Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কলকাতার কাছেই – গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    গজেন্দ্রকুমার মিত্র এক পাতা গল্প415 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২০. আর যে আশা নেই

    বিংশ পরিচ্ছেদ

    ওসিআর ভার্সন। ভুল সংশোধন করা হয়নি।

    রাসমণি দিন দিন বিছানার সঙ্গে মিশিয়ে যাচ্ছেন। আর যে আশা নেই, তা উমাও বোঝে একসময়। বোঝে আর তার বুকের মধ্যে হিম হয়ে আসে, আশ্রয় এবং অবলম্বন– দুটোই তার একসঙ্গে খসে পড়বে।

    অথচ কীই বা করতে পারে সে?

    অনেক কষ্টে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে হোমিওপ্যাথ পালটে কবিরাজ ডাকা হল। কবিরাজের পর ডাক্তার। রাসমণি জীবনে কখনও ডাক্তারী ওষুধ খান নি, আপত্তি ছিল যথেষ্ট– শুধু উমার চোখের জলেই রাজী হলেন শেষ পর্যন্ত। আহা, ওকে ত একেবারেই পথে বসিয়ে যাচ্ছেন বলতে গেলে ওর পক্ষে তাঁকে ধরে রাখবার চেষ্টা খুবই স্বাভাবিক, ডাক্তার ডেকেই যদি মনে শান্তি পায় ত পাক। তেজস্কর উগ্র আর কটু আস্বাদের ডাক্তারী ওষুধ খেতে তাঁর বমি আসত, চোখে জল বেরিয়ে যেত– তবু প্রাণপণে খেতেন।

    কিন্তু কিছুতেই কিছু হয় না।

    জ্বর ঠিক নিয়মিত আসে বিকেলের দিকে, সন্ধ্যার কিছু পরে ছেড়ে যায়। রেখে যায় আপরিসীম দুর্বলতা।

    এমন সময়ে উমা বলে, ‘চলুন মা, আপনাকে নিয়ে দেওঘর যাই যা আছে সব বেচেও সারিয়ে আনি। দেওঘরের হাওয়া শুনেছি খুব ভাল। যে যায় সে-ই সেরে আসে। বাবা বদ্যিনাথের দয়ায় আপনিও ভাল হয়ে উঠবেন নিশ্চয়ই।’

    রাসমণি হাসেন। অতি কণ্ঠে বলেন, ‘ক্ষেপেছিস তুই! আমি তো মড়াই, মড়া নিয়ে কোথায় যাবি? যেতে যেতেই হয়ে যাবো। না– টানাহেঁচড়ায় আর কাজ নেই।’

    কমলাও জিদ করে, ‘চলুন না মা। না হয় সেকেন্ কেলাসে শুইয়ে নিয়ে যাবো। ওতে অত ভিড় হয় না। আগে থাকতে রিজাব করা যায়। না হয় আমার একটা গয়নাই বিক্রি করবো।’

    ধমক দেন ওরই মধ্যে। বলেন, ‘কার গয়না তুই আমার জন্যে বিক্রি করবি তাই শুনি? ও ত তোর ছেলের গয়না। ছেলে মানুষ করতে হবে তোকে।… ঘাটের মড়াকে ঘাটে পাঠাবার ব্যবস্থা কর। আর কেন? ধানের ভাত তেতো লাগছে-

    বাঁচব! আমার দিন ফুরিয়েছে

    ক্রমশ দিন ফুরোবার অন্য লক্ষণও প্রকাশ পায়।

    আর কি আমি

    ছেলেমানুষের মত হয়ে পড়েন। অমন গাম্ভীর্য, অমন স্থিরবুদ্ধি কোথায় যেন চলে গেল! কে বলবে সেই মানুষ! আহারে লোভ কোনদিন ছিল না, ক্রমশ তাও দেখা দেয়। কেবলই কুপথ্য খেতে চান, না দিলে রাগ করেন। ডাক্তার বলেছে ভাত দিতে গলাভাত অল্প করে আর কাঁচকলার ঝোল। কিন্তু কাঁচকলার ঝোল দেখলেই রেগে যান। যেদিন হাতে একটু জোর থাকে– ছুঁড়ে ছড়িয়ে ফেলে দেন ভাত– কান্নাকাটি করেন। দুধ বার্লি খাওয়াতে গেলে দাঁতে দাঁত চেপে থাকেন। কেবল খেয়াল থাকে একাদশীর কথাটা। প্রাইয় জিজ্ঞাসা করেন, ‘হ্যাঁরে, একাদশ কবে হল? তোরা একাদশীতে খাইয়ে দিচ্ছিস্ না ত?’

    ওরা আগে আগে বোঝাবার চেষ্টা করত। এতকাল ক’রে এসেছেন— এখন অপটু শরীরে আর কেন! আতুরে নিয়মো নাস্তি। কিন্তু রাসমণি কিছুতেই বোঝেন না। বলেন, ‘এতকাল করে এসেছি, এখন ফেলে দেব? এই ক’টা দিনের জন্যে? লাভ কি? শরীর ত যেতে বসেছেই তাকে আর দুটো দিন ধরে রাখতে ধর্মটা দেব কেন?

    অগত্যা মিছে কথা বলতে হয়। এখনও দেরি আছে বলে চালিয়ে, কিছু দিন পরে বলা হয়– একাদশী ত কবে কেটে গেছে!

    রাসমণি বলেন, ‘কৈ, তা তোরা আমাকে বললি না ত?’

    ,

    ‘হ্যাঁ, আপনি করলেন যে। আপনি আজকাল বড্ড ভুলে যান!’

    ছেলেমানুষের মতই আশ্বাস লাভ করেন সহজে। বলেন, ‘তা হবে। মরণকালে ভীমরতি হয় মানুষের। বেভুল হয়ে যায় সব– কিছু কি মনে থাকে! থাকে না।’

    একদিন– ঠিক একাদশীর আগের দিন,–হঠাৎ বলে বসলেন, ‘পাঁজিটা আন, আমি পাঁজি দেখব! ‘

    অগত্যা পাঁজি আনতে হল। হাত কাঁপে, বই ধরতে পারেন না। গোবিন্দ উঁচু ক’রে ধরলে বুকের ওপর। চোখের দৃষ্টি হয়ে এসেছে ঝাপ্‌সা–ভাল ক’রে দেখা যায় না কিছু। অতি কষ্টে বহু দূরে রেখে যদি বা নজর চলে ত তারিখ তিথি সব গোলমাল হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত গোবিন্দকে জিজ্ঞেস করেন,’আজ কি তারিখ দেখ তো। মিছে কথা বলিস্ ত আর কখনও ভালবাসব না!’

    কমলার চোখ-টেপা গোবিন্দ দেখতে পায় না। সে তারিখটা বলে দেয়।

    রাসমণি হিসেব ক’রে দেখে বলেন, ‘কাল ত একাদশী! ঠিক হয়েছে– মনে ক’রে রাখব। পরের দিন সত্যিই তাঁকে কিছু খাওয়ানো গেল না। সন্ধ্যাবেলা প্রবল জ্বরের ধমকে তৃষ্ণায় বুক পর্যন্ত শুকিয়ে উঠল যখন, তখন হাঁপাতে হাঁপাতে বললেন শুধু, ‘মুখে একটু গঙ্গাজল দে উমি, শুনেছি গঙ্গাজলে দোষ নেই। আর পারছি না!’

    সেই এক চুমুক গঙ্গাজল খেয়েই সেদিন সারা দিনরাত কেটে গেল। আশ্চর্য এই যে– ওরা যতটা আশঙ্কা করেছিল তার কিছুই হ’ল না। প্রতিদিন যেমন থাকেন তেমনই রইলেন।

    দুই

    মাঝে মাঝে পুরোনো ব্যক্তিত্বের বিদ্যুৎস্ফুরণ ঘটে জ্যৈষ্ঠের গোড়ার দিকে রাসমণি হঠাৎ একদিন

    ২২৩

    বই

    শ্যামাকে খবর দে

    উমি, আমি বেঁচে থাকতে থাকতে যা ক্ষুদকুঁড়ো আছে ভাগ করে দিয়ে যাই– নইলে তাকে ত আমি চিনি– তার সঙ্গে তোরা পেরে উঠবি না!’

    উমা ক্লান্ত সুরে বললে, ‘কি হবে মা আপনার এই দুর্বল দেহ ব্যস্ত করে? না হয় সে-ই সব নেবে। আমার আর কি হবে?’

    তোমাকে আর গিন্নিত্ব করতে হবে না মা–যা বলছি তাই শোন! বাসনগুলো থাকলে অসময়ে বিক্রি ক’রে খাওয়া যায়, রোগ হ’লে ডাক্তার দেখানো যায়। তুমি কি আমার চেয়ে বেশি বোঝ?’

    ‘তার ছেলেমেয়ে আছে–’ তবুও উমা বলতে চেষ্টা করে, ‘তার দরকার বেশি।’

    ‘তোমার সঙ্গে আমি আর বকতে পারি না মা। আমার মুখ ব্যথা করে। ওর ছেলেমেয়ে আছে বলেই দরকার কম। তারা মানুষ হয়ে ওকে দেখবে। তোমাকে কে দেখবে? তুমি কি এমন তালেবর যে, দু’শ পাঁচ’শ টাকা রোজগার ক’রে জমাবে!’

    অগত্যা শ্যামাকে চিঠি লেখা হ’ল।

    শ্যামা শশব্যস্তে এসে পৌঁছল। প্রায় ছুটতে ছুটতে।

    এতদিনের আশা ও আশঙ্কা তার।

    আশাই বেশি। মা কি আর সত্যি কথাই বলেছেন! কিছুই কি নেই! মনে তা হয় না। রাসমণি ইঙ্গিতে বসিয়ে দিতে বললেন। তিন-চারটে বালিশ উঁচু করে পিঠের নিচে দিয়ে তাঁকে বসিয়ে দেওয়া হল। তারপর কমলা ও উমা সিন্দুক খুলে বাসনের স্তূপ এনে তাঁর সামনে সাজাতে লাগল। শ্যামাও ছুটে গিয়ে ওদের সাহায্য করতে লাগল। কাঁসার বাসনের স্তূপ। খাগড়াই বাসন, ডাকাই বাসন– কটকীও আছে দু-একখানা, কিন্তু সে খুব কম। ভারী ভারী থালা।

    এ ছাড়া পাথরের বাসন। সাদা পাথরের সেট, কষ্টিপাথরের সেটা। জয়পুর, গয়া ও মুঙ্গেরের ভাল ভাল বাসন। লোভে চোখ জ্বলতে থাকে শ্যামার।

    সব বাসন উজাড় ক’রে এনে সাজিয়ে দেওয়া হল।

    তারপর চোখের ইঙ্গিতে উমা হাতির দাঁতের কাজ-করা কাঠের বাক্সটা এনে রাখল ওঁর পাশে। গয়নায় বাক্স। উৎকণ্ঠিত শ্যামা নিশ্বাস রুদ্ধ করে আছে। কি অচিন্তিত রহস্য ওর মধ্যে লুকিয়ে আছে কে জানে?

    আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন রাসমণি। কমলা তিনটে ভাগ করতে থাকে। যেগুলো তিনের পর্যায়ে আছে সেগুলো আপনিই ভাগ হয়। যেমন এক সাইজের ছিল ছ’খানা— দুখানা করে পড়ল। যা ঠিক ভাগ-মত নেই, সেগুলোর মনে মনে একটা হিসেব ক’রে নেন রাসমণি।

    চারটে ছোট বাটি দু’ভাগ করে তার জায়গায় একটা বড় বাটি আন্দাজমত দেন তৃতীয় ভাগে। এইটুকু করতেও ক্লান্তি বোধ হয় তাঁর। তিনি মধ্যে মধ্যে চোখ বুজে বিশ্রাম ক’রে নেন খানিকটা, আবার একসময় চোখ মেলে কাজ শুরু করেন।

    অনেকক্ষণ পর্যন্ত ভাগ করা দেখে দেখে একসময় আর থাকতে পারলে না শ্যামা। বলে উঠল, ‘ভাগটা কি সমান করা উচিত হচ্ছে মা! আমার এতগুলো ছেলে-মেয়ে, উমার মোটেই নেই, দিদির ত মোটে একটা! দরকার আমারই বেশি!’

    228

    লজ্জায় কমলা উমার মুখ লাল হয়ে ওঠে। শ্যামা এমন নির্লজ্জভাবে বললে কি ক’রে– ওরা ভাবে। শ্যামারও যে একেবারে লজ্জা করে না তা নয়। তবে তার প্রতিকূল ভাগ্য এতাবৎ তাকে এই শিক্ষাই দিয়েছে যে এসব ব্যাপারে চক্ষুলজ্জার স্থান নেই। লজ্জা করতে গেলেই ঠকতে হয়।

    রাসমণি তাঁর রোগক্লান্ত চক্ষু দুটি মেলে স্থির দৃষ্টিতে তাকান কিছুক্ষণ শ্যামার মুখের দিকে। কথা কইতে আজকাল তাঁর একটু সময় লাগে, যেন ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় ক’রে নেন। তারপর বলেন, ‘তোমার ছেলেমেয়ের ভাবনা তুমি ভাবো মা, আমি ভাবছি আমার মেয়েদের ভাবনা! তার বেশি ভাবতে গেলে ত আমার চলে না। কত দূর ভাবব বলো– এই গোবিন্দরই হয়ত দশটা ছেলে হ’তে পারে। তোমার হেমের হয়ত একটাও হল না!… উমার স্বামী এসেছিলেন, দেখা ক’রে গেছেন। কে জানে তাঁর মত ফিরবে কি না– এই উমারই হয়ত একঘর ছেলেমেয়ে হবে একদিন। তাছাড়া তোমার ছেলেমেয়ে আছে ব’লেই ত তোমাকে আর কিছু দেওয়া উচিত নয়। তোমার হেম ত এখনই রোজগার ক’রে খাওয়াচ্ছে। উমাকে কে দেখবে?’

    শ্যামা দমবার পাত্রী নয়। সে বললে, হেমই দেখবে।’

    ‘সে আমি জানি। অশক্ত হয়ে তোমার ছেলের ঘাড়ে গিয়ে পড়লে হয়ত একমুঠো ভাত সে দেবে। কিন্তু ধার ক’রে ডাক্তার দেখাবে না, এটাও ঠিক!… আর হেমই যদি দেখে— সে-ই ত একদিন পাবে এসব, নেহাত যদি উমার কপাল কোনদিন না ফেরে!’

    শ্যামা বোধ করি আরও কি বলতে যাচ্ছিল, রাসমণি কম্পিত হাতের তর্জনী তুলে নিষেধ করলেন। তারপর কমলাকে ইঙ্গিত করলেন ভাগ করে যেতে।

    সব বাসন ভাগ করা শেষ হ’লে রাসমণি আর একবার শ্যামার মুখের দিকে তাকালেন। ম্লান অথচ বিদ্রুপের একটুখানি হাসি তাঁর ঠোঁটের কোণে খেলে গেল।

    ‘তাই বুঝি মা তুমি ওদের অত সাহায্য করতে দৌড়চ্ছিলে! বড় খাগড়াই বাটিটা আর সরপোশ দেওয়া গেলাসটা আসতে আসতে কোথায় হাতসাফাই করেছ ব’লে দাও– গোবিন্দ গিয়ে নিয়ে আসুক!’

    কমলা ও উমা স্তম্ভিত। একবার সন্দেহ হ’ল মার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে সত্যি-সত্যিই? এমন কথা কি ক’রে বলতে পারলেন তিনি? কিন্তু আরও স্তম্ভিত হল শ্যামার অবনত আরক্ত মুখের দিকে চেয়ে। অপরাধ স্বীকারের এমন স্পষ্ট ভাষা তারা আর কখনও ইতিপূবে এভাবে কারও মুখে ফুটে উঠতে দেখে নি। শ্যামার সুগৌর মুখ অগ্নিবর্ণ হয়ে উঠেছে, এই কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই ললাটের স্বেদবিন্দু মুক্তোর মত বড় বড় হয়ে উঠেছে।

    শ্যামা বার-দুই ঢোক গিলে বললে, ‘আপনি অকারণ আমাকে অপমান করেন মা– আনতে আনতে বড্ড ভার বোধ হ’ল তাই– তারপর একদম ভুলে গেছি!’

    ‘বেশ ত, কোথায় রেখেছ বলো?’

    ‘আমি আনছি–’

    শ্যামা একরকম দৌড়েই চ

    থেকে বেরোয় বাসন দুটো।

    উঁকি মেরে দেখে, সিন্দুকেরই তলা

    225

    রাসমণি হাসেন।

    ‘বেভুল হয়েছে ঠিকই, হবার কথাও। কিন্তু শুনেছি দিন শেষ হ’লে আবার সব মনে আসে। আমারও আর দেরি নেই রে! সেব যেন আমার গোনাগাঁথা– এমনি মনে পড়ছে!’

    উমার চোখে জল টলটলই করছিল, এবার আর বাধা মানল না। ঝরে পড়ল ঝরঝর ক’রে। সেদিকে চেয়ে আর একবার হাসলেন রাসমণি। বাটি আর গেলাস এনে ওঁর সামনে নামিয়ে দিয়ে শ্যামা নত-মুখে বসল। তার আর যেন কথা বলবার ক্ষমতা নেই।

    রাসমণি বললেন, ‘কমলা, আমার ইচ্ছে এ দুটো মহাশ্বেতার বরকে দিই! কী বলো তুমি?’ কমলা তাড়াতাড়ি বললে, ‘বেশ ত, দিন না মা।’

    ‘আর ঐ বড় ফুলকাটা রেকাবিখানা– ফরমাশ দিয়ে গড়ানো ওটা, দু’সের ওজন- ঐটে দিও খেঁদির বরকে। কিছুই নয়– দিদিমার একটা স্মৃতিচিহ্ন, এই আর কি!

    এইবার গয়নার বাক্স খোলা হ’ল। সব ভুলে শ্যামা উদ্গ্রীব লোলুপ হয়ে উঠল আবার। আশা বা আশঙ্কা কোটা ফলে কে জানে!

    কিন্তু যা বেরোল বাক্স থেকে তা সত্যিই হতাশ হবার মত। খান দশেক গিনি, একটা সাতনরী হার, একজোড়া বড় কান, দুজোড়া ঝুমকো আর একগাছা বালা। আর কিছু কুচো সোনা। গোটা-দুই আংটি, হীরের নাকছাবি একটা, আর একটা আসল মুক্তোর নথ। একটা বালা সম্প্রতি বিক্রি করা হয়েছে– নইলে একজোড়াই ছিল।

    একদৃষ্টে চেয়ে রইলেন সেদিকে রাসমণি। চেয়ে চেয়ে তাঁরও চোখে জল ভরে এল। কত কী যে তাঁর মনে হচ্ছিল কে বলবে! কত পুরোনো স্মৃতি ও অতীতের প্রায় ভুলে- যাওয়া দাম্পত্য প্রেমের ঝাপসা ইতিহাস! প্রতিটি অলঙ্কারের পিছনে একটা ইতিহাস আছে বৈকি, ছোট বা বড়! সে সব ইতিহাস আজ এতকাল পরে এই মৃত্যুপথযাত্রিণীর মনে ভিড় ক’রে এসে দাঁড়িয়েছিল কি না, তাই বা কে বলবে? এগুলো যে নারীর সর্বাপেক্ষা প্রিয় বস্তু, শুধু তাও ত নয়– এ যে তাঁর এই দীর্ঘ নিঃসম্বল জীবনের অবলম্বনও বটে। তাঁর জীবনে বিড়ম্বনা ও দুঃখ ছিল কিন্তু তবু শেষ পর্যন্ত কারও কাছে ভিক্ষা না ক’রে মর্যাদার সঙ্গে কাটিয়ে যেতে পারলেন এইটেই বড় লাভ। আর তা সম্ভব হয়েছে এগুলোর জন্যেই! তাছাড়া একদা তিনি স্বামীর প্রিয়তমা ছিলেন– তারও চিহ্ন বহন করছে এই স্বর্ণখন্ডগুলি। কারণে অকারণে প্রিয়াকে খুশী করার জন্যই অলঙ্কার উপহার দিয়েছেন তিনি– তাঁর সেই প্রেমেরই নিদর্শন এই সব অলঙ্কার। সেইজন্যই এরা সাধারণ অলঙ্কারের চাইতে অনেক বেশি মূল্য বহন করছে চিরকাল তাঁর কাছে।

    অনেক– অনেকক্ষণ চেয়ে রইলেন রাসমণি। অশ্রুতে ঝাপসা হয়ে গেছে ক্ষীণ দৃষ্টি– তবু চোখ নামাতে পারেন না যেন।

    অবশেষে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে এলিয়ে পড়েন বালিশে। কিছুই বলতে পারেন না, চিন্তা আচ্ছন্ন হয়ে আসছে কিনা তাও বোঝা যায় না। ঘরসুদ্ধ সকলেই চেয়ে থাকে ওঁর দিকে। কেবল উমা ছাড়া; তার চোখের জল আর কিছুতেই অবরোধ মানছে না– সে বাইরে বেরিয়ে গিয়ে বারান্দায় পড়ে কাঁদছে ফুলে ফুলে।

    অবশেষে একসময় আবার রাসমণি চোখ মেলে তাকান। আঙুল দিয়ে কমলাকে কাছে ডাকেন। উৎকণ্ঠিতা শ্যামাও আর থাকতে না পেরে কাছে এগিয়ে আসে।

    রাসমণি ফিসফিস ক’রে বলেন, ‘বালাটা বোধ হয় লাগবে, আরও যে কদিন বাঁচব তার জন্যে। গিনি ক’খানা রইল– শ্রাদ্ধের খরচ। ওর চেয়ে বেশী খরচ করতে যেও না। বহুল্যতার দরকার নেই। সাতনরী হারটা উমাকে দিও, তার কাজে লাগবে। কান জোড়াটা গোবিন্দর রইল। ঝুমকো দুজোড়া শ্যামার। আর কুচো যা আছে আংটি-ফাংটি

    সবই উমার থাক। ওকেই সব চেয়ে অসহায় রেখে গেলুম, এটুকু ওকে দিতে তোমাদের আপত্তি থাকার কথা নয়। তোমাদের কারও বিয়েই খুব ভাল দিতে পারি নি– কিন্তু ঈশ্বর জানেন, আমার কোন অপরাধ ছিল না। তবু উমার দুর্ভাগ্যের ভাবনা আমাকে পরলোকে গিয়েও শান্তি দেবে না। শুধু তোদের দুঃখেই ভেবে ভেবে গুমরে গুমরে অকালে বুড়ী হয়ে গেলুম এই ভেবে আমাকে মাপ করিস তোরা।’

    রাসমণি আবারও এলিয়ে পড়লেন। অজ্ঞানের মত হয়ে পড়েছেন তিনি। কমলা ছুটে গিয়ে পাখা এনে বাতাস করতে লাগল।

    কেবল শ্যামা বসে রইল পাথরের মত স্থির হয়ে। ওর হতাশার পরিমাণ ওর বিবর্ণ ভাবলেশহীন মুখের দিকে চেয়ে বোধ করি একমাত্র রাসমণিই অনুমান করতে পারতেন কিন্তু তাঁর সে শক্তি তখন ছিল না।

    তিন

    রাসমণি ইদানীং ওষুধ খাওয়া ছেড়েই দিয়েছিলেন একেবারে, এমন কি বরাটের হোমিওপ্যাথি ওষুধ দেখলেও যেন জ্বলে উঠতেন– এখন আহারও ত্যাগ করলেন। কিছুই মুখে রোচে না। কমলা পীড়াপীড়ি করলে বলতেন, কেন জোর করছিস– বুঝতে পারছিস না যে আমার এখানকার খাওয়া শেষ হয়ে গেছে! নইলে মুখে সব তেতো লাগবে কেন? আর দেরি নেই—-ধানের ভাত যখন তেতো লেগেছে তখনই বুঝেছি– এ পৃথিবীর খাওয়া শেষ হয়েছে। আর জোর করিস নি।’

    কমলা তবু হয়ত মৃদু অনুযোগ করে, ‘কিন্তু দেহটা যতদিন আছে–’

    ‘আছে কেন, শেষ হয়ে যাক না! লোকে না খেয়েও ত থাকে দেখি! আর এ দেহ বাঁচিয়েই বা লাভ কি? শুধু শুধু তোদের ভোগান্তি।’

    জ্বর দেখারও উপায় নেই। থার্মোমিটার দেখলে একেবারেই ক্ষেপে যান। কোথা থেকে ঐ পাত-করা দেহে শক্তি আসে তা ভেবে পায় না উমা। পর পর দুটো থার্মোমিটার ভাঙলেন। অকস্মাৎ শীর্ণ হাত বাড়িয়ে এমন অতর্কিতে টেনে নিয়ে আছড়ে ফেলে দেন যে উমা সতর্ক হবারও সময় পায় না। মুখ ভেঙিয়ে বলেন,

    ‘ঐ এক শিখেছেন ওরা!…যখন-তখন জ্বর-কাঠি গোঁজা! কাজ নেই কর্ম নেই। কী হবে? জ্বল মেপে দেখলেই আমি সেরে উঠব?’

    শেষ দিনে এমন একটা কুৎসিত কটু মন্তব্য করলেন যে, উমা সহ্য করতে না পেরে ঘর থেকে ছুটে বেরিয়ে গেল। এ কী হল? আজীবন সংযতবাক্ দেবীর মত মহিময়ী তার মায়ের এ কি অধঃপতন! একেই কি তাহলে ভীমরতি বলে?

    কমলা ওকে সান্ত্বনা দেয়, ‘মরণের আগে এমনি হয়, তাই বলে মরবার আগে মতিচ্ছন্ন! এ সইতেই হবে– উপায় ত নেই।’

    এমনি চিকিৎসা-সংক্রান্ত ব্যাপার নিয়ে বিরক্ত না করলে রাসমণি চুপ করে পড়েই থাকেন। কথা কন না, পাশও ফেরেন না। শুধু বুকের কাছে দুকদুক করে জীবন। বেশিদিন যে নয় তা ক্রমে স্পষ্ট হয়ে এল সকলের কাছেই। কমলা বললে, ‘আত্মীয়- স্বজনদের চিঠি দে উমি–এখনত ভেঙে পড়লে চলবে না! যা কর্তব্য তা করতেই হবে। যদি কেউ দেখে যেতে চায়ত যাক।’

    শ্রান্ত কণ্ঠে উমা বলে, গোবিন্দকে বলো দিদি। আত্মীয়-স্বজনই বা কে তাও ত বুঝি না।’ অগত্যা কমলা গোবিন্দকেই কখনো পোস্টকার্ড লিখে দিতে বলে। কখানাই বা! সত্যিই ত, আত্মীয়-স্বজন আর ওদের এমন কে আছে?

    একটু ইতস্তত করে কমলা জিজ্ঞাসা করে, ‘শরৎ জামাইকেও ত তা-হলে একটা খবর দেওয়া উচিত। না কি বলিস!’

    উমা চমকে ওঠে। ওর কদিনের রাত্রি-জাগরণে শীর্ণ-বিবর্ণ হয়ে যাওয়া মুখে এক ঝলক রক্ত যেন কে ছড়িয়ে দেয়।

    তারপর সহজ কণ্ঠে বলে, ‘না। কি দরকার? তার সঙ্গে কিই বা সম্পর্ক? শুধু শুধু মার মৃত্যুর সময় আবার নতুন করে কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দেওয়া।’

    তা বটে। কমলাও স্বীকার করলে মনে মনে কথাটার যৌক্তিকতা।

    হেম এসে কাছে বসে দিদিমার শীর্ণ হাতখানা হাতের মধ্যে টেনে নিলে। কতকটা ভয়ে ভয়ে– সসঙ্কোচে। দিদিমার সঙ্গে এত ঘনিষ্ঠতা করবার সাহস ওর কোনকালেই ছিল না। আজ উপায় নেই বলেই এতদিনের সসম্ভ্রম দূরত্ব ঘুচিয়ে ফেলে। আস্তে আস্তে ডাকে, ‘দিদিমা!’

    জীবনে লক্ষণ দেখা দেয় আগে ঠোঁটে। ঠোঁট দুটো একটু কাঁপে– বোধ হয় প্ৰশ্ন বেরোতে চায়– ‘কে?’ কিন্তু দন্তহীন গহ্বরের মধ্যে থেকে নড়ে। একটু একটু করে অর্ধ-উন্মীলিত হয় চোখ দুটি– শেষে প্রশ্নও বেরোয়,

    ‘

    – ‘কে?’

    ‘আমি হেম, দিদিমা! আমাকে কিছু বলবেন?’ হেমকে কাছে ডাকেন, সেই ঘোলাটে বিবর্ণ দৃষ্টি! হেম খুব কাছে মুখ নিয়ে যায়। আস্তে আস্তে বলেন রাসমণি, ‘আমাকে একটা কথা দিবি ভাই? যা বলব তা শুনবি?’

    ‘নিশ্চয়ই শুনব দিদিমা। কথা দিচ্ছি।’

    ‘ছোট মাসিকে একটু দেখিস। যথাসাধ্য অবশ্য। তোর মা হয়ত ভুলে যাবে বোনের কথা। কিন্তু তুই একটু দেখবি ত! বল্‌, কথা দে?’

    ‘আমার যতটুকু ক্ষমতা দেখব দিদিমা। আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন।’

    বাঁচালি ভাই। বোধহয় এই জন্যেই প্রাণটা যাচ্ছিল না। তুই ছেলেমানুষ– তবু তোর এই কথাতেই যেন ভরসা হল খানিকটা। আমার এই মৃত্যুশয্যায় কথা দিলি, মনে

    থাকে যেন।

    আবার চোখ রোজেন। ঠোঁট দুটিও মুখগহ্বরের ভেতরে চোখের কোল বেয়ে দুটি ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ে।

    আর একবার চোখ খোলেন অভয়পদ এসে বসতে।

    এঁটে যায়। শুধু দুই

    অভয়পদ এসেও ওঁরই বিছানার একপাশে বসে আস্তে আস্তে ডাকে,

    ‘দিদিমা?’

    নতুন কোন কণ্ঠ, তা সেই জড়-আচ্ছন্ন অবস্থার মধ্যেও কেমন করে বোঝেন। আজও চোখের পাতা কাঁপে, একটু একটু করে চোখ খোলেন। বেশির মধ্যে ভ্রুটা ঈষৎ কুচকে যায়। অর্থাৎ বিস্ময়বোধ করেন।

    ‘আমি অভয়পদ দিদিমা!’

    কমলা মাথার কাছে মুখটা এনে বলে, ‘আপনার নাতজামাই এসেছেন মা। বড় নাতজামাই-মহার বর!

    প্রসন্ন হাসি ফুটে ওঠে মুখে। ঠোঁট দুটি খুলতে পারেন না ভাল করে– কিন্তু বিস্তৃত হয়ে বুঝিয়ে দেয় যে তিনি হাসতেই চাইছে। অনেক কষ্টে ঠোঁট নেড়ে কি যেন বলেন, বোধ হয় আশীর্বাদই করেন।

    অভয়পদ বলে, ‘এখন কেমন আছেন দিদিমা?’

    এইবার ভাল করেই হাসি ফোটে মুখে! একটু ঘাড়ও নাড়েন।

    তারপর কোনমতে বলেন, ‘একেবারেই ভাল ভাই। আর দেরি নেই!’

    ‘দিদিমা, কিছু খাবেন? কী খেতে ইচ্ছে করে বলুন?’ অভয়পদ একটু ইতস্তত করে প্রশ্ন করে। এ অবস্থায় আর কী বলা যেতে পারে তা ঠিক সে বুঝতেই পারে না।

    চোখ দুটো বিস্ফারিত হয় বিস্ময়ে। রাসমণি প্রথমটা যেন বুঝতেই পারেন না ওর কথা। তারপর অনেক কষ্টে বলেন, ‘তুেমি খাওয়াবে ভাই তোমার পয়সায়!’

    ‘হ্যাঁ দিদিমা। আমিই খাওয়াবো।’

    ‘রাজ-রাজ্যেশ্বর হও ভাই। বেঁচে থাকো। মহার মহাভাগ্য তোমার হাতে পড়েছে।’

    ‘কিন্তু আপনি কি খাবেন তা বললেন না?’

    অনেকক্ষণ চুপ করে থাকেন। হয়ত বা মৃত্যুপথযাত্রিণী তাঁর বিগত জীবনের ঝাপসা-হয়ে-আসা ইতিহাসের মধ্যে নিজের প্রিয় খাদ্য খুঁজে বেড়ান। অথবা সবই আজ একাকার হয়ে গেছে মনের ভেতর–প্রিয়-অপ্রিয়, স্মৃতি আর চিন্তাশক্তি কোন অতল আঁধারে তলিয়ে গেছে, নাগালই পাচ্ছেন না!

    অবশেষে একসময় বলেন ঠোঁট, খুলে, আনারস খাবো ভাই। আনারস আর গরম সন্দেশ। খাওয়াবে ত?’

    ‘এখুনি নিয়ে আসছি দিদিমা।’

    তখনও আনারসের সময় নয়। সেটা বৈশাখ মাস। তবু অভয়পদ নতুন বাজার থেকে খুঁজে খুঁজে পাকা আনারসই সংগ্রহ করে। আর তিন-কড়ি ময়রার দোকান থেকে গরম গরম সন্দেশের ঠাসা |

    কিন্তু জিরের মত করে আনারস কুচিয়ে কুচিয়ে যখন কমলা মুখে দিতে গেল, তখন অবস্থাৎ রেগে গেলেন রাসমণি, ‘তোরা সবাই মিলে আমাকে একাদশীতে খাওয়াতে এসেছিস? যা নিয়ে যা- থুথু!’

    কমলা ব্যাকুল কণ্ঠে বোঝাতে গেল, ‘আজ যে চতুর্দশী মা। আমি আপনাকে ছুঁয়ে বলছি আজ একাদশী নয়। পরশু একাদশীর উপোস হয়ে গেছে। কাল তেরোস্পর্শ গেছে, আজ চতুর্শশী। আপনি খান!’

    ‘দূর দূর, দূর হয়ে যা! সব্বনাশীরা রিমার সময় আমার বর্ণাশ করতে এসেছে।

    229

    অভয়পদও বোঝাবার চেষ্টা করে, ‘আমি বলছি দিদিমা আজ একাদশী নয়। নইলে আমি আনব কেন?’

    ‘তোরা সব বেইমান। আমি জানি। থু– থু!’

    প্রাণপণে ঠোঁট দুটো চেপে ধরেন রাসমণি। কিছুতেই কেউ বোঝাতে পারে না যে সেদিন একাদশী নয়।

    পূর্ণিমার দিন ভোরবেলা মারা গেলেন রাসমণি। আগের দিন সেই যে মুখ বুজেছিলেন আর খোলেন নি। চোখও চান নি। নিস্তব্ধ নিঃসাড়ে পড়েছিলেন। তবু সকলেই কেমন করে বুঝেছিল যে শেষের শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রায় সারারাতই সকলে ঘিরে বসেছিল। তিন মেয়ে, নাতিনাতনী, দুই নাতজামাই। ছিল না কেবল জামাইরা কেউ। নরেনের পাত্তা জানা নেই– শরৎ কে ইচ্ছে ক’রেই খবর দেওয়া হয় নি।

    শেষরাত্রির দিকে শ্বাসলক্ষণ দেখা দিল। নাকটা ভেঙে গেল। রাঘব ঘোষাল বসেছিলেন; তিনি বললেন, ‘আর দেরি নেই। নাক ভেঙেছে এইবার হয়ে এল! গোবিন্দ, তুই বাবা গঙ্গাজল দে একটু মুখে। তোমরা সবাই নাম শোনাও! অন্তে নারায়ণ ব্রহ্ম। গঙ্গাযাত্রা করবে নাকি?’

    অশ্রুমুখী কমলা প্রবলবেগে ঘাড় নাড়ে। বড় মাসিমার অভিজ্ঞাতই যথেষ্ট।

    শেষরাত্রে অকস্মাৎ নিশ্বাসটা সহজ হয়ে আসে। একসময় আবারও ঠোঁট দুটি নড়ে। মনে হয় যেন কী বলতে চাইছেন!

    ওঠেঃ

    একেবারে মুখের কাছে কান পেতে শোনে অভয়পদ– নামই করছেন রাসমণিঃ ‘হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে

    হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে-

    99

    গলাটা পরিষ্কার করে নিয়ে অভয়পদ বলে, ‘উনিও নামই করছেন। আপনারা–’ সে আর বলতে পারে না। ক্রন্দনের কলরোলের মধ্যে রাঘব ঘোষালের কণ্ঠ বেজে

    ‘হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।

    হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে-

    গোবিন্দ গঙ্গাজল দিতে যায় মুখে, হাত কেপে জল গলায় পড়ে। রাঘবই হাত ধরে মুখে গঙ্গাজল দেওয়ান।

    কিন্তু সে জল আর গলার ভেতর পর্যন্ত গেল না, কষ বেয়ে গড়িয়ে পড়ল। দীর্ঘদিনের বিপুল ব্যথা-বেদনার সঞ্চার নিয়ে রাসমণি কোন্ অজানা সান্ত্বনার পথে যাত্রা করলেন, তা কে জানে!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপাঞ্চজন্য – গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    Next Article উপকণ্ঠে – গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    Related Articles

    গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    পৌষ ফাগুনের পালা – গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    August 7, 2025
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    উপকণ্ঠে – গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    August 7, 2025
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    পাঞ্চজন্য – গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    August 7, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }