Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কমলা কেমন আছে – গৌরকিশোর ঘোষ

    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী) এক পাতা গল্প156 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কমলার আরেকটি সন্ধ্যা

    দুজনেই ট্রেন থেকে নামল। আগে আগে বিকাশকে নামার ব্যাপারে সাহায্য করতে যেত কমলা। বিকাশ একটা ক্রাচ আগে নামিয়ে পরে আরেকটা ক্রাচ নামিয়ে দিত। একটু পরেই সমস্ত শরীরটাকে দোলানি দিয়ে নেমে আসত ট্রেনের কামরা থেকে। প্রথম দিকে টাল সামলাতে একটু দেরি হত। সেই মুহূর্ত ক’টার জন্য কমলা সতর্ক হয়ে অপেক্ষা করত। এখন কমলাকে কাছে থাকতে দিতে চায় না বিকাশ। কমলা বুঝতে পারে কমলার উপর নির্ভরশীলতা কমাতে চাইছে বিকাশ। এতে কমলার তো খুশি হবারই কথা। কিন্তু সে এমন অসহায় বোধ করে কেন?

    মাঝে মাঝে সে বাড়িতে থাকতে আবার একই ট্রেনে তারা ফিয়ে

    আজ তিন মাস হয়ে গেল, ক্রাচ ধরেছে বিকাশ। চায় না। কমলার সঙ্গেই কলকাতায় চলে আসে। যায় বাড়ি। সুকুমারের মৃত্যুটা কেমন যেন বদলে দিয়েছে বিকাশকে। কিন্তু শুধু কি সুকুমারের মৃত্যুই তার এতটা বদলাবার কারণ? কমলার মনে আজকাল সন্দেহ হতে শুরু করেছে। আরও কিছু তার মনটাকে ভারী করে তুলেছে। কমলার মন সেদিন কিন্তু ব্যাপারটাকে এদিক দিয়ে কিছু ভেবে দেখেনি। সেদিনের কথাবার্তার টুকরোগুলো ক্রমশ যে কেন তার কাছে অন্য অর্থ নিয়ে হাজির হচ্ছে, কমলা কিছুতেই বুঝতে পারছে না।

    বিকাশ : না না কমলা, তুমি চিনতে পারোনি।

    কমলা : ও হচ্ছে সেই লোক। আমি কী করে ওকে ভুলব বিকাশ?

    বিকাশ : তুমি নিঃসন্দেহ কমলা যে সে সুকুমার?

    কমলা : যে ছবিটা তুমি দেখালে বিকাশ, ও যদি সুকুমার হয়, তা হলে আমি নিঃসন্দেহ বিকাশ যে সেদিনের সেই লোকটাও সুকুমারই।

    বিকাশের পাশাপাশি হেঁটে চলেছে কমলা। বিকাশ এক মনে ওভারব্রিজের সিঁড়ি ভাঙতে লেগেছে। কমলা একবার বলেছিল, আমাদের তো তেমন তাড়া নেই বিকাশ। কষ্ট করে তোমার ওভারব্রিজে ওঠার দরকার কী? আমরা তো প্ল্যাটফরম দিয়েই নেমে যেতে পারি। এ সময় তো কোনও গাড়ি-টাড়ি আসে না। বিকাশ যে তার কথা পছন্দ করেনি সেটা তার চাউনি দেখেই টের পেয়েছিল কমলা। সে আর কোনও দিন এ ব্যাপারে বিকাশকে কিছু বলেনি। শুধু বিকাশ যখন সিঁড়ি ভেঙে উঠতে থাকে, কমলা একেবারে তার পিছনে পিছনে সদা প্রস্তুত হয়ে ওভারব্রিজে উঠতে থাকে। এখন তার কিছুটা হাঁফ ধরে। তবুও। বিকাশ একটা একটা সিঁড়ি খুব সন্তর্পণে উঠছে। তার পিছনে পিছনে কমলাও।

    বিকাশ : তোমার দেখার কোনও ভুল হয়নি তো কমলা? মানে তখন তো একটা অস্বাভাবিক অবস্থার মধ্যে তুমি ছিলে। বিশেষ করে তোমার মানসিক অবস্থা। সেই সময় তো তোমার মনে একটা ভয়, উত্তেজনা, আতঙ্ক, বুঝতে পারছ আমি কী বলতে চাইছি!

    কমলা : পেরেছি বিকাশ।

    বিকাশ : মনের সে অবস্থায় কোনও মানুষকে অত অল্প সময়ের মধ্যে নিশ্চিতভাবে কি চেনা সম্ভব? তাকে মনে রাখা যায়?

    কমলা : বিকাশ, আমরা হাওড়া স্টেশন থেকে পাশাপাশি বসে আসছিলাম। তখন তো আমার মনের অবস্থা অস্বাভাবিক ছিল না?

    বিকাশ : তাও তো বটে।

    কমলা লক্ষ করেছিল বিকাশ যেন ক্রমশ‍ই বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছিল।

    বিকাশ ধীরে ধীরে ওভারব্রিজের উপরে উঠল। এগিয়ে গেল রেলিংয়ের দিকে। এখন একটু জিরিয়ে নেবে বিকাশ। কমলাও জিরোবে কিছুক্ষণ। একটানা এতগুলো সিঁড়ি এক সঙ্গে ভাঙা আজকাল তার পক্ষেও কষ্ট হয়ে উঠছে। ওদের দুজনের মধ্যে সম্পর্ক এখন এমন জায়গায় এসে পড়েছে যে এ সমস্যাটা নিয়ে কোনও আলোচনা করারই সুযোগ পাচ্ছে না কমলা। সে বুঝতে পারে না সুকুমার তার উপর জবরদস্তি করেছে, এই ঘটনাটা বিকাশকে এত বিচলিত করে তুলেছে কেন? অথচ ঘটনা ঘটার পর সেদিন বিকাশকে যখন বলেছিল, তখন ভয় পেয়েছিল বিকাশ, তাঁর সম্পর্কে যথেষ্ট উদ্বেগ বোধ করেছিল, কিন্তু কমলার সঙ্গে তার সম্পর্ক তো শীতল হয়ে ওঠেনি।

    কমলা : লোকটার হাতে লেডিস রুমাল পাওয়া গিয়েছে। তুমি সেটা দেখেছ বিকাশ?

    বিকাশ : রুমালের কথা তুমি কী করে জানলে?

    কমলা : কাগজে রিপোর্ট করেছিল। তা ছাড়া বর্ধমানের ডেলি প্যাসেনজাররা তার পরদিন ওটা নিয়ে খুব আলোচনা করছিল। ওরা বলছিল, রায়দা নাকি নিজের চোখে দেখেছিলেন যে গুলি বিঁধে পড়ে থাকা লোকটার ডান হাতের মুঠোয় একটা লেডিস রুমাল ছিল। তুমি কি এটা জানও বিকাশ?

    বিকাশ : আমি রুমালটা দেখেছি।

    কমলা : (হঠাৎ উত্তেজিত) : তুমি দেখেছ সেই রুমাল?

    বিকাশ : হ্যাঁ কমলা, দেখেছি। সেটা পুলিশের হেফাজতে আছে।

    কমলা : থাক। তুমি রুমালটাকে মনে করতে পারছ? কী রকম রং তার? কী রকম সাইজ? তুমি ঐ রকম আরেকটা রুমাল দেখলে মনে করতে পারবে যে দুটো অবিকল এক রকম কি না? পারবে বিকাশ?

    বিকাশ : হয়তো পারব। হ্যাঁ পারব। কেন বলো তো?

    কমলা : পারবে?

    কমলা তক্ষুনি ছুটে গিয়ে নীচে থেকে একটা পাটকিলে রংয়ের রুমাল তার হাতব্যাগ থেকে এনে দেখিয়েছিল বিকাশকে।

    কমলা : এই রকম না রুমালটা?

    বিকাশ (অবাক হয়ে গিয়েছিল) : হ্যাঁ, এই রুমাল। এই রকমই একটা রুমাল সুকুমারের মুঠোয় ধরা ছিল।

    কমলা : সেটা আমার রুমাল, বিকাশ। সুকুমার কোনও এক সময় আমার ব্যাগ থেকে বের করে নিয়েছিল নিশ্চয়ই। আমি সেদিন ঐ রুমালটা নিয়েই বেরিয়েছিলাম। পরে আর খুঁজে পাইনি। ভেবেছিলাম ধস্তাধস্তিতে সেটা বোধহয় সেই কামরাতেই পড়ে গিয়েছে।

    বিকাশ তার সঙ্গে আজ একটা কথাও বলছে না। কী যেন ভাবছে গভীরভাবে। কমলা লক্ষ করেছে, বিকাশ দিনরাতই কোনও গভীর ভাবনা নিয়ে পড়ে থাকে আজকাল। বিকাশ চলতে আরম্ভ করল। কাঠের ওভারব্রিজে বিকাশের ক্রাচ ঠক ঠক শব্দ করতে করতে চলেছে। কমলা এইবার বিকাশের আগে আগে চলতে লাগল। সিঁড়ি দিয়ে বিকাশ যখন নামতে থাকে, কমলা তখন তার আগে আগে নামতে থাকে। কমলাকে এগিয়ে চলতে দেখে বিকাশ তার দিকে একবার শাস্ত চোখে তাকাল। তারপর নীচের দিকে সতর্ক নজর রেখে বিকাশ চলতে থাকল। বিকাশ যখন পথ চলে তখন তার দৃষ্টি থাকে ক্রাচের ডগায়। স্প্লিন্ট লাগিয়ে বিকাশ এখন পায়ের উপর কিছুটা ভর দিতে পারে।

    কমলা : কিন্তু সুকুমার আমার টাকাপয়সা নিল না। আমি ওকে সবই দিতে চেয়েছিলাম। সব টাকা। স্টেশনে আমাকে যত্ন করে নামিয়ে দিয়েছিল সুকুমার। তার আগে আমার হাতে আমার ব্যাগটা তুলে দিয়েছিল। তারপরে…তারপরে আমাকে ওর বুকের মধ্যে টেনে নিয়েছিল। দীর্ঘ একটা চুমু খেয়েছিল বিকাশ। তারপরে আমাকে হাত ধরে ট্রেন থেকে নামিয়ে দিয়েছিল। যেন কতকালের চেনা। আমি এর মানে বুঝিনে।

    বিকাশ : চুপ করো কমলা। চুপ করো। এ কথা এখন থাক।

    তারপর থেকেই কমলা দেখেছে, বিকাশ কেমন যেন হয়ে যেতে লাগল। দিনরাত এখন ভাবে। কমলার মনে হয় দুজনের মধ্যে ধীরে ধীরে একটা পাঁচিল যেন কেমন করে উঠে পড়ল। বিকাশকে ডাঃ সরকারের কাছে নিয়ে গিয়েছিল কমলা। কেন না সে বিকাশের একটা অস্থিরতা টের পাচ্ছিল। কিন্তু সপ্লিন্ট ক্রাচ পেতে যত দেরি হচ্ছিল, ততই…

    সিঁড়ি দিয়ে উঠতে বিকাশের যত না অসুবিধা হয়, তার চাইতে ঢের অসুবিধা হয় সিঁড়ি ভেঙে নামতে। কমলাকেও তখন সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে হয়। যেন সমস্ত ইন্দ্রিয়কেই সজাগ থাকতে সতর্ক করে দেয় কমলা। ওভারব্রিজের শেষ ধাপে এসে মাটিতে নামবার মুখেই বিকাশের একটা ক্রাচ নড়বড়ে একটা নুড়ির উপর পড়তেই ছিটকে তার হাত থেকে বেরিয়ে গেল। টাল খেয়ে পড়ে যাচ্ছিল বিকাশ। কমলা ব্যস্ত হয়ে তাকে দু’হাতে জাপটে ধরে সামলাল। বিকাশ আর কমলা, দুজনের শরীরই তখন কাঁপছে।

    কী হল মশাই, বলে এক ভদ্রলোক এগিয়ে এসে বিকাশের ক্রাচটা তার হাতে তুলে দিলেন।

    বুঝতেই তো পারছেন পঙ্গু লোকেদের জীবনযাপনের হ্যাজার্ড। ধন্যবাদ।

    তারপর বিকাশ কমলাকে বলল, সরো কমলা। আমি নামি।

    আমি তোমাকে নামিয়ে দিচ্ছি।

    না।

    কমলা সরে দাঁড়াল।

    বিকাশ মাটিতে নেমে কমলার দিকে চেয়ে একটু শুকন হাসল।

    এ জগতের সীমানা তোমার নাগালের চাইতে আরও অনেক বড় কমলা। তোমার আঁচলের তলায় আর কত দিন ঢেকে রাখবে আমাকে?

    অতি সতর্কভাবে বিকাশ একটু একটু করে এগুতে লাগল।

    তুমি আমাকে একদিন নিষ্ঠুর বলেছিলে বিকাশ। কিন্তু তুমি যে তার চাইতে শত গুণে নিষ্ঠুর, তা তুমি বোধ হয় টের পাও না।

    আমাকে তোমার নিষ্ঠুর বলে মনে হয় কমলা?

    বিকাশ থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। কমলার মুখের দিকে সে কিছুক্ষণ চেয়ে দেখল। কেমন একটা আলগা লাবণ্য আর তার সঙ্গে সুগভীর ক্লান্তি কমলার মুখটা ছেয়ে আছে। কমলা কেমন অদ্ভুতভাবে হাসল তার দিকে চেয়ে। বিকাশের মনে হল, এটা কান্নাও হতে পারত। বাতাসে শরতের একটা টান এরই মধ্যে এসে গিয়েছে।

    কমলা স্টেশন গেটের দিকে চলতে আরম্ভ করল। বিকাশ তার পাশে পাশে।

    আমাকে তোমার নিষ্ঠুর বলে মনে হয় কমলা?

    কমলা জবাব দিল না।

    কমলা!

    কমলা জবাব দিল না। চলতে থাকল। বেরোবার গেটের সামনে ওরা মাত্র দুজন।

    টিকিট কালেকটার ওদের দেখে হাসলেন। ওরা তার সামনে দাঁড়িয়ে পড়ল।

    তোমার টিকিটটা দিয়ে দাও বিকাশ।

    বিকাশ টিকিট বের করে কালেকটারের হাতে জমা দিল।

    ভদ্রলোক হেসে বললেন, এই ক’দিনের মধ্যে বেশ ভালই রপ্ত করে ফেলেছেন দেখছি। ট্রেনে চাপতে এখন আর অসুবিধে হয় না। না?

    ট্রেনে চাপতে আর অসুবিধা হয় না। তবে রিকশায় চাপতে এখনও গা শিরশির করে।

    আচ্ছা! কেন বলুন তো?

    টিকিট কালেকটার হাতের টিকিটগুলো গুছিয়ে নিতে লাগলেন।

    কোনও কারণ তেমন নেই। তবে কি জানেন, কোনও কোনও জিনিসের উপর মন ঢেলে আস্থা রাখা যায় না। মনে হয় ভর দিলেই স্লিপ করবে।

    ওরা দুজনে গেট দিয়ে বেরিয়ে গেল। ওদের পরিচিত রিকশাওয়ালাটা ওদের দেখে প্যাঁক মেরে এগিয়ে এল।

    ঝড়ু, আজ আর তোকে লাগবে না। যা তুই অন্য লোক ধরে নে।

    কমলা তার ব্যাগ খুলে তাকে একটা টাকা গুঁজে দিল।

    ঝড়ু জিজ্ঞেস করল, কাল সকালে?

    যেমন যাস যাবি।

    কমলা বিকাশের দিকে না তাকিয়েই হাঁটতে শুরু করে দিল। ঝড়ু প্যাঁক প্যাঁক করে শব্দ তুলে বেরিয়ে গেল। বিকাশ কিছুক্ষণ হাঁ করে দাঁড়িয়ে রইল। কমলার এ দুর্বোধ্য ব্যবহারের সে কোনও মানে খুঁজে পেল না। কমলা কোনও কারণে তার উপর বেজায় চটে গিয়েছে, এটা সে বুঝতে পারল। অন্য সময় হলে এ কথা বিকাশ কমলাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করতে পারত। কিন্তু এখন কেমন বাধো বাধো ঠেকল তার কাছে। তার মানে কমলা তার কাছ থেকে বেশ দূরে সরে গিয়েছে। আরও সরে যাচ্ছে কমলা। বিকাশ দেখল, কমলা অনেকটা এগিয়ে গিয়ে রিকশা স্ট্যান্ডটা ছাড়িয়ে তার জন্য দাঁড়িয়ে আছে। মুখখানা তার গম্ভীর। দু’এক গাছি চুল হাল্কা বাতাসে এলমেলো উড়ছে। এইটুকু দূরত্ব থেকেই কমলাকে কেমন অন্য জগতের বাসিন্দা বলে মনে হচ্ছে। বিকাশ ক্রাচে ভর দিয়ে মুখ নিচু করে অতি সন্তর্পণে একটা একটা পা ফেলে ফেলে এগুতে লাগল। ওটা কমলারই রুমাল। খচ করে কথাটা বিকাশের মনে ঘা দিয়ে উঠল। অথচ ওটা পাওয়া গেল মৃত সুকুমারেরই হাতে। কমলাকে সেইদিন ফাঁকা কামরায় পেয়ে সুকুমার নিজেকে আর সংযত রাখতে পারেনি। সুকুমার কমলার কাছে সে কথা অকপটে স্বীকার করেছিল। অন্তত কমলার কাছে এটা সুকুমারের অকপট স্বীকারোক্তি বলেই মনে হয়ছিল। কিন্তু এটা কি বিশ্বাসযোগ্য ঘটনা? কেমন যেন মেনে নিতে পারে না বিকাশ। সত্যি বলতে কি, সুকুমারের মৃতদেহ মর্গে দেখে সে যে রকম আঘাত পেয়েছিল, গুরুতর আঘাত, কমলা যখন তাকে তার রুমালটা এনে দেখাল তখন তেমনি এক গুরুতর আঘাতে সে জর্জরিত হয়ে গিয়েছিল। বোধ হয় পরের আঘাতটা বেশি বেজেছিল তার বুকে। সুকুমার পুলিশের গুলিতে প্রাণ দিয়েছে, এটা তার কাছে দারুণ এক শোকাবহ ঘটনা। কিন্তু বিকাশ ভেবে দেখেছে, এটা তার কাছে কোনও অপ্রত্যাশিত ব্যাপার নয়। এই রকম মৃত্যুই তো সুকুমারের পক্ষে স্বাভাবিক মৃত্যু। কিন্তু মৃত সুকুমার হাতের মুঠোয় কমলার রুমাল চেপে ধরে আছে, এর চাইতে অপ্রত্যাশিত, এর চাইতে আশ্চর্য ঘটনা আর কী হতে পারে? এর জন্য বিকাশের তো কোনও প্রস্তুতি ছিল না। ওরা কি একেবারেই কেউ কাউকে চিনত না? সুকুমারের মৃত্যুতে তা হলে কমলা কেন এত বিচলিত হয়ে উঠেছিল? যে রেপিস্ট, যে তাকে অসহায় পেয়ে তার সুযোগ নিয়েছে, তাকে রেপ করেছে, তার মৃত্যু ধর্ষিতা কমলাকে এত বিচলিত করে তুলবে? সেদিন কমলা যেভাবে ওর আর একটা রুমাল এনে বিকাশকে দেখাল, একেবারে জুড়ির রুমাল, একেবারে এক রকম, তাতে কি এই মনে হয় না যে সুকুমারই যে মরেছে সে সম্পর্কে কমলা একেবারে নিশ্চিত হতে চেয়েছিল। বিকাশ যখন জানাল যে হ্যাঁ, একই রুমাল, তখন অমন শূন্য হয়ে উঠল কেন কমলা? কেউ কাউকে চিনত না? এর আগে কখনওই দুজনার দেখা হয়নি? ট্রেনে? কোনও হাইড আউটে, এই বাড়িতে? এই অঙ্কটা কিছুতেই মেলাতে পারছে না বিকাশ। ফলে প্রচণ্ডভাবে ভুগছে এই জন্য। কমলা যে ধরনের মেয়ে, তাতে সে মিথ্যে কথা বলছে, বিকাশের মন কিছুতেই এটা মেনে নিতে পারছে না। তাই এ প্রশ্নটা কিছুতেই সে তাকে করতে পারছে না। আবার কেন সে এই জটিল দুর্বোধ্য অঙ্কটাকে মেলাবার জন্য এমন গোঁ ধরে আছে, তাও তো সে বুঝতে পারছে না। সুকুমার এবং কমলা, দুজনেই তো ব্যক্তিহিসাবে সাবালক। তাদের যা খুশি তা-ই করার অধিকার আছে। তার মধ্যে বিকাশ মাথা গলাতে চাইছে কেন? কমলা তার জন্য এ পর্যন্ত যা যা করেছে, তার জন্যই তো বিকাশের কমলার কাছে সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। কমলার যদি গোপন জীবন থাকে, কোন অধিকারে সে তা জানতে চাইবে? একদিন সে কমলাকে বিয়ে করেছিল বলে? কিন্তু সে অধিকারের কি কোনও মানে হয়? বিকাশের বোকামি সেটা, বিয়েটাই তো তার বোকামির একটা বড় নিদর্শন। কমলাকে সেই অধিকার মানতে হবে কেন? তারই বা সেটা মানার কী দরকার? তা হলে? তা হলে কী আর থাকে তার আর কমলার মধ্যে?

    কমলার কাছাকাছি এসে পড়ে তার একটা ভারী নিঃশ্বাস পড়ল। তারপর বিকাশ মনে মনে বলল, না, কিছুই থাকে না। কিছু নেইও। আজ সারা ট্রেন সে কমলার পাশাপাশি বসে যেটা ভাবতে ভাবতে এসেছে, বাড়ি গিয়ে সেটা কমলাকে বলে ফেলা দরকার। বলবে সে।

    তোমার কি চলতে অসুবিধে হচ্ছে বিকাশ? একটা রিকশা নেব?

    তুমি রিকশাটা ছেড়ে দিলে কেন কমলা?

    রিকশায় উঠতে তুমি স্বস্তি বোধ করো না, এটা তো আগে জানতাম না বিকাশ? এখন তো আর বৃষ্টি-বাদলাও নেই তেমন। তোমার যদি অসুবিধা না হয় তো রোজই আমরা এটুকু পথ হেঁটেই যাব।

    তুমি কি আমার উপর রাগ করেছ কমলা?

    রাগ? না।

    তা হলে?

    কী তা হলে?

    খরচ বাঁচাচ্ছ?

    হ্যাঁ, সেটা বরং বলতে পারো।

    আমি তোমার উপর খরচের মস্ত একটা বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছি।

    কমলা মুখ ফিরিয়ে বিকাশকে একবার দেখল। তারপর হাঁটতে লাগল।

    আমি বুঝতে পারি, কমলা।

    কমলা এবারও কোনও কথা বলল না।

    ওরা দুজনে পাশাপাশি হাঁটতে লাগল।

    তুমি ওথেলো পড়েছ কমলা?

    ওথেলো, হ্যাঁ পড়েছি। ওটা আমাদের পাঠ্যও ছিল।

    নাটকটা দেখেছ কমলা?

    না। সিনেমায় দেখেছি।

    কবে?

    অনেকদিন আগে? ক্লাস পালিয়ে। সেই যখন ইউনিভার্সিটিতে পড়ি। কিন্তু এখন ওথেলোর কথা কেন?

    অনিন্দ্য নিয়ে গিয়েছিল?

    হ্যাঁ। কিন্তু এত জিনিস থাকতে ওথেলোর কথা কেন?

    কথাটা হঠাৎ মনে এল। আমরা কলেজে একবার ওথেলো নামিয়েছিলাম। বাংলায়। আমি ইয়াগো।

    দুজনে হাঁটতে লাগল। হাঁটতে হাঁটতে ওরা বাড়ির দরজায় এসে পড়ল। কমলা চাবি বের করল।

    বিকাশ বলে উঠল, তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করব কমলা?

    কমলা থমকে দাঁড়াল। চাবির গোছা তার হাতে।

    করো।

    এখন তোমার কার কথা মনে পড়ছে কমলা? ঠিক এই মুহূর্তে।

    কমলা স্থির দৃষ্টিতে বিকাশের মুখের দিকে চেয়ে থাকল।

    আন্দাজ করতে পারো বিকাশ?

    অনিন্দ্য?

    কমলার মুখে একটা কঠিন হাসি ফুটে উঠল।

    না বিকাশ, হল না। সুকুমার।

    সুকুমার!

    বিকাশ দৃঢ়ভাবে কমলার মুখের দিকে চেয়ে রইল। কর্মলাও কিছুক্ষণ বিকাশের দিকে চেয়ে রইল। তারপর চাবি দিয়ে তালাটা খুলল।

    হ্যাঁ বিকাশ, সুকুমার। তোমার ওথেলো আমার মনে আবার একটা প্রশ্ন নতুন করে জাগিয়ে তুলল। সুকুমারের মৃত মুঠিতে আমার রুমলাটা ধরা ছিল কেন? কেউ যদি এই ঘটনাটা নিয়ে একটা নাটক লেখে, বেশ হয়। না বিকাশ? তুমি লিখবে বিকাশ? লেখো না?

    কমলা সদর দরজা খুলে ভিতরে চলে গেল। রোজ কমলা তার জন্য অপেক্ষা করে। বিকাশের মনে হল, কমলার এমন ভয়ঙ্কর মূর্তি সে আগে আর দেখেনি। কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে সে সেখানেই দাঁড়িয়ে রইল। তারপর সে ক্রাচ দুটোকে বগলে চেপে নিপুণ অভ্যাসে দরজা পার হয়ে উঠোনে, উঠোন পার হয়ে বারান্দায়, বারান্দা পার হয়ে দালানে, দালান পার হয়ে দোতলার সিঁড়ি একটা একটা করে খট খট করে ভেঙে উপরে উঠতে লাগল। এক লহমার জন্য কমলার ঘরে নজর পড়ল তার। কমলা উপুড় হয়ে শুয়ে রয়েছে তার বিছানায়। একবার থামল সে। কিছু ভাবল। তারপর আবার সে সিঁড়ি ভাঙতে লাগল। খট খট খট।

    কমলার কানে শব্দটা একটানা কিছুক্ষণ বাজল। তারপর সমস্ত বাড়িটা নিস্তব্ধ হয়ে গেল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদাসত্ব নয়, স্বাধীনতা – গৌরকিশোর ঘোষ
    Next Article এক ধরনের বিপন্নতা – গৌরকিশোর ঘোষ

    Related Articles

    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)

    প্রবন্ধ সংগ্রহ – অম্লান দত্ত

    August 8, 2025
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)

    এই দাহ – গৌরকিশোর ঘোষ

    August 8, 2025
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)

    জল পড়ে পাতা নড়ে – গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)

    August 8, 2025
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)

    মনের বাঘ – গৌরকিশোর ঘোষ

    August 8, 2025
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)

    গড়িয়াহাট ব্রিজের উপর থেকে, দুজনে – গৌরকিশোর ঘোষ

    August 8, 2025
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)

    প্রতিবেশী – গৌরকিশোর ঘোষ

    August 8, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }