Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কলকাতার কাছেই – গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    গজেন্দ্রকুমার মিত্র এক পাতা গল্প415 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১২. হেম আট বছরে পড়ল

    দ্বাদশ পরিচ্ছেদ

    ওসিআর ভার্সন। ভুল সংশোধন করা হয়নি।

    হেম একসময় আট বছরে পড়ল। কথাটা অবিশ্বাস্য হলেও সত্য। যেখানে এক বছরও কাটবার কথা নয় সেখানে এক কাল কি ক’রে কাটল ভেবেই পায় না শ্যামা।

    চুরি ক’রে করে সংগ্রহ করে শ্যামা। শুধু শ্যামাই বা কেন

    ―

    ‘

    সরকারদের প্রকান্ড বাগানের পাকা তাল, নোনা, আতা, নারকেল, পেঁপে, কলা

    হেম, মহা সবাই।এটা আর গোপনও নেই সরকাররা সবাই জানে। এখন শুধু চলে লুকোচুরি খেলা পিঁটকীর ছেলেটা সব চেয়ে বড় শত্রু, সে আজকাল প্রায় সারাদিনই বাগানে বসে থাকে, আর ওদের কারও টিকি দেখলেই নাকে কাঁদে, ‘ও মা দ্যাখো, আবার ওঁই বামুনগুলো এঁসেছে চুরি করতে ও মা –‘

    আর মহা, ওদেরই কাছে শুনে শুনে গালাগাল শিখেছে, সে আধো-আধো কণ্ঠেই আঙুল মটকে শাপ দ্যায়, ‘হতচ্ছাড়া ছেলে মরেও না– মর্ মর্

    এইভাবে চলে টানাটানি যখন ধরা পড়ে তখন চোরের মার খায় একদিন, বামুনের ছেলে ব’লে রেয়াৎ করে না কেউ। শ্যামা দিনের আলোয় ও চেষ্টা করে না রাত্রির অন্ধকারে গা ঢেকে ঘুরে বেড়ায় নিশাচরী প্রেতিনীর মত। আগে আগে সরকারেরা ভয় পেত, সত্যি-সত্যিই ‘অন্যি দেবতা’ মনে ক’রে চিৎকার ক’রে রামনাম করতে করতে দৌড়ত, অন্ধকারের মধ্যে সাদা কাপড় পরা ওকে দেখে কিন্তু ক্রমে কথাটা জানাজানি হয়ে পড়ায় তারাও নির্ভয়ে বেরোয় বাগানে। তাল কি নারকেল পড়ার শব্দ হ’লেই দু দলে চলে প্রতিযোগিতা কে আগে আসতে পারে! সরকারদের ছেলেমেয়েরাও নির্ভয়ে বেরিয়ে আসে–বামনী ত আছেই বাগানে, ভয় কিসের?

    যেদিন শ্যামা আগে পৌঁছয়, ফল সংগ্রহ ক’রে নিয়ে নিঃশব্দে ফিরে চলে আসে। ওরা সারা বাগান তোলপাড় ক’রেও কিছু খুঁজে পায় না। তখন ফিরে যাবার সময় হেমদের জানালার কাছে এসে দাঁড়িয়ে গালাগাল দিয়ে যায়, ‘বামুন না ঘোড়ার ডিম! চোর, চোর সব! চোর আবার বামুন হয়? মর্ মর্

    . ওলাউঠো হোক্!’ কিন্তু শুধু ত সংগ্রহ করাই নয় . তা থেকে কিছু অর্থ সমাগমও প্রয়োজন। সেটা আরও কঠিন। পাড়াগাঁয়ে সবাই কিছু কিছু জমি নিয়ে বাস করে ফল- ফুলুরী সব্‌জী প্রত্যেকের বাড়িতেই হয়, সুতরাং পাড়াঘরে এসব কেনবার লোক নেই। বিক্রি হয় সুদূর শিবপুরের বাজারে পাঠালে

    কিংবা আর’ দূরে

    শালিমারে।

    একসঙ্গে সব কিছু সংগ্রহ হয় না। রোজ রোজ অত দূরে যায় কে? কাজেই অধিকাংশ দিনই ঐ সব পাকা ফল খেয়ে ফেলতে হয়, ঐ খেয়েই জীবনধারণ করতে হয়। যেদিন দু’রকম জিনিস জমে সেদিন শ্যামা বেরোয় খদ্দেরের খোঁজে। তাও পাহারার শেষ নেই। অনেকক্ষণ একটা একটা ক’রে জিনিস সরিয়ে কোন গোপন স্থানে রেখে আসে, তারপরে মা ছেলে দু’ পথে গিয়ে সেখানে মিলিত হয়। মহা একা বাড়ি থাকে। শ্যামা মাল বয়ে নিয়ে গিয়ে বাজারের কোথাও গাছের আড়ালে অপেক্ষা করে, হেম ভেতরে গিয়ে বিক্রি করে। দর একেই কম ছেলেমানুষ দেখে আরও কম দেয়

    অর্থাৎ এত

    কান্ড ক’রে, এত পথ হেঁটে পয়সা মেলে কোনদিন দু আনা, কোনদিন দশ পয়সা, কোনদিন বা আরও কম। ফেরবার পথে যেদিন হেম রৌদ্রের তাপে আউতে-ওটা দোলনচাঁপার পাপড়ির মত নেতিয়ে পড়ে সেদিন বড়জোর এক পয়সার বাতাসা কিনে মায়ে-বেটায় কোন পুকুরপাড়ে বসে একটু জল খেয়ে নেয়। তার চেয়ে বেশি খরচ করতে ভরসা হয় না, কারণ ঐ সামান্য পয়সাতেই চাল কিনতে হবে আজকাল এই ভাত খাবার দিনগুলো ওদের কাছে মহোৎসবের দিন।

    হয়

    —–

    আর এত কষ্টের পর যেদিন চালান করার মুখে ছেলেমেয়েরা ধরা প’ড়ে নির্যাতিত মালও হয় বাজেয়াপ্ত, সেদিন শ্যামা অন্তরালে থেকে অসহায় ভাবে মাথা খুঁড়ে কপাল ফুলিয়ে ফেলে শুধু কোন প্রতিকারই করতে পারে না। আর সে নির্যাতনেরও নব নব রূপ দস্তুরমত যেন গবেষণা ক’রে বার করা হয়। একদিন-বা হাতে বেঁধে গায়ে আলকুশী ঘষে দেওয়া হ’ল আর একদিন হয়ত বিছুটি ঘষে জল ঢেলে দিলে গায়ে। এমনি নানারকম কৌশল। সব চেয়ে কষ্ট হয়েছিল শ্যামার যেদিন সত্যিই অপরের বাগান থেকে চেয়ে আনা একটা নোনার জন্য মহাশ্বেতাকে শীতের বিকেলে পুকুরের জলে ডুবিয়ে ওর মাথায় পা দিয়ে চেপে রইলেন অক্ষয়বাবু স্বয়ং, চোর বলেই ধ’রে নিলেন,কোন কথাই বিশ্বাস করলেন না। দু’তিন মিনিট ঐভাবে থেকে হাঁপিয়ে মেয়ে যখন নীল হয়ে উঠেছে তখন হেমের মুখে সব কথা শুনে শ্যামা আর থাকতে পারলে না, ছুটে এসে জোর ক’রে মেয়েকে টেনে জল থেকে কোলে তুলে নিয়ে অশ্রুরুদ্ধ কণ্ঠে বললে, ‘এই ত পাশেই চট্‌খন্ডীদের বাড়ি, ওরা দিয়েছে কি না জেনেই না হয় মেয়েটাকে খুন করতেন! এই দুধের বাছাকে এমনভাবে মেরে ফেলতে লজ্জা হয় না আপনার?’

    অক্ষয়বাবুও ভেংচি কেটে জবাব দিলেন, ‘লজ্জা হয় না তোমাদের বাগান-সুদ্ধ ফল চুরি করতে?’

    শ্যামা এর আগে কোনদিন কথা কয় নি ওঁর সঙ্গে, বলে ফেলে লজ্জিতই হয়েছে তবু এখন আর ফেরা যায় না– সেও সদম্ভে জবাব দিলে, ‘ফল ত কত পাখি- পাখালি কাকে বাদুড়ে-ভামে খেয়ে যাচ্ছে, না হয় খেলই বামুনের ছেলেমেয়েরা দুটো।

    তাই বলে বামুনের কুমারী মেয়ের মাথায় পা! মা সতীরাণী এর বিচার করবেন।’

    এতক্ষণে আরও ভাল ক’রে মেয়ের নীল মুখের পানে চেয়ে দেখবার ফুরসুত হয়েছে শ্যামার। কেমন যেন হয়ে গেছে মহাশ্বেতা, ঠোঁট দুটো কাঁপছে শুধু কাঁদতেও

    পাড়ছে না। সেই দেখে আরও জোরে কেঁদে উঠে পাগলের মত একটা আমগাছে সে মাথা খুঁড়তে লাগল।

    এইসব গোলমালে ততক্ষণে মঙ্গলা ছুটে এসেছেন। মঙ্গলা স্বামীকে তিরস্কার করলেন। জোর ক’রে শ্যামার চোখের জল মুছিয়ে মেয়েটাকে নিজের শুকনো আঁচল দিয়ে গা মুছিয়ে বুকের মধ্যে ক’রে নিয়ে ঘরে পৌঁছে দিলেন, ‘ষাট্ ষাট্, কিছু মনে করিস্ নে মা, ও মিসে অমনি। রাগলে আর ওর জ্ঞান থাকে না!

    শ্যামা কিছু বললে না। কিন্তু দৈবক্রমে সেই দিনই পিঁটকীর এক মেয়ের প্রবল জ্বর হ’ল–দিন দুই পরে ডাক্তার ডাকতে শোনা গেল, নিমোনিয়া। ওরা যত ভয় পেলে শ্যামাও তত, সত্যি-সত্যিই কিছু ভাল-মন্দ হবে না তো মেয়েটার? হে মা দুগ্‌গা, হে মা কালী, রক্ষে করো মা। দিনরাত জপ করে শ্যামা।বড় দুর্দিনে আশ্রয় দিয়েছে, উপকারও যে কিছু করে নি তা নয়!

    মঙ্গলা এসে জোর ক’রে একদিন ওকে ধরে নিয়ে গিয়ে ওর পায়ের ধুলো মেয়েটার মাথায় গায়ে মাখিয়ে দিলেন। ওর হাত দুটো ধরে বার বার বলতে লাগলেন, ‘তুই ওকে মাপ কর্ বামনি, মাপ কর্, নইলে দুধের বাছা আমার বাঁচবে না।’ পিঁটকী এসে দুটো পা ধরে পড়ে রইল। ‘কি শাপ দিলি বামুন-দি, মেয়েটা আমার শুকিয়ে মরে গেল!’

    কেমন ক’রে বোঝাবে শ্যামা ওদের যে, শাপ সে সত্যিই দেয় নি। এত ছোট মন

    নয় তার।

    সে কিছুই বলতে পারলে না, শুধু হাউ হাউ ক’রে নিজেও খানিক কাঁদলে। তারপর অচৈতন্য মেয়েটার মাথার কাছে বসে প’ড়ে ওর সর্বাঙ্গে হাত বুলোতে বুলোতে বলতে লাগল, ‘ওর সব বালাই নিয়ে আমি যেন মরি মা ওর যেন কোন অনিষ্ট না হয়। ছি ছি –কী বলছেন আপনারা, এ আমি স্বপ্নেও কোন দিন ভাবি নি!’

    যাই হোক্‌

    শ্যামা কাঠ হয়ে রইল কদিন। সে যেন কন্টকশয্যা। অক্ষয়বাবু

    নিজে একদিন উঠোনে দাঁড়িয়ে মাপ চেয়ে গেলেন। এক ধামা চালও পাঠিয়ে দিলেন

    এর ভেতর। তেরোদিন পরে ডাক্তার যেদিন বললে আর ভয় নেই . সেদিন প্রকান্ড প্রকান্ড দুটি ঝুড়ি বোঝাই ক’রে এল সিধে চাল ডাল তেল ঘি আটা ময়দা একটা শাড়ি পর্যন্ত।

    J

    মায়

    সেই থেকে এঁরা আর বিশেষ ঘাঁটান নি শ্যামাদের। বরং বলা চলে, মঙ্গলা একটা রফাই ক’রে নিলেন। স্থির হ’ল যে বাগানে যা নারকেল পাতা পড়বে–মায় গাছ ঝাড়িয়ে যা কেটে ফেলা হবে, সব শ্যামা পাবে, তা থেকে ঝাঁটার কাঠি করিয়ে শ্যামা শহরে বিক্রি করতে পাঠাবে, শুধু সরকারদের দরকার মত কিছু কিছু দেবে ওঁদের।… আর জ্বালানী পাতা অর্ধেক ওদের অর্ধেক শ্যামার।

    সেই শুরু হ’ল পাতা-জমানো।

    খ্যাংরা এক-একবারে

    এ বন্দোবস্তে শ্যামা খুশী হল। নারকেল গাছ কম নয় পাঁচ সের আন্দাজ জমলে বয়ে বয়ে নিয়ে যায় সে শিবপুরের বাজারে। পাঁচ আনা ছ আনা পয়সা হয়। তার সঙ্গে ফল-ফুলুরি কিছু কিছু বেচেও দু’চার পয়সা হয়।

    128

    অর্থাৎ কোনমতে উপবাসে শুকিয়ে মরাটা বাঁচে।

    কমলা মধ্যে মধ্যে দু’পাঁচ টাকা অবশ্য পাঠায় ছেলেমেয়েদের নাম ক’রে। সে টাকা এলে তেলমশলা কাপড় ইত্যাদি কেনে শ্যামা একেবারে কিনে ফেলে। নইলেত শুধু

    নগ্নতার জন্যই বাইরে বেরোনো বন্ধ হয়ে উপবাস ক’রে মরতে হ’ত ওদের।

    নরেন আজকাল আসে ছ মাস আট মাস অন্তর। কিছু কিছু হয়ত হাতে ক’রেই আসে কিন্তু সেগুলি নিজেই খেয়ে নিঃশেষ ক’রে যায়। এদের কথা চিন্তা করার অভ্যাস তার নেই।

    ―

    কোথায় যায় সে, কোথায় কোথায় ঘোরে কী খায় কী করে এ সব প্রশ্ন আজকাল আর শ্যামা করে না। সে সহজ ভাবেই মেনে নিয়েছে তার স্বামীভাগ্যকে শুধু ওর কথাবার্তার মধ্যে থেকে প্রকাশ হয়ে পড়ে যে সে এক-রকমের ভ্রাম্যমাণ পুরোহিতের পেশা থেকেই সাধারণত পেট চালায় প্রয়োজন হলে চুরি-জুচ্চুরিতেও আপত্তি নেই। জুয়া খেলার কৌশল খুব ভাল রকম আয়ত্ত করেছে, এমন কি পথে- ঘাটে অপরিচিত লোকের সঙ্গেও খেলতে বসে যায়, জিতলে সে পয়সা ট্যাকে গুঁজে সোজা কোন পতিতালয়ে বা মদের দোকানে গিয়ে ওঠে আর হারলে অম্লান বদনে জানায় যে তার সঙ্গে কিছু নেই; সত্যি-সত্যিই থাকে না কিছু, সুতরাং বিজয়ী পক্ষ কিছুই করতে পারে না, কেউ শুধু গালাগাল দিয়ে ছেড়ে দেয়, কেউ দু’চার ঘা দেয় উত্তম-মধ্যম।

    ‘ট্যাক থেকে যখন পয়সা খসছে না তখন আর কি, কোনটাতেই আমার আপত্তি নেই। যত মারই দিক, একপো ধেনো কিনে মালিশ করলেই গায়ের ব্যথা মরে যায়। হুঁ হুঁ বাবা, নগদ টাকা বার করবে এ শম্মার কাছ থেকে, এমন লোক এখনও জন্মায় নি।’

    বিজয়গর্বে কথাগুলো প্রচার ক’রে নিজের বুকে ঘুষি মারে।

    দুই

    বুদ্ধিটা মঙ্গলাই দেন। তাঁরও প্রয়োজন ছিল অবশ্য। বেচা ঠাকুর কিছুদিন ধরেই নানাখানা রোগে ভুগছে আজকাল পুজো করানো হয়েছে এক সমস্যা।

    একদিন দুপুরবেলা এসে ওদের ঘরে জেঁকে বসে বললেন, ‘এক কাজ কর বামুন মেয়ে, ছেলেটা ত আট বছরে পড়ল, ওর একটা পৈতে দিয়ে দে।’

    পৈতে! এরই মধ্যে?’

    ক’রে দেব?

    হচকিয়ে যায় শ্যামা, ‘আমি কোথায় কি পাবো, কেমন

    ‘যেমন ক’রে হোক দে। এই ত ঠিক পৈতের বয়স। পৈতেটা হয়ে গেলে পূজোটা ও-ই হাতে নিতে পারবে। নিতনেই নিত্যি নেই, নিত্যি উপোস সেটা ত ঘুচবে। চালটা হাতে পাবি, দুধ-বাতাসা থাকবে এক রকম ক’রে চলে যাবে। চাই কি, গাঁয়ের দু- একটা মনসা পুজো লক্ষ্মী কিছুদিন ধরেই না। থানা রোগে করানো মাসে তেরো পর্ব।।

    আজকাল পূজো

    – ১২৫

    শ্যামা কথাটা ইদানীং ভাবে নি কোনদিন। এককালে সে-ই বলেছিল এই কথাই। কিন্তু এই নিঃস্বতার মধ্যে আর কিছু মনে ছিল না,সব ভুলে বসে ছিল। সে যেন আঁধারে কুল দেখতে পেলে। ছেলেটা এত বড় হয়ে গেল, লেখাপড়া শেখানোরও কোন ব্যবস্থা করতে পারে নি। যেটুকু নিজে জানত সেটুকু অবশ্য শিখিয়েছে কিন্তু আজকাল একটু ইংরেজী না জানলে কি চলে! কমলা লিখেছিল ওকে তার কাছে পাঠাতে শ্যামা তা পারে নি।

    1 সে থাকবে কাকে নিয়ে, কেমন ক’রে? শুধু ভালবাসার প্রশ্নও নয় হাত- নুড়কুৎ ঐ ত একটি, রোজগার করতে . পুরুষমানুষ বলতেও ত ঐ এক।

    না, হেমকে ছেড়ে দিতে পারবে না সে।

    –

    কিন্তু এ কথা হ’ল স্বতন্ত্র। হেমের যদি নিজস্ব উপার্জন কিছু হয়, তাহ’লে হেড মাস্টারের হাতেপায়ে ধরে মিডিল ইস্কুলে ভর্তি ক’রে দিতে পারে সে। সরকাররা বললে কিছু আর ‘না’ বলতে পারবে না। ওদেরই ইস্কুল

    এক নিমেষে বহুদূর পর্যন্ত ভেবে নিলে সে। কল্পনা চলে গেল অনেক-খানি, অনেক বাস্তব বাধা ডিঙিয়ে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পানে। বিহ্বল ভাবে মঙ্গলার দিকে তাকিয়ে বসে রইল সে একদৃষ্টিতে।

    খানিকটা ওর উত্তরের জন্য অপেক্ষা ক’রে ক’রে হাতে ক’রে বয়ে আনা পিকদানীতে পিচ্ করে খানিকটা পিক্ ফেলে মঙ্গলা বললেন, ‘কী হ’ল, অমন হাঁ করে চেয়ে আছিস কি? কী ঠিক করলি?’

    ‘ঠিক? যেন চমকে জেগে ওঠে শ্যামা, ‘ঠিক আর আমি কি করব বলুন, আমার অবস্থা ত সবই জানেন?’

    মঙ্গলা বিশেষ একরকম কণ্ঠস্বর বার ক’রে বললেন, ‘নেকু! তা আর জানি নি? হ্যাঁ আমরাও কিছু সাহায্য করলুম না হয়, পিঁকীকে না হয় ভিক্ষেমা ক’রে দিলুম ওর এ সব কাজ ত খারাপ নয়, পুণ্যি আছে ওতে . কিন্তু তোর মা মাগীকেও এক কলম লেখ না। ঠিক কিছু পাঠাবে এখন ধার-দেনা ক’রে। তোদের আর কি, তোদের ত কলমের জোর আছে, কারুর খোশামোদ করতে হবে না, এক কলম নিজেই লিখবি, ডাকে দিবি, আর টাকা! তবে তাও বলি,মেয়েমানুষের লেখাপড়া শিখতে নেই। তোর মা তোদের লেখাপড়া শিখিয়েছে ব’লেই তোদের এত দুদ্দশা। আমার বাবা আমাকে ঐজন্যেই লেখাপড়া শিখতে দেন নি। বলতেন, মেয়েরা হ’ল লক্ষ্মী, ঘরের লক্ষ্মী পর হয়ে যাবে সরস্বসতীর সঙ্গে যে ওদের চিরকালের ঝগড়া। আসলে সরস্ততী ত লক্ষ্মীর সতীন! সতীন-কাঁটাকে কে দেখতে পারে বল্ মা?’

    শ্যামা মাথা হেঁট ক’রে বসে রইল। আশা কি জিনিস তাই যখন সে ভুলতে বসেছে তখন এ কি এক নতুন শিহরণ নিয়ে এল নতুন আশা! তাহ’লে সেও কোনদিন দাঁড়াতে পারবে, মানুষের মত মানুষ হয়ে উঠবে।

    ‘কি করবি তাহলে!’

    ‘চিঠি লিখব মা। আপনারাও একটু দেখবেন।’

    —

    ‘হ্যাঁ তাই লিখিস। কত্তাকে আবার বলি। কত্তার হাতে এখন সব গিয়ে প’ড়েছে কিনা। যা চারদিকে চুরি ডাকাতি হচ্ছিল ভয় ধ’রে গিয়ে আমার সব পুঁজি-পাটা বার ক’রে ওর হাতে দিয়েছি, ও কি ব্যাং ম্যাং কোথায় রেখে ছে সায়েবদের কাছে। এখন কতকটা ওর হাতে আমি। ওর হাততোলায় থাকা। দেখি, আদায় করব’খন।

    টাকা রাসমণিও পাঠালেন। কমলাও। শ্যামা তা থেকে অনেকখানি সরিয়ে রেখে দিলে দুর্দিনের জন্যে। সে যতটা পারলে সরকারদের ওপরই চাপালে। রাসমণি লিখেছিলেন কলকাতায় নিয়ে যেতে– তাহলে তাঁরাই পৈতেটা দিয়ে দিতে পারতেন, কিন্তু এজন্যেই শ্যামা যায় নি। কি দরকার মায়ের গোনা পুঁজি খসাবার। পরের ঘাড় দিয়ে যদি হয়ে যায় ত যাক না!

    পৈতে হয়ে যাবার দিন সাত-আট পরেই নরেন কোথা থেকে এসে হাজির। সেটা বিকেলের দিক, আবছা হয়ে এসেছে দিনের আলো। তবু উঠোনে পা দিয়েই হেমকে দেখে চেঁচিয়ে উঠল, ‘এ কি, মাথা নাড়া কেন? গলায় ওটা কি? য়্যা, আমাকে না জানিয়ে আমার ছেলের পৈতে দেওয়া হয়েছে! কার এত সাহস শুনি? এত বড় আস্পদ্দা? আমি কেউ নই, না? আমি হলুম ওর জন্মদাতা পিতে– আমাকে না জানিয়ে এত বড় কাজটা ক’রে বসল দুম করে! মেয়েমানুষের এত সাহস! আজ যদি গো’র বেটার জাতকে এক কোপে সাবাড় না করি–’

    যেন তুড়িলাফ খেয়ে নেচে-কুঁদে পাগলের মত কান্ড বাধিয়ে তুললে নরেন। শ্যামা গিয়েছিল পুকুরে

    আসতে আসতে সব শুনে সেও জ্বলে গেল, ছুটে এসে রান্নাঘরে ঢুকে একেবারে উনুন থেকে একটা জ্বলন্ত কাঠ তুলে এনে বললে, চুপ করবে, না জ্যান্ত এই নুড়ো জ্বেলে দেব! চুপ। আর একটা কথা না শুনি! পিতে! জন্মদাতা পিতে! লজ্জার মাথা ত খেয়েছ হায়া-পিত্তি বলেও কি কিছু থাকতে নেই?’

    ওর সেই রণচণ্ডী মূর্তির সামনে আস্তে আস্তে যেন কুঁকড়ে গেল নরেন।

    ‘থাম্ থাম্, খুব হয়েছে। চুপ কর্। একটু আগুন দে দেখি কলকেটায়!’ তারপর বসে বসে একটু চুপ করে থেকে বললে, ‘ঐ পুঁটলির মধ্যে এক কোণে একটু চা বাঁধা আছে। চা কর্ দিকি –খাই একটু।

    তারপর চা-তামাক খেয়ে একথা সেকথার পর সহসা যেন কথাপ্রসঙ্গে একটা কথা মনে পড়ে গেল, ‘ঐ দ্যাখ, আসল কথাটা বলা হয় নি। যে জন্যে হঠাৎ চলে এলুম! আমর বড় ভয়রা যে ফর্সা!

    ‘য়্যা!’ আর্তনাদ করে উঠল শ্যামা। ‘কি, কী বললে?’

    ‘অক্কা! সাবাড়!’ হি-হি ক’রে হেসে বললে নরেন, ‘কলকাতায় গিয়েছিলুম, ওদের বাড়িওলার সঙ্গে দ্যাখা। তিন দিন হ’ল কি একটা যাগযজ্ঞি করতে গিয়ে নাকি বুকে

    ব্যথা ধরে

    ব্যাস, তাইতেই শেষ!’

    সেই প্রথম আর্তনাদের পর শ্যামার কন্ঠ থেকে কোন স্বরই বেরোই নি। নরেনই একটু চুপ ক’রে থেকে আবার বললে, ‘মানে কথা, এবার তোমার দিদি বিধবা হ’ল।

    Fire ১২৭

    পয়সার দ্যামাক এবার একটু কমবে। বেশি পয়সা যে কত্তা রেখে যেতে পেরেছেন তা নয়। হেঁ-হেঁ! পুরোনো জামা দিয়ে গরীব বোনকে সাহায্য করা

    সাহায্য করে তাই দ্যাখো!’

    উল্লাসের সুর ফোটে ওর গলায়।

    তিন

    এবার ওকে কে

    –

    শ্যামার হয়ত তখনই কলকাতায় চলে যাওয়া উচিত ছিল খবরটা শুনে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত যাওয়া ওর হয়ে ওঠে না। কারণ বিস্তর। প্রথমত কমলার এই অবস্থায় সামনে গিয়ে দাঁড়ানোর সাহস সঞ্চয় করতে পারে না কিছুতেই। সে নিজে মেয়েছেলে মেয়েছেলের এত বড় সর্বনাশ যে আর নেই তা বোঝে, বিশেষত হিন্দু বাঙালীর ঘরে। ওর সেই রাজেন্দ্রাণীর মত দিদি চওড়া লাল পাড় শাড়ি ও গয়নায় ঝলমল করত তার ‘নিরাভরণ শুভ্র বেশ দেখতে হবে, তার চেয়ে মরে যাওয়াই ভাল। উঃ, দিদি না জানি কি করছে! ওকে দেখলেই হয়ত চিৎকার ক’রে উঠবে হয়ত আছড়ে পড়বে

    । না, না, এখন সেখানে গিয়ে মুখোমুখি দাঁড়ানো তার পক্ষে সম্ভব নয়।

    দ্বিতীয়ত, হেমকে সবে ইস্কুলে ভর্তি করা হয়েছে। ইস্কুলের কর্তারা দয়া ক’রে বিনা মাইনেয় ভর্তি ক’রে নিয়েছেন কিন্তু ব’লেই দিয়েছেন কামাই করা চলবে না একদিনও। কামাই করলেই এ সব সুবিধা বন্ধ ক’রে দেওয়া হবে। বেচু চক্কোতি শয্যাগত–হেমই নিত্যসেবা করছে। নরেন ত পরের দিনই আবার উধাও হয়েছে। হেমকে কার কাছে কোন্ ভরসায় রেখে যাবে? কে তাকে খেতে দেবে?

    এখন

    তাছাড়া তাছাড়া সে আবার অন্তঃসত্ত্বা। এ অবস্থায় হেঁটে যাওয়া! গিয়ে কিছু আর মার কাছ থেকে হাত পেতে টাকা নেওয়াও চলবে না আবার হেঁটেই ফেরা। বড় কষ্টকর!

    –

    সুতরাং চোখের জল চোখে চেপে শ্যামা দৈনন্দিন অভ্যস্ত জীবনযাত্রাতেই ফিরে আসে ধীরে ধীরে।

    অবশ্য উমার চিঠিতে খবর সবই পাওয়া যায়।

    কথায় বলে, ‘অল্প শোকে কাতর অধিক শোকে পাথর।’ রাসমণির সেই অবস্থা। আঘাত খেয়ে খেয়ে তাঁর সমস্ত অন্তরই যেন পাষাণ হয়ে গেছে। নতুন কোন আঘাতের প্রতিক্রিয়া জাগা শক্ত, তবে বজ্রাহত-বনস্পতির মত খাড়া থাকলেও ভেতরটা বোধ করি আমূলই শুকিয়ে গেছে।

    কমলা বাপের বাড়ি এসে ওঠে নি। ওর ভাশুর এবং দেওর আছেন অনেকগুলি, কিন্তু তার স্বামী ইদানীং তাদের সঙ্গে কোন সম্পর্কই রাখতে দেন নি। সুতরাং আজ এতদিন পরে তাদের কাছে গিয়ে দাঁড়ালে কি অভ্যর্থনা মিলবে তা কমলা অনুমান করতে পারে সহজেই। সাংসারিক জ্ঞান খুব বেশি না থাকলেও মানুষকে এটুকু সে চেনে। হয়ত তারা প্রথমেই তাড়িয়ে দে না কিন্তু শীগগিরই এমন অবস্থা ক’রে

    তুলবেন যে আর টেকা যাবে না।

    ১২৮-

    ওর স্বামী চাকরি করতেন কোন এক সওদাগরী ফার্মে, মাইনে মোটা ছিল না। কিন্তু শতকরা চার আনা কমিশণ একটা পেতেন, তাতেই ওদের সচ্ছলে সংসার চলত। ঝি রাঁধুনী চাকর

    এলাহি ব্যাপার ছিল। দু’-একবার কমলা সেদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করবার যে চেষ্টা করে নি তা নয় কিন্তু তিনি উড়িয়ে দিয়েছেন বার বার। বলেছেন,

    ‘ভয়

    কি, আর কিছুদিন চাকরি ক’রে নিজের ফার্ম খুলব। মূলধন? এদের সঙ্গেই অর্ডার সাপ্লাই-এর কাজ করব মূলধন কি হবে? আমাদের এই ছোট্ট সংসার, কিই বা ভাবনা? তার জন্যে এখন থেকে দুশ্চিন্তা ক’রে লাভ নেই। চলেই যাবে একরকম ক’রে।

    JU

    —

    চলেই হয়ত যেত–এমনিতেই। কিন্তু মরবার কিছুদিন আগে এক তান্ত্রিক এসে জুটেছিল। ঠিক দীক্ষাগুরু নয় দীক্ষা নিয়েছিলেন কুলগুরুর কাছে

    এমনি শিক্ষাগুরু বলা যেতে পারে। তারই প্রয়োচনায় এক কালী স্থাপনা ক’রে জমি-জমা যেখানে যা কিছু ছিল সমস্তই দেবোত্তর ক’রে দিয়েছিলেন নগদ টাকা সব খরচ হয়ে গিয়েছিল বাড়ি ও মন্দিরে। সেই তান্ত্রিক তার আইনসম্মত সেবাইত এখন। সে অবশ্য বিধবাকে আশ্রয় দিতে আপত্তি করে নি কিন্তু কমলা সংক্ষেপে বলেছিল, ‘ঐ ত আমার স্বামীকে খুন করেছে। ওর আশ্রয়ে ছেলে মানুষ করার আগে ছেলের মুখে বিষ তুলে দেব।’

    এই নতুন মন্দিরেই কি একটা তান্ত্রিক-ক্রিয়া করতে গিয়ে হঠাৎ বুকে ব্যথা ওঠে তাঁর অজ্ঞান হয়ে যান। সেই অবস্থাতেই একদিন পরে হয় মৃত্যু, কমলাকে কিছু বলেও যেতে পারেন নি।

    কমলার নিজের হাতে যৎসামান্য নগদ-টাকা যা ছিল তা এই ক’দিনেই শেষ হয়ে গেছে শ্রাদ্ধশান্তি করতে। অফিস থেকে প্রাপ্য কিছু ছিল কমিশন আর মাইনে বাবদ, তার সঙ্গে সামান্য যোগ ক’রে দিয়ে পঁচিশ টাকা দিয়ে গেছে তারা। আর আছে গায়ের গহনাগুলো। কমলা এই বিপদে একটু ও মাথা গুলিয়ে ফেলে নি, সে শুধু বালা জোড়াটা গোবিন্দর বৌয়ের জন্য এবং গোবিন্দর অন্নপ্রাশনের গহনাগুলো তার ছেলেমেয়েদের উদ্দেশ্যে তুলে রেখে বাকী সব গহনাগুলো বেচে দিলে। সবসুদ্ধ দাঁড়াল বাইশশ টাকা। এই টাকাটা একেবারে সে তুলে দিলে ওর স্বামীর বন্ধু এক সুবর্ণবণিক ব্যবসায়ীর গদীতে। তিনি পাকা রসিদ দিয়ে টাকাটা নিলেন কথা রইল টাকাটা যথেচ্ছ খাটাবেন তিনি . লাভলোকসান তাঁর

    ক’রে দেবেন কমলাকে।

    তিনি শুধু এর সুদ বাবদ মাসে আঠার টাকা

    কমলা অতঃপর ফার্নিচার পর্যন্ত বেচে দিয়ে মাসিক চার টাকা ভাড়ায় একখানি ঘর নিয়েছে এবং ছেলেকে নিয়ে সেইখানেই এসে উঠেছে। ভদ্র ব্রাহ্মণবাড়ির মধ্যে ঘর, সব দিক দিয়েই নিরাপদ আশ্রয়। অতঃপর সে ঐ আয়েই দিন গুজরান ক’রে ছেলেকে মানুষ ক’রে তুলবে, এই তার প্রতিজ্ঞা। মা তাঁর দুটি যমজ মেয়েকে নিয়েই বিব্রত, আবার তার ওপর বোঝা চাপাবে না কমলা এই এক কথা, দ্বিতীয় কথা, যা অনেক পরে প্রকাশ পেয়েছে, মেয়েদের বিধবা হবার পর বাপের বাড়ি গিয়ে ওঠা তার স্বামী একেবারেই পছন্দ করতেন না। তিনি নাকি অনেকদিন আগে একবার বলেও ছিলেন,

    ১২৯

    ‘যদি তেমন কোন দুর্দিন আসে ত চেষ্টা ক’রো ছেলেকে নিজেই মানুষ ক’রে তুলতে। তার জন্যে যদি গতর খাটাতে হয় ত লজ্জা নেই, কিন্তু বিধবা মায়ের কাছে গিয়ে উঠো না। সে বড় অশান্তি। দুই বিধবা বোন বাপের বাড়ি থাকলে আগুন জ্বলে। ওতে মন ছোট হয়ে যায়, ছেলেও মানুষ হয় না। তোমার উমা ত বিধবারই সামিল! ‘

    খবরটায় কমলার জন্য দুঃখ বোধ একটু করে বৈকি শ্যামা। আহা, সেই দিদি তার কখনও কিছু করা অভ্যাস নেই, কখনও এক গ্লাস জল পর্যন্ত গাড়িয়ে খায় নি! সে কি পারবে এত সব কাজ গুছিয়ে করতে? ঐ ত আয়! খুব কষ্ট না করলে দুটো পেট চালিয়ে ছেলেকে লেখাপড়া শেখাতে পারবে না। আবার মনে মনে কোথায় যেন একটু আশ্বস্তও হয়। তার মনের গোপন কোণে একটা বিশ্বাস বাসা বেঁধে আছে বহুদিন থেকেই যে, এখনও তার মায়ের হাতে কিছু সোনা আছে। এবং সেটা তিনি মরবার পর উমা ও শ্যামার মধ্যেই ভাগ হবে। কিন্তু কমলা এসে উঠলে সেও ত ভাগ পেত।

    কমলা এসে ঐ বাড়িতে না থাকলেও যে তার এক ভাগ পাওনা হয় ন্যায়ত ধর্মত এবং এখন তার যা অবস্থা তা’তে পাওয়াই উচিত এ কথাটা কে জানে কেন শ্যামা একবারও ভাবে না। তার আত্মকেন্দ্রিক মন নিজের দাবীটাকেই সর্বদা বড় ক’রে দেখে

    চার

    এবারেও মঙ্গলা ঠাকরুণই কথাটা পাড়েন, ‘হ্যালা, মেয়ের বিয়ে দিবি? দ্যাখ দিস্ ত দে।

    আকাশ থেকে পড়ে শ্যামা। মেয়ের বিয়ে! তার মেয়ে যে সবে সাত পেরিয়েছে!

    ‘আহা, তা হোক না সাত বছর। এই ত বিয়ের বয়স। অষ্টম বর্ষে গৌরীদান। তারও ত একটা পূণ্য আছে। তোর ভালর জন্যেই বলছি। নইলে ব্যাটাছেলের আবার বিয়ের ভাবনা! কত মেয়ের বাপ তাদের দোরের মাটি রাখছে না। আমার কথাটা মনে পড়ল তাই। বলি ফুটফুটে মেয়ে তোর, হয়ত ওদের নজরে পড়ে গেলেও যেতে পারে। এই ফাঁকে পার হয়ে যায় ত যাক।’

    লোভে কম্পমান হয় শ্যামার মন, যেদিন থেকে মেয়ে হয়েছে সে দিন থেকেই তা বলতে গেলে দিন গুনছে। বরং বলা চলে যে, মেয়ে হবার আগে থেকেই দিন গুনছে– কবে মেয়ে হবে! মেয়ে হ’লে শীগগির কুটুম হয়, নাত নাতনী– ছেলের বিয়ের জন্যে অনেকদিন অপেক্ষা করতে হয়।

    ‘কিন্তু মা, আসল কথাটা যে ভাবছেন না! আমার হাতে কিছুই নেই। কোথায় কি পাবো বলুন ত? আবার এই একটা মেয়ে হ’ল। এরই দেনা এখনও শোধ হয় নি।

    ‘বলি, গায়ে গুমাখলে তা আর যমে ছাড়বে না! আমাদের হিন্দুর ঘরে মেয়ে যখন বিইয়েছিস্ তখন বিয়ে দিতেই হবে– খেতে পাস্ না পাস্। মেয়ে দেখা না– দেখাতে দোষ কি? দেখাতে

    না। পছন্দ হলে চাই কি টাকা-কড়ি

    নাও নিতে পারে।

    আমার

    কথা শ্যামার মনে লাগল। হেম আর একটা নিত্যসেবার কাজ পেয়েছে। এ গ্রামের বাইরে সেটা–প্রায় মাইল খানেক হেঁটে যেতে হয়। তা হোক–রাত চারটেয় উঠে হেম আগে সেখানে চলে যায়, তারপর এখানের পূজো শেষ ক’রে পড়তে বসে। খুব জোরে যায় আর জোরে আসে–ঘণ্টাখানেকের বেশি লাগে না। সেখানে ব্যবস্থা ভাল, চাল ঐ আধসেরই বটে, কিন্তু তেমনি মাসে তিন টাকা মাইনে। রাত্রে শেতলে দু’খানা বড় বাতাস–একপো দুধ। সেটা ঠিক বামুন-কায়েতের বাড়ি নয়–কিন্তু যাঁর আপত্তি হতে পারত সেই মঙ্গলা ঠাকরুণই অভয় দিয়েছেন, ‘কে বা আজকাল অত সব মানছে, তুমিও যেমন! ঐ বেছাই নুকিয়ে লুকিয়ে করত! নিয়ে নে―নিয়ে নে, ভাতের দুঃখ ত ঘুচবে।’

    বেচু অসুস্থ হয়ে পড়ছে বলে এমনি মনসাপূজো, লক্ষ্মীপূজোও দু’একটা পায় হেম–অর্থাৎ ঠিক উপবাস করার অবস্থাটা ঘুচেছে। আর একটি শিশু এসেছে কোলে বটে–চাঁদের মত রং, পদ্মফুলের মত সুন্দর মেয়ে। কমলা চিঠিতে নাম পাঠিয়েছে ঐন্দ্রিলা। সে যাক–তার আর কতই খরচা! যদি মা কিছু দেয়, এবং মঙ্গলা যদি কিছু ধার বলেও দেন তা কোনমতে কাজ সারা যেতে পারে হয়ত। দেনা সে রাখবে না- যেমন ক’রেই হোক কষ্ট ক’রে কাজ সারবে।

    আয়ের ইদানীং আর একটা পথও বেড়েছে। মৌড়ীর কুন্ডুবাবুরা সাতখানা গাঁয়ে ক্রিয়াকর্মে সামাজিক বিলোন, পূজাপার্বণে ছাঁদা দেন। এ গ্রামও সেই তালিকায় পড়ে; ব্রাহ্মণমাত্রেই পায়–এতদিনে এরা পায় নি স্থায়ী বাসিন্দা হয় বলে। বহুদিনের চেষ্টায় ওদের খাতায় নাম উঠেছে। সামাজিক মানে নিমন্ত্রণের সঙ্গে একটা পেতলের হাঁড়ি কিংবা ঘড়া ক’রে তেল নয়ত কাঁসার থালায় সন্দেশ–দিয়ে যায় বাড়ি বাড়ি। তেলটা ঘরে থাকে, বাসনটা বিক্রি করা যায়।…আর পূজায় রাসে ছাঁদার ব্যবস্থা আছে– মাথাপিছু ষোলখানা লুচি ও বারোটা সন্দেশ। তিন-চার দিন ধরে সপরিবারে খাওয়া চলে। সদ্যোজাতা ঐন্দ্রিলাও এ ছাঁদার অধিকারী।

    খানিকটা চুপ ক’রে থেকে শ্যামা মনে মনে কত কি স্বপ্নজাল বোনে, কল্পনায় বহুদূর এগিয়ে যায়। তারপর বলে, ‘বেশ ত দেখুন না মা। ত ছেলে কি করে, বয়স কত?’

    ছেলে নাকি ঐ মৌড়ীগ্রামেই থাকে—-মঙ্গলার কাছে যা খবর পাওয়া গেল। কোন্ এক বিলিতি কারখানায় কাজ করে, উনিশ টাকা আন্দাজ মাইনে পায়; রোজ হিসেবে মাইনে, ঐ রকমই দাঁড়ায়। মা আর দু’টি ভাই আছে সংসারে। দুটো বোনও বুঝি আছে। পৈতৃক বাড়ির ভাগ খানদুই ভাঙাঘর আছে, তবে জমি আছে অনেকখানি প্ৰায় তিন-চার বিঘের বাগান।

    মঙ্গলা বললেন, ‘ব্যাটাছেলে, রোজগার করছে, বাড়ি করতে কতক্ষণ! জমি আছে, বাড়ি তুলে নেবে দেখিস্ দেখতে দেখতে। তারপর তোর মেয়ের বরাত। যদি তেমন পয় ফলাতে পারে ত ওর আয়ও বেড়ে যাবে না কি চড়চড় ক’রে?’

    ‘বয়স?’ একটুখানি চুপ ক’রে থেকে বোধ করি হিসেবে করারই চেষ্টা করেন মঙ্গলা, ‘বয়স আর কত, তেইশ-চব্বিশ হবে বড়জোর।’

    ১৩১

    ‘চব্বিশ বছর! আমার মেয়ে যে মোটে সাত বছরের মা।’

    ‘ওমা, বলিস্ নি ওসব কথা! সাত বছর কি সোজা বয়স মেয়েছেলের? আগে ত এই বয়সে বিয়ে না কলে লোকে নিন্দেই করত। আর বরের কথা যদি বলিস্– বেটাছেলের আবার বয়স কি লা? দোজবরে ত নয়। আগে ত শুনেছি তোদের কুলীন বামুনের ঘরে পাঁচ বছরের মেয়ের সঙ্গে ষাট বছরের ঘাটের মড়ার বিয়ে হ’ত।

    তবু শ্যামা চুপ ক’রেই আছে দেখে মঙ্গলা ঠাকরুণ আবার বললেন, ‘আর বামুনের ঘরের কথাই বা কোন–আমারই ত বড় জা-রয়েছে, তুই ত দেখেছিস তাঁকে, ঐ যে পিঁকীর কোলের ছেলেটার অন্নপেরাশনে এসে ছিল! এয়োরাণী ভাগ্যিমানী পাকা চুলে সিঁদুর পরছে—কিন্তু ওদের কি বিয়ে হয়েছিল শুনবি? আমার জায়ের যখন পাঁচ বছর, তখন বঠাকুর আটাশ পেরিয়ে উনত্রিশে পড়েছেন। বাইরে বাইরে পশ্চিমে ঘুরে কাজ- কর্ম করতেন, বিয়ে করবার ফুরসত পান নি। তারপর হঠাৎ ঠাকুরের কানে গেল যে ছেলের স্বভাব-চরিত্রির বিগড়েছে, যেখানে থাকতেন সেখানে নাকি ইহুদী ম্যাম্ রেখেছেন বাঁধা। যেমন কানে যাওয়া অমনি তার পাঠিয়ে দিলেন, মা মরো-মরো, ঝট্ ক’রে চলে এসো। ছেলে যেদিন এসে পৌঁছল সেইদিনই দিলেন পিঁড়িতে বসিয়ে তিন-চার দিন মোটে সময়, মেয়ে ত আর দেখবার সময় পেলেন না, হাতের কাছে ছিল ঐ পাঁচ বছরের মেয়ে, তাই তাই সই!… তা সে যা মজা মা বুঝলি, লজ্জার কথা এসব কাউকে বলিস নি, বলতে গেলেও হাসি পায় আমার। জা ফুলশয্যের রাত্তিরে হঠাৎ ঘুম ভেঙে উঠে কাপড়খানা গুটিয়ে বগলে চেপে ভাশুরকে ডাকছে

    ও বল্ বল্, শুনছ, আমার যে পেচ্ছাব পেয়েছে, দাঁড়াবে চলো। বল্ দিকি কি কান্ড!’

    মঙ্গলা হা-হা ক’রে হেসে ওঠেন।

    শ্যামা কিছুক্ষণ চুপ ক’রে থেকে বললে, ‘তা দেখুন মা, যা ভাল বোঝেন। আপনাদের দয়া হ’লে মেয়ে পার হয়েই যাবে।

    হ্যাঁ

    যাই আবার দেখি

    পিকী হয়ত দোর-তাড়া খোলা রেখেই ঘুমিয়ে

    পড়ল! ওর যা কাণ্ড! মেয়েটা বড্ড বাউন্ডুলে!’

    ১৩২

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপাঞ্চজন্য – গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    Next Article উপকণ্ঠে – গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    Related Articles

    গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    পৌষ ফাগুনের পালা – গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    August 7, 2025
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    উপকণ্ঠে – গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    August 7, 2025
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    পাঞ্চজন্য – গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    August 7, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }