Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কোজাগর – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প561 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩১

    হাজারিবাগের পুলিশ ট্রেনিং কলেজটা অনেকখানি জায়গা জুড়ে। বিহারের অনেক পুরোনো কলেজ এটা। এখান থেকে অনেক বাঘা বাঘা ক্যাডার অসর পাস করে বেরিয়েছেন। অনেকানেক ডাকসাইটে অফিসার এখানে ট্রেনিং নিয়েছেন।

    হীরু থাকে পাটনাতে। একজন ক্ষত্রী অসরের মেয়ের সঙ্গে সে ক্লাবে টেনিস্‌ খেলে। বিয়ের কথাবার্তা চলছে। তবে, হীরু ডি-আই-জি হবার আগে বিয়ে করতে চায় না। লাখ দশেক ক্যাশ জমিয়ে নেবে ততদিনে। পাটনার উপকণ্ঠে বেশ কিছু ক্ষেতি-জমিন নেবে, ট্রাক্টর কিনবে। কুলি ও রেজা নিয়ে আসবে বিভিন্ন জায়গা থেকে। যখন রিটায়ার করাব তখন একজন রাজার মতো থাকবে ও, অনেক মিনিস্টার এম-পিরা যেমন থাকে। বিয়েতেও নেবে লাখ পাঁচেক। নেবে না কেন? ডি-আই-জি জামাই ক’জনের হয়? বড় কষ্টের মধ্যে মানুষ হয়েছে ছোটবেলায়। বাবুগিরি কাকে বলে বামুন-কায়েত-ভূমিহারাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেবে হীরু ওরাওঁ ওরফে হীরু সিং।

    সরকারি কোয়ার্টার্স দারুণ সাজিয়ে নিয়েছে হীরু। ফ্রিজ, টি-ভি, কার্পেট, এয়ার- কন্ডিশনার সব দিয়ে। ক্যাসেট্-প্লেয়ার-টেপ-রেকর্ডার, স্টিরিওফোনিক-সাউন্ড সিস্টেম, মানে, যে-সব না থাকলে শহরে আজকাল স্ট্যাটাস্ হয় না, তেমন সবকিছুই তার আছে। ইদানীং ভাবছে, নেপাল বর্ডার থেকে একটা ভিডিও আনবে। ঘরে বসেই ছবি দেখবে। যে-কোনো ছবি। ব্লু-ফিল্মও দেখবে মাঝে মাঝে।

    হীরু প্রথমে ভেবেছিল যে, অসর হয়ে সে গ্রামেই ফিরবে। সেখানে কুয়ো বসাবে অনেকগুলো। ফ্রি প্রাইমারি স্কুল করবে। গ্রামের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হয়ে থাকবে। মহাতো আর গোদা শেঠকে চাকর রাখবে।

    পাগলা সাহেবের কাছে তার ঋণ অনেক। কিন্তু পাগলা সাহেব যতদিন ভালুমারে আছেন, ততদিন অন্য কেউই আর সেই আসনে বসতে পারবে না। হীরু সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড হতে চায় না। ভালুমারে গেলে সে সর্বেসর্বা হয়েই থাকতে চায়। তার সুন্দর সহকর্মী বন্ধু, যাকে সঙ্গে করে সে ভালুমারে গেছিল, সে এক বিহারী জমিদারের ছেলে। ছোটবেলা থেকে প্রাচুর্যের মধ্যেই সে মানুষ হয়েছে। ভালো থাকা, ভালো খানা-পিনা, ভালো পোশাক, ভালো মেয়েছেলে। হীরুরা যে বয়সে জীবনের মানে কী তা ভাবতে পর্যন্ত শুরু করে নি, ওর বন্ধু ততদিনে জীবনকে বেমালুম হজম করে ফেলেছে জোয়ানের আরক না-খেয়েই।

    ও প্রায়ই হীরুকে বলে, দেশে এখন সরকারি কর্মচারীদেরই দিন। খাও-পিও-মৌজ্ করো। যিনা বানানে চাও; বানাও। কোই বোল্‌নেওয়ালা নেহী।

    এও সে বলে যে, দেশ যখন পুরোপুরি কম্যুনিস্ট হয়ে যাবে, (হতে তো বাধ্য) ভুখা লোকগুলো তো আর চিরদিন এমনই করে ভুখা থেকেও চোখের সামনে আমাদের জলজ্যান্ত দেখে তা বরদাস্ত করবে না। তখন ঔর ভি মজা। টোটল কম্যুনিজমে সরকারি আমলাদের যা ক্ষমতা, তা ডিকটেটরশিপ, ডেমোক্রেসির আমলের চেয়েও অনেক বেশি। তখন তো হাতেই মাথা কাটব আমরা! আর যতদিন কম্যুনিজম-এর বুলি কপ্‌চে ভোট আদায় হচ্ছে, যতদিন জনগণের দুঃখে দিল্লির মসনদের মানুষরা চোখের জলের বন্যা বওয়াচ্ছেন; ভণ্ডামির বিজয়কেতন উড়ছে চতুর্দিকে, ততদিনই বা মজা কম কী? দিল্লি থেকে ফোন আসছে, একে মারো, ওকে ধরো। পুলিশ, ইনকাম-ট্যাক্স, এক্সাইজ, কাস্টমস্ কত ডিপার্টমেন্ট রয়েছে দেশে। তাদের বিবেকসম্পন্ন সাহসী, ন্যায়পরায়ণ সব অসররা দিল্লির অঙ্গুলি হেলনেই বিশেষ বিশেষ লোকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বেন। হীরুরাই তো এখন বাঘের নখ, কুমিরের দাঁত। তাদের মতো মহাপরাক্রমশালী মুষ্টিমেয় ভাগ্যবান লোক আর দেশে কারা আছে?

    হঠাৎ একদিন বিবেকের চুলকুনিতে হীরু ওর বন্ধুকে বলেছিল, দেশটার কথা ভাবতে হবে না?

    হীরুর বন্ধু বলেছিল, শালা! দেশের কথা যাদের ভাবার, যাদের ভোট দিয়ে আম-জনতা পাটনা পাঠাচ্ছে, তারাই ভেবে অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে! কোনোরকমে গদিটা ঠিক করে বানিয়ে নাও। যার কাছে যত টাকা সে ততবড় নেতা–অন্য নেতা কেনার ক্ষমতা তার সবচেয়ে বেশি। কম্যুনিজম আসতে আসতে আমাদের জীবন পার হয়ে যাবে। আমাদের মওত্ অবধি যার কাছে মাল আছে, ক্যাশ আছে; সে-ই সব ক্ষমতার মালিক। মুখে কম্যুনিজম-এর বুলি কপচাও আর পাক্কা ক্যাপিটালিস্ট বানাও নিজেকে। তবেই আখেরে কাজে দেবে। দেশ তো একটা কোম্পানি! কোম্পানিকা মাল্ দরিয়ামে ঢাল্। ওসব ফাল্গু ভাবনা এখানে ভেবে লাভ নেই। তোমাদের রভীন্দনাথ ঢাগোরের কী একটা গান আছে না, ওরে ভুরু, আই মীন ডরপোক্, তুম্হারা হাঁতোমে নেহি ভুবনকা ভার—ডরপোক্ আমীসে কোই কাম নেহী হোতা হ্যায়। আজকাল সব চীজোঁমে হিম্মৎ হোনা চাইয়ে। উসব ফজুল্ বাত মে দিমাগ মত্, ফাঁসাও–কাকা কাম্‌ করো—পাইসা বানাও—মউজ করো ছোক্রী লোটো–এ্যাইসা ওয়াক্ত, ঔর কভী নেহী আয়া, করেগা ইয়ার। ইয়ে মহান দেশ কা বরবাদী হামলোগোঁসেই পুরী হোগা। হাম্ তুম্, নেহী করনেসে দুসরেনে কর্ চল্লা হ্যায়। নেহী করোগে, তো তুম বুদ্ধ হ্যায়-এক নম্বরকা বুদ্ধু।

    হীরু ভেবে দেখেছে যে, কথাটা ঠিকই। ব্যাড মানি ড্রাইভস্ এওয়ে গুড মানি। গ্রেশামস্ ল এখন এই দেশের সবচেয়ে প্রত্যক্ষ, দৃশ্যমান এবং অপ্রতিরোধ্য আইন। যা শুধু অর্থনীতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল; তা এখন জীবনের সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

    হীরুও ঝুলে পড়েছে বনদেওতার নাম করে। ব্রাহ্মণ, কায়স্থ, ভূমিহার, ক্ষত্রিয়, সমস্ত উচ্চবর্ণের হিন্দুর সঙ্গে। নাম বদলে ফেলে তার যে প্রাথমিক আড়ষ্টতা ছিল, তাও কাটিয়ে ফেলেছে। কাঁটা-চামচে খানা খাচ্ছে, স্লিপিং-স্যুট পরে ঘুমোচ্ছে, কমোডে প্রাতঃকৃত্য করছে, অর্থাৎ মানুষ হতে হলে যা যা অবশ্য করণীয় বলে শিখেছে এদেশীয়রা সাহেবের কাছ থেকে তার সব কিছুই শিখে ফেলেছে এবং কায়মনোবাক্যে করছে হীরু। এই মহান দেশের মহান গণতন্ত্রের মহান আল্লাশাহীতে সে উচ্চমর্যাদায় সামিল হয়ে গেছে। ওরা এক দল। এবং সবচেয়ে শক্তিশালী দল। ওদের বিরুদ্ধে কারো কথা বলার উপায় নেই। মুখ খোলার উপায় নেই। খুলেই—খেল্‌ খতম্।

    ভালো রকম কাঁচা টাকা করে নিতে পারলে হীরু ঠিক করেছে পোলিটিকাল লিডার হয়ে যাবে। ব্যস্‌স্‌। তখন তার টিকি ছোঁয় এমন সাধ্য কার আছে? রাজনীতির মতো এত বড় মুনাফার ব্যবসা দেশে আর দুটি নেই।

    খবরের কাগজদেরও আর ওরা ভয় পায় না। বেশিরভাগ কাগজই এখন দিল্লির কোন্ দল সংখ্যাগরিষ্ঠ সেই দিকে চেয়ে বসে থাকে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে যে শোরগোল শোনে ওরা; হীরুরা জানে যে, সেটার চেয়ে ফালতু আর কিছুই নেই। নিরানব্বুই ভাগ খবরের কাগজই তাদের স্বাধীনতা ব্যবহারই করে না। বি.এ, এম. এ পাস-এর সার্টিফিকেট সযত্নে আলমারিতে তুলে রেখে যদি কেউ অশিক্ষিতের মতো ব্যবহার করে তাহলে তার ডিগ্রির দাম রইল কোথায়? যে-সাংবাদিকরা আজকে কোনো পরাভূত নেতাকে গালিগালাজ করে, তার ব্যক্তিগত জীবনের কুৎসা রটিয়ে রম্রম্ করে বই বিক্রি করে; তারাই আবার সেই নেতাই ক্ষমতায় ফিরে এলে পরদিনই সাড়ম্বরে, আত্মসম্মানজ্ঞানহীন কুকুরের মতো তার পদলেহন করে। এরা আবার সাংবাদিক নাকি? ভয় করতে হবে এদের? ফুঃ!

    এই দেশে ভয় করার কিছুমাত্রই নেই। যা খুশি তাই-ই করে যাও, যে-কোনো ক্ষেত্রে, যা দিল্ চায়; পকেট-ভর্তি কাঁচা টাকা রেখো—। সব ঠিক হো যায়গা, বে-ফিক্কর। যা একমাত্র চাই, তা শুধু বুকের পাটা। আর পুলিশ অফিসারেরই যদি বুকের পাটা না থাকবে, তবে থাকবে কার?

    হীরু এখন টোটালি কনভার্টেট হয়ে গেছে। আগে কখনও-সখনও বাবা-মা-টুসি, লগন, পাগলা-সাহেব ইত্যাদিদের মুখ মনে পড়ত। এখন আর পড়ে না। শক্ত না হলে, পুরোনো কথা না ভুলতে পারলে জীবনে কখনও বড় হওয়া যায় না, ওপরে ওঠা যায় না। জানে হীরু।

    ভালুমার এবং আশপাশের অঞ্চলে ইদানীং মাঝে মাঝেই গোলমাল হচ্ছে। সিংভূম এবং বোধহয় ওড়িশারও কিছু কিছু জায়গা থেকে একদল সন্ত্রাসবাদী ছেলে এসে আস্তানা গেড়েছে সেখানে। নইলে, অমন নির্বিরোধী, সর্বংসহ, কুকুর-বেড়ালের চেয়েও ঠান্ডা মানুষগুলো হঠাৎ এমন লম্বা-লম্বা কথা বলতে শুরু করল কী করে? কে তাদের এসব শিখোচ্ছে?

    যেসব লোকাল রিপোর্ট ওরা পেয়েছে, তাতে নানকু বলে এক ছোকরার নাম আছে। সে নাকি ভালুমার বস্তির মোস্ট ইনফ্লুয়েন্সিয়াল লোকদের পেছনে লেগেছে। এবং প্রাণের ভয়ও দেখাচ্ছে। এ কোন নানকু? তাদের নানকু? নিশ্চয়ই সে নয়। সেই মুখচোরা ভালামানুষ ছেলেটি এই নানকু হতেই পারে না। গ্রামের মাহাতো আর গোদা শেঠ হীরুর কাছে দু’হাজার টাকা দিয়ে একটি লোক পাঠিয়েছিল—। ওরা নানকুকে খতম করতে চায়। ব্যাপারটা যেন পুলিশে চাপা পড়ে যায়। পুলিশের আর কিছুই করতে হবে না। টাকাটা হীরুর বন্ধু ফেরত দিয়েছে। প্রথমত দু’হাজার টাকাটা ওদের কাছে কোনো টাকাই নয়। দ্বিতীয়ত হীরু নিজের গ্রামে গিয়ে হুজ্জোতি করতে চায় না। বন্ধুকেই বলেছিল যেতে। বন্ধুর এত টাকা হয়ে গেছে—বাপ-ঠাকুর্দার টাকার ওপরে যে, এখন টাকা রাখার জায়গাই নেই। তার একমাত্র শখ এখন ছোরি।

    যে লোকটি পাটনাতে এসেছিল ওদের সঙ্গে দেখা করতে তাকে হীরুর বন্ধু বলে দিয়েছিল যে, দুসরা রাতে যে ছোরিটি এসেছিল, তাকে সে আরেকবার চায়। আঃ কা কিম্‌তি চিজ! তা হলেই হবে। আর কিছু চায় না সে। ছোক্রাগুলোকে ঠান্ডা করে দিয়ে আসবে সে। শুধু ছোরির জোগান থাকলেই হবে।

    লোকটি চলে গেলে, হীরু অবাক হয়ে বন্ধুকে জিজ্ঞেস করেছিল, দুসরা রাত মানে? তুমি কি ওখানে দু রাতে দুজনকে ভোগ করেছো নাকি?

    আলবৎ। হর্ রাতমে নঈ চিড়িয়া! নেহি ত, মজা কেয়া?

    হীরু তার গ্রামের সব মেয়েরই নাম জানত। তাই বলল, কী নাম তাদের?

    বন্ধু বলল, প্রথম দিন তো বাংলোর চৌকিদার টিহুল না কার বউকে নিয়ে এসেছিল ধরে। তার নাম মনে নেই। মেয়েটির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সবই ঠিকঠাক। গায়ের রঙও চমৎকার। কিন্তু কী যেন নেই। মানে কাচার।

    কালচার?

    অবাক হয়ে হীরু তাকিয়েছিল বন্ধুর দিকে। টিহুলের মুখটা মনে পড়ছিল। বাংলোর হাতার গাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে-থাকা, তার খেলার সাথী টিহুল! তার বউ!

    বন্ধু বলল, হ্যাঁ?

    তবে দ্বিতীয় রাতে যে মেয়েটি….তাকে কে নিয়ে এসেছিল?

    তাকে কেউ আনেনি, ভগবান পাঠিয়েছিল ইয়ার!

    ভগবান পাঠিয়েছিল?

    হ্যাঁ ইয়ার। আমি একা বসে ড্রিঙ্ক করছি, মেয়েটি দরজা খুলে সোজা ঘরে এল। আমার মনে হয়, ও বোধহয় কাউকে খুঁজতে এসেছিল। দারুণ মেয়ে। এই থুনির কাছটায় তোমার সঙ্গে দারুণ মিল ছিল মেয়েটির।

    হীরুর দম বন্ধ হয়ে আসছিল। ধক্ ধক্ করছিল হৃৎপিণ্ড।

    বলল, নাম মনে আছে?

    আছে বইকি! টুসি! টুসিয়া!

    হীরু মুখ নীচু করে বলল, সে টাকার জন্যে তোমার কাছে এসেছিল? মানে শরীর বেচতে?

    বন্ধু বলল, নেহী ইয়ার! অনেক অনুনয় বিনয়ও করেছিল ছেড়ে দেবার জন্যে! কিন্তু রিভলবার দেখিয়ে নাঙ্গা করলাম। আঃ কেয়া চিজ। আজও ভাবলে আমার ঘুম আসে না। অবশ্য অনেক কেঁদেছিল মেয়েটা ভাইয়া! ভাইয়া! করে!

    হীরু চুপ করে আছে দেখে বন্ধু বলল, কী হল? নিজের গ্রামের মেয়ে শুনে মন খারাপ হয়ে গেল। তোমার প্রেমিকাট্রেমিকা নাকি? তা আগে থাকতে বলে রাখবে তো আমাকে, মহুয়াডার চলে যাবার আগে।

    হীরু তবুও চুপ করেই ছিল।

    বলল, গ্রামের কথা মনে হলে মন খারাপ তো একটু হয়ই।

    তারপর বলল, তোমার সঙ্গে আমি যাবো না ভেবেছিলাম ভালুমারে। কিন্তু যেমন সব রিপোর্ট আসছে, চল দুদিনের জন্যে দুজনেই ঘুরে আসি। এই হাজারিবাগের স্কুল থেকে ছাড়া পাওয়ার সময়ও তো হয়ে এল! ঢের হয়েছে! লেখাপড়া আর ভালো লাগে না।

    রিফ্রেশার কোর্স শেষ হবে সামনের বুধবার। বৃহস্পতিবারে ফেয়ার ওয়েল। জানোই তো! শুক্রবারে পাটনা পৌঁছে যাব গাড়িতে। ডি আই জি, ডি ডি এবং সি বি আইয়ের ইনস্ট্রাকশানস্ অনুযায়ীই যা করার করব। আমাদের ইচ্ছায় তো আর যাওয়া হবে না ভালুমারে। যখন ওরা পাঠাবেন তখনই যেতে হবে, হীরুর বন্ধু বলল।

    হীরু বলল, তা ঠিক।

    বলেই বলল, মেয়েটাকে কি তুমি রেপ্ করে মেরে ফেলেছিলে নাকি?

    হোঃ হোঃ করে হেসে উঠল বন্ধু। বলল, একবারে বুদ্ধ না হলে, কোনো মেয়েই রেপ্ করলে মরে না। ওদের মধ্যে একটা ইন-বর্ন মেকানিজম্ আছে। ওরা বুঝতে পারে, হয়তো অনেকে বহু পুরোনো প্রবাদে বিশ্বাসও করে যে, হোয়েন রেপ্ ইজ ইনএভিটেবল, হোয়াই নট এনজয় ইট? বলেই হো হো করে হেসে উঠল।

    ওঃ। হীরু স্বগতোক্তি করল।

    তারপর ট্রেনিং কলেজের কম্পাউন্ডের বড় বড় গাছগুলোর দিকে চেয়ে থাকল উদাস হয়ে। রাস্তার বাইরে হাজারিবাগ ক্লাব। উল্টোদিকে হান্নানের দোকান। তার পিছনে কাচারি। ডাইনে গেলে বুহি রোড—তার আগে বেরিয়ে গেছে বগোদর-সারিয়ার রাস্তা কোনো বিশেষ কিছুই দেখছিল না হীরু। উদ্দেশ্যহীনভাবে যেন অনন্তকাল ধরে বাইরের দিকে চেয়ে বসেছিল সে।

    হীরুর মনটা বড় উচাটন হল। অনেক কথা, অনেক আশঙ্কা তার মনে ঝড় তুলল। টুসি বলে দ্বিতীয় কোনো মেয়েকে তো সে বস্তিতে চিনত না! তবে কি?

    অ্যাফিডেভিট করে নাম চেঞ্জ করে, নিজেকে ভারতীয় বাদামি সাহেব বানিয়ে, প্রচুর টাকার মালিক হয়ে, ক্লাবে টেনিস খেলে, নারীসঙ্গ করে করে ও ভেবেছিল ওর যাবতীয় সংস্কার এবং ভালুমারের গোঁড়া, দেহাতি হীরুর তাবৎ হীরুত্ব ও মুছে ফেলেছে। ও আর কখনও পিছনে তাকাবে না। হি হ্যাজ বার্নট্ অল দ্যা ব্রিজেস্ বিহাইন্ড। কিন্তু…

    সামনে একটা বড় কৃষ্ণচূড়া গাছ। তার শিকড় নেমে ছড়িয়ে গেছে এদিক ওদিক। সেদিকে তাকিয়ে থাকতে আর বাবার হাতটার কথা হঠাৎই মনে পড়ল হীরুর। কঠোর পরিশ্রমী, দীন-দুঃখী, তার জন্যে-গর্বিত, তার বাবার হাতের শিরাগুলো এই গাছের শিকড়েরই মতো ফুলে ফুলে উঠেছে। হঠাৎই কে যেন ওর বুকে আমূল কোনো তীক্ষ্ণ ছোরা বসিয়ে দিল। বাবা! মা! টুসিয়া। লগন। ওর মস্তিষ্কের মধ্যে দ্রুতপক্ষ পরিযায়ী পাখির মতো অনেক বোধ ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতে ফিরে আসতে লাগল। ওর মনে হল ভালুমারের হীরু নামক একটি ছেলের প্রাণের শিকড় ছড়িয়ে অনেকই গভীরে প্রোথিত হয়ে আছে। হয়তো প্রস্তরীভূতও হয়ে গেছে। ওর বোধহয় সাধ্য নেই যে, সেই শিকড়কে…ও…

    ওর পরীক্ষা পাস করার পরদিন থেকে হীরু এক চমৎকার স্বার্থপর খুশিতে ছিল, হীরু ওরাওঁ থেকে হীরু সিং-এ উন্নীত হয়ে। কিন্তু আজ সকালে তার বুকের কোথায় যেন চিড়িক্ চিড়িক্ করে কী একটা তীব্র যন্ত্রণা তাকে বড় পীড়িত করে তুলছে বারে বারে। কী জানি? কেন এমন হলো?

    হীরু ড্রয়ার খুলে কাগজ ও খাম বের করে তার বাবা জুন্নু ওরাওঁকে চিঠি লিখতে বসল। লম্বা চিঠি। হীরুর মনে হলো এ চিঠি বোধহয় শেষ হবে না কোনোদিনও। এ তো চিঠি নয় কনফেশান্, এ এক আত্মশুদ্ধি প্রায়শ্চিত্তর দাখিলা, দাগ-নম্বর, খতিয়ান নম্বর সুদ্ধু; চিরদিনের জন্যে তার বাবার বুকের জমিতে জরিপ হয়ে বরাবরের মতো রেজিস্ট্রি হয়ে থাকবে। হীরু আবার পুরোনো ঘরে দুয়ার দিয়ে, ছেঁড়া আসন মেলে বসবে। হঠাৎই বড় বেদনার সঙ্গে হীরু অনুভব করল যে, বাহির পথে যে বিবাগী হিয়া ভ্রষ্ট নষ্ট হয়ে হারিয়ে গেছিল; তাকে যে ভালুমার বস্তির প্রত্যেক নারী পুরুষ এবং শিশু হাতছানি দিয়ে ডাকছে—বলছে, আয় আয় আমাদের হীরু ফিরে আয়রে তুই আমাদের কাছে, আয়রে আমাদের গর্বের হীরু। আমাদের পুরনো ওম্-ধরা বুকে ফিরে আয়।

    চিঠি লেখা থামিয়ে, বাইরের বড় কৃষ্ণচূড়া গাছটার দিকে আবারও চাইল হীরু। পুলিশ সাহেব নয়; মানুষ হীরু। ওর দুচোখ জলে ভরে এল। যে জল, গঙ্গাজলের চেয়েও পবিত্র!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঋজুদা সমগ্ৰ ৫ – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article লবঙ্গীর জঙ্গলে – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }