Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কলকাতার কাছেই – গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    গজেন্দ্রকুমার মিত্র এক পাতা গল্প415 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৪. আটদিনের দিন জোড়ে এসে

    চতুর্দশ পরিচ্ছেদ

    ওসিআর ভার্সন। ভুল সংশোধন করা হয়নি।

    কথা ছিল মহাশ্বেতা আটদিনের দিন জোড়ে এসে এক বছর থাকবে। এ-ই নিয়ম। এই এক বছরে জামাই আসতে পারে কিন্তু মেয়ে শ্বশুরবাড়ি যাবে না। এ অঞ্চলের এই প্রথা, তাছাড়া মহাশ্বেতা একেবারেই ছেলে-মানুষ এক বছরের বেশি থাকলেও ক্ষতি নেই। কিন্তু মহাশ্বেতার শাশুড়ী ক্ষীরোদা এক অদ্ভুত প্রস্তাব ক’রে পাঠালেন। তিনি নাকি কোন্ টোলে মত নিয়েছেন, বিয়ের আটদিনের মধ্যে মেয়ে-জামাই যদি বাপের বাড়ি আসে আর সদ্য ফিরে যায়– তাকে নাকি বলে ‘ধূলো পায়ে দিন’– তাহ’লে আর এক বছর বাপের বাড়ি থাকার দরকার নেই; ক্ষীরোদার ইচ্ছা মহাশ্বেতাকে তিনি মধ্যে মধ্যে নিয়ে যাবেন। দু-এক মাস ক’রে অবশ্যই বাপের বাড়ি থাকবে– কিন্তু তাঁরও ত একটি হাতনুড়কুৎ দরকার– একেবারে টানা এক বছর বাপের বাড়ি ফেলে রাখতে পারবেন না।

    শ্যামার মুখ শুকিয়ে উঠল। তার দুধের মেয়ে, আর ঐ সাজোয়ান জামাই এখন থেকে শ্বশুরবাড়ি থাকবে কি! শ্বশুরবাড়ির ত ঐ ছিরি। হেমকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে প্রশ্ন করে শ্যামা মেয়ের শ্বশুরবাড়ির যে চিত্র পেয়েছে তাতে তার ঐ সাত বছরের মেয়ে শ্বশুরবাড়ি আছে ভাবলেই বুকের মধ্যে কেমন করে যেন।

    কিন্তু বিয়ে হ’লেই মেয়ে পর। তার ওপর আর জোর কি?

    অগত্যা শ্যামা মঙ্গলার শরণাপন্ন হয়।

    ‘কী হবে মা! ওরা যে এখন থেকেই মেয়ে আটকাতে চায়!’

    মঙ্গলা একটুখানি চুপ ক’রে থেকে বলেন, ‘শুনেছি আজকাল এরকম হচ্ছে। ধূলো পায়ে দিন ক’রে নিচ্ছে কেউ কেউ। তার আর কি করবি বল্! জোর ত আর নেই, বরং এর পর টেনেটুনে দু মাসের জায়গায় তিন মাস ক’রে আটকে রাখা যাবে। ওখানে নিয়ে গেলে আবার দু’ মাস পরেই ফিরিয়ে আনবি ‘খন।

    কিন্তু এটুকু মেয়ে এখন থেকে শ্বশুরবাড়ি থাকলে শুকিয়ে উঠবে যে। তারপর যা ভারিক্কি জামাই, মেয়ে হয়ত ভয়ে দবববকে দব্‌কে সারা হয়ে যাবে।

    ‘ঐটুকু মেয়ে ঢের অমন শ্বশুরঘর করছে– তার জন্যে কিছু নয়। আর জামাইয়ের কথা যদি বললি এক বছর তোর কাছে থাকলেই কিছু তোর মেয়ে একেবারে লায়েক হয়ে উঠবে না। তারপর ত ঐখানে পাঠাতে হবে, তখন কি করবি? তাছাড়া তোর একটা পেট ত বাঁচল!’

    অগত্যা শ্যামাকে চুপ ক’রে যেতে হয়।

    জামাই অভয়পদ কিন্তু খুব ভদ্র। বিয়ের দিন অত বুঝতে পারে নি শ্যামা। কিন্তু যেদিন ওরা ধূলো পায়ে দিন করতে এল আর যেদিন জোড়ে এল, দু’দিনই ভাল ক’রে ওকে লক্ষ্য করে দেখে শ্যামা আশ্বস্ত হ’ল। বলতে গেলে জামাই আর সে একবয়সী কাজেই খোলাখুলি কথা কইতে তার লজ্জা করে কোন মতে মাথায় একহাত ঘোমটা টেনে সে সামনে আসে, নেহাত খাবার সময় দু একটা অনুরোধ করতে হয় করে কতকটা নৈর্ব্যক্তিক ভাবে, চাপা গলায় ফিস ফিস ক’রে, কিন্তু হেম এবং মঙ্গলার সঙ্গে যখন কথা বলে অভয় তখন উৎকর্ণ হয়ে শোনে সে। না, কথাবার্তা বেশ ভাল। শুধু মিষ্টি নয়, বেশ জ্ঞানবান বা বুদ্ধিমানের মতই কথা। এই বয়সে বরং এতটা জ্ঞান ও জগৎ সম্বন্ধে অভিজ্ঞতা কেমন ক’রে হ’ল তাই ভেবেই শ্যামার একটু অবাক লাগল। অবশ্য কারণটা সে অনুমান করতে পারে–নিতান্ত বালক বয়সে সংসারের ভার মাথায় এসে পড়েছে, সংসারের বিদ্যালয়ে সর্বাপেক্ষা কঠিন এবং নির্মম গুরুমশায় বাস্তবের কাছেই পাঠ নিতে হয়েছে তাকে; তাই বোধ হয় বয়সের অনুপাতে ঢের বেশি অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছে সে। বয়স্ক লোকের বোঝা বইতে বইতে কিশোর দেহের মধ্যেকার মানুষটা কখন বয়স্ক ও প্রবীণ হয়েছে তা বোধ হয় বেচারী নিজেও টের পায় নি। শ্যামার মায়া হয় এই অকালপক্ক তরুণটির উপর। আহা, এই ত ওর আমোদ-আহ্লাদের বয়স, এখনই কি আর এমন বুড়িয়ে পেকে যাবার কথা ওর!

    অভয়পদর আচরণও একটু অদ্ভুত!

    জলখাবার, ভাত, যা তাকে সাজিয়ে দেওয়া যাক না কেন, শ্যামা লক্ষ্য ক’রে দেখে, ঠিক অর্ধেকটা খেয়ে অর্ধেকটা রেখে দেয়া পাতে। জলখাবারের একটা রসগোল্লা দিলে ভেঙে আধখানা খায়। ভাত থেকে শুরু ক’রে মাছ পর্যন্ত সবই যেন মেপে আধাআধি খেয়ে ওঠে। প্রথমটা অত বুঝতে পারে নি শ্যামা কিন্তু পরে বুঝেছিল যে এটা সে ইচ্ছা ক’রেই রাখে মহাশ্বেতার জন্য। শ্বশুরবাড়ির পুরো পরিচয় না পেলেও বহুদর্শী অভয়পদ এক নজরে আন্দাজ ক’রে নিয়েছিল, সে জানত এতগুলি লোকের জন্য সমান আয়োজন করা এখানে সম্ভব নয় যা তাকে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে তা শুধু তার জন্যই সংগৃহীত। ওর খাওয়া হ’লে মহাশ্বেতাই সে পাতে বসবে নিশ্চয় সুতরাং বালিকা বধুর প্রতি মমত্ববশত সে সব জিনিসেরই চুলচেরা ভাগ রেখে যেত।

    এ আচরণ অভয়পদ চিরকাল বজায় রেখেছিল। কোন অনুরোধ বা অনুযোগেই তাকে টলানো যায় নি কখনও। শেষে হাল ছেড়ে দিয়েছিল শ্যামা। বরং সম্ভব হ’লে বেশি ক’রেই ওর পাতে সাজিয়ে দিত- যাতে অর্ধেক রাখলেও একজনের মত যথেষ্ট হয়।

    মহাশ্বেতা প্রথম প্রথম অবশ্যই পুলকিত হত। শ্যামা কিন্তু সবটাই তাকে ভোগ করতে দিত না হেমকেও ভাগ ক’রে দিত ভাল ভাল খাবারগুলো। তাতে মহাশ্বেতার খুব বিশেষ আপত্তি ছিল না। একটা দাদা ত! তাকে দিয়েও যা পেত তা যে তার কল্পনারও অগোচর!

    2

    প্রথম দিন, ধূলো পায়ে দিন করতে যেদিন আসে ওরা, আকণ্ঠ খেয়ে উঠে মহাশ্বেতা বলেই ফেলেছিল, ‘যাই বলো বাপু, মানুষটা কিন্তু মন্দ নয়!

    কলকাতার কাছেই-১০

    ১৪৫

    সত্যিই প্রথমটা বুঝতে পারে নি শ্যামা, প্রশ্ন করেছিল, ‘কে রে, কার কথা বলছিস?’

    ‘আবার কে! ঐ বরটার কথা বলছি!’

    মহাশ্বেতার মুখ লাল হয়নি। কিন্তু শ্যামার কপালে ও গালে কে সিঁদুর ঢেলে দিয়েছিল

    সে কি শুধু লজ্জায়? না

    ―co

    সুখেও। নিজের নিদারুণ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ ক’রে

    এ কঁটা দিন সে আশঙ্কায় কণ্টকিত হয়ে ছিল। আজ অভয়পদকে ভাল ক’রে দেখে এবং মেয়ের কথা শুনে সুখেই তার চোখে জল এসে গেল।

    নিশ্চিন্ত হ’ল সে। মানুষের হাতে পড়েছে, জন্তুর হাতে নয়। এখন মেয়ে যত দুঃখই পাক ওর তাতে কোন ক্ষোভ নেই।

    প্রথম দিকে ওরা চলে যাবার সময় হেম গিয়েছিল এগিয়ে দিতে। মল্লিকদের বাগান ছাড়িয়ে চখন্ডীদের বাড়ি পর্যন্ত গিয়ে পাকা রাস্তায় তুলে দিয়ে হেম যখন ফিরে এল তখন তার হাতে চক্‌চক্‌ করছে একটা রূপোর টাকা।

    ‘এ কি রে, কোথায় পেলি!’ শ্যামা সচকিত হয়ে প্রশ্ন করে।

    হেম উজ্জ্বলমুখে টাকাটা মায়ের হাতে তুলে দিয়ে বললে, ‘জামাই দিলে মা। আমি কিছুতেই নেবো না, সেও ছাড়বে না। বলে, সন্দেশ কিনে খেও। আর মহাটা কি পাজী জানো মা, আমাকে কানে কানে বলে কিনা দিচ্ছে, নে না! আবার যেদিন জোড়ে আসবে, সেদিন খরচা নেই? এমন লজ্জা করছিল আমার শুনে!’

    লজ্জার কথাই বটে, তবে কথাটা সত্যিই। শ্যামার দুর্ভাবনার শেষ ছিল না সেদিনের কথা মনে ক’রে। বিয়ে দিতেই তার হাত নিঃশেষ হয়ে গেছে। কোথাও থেকে যে কিছু পাওয়া যাবে সে সম্ভাবনাও নেই। নরেন সবে গেছে, খুব তাড়াতাড়ি ফিরলেও দু মাস। এক ভরসা ওর নারকেল পাতা তাও এই গোলমালে কদিন হাত দেওয়া যায় নি, খুব খাটলেও চার-পাঁচ আনা পয়সা আসবে। তারপর?

    এই তারপরের প্রশ্নটাতেই যখন বুকের রক্ত হিম হয়ে আসছিল তখন যেন দেবতার আশীর্বাদের মত টাকাটা এসে পড়ল।

    জামাই দীর্ঘজীবী হোক। মহাশ্বেতা সুখী হোক। হে মা মঙ্গলচন্ডী, এতদিনে কি একটু মুখ তুলে চাইলে মা?

    মঙ্গলচন্ডীকে প্রণাম করতে গিয়ে মঙ্গলার কথাও মনে পড়ল। ভাগ্যিস্ তখন বয়সের কথা শুনে ইতস্তত করে নি! মঙ্গলার কাছে তার ঋণ শোধ হবার নয়।

    দুই

    শ্বশুরবাড়ির দারিদ্র্যের চেহারাটা বিয়ের আটদিন ভাল নজরে পড়ে নি মহাশ্বেতার। বাঙালী মধ্যবিত্ত ঘরে ধারদেনা ক’রেই হোক আর ভিক্ষে চেয়েই হোক– বিবাহ প্রভৃতি সামাজিক ব্যাপারে এক রকমের কৃত্রিম প্রাচুর্য সৃষ্টি করা হয়, তাতে ক’রে গৃহস্থের ঠিক অবস্থাটা টাওর করা শক্ত হয়ে ওঠে। বরং অবস্থাপন্ন ঘরে কৃপণতা দেখা যায় কোথাও

    ১৪৬

    অভয়পদর মত ভাত হয় ছোট ভিজেলে ক’রে পাতার জ্বালে। তারপরই ক্ষীরোদা বেরিয়ে পড়েন পাড়ায়। কার পাদাড়ে ডুমুর হয়েছে, কোথায় দুটো ডাঁটা, কারও বাড়ি গিয়ে গোটাকতক আমড়া, কোথাও বাঁ একফালি থোড় এই সংগ্রহ ক’রে ফেরেন একেবারে আটটা নাগাদ। তারপর হাঁড়ি ক’রে ডাল চাপে।মহাশ্বেতা এসে পর্যন্ত দেখেছে একই ডাল অড়র। একদিন শাশুড়ীকে সে বলেই ফেলেছিল, ‘হ্যাঁ মা, রোজ অড়র ডাল রাঁধেন কেন?’ তাতে শাশুড়ী উত্তর দিয়েছিলেন, ‘ও মা, তা জানো না, অড়র ডাল যে পোষ্টাই খুব! সায়েবরা পর্যন্ত খায়!’

    কিন্তু পরে মহাশ্বেতা শুনেছিল কথাটা তা নয়। ওর সমবয়সী ননদ বুড়ী একদিন খুব অন্তরঙ্গতার অবসরে ব’লে ফেলেছিল, ‘হ্যাঁ, পোষ্টাই না ছাই! আসলে সস্তা। দাদা কোথা থেকে অড়র ডাল আনে –পোস্তা না কোথা থেকে চার পয়সা সের। ঐ ক্ষুদি ক্ষুদি ডাল– ও আবার পোষ্টাই! কুণ্ডুবাড়ি অড়র ডাল আসে এই এত বড় বড় দানা! তা ওদের ওখানে ও ডাল খায় শুধু খোট্টা দারোয়ানেরা!’

    ঐ ডাল আর একটা চচ্চড়ি, সকাল বিকেল একই অবস্থা। কোনদিন আমড়া কি কাঁচা তেঁতুল কোথাও থেকে পাওয়া গেলে বড়জোর একটু অম্বল কিংবা টক দিয়ে ডাল। তাও অম্বলে মিষ্টি পড়ত না– তাতে নাকি অসুখ করে।

    শুধু ডাল চস্তড়ি দিয়ে খেতে মহাশ্বেতার আপত্তি হবার কথা নয়। যদি সেটাও ভালভাবে পেত সে। প্রতিদিনই দেখত যে পুই ডাঁটা বা কুমড়ো ডাঁটার (এই দুটো শাক ওদের উঠোনেই হয়েছিল অপর্যাপ্ত) সঙ্গে গাঁ থেকে ডুমুর থোর বা কাঁচকলা যেদিন যা যোগাড় হ’ত, চচ্চড়ির –চেঁচে নিয়ে পুরুষদের এবং ছোট ননদের পাতে দেওয়া হ’ত, ওদের শাশুড়ী-বৌয়ের জন্য অবশিষ্ট থাকত শুধু ডাঁটার অংশটুকু। যেদিন সাজনে ডাঁটা পাওয়া যেত সেদিনটা মহাশ্বেতার কাছে উৎসবের দিন, কিন্তু সে কদাচিৎ কখনও। জলের মত ডাল মেখে শুধু পুইডাঁটা দিয়ে ভাত খেতে এক-একদিন মহাশ্বেতার চোখে জল এসে যেত। শাশুড়ীও অবশ্য তাই খেতেন, কিন্তু তাতে সান্ত্বনা

    পেত না সে।

    একদিন সে প্রশ্ন করেছিল, ‘হ্যাঁ মা, আমাদের বাজার হয় না কেন?’

    চকিতে ক্ষীরোদার মুখ রাঙা হয়ে উঠেছিল, ‘হয় বৈ কি মা। তবে কি জানো, চলে যায়, পাঁচজনে ভালবাসে, এটা ওটা দেয়– তাই আর আমার অভয়পদ গা করে না তেমন!’

    সব চেয়ে মুশকিল, স্বামীকে কাছে পায় না মহাশ্বেতা। এবার শ্বশুরবাড়ি আসার পর দেখছে শোবার ব্যবস্থা অন্য রকম হয়েছে, বড় ঘরে সে, তার ছোট দেওর, ননদ এবং শাশুড়ী শোয় ভাঙা ঘরে বাকী দু ভাই। সে একটু ক্ষুণ্নই হয়েছিল এতে, শ্বশুরবাড়ির মধ্যে তার বর লোকটিই যে সব চেয়ে ভাল, আর যা কিছু তার মনের কথা একমাত্র ঐ লোকটিকেই নির্বিচারে বলা চলে এ কথাটা কেমন ক’রে মহাশ্বেতা যেন নিজে নিজেই বুঝেছিল। কিন্তু উপায় কি? এ কথা ত মুখ ফুটে বলা যায় না যে সে বরের কাছেই শুতে চায়। বিশেষত শাশুড়ী বলেই দিয়েছিলেন যে, ‘এখন তুমি বড্ড ছেলেমানুষ বৌমা, তুমি দিনকতক আমার কাছে শোও। নইলে হয় ত ভয়-টয় পাবে

    38b

    বোধ হয় সম্পন্ন অবস্থা বলেই সেটা দেখাতে সাহস করেন তাঁরা– দরিদ্রের সংসারে, যেখানে যত অভাব, সেখানে তত সচ্ছলতা প্রমাণ করতে উঠে পড়ে লাগেন কর্মকর্তারা।

    অভয়পদর বাড়িতেও তার অন্যথা হয় নি। পণের একান্ন টাকা ছাড়াও অভয়পদ তার বহু কষ্টের সঞ্চিত ষাটটি টাকা তুলে এনে দিয়েছিল তা ছাড়াও কিছু ধার করতে হয়েছে। সংসার চালাতে হবে এবং দেনা শোধ করতে হবে, সবই ঐ উনিশ টাকা ছ’ আনা মাইনের মধ্যে। সুতরাং বধূর সামনেও কোন ছদ্ম-সম্ভ্রম রাখা সম্ভব নয়। মহাশ্বেতা যখন দু’মাস পরে আবার ঘর করতে এল তখন বাইরের কৃত্রিম আবরণ শুধু নয় যেন মাংস আর চামড়াও খসে পড়েছে! বেরিয়ে এসেছে কঙ্কালটা!

    অভয়পদর অফিস নাকি হাওড়ার পোলের কাছে কোথায়। কারখানার চাকরি আটটায় হাজ্বরে। সুতরাং সে ছটার মধ্যেই ভাত খেয়ে বেরিয়ে পড়ে। পাকা আড়াই ক্রোশ পথ হেঁটে বড় রাস্তায় পৌঁছলে, সেটা যদি সওয়া সাতটার মধ্যে পৌঁছনো যায় ত, বাকী দেড় ক্রোশের প্রায়ই একটা সুব্যবস্থা হয়– অর্থাৎ অফিসের সাহেবদের গাড়ি যায় অনেকগুলো সেই দিক দিয়ে– কেউ কেউ দয়াপরবশ হয়ে কোচম্যানের পাশে তুলে নেন ওকে, নইলে সেটাও পায়ে হেঁটে সারতে হয়। ফেরবার সময়ও অবশ্যই একই ব্যবস্থা।

    যাই হোক––আগের রাত্রের বাসি ডাল তরকারির সঙ্গে গরম ভাত দিয়ে আহারপর্ব সারতে হয় অভয়পদকে। যেদিন তা থাকে না, সেদিন বড়জোড় একটু ডালভাতে দিয়ে আগাগোড়া ভাত খেয়ে ওঠে। এর বেশি ক্ষীরোদা পেরে ওঠেন না। ওঠেন তিনি রোজই রাত চারটেয় কিন্তু বাসি পাট সেরে চান ক’রে ভাত চড়াতে চড়াতে কোথা দিয়ে পাঁচটা বেজে যায় বুঝে উঠতে পারেন না। শুধু যেদিন বাসি ডাল তরকারি কোন কারণে থাকে না সেদিন একটু হা-হতাশ করেন ‘আহা রে নির্লখ্যে একটু ডালভাতে দিয়ে কি ক’রেই বা খাবি, তাই ত! ঘরেও কিছু নেই, ঐ জন্যে বলি একটা দুটো আলু অন্তত এনে রাখিস্– এই সময় একটা আলু থাকলে কত সুবিধে হ’ত!’

    বলা বাহুল্য, অভয়পদ কোনদিনই এসব কথার কোন উত্তর দেয় না। খাওয়া নিয়ে সে কোন আলোচনাই করে না কারও সঙ্গে। এমন কি ডালে নুন না হলেও বলে না, বা চেয়ে নেয় না, ভুলে ডবল নুন পড়লেও কোন অনুযোগ ক’রে না। রাত্রে সে-ই সর্বাগ্রে খায় কিন্তু তাকে খাইয়ে কোন ভরসা পান না ক্ষীরোদা। আগে আগে তিনি অভিযোগ করতেন, ‘তুই কি রে, তখন বললে ত আবার নুন দিয়ে ফুটিয়ে নিতে পারতুম!’ কিন্তু তাতে অভয়পদর মুখের প্রশান্তি বা নীরবতা নষ্ট হ’ত না, খুব বাড়াবাড়ি হ’লে জবাব দিত, ‘কি দরকার! যে রেঁধেছে সেও ত খাবে। তখনই বুঝবে।’

    ‘তা তোর মুখে কি সাড় লাগে না? তুই খাস কি ক’রে?’

    ‘খাই যখন, তখন অসুবিধে হয় না বুঝতে হবে এর বেশি কথা সে বলে না কোনদিনই।

    প্রাণীর বহু

    Fire ১৪৭

    অড়র ডাল ঘন খেলে এমন কি লজ্জার কথা আছে তা ভেবে পায় না মহাশ্বেতা। খেতে ত সেইটেই ভাল লাগে। তবু মনে মনে আরও একবার প্রতিজ্ঞা করে যে, খাওয়ার কথা আর কখনও তুলবে না। বাপের বাড়িতে দুবেলা ভাত জোটাই ত তার স্বপ্নের অগোচর ছিল বলতে গেলে। দুটো ভাত যে খেতে পাচ্ছে পেট পুরে, এই ঢের।

    বয়স অল্প হ’লেও অভাব ও দারিদ্র্য অনেক বেশি পাকিয়ে দিয়েছে মহাশ্বেতাকে, সে বেশ ভারিক্কী লোকের মতই নিজেকে বোঝাতে বসে মধ্যে মধ্যে।

    কিন্তু তার কান্না পায় একটা ব্যাপারে। ওর দেওর ননদরা রোজই আগে খায়- যার পাতে যা কিছু পড়ে থাকবে শাশুড়ী একটা বাটি করে জড়ো ক’রে তুলে রাখবেন আর তাকে দেবেন সেইগুলো খেতে। ডাল তরকারি মাখা ভাত ছড়িয়ে বিছড়ে খায় ওরা, বিশেষত ছোট দেওর দুর্গাপদর ত সর্বদাই সর্দি লেগে আছে, তার খাওয়ার দৃশ্য মনে হ’লেই বমি আসে মহাশ্বেতার- আর সে-ই ঠিক রোজ এতগুলো ক’রে ভাত চেয়ে নিয়ে খানিকটা পাতে ফেলে রেখে উঠবে। তাই কি তরকারি একটু রেখে যাবে? কোনদিনও না, তার বেলা সেয়ানা ছেলে, ঠিক চেটেপুটে খেয়ে যায়! শুধু শুধু ডালমাখা ভাতগুলো– মাগো, সাত পাতের ঐ কুড়োনো ঠান্ডা ভাত–! এক-একদিন আড়ালে মাথা কুটত মহাশ্বেতা, আর কাঁদত ডাক ছেড়ে। কোন কোন দিন রেগে আঙুল মটকে গালাগালও দিত, ‘মর্, মর্ আঁটকুড়ো, চোখখেগো! মর্! এত লোকের ওলাউঠো হয়,

    তোর হয় না?

    সরকার বাড়ির পুকুরে চান করতে এসে পোদেদের গিন্নী ঠিক এই ভাষাতেই গালাগাল দিতেন তার দেওরদের। হুবহু সেইটেই মনে আছে মহাশ্বেতার।

    এক-একদিন কাজের সময় বায়না ধরে কাঁদত যখন দুর্গাপদ তখন ক্ষীরোদা বলতেন, ‘একটু ভোলাও ত বৌমা–থাক থাক, কোলে করতে যেও না, এমনি হাত ধরে নিয়ে গিয়ে ভোলাও একটু।’

    সেই ছিল মহাশ্বেতার সুযোগ। প্রাণ ভরে অন্তর-টিপুনী দিত এক একদিন। তার ফলে ডাক ছেড়ে যখন কেঁদে উঠত সে, তখন আপনমনে দাঁতে দাঁত চেপে বলত, ‘রাক্কোস ছেলে! মর্ মর্ তুই, মরিস্ ত আমার হাড় জুড়োয়!’ আর প্রকাশ্যে চেঁচিয়ে শাশুড়ীকে ডাকত, ‘ও মা, আসুন না একবার’ কিছুতেই থামছে না যে।’

    তিন

    মহার শ্বশুরবাড়িতে বিগ্রহ আছেন রাধা-দামোদর –সে কথাটা বিয়ের সময় অত ভাল ক’রে বুঝতে পারে নি সে। একটা ঠাকুরঘরে নিয়ে গিয়ে প্রণাম করানো হয়েছিল এই মাত্র ছোট্ট অন্ধকার ঘরে নিচু বেদীর ওপর ন্যাড়াবঁচো দুটি মূর্তি, কেষ্টটি পাথরের, রাধিকা পেতলের (বা অষ্টধাতুর সামনে একটি সিংহাসনে একটা শালগ্রাম আর একটি ছোট্ট পাথরের শিব। স্যাঁতসেঁতে ভিজে ঘরে অসংখ্য আরশোলা বেড়াচ্ছে, কেমন একটা ড্যাপস্যা গন্ধ মোট কথা মহাশ্বেতার আদৌ

    ~ 380

    হাসি পেয়েছিল মহাশ্বেতার কথাগুলো শুনে। প্রথম আটদিন ভয় পেলো না

    এখন পুরোনো শ্বশুরবাড়ি ভয় করবে?

    ওরই মধ্যে একদিন এক ফাঁকে

    সেটা বোধ হয় রবিবার

    বলে ফেলেছিল সে

    অভয়পদকে নির্জনে পেয়ে, ‘একদিন পটল এনো না। বড্ড পটল খেতে ইচ্ছে করে। বেশি করে এনো কিন্তু, নইলে আমার আর মার অদৃষ্টে জুটবে না।’

    অভয়পদ বলেছিল, ‘তা আনবো। কিন্তু তুমি আর মাকে বাজারের কথা বলো না। আমাদের অভাবের সংসার বাজার-হাট ক’রে আনতে গেলে কি চলে? চেয়ে-চিত্তে সংসারটা চলে গেলেই হ’ল। মিছিমিছি মা লজ্জা পান।’

    অপ্রতিভ হয়ে গিয়েছিল মহাশ্বেতা সেই বয়সেই। ‘আর কখনও বলব না’ বলে প্রায় ছুটে পালিয়েছিল।

    পরের দিনই সন্ধ্যাবেলা বাড়ি ঢুকল অভয়পদ গামছায় পুঁটুলি ক’রে একরাশ পটল নিয়ে। মার সামনে নামিয়ে দিয়ে বললে, ‘পোস্তার দিকে একটু দরকার ছিল আজ– পেয়ে গেলুম এক পয়সায় এতগুলো পটল তাই নিয়ে এলুম।

    কিন্তু সে পটলের চেহারা দেখে হাসবে কি কাঁদবে মহাশ্বেতা ভেবে পায় না। যত রাজ্যের হলদে পাকা পটল– কতক কতক হাজাও আছে। কোন কোনটা ভাঙা দুখানা করা।

    সেদিন রাত্রে সেই সব পটলের মধ্যে বেছে যেগুলো আর এক রাতও থাকবে না সেইগুলো পোড়ানো হ’ল। সেই পোড়া পটলই রাত্রের একমাত্র ভরসা। শাশুড়ী রাতে ভাত খান না, মুড়ি খান– তিনিও পটল পোড়া দিয়ে মুড়ি খেলেন। ভারি খুশী, বললেন, ‘পাকা পটল কেমন মিষ্টি লাগে দেখেছ বৌমা? আমি খুব ভালবাসি পাকাপ টল পোড়া খেতে!’

    মহাশ্বেতার আদৌ ভাল লাগল না এসব। পটল সে দিদিমার বাড়ি খেয়েছে, ভাজা কিংবা ঝোল কি আলু-পটলের ডালনা! এ কী ছাই!… বার বার নিজের মনে মনে বলতে লাগল, এই শেষ! ঐ ছিষ্টিছাড়া মানুষটাকে যদি সে আর কোনদিন কিছু বলে! তার খুব শিক্ষা হয়েছে!

    মহাশ্বেতা একদিন শাশুড়ীকে খেতে খেতে বলে ফেলেছিল, ‘আচ্ছা মা, আপনি এত পাতলা ডাল রাঁধেন কেন? আমার দিদিমা অড়র ডাল কি ছোলার ডাল রাঁধে এই চাপ-চাপ! ঠান্ডা হয়ে গেল তাতে সর পড়ে ফেটে যায়। সেই ত বেশ!’

    তাতে এমন হেসেছিল ক্ষীরোদা যে মহাশ্বেতার লজ্জার শেষ ছিল না। এই দ্যাখো কান্ড, সে আবার কী বলতে কী বলে ফেলেছে বোধ হয়! বর আবার না তাকে আড়ালে পেয়ে গম্ভীর মুখে শাসন করে!

    ক্ষীরোদা বলেছিলেন, ‘ও মা! অড়র ডাল আবার চাপ চাপ? শুনলে লোকে হাসবে

    যে! যা বলেছ বলেছ আমার কাছে বলেছ

    না অমন কথা।

    যার কারুর সাক্ষাতে যেন ব’লে ফেলো

    བ་གནས་ས་ཁ་གས་པ་ ། །

    189

    ‘হুঁ’, গম্ভীর হয়ে বলে অভয়পদ, ‘ফরমাশ ত বেশ লম্বা-চওড়া দেখতে পাচ্ছি। মাসে একটা টাকাও বাড়তি থাকে না। আজ দু’মাস ওভারটাইম বন্ধ। কিনব কোথা থেকে? জানো এখনও বিয়ের দেনা শোধ হয় নি?’

    মুখ ম্লান হয়ে যায় মহাশ্বেতার। কেন যে মরতে এসব ফরমাশ করতে যায় সে বরকে! প্রতিবারেই এমনি কথা শুনতে হয়, এমনি অপমান! ছিঃ ছিঃ আবারও সে প্রতিজ্ঞা করলে

    আর কোনদিন কিছু বলবে না।

    কিন্তু সেই রবিবারই দেখা গেল অভয়পদ বাগানের এক কোণে জড়ো ক’রে রাখা কতকগুলো কাঠা নিয়ে বসে গেছে সকাল থেকে। যন্ত্রপাতি সব ওর কাছেই থাকে বোধ হয় অন্তত মহাশ্বেতার তাই মনে হ’ল, কৈ, কোথাও থেকে চেয়ে নিয়ে এল ব’লে ত মনে হ’ল না সে যাই হোক সন্ধ্যা-নাগাদ দেখলে বেশ উঁচু গোছের একটা সিংহাসন তৈরি হয়ে গেল। বা রে! মনে ভাবে মহাশ্বেতা, লোকটা ত কারিগর মন্দ না!

    প্রথমটা ওর খুব আনন্দ হয়েছিল। ওর একটা সামান্য শখও সে ম’নে করে রেখেছে আর সেটা মেটাবার জন্যে এত মেহনত করছে! কিন্তু তারপরই ভয়ে বুক দুরদুর করতে লাগল। যদি বলে দেয় লোকটা? মাকে যদি বলে, ‘তোমার বৌ ফরমাশ করেছিল তাই করলুম!’ ও মা, সে কি ঘেন্নার কথা হবে! মা-ই বা কি মনে করলেন, ভাববেন হয়ত বৌ তাঁর ছেলের সঙ্গে অমনিই রোজ রোজ লুকিয়ে কথা কয়, আবার এরই মধ্যে ফরমাশ করতে শুরু করেছে। হে মা কালী, বলে না ফেলে কথাটা!

    লোকটা কিন্তু খুবই ভাল। ক্ষীরোদা যখন প্রশ্ন করলেন, ‘হ্যাঁ রে, কী করছিস্ রে সারাদিন ধরে?’ তখন বেশ সহজ ভাবেই বলে, ‘পূর্ণিমে থেকে ত ঠাকুর আসছেন ঘরে তাই ভাবছি একটা বেশ উঁচু দেখে ভাল সিংহাসন তৈরি করি। দেখি –কতদূর কি হয়।

    সন্ধ্যাবেলা কাজ শেষ হয়ে গেলে অভয়পদ মাকে ডেকেই দেখাল, ‘দ্যাখো দিকি মা কেমন হয়েছে?’

    মা একটু খুঁতখুঁত করে বললেন, ‘হয়েছে ত ভালই। তবে ঠাকুরের সিংহাসন, পুরোনো কাঠে করলি, ওতে দোষ হবে না ত?’

    ‘হ্যাঁ—- তুমিও যেমন! চেঁচে-ছুলে দিয়েছি, তাছাড়া জিনিসটা ত নতুন তৈরি হ’ল। কাঠে দোষ কি?

    কিন্তু ঠাকুর যখন সত্যি-সত্যিই ওদের দিকের দরজা খুললেন তখন মহাশ্বেতা বুঝলে যে ঠাকুরসেবাটা আর যাই হোক, পুতুলখেলা নয়। হাজারো রকমের কাজ আর ঝঞ্ঝাট। পূজোর কোন আয়োজন নেই কিন্তু অনুষ্ঠান আছে। মাটির বাসী হাঁড়ির ভাত চলবে না। প্রতিদিন মাজা পেতলের হাঁড়িতে ভাত রান্না হয়– ভাতের উপকরণ যাই থাকে, বামুনবাড়ির ঠাকুর, অন্নভোগ দিতেই হবে। তাছাড়া ভোগ দেওয়াই বা কি হবে? সকালে দুখানা বাতাসা ছাড়া কিছুই থাকে না– পাড়ার লোক কেউ শশাটা পেয়ারাটা দিয়ে গেলে কিংবা কোন মানসিকের পূজো দিতে এলে তবে ঠাকুর নৈবেদ্যের মুখ দেখতেন। পর্বদিনে পাড়া থেকে পূজো আসত বিস্তর– তেমনি তা বিলোতেও হ’ত লাভের মধ্যে খাটুনির সীমা থাকত না। ভোগও ত ডাল ভাত আর চচ্চড়ি, কোনদিন

    —

    ভক্তি হয় নি সে ঠাকুর দেখে। দিদিমার সঙ্গে গঙ্গাস্নান করতে গিয়ে আনন্দময়ীতলায় ঠাকুর দেখেছে, বাগবাজারের মদনমোহন দেখেছে দক্ষিণেশ্বরে একবার গিয়েছিল, সে সব কেমন ঠাকুর! কি জাঁকজমক, কত গয়নাগাঁটি, ফুলচন্দনের গন্ধ! এমন কি, ওদের সরকারবাড়ির ঠাকুরঘরও কেমন আলাদা মন্দিরের মত, কত উঁচু! আর এ কি বিশ্রী!

    কিন্তু সে যাই হোক

    —

    এ ঠাকুর যে ওদেরই তা তখন বুঝতে পারে নি। একেবারে

    বুঝতে পারলে মাস আষ্টেক পরে যখন শুনল যে আসছে মাস থেকে ঠাকুরের পালা পড়বে তাদের।

    ‘তার মানে কি মা?’ প্রশ্ন করেছিল মহাশ্বেতা।

    ক্ষীরোদা বুঝিয়ে দিয়েছিন, ‘তোমার শ্বশুররা খুড়তুতো জেঠতুতো ধরে তিন ভাই ঠাকুর হ’ল গে আমার দাদাশ্বশুরের তা এ বংশের সকলকারই ত সেবা করার কথা। মরে হেজে গিয়ে এখন এই তিন ঘরে ঠেকেছে –তাই পালা ক’রে ক’রে এক এক বছর সেবা করা হয়। এ বছরটা ছিল আমার ভাশুরের, এবার আমার পড়বে। আবার আমরা এক বছর সেবা করলে আমার দেওর আছেন একজন, তাঁদের ওপর ভারটা পড়বে। বুঝলে মা?’

    ‘তা সবাই মিলে একসঙ্গে করেন না কেন?

    ‘সে হয় না মা। তাহলে কেউ করত না–সবাই সরে থাকত, ফাঁকি দেবার চেষ্টা করত।

    মহা ঠিক বোঝে না। ঠাকুরসেবা করা এ ত ভাগ্যের কথা,

    এ আবার কি কথা

    মাসিমার মুখে কতদিন শুনেছে

    তাতে ফাঁকি দেয় নাকি কেউ!

    তবু কথাটা শুনে ওর খুব আনন্দই হ’ল। ছেলেমানুষের মন

    ঠাকুর-সেবার মধ্যে

    পুতুলখেলার স্বাদটা পায়। সাগ্রহে জিজ্ঞাসা করে, ‘কবে আসবেন মা ঠাকুর?’

    ‘আসবেন না ত ঐ ঘরেই থাকবেন। আমরা ঐখানে গিয়ে সেবা করব। ওদের দিকের দোরটা বন্ধ ক’রে রেখে আমাদের দিকের দোরটা খোলা হবে। ওই শুধু। দ্যাখো নি ও ঘরে তিনটে দরজা?

    সে কিন্তু দিন গোণে। ঠাকুরের পালা তার হাতে এলে সে ঐ ঘর ঝেড়ে মুছে পরিষ্কার করবে। আরশুলাগুলোকে মারবে ধরে ধরে দু’বেলা ধুনো দিয়ে ভ্যাসা

    গন্ধ নষ্ট করবে। আরও কত কি!

    একদিন অভয়পদর অফিস যাবার সময় বুঝে খিড়কি দিয়ে বেরিয়ে বাগানে গিয়ে দাঁড়িয়ে রইল একটা বুড়ো আমগাছের আড়ালে। অভয়পদ অত লক্ষ্য করে নি, হনহন ক’রে এগিয়ে যাচ্ছিল

    মহাশ্বেতা ডাকলে, ‘শোন।’

    অভয় ত অবাক! কাছে এসে একটু মুচকি হেসে বললে, ‘কি খবর গো, বলো বলো বেলা হয়ে গেছে, কিছু ফরমাশ আছে বুঝি? কী চাই এবার?’

    বুঝলে? ঠাকুর অত

    মহাশ্বেতা প্রায় মরিয়া হয়ে বলে উঠল, ‘আসছে মাস থেকে ত আমাদের ঠাকুরের পালা পড়বে একটা উঁচু দেখে কাঠের সিংহাসন কিনে এনো- নিচু হয়ে দেখতে হয় আমার বড্ড খারাপ লাগে।’

    –

    303

    একটু পায়সও জুটত না। আধ-পো দুধ নেওয়া হ’ত রাত্রের শেতলের জন্যে– সেটুকু শাশুড়ী খেতেন। মহাশ্বেতা বলেছিল একদিন, ‘ঠাকুরের ভোগে যে পায়েস দিতে হয় শুনেছি মা?’ তাতে শাশুড়ী উত্তর দিয়েছিলেন, ‘ও মা, সে আমাদের নয়– আমাদের যে আত্মবৎ সেবা। নিজেরা যা খাবো তা-ই ঠাকুরকে দেব।’ মহাশ্বেতার একবার মনে হয়েছিল রাত্রের শেতলের কথা– ওরা ত আর রোজ দুধ খেত না, ভাতই খেত, তবে ঠাকুরকে তা দেওয়া হয় কেন? কিন্তু শেষ অবধি সাহসে কুলোয় না।

    ঠাকুর আসার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই আর একটা উপসর্গ জুটল–গোরু। অভয়পদ কোথা থেকে একটা বড়-সড় বাছুর নিয়ে এল, এ নাকি বড় হয়ে বছর দেড়েকের মধ্যেই দুধ দেবে। দুধ দেবে কিনা মহাশ্বেতা জানে না, কিন্তু কাজ যা বাড়ল তাতে ওর চক্ষুস্থির! খড় কাটা, জাব দেওয়া, জল দেওয়া, গোয়ালকাড়া সবই করতে হয় তাকে। শাশুড়ী ঠাকুরঘর নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তাঁর নিশ্বাস ফেলার সময় থাকে না তা মহাশ্বেতা নিজের চোখেই দেখে, সুতরাং তাঁকে দোষ দেওয়া যায় না– রাগ ধরে ওর ননদের ওপর। ওরই বয়সী ননদ অন্তত শাশুড়ী তাই বলেন (মহার মনে হয় আরও বেশি বয়স) তবু সে কুটি ভেঙে দু’খানি করে না। শাশুড়ীও কিছু বলেন না ওকে—- সারাদিন পুতুল খেলে ঘুরে বেড়ায়। তার ওপর বৌদির নামে নালিশ করতে পারলে আর কিছু চায় না। একটু কিছু হ’লেই সুর তোলে, ‘ও-মা-দ্যা-খো-না-বৌ-দি–ইত্যাদি! হাড় জ্বলে যায় মহাশ্বেতার ওকে দেখলে। শাশুড়ীকে বললে বলেন, ‘তা বৌমা, ওর অত্যেচার একটু সইতে হবে বৈ কি! ননদ ত– তাছাড়া ওর কিই বা জ্ঞান- বুদ্ধি হয়েছে বলো!… র’সো না, পরের বাড়ি গেলেই জব্দ হয়ে যাবে।

    অঘ্রাণ মাসে আর এক খাটুনি বাড়ল। কোথায় নাকি ওদের জমি আছে সরিকানা জমি, প্রতি বছর এই সময় তার দরুন ভাগের ধান এসে পড়ে। কমই আসে অন্য বছর, একই সঙ্গে চাল করিয়ে তোলা হয়। মাস-তিনেকের মত চাল হয়। এবার অন্য সরিকের ধানও সস্তায় কিনেছে অভয়পদ, তাছাড়া ধান হয়েছেও বেশি। সুতরাং বস্তা ক’রে ধানই ঘরে তোলা হ’ল। মাঝে মাঝে বার ক’রে সে ধান সেদ্ধ করতে হয়, নেড়ে-চেড়ে শুকোতে হয়, তারপর নিয়ে যেতে হয় ওদের জেঠশ্বশুরের ঢেঁকিশালে ভাঙাতে। তারপর আছে ঝেড়ে-বেছে তুষ-কুড়ো আলাদা করা। অসম্ভব খাটুনি।

    এত খাটুনি অভ্যাস নেই, শরীরেও কুলোয় না। মাঝে মাঝে মহাশ্বেতার চোখে জল এসে যায়। ভাত খেয়ে উঠেই গোরুর কাজ সেরে ধান শুকিয়ে তুলে রেখে হয়ত আবার এসে শাশুড়ীর সঙ্গে ঘাটে বাসন মাজতে বসতে হয়। সে সময় আর চোখের জল বাধা মানে না, সকলের অজ্ঞাতেই আপনিই টপ্ টপ্ করে ঝরে পড়ে জলের ওপর। শাশুড়ীর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকে সে সে-সময়। কোন প্রতিকার ত হবেই না, মিছিমিছি নানা রকমের জবাবদিহি করা। হয়ত ছেলের কাছেই লাগাবেন। দুঃখ সে চেপেই থাকে প্ৰাণপণে।

    এমন কি, মাকেও কখনও বলে না। তবে মধ্যে মধ্যে গিয়ে যখন পনরো কুড়িদিন বাপের বাড়ি থাকে তখন যেন মনে হয় জেলখানা থেকে ছাড়া পেয়েছে সে। মা সঙ্কোচ

    ১৫৩

    করে মেয়েকে আনতে মেয়ে এলেই জামাইকেও আনতে হয়, সে খরচ আছে, তাছাড়া আছে,তাছাড়া মেয়েকেও ভাল ক’রে খেতে দিতে পারে না। আর যাই হোক শ্বশুরবাড়ি পেট পুরে ত ভাত খেতে পায় দুবেলা। কিন্তু মহা অত বোঝে না, গলা জড়িয়ে ধরে মাকে বলে, ‘আমাকে একটু তাড়াতাড়ি এনো মা, তোমার কাছে না খেয়ে থাকলেও শান্তি।’

    আগে আগে শ্যামা ভাবত যে এটা নিছক তার ওপর প্রীতি। কিন্তু তারপর খুঁটে খুঁটে কথার ছলে বোকা মেয়ের কাছ থেকে সব কথাই বার করে নেয় সে। কষ্ট হয় খুবই, তবু মনকে সান্ত্বনা দেয, গরীবের ঘরে জন্মেছে যখন তখন ত খাটতেই হবে। জামাই ভাল হয়েছে, এইটুকুই লাভ।

    এক বছর পরে মহাশ্বেতার ভাগ্য একটু ফিরল। শোবার ব্যবস্থা পালটালো। কোথা থেকে কি বাড়তি টাকা পেয়ে ছোট ঘরটা সারিয়ে-সুরিয়ে নিলে অভয়পদ –তারপর থেকে স্বামীর ঘরেই মহাশ্বেতার শোয়ার হুকুম হ’ল।

    সে যেন বাঁচল। দুটো কথা কওয়া যায় প্রাণভরে, তা অভয়পদ উত্তর দিক বা না দিক (অধিকাংশ কথারই উত্তর দেয় না)–মধ্যরাত্রে শেয়ালের ডাকে ঘুম ভেঙে হঠাৎ ভয় পেয়ে গেলে তাকে জড়িয়ে ধরে বুকের মধ্যে মুখ লুকোনো যায়– এটাই কি কম লাভ? মানুষটা সত্যিই ভাল যত দিন যাচ্ছে, ততই বুঝছে মহাশ্বেতা কোথাও শবযাত্রার ‘বল হরি, হরিবোল’আওয়াজ পেলে নিজেই বুকের মধ্যে টেনে নেয় বৌকে, পিঠে হাত বুলিয়ে প্রশ্ন করে, ‘ভয় পাও নি ত?’

    –

    দূরে

    ১৫৪

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপাঞ্চজন্য – গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    Next Article উপকণ্ঠে – গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    Related Articles

    গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    পৌষ ফাগুনের পালা – গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    August 7, 2025
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    উপকণ্ঠে – গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    August 7, 2025
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    পাঞ্চজন্য – গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    August 7, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }