট আমাদের নেই। তবে, উজ্জয়িনী যদি এত ইয়ে করে, তো রাজেশ্বরীকেও বলতে হবে।’

    ঋতু বলল, ‘এখখুনি বল। দাঁড়া ফোনে ডাকি ওকে।’

    মিঠু বলল, ‘অত তাড়া করছিস কেন? মুখোমুখি না হলে এ সব হয়?’

    ‘উঁহুঃ, ফোন ইজ বেস্ট।’ বলে ঋতু চট করে ডায়াল ঘোরালো।

    ‘রাজেশ্বরী আছে? হ্যাঁ আমি ঋতু বলছি রে। এই ফিরলি? হ্যাঁ? হ্যাঁ। আমার বাপী-মা নেই তো তাই!’ রিসিভারের ওপর হাত চাপা দিয়ে উত্তেজিতভাবে ফিস-ফিস করে ঋতু বলল, ‘আমার কাছে ভোট চাইছে! এই শোন রাজেশ্বরী, শুনলাম উজ্জয়িনীও দাঁড়িয়েছে! তুই উইথড্র করে নে নামটা। দুই বন্ধুতে…কী? না কেউ বলেনি বলতে। আমারই মনে হল। …বল!’ আবার রিসিভারে হাত চাপা দিয়ে ঋতু বলল, ‘ও-ও একই কথা বলছে। বলছে ও আগে দাঁড়িয়েছে। উজ্জয়িনীকে নাম তুলে নিতে বল।’ রিসিভারের দিকে ফিরে ঋতু বলল, ‘কোত্থেকে জানলাম? যেটুকু গেছি তাইতেই কানে এসেছে। আচ্ছা রাখি! রাখছি রে!’ ফোন রেখে হাঁসিতে ফেটে পড়ল ঋতু।

    ঋতু বিরক্ত হয়ে বলল, ‘তোরা দুজনেই খুব ওয়ারিড না? এত গোঁ কেন রে তোদের? এক জন নামটা তুলে নিলেই তো ফুরিয়ে যায়।’

    ‘ঠিক আছে। দিস নি আমাকে ভোটটা। আমি চলি’, উজ্জয়িনী উঠে দাঁড়াল।

    ‘ইস? এত সহজে রেগে যাস কেন রে? ভোটটা তোকেই দোব। হল তো?’

    ‘ঠি-ক!’

    ‘ঠিক! কী আশ্চর্য তোর সঙ্গে কত দিনের বন্ধুত্ব!’

    উজ্জয়িনী বলল, ‘থ্যাংকিউ।’ মিঠুও উঠে পড়ল। কিন্তু তার মুখে স্পষ্ট অশান্তির ছাপ। উজ্জয়িনী আড়চোখে সে দিকে তাকিয়ে বলল, ‘মিঠু তুই রাজেশ্বরীকেই দিস। তোর থেকে আমি ভোট চাইছি না। তোকে আমার সঙ্গে আসতেও হবে না। কী জানি! তোকে যদি আবার ইনফ্লুয়েন্স করি! আমার কী মর‍্যাল রাইট আছে বল!’

    মিঠু কাঁদো-কাঁদো মুখে বলল, ‘কী হচ্ছে উজ্জয়িনী! আমি একবারও বলেছি তোকে দেব না!’

    উজ্জয়িনী ক্রুদ্ধ মুখে ফিরে দাঁড়িয়ে বলল, ‘এই তো ঋতু কত সহজে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল। মানছি তোদের পক্ষে অস্বস্তিকর হচ্ছে ব্যাপারটা। কিন্তু আমারও তো একটা প্রেসটিজ আছে। তা ছাড়া কোথায় আমি, কোথায় রাজেশ্বরী! রাজেশ্বরী তে এসেছে মোটে এইচ.এস-এ। আর আমার সঙ্গে পড়ছিস নার্সারি থেকে। তোদের মনে এত দ্বিধা আসে কোত্থেকে? আমি সব বুঝি মিঠু। তোর আমাকে ভালো লাগে না আর। আমি খেয়ালি, আমি তোকে ঠেলে দিতে পারি জলে। তো ঠিক আছে, রাজেশ্বরীকে ভালো লাগে। তাকে বেশি ডিপেন্ডেব্‌ল্ মনে হলে তার কাছে যা। আমি তো তোকে বেঁধে রাখি নি! যেখানে খুশি, যার কাছে খুশি যানা!’

    মিঠুর চোখের কোল ভরে উঠছে। সেদিকে তাকিয়ে ঠোঁট বেঁকিয়ে উজ্জয়িনী বলল, ‘ক্রাই বেবি!’ সে বেরিয়ে গেল।

    মিঠুকে ঋতু টেনে বসিয়ে রাখল। মিঠু রুমাল দিয়ে চোখ মুছছে। ধরা গলায় বলল, ‘সত্যি রে ঋতু, আমি একটা অপদার্থ, চরিত্রের কোনও জোর নেই, কিছুই পারি না। কিচ্ছু না!’

    ঋতু বলল, ‘দূর। ছাড় তো! উজ্জয়িনীটা চিরকাল একটা বুলি। সেলফিশ। নিজেরটা ছাড়া কারুরটা দেখতে পায় না। আমি ওকে কথা দিয়েছি যখন ওকেই দেব। তুই রাজেশ্বরীকে দে। ও তো তোকে অনুমতি দিয়েই দিয়েছে!’

    ‘তা হয় না ঋতু। উজ্জয়িনী দাঁড়ালে ওকে আমার দিতেই হবে। তাই বলে ওর ভুলটা অমি দেখিয়ে দেব না? আমি যাই রে!’

    ‘যাবি? যা তা হলে। শুধু শুধু মন-খারাপ করিস না।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅমৃতা – বাণী বসু
    Next Article উত্তরসাধক – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }