Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কালবেলা – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প836 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৫. যুদ্ধ হয় একটার পর একটা

    পনেরো

    ‘যুদ্ধ হয় একটার পর একটা এবং শত্রু-শক্তি ধ্বংস করা যায় একের পর এক। কলকারখানা তৈরি হয় একটার পর একটা। চাষিরা চাষ করে একের পর এক প্লট। আমরা যে খাবার শেষ করতে পারব তাই নিই কিন্তু আমরা মুঠো মুঠো করেই তা খাই। সমস্ত খাবার একসঙ্গে খাওয়া অসম্ভব। একেই পিসমিল সলিউশন বলে।’ মাও সে তুং-এর বিখ্যাত এই উক্তিটির ব্যবহার করেছিল সুদীপ। একসঙ্গে কোনও কাজ করা সম্ভব নয়। পিসমিল সলিউশন হচ্ছে একমাত্র উপায়। এই যে পুলিশ-ছাত্র সংঘর্ষ হল সেটা হয়তো একটা ছোট্ট বিক্ষিপ্ত ঘটনা, কিন্তু এই ঘটনা থেকে আর-একটা ঘটনা জন্ম নেবে। আজ যদি সারা দেশের মানুষ এইরকম ঘটনা অবিরত ঘটাতে থাকে তা হলে কোনও সরকারের পক্ষে তার মোকাবিলা করা অসম্ভব। ভারতবর্ষ ভিয়েতনাম হয়ে যাবে সেই সময়।

    সন্ধে হয়ে এসেছে। সাহসী ছেলেরা বেরিয়ে গেছে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পুলিশের ভ্যান এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে এবং কলেজ স্ট্রিটে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দাঁড়িয়ে। চারধারে একটা থিতিয়ে আসা ভাব কিন্তু কোনও দোকানপাট খোলেনি, সামান্য যে ক’জন পথচারী হাঁটছে তারা যে সন্ত্রস্ত তা বোঝা যায়। পোড়া ট্রামটাকে এখনও সরিয়ে নেওয়া হয়নি। অবশ্য সেটার কিছু অবশিষ্ট আছে বলে মনে হয় না। এখন কোনওরকম গোলমালের আশঙ্কা নেই। সমস্ত কলকাতা জেনে গেছে কলেজ স্ট্রিটে এই সংঘর্ষের কথা। খবর এসেছে বিমানের মিছিল এয়ার লাইনসের কাছেই পুলিশ আটকে দেয়। খুবই শান্তিপূর্ণ ছিল শোভাযাত্রা তাই ওখানে কিছু ঘটেনি। চারজনের একটি প্রতিনিধি দলকে নিয়ে বিমান মার্কিন দূতাবাসে গিয়ে প্রতিবাদপত্র পৌঁছে দিয়ে এসেছে। বিমান অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে তখনও ফিরে আসতে পারেনি, কিন্তু একটি ছাত্র খবরটা পৌঁছে দিয়েছে।

    সুদীপ চার-পাঁচজনের একটা দলকে নিয়ে কথা বলছিল।

    অনিমেষ বলল, ‘আপনি যা বলছেন তা এসব ইস্যু নিয়ে সম্ভব নয়। তা ছাড়া।’

    চুরুট ধরিয়ে এক হাতে ওকে থামতে বলে সুদীপ খানিকক্ষণ ওর মুখের দিকে চুপচাপ তাকিয়ে থাকল। তারপর বলল, ‘সেটা আমরা জানি। কিন্তু এভাবেই মানুষকে সচেতন করতে হবে। যে কোনও লক্ষ্যে পৌঁছাতে গেলে সরাসরি যাওয়া সম্ভব নয়, কিছু ছলনার আশ্রয়ও নিতে হয়। আজকে এই ঘটনা না-ঘটালে বিমান মার্কিন দূতাবাসে পৌঁছাতে পারত না।’

    ‘কিন্তু মার্কিন দূতাবাসে পৌঁছে কী লাভ হল? ওরা শুনবে আমাদের কথা? এটাও তো এক ধরনের চাটুকারিতা।’ একটি ছেলে ফোঁস করে উঠল।

    অনিমেষ চমকে ছেলেটাকে দেখল। ফরসা সুন্দর চেহারা কিন্তু এর আগে কখনও কথা বলতে দেখেনি ওকে।

    সুদীপ বলল, ‘তোমাদের মনে রাখতে হবে আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। চিনের দালাল বলে গুলজারিলাল নন্দা যখন আমাদের চিহ্নিত করেছিল তখন আমাদের পার্টি সেক্রেটারি যে স্টেটমেন্ট দিয়েছেন সেটা পড়ে দেখো।’

    অনিমেষ বলল, ‘কী সেটা?’

    ‘তিনি বলেছিলেন, আমরা কোনও রকমের সশস্ত্র যুদ্ধের কথা চিন্তা করছি না। আমরা আইনসম্মত দল এবং খোলাখুলি কাজ করতে চাই। আমি আর-একবার স্পষ্টভাবে বলতে চাই যে তেলেঙ্গানা-মার্কা সশস্ত্র সংঘর্ষের জন্য আন্ডার গ্রাউন্ডে যাওয়ার কোনও পরিকল্পনা আমাদের নেই।’

    ছেলেটি বলল, ‘আমাদের সঙ্গে সি পি আই-এর তা হলে তফাত কী?’

    সুদীপ বলল, ‘ওরা সুবিধাবাদী, রাশিয়ার তাঁবেদার।’

    অনিমেষ জিজ্ঞাসা করল, ‘পার্টির যদি এই সিদ্ধান্ত তা হলে আজ আমরা সংঘর্ষে গেলাম কেন?’

    বিস্ময়ের চিহ্ন ফুটে উঠল সুদীপের মুখে, ‘কে বলেছে আমরা সংঘর্ষে গেছি। পুলিশ সম্পূর্ণ বিনা প্ররোচনায় আমাদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে, গুলি চালিয়েছে। ছাত্র আন্দোলনকে হেয় করার জন্য নিজেরাই গুন্ডা দিয়ে ট্রাম জ্বালিয়েছে। তুমি কি যারা ট্রাম জ্বালিয়েছে তাদের দেখেছ? ওদের কি ছাত্র বলে মনে হয়েছে? তবে! আর দু’-একটা ইট যা এখান থেকে ছোড়া হয়েছে তা প্ররোচিত হওয়ার পরই ছোড়া হয়েছে। ব্যাপারটা যে সমস্তটাই সাজানো তা বুঝতে এত অসুবিধে হয় কেন?’

    একটি ছেলে দৌড়ে এসে বলল, ‘সুদীপ, রিপোর্টাররা এসেছে কথা বলতে চায়। কী করবে?’

    ‘কী করবে মানে?’

    ‘বিমান তো নেই।’

    ‘আমরা আছি। ওদের ক্যান্টিনে বসাও আর রাখালদাকে চা করতে বলো। আমি আসছি।’ ছেলেটি সুদীপের নির্দেশ নিয়ে চলে গেলে সে বলল, ‘বোধহয় কিছু মেয়ে এখনও আটকে আছে এখানে। তাদের বুঝিয়ে বলো ভয়ের কিছু নেই, ওরা বাড়ি চলে যেতে পারে আমি রিপোর্টারদের সামলাচ্ছি।’

    সুদীপ খুব গম্ভীর ভঙ্গিতে ইউনিয়ন অফিসের দিকে হাঁটতে লাগল। অনিমেষ শুনল, ফরসা ছেলেটি নিজের মনে কিছু বিড়বিড় করছে। বোঝা যাচ্ছিল সে আজকের ব্যাপারটায় মোটেই সন্তুষ্ট নয়। অনিমেষ নিজেও স্বস্তি পাচ্ছিল না।

    সঙ্গীদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে অনিমেষ নিজেদের ক্লাসরুমের দিকে হাঁটছিল। এর আগে যখন সে মেয়েদের দেখেছিল তখন কোনও কথা বলেনি। চুপচাপ দরজা থেকে সরে সুদীপের খোঁজে নেমে এসেছিল। এখন সিঁড়ির মাঝামাঝি মুখোমুখি হয়ে গেল ওদের। ওরা নেমে আসছে।

    ‘আপনাদের যুদ্ধ শেষ হয়েছে?’

    অনিমেষ সেই চোখ দুটোকে নজর করল। এখন টকটকে জবাফুলের মতো লাল। অনিমেষের নিজের অবস্থাও তাই কিন্তু অনেকটা সামলে নিয়েছে সে। আর-একটি মেয়ে প্রায় ভেঙে-পড়া গলায় বলে উঠল, ‘ট্রাম-বাস চলছে না, না? আমি কী করে বাড়ি যাই বলুন তো?’

    ‘কোথায় থাকেন আপনি?’ রোগা এবং আতঙ্কিত মেয়েটিকে দেখল অনিমেষ।

    ‘ঢাকুরিয়া।’

    ‘ট্রেনে যাবেন?’

    ‘না, না, ট্রেনে গেলে অনেক হাঁটতে হয়।’

    ‘তা হলে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউতে চলে যান। ওদিকে সব বাস পাবেন।’

    ‘সে কী! এই যে একজন বলল, সব বাস-ট্রাম বন্ধ?’

    ‘সেটা শুধু কলেজ স্ট্রিটে। আপনারা ইডেন হস্টেলের পাশ দিয়ে চলে যান। উত্তর বা দক্ষিণ দু’দিকের গাড়ি পেয়ে যাবেন।’

    অনিমেষের কথায় উজ্জ্বল হল মুখগুলো। কুয়ো থেকে যেন টেনে তোলা হল ওদের।

    নীচে নেমে এসে রোগা মেয়েটি জিজ্ঞাসা করল, ‘পুলিশ গুলি করবে না তো?’

    অনিমেষ হাসল, ‘কী আশ্চর্য। খামোকা পুলিশ গুলি করতে যাবে কেন?’

    আর-একটি মেয়ে বলল, ‘কেন? করেনি গুলি? কিছু বিশ্বাস নেই।’

    ‘না, এখন সব থেমে গেছে।’ অনিমেষ আশ্বস্ত করার চেষ্টা করল।

    সে লক্ষ করছিল, সবাই কিছু না-কিছু বলছে কিন্তু সেই প্রথম প্রশ্ন করার পর থেকে একজন একেবারে চুপ। যেন তার উত্তরটা না-পাওয়া অবধি সে কথা বলবে না। অনিমেষ প্রশ্নের শ্লেষটা গায়ে না-মাখার চেষ্টা করছিল অন্য মেয়েদের সঙ্গে কথা বলে।

    ততক্ষণে অন্যান্য ক্লাসের ছেলেমেয়েরা ইডেন হস্টেলের পথে বেরিয়ে যেতে শুরু করেছে। প্রায় নিঃশব্দে ওরা হাঁটা শুরু করতে অনিমেষ অবাক হয়ে দেখল একজন চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।

    একটু অস্বস্তির গলায় সে জিজ্ঞাসা করল, ‘আপনি যাবেন না?’

    ‘সব অসুখেই কি এক ওষুধ খান আপনি?’

    ‘মানে?’

    ‘পরোপকার করতে গিয়ে এত তাড়াহুড়ো করছেন কেন? সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ যে আমার পথ তা আপনাকে কে বলল?’

    অনিমেষ বলল, ‘আপনি এত বেঁকিয়ে কথা বলেন কেন? সবসময় মানুষকে বিদ্ধ করে কী আনন্দ পান কে জানে? কোথায় থাকেন আপনি?’

    ‘কেন? এখন কি আপনার ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আমাদের দেখাশোনা করার?’

    ‘যদি বলি তাই। অবশ্য আপনার আপত্তি থাকলে আলাদা কথা।’

    ‘এটাও কি সংগ্রামী পদক্ষেপ?’

    ‘আর কিছু বলবেন? তা হলে একবারে বলে ফেলুন।’

    ‘আপনাদের কাণ্ডকারখানা দেখে মাথা ঠান্ডা রাখা মুশকিল।’

    ‘একটু ঠান্ডা করে বলুন কোন দিকে যাবেন?’

    মেয়েটি একটুক্ষণ অনিমেষের মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘সেদিন বলছিলেন না যে মফস্‌সলের ছেলে আপনি। ওটা তো সহানুভূতি আদায়ের ছল, কিন্তু এর মধ্যেই—।’ কথাটা শেষ না করে হেসে ফেলল সে।

    অনিমেষ দেখল ঠাস দাঁতের সারির একটা দিকে গজদাঁতের আদল, যেটা হাসিটাকে আরও সুন্দর করেছে। সেটা চোখে পড়ায় অনিমেষ একটুও রাগতে পারল না কথাটা শুনেও। বলল, ‘আপনি একনাগাড়ে ঝগড়া করে যাচ্ছেন।’

    মেয়েটি আবার গম্ভীর হওয়ার চেষ্টা করল। কলেজ স্ট্রিটের দিকে মুখ করে সে জিজ্ঞাসা করল, ‘এদিক দিয়ে যাওয়া যাবে না?’

    ‘আপনি কোথায় যাবেন এখনও বলেননি। যদি আপত্তি থাকে তবে—।’

    ‘আপত্তির কী আছে! আমাদের বাড়ি বেলঘরিয়া। শিয়ালদা দিয়ে গেলে সুবিধে হয়। আপনি ওদিকে গেছেন?’

    ‘না। আমি যদি শিয়ালদা অবধি যাই তা হলে।-’

    ‘চলুন।’

    কলেজ স্ট্রিট দিয়ে যেতে অনিমেষের একটু অস্বস্তি ছিল। কারণ এখনও প্রচুর পুলিশভ্যান ওদিকে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের মধ্যে কেউ নিশ্চয়ই গোলমালের সময় তাকে মাঝরাস্তায় টিয়ারগ্যাসের শেল কুড়োতে দেখে থাকতে পারে। সুতরাং এখন মুখোমুখি হলে ওকে ধরে ফেলা বিচিত্র নয়। কিন্তু মেয়েটির কাছে এসব কথা বলতে সংকোচ হচ্ছিল তার। সত্যিই তো শিয়ালদা যাওয়ার জন্যে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ ঘোরার কোনও মানে হয় না।

    দু’-একজন মানুষ সন্তর্পণে ফুটপাত ধরে হাঁটছে। পোড়া ট্রামটিকে সরিয়ে নেবার ব্যবস্থা হচ্ছে ততক্ষণে।

    অনিমেষ বলল, ‘আসুন, ওই কলেজ স্কোয়ার দিয়ে বেরিয়ে যাই।’

    ওরা যখন রাস্তা পার হয়ে এ-ফুটপাতে এল তখন একজন অত্যন্ত অবহেলায় হাত নেড়ে ওদের চলে যেতে বলল। মেয়েটি চাপা গলায় বলল, ‘ওরা আমাদের কেয়ারই করছে না।’

    কলেজ স্কোয়ারের ভেতর ঢুকে একটু সহজ হল অনিমেষ। সামনেই বিদ্যাসাগরের স্ট্যাচু এবং সেটা জড়ভরতের মতো তাকিয়ে। এইসব মূর্তিগুলো দেখলে ইদানীং অস্বস্তি হয় ওর। সে-সময়ের মানুষগুলোকে আমরা আস্তে আস্তে লিলিপুট বানিয়ে ফেলছি।

    মির্জাপুরের কিছু দোকান খোলা। মোড়ে মোড়ে জটলাগুলো বোধহয় আজ দুপুরের ঘটনা নিয়ে ব্যস্ত। অর্থাৎ বিমানের পরিকল্পনা সার্থক হয়েছে। অবশ্যই এটাকে একরকম জয়লাভই বলতে হবে। টুকরো টুকরো করে যদি সফলতা আসে একসময় সেগুলো জোড়া দিয়ে দিলেই পূর্ণতা পাবে।

    মেয়েটি হঠাৎ জিজ্ঞাসা করল, ‘আচ্ছা, আজকে যা করলেন তাতে কার কী ভাল হল বলতে পারেন?’

    অনিমেষ বলল, ‘একদম মেরুদণ্ডহীন আমরা নই সেটা প্রমাণ হল।’

    ‘তাই নাকি?’ বাঁকা চোখে তাকাল মেয়েটি, ‘পাড়ার গুন্ডারা যখন পুলিশের সঙ্গে বোমা নিয়ে লড়াই করে তখন তাদেরও মেরুদণ্ডহীন বলে মনে হয় না।’

    ‘আশ্চর্য! দুটো ব্যাপার এক হল? ওরা লড়ছে কোনও কারণ ছাড়াই— জাস্ট গুন্ডামি করতে।’ অনিমেষ বিরক্ত হল।

    মেয়েটি বলল, ‘আপনাদের কারণটা কী? না, ভিয়েতনামে আমেরিকা অত্যাচার করছে তাই কলকাতার ট্রাম পোড়াও, পুলিশ মারো, সাধারণ মানুষকে অসুবিধেতে ফেলো— কী মহৎ ব্যাপার!’

    ভ্রূ কুঁচকে গেল অনিমেষের, ‘আপনি কী বলতে চাইছেন?’

    ‘দেখুন, আমি সাধারণ মানুষের দলে। মাথায় যদি অন্য চিন্তা না-থাকে তা হলে যে-কেউ বুঝতে পারবে এগুলো হল স্টান্ট দেওয়ার চেষ্টা। নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণ করার সহজ রাস্তা। আচ্ছা, সত্যি কি আপনি নিজেকে কমিউনিস্ট ভাবতে পারেন?’

    ‘কমিউনিস্ট? আমি ঠিক জানি না। তবে আমি এমন সমাজব্যবস্থা চাই যেখানে কোনও বৈষম্য থাকবে না। সেটা তো আর আকাশ থেকে নেমে আসবে না, তাই তার জন্যে কতগুলো আদর্শ সামনে রেখে এগোতে হবে। সেক্ষেত্রে কমিউনিজমের কোনও বিকল্প নেই।’

    ‘বেশ, আপনার দল যা করছে তা কি সাম্যবাদের লক্ষণ? কেন জানি না আমার মনে হচ্ছে আপনারা ভুল করছেন।’

    ‘আপনি কি কংগ্রেস সরকারকে সমর্থন করেন?’

    ‘মোটেই না। কিন্তু আমার মনে হয় আপনাদের দল সরকারে এলে আর-একটা কংগ্রেসি সরকার হবে। টাকার এ-পিঠ আর ও-পিঠ।’

    চট করে নিশীথবাবুর মুখ মনে পড়ে গেল অনিমেষের। জলপাইগুড়ির জেলা স্কুলের যে মাস্টারমশাই তাকে প্রথম দেশ সম্পর্কে সচেতন করেছিলেন, তাঁরও তো একই বক্তব্য ছিল। কথাটা এখনও স্পষ্ট মনে আছে, ‘এ দেশে কমিউনিস্ট সরকার হওয়া মুশকিল। যদি কখনও হয় দেখবে আমরা যা যা করেছি ওরা তারই নকল করছে আর যা করিনি ওরা সেটা করছে না। উপরন্তু ওদের বাড়তি সমস্যা হল, যে-ফ্র্যাঙ্কেনস্টেইনের এখন ওরা জন্ম দিচ্ছে তাদের সামলানো তখন মুশকিল হয়ে পড়বে। একজনকে ক্ষমতা থেকে সরাতে তুমি দশ রকমের ভাঁওতা দিতে পারো, কিন্তু নিজে ক্ষমতায় এলে দেখবে সেই ভাঁওতাগুলো একশো রকমের হয়ে গেছে।’

    কমিউনিস্ট পার্টির মাথা বা মাঝারি নেতাদের চেনে না অনিমেষ। কিন্তু প্রথম দিন থেকেই বিমানের কথাবার্তা ওর তেমন পছন্দ হয় না। সবসময় একটা চাপা মনোভাব, কেউ প্রতিবাদের ভঙ্গি করলে সেটা যেন বিমানের সহ্য হয় না। কিন্তু একজন লোককে দিয়ে একটা দলের বিচার করা ঠিক নয়। মার্ক্সবাদ ছাড়া এ দেশে মুক্তি নেই সেটা যখন সত্য তখন অন্য কোনও বিকল্প দলের কথা ভাবা যায় না। ছাত্র পরিষদের শচীন সেদিন ওদের যে মতবাদের কথা বলছিল কিংবা মুকুলেশ যা করতে চায় সেটা তো শুধুই ভাবপ্রবণতা। অবলম্বন ছাড়া কোনও সার্থকতা আসে না। আসলে মানুষের সহজাত ধর্ম হল চট করে হতাশ হয়ে পড়া। কাজ শুরু করার আগেই যারা ব্যর্থ পরিণতির কথা চিন্তা করে তারা তো কিছুই করতে পারবে না।

    মেয়েটি বলল, ‘কী ভাবছেন তখন থেকে?’

    অনিমেষের খেয়াল হল ওরা শিয়ালদা স্টেশনের কাছাকাছি চলে এসেছে। এদিকের অবস্থা প্রতিদিনের মতো স্বাভাবিক। এই যে মাত্র মাইলটাক দূরে অমন কাণ্ড হয়ে গেল তা এই এলাকা দেখলে কেউ বুঝতে পারবে না।

    অনিমেষ বলল, ‘কিছু না। পরে একদিন আপনার সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলব। আপনার ট্রেন ক’টায়?’

    ‘এখন তো ঘনঘন ট্রেন। আপনাকে এতদূরে এনে কষ্ট দিলাম।’

    ‘কষ্ট কী! শিয়ালদায় এলে আমার মন ভাল হয়ে যায়।’

    ‘সেকী? কেন?’

    ‘স্টেশনে ঢুকলেই রেলগাড়ি দেখতে পাই। আর রেলগাড়ি দেখলেই জলপাইগুড়ির কথা মনে পড়ে যায়। ছেলেবেলা এমন একটা জিনিস যা সব ক্ষত সারিয়ে দিতে পারে, অন্তত কিছুক্ষণের জন্যেও।’

    ‘আপনার ক্ষত আছে?’ ঘাড় বেঁকিয়ে তাকাল মেয়েটি।

    কথাটা শুনে চমকে তাকাল অনিমেষ। তারপর হেসে ফেলল, ‘আপনি এমন সব প্রশ্ন করেন যার উত্তর দেওয়া যায় না।’

    ‘তা হলে আপনার এমন কথা বলা উচিত নয় যার অর্থ আপনি জানেন না।’

    নর্থ স্টেশনের দরজায় এসে দাঁড়াতে মেয়েটি বলল, ‘এবার আমি যেতে পারব, আপনাকে শুধু এটুকু করার জন্য ধন্যবাদ।’

    ‘কিছুই করিনি।’

    ‘তা ঠিক। আসলে আমরা মেয়েরা অনেক কিছু অলীক ভয় আগাম কল্পনা করে নিয়ে বিব্রত হই। একটা পুরুষ যা পারে আমিও তাই করতে পারি। কিন্তু যদি কিছু হয়, যদি যদি করে নার্ভাস হয়ে সব গুলিয়ে ফেলাটা আমাদের অভ্যেস হয়ে গেছে, কী করব বলুন? নইলে ক্লাস থেকে বেরিয়ে রোজকার মতো আজও চলে আসতে পারতাম, এই যেমন এলাম।’ গজদাঁত বের করে হাসল মেয়েটি।

    ‘আমি সঙ্গে এলাম বলে এখন আফশোস হচ্ছে?’

    ‘এটাও কিন্তু মেয়েদের অভ্যেস, গায়ে পড়ে কাদা মাখা। ও কথা আমি একবারও বলিনি। এই যাঃ, কী অভদ্র দেখুন তো আমি। আপনি কোথায় থাকেন জিজ্ঞাসাই করিনি।’ ঠোঁট টিপে হাসলে মেয়েটির চোখ কথা বলে।

    ‘হাতিবাগানের একটা হস্টেলে।’

    ‘আপনি হস্টেলে থাকেন? ও তাই!’

    ‘মানে? আবার কী থিয়োরি আছে এ ব্যাপারে!’

    ‘হস্টেলের ছেলেরা একটু ডেসপারেট এবং স্বার্থপর হয়।’

    ‘তাই নাকি? বাঃ, এটা তো জব্বর জানা হল।’

    ‘একা একা থেকে ভাবতে শুরু করে আমি যা করছি তাই ঠিক।’

    ‘বাঃ, গুড।’ জ্ঞান গ্রহণ করার ভঙ্গিতে মাথা নাড়ল অনিমেষ। হঠাৎ যাত্রীদের ভিড় বেড়ে গেল। অফিস-ফেরত মানুষেরা পড়ি কি মরি করে ছুটে যাচ্ছে ট্রেন ধরতে। গেটে যে টিকিট কালেক্টর দাঁড়িয়ে আছেন তাঁর ভঙ্গি জগন্নাথের মতো। হাত দুটো আছে কিনা বোঝা যাচ্ছে না। মেয়েটি এবার চলে যাওয়ার ভঙ্গি করতে অনিমেষ জিজ্ঞাসা করল, ‘টিকিট কাটবেন না?’

    ‘আমার মাসের টিকিট আছে।’

    হঠাৎ অনিমেষের ইচ্ছে হল ট্রেনে ওঠার। অনেকদিন ট্রেনে ওঠা হয়নি। জলপাইগুড়ি যাওয়া-আসা ছাড়া তো ট্রেনে ওঠার প্রশ্নই ওঠে না।

    সে বলল, ‘একটু দাঁড়াবেন, আমি টিকিটটা কেটে আনি।’

    ‘কেন? আপনি কোথায় যাবেন?’ বিস্ময় মেয়েটির চোখে।

    ‘ট্রেনে চড়তে ইচ্ছে করছে খুব।’ বলে অনিমেষ দ্রুত গিয়ে কাউন্টারের সামনে দাঁড়াল। বোধহয় এখন অফিসটাইম বলেই কাউন্টারে ভিড় কম। এখনকার যাত্রীদের মান্থলি আছে। যারা হঠাৎ-যাত্রী তারা এই সময়টাকে এড়িয়ে আসে। বেলঘরিয়া পর্যন্ত টিকিট কাটল অনিমেষ। হাতিবাগান দিয়ে একটা বাস যাওয়া-আসা করে বেলঘরিয়া পর্যন্ত। ফেরার সময় সেটায় আসা যাবে।

    অনিমেষকে আসতে দেখে মেয়েটি প্ল্যাটফর্মের ভেতরে ঢুকে গেল। পাশাপাশি কতগুলো গাড়ি দাঁড়িয়ে কিন্তু সেগুলোয় বাদুড়-ঝোলা ভিড়।

    অনিমেষ বলল, ‘আরে ব্বাস, এগুলোয় উঠবেন কী করে?’

    মেয়েটি বলল, ‘আপনাদের কাছে যেটা অ্যাডভেঞ্চারের আনন্দ আমাদের সেটা প্রাণ বাঁচানোর দায়। নিজে সুখে থাকলে অবশ্য এরকম করা যায়।’

    ‘মানুষকে আঘাত দিয়ে আপনার এক ধরনের আনন্দ হয়, না?’

    মেয়েটি সে কথার উত্তর না-দিয়ে বলল, ‘আপনি আমার সঙ্গে হাঁটছেন এ দৃশ্য পরিচিত কেউ দেখলে কী কৈফিয়ত দেব?’

    ‘কৈফিয়ত কেন? আপনি আমার সঙ্গে হেঁটে অন্যায় করছেন নাকি?’

    ‘এই সন্ধেবেলায় একটা ছেলের সঙ্গে ঘুরঘুর করছি-সমাজটাকে তো আপনারাই নিয়ন্ত্রণ করেন।’

    ‘এখন সমাজ বলে কিছু নেই।’

    ‘তাই নাকি! তা হলে সুষ্ঠু সমাজব্যবস্থা চান কেন?’

    থতমত হয়ে গেল অনিমেষ। কী কথা থেকে কোন কথায় চলে এল এ মেয়ে। এতক্ষণে ওর মনে এক ধরনের হীনতাভাব ছড়াতে শুরু করল। মেয়েটির সঙ্গে কথায় সে প্রতি মুহূর্তে হেরে যাচ্ছে।

    ‘কী, মুখ শুকিয়ে গেল কেন? ভয় নেই, কেউ জিজ্ঞাসা করলে আলাপ করিয়ে দেব উনি একজন মহান কর্মী, আজ ইউনিভার্সিটিতে বিপ্লব করে এসেছেন। এ-কথা শুনলে কেউ আর অন্য কিছু ভাববে না।’

    মেয়েটি ওকে নিয়ে প্ল্যাটফর্মের শেষ প্রান্তে চলে এল। এদিকের লাইনে কোনও গাড়ি নেই। যাত্রী হকার কুলিতে স্টেশন গমগম করছে। সেই প্রথম রাতটার কথা মনে পড়ে যায় যেদিন সে একা জলপাইগুড়ি থেকে এসে শিয়ালদায় নেমেছিল। এখানে এসে প্রথমে বোঝা যায়নি কলকাতার অ্যালার্জি হয়েছে। এ-কথাটা ত্রিদিবের মুখে শোনা। এই যে মাঝে মাঝে বিক্ষোভ, ট্রাম-বাস পোড়ানো নাকি অ্যালার্জির মতো। চিংড়ি খেয়ে অনেকের শরীরে কয়েকদিনের জন্যে বেরিয়ে আবার যেমন মিলিয়ে যায় তেমনি।

    মেয়েটি জিজ্ঞাসা করল, ‘কোথাকার টিকিট কাটলেন?’

    ‘বেলঘরিয়া।’

    ‘আপনার মতলবটা কী বলুন তো?’

    ‘বুঝলাম না।’

    ‘ন্যাকামি করবেন না। আপনি আমার বাড়িতে যেতে চাইছেন নাকি?’

    ‘আপনার আপত্তি থাকলে যাব না,’ অনিমেষের মজা লাগছিল।

    ‘নিশ্চয়ই আপত্তি আছে। আমি একটা উটকো লোককে বাড়িতে নিয়ে যেতে পারি না। বাড়িতে যখন জিজ্ঞাসা করবে কেন এল তখন আমি কী বলব? অ্যাডভেঞ্চার করতে এসেছে?’

    ‘না। বলবেন বেড়াতে এসেছে।’

    ‘আপনি আমাকে কী ভাবেন?’

    ‘একজন শিক্ষিতা মহিলা।’

    ‘কোনও শিক্ষিতা একদিনের আলাপে কোনও ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে যায় আদর করে কোনও প্রয়োজন ছাড়া! আর আপনিই বা কেমন লোক অযাচিত হয়ে আমাদের বাড়িতে যেতে চাইছেন?’

    ‘বললাম তো আপত্তি থাকলে যাব না।’

    ‘শুনেছেন তো, আমার আপত্তি আছে।’

    ‘বেশ যাব না।’

    ‘তা হলে আমার কাছে দাঁড়িয়ে আছেন কেন?’

    ‘টিকিটটা যখন কেটে ফেলেছি তখন ট্রেনে উঠব। সেটায় নিশ্চয়ই আপনার আপত্তির অধিকার নেই।’

    ‘তা নেই কিন্তু অন্য কম্পার্টমেন্টে উঠবেন। আপনি আমাকে সাহায্য করেছেন আমি ধন্যবাদ দিয়েছি। এর বেশি কিছু চাইবেন না।’

    ‘আচ্ছা।’

    কিন্তু অনিমেষ সরে গেল না। মেয়েটির মতো উদ্বিগ্ন মুখ করে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে লাগল সে। এখন প্ল্যাটফর্মটা ভরে উঠেছে। হঠাৎ-খেয়ালে টিকিটটা কেটে একটু অস্বস্তি হচ্ছে এখন। মেয়েটি নিশ্চয়ই সহজ ব্যবহার করছে। যে-কোনও ভাল মেয়েই এরকম কথা বলবে। যদিও ওর বাড়িতে যাওয়ার বিন্দুমাত্র বাসনা ওর ছিল না কিন্তু খেপিয়ে দিতে ভাল লাগছে। মেয়েরা একবার রাগলে বোধহয় থামতে জানে না, এর মুখ দেখে তাই মনে হচ্ছে। অনিমেষ চটপট আশেপাশে তাকিয়ে দেখল কেউ ওদের কথা শুনছে কিনা। দু’-একজন দূর থেকে আচার খাওয়ার মতো মেয়েটিকে দেখছে বটে কিন্তু কথা শোনার মতো কাছাকাছি নেই। যদি ওর সঙ্গে বেলঘরিয়া স্টেশনে নেমে বাড়ি অবধি যায় তা হলে মেয়েটি কী করবে? ব্যাপারটা কল্পনা করতেই হাসি পাচ্ছিল ওর।

    ‘পাশে দাঁড়িয়ে অমন ক্যাবলার মতো হাসবেন না।’ ফোঁস করে উঠল মেয়েটি।

    অনিমেষ অবাক হওয়ার ভঙ্গি করল, ‘আরে, আমি হাসতেও পারব না?’

    ‘দূরে গিয়ে হাসুন।’

    ‘আপনি বড্ড রেগে গেছেন। এরকম যদি অভ্যেস হয় তা হলে অবিলম্বে ডাক্তার দেখানো উচিত। কারণ এটা একটা অসুখ।’

    এই সময় ট্রেনটা এসে গেল প্ল্যাটফর্মে। যাত্রীরা নামতে না-নামতে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে গেল সেটায় ওঠার। একটু দূরে দাঁড়িয়ে অনিমেষ দৃশ্যটা আতঙ্ক নিয়ে দেখছিল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ট্রেনটা ভরে গেল মানুষে। এখনও প্রচুর লোক ছুটোছুটি করছে প্ল্যাটফর্মে একটু জায়গা পাওয়ার আশায়। চিৎকার চেঁচামেচিতে কিছু শোনা যাচ্ছে না। এই মানুষগুলো প্রতিদিন এভাবে গাদাগাদি করে যায়। মুখ দেখে বোঝা যায় না ওরা এতে অসন্তুষ্ট কি না। অভ্যেস বোধহয় সবকিছু সহজ করে দেয়। এ নিয়ে বিক্ষোভ নেই, তবে এটুকুও না-পেলে মাঝে মাঝে অগ্নিকাণ্ড হয়। কতটুকু ন্যূনতম চাহিদা মানুষের তবু তাই মেটাতে সরকার অক্ষম। আচ্ছা কমিউনিস্ট পার্টি তো এসব নিয়ে আলোচনা শুরু করতে পারে।

    সঙ্গে সঙ্গে মেয়েটার কথা মনে হতেই সে মুখ ফিরিয়ে দেখল সেখানে কেউ নেই। হঠাৎ কী করে যে ও উধাও হয়ে গেল বুঝতে না-পেরে অনিমেষ চারপাশে তাকাতে লাগল। তবে কি ওই ভিড় ঠেলে মেয়েটি উঠে পড়েছে ট্রেনে? এরকম একটা অসম্ভব কাজ একটা মেয়ের পক্ষে এখন আর অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে না অনিমেষের। চোখের সামনে ও মেয়েদের ঠেলাঠেলি করতে দেখেছে।

    হঠাৎ কেমন নিঃসঙ্গ মনে হল ওর। এতক্ষণ কথা কাটাকাটি করেও যা মনে হয়নি হঠাৎ ওকে না-দেখে তাই হল। অনিমেষ ট্রেনের কামরাগুলোয় সাগ্রহে চোখ বোলানো শুরু করল। ভেতরে কেউ থাকলে এই ভিড়ে বাইরে থেকে কিছুতেই বোঝা যাবে না। এইভাবে কাউকে খুঁজে বের করা অসম্ভব। কিন্তু অনিমেষের মনে হল এ অবস্থাতেই যদি ওকে দেখতে পেয়ে যায় সে তা হলে অনেক কিছু ব্যাপার সত্যি হতে পারে। যেন নিজের ভাগ্য যাচাই করার জন্যে ও কামরাগুলো দেখা শুরু করল।

    এবং ভাগ্য এত কাছে অপেক্ষা করছে তা দেখে অনিমেষ অবাক হয়ে গেল। এই কম্পার্টমেন্টে লোক আছে কিন্তু অন্যগুলোর চেয়ে কম, কারণ সামনে বড় বড় করে মহিলা এবং ফার্স্ট ক্লাসের চিহ্ন লেখা আছে। আর তারই জানলায় বসে মেয়েটি যে অনেকক্ষণ তাকে লক্ষ করছে এটা বলে দিতে হবে না। কিছুই হয়নি এমন ভাব করে অনিমেষ জানলার পাশে দাঁড়িয়ে বলল, ‘আপনি ফার্স্ট ক্লাসের প্যাসেঞ্জার?’

    ‘বাধ্য হয়ে। আপনিও উঠতে পারেন কারণ এখানে অন্য শ্রেণির লোকও উঠে থাকেন। আপনার অ্যাডভেঞ্চার হয়ে গেল?’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘সে কী, যাবেন না?’

    ‘আর ইচ্ছে নেই।’

    ‘এত তাড়াতাড়ি ইচ্ছে চলে গেল?’

    ‘যার সঙ্গে যাব সেই যখন এরকম ভদ্রতা করতে পারল-’

    ‘ও-কথা আপনার মুখে মানায় না।’

    ‘কী কথা?’

    ‘ভদ্রতা।’

    ‘কেন? আমি কি কিছু অভদ্রতা করেছি?’

    ‘এতক্ষণ যার সঙ্গে এলেন, কথা বললেন, বাড়ি যেতে চাইলেন, একবারও তার নাম জানতে ইচ্ছে করল না? আমি মেয়ে এটাই কি আপনার কাছে সব?’

    অনিমেষ সোজা মুখের দিকে তাকাল। ট্রেনটা এবার ছাড়ছিল। মেয়েটি হাসল, ‘নিজে কখনও ছোট হইনি, আজ হচ্ছি। আমার নাম মাধবীলতা মুখার্জি।’

    ‘মাধবী?’

    ‘উঁহু, ফুল নয়, আমি শুধুই লতা, মাধবীলতা।’

    অনিমেষ ট্রেনটার চলে যাওয়া যেন দেখতে পেল না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleগীতবিতান ছুঁয়ে বলছি ১ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article কালপুরুষ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }