Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কোজাগর – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প561 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কোজাগর – ১৮

    ১৮

    সকাল থেকেই আজ হৈ হৈ চলেছে।

    গণেশ মাস্টার আর গজেনবাবু এসেছেন চিপাদোহর থেকে জিপ নিয়ে। সঙ্গে গণেশের বারো বছরের এক দূর সম্পর্কের ভাইপো। সে তার মায়ের সঙ্গে এসেছে গণেশের কাছে, পালামৌর শীতে দিন কয় থেকে স্বাস্থ্য ভালো করে ফিরে যেতে। উত্তর কোলকাতার প্রায়ান্ধকার গলির মধ্যে বাস ওদের। উত্তেজনা বলতে, ক্যাম্বিশের বল দিয়ে গলিতে ক্রিকেট খেলা। এবং ফুটবল ক্রিকেট সিজনে একে-ওকে ধরে কোনোক্রমে একটু খেলা দেখা। তাও ক্বচিৎ-কদাচিৎ। তাই ছেলেটি এই বন-জঙ্গলে এসে কী যে করবে ভেবে পাচ্ছে না। এত অ্যাডভেঞ্চার! এত মজা! তার খুশি আর ধরে না। এই বয়সি ছেলেদের মতো প্রাণবন্ত, উৎসাহে ভরপুর ছেলেরা যে কোলকাতার মতো দম-বন্ধ শহরে তাদের প্রাণশক্তি কী ভাবে নিঃশেষ করে, তা সকলেই জানি আমরা। অথচ ওদের জন্যে কিছু মাত্রই করি না। আমরা সকলেই যার যার ভাবনা নিয়ে ব্যস্ত। যার অবস্থা খারাপ তার ভাবনা ক্ষুন্নিবৃত্তির, যেন-তেন প্রকারেণ। যে স্বচ্ছল, তার ভাবনা আরও ধনী হওয়ার। যে রাজনীতি করে, তার ভাবনা নেতা হওয়ার। যে নেতা, তার ভাবনা আরো কত বেশি ক্ষমতা, টাকা ও মেয়াদ করতলগত করা যায়। এই ছেলেদের কথা ভাবার সময় কার আছে?

    ছেলেটার নাম বাপি। এই অল্পদিনেই বন-জঙ্গল পাহাড় দেখে ঘুরে বেড়িয়ে তার শারীরিক উন্নতি নিশ্চয়ই হয়েছে। মানসিক অবস্থার হেরফেরও বিলক্ষণ হয়েছে। কোলকাতার ইঁট-চাপা ঘাসের মতো ওর ফ্যাকাসে মনকে এই আলো হাওয়া, এই অসীম আকাশ এক সজীবতা এনে দিয়েছে। বাঁধন থেকে মুক্তি দিয়েছে। কিন্তু গজেনবাবু যেভাবে ছেলেটার কল্যাণে নিরন্তর লেগে আছেন তাতে তার কিছু অবনতিও যে হচ্ছে না এমনও নয়।

    গজেনবাবু বললেন, বাপি তুমি ইংরিজি জানো?

    বাপি লাজুক মুখে বলল, পড়ি তো! স্কুলে তো ইংরিজি পড়ি।

    আচ্ছা, একটা কবিতা বলছি বাংলায় তার ইংরিজি ট্রানস্লেশান কী হবে বলো দেখি? এত লোকের সামনে ছুটিতে বেড়াতে এসে; হঠাৎ পড়াশুনোর মতো নীরব বিষয়ের অবতারণা করায় এবং তার ওপর ট্রানস্লেশান করতে বলায় বাপি একটু নিষ্প্রভ হয়ে গেল। কিন্তু তার অসহায়তা দেখেই গজেনবাবু দ্বিগুণ উৎসাহে বললেন, শোনো,

    “বড় বড় বাঁদরের বড় বড় পেট
    লঙ্কা ডিঙোতে করে মাথা হেঁট।”

    বলো তো দেখি, এর ইংরিজি কী হবে?

    বাপি এত শীতেও ঘেমে উঠল। মুখ লাল হয়ে গেল।

    গজেনবাবু তখন তাকে রেহাই দিয়ে তার কাকাকে নিয়ে পড়লেন। বললেন, অলরাইট। ভাইপো পরে। আগে, কাকাই বলুক তো দেখি!

    গণেশ মাস্টার চিপাদোহর স্টেশানে টক্কা-টরে-টরে-টক্কা করে। ইংরিজিতে চালান-ফালান, রসিদ ইত্যাদি লেখে। ভাষার, সে কথাই হোক আর লেখাই হোক, চর্চা না করলে মরচে পড়ে যায়। যতটুকু ইংরিজি শিখেছিল, তা কবে ভুলে মেরে দিয়েছে। এখানে ইংরিজি খবরের কাগজটা পর্যন্ত পায় না। পেলেও, রাখার পয়সা নেই।

    এক ধরনের লোক আছেন, যারা বিনা প্রয়োজনে, ভাল ইংরিজি বলতে পারেন না এমন লোকেদের সঙ্গে খামোখা ইংরিজিতে কথা বলে শ্লাঘাবোধ করেন। তেমনই একজন শহুরে বাঙালি যাত্রী একদিন চিপাদোহর প্লাটফরমে পায়চারি করতে করতে ট্রেন অনেক লেট থাকায় হঠাৎ গণেশ মাস্টারের ঘরে ঢুকে পড়ে বলেছিলেন, হোয়াট্স্ দ্যা ম্যাটার? হোয়েন্ উইল দ্যা প্যাসেঞ্জার ট্রেইন এরাইভ্?

    গণেশ মাস্টার ঘেড়ে গিয়ে টেলিফোনে বাঁ কান লাগিয়ে ডানহাত নেড়ে তাঁকে বলেছিল, আর বলবেন না স্যার। নো-রিপ্লাই টেলিফোনিং এন্ড টেলিফোনিং টু বাড়কাকনা এন্ড গেটিং ফেরোশাস। রিয়্যালি ফেরোশাস্।

    এই বনে জঙ্গলে এমনিতেই ফেরোশাস্ জানোয়ার অনেকই আছে। তার ওপরে হঠাৎ অ্যাসিস্ট্যান্ট স্টেশান মাস্টারও যদি টেলিফোন করতে করতে ফেরোশাস্ হয়ে ওঠেন তাহলে ভয়ের ব্যাপার বই কি! ভদ্রলোক তক্ষুনি গণেশ মাস্টারকে বলেছিলেন, নো-হারি, নো-হারি টেক্ ইওর টাইম এন্ড প্লিজ লেট দি ট্রেইন কাম এট ইটস্ ওন সুইট উইল। বাট ফর গডস্ সেক্, ডোন্ট গেট ফেরোশাস্।

    তার পর দিন থেকেই ‘গেটিং ফেরোশাস্’ কথাটা গজেনবাবুর কল্যাণে চিপাদোহরে চালু হয়ে গেছে।

    গণেশ মাস্টার, ভাইপোর সামনে, তাকেও ইংরিজির এমন কঠিন পরীক্ষাতে বসানোয় মনে মনে গজেনবাবুর ওপরে খুবই চটে গেল। তারপর গম্ভীর মুখে বলল, এসব বাঁদরামোর কী মানে হয়? সি পি এম ত এই সব কারণেই ইংরিজি তুলে দিচ্ছে নিচু ক্লাস থেকে। ঠিকই করছে।

    আমি অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে ছিলাম। কারণ আমার ইংরিজির জ্ঞান গণেশের চেয়ে সামান্য বেশি হলেও হঠাৎ এমন দুরূহ বাঙলা কবিতার ইংরিজি তর্জমা করা সাধ্যাতীত ছিল।

    গজেনবাবু মুখ বিকৃত করে বললেন, বাঁদরের পেটের ইংরিজি জিগগেস্ করলেই যদি বাঁদরামো হয় তাহলে আমার তোমাকে বলার কিছুই নেই।

    কী কারণে জানি না, গজেনবাবু মার্সিফুলি আমাকে সে যাত্রা স্পেয়ার করলেন। তারপর উপস্থিত সকলেই যখন ইংরিজি ভাষায় তেমন ব্যুৎপত্তি নেই বলে নীরবে স্বীকার করে নিলেন তখন গজেনবাবু নিজেই গর্ব গর্ব মুখে তর্জমা করলেন।

    বললেন, ভেরি ইজি। শোনো বাপি! ট্রানস্লেশান করার আগে বাংলাটা ভালো করে মনোযোগ দিয়ে শুনবে। কী বলেছিলাম আমি তোমাকে?

    বাপি বলল : “বড় বড় বাঁদরের বড় বড় পেট
    লঙ্কা ডিঙোতে করে মাথা হেঁট।”

    গজেনবাবু সিগারেটে গাঁজার কল্কের মতো একটা টান লাগিয়ে বললেন,

    “বিগ্‌ বিগ্‌ মাঙ্কি, বিগ্‌ বিগ্‌ বেলি,
    সিলোন জাম্পিং মে-লা-ঙ্ক-লি।”

    আমি হেসে উঠলাম।

    গজেনবাবু বললেন, এর জন্যেই তো বাঙালির কি হলো না। মুরোদ নেই এক রতি, মস্করা করতে বড়ই দড়। কেন? ঠিক হয় নি ট্রানস্লেশান?

    ততক্ষণে বাপি মুখস্থ করে ফেলেছে। ঠিক হয়েছে কী ভুল হয়েছে তা নিয়ে তার বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই। তর্জমাটা কিন্তু তার খুবই পছন্দ হয়েছে : বার বার হাত নেড়ে বলে চলেছে :

    “বিগ্‌ বিগ্‌ মাঙ্কি, বিগ্‌ বিগ্‌ বেলি,
    সিলোন জাম্পিং মেলাঙ্কলি।”

    কোলকাতা ফিরেই পাড়ার বন্ধুদের কবিতাটা বলে তাক্ লাগিয়ে দেবে বাপি।

    মানিয়া সকালের দুধ নিয়ে এসেছিল। আর একটু দেরি করেই এসেছিল। বললাম, বড়ী দের্ কর্ দেলী মানিয়া আজ

    ও চিন্তান্বিত মুখে বলল, কা করে বাবু, মাহাতো এসেছিল সকালে। নানকুয়ার সঙ্গে আমার বাড়িতেই হাঙ্গামা হল। বড় ভয়ে ভয়ে আছি বাবু। আপনারা একটু দেখবেন। পাগলা সাহেবকেও বলে রাখবেন, আপনারাই আমাদের ভরসা। ঐ নানকুয়া ছোঁড়াটার জন্যে আমাদের সর্বনাশ হবে একদিন।

    মানিয়ার বাঁ গালে একটা কালো জন্মদাগ ছিল। বাপি সবিস্ময়ে তাকিয়ে থেকে, গজেনবাবুকে শুধোল, ওটা কীসের দাগ গজেন জেঠু? গজেনবাবু সঙ্গে সঙ্গে বললেন, ভূতের হাতের থাপ্পড়ের দাগ। এখানে কত রকমের ভূত আছে তার খবর রাখো? তোমার গণেশকাকু কিছুই বলে নি? তারপর বললেন, অনেক ভূত, দার্হা ভূত, চুরাই ভূত, ধড়্গগালিয়া ভূত!

    গজেনবাবু থামতেই আমি বললাম, গজেন ভূত!

    গজেনবাবু হেসে ফেললেন।

    বললেন, কেন ওসব কথা বাচ্চার সামনে।

    কথাটার একটা ইতিহাস ছিল।

    প্রথম জীবনে যখন গজেনবাবু ডালটনগঞ্জে আসেন তখন বেকার ছিলেন। শরৎচন্দ্র বেঁচে থাকলে ওঁর ওই সময়কার ক্যারিয়ার নিয়ে একখানি গজেনকাণ্ড স্বচ্ছন্দে লিখতে পারতেন। সেই সময়ে ডালটনগঞ্জ শহর আজকের মতো ছিল না। বড় বড় গাছে ঘেরা লালমাটির কাঁচা রাস্তায় ভরা একখানি ঘুমন্ত গ্রাম যেন। সেই ঘুমন্ত, শান্ত ডালটনগঞ্জে যখন প্রতি শুক্রবারে হাট-ফিরতি দেহাতি লোকেরা সন্ধের পর বাড়ি ফিরত, কাছারির রাস্তার বড় গাছগুলির ছায়াচ্ছন্ন রাস্তা দিয়ে; তখন গজেনবাবু কোনো গাছের মগডালে বিকেল থেকে উঠে বসে থাকতেন। আর ওরা নিচে এলেই, গাছের ডাল ঝাঁকিয়ে : “ভুখু ভুখু খাঁ খাঁ, খাঁবো খাঁবো!” বলে চিৎকার করে উঠতেন। অমনি বেচারিরা মাঈরে, বাপ্পারে, দার্হারে বলে যে যার পুঁটলি ফেলে দিয়ে প্রাণের দায়ে পড়ি-কি-মরি করে দৌড়ে পালাতো। তখন গজেন ভূত গাছ থেকে নেমে পুঁটলিগুলো জড়ো করে বাড়িতে ফিরে আসতেন। তবে, লাভ বিশেষ হতো না। গরিব দেহাতিদের বেশি কিছু কেনার সামর্থ্যই থাকত না। কারো পুঁটলিতে একটু ছাতু, কারো নুন, কারো বা একটু আটা, কারো দুটো বেগুন, একটা লাউকি এই-ই সব। মাঝে মধ্যে কারো পুঁটলি থেকে ছেঁড়া জুতোও বেরুত। যা পেতেন তাই-ই সই। নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো ছিল সেই সব দিনে।

    যে ক্ষণজন্মা মানুষ ভূতের নাম ভাঙিয়েও খাওয়ার সাহস রাখেন তাঁকে মানুষ হয়েও ভয় না পেয়ে আমাদের কারোই উপায় ছিল না। কিন্তু গজেনবাবুর চরিত্রের অন্য একটা দিকও ছিল। সে-দিকটার কথা না বললে মানুষটির প্রতি অবিচার করা হয়। বহু বছর আগে ডালটনগঞ্জ শহরে একজন পাঞ্জাবি ভদ্রলোক একটি দিশি বিস্কুটের কারখানা করেছিলেন। গজেনবাবু তার কম্পিটিটর বনে গেলেন একটি বিস্কুটের কারখানা খুলে। হাতে-পায়ে ঠেসে ঠুসে ময়দা মাখা হতো। তাতে ময়ান টয়ান দিয়ে, ভালো করে লঙ্কার গুঁড়ো দিয়ে, বিস্কুট তৈরি হতো একেবারে বিশুদ্ধ দিশি প্রক্রিয়ায়। গজেনবাবুর কাছে যা শুনেছি তাতে আমি নিশ্চিত যে, মাঝে মাঝে তাঁর ম্যানেজারের লালরঙা দাড়িওলা রামছাগলের ছাগলাদ্যও বিস্কুটের সঙ্গে অনবধানে মিশে যেত। যখন দেখা গেল ক্রেতারা বলছে, এই বিস্কুটের অতিরিক্ত গুণ হচ্ছে এই-ই যে, তাঁর বিস্কুট মৃদু জোলাপের কাজও করে, তখন নিয়মিতই অনুপাতমতো ছাগলাদ্য মেশানো হতো। রামছাগলকে মাঝে মাঝে জোলাপ খাইয়ে যাতে ছাগলাদ্যর পরিমাণ বাড়ে তার চেষ্টাও করা হতো। পাঞ্জাবি ভদ্রলোককে গজেনবাবু পথে বসিয়ে দিলেন আরও একটি মারাত্মক হরকৎ করে। তাঁর কারখানার বিস্কুটের প্যাকেটে বজ্রঙ্গলীর ছবি ছেপে দিয়ে। প্যাকেটের ওপর ছাপা হল, হনুমানজি একটি বিস্কুটের গন্ধমাদন পর্বত হাতে করে উড়ে চলেছেন লেজ উঁচিয়ে। উত্তর কোলকাতার ব্রিলিয়ান্ট্ বাঙালি রেন্। গজেনবাবুর সঙ্গে হরিয়ানার সাদামাটা আড়িয়া পাঞ্জাবি পেরে উঠবেন কেন? হৈ-হৈ করে বিক্রি হতে লাগল বিস্কুট। গজেনবাবুর বিস্কুট খেয়ে ঠোঁট জ্বলে গেলেও, সরল, ধর্মপ্রাণ, দেহাতি লোকেরা বজ্রস্বলীর ছবিওলা প্যাকেট দেখে সেই বিস্কুটই কিনতে লাগল। তার ওপর ছাগলাদ্যর কী যে অ্যাডিশনাল এফেকট্ হতো তা কবরেজ মশাইরাই ভালো বলতে পারবেন।

    কোলকাতায় সবে তখন নিওন-সাইন বেরিয়েছে—বিজ্ঞাপনে। কোলকাতা থেকে অডার দিয়ে গজেনবাবু নিওনের আলো আনালেন ডালটনগঞ্জে ফার্স্ট। সবুজ-রঙা হনুমানজি হলুদ বিস্কুটের গন্ধমাদন পর্বত হাতে দাঁড়িয়ে আছেন, আর তার লাল লেজ একবার উঠছে আর একবার নামছে।

    ভিরমি খেয়ে গেলো লোকে। এমন মোক্ষম এবং এফেক্‌টিভ ক্রিয়েটিভ বিজ্ঞাপন তার আগে এ অঞ্চলে আর কেউই দেখেনি। বেচারি পাঞ্জাবি ভদ্রলোক! স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ে নিয়ে উপোস যেতে লাগলেন। আর গজেনবাবুর তখন বৃহস্পতি তুঙ্গে। মার মার কাট্ কাট্ ব্যাপার। এমন সময় একদিন সেই ভদ্রলোকের স্ত্রী, ছেলেমেয়ের হাত ধরে এসে গজেনবাবুর কাছে একবারে কেঁদে পড়লেন। অমন যে রম্রমে ব্যবসা বিস্কুটের গন্ধমাদনের মতো টাকার গন্ধমাদন গড়ে উঠতে শুরু করেছে তখন গজেনবাবুর ঘরে, সেই ব্যবসা সেই দিন থেকেই এক বাক্যে তুলে দিলেন তিনি। ভদ্রমহিলাকে বললেন, ভাবিজি, আপ বেফিক্কর্ রহিয়ে। কাসে হামারা কারখানা বরাব্বরকে লিয়ে বন্ধ

    সেদিন থেকে কারখানা সত্যি সত্যিই বন্ধ করে দিয়েছিলেন গজেনবাবু।

    গজেনবাবুরা যে খাসির মাংস এনেছিলেন, তিতলি তাই-ই কষা মাংসের মতো করে রেঁধেছিল। গরম রুটি, কষা মাংস আর লেবুর আচার! এই মেনু ঠিক হয়েছিল দুপুরে। এমন সময় রামধানীয়া চাচা এসে হাজির। শালপাতাতে মুড়ে আধকেজি খানেক গড়াই মাছ নিয়ে। কোথাকার পাহাড়ী নালাতে ধরেছিল। আর কিছুটা চালোয়া মাছ। গড়াই, শোল মাছের মতোই দেখতে হয়, খেতেও। আর চালোয়া তা পুঁটির মতোই দেখতে।

    গজেনবাবু বললেন, জীতে রহো চাচা!

    তারপর তিতলিকে বললেন, লঙ্কার ফোড়ন দিয়ে সামান্য একটু হলুদ দিয়ে, নুন দিয়ে সেদ্ধ করে দে তো তিতলি শিগিরি।

    তারপরই আমার দিকে তাকিয়ে, গলা নামিয়ে বললেন, একটু মহুয়া আনান না স্যার। চালোয়া মাছ দিয়ে মহুয়া যা জমবে না! আপনি স্যার আমাদের একেবারেই পাত্তা দেন না। ন মাসে ছ’মাসে আসি। তবুও।

    বাপির দিকে চোখ ঠেরে, ওঁকে থামতে বললাম।

    কিন্তু চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনি!

    বললেন বাপি? বাপিও কি একটু মহুয়া খাবে নাকি হে গণেশ মাস্টার?

    গণেশ মাস্টার বাপির সামনে কী বলবে ভেবে না পেয়ে হঠাৎ বলে ফেলল, মহুয়া তো শম্বরে খায়, ভাল্লুকে খায়। গজেনবাবুও খান নাকি?

    .

    গজেনবাবু পকেট থেকে টাকা বের করে রামধানীয়াকে দিতে গেলেন। বললেন, লাও তো’ চাচা।

    ওঁকে মান্য করে, আমি ঘরে গিয়ে টাকা এনে দিলাম। ঘরের মধ্যে থেকে শুনলাম, গজেনবাবু বাপিকে বলেছেন : শোনো বাপি, তোমাকে বলি। মহুয়া এক রকম ফল। ঐ যে মস্ত বড় ঝাঁকড়া গাছটা দেখেছো, ঐ গাছটার নাম মহুয়া। যখন বড় হবে, তখন পড়বে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও এই গাছটাকে কত ভালোবাসতেন। ভালোবাসতেন বলেই একটা বই লিখেছিলেন তিনি এই গাছ সম্বন্ধে। এবং তার নামও দিয়েছিলেন “মহুয়া”। বলেই গণেশের দিকে ঘুরে বললে, কী হে মাস্টোর? তুমিও কি এ তথ্য জানতে? বাপির কাকা? আমাকে সবসময়ই তোমরা আন্ডারএস্টিমেট করে গেলে।

    ভাগ্যিস গজেনবাবু বলেননি যে, রবীন্দ্রনাথও মহুয়া ভালোবাসতেন বলেই বইয়ের নাম রেখেছিলেন মহুয়া

    এই গাছগুলোই এখানের প্রাণ। গরমে প্রথমে এর ফল ফলে। গোল গোল, ঠিক গোল নয়, নিচের দিকটা একটু লম্বাটে, হলদে সাদা, সাদা রঙ ফলগুলোর। হাওয়ায় হাওয়ায় তখন কী যে মিষ্টি গন্ধ ভাসে তা…

    আমি বলালম, ভাসে যে তারপর?

    .

    গজেনবাবু বাঁ হাতটা হাওয়ায় নাড়িয়ে বললেন, তখন মনটা কী রকম করে, কী রকম কী রকম করে, মনে হয় কবিতা লিখি।

    কবিতাও লেখেন নাকি আপনি?

    বাঙালির ছেলে কবিতা লিখবো না? তবে, জীবনে মাত্র দুটিই কবিতা লিখেছিলাম। গজেনবাবু গর্ব গর্ব গলায় বললেন।

    .

    গজেনবাবুর ওপর বদলা নেওয়ার সুযোগ পেয়ে গণেশ মাস্টার এবার চেপে ধরল। মাত্র দুটো লিখেছিলেন যখন, তখন তোমার নিশ্চয়ই মনে আছে। বলে ফেলো। উনি মাস্টারকে ডোন্ট-কেয়ার করে বললেন, তবে শোনো। প্রথম কবিতা যখন লিখি তখনও তো’ আমার পতিভের তেমন বিকেশ হয়নি।

    কীসের বিকাশ হয়নি?

    পতিভে, আর প্রতির্ভে, মানে প্রতিভা।

    রেগে বললেন, এত বাধা দিলে কাব্য হয় না।

    “এক ঠোঙা খাবার নিয়ে যায় শ্যামলাল,
    তাই দেখে দূর থেকে মারলো ছোঁ চিল।”

    বাপি হেসে উঠল। বলল, এমাঃ। এ কবিতায় মিল কোথায়?

    আমরা সকলেই হেসে উঠলাম।

    গজেনবাবু ধমকে বললেন, আধুনিক কবিতা এইরকম হয়। তাও তো’ আমি অত্যাধুনিক কবিতা লিখি না! বড় হও বুঝবে। তখন বুঝবে যে আজকালকার দিনে অনেকে যারা ইয়া ইয়া বড় কবি বলে কেটে যাচ্ছে, তাদের কবিতার চেয়ে এ কোনো অংশেই খারাপ নয়।

    তারপর নিজেই বললেন, তুমি ছেলেমানুষ, তাই-ই তোমাকে বুঝিয়ে বলা যায়। এই কবিতার মিলটা হলো শ্যামলালের, ‘ল এবং চিলের ‘ল’ তে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঋজুদা সমগ্ৰ ৫ – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article লবঙ্গীর জঙ্গলে – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }