Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কবি – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প382 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৬. পাক্ষিক সুবৰ্ণ

    পাক্ষিক সুবৰ্ণ বের হয়েছে। চার রঙের ঝকঝকে কভার। সাত টাকা দাম। এই সংখ্যাতেই আতাহারের কবিতা থাকার কথা। গনি সাহেব সে রকমই বলেছেন। কাজেই সাত টাকা খরচ করে পত্রিকা কেনার মানে হয় না। সৌজন্য সংখ্যা হিসেবে দুকপি সে পাবে। পত্রিকার তৃতীয় পাতায় বড় বড় করে লেখা–প্রকাশিত প্রতিটি লেখার জন্যে সম্মানী দেয়া হয়। এটা অবশ্যি ডাহা মিথ্যা কথা। গনি সাহেব এখন পর্যন্ত কোন লেখার জন্যে সম্পমানী দেননি। তবে সৌজন্য সংখ্যা দেন।

    আতাহার সাত টাকা দিয়ে সুবর্ণ কিনল। নিজের কবিতা আছে কি-না এক্ষুণি দেখার দরকার নেই। আপাতত পত্রিকা পাঞ্জাবির পকেটে থাকুক। পরে শান্তিমত দেখা যাবে। সে দশ টাকা নিয়ে বের হয়েছিল–সাত টাকা পত্রিকা কিনতে গেল, দুটাকা গেল সিগারেটে। শুধুমাত্র এক টাকা সম্প্ৰল করে ঢাকা শহরে ঘোরা যায় না। আতাহার কি করবে বুঝতে পারছে না। টাকার সন্ধানে বাড়িতে ফিরে যাওয়া এই মুহূর্তে অর্থহীন। রশীদ সাহেব আজ ভোর ছটা থেকে তুর্কি নাচ নাচছেন। তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র পরীক্ষা দেয়নি এই খবর তিনি আজ ভোরবেলা পেয়েছেন। কে তাকে খবর দিয়েছে সেটা একটা রহস্য। আতাহার দেয়নি, মিলিও দেয়নি। এক হতে পারে, কালপ্রিন্ট নিজেই দিয়েছে। তারপর দৌড়ে নিজের ঘরে ঢুকে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। ভোর ছটায় আতাহারের ঘুম ভেঙেছে তার বাবার চিৎকারে।

    বাড়িঘর সব জ্বলিয়ে দেব। আগুন দিয়ে ছারখার করে দেব। আমার প্রতিটি পয়সা অনেস্ট পয়সা। রক্ত পানি করা পয়সা। এই বৃদ্ধ বয়সে গাধার মত পরিশ্রম করছি। আর আজি–এই তার প্রতিদান? না, আমি কিছু রাখব না। আগুন দিয়ে সব জ্বলিয়ে দেব।

    বক্তৃতা দিতে দিতেই তিনি ফরহাদের দরজায় প্রচণ্ড লাথি দিলেন। লাথির সঙ্গে সঙ্গে হুংকার–আইনস্টাইন হয়েছে। সহজ প্রশ্ন দেখে মাথা ঘুরে পড়ে গেছে। আয় এখন কঠিন প্রশ্ন দেখ। তোর চামড়া আজ আমি খুলে নেব। জুতাপেটা করব। বাটা কোম্পানির জুতা কত শক্ত আজ পরীক্ষা হয়ে যাবে।

    রশীদ সাহেব চিৎকার করেন, দরজায় লাথি দেন এবং দু হাতে প্রবলবেগে কড়া নাড়েন। আতাহারের ইচ্ছে করছে ছোট ভাইয়ের পাশে দাঁড়াতে, তবে এ রকম বিপদসংকুল অবস্থায় দরজা খোলার কোন মানে হয় না। আতাহার বাসি মুখে সিগারেট ধরিয়ে পশ্চিম রণাঙ্গন নিশ্চুপ হবার কামনা করতে লাগল। মা বাসায় থাকলে সমস্যার সমাধান হয়ে যেত। তবে মিলি আছে। সে বাবাকে সামলাবার চেষ্টা করবে। এখনো করছে না কেন তা বোঝা যাচ্ছে না।

    মনে হয় ঝড়ের প্রথম ধাক্কাটা পার হবার জন্যে অপেক্ষা করছে।

    রশীদ সাহেবের হৈ-চৈ হঠাৎ বন্ধ হয়। পশ্চিম রণাঙ্গন পুরোপুরি নিশাচুপ। আতাহারের ধারণা হল মিলি তাকে তার ঘরে ঢুকিয়ে ফেলেছে। এই ফাকে ঘর থেকে বের হয়ে আজ দিনের মত ভ্যানিশ হয়ে যাওয়া দরকার। আজ আর কিছুতেই বাবার সামনে পড়া ঠিক হবে না।

    আতাহার দরজা খুলে বের হল। বারান্দা ফাঁকা। সে মোটামুটি নিশ্চিন্ত মনে রান্নাঘরের দিকে গেল। মতির মা বা মিলি রান্নাঘরে থাকলে চা পাওয়া যাবে।

    মিলি রান্নাঘরে ছিল। আতাহার কাছে গিয়ে দাঁড়াতেই বলল, চা-টা কিছু হবে না। বাবার মেজাজ খুব খারাপ। হৈ-চৈ করে এখন শরীর খারাপ করেছে। বুক ধড়ফড় করছে। শুয়ে আছেন। তুই বাইরে কোথাও চা খেয়ে নে। আজ নাশতা—টাশতা কিছু বানোব না। মাকেও দেখতে যেতে হবে। মার অবস্থা ভাল না।

    বলিস কি!

    মা বার বার তোর কথা জিজ্ঞেস করছিল। একবার মনে করে দেখতে যাবি।

    আচ্ছা যাব। ফরহাদ করছে কি? বাবার ঠেলা খাবার পর তার অবস্থা কি?

    সে তার মতোই আছে। পড়ছে।

    সাব্বাস! মনে হচ্ছে বাপকা বেটা।

    রসিকতা করিস না ভাইয়া। আমার মন-টন ভাল না।

     

    যেখানে বাসার এই পরিস্থিতি সেখানে টাকার সন্ধানে বাসায় যাওয়া যায় না। সবচে ভাল বুদ্ধি হাসপাতালে চলে যাওয়া। মার সঙ্গে খানিকক্ষণ গল্পগুজব করে উঠে দাঁড়ানো মাত্র মা বালিশের নিচ থেকে একটা নোট বের করে তার পকেটে খুঁজে দেবেন। সেটা একশ টাকার সবুজ নোট হতে পারে যা শস্যশ্যামলা বাংলাদেশের কথা মনে করিয়ে দেবে। আবার পঞ্চাশ টাকার লাল নোটও হতে পারে যা মনে করিয়ে দেবে প্রভাতের সূর্যোদয়ের কথা। সমস্যা একটাই–হাসপাতালে যেতে হবে হেঁটে হেটে। ভোরবেলা খালি পেটে হাঁটতে পারেন। শুধু স্বাস্থ্য-প্রেমিকরা। যাঁরা দীর্ঘ দিন নিরোগ দেহে বাঁচতে চান। সে নিজেও দীর্ঘ দিন বেঁচে থাকতে চায়, তবে তার জন্যে খালি পেটে মাইলের পর মাইল হাঁটতে চায় না।

    হাসপাতালের মেইন কলাপসিবল গেট বন্ধ। টুল পেতে দুজন দারোয়ান বসে আছে। দুজনেরই মনে হয় খারাপ ধরনের জণ্ডিস হয়েছে। চোখ গাঢ় হলুদ। আতাহার গেটের কাছে দাঁড়াতেহ একজন বলল, পাস। পাস আছে?

    দিনের শুরুতেই মিথ্যা বলা ঠিক হবে না ভেবে আতাহার বলল, পাস নেই।

    পাস ছাড়া ঢোকা যাবে না।

    পাস কে দেয়?

    অফিসে গিয়ে খোঁজ করেন।

    অফিস কোথায়?

    জানি না।

    হাসপাতালের কাজ করেন। আর আপনাদের অফিস কোথায় জানেন না?

    গেইটের মুখে ঝামেলা কইরেন না। পাস ছাড়া ঢুকামু না। সোজা কথা। পাস দেখান–ভিতরে ঢুকেন?

    আতাহার ফিরে যাচ্ছে। তার মনে হচ্ছে শুধুমাত্র কবিদের জন্যে একটা বিশেষ পাস থাকা উচিত–ইউনিভাসেল পাস। যে পাস দেখিয়ে যে কোন জায়গায় যাওয়া যাবে। বঙ্গভবনের গেটে পাস দেখালে মিলিটারী পুলিশ এটেনশন হয়ে স্যালুট দেবে। সিনেমা হলে পাস দেখালে হলের ম্যানেজার নিজে এসে ডিসিতে বসিয়ে দেবে। ইন্টারভ্যালের সময় হাতে কোকের বোতল ধরিয়ে দেবে।

    রাস্তায় যেতে যেতে আতাহারের মনে হল সুবৰ্ণতে তার কবিতা খুব সম্ভব ছাপা হয়নি। আজ দিনটা অশুভ। এই দিনে কবিতা প্রকাশিত হবার মত শুভ কিছু হবে না। ঝড়বৃষ্টির মধ্যে গনি সাহেবের এন্টাসিড কিনে দিয়েও ফল হয়নি। আতাহার পাঞ্জাবির পকেট থেকে পত্রিকা বের করল। যা ভেবেছিল, তাই। তার কবিতা নেই। তার মন ভয়ংকর খারাপ হয়ে গেল। পত্রিকাটা কুচি কুচি করে ছিড়তে পারলে রাগ কমার সম্ভাবনা আছে। রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে পত্রিকা ছেঁড়া ঠিক হবে না। লোকজন আড়চোখে তাকাবে। কাগজ ছেড়ার সঙ্গে পাগলামির একটা সম্পর্ক আছে। প্রাথমিক স্তরের পাগলরা কাগজ

    আতাহার সুবর্ণ ছিড়ে ছিড়ে টুকরো টুকরো করল না, তবে নর্দমার দিকে জুড়ে দিল। পেটের খিদে এই মুহুর্তে ভালই জানান দিচ্ছে। সরকার থেকে কবিদের যদি খাদ্য পাস দিত তাহলে চমৎকার হত। সেই পাস যে কোন রেস্টুরেন্টে দেখালেই রেস্টুরেন্টের মালিক একগাল হেসে বলবে–স্যার, বসুন। কি খাবেন বলুন।

    কি আছে। আপনার এখানে?

    অনেক কিছুই আছে। আপনার কি খেতে ইচ্ছে বলুন দেখি।

    ড়ুবা তেলে গোটা দশেক লুচি ভাজুন। ভুনা গরুর গোশত দিন। এক প্লেট কলিজি, আর এক প্লেট মুরগির মাংস। সিরকায় ভিজিয়ে বড় বড় পেঁয়াজ দিন। ইন্ডিয়ান মিষ্টি পেঁয়াজ না, বাংলাদেশী পেঁয়াজ। ঝােঝ আছে। এ রকম পেঁয়াজ। ভুটানের কাচামরিচের আচার আছে? থাকার কথা না। ঐ আচার আনিয়ে দিন। নাশতার পর পর তিন কাপ চ্যা খাব। রেডি রাখবেন। চায়ের সঙ্গে রথম্যান সিগারেট। দেখবেন যেন ড্যাম্প না হয়। নাশতার সঙ্গের সিগারেট ড্যাম্প হলে নাশতাটাই মাটি।

    স্যার, আরাম করে বসুন। পাঁচ মিনিটের মধ্যে সব এসে যাচ্ছে। এই ফাকে একটু তেহারী কি চেখে দেখবেন? এই মাত্ৰ হাড়ি নেমেছে। আপনাকে দিয়ে বিসমিল্লাহ করি।

    দিন, খেয়ে দেখি আপনাদের তেহারী। সঙ্গে ঝাল কাঁচামরিচ দেবেন। কাচামরিচ মিষ্টি হলে, খবৰ্দার, তেহারী খাব না।

    সারা পথ খাওয়াদাওয়ার কথা চিন্তা করতে করতে আতাহার সাজ্জাদাদের বাড়িতে উপস্থিত হল। গতকালের ভাঙা গাছ এখনো বাড়ির ওপর পড়ে আছে। তবে গাছ থেকে ঝরে পড়া ডাল, লতাপাতা, ভাঙা জানালার কাচের টুকরা পরিষ্কার করা হয়েছে। একটা গাছ বাড়িতে ভেঙে পড়ে আছে এই দৃশ্য এখন দেখতে ভালই লাগছে। এ বাড়িতে কোন ছেলেপূলে থাকলে গাছ বেয়ে ছাদে উঠে। মজা করতে পারত। তার নিজেরই গাছ বেয়ে ছাদে উঠতে ইচ্ছে করছে।

    বাড়ির দারোয়নের কাছ থেকে জানা গেল সাজ্জাদ আছে। সুসংবাদ, বলাই বাহুল্য। যাবতীয় সুসংবাদের সঙ্গে সামান্য হলেও দুঃসংবাদ মিশে থাকে। জানা গেল হোসেন সাহেব মাঝের ঘরে বসে আছেন। দোতলায় সাজ্জাদের ঘরে যেতে হলে মাঝের ঘর দিয়ে যেতে হবে। হোসেন সাহেবকে ডিঙ্গিয়ে সাজ্জাদের কাছে যাওয়া সম্ভব হবে না। সে কি ফিরে যাবে? ফিরে যাবেই বা কোথায়? ক্ষিদেয় প্ৰাণ যাচ্ছে। বাড়ির উপর হেলে পড়ে থাকা আমগাছটা সেদ্ধ করে দিলে খেয়ে ফেলতে পারে এমন অবস্থা।

    নীতু বারান্দায় ফুলের টবে পানি দিতে এসে আতাহারকে দেখল। তার চোখে আগ্রহ বা অনাগ্রহ কিছুই দেখা গেল না। আতাহার বলল, কটা বাজে রে নীতু?

    নীতু সঙ্গে সঙ্গে বলল, নটা চল্লিশ। ঘড়ি দেখল না বা দ্বিধা করল না। মনে হচ্ছে কম্পিউটারের মত তার নিজের ভেতর ঘড়ি ফিট করা আছে।

    তোদের নাস্তা করা হয়ে গেছে?

    আপনি আবারো নাশতা না করে এসেছেন?

    হুঁ। লজ্জা-শরম বিসর্জন দিয়েছি বলতে পারিস।

    ভাইয়ার ঘরে বসুন। নাশতা পাঠিয়ে দেব।

    রোবটের গলায় কথা বলছিস কেন? মানুষের মত কথা বল।

    মানুষের মতই কথা বলার চেষ্টা করছি। আপনার কাছে হয়তো বা রোবটের মত শুনাচ্ছে।

    আমার উপর কোন কারণে কি রেগে আছিস?

    রাগ-অভিমান এইসব উচ্চ শ্রেণীর ব্যাপার। আমার মধ্যে নেই। আমি আসলেই খানিকটা রোবট।

    রোবট না, তুই হলি রোবটী–রোবটের স্ত্রীলিঙ্গ রোবটী।

    আমার সঙ্গে কথা বলে শুধু শুধু সময় নষ্ট করছেন। দয়া করে ভাইয়ার ঘরে চলে ।

    যব কিভাবে? সিঁড়ির গোড়ায় পাহারাদার।

    বাবা ঘুমুচ্ছেন। চুপি চুপি সিঁড়ি বেয়ে উঠে যাবেন। বাবা টের পাবেন না।

    থ্যাংকস ফর দা টিপ। নাস্তা একটু তাড়াতাড়ি পাঠিয়ে দিস নীতু। খিদেয় মারা যাচ্ছি।

    নীতু জবাব দিল না। ঝাঝাড়ি দিয়ে টবে টবে পানি দিতে লাগল। তার চোখ-মুখ কঠিন হয়ে আছে। ঐ দিনের ঘটনার পর সে ঠিক করে রেখেছে আতাহারের সঙ্গে আবার দেখা হলে সে খুব খারাপ ব্যবহার করবে। এবং এক ফাঁকে জানিয়ে দেবে প্রেমে পড়ার ব্যাপারে ঐ দিন যে কথা বলেছিল সেটা আসলে অভিনয়। সে আতাহারের প্রেমে পড়েছে এটা শোনার পর আতাহারের মুখের ভাব কেমন হয় এটা দেখাই ছিল তার আসল উদ্দেশ্য।

     

    সাজ্জাদ হাত-পা ছড়িয়ে বিছানায় শুয়ে আছে। তার গায়ে পাতলা চাদর। চোখ লাল। সাজ্জাদের গায়ে জ্বর। কিছুক্ষণ আগে থার্মেমিটার দিয়ে জ্বর দেখা হয়েছে। একশ তিন। সাজ্জাদের ধারণা, থার্মোমিটারে কোন সমস্যা আছে। এতটা জ্বর তার নিজের কাছে মনে হচ্ছে না। গা খানিকটা ম্যাজ ম্যাজ করছে, চোখ জ্বালা করছে এ পর্যন্তই। একশ তিন জ্বর হলে ঘরে আটকা পড়ে থাকতে হবে। ব্যাপারটা ভয়াবহ।

    আতাহারকে দেখে সাজ্জাদ বিছানায় আধশোয়া হয়ে বসল। আতাহার বলল, জ্বর না-কি?

    হুঁ।

    মুরগি-বসন্ত না তো? মুরগি-বসন্ত চারদিকে হচ্ছে। গায়ে কি র‍্যাশ বের হয়েছে?

    না তো।

    বের হবে। শুরুতে হেভি জ্বর আসে, তারপর র্যাশ ট্যাশ বের হয়ে ছোরা বেড়া। ভাইরাসের বেশ কিছু চেঞ্জ হয়েছে। মুরগি-বসন্তের মুরগি ভাব নেই–এখন রীতিমত শক্তিশালী। ঘোড়ার মতই শক্তিশালী। চিকেন পক্স নাম পাল্টে হর্স পক্স রাখার পাঁয়তারা হচ্ছে।

    ভয় দেখাচ্ছিস না-কি?

    ভয় দেখাব কেন? যেটা সত্যি সেটা বললাম। তোর জ্বর কি এখন একশ তিন?

    হুঁ।

    যা ভেবেছি তাই। প্রথম দু-তিনদিন জ্বর তিন-চারে উঠানামা করবে। তোর এখানে বেশিক্ষণ বসাও নিরাপদ না–আমি নাশতা খেয়েই বিদেয় হচ্ছি।

    যাবি কোথায়?

    গনি ভাইয়ের কাছে একটু যাব। কয়েকটা মিষ্টি কথা উনাকে বলব।

    এই সংখ্যায় তোর কবিতা যাওয়ার কথা ছিল?

    না, যায়নি। ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে এন্টাসিড-ফিড কিনে দিয়েছি–ছাগলটা বলেছিল এই সংখ্যায় যাবে।

    পত্রিকা অফিসে যাবি?

    হুঁ।

    পত্রিকা অফিসে যাওয়া ঠিক হবে না। হৈ-চৈ হবে। লোক জানাজানি হবে। সন্ধ্যার পর চল বাসায় গিয়ে ধরি।

    তুই যাবি?

    অবশ্যই যাব।

    জ্বর গায়ে যাবি?

    শুয়ে শুয়ে জ্বরকে প্রশ্রয় দেয়ার কোন মানে হয় না। গ্রেট গনিকে একটা শিক্ষা দিতে হবে।

    কিভাবে শিক্ষা দিবি?

    সাজ্জাদ চোখ-মুখ উজ্জ্বল করে বলল, বড় এক বালতি গু ওর বারান্দায় ঢেলে রেখে আসব।

    আতাহার তাকিয়ে রইল। মনে হচ্ছে জ্বর সাজ্জাদের মাথায় উঠে গেছে। আবোল— তাবোল বকছে। সাজ্জাদ অবশ্যি আবোল-তাবোল ব্যকার মানুষ না।

    সাজ্জাদ আতাহারের দিকে খানিকটা ঝুঁকে এসে বলল, বিশ-পঁচিশ সের টাটকা ঘু ফেলতে পারলে আর দেখতে হবে না। জন্মের শিক্ষা হয়ে যাবে।

    বিশ-পঁচিশ সের টাটকা গু তুই পাবি কোথায়?

    পাওয়া যাবে। ঢাকায় মেথর পট্টি বলে একটা জায়গা আছে। সুইপার, মেথররা পরিবার নিয়ে থাকে। ওদের সাথে আমার ভাল খাতির। আমাকে পীরের মত জানে। ঠিকানা দিয়ে এলে ওরাই ব্যবস্থা করবে। প্রয়োজনবোধে প্রতি পনেরো দিন অন্তর অন্তর গু-চিকিৎসার ব্যবস্থা হবে। যেদিন সুবৰ্ণ বের হবে সেদিনই তিন বালতি গু।

    আতাহার সাজ্জাদের গায়ে হাত রাখল। সে যা ভেবেছিল তাই–জ্বরে শরীর পুড়ে যাচ্ছে। যা বলছে জ্বরের ঘোরে বলছে। তাকে বরফ-পানিতে চুবিয়ে রাখা দরকার।

    সাজ্জাদ বলল, জ্বর কেমন দেখলি? খুব বেশি?

    হ্যাঁ।

    আমারো তাই ধারণা–মাথার বল বিয়ারিং সব লুজ হয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে–মাথা ঘুরছে। সিগারেট ফেলে দে তো–সিগারেটের গন্ধ অসহ্য লাগছে।

    আতাহার সিগারেট ফেলে দিল। সাজ্জাদ বলল, তুই নিজেও বিদেয় হ। তোকে দেখতেও অসহ্য লাগছে।

    কুমার জন্য নাশত আনতে গেছে। নাশতা খেয়ে তারপর চলে যাব। এখন কিছু খাইনি।

    নিচে গিয়ে নাশতা-ফাসত যা খাবার খা। নাশতার গন্ধে আমি বমি করে দেব।

    তোর মাথায় মনে হয় পানি ঢালা দরকার।

    কিচ্ছু ঢালার দরকার নেই। আমি চাচ্ছি জ্বরটা ভালমত উঠুক। জ্বরতপ্ত মাথায় একটা কবিতা লিখব। ইন্টারেস্টিং এক্সপেরিমেন্ট। নিজে অসুস্থ হলে–চারপাশের জগৎটাকেও অসুস্থ মনে হয়— সেই সময়ের সৃষ্টিও অসুস্থ হবার কথা। অসুস্থ কবিতা কেমন হয় দেখি।

    আতাহার চিন্তিত মুখে উঠে দাঁড়াল। সাজ্জাদ চোখ বন্ধ করে বিছানায় শুয়ে পড়েছে। আত্যুহার বলল, ডাক্তার-টাক্তারের ব্যবস্থা করা দরকার না?

    কোন কিছুরই ব্যবস্থা করতে হবে না। ও আচ্ছা, একটা কাজ করতে পারবি?

    কি কাজ?

    কণাকে চিড়িয়াখানা দেখিয়ে আনবি।

    কণাটা কে?

    খুবই সাদামাটা ধরনের মেয়ে–তবে অসাধারণ। সাদামাটা বলেই অসাধারণ। মেয়েটাকে আমি মোটেই গুরুত্ব দেইনি। কাল রাতে প্রচণ্ড জ্বর এল, তখনই শুধু মেয়েটার কথা মনে পড়তে লাগল। এখন জ্বর আসছে, এখন আবার তার কথা মনে পড়ছে।

    কণা থাকে কোথায়?

    থাকে কোথায় জানি না। খুঁজে বের করবি।

    খুঁজে বের করব কি ভাবে?

    ঋতু নামে একটা পেইনটিং-এর দোকান আছে। তার পাশে একটা বড় ফার্মেসী। কণার স্বামী সেই ফার্মেসীর সেলসম্যান।

    ঋতু পেইন্টিং-এর দোকানটা কোথায়?

    আমি জানি না কোথায়। খুঁজে বের কর। Use your brain.

    খোঁজে বের করব কি ভাবে?

    আরে, তুই তো গাধার মত কথা বলছিস। পাঁচ মিনিটে খুঁজে বের করা যায়।

    কিভাবে?

    যে কোন একটা পেইনটিং-এর দোকানে যাবি। এক দোকান অন্য দোকানের খোঁজ রাখে। ওদের বললেই ঋতু কোথায় বের হয়ে পড়বে।

    কণার স্বামীর নাম কি?

    কণার স্বামীর নাম জানি না। তার সম্পর্কে শুধু এইটুকু জানি–সে চিড়িয়াখানা পছন্দ করে না।

    তোর নাম বললে চিনবে?

    না–আমাকে চিনবে না। আমাকে চেনার দরকারও নেই–কনার চিড়িয়াখানা দেখার শখ। ওকে চিড়িয়াখানা দেখিয়ে আনবি। বিকলপ ট্যাক্সি ভাড়া করে নিয়ে যাবি।

    আমার কাছে একটা টাকা আছে।

    তুই তো দেখি ফকিরেরও অধম হয়ে গেছিস। নীতুর কাছ থেকে এক হাজার টাকা নিয়ে যা। হা করে তাকিয়ে আছিস কেন? আলজিব দেখা যাচ্ছে। মোটেই ইন্টারেস্টিং দৃশ্য না। মুখ বন্ধ করে চলে যা–গোট লস্ট।

    আতাহার চিন্তিত মুখে নিচে নামল। সাজ্জাদকে নিয়ে চিন্তা, তারচেয়েও বেশি চিন্তা সিঁড়ির গোড়ায় হোসেন সাহেব বসে আছেন। ঘুমুচ্ছিলেন, এতক্ষণে নিশ্চয়ই ঘুম ভেঙেছে। তবে আজ দিনটা ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা। বুড়ো মানুষ ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা দিনে একবার ঘুমিয়ে পড়লে সহজে জাগার কথা না। বিড়ালের মত নিঃশব্দে নেমে যেতে হবে। প্রয়োজনে হামাগুড়ি দিয়ে পার হতে হবে।

    কে, আতাহার না?

    জ্বি চাচা,

    এ রকম পা টিপে টিপে নামছ কেন?

    আপনি ঘুমুচ্ছিলেন–পায়ের শব্দে আবার ঘুম ভেঙে যায় কি-না।

    ঘুমুচ্ছিলাম না। ঝিম ধরে পড়েছিলাম। কাল সারারাত বলতে গেলে অঘুমা কেটেছে।

    কেন?

    সাজ্জাদের জন্যে অপেক্ষা করতে করতে রাত এগারোটা বেজে গেল। সে ঘরে ফিরেছে। এগারোটা দশে। জ্বর নিয়ে ফিরেছে। এমন জ্বর যে শরীরে ধান রাখলে–ধান ফেটে খই বের হবে। বাথটাবে পানি দিয়ে–বরফ দিয়ে জ্বর কমাতে কমাতে তিনটা বেজে গেলো। কাল রাতে খুবই চিন্তায় পড়েছিলাম। গ্লোবাল এটমসফিয়ার চেঞ্জ হচ্ছে। নানান ধরনের নতুন নতুন ভাইরাসের জন্ম হচ্ছে। নিউ ভাইরাস, নিউ ডিজিজ। পত্রিকায় পড়েছ ফ্লেশ ইটিং ভাইরাসের কথা?

    জ্বি না।

    ভয়াবহ ধরনের ভাইরাস। সরাসরি মাংস খেয়ে ফেলে। ভবিষ্যতে আরো কত কি হবে! দাঁড়িয়ে আছ কেন বাবা–বোস।

    আতাহার মাথা চুলকে বলল, একটা খুব জরুরি কাজ আছে চাচা।

    জরুরি কাজ তো থাকবেই। পৃথিবীর সব কাজই জরুরি–কার্লাইলের একটা কথা আছে– Most trivial job–is the most important job.

    আতাহার বসবে কি বসবে না, মন স্থির করতে পারছে না। তাকে আরো কিছুক্ষণ এ বাড়িতে থাকতে হবে। নাশতা না খেয়ে সে বেরুতে পারবে না। খিদের চোটে এখন মাথা ঘোরা শুরু হয়েছে। নাশতা না খেয়ে সে বেরুতে পারবে না। খিদের চোটে এখন মাথা ঘোরা শুরু হয়েছে। নাশতা তৈরি হলে নীতু তাকে আলাদা ঘরে নিশ্চয়ই ডেকে নিয়ে যাবে। তখন মুক্তি পাওয়া যাবে। আশা করা যায়, নাশতা ইতিমধ্যে তৈরি হয়ে গেছে। দুটা পরোটা ভজতে তিন ঘণ্টা লাগার কথা না।

    আতাহার

    জ্বি চাচা।

    আউট অব দ্য ট্ৰেক তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করি–কিছু মনে করো না। কণা মেয়েটি কে?

    কার কথা বললেন?

    কণা। কাল রাতে জ্বরের ঘোরে সাজাদ কণা কণা বলে চেঁচাচ্ছিল। তার পছন্দের কেউ থাকলে তুমি আমাকে বলতে পার। ফ্যামিলি ব্র্যাকগ্রাউন্ড যদি ভাল হয়—আমার দিক থেকে কোন সমস্যা নেই। এইসব ব্যাপারে আমি খুবই লিবারেল। যুগ পাল্টাচ্ছে— যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদেরও পাল্টাতে হবে। আমাদের সময় আর এখনকার সময় তো এক না। তোমার চাচীকে যখন বিয়ে করি তখন তার বয়স ছিল ওনলি থারটিন। বিয়ের আগে আমি তাকে চোখেও দেখিনি। আমার এক মামা-শ্বশুর মুনশি সদরুদ্দিন পাশা–খুলনার নাম করা উকিল, সুফি মানুষ। তিনি আমাকে বললেন, হোসেন, সারা জীবনের জন্যে একটা মেয়েকে বিয়ে করতে যােচ্ছ–একবার চোখের দেখাও দেখবে না? মেয়ে ফর্সা না কালো, কানা না খোড়া, জানার দরকার না? আমাদের ধর্মে বিবাহের আগে কন্যা দেখার বিধান আছে। আমি বললাম, মামা, আপনারা তো দেখেছেন। আমার দেখার কোন দরকার নেই। বিয়ে হয়ে গেল। তোমার চাচীকে প্রথম দেখলাম বাসর রাতে। সে এক অভিজ্ঞতা। চল্লিশ বছর আগের কথা, এখনো মনে হয় এই তো সেদিন …

    আতাহার নীতুর জন্যে অপেক্ষা করছে। এত দেরি করছে কেন মেয়েটা? কতক্ষণ লাগে দুটা পরোটা বানাতে?

    আতাহার!

    জ্বি চাচা।

    বাসর রাতের ঘটনাটা শোন। খুবই ইন্টারেস্টিং–বিয়ে হয়েছিল চৌদ্দই শ্ৰবণ। ইংরেজ্বি ১৯৪০ সন–বৃটিশ পিরিয়ড। বিয়ের আসরে খুলনার কালেক্টর মিস্টার কেলভিন সস্ত্রীক উপস্থিত ছিলেন। কেলভিন সাহেবের স্ত্রীর নাম–এলেনা, অনিন্দ্য সুন্দরী। অল্প অল্প বাংলা জানেন। অতি মিশুক স্বভাব …

    পায়ের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। নিৰ্ঘাৎ নীতু। আতাহার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো। এক্ষুণি মুক্তি পাওয়া যাবে। এখন ডাবল আগ্রহের সঙ্গে বৃদ্ধ ছাগলের বিয়ের গল্প শোনা যেতে পারে। যদিও বন্ধুর বাবাকে বৃদ্ধ ছাগল বলা ঠিক হচ্ছে না। মানুষটা খারাপ না। তার গল্পগুলি খারাপ। দুনিয়ার ডালপালা নিয়ে গল্প শুরু করে। গল্প বলা শিখানোর কোন স্কুল থাকলে এই ছাগলাকে সে নিজ খরচে ভর্তি করিয়ে দিত।

    আতাহার ভাই, আপনার নাশতা দেয়া হয়েছে। আসুন।

    হোসেন সাহেব ব্যস্ত হয়ে উঠলেন–যাও যাও, নাশতা খেয়ে আসা। তারপর জমিয়ে আডডা দেব। হাটের উপর একটা ধাক্কা চলে যাবার পর ঘরেই বসে থাকি। আমার বাসররাতের গল্প একটা অসাধারণ গল্প। তুমি ছেলের বয়েসী, তোমাকে বলা ঠিক হচ্ছে না। তবু শুনে রাখা–সংস্কৃতে একটা শ্লোক আছে … কি যেন শ্লোক–দ্বাদষ বর্ষেন্তু পুত্র … মনে পড়ছে না। স্মৃতি বিভ্রাট হচ্ছে। নীতু মা, আমাকে চিনি—দুধ ছাড়া এক কাপ চা।

    আতাহার খুব আশা করেছিল নাশতায় পরোটা-গোশত থাকবে। তার আশা ভঙ্গ হল। রুটি, মাখন, কলা, একটা সিদ্ধ ডিম। ছোট্টগ্রাসে হলুদ রঙের কি যেন দেখা যাচ্ছে–মনে হচ্ছে কমলার রস–ইংলিশ ব্রেকফার্স্ট।

    মিস রোবটী মুখ কালো করে নাশতার টেবিলে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ অন্যদিনের চেয়েও গভীর। আতাহার বলল, নীতু, সাজ্জাদের শরীর-টরীর কাঁপিয়ে জ্বর আসছে। ওকে বরফের মধ্যে চুবাতে হবে।

    নীতু জবাব দিল না। মনে হচ্ছে এই সংবাদ সে জানে।

    আর শোন, আমাকে এক হাজার টাকা দিতে হবে। ভাবিস না যে আমার নিজের জন্যে দরকার। আর যাই করি, বন্ধুর কাছ থেকে টাকা ধার করি না! সাজ্জাদের জন্যেই টাকা দরকার। আমার কথা বিশ্বাস না হলে সাজ্জাদের কাছ থেকে ভেরিফাই করতে পারিস।

    নীতু বলল, আপনাকে এত কথা বলতে হবে না। নাশতা খান–আমি টাকা এনে দিচ্ছি।

    টাকাটা কি জন্যে দরকার শুনতে চাস না?

    আপনার বলার ইচ্ছা হলে বলতে পারেন। আমি আগ বাড়িয়ে শুনতে চাই না।

    কণা নামের একটা মেয়েকে নিয়ে গিয়ে চিড়িয়াখানার বাঁদর দেখিয়ে আনতে হবে।

    কণাটা কে?

    জানি না কে। চাঁদের কণা হবে।

    আপনি সত্যি জানেন না কে?

    না।

    জ্বরের ঘোরে কাল রাতে ভাইয়া কণা কণা বলে চেঁচাচ্ছিল। আমার ধারণা, খুব খারাপ ধরনের কোন মেয়ে–ভয়ংকর খারাপ। ভাইয়া আজেবাজে জায়গায় যায়। আপনিও হয়ত যান। ঐ মেয়ে সেই সব জায়গার।

    হতে পারে–কবি চণ্ডিদাস বলেছেন–
    যেথা যার মজে মন
    কিবা হাড়ি কিবা ডোম।।

    নীতু ভুরু-টুরু কুঁচকে বলল, এই জাতীয় একটা মেয়ের সঙ্গে ভাইয়ার পরিচয়ে আপনি মনে হয় খুব খুশি।

    আমার খুশি-অখুশি কোন ব্যাপার না। সাজ্জাদ খুশি হলেই আমি খুশি। তাছাড়া তুই যা ভাবছিস তা না, কণা মেয়েটা খুবই ভদ্র একটা মেয়ে। কারোর বিবাহিতা লক্ষ্মী টাইপ স্ত্রী। যার সংসার আছে–পুত্রকন্যা আছে।

    আতাহার ভাই, প্লীজ, আপনার বকবকানি শুনতে আর ইচ্ছা করছে না। বাবার সঙ্গে থেকে থেকে আপনারও বিশ্ৰী কথা বলা রোগ হয়েছে।

    আতাহার চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে বলল, টাকাটা নিয়ে আয়— আমি ব্যাক ডোর দিয়ে খালাস হয়ে যাই।

    এখন কি আপনি কণার কাছে যাবেন?

    না, এখন আমি যাব দি গ্রেট গনি ভাইয়ের কাছে। ব্লাফার অব দি সেঞ্চরী। সুবৰ্ণ পত্রিকার মালিক। কবিতা ছাপবে বলে কথা দিয়ে ছাপেনি।

    ভাল হয়নি বলে ছাপেনি।

    কি বলিস, ভাল হয়নি! পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কবিতা। শুনিবি? আমার মুখস্থ আছে।

    মাফ করুন–কবিতা শুনব না। টাকা এনে দিচ্ছি–বিদেয় হোন।

    নীতু খামে ভরে তিনটা পঁচিশ টাকার নোট নিয়ে এল। একটা বাড়তি নোট কেন আনল সে জানে না। সে কি আতাহার ভাইকে উপহার দিচ্ছে? গোপন উপহার? আতাহার ভাই খাম খুলে তিনটা নোট দেখে ভাববেন–ভুলে চলে এসেছে। তারপর নীতুর সেই ভুলের জন্যে তিনি আনন্দিত হবেন। নীতু জানে, তার টাকার খুব দরকার। বেচারার দুটা পাঞ্জাবি, একটা শার্ট। গত এক বছরে সে এই তিনটা কাপড়ই আতাহার ভাইকে ঘুরে-ফিরে পরতে দেখছে। তার মধ্যে একটা পাঞ্জাবির অবস্থা ভাল না। রং-টং জ্বলে বিশ্ৰী হয়ে আছে। তার বোধহয় সেটাই পছন্দ। আজিও সেটাই পরে আছেন। গত ঈদের পর নীতুর ধারণা হয়েছিল, আতাহার ভাই নিশ্চয়ই নতুন কোন শার্ট বা পাঞ্জাবি পরে আসবেন। রোজার ঈদে সবাই নতুন কাপড় পরে। কিন্তু আতাহার ভাই ঈদের দেখা করতে এলেন সেই কুৎসিত পাঞ্জাবিটা পরে। নীতু সেদিন যে শাড়িটা পরেছিল তার দাম নহাজার টাকা। শাড়িটা খুবই সুন্দর–হালকা সবুজের উপর সোনালী কাজ। সবুজ এবং সোনালী রঙ এক সঙ্গে যায় না। কিন্তু শাড়িটাতে সোনালী কাজ সুন্দর ফুটেছিল।

    শাড়ি যত সুন্দরই হোক নীতুর গায়ে মানায়নি। কোন ভাল কাপড়ই তার গায়ে মানায় না। আয়নায় নিজেকে দেখেই সে বুঝেছে তাকে দেখাচ্ছে গেছো পেত্নীর মত। লম্বা কোন বঁশিগাছের মাথায় পা ঝুলিয়ে বসে থাকলেই তাকে মানাবে। অন্য কোথাও মানাবে না। ঈদের শাড়ি খুলে ফেলা যায় না বলে সে খেলেনি। আতাহার ভাইয়ের সামনে এই শাড়ি পরে বের হবার সময় সে লাজায় প্রায় মরে যাচ্ছিল। আতাহার ভাই তাকে দেখে বিদ্রুপ মাখা কঠিন কোন কথা অবশ্যই বলবেন। হো হো করে হাসতে হাসতে বলবেন, এই শাড়ি পরে তোকে তো পেত্নীদের রানীর মত লাগছে রে।

    মজার ব্যাপার হচ্ছে, আতাহার ভাই সেদিন তাকে দেখে মুগ্ধ গলায় বলেছিলেন–তোকে তো সম্রাস্ত্রীর মত লাগছে রে নীতু। প্রথমে নীতু ভেবেছিল ঠাট্টা। যখন টের পেল ঠাট্টা না, তখন আনন্দে তার চোখে পানি এসে যাবার মত হওয়ায় সে দ্রুত সরে গেলো।

    ঈদের দিনের সেই শাড়ি সে আর পরেনি। যত্ন করে তুলে রেখেছে। শুধু শাড়িটা না, সেদিন সে যা যা পরেছিল সবই তুলে রেখেছে। চুল বেঁধেছিল সাদা ফিতায়–সেই ফিতা, স্ট্রাইপ দেয়া জুতা সব তোলা আছে। কোন এক বিশেষ উপলক্ষে সে আবার পারবে। কে জানে হয়ত আতাহার ভাইয়ের বিয়ের দিনই পরবে।

    নীতু গম্ভীর মুখে আতাহারকে খাম এনে দিল। তার মেজাজ খারাপ হয়ে গেল যখন সে দেখল আতাহার ভাই খাম পকেটে না ঢুকিয়ে টাকা বের করে গুনতে বসেছে।

    আতাহার বিরক্ত গলায় বলল, নীতু, তোর টাকা বেশি হয়ে গেছে। পঁচিশ টাকা বেশি দিয়ে দিয়েছিস।

    দিয়েছি যখন রেখে দিন।

    রেখে দেব মানে! ধর, নে।

    নীতু নোটটা হাতে নিল। আতাহার বলল, এখন দয়া করে পেছনের দরজা দিয়ে আমাকে বের করে দে। চাচার সামনে পড়তে চাচ্ছি না।

    নীতু বলল, আরেক কাপ চা খেয়ে যাবেন?

    না। দি গ্রেট গনিকে ধরতে হবে। দেরি করলে অফিসে পাব না।

    গনি সাহেবের অফিসটা কোথায়?

    সেগুনবাগিচায়।

    আমি ঐ দিকেই যাব। বড় ফুপুর বাসায়। চলুন আপনাকে নামিয়ে দি।

    বাসায় রোগী ফেলে তুই ফুপুর বাসায় যাবি কি জন্যে? ফ্লোরেন্স নাইটিংগেলের মত সেবা কর।

    ভাইয়া কারো সেবা নেবে না। এখন জ্বর মাথায় নিয়ে দরজা বন্ধ করে কবিতা লিখছে। কাজেই আমার থাকা না থাকা সমান।

    গাড়িতে উঠেই নীতু বলল, ঐ দিন আপনার মুখের ভঙ্গি দেখে খুব মজা পেয়েছি আতাহার ভাই।

    কোন দিন?

    ঐ যে, যেদিন আপনি জিজ্ঞেস করলেন–তুই কি আমার প্রেমে পড়েছিস? আর আমি বললাম—হুঁ।

    এইসব কথাবার্তা ড্রাইভারের সামনে বলাটা কি ঠিক হচ্ছে?

    নীতু কাঁধ বঁকিয়ে বলল, কোন অসুবিধা নেই। শুনুন আতাহার ভাই, ঐ দিন প্রথম আমি টের পেলাম যে, আসলে আমি খুব বড় মাপের অভিনেত্রী।

    প্রতিটি মেয়েই খুব বড় মাপের অভিনেত্রী। জন্মসূত্রেই তারা অড্রে হেপবর্ণ।

    আমার অভিনয়-ক্ষমতা তাদের চেয়েও ভাল। কারণ ঐ দিন। আপনার সঙ্গে আমি চমৎকার অভিনয় করলাম–চোখে পানি পর্যন্ত নিয়ে এলাম। আপনি বুঝতেও পারলেন না। ভাবলেন সত্যি। চোখ-মুখ কি রকম হয়ে গেল। হিহিহি।

    অভিনয় ছিল না-কি?

    অভিনয় তো বটেই। আমি শুধু শুধু আপনার প্রেমে পড়তে যাব কেন?

    প্রেমে তো মেয়েরা শুধু শুধুই পড়ে।

    আমি পড়ি না। যাই হোক, ঐ দিন আপনার সঙ্গে অভিনয় করাটা ঠিক হয়নি। আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।

    আচ্ছা বেশ, ক্ষমা করলাম।

    আপনার কি মন খারাপ লাগছে আতাহার ভাই?

    মন খারাপ লাগবে কেন?

    নীতু তার ব্যাগ থেকে রুমাল বের করে ঠোঁট মুছতে মুছতে বলল, একটা ছেলে যখন শুনে কোন মেয়ে তার প্রেমে হাবুড়ুবু খাচ্ছে তখন সেই ছেলে প্রচণ্ড মানসিক তৃপ্তি লাভ করে। মেয়েটা কালো কুচ্ছিত হলেও কিছু যায় আসে না। মেয়েটা দেখতে কেমন সেটা তখন ছেলেটার মনে থাকে না–তার মনে থাকে শুধু প্রেমের ব্যাপারটা। প্রেমের তো কোন বর্ণ নেই। কালো মেয়ের প্রেম যেমন, রূপবতী মেয়ের প্রেমও একই রকম …

    তুই তো দেখি প্রেমবিশারদ হয়ে গেছিস রে নীতু। বকবকানি বন্ধ কর।

    নীতু চুপ করে গেল এবং একটু হকচকিয়ে গেল। আতাহার বলল, তোর অভিনয় ভাল হয়েছে। আমি বুঝতেই পারিনি অভিনয়। বাসায় ফিরে সেই রাতে তোকে স্বপ্নও দেখে ফেললাম।

    কি স্বপ্ন দেখলেন?

    তুই কি পাগল হয়েছিস? কি স্বপ্ন দেখলাম–আমি তোকে বলব না-কি? পরে তুই এই নিয়ে হাসাহাসি করবি।

    আতাহার ভাই, আমি কোনদিন হাসাহাসি করব না।

    অবশ্যই হাসাহাসি করবি। প্রেমের অভিনয় দেখিয়ে তুই আমার আক্কেল গুড়ুম করে দিয়েছিস। তোর কাছে স্বপ্ন বলে ধরা খাব না-কি? আমাকে এই রাস্তার মোড়ে নামিয়ে দে।

    ওখানে গেলে ট্রফিক জ্যামে আটকা পড়বি। আমাকে নামিয়ে দে। নীতু ড্রাইভারকে গড়ি থামাতে বলল। সে মূর্তির মত বসে আছে। তার ইচ্ছা করছে চিৎকার করে কীদে। কেন সে বলল–অভিনয়। এটা বলে তার লাভটা কি হল?

    আতাহার নেমে গেছে। নীতু তাকিয়ে আছে। কিছুতেই সে তার চোখ ফিরিয়ে নিতে পারছে না। সেও কি গাড়ির দরজা খুলে নেমে পড়বে? ছুটে গিয়ে আতাহার ভাইকে বলবে–আতাহার ভাই, গাড়িতে যা করেছি। সেটা অভিনয়। আমি আর কোনদিন আপনার সঙ্গে অভিনয় করব না। কোনদিন না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকোথাও কেউ নেই – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article একজন মায়াবতী – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }