Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    খোয়াবনামা – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

    লেখক এক পাতা গল্প729 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩০. লাল পাগড়িওয়ালারা

    ক্যা গো, লাল পাগড়িওয়ালারা তোমাক তো ধরলো না? মাঝিপাড়ার জুম্মাঘরত তুমি কি শোলোক না শাস্তর কছো আর ডাইঙার পয়দাগুলা জাল লিয়া দৌড় মারলো কালাহার মুখে। মাঝিপাড়ার জুম্মাঘরেত তুমি নামাজও পড়িছো, ছি! ছিক্কা! গিরিরডাঙায় মাঝিদের জামাতে জুম্মার নামাজ পড়ে কেরামত আলি তার শ্বশুরের তো বটেই, শ্বশুরের বেটিরও ইজ্জতে ফাটল ধরিয়ে দিয়েছে। একদিকে এই বেইজ্জতি এবং একই সঙ্গে কেরামত আলির উস্কানিতেই মাঝিরা ঝাপিয়ে পড়েছে কাৎলাহার বিল দখলে,-স্বামীর এই অপরাধে ফুলজান বড়ই বিচলিত। কেরামত আলির কথায় মেতে উঠে তমিজ এখন জেলের ভাত খাচ্ছে বলে স্বামীর দিকে আড় চোখে হলেও সে তাকায় কটমট করে, আবার মাঝিদের জামাতে নামাজ পড়েছে বলেও তার দিকে যে দৃষ্টি সে বর্ষণ করে সে দুটোর মধ্যে ফারাক করা কঠিন।

    ফুলজানের বেটা ঘরের ভেতর বিছানায় হঠাৎ করে কেঁদে ওঠায় ফুলজানের দমবন্ধ-করা কটমটে ভাবটা গলে এবং সেটাকে আরো তরল করতে ছেলেকে কোলে নিয়ে তার দুই গালে দুটো চড় মারে ঠাস ঠাস করে। রোগে রোগে কাবু শিশুটি চেঁচিয়ে কাঁদতে গিয়ে হাঁপায়, কান্না তার হঠাৎ খাদে নেমে গেলে হেঁচকি তুলতে শুরু করে।

    মারিস কিসক? হামার বেটাক তুই মারিস কোন সাহসে রে মাগী, কয়েকদিনের নিশ্চলতার অবসান ঘটিয়ে কেরামত আলি তার বৌয়ের চুল ধরে টান দেয় এবং তার পিঠে দুটো কিল লাগিয়ে দেয় দুমদাম করে। মায়ের কোলে দোলা লাগায় ছেলেটা ফের কাঁদার শক্তি পায় এবং ওদিকে নবিতন চেঁচিয়ে ওঠে রান্নাঘর থেকে ও মা, বুবুক মারিচ্ছে গো! ও মা!

    নবিতনের ডাকে কেউ আসে না। তার ছোটোবোন গোয়ালঘরের পেছনে মাচা থেকে লাউশাক ছিড়ছে আর মা ব্যস্ত ঐ মেয়েকে নির্দেশ দেওয়ার কাজে। আর হুরমতুল্লা তো জমিতে চলে গেছে ভোর না হতেই।

    বেটাকে বুকে চেপে ধরে ফুলজান কাঁদে আর বলে, ইস! বেটার জন্যে সোয়াগ উথলাচ্ছে? দুনিয়া চষ্যা বেড়াও, ব্যারামি বেটাটার কথা কুনোদিন মনে করিছো? এক দানা ওষুধ লিয়া আসিছো? এক ঢোক পানিপড়া দিছো? হামার বেটাক ডাক্তোরের কাছে লিয়া যাবার চাইছিলো মাঝি, তাক তুমি ফুসল্যা ফুসল্যা তুল্যা দিলা পুলিসের হাতে। তাই এখন জৈন্তু খাটে আর তুমি এটি ঠ্যাঙের উপরে ঠ্যাঙ তুল্যা তিন সন্ধ্যা সানকি সানকি ভাত গেলো। তোমার শরম করে না? এংকা মরদের মুখোত আগুন।

    লাল পাগড়িওয়ালা এসে তমিজকে ধরে নিয়ে যাবার পর থেকে মাঝির বেটা বিলের এপার ওপার জুড়ে মানুষের কাছে একটা বাপের বেটা হয়ে যাওয়ায় কেরামতের বুকে যে কাঁটা বিঁধেছে, ফুলজানের কথায় তাই এখন খোঁচাতে থাকে তার সর্বাঙ্গে। তবে ফুলজানকে ঘায়েল করার সুযোগও একটা সে পায়, আরে ঐ মাঝিই তো তোর লাঙ রে মাগী। মাঝির গায়ের আঁশটা গন্ধ না পালে তোর ঘ্যাগখান খালি চুলকায়। মাঝির জামাতে নামাজ পড়লে হামার বলে জাত যায়, আর মাঝির চ্যাটটা ঘ্যাগর মধ্যে সান্দায়া লিয়া নিন্দ পাড়লে দোষ হয় না, না? জাউরা মাগী, হামি খবর রাখি না, না?

    হঠাৎ চুপসে যেতে যেতে ফুলজানের ঘ্যাগটা ফের ফুলে ওঠে, এতোটাই ফোলে যে, সেটা ঠেকে তার বেটার বেঢপ মাথার সঙ্গে। বেটার জরের তাপে তার ঘ্যাগ একটু একটু কাঁপে; প্রশান্ত কম্পাউনডারের কাছে ছছালটাক বুঝি আর লেওয়া হলো না। নবিতন এসেবেটাকে তার কোল থেকে জোর করে নিয়ে গেলে ফুলজানের কান্নার বেগ দ্বিগুণ হয়। না বুঝেও কিংবা না বুঝেই তমিজের জন্যে কষ্ট প্রকাশের সুযোগটির সে চমক্কার সদ্ব্যবহার করে। উঠানে ফুলজানের মা ও দুই বোনের নীরবতা, ফুলজানের হাউমাউ কান্না ও তার বেটার হাঁপানো ফোঁপানিতে তাকে নিয়ে চক্রান্তের আয়োজন দেখতে না পেয়ে কেরামত হাঁসফাস করে। এই ঢঙের ব্যারাম তো তার আগে কখনো ছিলো না। তেভাগার চাষাদের মধ্যে গান করে বেড়াবার সময় কি চাঙাটই না ছিলো। সেখান থেকে খামাখা চলে এলো। তা এখানে এসেও তো সে ভালোই ছিলো। মাঝিদের নিয়ে মেতে উঠলো, তখনো তো এমন গা ম্যাজম্যাজ ছিলো না তার। মুশকিল হলো এই শ্বশুরবাড়িতে আসার পর থেকে। হুরমতুল্লার কারুবারু আর কাদেরের দয়ায় শরাফত তাকে পুলিসের হাত থেকে না বাঁচালেই পারতো। মাঝিদের বীরত্ব নিয়ে একটা পদ্য তার মাথায় আসি আসি করছিলো, অনেকটা এসেও গিয়েছিলো। কিন্তু ফুলজানের মুখে মাঝির বেটার বেয়াড়াপনা আর বেয়াদবির কথা শুনতে শুনতে পদ্যটার কুঁড়ি বার হতে হতে ছিড়ে গেলো। এই বাড়িতে তার থাকার দরকারটা কী?

    ও ফকির। পেছন থেকে বৈকুণ্ঠ কেরামতকে ডেকেই আবার নিজের ভুল সংশোধন করে, আরে দূর! আবার ফকির কলাম! তা তোমার খবরবার্তা নাই। আলিম মাস্টার উদিনকা কলো, তুমি বলে তমিজেক লিয়া গান বান্দিচ্ছো? বান্দা হছে?

    গান বাঁধার তো বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে এরাই, এদের মুখে তমিজ ছাড়া আর কথা নাই। আরো কিছুক্ষণ হাঁটলে সঙ্গে জোটে যুধিষ্ঠির। সে শালাও কম নয়, সে-ও এক খবর ছাড়ে। কী?-না, কামারপাড়ার মানুষ শরাফত মণ্ডলের ওপর মহা খেপে আছে। তমিজের মতো মানুষকে জেল খাটায়, তার ভালো হতে পারে না। শরাফতের। জমি বর্গা করে তমিজ তো ঠকলোই, মণ্ডল যুধিষ্ঠিরকেও ফসল দিলো কতো কম। পশ্চিমে চাষারা ফসল চায় তিন ভাগের দুই ভাগ, এখানে মণ্ডল অর্ধেক ফসলও দিলো না। এ-বাহানা সে-সাহানা করে কতো ধানই যে বুড়া রেখে দিলো। খিয়ারের মতো এদিকে সবাই একত্তর হলে সে কি এসব করতে পারে?

    কেরামত কপাল কোঁচকায়, ওদিককার কথা আলাদা। ওদিকে চাষারা একজোট হয়া কোমর বান্দে। তাদের সাথে শিক্ষিত মানুষ আছে। আর তোমাগোরে এটি মাঝিরা যায় মাছ চুরি করবার। চুরি করলে পুলিস ধরবি না তো কি সোয়াগ করবি?

    কেরামতের এই কথায় তো এদের থ মেরে যাবার কথা। কিন্তু সে যে এমন। ভাবতেও পারে তাই এদের মাথায় ঢোকে না বলেই হোক কিংবা বৈকুণ্ঠের কথার তোড়ে হোক, ঐ মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া হয় না। বৈকুণ্ঠ বলে, তমিজের বাপ ফকির মানুষ। তার। হিরদয়ে আঘাত দিলো। চেরাগ আলি ফকির থাকলে তার একোটা শোলোকে মণ্ডলের গুষ্টির হাগা আরম্ভ হলোনি। ফকিরের গানের ক্ষমতা আছিলো গো। এখনো নাই তা কবার পারি না। তার গানের তেজ এখনো সমান।

    গানের ফল আবার হাতে হাতে পাওয়া মানে কী? কেরামত বলে, তোমরা চেরাগ আলির কথা কও। ভালো, মানুষটা ভালো মানুষ আছিলো, কও। কিন্তু তার শোলোকের মধ্যে তোমরা মাঝির কথা সান্দায়া দিবার পারো? খিয়ারের চাষার কথা ফকির পাবি কুটি? তার গান তো লিজৈর বান্দা লয়, না-কি?

    কেরামত হনহন করে হেঁটে চলে যায় ওদের পিছে রেখে। চেরাগ আলির পাওনা-গানের কথা শুনতে শুনতে সে অতিষ্ঠ। আরে, জোতদারের পক্ষে পুলিসের হামলা হলে চাষারা কি আর চেরাগ আলির ঐসব আসমানি শোলোকে কান দিয়েছে কখনন? পুলিসের গুলি খেয়েও বর্মণী মা তো পাগল হয়ে উঠিছিলো কেরামতের গান শুনতেই। চাষাভুষা থেকে শুরু করে নাসির মণ্ডল বলো আর চিত্তবাবু বলো আর পূর্ণ বোস আর সুনীলদা—সবাই শুনতে কেরামতের গান। এমন কি এতো বড়ো মানুষ হাজি দানেশ তিনি পর্যন্ত চিত্তবাবুকে নাকি বলেছেন, ঐ কেরামত ছোঁড়াটাকে হাতছাড়া করো না, ওকে আমাদের চাই। পুলিসের ধরপাকড় শুরু হলে চিত্তবাবু খবর পাঠালো, কেরামত যেন এখন সরে সরে থাকে। পুবের দিকে গিয়ে এসব গান করুক; সেখানে কাজে লাগবে। তা এই এলাকার মানুষ তো সব মজনু না মুনসি না কি কোনো জিনই হবে আর ভবানী সন্ন্যাসী–কি তার ভূত—তাদের গান নিয়েই মত্ত। চেরাগ আলি ফকির কী সব গায়েবি শোলোক পেয়েছে কোথেকে,—সেসব ছাড়া আর কিছু এদের মাথায় ঢোকে না।-কেরামত আলি এদের কী গান শোনাবে?

    হাটবার নয়, খড়ের ছোটো ছোটো চালে ঢাকা মাটির একটু-উঁচু জায়গাগুলো শূন্য পড়ে আছে। তবে মুকুন্দ সাহা আর কালাম মাঝির দোকান খোলা। আর কাদেরের দোকান তো এখন আর দোকান নয়, পুরোপুরি ভোটের অফিস। টিনের বেড়ায় পোস্টার আড়াআড়িভাবে, বড়ো কড়ড়া করে লেখা ইসমাইল হোসেনের নাম। দোকানের দরজা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে বেশ কয়েকজন ছাত্র কর্মী, তারা চোঙা, পোস্টার, বিড়ি গুছিয়ে নিচ্ছে, কাদের কথা বলছে তাদের সঙ্গে। কেরামতকে দেখে সে তাড়াতাড়ি তার কাছে এগিয়ে। আসে। তাকে একটু তফাতে নিয়ে বলে, তোমাক না কয়টা দিন বাড়ি থাকা বারাবার মানা করিছি। তার চাপা উত্তেজনায় উদ্বেগ বা সুখ সনাক্ত করা কঠিন, বিল ডাকাতির মামলায় তো নায়েব তোমার নামও ঢুকায়া দিছে। বাপজান যে কী করে না করে কিছু বুঝি না। ইসমাইল ভাইকে দিয়া পুলিসকে করা তোমার নাম কাটাবার ব্যবস্থা করা। হচ্ছে। তা তুমি এখন কয়টা দিন শ্বশুরবাড়িতই থাকো না! কেরামত চুপ করে থাকলে কাদের ফের বলে, তোমার মনে হয় জেলের ভাত খাবার সখ আছে, না?

    জেলে যাবার সখ কেরামতের এখন হয় বৈ কী? জয়পুর থেকে তখন সরে না পড়লে সে হয়তো ধরা পড়তো। পুলিস ধরে নিয়ে গিয়ে ভদ্দরলোক নেতাদের পর্যন্ত যে মারটা দিয়েছে, মেয়েদের পর্যন্ত রেয়াত দেয় নি। সেই মারের খবরেই তো কেরামত নুয়ে। পড়লো। বুকে আর বল পায় না। বুকে বল না থাকলে তার মাথাও ঘোরে বনবন করে। মাথা ঘুরলে তার হাতে শোলোক আর আসে না। এ কি চেরাগ আলির গান যে টুংটাং করলো আর দোতারার তার বেয়ে কথা চলে এলো আসমান থেকে? না, না। জেলে গেলে তার পদ্য লেখা বন্ধ হয়ে যাবে চিরকালের জন্যে।

    আসিছো যখন একটু বসেই যাও। কী ভেবে কাদের তাকে নিয়ে ঘরে ঢোকে, এরা সব লীগের ওয়ার্কার। কেরামতকে আস্তে করে জিগ্যেস করে, পাকিস্তানের গান লেখা হছে?

    একটি ছেলে বলে, মাঝিপাড়ায় তো আমরা ঢুকতেই পাচ্ছি না। তাদের নামে আপনারা বিল ডাকাতির কেস দিয়ে রেখেছেন,–

    এই তো মুশকিল। আবদুল কাদের বক্তার ভঙ্গিতে কথা বলার সময় ভাষাটা ঠিক করে নেয়, বিল তো আমাদের পত্তন নেওয়া। সেখানে আমার বাবার অনুমতি ছাড়া কেউ মাছ ধরতে গেলে বাবা তো বাধা দেবেনই। কিন্তু মাঝিদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক বহুদিনের, তাদের মেলা লোক আমাদের জমিতে বর্গা খাটে। তাদের বিরুদ্ধে আমরা মামলা করার কথা ভাবতেই পারি না। মামলা করালো নায়েব, বাবাকে ধরে, ভয় দেখিয়ে মামলা ঠুকে দিয়েছে। আরে, বাবা, এ তো ওদের পুরনো ফন্দি, মুসলমানে মুসলমানে ভেদ সৃষ্টি করেই তো ওরা দাপটটা টিকিয়ে রাখে। সে এবার হাজির করে কেরামতের দৃষ্টান্ত, এই যে কেরামত, কবি কেরামত আলি, মাঝি না হলেও মাঝিপাড়ার মানুষ একে খুব মানে। সেদিন বিল ডাকাতির সময়- বলতে বলতে কাদের থামে, একটু টোক গিলে বলে, এ তো আছে আমাদেরই শেলটারে। গুণী মানুষ, গান লেখে, গরিবের ঘরের মুসলমান ছেলে, ইসমাইল ভাই বলেন, একে যে করে হোক বাঁচাতেই হবে। তারপর সে তাকে তুলে দেয় তাদের হাতে, তোমরা না হয় একে নিয়ে যাও কালাম মিয়ার কাছে। আরে যাও না একবার!

    কেরামত অবশ্য থাকে সবার পেছনে। কালাম মাঝি লীগের কর্মীদের সঙ্গে ভালো করে কথাও বলে না। তার দোকানে কৃষক প্রজা পার্টির ভোটের অফিস। টিনের বেড়ায় ঐ দলের পোস্টার। লোকজন তেমন না থাকলেও যারা আছে বেশিরভাগই পাকা চুলওয়ালা, প্রায় সবারই দাড়িও পাকা, মাথায় টুপি। দুজন কি তিনজন যুবকের হাতে চোঙা। আর আর ছেলেছোকরা যে কয়েকজন আছে সবই গিরিরডাঙার মাঝিপাড়ার।।

    টাউন থেকে আসা লীগের এক তরুণ কর্মী বলে, আসসালামোআলায়কুম। মুসলিম লীগের খাদেম হিসাবে আমরা আপনাদের কাছে এসেছি। ইনডিয়ার মুসলমানদের দল বলেন, জামাত বলেন এখন একটাই, অল ইনডিয়া মুসলিম লীগ। এই যে ভোট আসছে, এই ভোট হলো মুসলমানদের–

    মুসলমান তো হামরাও বাপু। কালাম মাঝি তাকে থামিয়ে বলে, তা হামরা হলাম মাঝি আর আপনেরা সব ভদ্দনোক। হামাগোরে ছোলপোলেক ধর্যা আপনেরা পুলিসের হাতে দেন, হামাগোরে ডাকাত ধানান।

    তরুণ কর্মী মামলার ব্যাপারটি এড়িয়ে যায়, গোটা ইনডিয়ার মুসলমান আজ কায়েদে আজমের লিডারশিপে এক হয়ে গেছে। এখন আপনারা যদি মাঝি আর চাষী, ভদ্দরলোক আর গরিবের ফারাক করেন তো ফায়দা লুটবে কারা? ওদিকে তেভাগা। মুভমেন্টের চাষীরা পর্যন্ত সংঘর্ষের রাস্তা ছেড়ে আজ লীগের পতাকার নিচে জমায়েত। হয়েছে, আর–

    কেরামত একটু ধন্দে পড়ে। ওদিককার খবর সে অনেকদিন পায় না। কিন্তু চাষীরা কি ইচ্ছা করলেই সংঘর্ষ এড়াতে পারে? তাদের ওপর যে জুলুমটা চলছিলো, তাতে তাদের সরে পড়ার কোনো পথই আর খোলা নাই। তা হলে?—কিন্তু ছেলেটি বেশ জোর দিয়েই বলে, নবাব নাইটদের মুসলিম লীগ আর নেই। চাষী আর জেলে আর মজুরের হক আদায় হবে পাকিস্তানে। কেরামত ভাবে, তা হলে আর খুনাখুনি করার দরকার কী?

    ছেলেটি এরপর বলে চাকরির কথা। পাকিস্তানে মুসলমানের চাকরির কোনো অসুবিধাই হবে না। কেবল মুসলমান হওয়ার অপরাধে সরকারি চাকরি থেকে তাদের বঞ্চিত হতে হবে না। তারপর হিন্দু শিক্ষিত ভদ্রলোকেরা মুসলমানদের ধর্ম নিয়ে, তাদের তাহজির তমদুন নিয়ে ব্যঙ্গ করে, বিদ্রুপ করে, তাদের বইপুস্তকে মুসলমানদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে। তাদের সঙ্গে আমরা থাকতে পারি না। পাকিস্তানে শাসন চলবে কোরান আর সুন্না অনুসারে, শাসকদের জীবনযাপন হবে ইসলামের খলিফাদের মতো। তারা টুপি সেলাই করে আর কোরান নকল করে যা রোজগার করবে, তাতেই তাদের খাওয়াদাওয়া চালাতে হবে।

    শুনতে শুনতে কেরামত অভিভূত, অভিভূত এমন কি মাঝিপাড়ার ছেলেরাও। কিন্তু শিমুলতলার তালুকদারদের খাদেম মিয়া বারবার কপাল কোঁচকায়, লোকটা ছেলেটাকে থামাতে চেষ্টা করে, চ্যাংড়াপ্যাংড়া কারো কোনো কথা শোনে না। খালি নিজেরাই প্যাচাল পাড়ে।

    লীগের অনুপ্রাণিত কর্মী চোখ ছোটো করে হাসে, আপনি মুরুব্বি মানুষ, আপনার লেবাস ইসলামী। কিন্তু আপনি করেন হিন্দুর পায়রাবি। আপনার কথা আর কী শুনবো? হক সাহেব মুসলমানদের সঙ্গে, ইসলামের সঙ্গে মীরজাফরি করে—

    বুড়ো তালুকদার তার রামপুরি টুপি খুলে ফের মাথায় চড়িয়ে বলে, তোমরা ইসলামের সোল এজেনসি নিয়েছো? ইসলামের তোমরা বোঝো কী? তোমাদের জিন্না নামাজের নিয়ত বাঁধতে জানে? জিন্না কও আর লিয়াকত আলি কও আর সোহরোওয়ার্দি কও, এরা পশ্চিমদিকে, আল্লার ঘরের দিকে কখনো আছাড় খেয়েও পড়েছে কোনোদিন? আর এরাই আজ ইসলামের জিম্মাদার।

    তালুকদারের প্রৌঢ় সঙ্গী সায় দেয়, আরে, চাচা, এরা থাকে বোতল আর গেলাস লিয়া, নামাজ বন্দেগির টাইম কোথায় এদের?

    লীগের কর্মীদের চোখমুখ লাল হতে থাকে, কেবল ঐ ছেলেটি একই স্বরে বলে, শোনেন, মোল্লাদের ইসলাম আর কায়েদে আজমের ইসলাম এক নয়। মোল্লারা। ইসলামের নামে মুসলমানদের ব্যাকওয়ার্ড করে রাখতে চায়, তাদের গোঁড়ামির জন্যেই মুসলমানদের আজ এই অবস্থা–।

    তা হলে বাপু খালি হিন্দুদের দোষ দাও কেন?

    অনেক মওলানাও তো হিন্দুদের পায়রাবিই করে যাচ্ছে। মওলানা আজাদ, শো বয় অফ কংগ্রেস, এইসব মোল্লা মওলানাদের হাত থেকে ইসলামকে, মুসলমানকে বাঁচাতেই আমরা পাকিস্তান চাই।

    তার বক্তব্য শেষ করার আগেই পাকিস্তান জিন্দাবাদ কায়েদে আজম জিন্দাবাদ ইসমাইল হোসেনকে ভোট দিন স্লোগানের সঙ্গে বেজে ওঠে মোটরগাড়ির আওয়াজ, ছেলেরা দৌড় দেয় ঐ গাড়ির দিকে। ক্যানভাসের ছাদওয়ালা গাড়ি করেই ভোটের ক্যানভাস চলছে। ঐ জিপগাড়ি থেকে নেমে ইসমাইল হোসেন হাসি হাসি মুখে সবাইকে হাত তুলে সালাম করতে করতে এগিয়ে যায় কাদেরের দোকানের দিকে। দোকানের বাইরে থেকেই সে ডাকে, কাদের, চলো তো একবার মাঝিপাড়ায় চলো।

    আবদুল কাদের তাকে দেখে অবাক। ইসমাইলের তো আরো তিনটে দিন থাকার কথা পুবে, যমুনার চরে চরে। এখানে আসার প্রোগ্রাম ভোটের একদিন আগে, সোহরোওয়ার্দি সাহেবও সেদিন আসবে মিটিং করতে। তা হলে যমুনার ওদিকে কি ক্যানভাস তার শেষ হয়ে গেলো?

    কাদেরের দোকানে ঢুকে ইসমাইল বলে, তোমরা কি সবসময় এই হাটের মধ্যেই পড়ে থাকো? তোমার গ্রাম গিরিরডাঙার খবর রাখো? শুনি তো, মাঝিপাড়ার পজিশনটা কী? কালাম মাঝিকে ডাকো, তার মুখেই শুনবো।

    কাদের আমতা আমতা করে, কালাম মাঝির দোকানে তো দেখতেই পাচ্ছেন মালেক তালুকদারের ভোটের ক্যাম্প। তাকে ডাকলে কি আর আসবে?

    আঃ। যা বুলি শোনো। ডাকো, আমার কথা শুনলেই আসবে।

    কিন্তু গফুর কলু ফিরে এসে বলে, এক মিনিট আগে সে চলে গেছে। কাদের বোঝে, লোকটা কেটে পড়েছে ইসমাইল হোসেনকে এড়াতেই। ইসমাইল তখন কাদেরের কানের কাছে মুখ নেয়, কাদের, তোমরা এটা করেছো কী? মাঝিদের নামে মামলা করার আর সময় পেলে না? কাদের কিছু বলবে বলবে করলেও ইসমাইল হোসেন তাকে সুযোগ দেয় না, আরে ঐ যে কী নাম?–হা হা, তমিজ। তমিজ কি তমিজের বাপের ভোট না থাকলেও ছয় আনা ট্যাকস দেওয়ার লোক মাঝিপাড়ায় কম নেই। এটা বড়ো কথা নয়। মাঝিপাড়ার ভোট মালেক সাহেবের বাকসে পড়লে তার এফেক্ট পড়বে এই এন্টায়ার এরিয়ার। ওদিকে যমুনার মাঝির তো মহা খাপ্পা, তাদের নাকি ডাকাত বলে থানায় চালান দিয়েছি আমরা মুসলিম লীগের লোকেরা। চর এলাকায় কৃষক প্রজার ওয়ার্কার তো ছিলোই না। এখন তমিজকে ধরে পুলিসে দেওয়ার কথা শুনে মালেক সাহেবের লোকজন ধুমসে প্রোপাগান্ডা করে বেড়াচ্ছে। ঐ নিরীহ লোকগুলোকে তোমরা ডাকাত বানিয়ে ছাড়লে?

    মামলাটা ঠিক এভাবে দেওয়ার ইচ্ছা ছিলো না। বাপজানকে নায়েব কী করে কী বোঝালো–।

    আরে বাবা, আমি তো সব শুনলাম। চলো, গিরিরডাঙা চলো। মাঝিদের সঙ্গে বসি গিয়ে।

    কিন্তু মাঝিপাড়ায় তো মালেক সাহেবের ওয়ার্কাররা এখন ক্যানভাস চালাচ্ছে। এখন গেলে কী –।

    কাদেরের কথা শেষ হতে না হতে তাকে সমর্থন করে গফুর কলু, মাঝিগোরে কথা বাদ দেন। বড়ো লটখট্যা জাত। আর সোগলি একদিকে গেলে অরা হেলবি উল্টামুখে। জামাতও তো ভিন্ন।

    আলাদা জামাত মানে? ইসমাইল হোসেন গম্ভীর হয়ে জানতে চাইলে জবাব দেয় কাদের, এই কয়েক গাঁয়ের মধ্যে মোহাম্মদি হলো চোদ্দ আনা। আর মাঝিরা সব হানাফি জামাতের মধ্যে। ইউনিয়নের মধ্যে এক গিরিরডাঙার মাঝিপাড়াতেই হানাফি মসজিদ।

    ব্যাখ্যা শুনে ইসমাইল হোসেনের রাগ চড়ে যায় কয়েক গুণ, ইস। এই করেই তো মুসলমান গেলো। এখনো তোমরা হানাফি আর মোহাম্মদি নিয়ে বাহাস করো। এসব ভুলে যাও কাদের, ভুলে যাও। ভোটের সময়টা অন্তত এসব কথা মুখেও এনো না। আজ আমি ঐ হানাফি মাঝিদের মসজিদে নামাজ পড়বো। মুসলমানের আবার এসব কী? কায়েদে আজম তো সুন্নি মুসলমানও নন, শিয়াদের মধ্যে তারা আলাদা খোঁজা কমিউনিটির লোক। জেলা স্কুলের হেড মাস্টার বরাক আলি সাহেব আমাদের কী সার্ভিসটাই না দিচ্ছেন। তিনি তো কাদিয়ানি, তাকে কি আমরা বাদ দেবো?

    শুনে কাদেরের ভয় আরো বাড়ে। কায়েদে আজম সম্বন্ধে এসব কথা গাঁয়ের মানুষ জানলে তো মুশকিল। ইসমাইল হোসেনের কাণ্ডজ্ঞান মাঝে মাঝে লোপ পায়, কোথায় যে কী বলে বসে ঠিক নাই। নিজে তো নামাজ পড়েই না, মৌলবি মুনসি নিয়ে সুযোগ পেলেই ঠাট্টা ইয়ার্কি করে। বাড়িতে তার সবার মেলামেশা হিন্দু ভদ্রলোকদের সঙ্গে। পাকিস্তান হলে কাদেরও হয়তো বামুনকায়েতের সঙ্গে সমানে সমানে মেশার সুযোগ পাবে। তা হিন্দুদের সঙ্গে ওঠাবসা করা আর খাতির রাখা এক কথা আর মাঝিদের জামাতে নামাজ পড়া সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। ইসমাইল হোসেন নামাজই পড়ে না, আর আজ মাঝিদের মসজিদে নামাজ পড়তে পাগলা হয়ে উঠেছে।

    গাড়ি থাকে গোলাবড়ি হাটে। পায়ে হেঁটে হেঁটে ইসমাইল গোটা গিরিরডাঙা ঘোরে আর কাদেরের ওপর তার রাগ বাড়ে। তমিজের গ্রেফতারে মাঝিরা ক্ষুব্ধ, এদের ভোট নিশ্চিত পড়বে মালেক সাহেবের বাকসে। কালাম মাঝির বাড়ির সামনে এসে ইসমাইল হাঁক দেয়, কালাম মিয়া, আপনার বাড়ির বাইরে থেকেই কি আমরা ফিরে যাবো?

    কালাম মাঝি বাড়ি থেকে বেরোবার তালে ছিলো, কিন্তু ইসমাইল একবারে বাড়িতে এসে পড়ায় তার আর উপায় থাকে না। বাড়ির একমাত্র হাতলওয়ালা চেয়ারটা খুব ভারি, সেটা দুই হাতে তুলে সে এনে রাখে ইসমাইলের সামনে। তার ইশারায় বুধা একটা পাখা নিয়ে ইসমাইলকে শোঁ শোঁ করে হাওয়া করতে থাকে। ইসমাইল আবদার করে, কালাম মিয়ার বাড়িতে আজ আমাদের দাওয়াৎ। আপনে তো করলেন না, আমরা নিজেরাই জেয়াফত নিলাম।

    এতে কাজ হয়। জোহরের আজান দেওয়া একটু স্থগিত রেখে কুদুস মৌলবিকে জবাই করতে হয় বড়ো দুটো খাসি মোরগ। বাড়ির ভেতর থেকে রান্নাবান্নার আয়োজনের আওয়াজ ও খসরু আসে।

    আবদুল কাদের এতোক্ষণ সবই মেনে নিয়েছে। মাঝিদের বাড়ি বাড়ি গেলো, তাকে দেখে সবাই ভয়ই পায়, তাতে তার রাগ চড়ে যায় বাবার ওপর। আবার আবিতনের বাপের মতো কেউ কেউ বাঁকাচোরা কথাও শোনায়, তখন সে বাপের পক্ষে নানা অজুহাত তোলে, দোষ চাপায় নায়েবের ওপর। এখানে ভোটের অবস্থা তাদের ভালো নয়। ছোটোলোকগুলি সুযোগ একটা পেয়েছে, এখন তাদের তোয়াজ না করে উপায় কী? তা ভোটের জন্যে সবই না হয় করা গেলো, কিন্তু গিরিরডাঙা গ্রামে এসে তার বাড়ি বাদ দিয়ে ইসমাইল ভাত খাবে মাঝিদের বাড়িতে,-এটা কি হতে পারে? গোলাবাড়ি থেকে রওয়ানা দেওয়ার আগেই কাদের বাড়িতে খবর দিয়েছে, সেখানে খাসি জবাই করা, বড়ো মাছ জোগাড় করা সব কমপ্লিট। এখন তো তার ইজ্জতের বারোটা বাজলো। এর ওপর তাকেও যদি আজ মাঝিবাড়িতে ভাত খেতে হয় তো নিজের বাড়িতে ঢোকার মুখ থাকবে? অসহায় চেহারা করে সে ইসমাইল হোসেনের দিকে তাকায়, ভাই, বাড়িতে যে সংবাদ পাঠালাম। খাওয়া দাওয়া সব রেডি।

    রাত্রে খাববা তোমার বাড়িতে। এখানে খেয়ে কালাম মিয়ার সঙ্গে গ্রামটা ঘুরবো। তারপর তোমার বাবাকে নিয়ে যাবো বিলের ওপারে। তোমার বাড়িতে ফিরে রাত্রে খাবো, ওয়ার্কারদের সঙ্গে বুধবারের প্রোগ্রামটা ফাইনাল করবে, সোহরোওয়ার্দি সাহেবের মিটিং করতে হবে এই এরিয়ায় অন্তত তিনটে।

    হাল ছেড়ে কাদের মাঝিদের কোলাহল দেখে। তাকে কেউ তেমন আমল দিচ্ছে না, তাকে ডিঙিয়ে কথা বলে ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে। গফুরটা তো আসেই নি, মাঝিপাড়ায় আসাটা তার জন্যে বিপজ্জনকও বটে। কেরামত আলি পর্যন্ত গুজরগাজুর করে, একবার ইসমাইলের সঙ্গে, কখনো তমিজের বাপের পাশে দাঁড়িয়ে। শালা কাকে যে কী শোলোক ফুঁ দিয়ে দিচ্ছে আল্লা মালুম।

    এর মধ্যে এই ভর দুপুরবেলা গামলাভরা পায়েস, এলোকেশি পিঠা আর ধামাভরা তেল পিঠা চলে এলে কাদের আর না বলে পারলো না, ভাই, আমি একটু বাড়ি থেকে ঘুরে আসি। আপনারা নাশতা খেয়ে পরে ভাত খাওয়া সারেন, আমি চারটে খেয়ে আসি।

    ইসমাইল বলে, তুমি নাশতা খেয়ে যাও। কেবল নাশতা এলো, খেতে দিতে এদের এখনো ঢের দেরি। তুমি ফিরে এসে আমাদের সঙ্গে খাবে।

    না ভাইজান, এই অবেলায় নাশতা আর খাবো না, খিদা নষ্ট হবে। বাড়ি থেকে আমি বরং ভাত খেয়েই আসি।

    স্বাস্থ্যরক্ষার শহুরে নিয়ম পালনে কাদেরের উৎকণ্ঠা দেখে বুধা মাঝি চোখ টেপে আফসারের দিকে। আফসার বলে, কাদের ভাই কি আর হামাগোরে বাড়িত খাবি?

    বিপদে ফেলে কালাম মাঝি। ইসমাইলকে আপ্যায়ন করার সুযোগ পেয়ে বিগলিত হয়ে সে চেপে ধরে কাদেরের হাত, খায়া যান গো। হামরা আপনাগোরে বাড়িত কতো খাছি। হামার ঘরত খালেই কি আপনের জাত যাবি?

    আর জাতঃ আবদুল কাদের দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে, জাত কি আর আছে গো? বেচারা সইতেও পারে না, কইতেও পারে না। মাঝিরা তো তাদের খেয়েই মানুষ। তাই বলে কি তাকেও মাঝিদের বাড়িতে খেতে হবে? তা পিঠা না হয় একটু চেখে দেখা যায়। তাই বলে ভাত খাবে? ইসমাইলের পাল্লায় পড়ে আজ কি তাকে সমাজ, জাত সব নষ্ট করতে হবে? আবার ইসমাইলের দিকে আড়চোখে তাকিয়েই তাদের ব্যাপারে তার মন্তব্যটি একটু সংশোধন করে, আরে মোসলমানের আবার জাত কী? ইসলাম হলো সাম্যের ধর্ম।

    ঠিক তার প্রতি করুণায় নয়, অন্য কোনো বিবেচনায় ইসমাইল তাকে রেহাই দেয়, ঠিক আছে, তুমি বরং বাড়ি গিয়ে খেয়ে এসো, তোমার বাবাকে আমার সালাম দিয়ে বলো, বিকালে, না সন্ধ্যার পর আমাদের সঙ্গে বিলের ওপারে একটু কষ্ট করে যেতে হবে।

    আবদুল কাদের যেতেই মাঝিপাড়ার মানুষে ভরে গেলো কালাম মাঝির বাইরের উঠান। ইসমাইল হোসেন বসেছিলো ঘরের ভেতরে, বাইরের বারান্দায় বসে কর্মীরা এলোকেশি পিঠা খায়, তেলপিঠা, মুড়ি দিয়ে পায়েস খায়; মাঝিরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখে। নাশতা সেরে বারান্দায় সেই হাতলওয়ালা চেয়ারে বসে ইসমাইল হোসেন মাঝিদের সঙ্গে এটা সেটা গল্প করে। মুসলমানদের মধ্যে সে সকল ভেদাভেদ দূর করার আহ্বান জানায়। নায়েববাবুর চক্রান্তেই তমিজের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সে নিশ্চিত, কাৎলাহার বিল মাঝিদের হাতছাড়া হয়েছে হিন্দু জমিদারের লোভে এবং চক্রান্তে। ইসমাইল ভোটে জিতলে এই বিলের ইজারা পাবে মাঝিরা, এটা হবে তার এক নম্বর কাজ। পাকিস্তানে তো আর জঘন্য ও বর্বর বর্ণপ্রথা থাকবে না, যার যা হক তাকে। তাই দেওয়া হবে।

    মাঝিরা হাঁ করে তার কথা শোনে। এদের মধ্যে তমিজেরও বাপও একজন। বুধা। মাঝি তাকে ঠেলে দেয় ইসমাইলের সামনে, বলে, তমিজের বাপ।

    ইসমাইল চেয়ার থেকে উঠে হাত রাখে তার পিঠে, চেনাতে হবে না। তমিজ বিল ডাকাতির মোকদ্দমায় ফেঁসে গেলো। কঠিন মামলা। আমরা উকিল দেবো, আমাদের সাদেক সাহেব এখন ফৌজদারির সবচেয়ে ভালো উকিল। তমিজকে বের করে আনবো ইনশাল্লাহ। তারপর সবাইকে লক্ষ করে জানায়, বিল আপনারা ফেরত পাবেন। আইনের কিছু ফাঁকড়া আছে, জমিদারের হাতে এখন সম্পত্তি। আমরা জমিদারিই উচ্ছেদ করবো। তখন এই বিল আপনারা ছাড়া আর ভোগ করবে কে?

    ইসমাইল হোসেনের কথায় মাঝিপাড়ায় এমনি সাড়া জাগে যে, তমিজের মুক্তির সম্ভাবনার খুশিও চাপা পড়ে তার নিচে। বিকাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাঁশের বেড়ায়। বেড়ায়, গাছে গাছে সাঁটা হয়ে যায় মুসলিম লীগের পোস্টার। ভাত খেয়েই কয়েকজন তরুণ মাঝি ছোটে গোলাবাড়ির দিকে। অফিস থেকে মুসলিম লীগের পোস্টার নিয়ে লাগাতে হবে কালাম মাঝির দোকানে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅন্য ঘরে অন্য স্বর – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    Next Article চিলেকোঠার সেপাই – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }