Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কমলা কেমন আছে – গৌরকিশোর ঘোষ

    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী) এক পাতা গল্প156 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দুটো রাত আর কমলা

    বিকাশকে হুইল চেয়ারে বসিয়ে রথতলা পর্যন্ত এগিয়ে দিতে গিয়েছিল কমলা। পুলিশের গাড়িটা ওখানে রেখেই অফিসারেরা কমলাদের বাড়িতে এসেছিলেন। বিকাশকে এবং তার হুইল চেয়ারটাকে ওঁরাই গাড়িতে তুলে নিলেন। কমলা সারা পথ বিকাশকে ঠেলে নিয়ে এসেছিল। হুইল চেয়ারটা কেমন করে গুটিয়ে রাখা যায় এবং সেটা খোলা যায় কী করে, কমলা একজন অফিসারকে সেটা বেশ করে বুঝিয়ে দিয়েছিল। আপনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন মিসেস ঘোষ, বিকাশবাবুর কোনও অসুবিধে যাতে না হয়, সেটা আমরা দেখব। কেন নিয়ে গেল বিকাশকে স্পষ্ট করে সেটা জানতে পারেনি কমলা। তবে পুলিশ অফিসারেরা জানিয়েছিলেন যে, বিকাশকে তাঁরা গ্রেপ্তার করে নিতে আসেননি। একটা জরুরি শনাক্তকরণের ব্যাপারে বিকাশের সাহায্য তাঁদের পক্ষে জরুরি হয়ে পড়েছে। তাই তাঁরা বিকাশকে নিতে এসেছেন। ইত্যাদি ইত্যাদি। হুইল চেয়ার থেকে পুলিশের জিপে উঠবার ঠিক আগের মুহূর্তে বিকাশ কমলার দিকে তাকিয়েছিল। আর ঠিক সেই সময়েই বকুল গাছের পাতা সরিয়ে একটা বড় চাঁদ উঠে বিকাশের মুখে অনেকখানি আলো ফেলে দিয়েছিল। বিকাশকে অবাস্তব লাগছিল। অচেনা। বিকাশ তাকে বলেছিল, কমলা, ফিরে আসি তো দেখা হবে। বিকাশের দাঁতের পাটির উপর আলো পড়ে চকচক করছিল। কমলা আস্তে জবাব দিয়েছিল, হ্যাঁ বিকাশ, ফিরে এসো। বিকাশকে নিয়ে পুলিশের জিপটা চলে গেল। কমলা রথতলাতেই দাঁড়িয়ে ছিল। কতক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল, খেয়াল ছিল না তার। কয়েকটা ফোঁটা বৃষ্টি তার গায়ে পড়তেই কমলা বাড়িতে ফিরে এল। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। চাঁদের আবছা আলো। সমস্ত বাড়িটা ফাঁকা। কোথাও একটু শব্দ নেই। কমলা বাতি জ্বেলে নিজের ঘরের ভিতর ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিয়ে একেবারে গিয়ে শুয়ে পড়েছিল। কিন্তু দু’চোখের পাতা এক করতে পারেনি। একটা কাঠের মত শুয়ে ছিল। একটু আগেই ঘড়িতে তিনটে বেজে গিয়েছে। কমলা? বিকাশ! হ্যাঁ কমলা, আমি। তুমি কী করে এলে বিকাশ? আমি হেঁটে চলে এসেছি। হেঁটে! হ্যাঁ কমলা, তুমি চোখ খোলো, দ্যাখো, আমাকে দ্যাখো একবার। বিকাশ তার মাথার কাছে ক্রাচে ভর দিয়ে এগিয়ে এল। কমলা খুশি হল। কে দিল বিকাশ? ডাঃ সরকার? না না কমলা, তোমাকে আর পয়সা খরচ করতে হল না। ওরাই দিল। আসলে এই জন্যই তো আমাকে নিয়ে গেল। তবে যে বিকাশ, ওরা বললেন, তোমাকে শনাক্তকরণের জন্য নিয়ে গেলেন। শনাক্তকরণ কী বিকাশ? শনাক্তকরণ জানো না কমলা? তুমি একটা অশিক্ষিত, গেঁয়ো ভূত। আজ তোমার খুব এনথু দেখছি বিকাশ। আমার ঘরে ঢুকে আমার উপর খুব এক হাত নিচ্ছ। আমি অশিক্ষিত। আমি গেঁয়ো ভূত। ও ছেলেটা কে কমলি? এ কী বাবা! তুমি কেন নেমে এলে? ও ছেলেটা কে কমলি? ও তো বিকাশ বাবা? কে বিকাশ? বাবা, তুমি কিন্তু রেগে গিয়েছ! বিকাশ কে কমলি? বিকাশকে তো তুমিই পছন্দ করে আনলে বাবা! কে বিকাশ? কমলি কি ও কথা তোমাকে বলতে পারে? তুমি এদিকে এসো, আমি বলে দিচ্ছি। মা! কমলি তুই থামবি? যা বলবার আমি বলছি। আর মুখ বুজে থেকে কী হবে? বিকাশ কাউকে ভূক্ষেপ না করে ক্রাচ বগলে ঘরের মধ্যে ঘুরে বেড়াতে লাগল। তুমিই তো গণ্ডগোলটা বাধালে। মা, চুপ করো। গণ্ডগোল? কিসের গণ্ডগোল। বাবা, এখন আর সে-কথা তুলে লাভ কী? আমার ঘুম পাচ্ছে, তোমরা চুপ করো। কিসের গণ্ডগোল। তুমি অনিন্দ্যকে অপমান করে তাড়িয়ে না দিলে কমলির আজ এই হেনস্থা হয়! আমার কমলিকে হেনস্থা করছে! কে? কে সে? বাবা। মা। তুই চুপ কর.কমলি। পুরুষ মানুষ নিজেরটা ছাড়া আর কিছু দেখতে পায় না। বড় অহংকারী ওরা। শোনো, ও তোমার জামাই, বিকাশ। অনিন্দ্যকে তাড়িয়ে দিয়ে তুমি ওর সঙ্গে আমার কমলিকে বিয়ে দিয়েছ। মা! চুপ কর কমলি, আজ বলি। তুমি আমার মেয়েটার বুক খানখান করে ভেঙে দিয়েছ। মা! মা! আমি কমলির বুক খান খান করে ভেঙে দিয়েছি, বিকাশের সঙ্গে ওকে বিয়ে দিয়ে? তা বিকাশ এখন এখানে কী করছে? তুমি এখানে কী করছ বিকাশ? আমি বিশ্বভ্রমণে বেরিয়েছি। এই দেখুন না, এই যে ক্রাচ। আমার আর কোনও অসুবিধে নেই। বেশ তো বেশ তো, ও বাবা বিকাশ, এ তো ভাল কাজ। পুরুষের মতো কাজ। তা বাবা বিকাশ, একটা কাজ করে দাও দিকি আমাদের। কী কাজ, বলুন? অনিন্দ্যকে একবারটি খুঁজে এনে দাও বাবা। আজ্ঞে সেই জন্যই তো নিজের পায়ে ভর দিয়ে চলতে লেগেছি। অনিন্দ্যকে আমি খুঁজে এনে দেব। আপনারা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। না বিকাশ, না। হ্যাঁ কমলা, অনিন্দ্যকে খুঁজে বের করতেই হবে। আমাকে যেদিন তুমি হুইল চেয়ারটা এনে দিলে, সেই তখন থেকেই আমি ব্যাপারটা ভেবে রেখেছি। বিকাশ বিকাশ, চুপ করো, দোহাই তোমাদের। না না কমলা, এটা চুপ করে থাকার ব্যাপারই না। এটা একটা মিথ্যেকে শেষ করে দেওয়া। তুমি শুনেছিলে, কমলা, পুলিশ অফিসাররা তোমাকে বারবার মিসেস ঘোষ মিসেস ঘোষ বলে ডাকছিল? হ্যাঁ বিকাশ, ওরা তা-ই ডাকছিল। আর তুমি বারবার অপ্রস্তুত হচ্ছিলে। বিব্রত হয়ে উঠছিলে। হ্যাঁ বিকাশ। অথচ তোমার উপায়ও ছিল না কিছু। এটা তো কোনও ভুল নয় যে তুমি ওঁদের সংশোধন করে দেবে। অথচ এটা তো সত্যও নয় যে মেনে নিতে পেরেছ। আমি তোমার এই অসহায় ভাব দেখছিলাম কমলা, আর লজ্জা পাচ্ছিলাম। কেন না, এই অস্বস্তিকর ঘটনার উপলক্ষ তো আমি। না না, এর শেষ টেনে দিতে হবে বই কী। আমি অনিন্দ্যকে এনে হাজির করবই কমলা। এখন তো আমি অবাধ। কেমন অনায়াসে বেরিয়ে যাচ্ছে বিকাশ।

    দিদি গো।

    ক্ষেমি যথেষ্ট উদ্বেগ নিয়ে কমলার দরজায় ধাক্কা মারছে।

    দিদি গো। দিদি।

    কমলা ধড়মড় করে বিছানায় উঠে বসল। সকালের রোদে বাড়িটা ভেসে যাচ্ছে। কত বেলা হল? কমলা তাড়াতাড়ি গিয়ে দরজা খুলে দিল।

    কী গো দিদি, এ কী চেহারা হয়েছে তোমার? শরীর খারাপ হয়েছে নাকি?

    কমলা বাথরুমে গিয়ে চোখে মুখে জল দিতে বলল, না না, ভাল আছি।

    আমি কখন থেকে ডাকছি। আজ এসে দরজাও খোলা পেলাম না। বলি কী হল? ভয় হয়েছিল বাছা। তা হবে না? কাল যে ধকল গেল।

    কমলা অভ্যাসবসে উপরে যাচ্ছিল। ক্ষেমির কথায় থমকে গেল। আজ বিকাশ নেই। ঘড়িটার উপর নজর পড়ল তার। এখনও এক ঘন্টার উপর সময় আছে হাতে। কমলা দ্রুত হাতে কাজ সেরে ট্রেন ধরতে বেরিয়ে পড়ল। ওর মাথাটা ভারী ভারী লাগছিল। শরীরটা ম্যাজ ম্যাজ করছিল। একবার ভেবেছিল, আজ আর না-ই বা গেল কলকাতায়। একদিন অফিস কামাই করলে কী এমন ক্ষতি? কিন্তু এই ফাঁকা বাড়িটায় সারাদিন কাটাতে হবে, একেবারে একা, এই ব্যাপারটাই কমলার মনে প্রচণ্ড ভয় ধরিয়ে দিল। আর একটু হলেই কমলা তার পরিচিত ট্রেনটাকে ফেল করত। কিন্তু সে পেয়ে গেল সেটা। পুরো একদিন ছুটির পর পরিচিত মুখগুলোকে বেশ তাজাই দেখল কমলা। বাংলা বন্ধের সাফল্য ও ব্যর্থতা নিয়ে এক কোণে প্রচণ্ড তর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এক দল বোঝাতে চাইছে এবার বাংলা বন্ধ ফেলিওর। এক দল বলছে, না দারুণ সাকসেস। আমাদের পাড়ার একটা দোকানের ঝাঁপও সামনের থেকে খোলা ছিল না। কাজকর্ম যা কিছু হয়েছে, সব ব্যাক ডোর দিয়ে। সবাই হা হা করে হেসে উঠল। কে একজন টিপ্পনী কাটল, ভ্যালা, তুই হাসছিস যে। তুই না শালা সি পি এম। হাসির কথায় হাসতে কি সি পি এম বলে মানা আছে? এর পরের স্টেপেই কোন দিন বলে বসবি, ভ্যালা, তুই হাগতে যাচ্ছিস যে। তুই না শালা সি পি এম। সবাই হা হা করে আবার হেসে উঠল।

    বন্ধেও ব্যাক ডোরের কারবার চালু হয়ে গেল মাইরি।

    ও কি আজ থেকে হয়েছে ব্রাদার, সেই বিধান রায়ের আমল থেকে চলছে।

    কমলাদি, এই ফাঁকটাতে গলে পড়ুন। কী আর করবেন? মেমারির ছেলেটা ওকে ডেকে বসাল।

    আকাশে পাতলা মেঘ। ঠাণ্ডা হাওয়া দিচ্ছে। মাঠগুলো জলে ভরা। ধানের চারাগুলো মাঠে লুটোপুটি খাচ্ছে। সব মিলিয়ে পরিবেশটা কমলার মনটাকে খানিকটা হালকা করে দিল।

    হাঁ রে বটনা, আজ তোরা এসে আমাদের খাঁজে গুঁজি মারলি কেন?

    বিধান রায় নিজের সরকারের পোঁদে নিজে কোনও দিন বন্ধ ঢোকায়নি। ওর আমলে ব্যাক ডোরের কারবার ছিল না।

    আর বলিসনি মাইরি, কপালের গেরোর কথা। বাড়ি থেকে বেরিয়েই একটা মাকুন্দের মুখ দেখতে হল। তখনই জানি আজ রিফিউজি হব।

    বাজে কথা বলিসনি। বেরুবার মুখে তুই নিজের মুখটা আয়নায় দেখে নিয়েছিলি। এখন আমাকে দোষ দিয়ে হবে কী?

    ব্যাক ডোর বন্ধ শুরু হল। এবার ওরা বিপ্লবটাও ব্যাক ডোর দিয়ে এনে ফেলবে, স্যর।

    তা যা ভেবেছিলাম তা-ই হল। গাড়িতে উঠে দেখি, আমাদের সিট অকুপায় করে এক জোড়া বর বসে আছে। মাকুন্দকে নিতবর নিতে হবে, এই চুক্তি করে তবে আমরা পশ্চাদপসরণ করেছি।

    তা হলে কমলাদিকে আজ তোমরা চা খাওয়াবে।

    নিশ্চয়ই। ওঁর ফেভারে থাকতে হবে বৈকি। আমাদের কম্পার্টমেন্টে উনিই তো ইন্দিরা গান্ধী।

    সকলের সঙ্গে কমলাও হেসে উঠল জোরে। সঙ্গে সঙ্গে ব্যাণ্ডেলে এসে গাড়ি থামল। প্ল্যাটফরমের ধারে যারা বসে ছিল, কামরার সকলের ফরমাস মতো ওরা চা জুগিয়ে যেতে লাগল। কাগজ নাও কাগজ নাও। হাতে হাতে কাগজও একখানা ঢুকে গেল কামরায়। ট্রেন ছেড়ে দিল। আজকে প্রত্যেকটা কাজ কমলার চোখে নতুন করে ফুটে উঠছিল। যেন সে আজ প্রথম ট্রেনে চড়ে বাড়ির বাইরে বের হল।

    যাস্ শালা। দেখেছিস মাইরি পুলিশের কাণ্ড। বলে কি, ও নাকি ওয়াগন ব্লেকার নয়। একজন নকশাল।

    কেরে, কার কথা কইছিস?

    কাল রায়দা যার কথা বলছিল। পরশুর আগের রাতে রেল পুলিশ একজনকে গুলি করে মারল না, বর্ধমান স্টেশনে একেবারে এক নম্বর প্ল্যাটফরমে? সে-ই লোকটাকে শনাক্ত করা গিয়েছে।

    কমলা হঠাৎ টান টান হয়ে জিজ্ঞেস করে বসল, কী বলছে পুলিশ?

    কথাটা তার মুখ দিয়ে বেরিয়ে যেতেই সে থতমত খেয়ে গেল।

    রেল পুলিশ রাত বারোটা নাগাদ একটা লোকাল থেকে, সেই ছ’টা পনেরোর গ্যালপিংটারে, লোকটাকে নামতে দেখে এবং সন্দেহজনকভাবে বেরোবার গেটের দিকে এগোতে দেখে, ওকে চ্যালেঞ্জ করে। লোকটা দৌড়ে পালাবার চেষ্টা করলে পুলিশ গুলি ছোঁড়ে। একগুলিতেই খতম। রেল পুলিশ ওকে এক দুর্ধর্ষ ওয়াগন ব্রেকার বলে চালাতে চেষ্টা করেছিল। কিন্তু উপরওয়ালাদের মনে সন্দেহ দেখা দেওয়ায় তাঁরা বড়ি শনাক্ত করার চেষ্টা করেন। তাতে জানা যায় যে লোকটা একজন নকশাল নেতা। তার মাথার উপর দশ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। নানা জেলায় ওর নামে খুনের মামলা ছিল। বার পাঁচেক জেল ভেঙে পালিয়েছে। বছর তিনেক আগে বহরমপুর জেল থেকে পালায়। তারপর আর পাত্তা পাওয়া যায়নি।

    গট আপ কেস। আমি বাজি ধরে বলতে পারি, এ কেস গট আপ।

    একজন খুব উত্তেজিত হয়ে বলে উঠল।

    পুলিশ জেনেশুনেই ওকে মেরেছে।

    কবে ওকে শনাক্ত করা হয়েছে?

    কাগজে তা কিছু লেখেনি।

    সন্দেহজনকভাবে ওকে বাইরে বেরুবার গেটের দিকে এগুতে দেখে…কী মানে হয় এ কথাটার? কেউ বলতে পারে? যে-কোনও লোক গেটের দিকে যাচ্ছে, দূর থেকে তাকে দেখে কী করে কারও মনে হতে পারে যে সন্দেহজনক? বা সন্দেহজনক নয়?

    আহা, ওকে তো পুলিশ আগে চ্যালেঞ্জ করেছিল।

    ঘোড়ার ডিম করেছিল। পুলিশ ওকে চিনতে পেরেই আর চান্স নেয়নি। দশ হাজার টাকা। সেটা ভুলে যাবেন না। টাকার জন্য লোকটাকে পয়েন্ট ব্ল্যাংক গুলি করে মেরেছে।

    তুই যে ফেলুদার মতো কথা বলছিস।

    সে তুই যা বলিস বল। আমার এই সন্দেহজনক-ফনক কথা শুনলেই আপাদমস্তক জ্বলতে থাকে।

    কমলা চাপা স্বরে বলে উঠল, ঘটনাটা ঘটেছে পরশুর আগের রাতে?

    হ্যাঁ।

    যেদিন তুমুল বৃষ্টি হচ্ছিল?

    হ্যাঁ।

    লোকটা ছ’টা পনেরোর গ্যালপিং লোকাল থেকে নেমেছিল? রাত বারোটায়?

    হ্যাঁ। রায়দা তখন ডিউটিতে ছিল স্টেশনে। কী নাকি ট্রাবল দেখা দিয়েছিল ইঞ্জিনে। তাই ট্রেনটা বারোটায় বর্ধমান পৌঁচেছিল।

    নিত্যিই কোনও না কোনও ট্রাবল ওদের লেগেই থাকে ট্রেনে। ঐ লোকালে আমি একদিন রাত আড়াইটেই মেমারি পৌঁচেছিলাম, জানেন? তখন তো বাবা শীতকাল ছিল।

    রায়দা বলেছে, গুলির শব্দ পেয়ে তিনি গেটে ছুটে আসেন। লোকটা তখনও নড়ছিল। আস্তে আস্তে লোকটার ডান হাতের মুঠো খুলে যায়, মুঠো থেকে একটা লেডিজ রুমাল গড়িয়ে পড়ে যায়।

    ভাগ্যিস তোর পুলিশ বলেনি যে লোকটার হাতে ছিল একটা বিধ্বংসী বোমা।

    রুমাল ছিল? লেডিস রুমাল!

    কী ফেলুদা, এ বিষয়ে আপনার ব্যাখ্যা কী?

    ডেলিবারেট মারডার।

    অবাক হবার কিছু নেই। আবার পুলিশ ভুল করেও করে থাকতে পারে। হয়তো লোকটাকে মেরে ফেলতে চায়নি। হয়তো লোকটা যাতে না পালায় তার জন্য পায়ে মারতে চেয়েছিল গুলি। তাক ফসকে একেবারে বুকে লেগে গিয়েছে।

    হয়তো দেখা যাবে, লোকটা নকশাল নেতাই নয়। একটা নিরীহ লোক। হয়তো শ্বশুর বাড়িই যাচ্ছিল। নকশালদের হাতে বোমা পিস্তল থাকবে না, থাকবে লেডিস্ রুমাল! এ তো ভাবা যায় না। তোর রায়দা ঠিক দেখেছে তো?

    রায়দা কি একা ছিল? ও সবার আগে পৌঁচেছিল। গোটা স্টেশন স্টাফ এসে জড় হয়েছিল না? পুলিশ তো সেটা নিয়েও গিয়েছে।

    কমলার কপালে ঘাম দিতে শুরু করেছে। ও আর এই আলোচনা সহ্য করতে পারছিল না। হাওড়া স্টেশনে পৌঁছে কমলা হাঁফ ছেড়ে বাঁচল।

    কমলা ট্রেন থেকে নেমে ভিড়ে মিশে যখন একেবারে একা হল, তখন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সেই লোকটাই কি? আর একে শনাক্ত করার জন্যই পুলিশ অফিসারেরা কি কাল বিকাশকে নিয়ে গিয়েছে? এ বিষয়ে কমলার মনে আর সন্দেহ রইল না কোনও। কিন্তু একে শনাক্ত করার জন্য বিকাশকে নিয়ে গেল কেন পুলিশ?

    সন্ধে লাগতে তখনো দেরি, কমলা বাড়ি ফিরে এল। সারা পথ কমলার মনে হয়েছে, বিকাশ হয়তো এসে গিয়েছে, অপেক্ষা করছে তার জন্য। তাই স্টেশনে একটা সাইকেল রিকশা নিয়ে যত তাড়াতাড়ি পারে, বাড়ি এসে পৌঁচেছে। দরজায় তালা দেওয়া। ক্ষেমি হয় আসেনি, নয় এসে কাজকর্ম সেরে রেখে চলে গিয়েছে। দরজার তালা খুলল কমলা। অভ্যাস মতো দরজা বন্ধ করেও দিল ভিতর থেকে। উপরের দিকে চাইল। মনে হল সকালে যে রকম রেখে গিয়েছিল, সেই রকমই আছে। নিজের ঘরে তালা খুলে ঢুকল। দরজায় বেশ শব্দই হল। কান পেতে থাকল কমলা। কোনও সাড়া শব্দ পেল না কোনও দিক থেকে। এক গ্লাস জল খেল। তারপর তরতর করে উপরে উঠে গেল। বিকাশ নেই। ঘরের জানলাগুলো তাই একটাও খোলা নেই। ভাবল, ঘরটাতে ঢুকবে। কিন্তু ওর বড় গরম করতে লাগল। কমলা নীচে নেমে কাচা জামা-কাপড় গামছা সঙ্গে নিয়ে কলঘরে ঢুকে গেল। চান সেরে স্টোভ ধরাল। ক’মাসের অভ্যাস-মতো বাটিতে দুজনের জল চাপাল। ছ’টা বাজল ঘড়িতে। শেষ পর্যন্ত ওর নিজের জন্যই চা করল। আজ ক্ষেমিও নেই। চা খেতে খেতে স্টোভে খাবারগুলো গরম করে রেখে দিল। দুজনের রান্নাই করে রেখে গিয়েছিল কমলা। সাতটা বাজল। বিকাশ এল না। আটটা বাজল। বিকাশ এল না। টুকিটাকি অনেক কাজ সেরে রেখে দিল কমলা। দশটা বাজল। আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে একাই খেয়ে নিল কমলা। আবার সেই পুরনো জীবনে ফিরে যাচ্ছে কমলা। কমলার জন্য বাড়ি ফিরে আসা। কমলার জন্য চা করা। কমলার জন্য রান্না করা। কমলার জন্য আফিসে যাওয়া। এগারোটা নাগাদ আলো নিভিয়ে শুয়ে পড়ল। কোনও এক সময় ওর মনে হল ঘড়িটা যেন অনেকক্ষণ ধরে বেজে চলেছে। কেউ যেন ঘড়িটাকে খুলে অনেকদূরে নিয়ে গিয়েছে। সেখান থেকেই একটানা বেজে চলেছে ঘড়িটা। বাবার ঘড়ি। মজবুত ঘড়ি। আজ পর্যন্ত সময় দিয়ে চলেছে ঠিক। এ ঘড়িটাকে তার নিজের জায়গায় রেখে দেওয়াই ভাল। কমলা উঠল। ঘড়িটার শব্দ ধরে একটা মাঠ পেরিয়ে চলে গেল। সামনেই একটা বিশাল পুরনো বাড়ির গেট। গেটের ভিতরে ঢুকে কমলা দেখে একটা বড় বেশ সাজানো উঠোন। মার্বেল পাথরের নানা নারীমূর্তি। কমলা মূর্তিগুলো দেখে অবাক হয়ে গেল। সব ক’টাই তার মূর্তি। নানা ভঙ্গিমায় গড়া তারই মূর্তি। সব ক’টাই নগ্ন মূর্তি। কোথাও কমলা দাঁড়িয়ে, কোথাও বসে, কোথাও বা শুয়ে। দাঁড়াবার, বসবার, শোবার ঢংই কত! কমলা অবাক হয়ে দেখতে লাগল। কমলা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে নিজেকে দেখতে লাগল। খোঁপা কপাল নাক মুখ চোখ চিবুক গলা বুক স্তন পেট নাভি শ্রোণি যোনি ঊরু পা হাত কিছুই বাদ গেল না তার নজর থেকে। কতকাল বন্দি হয়ে ছিল সে, কমলা, ঘেরাটোপে। আজ এই নির্জনতা, আকাশ, দিনের প্রসন্নতা তাকে মুক্ত করে যেন মেঘের মতো ভাসিয়ে দিয়েছে বলে কমলার মনে হতে লাগল। ওকে যেন আর মাটিতে পা ফেলতে হচ্ছে না। তার শরীর এখন এত হাল্কা যে কমলা বাতাসে ভর করে উড়ে যেতে পারে। কমলা ভেবেছিল সেখানে সে একা, কিন্তু হঠাৎ দেখল, না, সেই লোকটাও আছে। সেদিনের সেই ট্রেনের লোকটা। একটা চওড়া শ্বেত পাথরের বেঞ্চিতে শুয়ে আছে। তার বুক দিয়ে রক্ত ঝরছে। তার হাতে কমলার রুমাল। এই রুমালটাই সে সেদিন থেকে পাচ্ছিল না। এসো, এখানে এসে বোসো। লোকটা তাকে ডাকল। এই যে তোমার রুমাল। সেদিন আমার সঙ্গে চলে গিয়েছিল। কমলা ওর পাশে বসে পড়ল। বাজে কথা বোলো না, তুমি ওটা আমার ব্যাগ থেকে খুলে নিয়েছিলে। লোকটা হাসল। সত্যিই তাই। কিন্তু কী করে জানলে আমি তোমার রুমাল নিয়েছি। তোমার হাত থেকে তো সেদিন ওটা পড়েও যেতে পারত। রায়দা বলেছে, তোমার ডান হাতের মুঠোয় রুমলাটা ছিল তিনি দেখেছেন। তোমার রায়দা কে? বর্ধমান স্টেশনের টিকেট একজামিনার। সবাই ওঁকে রায়দা বলে। ছিল না আমার রুমালটা তোমার ডান হাতের মুঠোয়? আমি তখন তোমার কথাই ভাবছিলাম। তুমি নেমে গেলে আমার খুব খারাপ লাগছিল। ভাবছিলাম কাজটা বোধ হয় ঠিক করিনি। কিন্তু মানুষ কখন কী করে বসে, কেউ কি তা বলতে পারে? আমি তো তোমাকে খুনও করে ফেলতে পারতাম। আমি তো ভেবেছিলাম, তুমি আমাকে খুনই করবে। তোমাকে কি আমি খুন করতে পারি? তুমি আমার জীবনে প্রথম নারী। তোমাকে কখনও ভুলব না। তোমার কথা সারাক্ষণ ভাবছিলাম জানো। একেবারে আনমনা হয়ে গিয়েছিলাম। ঐটেই মারাত্মক ভুল হয়েছিল। যাক, তার জন্য দুঃখ নেই। কাঁহাতক আর পালিয়ে পালিয়ে বেড়ানো যায়, বলো? জীবনে একদিন তো মাটি নিতেই হয়। খালি চিন্তা ছিল তোমার রুমালটা নিয়ে। রুমালটা নিয়ে তোমার আবার কী চিন্তা? আমি চাইনি ওটা আর কারও হাতে পড়ুক। আর তো কখনও তোমার সঙ্গে আমার দেখা হত না। তোমার রুমালটাই আমার কাছে তুমি হয়ে থাকত। চিরকাল। তাই আমি চাইনি ওটা কোনও নোংরা হাতে পড়ুক। ভালই হল। তুমি ওটা নিতে এলে। এই নাও। কমলা লোকটার হাত থেকে রুমালটা নিতে গেল। লোকটা কমলাকে জড়িয়ে ধরে কাছে টেনে নিল। কমলার আজ আর লোকটাকে একটুও ভয় করল না। কিন্তু লোকটা যখন কমলাকে চুমু খেতে গেল, কমলা যেটার জন্য উন্মুখ হয়ে ছিল, কমলা দেখল লোকটা শ্বেতপাথরের মূর্তি হয়ে গিয়েছে। খালি লোকটার বুকের ফুটো দিয়ে ফোয়ারার মতো রক্ত ছিটকে পড়তে লেগেছে।

    কমলার ঘুম ভেঙে গেল। ঘর অন্ধকার। বেজায় গুমোট। ঘামে কমলার গলা বুক পেট একেবারে চটচট করছে। গলায় হাত দিয়েই কমলা চমকে উঠল। তার গায়ে কি রক্ত লেগে আছে? ঘুম ভেঙে গেলেও কমলা তার চোখ থেকে কিছুতেই লোকটার বুক চিরে বেরোনো রক্তের ফোয়ারাটাকে মুছে ফেলতে পারছিল না। কমলা অসহায় হয়ে মাথার পাশের জানলাটা দিয়ে বাইরে চাইল। সেখানেও বোবা অন্ধকার। আম গাছটা অন্ধকারে একেবারে জমাট বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে। কমলার ভয় করতে লাগল স্বপ্নটা এই ঘন অন্ধকারে আবার জীবন্ত না হয়ে ওঠে। কমলার ভেতরের জামা ব্লাউস সায়া শাড়ি ভিজে শপশপ করছে। কমলা উঠে বসে একে একে সব খুলে ফেলল। শুধু শাড়িটাকে গায়ে আলগা করে জড়িয়ে আবার শুয়ে পড়ল। একটা ভয় ধীরে ধীরে তার হাড়ের মধ্যে থেকে বেরিয়ে তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরতে লাগল। সে বালিশে মুখ গুঁজে প্রাণপণে ঘুমোবার চেষ্টা করতে লাগল। কিন্তু চোখ বুজতে পারছে না। চোখ বুজলেই একখানা মুখ তাকে চুমু খেতে আসে। কমলার মুখটাও, তার ঠোঁট দুটোও থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে সেই মুখের দিকে মন্ত্রমুগ্ধের মতো এগিয়ে যায়। দুজনের ঠোঁটে ছোঁয়া লাগলেই সেই মুখটা অমনি শ্বেতপাথরের হয়ে যায়। লোকটা কি জানলার ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে? কমলা তাকাতে ভরসা পায় না। কমলার কানে ধীরে ধীরে একটা অস্পষ্ট ফ্যাসফেসে সুর বেজে উঠতে থাকে, বিকাশ কে? বিকাশ কে? বিকাশ কে? বিকাশ কি তোমার প্রেমিক? কমলা কান দুটো দু’হাতে ঢেকে বলতে থাকে, না না না। তবে বিকাশের জন্য তোমার অত ভাবনা হয়েছিল কেন? কমলা কোনও উত্তর খুঁজে পায় না। ভয়ে থরথর করে কাঁপতে থাকে কমলা। প্রশ্নগুলোকে কমলা থামিয়েও রাখতে পারে না। এক সময় কমলা নিজের মনেই বিড়বিড় করতে থাকে, বিকাশকে দেখবার কেউ নেই। ও হাঁটতে পারে না, চলতে ফিরতে পারে না। আমি যদি মরে যাই ওর কী হবে? ও কোথায় যাবে? কিন্তু এখন কোথায় বিকাশ? কে তাকে দেখছে? কমলা জানে না। জানে না। জানে না। বিকাশ আর আসবে না। কমলা ধড়মড় করে বিছানার উপর উঠে বসল। চোখ বন্ধ করে কান দুটোকে যত জোরে পারে চেপে ধরে একটা আর্তনাদ করে উঠল, না—আ—আ—আ–আ। তারপর বালিসের উপর মুখ থুবড়ে পড়ে ফুলে ফুলে কাঁদতে লাগল। ঠক ঠক করে কাঁপতে লাগল কমলা। এ বাড়িতে একা আমি কী করে থাকব? ধীরে ধীরে অন্ধকার ফিকে হতে লাগল। কমলা চাইল না। সে তখনও কাঁপছে। আমগাছটা অন্ধকারকে একটু একটু করে ঝেড়ে ফেলতে ফেলতে আবার একটা স্পষ্ট আমগাছ হয়ে উঠল। কমলা তাকাল না। তার কাঁপুনি থামল না। হঠাৎ কমলা টের পেল মাথার উপরে পাখাটা ঘুরতে শুরু করেছে। পাখার হাওয়ায় মশারির এক পাশটা ফুলে ফুলে কমলার গালে গিয়ে ঠেকতে লাগল। কমলা সাহস করে চোখ মেলল। বাইরে ফরসা হয়ে এসেছে। কিন্তু রোদ ওঠেনি। পরিশ্রান্ত, ত্রস্ত কমলা চিত হয়ে শুয়ে পা দুটোকে ছড়িয়ে দিল। তারপর জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকল। মেঘলা দিন। গুমোট। কমলা একটু পরে উঠে কলঘরে গেল। সারা মুখটা ঠাণ্ডা জলে জবজবে করে ভিজিয়ে সে আবার ঘরে ফিরে এল। তারপর মশারিটা খুলে ফেলে পাখার তলায় শুয়ে পড়ে ফ্যালফ্যাল করে বাইরের দিকে চোখ মেলে বিছানায় শরীরটাকে এলিয়ে দিল।

    একটা সাইকেল রিকশা আসবার আওয়াজ দূর থেকে পেয়েই কমলার সমস্ত ইন্দ্রিয় একেবারে টান টান হয়ে গেল। কিন্তু রিকশাটা মাঝপথেই থেমে গেল। ওদের পাড়ার কেউ ফার্স্ট ট্রেন ধরবে। কমলার শরীরটা আবার শিথিল হয়ে গেল। অনেকক্ষণ ধরে রিকশাটা প্যাঁক প্যাঁক করে আওয়াজ করতে থাকল। তারপর আবার চুপ। কিছুক্ষণ পরে কমলা কোনও একটা বাড়ির দরজা খোলার আওয়াজ পেল। গলা ঝাড়ার একটা শব্দ। অস্পষ্ট একটা কথাবার্তার আওয়াজ। রিকশাটা চলে গেল। সব শুনতে পেল কমলা। হঠাৎ সে বিছানা ছেড়ে উঠবার তাগিদ অনুভব করল। একটা বড় হাই তুলল সে। কিছুক্ষণ তবু কমলা চোখ বুজে শুয়ে থাকল। তারপর তার মনে হল এর কোনও মানে হয় না। প্রাণপণ চেষ্টা করে নিজেকে সামলে নিল কমলা। বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ল সে। বিছানায় পড়ে থাকা সায়া ব্লাউস ভেতরের জামা গুছিয়ে নিয়ে নীচে ফেলে দিল। তারপর বিছানাটা পরিপাটি করে পেতে ফেলল। আলনা থেকে কাচা জামা কাপড় বেছে নিয়ে, ছাড়া জামা কাপড় কুড়িয়ে নিয়ে, কলঘরে চলে গেল কমলা। আফিসে বের হবার আগেও বিকাশ এল না। কমলা ক্ষেমিকে বলল, কমলা ফিরে না আসা পর্যন্ত ক্ষেমি যেন বাড়িতে থাকে। দাদাবাবু এসে পড়তে পারে। দাদাবাবুকে যদি উপরে তুলতে হয়, ছেলেকে ডেকে আনে যেন সে। দাদাবাবু চা খেতে চাইলে যেন সেটা করে দেয়। দাদাবাবুর খাবার করে রেখে গেল কমলা। ক্ষেমি যেন দাদাবাবুকে খাইয়ে দেয়। রিকশা এসে হাজির হলে কমলা বেরিয়ে গেল। কমলা আর কী করতে পারে? পুলিশের কাছে খবর নেবে? পুলিশ অফিসার তো এসেছিলেন তিনজন। একজন তাদের থানা থেকে, একজন বর্ধমান থেকে আর একজন কলকাতা থেকে। কোথায় খোঁজ নেবে কমলা? কমলা মাঝপথে থাকতেই একটা জিপ ওর পাশ কাটিয়ে চলে গেল। পুলিশের জিপ। কমলার মনে হল বিকাশ ভিতরে বসে আছে। ওর বুকটা ধক করে উঠল। রিকশা ঘুরিয়ে সে বাড়ি ফিরে চলল। পুলিশের জিপ তাদের বাড়ির সামনেই দাঁড়িয়ে আছে। রিকশা ছেড়ে দিয়ে এক রাশ উত্তেজনা বুকে পুরে বাড়িতে ঢুকল কমলা। এবার একজন পুলিশ অফিসারই সঙ্গে এসেছেন। কমলা দেখল, তিনি আর জিপের ড্রাইভার বিকাশকে উপরে তুলে ফেলেছেন। হুইল চেয়ারটা বারান্দায় ভাঁজ করে ঠেস দিয়ে রাখা আছে। কমলা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল। ওর ঘরে ঢুকে গেল। পাখাটা ফুল স্পিডে চালিয়ে বিছানায় ধপ করে বসে পড়ল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদাসত্ব নয়, স্বাধীনতা – গৌরকিশোর ঘোষ
    Next Article এক ধরনের বিপন্নতা – গৌরকিশোর ঘোষ

    Related Articles

    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)

    প্রবন্ধ সংগ্রহ – অম্লান দত্ত

    August 8, 2025
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)

    এই দাহ – গৌরকিশোর ঘোষ

    August 8, 2025
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)

    জল পড়ে পাতা নড়ে – গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)

    August 8, 2025
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)

    মনের বাঘ – গৌরকিশোর ঘোষ

    August 8, 2025
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)

    গড়িয়াহাট ব্রিজের উপর থেকে, দুজনে – গৌরকিশোর ঘোষ

    August 8, 2025
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)

    প্রতিবেশী – গৌরকিশোর ঘোষ

    August 8, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }