Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কবি – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প382 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৫. কণা না-সূচক মাথা নাড়ল

    সাজ্জাদ বলল, তুমি আমাকে চিনতে পারছ?

    কণা না-সূচক মাথা নাড়ল। কিন্তু তার চোখে চাপা হাসি। মনে হচ্ছে সে বেশিক্ষণ হাসি চেপে রাখতে পারবে না। হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়বে।

    আমাকে চিনতে পারছি না?

    জ্বি না।

    সাজ্জাদ বিব্রত ভঙ্গিতে বলল, ও আচ্ছা। কণা শাড়ির আঁচল গায়ে পেঁচাতে পেঁচাতে বলল, আচ্ছা, আপনে কেমন মানুষ ভাইজান? আপনেরে কেন চিনব না?

    আপনে সাজ্জাত ভাইজান।

    ও আচ্ছা, যাক, মনে আছে তাহলে?

    ভাইজান বসেন দেখি।

    কণার ঘরে এসে সাজ্জাদ বেশ অবাকই হয়েছে। সে ভেবেছিল ঘরের সাজসজা বস্তির মত হবে। ব্যাপার তা নয়। সবকিছুই সুন্দর করে গোছানো। পরিষ্কার, ছিমছাম। দুটা কাঠের চেয়ার আছে। চেয়ারে কুশন দেয়া। একপাশে খাট আছে। খাটে টানটান করে ফুলতোলা চাদর বিছানো। অপ্রত্যাশিতভাবে খাটের পাশে বুকশেলফ। বেশকিছু বই আছে বুকশেলফে! বইগুলির নোম পড়া যাচ্ছে না। একটা বই চেনা যাচ্ছে–বিষাদসিন্ধু।

    সাজ্জাদ বসতে বসতে বলল, তোমার হাসবেন্ড কোথায়? ফার্মেসিতে?

    জ্বি না। তার এই চাকরিও গেছে। সে চাকরির খুঁজে বাইর হইছে।

    দুদিন পরপরই কি তার চাকরি চলে যায়?

    কণা খিলখিল করে হাসল যেন এমন মজার প্রশ্ন সে শুনেনি। শাড়িপরা মেয়েরা হাসির সময় মুখে এক পর্যায়ে আঁচল চাপা দেয়। সে দিচ্ছে না। সাজ্জাদের ধারণা হল, কণা জানে তার উচ্ছ্বসিত হাসির আলাদা সৌন্দর্য আছে।

    বুঝলেন ভাইজান, ওর হইছে চুরির অভ্যাস। অষুধপত্র সরায়। পকেটে কইরা প্রত্যেক রাইত দুনিয়ার ট্যাবলেট আনে। তারপরে একদিন ধরা পড়ে। চাকরি নট হয়। আবার চাকরি হয়।

    চুরির অভ্যাস তুমি দূর করার চেষ্ট কর না?

    চেষ্টায় কোন ফয়দা নাই ভাইজান। কথায় আছে না–কয়লা ধুইলে না যায় ময়লা।

    সেটা কয়লার ব্যাপারে সত্যি। মানুষের ব্যাপারে সত্যি না। মানুষ তো কয়লা না।

    মানুষ কয়লার চেয়েও খারাপ ভাইজান।

    সাজ্জাদ বলল, এসট্রে আছে কণা? সিগারেট খাব।

    কণা এসট্রে এনে দিল। সুন্দর বাহারি এসট্রে। এ রকম গৃহস্থালিতে এত সুন্দর এসট্রে থাকার কথা না। কৃস্টেলের মাছ। মাছের পিঠে ছাই ফেলার ব্যবস্থা। কণা বলল, এসট্রেটা কত সুন্দর, দেখছেন ভাইজান?

    হুঁ সুন্দর।

    এইটাও চুরির। তার এক দূর সম্পর্কের মামা আছে। বিরাট ধনী। গুলশানে বাড়ি। তার কাছে গেছিল। আসার সময় পকেটে কইরা নিয়া আসছে।

    বল কি?

    এইটা হইল ভাইজান কপাল। কপালে লেখা ছিল–চোর স্বামী। পাইলাম চোর স্বামী। হি হি হি। ভাইজান চা খাইবেন?

    চা খাওয়া যেতে পারে।

    কফিও আছে।

    কফি আছে?

    একটা টিন কিন্যা আনছে–সত্তর টেকা দাম। মাঝে মধ্যে মিজাজ খুব ভাল থাকলে বলে, ও চাঁদের কণা, দেখি কফি বানাও।

    তোমাকে চাঁদের কণা ডাকে?

    একেক সময় একেক নাম। আবার যখন রাগ উঠে তখন ডাকে–বান্দি।

    কণা চা বানানোর জন্যে ভেতরে চলে গেল। সাজ্জাদ চেহারে বসে পা নাচাতে লাগল। বাজছে এগারোটা। এই সময় তার অফিসে থাকার কথা। আজ সে অফিস কামাই করেছে। তবে চিঠি পাঠিয়েছে–হাই ফিভারে সে শয্যাশায়ী। অফিস থেকে কেউ দেখতে না চলে এলেই হয়। কণার স্বামীর বাসায় ফিরে আসার সম্ভাবনা কতটুকু? সে এসে যদি দেখে অপরিচিত একজন লোক তার ঘরে বসে পা নাচাচ্ছে, তখন তার কাছে কেমন লাগবে? খুব ভাল লাগার কথা না। তবে ভাল না লাগলেও সে চুপ করে থাকবে। বিনীত ভঙ্গিতে কথা বলবে। কণার মত স্ত্রী যে স্বামীর আছে সেই স্বামী ভদ্র ও বিনীত হবে এটা ধরেই নেয়া যায়।

    ভাইজান চা নেন।

    কণা শুধু তার জন্যে চা আনেনি। তার নিজের জন্যেও এনেছে। সাজ্জাদের পাশের চেয়ারে সে বসেনি। বসেছে সামনে মেঝেতে। পদ্মাসনের ভঙ্গিতে বাসা। বসার ভঙ্গি সুন্দর। এইসব সুন্দর সুন্দর বসার ভঙ্গি নিশ্চয় ছবির মডেল হতে গিয়ে শিখেছে। মোসাদ্দেক সাহেব শিখিয়েছেন।

    চিড়িয়াখানা দেখতে গিয়েছিলে?

    জ্বি। আতাহার ভাই নিয়া গেল।

    তোমার হাসবেন্ড গিয়েছিল?

    জ্বি।

    কোন জন্তুটা দেখে সবচে মজা পেয়েছ?

    আমার কাছে ভাল লাগছে হাতি।

    হাতি দেখার জন্যে তো কেউ চিড়িয়াখানায় যায় না। হাতি তো সব সময়ই দেখা যায়।

    তারপরেও হাতি দেখতে ভাল লাগে। কি বিরাট জানোয়ার!

    তোমার স্বামীর কাছে কোন জন্তুটা ভাল লেগেছে?

    তার এইসব চেৎ-ভেৎ নাই। তার কাছে ইন্দুরও যা, হাতিও তা।

    তোমার যখন আবার হাতি দেখার ইচ্ছা করবে–আমাকে খবর দেবে–আমি ব্যবস্থা করব।

    আপনেরে খবর দিব ক্যামনে?

    একটা কাগজ দাও, আমি টেলিফোন নাম্বার লিখে দিচ্ছি।

    সাজ্জাদ টেলিফোন নাম্বার লিখে উঠে দাঁড়াল। কণা তার পেছনে পেছনে আসছে। সাজ্জাদ বলল, দরজা খোলা রেখে চলে আসছি যে? কণা হাসিমুখে বলল, আর আছেই কি আর নিবই-বা কি?

    রাস্তা পর্যন্ত কণা নেমে এল। সে নেমে এসেছে খালি পায়ে, তার জন্যে কোন রকম অস্বস্তিও বোধ করছে না।

    ভাইজান, এইটা আপনের গাড়ি!

    আমার না, আমার বাবার গাড়ি।

    কি সুন্দর গাড়িা!

    পছন্দ হয়েছে?

    খুব পছন্দ হয়েছে। সুন্দর গাড়ি দেখলে আমার ইচ্ছা করে গাড়িত কইরা সারাদিন ঘুরি।

    একদিন গাড়ি পাঠিয়ে দেব। সারাদিন ঘুরবে।

    জ্বি আচ্ছা।

    তোমার চা খুব ভাল হয়েছে। চার জন্যে ধন্যবাদ।

    কণা হাসল। সাজ্জাদ। বলল, যাই, কেমন?

    কণা ঘাড় কাত করে সম্পমতি জানোল। কণার কিছু ব্যাপার সাজ্জাদের চোেখ পড়েছে। যেমন সে যখন চা শেষ করে চলে যাবার জন্যে উঠ দাঁড়িয়েছে তখন কণা বলেনি, আরেকটু বসে যান। যা মেয়েরা সব সময় করে থাকে। গাড়িতে উঠে সে যখন বলল, কণা যাই? তখনো কণা ঘাড় কত করে সায় দিয়েছে। বলেনি, আবার আসবেন।

    ড্রাইভার বলল, স্যার, কোনদিকে যাব?

    শহরে কয়েকটা চক্কর দাও।

    সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় কাঠানোর কোন ব্যবস্থা করা দরকার। আতাহার সঙ্গে থাকলে ভাল হত। আতাহার ঢাকায় নেই। দেশের বাড়িতে গিয়েছে। পৈতৃক জমিজমা বিক্রির জন্যে গিয়েছে। কবে আসবে কে জানে।

    সুবর্ণের অফিসে যাওয়া যেতে পারে। গনি সাহেবকে ধন্যবাদ দেয়া দরকার। তিনি তার একটা অনুবাদ ছাপিয়েছেন–বেশ ভালভাবে ছাপিয়েছেন। মূল ইংরেজ্বি কবিতা পাশাপাশি ছাপিয়েছেন। এতে মূলের সঙ্গে অনুবাদ মিলিয়ে পড়ার আলাদা আনন্দ পাঠক পাবে। তিনি ফুটনোটে কিছু কথা বলেছেন। সেই কথাগুলিও সুন্দর। গুছিয়ে লেখা। গদ্যের অনুবাদ এবং কবিতার অনুবাদের পার্থক্য বলতে বলতে তিনি লিখেছেন। গদ্য অনুবাদেও মূলের খুব কাছাকাছি থাকে। এটা গদ্যের সার্বজনিন।তাই প্রমাণ করে। পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে–নতুন পৃথিবীতে সাৰ্বজনিন ব্যাপারগুলিই শেষ পর্যন্ত টিকবে। কাজেই এই আশংকা অমূলক নয়–ভবিষ্যতের পৃথিবীতে কবিতা থাকবে না। গদ্য গ্ৰাস করবে কবিতাকে। আজ হতে শতবর্ষ পরে–কেউ কবিতা পাঠ করবে। এমন মনে হয় না।

    গনি সাহেব অফিসে ছিএলন, সাজ্জাদকে দেখে আন্তরিক ভঙ্গিতে বললেন, আরে তুমি? আসি আসা। তোমার চেহারায় উজ্জ্বল একটা ভাব চলে এসেছে–কি ব্যাপার বল তো?

    চাকুরি করছি।

    ভেরী গুড।

    একসিলেন্ট। আজকালকার ইয়ং ছেলেমেয়েদের একটা ধারণা হয়েছে কবিতা লিখলে চাকরি-বাকরি কিছু করা যাবে না। পুরোপুরি বোহেমিয়ান হতে হবে। রাতে ঘুমুতে হবে পার্ক করা বাসে। তড়িফাঁড়ি খেতে হবে। ওদের বলার চেষ্টা করি–ইয়ং ম্যান, রবীন্দ্রনাথ কবিতা যেমন লিখতেন, পাশাপাশি জমিদারিও দেখাশোনা করতেন। সুস্থ স্বাভাবিক জীবনের সঙ্গে কাব্যের বিরোধ নেই। কাব্যচর্চা হচ্ছে সুন্দরের অনুসন্ধান।

    সাজ্জাদ বলল, অসুন্দরের ভেতরও সৌন্দর্য খুঁজে পাওয়া যায়।

    এইসব ফালতু কথা–এবং বোগাস কথা। মল-মূত্রের ভেতরে সৌন্দর্য নেই। কি খাবে বল, চা না কফি?

    আপনার বাড়ির সমস্যা কি মিটেছে?

    কোন সমস্যা?

    ঐ যে প্রতি বুধবার রাতে বাড়িতে কারা যেন মল-মূত্র ঢেলে আসত। হ্যাঁ, মিটেছে। সিকিউরিটি গার্ড রেখেছিলাম। গার্ড বিদায় করে দিয়েছি। ভাল কথা, সাজ্জাদ, তোমার চারটা অনুবাদের মধ্যে একটা ভাল হয়েছে। শুধু ভাল না, বেশ ভাল। ছেপে দিয়েছি। দেখেছি বোধহয়।

    জ্বি দেখেছি। থ্যাংক য়্যু।

    থ্যাংকস দেবার কিছু নেই। জিনিস ভাল হলে ছাপা হবে। বাসায় মল-মূত্র না ঢাললেও ছাপা হবে। মল-মূত্র দিয়ে বাড়ি মাখানোর শিশুসুলভ আচরণ করার কোন প্রয়োজন ছিল না।

    সাজ্জাদ চুপ করে রইল। টেবিলে চা দিয়ে গেছে। চায়ের সঙ্গে বেলা বিসকিট।

    খাও, চা খাও। যেদিন কাণ্ডটা প্রথম ঘটল আমি ভেবেছিলাম–কালপ্রিট হচ্ছে আতাহার। এর পেছনে তুমি আছ ভাবতে পারিনি। যাই হোক–পাস্ট নিয়ে হৈ চৈ করার কোন মানে হয় না। তবে তোমাদের প্রতি আমার এডভাইস হচ্ছে–গ্রো আপ। শিশু হয়ে থেকে না–গ্রো আপ। তোমরা গ্রোঁ আপ না করলে তোমাদের সৃষ্টিও গ্রো আপ করবে না। সৃষ্টিও শিশু থেকে যাবে। বুঝতে পারছি?

    জ্বি পারছি।

    ঐদিন রহমতউল্লাহ এসেছিল, তাকেও বললাম, রহমতউল্লাহ, গ্রো আপ। গ্রো আপ। ইনফেনসিতে আর কতকাল থাকবে? রহমতউল্লাহ ইদানীং ছদ্মনাম নিয়ে লিখছে–পার্থ সারথী বসু আমি বললাম, বাপ-মা রহমতউল্লাহ নাম রেখেছে, রহমতউল্লাহ নামেই লিখবো। পার্থ সারথী বসু লেখার মানে কি? তোমার কি ধারণা, হিন্দু নাম হলে লেখক-লেখক ভাব বেশি ফুটে? না-কি এই নাম বেশি আধুনিক বলে মনে হয়? সে কথা বলে না। তারপর গত শুক্রবারের পাত্রকা খুলে দেখি, সে আমাকে নিয়ে একটা ছড়া লিখেছে। ছড়ার শিরোনাম–কমিভূক। বুঝলাম, এখনো ইনফেনসিতে রয়ে গেছে।

    সাজ্জাদ। বলল, উঠি গনি ভাই।

    গনি সাহেব বললেন, না না, উঠবে কেন, বাস। তোমরা ইয়াং ব্লাড। তোমাদের সঙ্গে গল্প করতে ভাল লাগে। আতাহার কেমন আছে?

    জ্বি, ভাল আছে।

    ঐদিন নিউমার্কেটের পেছনে যে মার্কেটের মত আছে। সেখানে গিয়েছিলাম গ্রাস কিনতে, হঠাৎ দেখি আতাহার। দেখে মনে হল অসুখ-বিসুখ হয়েছে। চোখ-মুখ শূকনা। আমি বললাম, কি হয়েছে তোমার?

    সে বলল, কিছু হয়নি। আমি খুব ভাল আছি। আনন্দে আছি। তাকে দেখে অবশ্যি মনে হল না সে আনন্দে আছে। অবশ্যি বাংলাদেশ যুবসমাজের জন্যে খুব আনন্দের জায়গা নয়।

    আতাহারের বাবা মারা গেছেন।

    সে কি! কবে?

    গত শনিবারের আগের শনিবারে।

    আতাহার তো আমাকে কিছু বলল না। বলল না কেন?

    গনি সাহেব খুবই বিস্মিত হলেন। দুঃখিত গলায় বললেন, তোমাদের আমি অনেক কঠিন কঠিন কথা বলি। কিন্তু তোমাদের স্নেহ করি। এই স্নেহটাকে তোমরা হয়ত আন্তরিক বলে মনে কর না। আন্তরিক মনে করলে আতাহার তার বাবার মৃত্যু-সংবাদ আমাকে দিত। আমি সাহিত্যের বাইরে সান্তনার দু-একটা কথাও বলতে পারি। আতাহারের বাসার ঠিকানা কি?–

    নতুন বাসার ঠিকানটা জানি না।

    বাসা বদলেছে?

    জ্বি।

    তুমি তার এত ঘনিষ্ঠ বন্ধু, তুমি তার নতুন ঠিকানাও জান না? আশ্চর্য তো! অবশ্য তোমাদের ব্যাপারে আশ্চর্য হওয়া ঠিক না। তোমরা অতি অদ্ভুত এক শ্রেণী। অতি অদ্ভুত!

    অদ্ভুত বলছেন কেন?

    তোমাদের আচার-আচরণ অদ্ভূত লাগে বলেই অদ্ভুত বলছি।

    গনি ভাই, উঠি?

    এই যে তুমি আমাকে গনিভাই বলছি, এটাও কি অদ্ভূত না? আমার বয়স তেষট্টি। মাথায় একটা কাচা চুল নেই–আমাকে ভাই বলছি। চাচা ডাকাটাই কি শোভন হত না? পনেরো বছরের চেংড়া ছেলে ঘরে ঢুকে বলে–গনি ভাই, একটা কবিতা নিয়ে এসেছি। কবিতা ছাড়া এমি দেখা করতে এলে চাচা ডাকত। হাতে কবিতা তাই–ভাই। এ হল সাহিত্যের ভাই।

    সাজ্জাদ উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলল, চাচা, আজ তাহলে উঠি? আপনার অনেক সময় নষ্ট করলাম।

    গনি সাহেব ক্রুদ্ধ চোখে তাকিয়ে রইলেন।

    সাজ্জাদ ঠিক করল সে অফিসে ফিরে যাবে। অফিসে গিয়ে বলবে, ঘাম দিয়ে হঠাৎ জ্বর কমে গেল। ঘরে শুধু শুধু শুয়ে থাকার কোন কারণ না থাকায় চলে এসেছি। দেখি ফাইলপত্র কি আছে?

    চিড়িয়াখানাতেও যাওয়া যায়। কণা যেমন হাতি দেখে এসেছে সেও গিয়ে হাতি দেখে এল। শিকলে বাধা হাতি দেখার ভেতর অন্য ধরনের আনন্দ আছে। হাতিকে বলা যায়–হে শক্তিমান পশু, সহস্ৰ শৃঙ্খলে মুক্তির স্বাদ পাবার ক্ষমতা তোমাকে দেয়া হয়নি। এই ক্ষমতা শুধুমাত্র মানুষের।

    অফিসে যাবে, না চিড়িয়াখানায় যাবে, এই দোটানা থেকে সাজ্জাদ মুক্তি পাচ্ছে না। মানিব্যাগে কোন কয়েন নেই যে হেড অর টেইল টস করবে। তার হয়ে অন্য কেউ এই সিদ্ধান্তটা নিলে ভাল হত।

    ড্রাইভার বলল, স্যার কোনদিকে যাবেন?

    সাজ্জাদ বলল, কোনদিকেই যাব না। তুমি গাড়ি নিয়ে চলে যাও। আমি খানিকক্ষণ হাঁটব।

    জ্বি আচ্ছা।

    আচ্ছা দাঁড়াও। চল, অফিসের দিকে চল।

    সাজ্জাদের ড্রাইভার অন্যসব ড্রাইভারদের মতই রোবট শ্রেণীর। মালিকের অস্থিরতা তাদের স্পর্শ করে না। যা বলা হবে তাই তারা করবে। হুকুমের বাইরে যাবে না। সে বলবে না–গাড়ি রেখে আপনি হাঁটবেন কেন স্যার? বাইরে তো বৃষ্টি হচ্ছে। তেমন জোরালো ভাবে হচ্ছে না। তবে জোরালোভাবে শিগগিরই শুরু হবে। আকাশে মেঘা জমছে। দীর্ঘদিনের ড্রাইভার তার জগৎ সংকুচিত করে ফেলে একটা গাড়ির ভিতর। গাড়ির বাইরে সে কিছু চিন্তা করতে পারে না। চাকায় হাওয়া কতটুক আছে? চল্লিশ পিএস আট। পিছনের বাঁদিকের চাকায় মনে হচ্ছে একটু কম। স্টিয়ারিং বদলানোর সময় ঘাস ঘ্যাস শব্দ হচ্চেছ কেন? সুন্দর সূর্যালোকিত সকল তাদের মুগ্ধ করে না। তাদের মুগ্ধ করে যখন সামনের রাস্তা থাকে ফাঁকা। গাড়ি চলে শব্দহীন মসৃণ ভঙ্গিতে। সমস্ত পৃথিবীটা চলে আসে চার চাকার সামান্য গাড়িতে।

    মানুষের একটা চেষ্টাই থাকে পৃথিবীটাকে ছোট করে ফেলার। কেউ পৃথিবী নিয়ে আসেন তাঁর সংসারে। কেউ তাঁর অফিসে। একজন স্কুল টিচার–তাঁর স্কুলে। এই জন্যেই কি সাধকরা ঘর-সংসার ছেড়ে দেন?

    সাজ্জাদ অফিসে ঢুকে পর পর দুইেকাপ কফি খেলো। প্রায় দুটার মত বাজে। প্রচণ্ড খিদে লেগেছে। কফি খাওয়ায় খিদে নষ্ট হয়ে ভেঁাতা। যন্ত্রণার মত হচ্ছে। সে তৃতীয় আরেক কাপ কফির অর্ডার দিয়ে প্যাড়ের কাগজ টেনে নিয়ে দ্রুত একটা দরখাস্ত লিখে ফেলল–

    ডিরেক্টর, এডমিনস্ট্রেশন
    এরনাস ইন্টারন্যাশনাল
    ঢাকা

    বিষয় : চাকরি থেকে অব্যাহতি প্রার্থনা।

    জনাব, সবিনয়ে নিবেদন। আমার পক্ষে চাকরি করা সম্ভব হচ্ছে না। অফিসের খুঁটিনাটি আমি লিখতে পারছি না, আমার ভালও লাগছে না। যতই দিন যাচ্ছে আমার পৃথিবী ততই ছোট হয়ে আসছে। ভয় হচ্ছে, এক সময় পৃথিবীটা অফিসের এয়ারকুলার বসানো ঘরেই আবদ্ধ হয়ে যায়। কিনা। এরকম কোন ভয়াবহ সম্ভাবনার দিকে আমি যেতে চাই না। আমি আমার সমগ্র মানবজীবনে চারটি হলেও ভাল কবিতা লিখে যেতে চাই। তার জন্যে যাবতীয় দুঃখ-কষ্ট স্বীকার করে নিতে আমার কোন আপত্তি নেই। কাজেই আমি চাকরি থেকে অব্যাহতি কামনা করছি।

    বিনীত
    সাজ্জাদ হোসেন

    চিঠি শেষ করেই সাজ্জাদ একটা টেলিফোন করল। জনৈকা ভদ্রমহিলা টেলিফোন ধরে বললেন, কে?

    সাজ্জাদ বলল, মা, আমি সাজ্জাদ।

    কয়েক মুহূর্ত ভদ্রমহিলা কোন কথা বললেন না।

    সাজ্জাদ বলল, তুমি কেমন আছ মা?

    ভাল।

    আমি কেমন আছি জিজ্ঞেস করছি না কেন?

    তুই কেমন আছিস?

    খুব খারাপ। ভয়ংকর খারাপ। মা, আমি লিখতে পারছি না।

    কবি-লেখক–এদের তো এমন সমস্যা প্রায়ই হয়। লেখা বন্ধ হয়ে যায়। রাইটার্স ব্লক তো লেখকদের পুরানো ব্যাধি। তুই বরং কোনখান থেকে ঘুরে আয়।

    আমার কোথাও যেতে ইচ্ছা করছে না।

    তুই বরং একটা বিয়ে-টিয়ে কর–তোর কি কোন পছন্দের মেয়ে আছে?

    মেয়েটার নাম কি?

    কণা।

    কি রকম পছন্দ? বেশ পছন্দ, না মোটামুটি পছন্দ?

    বেশ পছন্দ।

    পছন্দ হলে বিয়ে করে ফেলে। পাশে সাবক্ষণিক একজন কেউ থাকলে তোর অস্থিরতা কমবে।

    মেয়েটিকে বিয়ে করার সামান্য সমস্যা আছে মা।

    সমস্যা কি?

    মেয়েটি বিবাহিত।

    সে কি?

    তুমি চমকে উঠলে কেন মা?

    তোর কি মনে হয় না–তুই চমকে ওঠার মত কথা বলেছিস?

    না। কারণ তুমিও বিবাহিতা ছিলে— বাবাকে এক কথায় ছেড়ে অন্য একজনকে–

    সাজ্জাদ টেলিফোন নামিয়ে সিগারেট ধরাল। বেল টিপে তার সেক্রেটারিকে ডেকে বলল, দ্রুত চিঠিটা টাইপ করে নিয়ে আসুন। দশ মিনিটের ভেতর। দশ মিনিটের বেশি এই অফিসে থাকলে দমবন্ধ হয়ে আমি মারা পড়ব।

    এই দশ মিনিট কাটানো যায় কিভাবে? মাঝে মাঝে দশ মিনিট অনন্তকালের মত দীর্ঘ হতে পারে। আইনস্টাইন, স্পেশাল থিওরী অব রিলেটিভিটি। টাইম ডাইলেশন। সাজ্জাদের মনে হচ্ছে এই দশ মিনিট আর কাটবে না। এমন কেউ কি তার আছে যার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলতে ভাল লাগে? লীলাবতী আছে–লীলাবতী। তার টেলিফোন নাম্বারটা যেন কত? মনে পড়ছে না। তার শোবার ঘরের দেয়ালে লেখা। চোখ বন্ধ করে সাজ্জাদ শেবার ঘরের দেয়ালটা দেখার চেষ্টা করল। দেয়াল দেখা যাচ্ছে, কিন্তু লেখা পড়া যাচ্ছে না।

    সাজ্জাদ যখন অফিস থেকে বের হল তখন আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নেমেছে। সে বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে এগুচ্ছে। সে বাসায় যাবে না। সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে চলে যাবে। ঘোর বর্ষা নেমেছে–এখনো কদম ফুল দেখা হয়নি। কদম গাছের নিচে গিয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে আজ সে গাইবে–বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান। সাজ্জাদের গলা ভাল। আশ্চর্য রকম ভাল। গানের চর্চা করলে সে অনেকদূর এগুতে পারত। গান পরাশ্রয়ী বিদ্যা। অন্যের সুর আশ্ৰয় করে সে বিকশিত হয়। একজন কবি কখনো পরাশ্রয়ী বিদ্যার চাচা করতে পারেন না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকোথাও কেউ নেই – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article একজন মায়াবতী – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }