Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026

    ছাতিম – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    August 14, 2026

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    খোয়াবনামা – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

    লেখক এক পাতা গল্প729 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩১. চারদিকে আগুনের শিখা

    চারদিকে আগুনের শিখার ভেতরে কী করে ঢুকে পড়ে কেরামত আলি আর বেরুতে পারে না। আগুনের আভায় একটা মুখ চেনা চেনা ঠেকে; বলতে কি সেদিকে তাকিয়েছিলো বলেই সে আগুনের মধ্যে আটকে পড়ে; নইলে পালাবার সুযোগ হয়তো ঠিকই পাওয়া যেতো। মুখটা কার গো? লম্বাটে কালো মুখে আগুনের আঁচ, তার চোখে আগুনের শিখা দাউদাউ করে। আগুন লাগলো কি ওই চোখ থেকেই? মুখটাকে ঠাহর করার আগেই কেরামতের ঘুম ভাঙে আলিম মাস্টারের ডাকে, গফুর তোমাক সকাল সকাল যাবার কয়া গেলো। আজ বলে পারানিপাড়ার ইস্কুলের ফিল্ডে সভা।

    সভার কথায় কেরামত ভাবনায় পড়ে। সেখানে তার পাকিস্তানের গান গাইবার কথা। কিন্তু কোনো শোলোকই তো মাথায় আসে না। সারাটা দিন তার কাটে ইসমাইলের ভোটের লোকজনের সঙ্গে, রাত হলে শুয়ে থাকে আলিম মাস্টারের পাশে। ভোটের হৈ চৈ তার মন্দ লাগে না, অনেক রাত্রি পর্যন্ত গোলাবাড়ি হাটে হট্টগোল, তার মধ্যেও ঝুঁদ হয়ে থাকা যায়। কিন্তু আলিম মাস্টারের পাশে শুতেই তার ঘুম পায়, ঘুমালেই আজকাল খালি দেখে আগুন লাগার খোয়াব। আগুনছিটানো চোখজোড়া প্রথমে মনে হয়েছিলো ফুলজানের, ঐ ঘেগি মাগী ছাড়া তাকে ওভাবে পোড়াতে আসবে আর কে? কিন্তু তার মুখ কি অমন লম্বাটে? না-কি তার ওই মুখ থেকে চোখ ফেরানো যায় না। কিছুতেই? রাত্রে শোবার আগে আলিম মাস্টার পর্যন্ত বলে, কেরামত পাকিস্তানের গান তোমার লেখাই লাগবি। ইসমাইল সাহেবের তদবিরেই তুমি পুলিসের হাত থাকা বচিছছা। হয় তার ফরমায়েশ মতো গান বান্দো, না হলে জয়পুর পাঁচবিবির ঘাটা ধরো। তেভাগার গান তো তোমার মেলা লেখা আছে। লীগের ছেড়াগুলান যাই বলুক, আধিয়াররা ব্যামাক পিঠটান দিছে, এটা বিশ্বাস হয় না বাপু।

    কিন্তু শোলোক বাঁধতে গেলেই লম্বাটে একটা মুখ থেকে আগুনের আঁচ এসে লাগে তার মাথায়, হয়তো সেই মুখটা ভালো করে দেখার আশাতেই ঘুমে তার চোখ জড়িয়ে আসে, সে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ে। আলিম মাস্টারের ডাকে বিছানা থেকে উঠে অনেকক্ষণ ধরে ভাবলে মাথায় আসে পয়ারের দুটি লাইন,

    ভারতবর্ষে কায়েম করো আজাদ পাকিস্তান।
    মোসলমানের সকল দুঃখের হইবে অবসান।।

    কিন্তু জুতের গান হয় না। এর পরের লাইনগুলোর মিল পাওয়া যায় তো কথা পুরুষ্টু হয় না, কথা যদি মনমতো হয় তো মিল খুঁজে পাওয়া দায়। তা হলে কি তাকে চেরাগ আলি ফকিরের মতো ভরসা করতে হবে পাওনা-গানের ওপর? আরে দূর! ফকিরালি গান দিয়ে কি আর মিটিং জমানো যায়? তবে তার সাগরেদি মেনে নিলে হয়তো কেরামতের গলায় গান চলে আসতো আপনাআপনি। না, তাই বা হয় কী করে? তমিজের বাপ তো তার খাস মানুষ। সে যে কী জানে আর না জানে তার মাথামুণ্ডু কিছুই বোঝা যায় না। এই যে মাঝিদের জুম্মাঘরে আবোর মানুষটা মিনমিন করে যে কী বললো, শরাফত মণ্ডল। তাকে মারধোর করেছে কি-না, কীভাবে অপমান করলো, শরাফতের খড়মের মধ্যে সে লোহার পান্টি দেখে কীভাবে, কিছু বোঝা গেলো? তমিজের বাপের সেইসব মারফতি না আজগুবি বুলি কেরামত নিজের ইচ্ছামতো বাঁকাচোরা করে পেশ করলো বলেই না। মাঝিরা এমন চেতে উঠলো! ঘুমের মধ্যে হোঁচট না খেয়েও হাঁটা ছাড়া চেরাগ আলি আর কোন বিদ্যাটা তাকে দিয়ে গেছে? মাঝিপাড়ার মানুষ কি শুধু এ জন্যেই তমিজের বাপকে এতো মান্যিগন্যি করে? চেরাগ আলি তার ছেঁড়াখোঁড়া বইটা রেখে গেছে। তমিজের বাপের হেফাজতে, তবে কি লোকটা তার সব তেজ পায় ঐ বই থেকে? জয়পুরে তো চেরাগ আলি বারবার বলেছে, লেখাপড়া করার সুযোগ তার কখনো ঘটে নি। এমনি বিনয়ে তার মাথাটা সবসময় নুয়ে থাকলে কী হয়, লেখাপড়া না জানার দাপটে বুড়া অহঙ্কারে টইটুম্বর হয়ে থাকতো, তার মূর্খতা ঘোষণা করতে সে একেবারে পটু, তোমরা বাপু নেকাপড়া জানা মানুষ, নিজেরা গান লেখো, গানের বই ছাপো। হামার তো বাপু সেই মুরাদ আল্লা দেয় নাই। হামার ইগলান পাওনা-গান, দাদা পরদাদার দোয়ায় আর ওস্তাদের দয়ায় বুকের মধ্যে কাঁপে, হামি দোতারাত হাত দিলেই গলা দিয়া বারায়া আসে। ক্যাংকা কর‍্যা আসে সিটা কবার পারি না বাপু। ফকির কতো কায়দাই জানতো, অনেক লোকের সামনে গান করতে করতে হঠাৎ থেমে একটু দম নিয়ে বলতো, পরের কথাগুলো বানাও তো বাপু। কেরামত ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে চুপ করে থাকলে ফকির বলতো, পারবা না। হামিও কি পারি? কেরামত এখন নিশ্চিত তার সব রহস্য গোপন করা আছে ঐ বইয়ের মধ্যে। লেখাপড়া না জানার জন্যে এতো যে দাপট মারতো, তবে ঐ বইটা কি তার বাল হেঁড়ার জন্যে?

    ভর দুপুরবেলা তমিজের বাড়ির সামনে গিয়ে কেরামত আস্তে করে ডাকে, তমিজের বাপ, ও তমিজের বাপ, বাড়িত আছে নাকি গো?

    ভেতর থেকে সাড়া দেয় কুলসুম, বাড়িত নাই।

    হামাক না আসবার কলো। কেরামতের গলাটা কাঁপে, এক্ষুনি তো তাকে সে দেখে এলো গোলাবাড়ি হাটে। ভোটের আর একদিন বাকি, মাঝিপাড়ার কয়েকজনকে নিয়ে কালাম মাঝি ক্যানভাস করে বেড়াচ্ছে, তাদের খাওয়াদাওয়া পানবিড়ির খরচ সব কালাম মাঝির। এসব খবর কুলসুমের সব জানা, কালাম মাঝি ভাত খিলাচ্ছে। ভোট হলে বলে তার বেটা খালাস পাবি, সেই খুশিত বুড়া বাড়িত আসে আত হলে।

    হুঁ, তাক তো হাটোত দেখলাম। মিথ্যা কথা বলে ধরা পড়ার ভয়ে কেরামত কৈফিয়ৎ দেয়, তা মনে হলো, এতোক্ষণ কি আর বাড়িত আসে নাই।

    এখন আর আসবি না। বাড়িত কেউ নাই তো।

    তুমি তো আছো। বলেই ভয় পেয়ে কেরামত বলে, তমিজের বাপ কলো, হামার বাড়িত আজ চারটা ভাত খায়া যায়য়া।

    ভাত খাবেন? বলে কুলসুম দরজা খুলে দিয়ে নিজে চলে যায় উঠানে। উঠান থেকে দেখা যায়, লোকটার মুখ খিদায় শুকনা। মাথায় বড়ো করে ঘোমটা দিয়ে কুলসুম। নিজের ভাতটা সবই একটা সানকিতে ঢেলে দেয়, বলে, খেসারির ডাল আছিলো কালকার। ঐ দিয়াই খাওয়া লাগবি।

    কেরামত ভাত খায় আর আড়চোখে বসে থাকা কুলসুমকে দেখে। তার মুখে রোদ লেগে তার কালো মুখে তাপ বেড়ে উঠছে তা আন্দাজ করতে পারে সে এখান থেকেই। এই তাপ বাড়তে বাড়তেই তো আগুন জ্বলে উঠবে। তাই না? আজকাল রোজ দেখা স্বপ্নের মুখটা তো ভালো করে ঠাহর করা যায় না, এর সঙ্গে কি তার কোনো মিল আছে। নাকি? তার খাওয়া হতে থাকে আস্তে আস্তে, সে কেবল দরজার ওপারে ভেতরের বারান্দায় বসে থাকা কুলসুমের একদিকের গাল দেখে। একটা শোলোক যেন মাথায় তার একটু একটু খোঁচা দিচ্ছে। কেরামত তার নজর সরায় না, তার ভয়, নিজের চোখটাকে একটু এদিক ওদিক করতে দিলেই কালো মুখটা হারিয়ে যেতে পারে। খোয়াবে। আগুন জ্বলে দুনিয়া আসমানে।—এই তো শোলোক তো তার আসছে। কিন্তু না, এতে তার কথা বেরিয়ে আসছে না। না গো। শোলোক বুঝি তার জীবনে আর লেখা হবে না। ভাত খেয়ে খিদে তার মেটে, কিন্তু হঠাৎ করে মাথাটা ব্যাথায় টনটন করে। বাইরের দিকে মুখ ফিরিয়ে সে দেখে, দুপুরের রোদের আঁচে চৈত্রের শিমুল জ্বলছে দাউদাউ করে। দুপুরের তাপে শিমুল ফুল থেকে রক্ত ফোটে আর ফেটে পড়ে সাদা তুলা হয়ে।

    ফের ভাতের সানকিতে মন দিলে নতুন একটা চরণ আসে তার মাথায়, আগুনের। এতো রূপ নাই কোনোখানে। না, ঠিক হচ্ছে না। খাওয়া হয়ে গেলে সানকিতেই হাত ধুতে ধুতে কেরামত মরিয়া হয়ে বলে, তোমার দাদার বইখান একবার দেখবার চাইছিলাম।

    দরজাত বসেন। হামি বই বার করি।

    ঘরের বাইরে দরজার চৌকাঠে বসে কেরামত ফের চৈত্রের দুপুর দেখে। খোয়াবে আগুন জ্বলে দুনিয়া আসমানে, এর পরের লাইনটি জুত করে মনে করার জন্যে মুখে মুখে। সে নানান কথা বিড়বিড় করে, ভেতরে মাচায় খসখস আওয়াজ শুনে তার বুক ছমছম করে, ফকির কি এসে হাজির হলো নাকি? ঐ মাচা থেকেই তো সে একদিন বেশ লম্বা গান করলো একটা। আবার তার খুশিও লাগে ফকিরের ছায়া একবার যদি তাকে ছোয়, তা হলে হয়তো গান তার গলায় আসবে আপনাআপনি। কিন্তু ভয়ে ভয়ে ও একটু আশায় আশায় আবছা অন্ধকার ঘরে ভাবে, না, ফকির আসবে কোত্থেকে? মাচার ওপর কুলসুম। নাকের কাছে তার দাদার বই নিয়ে প্রাণপণে সে ওটার গন্ধ শুকছে। কেরামতের গলা শুকিয়ে যায়, গন্ধে গন্ধে কুলসুম কি বইয়ের সব কথা শুষে নিচ্ছে? গন্ধে গন্ধে সব টেনে আত্মসাত করে তার হাতে তুলে দেবে বইয়ের একটা ছিবড়ে? বইয়ের সব অক্ষর শুকে সাদা পাতা দেখিয়ে কুলসুম কি চেরাগ আলির নিরক্ষতা প্রমাণ করে ছাড়বে?

    বইটা নিয়ে মাচা থেকে কুলসুম নামলে কেরামত তার দিকে হাত বাড়ায়। বই তার হাতে দিতে দিতে কুলসুম বলে, বই দেখ্যা দিয়া যান।

    কেরামত হঠাৎ বুকে বল পেয়ে বলে, যদি না দেই?

    না, এই বই এটি থাকবি। ঐ বই দিয়া আপনে কী করবেন?

    বইয়ের পাতা ওলটায় আর কেরামত আলি দেখে, কোনোখানে কোনো শোলোকই নাই। খাকি রঙের কাগজে বইয়ের মলাট সেলাই করা, সেখানে কার কাঁচা হাতের লেখা, খাবনামা ফালনামা ও তাবির। এসব খাবনামা তো কিনতেই পাওয়া যায়। তবে এটার ভেতরে ছাপা কোনো পাতা নাই। অর্ধেকের বেশি পাতা জুড়ে চৌকোণা চৌকোণা দাগ, সেইসব বর্গক্ষেত্র আবার ভাগ করা হয়েছে ছোটো ছোটো ঘরে। একেকটি ঘরে একেকটি আরবি অক্ষর। নাপাক শরীরে আরবি লেখা ছুঁয়ে ফেলায় কেরামতের একটু একটু ভয় করে, কিন্তু এখন অজু করতে গেলে বইটা হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। সে আস্তে আস্তে পাতা ওল্টায়, জীর্ণ পাতা, ধরতে হয় সাবধানে, একটু এদিক ওদিক হলেই পাতা ছিড়ে যাবে। এরপর গোটা গোটা বাঙলা অক্ষরে নানারকমের খোয়াবের বিবরণ। কোন খোয়াব দেখলে কী হতে পারে, এর ফলাফল কী, খোয়াবের তাবির সব বুঝিয়ে বলা। মুনসি কি এখান থেকেই মানুষকে সব খোয়াবের বৃত্তান্ত বলে দিতো? কিন্তু বইয়ের। কোথাও কোনো শোলোক লেখা নাই। তা কেরামত তো খাবনামা অনেক দেখেছে, শান্তাহারে এক লোক কেরামতের কবিতার বই বেচতো, সে আবার খাবনামা, মকসুদুল মোমেনিন, বেহেশতের জেওর—এসব বইও বেচতো। ওসব অবশ্য ছাপানো বই, সবই কলকাতায় ছাপা। তা এই বইটা কি কেবল হাতের লেখা বলেই এতো দামি? না-কি। মুনসির শোলোকের ইশারা সব দেওয়া রয়েছে ঐ আরবি অক্ষরগুলোর ভেতরে? ঐ চৌকোণা রেখাগুলো দেখে আর কেরামত মুনসির পাওনা-গানের ইশারা খোজে হন্যে হয়ে। কিন্তু সমস্ত মনোযোগের ওপর তার মাথায় দপদপ করে জ্বলে কুলসুমের মুখ। বইয়ের দিকে তাকিয়েই সে বোঝে কয়েকদিন ধরে তার খোয়বে আগুনলাগা ঘরে যে মুখটি দেখা যাচ্ছে সেটা হলো কুলসুমের মুখ। কুলসুমের চোখ থেকে আগুনের শিখা বেরিয়ে তার ঘর জ্বালিয়ে দিচ্ছে দাউদাউ করে। চারকোণা রেখার বর্গক্ষেত্র দেখতে দেখতে কেরামতের মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে, খোয়াবে আগুন জ্বলে দুনিয়া আসমানে। আল্লা সেই রূপ রাখিয়াছে এইখানে কিন্তু শোলোক কেরামতের মনমতো হয় না, সে অস্থির হয়ে বইয়ের পাতা ওলটাতেই জীর্ণ পাতার একটু ছিড়ে গেলে কুলসুম চট করে তার মাথার ওপর ঝুঁকে পড়ে, বই ছিড়িচ্ছেন কিসক? দাও হামার হাতে দাও। কিন্তু কেরামতের মাথা এখন জ্বলছে দপদপ করে, জুতমতো শোলোক না পেলে এখন সে বাঁচবে না। খোয়াবের আগুন এসে ধরে যাচ্ছে তার মাথার ঝাঁকড়া চুলে, তাপে সে। ছটফট করে। মনমতো না হলেও ঐ দুটো লাইনই সে বিড়বিড় করে আওড়ায়।কিন্তু হলো না। হচ্ছে না।

    তার বিড়বিড় ধ্বনি শুনে কুলসুম তাকায় ঘরের মাচার দিকে। কুলসুম ফিসফিস করে বলে, বই দেন। দাদা আসিচ্ছে, দাদা বই উটকাবি। কিন্তু বইয়ের জন্যে সে আর হাত বাড়ায় না, বরং হাঁ করে তাকিয়ে থাকে কেরামতের দিকে। কেরামত বিড়বিড় করে, আগুনে জ্বলিল মুখ দেখিয়াছি কোথা। খোয়বের সেই মুখ রহে এই হেথা। কিন্তু হয় না। শোলোক তার গানে খটখট করে, তেলের মতো গড়িয়ে পড়ে না। কুলসুম বলে, এই শোলোক তো দাদা কোনোদিন কয় নাই। কুটি পালেন আপনে?

    বারবার বিড়বিড় করেও কেরামত মনমতো শোলোক আর পায় না। কুলসুম তার অসন্তুষ্ট আবৃত্তি শোনে আর কেঁপে কেঁপে ওঠে, কাঁপতে কাপতেই বলে, দাদা এই শোলোক তো কোনোদিন কয় নাই গো। মনে হয় মরার পরে এটা পাছে। দাদার লতুন পাওনা-গান, মরণের পরে দাদা তোমাক শোলোক দিলো? কুলসুম বড়ো ধান্দায় পড়ে, তমিজের বাপের সঙ্গে সঙ্গে কেরামত আলিও কি চেরাগ আলির সাগরেদ হয়ে গেলো? এই বইয়ে কি তবে কেরামতের অধিকার রয়েছে। এখন সে কী করবে? কেরামতকে বই দিয়ে দেওয়ার জন্যে চেরাগ আলি কি ইশারা পাঠিয়ে দিলো? এখন সে করে কী?

    তবে কুলসুমের এই সমস্যার সমাধান করে দেয় কেরামত নিজেই, মনমতো শোলোক আসছে না দেখে এমনিতেই সে বলতে গেলে কাতর, এর ওপর আবার তার। শোলোক-সন্ধানে অন্য কাউকে কৃতিত্ব দেওয়া, একটু রাগ করেই কেরামত বলে, আরে তোমার দাদা এটা পাবি কুটি গো? শোলোক বান্দিলাম হামি। তোমাক দেখ্যা খুশি হলাম, শোলোক বান্দিলাম।

    ও, এটা তা হলে কেরামতের পাওনা-গান নয়, এমন কি চেরাগ আলির মারফতেও সে এটা পায় নি। এ আবার কেমন ধারার মানুষ গো, যে কি-না নিজের মুখে ফাস করে দেয়, সে নিজেই শোলোক বাঁধে। তার দাদা চেরাগ আলি, যখন তখন তার মুখে এ শোলোক এসেছে গায়েবি জায়গা থেকে, সেই জায়গার খোঁজ জানতো একমাত্র চেরাগ আলি নিজে। আর তারই খোজে উত্তর সিথানে পাকুড়তলায় রাতবিরেতে ঘোরাঘুরি করে বেড়াচ্ছে তমিজের বাপ। আর কোথাকার কোন কেরামত আলি, তার দাদার বইয়ের দিকে তাকিয়ে ইশারা পেয়ে যা বলে তাই আবার চালায় নিজের বাধা শোলোক বলে।। কুলসুম খুব ঝুঁকে প্রায় ছোঁ মেরে বইটি তুলে নেয় কেরামতের কোল থেকে।

    কুলসুমের রাগের তাপ লাগে কেরামতের মুখে, তার ঝাঝ লাগে তার চোখে। তার কাতর মাথা ব্যথায় নুয়ে আসে। বই নিয়ে মাচায় উঠে কুলসুম তার দিকে স্থির তাকিয়ে থাকলে তপ্ত চোখে আগুন জ্বলে ওঠে। ঐ আগুনের শিখা লাগে কেরামতের শরীরে এবং দেখতে দেখতে সব তাপ জমা হয় তার মাথায়। ঘরের চালের ফুটো দিয়ে রোদের রোগা একটা রেখা এসে কুলসুমের মুখে সত্যি সত্যি আগুনের আভা জ্বালিয়ে দিলে কেরামত বোঝে, সে আসলে স্বপ্ন দেখছে। কোন স্বপ্ন-না, কয়েকদিন থেকে দেখা স্বপ্নের পুনরাবৃত্তি ঘটছে আজ তমিজের বাপের ঘরে। কিন্তু আজকের স্বপ্নের নতুন উপসর্গ প্রচণ্ড মাথাব্যথা। ভেতরে মগজ তার অাগুনের তাপে গলে গলে পড়ছে। ভয়ে, ব্যথায়, কষ্টে, উদ্বেগে ও উৎকণ্ঠায় তার গোটা থাই কাপে প্রবল বেগে।।

    কেরামত আলি তার উথাল পাতাল মাথাটা নিচু করতেই মগজ সব তোলপাড় করে তার মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে এই দুটি লাইন :

    এ জেবনে রূপ যদি দেখিয়াছি কোথা।
    খোয়াবে আগুন মুখ নাহিক অন্যথায়।।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅন্য ঘরে অন্য স্বর – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    Next Article চিলেকোঠার সেপাই – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    রাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    অর্ধেক জীবন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সেই সময় ১ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 11, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026
    Our Picks

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026

    ছাতিম – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    August 14, 2026

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }