Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কলকাতার কাছেই – গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    গজেন্দ্রকুমার মিত্র এক পাতা গল্প415 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৮. উমাদের খালি বাড়িটা

    অষ্টম পরিচ্ছেদ

    ওসিআর ভার্সন। ভুল সংশোধন করা হয়নি।

    উমাদের খালি বাড়িটা যেন উমাকে ভ্যাংচায়। এক এক সময় সে ভাবে তার মুখের দিকে চেয়ে হা-হা ক’রে হাসছে নোনাধরা দেওয়ালগুলো। সত্যি সত্যিই যেন হাসির আওয়াজ পায় সে– অবাক হয়ে চেয়ে থাকে উমা। আজকাল এই চিন্তাটা তার বড় বেশী হয়েছে

    সে পাগল হয়ে যাচ্ছে নাকি!

    কখন মনের

    মাঝে মাঝে নাকি সে আপন মনে বকেও। অন্তত মা তাকে একাধিক দিন তাই বলেছেন। তিনিই চমক ভেঙে দিয়েছেন। কিন্তু তার ত মনে পড়ে না কথাগুলো ঠোঁটের ওপর নাচে অমন ক’রে!

    মতই রূপবান

    মাঝে মাঝে তার মনে হয় স্বামীর কথা। অমন সুপুরুষ স্বামী তার! কার্তিকের এক-একবার তার মনে হয়, না-ই বা স্বামী তাকে নিয়ে ঘর করলেন শ্বশুরবাড়ি না-ই বা যেতে পেলে সে এক আধবারও যদি তিনি আসতেন এখানে ত সে ধন্য হয়ে যেত। দুটি একটি রাত্রির সঙ্গলাভও যদি সে করতে পারত। আত্মসম্মান নয়– অভিমান নয়, কোনপ্রকার অনুযোগেও সে বিব্রত করত না স্বামীকে, কোন কৈফিয়ত চাইত না। কোন দায় চাপাত না বোঝার মত ঘাড়ে চাপত না।

    সন্তান?

    সন্তান হ’লে সে পরের বাড়ি রাঁধুনীগিরি ক’রে কিংবা দাসীবৃত্তি করে মানুষ করত। স্বামীকে কিছু বলত না। একবার আসুক না, শরৎ এসেই দেখুক না। এই ত ঝি বলছিল, ‘কত পুরুষ ত বাইরের মেয়েমানুষ রেখেছে, তাই বলে কি ঘরের বৌ নিয়ে ঘর করে না তারা? এ আবার কেমনধারা অনাচ্ছিষ্টি কান্ড বাপু! কোন্ পুরুষের আজকাল বারদোষ নেই? এ ত শহর-বাজার জায়গা — আমাদের পাড়াগাঁয়েও দেখ গে যাও ঘর- ঘর এই সব কীর্তি! কিন্তু মেয়েমানুষের বাড়ি পড়ে থাকা– এমন সৌন্দর বৌ তা দেখা নেই ছোঁওয়া নেই এমন কখনও শুনিনি!’

    তারই অদৃষ্টে এমন অনাসৃষ্টি কান্ড।

    একবার কাছে পেলে সে স্বামীর পায়ে ধরেও রাজী করাত।

    কিন্তু কোথায় সে? কোন খবর পর্যন্ত পায় না। শুনেছে যে আজকাল নাকি সে

    বাড়িতেও আসে না বাড়ি খোঁজ করতে যাওয়া কিংবা ছাপাখানায় যাওয়া? ছিঃ, সে তা পারবে না!

    মাকে একটা পয়সা পর্যন্ত দেয় না। তার সেই মেয়েমানুষের

    তাছাড়া সে সম্ভব নয়। প্রথমত সে তার ঠিকানাও জানে না। দ্বিতীয়ত মার কাছে এ কথা পাড়লে—-? দুখানা ক’রে কেটে ফেলবেন তিনি

    মনে মনে এই সব কথা আলোচনা করে যখন, তখন বোধহয় মুখ কখনও কখনও নড়ে ওঠে– সে টের পায় না। লজ্জিত হয়ে প্রতিজ্ঞা করে আর কখনও এমন অন্যমনস্ক হবে না।

    মাস কতক পরে উমার তবু একটা কাজ জুটল। মানে, সময় কাটাবার কাজ।পাড়ায় একটা বস্তি ছিল, হঠাৎ সেটা ভেঙে ফেলতে শুরু করলে। শোনা গেল ওখানে নাকি একটা নতুন থিয়েটার-বাড়ি তৈরি হবে।

    থিয়েটার? সেটা আবার কি?

    ঐ যে ঝি হাত-পা নেড়ে বললে, ‘লাটক হয় গো, লাটক! পেলে হয়! সব রং- চং মেখে বেরোয়, নাচগান কথা-বাত্তারা হয়, তারপর আবার যে যার বাড়ি চলে যায়। যেমনকে নিঝঝুম তেমনি। জানো না!’

    উমা দেখে নি কখনও থিয়েটার তবে নাটক সে পড়েছে দু-একখানা। ব্যাপারটা ঝাপসা ঝাপসা আন্দাজ করবার চেষ্টা করে।কিন্তু তাতে অন্য দিকে দিয়ে কৌতূহল কমবার কোন কারণ ঘটে না। বাড়িটা হচ্ছে ওদের গলিটা যেখানে বড় রাস্তায় গিয়ে পড়েছে তারই কাছাকাছি– উল্টো দিকটায়। ওদের ছাদ থেকে খানিকটা স্পষ্ট দেখা যায়। উমা আজকাল অবসর পেলেই ছাদে গিয়ে দাঁড়ায়। হাঁ ক’রে তাকিয়ে থাকে। কী দেখা তা সে জানে না। মিস্ত্রী খাটে, মজুররা যোগাড় দেয়। একটি বাবু দিনরাত দেখাশোনা করেন আর মিস্ত্রীদের গাল দেন, তার ভাষা এখানে এসে পৌঁছয় না অঙ্গভঙ্গীটা লক্ষ্য করা যায়। আর আসে সবটা মিলিয়ে একটা কোলাহল। অদ্ভুত, অপূর্ব লাগে উমার। তবু একটা বৈচিত্র্য, তবু একটা প্রাণচঞ্চলতা। ঐখানে দাঁড়িয়ে থাকাটা যেন নেশায় দাঁড়িয়ে যায় ওর।

    রাসমণি বকেন, কিন্তু খুব জোরে নয়। বড়জোর বলেন, ‘আ মরণ! একটা বাড়ি উঠছে, মিস্ত্রী খাটছে, তার মধ্যে এমন কি মজা আছে তা ত বুঝি নে। দিনরাত রোদে দাঁড়িয়ে অসুখ করবে যে। রং ত পুড়ে যাচ্ছে একেবারে।’

    বেশি কিছু বলেন না। ও যে কত দুঃখে এইটে নিয়ে ভুলে থাকতে চায় তা তিনি মায়ের প্রাণে ভালই বোঝেন।

    কিন্তু এরা বাড়িই তৈরি করাচ্ছে। থিয়েটারের লোক এরা নয়, তা উমা বোঝে।

    মধ্যে মধ্যে একটা গাড়ি চেপে একটি বাবু আসেন তদ্বির করতে, হয়ত তিনিই মালিক। থিয়েটারের লোক কেমন? এমন কি সাধারণ মানুষের মতই? কে জানে! ওর কৌতূহলী মন কল্পনায় তাদের বিচিত্র মুর্তি আঁকে।

    অবশেষে –থিয়েটারের বাড়ি শেষ হয়ে আসার মুখে অপ্রত্যাশিত ভাবে সত্যিকার থিয়েটারের লোক এসে হাজির হয় ওদের বাড়ি।

    া গোছের

    একদিন ঝি এসে রাসমণিকে বললেন, ‘একটি বুড়ো গোছের বাবু এসেছেন, আপনার সঙ্গে দেখা করতে চান। রাসমণি বিস্মিত হয়ে মাথায় ঘোমটা দিয়ে নেমে এলেন, উমাকে বার বার সতর্ক ক’রে দিলেন নীচে না উঁকি মারে সে।

    ―

    ,

    ৯০-

    কিন্তু উমার কৌতূহল অদম্য। সে সিঁড়ির ওপরদিককার একটা ধাপে প্রায় শুয়ে পড়ে একটি খাঁজ দিয়ে চেয়ে থাকে। সে দেখতে পায় ঠিকই কিন্তু তাকে দেখা যায় না। যে লোকটি এসেছিলেন তিনি ভেতরে এসে দাঁড়ালেন। বুড়ো নয় মোটেই বেশ শক্তসমর্থ জোয়ান লোক। হয়ত বড়জোর চল্লিশ বয়স। কিন্তু মাথার চুলগুলো সব সাদা হয়ে গেছে অল্প বয়সেই। লম্বা দোহারা গঠন, সাদা থান-ধূতির কোঁচা সামনে পাট-করা গোঁজা সাদা চীনে কোট গায়ে, তাতে বোতামের ঘরের দুদিকে চমৎকার সুতোর কাজ করা, পায়ে শুড়-তোলা চটি। সম্ভ্রান্ত ভদ্রলোক।

    ভদ্রলোক ভেতরে এসে দাঁড়ালেন হাত জোড় ক’রে, ‘মা, আমি আপনার কাছে একটি ভিক্ষা নিয়ে এসেছি।’

    রাসমণি বললেন, ‘বলুন!’

    ‘জানেন বোধহয় যে এইখানে, এই মোড়ে একটা থিয়েটার-বাড়ি হচ্ছে। ওটা এখনও শেষ হয় নি অথচ এদিকে দেরি হয়ে যাচ্ছে বলে আমরা রিহার্সাল মানে মহড়া শুরু করেছি। কিন্তু এখানে এখনও পাইখানাকল কিছুই তৈরি হয় নি। এতগুলো লোক আসবে একটু খাবার জলও দরকার আমাদের চাকরকে রোজ দু-তিন

    ঘড়া খাবার জল নেবার অনুমতি দেন ত এতগুলি প্রাণীর জীবনটা বাঁচে।’

    রাসমণি বিপন্ন মুখে খানিকটা চুপ ক’রে থেকে বললেন, ‘জল চাইলে না বলতে নেই –কিন্তু বাবা, একা মেয়েছেলে একটা সোমত্ত মেয়ে নিয়ে ঘর করি– থিয়েটারের লোক বাড়ি এলে কে কী বলবে

    – বড় ভয় পাই।’

    ―

    সে ভদ্রলোক বললেন, ‘মা, পাড়ার এখানে আর কারো বাড়ি কল নেই আমি খবর নিয়ে জেনেছি। তা থাকলে কিছুতেই আপনাকে বিরক্ত করতুম না। তাছাড়া, থিয়েটারের লোক সবাই ত খারাপ নয় মা –আমি বামুনের ছেলে, ভদ্রলোকের ছেলে, লেখাপড়াও করেছি। পাথুরেঘাটা ঠাকুরবাড়ির দৌউত্তুর আমি। চাকর এসে জল নিয়ে যাবে এক-আধ কলসী বৈ ত নয়। হিন্দুস্থানী বেয়ারা, তারাও সৎ জাত।’

    রাসমণি একটুখানি চুপ ক’রে থেকে বললেন, ‘আচ্ছা, তাই হবে। এতে যদি পাড়ায় কোন কথা ওঠে কি আর কোন উপদ্রব হয় ত শেষ পর্যন্ত আমায় এ ব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে, তা আপনাকে জানিয়ে রাখছি।’

    ভদ্রলোক হেঁট হয়ে নমস্কার ক’রে বেরিয়ে গেলেন। মা এদিকে ফেরবার আগেই উমা নিঃশব্দে তার খাঁজ থেকে উঠে পালিয়ে গেল। তার বুকটা ধড়াস ধড়াস্ করছে ধরা পড়বার ভয়ে নয়, বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে বিশেষত নিতান্ত যা কল্পলোকের বস্তু সেই থিয়েটারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপিত হবার সম্ভাবনায়।

    দুই

    রাসমণির একটা সুবিধা ছিল এই যে পাড়ার লোকে কি বলছে না বলছে সেটা তাঁর জানবার বিশেষ সম্ভাবনাই ছিল না। তিনি কারও বাড়ি যেতেন না, তাঁর বাড়িতেও লোকে আসত কদাচিৎ। সাদিকরা আসতেন, তা তাঁরাও কারও কথায় থাকতেন না। ঝি

    করা আসতেন, ত

    পাড়ার কেচ্ছা বহন ক’রে বেড়াবে এ আশঙ্কাও কম।

    তাঁর প্রায় দিনরাতের

    সুতরাং থিয়েটারের জল নেওয়ার ব্যবস্থাটা অব্যাহতই রইল। শুধু তাই নয় রাসমণির অনিচ্ছাতেও ওদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাটা একটু বাড়ল। হঠাৎ একদিন একটি স্ত্রীলোক একেবারে হুড়মুড়িয়ে ঢুকে এসে বললে, ‘মা জননী, রাগ ক’রো না মা–বড় বিপদে পড়েছি, আপনার ঐ দিকটা একটু ব্যবহার করব।’ এই বলে সে কল-পাইখানার দিকটা দেখিয়ে দিলে।

    ইচ্ছা থাকলেও বাধা দেবার উপায় ছিল না। চক্ষুলজ্জায় বাধে। তাছাড়া সে অনুমতি চাইলেও তার জন্যে অপেক্ষা করে নি। দামী শান্তিপুরী শাড়ির ওপরই কাঁধে একখানি গামছা ফেলে সেদিকে চলে গিয়েছিল।

    তারপর সেখান থেকে ফিরে ‘আঃ বাঁচলুম’ বলে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে রাসমণির রান্নাঘরের সামনের রকে বসে পড়ে বলেছিল, ‘একটা পান দেবে মা জননী? পান ফেলে এসেছি বাড়িতে।’

    অগত্যা তাঁকে বলতে হল,

    মেঝেতে বসলে মা! একটা আসন এনে দিক ঝি!’

    জিভ কেটে মেয়েছেলেটি উত্তর দিলে, ‘বাপ রে, আপনাদের আসনে বসতে পারি! আমরা নরকের কীট। অনেক জন্মের পাপ ছিল মা, এ জন্মে তাই এই সব ঘরে জন্মেছি, আবার কি বামুনের আসনে বসে পাপ বাড়াবো!’

    নরম হয়ে আসে রাসমণির মন।

    ‘তোমার নাম কি বাছা?’

    ‘আমার নাম এককড়ি, মা। ছেলেবেলায় মা একটা কড়ি দিয়ে বেচেছিল। আমি ওদের থিয়েটারে য়্যাক্টো করি। বড় বড় পার্ট সব আমার মা–তোমাদের আশীব্বাদে।’

    হাত জোড় ক’রে নমস্কার করে সে।

    বেশ দেখতেও। শ্যামবর্ণের মধ্যে দিব্যি ছিরি, মনে মনে ভাবে উমা।

    ‘এইটি বুঝি তোমার মেয়ে, মা? কী নাম ভাই তোমার? উমা? আহা, উমাই বটে! কী রূপ!’

    অমনি দু-একটা কথার পর সেদিনের মত সে উঠল। কিন্তু অতঃপর আর ওদের দলকে বাধা দেওয়া গেল না। আরও দু-একজন অমনি প্রাকৃতিক প্রয়োজনে আসতে শুরু করল। রাসমণি যদিও সেই প্রথম দিনের পর উমাকে বারণ ক’রে দিয়েছেন ‘খবদ্দার, ওদের সামনে থাকিস্ নি। ওরা নাকি সব বেশ্যে, বেশ্যে ছাড়া এ কাজ করতে আসেই বা কে! আমি বুড়োমানুষ সে একরকম, তুই ওদের সঙ্গে কথা কইলে ভারি নিন্দে হবে পাড়ায়। উমা তবু ভেবে পায় না যে সাধারণ মেয়েদের থেকে ওদের তফাত কোথায়। ভারি মিষ্টি কথাবার্তা, যেমন ভদ্র, তেমনি বিনয়ী। সবাই ওর মাকে মা ব’লে দূর থেকে প্রণাম করে, ছোঁয়া যাবার ভয়ে পায়ে হাত দেয় না। অনেকখানি ব্যবধান রেখে বসে সবাই, মেঝেতেই বসে, জল খেয়ে আসে কল থেকে, ওদের ঘটি পর্যন্ত চায় না। ওদের সঙ্গে মেশায় দোষ কি তা কিছুতেই বুঝতে পারে না সে। বেশ্যা বলতে কি বোঝায় তা সে ভাল জানত না, কিন্তু ইতিমধ্যে ঝি পুঁটির মার কৃপায় মোটামুটি বুঝে নিয়েছে। শুনে তারও দাম হয় বটে তবে মানুষগুলোকে দেখে সে-ঘৃণা আর সে রাখতে

    পারে না।

    ৯২

    এককড়ি আজকাল ঘন ঘন আসে। প্রথম দিন যে ভদ্রলোকটি এসেছিলেন তাঁর পরিচয় ওর মুখেই পেয়েছে উমারা। চন্দ্রশেখর মুস্তাফী নাম, খুব নাকি ভাল অভিনেতা শিক্ষকও ভাল। এককড়ি বলে, ‘ভারি কড়া ম্যাস্টার। বেত হাতে ক’রে বসে থাকে রিয়েশ্যালে। পান থেকে চুন খসলেই অমনি বেত পড়ে ছুঁড়িদের পিঠে। আমাকে অবিশ্যি কিছু বলতে সাহস করে না আমি আবার ওর যে গুরু তাঁর কাছে শিখি

    কিনা।

    তিনি হ’ল আবার এখন আমার শখের পতি। তবে আমিও মুস্তাফীমশাইকে খুব ভয় করি।’

    আবার কোনদিন হয়ত বলে, ‘ঠিয়েটার খুলুক দেখাতে নিয়ে যাবো। এই ত দু মাস পরেই খুলবে।

    আমি মা তোমাকে একদিন

    রাসমণি প্রবল বেগে ঘাড় নাড়েন, ‘ওমা ছি, থিয়েটার দেখতে যাবো কি!’

    ‘তাতে কি হয়েছে মা, ঠাকুর-দেবতার পালাই ত বেশির ভাগ। এই ধরো না সীতের বনবাস। আমি সীতে সাজব। আমার যে গুরু তিনি সাজবে রাম। দেখবে

    কেমন হয়!’

    এমনি আরও বহু কথা অনর্গল বকে যায় সে। নিজের ব্যক্তিগত জীবনের কথাও অনেক বলে। সে যেন এক নতুন রাজ্য মানুষগুলোও আর এক রকমের প্রাণী। সে সব কথা বলবার সময় এককড়ির গলা নেমে এলেও উমা তা শুনতে পায়। শোনে আর শিউরে ওঠে। অথচ একটা যেন অদ্ভুত আকর্ষণও অনুভব করে না শুনেও পারে না।

    একদিন এককড়ি একটু অসময়েই এসে গেল।

    তখন বেলা দেড়টা হবে, রাসমণি ওপরে বিশ্রাম করছেন আর পুঁটির মা ঝির একান্ত অনুরোধ উমা তার মেয়ে পুঁটিকে প্রথম ভাগ পড়াবার চেষ্টা করছে। নিচের দোর কি কারণে খোলাই ছিল, ঝি হয়ত সামনের বাড়ির ঝির সঙ্গে গল্প করতে গেছে দোর খুলে রেখে, তাই এককড়ি কখন নিঃশব্দে একেবারে সামনে এসে পড়েছে ত কেউ টের পায় নি।

    উমা চমকে উঠল, কিন্তু তার চেয়েও বিস্ময় এককড়ির।

    সে গালে হাত দিয়ে কিছুক্ষণ অবাক হয়ে চেয়ে থেকে বললে, ‘ওমা, তুমি লেখাপড়া জানো বুঝি! ঐটুকু মেয়ে দিব্যি গড়গড়িয়ে পড়ে যাচ্ছে গা! ওমা কি হবে, কোথায় যাবো!’

    ঈষৎ একটু গর্ব বোধ হয় বৈকি। আর তার সঙ্গে করুণাও।

    –তু আপনি বুঝি জানেন না?’ উমা সসঙ্কোচে প্রশ্ন করে।

    ‘মোটেই না। আমাদের কে-ই বা জানে! একজন দুজন। বাকী সবই গো-মুখ্যু। মেয়েছেলে কে বা লেখাপড়া শিখছে তা আবার আমাদের ঘরের কথা

    !

    আড়াল থেকে শুনে শুনে এদের অনেক কথাই উমার জানা হয়ে গেছে তাই সে প্রশ্ন ক’রে বসল, ‘তা পার্ট মুখস্থ করেন কি করে?

    আমাকে আপনি-আজ্ঞে কেন করছ? তুমি বামুলে

    মাথায় পা রাখলেও আমাদের জন্ম সাথক হবে।

    য় সধবা, আমাদের

    বলছিলুম, পাট? পাট

    ১৩

    মুখস্ত করি শুনে। ঐ একজন পড়ে যায়, আমরা শুনে শুনে মুখস্ত করি। মুখস্ত কি হতে চায়? হয় না।’

    তারপর একটু দম নিয়ে খানিকটা পানদোক্তা মুখে পুরে বলে, ‘মা কোথায়?’

    ‘ওপরে শুয়ে আছেন

    ‘ঘুমোচ্ছেন?’

    ‘না–ভাল ঘুম কখনও হয় না ওঁর। বই-টই পড়েন। নয়ত এমনি শুয়ে থাকেন। আজ এমন অসময়ে যে?’

    তুমি বা আপনি বলার দায়টা কৌশলে এড়িয়ে যায় উমা।

    ‘ওমা–মাও লেখাপড়া জানেন বুঝি? ও, তাই তোমরা লেখাপাড়া শিখেছ!’

    ‘না তা কেন? আমরা যে পাঠশালায় পড়েছি।’

    এককড়ি ওপরে উঠে গিয়ে চৌকাঠে বসে পড়ে।

    ‘মা জননী কৈ গো?’

    বই পড়তে পড়তেই বোধকরি রাসমণির একটু তন্দ্রা এসেছিল, ওর ডাকে ধড়মড়িয়ে উঠে বসে বলেন, ‘ওমা, এসো এসো। ভেতরে এসে বসো না। ছি, চৌকাঠে বসতে নেই! তা এমন দুপুরে যে মেয়ে?’

    ―

    ‘আজ একটা বাগানে যাবার বায়না আছে মা সন্ধ্যেবেলা, তাই দুপুরে রিয়েশ্যাল বসেছিল। আমার কাজ শেষ হয়ে গেছে কিনা এখন গান গটানো হচ্ছে, আবার একটু পরে আমার ডাক পড়বে, তাই মা তোমার কাছে পালিয়ে এনু। বড্ড তেষ্টাটাও পেয়েছে।

    ‘আহা তা পাবে না, এই দুপুরবেলা ছুটোছুটি!’

    রাসমণি উঠে দুটো নারকেল নাড়ু আর এক ঘটি জল দেন।

    ‘জলটা আমার হাতে ঢেলে দিন মা।’

    অপ্রতিভ হয়ে রাসমণি বলেন, ‘না না–তুমি অমনি খাও। তাতে দোষ কি? তুমিও

    ত মানুষ!

    তবু সন্তর্পণে আলগোছে জল খেয়ে ঘটিটা এক পাশে নামিয়ে রাখে। তারপর একথা সেকথার পর বলে, ‘মা, একটা কথা বলব, বলো, রাগ করবে না?’

    ‘না না রাগ করব কেন? বলো না —

    ‘না মা। অপরাধ নিও না কিন্তু, সব দিক ভেবেই বলছি। তোমার মেয়ে উমা ত লেখাপড়া শিখেছে —

    ‘খুব আর কৈ বাছা ছাত্রবৃত্তি পাস করেছে।’

    ‘ওমা

    পাসও করেছে! তবে দিব্যি লেখাপড়া জানে!

    ‘ইংরিজি ত জানে না। আজকালকার মেয়েরা নাকি ইংরেজিও শিখছে কেউ কেউ।’

    ‘তা ইঞ্জিরি চুলোয় যাক্– বলছিলুম কি, তোমার মেয়ে আমাদের লেখাপড়া শেখাবে? আমরা আট-দশটা মেয়ে শিখতে পারি। এক টাকা 5 টাকা ক’রে যার যা

    দু

    ক্ষ্যামতা দেব, মাস গেলে পনরোটা টাকা আসবে হেসে খেলে। একসঙ্গেই শিখব, তাতে বেশি মেহনতও হবে না। বড়জোর এক ঘণ্টা।’

    ৯৪

    འཤ། (༣༡ )

    +

    দৃঢ়তার সঙ্গ ঘাড় নাড়ে রাসমণি, ‘না, সে হয় না। তাতে বড় নিন্দে হবে!’

    ‘নিন্দে কিসের মা? লেখাপড়া শেখানোয় নিন্দে কিসের? তাছাড়া গলাটা একটু কেশে সাফ্ ক’রে নিয়ে এককড়ি বলে, ‘তুমি ত দয়া ক’রে সবই বলেছ মা, আমার ত জানতে কিছুই বাকী নেই এখন ত সারাজীবন পড়ে রইল মেয়েটার, তুমি চোখ বুজলে ও কি করবে তা ভেবে দেখেছ? হয় রাঁধুনীগিরি, নয় ঝি-গিরি বড়জোর বড় বোনের বাড়ি বিনে-মাইনের দাসীবৃত্তি!’

    নইরে

    ‘সে

    রাসমণি বোধ করি একটু বিরক্তই হন এতটা অন্তরঙ্গতায়। ভ্রু কুঁচকে বলেন, যা হয় হবে মা, কিন্তু এখন এই সোমত্ত মেয়েকে দিযে আমি টাকা রোজগার করাতে পারব না। তা ছাড়া তোমরা দশ-বারোজন দল বেঁধে রোজ সন্ধ্যেবেলা এখানে এলে কিছু মনে ক’রো না পাড়ার লোকে কি ভাববে?’

    ‘বেশ ত, সন্ধ্যের পর না হয় গাড়ি পাঠিয়ে ওকে নিয়েই যাবো?’

    এবার আর রাসমণির বিরক্তি চাপা থাকে না, তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে যাবে থিয়েটারে তোমার আস্পদ্দাও ত কম নয় মা! এসব কথা আর কোন দিন যেন না

    শুনি।

    —

    অপ্রতিভ ভাবে এককড়ি বলে, ‘সে-ভাবে ঠিয়েটারে যাবার কথা ত বলি নি মা, তুমি মিথ্যে রাগ করছ। তাছাড়া আগেই ত বলিয়ে-নিয়েছি যে রাগ করতে পারবে না!’

    রাসমণি শান্ত হন কিন্তু কথার আর উত্তরও দেন না। অপমানবোধের চাপা ক্রোধ নিঃশব্দ-দহনে জ্বলতে থাকে তাঁর ভেতরে ভেতরে।

    এককড়ি আরও কিছুক্ষণ চুপ ক’রে থেকে একসময় উঠে পড়ে।

    ,

    কথাটা উমার কানেও গিয়েছিল, কারণ সে তখন সিঁড়ির মুখটায় দাঁড়িয়ে। এর তিন-চার দিন পরে সে সমস্ত সংকোচ এবং শঙ্কা বিসর্জন দিয়ে প্রকাশ্যেই বিদ্রোহ ঘোষণা করলে, ‘আপনি ত সব কথাতেই না বলেন, কিন্তু সত্যিই আমার কি ব্যবস্থা করবেন তাই শুনি? আপনার যা পুঁজি, বড়জোর আর পাঁচ-সাত বছর এমন ক’রে বসে খেতে পারেন। তারপর আপনিই বা খাবেন কি আর আমিই বা দাঁড়াবো কোথায়?’

    রাসমণি স্থির–দৃষ্টিতে ওর দিকে চেয়ে থেকে বললেন, ‘বেশ, তোমাকে তোমার শ্বশুরবাড়িতে রেখে আসছি। তারপর তুমি যা খুশি তাই ক’রো।’

    ‘কেন সেখানে যাব আমি? খুন হ’তে? আপনারাই ত দেখে-শুনে বিয়ে দিয়েছেন। তার দায় বুঝি আমার?’

    ‘সে তোমার অদৃষ্ট আমরা ত চেষ্টার ত্রুটি করি নি।’

    তার বেলায় অদৃষ্ট!… এর বেলা অদৃষ্ট মানছেন না কেন? আমি না হয় খেটে খাবারই চেষ্টা দেখি।’

    ‘তাই ব’লে তুমি ঐ থিয়েটারের বেশ্যে মাগীদের যাবে লেখাপড়া শেখাতে? তোমার দশ-পনের টাকায় আমার কী-ই বা সুসার হবে?’

    ‘দশ-পনরো টাকা বিশ-পঁচিশ হ’তে কতক্ষণ! কা অভ্যেস হতো। আর দশ- পনরো টাকায় একটা পেট বেশ চলে যায় মা।’

    যায় মা।

    ৯৫

    উমা যেন নিজের সাহসে নিজেই আবাক হয়ে যায়।

    *কিন্তু সে বয়স এখনও আসে নি মা। রূপ-যৌবন বড় শত্রু। এত বড় শত্রু সঙ্গে ক’রে কি কাজই বা করতে যাবে? আর, কে বলতে পারে যে পাঁচ-সাত বছরে জামাইয়েরই মতিগতি ফিরবে না?’

    সে আশা কি উমার মন থেকেই একেবারে গেছে!

    কন্দর্পকান্তি! সেই রূপের স্মৃতি যেন

    সে চুপ ক’রে যায়। রূপবান তরুণ স্বামী কামনার বাতাসে হতাশার ভস্মস্তপের মধ্যে থেকে আশাকে সঞ্জীবিত ক’রে তোলে অনেক দিনের পর। মনের জমাট-বাঁধা স্তব্ধতা কোন্ এক অজানা দক্ষিণা-বাতাসে দূর হয়ে গিয়ে ওর দেহলতা কাঁপতে থাকে থরথর্ করে।

    তিন

    দিন-দুই পরে অকস্মাৎ চন্দ্রশেখর মুস্তফী স্বয়ং এসে উপস্থিত হলেন। হাত জোড় ক’রে বললেন, ‘মা, আমার একটি নিবেদন আছে।

    কারণটা ঠিক অনুমান করতে না পারলেও কেমন একটা আক্রমণ আশঙ্কায় কঠিন হয়ে ওঠেন রাসমণি, ‘বলুন!’

    কখনও ঢুকবে না

    যাবে, ঘোমটা দিয়ে

    ‘আমি ব্রাহ্মণ, আপনার সন্তান। একটা কথা যদি বলি ত অপরাধ নেবেন না। এককড়ির কাছে সব শুনলুম। যদি আপনার কন্যা আমার ভগ্নী এ কাজটি করতে পারে ত মহৎ দায় উদ্ধার করা হয়। আমি একটি আলাদা ঘর দেব। সে ঘরে পুরুষ এ কথা দিচ্ছি। আমার ঝি এসে প্রতিদিন রাত সাতটা নাগাৎ নিয়ে টুপ ক’রে চলে যাবে, কেউ অত লক্ষ্যও করবে না। আমি দোরের

    –কেউ ওর দিকে মুখ তুলে চাইতে পর্যন্ত সাহস করবে না। ওরা ন’জন পড়বে –দু টাকা ক’রে দেবে, এ ছাড়া আমরা থিয়েটার থেকে বারো টাকা ক’রে দিয়ে ঐ পুরো ত্রিশ টাকাই করে দেব। আর মা, লোকে যদি জানতে পারে নিন্দে করবে? আমি ত সবই শুনেছি, কি ক্ষতি হবে তাতে মা আপনার ত আর মেয়ে নেই যে বিয়ে দিতে হরে। সমাজের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কি?’

    কাছে দাঁড়িয়ে থাক্‌

    রাসমণি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, ‘কিন্তু আমার অন্য মেয়েজামাইরা আছেন –তাঁদের ত সমাজ আছে!’

    ‘এটা কলকাতা শহর মা। এখানে সমাজের শাসনই বা কি আর কে-ই বা এখানে কার কথা জানতে পারছে!’

    ‘না বাবা এসব কথা আর তুলবেন না। সে আমি পারব না।’

    রাসমণি যেন অসহ্য একটা ক্রোধে জ্বলে ওঠেন। এ উষ্মা ওঁর ভাগ্যের ওপর– এত করেও কি অদৃষ্ট-দেবতার সাধ মেটে নি? আরও নিচে তাঁকে নামাবার জন্য এমন চক্রান্ত তাঁর?

    প্রলোভনের জাল ক্রমেই রমণীয় ক’রে তুলছেন, ঘিরে ধরেছেন রাসমণি পিছন ফিরে ওপরে চলে গেলেন, ইচ্ছা ক’রে মুস্তফীকে অপমাণিত করার জন্য।

    চারিদিক দিয়ে।

    -།—— ET—

    ৯৬

    কিন্তু আক্রমণ এখানেই থামল না।

    আবার এককড়ি এল। নানা রকম যুক্তি, নানা প্রলোভন।

    অবশেষে কমলা একদিন এসে সব শুনে বললে, ‘পাঠিয়ে দিন মা, আর দু-মত

    করবেন না।

    ‘তুইও বলছিস্? জামাই কি ভাববেন যদি শোনেন?’

    ,

    ‘সে আমি তাঁকে নিজে বলতে পারব, সে সাহস আছে আমার। এতে দোষ কি?

    অকারণ সমাজকে এত ভয় করেন কেন মা সমাজ আপনাকে খেতে পরতে দেবে? পরের দয়ায় বেঁচে থাকার চেয়ে যে-কোন রকমে খেটে খাওয়া ভাল।’

    কিন্তু ঐ রূপের খাপ্পা মেয়েকে কোথায় পাঠাই বল ত?’

    ‘ওখানে ত মুস্তফী মশাই ভাল প্রস্তাব করেছেন মা রূপের খাপ্পা মেয়ে যদি খারাপ হয় ত আপনি পাহারা দিয়েই সামলাতে পারবেন? কত চোখে চোখে রাখবেন! তাছাড়া

    আমার বোনেরা তেমন নয় মা।’

    আরও দু-চারদিন ভেবে

    আরও অনুরোধ-উপরোধের পর রাসমণি দুর্বল হয়ে আসেন একসময় সম্মতি দেন অনিচ্ছা সত্ত্বেও। কিন্তু তারপর পূজোয় বসে তাঁর দু’চোখ জলে ভেসে যায়। ঠাকুর, এ কী করলে তুমি!

    ?

    উমার বুক কাঁপে সারাদিন। অজ্ঞাত কি একটা আশঙ্কা, নাম-না-জানা কি একটা আশা। কিছুতেই স্থির হয়ে কোথাও বসতে পারে না, কিছু একটা ভাবতে পারে না মাথা ঠিক রেখে।

    সন্ধ্যার কিছু আগে মনে হ’ল মাকে গিয়ে বলে, ‘ও আমি পারব না মা আপনি বারণ ক’রে দিন।

    কাজে ব্যস্ত থাকার আশা, অর্থ উপার্জনের আশা

    >

    কিন্তু নূতন আশা

    এমনি নানা আশা এসে বাধা দেয়। সেই আশাই একসময় তাকে থিয়েটারের পদ্মঝির পিছু পিছু অমোঘ, অপ্রতিহতবলে টেনে নিয়ে যায়। মাথায় ঘোমটা টেনে গায়ে চাদর মুড়ি দিয়ে অন্ধকারে কোনমতে যেন ছুটে পার হয়ে যায় রাস্তাটুকু তবু মনে হয় পাড়ার হাজার জোড়া কৌতূহলী দৃষ্টি তাকে লক্ষ্য করছে ও বিদ্রুপের হাসি হাসছে।

    থিয়েটারে পৌঁছে অবস্থা আরও খারাপ হয়। মেয়েরা দু-চারজন চেনা কিন্তু বাকী সবাই এমন ভাবে তাকিয়ে থাকে যে উমার মনে হয় তাদের সে দৃষ্টির আড়ালে একটা কৌতুকের হাসি আছে। যেন ওদের মনের ভাব নিঃশব্দে বলছে আর কত দিন, শীগগিরই ত আমাদের দলে এসে দাঁড়াবে– দেরি নেই! ও ভদ্রতার ঔদ্ধত্য আর বেশি দিন রাখতে হবে না ঢের দেখেছি আমরা!

    তাছাড়া, মুস্তফী মশায়ের কড়া শাসন সত্ত্বেও দু-একটি পুরুষ উঁকি মারে এদিক ওদিক থেকে। তাদের দিকে তাকিয়েও উমা বুঝতে পারে সেটা।

    ঘেমে নেয়ে ওঠে উমা, বুকের মধ্যে কেমন করে ওর, হাত পা ঝিমিয়ে আসে। মিনিট-কতক কোনমতে কাটিয়েই হঠাৎ কেঁদে এককড়িকে বলে, ‘আজ, আজ

    འགས་ཅི་ག་ ག

    আমার বড্ড ভয় করছে দিদি, আমায় বাড়ি পাঠিয়ে দাও।’

    ৯৭

    কলকাকान কাছেই-এ

    এককড়ির চোখ করুণার্দ্র হয়ে ওঠে, ‘বুঝেছি ভাই– অমন হয় প্রথম দিন। এতগুলো অচেনা লোক ত। তা আজ আর পড়াতে হবে না। একটু বসে গল্প করো বরং

    ‘না না

    আমার বড্ড গা গুলোচ্ছে। আমাকে এখনি বাড়ি পাঠিয়ে দিন।

    এই বলে সে নিজেই বেরিয়ে পড়ে। উল্টো দিকে বেরোতে গিয়ে স্টেজে ঢুকে দড় দড়ির গহন অরণ্যে আরো দিশাহারা হয়ে ওঠে

    ‘অ পদ্ম, দ্যাখ কান্ডখানা! যা যা তুই শীগিরি। এই যে বোন, এই দিকে এসো। আমি নিজে তোমাকে পৌঁছে দিচ্ছি না হয়।’ এককড়ি চেঁচাতে থাকে।

    পদ্ম-ঝি ছুটে এসে একরকম উমার হাত ধরেই বাইরে নিয়ে আসে।

    একটি মেয়ে এককড়িকে বললে, ‘তোমার যেমন কান্ড দিদি, ও যে একেবারে খুকী ওকে এখানে আনে কখনও?’

    আর একজন চিমটি কেটে বললে, ‘ওলো থাম! অমন অনেক খুকী দেখেছি আমরা। এরপর এস্টেজে নেমে ধিতিং ধিতিং ক’রে নাচতেও ভয় পাবে না।’

    এককড়ি তাকে ধমক দিয়ে ওঠে।

    থিয়েটারের বাইরে এসেও উমা প্রথমটা যেন হচকচিয়ে গিয়েছিল। তারপর পদ্ম- ঝি যখন তার হাত ধরে আকর্ষণ ক’রে বললে, ‘এই যে ইদিকে, অমন বোকার মত চারিদিকে চাইছ কি?’ তখন যেন ওর সম্বিৎ ফিরে এল। নিজেদের গলিটা চিনতে পেরে সে হাতটা মুঠো থেকে টেনে ছাড়িয়ে নিয়ে একরকম ছুটেই বড় রাস্তা পার হয়ে গলির মধ্যে ঢুকে পড়ল।

    কিন্তু ঠিক নিজেদের বাড়িতে ঢুকতে যাবে এমন সময় কে যেন পরিচিত কণ্ঠে পেছন থেকে বললে, ‘শুনছ, উমা, একটু শুনে যাও!’

    চমকে কেঁপে উঠল উমা, হয়ত পড়েই যেত দেয়ালটা না ধরে ফেললে খুবই সামান্য পরিচয় এ কণ্ঠস্বরের সঙ্গে, তবু সমস্ত অন্তরে যেন এর প্রত্যেকটি সুর সদাজাগ্রত– হৃদয়ের তন্ত্রী এই সুরেই বাঁধা হয়ে গেছে চিরকালের মত।

    এ যে তার স্বামী

    শরৎ!

    উমা চোখ খুলে না তাকিয়েও তাকে চিনতে’ পারলে, উপস্থিতিটা অনুভব করতে পারলে– সারা দেহের প্রতিটি অনু-পরমাণু দিয়ে।

    তোমাকে এইমাত্র ঐ থিয়েটারটা থেকে বেরোতে দেখলুম যেন, এ কি সত্যি?’

    এই সহজ প্রশ্নের অন্তরালে যে প্রচ্ছন্ন একটু অনুযোগ ছিল তাতেই উমার মন কঠিন হয়ে উঠল, এতক্ষণ তার গলা যেন বুজে আসছিল, এবারে পরিষ্কার কণ্ঠে জবাব দিলে, ‘হ্যাঁ, কি হয়েছে তাতে?’

    ‘শেষে তোমার এই দুৰ্গতি, ছিঃ!’

    জ্বলে ওঠে উমা, ‘তুমি ত আমাকে ত্যাগ করেছে, আমার চলবে কিসে তা কোনদিন ভেবে দেখেছ কি? বিধবা মা ক

    মা গেলেই বা দাঁড়াব কোথায়?’

    থেকে পুষবে আমাকে চিরকাল? তারপর

    ৯৮

    ‘তোমার কাছে আমার অপরাধ ঢের-তা সত্যি, বলবারও কোন হক হয়ত আমার

    নেই, তবু তুমি থিয়েটারে নামছ

    –

    কাজ ক’রো না। ছিঃ!’

    না, না, উমা এ আমি ভাবতেই পারি না। এ

    এই বলে শরৎ যেন একরকম ছুটেই অন্ধকারের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গেল।

    ও যে এখানেই আসে নি, এটা যে আকস্মিক পথের দেখা তা উমা কল্পনা করে নি। তাই ভেতরে যাবার কোন আমন্ত্রণও জানায় নি। ‘ভেতরে চলো আজকের রাতটা থেকে যাও’ এ যে ওর সারা অন্তরের আর্ত কাকুতি, এ কি উনি জানেন না? অনাবশ্যক-বোধেই মুখে তা বলে নি উমা, বলবার অবকাশও পায় নি। তাই ব’লে উনি

    চলে গেলেন!

    কত কথা যে ওঁকে বলবার আছে, কত ভিক্ষা ওঁর কাছে চাইবার! বাঞ্ছিত আরাধিত দেবতা, হাতের কাছে এসে আবার কোন্ অনির্দিষ্ট কাল ও সীমাহীন স্থানের মধ্যে হারিয়ে গেল! আর কি কখনও বলা হবে সেসব কথা!

    ওর অনুযোগটাও যে কত মিথ্যা, তাও ত জানানো হল না!

    এ কী হ’ল ওর, এ কী হ’ল!

    >

    আড়ষ্ট পাথরের মত স্তব্ধ হয়ে উমা দাঁড়িয়ে রইল সেখানেই, তেমনি একটা পা চৌকাঠে দিয়ে, এক হাতে দরজার কাঠটা ধরে, বহু নড়বারও আর শক্তি নেই ওর।

    বহুক্ষণ ধ’রে। একটু খানি

    ৯৯

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপাঞ্চজন্য – গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    Next Article উপকণ্ঠে – গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    Related Articles

    গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    পৌষ ফাগুনের পালা – গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    August 7, 2025
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    উপকণ্ঠে – গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    August 7, 2025
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    পাঞ্চজন্য – গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    August 7, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }