Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কলকাতার কাছেই – গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    গজেন্দ্রকুমার মিত্র এক পাতা গল্প415 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৬. খালি বাড়িটা

    ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

    ওসিআর ভার্সন। ভুল সংশোধন করা হয়নি।

    খালি বাড়িটা আরও ফাঁকা লাগে। হা-হা করে বিরাট শূন্যতা। শুধু ত শ্যামা যায়নি, তার সঙ্গে হেমও গেছে; দু’বছরের শিশু তার হাসির কলরবে বাড়িতে যে প্রাণস্পন্দন জাগিয়ে রেখেছিল, তা নিঃশেষে মরে গিয়েছে যেন।

    রাসমণি আরও বেশী সময় দেন পূজোতে। কিন্তু উমার কিছুই করবার নেই। এক এক সময় ভয়াবহ শূন্যতা ও নিষ্ক্রিয়তায় মনে হয় যেন সে পাগল হয়ে যাবে। নির্জন একান্তে টিক্ টিক্ ক’রে মাথা খোঁড়ে সে মধ্যে মধ্যে।

    সাদিক মিয়া বা সাদিক মুসলমান (এই নামেই তিনি পাড়ায় বিখ্যাত ছিলেন) উপদেশ দেন, ‘নিচের তলাটা ভাড়া দাও মেয়ে তাতে বাড়িতে লোকজনও থাকবে,

    তোমার ভাড়ারও অনেকটা সুসার হবে।’

    কিন্তু রাসমণি রাজী হন না। ভাড়াটের সঙ্গে একত্র থাকা যে কী, সে সম্বন্ধে তাঁর কিছু অভিজ্ঞতা আছে বৈকি! আশপাশের বাড়িতে নিত্য কলহ শুনে শুনে তিনি ক্লান্ত। কে কার সিঁড়ি ধোওয়ার পালায় ফাঁকি দিয়েছে, কোন্ ভাড়াটে পাইখানা পরিষ্কার করানোর শর্ত মানছে না, কে কতটা জল বেশি খরচ করছে– এমনি হাজারো ঝঞ্ঝাট। তাছাড়া গুচ্ছের ছেলেমেয়ে হয়ত থাকবে চ্যাঁ ভ্যাঁ নোংরামি। না, সে তিনি

    পারবেন না।

    ‘বরং বুড়ো গোছের একটা দারোয়ান যদি পাওয়া যায়– দোকানে কি অফিসে কাজ করে, এখানে রাত্রে থাকবে, সামান্য ফাই-ফরমাশ খাটবে– সেই চেষ্টা বরং দেখুন বাবা!’

    মাস দুই পরে সাদিক তার চেয়ে ভাল প্রস্তাব আনেন, ‘এক ভদ্রলোক ছোটখাটো একটা ছাপাখানা চালাবে –নিচের তলাটা ভাড়া দেবে? নটায় প্রেস খোলে, বড়জোর সন্ধ্যে পর্যন্ত থাকবে। অরপর চাবি দিয়ে বাড়ি চলে যাবে। ভাড়াও দিতে চাইছে কুড়ি টাকা। এটা পেলে তোমার আর বিশেষ ভাড়াই লাগবে না। ত্রিশ টাকার মধ্যে কুড়ি টাকাই ত আদায় হয়ে যাচ্ছে।’

    প্রস্তাবটা রাসমণির মন্দ লাগে না। মেয়েছেলে থাকলেই ছেলেমেয়ে থাকবে গন্ডগোল চেঁচামেচি হাজার রকমের ঝঞ্ঝাট। অথচ বাসাড়ে বেটাছেলে থাকার যে অসুবিধা ও বিপদ, এক্ষেত্রে সে সব সম্ভাবনাও নেই। সারাদিন কাজ করবে সন্ধ্যাবেলা চলে যাবে। সে সময়টা নিচে যাবার দরকার কি?

    তবু একটু চিন্তিত মুখে বলেন, ‘কিন্তু কল-পাইখানা? সে ত নিচের তলায়!’ সাদিক বললেন, ‘সেটা একটা পার্টিশানের মত দিয়ে দিলেই হবে। ওদের ব’লে দেব যে কল-পাইখানা সারতে পারবে না। বাইরেই ত সরকারী কল আছে। এধারের সিঁড়ির সঙ্গে কলতলা সুদ্ধ ঘিরে আমি করগেটের বেড়া দিয়ে দিচ্ছি। ওদের সঙ্গে সম্পর্কই থাকবে না–কেমন?’

    রাসমণি রাজী হলেন। টাকার কথাটাও একেবারে উড়িয়ে দেবার মত নয়। কলসীর জল গড়াতে গড়াতে একবারে তলায় এসে ঠেকেছে –আর কতদিন চলবে তা ভাবতে গেলেও ভয় হয় তাঁর।

    সাদিক মিয়া লোক পাঠিয়ে করগেট দিয়ে বেশ ক’রে উঠোনের মধ্যে বেড়া টেনে দিলেন। তার একটা দোরও হ’ল। সেটা খুললে তবে বাইরের দিকে পড়ে বাড়ি থেকে বার হওয়া যায়। ভেতরের দিকের ছোট একটা ঘরও তাঁদের রইল, শুধু ওদিকের দুখানা ঘর ছেড়ে দেওয়া হ’ল ভাড়াটেদের। কথা হ’ল ভেতরের দিকের দোরও তারা বন্ধ রাখবে। রাস্তার দিকেই তাদের যখন কাজকারবার, অন্তঃপুরে আসবার দরকার কি?

    মাসের পয়লা থেকে ভাড়াটে এল। দুদিন আগে থেকেই তাদের লটবহর আসতে শুরু হয়েছে টাইপ রাখার খোপ-ওলা কাঠের কেস্, গ্যালি রাখার র‍্যাক, টুল, চেয়ার, টেবিল। জন-দুই মিস্ত্রী এসে একটা ছোট ট্রিড্‌ল্‌ প্রেসও লাগিয়ে চালিয়ে দিয়ে গেল। এ ছাড়া আরও এল কিছু রবার স্ট্যাম্প করার সাজ-সরঞ্জাম।

    উমার কাছে এসব জাদুঘরের সাজিয়ে রাখা জিনিসের মতই দ্রষ্টব্য। সে ইতিমধ্যে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখারও একটা ব্যবস্থা ক’রে ফেলেছে। সিঁড়ির একটা বাঁকে বসলে রেলিং-এর ফাঁক দিয়ে ওদের বড় ঘরটার জানালার মধ্য দিয়ে দৃষ্টি পাঠানো যায় বহুদূর। উমা সেইখানে বসে দেখে অবাক্ হয়ে। ওর ডাগর দুটি চোখ বিস্ময় বিস্ফারিত হয়েই থাকে, রেলিং-এ চেপে রাখার ফলে শুভ্র গৌর ললাটে ছাপ ফুটে ওঠে সেখান থেকে না পারে নড়তে আর না পারে চোখ ফেরাতে।

    বিস্ময়!

    তবুও

    ওর আগাগোড়াই বিস্ময় লাগে। টুলে বসে কেমন দ্রুত হস্তে কম্পোজিটাররা বিভিন্ন খোপ থেকে টাইপগুলো নিয়ে পর পর সাজায়। কী নিচ্ছে সেদিকে নজর নেই, নজর ওদের লেখা কাগজখানার দিকে শুধু। সকলেরই খাটো কাপড় পরনে গায়ে ছেঁড়া জামা আর খালি পা। টুলে বসে বসে ওদের ঘাড় ব্যথা করে না? নটায় এসে বসে, ওঠে কেউ সন্ধ্যা ছটায় কেউ আরও পরে। দুপুরে শুধু একবার উঠে মুড়ি খায়। আধ পয়সার মুড়ি আর আধ পয়সার বেগুনি কি ফুলুরি।

    আবার কল চালিয়ে ছাপা — সেও কম বিস্ময় নয়। পা দিয়ে কি একা ঠেলে আর চাকা ঘোরে। কেমন লুচি বেলা বেলুনের মত দুটো বেলুন একটা লোহার চাকি থেকে কালি নিয়ে সীসের অক্ষরের ওপর বুলিয়ে দিয়ে যায় তারপর তাতে পিনে আটকানো কাগজখানা গিয়ে পড়ে আর আপনি ছাপা হয়ে যায়। কোনটা দেখবে উমা যেন ভেবেই পায় না।

    ওদের মনিবটিও দেখবার মত বৈকি! বেঁটে খাটো কালো-পানা মানুষটি দোহারা

    টও দেখবার মত বৈরি বলিষ্ঠ গড়ন। ছোট ছোট দুটি চোখে কেমন এক প্রকারের ধূর্ত দৃষ্টি। ধুতির ওপর

    ৬৭

    মেরজাই পরে ঘুরে বেড়ায়, একটা জামা আছে, সেটা পেরেকে টাঙানোই থাকে। প্রেসের চাবি থাকে তার ট্যাঁকে গোঁজা ফলে খাটো কাপড়খানা হাটুর ওপরে উঠে পড়ে। লোকটি এক দণ্ড স্থির হয়ে থাকে না। যখন খদ্দের আসে তখন চেয়ারে এসে বসে, পাশে টুলের ওপর ক্যাশ বাক্সটিতে একটা হাত দিয়ে নইলে হয় কর্মচারীদের খিঁচোর, নয়ত রবার স্ট্যাম্প তৈরি করতে বসে। কর্মচারী অবশ্য খুবই কম, দুটি কম্পোজিটার আর একটি মেসিন চালাবার লোক, সে-ই অবসর সময়ে ফাই-ফরমাশ খাটে। মনিব নিজেই রবার স্ট্যাম্প তৈরি, করেন –খদ্দেরের কাছে খালি বলেন, (কেউ কিছু পালটে দিতে বললে) ‘এখন ত আবার আমার কর্মচারী নেই কিনা, ওটা থাক কাল সে এসে সেরে রাখবে’খন।’ অর্থাৎ জানতে দেন না কাউকে যে কাজটা তিনি নিজেই ক’রে থাকেন।

    লোকটির ভাবভঙ্গী দেখলে উমা কিছুতেই হাসি চাপতে পারে না। বয়স কত সে সম্বন্ধে ওর কোন ধারণা নেই ত্রিশও হতে পারে, চল্লিশ হওয়াও বিচিত্র নয়। কিন্তু শুধুই হাসি পায় না, কেমন যেন ভয়-ভয়ও করে। কী একটা আছে লোকটার মধ্যে আতঙ্ককর কিছু যাতে তার দিক বেশিক্ষণ চেয়ে থাকলে গায়ের মধ্যে একটা শিশির্ করে ওঠে

    অথচ যত মনে করে সে ওদিকে চাইবে না চোখ ফিরিয়ে নেয়, ততই দৃষ্টি যেন ঘুরেফিরে ওর উপর নিবদ্ধ হয়। চোখ ফেরাতে পারে না।

    গোপনচারিণীর এই চুরি ক’রে দেখাটুকু, বলা বাহুল্য প্রেসের মালিক ফটিকেরও

    চোখ এড়ায় নি। সে নিজে জানতে দেয় নি যে সে জানে বাইরে এমনি নিস্পৃহ উদাসীন ভাব বজায় রেখেছিল কিন্তু তার চোরা চাহনি সদাজাগ্রত দৃষ্টি মেলে থাকত এই রূপসী ও কিশোরী মেয়েটির দিকে। তার কাছে কিছুই চাপা ছিল না।

    একদিন অপরাহ্নে অবসর-মত উমা এসে বসেছে তার খাঁজটিতে, হঠাৎ ফটিক মুখ তুলে তাকালে। সেদিন কী কারণে সকাল ক’রে কর্মচারীদের ছুটি হয়ে গিয়েছিল। ফটিক একাই বসে বোধ হয় হিসেব-নিকেশ দেখছিল। পেছন ফিরে বসে থাকা সত্ত্বেও উমার নিঃশব্দ প্রবেশ কেমন ক’রে টের পেয়ে আকস্মিক ভাবে মুখ তুলে তাকিয়ে বলে উঠল, ‘খুকী শোন মা, আছেন ওপরে?

    উমা একেবারে অবাক্। এক্ষেত্রে কি করা উচিত ছুটে পালানোই উচিত কি না কিছুই ভেবে পেলে না সে। অপরিচিত পুরুষের সঙ্গে কথা বলা নিশ্চয়ই ঠিক নয় এ কথা সে জানে ভাল ক’রেই কিন্তু ওর চুরি ক’রে দেখাটা ধরা পড়ে গেছে, এবং সামনা-সামনি লোকটি যখন প্রশ্ন ক’রে বসেছে তখন উত্তর না দেওয়াটাও বোধ হয় অভদ্রতা হবে! এখন কি করলে সব দিক বজায় থাকে প্রাণপণে ভাবে সে।

    —

    –

    ঠিক কি করবে এখন কিছুই ভেবে না পেয়ে উমা তাকিয়েই আছে ওর দিকে বিমূঢ় নির্বাক ভাবে, এমন সময়ে ফটিকই আবার কথা কইলে। সে এক নজরেই উমার লজ্জারক্ত মুখ ও বিব্রত দৃষ্টি দেখে ব্যাপারটা বুঝে নিয়েছিল ললে, ‘মা ঠাকুরুনকে বলো ত, আমি একবার প্রণাম করতে যাব।

    এবার উমা অব্যাহতি পেল। সে ছুটে ওপরে গি ঐ ছাপাখানার লোকটা আপনার সঙ্গে কথা কইতে চায়

    ৬৮

    পাতে হাঁপাতে বললে, ‘মা,

    বামি করতে যাবো–’

    রাসমণি মেয়ের দিকে তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন, ‘ও তোকে পেলে কোথায় যে তোকে ডেকে বললে?’

    আবারও উমার সুগৌর মুখখানি রক্তরাঙা হয়ে উঠল। সে ঘাড় হেঁট ক’রে দাঁড়িয়ে রইল অপরাধীর মত।

    সিঁড়ি দিয়ে ওদের ঘরের দিকে উঁকি মারছিলি বুঝি? আর কখনও অমন ক’রো না। বুঝলে? ওতে নিন্দে হয়। ভেতরে যাও এখন।’

    তারপর তিনি নিজেই বাইরে বেরিয়ে এসে সিঁড়ির মুখে দাঁড়িয়ে ডাকলেন, ‘কী বলছিলে বাবা, ওপরে এসো।’

    সেই দিন মাসকাবার, সংক্রান্তি। তবু ফটিক ট্যাক্ থেকে ভাড়ার কুড়িটা টাকা বার ক’রে ওঁর পায়ের কাছে রেখে প্রণাম ক’রে পায়ের ধূলো নিয়ে মাথায় ও জিভে ঠেকালে I

    রাসমণি যেন একটু অপ্রতিভ হলেন, ‘এত তাড়া কি ছিল বাবা, এখনও তো মাস শেষই হয় নি বলতে গেলে!’

    ‘তা হোক্ মা। যা দিতে হবে তা দিয়ে ফেলতে না পারলে আমার রাত্রে ঘুম হয় না। কিন্তু ঠিক সেই জন্যেই আপনাকে ডাকি নি মা একটা কথা বলব, ক’দিন থেকেই মনে করেছি, আজ সাহস ক’রে তাই–

    ―

    থেমে গেল সে মাঝপথেই, রাসমণি উত্সুক হয়ে চেয়ে থাকেন, আশা করেন বাকী কথাটার।

    ‘মা, আমি আপনার সন্তানের মত’, বিনয়পূর্বক শুরু করে ফটিক, ‘যদি অপরাধ না নেন ত বলি।’

    ‘বল না বাবা। অপরাধ কিসের।’

    ‘মা, আপনার এই মেয়েটির কথা সব শুনেছি। শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথ ত বন্ধ, আপনিই বা কদিন থাকবেন। তারপর কি হবে ওর?’

    ধৃষ্টতা সন্দেহ নেই। তবু লোকটার বলার ভঙ্গীতে এমন একটা আন্তরিকতা ছিল যে রাসমণির দৃষ্টি প্রখর হয়ে উঠলেও কণ্ঠস্বর কঠিন হয় না, কতকটা কোমল কণ্ঠেই বলেন, ‘সে ওর অদৃষ্টে যা আছে হবে বাবা। তবে এ সব কথা বাইরের লোকের সঙ্গে আলোচনা না করাই ভাল।

    ‘ঐ জন্যেই ত অভয় চেয়ে নিয়েছি মা আগে থাকতে। একটা প্রস্তাব আছে বলেই কথাটা পেড়েছি। ওকে হাতের কাজ শেখাবেন কিছু? যাতে ও রোজগার ক’রে খেতে পারে?’

    ‘কি কাজ?’ সন্দিগ্ধ হয়ে ওঠেন যেন রাসমণি।

    ধরুন রবার স্ট্যাম্প করার কাজ। নতুন কাজটা উঠেছে, এখনও বেশী লোক জানে না তৈরি করতে। অর্ডার আসে খুব। ও যদি ঘরে বসে তৈরি ক’রে দিতে পারে আমি দাম আর কাজ বুঝে নিতে পারি। ওতে বেশ আয় হবে।’

    সে এখন ওকে কে শেখাবে বাবা বলো!’

    ‘যদি অনুমতি করেন ত আমি শেখাতে পারি —

    ৬৯

    ‘সে কি হয় বাবা!’ দৃঢ়কণ্ঠে বাধা দিয়ে ওঠেন রাসমণি, ‘বাজে কথা ব’লে লাভ কি!

    ‘কেন হয় না মা। আপনি বসে থাকবেন, আপনার সামনে বসে আমি শিখিয়ে দেব। তারপর মাল-মশলা সব ওর ঘরেই থাকবে আমি শুধু কাজটা আপনার হাতে এনে দেবো, আপনার কাছ থেকে বুঝে নেবো।… ও ভেতরে বসে কাজ করবে। বেশ আয় হবে আপনি দেখবেন।’

    ‘সে ত আজ তুমি আছ বাবা

    পরে কে ওকে কাজ দেবে, কেই বা বুঝে নেবে? এ হ’ল কারবারের কথা! মেয়েছেলে কি কারবার করতে পারে? তুমি আজ আছ কাল নেই।’

    স্পষ্ট কথাই বলেন রাসমণি। ওর এই অপ্রাসঙ্গিক কথায় একটু বিরক্তও হন। ফটিক কিন্তু নাছোড়বান্দা। বলে, ‘আমি না-ই বা রইলুম মা, সন্ধানসুলুক দিয়ে যাবো এরপর ত চাকর দিয়েও করাতে পারবেন। তাতেও কিছু থাকবে। তাছাড়া কাজটা শিখে রাখতে দোষ কি?’

    তবু সংশয় কাটে কৈ? রাসমণি বলেন, ‘এসব কাজ মেয়েছেলে শিখছে শুনলে লোকে কি বলবে?

    —

    ‘লোকে শুনবে কেন মা? আপনি আর আপনার এই ছেলে এ ছাড়া কারুর শোনবার দরকার কি?’

    ‘আচ্ছা ভেবে দেখি।’ অনিচ্ছাসত্ত্বেও বলতে হয় রাসমণিকে, কতকটা ওকে এড়াবার জন্যই।

    কিন্তু উমা আড়াল থেকে সবই শুনেছিল। সে জেদ করতে লাগল, শিখতে দিন না মা, আপত্তি কি? আপনার সামনেই ত শিখব লোকে কে জানতেই বা পারছে! এরপর যা হয় হোক্‌ এখনও ত দু’পয়সা আয় হতে পারে।’ ইত্যাদি।

    +

    ক’দিন ধরে অনবরত একই কথা শুনে শুনে বিরক্ত হয়ে রাসমণি বলেন, ‘না। ভেবে দেখলুম ওসব ঝামেলার কাজ নেই।’

    দুই

    উমার পিপাসার্তা অন্তরবাসিনী ফটিকের এই প্রস্তাবটিকে যেন প্রাণপণে আকড়ে ধরেছিল, এখন মার নিষেধাজ্ঞায় সে অবলম্বন একেবারে ভেঙে পড়ল। এটা ওর কাছে রীতিমত অবিচার ব’লেই বোধ হ’ল। কি করবে ও? এখন ত মা আছেন তারপর? ভিক্ষে ক’রে খেতে হবে, নয়ত দিদির বাড়ি বিনা মাইনের দাসীবৃত্তি করতে হবে। কেন? কেন? কেন ও স্বাধীন একটা বৃত্তি অবলম্বন করবার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে?

    প্রবল একটা ক্ষোভ আর বিদ্রোহ ওর মনের মধ্যে দুর্বার হয়ে ওঠে। কিন্তু রাসমণির মুখের চেহারা দেখে সে বিদ্রোহ প্রকাশ সম্ভব হয় না। মাকে ভয় করাটা ওদের অভ্যাস হ’তে হ’তে স্বভাবে পরিণত হয়ে গেছে –এখন আর তাকে বদলাতে পারে না।

    দিন দুই ও ভাল ক’রে খেলে না, মার সঙ্গে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কথা বললে না। তাতে অবশ্য রাসমণির বিশেষ কোন ভাবান্তর দেখা গেল না। তিনি নিশ্চিন্ত মনেই নিজের কাজ ক’রে যেতে লাগলেন। তিনি যে ওর এই পরিবর্তন লক্ষ্য করেন নি তা

    নয়, প্রশ্রয় দিতে চান নি। তিনি জানতেন এ নিয়ে কচকচি করলে ব্যাপারটা তেতো হয়ে উঠবে। তিনি উমার অজ্ঞাতসারেই একটু কড়া নজর রাখলেন শুধু।

    উমাও ভয়ে ভয়ে কিছুদিন সিঁড়ির ধার দিয়েই গেল না। কিন্তু কর্ম ও মানুষের সঙ্গের অভাব ওর কৌতূহলকে ক্রমশঃ অসহ করে তুলতে লাগল। ফটিক আজকাল রাত অবধি একা অফিস ঘরে থাকে! কি কাজ করে তা ওপর থেকে বোঝা যায় না শুধু দেখা যায় ঘরে ডবল ফিতের জোরে টেবিল ল্যাম্পটার আলো জ্বলে এবং মধ্যে মধ্যে খুট্ খুট্ ক’রে কি আওয়াজ হয়। সেটা রাসমণিও লক্ষ্য করেন। একদিন সাদিক মিয়াকে ডেকে বললেন, ‘বাবা, আপনি বলেছিলেন যে সন্ধ্যার আগেই ওরা চলে যাবে, এখন ত দেখি রাত নটা-দশটা পর্যন্ত কি করে ঘরের মধ্যে!’

    সাদিক বিস্মিত হলেন। বললেন, ‘তাই নাকি?…আচ্ছা দেখছি আমি।’

    খবর নিয়ে এসে বললেন, ‘সবাই চলে যায়, শুধু ফটিকবাবু থাকেন। ওঁর রবার স্ট্যাম্পের কাজ খুব বেড়েছে, তাই রাত অবধি নিজে বসে কাজ করেন। তাছাড়া প্রেসের অবস্থা খুব ভাল যাচ্ছে না ত– তাই নিজেই কিছু কিছু কম্পোজ করে রাখেন, আর একটা লোক বাড়াতে চান না।’

    ‘প্রেসের অবস্থা ভাল নয়? কিন্তু কাজ ত আসছে! যে লোক ছিল তাদের ত আর তাড়ায় নি, আবার নিজেও এত করছে অবস্থা ত ভাল হবার কথা।’

    তিনি চুপ ক’রে গেলেন। ভাড়াটে বসিয়ে আর এত তুচ্ছ ব্যাপার নিয়ে বাদানুবাদ করা যায় না। সাদিক মিয়ারই বা এমন কি গরজ তিনি ভাড়াটের সন্ধান দিয়ে ত আর অপকার করেন নি –মিছিমিছি তাঁকে উত্ত্যক্ত করা ঠিক নয়।

    কিন্তু, ক্রমশঃ ফটিকের অবস্থানকাল দীর্ঘতর হয়। দশটাও বেজে যায় এক এক দিন।

    রাসমণির সন্ধ্যাবেলাই জপ-আহ্নিক সেরে শুয়ে পড়া অভ্যাস। রাত নটার পর উঠে মেয়েকে খেতে দেন, নিজেও কোন কোন দিন একটু কিছু মুখে দেন, তারপর পাকাপাকি ভাবে বিছানা পেতে শুতে যান। এই সময় আর ঘুম হয় না তাঁর

    তা উমা জানে, সারারাত ছটফট করেন আর মধ্যে মধ্যে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন, কখনও বিছানায় উঠে বসে জপ করতে থাকেন। কিন্তু বোধ হয় সেই জন্যেই সন্ধ্যার ঘুমটা গাঢ় হয়। উমার পক্ষে এমন সুযোগ-সুবিধার লোভ সম্বরণ করা কঠিন হয়ে ওঠে। আজকাল সন্ধ্যার সময় ঝিও থাকে না। কাজ কম হয়ে গেছে বলে রাসমণি নূতন বন্দোবস্ত করেছেন, এখানে শুধু পেটভাতে থাকে সে, সকাল সন্ধ্যায় অন্য বাড়ি ঠিকে কাজ করে। এখানকার কাজ সেরে চলে যায় পাঁচটায়, ফেরে কোনদিন রাত নটায়, কোনদিন সাড়ে নটায়। মার পুরোনো বইগুলো এক-একখানা পঞ্চাশ-ষাটবার ক’রে পড়া হয়ে গেছে। সেগুলোও আর ভালে লাগে না। নিজে মধ্যে মধ্যে কবিতা লেখার চেষ্টা করে সময়টা শুধু ঘুরে বেড়ায়, খালি বাড়িতে একা একা।

    হ’ল।

    সুতরাং প্রকৃতির দুর্লভ্য

    বাকী

    রি আবার এসে বসতে

    জানালার সেই বিশেষ খাঁজ দিয়ে দৃষ্টি প্রসারিত ক’রে যা দেখে তাতে ও রীতিমত বিস্মিতই হয়। ফটিক তার টুলটির ওপর অভ্যস্ত ভঙ্গীতে ক্যাশবাক্সে হাত দিয়ে চুপ ক’রে বসে আছে। এত রাত অবধি কাজ করা ছাড়া থাকার কোন কারণ নেই– কিন্তু কাজ ত কিছুই করছে না, চুপ ক’রে বসে আছে যেন কার জন্য অপেক্ষা করছে। ওধারে দোরও বন্ধ, ঘরেও দ্বিতীয় প্রাণী নেই, তবে এ কিসের প্রতীক্ষা?

    অনেকক্ষণ, বোধ হয় কুড়ি-পঁচিশ মিনিট এই ভাবে কাটল। অবশেষে কৌতূহল অপূর্ণ রেখেই উমা উঠবে মনে করছে এমন সময় সাপের মত হিসহিসিয়ে কে বলে উঠল, ‘খুকী শোন!’

    শিউরে চমকে উঠল উমা।

    কে, কে বললে এ কথা? ফটিক ত তেমনি ওদিকে মুখ ফিরিয়ে বসে আছে, একবারও ফেরে নি। তবে ও জানবে কি ক’রে উমার অস্তিত্ব? কিন্তু ওরই গলা যেন–

    এ কি ভৌতিক ব্যাপার নাকি!

    নিমেষে ঘেমে উঠল সে। জিভটা শুকনো ঠোঁটের ওপর একবার বুলিয়ে নিয়ে ওঠবার চেষ্টা করলে কিন্তু পা যেন অসাড়, নড়বারও শক্তি নেই; কি একটা আতঙ্কে ওর সব স্মায়ূ যেন অবশ হয়ে গেছে

    এবার ফটিক মুখ ফেরালে, টুল থেকে উঠেও দাঁড়াল।

    ‘ভয় কি, শোন না।’

    উমার এতক্ষণে যেন হাত-পায়ে সাড় ফিরে এল। সে প্রাণপণ চেষ্টায় উঠে দ্রুত ছুটে পালাল দোতলায়। একেবারে সর্বশেষ ধাপে পা দিয়ে প্রথম থামল সে দম ফেলবার জন্য, নিজেকে একটু নিরাপদ মনে করে। কিন্তু দেখা গেল যে ফটিকের পূর্ণ পরিচয় সে পায় নি সেই কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সরীসৃপের মতই নিঃশব্দ দ্রুতগতিতে সে একেবারে উমার সামনে পৌঁছে গেল এবং সেই রকম ফিসফিস করে বললে, ‘ভয় কি? আমি যে তোমার জন্যেই বসেছিলুম। শিখবে তুমি রবার ইস্ট্যাম্পের কাজ?’

    ‘মা বারণ করেছেন যে!’ থতিয়ে থতিয়ে অনেক কষ্টে উত্তর দেয় উমা। ওর গলা শুকিয়ে কাঠ, সর্বাঙ্গ কাঁপছে ভয়ে।

    ‘ওঁরা সেকেলে লোক, সব তাতেই খারাপ দেখেন। তুমি ত আর সত্যিই কিছু অন্যায় করতে যাচ্ছ না, ভয় কিসের? উনি ত এই সময়টা রোজ ঘুমোন।

    এই সময় তুমি একটু ক’রে শিখে রাখলে পারো। এটা একটা বিদ্যে –বিদ্যে শিখে রাখতে দোষ

    কি?’

    তবু উমা ইতস্তত ক’রে!

    তোমার অবস্থা দেখে মনে দুঃখ হয়েছে তাই। নইলে আমার আর এত মাথাব্যথা কি? রোজ এই এত রাত অবধি বসে অপেক্ষা করি জানি দু-চার দিন গেলেই আবার তুমি সিঁড়িতে এসে বসবে

    –তু… আপনি টের পান কি ক’রে?’ কৌতূহলটাই বড় হয়ে ওঠে।’

    আশার

    বই

    মা টের

    ফটিক হাসে একটু। অন্ধকারেও ওর দাঁতগুলো দেখা যায়। শক্ত, মজবুত দাঁত। ‘এসো। এসো। আচ্ছা, ব্যাপারটা একটু দেখেই যাও না। ক-মিনিট বা পাবেন না।

    নিজের অনিচ্ছাতেই যেন নেমে আসে। কোন অন্যায় সে করে নি এটা ঠিক, অন্যায় বা পাপের ধারণাও ওর ছিল না, তবু পা-দুটো যেন কাঁপে থরথর করে, সর্বাঙ্গ ঘেমে ওঠে।

    ফটিক কিন্তু খুব সহজ। সে নিতান্ত স্বাভাবিক ভাবেই কথাবার্তা কয়। ওকে দেখায় রবার স্ট্যাম্প তৈরি করার কৌশল ও কলকব্জা। একটা লাইন তৈরি ক’রেও দেখায়। ক্রমে ক্রমে উমার আতঙ্কও কমে। যদিচ কান পাতা থাকে ওপরের দিকে। খানিকটা পরে ফটিকই বলে, ‘এইবার ওপরে যাও খুকী

    মা উঠে পড়বেন হয়ত, তোমাদের ঝি আসারও সময় হ’ল।’ উমাও যেন পালিয়ে বাঁচে। তাড়াতাড়ি যতটা সম্ভব নিঃশব্দে ওপরে উঠে আসে।

    পরের দিন উমা আর সিঁড়ির ধারে গেল না। যদিও ওপরের বারান্দা থেকে ফটিকের ঘরের আলোর রেখা লক্ষ্য ক’রে সে বোঝে যে ফটিক সেদিনও ওর জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু আর নয় মনকে শাসন করে সে, মা যখন নিষেধ করেছেন তখন দরকার নেই ওসব ঝামেলায় গিয়ে।

    >

    কিন্তু তার পরের দিন আবার কে যেন ওকে আকর্ষণ করে মা ঘুমোবার পরেই এসে বসে সিঁড়িতে, ফটিকও যেন প্রস্তুত ডেকে ঘরে নিয়ে যায়। বলে, ‘আজ একটা অর্ডার আছে। দ্যাখো যদি তৈরি করতে পারো ত এর লাভটা তোমাকেই দেবো।’ আগের দিন কেন আসে নি উমা, সে প্রশ্ন ত দুরের কথা তার ইঙ্গিত মাত্রও করে

    না।

    ব্যাপারটা কঠিন, নয়, অল্প আয়াসেই উমা আয়ত্ত ক’রে নেয়। অর্ডারী স্ট্যাম্পটাও তৈরি ক’রে ফেলে সে এক সময়, কাগজের ওপর ছাপ উঠিয়ে সগর্বে তাকিয়ে থাকে নিজের কীর্তির দিকে

    ফটিক বাহবা দেয়, ‘তোমার খুব মাথা কিন্তু। আমিও এত তাড়াতাড়ি শিখতে পারি নি।’

    পরের দিন তিন আনা পয়সা ওর হাতে গুঁজে দেয় ফটিক একরকম জোর ক’রেই, ‘বা রে! তোমার জিনিস বেচে এই লাভ হয়েছে, এটা না নিলে চলবে কেন?’

    লজ্জায় সঙ্কোচে যেন মাটির সঙ্গে মিশে গিয়ে উমা বলে, ‘আমি আমি এ পয়সা নিয়ে কি করব! মা বকবেন —

    –

    ‘জমিয়ে রাখো। মাকে এখন বলবার দরকার কি? এরপর খানিকটা জমিয়ে হাতে দিও একেবারে চমকে উঠবেন।’

    সেদিনও একটা স্ট্যাম্প নিজে হাতে তৈরি করে উমা। টেবিল ল্যাম্পের আলোতে ঝুঁকে পড়ে সে তৈরি করে, ফটিক পাশে দাঁড়িয়ে থেকে উপদেশ নির্দেশ দেয়। ওর নিঃশ্বাস উমার গালে এসে লাগে, উমার ললাটের স্বেদবিন্দুগুলি আলোতে চিকচিক করে, ফটিক তাকিয়ে দেখে।

    এসে লাগে, উমার ললাটে

    ৭৩

    সেদিন সাজ-সরঞ্জাম গুছিয়ে রেখে উমা ‘তবে আসি’ বলে উঠে দাঁড়িয়েছে, ফটিক

    ওর একটা হাত চেপে ধরলে হঠাৎ। উমা ভয় পেয়ে চমকে উঠল

    কেমন একটা

    ভীতত্রস্ত দৃষ্টিতে চেয়ে রইল কিন্তু ফটিকের চোখের দিকে চোখ পড়ে যেন আর জোর করতে পারলে না। বিহ্বল হয়ে দাঁড়িয়েই রইল।

    সাপের মত স্থির দৃষ্টি ফটিকের, জাদুকরের মত অমোঘ আকর্ষণ।

    উমার হাতে টান দিয়ে আরও কাছে আনে ফটিক, ‘শোন! আর একটু থেকে যাও–’ হিসহিস ক’রে ওঠে যেন কোন ক্লেদাক্ত সরীসৃপ।

    তিন

    অকস্মাৎ ওপর থেকে রাসমণির তীক্ষ্ণ আহ্বান কানে এসে বাজল,

    ‘উমি!’

    সাপের ফণা নেম গেল নিমেষে, উমাও যেন সম্বিৎ ফিরে পেল। প্রাণপণে বিহ্বলতা কাটিয়ে ছড়িয়ে-পড়া চেতনাকে কুড়িয়ে নিয়ে সে দৌড়ে ওপরে চলে গেল।

    রাসমণি কিছুক্ষণ নিঃশব্দে ওর দিকে চেয়ে থেকে প্রশ্ন করলেন, ‘কী করছিলি নিচে?’ সর্বাঙ্গ কাঁপছে উমার, গলা দিয়েও স্বর বার হ’তে চায় না। সে শুধু নিরুপায়ের মত দীন ভঙ্গীতে চেয়ে রইল মার দিকে।

    ‘তুই ঐ ওদের ছাপাখানায় গিয়েছিলি? একা, এত রাত্রে?’ চাপা গলায় গর্জন ক’রে ওঠেন রাসমণি।

    ‘ও– ও ডাকলে যেন। কাজ শিখিয়ে দেব বলে–’ থতিয়ে খতিয়ে ঢোক গিলে গিলে বলে উমা।

    ‘আর তুমি তাই যাবে! কচি খুকী! আমি না বলে দিয়েছি ওসব চলবে না! এত বড় সোমখ মেয়ে এই গভীর রাতে একটা ষন্ডামার্কা পুরুষের সঙ্গে নির্জন ঘরে কথা কইছে –পাড়ার কেউ যদি জানতে পারে? আমি কাল সকালে মানুষের সামনে মুখ দেখাব কি ক’রে?’

    তারপর একটু দম নিয়ে বললেন, ‘যার বরাত মন্দ হয় তার বুদ্ধিও কি তেমনি বিপরীত! তুমি এত খুকী নও যে কিসে কি হয় তা জানো না –। আমার চেয়ে ঐ একটা মুখ্‌খু ছাপাখানাওয়ালা ঐ হ’ল তোমার বেশি আপন, না? তাই আমি বারণ করবার পরও ওর কাছে যেতে হ’ল তোমায়! বিয়ের পর স্বামী যাকে নিলে না লজ্জায় তার মাটির সঙ্গে মিশিয়ে থাকবার কথা। তুই তাই লোকের সঙ্গে মুখ দেখাস, অন্য মেয়ে হলে গলায় দড়ি দিত! নির্লজ্জ বেহায়া কমেনকার!’

    রাগ যেন কমে না রাসমণির। উন্মাদের মত বলে যান, শুধু এই জ্ঞানটা আছে যে গলার স্বর বাড়ানো চলবে না, পাড়ার কারও কানে না যায়। কিন্তু সেই চাপা গলার তর্জনের মধ্যে যে ভাষা বেরোতে থাকে তা যেন তীক্ষ্ণধার অস্ত্রের মত কেটে কেটে বসতে থাকে ওর গায়ে। কাটার ওপরও নুন ছিটিয়ে দেয় সেই সব কথা।

    উমারও কিছু বলবার ছিল বৈকি। এই রকম ঘরে যে তাকে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল সে দোষ তার নয় নিজে সে ইচ্ছে ক’রে বা জেনে এ বিয়ে করে নি কিংবা তার

    98

    কোন দোষে সে বিতাড়িত হয় নি, তবে তাকে সে কথা নিয়ে গঞ্জনা দেওয়ার কি যুক্তি থাকতে পারে? কিন্তু মার সেই রুদ্র মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে কোন কথাই বলতে পারে না, মাথা হেঁট করে দাঁড়িয়ে ঘামে শুধু।

    আরও খানিকক্ষণ ধরে ওকে তিরস্কার করার পর রাসমণি সিঁড়ি বেয়ে নেমে এলেন তরতর্ করে

    উমার সেই বসে থাকবার খাঁজটিতে এসে দাঁড়িয়ে ডাক দিলেন,

    ‘ফটিক?’

    •

    ফটিক বহু পূর্বেই চলে যেতে পারত, কিন্তু ওপরের ব্যাপারটা কতদূর কি হয় তা জানবার কৌতূহল দমন করতে পারে নি ব’লে জানালার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল শুধু তাই, নয়, ঘরের আলোটাও নেভানো হয় নি, সুতরাং উপস্থিতিটা অস্বীকার করতে পারলে না, ওপাশের দরজা দিয়ে ঘুরে বেরিয়ে এসে নিরীহ ভাল মানুষের মতই দাঁড়াল, ‘মা, ডাকছেন!’

    মুখে তার দৃঢ় প্রতিজ্ঞার ভঙ্গী। অর্থাৎ তাকে তিরস্কার করতে গেলে সেও সহজে ছাড়বে না, সর্বপ্রকার যুদ্ধের জন্যই সে প্রস্তুত।

    কিন্তু রাসমণি সে ধার দিয়েও গেলেন না। শুধু বললেন, ‘আমি আটচল্লিশ ঘন্টা সময় দিলুম, এর ভিতর তুমি ছাপাখানা উঠিয়ে নিয়ে যাবে। ভাড়াটে রাখার আর সুবিধে হবে না আমার।

    ফটিক হয়ত এতটার জন্য প্রস্তুত ছিল না। মিনিট খানেক সময় লাগল তার উত্তর দিতে, এবং যখন কথা কইলে তখন তার গলাতেও সে দৃঢ়তা যেন আর ফুটল না। বললে, ‘আজ্ঞে, ভাড়াটে তোলার ত একটা আইন আছে উভয় পক্ষেই পনরো দিন নোটিশ দিতে হয়।’

    রাসমণি তাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, আইন আদালত আমি বুঝিও না, করবও না। আটচল্লিশ ঘণ্টা দেখব, তারপর আমি নিজে হাতে তোমার ছাপাখানার জিনিসপত্র তুলে রাস্তায় ফেলে দেব। ক্ষমতা থাকে তুমি আটকিও। আর থানা-পুলিস করতে হয়, আইন-আদালত করতে হয় তুমি ক’রো বাবা!

    এই বলে বাদানুবাদের বিন্দুমাত্র অবসর না দিয়ে তিনি ওপরে উঠে গেলেন।

    উমা সে রাত্রে কিছু খেলে না, ঘুমোতেও পারলে না। তার নিজের যে কোথায় কি অপরাধ ঘটল তা সে অনেক চেষ্টা ক’রেও বুঝতে পারলে না। ফটিকের কাছে কাজ শিখতে নিষেধ করাটাও যেমন সে অবিচার ভেবেছিল, আজকের এ ভর্ৎসনাও তার তেমনি অবিচার বলে বোধ হ’ল। অবশ্য হ্যাঁ মনের অবচেতনে ফটিকের এই কিছুপূর্বের আচরণটা মিলিয়ে কোথায় যেন সে মার নিষেধাজ্ঞার এবং আশঙ্কার একটা যথার্থ স্বীকার করতেও বাধ্য হ’ল। তবু আঘাতের ব্যথাও ত কম নয়। কথা যে তীক্ষ্ণ তীরের মত বাজতে পারে, তা আজ প্রথম বুঝল উমা। শাশুড়ীর তিরস্কারের কারণগুলো সবই মিথ্যা বলে দুঃখিত হ’লেও সে আহত হয় নি বোধহয় খানি। আজ অনুভব করল বাক্যবাণ শব্দটির অর্থ।

    रे

    মর্মান্তিক দুঃখের প্রথম তীব্রতার বিহ্বলা উমা বার করে স

    গলায় দড়িই দেবে। মা তাতে

    কথাই শুনবে

    90

    করলে যে সে মায়ের ন দেখে নেবে সে।

    অকারণে তাকে এতটা আঘাত করার শোধ তুলবে সে মার ওপর। কেন, কিসের জন্য এত ক’রে বললেন তিনি! তিনি কি এটা কখনও ভেবে দেখেন যে উমার মত মেয়ের এই একক নিঃসঙ্গ জীবন কি ক’রে কাটবে? সে যদি প্রলুদ্ধ হয়েই থাকে ফটিকের ঐ অর্থ উপার্জনের প্রস্তাবে ত এমন কিছু অন্যায় করে নি। অবশ্য ফটিক লোক ভাল নয় এটা উমাও বুঝতে পেরেছে, কিন্তু তবু তার দিকটাও কি ভেবে দেখা উচিত ছিল না ওঁর। উমা ত নিজেই অনুতপ্ত।

    তাই বলে

    রাসমণির একটা কথা ওকে সব চেয়ে আঘাত করেছে, ‘এখন বুঝতে পারছি তোকে শ্বশুরবাড়িতেই পাঠানো উচিত ছিল। ঐ দজ্জাল শাশুড়ীর হাতে মার খেয়ে গতর চূর্ণ হওয়াই দরকার ছিল তোর। তবে টিট্ থাকতিস। লাথির ঢেঁকি কি চড়ে ওঠে!….’

    সে কি এমনই মন্দ, এমনই অসৎ যে তার জন্য ঐ শাস্তি ঈশ্বরনির্দিষ্ট! ঐ তার যথার্থ স্থান! তার চেয়ে তার মরাই ভাল।

    জ্বালা থেমে এক সময় চোখে বর্ষা নামে। ভাগ্যের এই উপায়হীন প্রতিকারহীন অবিচারের বিরুদ্ধে মনটা মাথা কুটে কুটে এক সময় যেন শান্তিতেই ভেঙে পড়ে। মনের সব বেদনা অশ্রুর আকারে ধারায় ধারায় ঝড়ে পড়ে উপাধান সিক্ত করে। তবু উমার মরা হয় না। জীবনকে সে ত্যাগ করতে পারে না।

    তার হেমের কথা মনে পড়ে যায়। শ্যামা যদি খোকাটাকেও রেখে যেত! কি নিয়ে সে বাঁচবে? কি নিয়ে?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপাঞ্চজন্য – গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    Next Article উপকণ্ঠে – গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    Related Articles

    গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    পৌষ ফাগুনের পালা – গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    August 7, 2025
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    উপকণ্ঠে – গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    August 7, 2025
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    পাঞ্চজন্য – গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    August 7, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }