Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026

    ছাতিম – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    August 14, 2026

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কেয়াপাতার নৌকো – প্রফুল্ল রায়

    প্রফুল্ল রায় এক পাতা গল্প1251 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২.৩১-৩৫ আমেরিকান টমি

    ২.৩১

    আমেরিকান টমিদের পেছন পেছন ঘুরে বেড়ানোটা আজকাল বিনুদের নেশায় দাঁড়িয়ে গেছে। টমিদের খোঁজে এখন আর ব্যারাক পর্যন্ত যেতে হয় না। রাজদিয়ার রাস্তায়, স্টিমারঘাটে, নদীর পাড়ে ঝাউবনের দিকটায় সবসময় টমিগুলো টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে।

    একদিন বিনুরা দেখতে গেল, তাদের বাড়ি থেকে খানিকটা দূরে সেই কাঠের পুলটার ওপর দুই টমি একটা প্রকান্ড পাকা কাঁঠাল নিয়ে বসে আছে। খানিকটা দূরে মুসলমান চাষীদের এক জনতা উদগ্রীব দাঁড়িয়ে। মাঝে মাঝে টমি দু’টোকে দেখিয়ে ফিসফিস গলায় নিজেদের ভেতর কী বলাবলি করছে।

    বিনুরা প্রথমে চাষীদের কাছে গেল। শ্যামল শুধলল, কী ব্যাপার? কী হয়েছে?

    একটি জোয়ান চাষী জনতার ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে বলল, সাহেবগো কাছে আমরা একখান কাঠল (কাঁঠাল) বেচছি। কত দাম নিছি জানেন?

    কত?

    চাইর ট্যাকা।

    তাই নাকি!

    হ। কাঠলটার দাম বড় জোর আষ্ট আনা। নগদ সাড়ে তিনি ট্যাকা লাভ করলাম। একটা কাঠালে সাড়ে তিন টাকা লাভ করা দ্বিগ্বিজয়ের সমান। গর্বে ছোকরার বুক ফুলে উঠছিল।

    আরেকটি মধ্যবয়সী চাষী বলল, শালারা যে কই থিকা (কোত্থেকে) আসছে! যা দাম চাই হেই দিয়া দ্যায়। ট্যাকা-পহার উপুর দয়ামায়া নাই। একখান কাঠল বেইচা চাইর ট্যাকা পাওন যায় বাপের জম্মে অ্যামন কথা শুনি নাই।

    আরেক জন বলল, যা দ্যাখে শালারা হেই কিনে (তাই কেনে)। হেই দিন আমি তো আড়াই ট্যাকায় একখান কুমড়া বেচছিলাম।

    তারপর দেখা গেল, শুধু কুমড়োই না, অবিশ্বাস্য অকল্পনীয় দামে আরও অনেক অনেক কিছু টমিদের কাছে বিক্রি করেছে।

    অশোক এই সময় বলে উঠল, কাঁঠাল তো বেচ্ছে, আবার দাঁড়িয়ে রয়েছ কেন?

    সেই জোয়ান চাষীটি বলল, সাহেবরা আমাগো কী জানি কইতে আছে, বুঝতে পারতে আছি না।

    মধ্যবয়সীটি বলল, অ্যামন তরাতরি এংরাজি কয় য্যান ছাগলে নাইদা (নেদে) যায়। কার সাইদ্য বোঝে! ভাবখানা এই, তাড়াতাড়ি না বলে ধীরে সুস্থে বললে সে ইংরেজি ভাষাটা অক্লেশে বুঝে ফেলত।

    অশোক কী বলতে যাচ্ছিল, সেই সময় টমি দুটো ডাকল, ইউ গায়—

    বিনুরা ফিরে তাকাতে টমিরা হাতের ইশারায় ডাকল।

    টমিদের সঙ্গে সঙ্গে ঘুরে ঘুরে সাহস বেড়ে গিয়েছিল। এখন আর তাদের ভয় পায় না বিনুরা। অশোক বলল, চল, ব্যাটারা কী বলছে শুনে আসি।

    বিনু শ্যামল আর অশোক, তিনজনে পায়ে পায়ে পুলটার ওপর গিয়ে উঠল। উৎসুক জনতা পেছনে দাঁড়িয়ে থাকল।

    একটা টমি শুধোলে, নো ইংলিশ? অর্থাৎ অশোকরা ইংরেজি জানে কি না, সেটাই তার জিজ্ঞাস্য।

    অশোক বলল, ইয়েস।

    কাঁঠালটা দেখিয়ে এবার টমিটা বলল, উয়াটস দিস?

    প্রথমে খুব চাপা গলায় অশোক বাংলায় বলে নিল, ব্যাটারা কী কিনেছে তাই জানে না। তারপর ইংরেজিতে বলল, ফুট।

    খায়?

    নিশ্চয়ই।

    কেমন করে খেতে হয়? বলে দূরের জনতাকে দেখিয়ে টমিরা বলল, ব্লাডিগুলোকে জিজ্ঞেস করছি, কিছু বলছে না।

    অশোক বলল, ওরা ইংরেজি জানে না, তাই তোমাদের কথা বুঝতে পারে নি।

    দ্যাট মে বি–

    এবার কাঁঠালটা ভেঙে খাওয়ার কায়দা দেখিয়ে দিল অশোক। একটা করে কোয়া মুখে পুরতে যেই স্বাদটা টের পাওয়া গেল আর যাবে কোথায়। দুই টমি চার হাতে কোয়া খুলে টপাটপ খেতে লাগল। খাওয়াটা সত্যিই দর্শনীয়। নিশ্বাস ফেলার যেন সময় নেই। বিচিসুদ্ধ কোয়াগুলো মুখ পুরে চিবোতে চিবোতে বিচিগুলো গালের পাশ দিয়ে বার করে দিচ্ছে।

    দেখতে দেখতে কাঁঠালটা শেষ হয়ে গেল। পড়ে রইল মাঝখানের মোটা ভুতি আর কর্কশ কাটাওলা ছালটা।

    খাওয়া তো হল। তারপরেই দেখা গেল আরেক সমস্যা। কাঁঠালের আঠায় হাত-মুখ, গাল-গলা, নাক, ভুরু, এমনকি জামা পর্যন্ত মাখামাখি হয়ে গেছে। টমিরা যতই ঘষে ঘষে তুলতে চাইছে ততই আঠা লেপটে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত বিরক্ত, বিব্রত হয়ে আবার অশোকের শরণ নিল তারা, এ গায়–

    অশোক বলল, ইয়েস—

    ব্লাডি আঠা তো তুলতে পারছি না।

    অশোক চৌকস ছেলে। বিনুদের দিকে তাকিয়ে বলল, শালাদের ট্যাক থেকে কিছু খসাচ্ছি। তারপর থেমে থেমে, ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে টমিদের উদ্দেশে বলল, আঠা তুলে দিতে পারি, পাঁচ টাকা লাগবে।

    ও, ইয়েস– হিপ পকেট থেকে এক মুঠো রেজগি আর নোট বার করে একটা টমি অশোকের হাতে দিল, গুনল না পর্যন্ত।

    অবশ্য গুনল–প্রায় সাত টাকার মতো। টাকাটা পেয়েই সে বিনুকে বলল, তোমাদের বাড়ি তো কাছে। শিশিতে করে সরষের তেল নিয়ে এস। একটু বেশি করেই এনো।

    সরষের তেল এলে তিন বন্ধু ডলে ডলে টমিদের হাত আর মুখ থেকে কাঁঠালের আঠা তুলে ফেলল।

    টমি দুটো বেজায় খুশি। মাথা নেড়ে বলল, থ্যাঙ্ক ইউ, থ্যাঙ্ক ইউ, কাম অন– বলে তিনজনের হাত ধরে কঁকিয়ে কঁকিয়ে কাঁধের জোড় প্রায় আলগা করে ফেলল।

    উচ্ছ্বাস খানিকটা স্তিমিত হলে টমি দু’টো বলল, সিট ডাউন। এস, তোমাদের সঙ্গে গল্প করি।

    বিনুরা বসল।

    দুই টমি জড়ানো জড়ানো উচ্চারণে কত কথা যে বলতে লাগল। ক্লাস নাইনের ইংরেজি বিদ্যেয় তার সামান্যই বুঝতে পারল বিন, বেশিটা দুর্বোধ্য থেকে গেল। অশোক অবশ্য টমিদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সমানে ইয়েস’ নো’ করে যেতে লাগল। তবে একটা কথা জানা গেল, রাজদিয়া আসার আগে টমি দু’টো কলকাতায় ছিল।

    অনেকক্ষণ গল্পটল্প করার পর একটা টমি হঠাৎ বলে উঠল, হেঃ গায়—

    অশোক জিজ্ঞাসু চোখ তাকাল, ইয়েস–

    একটি চোখ কুঁচকে আরেকটা চোখ ইঙ্গিতপূর্ণ করে চাপা গলায় টমিটা বলল, বিবি হাউস মালুম? কলকাতায় থাকার ফলস্বরূপ দু’চারটি হিন্দি শব্দও তারা শিখে এসেছে।

    একটু ভেবে অশোক বলল ইয়েস—

    ইউ গুড গায়। আমাদের নিয়ে চল—

    টেন রুপিজ–অশোক বলল। অর্থাৎ দশটি টাকা দিলে, তবেই বিবি হাউসের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে আসবে।

    ইয়া ইয়া–হিপ পকেট থেকে আবার এক মুঠো নোট টোট বার করে অশোককে দিল টমিটা।

    বিবি হাউসে’র ব্যাপারে টমি দু’টোর প্রচন্ড উৎসাহ। টাকা দিয়েই লাফ দিয়ে উঠে পড়েছে তারা এবং অশোকের হাত ধরে টানাটানি শুরু করেছে।

    অগত্যা অশোকদের উঠতেই হল। এই সময় বিনু অশোকের কানে ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল, বিবি হাউস কী?

    অবাক চোখে একটুক্ষণ তাকিয়ে থেকে অশোক বলল, জানো না!

    না। বিনু বিমূঢ়ের মতো মাথা নাড়ল।

    অশোক বলল, পরে বলব। তারপর আঙুল কামড়াতে কামড়াতে গলাটা নামিয়ে দিল, বিবি হাউস’-এর নাম করে তো দশ টাকা আদায় করলাম। এখন ব্যাটাদের কোথায় নিয়ে যাই? পরক্ষণে কী মনে পড়তে তার চোখের তারা নেচে উঠল, হয়েছে–

    বিনু শুধলো, কী?

    ব্যাটাদের এক জায়গায় নিয়ে যাব।

    কোথায়? চলই না। গেলে বুঝতে পারবে।

    অশোক টমিদের নিয়ে দক্ষিণ দিকের রাস্তা ধরল।

    পুলের তলায় জনতা এখনও দাঁড়িয়ে আছে। মাঝবয়সী সেই মুসলমানটি ভিড়ের ভেতর থেকে বলে উঠল, বাবু কাঠলের আঠা তোলনের লেইগা কত নিলেন?

    অশোক বলল, সাত টাকা।

    তাইলে এক কাঠল খাইতে এগার ট্যাকা লাইগা গেল!

    উত্তর না দিয়ে অশোক হাসল।

    লোকটা আবার শুধলো, সৈন্য দুইটা আরও ট্যাকা দিল না আপনেরে?

    দ্বিতীয় বার টাকা দেওয়াও সে তা হলে লক্ষ করেছে। ব্যাপারটা স্বীকার করতেই হল অশোককে।

    মধ্যবয়সী বলল, এই টাকাটা পাইলেন কোন খাতে?

    খানিক চিন্তা করে অশোক বলল, সে তোমাকে পরে বলব।

    অহন ওগো নিয়া চললেন কই?

    শ্বশুরবাড়ি দেখাতে।

    দক্ষিণ দিকে খানিকটা যাবার পর অশোকরা পুবে ঘুরল। তারপর কোনাকুনি কিছুক্ষণ হেঁটে বাংলো মতো একটা বাড়ির সামনে এসে দাঁড়াল। বাইরে থেকেই অশোক বলল, যাও, ভেতরে যাও– বলেই পেছন ফিরে বিনুদের নিয়ে দৌড়। মুহূর্তে এর রান্নাঘর, ওর বাগান, তার চেঁকিঘরের ওপর দিয়ে উধাও হয়ে গেল।

    বিনুরা থামল একেবারে তাদের পুকুরপাড়ে এসে। ঘাটে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে বসে তিনজন অনেকক্ষণ হাঁপাল।

    তারপর বিনু বলল, যেখানে টমি দু’টোকে দিয়ে এলে, ওটা তো পুলিশের বড়সাহেব মিস্টার রজার্সের বাড়ি–

    যেন বিরাট এক কীর্তি করেছে, ভুরু নাচিয়ে নাচিয়ে কায়দা করে কিছুক্ষণ হাসল অশোক। তারপর বলল, ইচ্ছে করেই তো দিয়ে এলাম। একটু পর খোঁজ নিলে জানতে পারবে বাছাধনদের হাড় মাংস আলাদা করে রজার্স সাহেব মিলিটারি পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। উল্লুকরা বাংলা দেশে এসে ‘বিবি হাউস’ খুঁজছে!,

    চকিতে সে কথাটা মনে পড়ে গেল বিনুর। বলল, ‘বিবি হাউস’ মানে কী, বললে না তো?

    কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে কী বলল অশোক। শুনতে শুনতে নাকমুখ ঝাঁ ঝাঁ করতে লাগল বিনুর, মাথা ঝিমঝিম করতে লাগল।

    কলকাতা থেকে জ্ঞানবৃক্ষের অনেক ফল নিয়ে এসেছে অশোক। একটা একটা করে বিনুকে খাওয়াতে শুরু করেছে সে।

    .

    ২.৩২

    দিনকয়েক পরের কথা।

    বিকেলবেলা স্কুল থেকে ফিরছিল বিনুরা। স্টিমারঘাটের সামনে আসতেই চোখে পড়ল, একটা পান-বিড়ি-সিগারেটের দোকানে ভিড় জমেছে।

    কৌতূহলের বশে বড় বড় পা ফেলে কাছে আসতেই বিনুরা দেখতে পেল, একটা টমি একের পর এক সিগারেটের প্যাকেট কিনছে, তারপর সেগুলো খুলে হরিলুটের মতো ছড়িয়ে দিচ্ছে।

    চারপাশের মানুষগুলো যেন চোখমুখ শানিয়ে দাঁড়িয়ে আছে; সিগারেট ছড়ালেই ঝাঁপিয়ে পড়ছে।

    বিনুরা একপাশে দাঁড়িয়ে মজা দেখতে লাগল।

    হঠাৎ টমিটার চোখ বোঁ করে ঘুরে এসে পড়ল বিনুদের ওপর। দেখেই বোঝা গেল, মদে চুর হয়ে আছে সে। তারই মধ্যে হিপ পকেট থেকে চ্যাপটা বোতল বার করে মাঝে মাঝে গলায় ঢালছে।

    আচমকা টমিটা চেঁচিয়ে উঠল, ইউ ব্লাডি সোয়াইন—

    বিনুরা ভয় পেয়ে গেল।

    টমিটা ছুটে এসে অশোকের কলার চেপে ধরে চেঁচাল, ইউ আর স্ট্যান্ডিং–

    অমন যে তুখোড় ছেলে অশোক, সেও একেবারে তোতলা হয়ে গেল, ইয়ে-এ-এ-এস স্যার—

    ওয়াই?

    ফর নাথিং স্যার, ফর নাথিং—

    টমি গর্জে উঠল, নো–

    মাতালটা ঠিক কী বলতে চায়, বুঝতে না পেরে চুপ করে রইল অশোক। ভয়ে তার হাত-পা কাঁপতে লাগল। চোখের তারা যেন ঠিকরে বেরিয়ে আসবে।

    হঠাৎ টমিটা ধাক্কা দিয়ে অশোককে দশ হাত দূরে সরিয়ে দিল। তারপর সিগারেট কিনে ছড়াতে ছড়াতে বলল, টেক টেক–

    এতক্ষণে বোঝা গেল। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মজা দেখলে চলবে না, সবার সঙ্গে কাড়াকাড়ি করে হরির লুটের সিগারেট নিতে হবে। কী আর করা, সিগারেট কুড়োতেই হল।

    বিনু আর শ্যামল দাঁড়িয়ে ছিল। টমির ভয়ে তাদেরও সিগারেট কুড়োতে হল। কুড়িয়ে যদি মুক্তি পাওয়া যেত! দাঁত-মুখ খিঁচিয়ে টমিটা চিৎকার করল, ইউ ব্লাডি স্মোক।

    বিনু ভাবল, একদিন আশু দত্ত রুস্তম আর পতিতপাবনের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন। এই নদীর পাড়ে স্টিমারঘাটের আশে পাশে এমন কেউ নেই যে তাকে বাঁচাতে পারে।

    সিগারেট খাওয়ার কথা ভাবাই যায় না। গলার ভেতরটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছিল বিনুর। হাতের আঙুলগুলো থরথর করছিল। মনে হচ্ছিল, মাথাটাথা ঘুরে পড়েই যাবে।

    টমির আরেকটা হুঙ্কারে সিগারেট ধরিয়ে টান লাগাল বিনু।

    .

    সেই যে একটা নিষিদ্ধ রাজ্যের দরজা খুলে গিয়েছিল, তারপর থেকে নদীর পাড়ে লুকিয়ে ঝাউবনের ভেতর ঢুকে দুই বন্ধুর সঙ্গে সিগারেট খেতে লাগল বিনু। সিগারেট টমিরাই বেশি যোগাত, মাঝে মাঝে তারা নিজেরাও কিনত।

    এ ব্যাপারে ভয় আছে, পাছে কেউ দেখে ফেলে। তবু লুকিয়ে লুকিয়ে নিষিদ্ধ কিছু করার ভেতর বিচিত্র এক উত্তেজনাও রয়েছে। সিগারেট টানতে টানতে বিনুর মনে হতে লাগল, সে যেন আর বাচ্চাদের দলে নেই, সিগারেটের ধোঁয়ায় চড়ে হঠাৎ অনেক বড় হয়ে গেছে।

    সিগারেট খেয়ে চোরের মতো বাড়ি ফেরে বিনু। চনমন করে সবাইকে লক্ষ করে, সহজে কারোর কাছে ঘেঁষতে চায় না। তার আশঙ্কা, বুঝিবা তার মুখ থেকে কেউ সিগারেটের গন্ধ পেল।

    মোটামুটি এইভাবে চলছিল।

    হঠাৎ এক ছুটির দিনের বিকেলবেলা বিনু বেরুচ্ছে, ঝিনুক কাছে এসে দাঁড়াল। বলল, বেড়াতে যাচ্ছ?

    শ্যামল আর অশোক স্টিমারঘাটের কাছে দাঁড়িয়ে থাকবে। বিনু সংক্ষেপে উত্তর দিল, হ্যাঁ– বলেই ব্যস্তভাবে উঠোনে নেমে গেল।

    পেছন থেকে ঝিনুক ডাকল, বিনুদা—

    বেরুবার মুখে বাধা পড়ায় বিনু বিরক্ত। পেছন ফিরে রুক্ষ গলায় বলল, কী বলছ?

    তোমার সঙ্গে কথা আছে।

    পরে শুনব।

    না, এক্ষুনি।

    লম্বা লম্বা পা ফেলে ঝিনুকের কাছে ফিরে এল বিনু। চোখটোখ কুঁচকে বলল, কী বলবে, তাড়াতাড়ি বল–

    ঝিনুক হাসল, অত তাড়া কেন? বন্ধুরা বুঝি দাঁড়িয়ে আছে?

    শ্যামল আর অশোক যে তার সব সময়ের সঙ্গী, এ কথা জানতে আর কারোর বাকি নেই। বিনু কিছু বলল না, তার চোখ আরও কুঁচকে যেতে লাগল।

    ঝিনুক একটু ভেবে বলল, তুমি আজকাল একটা জিনিস খাচ্ছ?

    কী?

    তুমিই বল না—

    বুঝতে পারছি না।

    চারদিক ভাল করে দেখে নিয়ে খুব চাপা গলায় ঝিনুক বলল, সিগারেট।

    পলকে মুখখানা একেবারে কাগজের মতো সাদা হয়ে গেল। ভাল করে কথা বলতে পারল না বিনু। তোতলাতে তোতলাতে কোনও রকমে বলল, মিথ্যে কথা।

    মিথ্যে? বিনুর চোখের দিকে তাকিয়ে, মাথা ঝাঁকিয়ে বলল ঝিনুক।

    নিশ্চয়ই–বিনু খুব জোর দিয়ে বলতে চাইল বটে, কিন্তু গলার ভেতর থেকে দুর্বল একটা আওয়াজ বেরুল মাত্র।

    তা হলে তোমার পকেট থেকে সিগারেট বেরুল কেমন করে?

    আমার পকেট থেকে?

    আজ্ঞে হ্যাঁ, মশাই।

    বিনু কিছু বলতে চেষ্টা করল, পারল না। তার বুকের ভেতরটা ঢাকের আওয়াজের মতো গুর গুর করতে লাগল।

    ঝিনুক আবার বলল, ধোপাবাড়ি পাঠাবার জন্যে মাসিমা আমাকে তোমার ময়লা জামা আনতে বলেছিল। পকেট টকেটগুলো দেখে নিচ্ছিলাম, যদি পয়সাকড়ি কিছু থাকে। পয়সার বদলে ও মা, একেবারে সাপ বেরিয়ে পড়ল–

    বিনুর এবার মনে পড়ে গেল, সেদিন টমিদের কাছ থেকে থেকে অনেকগুলো সিগারেট যোগাড় করেছিল। ঝাউবনে বসে কয়েকটা টেনেছিল, ক’টা রেখেছিল পকেটে। ভেবেছিল, পরে ফেলে দেবে। অসাবধানে ফেলে দিতে ভুলে গেছে।

    শ্বাস আটকে আসছিল বিনুর। নাকের ডগাটা ঝি ঝি করছিল। সমস্ত শরীর যেন অসাড় হয়ে আসছে। কোনও রকমে সে বলতে পারল, মাকে সিগারেট দেখিয়েছ নাকি?

    আস্তে আস্তে মাথা হেলিয়ে দিল ঝিনুক, হুঁ—

    বিনুর হৃৎপিন্ডটা লাফ দিয়ে গলার কাছে উঠে এল যেন, সত্যি?

    একদৃষ্টে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল ঝিনুক। তারপর মাথাটা ধীরে ধীরে দু’ধারে নাড়ল। অর্থাৎ বলে নি।

    সত্যি বলছ?

    হুঁ—

    আমাকে ছুঁয়ে বল।

    বিনুর গায়ে আঙুল ঠেকিয়ে বলল, হল তো?

    এতক্ষণে সহজভাবে শ্বাস টানতে পারল বিনু। একটু হেসে বলল, বাঁচালে।

    এই প্রথম, এই শেষ। এর পর খেলে আর বাঁচাব না। ঠিক মাসিমাকে বলে দেব।

    আর খাবই না।

    শ্যামলদা আর অশোকদার সঙ্গে মিশে মিশে তুমি খারাপ ছেলে হয়ে যাচ্ছ।

    বিনু এ কথার উত্তর না দিয়ে বলল, সিগারেটগুলো কোথায়?

    ঝিনুক বলল, আমার কাছে।

    বিনু মুখ কাঁচুমাচু করে অনুনয়ের গলায় বলল, আমাকে দিয়ে দাও না—

    ঝিনুক বলল, উঁহু—

    দাও না, দাও না—

    না। ওগুলো আমার কাছে থাকবে।

    সিগারেট দিয়ে তুমি কী করবে?

    তুমি যদি আমার কথা না শোন, মাসিমাকে-দাদুকে-দিদা, সবাইকে দেখাব।

    কী সাঙ্তিক মেয়ে! বিনুর মনে পড়ল, কুমার সঙ্গে কাউফল পাড়তে গিয়ে মাঠের জলে ডুবে গিয়েছিল। সেই কথাটা মাকে বলে দেবে, এই ভয় দেখিয়ে অনেক দিন ঝিনুক তাকে তটস্থ করে রেখেছে, এক মুহূর্তও সুখে থাকতে দেয় নি।

    জলে ডোবার ব্যাপারটা মলিন হয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে পকেট থেকে সিগারেট বেরুল। আর কী আশ্চর্য, তার যত কুকীর্তি, সবই কিনা ঝিনুকের হাতে ধরা পড়ছে। ভাগ্যিস ঝিনুক ধরেছে। অন্য কারোর হাতে পড়লে কী যে হত, ভাবতে সাহস হয় না।

    বিনু আর পীড়াপীড়ি করল না। শুধু বলল, সিগারেটগুলো একটু লুকিয়ে রেখো, কেউ যেন দেখে না ফেলে।

    সে তোমাকে বলতে হবে না। এমন জায়গায় রেখেছি, কাতোর সাধ্যি নেই খুঁজে পায়।

    একটু চুপ করে থেকে বিনু বলল, আমি তা হলে এখন যাই?

    আস্তে আস্তে মাথা ঝাঁকাল ঝিনুক, উঁহু–এইভাবে মাথা ঝাঁকানো তার কতকালের অভ্যাস।

    না গিয়ে এখন কী করব?

    আমার সঙ্গে ক্যারাম খেলবে।

    নদীর পাড়ে, ঝাউবনে কি স্টিমারঘাটের ওধারে মিলিটারি ব্যারাকে কোথায় অশোকদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াবে তা নয়। শুধু বাড়িতে বসে থাকো। করুণ গলায় বিনু বলল, ক্যারাম?

    হ্যাঁ। নতুন বন্ধু পেয়ে আজকাল বাড়িতেই থাকো না। এখন আমার সঙ্গে খেলতেই হবে।

    জলে ডোবার পর এই নতুন এক মারণাস্ত্র পেয়ে গেছে ঝিনুক। নাঃ, মেয়েটার হাত থেকে কোনও দিন মুক্তি নেই।

    বিষণ্ণ মুখে ক্যারাম খেলতে বসে গেল বিনু।

    .

    ২.৩৩

    ঝিনুকের কাছে ধরা পড়বার পর অশোকদের এড়িয়ে চলতে লাগল বিনু। আজকাল টিফিনের সময় তাদের ফাঁকি দিয়ে স্কুলের পেছন দিকের সোনাল ঝোপে গিয়ে একা বসে থাকে। ছুটি হলেই চোখকান বুজে বাড়ির দিকে ছোটে।

    কিন্তু ক’দিন আর। একদিন ছুটির পর চারদিক দেখে ছুটতে যাবে, তার আগেই অশোকরা ধরে ফেলল।

    শ্যামল বলল, কি ভাই, আজকাল যে আমাদের সঙ্গে মিশতেই চাও না।

    বিনু আবছা গলায় বলল, না, মানে পরীক্ষা এসে গেল। তাই–

    চোখের তারা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে অশোক বলল, হঠাৎ গুড বয় হয়ে গেলে যে! পরীক্ষা বুঝি আমাদের নেই?

    না, মানে—

    বার বার মানে মানে কী করছ? এস—

    কোথায়?

    বা রে, তুমি দেখছি এ ক’দিনে সব ভুলে গেছ! ছুটির পর আমরা যেখানে যাই সেখানেই যাব। স্টিমারঘাটে, টমিদের ব্যারাকে, ঝাউবনে–

    তীব্র আকর্ষণ বোধ করছিল বিনু, আবার ভয়ও লাগছিল। শেষ পর্যন্ত ভয়ের দিকটাই ভারী হয়ে দাঁড়াল। বিনু বলল, তোমরাই যাও ভাই, আমার বাড়িতে একটু কাজ আছে।

    কোনও কাজ নেই।

    জোর করে বিনুকে টানতে টানতে অশোকরা ঝাউবনে নিয়ে গেল। গাছের আড়ালে বসে অশোক পকেট থেকে সিগারেট বার করল।

    দেখেই বিনু হাত নেড়ে ভয়ে ভয়ে বলল, আমি কিন্তু ভাই সিগারেট খাব না।

    কেন?

    ঝিনুকের কাছে যে ধরা পড়ে গেছে তা আর জানায় না বিনু। শুধু বলল, এমনি।

    একদৃষ্টে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে আঙুলের ডগায় বিনুর থুতনিটা নাড়তে লাগল অশোক। ঠাট্টার গলায় বলল, সিগারেট তো খাবে না, তা হলে কী খাবে? ডুডু? কচি খোকা! বলতে বলতে একটা সিগারেট বিনুর ঠোঁটের ফাঁকে গুঁজে দিয়ে ফস করে দেশলাই ধরাল।

    .

    কয়েক দিনের জন্য ঝিনুক বিনুকে ফিরিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু অশোকদের টান এত প্রবল, নিষিদ্ধ জিনিসের আকর্ষণ এত তীব্র যে আবার সে ভেসে যেতে লাগল।

    অশোকদের সঙ্গে ফের ঘুরতে শুরু করেছে বিনু, আবার লুকিয়ে সিগারেট খাচ্ছে। যুদ্ধ লাগবার পূর্ব বাংলার হৃদয়ের গভীরে লুকানো এই মায়াবী রাজদিয়াকে ঘিরে যে উদভ্রান্ত ঘূর্ণি ঘুরে চলেছে তা যেন হাজার হাতে তাকে টানতে লাগল। বিনুকে ফেরাতে পারে তেমন শক্তি ঝিনুকের ক্ষুদ্র দুর্বল বাহুতে নেই।

    অশোকদের পাল্লায় পড়ে সিগারেট টানে বটে, তবে আগের চাইতে অনেক বেশি সাবধান হয়ে গেছে বিনু। বাড়ি ফেরার সময় ভাল করে পেয়ারা পাতা চিবিয়ে নেয়, যাতে মুখে গন্ধ না থাকে। পকেট টকেটগুলো অনেক বার করে দেখে উলটে পালটে।

    মোটমুটি এইরকম চলছিল।

    হঠাৎ একদিন অঘটন ঘটে গেল। সেদিন আর ঝাউবনে বসে সিগারেট খাচ্ছিল না বিনুরা। সাহস দেখাবার জন্য বড় রাস্তা দিয়ে তিন বন্ধু বুক ফুলিয়ে হাঁটছিল, তাদের ঠোঁটের একধারে সিগারেট ঝুলছে। ভাবখানা এই, কাউকে পরোয়া করি না।

    ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে যখন তারা আদালতপাড়ার কাছে এসেছে, সেই সময় বিনু টের পেলে একটা কর্কশ শক্ত হাত কানে সাঁড়াশির মতো চেপে বসেছে।

    চমকে পেছনে ফিরতেই বিনু দেখতে পেল–মজিদ মিঞা। মুখ থেকে সব রক্ত যেন নিমেষে নেমে গেল, ঠোঁট থেকে সিগারেট খসে পড়ল। ভয়ে চোখের তারা স্থির, হাত-পা একেবারে জমে গেছে।

    মজিদ মিঞাকে চেনে না অশোক। একটি অপরিচিত মুসলমানকে বিনুর কান ধরতে দেখে প্রথমটা হকচকিয়ে গিয়েছিল সে। তার পরেই রুখে উঠল, আপনি ওর কান ধরছেন যে?

    মজিদ মিঞা বলল, বেশ করছি।

    আপনি কি ওর গার্জেন?

    গার্জেন-গুর্জেন উই হগল এংরাজি বুঝি না। অর কানটা যদিন ছিড়াও ফেলাই কেউ কিছু কইব। কানটা তো পেরথমে ছিড়মই। হের পর ভাইবা দেখুম, আর কী করন দরকার– বলে বিনুর কানে প্রচন্ড এক মোচড় দিল মজিদ মিঞা।

    অশোক এবার ধমকের গলায় বলল, ভাল চান তো শিগগির ওর কান ছেড়ে দিন।

    ছামরা তর কথায় নিকি?

    হ্যাঁ, আমার কথায়।

    মোচের র‍্যাখ (রেখা) পড়ে নাই, গলায় টিফি দিলে (টিপলে) মায়ের দুধ উইঠা আসব। ওই বসে (বয়সে) সিগরেট খাও, আবার চোখ লাল কর! র’ ছ্যামরা, তরে মজা দেখাই। বিনুর কানটা ডান হাতে ধরা ছিল, বাঁ হাত দিয়ে ঠাস করে অশোকের গালে এক চড় কষিয়ে দিল মজিদ মিঞা। সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় ঘুরে পড়ল অশোক।

    মজিদ মিঞা একাই ছিল না। তার সঙ্গে অন্য একটা লোকও ছিল। অশোক পড়ে যেতেই মজিদ মিঞা সঙ্গীকে বলল, ধর তো ছ্যামরারে, কত বড় বান্দর হইছে একবার দেখি।

    মজিদ মিঞার মুখ থেকে কথা খসবার আগেই লোকটা বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে অশোককে ধরে ফেলল। ব্যাপার সুবিধের নয় বুঝে শ্যামল এই সময় ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুট লাগাল।

    পেছন থেকে মজিদ মিঞা চেঁচিয়ে বলল, তোমারে আমি চিনি বাসী, তৈলোক্য স্যানের নাতি তুমি। লৌড়াইয়া (দৌড়ে) পলাইবা কই? যাইতে আছি তোমাগো বাড়ি।

    এদিকে অশোককে টানতে টানতে সেই লোকটা সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে। মজিদ মিঞা তার পা থেকে মাথা পর্যন্ত একবার দেখে নিয়ে জিজ্ঞেস করল, কাগো বাড়ির পোলা তুমি?

    অশোকের অবস্থা অবর্ণনীয়। এত যে তুখোড় সে, এত চৌকস, চোখে মুখে যার কথার খই ফোটে, একটু আগেও যে রুখে উঠছিল, এখন তার ঠোঁট কাঁপছে, চোখ জলে ভরে গেছে।

    মজিদ মিঞা ধমকে উঠল, কী হইল, মুখ দিয়া দেখি রাও (শব্দ) বাইর হয় না!

    কাঁদো কাঁদো মুখে অশোক বলল, আর কক্ষনো করব না।

    কান্‌তে (কাঁদতে) আরম্ভ করলা দেখি। গজ্জন তজ্জন গ্যাল কই? কান্দনে আমি ভুলুম না। কুন বাড়ির পোলা আগে কও। না কইলে কিলাম ল্যাঠা আছে।

    ভয়ে ভয়ে অশোক এবার বলল, গোঁসাইবাড়ির–

    তোমার বাপের নাম কী?

    অনন্তকুমার গোস্বামী।

    হঠাৎ ভীষণ রেগে উঠল মজিদ মিঞা। অশোকের গালের কাছে হাত নিয়ে এসে চিৎকার করে উঠল, হারামজাদা, বাপেরে সোম্মান দিতে জান না! নামের আগে শিরিযুক্ত বাবু বসাইতে মানে লাগে!

    মুখ নামিয়ে চুপ করে রইল অশোক।

    মজিদ মিঞা এবার তার সঙ্গীকে বলল, কাশমা, তুই উই ছ্যামরারে গোসাইবাড়ি লইয়া যা। আমি হ্যামকত্তার বাড়ি থিকা আইতে আছি।

    কাশমা অর্থাৎ কাশেম অশোককে নিয়ে চলে গেল। আর মজিদ মিঞা বড় রাস্তার ওপর দিয়ে বিনুর কান ধরে টানতে টানতে তাদের বাড়ি নিয়ে গেল। তার এমন ভয়ানক চেহারা আগে আর কখনও দেখেনি বিনু।

    হেমনাথ অবনীমোহন স্নেহলতা সুরমা, সবাই বাড়িতেই ছিলেন। মজিদ মিঞা আর বিনুকে এভাবে আসতে দেখে তারা উদ্বিগ্ন মুখে বেরিয়ে এলেন।

    হেমনাথ শুধদলেন, কী হয়েছে রে মজিদ?

    সংক্ষেপে সব ঘটনা বলে গেল মজিদ মিঞা। শুনতে শুনতে অবনীমোহন সুরমা এবং স্নেহলতার নিশ্বাস যেন বন্ধ হয়ে এল। অবনীমোহন মাথায় হাত দিয়ে সেখানেই বসে পড়লেন। স্নেহলতা আর সুরমা কিছু বলতে চেষ্টা করলেন, গলা দিয়ে তাদের স্বর বেরুল না। সুধা সুনীতি ফিসফিস করে নিজেদের ভেতর কী বলাবলি করতে লাগল। আর স্তব্ধ মুর্তির মতো একধারে দাঁড়িয়ে রইল ঝিনুক।

    হেমনাথ একদৃষ্টে, পলকহীন তাকিয়ে ছিলেন। কথাটা যেন তিনি বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। অনেকক্ষণ পর আস্তে করে বললেন, বলিস কী!

    হ ঠাউর ভাই। এইর এট্টা বিহিত করেন। মজিদ মিঞা বলতে লাগল, অহনও সোময় আছে। পোলা চৌখের সামনে নষ্ট হইয়া যাইব, এ আমি সইতে পারুম না।

    হেমনাথ হঠাৎ যেন খেপে উঠলেন, বিহিতের জন্যে আমার কাছে ধরে এনেছিস কেন, নিজে শাসন করতে পার নি? তুমি ওর কেউ হও না?

    অবনীমোহন এই প্রথম কথা বললেন, হ্যাঁ হ্যাঁ, আপনি যা ভাল বোঝেন করুন। আমি তো ভাবতেই পারি না, ছেলেটা এত বড় উল্লুক হয়ে উঠেছে!

    মজিদ মিঞা আবেগের গলায় বলল, হ, আমারই শাসন করা উচিত আছিল। আমি পরের লাখান কাম করছি। এইবার আপন মাইনষের লাখান কাম করি। বলে উঠোনের এক ধারে একটা খুঁটির সঙ্গে বিনুকে কষে বাঁধল। তারপর কোত্থেকে একটা কাঠের লম্বামতো টুকরো যোগাড় করে এনে সমানে। মারতে লাগল।

    একেকটা ঘা পড়ছে আর চামড়া ফেটে ফেটে রক্ত ছুটছে। বিনু আকাশ ফাটিয়ে চেঁচাতে লাগল, আমাকে মেরে ফেলল, আমাকে মেরে ফেলল। আর কক্ষনো ও কাজ করব না।

    দেখাদেখি ঝিনুকও কান্না জুড়ে দিল। ফেঁপাতে ফেঁপাতে বলল, বিনুদাকে মেরে ফেললে গো–

    স্নেহলতাও ঝিনুকের সঙ্গে সুর ধরলেন, মজিদ, আর ওকে মেরো না।

    অবনীমোহন বললেন, মারুন আপনি, মেরে শেষ করে দিন। এরকম ছেলের দরকার নেই আমার।

    সুরমাও তা-ই বললেন। হেমনাথ উঠে গিয়ে স্নেহলতা আর ঝিনুককে রান্নাঘরে দিয়ে এলেন।

    একসময় মেরে টেরে মজিদ মিঞা চলে গেল।

    মারের চোটে কত জায়গায় যে কেটে গেছে। হাত-পায়ের আর কিছু নেই, ফুলে ডুমো ডুমো হয়ে উঠেছে। রক্ত জমাট বেঁধে জায়গায় জায়গায় কালশিটে পড়ে গেছে। ব্যথার তাড়সে সন্ধেবেলায় জ্বর এসে গেল বিনুর। ধুম জ্বর।

    জ্বর আসার খানিকক্ষণ পর হাঁড়িভর্তি রসগোল্লা, মোহনবাঁশি কলার ছড়া আর একটা নতুন ফুটবল নিয়ে আবার এল মজিদ মিঞা। বাড়িতে পা দিয়েই বিনুর খোঁজ করল।

    হেমনাথ বললেন, ওর জ্বর এসেছে।

    জুর! মজিদ মিঞা চমকে উঠল, বিনু কই?

    পুবের ঘরে শুয়ে আছে।

    পাগলের মতো ছুটে পুবের ঘরে ঢুকল মজিদ মিঞা। তারপর বিনুর মাথার কাছে ফুটবল, মিষ্টির হাঁড়িটাড়ি রেখে, তার সারা গায়ে হাত বুলোতে বুলোতে কাঁদতে লাগল, অয় রে, কী পাষাণ পরান আমার, দুধের শিশুরে মাইরা ফেলাইলাম–

    কিছুক্ষণ হাত বুলোবার পর মজিদ মিঞা চলে গেল। ঘন্টাখানেক পর লারমোরকে নিয়ে আবার এসে হাজির হল। বলল, দ্যাখেন লালমোহন সাহেব, পোলায় নি আমার বাচব! বলে তার কী কান্না।

    অবনীমোহন হেমনাথ যত বোঝন, জ্বর হয়েছে, সেরে যাবে–মজিদ মিঞা শোনে না। তার কান্না বাড়তেই লাগল, অয় রে, কী পাষাণ পরান আমার–

    সারা রাত বিনুর শিয়রে জেগে বসে থাকল মজিদ মিঞা।

    .

    এরই ভেতর একদিন ঢাকা ইউনিভাটির এম.এ পরীক্ষার রেজাল্ট বেরিয়ে গেল। যা আশা করা গিয়েছিল, তা-ই হল। হিরণ ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছে।

    কলেজের চাকরি হয়েই ছিল। রেজাল্ট বেরুবার পর রাজদিয়ায় এসে প্রফেসারি নিল হিরণ।

    .

    ২.৩৪

    জ্বর ছাড়ার পর অবনীমোহনের সঙ্গে একদিন সুজনগঞ্জের হাটে গেল বিনু। হেমনাথ আসেন নি। ক’দিন ধরে তার জ্বর, একেবারে শয্যাশায়ী হয়ে আছেন। বিনু সেরে উঠবার পরই তিনি জ্বরে পড়েছেন।

    দু’বছর হল বিনুরা রাজদিয়া এসেছে। এই প্রথম হেমনাথকে সে অসুস্থ হতে দেখল।

    হাটে পা দিতেই বিনুদের কানে এল, সুজনগঞ্জে চাল পাওয়া যাচ্ছে না। এতবড় একটা গঞ্জ, যেখানে ফি হাটে কম করে হাজার, দেড়-হাজার মণ ধান-চাল বিকিকিনি হয় সেখানে একদানা শস্যও নেই। নদীর ধার ঘেঁষে সারি সারি আড়তগুলোতে তালা ঝুলছে। পুব দিকে হাটুরে চালার তলায় চারপাশের গ্রাম থেকে চাষীরা ঘরে ভানা চাল এনে বসত। চালাগুলো আজ ফাঁকা।

    চাল নেই, চাল নেই।

    তামাকহাটা বেগুনহাটা মরিচবাটা–যেখানেই বিনুরা যাচ্ছে, সন্ত্রস্ত গুঞ্জন শুনতে পাচ্ছে।

    হায় আল্লা, বাজারে চাউল নাই। নিজেরা খাই কী? পোলাপানরে  বাঁচাই ক্যামনে?

    হে ভগমান, অদ্দিষ্টে কী যে আছে!

    বিনুরা দেখতে পেল, হাটের নানা জায়গায় থোকা থোকা ভিড় জমেছে। সবাই ভয়ার্ত, বিহ্বল, দিশেহারা। চাল ছাড়া আর কেউ কোনও কথা বলছে না।

    ঘুরতে ঘুরতে মাছ ব্যাপারি গয়জদ্দির সঙ্গে দেখা। সে বলল, হাটে কুন সময় (কখন) আইলেন জামাইকত্তা?

    অবনীমোহন বললেন, একটু আগে।

    খপর শুনছেন?

    হ্যাঁ, শুনলাম।

    পঞ্চাশ ষাইট বচ্ছর ব’স (বয়স) হইল, চাউলের অ্যামন আকাল আর দেখি নাই। ঘরে এক পাসারি চাউল আছে, তিন ওক্ত কইরা খাইলে তিনদিনও চলব না। দুই ওক্ত কইরা খাইলে বড় জোর চাইর রোজ। হেরপর কী যে করুম!

    অবাক হয়ে অবনীমোহন বললেন, তোমার ঘরে মোটে এক পসারি চাল থাকবে কেন? তোমার না দশ কানি ধানের জমি!

    গয়জদ্দি কপালে চাপড় মেরে বলল, আর কইয়েন না জামাইকত্তা, বুদ্ধির দুষ (দোষ) আর লোভ। দুইয়ে পইড়া এইবার গুষ্ঠিসুদ্ধা মরলাম।

    কিরকম?

    ধান-চাউলের দর যহন চ্যাতনের (

    চার) মুখে হেই সোময় ঘরের বেবাক ধান-চাউল দিলাম বেইচা। টাকা হাতে পাইয়া মাথা গেল গরম হইয়া। চাষীর হাতে কাঁচা ট্যাকা। বুঝলেন জামাইকত্তা, বড় পোলার শাদি দিলাম। শাদির পর পনর দিন ধইরা খাওয়ানের কী চোট! আত্মবান্ধব মিলাইয়া চাল্লিশজন বাড়ি বইসা খাইল। রুজ মাছ। এই ব্যালা চিতল তো উই ব্যালা কাতল। হের উপুর গোস্ত, মিষ্টান্ন, পাতক্ষীর। অন্য পোলারা কমলাঘাটের বড় গুঞ্জ থিকা নয়া জোতা কিনা আনল, পিরহান কিনা আনল। টচ (টর্চ) বাত্তি, লুঙ্গি, ফন্টার পেন (ফাউন্টেন পেন), কত জিনিস যে কিনল! অহন ঘরে চাউলও নাই, ট্যাকাও নাই। অহন খালি কপাল থাপড়াই আর পাছা থাপড়াই। হগলই বুদ্ধির দুষ (দোষ)।

    অবনীমোহনদের কথা বলতে দেখে আরও অনেকে এসে দাঁড়িয়ে পড়েছিল। যেমন মোতালে নিকারি, মনা ঘোষ, বৃন্দাবন ভূঁইমালী- এমনি পনের কুড়িজন। তারাও একই কথা বলল। দর চড়তে দেখে অনেকেই ধান-চাল বেচে দিয়ে কাঁচা টাকা দু’হাতে উড়িয়ে দিয়েছে।

    মনা ঘোষ বলল, চাউলের কী করন? একখান বুদ্ধি দ্যান দেখি জামাইকত্তা—

    অবনীমোহন বললেন, কী বুদ্ধি দেব, আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।

    বৃন্দাবন ভূঁইমালী বলল, সুজনগুঞ্জে চাউল নাই। কাইল একবার মীরকাদিম, বেতকা, আউশইতে (আউটশাহীতে) যামু। দেখি পাওয়া যায় কিনা–

    মোতালেফ নিকারি এই সময় বলে উঠল, কুনোখানে চাউল নাই। আমার বইনের জামাই পরশু ঘুইরা আইছে।

    তয়?

    তয় আর কি, মরণ। একখান কথা শুনছ?

    কী?

    কাইল গিরিগুঞ্জের বাজারে দুইটা দোকান লুট হইছে।

    নিকি?

    হ।

    জন্ম ইস্তক চাউল লুটের কথা আর শুনি নাই।

    প্যাটের জ্বালায় মাইনষের মাথা ঠিক থাকে! লুটপাট তো হপায় (সবে) আরম্ভ হইল। দ্যাখ না, কী কান্ড হয়!

    আরেকখান কথা শুনছ?

    কী?

    ভাটির দ্যাশে চাউল না পাইয়া মাইনষে শাগ-পাতা খাইতে আছে।

    কী যে হইব!

    কথায় কথায় দুপুর হয়ে গেল। এখন সুর্যটা খাড়া মাথার ওপর উঠে এসেছে। অবনীমোহন কী বলতে যাচ্ছিলেন, সেই সময় বিষহরিতলার ওধারের মাঠ থেকে ঢাকের আওয়াজ ভেসে এল। চমকে বিনু দেখতে পেল, ঢেঁড়াদার হরিন্দ উঁচু প্যাকিং বাক্সের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তার দুই চেলা কাগা বগা সমানে ঢাক বাজিয়ে যাচ্ছে। এস.ডি.ও সাহেব একধারে চেয়ারে বসে আছেন, একটা লোক তাঁর মাথায় ছাতা ধরে দাঁড়িয়ে। চারপাশে অসংখ্য লাল পাগড়ি। নতুনত্বের ভেতর আজ কয়েকজন মিলিটারি অফিসারকে দেখা যাচ্ছে।

    বিনু ফিসফিস করে বলল, বাবা মিলিটারি এসেছে।

    অবনীমোহন বললেন, হ্যাঁ।

    আগে তো মিলিটারি দেখি নি।

    তিন চার হাট তুই আসিস নি, তাই জানিস না। আজকাল ফি হাটে মিলিটারি আসছে।

    কেন?

    যুদ্ধের জন্যে লোক যোগাড় করছে। একে রিক্রুট করা বলে।

    বিনু আবদারের গলায় বলল, বাবা, আমি রিক্রুট করা দেখব।

    খুব একটা ইচ্ছা ছিল না অবনীমোহনের। তবু ছেলে যখন ধরেছে, আর না বলতে পারলেন না। বললেন, চল–

    বিষহরিতলার কাছে আসতে দেখা গেল, লারমোর ঝাকড়া বটগাছের তলায় যথারীতি তাঁর রোগীপত্তর নিয়ে বসে আছেন। এত যে ডামাডোল, আকাল, যুদ্ধ, সমস্ত জল-বাংলা জুড়ে যে এত দুর্ভিক্ষের দুর্ভাগ্যের ছায়া, সে সবের কোনও দিকেই লক্ষ্য নেই তার। বহুজনহিতায় বহুজনসুখায় এক প্রশান্ত ধ্যানের ভেতর তিনি মগ্ন হয়ে আছেন।

    বিষহরিতলা বাঁয়ে ফেলে খোলা মাঠের কাছে আসতে দেখা গেল, ঢাকের বাজনা থেমে গেছে। এর ভেতর হাটের নানা দিক থেকে মানুষ গিয়ে সেখানে জমা হতে শুরু করেছে।

    এস.ডি.ও সাহেব জমায়েতটার দিকে তাকিয়ে ছিলেন। মোটামুটি শ’চার পাঁচেক লোক জমেছে দেখে উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, যারা সৈন্যদলে নাম লেখাবে তারা ডান দিকের ওই ফাঁকা জায়গায় গিয়ে দাঁড়াও।

    ভিড়ের ভেতর থেকে একজন দু’জন করে ফাঁকা জায়গায় গিয়ে দাঁড়াতে লাগল। বিনুর মনে পড়ল, তিন চার সপ্তাহ আগে যখন সুজনগঞ্জের হাটে এসেছিল তখন রিক্রুমেন্টের কথায় হাটুরে লোকেরা ভয় পেয়ে গিয়েছিল। এক মাসের কম সময়ের ভেতর কি এমন ঘটল যাতে তাদের ভয় কেটে গেছে?

    হঠাৎ বিনুর চোখে পড়ল, তার ঠিক পাশে খলিল বছির তাহের এবং আরও ক’জন চরের মুসলমান দাঁড়িয়ে আছে। ধানকাটার মরশুমে তারা হেমনাথের বাড়ি আসে। কিছুদিন আগেও তাদের রাজদিয়ায় মাটি ভরাট এবং মিলিটারি ব্যারাক তৈরি করতে দেখা গেছে।

    বছিরদের দেখে বিনু অবাক। বলল, তোমরা এখানে?

    বছির বলল, যুজ্যে নাম লিখাইতে আইছি।

    তোমরা যুদ্ধে যাবে!

    হ।

    এই সময় অবনীমোহন তাদের দিকে ফিরলেন। বছিরদের শেষ কথাগুলো তিনি শুনতে পেয়েছিলেন। বিস্ময়ের সুরে বললেন, যুদ্ধে যাবে কেন?

    বছির বলল, কাম কাইজ নাই। কিছু এট্টা তো করন লাগব।

    বিনু বলে উঠল, কাজ নেই মানে! এই তো ক’দিন আগে মিলিটারিদের ওখানে মাটি কাটছিলে। ব্যারাক তৈরি করছিলে–

    হে আর কয়দিনের কাম? শ্যাষ হইয়া গ্যাছে।

    খানিক ভেবে অবনীমোহন বললেন, আর কোথাও কোনও কাজ পেলে না?

    না জামাইকত্তা বিষণ্ণভাবে মাথা নাড়ল বছির, কুনোখানে কাম নাই। এই দিকে ধান-চাউল মিলে না। আগে চাষবাসের খন্দ গ্যালে মাইনষের বাড়িত্ কামলা খাটতাম। অহন কেও কামলা নেয় না। উপাস দিয়া দিয়া আর পারি না জামাইকত্তা। পোলাপান মরতে বইছে।

    তাহের বলল, শুনছি, যুজ্যে গ্যালে প্যাটভরা খাওন মিলব, মাস মাস ট্যাকা পাওন যাইব। না খাইয়া মরার থিকা যুজ্যে যাওন ভালা না?

    অবনীমোহন কী বলবেন, ভেবে পেলেন না।

    তাহের আবার বলল, আমাগো চরের কেউ আর ঘরে বইসা থাকব না। হগলে যুজ্যে যাইব গিয়া।

    খলিল বলল, হুদা (শুধু) আমাগো চরের নিকি, চাইর দিকে যা আকাল লাগছে, হেয়াতে যাগো ঘরে চাউল আছে হেরা (তারা) ছাড়া বেবাক মাইনষে যুজ্যে যাইব। না গিয়া উপায় নাই জামাইকত্তা। নিজেরা না খাইয়া থাকি, হে এক কথা। কিন্তুক চৌখের সামনে পোলা-মাইয়া প্যাটের জ্বালায় দাপাইয়া মরব, এখাইয়া থাকি, হেরা ছাড়া বেকার

    অবনীমোহন অসহায়ের মতো তাকিয়ে থাকলেন। এবারও কিছু বলতে পারলেন না।

    ওদিক থেকে একটা কনস্টেবলের গলা ভেসে এল, যারা যুজ্যে যাইবা, উই ধারে গিয়া লাইন দিয়া খাড়াও–যারা যুজ্যে যাইবা–

    প্রথমে এস.ডি.ও সাহেব যুদ্ধে যাবার ডাক দিয়েছিলেন। এখন তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে কনস্টেবলটা চেঁচিয়ে যাচ্ছে। আর এস.ডি.ও সাহেব চেয়ারে বসে মাথা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সমস্ত কিছু পর্যবেক্ষণ করছেন। তার পাশে বসে আছে মিলিটারি অফিসাররা।

    বছির আর অপেক্ষা করল না। ডান দিকে যেখানে লম্বা লাইন পড়েছে তার পেছনে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। চোখের পলকে লাইনটা বিশ হাত বেড়ে গেল।

    যুদ্ধে যেতে ইচ্ছুক লোকগুলোর সংখ্যা যখন একশ’ ছাড়িয়ে গেছে, সেই সময় এস.ডি.ও সাহেব বললেন, এবার বাছাইয়ের কাজ শুরু কর।

    তিন চারটি কনস্টেবল ফিতে দিয়ে ব্যস্তভাবে মাপামাপি শুরু করে দিল। একবার তারা লোকগুলোর পা থেকে মাথা পর্যন্ত মাপছে, তারপর বুকের ছাতি মাপছে।

    সেনাদলে যাকে তাকে নেওয়া হয় না। সেখানে নাম লেখাতে হলে বিশেষ শরীরিক উচ্চতা, ওজন আর বুকের মাপ থাকা দরকার। তার কম হলে চলবে না।

    কেউ লম্বায় ঠিক হচ্ছে তো বুকের মাপে আটকে যাচ্ছে। কারোর বুকের মাপ ঠিক হচ্ছে তো। লম্বায় আটকে যাচ্ছে।

    এর ভেতর যারা চলাক চতুর তারা পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে উচ্চতা বাড়াবার চেষ্টা করছে। যাদের বুক রোগা পাখির মতো তারা জোরে ফুসফুঁসে বাতাস টেনে টেনে ফুলিয়ে রাখছে। কিন্তু কনস্টেবলদের চোখে ধুলো ছিটানো সহজ নয়। যারা ডিঙি মেরে লম্বা হয়েছিল রুলের গুতোয় তাদের বেঁটে করে দিচ্ছে তারা। যারা বুক ফুলিয়ে রেখেছে তাদের পেটে ঘুষি মেরে হাওয়া বার করে দিচ্ছে।

    যাদের মাপ মিলল, মুরগি বাছাইয়ের মতো তাদের একধারে দাঁড় করিয়ে রাখল কনস্টেবলরা, বাকিদের ভাগিয়ে দিল। দেখা গেল, শ’খানেক লোকের ভেতর অর্ধেকই বাতিল হয়ে গেছে।

    বাছাইয়ের প্রথম কাজ হল দৈর্ঘ্য প্রস্থের মাপ নেওয়া। তারপর বাক্সের মতো চৌকো একটা যন্ত্রের ওপর বসিয়ে পছন্দ করা লোবগুলোর ওজন নেওয়া হল। ওজন নিতে গিয়ে আরও কিছু লোক ছাঁটাই হয়ে গেল।

    ওজনের পর যারা টিকে রইল এস.ডি.ও সাহেব নিজের হাতে তাদের নাম ঠিকানা লিখে নিলেন। তারপর বললেন, পরশু দিন তোমরা রাজদিয়া মিলিটারি ব্যারাকে চলে যাবে।

    লোকগুলো শুধলো, কহন যামু?

    সকালবেলা। হ্যাঁ, ভাল কথা, খালি পেটে আসবে। সেদিন তোমাদের মেডিক্যাল হবে।

    মেডিক্যাল কী?

    স্বাস্থ্য পরীক্ষা।

    ঝাড়াই বাছাইয়ের কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করে এস.ডি.ও সাহেব মিলিটারি অফিসার এবং পুলিশ বাহিনী নিয়ে চলে গেলেন।

    চরের যে মুসলমান কামলারা ধানকাটার সময় হেমনাথের বাড়ি আসে তাদের ভেতর একজনকে মোটে পছন্দ করা হয়েছে। সে তাহের। প্রাথমিক পরীক্ষায় বাকি কারোর যোগ্যতা প্রমাণিত হয় নি।

    খলিল বছিররা অযোগ্যতার গ্লানি দুই কাঁধে ঝুলিয়ে হতাশ মুখে ফিরে এল। তাহেরও তাদের সঙ্গে। এসেছে। অন্য কেউ সেনাদলে চাকরি পাবে না, সেজন্য বেচারা প্রাণ খুলে আনন্দ পর্যন্ত করতে পারছে না। রিকুমেন্টের লোকেরা সবাইকে বাদ দিয়ে তাকে পছন্দ করেছে, এ যেন তারই অপরাধ। খলিলদের পিছু পিছু মুখ চুন করে তাহের এসে দাঁড়াল।

    বিনুরা এখনও সেইখানেই দাঁড়িয়ে আছে।

    অবনীমোহন বললেন, তোমাদের একজনকে বেছে নাম লিখে নিল, দেখলাম।

    খলিল বলল, হ। তাহেররে অগো পছন্দ হইছে। আর আমরা ফ্যালনা, গাঙ্গের পানিতে ভাইসা আসছি।

    অবনীমোহন চুপ করে থাকলেন।

    খলিল আবার বলল, আমি উচায় (উচ্চতায়) খাটো হইলাম। আরে আমি যে খাটো হেয়াতে কি আমার হাত আছে? খোদায় য্যামন বানাইছে, ত্যামন হইছি। ইচ্ছা কইরা খাটো হইছি?

    অবনীমোহন মাথা নাড়েন, তা তো বটেই।

    বছির এবার বলল, বুকের মাপে আমি খারিজ হইয়া গেলাম। ছাতির ওসার (প্রস্থ) নিকি আমার কম। কম হইব না তা কি বেশি হইব! উপাস দিয়া দিয়া পরান যায়। ছাতি বড় হইব ক্যামনে? বাইচা যে আছি, হেই না কত?

    সবাই ক্ষুব্ধ, আশাহত, দুঃখিত। অবনীমোহনের উত্তর দেবার মতো কিছুই ছিল না।

    খলিল বলল, হগলই নছিব জামাইকত্তা। আমরা যুজ্যে গিয়া যে দু’গা খাইয়া বাচুম, খোদাতাল্লায় তা চায় না।

    .

    ২.৩৫

    হেমনাথ সেই যে জ্বরে পড়েছিলেন, সারতে দশ দিন লেগে গেল। জ্বর সারলেও দুর্বলতা কাটল না। একটু হাঁটলেই পা ভেঙে আসে, মাথা ঘুরতে থাকে।

    চিরকাল বয়সকে অস্বীকার করে এসেছেন হেমনাথ। বয়সও এতকাল উদাসীন ছিল। হঠাৎ সে তাঁর দিকে নজর দিতে শুরু করেছে, এবং প্রথম সুযোগেই বিছানায় ফেলে দিয়েছে।

    অসুস্থ, দুর্বল শরীর নিয়ে কোথায় গিয়ে কী বিপদ ঘটাবেন, সেই ভয়ে স্নেহলতা তাকে বাইরে বেরুতে দেন না। পাছে বেরিয়ে যান, সেজন্য চোখে চোখে রাখছেন।

    এত বড় সংসার যার মাথায় তার তো এক জায়গায় বসে থাকলে চলে না। কোনও দরকারে উঠে যেতে হলে ঝিনুক কিংবা সুধা সনীতিকে পাহারাদার হিসেবে হেমনাথের কাছে বসিয়ে রেখে যান স্নেহলতা।

    হেমনাথ চেঁচামেচি করেন, বসিয়ে বসিয়ে আমাকে একেবারে অথর্ব করে ফেলছ স্নেহ।

    স্নেহলতা হাসেন, তাই নাকি?

    নিশ্চয়ই। দেখো, আমাকে ঠিক বাতে ধরবে।

    তা হলে আমি খুশি হব।

    হেমনাথ অবাক হয়ে বলেন, খুশি হবে!

    মজার ভঙ্গি করে ঘাড় হেলিয়ে দেন স্নেহলতা, হব হর, একশ’বার হব।

    কেন?

    বাতে শুয়ে থাকলে অন্তত চরকির মতো ঘোরাটা তোমার বন্ধ হবে। এত বয়েস হল, তবু ঘোরা বাই যাচ্ছে না।

    একটু চুপ করে থেকে কৌতুকের গলায় হেমনাথ বলেন, তুমি তো অসুখের জন্যে আমাকে বেরুতে দিচ্ছ না। রাজদিয়ার লোক কিন্তু অন্যরকম ভাবতে শুরু করেছে।

    অস্বস্তির সুরে স্নেহলতা জিজ্ঞেস করেন, কী ভাবছে?

    বুড়ো বয়েসে তোমার নাকি রস উথলে উঠেছে। দিনরাত আমাকে কোলে শুইয়ে, মুখে মুখ। রেখে—

    কথা আর শেষ করতে পারেন না হেমনাথ। তার আগেই স্নেহলতা মুখ লাল করে ঝঙ্কার দিয়ে ওঠেন, আহা, কথার কি ছিরি! কিছুই আটাকায় না মুখে!

    হেমনাথ হাসতে থাকেন।

    স্নেহলতা আগের সুরে বলতে থাকেন, তোমার চালাকি আমি বুঝি। লোকের ওসব কথা বলতে বয়ে গেছে। বললেও তোমাকে বাড়ির বার হতে দিচ্ছ না।

    হেমনাথের বন্দিত্ব যেন আর ফুরোতে চায় না। এরই ভেতর একদিন বিকেল বেলা মীরকাদিমের রজবালি শিকদার এসে হাজির।

    রজবালির বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি। গায়ের রং টকটকে। এই বয়সেও শরীরের বাঁধুনি বেশ মজবুত। হাতের হাড় চওড়া, চোয়াল শক্ত, চিবুক ধারাল। দাড়ি এবং গোঁফ শৌখিন করে ছাঁটা। চোখদুটি সবসময় সজাগ এবং তীক্ষ্ণ। তাকে ফাঁকি দিয়ে কিছু হবার উপায় নেই। যার দিকে রজবালি তাকায় তার বুকের গভীর পর্যন্ত যেন সে দেখতে পায়।

    পরনে ডোরাকাটা সিল্কের লুঙ্গি আর ফিনফিনে পাঞ্জাবি। তার তলায় জালিকাটা গেঞ্জির আভাস। মাথায় নকশা করা ধবধবে টুপি। কানে আতর মাখানো গোলাপি রঙের তুলল। পায়ে কাঁচা চামড়ার নাগরা। চোখের কোলে সুর্মার সূক্ষ্ম টান। সব মিলিয়ে মানুষটি রীতিমতো শৌখিন।

    মীরকাদিমের গঞ্জে রজবালির ধান-চাল মুগ-মসুর তিল-তিসি ইত্যাদি শস্যের ব্যবসা। শাল কাঠের খিলান-দেওয়া টিনের প্রকান্ড চারটে আড়ত রয়েছে তার। সবসময় সেগুলো বোঝাই, কম করে এক দেড় হাজার মণ শস্য মজুত থাকে। এছাড়া আছে হাঁড়ি বালতির দোকান, মনিহারি দোকান। সব মিলিয়ে এলাহী ব্যাপার।

    হেমনাথ বললেন, রজবালি যে, আয়–আয়– বিনু কাছেই ছিল। তাকে একটা জলচৌকি এনে দিতে বললেন।

    জলচৌকি এলে তার পর বসতে বসতে রজবালি বলল, ক্যামন আছেন হ্যামকত্তা? শরীল ক্যামন কাহিল কাহিল ঠ্যাকে।

    হেমনাথ তাঁর অসুখের কথা বললেন, এবং কিছুদিন ধরে যে বন্দি জীবন যাপন করছেন, তা ও জানলেন।

    রজবালি আন্তরিক সুরে বলল, আপনের অ্যামন অসুখ, খপর পাই নাই তো। পাইলে আগেই আসতাম।

    হেমনাথের মুখ দেখে মনে হল, রাজবালির আন্তরিকতাটুকু খুবই ভাল লেগেছে তাঁর। মৃদু হেসে বললেন, তোদের খবর ভাল তো?

    আপনেরা য্যামন রাখছেন।

    আমরা রাখবার কে? যিনি রাখবার তিনিই রেখেছেন।

    হে যা কইছেন।

    তারপর কী মনে করে? কোনও দরকারে এসেছিস, না এমনি বেড়াতে?

    রজবালি হাসল, ব্যবসায়ী মানুষ, বিনা দরকারে কুনোখানে যাওনের উপায় আছে? সোময় কই?

    জিজ্ঞাসু চোখে তাকালেন হেমনাথ।

    রজবালি বলল, এইখানে যে মিলিটারি আসছে আমি তাগো কাছে ছাপ্লাইয়ের এট্টা অডার’ পাইছি। কী সাপ্লাই?

    হাস-মুরগি-পাঠা-ডিম, চাউল-ডাইল–এই হগল। অডারের ব্যাপারটা পাকা করতে আইজ আইছিলাম।

    বিনুর হঠাৎ নিত্য দাসের কথা মনে পড়ল। দেখা যাচ্ছে, মিলিটারির কল্যাণে চারদিকের বড় বড় ব্যবসায়ী আর আড়তদাররা রাজদিয়ায় হানা দিতে শুরু করেছে।

    হেমনাথ শুধালেন, অর্ডারের কথা পাকা হল?

    হ।

    কবে থেকে সাপ্লাই দিতে হবে?

    রজবালি বলল, পরশু থিকা। ভাবতে আছি রাইজদায় এট্টা বাড়ি ভাড়া নিমু। এইখানে ‘রাখি’ কইরা না রাখতে পারলে রুজ রুজ ঠিক সোময় মাল ছাপ্লাই দিতে পারুম না। এয়া তো এতি-পেতি লইয়া কারবার না, মিলিটারি বইলা কথা। টাইমে দিতে না পারলে ঘেটিতে মাথা থাকব না।

    রজবালি আরও জানালো, স্টিমারঘাটের কাছে মন্তাজ মিঞা যে নতুন বাড়িখানা করেছে, সেটাই ভাড়া করতে চাইছে। মোটামুটি কথাবার্তা হয়ে গেছে। কাল পরশু বাড়িটার দখল পাওয়া যেতে পারে।

    হেমনাথ এবার অন্য প্রসঙ্গ নিয়ে এলেন, তোদের ওদিকে ধানচালের খবর কী বল–

    জবর খারাপ হ্যামকত্তা। দশ পনর দিন ধইরা মীরকাদিমের বাজারে একদানা চাউল নাই। চাউল বইলা কথা। মাইনষে পাগলের লাখান ঘুরতে আছে।

    চিন্তিত মুখে হেমনাথ বললেন, খুবই বিপদের কথা। তা হ্যাঁ রে, তোর আড়তে তো অত ধান ছিল। সব বিক্রি করে ফেলেছিস?

    চকিতে চারদিক একবার ভাল করে দেখে নিয়ে রজবালি বলল, না। অত ধান চাউল কি দুই চাইর-দশ দিনে বেচা যায়! ছয় মাস ধইরা বেচলেও শ্যাষ করন যাইব না। একটু চুপ করে থেকে আবার বলল, হগল ব্যবসায়ীতে যা করছে, আমিও হেই করছি হ্যামকত্তা।

    কী করেছিস?

    ধান চাউল সরাইয়া ফেলাইছি।

    কেন? বিমূঢ়ের মতো জিজ্ঞেস করলেন হেমনাথ।

    রজবালি বলল, দর আরও চেতুক (চড়ক), হের পর ছাড়ুম। আমার এক সুমুন্দি মানিকগুঞ্জের উই দিকে চাউলের ব্যবসায়ী। হেয় কইছে, দর আরও চেতবো। যত পারি অহন য্যান ধান-চাউল ‘রাখি’ করি।

    হেমনাথ বললেন, ‘রাখি’ তো করছিস। এদিকে দেশের লোক না খেয়ে শুকিয়ে মরছে, সেদিকে খেয়াল আছে?

    কথাটা শুনেও শুনল না রজবালি। অন্যমনস্কের মতো বলতে লাগল, আমরা ব্যবসায়ী। দ্যাশের মাইনষের দিকে তাকাইলে আমাগো কি চলে! একটু থেমে আবার বলল, আপনের তো মেলা জমিন। বাড়তি ধান চাউল কিছু আছে? থাকলে আমারে দিতে পারেন। ভাল দাম দিমু।

    হেমনাথ মাথা নাড়লেন, নেই। প্রত্যেক বার ধান ওঠার পরই বাড়তি ধান বেচে দিই। এবারও দিয়েছি। বেশি কিছু থাকলেও তোকে দিতাম না। লোককে বিলিয়ে দিতাম।

    রজবালি কথাটা গায়ে মাখল না। হাসতে হাসতে বলল, আপনের লগে কার তুলুনা। আপনে নিজে না খাইয়াও মাইনষেরে খাওয়াতেই পারেন। কিন্তু আমরা হইলাম ব্যবসায়ী মানুষ।

    হেমনাথ উত্তর দিলেন না।

    রজবালি বলল, অনেকক্ষণ আইছি। এইবার যাই হ্যামকত্তা। উঠতে গিয়ে কী মনে পড়তে বসে পড়ল, ভাল কথা, আপনেরে একখান খপর দেওয়া হয় নাই–

    কী খবর?

    মুছলিম লিগের নাম শুনছেন?

    মুসলিম লিগ? শুনব না কেন?

    হ। রজবালি মাথা নাড়ল, কয়দিন আগে ঢাকার থিকা মুছলিম লিগের বড় মিঞারা মীরকাদিমে আইসা মিটিন করল। মিটিনে তেনারা কী কইল জানেন?

    কী?

    মুছলমানগো লেইগা একখান দ্যাশ চাই। তার নাম পাকিস্থান। তেনারা আরও কইল, যেখানে যত মুছলমান আছে হগলের লিগে নাম লিখান দরকার। অত বড় মানুষগুলা কইছে, কেও আর না কইতে পারল না। আমাগো উইদিকের মেলা মাইনষে মুছলিম লিগে নাম লিখাইতে আছে।

    একটু পর রজবালি গেল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশতধারায় বয়ে যায় – প্রফুল্ল রায়
    Next Article আলোর ময়ুর – উপন্যাস – প্রফুল্ল রায়

    Related Articles

    প্রফুল্ল রায়

    আলোর ময়ুর – উপন্যাস – প্রফুল্ল রায়

    September 20, 2025
    প্রফুল্ল রায়

    শতধারায় বয়ে যায় – প্রফুল্ল রায়

    September 20, 2025
    প্রফুল্ল রায়

    উত্তাল সময়ের ইতিকথা – প্রফুল্ল রায়

    September 20, 2025
    প্রফুল্ল রায়

    গহনগোপন – প্রফুল্ল রায়

    September 20, 2025
    প্রফুল্ল রায়

    নিজেই নায়ক – প্রফুল্ল রায়ভ

    September 20, 2025
    প্রফুল্ল রায়

    ছোটগল্প – প্রফুল্ল রায়

    September 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026
    Our Picks

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026

    ছাতিম – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    August 14, 2026

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }