Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কেয়াপাতার নৌকো – প্রফুল্ল রায়

    প্রফুল্ল রায় এক পাতা গল্প1251 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১.০৩ হেমনাথের নৌকো

    হেমনাথের নৌকো ধানবনের ভেতর অদৃশ্য হয়ে গেলে স্নেহলতা বললেন, ঘরে এস মানিকেরা– বলে পা বাড়িয়ে দিলেন।

    স্নেহলতার পিছু পিছু সবাই সামনের পুবদুয়ারী বড় ঘরখানায় এল। ঘাড় ফিরিয়ে বিনু একবার দেখে নিল, হিরণ যুগল আর করিম ফিটন থেকে মালপত্র নামিয়ে ওদিকের একটা ঘরে নিয়ে রাখছে।

    স্নেহলতার গলা আবার শোনা গেল, এখন আর কোনও কথা না, উঠোনে জল দেওয়া আছে। হাত-পা ধুয়ে আগে কিছু খেয়ে নাও। ধনেদের মুখ খিদেয় একবারে শুকিয়ে গেছে।

    খানিক আগে আরেক বার ধন’ বলেছিলেন স্নেহলতা, এবারও বললেন। কথায় কথায় ওই শব্দটা বলা বোধহয় তার অভ্যাস। ফিক করে এবারও বিনু হেসে ফেলল।

    হাসিটা কানে গিয়েছিল। স্নেহলতা শুধোলেন, হাসলি যে দাদা?

    বিনু লজ্জা পেয়ে চোখ সরিয়ে নিল।

    সুরমা ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছিলেন। হাসতে হাসতে বললেন, তুমি ধন’ বলেছ মামী, সেই জন্যে।

    স্নেহলতা সস্নেহে হাসলেন। বললেন, শুধু ধন নাকি, আরও কত কি বলি দেখ না। তখন কত হাসতে পার, দেখব।

    একটু পর হাত মুখ ধুয়ে এসে সবাই খেতে বসল। অবনীমোহন সুধা সুনীতি বিনু এবং সেই পুতুল পুতুল মেয়েটা–ঝিনুক। ফিটন থেকে বাক্স-টাক্স নামানো হয়ে গিয়েছিল। হিরণকে ডেকে এনে বসিয়ে দিলেন স্নেহলতা। সুরমা অবশ্য বসলেন না।

    অবনীমোহন স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বললেন, সকাল থেকে কিছুই তো খাওনি, তুমিও বসে পড়।

    কলকাতায় স্বামী এবং ছেলেমেয়েদের সঙ্গে খেতে বসে যান সুরমা। খাবার দাবার মাঝখানে সাজানো থাকে। দরকারমতো সবাই চামচে করে তুলে নেয়। কলকাতার রীতি আলাদা। কিন্তু এখানে কেউ কিছু ভাবতে পারে। কলকাতা থেকে অনেক দূরে এই ছোট্ট রক্ষণশীল জগতে স্বামীর সঙ্গে খেতে বসা নিন্দনীয়।

    অবনীমোহন যে এভাবে ডেকে বসবেন, সুরমার পক্ষে তা ছিল অভাবনীয়। তিনি লজ্জা পেয়ে গেলেন।

    স্নেহলতাও বললেন, হ্যাঁ হ্যাঁ, তুই বসে পড়।

    মৃদু স্বরে সুরমা বললেন, আমি পরে খাব’খন।

    অবনীমোহন ব্যস্ত হয়ে পড়লেন, পরে টরে না। অসুস্থ শরীর, ডাক্তার না তোমায় বলে দিয়েছে। সকালবেলা সাতটার ভেতর খেয়ে নিতে। অনিয়ম করলে–

    বিব্রত সুরমা চাপা গলায় ধমক দিলেন, আমার জন্যে ভাবতে হবে না। তুমি খেয়ে নাও তো।

    অবনীমোহন আর কিছু বললেন না।

    স্নেহলতা এবং শিবানী ফুলকাটা কঁসার থালায় পাতলা চিঁড়ে কদমা গুড় আর পাতক্ষীর সাজিয়ে সবাইকে দিতে লাগলেন। বড় বড় জামবাটি ভর্তি করে ঘন আঠালো দুধও দিলেন।

    খেতে খেতে হঠাৎ হিরণ বলল, কি ঠাকুমা, ঠকাবার মতলব নাকি?

    জিজ্ঞাসু চোখে তাকালেন স্নেহলতা, ঠকাব!

    হুঁ– হিরণ ঘাড় কাত করল, গাড়ি থেকে রসগোল্লার হাঁড়ি আর কলার কাদি নামিয়ে তোমার হাতে দিলাম না? সে সব কোথায়?

    তাই তো– তাড়াতাড়ি জিভ কেটে স্নেহলতা উঠে পড়লেন। ছুটে গিয়ে ওধারের কোনও একটা ঘর থেকে রসগোল্লা আর কলা নিয়ে এসে সবার পাতে পাতে দিতে লাগলেন।

    বড়দের চারটে করে রসগোল্লা আর দু’টো করে কলা দিয়েছেন স্নেহলতা। বিনুকে দিয়েছেন দুটো রসগোল্লা আর একটা কলা, ঝিনুকের ভাগে পড়েছে আরও কম–কলা আধখানা, রসগোল্লা একটা।

    বিনুর ঠিক পাশেই ঝিনুক খেতে বসেছিল। আড়ে আড়ে একবার বিনুর পাতের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ হাত-পা ছুঁড়তে শুরু করল সে, আমি আধখানা কলা খাব না, একটা রসগোল্লা খাব না।

    স্নেহলতা শুধোলেন, ক’টা খাবি?

    গোটা কলা খাব, দুটো রসগোল্লা খাব–

    তোর পেট ভাল না ঝিনুক, সহ্য করতে পারবি না। নিজেও কষ্ট পাবি, আমাকেও জ্বালিয়ে মারবি।

    হাত-পা ছোঁড়া থামায় নি ঝিনুক। মাথা ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে সে বলতে লাগল, ওকে কেন দিলে তা হলে? কেন দিলে ওকে?

    স্নেহলতা অবাক, কাকে রে, কাকে?

    আঙুল দিয়ে বিনুকে দেখিয়ে দিল ঝিনুক, ওকে।

    পেট ভর্তি তোমার বিষ, ছেলেটা বাড়ি ঢুকতে না ঢুকতেই হিংসে আরম্ভ করে দিয়েছ!

    সুরমা দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হাসতে হাসতে বললেন, দাও মামী, ঝিনুক যা চাইছে দাও–

    স্নেহলতা বললেন, তুই কি ওকে মেরে ফেলতে বলিস রমু?

    তার মানে!

    পরশু দিন ওর বাপ এখানে দিয়ে গেছে। আসা থেকে খালি খাচ্ছেই, খাচ্ছেই। কাল সারারাত পেটের ব্যথায় ঘুমোতে পারে নি, আমাদেরও ঘুমোতে দেয় নি। খাওয়ায় একটু টান না দিলে বুঝলি না, পরের দায়িত্ব

    স্নেহের সুরে সুরমা বললেন, ছেলেমানুষ, বায়না করছে। এখন তো দাও, পরে না হয় দিও না।

    কী আর করা, ঝিনুকের দাবি অনুযায়ী রসগোল্লা আর কলা তার পাতে তুলে দিতে হল।

    একটু নীরবতা।

    হঠাৎ কিছু মনে পড়ে যেতে সুরমা বললেন, আচ্ছা মামী—

    কী বলছিস? মুখ ফিরিয়ে স্নেহলতা সাড়া দিলেন।

    ঝিনুকের বাবা ওকে তোমার কাছে দিয়ে গেছে, বললে না?

    হ্যাঁ।

    কেন?

    ওর মা’কে নিয়ে ওর বাপ ঢাকায় গেছে।

    ঢাকায় কী?

    ঝিনুকের মামাবাড়ি।

    সুরমা অবাক। বিস্ময়ের সুরে বললেন, মামাবাড়িতে গেল, মেয়েটাকে নিয়ে গেল না?

    ধীরে ধীরে মাথা নাড়লেন স্নেহলতা। বিষণ্ণ সুরে বললেন, না।

    কেন?

    কী যেন ভর করে বসল স্নেহলতার ওপর। নিজের অজ্ঞাতসারেই বুঝিবা ফিসফিসিয়ে বললেন, ওর বাপ চিরকালের মতো ওর মাকে রেখে আসতে গেছে।

    সে কী!

    যা, বড় অশান্তি হচ্ছিল বাড়িতে। তার চাইতে এই ভাল হয়েছে–

    অবনীমোহন সুধা সুনীতি সবাই চকিত হয়ে ঝিনুকের দিকে তাকাল। যে মেয়ে খাওয়া নিয়ে এত বায়না করছিল, এখন আর সে খাচ্ছে না। ঝিনুকের চোখের তারা স্থির, টসটস করছে। পলকহীন সে স্নেহলতার দিকে তাকিয়ে আছে। লাল টুকটুকে পাতলা ঠোঁট দুটো থরথর করছে তার।

    সুরমা বললেন, তোমার কাছে তো রেখে গেছে। ওদের বাড়িতে আর কেউ নেই?

    না। কাকা জ্যাঠা ঠাকুমা ঠাকুরদা, কেউ না থাকার ভেতর বাপ-মা আর ওই একটা মাত্র মেয়ে। তাও–

    এই সময় হিরণ ডেকে উঠল, ঠাকুমা—

    হিরণের স্বরে এমন কিছু ছিল, স্নেহলতা চমকে উঠলেন।

    খুব চাপা গলায় হিরণ আবার বলল, ঝিনুকের সামনে এ সব কথা বল কেন? বুঝবার মতো বয়েস ওর হয়েছে। মুখচোখের চেহারা দেখছ মেয়েটার?

    চকিতে একবার ঝিনুককে দেখে নিয়ে স্নেহলতা বললেন, আমারই অন্যায় হয়ে গেছে। থাক, ওসব কথা থাক–

    সবার চোখ ঝিনুকের দিকে। বিনুও তাকে দেখছিল। দেখতে দেখতে দাদুর কথাগুলো মনে পড়েছিল। স্টিমারঘাটে দাদু বলেছিলেন, ঝিনুক খুব দুঃখী।

    এরপর আর কোনও কথা হল না। একসময় নিঃশব্দে খাওয়ার পালা চুকল।

    .

    পুবদুয়ারী সেই প্রকান্ড ঘরখানার একধারে তক্তপোশ পাতা। ইতস্তত দু’চারখানা চেয়ারও ছড়িয়ে আছে। খাওয়াদাওয়ার পর অবনীমোহন সুধা আর হিরণ এখানেই আসর বসালেন। সুনীতি আর সুরমা স্নেহলতা শিবানীর সঙ্গে ভেতর দিকে রান্নাঘরে চলে গেলেন। ঝিনুকও তাদের সঙ্গে গেল। সুরমা এখনও খান নি। রান্নাঘরে মামী আর মাসির সঙ্গে কথা বলতে বলতে খাবেন। বিনু হিরণদের কাছেই থেকে গেল।

    অবনীমোহন সুধা আর হিরণ গল্প জুড়ে দিল। নিমেষে মশগুলও হয়ে গেল। অবনীমোহন আর সুধা পূর্ব বাংলার এই ভূখণ্ডটি সম্বন্ধে নানা প্রশ্ন করছে। বিপুল উৎসাহে উত্তর দিয়ে যাচ্ছে হিরণ।

    কিছুক্ষণ বসে বসে তাদের কথা শুনল বিনু, তারপর দূরমনস্কের মতো জানালার বাইরে তাকাল। এখান থেকে আদিগন্ত সেই ধানবন চোখে পড়ছে, আর দেখা যাচ্ছে আশ্বিনের টলোমলো, অথৈ, অগাধ জল। আকাশের একটা টুকরোও দৃষ্টিতে ধরা দিয়েছে। সারা বর্ষা বৃষ্টিতে ধুয়ে ধুয়ে আকাশ এখন আশ্চর্য নীল। সেখানে কেউ ভারহীন সাদা মেঘের ভেলা ভাসিয়ে রেখেছে। দূর আকাশ, অফুরন্ত জল আর শরতের মেঘদল যেন অবিরাম হাতছানি দিয়ে যাচ্ছে।

    আড়ে আড়ে একবার হিরণদের আসরটা দেখে নিল বিনু, সবাই বিভোর হয়ে আছে। সুযোগটা হাতছাড়া কারা সমীচীন নয়। পায়ে পায়ে সুধাদের অলক্ষ্যে বেরিয়ে পড়ল সে।

    শালিকের মতো চঞ্চল পায়ে কিছুক্ষণ উঠোনে ঘুরল বিনু। দোলমঞ্চ দেখল, রাসমঞ্চ দেখল, পালা-সাজানো খড়ের স্থূপ দেখল। আর দেখল সারি সারি ধানের ডোল (গোলা)। ফিটন দুটো এখন আর নেই, তারা বোধহয় চলে গেছে। একটু পর কিসের একটা স্রোত তাকে একটানে বাইরের বাগানটার দিকে ভাসিয়ে নিয়ে গেল।

    খানিক আগে এখান দিয়েই এসেছিল বিনু। জায়গাটা তার চেনা। চারদিকে আমগাছ জামগাছ লিচুগাছ কামরাঙা গাছ-সব এক পায়ে দাঁড়িয়ে। বাগানটা ছায়াচ্ছন্ন। মাটি নরম, ভিজে ভিজে। গাছগাছালির ফাঁকে ফাঁকে পাখিদের চেঁচামেচি আর ডানা ঝাঁপটানোর শব্দ। ভিজে মাটির গন্ধ, দূর ধানখেতের গন্ধ, ফুলের গন্ধ–সমস্ত একাকার হয়ে যেন ঘুম ঘনিয়ে আনে।

    গাছপালার পাশ দিয়ে, লতাপাতার ধার দিয়ে, ঝোঁপঝাড়ের ফাঁক দিয়ে নেশাগ্রস্তের মতো ঘুরে বেড়াতে লাগল বিনু। কতক্ষণ ঘুরেছিল, মনে নেই। একসময় কার ডাক কানে ভেসে এল।

    চমকে সামনের দিকে তাকাল বিনু, কাউকে দেখতে পেল না।

    আবার ডাকটা শোনা গেল, ছুটোবাবু—ছুটোবাবু—

    এদিকে সেদিকে তাকাতে তাকাতে এবার বিনুর চোখে পড়ল। পচা পাটের স্তূপের ভেতর সেই লোকটা বসে আছে। তোক না বলে তাকে ছোকরা বলাই উচিত।

    ফিটনে করে আসার সময় ওইখানেই দু’জনকে কী করতে দেখেছিল বিনু, পরে টানাটানি করে তাদের মালপত্র নামাতে দেখেছে, নামও জেনেছে। একজনের নাম যুগল, অন্য জনের নাম করিম। তবে কে যুগল কে করিম, জানা যায় নি।

    যুগল হোক করিম হোক, এখন একজনই বসে বসে পচা পাটের গা থেকে আঁশ ছাড়াচ্ছে। আরেকজনকে দেখা গেল না।

    চোখাচোখি হতেই সে হাতছানি দিল। পায়ে পায়ে বিনু কাছে এগিয়ে এল। বলল, ডাকছ কেন?

    ছোকরার বয়স কুড়ি একুশের মধ্যে। চওড়া হাড়, মোটা মোটা আঙুল, প্রকাণ্ড বুক, সরু কোমর সবই তার বলশালিতার প্রতীক। গায়ের রং রোদে পুড়ে পুড়ে তামাটে। চুলগুলো খাড়া খাড়া, দুর্বিনীত। তেলে-জলে অথবা চিরুনিতে কোনওদিন তাদের বশ মানানো যাবে, তা যেন নেহাতই দূরাশা। পরনে ভিজে সপসপে এক টুকরো টেনি, কোমরের কাছটায় কোনওরকমে জড়ানো। এছাড়া আর কিছুই নেই। বড় বড় ড্যাবড্যাবে দুটো চোখ সরলতায় মাখা।

    দু’পাটির সবগুলো দাঁত মেলে দিয়ে হাসল ছোকরা। বলল, আপনেরা কইলকাতা থিকা (থেকে) আইলেন?

    স্টিমারে আসতে আসতে বাংলাদেশের এ প্রান্তের আঞ্চলিক ভাষা শুনেছে বিনু, বিচিত্র উচ্চারণগুলি লক্ষ করেছে। যা শুনেছে তার সিকিও বোঝে নি। তবে সব মিলিয়ে তার খুব মজা লেগেছে, ভালও লেগেছে। সেটা খুব সম্ভব নতুনত্বের জন্য, বৈচিত্রের জন্য।

    ছোকরা যা বলল, প্রথমটা বুঝতে পারল না বিনু। অনেকটা অনুমানের ওপর ভরসা করে বলল, কলকাতার কথা বলছ?

    হ। ছোকরা মাথা নাড়ল, কইলকাতা মেলা (অনেক) দুরে, না?

    এবার বুঝতে পারল বিনু। বলল, হ্যাঁ।

    কয়দিন লাগে যাইতে?

    মনে মনে হিসেব করে বিনু বলল, দেড় দিনের মতো।

    যাইতে হইলে ইস্টিমারে চড়ন লাগে?

    হ্যাঁ।

    রেলগাড়িতে?

    হ্যাঁ। ছোকরার চোখ চকচক করতে লাগল, জানেন আমি কুনোদিন রেলগাড়ি দেখি নাই।

    করুণাই হল বিনুর। বলল, রেলগাড়ি দেখ নি! কেন, তোমাদের এখানে রেলগাড়ি নেই?

    না। আছে হেই ঢাকার শহরে। অমি কুনোদিন ঢাকায় যাই নাই।

    একটু চুপচাপ। তারপর ছোকরা আবার শুরু করল, আইচ্ছা ছুটোবাবু—

    কী বলছ?

    কইলকাতা তো পেল্লায় শহর, না?

    এবারও আন্দাজে বুঝে নিল বিনু। বলল, হ্যাঁ।

    কত বড় কন দেখি। ছোকরা সাগ্রহে শুধলো, আমাগো রাইজদা আপনে দেখছেন?

    রাইজদা অর্থাৎ রাজদিয়া। বিনু বলল, সবটা দেখি নি। আসতে আসতে যেটুকু চোখে পড়েছে, দেখেছি।

    ছোকরা বলল, এই ধারে আর কতটুক! উইধারে এইর ডাবল, তিন ডাবল। আইচ্ছা, কয়খান রাইজদা একলগে করলে একখান কইলকাতা হয়?

    নাক কুঁচকে তাচ্ছিল্যের সুরে বিনু বলল, হাজার হাজার।

    চোখ দুটো গোল হয়ে গেল ছোকরার। অবাক বিস্ময়ে বলল, ক’ন কী!

    ছোকরা আপনি’ আপনি’ করছে। এত মর্যাদা দিয়ে আগে আর কেউ তার সঙ্গে কথা বলে নি। মনে মনে নিজেকে রীতিমতো বিশিষ্ট আর সম্মানিত মনে হচ্ছে। বিনু বলল, একবার গিয়ে দেখে এস না।

    কইলকাতা যাওনের সাইদ্য কি আমাগো আছে? মুখখানা ভারি বিমর্ষ হয়ে গেল ছোকরার।

    বিনু এবার কিছু বলল না।

    ছোকরা আবার বলে, কইলকাতায় মেলা গাড়ি ঘুড়া না?

    বিনু বলল, অনেক।

    মেলা মানুষ। শুনছি মাইনষের মাথা মাইনষে খায়। রাস্তাগুলান নিকি দিনরাইত ঘইষা মাইজা ঝকঝইকা কইরা রাখে। এতটুক ধুলা কুনোখানে পইড়া নাই। রাইতগুলি নিকি বাত্তিতে বাক্তিতে (আলোয় আলোয়) দিন হইয়া যায়। সত্য ছুটোবাবু?

    পূর্ব বাংলার সুদূর অভ্যন্তরে এই রাজদিয়াতে একটি গ্রাম্য যুবকের কল্পলোকে কলকাতা স্বর্গ হয়ে আছে। তার কল্পনা কতদূর আর পৌঁছুতে পারে! সগর্বে বিনু তার চাইতে হাজার গুণ চমকপ্রদ আর বিস্ময়কর এক কলকাতার এমন বর্ণনা দিল যাতে ছোকরা একেবারে হাঁ হয়ে গেল।

    বিস্ময়ের ঘোর কিছুটা কমে এলে ছোকরা বলল, আহা রে, অ্যামন দ্যাশ চৌখে দেখতে পাইলাম না! মনিষ্য জনমই ব্রেথা।

    হঠাৎ বিনুর একটা কথা মনে পড়ে গেল। তাড়াতাড়ি সে বলে উঠল, তখন তোমরা দুজন এখানে কাজ করছিলে না?

    হ। আমি আর করিমা।

    করিমা অর্থে করিম। বিনু বলল, তোমার নাম তা হলে যুগল?

    ছোকরা অবাক হয়ে বলল, আমার নাম ক্যামনে জানলেন ছুটোবাবু?

    তখন ঘোড়ার গাড়ি থেকে তোমরা বাক্স-টাক্স নামাচ্ছিলে, কে যেন তোমাদের নাম ধরে ডাকছিল। তাই শুনে জেনেছি।

    যুগল বলল, অ।

    বিনু শুধলো, করিমকে তো দেখছি না।

    অগো (ওদের) বাড়িত্ গ্যাছে। দুফারে আইব।

    একটু ভেবে বিনু কী বলতে যাবে, সেই সময় হঠাৎ ঘুরে পুকুরের দিকে তাকাল যুগল। দেখেই বোঝা যায়, তার চোখমুখ এবং স্নায়ুমণ্ডলী প্রখর হয়ে উঠেছে। স্থির দৃষ্টিতে একটুক্ষণ তাকিয়ে থাকল যুগল। তারপর আচমকা উঠে দাঁড়িয়ে উধ্বশ্বাসে সেদিকে ছুটল।

    বিনু জিজ্ঞেস করল, কী হয়েছে? অমন করে ছুটছ কেন?

    যুগলের উত্তর দেবার সময় নেই, সে ফিরেও তাকাল না। ছুটতে ছুটতে ঝপাং করে পুকুরের জলে ঝাঁপিয়ে পড়ল। পিছু পিছু বিনুও ছুটে এসেছিল, ঘাটের কাছে এসে সে থমকে দাঁড়িয়ে গেল।

    ফিটনে আসতে আসতে মনে হয়েছিল পুকুরের ওপারে শুধু ধানবন। কাছাকাছি আসতে বিনু দেখতে পেল, তার তিন দিকেই ধানের খেত। প্রকাণ্ড মাছের মতো জল কেটে কেটে কোনাকুনি পুকুর পাড়ি দিয়ে নিমেষে ওপারে চলে গেল যুগল। তারপর ধানখেতের ভেতর ডুব দিয়ে অনেকক্ষণ কোথায় অদৃশ্য হয়ে রইল।

    ভয়ে বুকের ভেতরটা ঢিপ ঢিপ করতে লাগল বিনুর। যুগল ডুবে গেল নাকি? যদি আর সে জলের তলা থেকে না ওঠে আসে! বিনু একবার ভাবল, ধানখেতে গিয়ে যুগলকে খুঁজে বার করে। পরক্ষণেই তার মনে পড়ল, সে সাঁতার জানে না। সঙ্গে সঙ্গে মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেল।

    ত্রাসে আর উদ্বেগে কতক্ষণ নিশ্বাস বন্ধ হয়ে ছিল, মনে নেই। একসময় ধানখেতের ফাঁকে যুগলের মাথা ভেসে উঠল। তাকে দেখতে পেয়ে আস্তে আস্তে ভয়টা কাটল বিনুর। না, ডুবে যায় নি। অনেকক্ষণ পর জোরে জোরে বুকের ভেতর শ্বাস টানতে লাগল সে।

    বিনু একদৃষ্টে তাকিয়ে ছিল। দেখতে পেল, ধানখেত থেকে কী একটা যেন বুকের কাছে আটকে ঠেলে ঠেলে নিয়ে আসছে যুগল। একটু পর পুকুর পেরিয়ে পাড়ে এসে উঠল সে, তারপর জল থেকে মস্ত বড় গোলাকার খাঁচার মতো একটা জিনিস তুলে আনল। সরু সরু কাঠি ফাঁক ফাঁক করে তার দিয়ে বেঁধে খাঁচাটা তৈরি। এমন জিনিস আগে আর কখনও দেখে নি বিনু। সে জিজ্ঞেস করল, এটা কী?

    যুগল বলল, চাই।

    কী হয় এটা দিয়ে?

    ভিতরে তাকাইয়া দ্যাখেন ছুটোবাবু।

    প্রথমটা লক্ষ করে নি বিনু। যুগলের কথামতো তাকাতেই খুশিতে তার চোখ চকচকিয়ে উঠল। ‘চাই’-য়ের ভেতরটা মাছে বোঝাই, বোদ লেগে রুপোলি আঁশগুলো ঝলকে উঠছে।

    বিনু প্রায় লাফ দিয়েই উঠল, ইস, কত মাছ!

    এই মাছ দেইখ্যাই কন কত মাছ! আইতেন বষাকালে, দেখতেন মাছ কারে কয়! বলতে বলতে কী এক কৌশলে চাই’-য়ের পেছন দিকটা খুলে ফেলল। সঙ্গে সঙ্গে মাছগুলো ঝুপ ঝুপ করে মাটিতে পড়ে লাফাতে লাগল। নানা রকমের মাছ। বেশির ভাগই বিনুর চেনা। রুই, কালবোস, বড় বড় সরপুঁটি, গোলসা ট্যাংরা আর বেলে–এগুলো চিনতে পারল সে। বাদ বাকি অচেনা।

    মাছ বার করা হয়ে গিয়েছিল। যুগল বলল, ছুটোবাবু আপনে ইট্ট (একটু) মাছগুলার কাছে। খাড়ন, দেইখেন চিলে আর কাউয়ায় (কাকে) আবার তুইলা নিয়া না যায়।

    বিনু জিজ্ঞেস করল, তুমি কোথায় যাবে?

    ধানখ্যাতে, চাইটা আবার পাইতা রাইখা আসি। মাছধরা ফাঁদের পেছন দিকটা তাড়াতাড়ি আটকে দিয়ে জলে গিয়ে নামল যুগল। নিমেষে ধানবনে সেটা রেখে ফিরে এল। তারপর যেখানে পচা পাট স্থূপাকার হয়ে আছে সেখান থেকে একটা বড় গামছা এনে মাছগুলো বেঁধে উঠে দাঁড়াল। বলল, চলেন ছুটোবাবু–

    কোথায়?

    মাছগুলা ভিরে দিয়া আসি।

    দু’জনে বাড়ির দিকে চলতে লাগল।

    বিনু মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিল। মাছ ধরা, সাঁতার কাটা, ইত্যাদি কর্মকুশলতায় যুগল তাকে জয় করে নিয়েছে।

    পাশ থেকে যুগলকে একবার দেখে নিয়ে বিনু বলল, তুমি তো খুব সাঁতার কাটতে পার!

    হ– মাথাটা অনেকখানি হেলিয়ে যুগল বলল, তা পারি। আমারে পুকৈর পার হইতে দেখলেন তো?

    হ্যাঁ।

    এইরকম তিনটা পুকৈর আমি এক ডুবে পার হইয়া যাইতে পারি। ইস্টিমারে কইরা যে গাং দিয়া আইলেন

    হ্যাঁ—

    সাতইরা (সাঁতরে) উই গাংটা যে কতবার এপার-ওপার করছি, হিসাব নাই ছুটোবাবু।

    আগে মুগ্ধ হয়েছিল, এবার একেবারে ভক্তই হয়ে পড়ল বিনু। তোষামোদের সুরে বলল, আমাকে একটু সাঁতার শিখিয়ে দেবে?

    চলতে চলতে হঠাৎ ঘুরে দাঁড়াল যুগল। বিস্ময়ে তার চোখ গোলকার হয়ে গেছে। সাঁতার জানে না, এমন মানুষ জীবনে এই বোধহয় প্রথম দেখল সে। বলল, আপনে সাতর জানেন না ছুটোবাবু!

    চোখ নামিয়ে বিনু খুব আস্তে করে বলল, না। লজ্জায় মাথা তুলতে পারছিল না সে।

    কলকাতায় থাকে বলে বিনুর খুব গর্ব। তার ধারণা, পৃথিবীর সব কিছু জেনে বসে আছে। কিন্তু একটি পেঁয়ো যুবকের কাছে যে পরাজয় মানতে হবে তা কে জানতো?

    আবার হাঁটতে শুরু করল যুগল। আমাগো এইহানে কুলের (কোলের) পুলাটাও (ছেলেটাও) সাতর দিতে পারে। ডর নাই, দুই চাইর দিনের ভিতর সাতর শিখাইয়া, মাছ ধরা শিখাইয়া আপনেরে চালাক কইরা দিমু।

    বিনু গম্ভীর হয়ে গেল। যুগলের কাছ থেকে চালাক হবার পাঠ নিতে হবে, এতখানি মেনে নিতে সে রাজি না। বলল, আমি বোকা না।

    যুগল বলল, হে তো জানিই ছুটোবাবু–

    একটু পর তারা ভেতর-বাড়িতে এসে পড়ল। যুগল ডাকল, ঠাউরমা, ইট্টু বাইরে আসেন দেখি—

    রান্নাঘর থেকে স্নেহলতা বেরিয়ে এলেন। তার পিছু পিছু শিবানী সুরমা সুনীতি আর ঝিনুকও এল।

    ততক্ষণে গামছা খুলে মাছগুলো ঢেলে ফেলেছে যুগল। সুনীতি সবিস্ময়ে বলল, এত মাছ কোথায় পেলে!

    সবগুলো দাঁত বার করে হাসল যুগল, ধরলাম।

    বিপুল উৎসাহে হাত-পা নেড়ে যুগলের মাছ ধরার পদ্ধতি বর্ণনা করতে লাগল বিনু।

    স্নেহলতা সস্নেহ ভৎর্সনার সুরে বললেন, একেবারে মেছো রাশি। দিনরাত খালি মাছই ধরছে। আর ধরতেও পারে। মাছ যেন ওর গায়ে লেগে উঠে আসে।

    মাছ দেখে সুরমা খুব খুশি। বললেন, ছেলেটা কে গো মামী?

    স্নেহলতা সংক্ষেপে পরিচয় দিলেন। এখান থেকে মাইল বিশেক দূরে পাকসি বলে ভূঁইমালীদের একটা গ্রাম আছে। যুগলদের বাড়ি সেইখানে। তবে বাড়ির সঙ্গে, বাপ-মা ভাই-বোনের সঙ্গে সম্পর্ক নেই বললেই হয়। দশ বছর বয়সে হেমনাথ তাকে নিজের কাছে নিয়ে এসেছিলেন। সেই থেকে যুগল এ বাড়িরই ছেলে, কৃচিৎ কখনও নিজেদের বাড়ি যায়। এবেলা যায় তো, ওবেলা ফিরে আসে। এখানে থেকে থেকে বাপ-মা’র কাছে গিয়ে ওর মনই বসে না।

    উঠোনে মাছগুলো লাফালাফি করছে। ওঘর থেকে সুধা দেখতে পেয়েছিল, ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে এল। চোখ বড় করে বলল, কত মাছ রে!

    একটু পর অবনীমোহন আর হিরণও এল। মাছ দেখে সবাই বেজায় খুশি। জল-বাংলার রুপোলি ফসল সকলকে উচ্ছ্বসিত করে তুলেছে।

    স্নেহলতা যুগলের দিকে ফিরে বললেন, দিনরাত তো মাছরাঙার মতো মাছের পেছনে লেগে রয়েছ। পাট তোলা হয়েছে?

    যুগল একগাল হেসে ঘাড় চুলকোতে চুলকোতে বলল, না।

    উনি কেতুগঞ্জ থেকে এসে যদি দেখেন পাটের মনে পাট পড়ে আছে, মাছ খাওয়াবে’খন।

    ঠাউরদা আসনের আগেই পাট তুইলা ফেলামু। বলেই দৌড় লাগাল যুগল। উঠোনের আধাআধি গিয়ে হঠাৎ ঘুরে দাঁড়িয়ে বিনুকে ডাকল, আসবেন নিকি ছুটোবাবু?

    যুগলের সঙ্গ মোটামুটি ভালই লাগছিল। বিনু এগিয়ে গেল।

    অবনীমোহন বললেন, দু’জনের বেশ ভাব হয়ে গেছে দেখছি।

    সুরমা হাসলেন, তাই তো মনে হচ্ছে। মাছ ধরার কায়দা দেখিয়ে যুগল বিনুকে একেবারে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।

    বার-বাড়ির সেই বাগানে এসে পচা পাটের স্তূপের ভেতর বসে পড়ল যুগল। একটু দূরে একটা গাছের মোটা শিকড়ের ওপর বসল বিনু।

    হাতের কৌশলে অতি দ্রুত পচা পাট থেকে আঁশ আর শোলা বার করে দু’ধারে রাখতে লাগল যুগল। সেই সঙ্গে চলল গল্প।

    জাদুকর যেমন ঋপির ভেতর থেকে একের পর এক অচেনা বিস্ময় তুলে এনে চমকে দেয়, তেমনি কথায় কথায় নিজের তাবৎ গুণ জাহির করতে লাগল যুগল। বিনা পালে শুধু একখানা বৈঠার ভরসায় নৌকো নিয়ে বর্ষার নদী পেরিয়ে যেতে পারে, রাতের পর রাত কৃষ্ণলীলা আর রয়ানির আসরে গান গেয়েও তার গলা ভাঙে না। ইত্যাদি।

    যত শুনছিল ততই অবাক হয়ে যাচ্ছিল বিনু। গানের কথায় বিস্ময়টা তার শীর্ষবিন্দুতে পৌঁছল। বলল, তুমি গাইতেও পার!

    না পারি কী? হগলই পারি। যুগল বলতে লাগল, আমার গীত শুনলে মাইনষে মোহিত হইয়া যায়।

    তাই নাকি?

    আশ্বাসের সুরে যুগল বলল, শুনামু ছুটোবাবু, আপনেরে একদিন আমার গীত শুনাইয়া দিমু। তহন বুঝবেন, যুগইলা মিছা কয় নাই।

    শরতের বাতাস এলোমেলো বয়ে চলেছে। কখনও ঝড়ের মতো সাঁই সাঁই ঘোড়া ছুটিয়ে যাচ্ছে, কখনও ঝিরঝিরে সুখস্পর্শে ঘুম এসে যায়। স্টিমারে আসতে আসতে মনে হয়েছিল, আকাশময় কে এক অদৃশ্য ধুনুরি পেঁজা তুলো ছড়িয়ে রেখেছে। কখন যে রং বদলে মেঘগুলো কালো হয়ে গেছে, বিনুরা লক্ষ কর নি। ধীরে ধীরে বাতি নিবে এলে যেমন হয় সেইরকম রোদটা কখন যেন দীপ্তি হারিয়ে, উজ্জ্বলতা হারিয়ে মলিন হয়ে গেছে।

    গল্প করতে করতে পুকুরের ওপারে তাকাল বিনু। ধানবনে ঢেউ তুলে বাতাস বয়ে যাচ্ছে। দু’চারটে নৌকোও চোখে পড়ছে। ধানখেত সিঁথির মতো চিরে তারা কোথায় পাড়ি জমিয়েছে, কে জানে।

    হঠাৎ বিনু বলল, আচ্ছা, ওই দিকটায় ধানখেত আর জল ছাড়া কি কিছুই নেই?

    যুগল বলল, আছে তো।

    কী?

    যুগল এবার যা বলল, তা এইরকম। ধুধু এই জলরাশি আর ধানের অরণ্যের ভেতর দ্বীপের মতো অনেকগুলো কৃষাণ গ্রাম মাথা তুলে আছে। আরও জানালো, সেই আষাঢ় মাস থেকে কার্তিকের শেষাশেষি পর্যন্ত গ্রামগুলো একখানা সমুদ্রের ওপর যেন ভাসতে থাকে। তারপর মাঠের জল সরে গেলে কয়েকটা মাস নিশ্চিন্ত।

    বিনু শুধলো, ওই জল কি নেমে যাবে?

    যাইব বৈকি। এইর মদ্যেই টান ধরছে– যুগল বলতে লাগল, আশ্বিনের শ্যাষাশেষি দেখবেন, জল কত কইমা গ্যাছে। অঘ্রাণ মাসে চাইর দিক শুকনা খটখইটা (খটখটে) হইয়া যাইব।

    হঠাৎ একটা কথা মনে পড়ে যেতে বিনু তাড়াতাড়ি জিজ্ঞেস করল, চারদিক তো জলে ডুবে আছে। ওখানে লোক যায় কী করে?

    নায়ে কইরা। যুগল বলতে লাগল, দুই চাইর দিন থাকেন, বুঝতে পারবেন নাই এইখানকার মাইনষের হাত-পাও। নাও ছাড়া এই জলের দ্যাশে কুনোখানে যাওনের উপায় নাই।

    একটু ভেবে বিনু বলল, ওই সব গ্রাম ছাড়া ওধারে আর কী আছে?

    বড় বড় গুঞ্জ (গঞ্জ)।

    গুঞ্জ কী?

    বাজার আর কি, যেইহানে মাল বিকিকিনি হয়। কী একেকখান গুঞ্জ ছুটোবাবু–দিনরাইত মাইনষের চিল্লাচিল্লিতে গমগম করে। দেলভোগ মোহনগুঞ্জ মীরপুর সুজনগুঞ্জ–যেহানেই যান, এক অবোস্তা।

    সুজনগঞ্জ নামটা বিনুর চেনা চেনা লাগল। কিন্তু কোথায় কার কাছে শুনেছে, এই মুহূর্তে কিছুতেই মনে করতে পারল না।

    যুগল থামে নি, পূজা আসতে আছে ছুটোবাবু। সুজনগুঞ্জে মীরপুরে দেলভভাগে রাইতের পর রাইত যাত্রাগান হইব। অ্যামনেই মাইনষের ভিড়ে পাও ফেলান যায় না, তহন পুরা রাজি একেবারে ভাইঙ্গা পড়ব।

    বিনু বলল, জানো, অমি কখনও যাত্রা দেখি নি।

    বরদানের ভঙ্গিতে যুগল বলল, তার লেইগা কি, অমি আপনেরে দেখাইয়া আনুম। কয়টা আর দিন, পূজা তো আইসাই পড়ছে।

    বিনু বলল, কথা দিলে। নিয়ে যেতে হবে কিন্তু–

    যামু—যামু—যামু—

    বিনু আর কিছু বলল না। স্বপ্নলোকের রহস্যময় সংকেতের মতো দিগন্তের ওপার থেকে দেলভোগ সুজনগঞ্জ-মীরপুর-ইনামগঞ্জ, এই বিচিত্র নামগুলো আর যাত্রাগানের আসর তাকে বার বার যেন হাতছানি দিতে লাগল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশতধারায় বয়ে যায় – প্রফুল্ল রায়
    Next Article আলোর ময়ুর – উপন্যাস – প্রফুল্ল রায়

    Related Articles

    প্রফুল্ল রায়

    আলোর ময়ুর – উপন্যাস – প্রফুল্ল রায়

    September 20, 2025
    প্রফুল্ল রায়

    শতধারায় বয়ে যায় – প্রফুল্ল রায়

    September 20, 2025
    প্রফুল্ল রায়

    উত্তাল সময়ের ইতিকথা – প্রফুল্ল রায়

    September 20, 2025
    প্রফুল্ল রায়

    গহনগোপন – প্রফুল্ল রায়

    September 20, 2025
    প্রফুল্ল রায়

    নিজেই নায়ক – প্রফুল্ল রায়ভ

    September 20, 2025
    প্রফুল্ল রায়

    ছোটগল্প – প্রফুল্ল রায়

    September 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }