Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    হাউ টু টক টু এ্যানিওয়ান – লেইল লোনডেস

    April 23, 2026

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কালবেলা – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প836 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২১. সরিৎশেখরের চিঠি এল

    একুশ

    সরিৎশেখরের চিঠি এল। ট্রেনে কোনও অসুবিধে হয়েছিল কিনা সে বিষয়ে কিছু লেখেননি। তবে এখনও শরীর সুস্থ হয়নি। বাড়িতে তিনি এবং হেমলতা ছাড়া তৃতীয় কোনও প্রাণী না-থাকায় সাংসারিক কাজকর্ম তাঁকেই ওই শরীর নিয়ে করতে হচ্ছে। এখন যাওয়ার জন্য তিনি তৈরি, নিজের শ্রাদ্ধ করে এসে এক অদ্ভুত আনন্দের মধ্যে ডুবে আছেন। তবে তাঁর একটাই আশঙ্কা এবং সেটা হেমলতাকে নিয়ে। তাঁর যাওয়ার আগে যদি হেমলতা যেতেন তা হলে নিশ্চিন্ত হতে পারতেন সরিৎশেখর।

    এসব লেখার পর তিনি জানতে চেয়েছেন অনিমেষ পুজোর ছুটিতে জলপাইগুড়িতে আসছে কি না! এবং সরিৎশেখর কলকাতায় তার কাছে থাকার দরুন যে টাকা খরচ হয়েছে তার অঙ্কটা জানালে তিনি সেটা ফেরত পাঠাবার ব্যবস্থা করবেন।

    চিঠিটা পড়ে অনিমেষ কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকল। হাতের লেখা এক না-হলে এটাকে দাদুর চিঠি হিসেবে মেনে নেওয়া শক্ত হত। দাদুর চিঠি মানেই কিছুটা উপদেশ এবং সেই সঙ্গে কড়া সমালোচনা। অথচ এই চিঠির ভাষার মধ্যে কেমন যেন শীতলতা ছড়ানো। স্বর্গছেঁড়া থেকে বাবার চিঠি আজকাল নিয়মিত আসে না। মাসের প্রথমে যে মানিঅর্ডার পাঠান তার তলায় যেটুকু জায়গা তাই এখন বরাদ্দ। সরিৎশেখর চলে যাওয়ার পর তমালের মুখে জানতে পেরেছিল অনিমেষ, তিনি অনেক কিছু জেনে গেছেন। সেদিন সে যখন সন্ধেবেলায় ডাক্তারের চেম্বারে গিয়েছিল তখনই তিনি তমালদের খুঁটিয়ে প্রশ্ন করে অনিমেষের রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপ সম্পর্কে অবহিত হয়েছিলেন কিন্তু চিঠিতে সে সবের কোনও উল্লেখ নেই। শুধু এই প্রথমবার তিনি জানতে চেয়েছেন অনিমেষ ছুটিতে জলপাইগুড়িতে যাবে কি না?

    অনিমেষ অনুভব করছিল বাড়ির সঙ্গে একটা দূরত্ব তৈরি হয়ে সেটা ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে। না, এই ছুটিতে সে বাড়িতে গিয়ে বসে থাকতে পারবে না। বিমানের সঙ্গে কথা হয়ে গেছে। পার্টি অফিসে গিয়ে দিন টিন ফাইনাল করে এসেছে। আগামী উপনির্বাচনে দলের প্রার্থীর হয়ে প্রচারের জন্য যে দল কলকাতা থেকে যাচ্ছে তাকেও সেই সঙ্গে যেতে হবে। ছুটিটা পড়ছে বলে তার ক্লাস কামাই হবে না। অনিমেষ ঠিক করল, এসব কথা সরিৎশেখরকে খোলাখুলিই লিখে দেবে। ওদের উপনির্বাচনের জায়গাটা জলপাইগুড়ি থেকে খুব দূরে যদিও নয় তবু সে সময় পাবে কিনা আগে থেকে বলা যাচ্ছে না। কথাগুলো মাধবীলতাকে জানাল অনিমেষ। আজকাল কোনও কিছু ওকে না-বললে স্বস্তি পায় না সে। এখন প্রতিটি দিন শুরু হয় বুকজোড়া এক ধরনের চাপ নিয়ে। সে চাপ বুক থেকে সরে না যতক্ষণ মাধবীলতাকে সে না-দেখছে। একটু একটু করে মাধবীলতা তার রক্তে মিশে যাচ্ছে। এখন ওদের দেখা কিংবা কথা হয় লাইব্রেরি, বসন্ত কেবিন, কিংবা কফি হাউসের তেতলায়। শেষের জায়গাটাই ওদের প্রিয়, কারণ দীর্ঘসময় এককাপ কফি নিয়ে বসে থাকা যায় এবং চারপাশে এত কথার ভিড় যে স্বচ্ছন্দে নিজেদের কথা বলা যায়।

    মাধবীলতাকে সে তার সব কথা বলেছে। মা যে রাতে মারা গেলেন সেই বর্ণনা শোনার সময় মাধবীলতা ঝরঝর করে কেঁদে ফেলেছিল। ছোটমার কথা শুনে অবাক হয়েছিল খুব। অনিমেষ তাঁর সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখে না জেনে অনুযোগ করেছিল। বলেছিল, ‘তোমার ছোটমাকে আমার খুব দেখতে ইচ্ছে করছে।’

    ‘কেন?’ অনিমেষের আজকাল একটা ব্যাপার খুব মজা লাগে। মাধবীলতা যখন তার পরিবারের কারও সম্বন্ধে কথা বলে তখন মনে হয় ও তাকে ভীষণ চেনে। আসলে অনিমেষের মুখে শুনে শুনে দাদু পিসিমাদের ছবিটা ওর মনে স্পষ্ট আঁকা হয়ে গেছে। এক এক সময় ও এমন কথা বলে যে অনিমেষের নিজেরই ধন্দ লাগে, ওদের কে বেশি চেনে, সে না মাধবীলতা!

    মাধবীলতা বলল, ‘কত বড় হৃদয় থাকলে তবেই এভাবে তোমাকে আপন করে নেওয়া যায় সেটা তুমি বুঝবে না। তোমার ছোটমার নিজস্ব দুঃখ কিংবা কষ্টের কথা তোমরা কোনওদিন জানতে পারোনি, পেরেছ?’

    ‘কী দুঃখ, নিজের সন্তান নেই বলে বলছ?’

    ‘সে তো আছেই। কিন্তু সে কষ্ট ভুলে থাকা যায় যদি স্বামীর ভালবাসা কেউ বুক ভরে পায়। তোমার ছোটমা সেটা পাননি। তোমার বাবা কখনওই তাঁকে ভালবাসেননি।’ মাধবীলতার গলায় আত্মপ্রত্যয়।

    ‘কী বলছ! ওঁরা এতদিন একসঙ্গে আছেন।’

    অনিমেষকে থামিয়ে দিল মাধবীলতা, ‘একসঙ্গে অনেকদিন থাকলেই বুঝি ভালবাসা যায়! এই শহরে তো একসঙ্গে এতগুলো মানুষ চিরকাল আছে তবু মানুষে মানুষে ভালবাসাবাসি হল না কেন?’

    ‘কী আশ্চর্য, এ দুটো ব্যাপার এক হল? দু’জন মানুষ একসঙ্গে থাকলে পরস্পরকে গভীরভাবে জানতে পারে, নিজেদের ত্রুটিগুলো সংশোধন করে নিতে পারে, পরস্পরের জন্যে তখন টান জন্মায় আর হাজার হাজার মানুষ যতই একসঙ্গে থাকুক এই নৈকট্য কখনই গড়ে ওঠে না, দুটোকে এক করছ কেন?’

    ‘বেশ, ওইভাবে থাকতে থাকতে তুমি যেটাকে টান বললে সেটা এলেই তা হলে ভালবাসা পাওয়া গেল, কী বলো?’ মাধবীলতার মুখে দুষ্টুমি।

    ‘আমি কি ভুল বলছি?’ অনিমেষ একটু বিব্রত হল।

    ‘নিশ্চয়ই। দুটো মানুষ সারাজীবন শুধু প্রয়োজনের জন্যে পরস্পরের ওপর নির্ভর করে কাটিয়ে দিতে পারে। দু’জনে কেউ কাউকে একটুও ভালবাসল না হয়তো। শুধু প্রয়োজনই কাছাকাছি ওদের ধরে রাখল। আবার দু’জন দুই বিপরীত মেরুতে বাস করেও পরস্পরকে ভালবাসতে পারে সারাজীবন। বুঝলে মশাই।’ কথাটা শেষ করে টেবিলে রাখা অনিমেষের হাতে আলতো করে চিমটি কাটল মাধবীলতা।

    ‘বুঝলাম।’ অনিমেষ গম্ভীর হবার চেষ্টা করল, ‘এবার বলো ভালবাসাটা কী জিনিস? মানুষ মানুষকে কেন ভালবাসে?’

    কথাটা শোনামাত্র চোখ বড় হয়ে গেল মাধবীলতার। তারপরেই প্রচণ্ড শব্দে সে হেসে উঠল। সমস্ত শরীর কাঁপছে তার হাসির দমকে, দু’হাতের চেটোয় নিজের মুখ ঢেকেও সামলাতে পারছে না। এরকম দৃশ্য এবং শব্দ আশেপাশের অনেক টেবিলকে সচকিত করেছিল, তারা বেশ মজা দেখার মুখ করে এদিকে তাকিয়ে আছে এখন। অনিমেষ চাপা গলায় বলল, ‘এই, কী হচ্ছে!’ এভাবে হাসিতে ফেটে পড়ার কী কারণ সে বুঝতে পারছিল না।

    কোনওরকমে নিজেকে সামলে মাধবীলতা বলল, ‘অনেকদিন এত প্রাণ খুলে হাসিনি, তোমার জন্যে সেটা পারলাম।’ বলেই আবার হাসতে লাগল, অবশ্য নিঃশব্দে।

    ‘তোমাকে কোনও কথা সরল মনে জিজ্ঞাসা করা যায় না—!’ অনিমেষ গম্ভীর হল।

    ‘আমি তোমাকে এখন ভালবাসা শেখাব?’

    ‘শেখাতে কে বলেছে, আমি জাস্ট আলোচনা করছিলাম—।’

    ‘বেশ, তা হলে সরাসরি কথা হোক। তুমি রোজ আমার সঙ্গে দেখা করার জন্যে এত ব্যস্ত হও কেন?’ দুটো বড় চোখ অনিমেষের মুখের ওপর স্থির দৃষ্টি ফেলল। সেই চাহনির দিকে তাকিয়ে অনিমেষ ভেতরে ভেতরে একটা কাঁপন অনুভব করল। সে কোনওরকমে বলল, ‘তুমি জানো!’

    ‘কথা এড়িয়ে যাচ্ছ।’

    ‘বেশ, তোমাকে না-দেখতে পেলে আমার ভাল লাগে না, খুব কষ্ট হয়। ঘুম ভাঙার পরই তোমার মুখটাকে দেখতে পাই আর ঘুমিয়ে না-পড়া পর্যন্ত ও মুখ চোখের সামনে থেকে সরে না।’

    ‘মারাত্মক ব্যাপার।’

    ‘কেন?’

    ‘যে-কোনও মুহূর্তে অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে যেতে পারে কিন্তু হচ্ছে না।’

    ‘মানে?’

    ‘চোখের সামনে যদি আমি ছাড়া কিছু না-থাকে তা হলে তুমি হাঁটাচলা পড়াশুনা করছ কী করে? সে সবই করছ অথচ—।’

    ‘কী আশ্চর্য। এত মোটা কথা বলছ কেন? চোখ কি শুধু রক্ত-মাংসেরই? মনের যে চোখ আছে কান আছে সেটা অস্বীকার করতে পারো?’

    ‘এবার পথে এসো। প্রত্যেক মানুষের এরকম দ্বৈত সত্তা আছে। মুশকিল হল অনেকেই ওই দ্বিতীয়টির ব্যবহার জানে না। তারা প্রথমটি নিয়েই সারাজীবন কাটিয়ে দেয়। কিন্তু এবার আমার ভয় হচ্ছে তোমার এই মন কদ্দিন থাকবে!’

    ‘আমরণ!’

    ‘মরণ কি শুধু শরীরের? মনেরও নয় কি?’

    ‘আমি অত বুঝি না। আমি জেনেছি তোমাকে ছাড়া আমি সম্পূর্ণ নই।’

    ‘কিন্তু এ জানায় যদি ভুল হয়—।’

    ‘না। এটা আমি আমার সমস্ত রক্ত দিয়ে অনুভব করি।’

    ‘কিন্তু আমি তো একজন সাধারণ বাঙালি মেয়ে। তোমার সামনে বিরাট জগৎ। রাজনীতিতে তুমি গা ভাসাচ্ছ, নতুন সমাজ ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখো তুমি, একবার যদি ঝড় ওঠে তুমি উত্তাল হবে। তখন আমি কী করব?’

    ‘তুমি আমার সঙ্গে থাকবে।’

    ‘আমার যদি সে ক্ষমতা না-থাকে!’

    অনিমেষ মাধবীলতাকে খুঁটিয়ে দেখল। তারপর গলার স্বর নামিয়ে জিজ্ঞাসা করল, ‘লতা, তুমি কি আমার রাজনীতিতে জড়ানো পছন্দ করো না?’

    মাধবীলতা হাসল ‘পাগল!’

    ‘তবে?’

    ‘আমার ভয় করে, খুব ভয় হয়।’

    এই হল মাধবীলতা। অনিমেষ যখন ছায়া চায় তখন ছায়া দেয় : কিন্তু যেই কুঁড়েমি করে তখনই রোদে পুড়িয়ে মারে। শুধু এই জন্যে অনিমেষ মাঝে মাঝে ওকে বুঝতে পারে না। ইউনিয়নের কাজে অনেক সময় ক্লাস করা হয় না। মাঝে মাঝে মনে হত এম এ ক্লাসের বিপুল কোর্স সবই না-জানা থেকে যাচ্ছে, কীভাবে পরীক্ষা দেবে— হিম হয়ে যেত শরীর। এম এ পাশ না-করতে পারলে চিরকাল বাবার কাছে চোরের মতো থাকতে হবে। মাধবীলতা তাকে প্রতিদিনের ক্লাসনোটস দিয়ে যেতে লাগল। অধ্যাপক যখন নোটস দিতেন তখন সে কার্বন ব্যবহার করে টুকে রাখত। কোনও কোনও রাতে হস্টেলে শুয়ে সেই নোটসে চোখ রেখে অনিমেষ যেন মাধবীলতাকে দেখতে পেত, কল্পনায় মাধবীলতার হাতের গন্ধ নাকে আসত। কিন্তু নিজের বুকের এই ছটফটানি সে কখনও মাধবীলতার মধ্যে দেখেনি। আর এই না-দেখতে পাওয়ার জন্যে কষ্ট হয়। কেন মাধবীলতা তাকে তার মতো আঁকড়ে ধরে না, কেন পরের দিন কখন দেখা হবে এই প্রশ্ন কখনও করে না, তা বুঝতে পারে না অনিমেষ। মাধবীলতার এই নির্লিপ্ত আচরণে মাঝে মাঝে তার সন্দেহ হত সে সত্যি তাকে ভালবাসে কিনা কিন্তু পরক্ষণেই এমন এক একটা কাণ্ড করত মাধবীলতা যে অনিমেষ এসব চিন্তার জন্যে নিজেকে অপরাধী ঠাওরাত।

    হ্যাঁ, সে মাধবীলতাকে সব বলেছে। এমনকী উর্বশী যে জ্বরো-মুখে সেই জলপাইগুড়ির কৈশোরে তাকে চুমু খেয়েছিল তাও। কিন্তু অনিমেষ মাধবীলতার কিছু জানে না। কোনও উগ্রতা না-থাকলেও অনিমেষের বুঝতে অসুবিধে হয় না মাধবীলতারা অত্যন্ত সচ্ছল। কিন্তু কোনওদিন তাকে নিজের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানায়নি। এই ব্যাপারটায় খুব অস্বস্তি আছে অনিমেষের। অনেকদিন ভেবেছে মুখ ফুটে বলেই ফেলবে কিন্তু সংকোচে সেটা সম্ভব হয়নি।

    এর মধ্যে দু’-এক রবিবার সে চুপচাপ বেলঘরিয়ায় গিয়েছিল। স্টেশন ছাড়িয়ে যে রাস্তাটা নিমতার দিকে গিয়েছে সেদিকেই মাধবীলতার বাড়ি। এলোমেলো ঘুরে এসেছে সে, কোনওদিন দেখা পায়নি।

    কথাটা ওকে জানাতে খুব গম্ভীর হয়ে গিয়েছিল। বলেছিল, ‘একটা দিন দেখা না-করে থাকতে পারো না কেন? এর পরে হয়তো মাসের পর মাস না-দেখা করে থাকতে হবে। অনি, আমার জন্যে তোমার সব কাজকর্ম নষ্ট হোক এটা আমি চাই না। নিজেকে সংযত করো, এরকম তরল হওয়া তোমাকে মানায় না।’

    অনিমেষ বুঝতে পারে না তার এমন কেন হল! চিরকাল সে যেভাবে কাটিয়ে এল এখন সেরকম থাকতে পারছে না কেন? সেই ছোট্টবেলায় জলপাইগুড়িতে মা-বাবাকে ছেড়ে আসবার পর সে একরকম একাই। নিজের ভাল লাগা মন্দ লাগার কথা বলার মতো কেউ ছিল না কাছাকাছি। দাদু কিংবা পিসিমার সঙ্গে বয়সের ব্যবধান তাকে ওঁদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করেছিল। আত্মকেন্দ্রিকতা মানুষকে অনেক কিছু থেকেই নিবৃত্ত করে। আনন্দ কিংবা দুঃখের উচ্ছ্বাস তার নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, অন্যে তা জানতেও পারত না। বোধহয় এইভাবেই সংযম জন্ম নেয় এবং নিয়েছিলও। অথচ মাধবীলতাকে দেখার পর সেই দীর্ঘ সময়ে গড়া দুর্গ এক মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হল, অনিমেষ নিজেকে ধরে রাখতে পারে না এবং মাধবীলতার এইরকম সতর্কীকরণ কানে বড় খারাপ শোনায়।

    কিন্তু সংযম অবশ্যই প্রয়োজন। ওকে না-দেখতে পেলেই এই যে শূন্যবোধ এটাকে চাপা দেওয়া দরকার। আর ক’দিন বাদেই পুজোর ছুটি। তখন মাসখানেকের জন্য কলকাতা ছেড়ে যেতে হবে। কথাটা মাধবীলতাও জানে। মাধবীলতার কি তাকে এক মাস না-দেখতে পেলে কোনও কষ্ট হবে না! না, অনিমেষ ঠিক করল নিজেকে পরিবর্তিত করবে, এইভাবে সহজে ধরা দিয়ে বসবে না।

    আজ বিকেলে মাধবীলতা বলল, ‘রোজ রোজ ট্রেনে যাই, আজ বাসে যাব।’ এখন ছুটির সময়। ট্রাম-বাসগুলো বাদুড়ঝোলা হয়ে যাচ্ছে। ওদিকে তাকিয়ে অনিমেষ বলল, ‘তোমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে।’

    মাধবীলতা রাস্তা পার না-হয়ে ধর্মতলাগামী একটা প্রাইভেট বাসে উঠে পড়ল। উলটোমুখ বলে বাসটা খালি। ধর্মতলায় বোঝাই হয়ে বেলঘরিয়ায় ফিরবে। জানলার পাশে একটা জায়গায় বসে মাধবীলতা বলল, ‘সব সমস্যার সমাধান আছে, শুধু রাস্তাটা খুঁজে নিতে হয়।’

    অনিমেষ বলল, ‘ডবল ভাড়া দিতে হবে।’

    মাধবীলতা বলল, ‘প্রয়োজনে তাই দিতে হয় বই কী।’

    অনিমেষ একটু উষ্ণ গলায় বলল, ‘তুমি সব কথাই দু’রকম মানে সাজিয়ে বলো। কেন, সহজ কথাটা সহজ গলায় বললে মান যায় নাকি!’

    মাধবীলতা আস্তে আস্তে জানলার দিকে মুখ ঘুরিয়ে নিল।

    অনিমেষ খেয়াল করেনি, অন্যমনস্ক হয়ে রাস্তা দেখছিল। ওয়েলিংটনের মোড় পার হতেই বাসটা দ্রুত ভরে গেল। লেডিস সিট উপচে মেয়েরা দাঁড়িয়ে রয়েছে। ছেলেরা যারা রড ধরে রয়েছে তারা মাধবীলতার দিকে বিরক্ত হয়ে তাকিয়েছে। কোনও মেয়ে সাধারণ সিটে বসলেই পুরুষরা সেটাকে মানতে পারে না। অথচ সেগুলো তো শুধু পুরুষদের জন্যেই নির্দিষ্ট নয়, তবু।

    অনিমেষ কিছু বলার জন্য ডাকল, ‘এই’! ডাকটা না-শোনার মতো নয়, মাধবীলতা মুখ ফেরাল না। অনিমেষ অবাক হয়ে আবার ডাকতেই সামনে দাঁড়ানো লোকগুলো ওদের দিকে তাকাল। এবারও মাধবীলতার কোনও পরিবর্তন দেখা গেল না। অনিমেষের খুব অস্বস্তি এবং এক ধরনের ভয় হল। পাশ থেকে সে যেটুকু দেখছে তাতে বুঝতে পারছে মাধবীলতার মুখের প্রতিটি ভাঁজ এখন টানটান। দাঁত দিয়ে হয়তো নীচের ঠোঁট চেপে রেখেছে। সে ডাকছে অথচ মেয়েটা সাড়া দিচ্ছে না, এই তথ্যটা যদি আশেপাশের লোকজন টের পেয়ে যায় তা হলে ওদের ঔৎসুক্য আরও বেড়ে যাবে। এই মুখ অনিমেষের অচেনা। যদি হঠাৎ কোনও রূঢ় কথা বলে বসে তা হলে এদের কাছে নির্ঘাত অপমানিত হবে বলে আবার ডাকতে তার ভয় করছিল। সে চেষ্টা করল নির্লিপ্ত হয়ে বসে থাকতে। কিন্তু কিছুতেই তার বোধগম্য হচ্ছিল না মাধবীলতা কেন এরকম আচরণ করছে। তাদের মধ্যে কোনও ঝগড়াঝাটি হয়নি, আঘাত লাগতে পারে এমন কিছু সে করেনি, তবে? ওই মুখ দেখতে অনিমেষের খুব কষ্ট হচ্ছিল কিন্তু আর কথা বলার মতো সাহস সে পাচ্ছিল না।

    বাসটা এখন স্ট্যান্ডে চুপচাপ দাঁড়িয়ে। ইডেন গার্ডেনের পাশে বাবুঘাটে স্টিমারের ডাক শোনা যাচ্ছে। চার পাশে নানান রকম হকার আর বেড়াতে আসা মানুষের ভিড় জায়গাটাকে মেলার চেহারা দিচ্ছিল। অনিমেষ দেখল জোড়ায় জোড়ায় ছেলেমেয়ে ইডেন থেকে ঢুকছে আর বের হচ্ছে। অনেকের ভঙ্গিতে একটা চোর চোর ভাব আছে। ইডেন কিংবা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, যেসব জায়গায় সবাই প্রেম করতে যায়, সেখানে মাধবীলতাকে নিয়ে সে কখনও যায়নি। ইউনিভার্সিটির চার পাশে যেসব খোলামেলা রেস্টুরেন্ট আছে সেখানেই কথা বলেছে ওরা। প্রেম করলেই সকলে বোধহয় নির্জনতা খোঁজে, চায়ের দোকানের কেবিনে গিয়ে ঢোকে। আশ্চর্য, ওদের মাথায় সেরকম চিন্তা আসেনি কেন? অনিমেষের খেয়াল হল সে এখনও মাধবীলতার হাত পর্যন্ত ধরেনি। এই যে এখন সে পাশে বসে আছে, স্বাভাবিকভাবেই ওর শরীরের স্পর্শ লাগছে কিন্তু এই মুহূর্তেই সে সম্পর্কে সচেতন হল অনিমেষ। এবং হওয়ার পর আরও সংকুচিত হয়ে পড়ল।

    মাধবীলতা হঠাৎ কথা বলল। বাইরে থেকে মুখ সম্পূর্ণ না-ফিরিয়ে চাপা গলায় উচ্চারণ করল, ‘ওইরকম হলে খুশি হন জানি, তা আমার কাছে কেন, ওই একটা জুটিয়ে নিলেই পারেন।’

    কথাটা বুঝতে কয়েক পলক গেল, অনিমেষ চকিতে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল একটি জোড়া ইডেনের দিকে ঢুকছে। মেয়েটি খিলখিল করে হাসছে। তার একটা হাত ছেলেটির কোমরে আর ছেলেটির হাত মেয়েটির কাঁধে। কী কারণে ওরা অমন হাসছে বোঝা যাচ্ছে না, কিন্তু আশেপাশের লোকজনের কৌতুকের চোখ ওদের গ্রাহ্যবস্তু নয় এটা বোঝা যাচ্ছিল। যে-কোনও মানুষের চোখে ওদের ভঙ্গিতে একটা বেলেল্লাপনা ধরা পড়বে, অনিমেষের খারাপ লাগল। কিন্তু মাধবীলতার ইঙ্গিত বোঝামাত্রই তার মুখে রক্ত জমে গেল। তার সম্পর্কে এতটা নীচ ইঙ্গিত করতে পারল ও? শুধু শারীরিক প্রয়োজনেই সে মাধবীলতাকে কামনা করে? এই তা হলে তার সম্পর্কে ধারণা? অনিমেষের মনে হল এখনই এই সিট থেকে উঠে যায়। এই অপমানের পর আর পাশাপাশি বসে থাকা যায় না। কিন্তু সেই মুহূর্তেই আর-একটা অনুভূতি তাকে আচ্ছন্ন করল। মাধবীলতাকে হারিয়ে সে থাকবে কী করে। ক্রোধ মানুষকে অন্ধ করে। হয়তো কোনও কারণে মাধবীলতা নিজেকে বেসামাল করে ফেলায় এইরকম দায়িত্বজ্ঞানহীন কথা বলছে। কিন্তু মন যখন শান্ত হবে তখন নিশ্চয়ই এই কথাটার জন্যে সে লজ্জা পাবে।

    পালটা যুক্তি খুঁজে পেতে অনিমেষ সিট ছেড়ে উঠল না। কিন্তু তা সত্ত্বেও একটা হীনন্মন্যতাবোধ তাকে আচ্ছন্ন করে রাখল। বুকের ভেতর একটা ভারী কিছু অনড় হয়ে আছে। বাসটা চলতে শুরু করলেও অবস্থার কোনও পরিবর্তন হল না। ভিড়ের চাপাচাপিতে আশেপাশের মানুষরা আর তাদের ভাল করে নজর করছে না দেখে অনিমেষ চাপা গলায় বলল, ‘তুমি এরকম করে বলতে পারলে?’

    মাধবীলতা উত্তর দিল না। যেন অপরিচিত সহযাত্রিনীর মতো চুপ করে বসে থাকল।

    অনিমেষ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে বলল, ‘শুনছ’!

    মাধবীলতা নির্বিকার কিন্তু ওপরের একটা মুখ বলে উঠল, ‘কিছু বলছেন?’

    অনিমেষ হতভম্ব হয়ে মুখ তুলে দেখল একটি টিয়াপাখির নাক বসানো মুখ ওর দিকে ঝুঁকে পড়েছে। সে চটপট বলে উঠল, ‘না, না, কিছু বলিনি।’

    ‘কিছু বলছেন না তো তখন থেকে বিড়বিড় করছেন কেন?’

    রাগ হয়ে গেল এই গায়ে পড়া ভাব দেখে। অনিমেষ বলল, ‘কী যা-তা বলছেন!’

    ‘যা-তা বলছি! আই বাপ!’ লোকটা মুখ ঘুরিয়ে আশেপাশের ঝুলে থাকা মুখগুলোকে বলল, ‘তখন থেকে দেখছি মেয়েটিকে জ্বালাতন করছে, বিড়বিড় করে কথা বলে যাচ্ছে, আবার চোখ রাঙানো দেখেছেন।’

    ‘বাসে ট্রামে এই হয়েছে আজকাল। মেয়েরা যে নিশ্চিন্তে একা একা যাবে তার উপায় নেই। কান ধরে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া উচিত।’ আর-একটি কিলবিলিয়ে উঠল। অনিমেষ মহা ফাঁপরে পড়ল। আশেপাশের সবাই তো বটেই, ও পাশের মহিলারা পর্যন্ত ঝুঁকে তাকে লক্ষ করছে। সে দ্রুত মাধবীলতাকে দেখল। তেমনি নিস্পৃহ ভঙ্গিতে বাইরের দিকে তাকানো। যেন ছুটন্ত ফুটপাতগুলোয় পৃথিবীর যাবতীয় দেখার জিনিস ছড়িয়ে আছে। বাসের ভেতর এখন যে কথাবার্তা চলছে তা ওর কানে মোটেই যায়নি। উঠে দাঁড়াতে গিয়ে চট করে সামলে নিল অনিমেষ। এখন চলে যাওয়া মানে এই লোকগুলোর ইঙ্গিতকে সত্যি প্রমাণিত করা।

    একটি হেঁড়ে গলা বলে উঠল, ‘ভদ্রভাবে যদি বসে থাকতে না-পারেন তা হলে ঘাড় ধরে বের করে দেব বাস থেকে।’

    মাথায় আগুন জ্বলে গেল অনিমেষের, চিৎকার করে বলল, ‘মুখ সামলে কথা বলুন!’

    একটা হুড়োহুড়ি শুরু হওয়ামাত্র কনডাক্টরের গলা শোনা গেল, ‘বাসের ভেতরে নয়, বাইরে গিয়ে করুন। ও দাদারা—।’

    কলকাতার মানুষ নিজে দর্শক হয়ে দূরত্বে থাকতে ভালবাসে। অন্য কেউ শুরু করে দিলে ছুঁক ছুঁক করতে পারে এইমাত্র। সমস্বরে গলাগুলো কনডাক্টরের উদ্দেশে ব্যস্ত হয়ে পড়ল, ‘নামিয়ে দিন তো মশাই, মেয়েদের বিরক্ত করবে আর বললে চোখ রাঙাবে। এদের জন্যেই ছেলেদের বদনাম হয়।’

    ভিড় ঠেলে কনডাক্টর অনিমেষের সামনে এসে দাঁড়াতেই অনিমেষ বসে পড়ল। উত্তেজনায় ওর শরীর এখন থরথর করে কাঁপছে। এবং উত্তেজিত হলেই পেটে যে চিনচিনে ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে সেটাও বাদ গেল না। কনডাক্টর কড়া গলায় জিজ্ঞাসা করল, ‘ও মোশাই, কোথায় যাবেন আপনি?’

    হাতিবাগান বলতে যাচ্ছিল অনিমেষ কিন্তু তার আগেই একটা হাত কনডাক্টরের উদ্দেশে এগিয়ে গেল। গম-রঙা সেই হাতের কবজিতে একটা মকরমুখী বালা। হাতের শেষে আঙুলের চাপে একটা এক টাকার নোট ধরা। মাধবীলতার গলা শুনল অনিমেষ, ‘দুটো বেলঘরিয়া দিন।’

    ‘দু’জন কে?’ কনডাক্টর টাকা ভাঁজ করে আঙুলের ফাঁকে গুঁজে পয়সা বের করছিল। হাত দিয়ে অনিমেষকে দেখাল মাধবীলতা।

    কনডাক্টর এক গাল হেসে বলল, ‘আপনারা একসঙ্গে, ও হ্যাঁ, কলেজ স্ট্রিট থেকেই তো উঠেছিলেন।’ কথাটা শেষ করে আশেপাশের জনতার দিকে বাঁকা গলায় জানাল, ‘আপনারা মাইরি সব জায়গায় সিনেমা করেন।’

    এক পলকেই অনিমেষ দেখল আশেপাশের মুখগুলো হাওয়া বেরুনো মুখের মতো ঝুলছে। কিন্তু কারও দিকে তাকাতে ওর ইচ্ছে করছিল না। এই সময় লোকগুলোকে একহাত নেওয়া যেতে পারত কিন্তু তার প্রবৃত্তি হল না। হীনন্মন্যতা কাটিয়ে উঠতে পারছিল না অনিমেষ। কারণ মাধবীলতা টিকিট কাটার পর আবার একই ভঙ্গিতে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে। বাসের ভেতর যে নাটকটা হয়ে গেল সে সম্পর্কে যেন মোটেই ওয়াকিবহাল নয়।

    অনিমেষের খেয়াল হল দুটো বেলঘরিয়ার টিকিট কাটা হয়েছে। কেন? ও রহস্যটা বুঝতে না-পেরে জিজ্ঞাসা করল। এবার স্বাভাবিক গলায় কিন্তু অন্য কেউ স্পষ্ট শুনতে পেল না। মাধবীলতা ঘাড় না-ঘুরিয়েই জবাব দিল, ‘ইচ্ছে করলে হাতিবাগানে নেমে যেতে পারেন।’

    এবার জেদ চেপে গেল অনিমেষের। হাতিবাগান শ্যামবাজার পেরিয়ে বাসটা যখন বি টি রোড ধরল তখনও ওরা তেমনি চুপচাপ বসে। লাস্ট স্টপে নামার পর মাধবীলতার সঙ্গে একটা বোঝাপড়া করবে সে। তখন নিশ্চয়ই এই ঝুলন্ত মুখগুলো আশেপাশে থাকবে না। এটা না-করলে হস্টেলে ফিরে কিছুতেই স্বস্তি পাবে না অনিমেষ।

    বিকেলটা দুদ্দাড় করে ছুটে গেল অন্ধকারে। সন্ধে হয়ে আসছে। আলো জ্বলে উঠছে চার ধারে। এত দেরি করে মাধবীলতা কখনও বাড়ি ফেরে না। আজ এই বাসে চড়ে যাওয়ার আবদারের জন্যেই এটা হল। বাড়ি ফিরে বকুনিটা অবশ্যই জোটা উচিত আজ। অনিমেষ নড়েচড়ে বসল।

    বেলঘরিয়া স্টেশনের সামনে যখন বাসটা থেমে গেল তখন অল্পই যাত্রী তাতে। মাধবীলতার পেছনে পেছনে নীচে নামতেই অনিমেষ বলল, ‘দাঁড়াও’।

    মাধবীলতা দাঁড়াল। তারপর নিচু গলায় বলল, ‘এখানে নাটক করতে হবে না।’

    ‘কিন্তু আমার কিছু কথা আছে। এভাবে অপমান করলে কেন?’

    ‘এখানে দাঁড়িয়ে আমি কথা বলতে পারব না। হাঁটতে হাঁটতে কথা বলো।’

    ‘তোমার বাড়ির দিকে যাব?’

    ‘আমাদের পাড়ার অনেকেই এখন তোমাকে দেখছে। এখান থেকে চলে গেলে আমার বদনামের গল্পটা ছড়াবে। তার চেয়ে বাড়িতে যাওয়াটা শোভন হবে। এসো।’ মাধবীলতা পা বাড়াল।

    এর আগে কখনই অনিমেষকে বাড়িতে যেতে বলেনি মাধবীলতা। আজকের ওইরকম আচরণের পর এই নিমন্ত্রণটা কেমন বেমানান ঠেকছে। তা ছাড়া একটা পরিস্থিতির চাপে পড়েই তাকে যেতে বলছে ও। কিন্তু এখানে দাঁড়িয়ে থাকা আরও খারাপ দেখায়। আশেপাশের চায়ের দোকান থেকে অনেক চোখ এখন এদিকে সেঁটে আছে। অনিমেষ মাধবীলতাকে অনুসরণ করল।

    লেবেল ক্রসিং পেরিয়ে মাধবীলতা খানিক ইতস্তত করল। অনিমেষ পাশাপাশি হাঁটছিল, জিজ্ঞাসা করল, ‘কী হল?’

    ‘আমাদের বাড়ি তোমার ভাল লাগবে না।’

    ‘কেন?’ অনিমেষ প্রশ্নটা করতেই একটা সাইকেল রিকশা এগিয়ে এল, ‘আসেন দিদিমণি।’

    মাধবীলতা রিকশাওয়ালার দিকে চেয়ে একটু হাসল। অনিমেষ বুঝল ওরা সবাই মাধবীলতাকে চেনে। মাধবীলতা রিকশায় উঠতে উঠতে বলল, ‘যা থাকে কপালে, উঠে পড়ুন, নিজের চোখে দেখে যদি মতিগতি পালটায়।’

    পাশাপাশি বসতে কোনও অসুবিধে হল না। রিকশাওয়ালা যেরকম দ্রুত চালাচ্ছে তাতে অনিমেষের ভয় হচ্ছিল যে-কোনও মুহূর্তেই দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। অবিরাম হর্নের শব্দে ওরা ঘিঞ্জি এলাকাটা পেরিয়ে এলে অনিমেষ জিজ্ঞাসা করল, ‘আমাকে বাড়িতে নিয়ে যেতে তোমার এত কুণ্ঠা কেন?’

    মাধবীলতা কথা বলল না, কিন্তু সেই টিপিক্যাল হাসিটা হাসল যার কোনও স্পষ্ট মানে ধরা যায় না। অনিমেষের এরকম হাসি শুনলে খুব রাগ হয় কিন্তু বাসে যে ঘটনাটা ঘটল তার জন্যে এখন কথা বাড়াল না। শুধু বলল, ‘তোমার যদি আমাকে বিরক্তিকর মনে হয় সোজাসুজি বলে দিয়ো। আমি কী করব সেটা আমার ব্যাপার, ওটা আমাকেই বুঝতে দাও।’

    অন্ধকারে মাধবীলতার ঠোঁটের কোণে সামান্য ভাঁজ পড়ল। অনিমেষের মনে হল এটা হাসির চেয়েও মারাত্মক।

    ফাঁকা রাস্তা পেয়ে রিকশাওয়ালা জোর প্যাডেল ঘোরাচ্ছে। তার মানে মাধবীলতাকে অনেকখানি এসে রোজ ট্রেন ধরতে হয়। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে অনিমেষ জিজ্ঞাসা করল, ‘এটাও কি বেলঘরিয়া?’

    ‘না, নিমতা। একদম মফস্‌সল লাগছে, তাই না!’

    ‘হ্যাঁ, কিন্তু ভাল লাগছে।’

    ‘এক-আধ দিনই লাগে। পুরনো হলে আর কিছুই আকর্ষণীয় থাকে না।’ ওর বলার ধরনটা এমন যে দ্বিতীয় অর্থটি বুঝতে অসুবিধে হল না।

    প্রায় মাইল দেড়েক যাওয়ার পর একটা গলিতে ঢুকে মাধবীলতা ভাড়া মিটিয়ে রিকশাটাকে ছেড়ে দিল। ডানদিকে অন্ধকারেও একটা বড় পানাপুকুর দেখা যাচ্ছে। বাঁদিকের বাড়িগুলো বাগানসুদ্ধু কিন্তু বয়সের আঁচড়ে ক্ষতবিক্ষত। মাধবীলতা বলল, ‘আপনি আমার কাছ থেকে একটা বই নিতে এসেছেন।’

    অনিমেষ কথাটা অনুধাবন করার আগেই গেট খুলে ভেতরে ঢুকে ডাকল, ‘আসুন।’

    গেটের ওপরই মাধবীলতার ঝাড়, বাগান থেকে ফুলের গন্ধ আসছে। সামনেই একটা ভাঙাচোরা পুরনো আমলের দোতলা বাড়ি। দু’-একটা ঘরে আলো জ্বলছিল মাত্র, পেছনে পুকুরের আভাস। মাধবীলতা রোয়াকে উঠে অনেকক্ষণ কড়া নাড়ার পর দরজা খুলল। একজন নুয়ে-পড়া বৃদ্ধা খ্যানখেনিয়ে উঠলেন, ‘এতক্ষণে আসা হল মেয়ের! ইদিকে তোর বাপ-মা এতক্ষণ বসে থেকে চলে গেল খিদিরপুর।’

    ‘খিদিরপুর কেন?’

    ‘অঞ্জলির মামাতো ভাই এয়েছে না? তোকে নিয়ে যেতে বলেছিল।’

    ‘অ।’ মাধবীলতা ঘাড় ঘুরিয়ে বলল, ‘আসুন’।

    ‘কে ওখানে?’ বৃদ্ধার গলা শুনে অনিমেষ ইতস্তত করল এগোতে।

    ‘আমার সঙ্গে পড়ে। তুমি চায়ের জল বসাও যাও। আসুন, দাঁড়িয়ে রইলেন কেন?’

    অনিমেষ অত্যন্ত সন্তর্পণে উঠে এল। বৃদ্ধা তাকে জরিপ করছেন। অনিমেষ বুঝতে পারছিল না ওঁকে প্রণাম করবে কিনা। মাধবীলতার কে হন উনি বোঝা যাচ্ছে না। মাধবীলতার পেছনে পেছনে একটা ঘরে গিয়ে ঢুকতেই মাধবীলতা বলল, ‘বসুন। আমি আসছি।’

    অনিমেষ সেকেলে ঘরটাকে দেখল। দু’-তিনটি চেয়ার, একটা তক্তাপোশ। জানলাগুলো বন্ধ। বাইরে বুড়ির গলা শোনা গেল, ‘একটা উটকো ছেলেকে হট করে বাড়িতে ঢুকালি। বাপ-মা শুনলে কী বলবে?’

    ‘সে আমি বুঝব, তুমি চা বসাও।’

    ‘আজ বাদে কাল যার বিয়ে—।’

    ‘কে বলেছে?’

    ‘অঞ্জলির মামাতো ভাই কী জন্যে এসেছে?’

    ‘বেশি বাজে কথা না-বলে এখন যাও।’

    কয়েক সেকেন্ড বাদেই মাধবীলতা ঘরে এল। এসে বলল, ‘এই আমাদের বাড়ি। মা-বাবা এখন নেই তাই আলাপ করাতে পারলাম না।’

    ‘উনি কে?’

    ‘কদুমাসি। ভাল নাম কাদম্বিনী। আমাকে মানুষ করেছেন।’

    ‘আমি আসায় বোধহয়—।’

    ‘একেই আমার মাথায় আগুন জ্বলছে। এ-বাড়িতে এভাবে কথা বলবেন না। আর কদ্দিন থাকা যাবে কে জানে!’

    ‘কেন?’

    ‘শুনতে পাননি? বিয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেছেন সবাই।’

    অনিমেষ কথা বলল না। একবার ভাবল বলে, ‘ভালই তো’ কিন্তু পারল না।

    হঠাৎ মাধবীলতা কেমন শান্ত অথচ দৃঢ় গলায় প্রশ্ন করল, ‘আমার কিছু হলে তুমি ভার নিতে পারবে?’

    সমস্ত রক্ত এখন বুকের মধ্যে। আর এরকম সময়ে পৃথিবীটাকে হাতের মুঠোয় মনে হল অনিমেষের। সে পরিষ্কার গলায় বলল, ‘হ্যাঁ’।

    ওরা অনেকক্ষণ আর কথা বলল না। এর মধ্যে বৃদ্ধা এসে চা দিয়ে গেছে। এক চুমুকে সেটা শেষ করে অনিমেষ উঠে দাঁড়াল, ‘আজ যাই।’

    মাধবীলতা মুখে কিছু না-বলে ঘাড় কাত করল। তারপরই হঠাৎ উঠে এসে সামনে দাঁড়িয়ে সেই অদ্ভুত মায়াময় চাহনিতে অনিমেষকে ভরিয়ে দিল। একটা হাত আলতো করে অনিমেষের বুকের ওপর রাখল মাধবীলতা, ‘আমাকে ক্ষমা করো।’

    ‘কেন?’ নিজের হৃৎপিণ্ড যেন মাধবীলতার হাতের তলায় এমন অনুভব অনিমেষের। মাধবীলতা তো কোনও অন্যায় করেনি, তা হলে ক্ষমা কীসের?

    হাত না-সরিয়ে মাধবীলতা বলল, ‘লোকে যে যাই বলুক আমার কিছু যায় আসে না। কিন্তু তুমি কড়া গলায় কিছু বললে আমি সইতে পারব না।’

    অনিমেষ গাঢ় গলায় বলল, ‘আমি কি কিছু বলেছি?’

    ‘এবার থেকে আমি সহজ কথাটা সহজ গলায় বলব।’

    অনিমেষের মনে পড়ল। বাসে উঠে সে ওই কথাটা বলার সময় খুব বিচ্ছিরিভাবে ধমকেছিল। কিন্তু সেটা তার মনে ছিল না, নেহাত অভ্যেসেই কথা বলা। তাই যে এই মেয়ের এমন করে লেগেছে তা কে জানত।

    সে মাধবীলতার মুখের দিকে তাকাল। ওকে ভীষণ আদর করতে ইচ্ছে করছিল, কিন্তু কিছুতেই হাত উঠল না ওপরে। মুখ নামিয়ে সে ওর চুলের ঘ্রাণ নিয়ে বলল, ‘আমি আর তোমাকে আঘাত দেব না।’

    উজ্জ্বল হাসিতে মাধবীলতার মুখ এখন মাখামাখি। হাত সরিয়ে নিয়ে বলল, ‘দেখো, আমি ঠিক তোমার মতো হব। কোনওরকমে পরীক্ষাটা অবধি যদি এড়াতে পারি তা হলে আর কোনও চিন্তা করি না।’

    চলে যেতে ইচ্ছে করছিল না মোটেই। তবু অনিমেষ বলল, ‘যাই’।

    মাধবীলতা বলল, ‘না। বলো আসি।’

    হাসল অনিমেষ, ‘আচ্ছা! আসি তা হলে।’

    গেট অবধি পৌঁছে দিল মাধবীলতা। ভীষণ হালকা লাগছে এখন, অনিমেষ গলিটা পেরিয়ে এসে পেছনে তাকাল। আবছা অন্ধকারে মাধবীলতার শরীরের আদল দেখা যাচ্ছে। নিজেকে এখন সম্রাটের মতো মনে হচ্ছে তার। ওর মাথায় কোনও চিন্তাই জায়গা পাচ্ছিল না। এখনও যে বাবার টাকায় তাকে মাস চালাতে হয়, অনিশ্চিত রাজনৈতিক জীবনের মধ্যে সে নিজেকে জড়াতে যাচ্ছে, ব্যক্তিগত কোনও আয়ের সংস্থান নেই, মাধবীলতার ভার নিতে হলে এই কলকাতায় একটা বাড়ি, নিদেনপক্ষে একটা ঘর দরকার এবং সেটা পেতে হলে টাকা চাই— এসব অত্যন্ত নগণ্য মনে হল। এসব সমস্যা নিয়ে আকাশ-পাতাল ভেবে কোনও লাভ নেই। মাধবীলতা যদি তার পাশে এসে দাঁড়ায় তা হলে সব সমস্যাই সমাধানের পথ খুঁজে পাবে। অনিমেষ দৃঢ় আত্মবিশ্বাসে স্টেশনের দিকে হাঁটতে লাগল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleগীতবিতান ছুঁয়ে বলছি ১ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article কালপুরুষ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    হাউ টু টক টু এ্যানিওয়ান – লেইল লোনডেস

    April 23, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    হাউ টু টক টু এ্যানিওয়ান – লেইল লোনডেস

    April 23, 2026
    Our Picks

    হাউ টু টক টু এ্যানিওয়ান – লেইল লোনডেস

    April 23, 2026

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }