Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কলকাতার কাছেই – গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    গজেন্দ্রকুমার মিত্র এক পাতা গল্প415 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৯. সমস্ত রাত ধরে জেগে

    নবম পরিচ্ছেদ

    ওসিআর ভার্সন। ভুল সংশোধন করা হয়নি।

    সেদিন সমস্ত রাত ধরে জেগে অনুপস্থিত স্বামীকে উমা এই কথাটাই বার বার বলতে লাগল, ‘বেশ করব যাবো। আমার যা খুশি করব। না বরং তুমি বারণ করেছ বলেই করব। কেন, কেন তুমি আমাকে বারণ করবে? কি অধিকারে? আমাকে তুমি কোন্ অধিকার দিয়েছ? একদিনের জন্যও ত গ্রহণ করো নি তবে কেন তোমার মান- মর্যাদা নিয়ে আমি মাথা ঘামাব?’

    এটা সে বোঝে নি যে তার অন্তরের মধ্যে স্বামীর অনুরোধ নিষেধাজ্ঞা রূপে মেঘমন্দ্র স্বরে ধ্বনিত হচ্ছে, কিন্তু অন্তরের অবচেতনে এটা বুঝেছে যে সে অনুরোধ অমান্য করার শক্তি তার নেই সেই জন্যই বার বার সে নিজের মনেই এত আস্ফালন করছে। এ যে একেবারেই দুর্বলের স্পর্ধা এটা বোঝবার মত আত্মবিশ্লেষণ-শক্তি তার ছিল না। কিন্তু সকালে উঠে নিজের কাছেই এটা স্বীকার করতে সে বাধ্য হল শেষ পর্যন্ত। নিশীথ অন্ধকারে অনেক সময় মানসিক বৃত্তিগুলোও বাহ্যপ্রকৃতির মত অস্পষ্টতা বা জড়তায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে সূর্যাদয়ে তা আবার স্বচ্ছ হয়ে ওঠে। উমাও নিজের মনের মধ্যেকার সত্যটাকে পরিষ্কার দেখতে পেলে। যে স্বামী একদিনের জন্যও ওকে স্ত্রীর মর্যাদা দেয় নি, যে স্বামী অত্যন্ত তুচ্ছ কারণে ওর জীবনটাকে নষ্ট ক’রে দিয়েছে যার কাছ থেকে নির্মম উপেক্ষা এবং আত্মীয়দের কাছ থেকে অবহেলাই মাত্র ও পেয়ে এসেছে তারই অন্যায় ও অসঙ্গত অনুরোধ ও ওর কাছে অনুক্ষেণীয়। শুধু নিজের অসহায় অবস্থার কথা মনে ক’রেই সকালবেলা ও কেঁদে ফেললে। সে অশ্রু ক্ষোভ ও অভিমানের

    নিজের ওপরও বোধ হয়।

    বিকেলবেলা পদ্ম-ঝি এল ডাকতে।

    তার আগেই উমা মাকে বলে রেখেছিল

    ་ ལ་མས་ན་ ག་ཨི་ང་། R

    অদৃষ্টের ওপর অভিমান, অভিমান

    মা স্পষ্ট দৃঢ়কণ্ঠে বললেন, ‘মা, তুমি

    মুস্তফী মশাইকে ওর নমস্কার জানিয়ে ব’লো যে ওর দ্বারা ও-কাজ হবে না, ওকে যেন তিনি মাপ করেন।’

    ঝি আরও কি বলতে যাচ্ছিল, বাধা দিয়ে রাসমণি বললেন, ‘না না রাজী হওয়াটাই ওর মস্ত ভুল হয়েছিল অল্পেই সে ভুল ভেঙেছে, এই ভাল।গুরু রক্ষা করেছেন। আমি আর এ সম্বন্ধে কোন কথাও কইতে রাজী নই, তাঁকে বলে দিও।’

    তাঁর মুখের রেখার দিকে চেয়ে পদ্ম-ঝির আর কোন কথা বলতে সাহস হ’ল না।

    দুই

    শ্রাবণের মাঝামাঝি রাসমণির বড়দি এসে হাজির হলেন। সঙ্গে তাঁর সেই অদ্বিতীয় ঘটিটি, আর বগলে খান-তিনেক থানকাপড় গামছায় জড়ানো। এসেই বললেন, ‘মরতে এলুম রে রাসু! তোর কাছে মরব–এ কথাটা বরাবরই মনে ছিল। মরার সময়ই মানুষের শেষ বাহাদুরি। বলে–জপো তপো করো কি মরতে জানলে হয়!… ভগবানকে ত তাই অষ্টপ্রহর বলি, জন্ম এস্তক ত আমার পেছনে লেগেছ–মরণটাতে আর জ্বালিও না। রাসুর কাছে যেন মরতে পারি–আর যার কাছে যাবো সে-ই আপদবালাই করবে।’

    —

    উমা অবাক হয়ে চেয়ে থাকে তাঁর দিকে। এই ত দিব্যি শক্ত-সমর্থ চেহারা! বয়স অবশ্য ষাট হয়েছে কি আরও বেশি, কিন্তু না পড়েছে একটি দাঁত না পেকেছে বেশি চুল। বার্ধক্যের ছোপের মধ্যে একটু যেন কোমরটা বেঁকেছে কিন্তু সে সামান্যই। আর ত কোথাও একটা রোগেরও চিহ্ন নেই। এই লোক মরবে!

    ‘অমন ক’রে চেয়ে আছিস কেন্ লা?’ হেসেই জিজ্ঞাসা করেন বড় মাসিমা। ‘আপনার কি অসুখ বড় মাসিমা?’

    ‘অসুখ! এখন কিচ্ছু না। অসুখ হ’লে চলবে কেন? এতটা পথ কি তাহলে আসতে পারতুম? ছিলুম ত মেজ ভাইপোর কাছে সেই মালদয়। এই রেল ইস্টিমার ক’রে দুদিন খাড়া উপোস দিয়ে আসছি।’

    ‘তবে?’ আরও অবাক্ হয়ে প্রশ্ন করে উমা।

    ‘কি তবে? মরবার কথা বলছি, তাই? ও আমি টের পেয়েছি। ধানের চালের ভাত তেতো লেগেছে আর আমি বেশি দিন বাঁচব না এটা ঠিক। বড় জোর ছ মাস। হ্যাঁ, অসুখ একটা করবে বৈকি। যাহোক একটা হবে হয় জ্বর হবে, নয় পেট ছাড়বে। নইলে দুটোই। তারপর ব্যস ফেঁসে যাবো, অক্কা!’

    ―

    রাসমণি মেয়েকে ধমক দিয়ে ওঠেন, ‘আগে একটু পায়ে জল দে, নাইবার যোগাড় ক’রে দে, তা নয় –দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বাজে কথা!’

    অপ্রতিভ উমা তাড়াতাড়ি একঘটি জল এনে আলগোছে পা ধুইয়ে দেয়। মাথায় দেবার তেল এনে বাটি করে রাখে চৌবাচ্চার পাড়ে। তারপর রাসমণির একটা ফরসা কাপড় এনে হাতে ক’রে দাঁড়ায়। বড় মাসিমা সঙ্গে যে কাপড় এনেছেন তা রেলে এসেছে– সবই কেচে দিতে হবে।

    চান ক’রে উঠে কাপড় ছাড়ছেন তিনি, উমা আবারও প্রশ্ন করে ফিফিস্ ক’রে, ‘আচ্ছা, মা ছাড়া যদি আর কেউ যত্ন করবেন না জানেন ত মার কাছেই থাকেন না কেন? এই বয়সে এখান ওখান ঘোরেন কেন?’

    রন কে

    ‘আমি কি এত বোকা রে!’ চতুরের হাসি ফুটে ওঠে ওঁর মুখে, ‘আমার স্বভাব জানি, যেখানেই কিছুদিন থাকব তারাই ত জ্বলেপুড়ে থাক্ হয়ে যাবে। এইটে হ’ল আমার মরণকালের আস্তানা, একে কি চটিয়ে রাখতে পারি, তাহলে মরবার সময় দাঁড়াবো কোথা, দেখবে কে? শেষ আশ্রয় কি নষ্ট করতে আছে রে? চিরদিন থাকলে যত রাগ জমা হয়ে থাকে সব মরণকালে শোধ নেবে। উঁহু, সে বান্দা আমি নই!’

    বলেন আর হাসেন আপন মনে।

    উমা বড় মাসিমাকে পেয়ে যেন বেঁচে গেল। তবু যাহোক একটা কাজ পেলে। সঙ্গে সঙ্গে ঘোরে, দফায় দফায় সেবা যোগায় এবং কারণে অকারণে বকুনি খায়। তাও যেন ভাল লাগে উমার। একান্ত নিষ্ক্রিয়তার চেয়ে এ-ও ভাল। তা ছাড়া সে যেন নিজেকে দিয়ে বুঝেছে বড় মাসিমার কষ্টটা তাঁর অন্তরের জ্বালাটা। এই অল্প সময়ের মধ্যেই সে যেন পাগল হয়ে উঠেছে, আর বড় মাসিমা দীর্ঘ এত কাল সহ্য করছেন! অন্তরে যে অনির্বাণ আগুন জ্বলছে তার কিছু উদগারিত হবে–বৈ কি।

    রাসমণিও তা বোঝেন। তবু এক এক সময় অসহ্য হয়ে ওঠে। রান্নাঘরের চৌকাঠ চেপে বসে যে বিষ বড়দি ঢালতে থাকে, একেবারে নীলকণ্ঠ না হ’লে তা সহ্য করা শক্ত। সুতরাং সেই সব অসহ অসতর্ক মুহূর্তে দুজনায় ঝগড়া বেধে ওঠে। রাসমণি কথা বলেন কম যা বলেন তা কিন্তু মর্মান্তিক। বড় মাসিমা একেবারে জ্বলে ওঠেন চেঁচিয়ে গালাগালি দিয়ে রাফিয়ে কেঁদে-কেটে পাগলের মত হয়ে ওঠেন। খানিকটা চেঁচাবার পর ও-পক্ষ থেকে সাড়া না এলে তরতর করে হয়ত ঘটিটা নিয়ে নেমে আসেন। সে সময় উমার মনে হয় রাগ ক’রে বুঝি চলেই যাবেন। কিন্তু তা তিনি যান না, সদরের কাছে গিয়ে ধপাস্ ক’রে বসে পড়েন, আপন মনে খানিকটা কাঁদেন বিনিয়ে বিনিয়ে তারপর আবার উঠে আসেন। বলেন বোনকে উদ্দেশ করে, ‘ভেবেছিস এমনি জ্বালাবি আর আমি চলে যাবো! কোথাও যাবো না, গেলে আমার চলবে কেন? মরবার কালে সেবা খাব, মরব, তবে বেরোব এ বাড়ি থেকে!

    ভাদ্রের শেষে সত্যি-সত্যিই বড়মাসিমা শয্যা নিলেন। প্রথমে জ্বর, তারপর পেট ছাড়ল। দুটোই চলল সমানে। রাসমণি দিন তিনেক দেখে ডাক্তার ডাকতে পাঠালেন। বড় মাসিমা জানতেন না, ডাক্তার আসতে সেই জ্বরের ঘোরেই উঠে বসলেন তড়বড় ক’রে, ‘হ্যালা রাসু, তোর মতবল কি? আমাকে বিনা চিকিচ্ছেয় মেরে ফেলবি?’

    রাসমণি অবাক্।

    ‘তাই ত ডাক্তার ডেকেছি বড়দি!’

    ‘বেশ করেছে, কেদাত্ত করেছ একেবারে। চারকাল পেরায় গিয়ে সিকি কালে ঠেকেছে, কখনও যা করলুম না– তাই করব, ঐ মড়াকাটা ডাক্তারের ওষুধ খাব! ডাক কবরেকে?’

    কবিরাজ এসে নাড়ী টিপে বললেন, ‘জ্বরাতিসার!’

    তাঁকেও ধমক দিলেন বড় মাসিমা, ‘সে ত ঐ দুধের বাচ্চা মেয়েটাও জানে। জ্বর আর অতিসার হ’লে জ্বরাতিসারই হয়

    কবিরাজ সান্ত্বনা দিয়ে বলতে গেলে,

    ভরা নই, ভাল হয়ে যাবেন।’

    নেই,

    ‘ছাই হবো! তুমি যা পন্ডিত তা বুঝে নিয়েছি। দেখতে পাচ্ছ না যে, মরণ-রোগ ধরেছে! তার জন্যে নয়, ভালো আমি হবো না–তবে তুমি ওষুধ দাও। ওষুধ খাবো না কেন? মরব বলে কি আর বিনা চিকিচ্ছেয় মরব?

    দিন দশেক পরে খুবই বাড়াবাড়ি হ’ল। ক্রমশঃ হাত-পা ফুলতে শুরু হল। পূজোর ষষ্ঠীর দিন ভোরবেলা বোনকে ডেকে বললেন, ‘বেশীদিন আর ভোগাতে পারলুম না রে! অল্পে অল্পে বেঁচে গেলি!’

    রাসমণি না বুঝে চেয়ে থাকেন ওঁর দিকে।

    ‘বুঝতে পারলি না? ডাক এসেছে। লোকজন ডাক্– গঙ্গাযাত্রার ব্যবস্থা কর্।’

    উমা কিছুই বুঝতে পারে না। মৃত্যু কি মানুষ এমনি করে আগে থাকতে বুঝতে পারে? এমনি নিঃসংশয়ে এত নির্ভয়ে তার সম্মুখীন হয়? তার চোখে জল ভরে আসে, এই দুর্মুখ কলহপরায়ণা বৃদ্ধার জন্যও সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্কে মন শিউরে ওঠে,

    তারও কি তাহলে এই পরিণাম?

    কমলাকে খবর দিতে বড় জামাই এলেন, আরও লোকজন জড় হ’ল। খাটে তোলবার সময়ও বড় মাসিমা যারা তুলছিল তাদের অনবধানতার জন্য তিরস্কার করলেন। ঘটিটা দিয়ে গেলেন বোনকে, বললেন, ‘সব বন্ধন মুক্ত হয়ে যেতে হয় নইলে আবার কি ফিরে আসব! তা বন্ধনের মধ্যে ত ঐ ঘটিটা –তুইই নিস রাসু।। ব্যস্ এইবার আমার ছুটি। গঙ্গা, গঙ্গা –হরিবোল হরিবোল!’

    সমস্ত পথটা ইষ্টনাম জপ করতে করতে গেলেন। গঙ্গার ঘাটে গিয়ে একবার খাটসুদ্ধ জলের ধারে নামানো হ’ল, রাসমণি জল দিলেন মুখে– সর্বাঙ্গে ছড়িয়ে। গঙ্গামৃত্তিকা নিয়ে কপালে বুকে লেপে দিলেন। বড় মাসিমা চোখ বুঝেই পড়ে ছিলেন, এই সময় শুধু একবার বললেন, পেটটা– পেটটাও লেপে দে। আহা ঠান্ডা হোক! বড় জ্বলছে!’

    তারপর ওঁকে এনে গঙ্গাযাত্রীর ঘরে রাখা হ’ল। তখন নিমতলার ঘাটে এই ঘরটির অবস্থা ছিল শোচনীয়। ভাঙা ঘর, কোন দিকে দোর নেই– বৃষ্টির জল বাইরের চেয়ে ভেতরেই বেশি পড়ে। সেই নির্জন শ্মশানের মধ্যে ভাঙা ঘরের আবহাওয়া দিনের বেলাই থমথমে, ভয়াবহ। তবু সেখানে রাখা ছাড়া উপায় কি? যারা এনেছিল তারা স্নান ক’রে চলে গেল রাসমণি একা রইলেন তাঁকে নিয়ে। কথা হ’ল বড় জামাইয়ের চাকর মধ্যে মধ্যে এসে খবর নিয়ে যাবে। তিনি নিজে সকাল বিকেল আসবেন।

    বড় মাসিমা ঘরে আসার পর মাত্র একটা কথাই বলেছিলেন, ‘গঙ্গাতীরে আর কোন নোংরা কাজ করব না রাসু তুই নিশ্চিন্তি থাক্। তবে প্রাণটা বেরোতে যা দেরি!’ তারপরই অজ্ঞান হয়ে গেলেন।

    সেই ভাবেই সারাদিন কাটল। বিকেলে আরও দুএকজন এলেন খোঁজ করতে। একজন মহিলা বললেন, ‘পাট করো, পাট করো নইলে কড়ে রাড়ী সহজে মরবে না!’ পাট করার অর্থ ডাব পান্তাভাত ঘোল এই সব খাওয়ানো। গঙ্গাযাত্রার এই বিধি

    যেমন করে হোক মেরে ফেলা। এ রুগী ফিরিয়ে নিয়ে যেতে নেই।

    কিন্তু রাসমণি ঘাড় নেড়ে বললেন, ‘বোল হ’রে গেছে, দাঁতি লেগেছে। খাওয়াবো কাকে! ডাব কিনে দিয়ে যাও, পারি ত ঐ একটু মুখে দেবো

    সন্ধ্যার পর থেকে যেন প্রলয়ের বর্ষা নামল। সারারাত চলল অবিশ্রাম, বর্ষা। জল প’ড়ে রাসমণি নিজেও ভিজলেন, মুমূর্ষুও ভিজতে লাগল। কোথাও এমন একটু শুকনো জায়গা নেই যেখানে সরে যান। আলোর মধ্যে একটা ছোট প্রদীপ –সেটাও বাইরের হাওয়ায় বার বার নিভে যাচ্ছে। দেশলাই জ্বলে না। তখন রাসমণি প্রাণপণে প্রার্থনা করছেন যে অন্তত কেউ মড়া পোড়াতেও আসুক। কিন্তু সে দুর্যোগে কেউ মড়া নিয়েও বেরোতে সাহস করলে না। একা সেই অন্ধকারে অচৈতন্য মৃত্যুযাত্রিণীকে নিয়ে সেই ভাবেই কাটালেন সারারাত।

    উমাকে আগলাবার জন্য কমলা এসে এ বাড়িতে ছিল। সে আর উমা দু’জনেই ঘুমোতে পারল না। এই অন্ধকার দুর্যোগের রাতে মা একা শ্মশানে বসে আছেন মনে ক’রে উমা নিজেই ঠক্‌ঠক্ করে কাঁপতে লাগল।

    সপ্তমীর দিন সকালেও জল থামল না। তেমনি হু-হুঁ বাতাস, মেঘের গুরু গুরু শব্দ আর অবিশ্রাম মুষলধারে বর্ষণ। এরই মধ্যে উমা এবং কমলা গাড়ি ডেকে গিয়ে হাজির হ’ল শ্মশানে। বুড়ী তখনও আছে। নাভিশ্বাস উঠেছে, হয়ত শীগগিরই মরবে। রাসমণি ওদের তিরস্কার করলেন, ‘তোরা কি করতে এলি! যা, গিয়ে চান করে ফেলগে যা!’

    বড় জামাই এলেন। তিনিও চলে যেতে বাধ্য হলেন খানিক পরে। আবার সেই একা। গঙ্গার জল কূলে কূলে ভরে উঠেছে, হয়ত বা কূল ছাপিয়েই উঠবে। দুশ্চিন্তায় সকলের মুখেই ভ্রুকুটি ঘনিয়ে এল। কিন্তু উপায় কি? তীরস্থ যাত্রীকে ঘরে ফিরিয়ে নিতে নেই।

    সারাদিন পরে সন্ধ্যায় বর্ষণের বেগ কমল কিন্তু বন্ধ হ’ল না। বরং ঝড়ের বেগ বাড়ল আরও। ফাঁকা ভাঙা ঘরে আলো জ্বালার চেষ্টাও করলেন না রাসমণি। আগের রাতের মতই অন্ধকারে বসে একমনে ইষ্টমন্ত্র জপ করতে লাগলেন। সারাদিন কিছুই খাওয়া হয় নি; স্নান ক’রে উঠে

    জলে দাঁড়িয়েই একটা ডাব খেয়েছিলেন মাত্র। বড়দিকেও কিছু খাওয়ানো যায় নি, ডাবের জল দেবার চেষ্টা করেছিলেন, কশ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে গিয়েছিল।

    অষ্টমীর দিন শেষরাত্রে সেই নাভিশ্বাস কণ্ঠে এসে পৌঁছল, নবমীর দিন প্রত্যূষে শেষ। তিনদিন তিনরাত্রি একভাবে একা সেই ভাঙা ঘরে নাভিশ্বাস ওঠা রোগিণীর সঙ্গে কাটালেন রাসমণি। তখন তাঁর মুখ দেখে কোন চিত্তবৈলক্ষণ্য বোঝা যায় নি কিন্তু পুড়িয়ে স্নান ক’রে বাড়িতে আসার সঙ্গে সঙ্গে তিনি মুর্ছিত হয়ে পড়লেন। সে মুর্ছা ভাঙল দু-তিন ঘণ্টা পরে।

    তিন

    বড় মাসিমার মৃত্যু উমাকে নতুন ক’রে ভাবিয়ে তুললে। বড় মাসিমার স্বভাবটাও সে লক্ষ্য করেছিল। যে জ্বালা ছড়ায় সে আগে জ্বলে। আগুনে তাঁর সমস্ত অন্তর পূর্ণ ছিল। ঐ আগুন কি তার অন্তরেও জ্বলছে না! এখনও ইন্ধন কাঁচা, তাই সে অগ্নি আছে সঙ্গোপনে, কিন্তু এই ব্যর্থতার বাতাস যদি তাতে অবিরত লাগে তবে একদিন কি দশা হবে! বড় মাসিমার তবু আত্মীয়স্বজন ছিল –দাঁড়াবার জায়গাও ছিল অন্নের জন্য ভিক্ষা করতে হবে।

    308

    তার যে দুটি

    আর ঐ অবস্থা!

    সকলে ধিক্কার দেবে, বিদ্রূপ করবে, সকলে চাইবে এড়িয়ে চলতে।

    না– তার আগেই উমা খুঁজে নেবে তার সার্থকতার পথ।

    আজকাল উমা প্রায় সারাদিন এবং সন্ধ্যায়ও অনেকখানি কাটায় তাদের ছাদের এক কোনে যেখানটা থেকে ওদের গলিটার মোড়ে বড় রাস্তার একফালি দেখা যায়, নতুন থিয়েটার-বাড়ির সামনেটা।

    ওর বিশ্বাস সেদিন সন্ধ্যায় যে শরৎকে দেখা গিয়েছিল সেটা কোন আকস্মিক ঘটনা নয়

    নিশ্চয় এ রাস্তা দিয়ে সে যাতায়াত করে। আর এক দিনও যদি দেখতে পায় ত ঝিকে পাঠিয়ে ডাকিয়ে আনাবে। একবারও কি তিনি আসবেন না পাঁচ মিনিটের জন্যেও? অন্তত তাঁর ভুলটা ত সে ভাঙিয়ে দিতে পারবে। তাঁর সেদিনের ভুল বোঝাটা কাঁটার মত বিধছে উমার অন্তরে দিনরাত্রিকে বিষাক্ত ক’রে দিয়েছে সেই একটিমাত্র ধিক্কারের স্মৃতি।

    –

    কিন্তু চেয়ে থেকে থেকে চোখ ক্লান্ত হয়ে পড়ে, রোদে আর ঝাঁজে মাথা ধরে ওঠে প্রত্যহই তার প্রতীক্ষার শেষ হয় না। একদিন রাসমণি বকলেন খুব, ‘অমন ক’রে ছাদে দাঁড়িয়ে থাকিস্ সোমত্ত মেয়ে, পাড়ায় ডবগা ছেলের অভাব আছে কিছু? শেষে একটা দুর্নাম উঠবে যে!’

    উমা ম্লান হেসে জবাব দিলে, ‘আমার আর সুনাম দুর্নাম কি মা! আপনাদের যদি কিছু অসুবিধে হয় সে আলাদা কথা। সে রকম দুর্নাম যেদিন উঠবে সেদিন একগাছা দড়ি কিনে দেবেন, তাহ’লেই বুঝব। শেষ ক’রে দিয়ে যাব সব জ্বালা আপনাদের!’

    এ কথার পর রাসমণি আর কিছু বলতে পারেন নি। এর মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে যে প্রচ্ছন্ন অভিযোগ ছিল তা তিনি অস্বীকার করেন কি ক’রে?

    ―

    দুর্নাম কিছু রটেছিল কেন না অমন ক’রে বড় রাস্তার দিকে চেয়ে অত বড় মেয়ের সারাদিন দাঁড়িয়ে থাকাটা আদৌ শোভন নয়। বিশেষ ক’রে যে মেয়েকে স্বামী নেয় না তার। কিন্তু রাসমণির একটা সুবিধা ছিল যে পাড়ার কারও সঙ্গে তিনি

    মিশতেন না। সে দুর্নাম কানে আসার সম্ভাবনা ছিল কম।

    দিন সপ্তাহ মাস কেটে যায়

    দীপ্ততর হয়ে।

    প্রতীক্ষার একাগ্রতা ক্ষুণ্ণ হয়, অন্তরের অগ্নি ওঠে

    উমা একদিন মাকে এসে বললে, ‘মা, আমি যদি থিয়েটারই করি, ক্ষতি কি?’

    রাসমণি তীব্রকণ্ঠে বলে উঠলেন, ‘তার মানে?’

    আগে হ’লে সে তীক্ষ্ণ কণ্ঠে উমা ভয় পেত আজ আর পেল না, বললে, আমাকে

    ত একটা কিছু করতে হবে। মানুষের জীবন-মৃত্যুর কথা কে বলতে পারে

    হঠাৎ হ’লে কোথায় দাঁড়াব আমি?

    রাসমণি একটু চুপ ক’রে থেকে বললেন, ‘আজকাল

    ভবিষ্যৎ ভাবছ উমা! সেই সঙ্গে আমার মৃত্যু!’

    আপনার

    বড় বেশি নিজের

    ‘ভাবাই ত উচিত মা। অপর কেউ ভাবার থাকলে আমি ভাবতুম না। আর মৃত্যু ত অবধারিত, তার জন্য সঙ্কোচে চুপ ক’রে থাকার কোন মানে হয় না।’

    So

    সমস্ত দ্বিধা, সমস্ত সঙ্কোচ যেন কোথায় ভেসে চলে যায় উমার। কোথা থেকে এতখানি মনের বল সে পায় তা সে নিজেই বুঝতে পারে না।

    খানিক পরে রাসমণি চুপ ক’রে থেকে বললেন, ‘তেমন যদি হয় কমলা কি তোমাকে ভাসিয়ে দেবে?’

    ‘না, তা হয়ত দেবে না। কিন্তু সেখানে কি ভাবে আমি থাকব? আমি ত আগেই বলেছি আপনাকে, হয় গলগ্রহ হয়ে লাঞ্ছনা খেতে হবে নয়ত বিনা মাইনের দাসীবৃত্তি

    করতে হবে।

    ‘কিন্তু বেশ্যাবৃত্তি নেওয়ার থেকে সেটাও বাঞ্ছনীয় নয় কি?’

    যে যেমন ভাবে মা। বেশ্যাদের সঙ্গে মিশলেই যে বেশ্যাবৃত্তি নিতে হবে তার ত কোন মানে নেই। তাছাড়া উপায়ই বা কি!’

    —

    তারপর কিছুক্ষণ স্তব্ধ থেকে, যেন চরম সাহসে ভর ক’রে বলে, ‘আর এক উপায় আছে মুসলমান হয়ে আর একটা বিয়ে করা কিন্তু তাতেই যে আমি সুখী হবো তারও ত ঠিক নেই। কোন অবস্থাতেই আপনি আর আমাকে ঠাঁই দিতে পারবেন না তা জানি তবে এ-ও আপনাকে বলে দিচ্ছি মা, আপনি যদি অন্য পথ আমাকে দেখাতে না পারেন ত থিয়েটারেই আমাকে যেতে হবে। বড় মাসিমার মত হুতাশন হয়ে থাকতে আমি পারব না। সুখ না পাই, স্বাধীন ভাবে বাঁচবার পথ ত পাবো!

    রাসমণি আড়ষ্ট হয়ে বসে থাকেন ওর কথা শুনে।

    –

    এত সাহস যে উমার হবে এমন কথা ওর মুখের ওপর বলবে তা তিনি কোনদিন স্বপ্নেও ভাবেন নি –কিন্তু সত্যিই যখন বললে তখন ভর্ৎসনা করবারও শক্তি রইল না তাঁর। মেয়ে যে কি জ্বালায় জ্বলে এতখানি ধৃষ্ট হ’তে পেরেছে তা মায়ের প্রাণে উপলব্ধি ক’রে তিনি স্তব্ধ হয়ে গেলেন।

    চার

    তিন-চারদিন কেউ কারও সঙ্গে কথা কইলেন না। সে এক বিচিত্র অবস্থা। একটা দোতলা বাড়িতে ঝিকে নিয়ে তিনটি প্রাণী। ঝির সঙ্গে দু’একটা কথা হওয়ায় যা কিছু শব্দ হয় এ বাড়িতে। তাও সে দুবেলা অন্য বাড়িতে ঠিকেকাজ করতে যায়, সে সময় মনে হয় বাড়ি সম্পূর্ণ খালি।

    এই গুমোট আবহাওয়া যখন প্রায় অসহ্য হয়ে উঠেছে অকস্মাৎ শ্যামা তার ছেলেমেয়ে নিয়ে এসে হাজির হ’ল একদিন।

    প্রথমটা ওরা কেউ চিনতে পারে নি।

    তারপর উমা ছুটে এসে শ্যামাকে জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠল, রাসমণি দু’হাতে নিজের কপালে কঠিন আঘাত করতে লাগলেন।

    যেন দুর্ভিক্ষের দেশ থেকে এসেছে ওরা, মূর্তিমান দুর্ভিক্ষ-অবতার!

    কঙ্কালসার চেহারা, রুক্ষ চুল

    জট পাকানো, ময়লা ছেঁড়া কাপড়। অমন দুধে- আলতা রং পুড়ে কালি হয়ে গেছে একেবারে। ছেলেমেয়ে দুটোকে দেখলেও আঁতকে

    উঠতে হয়, হেমটা ত রীতিমত ধুকঁছে। মনে হয় প্রাণশক্তি কে নিংড়ে বার ক’রে নিয়েছে ওদের মধ্যে থেকে।

    ‘এ কি অবস্থা রে তোর! এমন হ’ল কি করে? আমাদের চিঠি লিখতে পারিস নি!’ এক নিশ্বাসে উমা প্রশ্ন করে।

    শ্যামার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে। ক্ষীণকণ্ঠে বলে, ‘একটু বসি আগে। একঘটি জল দে। সারা পথ হেঁটে এসেছি–এই চার ক্রোশ পথ। তার ওপর কোলে মেয়ে। আমি আর পারছি না

    উমা তাড়াতাড়ি শরবৎ ক’রে এনে দেয়। দুধ গরম ক’রে এনে ছেলেমেয়ে দুটোকে খাওয়াতে বসে।

    শ্যামা তখন শুয়ে পড়েছিল নিচের রকেই। ওরই মধ্যে হাঁ-হাঁ করে উঠল, ‘একটু জল মিশিয়ে নে, জল মিশিয়ে দে নইলে যে পেট ছেড়ে দেবে! কদিন উপোসের পর খাঁটি দুধ খেতে পারে? এক ভাগ দুধ তিন ভাগ জল —

    নিজেরই করাঘাতে রাসমণির কপাল ফুলে উঠেছিল এর মধ্যে। তিনি এইবার নিঃশব্দে উঠে রান্নাঘরে চলে গেলেন। মেয়ের এ অবস্থা কেন হল তা প্রশ্ন করবার ও প্রবৃত্তি ছিল না তাঁর।

    অবশ্য শ্যামা নিজেই ক্রমশঃ সব বললে। বলবার কিছুই নেই। মধ্যে মধ্যে নরেন যেমন ডুব মারে তেমনই– এবার বেশিদিন ডুব মেরেছ। ঠিকে পূজারী পূজো ক’রে আগে শুধু সকালের চাল নিত, এখন বিকেলের দুধটাও নেয়। বলে, ‘তোমরা ত মিছামিছি ঘরজোড়া ক’রে রেখেছ। কাজ আমি করব ষোল আনা, তোমাদের ভাগ দেব কেন?’ প্রথম প্রথম সরকারগিন্নী বা পাড়ার লোক দয়াধর্ম করত, এখন কেউ খবর পর্যন্ত নেয় না সাহায্য করবার ভয়ে। যা সামান্য সোনা-রূপো ছিল তা গেছে, বাসনকোসনসুদ্ধ বাঁধা পড়েছে, তারও পরে সাতদিন উপবাসে কাটিয়ে আজ মরিয়া হয়ে বেরিয়ে পড়েছে শ্যামা। ঘরে চাবি দিয়ে এসেছে, তাও ফিরে গিয়ে দখল পাবে কিনা সন্দেহ। ইত্যাদি

    বিকেলে খাওয়া-দাওয়া সারা হয়েছে, রাত্রের আর ঝঞ্ঝাট নেই। উমা ছাদে শুয়েছে মাদুর পেতে ছেলেমেয়েদের নিয়ে। ঝি বাইরের কাজ সেরে আসতে শ্যামাই গেছে তাকে ভাত বেড়ে দিতে। ঝি খেতে খেতে গল্প করছে, তাদের কথা বলার একটা অস্পষ্ট গুঞ্জন কানে আসছে। রাসমণির কোন দিকে মন ছিল না। তিনি সারা সন্ধ্যাটাই অন্ধকার ঘরে কেমন একটা স্বপ্নাচ্ছন্ন ভাবে বসেছিলেন

    এমন সময় শ্যামার তীব্র কণ্ঠস্বর

    কানে গেল, ‘মা, এসব কি শুনছি?’

    চমকে উঠলেন রাসমণি, ‘কেন, কী হয়েছে? কী শুনেছিস?’

    গলাটা খানিক নামিয়ে অথচ বেশ তীক্ষ্মকণ্ঠেই শ্যামা বলে, ‘উমি নাকি থিয়েটারে যাচ্ছে

    ও নাকি থিয়েটার করবে?’

    ওর বলার ধরনে রাসমণি চটে উঠলেন, ‘বেশ ত, কী হয়েছে তাতে?’

    ‘তাহ’লে ত আর আমার এক দন্ডও এ-বাড়ি থাকা হয় না। এই মুহূর্তে চলে যেতে হয়। আমার স্বামী শুনলে আমার মুখ দেখবেন না।

    309

    রাসমণি উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘আমি ত তোমাকে এরে-বেরে আনতে চাইনি মা, যে-তুমি আমাকে ভয় দেখাচ্ছ! তোমার স্বামীর আশ্রয়েই যাও না —

    ,

    ‘সে যাই হোক্ মা, সে-ই আমার আশ্রয়। এই শিক্ষাই ত এতকাল দিয়েছেন। আমি এখনই যাবো —

    উমা ছুটে এসে ওর দুটো হাত চেপে ধরলে, ‘তুই কি পাগল হলি রে! আগে সব কথা শোন্–’

    না ভাই, ঢের শুনেছি। তুই ছাড়

    অবুঝ হ’স নি ছোড়দি, শোন্

    তোর দু’টি পায়ে পড়ি

    শ্যামাকে সে ছাদে টেনে নিয়ে গিয়ে সব কথা খুলে বলে। তখন খানিকটা সুস্থ হয় শ্যামা। কিন্তু বলে, ‘ভাই, তুই যদি এ কাজ করিস, মা তোকে ত্যাগ করতে পারবেন না

    –তাহলে আমার আর এই সময়ে অসময়ে এসে দাঁড়াবার আশ্রয়ও থাকবে না। ছিল, তাই ছেলেমেয়েগুলো বাঁচল নইলে সত্যিই শুকিয়ে মরত।’

    উমা চুপ ক’রে রইল, একটা বিদ্রোহ, একটা অভিমান আকণ্ঠ ফেনিয়ে উঠেছে ওর। খানিক পরে বললে, ‘তোর আশ্রয়ের কথাই ত ভাবছিস, আমার কথা ভেবে দেখেছিস?’

    শ্যামা অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে বললে, ‘আমার কথায় তুই রাগ করিস নি উমি, কিন্তু শ্বশুরবাড়িতে যত নির্যাতনই হোক্, স্বামী যেমনই হোন সেইখানটা মেয়েমানুষের আগে। তোর উচিত পায়ে-হাতে ধরে সেখানেই যাওয়া। ভদ্রঘরের মেয়ে থিয়েটারে যাবে কি ছি! এই দেহটাই কি এত বড়? না ভাই, সে হ’লে আমাদের আর সম্পর্ক রাখা সম্ভব হবে না। শ্বশুরবংশের নামে আমি কালি মাখতে পারব না।

    বড় মাসিমার বুকের আগুনের খানিকটা আন্দাজ পায় কি উমা?

    অন্ধকারে শ্যামা দেখতে পায় না কি বিচিত্র হাসি ফুটে ওঠে উমার মুখে! স্বামীকে যদি একেবারেই না পেত শ্যামা, তাহ’লে কেমন ক’রে এ কথা বলত সে– তাই বুঝতে চায় উমা। শ্বশুরবংশের প্রতি এ প্রীতি থাকত কি না!

    শ্যামা আবারও বলে ‘না না, বুঝছিস না! ছেলেমেয়ে বড় হবে, তাদের একটা পরিচয় আছে আমার কথাটা ভাব্ একবার!’

    –

    তা বটেই ত।

    উমা একটা দীর্ঘশ্বাস চেপে গিয়ে বলে, ‘ভয় নেই তোর, তোদের আশ্রয় আমি নষ্ট করব না। যা, তুই শুতে যা এদের নামিয়ে নিয়ে যা।’

    ‘আর তুই?’

    ‘আমার দেরি আছে।’

    অন্ধকার নিস্তব্ধ রাত্রে, সেই তারাভরা আকাশের দিকে চেয়ে প্রাণপণে যেন শুধু জীবনের সম্বল খোঁজবার চেষ্টা করে উমা। ওর অন্তরে বেদনা চারিদিকের নৈঃশব্দ্যসাগরে কিসের ঢেউ জাগায় কে জানে!

    প্রহরের পর প্রহর উত্তীর্ণ হয়ে যায়। ওপরে জাগে

    বই

    জাগেন রাসমণি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপাঞ্চজন্য – গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    Next Article উপকণ্ঠে – গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    Related Articles

    গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    পৌষ ফাগুনের পালা – গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    August 7, 2025
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    উপকণ্ঠে – গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    August 7, 2025
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    পাঞ্চজন্য – গজেন্দ্রকুমার মিত্র

    August 7, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }