Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ইতি স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    September 5, 2026

    অশ্বত্থামা হত – ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায়

    September 5, 2026

    ঈশ্বরপুরের প্রেমকথা – দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য

    September 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কলকাতার কাছেই – গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    গজেন্দ্রকুমার মিত্র এক পাতা গল্প415 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৫. শ্যামার যেন এক যুগ

    পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ

    ওসিআর ভার্সন। ভুল সংশোধন করা হয়নি।

    মেয়ের বিয়ের পর একটা বছর কাটল, শ্যামার যেন এক যুগ। বারো বছরেও মানুষকে বোধ হয় এত দুঃখ, এত কৃচ্ছসাধন করতে হয় না এত দুর্ভাবনা দুশ্চিন্তা ভোগ করতে হয় না। এক-একটা দিন এমন আসে, মনে হয় বুঝি কাটবে না। সামান্য কিছু উপার্জনের পথ হয়েছে এটাও ঠিক, তেমনি হেম ইস্কুলে পড়ছে, ‘ফ্রি’ হ’লেও কিছু খরচ ত আছেই। যখন-তখন যজমানি করতে যেতেও পারে না। তার ওপর আছে মেয়েজামাই আনা, জামাইবাড়ি তত্ত্ব করা।

    সে যেন এক সাধনা।

    একদিন তখন সবে মাস-কতক বিয়ে হয়েছে

    লোকমুখে হেমের খুব জ্বর হয়েছে খবর পেয়ে এক শনিবার জামাই এসে হাজির। ঘরে কিছুই নেই হেমের জ্বর। সরকারদের বাড়ির প্রায় সকলেই মঙ্গলার বাপের বাড়ি কি একটা ক্রিয়াকর্ম উপলক্ষে গেছেন। টাকাপয়সা হাতে নেই কখনোই থাকে না থাকলেই বা আনাত কাকে দিয়ে? এরকম লজ্জায় বোধ হয় জীবনে কোন দিন পড়ে নি শ্যামা। ঐন্দ্রিলা বাগান থেকে কোনমতে বুকে ক’রে নারকেলটা আসটা কুড়িয়ে আনতে পারে বটে কিন্তু তাকে বাজারে পাঠানো চলবে না। বাক্স-প্যাঁটরা ঘেঁটে দশটা পয়সা বেরোল কিন্তু যায় কে? যেতে গেলে ওকেই যেতে হয়। জামাইয়ের সামনে দিয়ে বাজারে যাওয়া? ছি! জামাই যদি দেখতে পায়?

    আকশ-পাতাল ভাবল শ্যামা। শরীরটাও ভাল নেই। সদ্য একটি মেয়ে হয়েছে ওর এখনও তিন মাস হয় নি। প্রসবের পর থেকে নানা রোগে ওকে যেন জেরবার ক’রে দিয়েছে ভূতের মত খাটবার শক্তি ত গেছেই, মাথাতেও যেন সব সময় সব কথা

    আসে না।

    দশটা পয়সা হাতে ক’রে অভিভূতের মত রান্নাঘরের দাওয়ায় বসে থাকে শ্যামা। শোবার ঘরে হেমকে অসুখের খবর জিজ্ঞাসা করছে জমাই, ঐন্দ্রিলা কি সব বকে যাচ্ছে আপন মনে কোথায় কোন্ আম গাছের ডালে বসে বসন্ত বৌরি পাখিটা কটর কটর

    এই সব শব্দের দিকে যেন কান পেতে থাকে সে।

    করছে

    অনেকক্ষণ পরে–একটা দমকা গরম বাতাসে ওর যেন চমক ভাঙে। ধড়মড় ক’রে উঠে দাঁড়ায়। পথও দেখতে পায় চোখের নিমেষে। ঠিক ত, ডাল ত আছে! আর আছে

    সদ্য সিধে-পাওয়া একটু গাওয়া ঘি ও ময়দা। হেমেরই উপার্জন–কি একটা ব্রত করিয়ে পেয়েছে সে।

    ডাল ভিজিয়ে দেয় দু-তিন রকম। কাঠ জ্বেলে ছোলার ডাল চাপায়। একটা বার্লির

    একটু হালুয়া ক’রে দেওয়া চলবে যেন উৎসাহের জোয়ার লাগে ওর এই ওর সংকল্প। তিন ঘণ্টা পরে

    কৌটোর এক কোণে দুটি সুজি পড়ে আছে জামাইকে এখন জলখাবারের মত। হঠাৎ দেহেমনে। বিত্তের দৈন্য বুদ্ধি দিয়ে ঢেকে নেবে যখন জামাইকে খাবার সাজিয়ে দেয় তখন নিজেই অবাক হয়ে যায়। ধোঁকার ডালনা, ছোলার ডাল, পরোটা, রসবড়া, পায়স! পায়সটা নিয়েই বিপদে পড়েছিল প্রথমে, কারণ চিনি বাতাসা মিশ্রি যা কিছু ঘরে ছিল কুড়িয়ে কুড়িয়ে এর আগে হালুয়া আর রসে খরচ হয়ে গেছে। অথচ মিষ্টি আনানো যায় নি, সে অভাবটা শুধু রসবড়া দিয়ে সারতেও যেন কেমন লাগে, তাও তেলেভাজা রসবড়া মায়ের মত ঘিয়েভাজা রসবড়া করবে, সে ঘি কোথায়? এই ত তাই –লুচি ক’রে দেওয়া যায় নি– পরোটা ক’রেই দিতে হয়েছে! অথচ শেতলের দুধটাও ত আছে। অনেক ভেবে শেষে আঁধারে কূল পায়। কিছুদিন আগেই কুন্ডুবাড়ি থেকে ছাঁদা পাওয়া গিয়েছিল, তার দরুন সন্দেশ ক’টা আজও পড়ে আছে হাঁড়িতে। একে চিনির ডেলা সন্দেশ, তায় এতদিনের বাসি সামান্য গন্ধও হয়ে গেছে সে সন্দেশ জামাইকে দেওয়া যায় না ব’লে ও কথা আর মনেই রাখে নি! এখন মনে হ’ল চিনির ডেলা ত চিনির কাজে লাগানো যেতে পারে! মিছিমিছি নষ্ট ক’রে লাভ কি? গন্ধ? বর্ষাকালে ঘরে থাকলে চিনিতেও ত একটু ম’দো গন্ধ হয়। তাছাড়া খুঁজেপেতে যদি একটা ছোট এলাচ বেরোয় বাড়ি থেকে তাহলে গুঁড়িয়ে দিলেই ত গন্ধটুকু ঢেকে যাবে।

    বেশ তৃপ্তি ক’রেই খেলে অভয়। কোনদিনই কিছু বলে না কিন্তু আজ ব’লেই ফেললে উচ্ছ্বাসভরে, ‘অনেকদিন এত ভাল খাই নি। রান্না সব হয়েছে যেন অমৃত।’ অভয় এখনও ঠিক ‘মা’ বলে নিঃসঙ্কোচে সম্বোধন করতে পারে না। প্রায় সমবয়সী শাশুড়ীকে মা বলে ডাকতে বোধকরি ওর একটু লজ্জাই হয়।

    সেদিনের কৃতিত্ব নিয়ে বেশ একটু গৌরববোধই হয়েছিল শ্যামার। অনেকদিন পর্যন্ত সে-কথা মনে হ’লে আনন্দে গর্বে বুকটা ফুলে উঠত। মঙ্গলাও বাপের বাড়ি থেকে ফিরে এসে যখন সব শুনলেন, কিছুক্ষণ গালে হাত দিয়ে বসেছিলেন, কথা কইতে পারেন নি। অনেকক্ষণ পরে বলেছিলেন, ‘তোর ত খুব মাথাখানা খেলে বামনি, আমি ত বাপু সাত রাত ভাবলেও এত কথা মাথা থেকে বার করতে পারতুম না। তা এ ত বেশ ভাল খাওয়াই হ’ল আর কি!’

    কিন্তু শুধু কি গর্ব –একটু লজ্জার কথা ও ছিল বৈকি। যত তৃপ্তি ক’রেই খাক বুদ্ধিমান জামাইয়ের চোখে আসল ব্যাপারটা ঢাকা থাকে নি। ঐন্দ্রিলার হাতে একটা টাকা ত দিয়ে গিয়েইছিল, পরের দিন বিকেলে পাড়ারই কে একটি ছেলেকে দিয়ে একরাশ বাজার পাঠিয়ে দিয়েছিল ডুমুর, থোড়, কাঁচকলা –বিনামূল্যের আনাজ, আর তার সঙ্গে কিছু সাগু, মিশ্রি হেমের জন্যে।

    লজ্জা বোধ হয়েছিল খুবই, মাথা কাটা গিয়েছিল জামাইয়ের কাছ থেকে এই সাহায্যটুকু– সাহায্য ছাড়া আর কি! নিতে, কিন্তু আনন্দেও চোখে জল এসে গিয়েছিল। এত বিবেচনা যার তার হাতে মেয়ে সুখী হবে, তার মত দুঃখ কিছুতেই

    পাবে না।

    ভাল

    অভয় এলে তার ছেলেমেয়েদের মুখ উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে এটাও শ্যামা লক্ষ্য করেছিল। শুধু যে এলেই ওদের হাতে টাকা বা আধুলি দিয়ে যায় তাই নয় খাবার যা কিছু ওর জন্য তৈরি হয় তারও ভাগ পায় তারা। শুধু তারা কেন হেম অসুস্থ সেদিন জামাইয়ের পাতে যা ছিল তা ঐন্দ্রিলার পক্ষে সব খাওয়া সম্ভব নয় এই অজুহাতে কি সেও খায় নি সে সব খাবার? অনেক ইতস্তত করেছিল অবশ্য জামাইয়ের পাতের উচ্ছিষ্ট খাবার আগে– কিন্তু শেষ পর্যন্ত লোভের আর প্রয়োজনেরই জয় হয়েছিল। ঘরে কিছুই নেই, শরীর দুর্বল, সদ্য-প্রসূতির অসহ্য ক্ষুধা সামলানো শক্ত। খেয়েছিল এবং খেয়ে খুশীই হয়েছিল। সে কথা মনে পড়লে এতকাল পরেও লজ্জা হয় কিন্তু সেদিন উপায় ছিল না।

    দুই

    লোভ

    শ্যামা অনেকদিন ধরেই ভাবছে যে কলকাতায় যাবে কিন্তু আগেকার মত যাওয়াটা আর তার সহজ নেই বলেই হয়ে ওঠে নি। অথচ যাওয়াটা তার প্রয়োজন এবারের প্রসবের পর থেকে শরীরটা যেন কিছুতেই সারছে না। কিছুদিন শুধু বসে খেতে পারলেও বোধ হয় একটু বল পেত সে। কিন্তু এদিকে হেমের ইস্কুল। তার বাঁধা বন্দোবস্তের নিয়ম-পূজা রয়েছে দু-দুটো। অথচ হেমকে ফেলেই বা যায় কি করে? কে তাকে খেতে দেবে কে দেখবে? এই সাতপাঁচ ভেবেই তার যাওয়া হয় না দেহটাকে যেন চাবুক মেরে চালায়।

    ক্লান্ত

    মার শরীর একেবারে ভেঙে পড়েছে–

    এরই মধ্যে চিঠিটা এল। লিখেছে উমা

    | ডাক্তার বলেছে চেঞ্জে নিয়ে যাওয়া দরকার। মাকেও রাজী করানো গেছে, এখন যাবার আগে মা তাঁর তিন মেয়েকেই একবার একসঙ্গে দেখতে চান আর ফেরেন কি না ফেরেন তার ঠিক কি! শ্যামা কি দু-চার দিনের জন্য আসতে পারবে?

    শ্যামা ব্যাকুল হয়ে উঠল চিঠি পড়ে, হওয়াই স্বাভাবিক। মা শুধু মা-ই ত নন এখনও তার ভরসা, আশ্রয়। চরম কোন অবস্থায় পড়লে মার কাছে গিয়ে দাঁড়ানো যাবে, তা সে জানে। মার কি আছে –কতকুটু আছে, সে খবর সে রাখে না। তবে মা চালাবেনই যেমন ক’রে হোক। এই বিশ্বাসটা মনের গোচরে কিছু বা অগোচরে আছে বলেই এমন ক’রে জীবনযুদ্ধ চালাতে পেরেছে শ্যামা। পেছনে কোথাও আছে ভরসা, আছে শেষ নিরাপদ অবলম্বন, এই জ্ঞান বা অনুভূতিই দিয়েছে তাকে শক্তি। সেই অবলম্বন কি শেষে ভেঙে পড়বে? এত তাড়াতাড়ি, এমন অসময়ে? এখনও যে হেম মানুষ হয়ে উঠল না! এখনও যে

    ওও এইটেই বোধ হয় স্বাভাবিক

    স্বার্থপরের মত শোনালেও এইটেই বোধ হয় স্বাভাবিক। কোন দুঃসংবাদ শুনলে মানুষের প্রথম প্রতিক্রিয়া হয় তার স্বার্থের স্থানটিতেই। শ্যামাকে তাই দোষ দেওয়া যায় না।

    109

    যাওয়া প্রয়োজন—-আর এখনই।

    শুধু যে মাকে শেষ-দেখা তাই নয়, কোথায় আর তাঁর কি আছে, কতটুকু তার হেমের পাওনা সেটাও জানা দরকার।

    কিন্তু যাওয়া কি সম্ভব!

    এমন সময়

    চিঠি হাতে নিয়ে উদ্বিগ্ন মুখে বসে আছে শ্যামা, অশ্রুসজল দৃষ্টি, একমুঠো পানের খিলি মুখে পুরে চিবোবার চেষ্টা করতে করতে দেখা দিলেন মঙ্গলা। ‘কী হয়েছে রে বামুন মেয়ে? অমন কাঁদো কাঁদো হয়ে বসে আছিস কেন? ওমা হাতে ঠিঠি যে কোন খারাপ খবর নাকি? মা মাগী ভাল আছে ত?’ রুদ্ধ কণ্ঠ ভেদ ক’রে কথাগুলো বেরিয়ে আসে।

    কেঁদেই ফেললে শ্যামা উত্তর দিতে গিয়ে।

    সব শুনে মঙ্গলা বললেন, ‘এখনই চলে যা। এখনই। হেম থাক না, আমরা দেখব এখন। আমি না হয় এসে রাত্রে থাকব’খন। ভয় কি?’

    ‘কিন্তু ওর খাওয়া-দাওয়া?’

    তাই ত!’ একটুখানি চুপ ক’রে গেলেন মঙ্গলাও

    তারপরই আবার তাঁর মুখ

    উজ্জ্বল হয়ে উঠল, ‘তা সে-ও একরকম ক’রে হয়ে যাবে এখন। আমি কি পিঁটকী যদি ভাতটা চাপিয়ে দিই, তাহলে কোন রকম ক’রেও নামিয়ে নিতে পারবে না?’

    হেম কাছেই বসেছিল, সে বললে, ‘তা বোধ হয় পারব- দেখিয়ে দিলেই পারব।’ উৎসাহিত হয়ে ওঠেন মঙ্গলা, ‘তোদের ত আতপ চালের ভাত

    ফ্যানেভাতে খাওয়াও অভ্যাস আছে। এমন ভাবে জল দেব যে ফ্যানও গালতে হবে না। আর আমার ওদিকে আ-সকড়িতে যা ডাল তরকারি হয় দিয়ে যাবো’খন। রাত্রে দুখান রুটি গড়ে ও দিতে পারবে। তুই নির্ভরসায় চলে যা বানি, আমি তোর ছেলেকে দেখব।

    আর উনি ত রাঁধুনী রাখবেন বলে আবার চেষ্টা করছেন। আমারও শরীর খারাপ, পিঁকীও গুছিয়ে রাঁধতে পারে না। রাঁধুনী পেলে আর ভাবনা কি, আমাদের ওখানেই খাবে। পাওয়া যায় ঢের, তবে কি জানিস, সোমথ মেয়েছেলে আমি রাখব না। সে আমার এক কথা খেতে পাই আর না পাই! ওদের দোষ ওই, এসেই কত্তাটিকে গিলে খাবার চেষ্টা করে। হুঁকো ব্যাটাছেলেও চলবে না। সোমথ সোমখ মেয়ে আমার ঘরে। তাই ত মুশকিল! যেটা ছিল তাকে ত আমিই তাড়ালুম বলতে গেলে। আমার যে হয়েছে শতেক জ্বালা চোরছ্যাঁচোড় না হয় তাও দেখতে হবে ত!’

    —

    তারপর একটু থেমে পানের পিচ ফেলে আবার বললেন, ‘তুই কাল সকালেই চলে যা।’

    রাসমণির শরীর কিছুদিন ধরেই ভাঙছিল। কমলা ও উমার চিঠিতেও ওঁর অসুখের খবর পেয়েছে সে কিন্তু সত্যিই যে এত খারাপ হয়েছে তা শ্যামা কল্পনা করে নি। অমন রাজেন্দ্রাণী মূর্তি যেন শুকিয়ে ঝলসে কুকড়ে গেছে। উজ্জ্বল গৌরবর্ণে কালি মেখে দিয়েছে কে। দাঁতগুলো পড়ে গেছে সব কটাই। নিত্য জ্বর হচ্ছে খুব সম্ভব ম্যালেরিয়া, কিন্তু ডাক্তার ডাকতে দেন নি এতকাল। পাড়ার এক বৃদ্ধ কবিরাজ চিকিৎসা

    করছেন

    কিছুতেই যখন কিছু হয় নি তখন কমলা একদিন জোর ক’রে ডাক্তার নিয়ে

    এসেছে। তিনি দেখে ওষুধ দিতে জ্বর ওঠাটা বন্ধ হয়েছে কিন্তু একেবারে ছাড়ে নি। বিকেলের দিকে গা-গরম হয় প্রত্যহ। ডাক্তারবাবু বলেছেন হাওয়া বদল করতে হবে নইলে এ পুরোনো জ্বর ছাড়বে না কিছুতেই। আর হাওয়া বদল করতে গেলে পশ্চিমে যাওয়াই দরকার। দেওঘর গেলেই ভাল হয়

    চান রাসমণি ত বর্ধমান কিংবা নলহাটি যেতে পারেন

    তবে অতদূর যদি না যেতে জল-হাওয়া ভাল, উপকার

    নিয়ে যেতে

    হবে। নলহাটি ত আবার তীর্থস্থান, ললাটেশ্বরী আছেন, বাহান্নপীঠের এক পীঠ।

    রাসমণি অনেক ভেবেছেন। উমাকে একা ফেলে যাওয়া চলবে না হবে। এ বাড়িতে কে থাকবে? কমলা হয়ত রাজী হ’তে পারে। কিন্তু তিনিই বা একা যান কার ভরসায়? এই দুর্বল দেহ, তাছাড়া কখনও একা কোথাও যান নি, কলকাতার বাইরে কোথাও যাওয়া অভ্যাস নেই। কে সঙ্গে যাবে?

    কিন্তু সে ব্যবস্থাও কমলা ক’রে দিলে। ওদের বৃদ্ধ পুরোহিত– রাঘব ঘোষাল বহু তীর্থ ঘুরে এসেছেন, বিদেশ যাওয়া তাঁর অভ্যাস আছে, তিনি সঙ্গে যেতে রাজী হলেন। খরচ আর খোরাক দিলেই তিনি যাবেন, তাঁর কোন অসুবিধা নেই। তাঁর ছেলে বড় হয়েছে, যজমানী সে-ই বজায় রাখতে পারবে মাঝখান থেকে তাঁর শরীরটাও সারিয়ে নিতে পারবেন।

    এবার আর রাসমণি ‘না’ করতে পারলেন না। তাছাড়া তিনি চিরদিনই একরোখা মানুষ, তেজের সঙ্গে থাকতে ভালবাসেন। এমন অকর্মণ্য জবুথবু হয়ে, মেয়েদের সেবার ওপর ভরসা ক’রে থাকা তাঁর পক্ষে মৃত্যুর সমান। এতকালের গঙ্গাস্নান তাঁর– কোনদিন কোন কারণে যা বন্ধ করেন নি তা বন্ধ হয়েছে, সেটা যেন আরও কষ্টকর। মনে আছে প্লেগের বছরে যখন সারা কলকাতা শ্মশান হয়ে গিয়েছিল, তখনও তিনি প্রত্যহ ভোরে উঠে স্নান করতে গেছেন। রাস্তার দুধারে বড় বড় খালি বাড়িগুলো হাঁ-হাঁ করছে, নিস্তব্ধ পথ যেন গিলতে আসছে, তবু রাসমণি ভয় পান নি। তিনি পালানও নি মৃত্যুকে ত্বরিত মৃত্যুকে তাঁর ভয় নেই। শহর উজাড় ক’রে পালিয়েছে সব, স্ক্যাভেঞ্জার গাড়িগুলো ধুয়ে তাতে বসে পালিয়েছে সপরিবারে—- গাড়ির অভাবে। ঐ গাড়িগুলোই নিয়েছে পনরো-বিশ টাকা– এখান থেকে চন্দননগর কি চুচঁড়ো যেতে। দেখেছেন আর হেসেছেন। প্রাণ কি এমন ক’রেই এরা ধরে রাখতে পারবে চিরকাল! এমন কি পুলিস থেকে যখন ঢ্যাঁড়া পিটিয়ে নিমতলায় গঙ্গাস্নান যাওয়া বন্ধ করলে- তখনও রাসমণি বিচলিত হন নি– শুধু সময়টা একটু এগিয়ে দিয়েছিলেন মাত্র। রাত চারটেয় যেতেন– তিনটেয় যাওয়া শুরু করলেন। অত ভোরে পুলিশ থাকবে না তা তিনি জানতেন।

    না ভয় পাবার মেয়ে রাসমণি নন। তখন মৃতদেহের সংখ্যা বেশি বলে হুকুম হয়েছিল দু-ঘন্টার বেশি কেউ চিতা জ্বালাতে পারবে না। ঐ দু-ঘণ্টায় যা পুড়ল –বাকী যা থাকবে গঙ্গায় ভাসিয়ে দিতে হবে। সেইজন্যই গঙ্গাস্নান আরও নিষিদ্ধ হয়েছিল। এই রকমই একটা কন্ধ-কাটা শব ভেসে এসে স্নানের ঘাটে সিঁড়ির নিচে আটকে ছিল রাসমণি ঘাটে নামতে গিয়ে পা দিয়ে ফেলেছিলেন তার গায়ে কিন্তু চেঁচিয়ে ওঠেন নি, সেখান থেকে ছুটে পালান নি– কোন রকমেই বিচলিত হন নি। বরং হেঁট হয়ে আছা

    ১৫৯-

    আলোয় ব্যাপারটা ভাল ক’রে দেখে বুঝে ‘নমঃ শিবায়’ বলে এক গন্ডুষ জল ছিটিয়ে দিয়েছিলেন তার গায়ে, তারপর তাকে প্রদক্ষিণ ক’রে গঙ্গায় নেমে গিয়েছিলেন। সঙ্গে যে শুকনো তসরের কাপড়খানা ছিল সেটাও অপবিত্র হ’ল মনে করেন নি।

    বাড়িতে এসে কথাটা বলতে উমা চেঁচামেচি ক’রে উঠেছিল ভয়ে। রাসমণি হেসে তাকে আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, ‘ওমা, ভয় কি? অগ্নিদগ্ধ হয়ে গঙ্গায় পড়েছে, ও কি ভূত হয়ে আমাকে তাড়া করবে? ও শবও যা শিবও তাই।’

    ‘কিন্তু অসুখটার ভয়ও ত আছে। ঐ ছোঁয়াচে রোগ যদি লাগে? দুদিন গঙ্গা নাওয়া বন্ধ করলে কি হয়?’

    ‘হ্যাঁ কি না কি, আমি গঙ্গা নাওয়া বন্ধ করব! আমার ও রোগ লাগবেই বা কেন? ও সব যারা মরছে তারা কি জানিস মা, বছুরকে মড়া ওরা বছর বছরই মরে। একটা ক’রে হুজুগ ওঠে আর গন্ডায় গন্ডায় মরে। আমি মরব কেন?

    •

    সেই গঙ্গা-নাওয়া আজ তাঁকে বন্ধ করতে হয়েছে! এইটেই চরম ব্যথা।

    জীবনের যত বেদনা, যত ব্যথা পুঞ্জীভূত যত গ্লানি, সব ভুলিয়েছে মা জাহ্নবীর ঐ সর্বদুঃখহরা শীতল জল। চোখের গরম জল দিনের পর দিন মার ঠাণ্ডা জলে ঝ’রে পড়ে বুকের তাপ ঠাণ্ডা করেছে। ওঁর উষ্ণ দীর্ঘনিঃশ্বাস মিশেছে মার বুক থেকে ভেসে- আসা তাপনাশা বাতাসে করেছে তাঁকে শান্ত, সমাহিত। সহ্য করার শক্তি খুঁজে পেয়েছেন, পেয়েছেন আবারও যুদ্ধ করার শক্তি দুঃখের সঙ্গে, দুর্ভাগ্যের সঙ্গে।

    গঙ্গা ত শুধু তাঁর নেশা নয় নিবেদন করেছেন দিনের পর দিন নিজের জীবন দিয়ে অনুভব করেছেন ঊর্মিমুখর স্রোতে! কি দয়া মা গঙ্গার

    তাঁর আশ্রয় যে! সব সব দুঃখ তিনি ঐখানে

    –

    নইলে বোধ হয় তিনি পাগল হয়ে যেতেন।

    কি শান্তি, কি অভয় লুকিয়ে আছে মার ঐ তা রাসমণি ছাড়া বুঝি আর কেউ জানে না। সেই গঙ্গাস্নান তাঁর বন্ধ হল বেঁচে থাকতেই —-! কতকটা সেই জন্যেই বোধ হয় রাজী হয়েছেন রাসমণি বিদেশে যেতে।

    ―

    কিন্তু যদি যেতেই হয় ত বর্ধমান নলহাটি কেন– দেওঘরই বা কেন যাবেন কাশীতেই। একটু সুস্থ হয়ে যদি বাবার মাথায় এক ঘটি জল ঢালতে পারেন কোন দিন ত সেটাও হবে একটা লাভ। এ জীবনে কোন তীর্থেই প্রায় কখনও যাওয়া হয়নি। মরবার আগে কাশীতে একবার গেলেও সান্ত্বনা পেতে পারেন।

    কাশীই যাবেন তিনি। রাঘব ঘোষালকে বলে দিয়েছেন, পান্ডাকে চিঠি লিখে ঘর ঠিক করতে।

    তিন

    শ্যামা এসে দাঁড়াতে যেমন শ্যামার দু’চোখ দিয়েও জল ঝরে পড়ল, তেমনি রাসমণির চোখও শুষ্ক রইল না। এ কি চেহারা হয়েছে তাঁর শতদলের মত রূপসী মেয়ের? এ যে কঙ্কাল! এর আগেও অনাহার-শীর্ণ দেহে অনেকবার এসে দাঁড়িয়েছে সে

    –কিন্তু এত দুর্বল তাকে কখনও দেখেন নি।

    ১৬০

    নিজের রোগশীর্ণ কম্পিত হাতখানি ওর গায়ে-মাথায় বুলোতে বুলোতে বললেন, ‘তুই যাবি মা আমার সঙ্গে? চল্! তোর শরীরও সারবে।

    ‘আমি? কাশী যাবো?’

    ‘হ্যাঁ– চল না। তাহলে উমাকে আর নিয়ে যাই না। ওরা দুজনে এখানে থাক। উমারও মেয়ে পড়ানোর ক্ষতি হয়

    ‘কী পড়ানো!’

    –

    উমা পাশে এসে বসেছিল, মাথা হেঁট ক’রেই বসেছিল, এবার চোখ তুলে শ্যামার চোখের দিকে চেয়ে বললে, ‘তুমি জানো না তোমাকে বলাও ত হয় নি! আমি এই পাড়াতেই মেয়ে পড়াচ্ছি। এখন অনেকেই মেয়েদের লেখাপড়া শেখাতে চায়, কিন্তু লোক পায় না। ছোট-বড় অনেকগুলি মেয়েকে আমি পড়াচ্ছি। কোন কোন বাড়িতে বৌ এমন কি গিন্নীরা সুদ্ধ পড়ছে-’

    ‘তুই –তুই বাড়ি বাড়ি গিয়ে পড়িয়ে আসছিস?’

    ‘কী করব বলো? তারাই বা আমার বাড়ি আসবে কেন? কেউ কেউ হয়ত আসতে পারে, কিন্তু সবাই আসতে চাইবে না!’

    শ্যামার তবু যে বিশ্বাস হয় না, ‘আমাদের বাড়ির মেয়ে, বাড়ি বাড়ি ছেলেমেয়ে পড়িয়ে বেড়াচ্ছিস্!’

    উমার মুখ আগুন-বর্ণ হয়ে উঠল। সে একটু কঠিন কণ্ঠেই বললে, ‘তোমার ওখানে বুঝি আয়না নেই ছোড়দি? এই বাড়ির মেয়ে নারকোল আর ঝাঁটার কাঠি নিয়ে বাজারে গিয়ে বেচে আসছে সেটা দ্যাখো নি?’

    তা বটে। শ্যামা এবার মাথা হেঁট করে। রাসমণির দেহেরই শুধু পরিবর্তন হয়নি

    মনেরও হয়েছে। নইলে তিনি কৈফিয়ত দেবার মানুষ নন। আজ যেন কতকটা সেই সুরেই কথা বললেন, ‘কি করব বল্‌― ও যখন বললে, আর না বলতে পারলুম না! সত্যিই ত, কি খাবে? আর ত কিছুই নেই। আমিই যদি দুটো দিন বেশি বাঁচি, আমাকে কে খেতে দেবে সেই ত এক ভাবনা। কম্‌লির ত ঐ ষোল টাকা ভরসা! বড় জামাই থাকলে তিনিই দেখতেন। তবু ত ওর পেটটা চলবে!

    শ্যামার বিষয়বুদ্ধি এবার উগ্র হয়ে ওঠে, ‘কত ক’রে পায়?’

    ‘মেয়ে পিছু দু টাকা কোথাও কোথাও এক টাকাও আছে। তিনটে মেয়ে এক জায়গায় পড়ে, তারা দেয় চার টাকা। মোটমাট মন্দ হয় না, কোন কোন মাসে ষোল- সতেরো টাকাও পায়।

    ‘কখন যাস্ রে?’শ্যামা এবার সোজাসুজি উমাকেই প্রশ্ন করে।

    ‘এই খেয়েই বেরুই। এগারোটা নাগাদ। সন্ধ্যের সময় ফিরে আসি। সবই এই পাড়াতে।’

    রাসমণি নিজের প্রশ্নের জের টানেন, ‘কি বলিস, যাবি?’

    ‘আমার এই ছানাপোনা নিয়ে?’

    উমা বললে, ‘ঐন্দ্রিলা না হয় থাকৰে

    কলকাতার ক

    দর কাছে।

    দিকে নিয়ে যাও।’

    ১৬১

    ‘কিন্তু হেম? হেমকে একা ফেলে এসেছি যে। কি করছে ছেলে-মানুষ ভাত রেঁধে খেতে হচ্ছে, হাত-টাত যদি পুড়িয়ে ফেলে?’

    এবার সকলেই চুপ ক’রে যান।

    নিজেকে

    শ্যামার মন কিন্তু দুলতেই থাকে লোভে। কাশী সমস্ত বাঙালীর মেয়েরই স্বপ্ন সুদূর স্বপ্ন। আজকের মত তখন অত বেড়াতে যাওয়ার চল হয় নি। কাশীতে আর শ্রীক্ষেত্রে জীবনে একবারই যেতে পারত মানুষ, তাও অনেক চেষ্টাচরিত্র করলে।

    সারাদিন ভেবে ভেবে শ্যামা একখানা চিঠি লিখলে হেমকে, জোড়া পোস্টকার্ড দিয়ে।

    দুদিন পরে উত্তর এল– অভাবনীয় সুসংবাদ। মঙ্গলা এক বুড়ী রাঁধুনী পেয়েছেন। হেম ওঁদের ওখানেই খেতে পারবে মঙ্গলা অনুমতি দিয়েছেন

    যতদিন খুশি মার সেবা ক’রে যেন আসে বামুনমেয়ে। পিঁকীর যে ছেলেটা প্রায় হেমের সময়বয়সী সে-ই হেমের সঙ্গে শুচ্ছে, ওরা অনবরত খবর নিচ্ছেন। কোন ভয় নেই।

    শ্যামা বাঁচল। স্থির হ’ল কমলা এখানে এসে উমার কাছে থাকবে, ঐন্দ্রিলাকে ওরাই দেখাশুনা করবে। শ্যামা যাবে ওঁদের সঙ্গে।

    পাঁজিপুথি দেখে মোটঘাট বেঁধে একদিন রওনা হ’লেন। সঙ্গে গেলেন রাঘব ঘোষাল এবং তাঁর ছোট ছেলে সত্যহরি বছর ষোল বয়স, রাঘবও বুড়ো হয়েছেন, রাসমণির এই অবস্থায় একা তিনি সামলে নিয়ে যেতে পারবেন কিনা সন্দেহ হ’ল শেষ পর্যন্ত, তাই এই ব্যবস্থা। সত্যহরি আর কিছু না করুক ছুটোছুটি ত করতে পারবে। অনেক ভেবে তার খরচও বহন করাই শ্রেয় বোধ হ’ল। যাওয়া-আসা গাড়িভাড়া গোটা আষ্টেক টাকা আর এক মাস খেতে কাশীতে আর কতই বা

    লাগবে বড় জোর চার টাকা।

    শ্যামার মনে হ’ল এই পয়সায় হেমকে আনা চলত। আহা, যদি নিত্য-সেবার কাজগুলো না থাকত!

    রাসমণি এর মধ্যে তিন-চারবার বলেছেন যে তাঁর আর কিছুই নেই। একজোড়া যশম বিক্রি ক’রে এই একশ টাকার ব্যবস্থা করেছেন। আর যা রইল, যদি বছর তিনেকের বেশি বাঁচেন ত কুলোবে না, উমার উপার্জনের ওপর নির্ভর করতে হবে। একটা বাড়িতে আলাদা থাকার যে বিলাস, তাও আর চলবে না।

    কিন্তু শ্যামার কথাটা বিশ্বাস হয় নি। সে আরও সেইজন্যেই সঙ্গে যাচ্ছে। ঠিক আর কতটা আছে কী কী আছে সেটা ভাল ক’রে জানতে চায় সে। ঐন্দ্রিলার বিয়েটাও যদি ওঁর ওপর দিয়ে সেরে ফেলা যেত। ঐন্দ্রিলাটা যে বড়ই ছোট।

    কমলা আর গোবিন্দ গিয়েছিল তুলে দিতে। সঙ্গে পাড়ারই একটি ছেলে নিয়ে গিয়েছিল। ফিরে এসে পালকি থেকে নামতেই প্রথম যার সঙ্গে চোখোচোখি হল সে নরেন। একমুখ খোঁচা-খোঁচা গোঁফদাড়ি, হাঁটু পর্যন্ত ধুলো, খালি পা, একটা ছেঁড়া মেরজাই গায়ে বাইরের রকে উবু হে সে আছে। পাশে একটা গামছায় কী পুঁটুলি বাঁধা।

    কমলাকে দেখে উঠে দাঁড়িয়ে বিনা ভূমিকাতেই বললে, ‘দ্যাখো দিকি দিদি, উমির কি আস্পদ্দা! আমাকে দেখে দোর খুললে না, বলে কি না দিদি আসুক। কেন আমি কি বাঘ না ভালুক?’

    ‘তার চেয়ে বেশি যে ভাই, চোর-ছ্যাঁচোড় বাঘ-ভালুকেরও বাড়া। ‘

    ‘তুমিও এই কথা বললে দিদি?’ আহত কণ্ঠে বলে নরেন।

    ‘তুমিই ত বলাও। আমি কি আর বলি। চলো চলো, ভেতরে চলো।’

    ভেতরে এসে চৌবাচ্চা থেকে জল নিয়ে পা ধুতে ধুতে বললে, ‘বাড়ি ফিরে খোকার মুখে শুনেই আমি ছুটতে ছুটতে এলুম। তা হেঁটে আসা ত–তোমাদের মত গাড়ি পালকি চড়ার ক্ষ্যামতা ত আমার নেই ঠিক তোমরা বেরিয়েছ আর আমি এসেছি।

    তা আমার পরিবার কি সত্যিই চলে গেল?’

    ‘গেল বৈকি। গাড়িতে তুলে দিয়ে এলুম।’

    ‘কিন্তু এটা কি শাশুড়ী ঠাকরুণের নেয্য কাজ হয়েছে? তুমিই বলো দিদি। উনি ত এত সভ্য-ভব্য মানুষ –আমার পরিবারকে আমার বিনা-হুঁকুমে তিনি কোন্ আইনে নিয়ে যান?’

    ‘তোমার পরিবার তোমার হুকুমে চলবে সে অবস্থা কি তুমি রেখেছ? পরিবারকে খেতে দাও তুমি?’

    ‘দিই নে ত কি? বলি হেম যে নিত্যি-সেবার কাজ করছে আমি যদি এসে কেড়ে নিই?’

    ‘তাহলে ত বাঁচে ও। তুমি খেটে ওদের খাওয়াবে

    করছে সে তোমার ভাগ্যি।’

    সেটা কার কাজ?

    সেইটেই ত নিয়ম। হেম

    ‘ইস্, ভারি নিয়ম! আমি খাটব আর ঐ গোরবেটার জাত বসে খাবে!’

    কমলা চুপ ক’রে যায়। ইতরটার সঙ্গে মিছিমিছি বকে মুখ ব্যথা করা।

    পুঁটুলি খুলে হুঁকো কলকে চকমকি বার করে নরেন। তামাক ধরাতে ধরাতে বলে, হুঁ। তা কে কে গেল সঙ্গে?’

    ‘মা,শ্যামা, রাঘব ঘোষাল আর তার ছোট ছেলে সত্যহরি।’

    ‘কে, কে গেল?’ তীক্ষ্ম হয়ে ওঠে নরেনের কণ্ঠ, ‘রাঘব ঘোষাল, সে আবার কে? কত বয়স?’

    ‘ওরে বাবা, আমাদের সেই বুড়ো পুরুত! তোমার বিয়েও সে-ই দিয়েছে। তার প্রায় ষাট বছর বয়স

    ‘হলোই বা ষাট। এমন কিছু বড়ো নয় দিদি। আমার এক যজমান সাতষট্টি বছর বয়সে চতুর্থ পক্ষে বিয়ে করেছে তারপরও তার তিনটে ছেলেমেয়ে!’

    ―

    কমলা ক্লান্তভাবে দেওয়ালে ঠেস দিয়ে বসেছিল। সেইভাবেই চুপ ক’রে বসে রইল। মনটা ভাল নেই। মা ঐ অবস্থায় গেলেন, সুস্থ হয়ে ফিরেন কি না কে জানে! তারও ত মাথার ওপর মা ছাড়া আর কেউ নেই।

    হঠাৎ কানে আবার সেই তীক্ষ্ণ কণ্ঠের প্রশ্ন পৌঁছয়, ‘আর

    সত্যহরি না ফত্যহরি তার বয়স কত?’

    ১৬৩

    ছেলে কি যেন বললে

    ‘পনরো-ষোল হবে।’ সংক্ষিপ্ত উত্তর দেয় কমলা।

    ‘ওমা, তবে ত যুবো ছেলে! তা গাড়িতে কে কোথায় বসল?

    ‘সবাই এক গাড়িতে উঠেছে। মার শরীর খারাপ, মেয়ে-গাড়িতে তুলতে ভরসা হ’ল না।

    ‘তবেই ত বললে ভাল। তা আমার পরিবারের পাশে কে বসল?

    ‘মা।’

    ‘সে ত গেল এক পাশে। আর এক পাশে?’

    ‘আর একদিকে পুরুত ঠাকুর আছেন, ভয় নেই। ‘

    ‘হুঁ। তাহলে আমার পরিবার বসেছে রাঘব ঘোষাল আর শাশুড়ী মাগীর মাঝখানে? আর সেই ছোঁড়াটা? সে আবার মাঝরাস্তায় গিয়ে আমার পরিবারের পাশে এসে বসবে না ত?’

    কমলা উঠে দাঁড়ায় এবার, রাগ ক’রে বলে, ‘অত আমি জানি না, ইচ্ছে হয় উড়ে গিয়ে দেখে এসো গে।’

    ‘বা রে, বেশ মজা ত! আমার পরিবার কার পাশে বসে যাচ্ছে আমি খবর নেব না?’ ততক্ষণে কমলা ওপরে উঠে গেছে। সেদিকে চেয়ে বসে খানিকটা তামাক টানবার পর একসময় কতকটা আপন মনেই ব’লে উঠল, ফিরে আসুক একবার। গোরবেটার জাতকে এক কোপে যদি সাবাড় না করি ত আমার নাম নেই।’

    ওপর থেকে মুখ বাড়িয়ে উমা প্রশ্ন করলে, ‘রাত্রে খাবে নাকি এখানে?’

    *ও হরি, শউর বাড়ি এসেছি

    খাবো না? একটু ভালো ক’রে মৌরী বাটা দিয়ে

    ঘন ঘন বিউলির ডাল রাঁধ দিকি উমি, অনেকদিন খাই নি।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপাঞ্চজন্য – গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    Next Article উপকণ্ঠে – গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    Related Articles

    গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    পৌষ ফাগুনের পালা – গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    August 7, 2025
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    উপকণ্ঠে – গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    August 7, 2025
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    পাঞ্চজন্য – গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    August 7, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রজতশুভ্র মজুমদার
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ইতি স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    September 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ইতি স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    September 5, 2026
    Our Picks

    ইতি স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    September 5, 2026

    অশ্বত্থামা হত – ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায়

    September 5, 2026

    ঈশ্বরপুরের প্রেমকথা – দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য

    September 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }