Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    অর্পিতা সরকার এক পাতা গল্প285 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বাসি বকুলের গন্ধ

    ‘এই চন্দ্রজা যা না, তিমিরকে ডেকে নিয়ে আয় না। তুই কেন বুঝতে পারছিস না এটা আমাদের সেকেন্ড ইয়ারের ম্যাটার অফ প্রেস্টিজ। এমনিতেই তো ফাইনাল ইয়ারের ওই সুবিনয়, তনয়া, জ্যোতিষ্ক এরা সব ক্যানভাসের সামনে দাঁড়ালে জড়পদার্থও প্রাণ ফিরে পায়। দেখলি না গতকাল বর্ষা ম্যাডাম এসে বলে গেলেন, ‘এটাকে কম্পিটিশন হিসাবে নিও তোমরা। শুধু কলেজ ফেস্ট নয়। চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিও। আজ অবধি সেকেন্ড ইয়ার থার্ড ইয়ারের কাছে জিততে পারেনি কোনোদিন। তোমাদের মধ্যে একমাত্র তিমিরকেই একটু ভরসা করা যায়।’

    অতনুর দিকে তাকিয়ে চন্দ্রজা বলল, ‘তোরা হঠাৎ আমাকে কেন ডাকতে পাঠাচ্ছিস? তোরা যে কেউ তো তিমিরকে ডাকতে পারিস। আমরা একই ইয়ারের একই বিষয়ের ছেলেমেয়ে, তাহলে তোরা ওকে ডাকতে পারবি না কেন?’

    আর্ট কলেজের ক্যাম্পাসে আজ একটা বেশ চাপা উত্তেজনা শুরু হয়েছে। সিনিয়র ভার্সেস জুনিয়র আঁকার কম্পিটিশন। ছোটবেলার মতো বসে আঁকো প্রতিযোগিতা নয়। এ অনেক জটিল ব্যাপার। ওদের কলেজে দুটো ছাত্র পরিষদই বেশ স্ট্রং। মানে ভোটা-ভুটিতে ড্র হয়েছে গত বছর। সেকেন্ড ইয়ারের উৎসব ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে ভীষণ রকমের যুক্ত। তাই সেকেন্ড ইয়ার হেরে যাক এটা ও একেবারেই চায় না। সেইজন্যই উৎসব বেশ উঠে পড়ে লেগেছে।

    উৎসব এবারে বলল, ‘চন্দ্রজা, ঢং পরে করলেও চলবে। সবেতে তোদের এই ন্যাকামিগুলো আর হজম হয় না মাইরি। আরে তিমির যে সকলের থেকে আলাদা সেটা আমরা সবাই জানি। ওকে আমরা জোর-জবরদস্তি ডাকলেও ও আসবে না।’

    চন্দ্রজা নিজের নখের কপার রঙের নেলপলিশ খুঁটে তুলতে তুলতে বলল, ‘তাহলে জোর করছিস কেন? ওকে থাকতে দে না ওর মতো। আমরা সবাই মিলে ভেবেচিন্তে একটা প্রজেক্ট দাঁড় করাই। কেন তিমিরকে তোদের প্রয়োজন? এতদিন তো ওকে আমরা কেউ পাত্তাই দিইনি। এমনকি ফার্স্ট ইয়ারের রেজাল্টের পরেও না। তাহলে আজ হঠাৎ নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ওকে ডাকতে পারব না।’ উৎসব বলল, ‘দেখ চন্দ্রজা, আচমকা শরৎচন্দ্রের নায়িকার মতো সৎ হয়ে যাস না। পাত্তা কি আমরা একা দিইনি? তুইও তো দিসনি। ছেলেটার তোর প্রতি আকর্ষণ আছে জেনেও দিসনি।’

    চন্দ্রজা বলল, ‘কার কার আমার প্রতি আকর্ষণ আছে সেটা কি খুঁজে বেড়াতে হবে আমাকে? আমি জাস্ট পারব না।’

    বিরক্ত হয়ে শ্রাবণী বলল, ‘ছাড় রে। আমি ডাকছি ওকে।’

    শ্রাবণী এগিয়ে গেল নিজেদের ডিপার্টমেন্টের দিকে। তিমির আবার বাইরে তেমন বেরোয় না। ক্লাসরুমে বসে থাকতে পছন্দ করে।

    শ্রাবণী রুমে ঢুকে দেখল খাতায় দুটো চোখ এঁকেছে তিমির। ওকে সামনে দেখেই চট করে খাতাটা বন্ধ করে দিল। শ্রাবণীরও আর্টিস্টের চোখ। ভুল ওরও হয়নি। চোখ দুটো কার বুঝতে দেরি হয়নি ওর। অন্য সময় হলে হয়তো একটু লেগপুল করত। কিন্তু আজ ওদের টিমের তিমিরকে প্রয়োজন। তাই বেশ সিরিয়াস মুখ করে শ্রাবণী বলল, ‘তিমির, আমাদের ডিপার্টমেন্টের সম্মান তোর হাতে। একমাত্র তোর তুলিতেই ইউনিক আইডিয়া আসে। থার্ড ইয়ারের সঙ্গে পাঙ্গা লড়ে বসে আছে উৎসব। এখন তুই আমাদের বাঁচা প্লিস।’

    তিমির খাতায় লিখল, ‘প্লিস শ্রাবণী, আমায় এসবে জড়াস না। আমি কোনো প্রতিযোগিতা পছন্দ করি না।’

    খাতাটা সামনে ধরল শ্রাবণীর। শ্রাবণী লেখাটা পড়েই বলল, ‘কিন্তু তিমির তুই আমাদের পাশে থাকবি না?’

    তিমির আবার লিখল, ‘পাশে আছি। কিন্তু কোনো চ্যালেঞ্জে নেই।’

    তিমির আর কিছু লিখবে কিনা সেটার আশায় ছিল শ্রাবণী। কিন্তু তিমির পেন বন্ধ করে দিল দেখেই বুঝল, এটা নিয়ে ও আর কোনো কথা বলতে চাইছে না।

    তিমির বোবা, কালা নয়। কানে শুনতে পায়। কথা বলতেও পারে। কিন্তু কথাগুলো একটু অস্পষ্ট উচ্চারণ করে। ঠিক তোতলা বলা যায় না। সম্ভবত ওর উচ্চারণেই কোনো সমস্যা আছে। ক্লাসে এসে প্রথম দিন রবিনকে কিছু একটা জিজ্ঞাসা করেছিল, গোটা ক্লাস হেসেছিল ওর অমন অস্পষ্ট আধো আধো উচ্চারণ শুনে। তারপর থেকেই ও আর কথাই বলে না কারোর সঙ্গে। যে যা বলে খাতায় লিখে উত্তর দেয়। ওর নিখুঁত হাতের লেখার প্রেমে পড়তে বাধ্য হয় সকলেই।

    তবুও কলেজে যা হয়, ওকে ‘তোতলা’ নাম দেওয়া হয় গেছে। আড়ালে ওকে সবাই তোতলা বলেই ডাকে। তিমির নিজেও সেটা বুঝে গুটিয়ে নিয়েছে নিজেকে। এখন ও ওর বই আর আঁকার দুনিয়ায় থাকে। সব থেকে আশ্চর্যের ব্যাপার, তারপর থেকে ক্লাসের কেউ ওর গলা শুনতে পায়নি। অদ্ভুত জেদ ছেলেটার। প্রফেসররা এসে অনেক বুঝিয়েছেন। তবুও কথা বলেনি ছেলেটা। দু-চারটে যা কথা বলার প্রয়োজন হয় সেটা খাতায় লিখে লিখে সেরে নেয়। তাই ক্লাসের সবাই জানে তিমিরের জেদ মারাত্মক। ওকে এত সহজে যে রাজি করানো যাবে না সেটা উৎসব নিজেও জানে। তাই চন্দ্রজাকে পাঠাতে চাইছিল। ডিপার্টমেন্টের মোটামুটি সবাই বুঝতে পারে তিমিরের চন্দ্রজার প্রতি আকর্ষণ আছে। না, তিমির কখনও বলেনি ওকে। হয়তো বলবেও না। কিন্তু মাঝেমাঝেই তিমিরকে চন্দ্রজার দিকে অপলক তাকিয়ে থাকতে দেখেছে সবাই। চন্দ্রজা অবশ্য ব্যাপারটা মোটেই পাত্তা দেয়নি। হেসে বলেছে, ‘সাতবার তুতলে শেষে হয় তো বলবে বালোবাছি। রক্ষে করো মোরে। আমার কি ছেলের অভাব আছে?’

    চন্দ্রজাকে দেখতে যে বিশাল সুন্দরী তা নয়। তবে ওর মধ্যে একটা ব্যাপার আছে। ওর ঠোঁটের কোণে সবসময় একটা অহংকারী হাসি বাধা পড়ে থাকে। আর হাঁটার ছন্দে পাতাবাহারি গাছের দোলন। ঠিক ভিড়ে মিশে যাওয়া চেহারা নয়। একটু স্বতন্ত্র। কিন্তু তাই বলে চন্দ্রজাকে সুন্দরী বলা মোটেই সমীচীন নয়। যদিও চন্দ্রজা এসব ভাবে না। সে নিজেকে নিয়েই মজে আছে। তিমিরকে নিয়ে চন্দ্রজাকে লেগপুল করলে ও খুব শান্ত গলায় বলে, ‘তোরা আনন্দ পাচ্ছিস এটাই তো যথেষ্ট। আজও যেমন উৎসবের মুখের ওপর বলে দিল, তোরা ডাক। এতদিন যখন উপযাচক হয়ে ওর সঙ্গে কথা বলতে যাইনি, তখন আজকেও যাব না।’ ডিপার্টমেন্টের সবার সঙ্গে কথা বললেও, তিমিরের সঙ্গে একটাও কথা বলে না ও। কারণটা ঠিক কী, সেটাও কোনোদিন বলেনি কাউকে।

    শ্রাবণী ফিরে এসে বলল, ‘হল না বস। মহারাজ রাজি হলেন না।’

    অতনু, সুপ্রভরা হেসে বলল, ‘সে কি রে, হল না? তোর এত সুন্দর কালার করা চুল, এমন নেল আর্ট দেখেও তিমির ভিজল না?’

    বিরক্ত হয়ে শ্রাবণী বলল, ‘না, ভিজল না। ভিজবে কী করে, সে তো একজনের মধ্যেই জগৎ দর্শন করে। এখনও ডাকতে গিয়ে দেখলাম, তার চোখ আঁকছিল মন দিয়ে।’

    চন্দ্রজার দিকে সব ক’টা চোখ একসঙ্গে হতেই বিরক্ত হয়ে নিজের নেলপলিশে মন দিল ও। উৎসব এবার গলাটা নামিয়ে বলল, ‘আরে চন্দ্রা, তুই সিরিয়াসলি নিচ্ছিস কেন রে? আমাদের কাজ মিটে গেলেই কেল্লা ফতে। তারপর থোড়ি তোকে ওর সঙ্গে টাইম স্পেন্ড করতে হবে? আরে তিমিরকে দিয়ে কাজটা হবে বুঝলি। তারপর না মিশলেই মিটে গেল। অসম্ভব জেদি ছেলে রে, আমরা ডাকলে যে আসবে না, সেটা জানি। একমাত্র তোর প্রতি দুর্বলতা আছে। তাহলে সেটাকে কাজে লাগালে অন্যায় কেন হবে?’

    সুপ্রভ বলল, ‘তুই তো এমন ভাব করছিস, যেন ওই তোতলাকে আমরা ছাদনা তলায় এনেছি। আর তোর মুখে পান চাপা। শুভদৃষ্টি হওয়ার আগের মুহূর্তে তুই বলছিস, না আমি বিয়ে করব না। আরে ইয়ার এটা জাস্ট একটা কম্পিটিশন। আমাদের টিমের ওকে দরকার। দ্যাটস এনাফ। তারপর ও যাবে ওর পথে, তুই তোর। নাথিং সিরিয়াস।’

    চন্দ্রজা বলল, ‘আমি ডাকলেই যে আসবে এমন গ্যারেন্টি তোদের কে দিল? নাও তো আসতে পারে।’

    অতনু বলল, ‘বেশ, তুই একবার ট্রাই তো কর।’

    চন্দ্রজা একটু ভেবে বলল, ‘ঠিক আছে। আমি আজ নয় কাল কলেজে এসে ওকে ডাকব। আজকে ডাকলে ও বুঝতে পারবে আমরা প্ল্যান করছি। কারণ, দু’মিনিট আগেই শ্রাবণী ফিরে এসেছে।’

    ওর কথায় সবাই সম্মতি দিয়ে বলল, ‘এটা ঠিক বলেছিস। কালকেই ডাকা হোক ওকে।’

    চন্দ্রজা বাড়ি ফিরেই ফোন করল জিৎকে। জিৎ ফোনটা কেটে দিয়ে লিখল, ‘ব্যস্ত আছি। পরে করছি।’ চন্দ্রজা জানে এই ‘পরে’-র অর্থ আজ কখনোই নয়। এক সপ্তাহও হতে পারে। অথচ এর সঙ্গেই নাকি চন্দ্রজাকে গোটা জীবন কাটাতে হবে। চন্দ্রনাথ বসুর বন্ধুর ছেলে বলেই তাকে কেন বিয়ে করতে হবে—এটা অবশ্য চন্দ্রজা বোঝেনি। কিন্তু জিৎকে দেখার পরে ওর আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তাই বিয়ের কথাবার্তা টুকটাক এগোলেও আপত্তি করেনি চন্দ্রজা। কিন্তু মাস পাঁচেক ধরেই দেখেছে জিতের আচরণ কেমন বদলে গেছে। সবসময় ব্যস্ততা দেখায়। একটুও যেন সময় নেই ওর। এদিকে দুই বাড়ি থেকেই চায় ওরা একটু মেলামেশা করুক। সুপুরুষ, স্মার্ট, নামী কোম্পানিতে চাকুরীরত জিৎ যেন নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত। আলাদা সময় নেই চন্দ্রজাকে দেওয়ার। মন হলে ফোনে দু’মিনিট কথা বলে, না হলে নয়। মুড ঠিক থাকলে চন্দ্রজাকে বলে, ‘মুভি যাবে? তাহলে চলে এসো।’

    চন্দ্রজা ওর বলা নির্দিষ্ট জায়গায় ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করে ফিরে আসে। কারণ সেই সময়টুকু জিতের ফোন সুইচড অফ থাকে। পরে ফোনে বলে, ‘ওহ আচমকা মিটিং এসে গিয়েছিল। পরে কোনো একদিন যাব।’

    ভুলেও জিজ্ঞাসা করে না, কতক্ষণ ওয়েট করেছিলে ওখানে? বা ‘সরি’ বলে যে একটা শব্দ আছে ডিকশনারিতে, সেটাও সম্ভবত জানে না জিৎ। কারণ গত এক বছরে জিতের মুখে এর ব্যবহারিক প্রয়োগ দেখেনি চন্দ্রজা। তবুও জিৎকে ওর ভালো লাগে। খুব ইচ্ছে করে জিৎও ওকে একটু মিস করুক, যেমন চন্দ্রজা করে। মা বলে, বিয়ে হলে নাকি সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু আচমকা একটা মানুষের আজন্মলালিত স্বভাবের পরিবর্তন কীভাবে হবে, সেটাই ভেবে পায় না চন্দ্রজা। জিৎ অন্যরকম হবে কী করে? ওর মধ্যে যে খামতিগুলো আছে সেটা তো ও রিয়ালাইজও করে না। চন্দ্রজার স্কুল লাইফের বেস্ট ফ্রেন্ড সুলেখাকেও বলেছে জিতের কথা। সুলেখা অদ্ভুত একটা ভঙ্গিমা করে বলেছে, ‘ও বাবা, ভালো চাকরি, সুদর্শন, স্মার্ট, ভদ্র ফ্যামিলির সঙ্গে আবার ভালোবাসাও চাস নাকি তুই? শোন বস, ওসব ভালোবাসা বলে আদৌ কিছু হয় না। ওই প্রথম প্রথম ক’দিন তুমি আমার আমি তোমার হয়, তারপর সেসব কর্পূরের মতো উবে যায়। এই আমার বয়ফ্রেন্ডকে দেখ, চার বছর ধরে প্রেম করছি আমরা, কোনোদিন আমার জন্মদিনটুকু মনে রেখে উইশ করতে পারে না। আমার ফেসবুকে একটা ভুল বার্থ ডে দেওয়া হয়ে গিয়েছিল যখন অ্যাকাউন্ট খুলেছিলাম। সোশ্যাল মিডিয়ার নোটিফিকেশন পেয়ে যেমন অন্য স্বল্প পরিচিতরা আমায় বার্থ ডে উইশ করে আমার বয়ফ্রেন্ডও তাই করে।’

    চন্দ্রজা বলল, ‘ভুল সংশোধন করে দিস না কেন?’

    সুলেখার ঠোঁটে একটুকরো করুণ হাসি। বলল, ‘হয় রে? এভাবে হয়? জোর করে মনে করিয়ে কারোর থেকে শুভেচ্ছা নিয়ে সেই আনন্দটা পাওয়া যায়! এই যে প্রতিবার তুই রাত বারোটা বাজলেই আমায় উইশ করিস, এতে যে গুরুত্বটা পাই সেটা ওইভাবে আদায় করতে ইচ্ছে করে না। ও তো জানে আসল ডেটটা। আমি কিন্তু এই চার বছরে ওকে একবারও উইশ করতে ভুলিনি জানিস। আসলে ইচ্ছেটাও দরকার। সম্পর্কগুলো শুরু হয় বেশ কিছু না বলা শর্তাবলী, বেশ কিছু অলিখিত প্রতিশ্রুতি নিয়েই। তারপর একজন কবে থেকে যেন অলিখিত আর না বলার সুযোগ নিতে থাকে। কতবার মনে করাব? তাছাড়া ভালোবাসা ভিক্ষে করতে হলে বড্ড আত্মসম্মানে লাগে রে। তাই জিতের কাছ থেকে আর যাই পাস, ভালোবাসা বা গুরুত্ব এসব পাবি না জেনেই তোকে এগোতে হবে। আসলে কী জানিস, সম্পর্কটাকে যত্ন করতে কম মানুষই জানে। আরেকটা কথা, তোকে সে ভালোবাসছে কিনা এটা তুই ফিল করতে পারবি। ঠিক যেভাবে অবহেলাটা পারছিস, সেভাবে।’

    সুলেখার মুখে এই সমস্ত কথা শুনে শুনে চন্দ্রজা বুঝে গেছে, ভালোবাসা বলে আদৌ কিছু নেই। কেউ ওর জন্য প্রতীক্ষা করে থাকবে না। যদিও কলেজের কেউ এখনও জিতের কথা জানে না। ইচ্ছে করেই বলেনি চন্দ্রজা। আগে জিৎকে চিনতে চায় ও। হঠাৎই যদি বাতিলের দলে ফেলে দেয় জিৎ, তাহলে অকারণে নিজের মানসম্মান নিয়ে টানাটানি হবে। তাই আগে দেখুক ওর প্রতি জিতের সামান্যতম ইন্টারেস্ট আছে কিনা, তারপর বলবে। দু’ঘন্টা হয়ে গেল, না জিতের কোনো ফোন না মেসেজ। এটাতেও অভ্যস্ত হয়ে গেছে চন্দ্রজা। ও জানে জিৎ ওকে রিং ব্যাক করবে না। বরং ও ন’টায় বাড়ি ফেরে, সেই হিসেব করে যদি চন্দ্রজা কল করে তাহলে হয়তো দু-একটা কথা হলেও হতে পারে। অথবা বলতে পারে, ‘আজ টায়ার্ড আছি, পরে কথা বলব।’ চন্দ্রজা জিজ্ঞাসা করেছিল জিৎকে, ‘তোমার কি আমায় পছন্দ নয়?’ জিৎ অবাক চোখে তাকিয়ে বলেছিল, ‘আমি তো এ প্রসঙ্গে তোমায় কোনো কথা বলিনি চন্দ্রজা। আমার চয়েস সম্পর্কে আমি তো কাউকেই কিছু বলিনি। তোমায় আমার পছন্দ না অপছন্দ এ নিয়ে তো কখনও আমাদের মধ্যে কোনো কথা হয়নি।’

    চন্দ্রজা বিরক্ত হয়ে বলেছিল, ‘তাহলে আজ হোক। দুই বাড়ি থেকে আমাদের বিয়ের কথা বলছে। এর আগে আমায় তোমার পছন্দ কিনা সেটা তো জানা প্রয়োজন।’

    জিৎ হালকা হেসে বলেছিল, ‘পছন্দ-অপছন্দের ওপরে বিয়ে নির্ভর করে না চন্দ্রজা। বিয়েটা একটা সোশ্যাল স্ট্যাটাস। সবাই করে, তাই আমরাও করব। দুই ফ্যামিলি পরিচিত তাই এই সম্বন্ধটা এসেছে, ব্যস। আর তো কিছু ভাবিনি এটা নিয়ে। ইনফ্যাক্ট এর থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ আমার আছে। সো প্লিস, মনোটনাস জিনিস নিয়ে বেশি আলোচনা করতে আমি পছন্দ করি না।’

    ঠিক কী বলা উচিত বুঝতে পারেনি চন্দ্রজা। কেমন যেন ঘেঁটে গিয়েছিল ওর চেনা জানা বিষয়গুলো। আজ যেমন আর কল করতে ইচ্ছে করছে না জিৎকে। এভাবে হয় না। দেখা যাক জিৎ আদৌ কবে কল করে ওকে। খেয়াল করেনি কখন যেন ওর দু’গাল বেয়ে নোনতা জলের ধারা নেমে এসেছে। খুব ভালো করে চিন্তা করল চন্দ্রজা। ও কি জিতের জন্য কাঁদছে? জিৎ ওকে ভালোবাসে না বুঝে কাঁদছে? নাকি আত্মসম্মানে আঘাত লাগেছে বলে কাঁদছে? অনেক খুঁজে প্রশ্নের উত্তরটা পেতেই গালটা মুছে নিল। না, জিৎ ভালোবাসে না বলে ও কাঁদছে না, ওর আত্মসম্মানে তীব্র আঘাত লাগছে বলেই কেঁদে ফেলছে। ঘরটা অন্ধকার করে অনেকক্ষণ বসে থাকল চন্দ্রজা। তারপর জিতের ফোন নম্বরটা ডিলিট করে দিল ফোন থেকে। আর হোয়াটসঅ্যাপেও ব্লক করে দিল। নিজের থেকে আর কোনো ফোন বা মেসেজ নয়। এখন শুধু ধৈর্যের পরীক্ষা চলুক। দেখা যাক কবে জিৎ ওকে কল করে। বা হোয়াটসঅ্যাপে ব্লকিংটা নোটিস করে কী না।

    মনটা বড্ড খারাপ লাগছে। উঠে গিয়ে সাদা ক্যানভাসে আঁকতে শুরু করল। হোম থিয়েটারে গান বাজছে। ওর প্রিয় অরিজিৎ সিং।

    বিশাল মনযোগ দিয়ে যে ও আঁকছে, তা নয়। কিছুটা আনমনেই। হঠাৎই খেয়াল হল ক্যানভাসে একটা স্টেশনের ছবি এঁকেছে। একটা ট্রেনের পিছনটুকু দেখা যাচ্ছে। একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে স্টেশনে। ঠিক যেন লাস্ট ট্রেনটা বেরিয়ে যাওয়ার পরে মেয়েটা ভাবছে, এখন সে কীভাবে বাড়ি পৌঁছাবে! চন্দ্রজা ছবিটা ভালো করে দেখল। দূরে কোথাও কি কোনো রাস্তা এঁকেছে? যেটা ধরে হাঁটতে হাঁটতে মেয়েটা বাড়ি পৌঁছে যেতে পারে। এখনও আঁকা হয়নি দেখেই স্টেশনের পিছন দিকে একটা সরু রাস্তা এঁকে দিল। একটা পথ বন্ধ হয়ে গেলে আরেকটা পথ খুলে যায়, এই ভেবেই সেই রাস্তায় একটা বাস আঁকতে শুরু করল চন্দ্রজা।

    মেয়েটার পরনে শেষ বসন্তের মতো ফিকে হলদে একটা শাড়ি।

    ‘কী রে আজ হঠাৎ শাড়ি পরে কলেজে এলি যে? আজ তো কোনো অকেশন নেই গুরু, তাহলে শাড়ি কেন? তাও আবার হলদে শাড়ি। এটা তো বসন্তকালও নয়।’

    শ্রাবণী বলল, ‘তোকে আজ অন্যরকম লাগছে। মুখেচোখে একটা যন্ত্রণার চিহ্ন, অথচ তুই সেটাকে দমিয়ে রেখে জিততে চাইছিস হাসি দিয়ে।’

    ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে ঠোঁটটা সামান্য উল্টে চন্দ্রজা বলল, ‘এটা কাব্যিক কষ্ট নয় বস, এটা রিয়েল কষ্ট। এখুনি উৎসব আর অতনুরা এসে বলবে তিমিরকে রাজি করাতে। এখন থেকেই কেমন অস্বস্তি হচ্ছে, বিশ্বাস কর। শুধু প্রয়োজনের জন্য এভাবে কাউকে ব্যবহার করা আমার একেবারে অপছন্দের।’

    শ্রাবণী বলল, ‘তুই একটু বেশি ভাবছিস। কেউ ওর কিডনি চাইছে না রে। ও দিনরাত আঁকছে, আমরাও ডিপার্টমেন্টের সম্মানের জন্য ওর একটা আঁকা চাইছি। ও অদ্ভুত টাইপের ছেলে তাই আসতে রাজি হল না।’

    উৎসব ক্লাসে ঢুকেই বলল, ‘তিমির আসছে। সবাই ক্লাসের বাইরে চল এখুনি। একমাত্র চন্দ্রজা থাকুক।’

    এবারে একটু ভয় ভয় করছে চন্দ্রজার। তিমির বেশ জেদি। ক্লাসে কারোর সঙ্গে কোনো কথা বলে না। বন্ধুরা বলে, ও নাকি তিমিরের ক্রাশ। দু-একবার ওর দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা ছাড়া আর কোনো লক্ষণ দেখেনি ও তিমিরের মধ্যে। যদি বন্ধুরা ভুল হয়, যদি তিমির অকারণে অপমান করে! এমনিতেই মন ভালো নেই ওর। জিতের করা অকারণ অপমানের জ্বালাটা এখনও ক্ষত হয়ে ব্যথা দিচ্ছে। না, সকাল থেকে একবারও ফোন করেনি জিৎ। করবে না জানত অবশ্য চন্দ্রজা। তবুও বারবার সাইলেন্ট করা ফোনটা চেক করছিল আনমনে। এখন আবার যদি তিমির তেমন কিছু বলে দেয়, তাহলে…

    ও কিছু বলার আগেই সবাই উৎসবের কথায় বেরিয়ে গেল ক্লাস থেকে। চন্দ্রজা একা বসে আছে রুমে। ঠিক দু’মিনিট পরে তিমির ঢুকল ক্লাসে। ঢুকেই এদিক-ওদিক তাকাল। ক্লাসরুম ফাঁকা কেন বোঝার চেষ্টা করছে বোধহয়। চন্দ্রজা খুব চাইছে ওকে জিজ্ঞাসা করুক তিমির। কিন্তু কাউকে কিছু জিজ্ঞাসা না করে রোজ ও যে বেঞ্চে বসে, সেই বেঞ্চে গিয়ে বসে পড়ল। অদ্ভুত ছেলে তো। ফাঁকা রুম দেখেও কোনো হেলদোল নেই। চুপচাপ বসে নিজের খাতা-পেন বের করে কিছু একটা লিখতে শুরু করল। চন্দ্রজা অপেক্ষা করছিল, হয়তো তিমির ওকে কিছু বলবে লিখে লিখে। কিন্তু পাঁচ মিনিট হয়ে গেল। কিছুই বলল না। মহাভারত রচনা নিশ্চয়ই করতে শুরু করেনি। বাধ্য হয়ে বন্ধুদের ভয়েই চন্দ্রজা উঠে গিয়ে তিমিরের ডেস্কের সামনে দাঁড়াল। তিমির একমনে খাতায় একটা স্কেচ করছে। স্কেচের মেয়েটার মুখটা ওর খুব চেনা। রোজ একে আয়নায় দেখে চন্দ্রজা। ওকে সামনে দেখে একটু যেন লজ্জা পেয়ে খাতাটা বন্ধ করে দিল তিমির। বড় বড় চোখে অনেকগুলো প্রশ্ন নিয়ে তাকাল চন্দ্রজার দিকে। তিমিরের চোখদুটোতে যেন সমুদ্রের গভীরতা। মুখে কিছু না বলেও যেন অনেক কিছু বলে দিতে পারে তিমির ওই চোখদুটো দিয়ে। তিমিরের ঠোঁটের কোণে প্রশ্নের উঁকিঝুঁকি। যেন বলতে চাইছে, হঠাৎ ওর ডেস্কের সামনে, কিছু দরকার আছে?

    চন্দ্রজা বলল, ‘একই ডিপার্টমেন্টে কাটিয়ে দিলাম এক বছরের একটু বেশি সময়, অথচ তোমার সঙ্গে আলাপ হয়নি এখনও সেভাবে, তাই আজ কথা বলতে এলাম।’

    তিমির খাতায় লিখল, ‘আমি তেমন গুরুত্বপূর্ণ কেউ নই। আলাদা করে আলাপ করারও কিছু নেই। খুবই নগণ্য মানুষ।’

    চন্দ্রজা বলল, ‘কথা বলতে পারো আমার সঙ্গে। তোমার উচ্চারণে সমস্যা থাকলেও আমি বুঝে নেব।’

    একটু করুণভাবে হাসল তিমির। তারপর আবারও খাতায় লিখল, ‘করুণা আমার বড্ড অপছন্দের জিনিস। প্লিস ওটা বাদ দিয়ে কথা বলো।’

    চন্দ্রজা অনেক চেষ্টা করেও তিমিরকে তুই বলে সম্বোধন করতে পারছে না। চন্দ্রজা বলল, ‘উৎসবরা আমায় পাঠাল তোমার কাছে। যদি তুমি এই কম্পিটিশনটাতে সহযোগিতা করো তাহলে সেকেন্ড ইয়ার জিতবে। তাই আমি তোমায় বলতে এলাম। তুমি রাজি না হতেই পারো। ওরা জোর করছিল বলে বাধ্য হয়েই আমি এলাম। তোমার ইচ্ছের ওপরে আমার জোর নেই।’

    তিমির অপলক তাকিয়ে আছে চন্দ্রজার দিকে। কেমন একটা লজ্জা করছে চন্দ্রজার। ও মোটেই লাজুক স্বভাবের নয়। কিন্তু তিমিরের গভীর চাহনির সামনে কেমন একটা অজানা অনুভূতির সম্মুখীন হচ্ছে চন্দ্রজা।

    চন্দ্রজা নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, ‘ওরা হয়তো তোমায় ইউজ করতে চাইছে। তোমার ট্যালেন্টকে কাজে লাগিয়ে ডিপার্টমেন্টকে জেতাতে চাইছে। কিন্তু আমি বলছি তিমির, তোমার নিজের যদি ইচ্ছা না থাকে তাহলে শুধু আমি বলতে এসেছি বলে তুমি রাজি হয়ে যেও না। নিজে ভেবে সিদ্ধান্ত নিও।’

    তিমির খাতায় লিখল, ‘এতজন থাকতে তোমায় কেন ওরা এই দায়িত্ব দিয়েছে তুমি কি জানো?’

    চন্দ্রজা যেন মরমে মরে গেল। ঘাড় নেড়ে বলল, ‘জানি না।’

    তিমির লিখল, ‘বেশ, আমি রাজি ওদের বলে দিও। কোন বিষয়ে আঁকতে হবে আমায় জানাতে বলো, প্লিস।’

    চন্দ্রজার খুশি হওয়ার কথা। খুব আনন্দ পাওয়ার কথা। কারণ তিমিরকে ও রাজি করিয়েছে। কিন্তু কেন কে জানে সেই আনন্দটা ওর হচ্ছে না। বরং মনে হচ্ছে তিমিরের একতরফা পছন্দের সুযোগ নিচ্ছে। যেহেতু তিমির ওকে পছন্দ করে তাই ইমোশনালভাবে ওকে রাজি করাল।

    তিমির খাতায় লিখল, ‘মনখারাপ করার কিছু হয়নি। তুমি বললে বলেই আমি রাজি হলাম। সেটাতেও তোমার কিছু দোষ নেই। এত হেজিটেট কেন করছ? কেন এটা ভাবছ যে, এর কারণে আমি পরে তোমার থেকে কিছু চাইব? না চাইতেই তুমি অনেক কিছু দিয়েছ আমায়। তোমার কাছে আমি কোনোদিনই কিছু চাইব না। নিশ্চিন্তে থাকো।’

    চন্দ্রজা লেখাটা পড়ে বলল, ‘এই তুমি আমায় বুঝলে? তুমি কিছু চাইতে পারো ভেবে আমি হেজিটেট করছি না। বরং সুযোগ নেওয়া হল কিনা, তোমার অপছন্দ সত্ত্বেও তুমি রাজি হলে কিনা, এসব ভেবে মনখারাপ করছি।’

    তিমির লিখল, ‘প্লিস আর মনখারাপ করো না। এমনিতেই তুমি মনখারাপ করে আছ কোনো কারণে। এবারে চোখের কোণের জল আর তোমার কথা শুনবে না।’

    অবাক হয়ে গেল চন্দ্রজা। তিমির কী করে জানল ওর মনখারাপ হয়ে আছে আজকে?

    চন্দ্রজা বলল, ‘কী করে বুঝলে আমার মনখারাপ হয়ে আছে?’

    তিমির মুখটা নামিয়ে নিল। শুধু লিখল, ‘আমি বুঝতে পারি।’

    ওর কথা শেষ হওয়ার আগেই সবাই হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ল ক্লাসে।

    চন্দ্রজা বলল, ‘তিমির রাজি। ও আঁকবে আমাদের ডিপার্টমেন্টের হয়ে।’

    উৎসব ছুটে গিয়ে তিমিরকে প্রায় জড়িয়ে ধরে বলল, ‘বাঁচালি ভাই। ইজ্জত কা সওয়াল। তোর ওপরে আমাদের ভরসা আছে।’

    তিমির মিটিমিটি হাসছিল।

    চন্দ্রজা বলল, ‘কোনো বিশেষ বিষয়ের ওপর আঁকতে হবে, এমন কিছু বলেছে?

    তিমির জানতে চাইছিল।’

    উৎসব বলল, ‘ইউনিক কিছু এঁকে দে ভাই। সবার যেন চোখ ট্যারা হয়ে যায়। ক্লাসে বেশ একটা উত্তেজনা চলছে। তার মাঝেই বারকয়েক তিমিরের সঙ্গে চোখাচোখি হয়ে গেল চন্দ্রজার। অন্যদিনও হয় হয়তো, কিন্তু সেভাবে খেয়াল করেনি কোনোদিন।

    চন্দ্রজার ফোনে জিতের কোনো ফোন আসেনি গত তিন দিনে। ও জানে আসবেও না, তবুও একটা অভিমানভরা আশা নিয়ে অপেক্ষা করছিল। বাবংবার ফোন যে চন্দ্রজাই করত সেটা এই ক’দিনে আরও বেশি করে দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। ওদিক থেকে সব চুপচাপ।

    সুলেখার ফোন থেকে জিতের ফেসবুক অ্যাকাউন্টটা দেখল আজ বিকেলে। যথারীতি বন্ধু-বান্ধবীদের সঙ্গে চিল আউটের ছবি আপলোড করেছে। অনেক খুঁজেও জিতের পরিচিত গণ্ডির মধ্যে নিজেকে পেল না চন্দ্রজা।

    কলেজে যেটুকু সময় ও থাকে, সেটুকু সময় বন্ধুদের সঙ্গে বেশ কেটে যায়। বাড়িতেও বাবা-মা রোজই কোনো না কোনো কারণে জিতের প্রসঙ্গ তোলে। বারণ করলেও ওদের ভ্রূক্ষেপ নেই। ওরা ধরেই নিয়েছে বিয়েটা হচ্ছেই।

    ইদানীং জিতের প্রসঙ্গ উঠলেই নিজেকে বড্ড অসহায় মনে হচ্ছে এ বাড়িতে। এমন কেউ নেই যার কাছে ও এগুলো শেয়ার করতে পারে। চূড়ান্ত বিরক্তিকর অবস্থা।

    কলেজে ঢুকতেই শ্রাবণী বলল, ‘তোকে একবার তিমির ডেকেছে। মানে আমাকে ইশারায় জানতে চাইছিল তুই এসেছিস নাকি।’

    চন্দ্রজা বলল, ‘তিমির কোথায়?’

    শ্রাবণী ওর হাতে একটা চিরকুট দিয়ে বলল, ‘এই নে।’

    চিরকুটটা খুলতেই চন্দ্রজা দেখল, তিমির লিখেছে—আজ একবার আমার বাড়িতে আসতে হবে তোমায় কলেজ ছুটির পরে। খুব প্রয়োজন।

    বিরক্তিতে ভ্রূটা কুঁচকে গেল চন্দ্রজার। শিল্পী, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, লুকিয়ে ওকে দেখা—এসব নাটকের যবনিকা পড়ে গেল এত সহজেই! একদিন একটু সহজ ব্যবহার করেছে বলে বাড়িতে ডাকতে সাহস পেয়ে গেল তিমির! হয়তো বাবা-মা থাকবে না, সেই সুযোগে ডাকছে ও। ভাবতেই গা’টা গুলিয়ে উঠল ওর। একটু শীতলতা তো দিতে পারত তিমির ওকে। বট না হোক কাঠচাঁপা গাছের ছায়াটুকুও যদি দিত হয়তো চন্দ্রজা নতুন করে ভাবতে শুরু করত। কিন্তু না, সবাই সেই একই ছাঁচে গড়া। জিতের সঙ্গে ওর ফাঁকা বাড়িতে যেতে চায়নি বলেই না জিতের আর কোনো ইন্টারেস্ট নেই ওর প্রতি। তিমির হঠাৎ আলাদা হবে, এমন ধারণা হলই বা কোথা থেকে ওর! চিরকুটটা হাতের মধ্যে মুচড়ে ধরল চন্দ্রজা। তিমির ক্লাসে ঢুকছে দেখেই চন্দ্রজা বলল, ‘আজ কলেজ ছুটির পরে একসঙ্গেই তাহলে তোমার বাড়ি যাব।’

    তিমিরের মুখে প্রাপ্তির হাসি।

    চন্দ্রজা দেখতে চায় তিমির ঠিক কতটা নীচে নামতে পারে। এতদিন চোখের সামনে এক ধ্যানমগ্ন শিল্পীকে দেখে এসেছে। সাদা ক্যানভাস আর রং-তুলি যার একমাত্র সাধনা। তার মধ্যে কতটা পাশবিক প্রবৃত্তি লুকিয়ে আছে সেটাই দেখার অপেক্ষায় আছে ও। ক্ষতি করবে চন্দ্রজার? করুক। একজন মনটাকে দুমড়ে মুচড়ে দিয়ে গেছে। আরেকজন না হয় শরীরটাকে দেবে। একটা অদ্ভুত বোকা বোকা জেদ মাথা চাড়া দিল ওর মধ্যে। অন্যমনস্কভাবে কেটে গেল সময়টা। প্রফেসরের লেকচারের সময়েও বারবার চোখ চলে যাচ্ছিল তিমিরের দিকে। সে একমনে শুনছে লেকচার। মুখের কোনো রেখায় লোভ নেই। কী সুন্দর অভিনেতা। দক্ষ শিল্পীর সঙ্গে দক্ষ অভিনেতাও!

    কলেজ থেকে বেরিয়েই দেখল তিমির দাঁড়িয়ে আছে। ওকে দেখে এগিয়ে এল বাইক নিয়ে। পিছনের সিটে হাত দিয়ে বসতে বলল।

    চন্দ্রজার আজ আর কথা বলতে ভালো লাগছে না। তিমির ওকে এই চোখে দেখত এতদিন! ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে যেতে চাইত! কষ্ট হচ্ছে ওর। বুকের বাঁ-দিকে চিনচিনে একটা অব্যক্ত কষ্ট। এর থেকে ভালো হত যদি কখনো তিমিরের সঙ্গে কথা না হত। ওই বন্ধুদের মাধ্যমে জানত, তিমির ওকে ভালোবাসে, তাহলেই বোধ হয় ভালো হত।

    তিমির কোনো কথা না বলে বাইক চালাচ্ছে। চন্দ্রজা আকাশ-পাতাল ভাবছে। হঠাৎই ব্রেক কষে দাঁড়াতে সম্বিৎ ফিরল চন্দ্রজার। বেশ বড়সড় একটা তিনতলা বাড়ির সামনে এসে দাঁড়িয়েছে তিমির। তিমিরকে দেখে বা ওর হাবভাব দেখে বোঝা যায় ও ছা-পোষা মধ্যবিত্ত। এই বাড়িটা যে ওদের নয় বেশ বুঝতে পারছে চন্দ্রজা। বাড়ির সামনেই গ্যারেজে গাড়িও রয়েছে। তিমির ওকে নামতে নির্দেশ করল।

    ওই গাড়ির পাশেই নিজের বাইকটা ঢুকিয়ে দিয়ে ইশারায় ভিতরে যেতে বলল। এতক্ষণে চন্দ্রজার ভয় করছে। এভাবে রিস্ক নেওয়া উচিত হয়নি ওর। রোজ খবরের কাগজ খুলেই দেখে গ্যাং রেপ থেকে শুরু করে আরও কত কী! চন্দ্রজাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে হাত ধরে টানল তিমির।

    বাড়ির দরজা খুললেন একজন মধ্যবয়স্ক মহিলা। মহিলার চেহারায় বেশ সম্ভ্রান্ত ভাবভঙ্গি। বুকের মধ্যে শিরশিরে ভয়টা একটু যেন প্রশমিত হল মহিলাকে দেখে।

    মহিলা হেসে চন্দ্রজার হাতটা ধরে বললেন, ‘তুমি চন্দ্রজা তাই না? তুতাইয়ের ব্যাচমেট। এসো, ভিতরে এসো।’

    চন্দ্রজা কিছু বোঝার আগেই একটা বছর সতেরোর মেয়ে এসে চন্দ্রজাকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখে বলল, ‘তুমিই দাদার সব ছবির কমন ক্যারেক্টার? ছবিতে তোমায় রোজ দেখি। আজ সামনে দেখলাম।’

    তিমির এতক্ষণ ইশারায় চালাচ্ছিল। এবারে বোনকে ধমকে উঠে বলল, ‘চুপ করবি? চন্দ্রজা আমার ফ্রেন্ড।’

    চন্দ্রজা জানতই না তিমিররা এতটা ধনী। ওর ভাবভঙ্গিমায় এত কুণ্ঠা মিশে থাকে যে, মনে হয় নিতান্ত মধ্যবিত্ত ফ্যামিলির ছেলে ও। চন্দ্রজা তিমিরদের থেকে অনেকটাই বিলো স্ট্যান্ডার্ডে বিলং করে। যদিও ওর হাবে-ভাবে কখনও সেটা কাউকে বুঝতে দেয়নি।

    তিমিরের উচ্চারণে সমস্যা হয় বলেই বোধহয় ও বাড়িতেও কম কথা বলে। তিমিরের বাবা নিউরোলজিস্ট। ওর মা ব্যাঙ্কে জব করেন। ওর মা চন্দ্রজার সামনে একটু আফসোস করেই বললেন, ‘ভগবান বোধহয় হিংসে করেই তুতাইয়ের কাছ থেকে ওর সাবলীল কথা বলার ক্ষমতাটা কেড়ে নিয়েছেন। আর কত দেবেন একটা ছেলেকে? আমার ছেলে বলে নয়, এত গুণ কোনো ছেলের মধ্যে থাকে না চন্দ্রজা।’

    তিমিরের বোন ঠোঁট উল্টে বলল, ‘হ্যাঁ, আমি তো বেগুন। দাদাই বেস্ট বয়।’

    চন্দ্রজা তমালীকে পাশে বসিয়ে বলল, ‘আমার তো মনে হচ্ছে দাদার থেকেও দাদার বোন বেশি গুণের। দাদাটা তো মিশুকে নয় মোটেই। একগুঁয়ে আর জেদি। রাগ যেন নাকের ডগায়। শান্ত হলে কী হবে, ভিতরে রাগ গনগন করে।’

    আড়চোখে দেখল তিমিরের ঠোঁটে হাসি।

    চন্দ্রজার মনটা পাখির মতো ডানা মেলতে চাইছে অনেকদিন পরে। নিজের ভাবনাগুলো মিথ্যে হওয়ায় ও যে এতটা খুশি হবে, নিজেই ভাবতে পারেনি।

    তমালী বলল, ‘ঠিক বলেছ দি। দাদা অমন শান্ত দেখতে হলে কী হবে, একবার যা বলে দেবে, সেটাই শেষ কথা। এই দেখো না, এত করে আমরা সবাই বললাম জন্মদিনে একটা পার্টি থ্রো করি। ওর কলেজের বন্ধুরা আসুক। আমার স্কুলের বন্ধুদের ডাকি আর বাবা-মায়ের কলিগরা আসুক। কিন্তু দাদার কড়া নির্দেশ ওর আজকে জন্মদিন, সেটা কাউকে বলাই যাবে না।’

    চমকে উঠল চন্দ্রজা। আজ তিমিরের বার্থ ডে! অদ্ভুত ছেলে তো। সেসব না বলে ওকে কলেজ থেকে তুলে নিয়ে বাড়িতে চলে এল। চন্দ্রজা কোনো উপহারও আনেনি।

    তমালী বলল, ‘তুমি দাদার একমাত্র বন্ধু যে দাদার জন্মদিনে এ বাড়িতে এলে। মায়ের লাডলা বলে মা অবশ্য ঘরোয়াভাবে সবটুকুই করে।’

    তমালীর কথা শেষ হওয়ার আগেই তিমিরের মা বললেন, ‘চন্দ্রজাকে নিয়ে খাবার টেবিলে আয়।’

    খাবার টেবিলে গিয়ে চমকে গেল চন্দ্রজা। বিশাল আয়োজন। পোলাও, চিংড়ি, মাংস, মাছ, পায়েস থেকে আইসক্রিম অবধি!

    ওর মা বললেন, ‘তুমি আর তিমির খেয়ে নাও। কলেজে ছিলে, সেই কখন খেয়েছ।’

    চন্দ্রজা দেখেই আঁতকে উঠে বলেছিল, ‘এত খাবার আমি খেতে পারব না আন্টি।’

    তিমিরের মা বলেছিলেন, ‘খুব পারবে।’

    তিমির চন্দ্রজার চেয়ার টেনে দিয়ে বলেছিল, ‘ওকে কিছু নিয়ে জোর করো না মা।’

    চন্দ্রজা তিমিরের কানের কাছে এসে বলেছিল, ‘শুভ জন্মদিন। উপহারটা কালকে দেব।’

    তিমির লাজুক মুখে খাবারের থালায় হাত দিয়েছিল।

    চন্দ্রজা বলেছিল, ‘চিংড়ির মালাইকারি আমার খুব পছন্দের।’

    তিমির নিজের বাটিও ওর দিকে এগিয়ে দিয়েছিল নীরবে। চোখের ইশারায় বলেছিল, এটাও তোমার। তিমিরের মা খুব যত্ন করে খাইয়েছিলেন ওদের।

    তিমির নিজের খাওয়ার থেকে বেশি নজর রেখেছিল চন্দ্রজার প্রতি। ওর নিজেরই লজ্জা করছিল এত যত্ন দেখে। খাওয়ার পরে তিমির নিয়ে গেল ওর তিনতলার ঘরে। ওর বেডরুমের পাশেই একটা বিশাল রুম জুড়ে ওর স্টুডিও।

    তিমির বলল, ‘এসো। তবে রাগ করো না প্লিস।’

    চন্দ্রজা বলল, ‘উচ্চারণে প্রবলেম আছে বলে কথা বলাই বন্ধ করে দেওয়া কী উচিত ছিল তিমির? সকলের সবকিছু তো পারফেক্ট থাকে না তাই না? তোমার উচ্চারণ পারফেক্ট নয়, তবুও গোটা ডিপার্টমেন্টকে তোমার পায়ে ধরতে হল এই কম্পিটিশনটা জেতার জন্য। তার মানে, তোমার যথেষ্ট যোগ্যতা আছে তাই না তিমির? তাহলে অকারণে কথা না বলে এভাবে নিজেকে কষ্ট দেওয়ার কোনো মানে হয় না।’

    তিমির এসব নিয়ে কথা না বাড়িয়ে একের পর এক ক্যানভাসে ওর দৃষ্টি আকর্ষণ করল। প্রত্যেকটাই চন্দ্রজার ছবি। ছবির চন্দ্রজা যেন বাস্তবের থেকেও বেশি সুন্দর। ঈশ্বর বোধহয় ওকে গড়ার সময় এতটা যত্ন করেননি যতটা যত্ন করে এঁকেছে তিমির। যে যে পোশাক পরে চন্দ্রজা কলেজে গেছে তার বোধহয় প্রতিটার ছবিই আছে ওর কাছে। চন্দ্রজার লজ্জা করছে। হাত-পা ঘামছে ওর। এভাবে কেউ ওকে নজরবন্দি করে রেখেছে ভেবেই লজ্জা আর সুখের আবেশে ছেয়ে যাচ্ছে ওর সমস্ত মন। কারোর কাছে ও এতটা গুরুত্বপূর্ণ, ভাবতেই পারছে না চন্দ্রজা।

    তিমির লাজুক গলায় বলল, ‘এই একজন মডেলকে আমি সামনে না বসিয়েও চোখ বন্ধ করে আঁকতে পারব।’

    কথাটা বলতে গিয়ে বার চারেক আটকাল বলে সংকুচিত হয়ে গেল তিমির।

    চন্দ্রজা ওর হাতটা আলতো করে ধরে বলল, ‘আমি যে সুন্দরী আমি নিজেও তো জানতাম না। আয়নাও কখনও বলেনি আমায়। একমাত্র তোমার ছবিই প্রথম আমায় সুন্দরী বলল।’

    তিমির থেমে থেমে বলল, ‘চন্দ্রজা এই প্রতিযোগিতার জন্য একটা ছবি আঁকতে শুরু করেছি। একটু দেখো, ভুল কিছু দেখলে সাজেস্ট করো।’

    চন্দ্রজা তখনও ঘোরের মধ্যে আছে। চারিদিকে ওর ছবি। এই স্টুডিওর মালকিন যেন শুধুই ও। আর চিত্রকরের মনে যে ওর একাধিপত্য, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। তিমির একটা ক্যানভাসের ওপর থেকে স্বচ্ছ কাপড়টা সরিয়ে দিল।

    স্তম্ভিত হয়ে দেখছে চন্দ্রজা।

    একটা মাল্টিপ্লেক্সের সামনে জিৎ নামছে গাড়ি থেকে। অপেক্ষারত চন্দ্রজাকেই দেখা উচিত ছিল ওখানে। কিন্তু তিমির এঁকেছে গাড়ি থেকে নামছে জিৎ, ওর চোখ দুটো যেন কাউকে খুঁজছে। ওদিকে একটি মেয়ে মুখাবয়ব অনেকটা চন্দ্রজার মতো, হাতে একগুচ্ছ বেলুন নিয়ে বাচ্চাদের বিলি করেছে। মেয়েটির চোখ ভর্তি জল, মুখে পরিতৃপ্তির হাসি। যেন কোনো পিছুটান নেই মেয়েটার। পৃথিবীতে কোথায় কী চলছে সেদিকে যেন ভ্রূক্ষেপ নেই। দূরে গাছতলায় দাঁড়িয়ে একজন চিত্রশিল্পী ক্যানভাসে কিছু এঁকে চলেছে।

    অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে চন্দ্রজা। ফিসফিস করে বলল, ‘জিৎকে তুমি চিনলে কী করে?’

    তিমির বলল, ‘ওই পথ দিয়েই আসছিলাম সেদিন। দেখলাম তুমি প্রায় ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করছিলে। আমিও দূরে দাঁড়িয়ে তোমায় দেখছিলাম। তারপর তোমার ভালোবাসার মানুষটি এল। ভেবেছিলাম তুমি রাগ করবে, চেঁচামেচি করবে। কিন্তু দেখলাম, ওই ছেলেটি দু’মিনিট তোমার সঙ্গে কথা বলে গাড়ি করে চলে গেল। তুমি একা দাঁড়িয়ে থাকলে। ওই অবস্থায় তোমায় দেখতে ভালো লাগছিল না। ছবির তুমি আমার কল্পনা। তুমি অন্য কোথাও আনন্দ খুঁজে নিতে পারো। জিতের ওপরে তুমি নির্ভরশীল নও। সেই ভাবনা থেকেই এঁকেছি ছবিটা।’

    চন্দ্রজার কান্না পাচ্ছিল। জিতের অপমানটা তিমির দেখেছিল বলে, নাকি তিমির ওকে অন্যরূপে এঁকেছে বলে, সেটা ও নিজেও বুঝতে পারছে না।

    তিমির তাড়াতাড়ি ওর সামনে হাঁটু গেড়ে বসে বলল, ‘আমি তোমায় কষ্ট দিতে চাইনি। প্লিস আমায় ক্ষমা করো। আমি তোমার ফিয়ঁন্সের নামেও কিছু বলতে চাইনি। তোমরা ভালো থেকো।’

    তিমির চুপ করে গেল। চন্দ্রজাও চুপ। একমাত্র নীরবতা অনেক কথা বলে যাচ্ছে কানে কানে। চন্দ্রজার মনে হচ্ছে, তিমিরকে কি বলে দেওয়া উচিত, জিতের সঙ্গে ওর ওইটুকু অবহেলার সম্পর্কও আর অবশিষ্ট নেই? না থাক, তিমির যদি ভাবে চন্দ্রজার দোষ ছিল এই ভাঙনে।

    তিমির বলল, ‘চন্দ্রজা, আমি জানি আমার কথা বুঝতে তোমার অসুবিধা হচ্ছে। তবুও আরেকটা কথা বলতে চাই, এই ছবিটাকে আরেকটু নিখুঁত করার জন্য তোমার হেল্প লাগবে। মাত্র আধঘন্টার জন্য আমার মডেল হবে?’

    চন্দ্রজা সামনের চেয়ারে বসে পড়ল।

    তিমির চন্দ্রজার জল টলটল চোখদুটো আর ঠোঁটের কোণের হাসিটাকে আরও নিখুঁত করে ফোটানোর চেষ্টা করছে ছবিতে। চন্দ্রজার থুতনির ভাঁজে এসে বেশ কিছুক্ষণ তুলি বোলাল।

    চন্দ্রজা নিজেও চিত্রশিল্পী। কিন্তু এমন ধ্যানমগ্ন হতে পারেনি এখনও পর্যন্ত। তিমিরকে দেখে মনে হচ্ছে, ওর বাহ্যিক কোনো জ্ঞান নেই। মগ্ন হয়ে রয়েছে ওই ছবিতে। প্রতিটা বাচ্চার মুখে আলাদা আলাদা এক্সপ্রেশন। কেউ বেলুনের দিকে হাত বাড়িয়েছে, নেওয়ার ইচ্ছে ষোলো আনা, কিন্তু চোখে অনেকটা সংশয়।

    একটি বাচ্চা মেয়ের চোখে রয়েছে বিস্ময়, কেন হঠাৎ বিনামূল্যে কেউ বেলুন দিচ্ছে ওদের সেটাই যেন ভাবছে। একজনের ঠোঁটে সব প্রাপ্তির হাসি। আরও দুজন দৌড়ে আসছে বেলুন শেষ না হয়ে যায় সেই আশঙ্কায়।

    চন্দ্রজা অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তিমিরের আঁকার দিকে। এত নিখুঁত কেউ কীভাবে আঁকতে পারে!

    তিমির আচমকা উঠে এসে চন্দ্রজার মুখটা একটু বাঁ দিকে ঘুরিয়ে বলল, ‘আর দু’মিনিট এইভাবে থাকো।’

    তিমিরের কাজ শেষ। ওর মা, বোনের সঙ্গে দেখা করে বাইরে এসে দাঁড়াল চন্দ্রজা। তিমির ওকে বাইকে চাপিয়ে বাড়ির কাছাকাছি নামিয়ে দিয়ে চলে গেল। যাওয়ার সময় বলে গেল, ‘আজকের দিনটা আমার জীবনে শ্রেষ্ঠ দিন।’

    চন্দ্রজার বলা হল না, এটা ওরও জীবনের শ্রেষ্ঠ দিন। এত গুরুত্ব যে ওকে কেউ দিতে পারে, এই ধারণাই ছিল না ওর।

    বাড়ির গেটের সামনে জিতের গাড়িটা রয়েছে দেখেই অবাক হল। হঠাৎ হল কী জিতের? ওদের বাড়িতে চলে এসেছে! চন্দ্রজার অভিমান কবেই বা ওর কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেল যে, একটাও ফোন না করে একেবারে বাড়িতে চলে এল রাগ ভাঙাতে!

    বাড়িতে ঢুকেই দেখল চন্দ্রজার মা গদগদ হয়ে একজনকে খুব আদর আপ্যায়ন করছে।

    চন্দ্রজা ঢুকতেই বলল, ‘কী রে, এত দেরি হল আজ? এক্সট্রা ক্লাস এতক্ষণ চলছিল? দেখ কে এসেছে। ইনি জিৎদের বাড়ির ড্রাইভার। জিৎ আরও একটা শো-রুম ওপেন করেছে। তাই মিষ্টি পাঠিয়েছেন ওর মা। বেশ কয়েক প্যাকেট মিষ্টি ছড়িয়ে রয়েছে ডাইনিং টেবিলে।’

    ড্রাইভারকে দিয়ে মিষ্টি পাঠিয়ে ভদ্রতা দেখাতে চাইছে জিৎ? নাকি জিৎ জানেই না, ওর মা পাঠিয়েছে? সত্যি বলতে কী, আর কোনো আগ্রহ নেই চন্দ্রজার জিতের প্রতি। জিতের কিছু দেওয়ার নেই ওকে। টাকা ছাড়া আর জিতের আছেই বা কী?

    না আছে মন, না আবেগ, না ভালোবাসা, কিছুই নেই জিতের। যান্ত্রিক জীবন ছাড়া আর কিছুই দেওয়ার ক্ষমতা নেই। তাছাড়া চন্দ্রজার অপেক্ষারাও আজ ঘুমিয়ে গেছে। তারাও আর জিতের জন্য রাত জাগতে নারাজ।

    নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করল চন্দ্রজা। ঠিক তখনই জিতের ফোনটা এল।

    অনাগ্রহে ফোনটা রিসিভ করতেই জিৎ বলল, ‘কী ব্যাপার, কল করোনি ক’দিন? ব্যস্ত আছ নাকি? তা ভালো। তুমি যত ব্যস্ত থাকবে তত আমায় বিরক্ত কম করবে। তত আমি মনযোগ দিয়ে কাজ করতে পারব। আর উন্নতি ততই বাড়বে। মিষ্টি খেয়েছ? রবীনকে দিয়ে মা পাঠিয়েছে তোমাদের বাড়ি। কলকাতার বেস্ট দোকানের মিষ্টি। সাধারণ মানুষের যেগুলো নাগালের বাইরে সেগুলোকে কব্জা করেই আমার শান্তি। আমি একটা শো-রুম ওপেন করলাম। জুয়েলারির শো-রুম। এসে দেখে যেও একদিন।’

    চন্দ্রজার ক্লান্ত লাগছে। আর বারবার মনে হচ্ছে, টাকা ছাড়া এই লোকটার কি কিছুই নেই?

    ফোনটা রেখে দিল চন্দ্রজা।

    আজ শুধুই ভাবতে ইচ্ছে করছে ওর। স্বপ্ন স্বপ্ন একটা দিন শুধুই ওকে ঘিরে। কিন্তু চন্দ্রজা জানে, তিমিরকে নিয়ে ভবিষ্যতের পথে যখনই পাড়ি দিতে যাবে তখনই এই সুখস্বপ্নটা দুমড়ে মুচড়ে ভেঙে যাবে। কারণ চন্দ্রজার বাবা কিছুতেই মেনে নেবে না তিমিরকে। তিমির তোতলা বলে নয়, তিমির জিতের মতো অহংকারী নয় বলে। বাবার বোধহয় জিতের ওই ডোন্ট কেয়ার ভাবটাই বেশি পছন্দের। দিনরাত নিজের স্ট্যাটাস নিয়ে অন্যকে ছোট করার মানসিকতাটাই বোধহয় বেশি পছন্দ ওর বাবার। শুধু বন্ধুপুত্র বলে এই আবেগ, নাকি, এভাবে নিজেকে আরেকটু ওপরে তোলার ইচ্ছে— সেটা অবশ্য বুঝতে পারেনি চন্দ্রজা।

    অন্যমনস্কভাবেই তিমিরকে লিখল, ‘তোমাদের বাড়িতে কাটানো সময়টা ভুলব না আমি।’

    তিমির হোয়াটসঅ্যাপে অন নেই। লিখেই ডিলিট করে দিতে ইচ্ছে হল। ঠিক তখনই তিমির লিখল, ‘তোমায় একটা জিনিস পাঠাচ্ছি দেখো।’

    একটা ছবি এঁকেছে তিমির। চন্দ্রজা একমনে খাবার টেবিলে খাচ্ছিল যখন সেই মুহূর্তকেই তুলে ধরেছে তিমির।

    চন্দ্রজা লিখল, ‘মডেল চেঞ্জ করো। না হলে একঘেয়ে হয়ে যাবে যে।’

    তিমির লিখল, ‘মডেল আমি চেঞ্জ করব না, যদি তোমার উডবি এসে আমার নাক ফাটিয়েও দেয়, তবুও মডেল চেঞ্জ হবে না।’

    চন্দ্রজা লিখল, ‘তিমির তোমার আঁকা সব ছবি নিয়ে, একটা আর্ট গ্যালারি ভাড়া করে এক্সিবিশন করতে পার।’

    তিমির বলল, ‘উঁহু, এই ছবিগুলো বিক্রি নেই। অন্য কারোর দেখার অধিকারও নেই। শুধু তোমার জন্মদিনে তোমায় একটা গিফ্ট করতে পারি।’

    ‘শুভরাত্রি’ লিখে অফ হয়ে গেল তিমির। চন্দ্রজার ইচ্ছে করছিল সারারাত কথা বলে যেতে।

    ধ্রুবতারাকে চিনতে না পারাটা একমাত্র নাবিকের ব্যর্থতা, এতে ধ্রুবতারার কিছু বিশেষ ক্ষতিবৃদ্ধি হয় না। তিমির হচ্ছে ধ্রুবতারার মতো উজ্জ্বল। ওকে নিজের করে পাওয়ার যোগ্যতা চন্দ্রজার নেই। তাই তো ওর বাড়ির একতলায় এখন জোরকদমে জিতের বাড়ি থেকে পাঠানো নামি দোকানের মিষ্টি নিয়ে আহ্লাদিত হচ্ছে ওর বাবা-মা।

    তিমিরের আঁকা ছবি ওদের কম্পিটিশনে ফার্স্ট হয়েছে। এই প্রথম সেকেন্ড ইয়ার জিতেছে থার্ড ইয়ারের কাছে। উৎসব আজ সবাইকে খাওয়াবে বলেছে চাঁদনী রেস্টুরেন্টে। কিন্তু গোটা কলেজ তিমিরের আঁকা ছবিতে বেলুন বেলানো মেয়েটাকে বেশ ভালোই চিনতে পেরেছে। অনেকে ঈর্ষা করেছে। এমন শিল্পীর ক্যানভাসে চন্দ্রজার মতো সাধারণ চেহারার মেয়ে স্থান পেয়েছে দেখে অনেকেই ফিসফিস করেছে। অনেকেই আঙুল দেখিয়ে বলেছে, ‘দেখ, ওই মেয়েটাই ছিল ছবিতে।’

    চন্দ্রজা সেই মুহূর্তগুলো শুধুই উপভোগ করেছে। বারবার মনে হয়েছে, তিমিরের দেওয়া সম্মান, ভালোবাসাকে আঁকড়ে ধরা উচিত ওর। বাবা-মা, জিৎ, দুই ফ্যামিলি এসবকে তুচ্ছ করে শুধুই তিমিরের হাতটা শক্ত করে ধরা উচিত। এত সম্মান, এত ভালোবাসা ওকে আর কেউ কোনোদিন দিতে পারবে না।

    চন্দ্রজার বাবা বলে দিয়েছে, আর মাত্র একটা বছরের অপেক্ষা। গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট হলেই জিতের সঙ্গে ওর বিয়েটা দিয়ে দেবে। তারপর পড়াশোনা করুক, ও বাড়িতে কোনো আপত্তি নেই।

    অন্যের ইচ্ছের ওপরে চলছে চন্দ্রজার প্রতিটা মুহূর্ত।

    তিমিরকে ঘিরে আজ কলেজে উচ্ছ্বাস। শান্ত, নির্বিবাদী ছেলেটাকে ঘিরে সবাই মেতে আছে। তিমিরের চোখে খুশি উপচে পড়ছে।

    চন্দ্রজা ব্যাগ থেকে বের করে একটা কফি মাগ ওর হাতে দিয়ে বলল, ‘আজকের জন্য আমার তরফ থেকে গিফ্ট।’

    তিমির আড়ালে গিয়ে প্যাকিংটা খুলেই চমকে উঠে বলেছিল, ‘চন্দ্রজা আমি কীভাবে তোমার মডেল হলাম? এটা তো আমার হোয়াটসঅ্যাপ ডিপি। কাপের গায়ে আমি নিজে? তুমি আমায় আঁকলে চন্দ্রজা? এর থেকে বড় প্রাপ্তি আর তো কিছুই নেই আমার কাছে।’

    চন্দ্রজা হেসে বলেছিল, ‘আমি তোমার মতো নিখুঁত শিল্পী নই। তাই যা যা ভুল চোখে পড়ছে সেগুলো জাস্ট হজম করে নিও।’

    তিমিরের চোখে জল। ছোট্ট করে বলল, ‘কেউ কখনও আমায় আঁকেনি তুমি ছাড়া।’

    তিমির জানত, চন্দ্রজার সঙ্গে জিতের বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। তাই বন্ধুত্বের থেকে বেশি কিছু দাবি করেনি কখনও। চন্দ্রজার সঙ্গে খুব শান্ত নির্মল বন্ধুত্ব রেখেছিল ও।

    চন্দ্রজা জানত, তিমির শুধু ওকেই ভালোবাসে। ও নিজেও তিমিরকে ভালোবাসত কিন্তু বলা হয়ে ওঠেনি কখনও। শুধু জানত, কেউ একজন আছে এই পৃথিবীতে যে ওর জন্য অপেক্ষায় আছে। ওকে নীরবে ভালোবাসে। এই অনুভূতিটুকুই যেন চন্দ্রজার বেঁচে থাকার প্রেরণা ছিল। তিমিরের সবটুকুতে ও মিশে আছে এই উপলব্ধিটাই যেন পরম প্রাপ্তি ছিল।

    থার্ড ইয়ারের শেষের দিকেই চন্দ্রজার বাড়িতে বিয়ের শপিং শুরু হয়ে গিয়েছিল। জিতের ব্যবহার আলাদা করে কিছুই বদলায়নি। চন্দ্রজার কোনো গুরুত্ব নেই ওর জীবনে। ও একেবারেই বাড়তি, না হলেও চলে। তবুও চন্দ্রজা জিতের সহধর্মিনী হতে চলেছে। নিজের সবটুকু আত্মসম্মান বলি দিয়ে ও জিতের জীবনসঙ্গিনী হতে চলেছে।

    ‘কী হল বৌদিমনি, এত ডাকছি শুনতে পাচ্ছ না? কাঁদছ কেন?’

    বাহান্ন ইঞ্চি টিভির পর্দা জুড়ে তিমিরের মুখ। একটা সাক্ষাৎকার চলছে টিভিতে। দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক আর্ট ফেস্টিভ্যালে বিচারক হিসাবে আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন তিমির রায়। সেই অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাইছে চ্যানেল।

    প্রায় চারবছর পরে তিমিরকে টিভির পর্দায় দেখল চন্দ্রজা। ওর বিয়ের পরে তিমিরের সঙ্গে ইচ্ছে করেই আর যোগাযোগ রাখেনি চন্দ্রজা। অকারণে তিমিরের ক্ষতকে রক্তাক্ত করতে ইচ্ছে করেনি আর। তাই জিতের সঙ্গে নিজেকেও আস্তে আস্তে যন্ত্রমানবে পরিণত করে নিয়েছে। বেশ আছে বড়লোকের বউ হয়ে। আবেগহীন জীবনে অভ্যস্ত হয়ে গেছে।

    তিমিরও চেষ্টা করেনি যোগাযোগের। ধীরে ধীরে ও নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিল।

    সেই বিয়ের রাতেই যা তিমির এসেছিল চন্দ্রজার বাড়িতে। অন্য কলেজের বন্ধুদের সঙ্গে। নিজের আঁকা একটা সুন্দর ছবি উপহার দিয়েছিল। সেই ছবিটা এখনও টাঙানো আছে চন্দ্রজার বেডরুমে। ওর হাতে জিতের হাত, একটা বৃষ্টিভেজা বিকেল, মেঘের আড়াল থেকে সূর্য উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে।

    ভালো করে খুঁটিয়ে দেখেছিল চন্দ্রজা। খুঁজতে চেয়েছিল এই ছবি আঁকার সময় ক্যানভাসে তিমিরের চোখের জল পড়েছে কিনা। কিন্তু তিমির নিখুঁত শিল্পী, তাই খুঁজে পায়নি নোনতা জলের দাগ। পেলে হয়তো খুশি হত চন্দ্রজা। তিমির তো জোর করতে পারত, নিদেন একটা প্রোপোজ! প্রোপোজ করলেই কি চন্দ্রজা ওর পরিবারের বিরুদ্ধে যেতে পারত? কেন যে কলেজের প্রতিযোগিতায় ওকেই ডাকতে পাঠানো হল তিমিরকে। কেন যে…

    তিমিরের সেই উচ্চারণে সমস্যা এখনও আছে। একটু থেমে থেমেই কথা বলছে। সঞ্চালক জিজ্ঞাসা করলেন, ‘শিল্পীদের নাকি একাধিক প্রেম হয়। আপনার জীবনে তেমন কেউ আছেন নাকি?’

    তিমির হেসে বলল, ‘আমার জীবনে প্রেম একটাই ছিল। এখন যার সঙ্গে জীবন কাটাব স্থির করেছি সেটা সমঝোতা। সম্পর্কটা ধীরে ধীরে প্রেমের রূপ নিলে আমি খুশি হব।’

    বহুদিন পরে আজ খুব খুশি হল চন্দ্রজা। একজনের জীবনে সে অন্তত একক রয়েছে এখনও। তিমির তো বলল, প্রেম একটাই হয়েছিল। কিন্তু ভিতরে ভিতরে অদ্ভুত একটা হিংসে হচ্ছে। মনে হচ্ছে ওর একচ্ছত্র আসনটা কেউ একজন ভরাট করে দিতে এসে গেছে। হয়তো আস্তে আস্তে ভুলে যাবে তিমির ওকে। মনে মনে বলল, প্লিস তিমির আমায় ভুলে যেও না। তুমিও আমার মতোই মানিয়ে নিয়ে সংসার করো, তোমার ক্যানভাস জুড়ে আমিই থাকতে চাই আজীবন।

    চন্দ্রজা তাকাতেই পদ্ম বলল, ‘বৌদিমনি, রাতে কী রান্না হবে জিজ্ঞাসা করছে বামুন।’

    চন্দ্রজা নিজের গাল মুছে রান্নাঘরে গেল নির্দেশ দিতে।

    আজ কতক্ষণ ধরে যে সেই ফেলে আসা পথে ও হেঁটে বেড়িয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। এমন মাঝে মাঝে পুরোনো পথে এলোমেলোভাবে ঘুরে বেড়ালে মন্দ হয় না। জমাট বরফগুলোও মুক্তি পায় একটু।

    দ্রুত পায়ে রান্না ঘরের দিকে এল চন্দ্রজা। কানের কাছে অনুরণন হয়ে চলেছে, ‘আমার জীবনে প্রেম একটাই ছিল। এখন যার সঙ্গে জীবন কাটাব স্থির করেছি সেটা সমঝোতা।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকংসাবতীর তীরে – কোয়েল তালুকদার
    Next Article শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    Related Articles

    অর্পিতা সরকার

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    অর্পিতা সরকার

    মন আয়নায় মেঘ – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    অর্পিতা সরকার

    প্রিয় পঁচিশ – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Our Picks

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }