Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কাঁটায়-কাঁটায় ৫ – নারায়ণ সান্যাল

    নারায়ণ সান্যাল এক পাতা গল্প522 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সকল কাঁটা ধন্য করে – ৫

    পাঁচ

    মধ্যাহ্ন আহারের পর বাসু-সাহেব কৌশিককে বললেন, তুমি এবার বাড়ি ফিরে যাও। আমি একটু বিশ্রাম নেব। তারপর নিখিল আমাকে ওল্ড-কোর্ট হাইস স্ট্রিটে নিয়ে যাবে।

    নিখিল জানতে চায়, আপনি যাবেন, স্যার, ওই এম.এল.এ. অ্যাডভোকেটের চেম্বারে?

    বাসু বললেন, না, নিখিল। সেটা সৌজন্যে মানা। ওই হাঁটুর বয়সী অ্যাডভোকেটের চেম্বারে আমি কেন আনইনভাইটেড যাব? তুমি আমাকে আমার চেম্বারেই নামিয়ে দিও। ওখানে আমার একটি সাবেকি ইজিচেয়ার আছে। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। রে-সাহেবের জুনিয়ার হিসাবে যখন কাজ করতাম তখন রে-সাহেব ওই ইজিচেয়ারে অর্ধশয়ান অবস্থায় ডিকটেশন দিতেন।

    নিখিল বলে, আমি জানি, স্যার।

    —ওই ইজিচেয়ারে আমাকে বিশ্রাম করতে দিয়ে তুমি ঠিক পাঁচটায় অ্যাডভোকেট মাইতির চেম্বারে যেও। তার ইন্টারভিয়ু নিয়ে আমার চেম্বারে ফির এস, আমাকে পিক্‌-আপ করতে।

    কৌশিক বলে, তার মানে আপনি আজই শুনতে চান মিস্টার মাইতির বক্তব্যটা?

    —না হে! অন্য কারণ আছে! তারপর আমরা দুজন—আমি আর নিখিল—যাব বাগবাজারে। সন্ধ্যার ঝোঁকে কিছু সাধু-সন্তের সন্ধানে। কীর্তিটা যদি তারই হয় তবে হয়তো সে ফেরার হয়ে যেতে পারে। অবশ্য সে এখনো জানে না যে, পুলিস তার ঠিকানা জেনে গেছে। তুমি তোমার মামিমাকে বলে দিও, আন্দাজ রাত নয়টার মধ্যে আমি ফিরব।

    কৌশিক জানতে চায়, তার মানে, রাত্রে বাড়িতেই খাচ্ছেন তো?

    —যদি না তোমার মামিমা মুখের সামনে নৈশাহার হিসাবে এক বাড়ি সাবুর পায়েস ধরে দেন।

    .

    কৌশিক নিউ আলিপুরের দিকে রওনা হয়ে গেল। নিখিল বাসু-সাহেবকে তাঁর চেম্বারে পৌঁছে দিল। তাঁর অপ্রত্যাশিত আবির্ভাবে জুনিয়াররা খুশি হয় ওঠে। বাসু তাঁর উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ-করা ইজিচেয়ারে শুয়ে শুয়ে সকলের তত্ত্ব-তালাশ নিতে থাকেন।

    নিখিল যখন ওল্ড কোর্ট হাউস স্ট্রিটে মাইতি-সাহেবের চেম্বারে গিয়ে পৌঁছালো তখনো পাঁচটা বাজতে আট-দশ মিনিট বাকি। এটি একটি ত্রিতল মোকাম। শতখানেক বছর বয়স হবে হয়তো। দু’তিনটি অথবা দু’একটি ঘর দখল করে এক-একজন আইনজীবীর চেম্বার। কারও বা এককামরার আস্তানা। এমন কি কিছু লোকের খুপরি এত ছোট যে, একসঙ্গে তিনজন লোক বসার জায়গা হয় না! ওই খুপরি ঘরের দখল পেতে হলে অন্তত লাখ-টাকা সেলামী দিতে হবে!

    মাইতি-সাহেবের দখলে তিনটি কামরা। রবিন মাইতির পিতৃদেবও ছিলেন নামকরা অ্যাডভোকেট—ইনকাম ট্যাক্স আর সেলট্যাক্সের কেসই বেশি করতেন তিনি। তাঁর পরলোকগমনের পর রবিন মাইতি উত্তরাধিকারসূত্রে ঘর তিনখানির দখল পেয়েছে. রবিনের স্পেশালিটি বাড়িভাড়া সংক্রান্ত মামলা,—মালিক বনাম ভাড়াটে। অর্থাৎ ভাড়াটে উচ্ছেদের মামলা। অথবা বাড়িওয়ালাকে নাস্তানাবুদ করার

    আদালতের ছুটি হয়ে গেছে অনেকক্ষণ। পাড়াটা ক্রমে ক্রমে ফাঁকা হতে শুরু করেছে। নিখিল নিজেই ড্রাইভ করে এসেছে। গাড়িটা পার্ক করে সে এগিয়ে গেল ত্রিতল বাড়িটার দিকে। মাইতি-সাহেবের চেম্বারের সামনে একজন চাপরাশি-জাতীয় লোক হঠাৎ এগিয়ে এসে বলল, সাহেবের শরীর খারাপ। আজ আর কারও সঙ্গে দেখা করবেন না।

    —’সাহেব’ মানে মিস্টার রবিন মাইতি, অ্যাডভোকেটের কথা বলছ তো? তিনি কি চেম্বারে আছেন?

    —আজ্ঞে হ্যাঁ, স্যার। আছেন। তবে শরীর খারাপ, তাই…

    হঠাৎ তাকে সরিয়ে একজন বৃদ্ধ ল-ক্লার্ক এগিয়ে এসে নিখিলকে বিনম্র নমস্কার করেন। জোড়হস্তেই বলেন, আসুন। আসুন স্যার, বসুন এই চেয়ারটায়।

    তারপর চাপরাশিটার দিকে ফিরে ধমক দেন, কাকে কী বলছিস্, কানাই? তোর কি কোনোদিন কাণ্ডজ্ঞান হবে না?

    আবার নিখিলের দিকে ফিরে বলেন, আমার নাম মহেন্দ্রলাল জানা, স্যার। আমি ছোট- সাহেবের ল-ক্লার্ক। আমি জানি, আপনার আসার কথা আছে। পাঁচটার সময়। অ্যাপয়েন্টমেন্ট প্যাডে আমিই লিখে রেখেছি। কিন্তু মুশকিল হয়েছে কি, ছোট-সাহেবের শরীরটা একেবারে হঠাৎ…

    বাধা দিয়ে নিখিল বলে, ‘ছোট-সাহেব’ মানে রবিনবাবু তো? তাহলে বড়-সাহেবটি কে?

    —আমি স্যার, দু’পুরুষের গোলামী করছি। রবিনবাবুর বাবার আমল থেকে। তাই ওঁকে…

    —বুঝেছি। তা আপনার ছোট-সাহেবের হয়েছেটা কী? ডাক্তার ডেকেছেন?

    মহেন্দ্রবাবু রীতিমতো কুণ্ঠিত হয়ে বললেন, কী ভাষায় আপনার কাছে মার্জনা চাইব জানি না—আমার বেয়াল্লিশ বছরের চাকরি, স্যার। এই একই চেম্বারে—দু’ পুরুষের গোলামী আমার! কিন্তু আজ যে কাণ্ডটা হয়েছে তা আমার জীবনে ইতিপূর্বে কখনো হয়নি। নেভার!

    —কিন্তু হয়েছেটা কী?

    —আপনি স্যার, এই ঘরে এসে বসুন। কথাটা একটু ইয়ে জাতীয়। গোপন….

    জনান্তিকে সরিয়ে এনে মহেন্দ্রবাবু বললেন, ছোট-সাহেব এক্কেরে বে-এক্তিয়ার। ইতিপূর্বে চেম্বারে তিনি কোনোদিন ড্রিংক করেননি, কিন্তু আজ…কি জানি কেন…সব অ্যাপয়েন্টমেন্ট ক্যানসেল করে দেবার ফর্মান জারি করে দিয়েছেন!

    —ও! বুঝলাম! চেম্বারে বসে মদ্যপান করছেন। একা? না কি বান্ধবী-টান্ধবীও আছে?

    মহেন্দ্ৰবাবু দু’হাতে নিজের কান চাপা দিলেন।

    নিখিল বললে, ঠিক আছে। আমি ফিরে যাচ্ছি। শুনুন : ওঁর খোঁয়াড় ভাঙলে ওঁকে বলবেন—হ্যাঁ, আমি বলে গেছি বলে আপনি তাঁকে জানাতে বাধ্য হচ্ছেন : নেশা ভাঙলে মিস্টার মাইতি যেন তাঁর ডায়েরিতে লিখে রাখেন—এক : বিধানকক্ষের বাইরে তিনি ভারতীয় নাগরিক মাত্র! প্রয়োজনে আমি তাঁর মাজায় দড়ি পরাতে পারি। দুই : আদালত থেকে যেদিন সাক্ষী দেবার সমন পাবেন সেদিন মদ্যপান করলে তাঁর ‘বার’ লাইসেন্স বাতিল হয়ে যেতে পরে। তিন :…

    মহেন্দ্রেবাবু বললেন, ব্যস! ব্যস! আর দরকার নেই স্যার! আপনি বসুন! আমি আমার ডিউটিটা করি। আপনি এসেছেন—সময় মতোই এসেছেন—এ খবরটা তাঁকে দিয়ে আসি। তারপর তিনি যা করবেন তার জিম্মাদারী আমার নয়।

    নিখিল বলল, ঠিক কথা! যান! ওঁকে বলুন আমি এসেছি! মাথায় ঢোকে ভাল, না ঢোকে তাও ভাল। তারপর নেশার ঝোঁকে তিনি যা করবেন, তার জিম্মাদারী আপনার নয়!

    মহেন্দ্রবাবু ঊনবিংশতি শতাব্দীর বাবু-কালচারের ভঙ্গিতে ‘যে-আজ্ঞে’ বলে নব ঘুরিয়ে পাশের ঘরে চলে গেলেন।

    নিখিলেশের হাতঘড়ির সেকেন্ডের কাঁটাটা পুরো একটা পাক মারার সময় পেল না। তার আগেই দ্রাম করে খুলে গেল দরজাটা। বার হয়ে এলেন রবিন মাইতি। বছর চল্লিশ বয়স। সুন্দর সুঠাম চেহারা। গলার টাইটা শুধু আলগা করা—পা কিন্তু টলছে না। চুলও সুবিন্যস্ত। দুটি হাত জোড় করে বলেন, ছি, ছি, ছি! আপনাকে দাঁড় করিয়ে রেখেছে এরা? আয়াম সো সরি। এদের হয়ে মার্জনা চাইছি আমি। আপনি ভিতরে আসুন, মিস্টার দাশ।

    ববিন মাইতি তার স্টাফ্‌ড রিভলভিং চেয়ারে গিয়ে বসল। তার টেবিলের উপর হোয়াইট হর্স হুইস্কির বড় বোতল, গ্লাস ও বরফ। নিখিলও বসল টেবিলের এপাশে ভিজিটার্স চেয়ারে। নিখিল বললে, মহেন্দ্রবাবু বলছিলেন, আপনি অসুস্থ। অসুস্থতা তো যে কোনো লোকের যে কোনও সময়েই হতে পারে। সুতরাং মার্জনা চাওয়ার কিছু নেই, মিস্টার মাইতি। আমি না হয় পরে আর একদিন আসব, ধরুন কাল।

    মাইতি দৃঢ়ভাবে মাথা নেড়ে বললেন, আমি যে অসুস্থ নই, তা তো স্বচক্ষেই দেখছেন। সকালে খবরটা শুনেই আমি প্রচণ্ড শক্ড হই। ঠিক মনে নেই, কী কী কথোপকথন হয়েছিল, আপনাতে-আমাতে—কিন্তু আমি বোধহয় ঠিক ভদ্রজনোচিত কথাবার্তা বলিনি। ওই একই কারণে। আমার মাথার ঠিক ছিল না খবরটা শুনে। রীতা কেন..কেন হঠাৎ আত্মহত্যা করে বসল?

    নিখিল বলে, সেই রহস্যের সমাধান প্রচেষ্টাতেই তো আমার এই অভিযান। কিন্তু আপনি যখন…

    —না, না, না, মিস্টার দাশ! আমি প্রস্তুত। আপনি যা জানতে চান তা অকপটে জানতে চাইতে পারেন। আই ওয়ান্ট টু নো, রীতাকে কেন…

    নিখিল পকেট থেকে ছোট্ট একটি টেপ-রেকর্ডার বার করে টেবিলে রেখে বলল, সেক্ষেত্রে আমি কিন্তু আমাদের কথাবার্তা টেপ করে রাখব।

    —য়ু থিংক আয়াম টিপ্‌সি?

    নিখিল জবাব দিল না। সুইচ টিপে জাপানি টেপ-রেকর্ডারটা চালু করে দেয়। স্পষ্ট উচ্চারণে বলে, মিস্টার মাইতি, আজ চোদ্দই নভেম্বর, সোমবার, আপনি বিকাল পাঁচটায় আপনার চেম্বারে আমার সঙ্গে রীতা বিদ্যার্থীর মৃত্যু-বিষয়ে আলোচনা করতে রাজি হয়েছিলেন; কিন্তু শুনলাম আপনার শরীর ভাল নয়। তা সত্ত্বেও আপনি কি আলোচনাটা চালিয়ে যেতে চান?

    মাইতি হাসলেন, বললেন, বি ইট রেকর্ডেড, আমি সুস্থ স্বাভাবিক অবস্থায়, স্বেচ্ছায় আপনার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করছি। অথবা বলতে পারেন, আমার জবানবন্দি দিচ্ছি!

    নিখিল জানতে চায়, আপনি এইমাত্র বলছিলেন, আপনি প্রচণ্ড শক্ড হয়েছেন, মিস্ বিদ্যার্থীর মৃত্যুতে। কিন্তু কেন? তিনি আপনার আত্মীয় নন, ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন কি?

    মাইতি টেপ-রেকর্ডার যন্ত্রটা দেখিয়ে বললেন, ওটা চালু থাকলে আমি যে জবাবটা দেব তা ‘নাথিং বাট দ্য ট্রুথ’ হবে না, মিস্টার দাশ! সেটা রাখা-ঢাকা ‘ডাইলিউটেড ট্রুথ’ হবে।

    নিখিল তৎক্ষণাৎ যন্ত্রটা সুইচ-অফ করে পকেটে পুরল। বলল, না। আমি খোলামেলা আলোচনা করতেই এসেছি। আপনাকে জড়াতে নয়। শুধু জানতে এসেছি। বলুন, আপনি এতটা শক্ড হলেন কেন?

    —বিকজ আই লাভড্ হার। নিজের হাতে নিজেকে হত্যা না করলে আমি তাকে জীবনসঙ্গিনী করতাম!

    নিখিল অবাক হয়ে গেল মদ্যপটার দৃঢ়তায়। জানতে চায়, কতদিন ধরে তাকে চিনতেন?

    –ধরুন তিন মাস!

    —এ তিন মাসে কতবার আপনাদের দেখাসাক্ষাৎ হয়েছে?

    —তিন মাসে বারো-তেরোটা সপ্তাহ। আন্দাজ সপ্তাহে দু’বার ধরে বার পঁচিশ।

    —তাকে প্রথম কোথায় দেখেন?

    —তার কর্মস্থলে। আমি ওদের কোম্পানির ম্যানেজিং ডাইরেক্টারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। রিসেপশানিস্ট হিসাবে সেখানে ওকে প্রথম দেখি। এম. ডি. একটা মিটিঙে ছিলেন। ফলে আমাকে রিসেপশনে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। প্রায় পনের মিনিট। তখন ওর সঙ্গে আলাপ হয়। ওর রূপে, ওর ব্যবহারে, ওর মোহিনী চৌম্বকবৃত্তিতে আমি মুগ্ধ হয়ে যাই! ওই পনের মিনিটের মধ্যেই আমি ওর প্রেমে পড়ে যাই, মিস্টার দাশ! ও তখনও আমার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল কিনা, জানি না।

    নিখিল বলে, কীভাবে আলাপটা শুরু হয়, মনে আছে আপনার?

    ম্লান হাসল মাইতি। বলল, আর একটা গ্লাস আনতে বলব? কম্পানি দেবেন আমাকে?

    নিখিল সংক্ষেপে বলল, নো থ্যাংক্‌স্!

    —আপনি ড্রিঙ্ক করেন না আদৌ?

    –করি। য়ুনিফর্ম পরে নয়। ডিউটি আওয়ার্সে নয়!

    -–ও আয়াম সরি।

    টঙে করে একটা আইস-কিউব তুলে নিয়ে গ্লাসে দিলেন। এক সিপ্ পানীয় মুখে টেনে নিয়ে বললেন, কী যেন প্রশ্ন করলেন? হ্যাঁ, হাউ আই স্টার্টেড টু ফল সো ডীপ ইন লাভ্!

    এবার সে ড্রয়ার থেকে বার করল ইন্ডিয়া কিঙের ডবল্ প্যাকেট, আর লাইটার। একটা স্টিক্ বার করে ঠোঁটে চেপে লাইটার দিয়ে ধরালো। তারপর বললে, ডিউটি আওয়ার্সে স্মোকও করেন না, না কি?

    নিখিল জবাব দিল না। একটা সিগ্রেট নিয়ে ঠোঁটে চেপে ধরতেই রবিন মাইতি লাইটার বাড়িয়ে সেটা জ্বালিয়ে দিল।

    তারপর বদ্ধ ঘরের ভিতর সিগারেটের রিঙ পাকাতে পাকাতে সে ফিরে গেল তার প্রথম সাক্ষাতের দিনটাতে। স্মৃতির সরণী বেয়ে সেই শীতাতপ-তথা-ধূম্র-নিয়ন্ত্রিত রিসেপশান কাউন্টারে।

    ঘরে আর কেউ ছিল না। টীক-প্যানেলিং-করা ঘেরাটোপ কাউন্টারে বন্দিনী নারীর মতো বসে ছিল রীতা বিদ্যার্থী। তার পরনে ময়ূরকণ্ঠী রঙের একটা কাঞ্জিভরম শাড়ি। লাল চওড়া পাড়। ওই রানী-কালার রঙেরই আঁটো জ্যাকেট। পিছনে বোতাম। নীবিবন্ধের অনেকটাই অনাধৃত। হাতির দাঁতের মতো দুটি শুভ্র বাহু। বকাট চুল। কপালে ছোট্ট একটা রানী-কালার টিপ্। অদূরে বসে আছে রবিন মাইতি। থ্রি-পিস্ স্যুট। হাতে সিগ্রেট।

    মেয়েটি বললে, আয়াম সরি, স্যার। মনে হয় মিনিট পনের অপেক্ষা করতে হবে আপনাকে।

    মাইতি বলেছিল, আই ডোন্ট মাইন্ড। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে, ড্যাম্প ওয়েদার। এখানে তো ভালই বসে আছি আমি। আমার হাতে সময়ও আছে।

    মেয়েটি বললে, ও-পাশের টেবিলে কিছু ম্যাগাজিন আছে। উল্টোপাল্টে দেখতে দেখতে সময় কাটাতে পারেন।

    মাইতি বলেছিল, ও তো দেখছি ফিলম্-ফেয়ার, ডেবনেয়ার, আর স্টারডাস্ট! শুধু সুন্দরী মেয়েদের ছবি!

    মেয়েটি চোখ বড় বড় করে বললে, কী আশ্চর্য! সুন্দরী মেয়ের ছবি দেখতে আপনার ভাল লাগে না? দেখেন না?

    —ভাল লাগে। দেখিও। যখন ত্রিসীমানায় সুদৃশ্য নয়নাভিরাম কিছু থাকে না।

    মেয়েটি হাসল। মাইতির নজর হলো হাসলে ওর গালে সুন্দর টোল পড়ে। কথাবার্তা হচ্ছিল ইংরেজিতে। মাইতি বলে, আমার নাম তুমি জান, আমি কিন্তু তোমার নামটা…

    —রীতা বিদ্যার্থী।

    —তুমি কেরালার মানুষ, তাই না?

    —না, স্যার, আমি কর্ণাটকের মেয়ে। —ক্রিশ্চিয়ান?

    —বাই নো মীনস্। আমি হিন্দু

    —আমি তোমাকে কী বলে ডাকব? মিস্ বিদ্যার্থী, না মিসেস্ বিদ্যার্থী?

    —ডাকাডাকির কি সুযোগ কিছু পাবেন? এখনি তো আপনার নিজের ডাক আসবে বড়-সাহেবের ঘর থেকে।

    —তবু?

    —আপনি আমাকে ‘রীতা’ বলেই ডাকতে পারেন। বয়সে যখন আপনি বড়!

    মাইতি বুঝতে পারে, রীতা বিদ্যার্থী কৌশলে এড়িয়ে গেল প্রশ্নটা। জানতে চায়, কলকাতার কোন্ অঞ্চলে থাক তুমি?

    —লবণ হ্রদ এলাকায়।

    —তবে তো তুমি আমার এলাকার লোক?

    —আপনিও সল্ট লেখে থাকেন বুঝি?

    —না! তবে সল্ট লেক আমার কন্সটিটুয়েন্সিতে পড়ে।

    —কন্সটিটুয়েন্সি?

    —আমি অ্যাসেম্লিতে আছি। বাই প্রফেশন অ্যাডভোকেট। সল্ট লেকের কোন দিকটায় থাক তুমি?

    —আট নম্বর ওভারহেড ট্যাঙ্কের কাছাকাছি।

    —তাই নাকি! করুণাময়ীতে? ওখানে আমার এক বান্ধবীও থাকে। তাকে চেন? শকুন্তলা রায়? তোমাদের পাড়ারই মেয়ে।

    রীতা বিদ্যার্থী খিলখিল করে হেসে উঠে বলেছিল, শকুন্তলা আপনার বান্ধবী? কেমনতর বান্ধবী? গত এক বছরের ভিতর তো সেই বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে যাননি আপনি একবারও!

    —তুমি কেমন করে জানলে?

    —যেহেতু ওই একই বাড়িতে আমি থাকি। কুন্তলা আমারও বান্ধবী। আমার ক্লাস-মেট! বর্তমানে আমার রুমমেট!

    মাইতি আরও ঘনিষ্ঠ আলাপ জমাবার অবকাশ পায়নি। কারণ তখনই ভিতরের মিটিঙটা শেষ হলো। ভিতর থেকে একজন উর্দিধারী পিওন এসে ওকে বললে, আপনাকে বড়-সাহেব সেলাম দিয়েছেন।

    মাইতি উঠে দাঁড়ায়। জানতে চায়, আমি মিটিঙ সেরে ফিরে আসা পর্যন্ত তুমি কি ডিউটিতে থাকবে, রীতা?

    —ডিপেন্ডস্! আপনার মিটিং কতক্ষণ ধরে চলবে তা তো আমি জানি না।

    সেই ওদের প্রথম আলাপ।

    মাইতি তার প্রথম সাক্ষাতের বর্ণনা শেষ করে গ্লাসে আবার একটা চুমুক দিল। নিখিল বলে, বুঝলাম। তারপর নিশ্চয় সল্ট লেকের দিক থেকে একটা চৌম্বক আকর্ষণ অনুভব করতে থাকেন। সপ্তাহে গড়ে দু’বার সেই আট নম্বর ট্যাঙ্কের…

    বাধা দিয়ে মাইতি বলে, নো, স্যার! য়ু আর রং দেয়ার! বিদ্যার্থীর বাড়িতে যাওয়ায় বাধা ছিল। টেলিফোন করারও। আমি সময় পেলে অফিস ছুটির পর ওর সঙ্গে অফিসেই দেখা করতাম। অফিসেই ফোনে কথাবার্তা হতো। ফেরার পথে কখনো আমরা সিনেমা দেখেছি, কখনো রেস্তোরাঁয় নৈশ আহারও সেরেছি।

    —ওর বাড়িতে যাওয়ার বাধাটা কী ছিল?

    মাইতি একদৃষ্টে তার গ্লাসের দিকে তাকিয়ে থাকল। জবাব দিল না।

    নিখিল জানতে চায়, আর মিস্ শকুন্তলা রায়ের সঙ্গে আপনার কতদিনের আলাপ? কীভাবে আলাপটা হয়েছিল?

    মাইতি আবার একটা সিপ্ দিয়ে বললে, য়ু আর ভেরি শার্প, মিস্টার দাশ। ঠিকই বুঝেছেন। রীতার বাড়িতে যাওয়ার সেটাই ছিল বাধা।

    —এটা কিন্তু আমার প্রশ্নের জবাব নয়!

    —না। আপনার পূর্ববর্তী অজবাবিত প্রশ্নের জবাব। কুন্তলার সঙ্গে আমার আলাপ সাত- আট বছর ধরে। আমি ওর অসীম উপকার করেছি। ও-ও আমার জানকবুল উপকার করেছে। আমরা দুজনেই দুজনের কাছে ওব্লাইজড—কৃতজ্ঞ। মুশকিল হচ্ছে এই যে, আমি কৃতজ্ঞতাপাশটাই বন্ধনের সীমান্ত বলে মেনে নিতে চাইছিলাম; কিন্তু…

    নিখিল বললে, এখনও কিন্তু আপনি আমার প্রশ্নের জবাব দেননি। শকুন্তলার সঙ্গে আপনার প্রথম আলাপ হলো কীভাবে? এখন অবশ্য আরও দুটি প্রশ্ন যোগ করব—কোন সূে আপনারা দুজনে দুজনের প্রতি কৃতজ্ঞ?

    —রীতা বিদ্যার্থীর আত্মহত্যার কারণ অনুসন্ধানে সেসব তথ্যের কোনও প্রয়োজন আছে কি, মিস্টার দাশ?

    —আছে। প্রচণ্ডভাবে আছে। হেতুটা আমি যাবার আগে জানিয়ে যাব। তার আগে—যদি এটাকে আপনার ব্যক্তিগত জীবনে আমার অহৈতুকী নাক-গলানো বলে মনে ন করেন—শকুন্তলার সঙ্গে আপনার সম্পর্কটা আমি সমঝে নিতে চাই। বলবেন?

    —বলব। আশা করি এটা প্রকাশ হবে না।

    –না। নিশ্চয় নয়।

    —অল রাইট। শুনুন তাহলে—

    প্রায় সাত বছর আগেকার কথা। রবিন তখনো সিনিয়ার অ্যাডভোকেট হয়নি। এম. এ. আর ল পাস করে এক পিতৃবন্ধুর কাছে অ্যাপ্রেনটিস্ হিসাবে কোর্টে যাচ্ছে। আর সেই বছরই গ্র্যাজুয়েট হলো শকুন্তলা রায়। বাঙলা অনার্স। ফার্স্ট ক্লাস সেকেন্ড। শকুন্তলার বাবা তার আগেই মারা গেছেন। মা তখনো জীবিতা। দাদা মার্কিন মুলুকে। বাবার রেখে যাওয়া টাকার সুদে কোনোরকমে সংসার চলে। দাদাও সাহায্য পাঠায়, তবে নিয়মিত নয়। বৌদি বিদেশিনী। শকুন্তলার ইচ্ছে নয়, দাদার অর্থনৈতিক সাহায্য হাত পেতে নেবার। মায়েরও সেটা পছন্দ নয়। বি. এ. পাস করে সে মরিয়া হয়ে একটা চাকরি খুঁজতে থাকে। একটার পর একটা দরখাস্ত। খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দেখে দরখাস্ত করেছিল বিভাবতী মাইতি সেকেন্ডারি স্কুলে। ওঁরা বাঙলার জন্য একজন শিক্ষিকা নেবেন। ন্যূনতম যোগ্যতা : বাঙলা ভাষায় অনার্স গ্র্যাজুয়েট। কপাল ঠুকে দরখাস্ত ছেড়ে দিল শকুন্তলা।

    বিভাবতী হচ্ছেন রবিন মাইতির পিতামহী। স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ওর পিতৃদেব, সিনিয়ার মাইতি-সাহেব। তিনি গভর্নিং-বড়ির প্রেসিডেন্ট। রবিন তাঁর একমাত্র পুত্র। সেও ছিল গভর্নিং-বড়ির জনৈক সদস্য। ঘটনাচক্রে রবিন বাঙলায় এম. এ.। তাই ইন্টারভিয়ু বোর্ডে তার প্রাধান্যটাই অন্য সবাই মেনে নিয়েছিলেন। যারা ইন্টারভিয়ু দিতে এসেছে তাদের প্রশ্ন করেছিল রবিনই।

    কতজন প্রতিযোগিনী ছিল তা আজ আর মনে পড়ে না। তবে দুজন এম. এ. বি. টি ছিলেন। একজন পি. এইচ. ডি. করছিলেন। রবিন খুব জোর দিয়ে শকুন্তলার রায়কে সমর্থন করেছিল। তার যুক্তিটা ওঁরা মেনে নিয়েছিলেন। বোর্ডের অন্যান্য সদস্যরা। রবিনের মতে—অন্য সবাই এ চাকরিটাকে ‘জাম্পিং-বোর্ড’ হিসাবে গ্রহণ করবে। চাকরিতে যোগদান করেই মেয়েদের কলেজে অধ্যাপনার জন্য দরখাস্ত করতে থাকবে। পরিবর্তে যদি এই মধ্যবিত্ত ঘরের অভিভাবকহীন মেধাবী মেয়েটিকে নেওয়া হয় এবং স্কুলে শিক্ষকতা করতে করতেই যদি তাকে এম. এ. পাস করানো যায়, তাহলে মেয়েটি কৃতজ্ঞতাবশত এখানেই টিকে যেতে পারে। স্কুলের প্রতি একটা মায়াও পড়ে যাবে তার।

    তিন-তিনটি এম. এ. পাস প্রতিযোগিনীকে টপকে শকুন্তলা চাকরিটা পেয়ে যায়। পরে হেডমিস্ট্রেস-এর কাছ থেকে—তিনিও ছিলেন সিলেকশন বোর্ডে—জানতে পারে, কার জন্য তার চাকরিটা হলো!

    রবিন মাইতির স্পষ্ট মনে আছে সেই ইন্টারভিয়ু নেবার দিনটার কথা। একটা পাটভাঙা সাদা-খোল, নীলপাড় তাঁতের শাড়ি পরে ইন্টারভিয়ু দিতে এসেছিল শ্যামলা মেয়েটি। তখন সে আদৌ পৃথুলা ছিল না। যৌবন তার কানায় কানায়—মধ্যক্ষাম দেহাবয়ব। নমস্কার করে সামনের চেয়ারে বসতেই রবিন মাইতি মেয়েটিকে প্রশ্ন করেছিল, আপনি ফার্স্টক্লাস সেকেন্ড হয়েছেন দেখছি। ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট হতে পারলেন না কেন?

    ভেবেছিল, মেয়েটি কৈফিয়ৎ দিতে আমতা-আমতা করবে। বাড়িতে কারও অসুখ করেছিল, নিজের শরীর খারাপ হয়েছিল ইত্যাদি কোনো একটা অজুহাত খাড়া করবে। শকুন্তলা সে দিক দিয়েই গেল না। তার আয়ত হরিণ নয়ন মেলে বললে, এর তো সহজ জবাব। যে ছেলেটি ফার্স্ট হয়েছে সে আমার চেয়ে ভাল আনসার করেছিল বলে।

    এরপর রবিনের বাবা মেয়েটির পারিবারিক তথ্য, বাল্য-কৌশোরের সংবাদ সংগ্রহ করলেন। শকুন্তলার বাবা কেন্দ্রীয় সরকারে ভাল চাকরি করতেন। তিনি যখন বাঙ্গালোরে পোস্টেড তখন ও স্কুল-ফাইনাল পাস করে। পরে চলে আসে কলকাতায়। বেথুন থেকে বি. এ. করেছে। বাঙ্গালোরে সে বাংলা পড়েনি। এখানে একটি বছর তাই নষ্ট হয়েছে তার।

    অন্যান্য সবাই নানান রকম প্রশ্ন করার পর আবার রবিনকেই তুলে নিতে হলো ‘বাঙলা’ বিষয়ে প্রশ্ন করার দায়িত্বটা। ও জিজ্ঞেস করেছিল, রবীন্দ্রনাথের ‘ক্ষণিকা’ কাব্যগ্রন্থের কোন পংক্তিটা আপনার সবচেয়ে ভাল লাগে এবং কেন ভাল লাগে?

    ইন্টারভিয়ু দিতে আসা প্রার্থীর কাছে এমন একটা বেমক্কা প্রশ্ন রীতিমত কঠিন। শকুন্তলা কিন্তু ঘাবড়াল না। জবাবে তৎক্ষণাৎ বলেছিল, “মনে রে আজ কহ যে/ভালমন্দ যাহাই আসুক সত্যরে লও সহজে।” গীতার দ্বিতীয় অধ্যায়ে স্থিতপ্রজ্ঞের লক্ষণ বর্ণনায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দশ- বিশটা শ্লোকে যে কথা বলেছেন, এখানে মাত্র দুটি পংক্তিতে রবীন্দ্রনাথ তা বলতে পেরেছেন—সহজবোধ্য সরল ভাষায়। এ দুটি পংক্তি ভারতীয় দর্শনের নিষ্কামকর্মের সরলীকৃত চুম্বকসার।

    মুগ্ধ হয়েছিল সবাই।

    রবিন শেষ প্রশ্ন পেশ করেছিল শেষের কবিতা থেকে। জানতে চেয়েছিল, শেষের কবিতার শেষ কবিতার মোদ্দা কথাটা কী?

    শকুন্তলা জবাবে বলেছিল, সেটা নির্ভর করে পাঠকের মানসিকতার উপর। ‘ঝরাফুল’ কাব্যগ্রন্থের লেখক পেসিমিস্টিক কবি করুণানিধানের মতে হয়তো মোদ্দা কথাটা “হে বন্ধু বিদায়”; আবার পরশুরামের ‘রাতারাতি’ কাহিনীর অপটিমিস্ট নায়িকার মতে, “উৎকণ্ঠ আমার লাগি কেহ যদি প্রতীক্ষিয়া থাকে/সেই ধন্য করিবে আমাকে!”

    এককথায় চাকরি হয়ে গেল শকুন্তলার।

    বেশ কিছুদিন চাকরি করার পর একদিন স্কুলের নির্জন করিডোরে শকুন্তলার সঙ্গে ঘটনাচক্রে রবিনের দেখা হয়ে গেল। স্কুল ছুটি হয়ে গেছে অনেকক্ষণ। শকুন্তলা টিচার্সরুমে বসে মেয়েদের খাতা দেখছিল এতক্ষণ। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে। স্কুলবাড়ির পাশেই রাধাশ্যমের মন্দিরে সন্ধ্যারতির শঙ্খঘণ্টা বাজতে শুরু করেছে। শকুন্তলা খাতাপত্র গুছিয়ে বারান্দা দিয়ে গেটের দিকে যাচ্ছিল। হঠাৎ লক্ষ্য হলো, বিপরীত দিক থেকে রবিন মাইতি এগিয়ে আসছেন। শকুন্তলা পাশ দিল। হাত তুলে নমস্কারও করল। রবিন ওর সামনে এসে হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ল। প্রতিনমস্কার’ করে বলল, কেমন আছেন মিস্ রায়? চাকরিটা ভাল লাগছে?

    শকুন্তলা গ্রীবা সঞ্চালনে জানাল, তার ভাল লাগছে, অথবা সে ভাল আছে। রবিন চলতে শুরু করতেই ও পিছন থেকে হঠাৎ ডেকে উঠল, শুনুন?

    রবিন দাঁড়িয়ে পড়ে। ঘুরে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসু নেত্রে তাকায়। কৃতজ্ঞতার আবেগে শকুন্তলা বলে বসে, হেডমিস্ট্রেস আমাকে সব কথা বলেছেন।

    —’সব কথা’? মানে?

    —আপনি আমাকে সাপোর্ট না করলে আমার চাকরিটা হতো না।

    —তাই বলেছেন বুঝি?

    —হ্যাঁ। আমি কৃতজ্ঞ। অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। বলুন, কীভাবে আমি আপনাকে….

    কথাটা বেচারি শেষ করতে পারেনি। ওর হঠাৎ মনে হলো, এই নির্জন করিডোরে ওর অন্তরের আকুতিটার একটা কদর্য ইন্টারপ্রিটেশান হতে পারে। একটি কুড়ি বছরের অনূঢ়া যুবতী মেয়ে যদি একজন সুদর্শন অবিবাহিত যুবককে নির্জনে এমন কথা বলে….

    রবিন সহাস্যে বলেছিল, বলুন? বাক্যটা আপনি শেষ করেননি—

    দুরন্ত লজ্জায় শকুন্তলা বলেছিল, না করিনি! আমার হঠাৎ মনে হলো এ-কথায় আপনি আমাকে ভুল বুঝবেন না তো?

    —কী কথায়? কী ভুল বুঝব?

    মর্মান্তিক আহত হরিণীর মতো শকুন্তলা তার উপকারকারীর দিকে তাকিয়েছিল। তার মুখে কথা সরেনি। রবিন আবার হেসে বলেছিল, না, শকুন্তলা! তোমার ‘প্রত্যুপচিকীর্ষার’ ভুল ইন্টারপ্রিটেশন আমি করব না। কিন্তু এই নির্জন করিডোরে দাঁড়িয়ে সে-বিষয়ে আলোচনা করলে দূর থেকে তৃতীয় ব্যক্তি ভুল বুঝতে পারে। কাল তো ছুটির দিন। কাল সকালে আমাদের বাড়িতে এস। কথা হবে।

    রবিন মাইতি কদিন আগে পার্টি নমিনেশন পেয়েছে। সে বিধায়ক হিসাবে নির্বাচন প্রার্থী। তার নিষ্ঠাবান কর্মীর খুব দরকার।

    রবিন মাইতির ইলেকশনের সময় জান-কবুল লড়ে গিয়েছিল মেয়েটি। বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভোটার লিস্ট যাচাই করা, আর সারা দিন ধরে শহরের দেওয়াল দখল। রবিন মাইতি বাইশ হাজার ভোটে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে যে পরাজিত করতে পেরেছিল তার জন্য শকুন্তলার বিরাট অবদান অনস্বীকার্য!

    শকুন্তলা সে সময় দিবারাত্র ওদের বাড়িতে পড়ে থাকত। ইলেকশনের কাজে। মেয়েটিকে মাইতি-জননীর নজরে ধরে। একমাত্র পুত্রের বিবাহের জন্য তিনি অনেকদিনই উদ্‌গ্রীব। পুত্রকে প্রস্তাবটা দিয়েছিলেন। রবিন মাইতি বলেছিল, কী যে বল মা! সব সময়েই তোমার ওই এক বায়নাক্কা!

    কেন যে শকুন্তলাকে বিবাহ করতে সে রাজি নয়, তা মাকে জানায়নি। বোধকরি নিজের চেতন মনকেও সে কোনে কৈফিয়ত দেয়নি। কিন্তু শকুন্তলার এই সাহায্যের প্রতিদান সে দিয়েছিল—আর্থিক সাহায্য নয়, অন্যভাবে। ব্যবস্থা করে দিয়েছিল, শিক্ষিকা হিসাবে নৈশ-ক্লাস করে সে যাতে এম. এ. পরীক্ষাটা দিতে পারে। মাইতি ওর প্রতি মুগ্ধ হয়েছিল আরও একটা কারণে : শকুন্তলার বাঙলাপ্রীতিতে। মাইতি নিজেও বাঙলা ভাষার একান্ত সেবক। কবিতা- টবিতা লেখে! নিজের খরচে কবিতার বইও ছাপিয়েছে। সে মুগ্ধ হয়েচিল, এই কারণে যে, শকুন্তলা স্কুল-জীবনে আদৌ বাঙলা পড়েনি, বাঙ্গালোরে থাকার সময়। অথচ বাঙলা বই পড়েছে, বাঙলা-ভাষাকে ভালবেসেছে। ওর বাবা কলকাতায় বদলি হবার পর ‘স্পেশাল পেপার’ পাশ করে, একটি বছর নষ্ট করে, সে বি. এ. তে বাঙলা অনার্স নেবার অনুমতি পায়। মাইতির নিজস্ব সংগ্রহে প্রচুর বাঙলা বই। গল্প-উপন্যাস, ক্ল্যাসিক্যাল সাহিত্য, ভাষাতত্ত্বের উপর গ্রন্থ। শকুন্তলাকে সে লাইব্রেরির কপাট উজাড় করে খুলে দিয়েছিল। কিন্তু ঐ পর্যন্তই। লাইব্রেরি মালিকের হৃদয়-দুয়ার শকুন্তলা খুলতে পারেনি।

    রবিন মাইতি যে ঠিক এই ভাষায় স্বীকার করেছিল তা নয়, তবে ‘হোয়াইট হর্স’ হুইস্কির মাদকতায় মেশানো তার স্বীকৃতি থেকে নিখিল এভাবেই ব্যাপারটার ধারণা করেছিল। মাইতি থামলে নিখিল জানতে চায় : ঠিক আছে, ‘ইটার্নাল ট্রায়াঙ্গেল’-এর প্রসঙ্গে এখানেই ছেদ টানা যাক। আমি একটি প্রশ্ন করি : মিস্ বিদ্যার্থী কি বেঁয়ো ছিলেন?

    —মানে? ‘লেফ্‌ট্-হ্যান্ডার’ ছিলেন কি না?

    —ইয়েস। তিনি কি বাঁ-হাতে লিখতেন?

    —কী আশ্চর্য! সে প্রশ্ন উঠছে কেন?

    —মিস্টার মাইতি! আমি যা জানতে চাই তা প্রথমে আমাকে জানান। তারপর যাবার আগে—কথা দিচ্ছি—আপনার সব কৌতূহল আমি মিটিয়ে দিয়ে যাব। মিস্ বিদ্যার্থীর মৃত্যু সংক্রান্ত যেটুকু তথ্য আমরা জেনেছি। আপাতত বলুন, বিগত তিন মাসের মধ্যে আপনি কি মিস্ বিদ্যার্থীকে কিছু লিখতে দেখেছেন—চিঠি, চিরকুট, চেক? কোন হাতে?

    রবিন মাইতি দীর্ঘক্ষণ তার পানপাত্রের দিকে তাকিয়ে থাকল। তারপর ধীরে ধীরে মাথা নেড়ে বললে, সরি! মনে পড়ছে না। সে লেফট্-হ্যান্ডার ছিল কি না আমি জানি না।

    —আপনারা তো রেস্তোরাঁয় বসে একসঙ্গে খেয়েছেন। মনে পড়ছে না মিস্ বিদ্যার্থী ডান হাতে কোনটা ধরতেন? ছুরি না ফর্ক?

    —তাতে কিছুই প্রমাণ হয় না। অনেক লেফট্-হ্যান্ডেড ব্যাটম্যান আছে যারা ডান হাতে বল করে। রিচার্ড হ্যাডলি যেমন একজন।

    —সেটা তো এক্সেপশন—ব্যতিক্রম!

    —তা যদি বলেন, তাহলে আমি বলব ‘লেফট্ হ্যান্ডেডনেস্’ টেন্ডেসিটাই তো একটা ব্যতিক্রম।

    —টু। তবু আপনার মনে পড়ে না?

    একটু চিন্তা করে রবিন মাইতি বলে, হ্যাঁ মনে পড়ে। রীতা ডান হাতে ছুরি আর বাঁ হাতে কাঁটা নিয়ে খেত। আমার-আপনার মতোই। কিন্তু এ-প্রশ্নটা কেন জানতে চাইছেন?

    নিখিল দুদিকে মাথা নেড়ে বলল, আপনার সঙ্গে মিস্ বিদ্যার্থীর শেষ যোগাযোগ কবে হয়েছিল? কোথায়?

    —এগরোই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার। ওকে অফিসে ফোন করে জানতে চেয়েছিলাম কালীপূজার সন্ধ্যটা ফ্রি রাখতে পারবে কি না। ও বলেছিল, না! ওইদিন শকুন্তলা কোথায় বুঝি যাবে আর সন্ধ্যোবেলায় ওর একটা অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে। আমি ঠাট্টা করে জানতে চেয়েছিলাম, ‘এনি আদার স্যুটার?’ ও বলেছিল, ‘তোমার হিংসে হচ্ছে? ভয় নেই। যাঁর সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট তাঁর বয়স তিন কুড়ির ওপরে।’

    নিখিল বলে, থ্যাংস-আ-লট! আমার আপাতত আর কিছু জিজ্ঞাস্য নেই।

    উঠবার উপক্রম করতেই রবিন মাইতি নিখিলের হাত চেপে ধরে। বলে, সে কি মশাই! আপনি না কথা দিয়েছিলেন…

    ওকে মাঝপথে থামিয়ে নিখিল বলে, আজ থাক প্লিজ। আপনি এমনিতেই অত্যন্ত কঠিন আঘাত পেয়েছেন একটা।

    — নো, নো, নো! বলুন? আপনারা কতটুকু কী জানতে পেরেছেন। রীতা ‘লেফট্-হ্যান্ডার’ কি না এ প্রশ্নটা উঠছে কেন?

    —যেহেতু মৃত্যুর পরে তাঁর ডান হাতে ধরা ছিল পিস্তলটা!

    —তাই তো থাকবে! যদি সে লেফট্-হ্যান্ডার না হয়।

    —আই এগ্রি। কিন্তু বুলেট-উন্ডটা তার বাঁ কানের উপর ঠিক এইখানে—

    নিজের বাম কর্ণের উপর কপালের শেষ প্রান্তটা দেখায়।

    রবিন মাইতি অনেকটা অ্যালকোহল নিয়েছে তার পাকস্থলীতে। মস্তিষ্কে তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ব্যাপারটা সমঝে নিতে সে তার নিজের মুষ্টিবদ্ধ ডান হাতটা বাম- কর্ণমূলে নিয়ে গিয়ে কল্পিত পিস্তলের ট্রিগার টানার চেষ্টা করে। শেষে বলেই বসে, বাট্ দ্যাটস্ অ্যাবসার্ড!

    —ইয়েস, আমাদের তাই আশঙ্কা : হয়তো এটা ‘কেস অব সুইসাইড’ আদৌ নয়! মার্ডার!

    শেষ শব্দটার প্রতিক্রিয়া হতে একটু সময় লাগল। তারপর ধীরে ধীরে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াল রবিন মাইতি। মনে হচ্ছে অক্ষিগোলক থেকে ওর চোখ দুটো ঠিকরে বেরিয়ে আসতে চায়।

    নিখিল বলে, আমরা নিশ্চিত নই এখনো। আপনি শান্ত হোন, মিস্টার মাইতি! আমরা তো ইনভেস্টিগেট করছিই।

    মাইতি তার বাম করতলে দক্ষিণ হস্তে মুষ্ট্যাঘাত করে চিৎকার করে ওঠে : ড্যাম ইট! মার্ডার!!

    তৎক্ষণাৎ দরজাটা খুলে যায়। কানাই আর মহেন্দ্রবাবু যুগলে প্রবেশ করেন ঘরে। রবিন ততক্ষণে বসে পড়েছে চেয়ারে। বস্তুত এলিয়ে পড়েছে। মহেন্দ্রবাবু আর কানাই দুদিক থেকে সেদিকে এগিয়ে এসে ছোট-সাহেবকে সাঁড়াশি আক্রমণে চেপে ধরেন।

    নিখিল নিঃশব্দে নিষ্ক্রান্ত হয় ঘর থেকে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকাঁটায়-কাঁটায় ৪ – নারায়ণ সান্যাল
    Next Article রূপমঞ্জরী – ৩য় খণ্ড – নারায়ণ সান্যাল

    Related Articles

    নারায়ণ সান্যাল

    অলকনন্দা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    আবার যদি ইচ্ছা কর – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    আম্রপালী – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    বিশ্বাসঘাতক – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    সোনার কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    মাছের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }